Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমি চঞ্চল হে – বুদ্ধদেব বসু

    বুদ্ধদেব বসু এক পাতা গল্প100 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আমি চঞ্চল হে – ৭

    ৭

    আমরা যারা শহরে থাকি, আমাদের পক্ষে অন্ধকারই একটা ঐশ্বর্য। কেননা শহরে অন্ধকার বলে কোনো জিনিশই নেই। যেখানেই যাই, যে-কোনো অবজ্ঞেয় গলিতে, যে-কোনো নির্জন রাস্তার পার্কে— অন্ধকারের শরীরকে খোঁচা-খোঁচা আলো ফুটো করে দেবেই, সে যদি ইলেকট্রিসিটির গভীর ক্ষত না-হয়ে গ্যাসের হালকা আঁচড় হয় তাহলেই কৃতজ্ঞ বোধ করি। ভাবতে অবাক লাগে যে কলকাতায় সত্যি-সত্যি অন্ধকার একটি ঘরে শোয়া প্রায় অসম্ভব। কলকাতায় অনেক ঘরে আমি ঘুমিয়েছি; এবং তার একটাতেও চোখ না-বুজলে অন্ধকার নামেনি। ঘরের আলো নেবাতেই কোনো-না-কোনো জানলার ফাঁক দিয়ে রাস্তার আলোর একটি-না-একটি তির্যক রেখা এসে পড়েইছে— ঠিক আমার চোখ লক্ষ্য করে। পর্দা দিয়ে তাকে হয়তো চাপা দিতে পেরেছি, বাধা দিতে পারিনি। সময়ে মানুষের সবই নাকি সয়ে যায়, কিন্তু এই একটা কষ্ট এ-পর্যন্ত তো আমার সহ্য হলো না। যেখানেই যাই— যানে আর পথে, ঘরে আর বাজারে— সেখানেই তো আলোর তীব্র চীৎকার; সকল কাজের শেষে যখন ঘুম, তখন অন্তত সে-কলরোল স্তব্ধ হোক, নামুক অন্ধকার। যে-অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না, তাতে চোখ আর মন ডুবিয়ে দিয়ে চুপচাপ শুয়ে থাকা— এ যেন অতি বিরল, দুর্মূল্য বিলাসিতা, আমার পক্ষে তা আশা করাই অন্যায়। আলোর উল্কি-আঁকা এই ফ্যাকাশে ছায়া ছাড়া পৃথিবীতে আর-কিছু আছে এ প্রায় ভুলেই গিয়েছি, এমন সময় একদিন টিকিট কিনে রেলগাড়িতে চেপে বসলুম। গাড়ি ছাড়লো; ইস্টিশানের ঘেরাটোপ ছাড়িয়ে গাড়ি যেই এলো আকাশের তলায়, অমনি চারদিক থেকে নিবিড় নীরন্ধ্র অন্ধকার উঠলো কথা কয়ে। কালো, কালো। কতদিন পর যেন মনে পড়লো, পৃথিবীতে এ-জিনিশও আছে। সে-অন্ধকার অতি উজ্জ্বল আলোর মতোই মনকে প্রচণ্ড ধাক্কা দেয়। হাওয়া ছুটে যাচ্ছে কান ঘেঁষে তীরের মতো শিস দিয়ে, হঠাৎ এক ঝাঁক জোনাকি ঝিলকিয়ে মিলিয়ে গেলো, আমরা জানলা দিয়ে তাকিয়ে আছি চুপ করে।

    চিল্কার ধারে গিয়ে আমরা নতুন চাঁদের দেখা পেলুম। আসন্ন সন্ধ্যার ভিতর দিয়ে আমাদের প্যাসেঞ্জার গাড়ি চলেছে যেন নতুন চাঁদের বাঁকা রেখাকেই লক্ষ্য করে। এ-সব গাড়িতে বড়ো ভিড় হয় না, আমাদের কামরাতে আমরা ছাড়া আর- একজন ভদ্রলোক। আমরা যেদিকে বসেছি, সেদিকেই চিল্কা। প্রায় দু-ঘণ্টা ধরে চিল্কা আমাদের সঙ্গে-সঙ্গে এলো, ছ-টা স্টেশন পার হয়ে। কখনো দূরে ঝাপসা শাদা পাতের মতো, কখনো আরো কাছে, কখনো একেবারে রেল-লাইনের তলায় ছড়ানো। দিগন্ত-ছোঁয়া শান্ত, নিশ্চল জল; মাঝে মাঝে দ্বীপ, পাহাড়। গাড়ি যত এগোচ্ছে, দু-দিকে পাহাড়ের সংখ্যা ততই বাড়ছে। উড়িষ্যা পার হয়ে মান্দ্রাজের সীমানায় ঢুকলুম। এ-গাড়ি ওয়াল্ট্যায়ার যাবে। আমরা যেখানে নামবো তার নাম রম্ভা। সেখানে চিল্কার শেষ। বসে আছি টাইম টেবিল চোখের সামনে খুলে, নির্ভুল নিয়মে একটার পর একটা স্টেশন আসছে। উৎকণ্ঠায় আছি, কখন রম্ভা এসে দ্যাখ- না- দ্যাখ পালিয়ে যায়। ছোটো স্টেশন, গাড়ি হয়তো দাঁড়িয়েই দৌড় দেবে, ঠিকমতো নামতে পারবো তো? কুলি জুটবে কিনা কে জানে। বাক্স বিছানা ইত্যাদি যাবতীয় সম্পত্তি হাতের কাছে জড়ো করে বসে আছি। এদিকে সন্ধে তো হয়-হয়। পুরীর হোটেল থেকে যতটা খবর সংগ্রহ করতে পেরেছিলুম, বিশেষ ভরসা পাচ্ছিনে মনে। ডাকবাংলো একটা আছে শুনেছি, কত দূরে কে জানে। রাত্রের মতো একটা বাসস্থান হলেই হয়, চাল ডাল আলু সঙ্গেই আছে।

     

     

    সন্ধে হলো। চিল্কার প্রসার দুধের মতো ম্লান। জলের উপরে পাখির ঝাঁক। স্বচ্ছ নীল আকাশে নতুন বাঁকা চাঁদ প্রকাণ্ড একটা মুক্তার মতো জ্বলছে। দু-ধারে নিবিড় সবুজ গাছপালা, ছোটো ছোটো পাহাড়। একটু আগেই আমরা কথা বলছিলাম, এখন আমরা চুপ। আমরা অপেক্ষমাণ, এর পরেই রম্ভা।

    যতটা তাড়াহুড়ো করে নামলুম তার কিছুই দরকার ছিলো না। এটা জল নেবার জায়গা, গাড়ি চার মিনিট দাঁড়ায়। যে-লোকটি আমাদের মাল নামালো, তাকে স্টেশনের কুলি ভেবেছিলুম, কিন্তু সে ডাকবাংলোরই পরিচারক। আর-একজন লোক, লম্বা, মস্ত গোঁফ, মস্ত লালচে দাঁত— গাড়ি থামবার সঙ্গে-সঙ্গেই লন্ঠন হাতে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলে আমরা ডাকবাংলোয় যাবো কিনা। যাবো কিনা! সন্ধ্যার অন্ধকারে এই শূন্য জনপদে পা দিতে-না-দিতেই যে আস্ত একজন দূত মিলে যাবে তা আমরা কখনোই আশা করিনি। জিজ্ঞেস করলুম ‘ডাকবাংলো কতদূর?’ লোকটা বললে ‘নগিজ’, অর্থাৎ কাছে। হেঁটে যাওয়া যাবে? লোকটা মাথা নাড়লো। সদ্বিধ মনে স্টেশন থেকে বেরোলাম। দূরত্ব সম্বন্ধে এদের ধারণা অতি অস্পষ্ট, সে- অভিজ্ঞতা আগেই হয়েছিলো। তাছাড়া, পনেরো-কুড়ি মাইল হাঁটাহাঁটি করা যাদের পক্ষে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, কতটা দূর হেঁটে যাওয়া যায় সে-বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের মতদ্বৈধ হওয়াও খুবই স্বাভাবিক। ভয়ে-ভয়েই এগোতে লাগলাম, কিন্তু ভালো করে হাঁটতে আরম্ভও করিনি এমন সময় আমাদের পথপ্রদর্শক হঠাৎ একটা বারান্দায় গিয়ে উঠলো। এই বাড়িই যে ডাকবাংলো সেটা উপলব্ধি করতে রীতিমতো সময় লাগলো আমাদের। গাড়ি থেকে নেমেই আবছা চোখে পড়েছিলো বাড়িটা কল্পনাও করতে পারিনি ঐ বাড়িই আমাদের সাম্প্রতিক ভবন। নগিজ মানে যে সত্যি-সত্যি এত কাছে তা কে জানতো!

     

     

    এ-ক’ঘণ্টার এত আশঙ্কা মুহূর্তে মিলিয়ে গেলো, বারান্দায় দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকিয়ে গভীর নিশ্বাস ছাড়লাম। ক্ষীণ ক্ষীণ চাঁদ এরই মধ্যে গাঢ়-তামাটে হয়ে আকাশের ঢালু বেয়ে নিচে নেমেছে, আর তার আলো নেই। অন্ধকার আকাশে ঝাঁকে-ঝাঁকে তারা উঠেছে। ট্রেনটা এখনো দাঁড়িয়ে। দরজা খোলা হলো, যে-ঘরটিতে আমরা ঢুলুম তা একসঙ্গে বসবার, শোবার ও খাবার ঘর। তিনদিকে খোলা বারান্দা, পাশে অকৃপণ বাথরুম, কিছুরই অভাব নেই। সেই মুহূর্তে মনে হলো এ যেন দুর্লভ কল্পনার অন্তঃপুর; বহু পুণ্যফলে এখানে প্রবেশ পেয়েছি।

    দীর্ঘ গুম্ফবান পুরুষোত্তম আমাদের জানালে যে এখানে প্রায়ই লোকজন আসে, এবং ‘কালকেও দুটো বাবু এথেথিলো। এখন আর-কেউ নেই তো? কিছু চেষ্টা করে জানা গেলো যে এখনকার বাসিন্দা শুধু আমরাই। এটাও ঈশ্বরের দয়া বলতে হবে। বিহার উড়িষ্যা ছোটোনাগপুরে পথে-বিপথে অজস্র ডাকবাংলো ছড়ানো, যে- কোনোটাই এত সুন্দর, দেখলে মনে হয় চিরকাল থাকি। কিন্তু নির্জনতা ও গোপনতাই এদের প্রধান আকর্ষণ। অন্য মানুষের সান্নিধ্যে সমস্ত সুরটাই কেটে যায়। ট্রেন কখন চলে গেছে, চারদিক নিঃঝুম, পৃথিবীতে এই একটি ঘর, আর ঘরের মধ্যে আমরা— এ-ছাড়া আর-কিছু নেই। এ-ক’দিন পুরীতে অবিশ্রান্ত সমুদ্রের চীৎকারের পরে এ-স্তব্ধতা আরো অদ্ভুত লাগলো— এ যেন একটা উপস্থিতি, একটা সজীব অনুভূতি, বুকের মধ্যে রক্তের যেন স্পন্দন। দরজার বাইরে কে যেন আমাদের জন্যে দাঁড়িয়ে আছে, চিরকাল। অনেক, অনেক দূরে দিনের আর রাত্রির কলরোল। এই মুহূর্ত ছাড়া আর-কিছু নেই।

     

     

    খোলা হলো বাক্স-বিছানা, দেখতে-দেখতে আমাদের ব্যবহারের কত জিনিশ ঘর ভরে ছড়িয়ে গেলো। এখানে চায়ের কৌটো, ওখানে সাবান; এরই মধ্যে চিরুনিটা আবার হারালো কোথায়? এখানেই আমরা ঘর বেঁধেছি। আধ ঘণ্টা আগে আমাদের পক্ষে যে-ঘরের অস্তিত্বই ছিলো না, এখন মনে হয় এখানে যেন আমরা কতকাল ধরে আছি, যেন চিরকাল থাকবো। তালা-বন্ধ ঘর ছিলো ডানা-মোড়া পাখির মতো, মুহূর্তে পাখা মেলে আমাদের ভিতরে টেনে নিয়েছে। আমরা এখন ওর। আমরা ওকে ভরেছি, শুধু আমাদের জিনিশ দিয়ে নয়, আমাদের সত্তা দিয়ে। টেবিলের উপর ছোটো স্টোভে চায়ের জল গরম হচ্ছে, অনেকক্ষণ লাগবে। পুরুষোত্তম গেছে মুর্গি আনতে, ও রাঁধতে পারে।

    উড়িষ্যায়, দেখা গেলো, অতি সহজেই নবাবের মতো থাকা যায়। যে-কোনো ডাকবাংলোয় আপনি যান, ভৃত্য একাধিক, আজ্ঞাপালনে ক্ষিপ্র ও অক্লান্ত, এবং সন্তোষসাধনে উৎসুক ও সচেষ্ট। তার উপর, যে-রকম পারিতোষিক তারা প্রত্যাশা করে সেটা ভয়াবহ তো নয়ই, বরং সামান্যই। যে-লোকটি গাড়ি থেকে আমাদের মাল নামিয়েছিলো তার নাম কি চেহারা কেমন কিছুই আমার মনে নেই, কিন্তু যে- দু’দিন ছিলাম, সে আমাদের সেবায় নিজেকে যে-ভাবে নিয়োজিত করেছিলো সেটা ভুলবো না। তার ভাবখানা এমন, আমরা তার গায়ের উপর দিয়ে হেঁটে গেলে সে খুশি হয়। সে পা টিপে দেবে, তেল মেখে দেবে, নখ কেটে দেবে— কী না করবে? আমাদের দেশের ভূসম্পত্তিবানদের জন্য এ-সব পরিচর্যা। আমি অতি কষ্টে মধ্যবিত্ত, ও-সমস্তে আমার অভ্যেস নেই। নিজের শরীরটাকে একটু নাড়লেই যেখানে হয়ে যায়, সেখানে চাকরকে হুকুম করতে আমি পারি না। আর সুস্থ অবস্থায় শারীরিক সেবা ভৃত্য কেন— কারো হাত থেকে নিতেই আমি স্বভাবতই কুণ্ঠিত। সুতরাং আমার আদেশস্বল্পতায় লোকটি প্রথমটায় বুঝি বিব্রতই হয়েছিলো। নিজের হাতে চেয়ারটা একটু সরালে সে হাঁ-হাঁ করে ছুটে আসে। এতে আমার চটে যাবারই কথা, কিন্তু চটলে তার উপর নিষ্ঠুর অবিচার করা হতো। অগত্যা, তারই মনের শান্তির জন্য আমাকে সায় দিতে হলো। সে যা-কিছু করতে চাইতো, আমি আপত্তি করতুম না। চিল্কায় নৌকোয় বেড়াবার সময় দু-ঘণ্টা সে আমাদের মাথার উপর ছাতা ধরেই রইলো। ঘোরতর অস্বস্তি বোধ করছিলুম, কিন্তু দু-একবার বারণ করাতে সে এমন দুঃখীর মতো করুণ মুখ করলো যে আবার বারণ করতে প্রাণে সইলো না। যদি তার হাত থেকে জোর করে ছাতা কেড়ে নিতুম, মনের দুঃখে সে বুঝি হ্রদের জলেই ঝাঁপ দিতো। কাজে-কাজেই এ-দুটো দিন রইলো আমার সাহিত্যিক জীবনের কালোখাতায় নবাবির লাল কালিতে লেখা হয়ে।

     

     

    ভোরবেলায় ঘুম ভাঙতেই বাইরে এলুম। ঝিরঝিরে সকাল, বাতাসে ঘাসের গন্ধ নেশার মতো। এক কোণ থেকে দেখা যায় চিল্কার একটুখানি জল, আর দূরে সবুজ পাহাড়ের গা বেয়ে সূক্ষ্ম ধোঁয়ার মতো কুয়াশা। পাহাড়ের এই ইস্টিশন থেকেই হঠাৎ রেল-লাইন একটা পাহাড়ের পা ঘেঁষে বেঁকে গেছে। ওদিকে তাকালে হঠাৎ চোখ আটকে যায়, তারপর অবাক লাগে। কোথায় গেছে রেল-লাইন, কত দূরে, কত পাহাড় ডিঙিয়ে, কত নদী পার হয়ে, হয়তো সমুদ্রের ধার দিয়ে। ছোটো ছেলের মতো অবাক লাগে। শিশুর জীবনের প্রধান অনুভূতি বিস্ময়, কেননা সে অজ্ঞান। আমরা অনেক জেনে ফেলি বলে বিস্ময়টা ঠিক সেই মাত্রাতেই কমে আসে। তাছাড়া, বিজ্ঞতার একটা দম্ভ থাকে এই যে কিছুতেই অবাক হবো না। অবাক হলেই যেন বিস্ময়ের পাত্রের কাছে ছোটো হয়ে গেলুম। একবার একটি ছোটো ছেলে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলো। সে এর আগে কলকাতায় আসেনি, কিন্তু সমস্ত শহর বেড়িয়ে যে-কোনো জিনিশই সে দ্যাখে, অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে বলে : ‘ওঃ এর আর কী! আমাদের— গঞ্জেও এ-রকম কত আছে! পাছে আমরা তাকে ‘বাঙাল’ মনে করি, এই ছিলো তার ভয়; এবং সেই ভয়ে কলকাতার যে-মহিমায় তার বালকচিত্ত অভিভূত হওয়া উচিত ছিলো তাকে সে মোটে আমলই দিলে না। ঠকলো সে-ই। আমরা বড়োরাও অনেক সময় ঐ রকম একটা বিকৃত একগুঁয়েমির ভাব মনের মধ্যে শানিয়ে নিই; আত্ম-সচেতনতার কণ্টকিত বেড়া তুলে সহজ বিস্ময়কে রাখি আটকে। যে-কোনো উপলক্ষেই আত্মবিস্মৃত আচ্ছন্ন হয়ে পড়াটা কাঁচা মনের লক্ষণ বলেই প্রসিদ্ধ। এতে লোকসান আমাদেরই, মস্ত একটা রসের জোগান বন্ধ হয়ে যায় আমাদেরই মনে। এ-কথা অস্বীকার করবো না যে জীবনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা আমাদের আত্মরক্ষার বর্ম, সেটা বাদ দিতে গেলে বিপদ অনেক। কিন্তু ব্যবহারিক ক্ষেত্রের বাইরে রয়েছে আমাদের অনুভূতির বিশাল জীবন : কতগুলো দৃশ্য আর গন্ধ, কতগুলো ভাব আর কল্পনা আমাদের মনে বিশেষ এক ধরনের প্রতিক্রিয়া আনে— আমরা স্পন্দিত হই, অনুরণিত হই, হই মর্মরিত আর রোমাঞ্চিত। সেখানে হার মানাই ভালো, সেখানে নিজেকে দিতেই হয়। হতে হয় শিশু : তার আদিম নিঃসীম রহস্যবোধ নিয়ে। উন্মুখ বিস্ময়ের কাছে নিজেকে নিঃসঙ্কোচে দিতে পারলে আমরা চলে যাই সংজ্ঞার সীমানা ছাড়িয়ে নতুন এক জগতে; সে-জগৎ শিশুর চিরন্তন রূপকথার, বস্তু ও সত্য সেখান কল্পনার আলোয় রূপান্তরিত। এই সংস্পর্শের আলো যখন জ্বলে তখন সমস্ত পৃথিবীকে আমরা যেমন নিবিড় ও একাগ্র করে পাই তেমন আর কখনোই পাইনে। এ-কথা বলার অর্থ অবশ্য এ নয় যে জ্ঞান বর্জনীয়, এবং শিশুর সর্বাঙ্গীণ অজ্ঞতাই আদর্শ অবস্থা। এ-কথা বলাই বাহুল্য যে শিশুর মধ্যে যে-অজ্ঞতা মধুর, সাবালক মানুষে সেটা জড়তা। তবে বিস্ময় আমাদের জীবনের একটি অমূল্য রস-উৎস; এবং বয়ঃক্রম ও অভিজ্ঞতা বাড়বার সঙ্গে-সঙ্গে এই বিস্ময়-চেতনা অনেক কমে আসে, জীবনও আসে ঠিক সেই অনুপাতে ক্ষীণ ও পাংশু হয়ে। সেটা শোচনীয়। এজন্যে দায়ী জ্ঞান নয়, জ্ঞানের দম্ভ। ভেবে দেখতে গেলে, জ্ঞানের সঙ্গে বিস্ময়ের কোনো বিরোধ নেই : বরঞ্চ এটা বললেই সত্য হয় যে আমরা যত বেশি জানি, তত বেশি অবাক হই। যেমন ধরা যাক, বস্তুবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের মর্মে কিছুটা প্রবেশ করতে পারলে জড় ও জীব নিয়ে প্রকৃতির অফুরন্ত বিচিত্র লীলা আমাদের মনে হয় আরো কত অপরূপ রহস্যময়। জ্ঞান ও বিস্ময়ের এই যে সমন্বয় এটা জীবনের একটা প্রধান সাধনা।

     

     

    এমনি শিশু হয়ে যেতে হয়, এমনি স্বচ্ছ সহজ বিস্ময়ে মন ভরে যায়, এই চিল্কার ধারে, এই সকালবেলায়। এতখানি আকাশ একসঙ্গে দেখতে পাওয়া জীবনের একটা দুর্লভ সম্পদ— আর এমন আকাশ, এমন আশ্চর্য নীল। ছোট্ট এই রম্ভা স্টেশন: তাছাড়া আর কোনোখানে কিছু নেই। সেখানে ঘণ্টা বাজে। সকালবেলা মাদ্ৰাজ মেল এসে দাঁড়ায়। আমরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখি; লম্বা রেলগাড়ি আর জানলায় জাগরণক্লান্ত মুখগুলি ছবির মতো। ওরা যেন অন্য জগতের বাসিন্দা। ওরা যেন ছায়ার দল, হাওয়া ওদের নিয়ে চলেছে ঝেঁটিয়ে। মোটেও ওদের সত্য মনে হয় না। ঐ চললো গাড়ি, গেলো মুখগুলি মিলিয়ে। কয়েক মিনিট চারদিক ভরে উঠেছিলো ফিরিওয়ালার ডাকে, বেচাকেনায়, কথাবার্তায়— আর ঐ মস্ত রেলগাড়িতে— আবার এখন সব চুপ, সব শূন্য, এঞ্জিনের ফোঁসফোঁসানিও আর শোনা যায় না। হঠাৎ একটা ছায়া পড়েছিলো, ছায়া মিলিয়ে গেলো। আবার নিটোল হয়ে এলো আলো-ভরা স্তব্ধতা। সন্ধেবেলা আবার মাদ্রাজ মেল আসে— এটা যাবে হাওড়া। ছুটে আসে সবুজ সার্চলাইট, অন্ধকার আহত সাপের মতো কাৎরিয়ে ওঠে। গাড়ি এসে দাঁড়ায়; কেউ ওঠে না, কেউ নামে না; যাত্রীরা স্টেশনের নামটাও লক্ষ করে না হয়তো; ওরা কেউ জানে না যে পৃথিবীর সব চেয়ে সুন্দর জায়গা এ-ই, এবং আমরাই একে খুঁজে বার করেছি। একটু পরে শুধু একটা দীর্ঘ, মন্থর শব্দ; তারপর চুপ। আর রেলগাড়ি যেখানে দাঁড়িয়েছিলো ঠিক তার উপরে, ঠিক রেল-লাইনের বাঁকের মাথায় তৃতীয়ার চাঁদ। সন্ধের পর অল্প খানিকক্ষণ কুয়াশার মতো পালা আলো— আলোর একটু ছলছলানি, যেন পৃথিবী-ভরা কোনো স্মৃতির অস্পষ্টতা। তারপর রাত বাড়লো, হঠাৎ বাইরে এলাম। চাঁদ নেই; বিশাল অন্ধকার আকাশ জ্বলন্ত তারায়-তারায় নিশ্বসিত।

     

     

    এখানে, এই সবুজ হ্রদের ধারে
    যেন অনেকদিনের হারানো কোনো বন্ধুকে ফিরে পেলুম—
    ঠিক বুঝতে পারছি না, কে।

    বুঝতে পারছি না।
    বুঝতে যে পারছি না সেটাই তো ভালো।
    শুধু বুকের মধ্যে একটা অস্পষ্ট আনন্দ, আবছায়া ভয়—
    যেন নতুন স্ত্রী খুলে ফেলছে তার সাজ
    রাত্রির অন্ধকারে, হাতের চুড়ি বাজিয়ে;
    অন্ধকারে বসে শুনছি।

    কী যে হারিয়েছিলাম, কী যে ফিরে পেলাম।
    সে কি এই স্তব্ধতা,
    কলকাতার ট্র্যাফিকের গর্জন আর সমুদ্রের গর্জনের পরে
    এই জীবন্ত, ভীষণ স্তব্ধতা?
    সে কি এই তারায় ছাওয়া আকাশ,
    না কি নতুন চাঁদের বাঁকা রেখা,
    না কি ঐ যে রেল-লাইন বেঁকে গেছে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে
    তারই দিগন্ত-ইঙ্গিত?

     

     

    এই শুধু জানি, সমস্ত বুক আমার ভরে গেলো
    এখানে, এই হ্রদের ধারে।
    তাকিয়ে তাকিয়ে পলক পড়তে চায় না চোখের—
    আকাশ ভরে এত তারা সাজানো।

    একটু পরে মান্দ্রাজের গাড়ি এসে দাঁড়াবে
    চাকায়-চাকায় স্তব্ধতাকে আগে-আগে ঝেঁটিয়ে
    কাল ভোরে সে কলকাতায়।
    কিন্তু কলকাতা এখন কত দূরে
    কলকাতাও কত দূরে এখন।
    কত দূরে এইমাত্র-শেষ-হওয়া যুদ্ধের ঝননা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাহিত্যচর্চা – বুদ্ধদেব বসু
    Next Article আমার ছেলেবেলা – বুদ্ধদেব বসু

    Related Articles

    বুদ্ধদেব বসু

    বোদলেয়ার: তাঁর কবিতা – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছোটগল্প – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছায়া কালো কালো – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    তিথিডোর – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    পিরানদেল্লোর গল্প – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    রাত ভ’রে বৃষ্টি – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }