Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমি চঞ্চল হে – বুদ্ধদেব বসু

    বুদ্ধদেব বসু এক পাতা গল্প100 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আমি চঞ্চল হে – ৫

    ৫

    ময়ূরকন্ঠি সমুদ্র আকাশে গিয়ে মিশেছে। আকাশে আলো। ঢেউগুলো গড়িয়ে চলেছে আলোর ঝলকে-ঝলকে লুটোপুটি করে। সবুজ সবুজ। হলদে সমুদ্র। বেগনি সমুদ্র। নতুন রং লাগছে প্রতি মুহূর্তে। বসে-বসে দেখা। শুয়ে শুয়ে জানলা দিয়ে দেখা। চিরকাল এমনি চেয়ে থাকা যায়— বাদামি অর বেগনি আর সবুজ সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে। কানে লাগছে শোঁ-শোঁ শব্দ, আর ঢেউয়ের ধাক্কার গুমগুমানি আর হাজার তোলপাড়ের চীৎকার। ঘুম আসছে। ঘুমোবো না। আর-একটা সিগারেট ধরাবো, জোর করে চেয়ে থাকবো। দেখবো আকাশ, দেখবো সমুদ্র; সমুদ্রের রাশি-রাশি শব্দের মধ্যে কখন যেন আসে হঠাৎ এক পলকের বিরতি, রইবো কান পেতে তারই জন্য। আর একটু পরেই তো ওরা এসে ডাকবে।

    তবু তন্দ্রা আসে। হোটেলের তেতলার একটি মাত্র ঘর আমরা দখল করেছি। মস্ত ছাদটা আমাদেরই কপিরাইট, কিন্তু ঘরটি বড়ো ছোটো। তায় টেবিলে আলনায় তক্তাপাশে এমন ঠাসা যে পা ফেলবার জায়গা নেই। সুতরাং ঘরে থাকলে শুতে হয়, এবং এই দুপুরবেলায় শুলেই তন্দ্রা আসে। মধ্যাহ্নভোজনটা প্রতিদিনই প্রায় ভোজ হয়ে ওঠে, সেটাও তন্দ্রার সহায়ক। সমুদ্রে স্নানের পর দুর্দান্ত ক্ষুধিত হয়ে ফিরে আসি। আমরা লোনা জলটা গায়েই শুকোতে দিই; ‘ভালো’ জলে আবার বাথরুম-মাফিক মাজা-ঘষা নিতান্তই অকারণ। শরীরটা খানিকক্ষণ বেশ কড়কড় করে। খাওয়াটা হয় প্রচণ্ড উৎসাহে, ঠাকুরের সব রান্নাই চমৎকার। তারপর ভরা দুপুর, আর সমুদ্র, আর আমরা। বিকেলে আর-একবার স্নান করবো। যে-ক’দিন পুরীতে আছি, স্বাস্থ্য ভালো করতে হবে।

    আমাদের সমস্ত শরীরে একটা অস্ফুট মধুর ব্যথা। সমুদ্র আমাদের মেরেছে। সমুদ্র আমাদের নিয়ে খেলা করে। বালুর উপর দিয়ে দৌড়ে গিয়ে হঠাৎ সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে বড়ো ভালো। কিন্তু একবারেই ঝাঁপিয়ে পড়া যায় না। হাঁটুজলে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করো, ঐ ঢেউ আসছে। পাশে আছে জং বাহাদুর আর গোবিন্দ, ভয় নেই। ঐ এলো ঢেউ। ডুব দাও। মাথার উপর দিয়ে সাতশো ঘোড়া লাফিয়ে চলে গেলো। শোনো গর্জন, ঢেউ লাগলো তীরে। শোঁ করে ফিরে যাচ্ছে, দ্রুত ঘূর্ণির টানে আমরাও বুঝি ভেসে গেলাম। পাক খেয়ে পড়ি বালু-মেশানো, বালু-বাদামি জলে, হাতদুটো নরম বালুতে ডুবিয়ে দিয়ে শক্ত হয়ে পড়ে থাকি। ঢেউ সরে যায়, আমরা পড়ে থাকি বালুর বিছানায়, যেন প্রত্যাখ্যাত। আমরা উঠে ছুটে যাই এগিয়ে; ঐ ঢেউ এলো।

    এলো। লাফ দাও। ঠিক হলো না; মুখে প্রচণ্ড বাড়ি মেরে চলে গেলো ঢেউ। সর্বনাশ, ঐ আর-একটা, আমরা তো হাঁপিয়ে গেছি। ভয় নেই, জং বাহাদুর আর গোবিন্দ আমাদের তুলে ধরেছে। আমরা ঢেউয়ের উপরে। পাহাড়ের মতো উঁচু হয়ে ঢেউ এলো। গোবিন্দ আর জং বাহাদুরকে দেখা যাচ্ছে না, ওরা ডুবে গেছে, আমাদের এক হাতে ধরেছে উপরে, আমরা ঢেউয়ের ঘোড়সওয়ার। হঠাৎ চকিতে নেমে গেলুম। এ কী অপূর্ব দোলা লাগলো শরীরে। আমরা ভাসছি, নাচছি। ক্লান্ত হয়েছি আমরা; গোবিন্দ আর জং বাহাদুর সাঁত্রাচ্ছে; আমরা ওদের পিঠে চড়েছি গলা আঁকড়ে ধরে। ওরা আমাদের ফেলে দেবে না। ওরা আরো দূরে যেতে চায়, আমরা বারণ করি। ওদের ভয় নেই, সমুদ্র ওদেরই। সমুদ্রের জলে মাছের মতো ওরা। সমুদ্রের জল লেগে লেগে চিক্কণ মসৃণ কালো এদের চামড়া। এরা মান্দ্রাজ উপকূলের মানুষ, পাঁচটা-ছ’টা ভাষা মোটামুটি বলতে পারে। গোবিন্দ বড়ো বেশি কথা বলে; ওর মুখে রাজা-উজির ছাড়া কথা নেই। গোবিন্দ চটে গেলে ওর বৌকে মারে। জং বাহাদুর প্রকাণ্ড লম্বা, সমুদ্রের ধার দিয়ে হাফ প্যান্ট আর নীল জার্সি পরা জং বাহাদুর যখন লম্বা ঠ্যাং ফেলে হেঁটে যায়, দেখায় ভারি জমকালো। ও গম্ভীর মানুষ, বেশি কথা কয় না। গোবিন্দ ওর তুলনায় একটা ফাজিল চালিয়াৎ। আর ওদের দু-জনের তুলনাতেই আমরা নিতান্ত ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ। ঢেউয়ের এত দাপাদাপিতেও ওদের মাথার খড়ের টুপি কখনো খুলে যায় না। আর যদি বা হঠাৎ খুলে যায়, সেই উন্মত্ত তোলপাড়ের মধ্যেও চট করে সেটা ধরে ফেলে তক্ষুনি মাথায় পরে নিয়ে আবার ডুব দেয়। দু-জনেই ওরা আশ্চর্য।

     

     

    কার্তিক মাস, জলে একসঙ্গে বেশিক্ষণ থাকা যায় না, শীত করে। ভিজে শরীর নিয়ে উঠে আসি, ধুপ করে বসে পড়ি উষ্ণ নরম বালুর উপর, ঘন-ঘন লম্বা নিশ্বাস পেট থেকে উঠে আসে বুকের ভিতর দিয়ে। আমরা হাঁপাচ্ছি, আমরা কাঁপছি, দূরে সমুদ্র কাঁপছে। মুঠো-মুঠো গরম বালু নিয়ে মাখি শরীরে। শ্যামায়মান আমাদের শরীর, আমাদের রক্তে সূর্যের ঘ্রাণ, সূর্যের গান আকাশে-আকাশে। আমরা সূর্য- গুঞ্জিত, আমরা সমুদ্র-উত্থিত। এই তো আমরা শুয়ে পড়েছি বালুর উপর, টান হয়ে, এক হাত মাথার নিচে, আর এক হাত চোখ আড়াল করেছে। আমরা ঋজু, আমরা ক্ষীণ, আমাদের শরীর এই উষ্ণ-মধুর দিনের মধ্যে গলে গেলো। দূরের সমুদ্র ইস্পাতের মতো ঝলসাচ্ছে। গোল হয়ে ঘুরছে সমুদ্রের শাদা পাখিরা, হঠাৎ ছোঁ মেরে মাছ তুলে নিচ্ছে জল থেকে। আমরা মুক্ত, আমরা ঐ পাখিদের মতো দায়িত্বহীন। আমরা বালুর উপর দিয়ে গড়াবো। বালুর মধ্যে গর্ত খুঁড়ে হাত ঢুকিয়ে দেবো, সেখানে ভিজে ঠাণ্ডা। মুখ ডুবিয়ে দেবো শিরশিরে ভিজে বালিতে। যেখানে এসে ঢেউ শেষ হয় সেখানকার নরম, নরম বালুতে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকবো। আমাদের উপর দিয়ে চলে যাবে নিঃশেষিত ঢেউ। হঠাৎ জোরে এসে ছিটকে ফেলে দেবে দূরে। আমরা ভয় করিনে, আমাদের ভালো লাগে এই খেলা। ভিজে বালিতে আঙুল দিয়ে আঁকিবুকি কত কী লিখি, ঢেউ এসে মুছে দিয়ে যায়। চিরকাল নিটোল মসৃণ এই বালুতট, কেউ এতে কোনোদিন একটি আঁচড় রাখতে পারবে না।

     

     

    আমাদের বিশ্রাম হয়েছে, এবার স্নানের দ্বিতীয় কিস্তি। গোবিন্দ এসে দু-বার তাড়া দিলো, ও কথা বলে বেশি। গোবিন্দ আর জং বাহাদুরের সময়ের মূল্য আছে, আমাদের নেই। জং বাহাদুর গম্ভীর মানুষ; একটু দূরে গিয়ে বালুর উপর লম্বা কালো শরীরটা ছড়িয়ে দিয়ে শুয়ে ছিলো, এইবার উঠে এলো। ওদের হাত ধরে আমরা আবার নামলুম। ওরা ধীর। ওদের আশ্রয়ে নিশ্চিন্ত আমরা। নেহাৎ আনাড়ি, নেহাৎ দুর্বল, ওদের হাতে আমাদের প্রাণ। মস্ত ঢেউ যখন উঁচিয়ে আসে, গোবিন্দ আমার দু-কাঁধ ধরে বলে, ‘হামাকে একখানা কাপড় দেবেন। গোবিন্দ নির্বোধ নয়, পুরস্কার চাইবার ঠিক সময় ও জানে।

    বেলা বেড়েছে। আকাশ ঝকঝক করছে। জেলেদের যে-সব নৌকো সকালবেলায় রওনা হয়েছিলো, এতক্ষণে তারা ঐ দূরে কালো একটা ফুটকি। বিকেলে ওরা ফিরে আসবে মাছ নিয়ে। কাঠের ভেলার মতো নৌকো করে কোথায় চলে যায় ওরা। ওদের ভয় করে না, আমাদের যেমন বাস্-এ চড়তে ভয় করে না। বড়ো নৌকোও আছে, পারে পড়ে থাকে সেগুলো। ওরা সেগুলো চড়ে না, ভাড়া খাটায়। তারই একটায় আমরা আজ বেড়াবো।

    রোদ চড়ছে, খিদে পেয়েছে, আর থাকা যায় না। সমুদ্রের জল কখন নেমে গেলো। যথেষ্ট ক্লান্ত হয়েছি। এই কাপড়, এই চটি, এই ছাতা। হোটেল মনে হয় কতখানি রাস্তা। সমস্ত দুপুরবেলাটা অলস ভ্রমর। সমুদ্রে আমরা আচ্ছন্ন, সমুদ্রে আমরা ভরে আছি। সমুদ্র নীল নয়। রুপোর মতো শাদা, কি মেঘের মতো ধূসর, কি বাদামি কি বেগনি কি সবুজ, নীল নয় কখনোই। একবার, শুধু একবার আমরা দেখেছিলাম নীল সমুদ্র। সে আশ্চর্য। হঠাৎ যদি আকাশ ফাঁক হয়ে স্বৰ্গ ঝলসে ওঠে চোখের সামনে, এ তেমনি। সিঁড়ির মতো ধাপ বেয়ে ঘুরে-ঘুরে উঠছি কোনারকের মন্দিরে। একটু ভয়ে ভয়েই উঠছি; মন্দিরের সৌন্দর্যের চেয়ে নিজেদের পায়ের দিকেই বেশি নজর। মাঝামাঝি এসে হঠাৎ থমকে দাঁড়ালুম। হঠাৎ খুলে গেলো চোখের সামনে দিগন্তরেখার মতো বাঁকা সমুদ্র। নীল, নীল। ‘স্বপ্নের ঢেউ-তোলা নীল সমুদ্র’ এরই নাম। এ আমরা আশা করিনি, সমুদ্র এত কাছে আমরা জানতুম না। তবু এত কাছে নয় যে শব্দ শোনা যায়। চারদিকের গভীর স্তব্ধতায় শুধু বিশাল ঝাউবনের হাওয়ার ঢেউ। অপরূপ, অবিশ্বাস্য কোনো স্বপ্নের মতো নীল, নীল সমুদ্র প্রসারিত। মুহূর্তে যেন মিটলো চোখের চিরকালের তৃষ্ণা। এমনি কোনো দেখা জীবনে ঘটলে এই ভেবে আক্ষেপ হয় যে চোখের দেখাকে আমরা কোনোরকমেই স্থায়ী করতে পারিনে। সমস্ত প্রাণ দিয়ে দেখেও কতটুকুই বা দেখতে পারি! চলে আসতে হয়; শরীরের স্থানান্তরে দেখার অবসান। তাছাড়া, এক মুহূর্তের দেখার চাইতে এক ঘণ্টার দেখা যে অবশ্যতই বেশি, তাও নয়। বরং প্রথম অপ্রত্যাশিত মুহূর্তেই যা দেখবার সমস্তটাই একসঙ্গে দেখে নিই। তারপর শুধু মনের উপর দাগ বুলোনো। কিন্তু সে-দাগ পাকা হয় না। বছর কাটে, রং ফিকে হয়ে আসে। যে- কবিতা ভালো লাগে, তা মনের মধ্যেই রাখতে পারি; মনের মতো বইটিকে কাছাকাছি রাখতে পারি সব সময়। চোখের দেখা হারিয়ে যায়। ক্যামেরা দিয়ে এই দেখাগুলোকে যারা আটকে রাখতে চায়, নিতান্তই তারা সেন্টিমেন্টাল মানুষ। হায়রে নিখুঁত ফোটোগ্রাফ! মৃত প্রিয়জনের ছবি জমকালো করে ঘরে বাঁধিয়ে রাখা নিজের শোকের বিজ্ঞাপন ছাড়া আর কী? যে মরতেই পারলো তার আবার ছবি! জ্ঞানীর কি কলাবিদের আগ্রহ যদি না থাকে, তাহলে নানা জায়গার ছবি তোলা ও রাখার মুখ্য উদ্দেশ্যই নিজের পর্যটনের দলিলরচনা। প্রতি ভ্রমণকারীর অ্যালবামের উপর অদৃশ্য কিন্তু অতি স্পষ্ট অক্ষরে এই কথাটাই লেখা থাকে : দ্যাখো আমরা কত বেড়িয়েছি! ক্যামেরার ছবি তো মরা; আসল ছবি থাকে মনে, হঠাৎ একদিন চমকে দেয় মুহূর্তের তীক্ষ্ণতায়, হঠাৎ জ্বলে ওঠে রঙিন মেঘে-মেঘে কল্পনার আকাশে। কিন্তু স্বচ্ছ, নিটোল সেই মুহূর্তটি বুদ্বুদের মতো ফেটে যায়, মুছে যায় মেঘ— তারপর হয়তো আমরা ভুলে যাই, হয়তো আবার মনে পড়ে অনেক, অনেক দিন পরে। তবু মৃত্যুর স্মৃতিসঞ্চয়ের মতো ফোটোগ্রাফ নাড়াচাড়া করে কৃত্রিম মনে- পড়ার চাইতে স্বাভাবিকভাবে ভুলে যাওয়া অনেক ভালো। আর যা-ই হোক, মনটাকে জাদুঘর করে তুলতে আমি নিতান্ত নারাজ।

     

     

    সেদিন বিকেলে সমুদ্র ছিলো বার্নিশ-করা কাঁসার মতো ঝকঝকে। ঢেউগুলো জ্বলন্ত রোদ দিয়ে মাজা। সূর্য হেলেছে পশ্চিমে, নেমেছে সোনার বন্যা তির্যক স্রোতে, চোখ ঝলসে যায়। আমরা ঘুমিয়ে পড়েছিলুম, দরজার বাইরে গোবিন্দ ডাক দিলে। নৌকো প্রস্তুত। মস্ত বড়ো নৌকো, আট-দশজন মাঝি, কোনো ভয় নেই। গোবিন্দ আর জং বাহাদুর থাকবে তীরে দাঁড়িয়ে, দুর্ঘটনার কোনো লক্ষণ দেখলেই তীরের মতো ছুটে যাবে সাঁৎরে। ফুরফুরে হাওয়া বইছে, বিকেলি ঢেউগুলো ছোটো- ছোটো। সমুদ্রের বুকের উপর শাদা পাখির ফুটকি। আমরা পার হয়ে যাবো ঢেউ, যাবো সেখানে যেখানে পাখিরা পাখা মুড়ে জলে বুক চেপে বসে। আতঙ্কসঙ্কুল জলরাশি চাষ করবে এই নৌকোর হাল। নিচে অক্টোপাস, নিচে হাঙর, কত দাঁত- দেখানো দুঃস্বপ্ন। আমাদের ভয় নেই। আমরা বেরোলাম নতুন দ্বীপের সন্ধানে, আমাদের কল্পনার উপনিবেশ। নতুন দেশ জয় করবো আমরা। ঐ তো সমুদ্র ধূ- ধূ করছে; সোজা রওনা হলে দিনের পর দিন ভাসতে ভাসতে কোথায় গিয়ে ঠেকবো? হয়তো বর্মার কোনো ঘোর জঙ্গলে, যেখানে মানুষ এখনো যায়নি।

    আমরা রওনা হয়েছি, গোবিন্দ আমাদের নৌকোয় তুলে দিয়েছে কোলে করে। পায়ে আমাদের জুতো, গায়ে সভ্যতার বস্ত্র। নতুন দেশ আবিষ্কার করার মতো চেহারা নয় আমাদের। শরীর সংকীর্ণ, স্থানকালে আবদ্ধ; মন মুক্ত, মনের সীমা নেই। আমাদের মনকে আমরা উড়িয়ে দিয়েছি এই সমুদ্রের লোনা হাওয়ায়। সমুদ্র ঝলমল করছে, সমুদ্র ঝকঝক করছে। চলো, চলো। আমাদের কাপ্তান মনে-মনে মন্ত্র পড়লো, তারপর আটজন খালাসি চীৎকার করে উঠলো একসঙ্গে। দুলে উঠলো নৌকো। ঢেউ পার হচ্ছি আমরা। কাপ্তান খালাসিদের হুকুম দিচ্ছে থেকে-থেকে, অদ্ভুত ওদের ভাষা, অদ্ভুত ওদের কালো-কালো দস্যুর মতো চেহারা। ঘোড়ার মতো চলেছে নৌকো, ঢেউয়ের তালে-তালে লাফিয়ে উঠছে, ধুপ করে তলিয়ে যাচ্ছে। নৌকোয় জল উঠছে, একজন লোক বসে-বসে কেবল ঐ জল সেঁচে ফেলছে। মস্ত দোলনায় আমরা দুলছি : এই আকাশে উঠে গেলুম, এই নেমে গেলুম পাতালে। কতদূর যাবো আমরা এই ঢেউ পার হয়ে। মুখে লাগছে জলের ছিটে : মুখে লাগছে হাজার-হাজার মাইল সমুদ্র পার হয়ে-আসা হাওয়া। ঢেউয়ের একটা সারি আমরা পার হয়েছি, সামনে রয়েছে আর-একটা। পুরীর কূল এরই মধ্যে কত দূরে সরে গেছে; সারি-সারি বাড়িগুলো নিয়ে লম্বা তটরেখা কল্পনার মতো অপরূপ, সোনালি আভায় মোড়া। পুবদিকের শেষ মস্ত লাল বাড়িটা কোন রাজার, তারপর জঙ্গল, ঐ কোনারকের পথ। দূরে তাকালে মনে হয় সমুদ্র ঢালু হয়ে উঠে গেছে, নাবিকের চোখের সমুদ্র বুঝি এই : ইংরেজের ভাষায় সমুদ্র উঁচু কি এরই জন্যে? আর-একটা ঢেউয়ের সারি পার হয়ে এলাম। তীরে যে-গর্জন এত প্রচণ্ড, এখন তা শোনা যাচ্ছে স্বপ্নের মর্মরের মতো, অস্পষ্ট শোঁ-শোঁ ভাসছে হাওয়ায়। ঢেউগুলোকে পিছন থেকে দেখছি : ঘাড় উঁচু করে দৌড়ে চলেছে, আছড়ে পড়ছে মুখে ফেনা তুলে। এখন আর অত ভয়ংকর লাগছে না ওদের। এই ঢেউগুলো নিতান্তই স্থানীয় ঘটনা, এখন বুঝতে পারছি এখানে ঢেউ নেই; এখানে গম্ভীর বিশাল জল মৃত্যুর মতো স্তব্ধ; কোনো শব্দ নেই, কোনো আলোড়ন নেই; শুধু থেকে-থেকে সমুদ্রের বুক অস্ফুট দুলে ওঠে যেন কোনো চিরন্তন অবিশ্রান্ত দীর্ঘশ্বাসে। কেঁপে ওঠে বুক। কেঁপে ওঠে বুক আমাদেরও, ভয় করে। ঢেউয়ের উতরোল উন্মত্ততা, ও তো সমুদ্রের শিশু- খেলা : ভয় এখানে, এই ভীষণ, স্পন্দিত স্তব্ধতায়। চলো, ঢেউয়ের শব্দ কানে প্রায় মিলিয়ে আসছে। সূর্য নেমেছে। হঠাৎ হালের তক্তা খুলে গেলো, জলে ভেসে চললো। ছোট্ট একটা কালো কুচকুচে ছেলে, মুখ-ভরা বসন্তের দাগ, তাকে ওরা জলে নামিয়ে দিলে। অনায়াসে ঝাঁপ দিলে সে; ছোটো ছোটো হাতের জোর বাড়ি লাগলো জলে; মাছের মতো সাঁরে গিয়ে ধরলো তক্তা, নিয়ে এলো কুকুরের মতো কামড়ে। আশ্চর্য! এই জলেই তো হাঙর আর অক্টোপাস, আর কিলবিলে লিকলিকে দাঁতওয়ালা কত জানোয়ার। স্বচ্ছ ধূসর জলে অনেকদূর চোখ যায়, মাঝে-মাঝে জেলিমাছ ফুটে রয়েছে দীর্ঘবৃত্ত ফুলের মতো। ছেলেটা দাঁত বার করে হেসে বললে, আনবো একটা তুলে? একটাকা দিলেই পারি। আমরা বললাম, দু-আনা দিতে পারি। দ্বিতীয় কথা না-বলে ঝুপ করে নেমে গেলো ছেলেটা। ওর কালো শরীর গোল হয়ে জলের নিচে দুলছে, গাছের ডাল ধরা বানর যেন। সগৌরবে নিয়ে এলো জেলি-মাছ— হায়রে, এই নাকি? স্যাৎসেঁতে প্যাঁচপেচে একটা ছোট্ট পিণ্ড, একটু পরে রংটাও ফ্যাকাশে হয়ে গেলো। শিক্ষা হলো : বৃত্ত থেকে ফুল ছিঁড়তে নেই।

     

     

    এবার আমরা ফিরবো। বিকেল ঢলে পড়ছে। হাজার মাইল ভরে সমুদ্র পড়ে রয়েছে চারদিকে। ছোটো-ছোটো শাদা পাখিরা এই বসে, এই ওড়ে। পশ্চিমে যেন আগুনের সমুদ্র। পুবদিকে একটি মেঘ গোলাপি হয়ে উঠলো। আমরা ফিরছি। দীর্ঘনিশ্বসিত বুকের মতো সমুদ্রের নিঃশব্দ অলক্ষিত ওঠা-পড়া। ঢেউয়ের বেড়া এসে পড়লো, এবার অতি সহজেই লাফিয়ে গেলাম। তীরে দাঁড়ানো গোবিন্দ আর জং বাহাদুরের মূর্তি বড়ো হয়ে উঠছে। আবার ঢেউ। কত অল্প সময়ে এলাম। ঐ আমাদের হোটেল। ফিরে গিয়ে ছাদে বসে চা খাবো। ঢেউগুলো এবার বাধা দিচ্ছে না, ঢেউয়ের ধাক্কাই নৌকোকে নিয়ে যাচ্ছে ঠেলে। কানে ভিড় করে এলো ঢেউয়ের দাপাদাপি চীৎকার। কাপ্তান চেঁচিয়ে কী বলে উঠলো ওদের অদ্ভুত ভাষায়। নৌকোর নিচে বালি ঠেকলো। গোবিন্দ আর জং বাহাদুর এগিয়ে এসেছে। ওরা হাসছে। আমরাও হাসছি। আমরা জয় করেছি নতুন দেশ, আমরা ফিরে এসেছি।

    দ্যাখো না সমুদ্র তোমার কী করে,
    এই লোনা নীল জল আর চাবুকের মতো হাওয়া।

    যেমন শঙ্খ আর ঝকঝকে ঝিনুক
    এই ঢেউয়েরা হাজার বছর ধরে আঁকে
    কত অফুরন্ত রঙে, কত বিচিত্র নকশায়
    বাদামি আর বেগনি আর অপরূপ মসৃণ
    আর আঁকাবাঁকা ঢেউ-খেলানো রেখায়—
    তেমনি তারা তৈরি করুক তোমার শরীরকে
    শঙ্খের মতো মসৃণ তোমার শরীর।

     

     

    একবার নিজেকে দাও না সমুদ্রের কাছে
    তারপর দ্যাখো সে তোমাকে নিয়ে কী করে।

    ঢেউ তোমাকে মেজে দিয়ে যাক
    শাদা ফেনার তোলপাড়ে;
    সমুদ্র তোমাকে নিয়ে খেলা করুক
    তোমার মসৃণ পরিষ্কার শরীর নিয়ে,
    তোমাকে জড়িয়ে ধরুক চারদিক থেকে তার বালু-বাদামি জল।
    যেমন সে তৈরি করেছে হাজার বছর ধরে ধবধবে শাদা শঙ্খ,
    তেমনি সে তৈরি করুক তোমাকে, তোমার ব্রাউন মসৃণ শরীর।

    ভয় কোরো না, সমুদ্রকে ভয় কোরো না,
    ওর মধ্যে অফুরন্ত স্নেহ।
    ঝাঁপিয়ে পড়ো
    এই ফেনিল তোলপাড়ের বুকের মাঝখানে,
    ঢেউয়ের সঙ্গে নেচে-নেচে যাও
    লাফিয়ে ওঠো ঢেউয়ের চূড়ায়
    জলকন্যার মতো।

     

     

    সমুদ্র অপরিসীম, সমুদ্র ভীষণ,
    কিন্তু সে ভালোবাসে তোমার সঙ্গে খেলা করতে,
    ওর মধ্যে অন্তহীন স্নেহ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাহিত্যচর্চা – বুদ্ধদেব বসু
    Next Article আমার ছেলেবেলা – বুদ্ধদেব বসু

    Related Articles

    বুদ্ধদেব বসু

    বোদলেয়ার: তাঁর কবিতা – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছোটগল্প – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছায়া কালো কালো – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    তিথিডোর – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    পিরানদেল্লোর গল্প – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    রাত ভ’রে বৃষ্টি – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }