Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প120 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আম্রপালী – ৭

    ০৭.

    আরও দিন-তিনেক পরে ডাকবাক্স থেকে উদ্ধার করলেন একটা মোটা খাম। সলিল মিত্রের নামে। বেশ ভারী খাম। বাড়তি ডাকটিকিট দিতে হয়েছে। ও বোধহয় অনেক কিছু লিখেছে। স্টাডিরুমে দরজাটা ভিতর থেকে বন্ধ করে সযত্নে পেন-নাইফ দিয়ে খামটা খুলে ফেললেন।

    ভিতর থেকে বার হয়ে এল খান-ছয়েক পোস্টকার্ড-সাইজ রঙিন হট-শট ফটোগ্রাফ।

    বজ্রাহত হয়ে গেলেন অধ্যাপক তালুকদার!

    ঐ ছয়খানি রঙিন আলোকচিত্র ব্যতিরেকে লেফাফার ভিতর আর কিছু ছিল না। প্রতিটিই চূড়ান্ত পর্নোগ্রাফিক আলোকচিত্র। নরনারীর নিরাবরণ যৌনমিলনের দৃশ্য। তিনখানি ছবিতে পুরুষটির পিছন দিক দেখা যাচ্ছে, সে তিনটিতে মালিনীকে চিনতে কোন অসুবিধা হয় না। দু-খানি ছবিতে অধ্যাপক তালুকদারের সম্মুখদৃশ্য। চশমাটা খোলা আছে, তবু চিনতে কোনো অসুবিধা হয় না, সে তিনটিতে রতিরঙ্গসঙ্গিনীর পশ্চাদ্দেশ দেখা যাচ্ছে। বাকি একখানি পাশ থেকে তোলা। প্রোফাইল। নায়ক নায়িকা দু-জনকেই স্পষ্ট সনাক্ত করা যায়।

    যা ছিল মধুর স্বপ্নময় আধোস্মরণে তা পুরীষক্লিন্নকদর্যতায় উপস্থিত হল চাক্ষুষভাবে। ভয় তো পেয়েছেন বটেই, ঐ সঙ্গে নিদারুণ একটা বেদনার অনুভব!

    মেয়েটি এই! মানুষ চিনতে পারলেন না। সে তো একটা পয়সাও হাত পেতে নেয়নি। বলেছিল, তার দক্ষিণা ওঁর তৃপ্তির পরিমাণ-নির্ভর। পরে, হ্যাঁ শেষ পর্যায়ে যা বলেছিল তা অন্য দৃষ্টিভঙ্গির। ফ্রিনে তার নারীত্বের মর্যাদা দাবী করেছিল প্র্যাক্সিটেলেস্-এর কাছে। তাকে উপেক্ষা করে উনি ফিরে এলে নাকি ফ্রিনের শাশ্বত নারীত্বের অপমান! কী সব বড় বড় কথা!

    বাস্তবে–ছি, ছি, ছি! ভারী পর্দার পেছনে হটশট ক্যামেরা হাতে প্রতীক্ষায় ছিল ওর পাপের সঙ্গী। তাই ঘরে অত জোরালো আলোর আয়োজন। হয়তো ফ্লাশবালবে ঝিলিকও দিয়েছে–তখন নেশাগ্রস্ত প্রৌঢ় মানুষটি ছিলেন দীর্ঘ তিন দশকের তৃষ্ণায় কাতর। জৈবক্ষুধায় হতভাগ্য তখন তুরীয়ানন্দে অন্য জগতে। এসব জাগতিক কাণ্ডকারখানার ঊর্ধ্বে, বহু ঊর্ধ্বে।

    ছি-ছি-ছি! এ কী হয়ে গেল!

    জীবনে যিনি কখনো হার মানেননি–স্কুল-কলেজ জীবনে কখনো সেকেন্ড হননি, তিনি এভাবে চূড়ান্তভাবে হেরে গেলেন একটা বেশ্যা আর তার নাগরের ছলনায়! জীবনে এত বড় সমস্যার সম্মুখীন হননি কখনো। প্রণতির অ্যাকসিডেন্টের সময়েও এতটা বিচলিত হয়ে পড়েননি। সেবার মাথা খাড়া রেখেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের অফারটা ফেরত দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার? ওরা তো অনতিবিলম্বেই ব্ল্যাকমেলিং শুরু করে দেবে!

    পরদিন কলেজ থেকে ফিরে এসে শুনলেন, সারা দিন কে-একটা বেগানা লোক ওঁকে বারে বারে ফোন করেছে। নামটা জানায়নি, কিন্তু রামুকে বলেছে–তার সাহেব ফিরে এলে যেন জানানো হয়, রাত সাড়ে আটটায় সে আবার ফোন করবে। ব্যাপারটা নাকি খুবই জরুরী। সাহেব যেন রাত সাড়ে আটটায় বাড়িতে থাকেন।

    প্রণতি বিরক্ত হয়ে বলেন, কে বল তো লোকটা? কী চায়? ভারি উদ্ধত মেজাজের। অসভ্য।

    বুঝলেন সবই। মুখে বলতে হল, আমি কী করে জানব?

    কাঁটায়-কাঁটায় আটটা উনত্রিশে টেলিফোনটা বেজে উঠল।

    উনি প্রস্তুত হয়ে বসেছিলেন। পড়ার টেবিলে। বাঁ-হাতটা টেলিফোন রিসিভারে রেখে। ঘর ভিতর থেকে অর্গলবদ্ধ। একবার মাত্র রিঙিং টোন হতেই তুলে নিয়ে গম্ভীরস্বরে বললেন, ইয়েস! তালুকদার বলছি…

    –আপনি কি প্রফেসর রঞ্জন তালুকদার আছেন?

    পুরুষকণ্ঠ। বিকৃত কণ্ঠস্বর। উচ্চারণও বিকৃত। পশ্চিমা ঢঙে। হয়তো ইচ্ছাকৃত।

    উনি ওর খাজা বাঙলার জবাবে বললেন, আছি।

    –অ! আছেন! বাই মিসটেক প্রফেসর সলিল মিত্র আছেন না তো?

    দাঁতে-দাঁত চেপে নীরব রইলেন। বঁড়শিতে মাছটা নিশ্চিত গেঁথেছে বুঝতে পেরে ও লোকটা ওঁকে একটু খেলিয়ে তুলতে চায়।

    –কী হল, প্রফেসর-সাহেব? গুম খেয়ে যাচ্ছেন কেন? সুতো ছাড়লুম, অখন ঘাই মারুন। আর কুছু না পারেন তো শালা-বাহানচোৎ করুন।

    –কী চাও তুমি?

    –আপনাকে এক সেট পেরিস্‌ পিকচার প্রেজেন্ট পাঠিয়েসি। পাইয়েসেন তো?

    –কী নাম তোমার?

    –প্রফেসর-সাহাব। আপনাকে একঠো প্রশ্‌ন করা হইয়েসে, জবাবটা পহিলে দিন! এতটা উমর হল, ই-কথা জানেন না কি, আসামী সির্‌ফ জবাব দিয়ে যায়, সওয়াল করে না? প্রফেসর তালুকদার, আপনি আপনার ল্যাংটো ছবি পাইয়েসেন?

    উপায় নেই। সংক্ষেপে সারতে না পারলে ও ক্রমেই অশ্লীলতর আলাপচারি শুরু করবে। বললেন, পেয়েছি।

    –বহুৎ সুক্রিয়া! অব শুনেন, স্যার। ছয়খানা ছবির তিন-তিন সেট প্রিন্ট করা হইয়েসে। একসেট আপনার প্রিন্সিপাল-সাহেবের খাতির, দুসরা-সেট মিসেস তালুকদারের খাতির। সমঝলেন? অখন থার্ড সেট কুথায় যাবে আন্‌জাদ করতে পারেন?…কোই বাত নেই, থিংক করেন…

    প্রফেসার তালুকদার অসীম ধৈর্যে নীরব রইলেন। লোকটা ওঁকে ভয় দেখাতে চাইছে। ভয় যে পাননি তা নয়, কিন্তু ভয়ে বুদ্ধিভ্রংশ হতে দেবেন না কিছুতেই! হার মেনে নেওয়া ওঁর ধাতে নেই।

    অবশ্য এমন নরকের কীটের সঙ্গে দ্বৈরথ সমরে নামবার দুর্ভাগ্য ওঁর আগে কখনো হয়নি জীবনে।

    –টাইম খতম হইয়ে গেলো। আন্‌জাদ করতে সেকলেন না। আপনার কলেজে ঘুস্‌তে একঠো বড়কা লুটি বোর্ড আছে না? ঐ বোর্ড-এ ছয়খানি ফটো রাতারাতি লটকে দিয়ে আসব। প্রফেসররা সবাই দেখবে, ছেলেরা দেখবে, ঔর ছুকরিগুলান ভি দেখবে। এখন বলুন স্যার, এ বে-ইজ্জতি রুখতে চান? ইয়েস্ অর নো?

    –কত টাকা চাইছ?

    স্পষ্ট উচ্চারণে বললে, নাউ য়ু আর টকিং প্রফেসর! সিধা হিসাব! ইচ সেট ছবির দাম পাঁচ পাঁচ হাজার, ঔর নেগেটিভ দস হাজার। অব হিসাব জুড়িয়ে লিন : তে-পাঁচা পন্দের ঔর দস–পঁচিস হাজার! লেকিন সবটা দস-বিস টাকার য়ুজ্‌ট্‌ নোটে! সমঝলেন?

    লোকটা নিজেকে অবাঙালি, অশিক্ষিত উত্তরভারতের লোক বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। বাস্তবে ও বাঙালী এবং শিক্ষিত। উনি টাকার অঙ্কটা জানতে চাওয়া মাত্র আনন্দে ওর ছদ্মবেশটা খণ্ডমুহূর্তের জন্য গা থেকে খুলে গেছিল। ‘আন্দাজ’কে যে ‘আন্‌জাদ’ উচ্চারণ করে সে হঠাৎ-খুশিতে ঐ ইংরেজি লব্‌জ্‌টা কিছুতেই বলতে পারে না ‘নাউ য়ু আর টকিং, প্রফেসর!’ ইংরেজিতে অনেক ক্রাইম থ্রিলার ওর পড়া।

    –কী হল প্রফেসর-সাব? ফিন গুম খেয়ে গেলেন নাকি?

    –অত টাকা আমি কোথায় পাব?

    –ই একটা কোথা হল? রাজারা মানিক পায় কুথায়?

    আবার–আবার একটা ক্লু। ‘কথা’ কে ‘কোথা’, ‘কোথায়’কে ‘কুথায়’ যার বাংলা জ্ঞান, তার সঞ্চয়ে থাকা সম্ভবপর নয় ঐ বাঙলা ঘরোয়া রসিকতা ‘রাজারা মানিক পায় কোথায়’? লোকটা এক নিশ্বাসে বলেই চলেছে, ক্যাশ-সার্টিফিটি তোড়াতে পারেন, ইউনিট-ট্রাস্ট, এন. এস. সি. নিদেন প্রভিডেন্ড ফান্ড থেকে লোন। ভাবীজীর দু-চারখান অর্নামেন্টস্ ঝেড়ে দিলেই বা কে ঠেকাচ্ছে? ভাবীজীর তো মালুম পড়বে না। ব্যাঙ্ক-ভল্ট তো আপনিই ট্রানস্যাক্ট করেন।

    পাকা ক্রিমিনাল সন্দেহ নেই; কিন্তু সূক্ষ্ম কারিগরী এখনো আয়ত্ত করতে পারেনি। মিসেস্ তালুকদার যে পঙ্গু,এ সংবাদ পর্যন্ত সংগ্রহ করেছে অথচ বুঝতে পারে না যে, একটা অর্ধশিক্ষিত মানুষ, যে ‘সার্টিফিকেট’কে ‘সার্টিফিটি’ বলে, সে ‘ব্যাঙ্ক-ভল্ট ট্রানস্যাক্ট’ করার কথা বলতে পারে না! সে দিলখুশ হলে ফস্ করে বলে বসতে পারে না : নাউ য়ু আর টকিং, প্রফেসর!

    কাঁচা কাজ!

    –কী হল? কুছ তো বলেন?

    বুঝতে পারেন, এর সঙ্গে দরদাম চলবে না।

    বললেন, একটা শর্তে আমি টাকাটা দেব।

    –কী শর্ত?

    –টাকাটা আমি ঐ ঠিকানায় দেব। তোমার পার্টনার-ইন-ক্রাইম সেই মেয়েটির সামনে, সেই এইট বাই টোয়েন্টি…

    –থামুন, থামুন! টেলিফোনে ই-সব বাৎ বোলতে নেই। সে অ্যাপার্টমেন্ট অখন বেহাৎ! তিন রোজ টাইম দিচ্ছি। আজ বুধবার আছে, শনিচর রাত সাড়ে-আট বাজে ফিন টেলিফোন করে জানাব কোথায়, কীভাবে প্যাকেটটা আপনি দিবেন। সমঝলেন?

    –শোন…

    ও-প্রান্তবাসী শুনল না। রিসিভারে ফোনটা নামিয়ে রাখল। সম্ভবত ওর একটা আশঙ্কা আছে পুলিস ওকে খুঁজছে। ও কোথা থেকে ফোন করছে তা ধরবার চেষ্টা করতে পারে পুলিস। দীর্ঘসময় টেলিফোন-লাইনে থাকলে ‘গোস্ট-কল’ খুঁজে বার করা যায়–এ তত্ত্বটা ওর জানা। যতই অশিক্ষিত বলে নিজেকে জাহির করতে চাক ও বেশ ভালই শিক্ষিত। ‘ব্ল্যাকমেলিং’ যদি একটি অপরা-বিদ্যা হয় তাহলে সে সে বিদ্যা ভালভাবেই আয়ত্তে এনেছে। শুধু আলাপচারিতায় অভ্যস্ত হয়নি। তাছাড়া ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি নেই। প্রফেসর তালুকদারের মতো মানুষকেও সে ফাঁদে ফেলতে পেরেছে।

    অবশ্য সে কৃতিত্বের বৃকোদর-ভাগ সেই মেয়েটির প্রাপ্য! যাঁকে ওর মনে হয়েছিল শুধু রতিরঙ্গরসেই নয়, শিক্ষায়, সংস্কৃতিতে, কৃষ্টিতে সে Phryne! অমন একটি মেয়েকে কী করে পার্টনার-ইন-ক্রাইম করতে সক্ষম হল এ লোকটা? তা সে যাই হোক, ও নিশ্চয় এতক্ষণ কোনো পাবলিক টেলিফোন-বুথ থেকে ওঁর সঙ্গে কথা বলেছে। জানে, পুলিস সেই উৎসমুখের সন্ধান পেলেও ওকে ধরা-ছোঁওয়ার মধ্যে পাবে না। তাতেই একনাগাড়ে অনেকক্ষণ কথা চালাতে ও গররাজি।

    পুলিসে খবর দেবার প্রশ্নই ওঠে না। কেউ ওঁকে ব্ল্যাকমেলিঙ করবার চেষ্টা করছে। এ-জাতীয় এজাহার দেবার সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে–কী নিয়ে ‘ব্ল্যাকমেলিং’। এভিডেন্স হিসাবে ঐ ছয়খানি ছবি তাঁকে দাখিল করতে হবে। লোকটা ধরা পড়লে মামলা আদালতে উঠবে। আসামী পক্ষের উকিল ছবিগুলি প্রকাশ্য আদালতে…

    নাঃ। সে অসম্ভব। বস্তুত এটাই হচ্ছে ‘ব্লাকমেলিং বিজনেসের’ বিউটি টাচ্‌! সারা বিশ্বে ব্ল্যাকমেলারদের হাতে অনিবার্যভাবে থাকে রঙের টেক্কাখানা। যতক্ষণ না সেটা টেবিলে নামানো হচ্ছে ততক্ষণ তাকে কেউ ছুঁতে পারে না। না ভিকটিম, না পুলিস। সম্মান বাঁচাতে গিয়ে, অপরাধটা গোপন করতে গিয়ে, কেলেঙ্কারিটা রুখতে গিয়ে মানুষ দিশেহারা হয়ে যায়। দশ-বিশ বছর আধপেটা খেয়ে, না-খেয়ে, হতভাগ্যের দল ব্ল্যাকমেলারকে টাকার যোগান দিয়ে চলে। উপায় নেই। ঐ রক্তচোষা ভ্যাম্পায়ারের খপ্পরে একবার পড়লে আমৃত্যু নিষ্কৃতি নেই! এটাই এ খেলার একপেশে নিষ্ঠুর নিয়ম!

    কিন্তু প্রফেসর রঞ্জন তালুকদার যে জীবনে কখনো কারও কাছে হার মানেননি। মর-মানুষের কাছে। প্রণতির দুর্ভাগ্যটা নিতান্ত নিয়তি। তবু সেবার মাথা খাড়া রেখেই ঈশ্বর-নিক্ষিপ্ত–ঈশ্বর বলে যদি আদৌ কোনো সত্তা থাকে–বজ্রটা বুক পেতে গ্রহণ করেছিলেন।

    কিন্তু এবার?

    .

    রাত্রে আহারের অবকাশে তালুকদার জানতে চাইলেন আজ টি. ভি. তে ‘চিত্রহার’ ছিল না?

    প্রণতি জানেন, এসব নিতান্ত ‘খেজুরে-আলাপ’। অধ্যাপক মশায়ের ওসবে আদৌ কোনো আকর্ষণ নেই। এ শুধু আলাপ-জমানোর অহৈতুকী প্রয়াস। বললেন, সেই অভদ্র লোকটা ফোন করেছিল? সাড়ে আটটায়?

    –করেছিল! অভদ্র শুধু নয়, অসভ্য!

    উনি মনগড়া এক দীর্ঘ কাহিনী শোনালেন। বিপদ কখন কীভাবে আসবে জানা নেই। লোকটা নানাভাবে ওঁর গৃহের শান্তি বিনষ্ট করবার চেষ্টা করতে পারে। ভয় দেখাতে। সেক্ষেত্রে প্রণতিকে একটু-একটু করে তৈরি করতে হবে। আসন্ন বিপদ সম্বন্ধে কিছুটা প্রস্তুতি থাকলে অজ্ঞাত আঘাতের আকস্মিকতার ধার কিছুটা ভোঁতা হয়ে যাবে। বড় জাতের শক ভাল নয় প্রণতির দুর্বল হৃদয়ের পক্ষে।

    উনি যে গল্পটা ফাঁদলেন তাতে আছে এক ভিলেন। নানান পাপ কাজে সে হাত পাকিয়েছে। ওয়াগন ব্রেকার। ইলেকশনের সময় বুথ দখল করার বিনিময়ে রাজনৈতিক দলের প্রিয়পাত্র হয়ে পড়েছে। পুলিস তাকে ছুঁতে সাহস পায় না। ভয় পায়, তাহলে তাকে পাণ্ডববর্জিত স্টেশানে বদলি করে দেওয়া হবে। এ হেন মন্ত্রীমহলের প্রিয়পাত্র যে গুণ্ডা, তার একটি মাসতুত ভগিন আছে। চোরে-চোরে সম্পর্ক অথবা সত্যিই মাসির মেয়ে, জানা নেই, তবে মেয়েটি পড়াশুনায় ভাল। নাম মালিনী। এবার সে নাকি ফার্স্ট ইয়ারের পরীক্ষায় পাস করেনি। ফেল করেছে তালুকদার-সাহেবের পেপারেই। তাই ঐ মস্তান ওঁকে টেলিফোনে শাসাচ্ছে। বলছে, মেয়েটাকে পাস করিয়ে না দিলে…

    ভয়ে নীল হয়ে যান প্রণতি, তুমি…তুমি কী করবে?

    –আরে, অত ঘাবড়াচ্ছ কেন? এটা কলকাতা শহর!

    –কলকাতা শহরে খুন-জখম হয় না? বিশেষ যদি প্রভাবশালী মন্ত্রী-টন্ত্রীর পোষা গুণ্ডা হয়?

    –তুমি ভেব না। যা ব্যবস্থা নেবার আমি নেব। পুলিসের টপ-লিস্টে কল্যাণ আছে। কল্যাণ সেনগুপ্ত। তুমি তো চেনই। আমার প্রিয় ছাত্র। ওকে একটা ফোন করে দেব। ও মস্তান পার্টিকে কড়কে দেবে।

    .

    পরদিন এল জগদীশের ফোন : জামাইবাবু, তোমার সেই ছাত্রটি লোক সুবিধের নয় কিন্তু….

    –কোন ছাত্রটি?

    –ঐ যে সুবল মিত্তির না সলিল মিত্তির। ধাপধাড়া গোবিন্দপুরে থাকে বলে যে তোমার অ্যাড্রেসটার সুযোগ নেয়।

    –তাই নাকি? তুমি কী করে জানলে?

    –কাল একটা মিস্টিরিয়াস টেলিফোন পেয়েছি। বুঝলে? প্রথমে আমার নামটা জেনে নিয়ে লোকটা জানতে চাইল তুমি আমার ভগিনীপতি কি না। স্বীকার করায় বললে, তোমার এক ছাত্র কিংবা ‘কোলীগ’ সলিল মিত্র একটা মেয়ের সঙ্গে লটঘট করছে। মানে, ‘ইল্‌লিসিট কানেকশন’। মেয়েটার নাম মালিনী। ওর মামাতো বোন। ও আমাকে বলেছে তোমাকে অনুরোধ করতে, যেন সলিল মিত্র মালিনীর সঙ্গে ব্যাপারটা মিটিয়ে নেয়।

    –‘ব্যাপারটা’ মানে?

    –পরিষ্কার করে বলেনি। হয় ‘মানি-সেটলমেন্ট’ অথবা বিয়ে করা। ঠিক বোঝা গেল না।

    –আই সী! কথা শুনে তোমার কি মনে হল ও লোকটা লেখাপড়া জানা বাঙালী…

    –আদৌ নয়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ও পশ্চিমা মুসলমান। লেখাপড়ায় অষ্টরম্ভা। ভাঙা-ভাঙা বাঙলা বলতে পারে মাত্র…

    –বুঝলাম। তুমি আমাকে দুটো শব্দ শুনিয়ে ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে। একটা ‘লটঘট’ একটা ‘ইল্‌লিসিট কনেকশন’। ও নিজে কোনটা ব্যবহার করেছিল, জগু? ঐ মিস্টিরিয়াস লোকটা?

    –কেন বল তো, রঞ্জনদা?

    –তোমার স্টেটমেন্ট অনুযায়ী লোকটা ভাঙা-ভাঙা বাংলা বলতে পারে। ফলে ‘লটঘট’ শব্দটা সে ব্যবহার করবে না। কথিত বাংলায় যার যথেষ্ট দখল তার পক্ষেই শব্দটা ব্যবহার্য। আবার পড়াশুনায় যে অষ্টরম্ভা তার পক্ষে ‘ইস্‌লিসিট কনেকশন’ শব্দের প্রয়োগ…

    –তাই তো। আমার যতদূর মনে পড়ে ও ‘ইস্‌লিসিট কনেকশন’ শব্দটাই ব্যবহার করেছে।

    –তাহলে পড়াশুনায় সে অষ্টরম্ভা নয়। কেমন? কী নাম বলেছে?

    –বললে তো ‘মাস্তান’। আমার বিশ্বাস হয় না। বাবা-মা কোনো সদ্যোজাত সন্তানের নাম ‘মাস্তান’ রাখতে পারে?

    –পারে, যদি ‘মাস্তানির’ সহজাত কবচ-কুন্ডল নিয়ে সে মাতৃগর্ভ থেকে জন্মগ্রহণ করে। যা হোক, তুমি চিন্তা কর না, আমি সলিলকে জিগ্যেস করে যথোচিত ব্যবস্থা করব।

    .

    সেদিন কলেজেও এক কাণ্ড হল।

    প্রিন্সিপাল-সাহেব তাঁর চেম্বারে ওঁকে ডেকে পাঠালেন। কলেজ সংক্রান্ত এ-কথা সে-কথার আলাপ আলোচনা হল কিছুটা। ইউ. জি. সি-র গ্রান্ট, কেমিস্ট্রি ল্যাবের এক্সপ্যানশন ইত্যাদি। তারপর সৌজন্যবোধে মিসেস তালুকদারের স্বাস্থ্য সম্বন্ধে কিছু তত্ত্বতলাশ নিলেন। অতঃপর তাঁর ঝুলি থেকে বার করলেন বেড়ালছানাটিকে : আপনাকে একটি ব্যক্তিগত কথা জিজ্ঞেস করছি প্রফেসর তালুকদার, কিছু মনে করবেন না। ‘সলিল মিত্র’ নামে আপনার কোনো নিকট আত্মীয় আছে?

    ক্ষুরধার বুদ্ধির মানুষটি তৎক্ষণাৎ বুঝে ফেলেন ব্যাপারটা। ওঁর মনে পড়ে যায় অ্যালিস্টার ম্যাকলিন-এর একটি ক্রাইম থ্রিলার-এর কথা : ‘ফিয়ার ইজ দ্য কী!’ ভয়! আতঙ্ক! তিল-তিল করে প্রয়োগ করতে হয়। মাস্তান নামে ঐ যে ছেলেটি ওঁর সঙ্গে দ্বৈরথ সমরে নেমেছে সে চায় চারিদিক থেকে ওঁকে ঘিরে ধরতে। প্রকারান্তরে সে বুঝিয়ে দিতে চায়–ওঁর আত্মীয়-স্বজন, ওঁর কর্মস্থলের উপরওয়ালার সব সন্ধান সে যোগাড় করেছে। চতুর্দিকেই সে বোমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সব বিস্ফোরকই এক সূত্রে আবদ্ধ। ওঁর প্রত্যাখ্যানমাত্র ‘ফিউজ’-এ অগ্নিসংযোগ করা হবে। মুহূর্তমধ্যে কলকাতা শহরের সবচেয়ে নামকরা কলেজের অতি সম্মানীয় কেমিস্ট্রির অধ্যাপক রঞ্জন তালুকদার পি. আর. এস. ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবেন! ‘ফিয়ার ইজ দ্য কী?’ তিনটি দিন সময় সে দিয়েছে ওঁকে। শুধু টাকা সংগ্রহের জন্য নয়, পঁচিশ হাজার টাকাকে ছোট ছোট ব্যবহৃত নোটে রূপান্তরিত করতেই শুধু নয়–ঐ বাহাত্তর ঘণ্টা ভয়ে একেবারে কাঁটা হয়ে থাকতে!

    তালুকদার বললেন, আমার উপাধি শুনে ঠিক বোঝা যায় না স্যার যে, ‘তালুকদার’ একটা নবাবী খেতাব। আমার পূর্বপুরুষরা পেয়েছিলেন। বাস্তবে আমরা বারেন্দ্র শ্রেণীর ব্রাহ্মণ। ‘মিত্র’ কীভাবে আমার নিকট আত্মীয় হবে?

    –না, মানে, আজকাল তো অসবর্ণ বিবাহ ঘরে-ঘরে। তাই বলছি। ব্যাপারটা কী জানেন?…

    একই কাহিনী। অজ্ঞাতনামা একটি অবাঙালী লোক ভাঙা-ভাঙা বাংলায় প্রিন্সিপাল-সাহেবকে টেলিফোনে একটি অনুরোধ করেছে। তার অভিযোগ : প্রফেসর তালুকদারের এক নিকট আত্মীয় সলিল মিত্র আবেদনকারীর পিসতুতো ভগিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে। বিস্তারিত কিছু সে বলেনি। শুধু আর্জি পেশ করেছে যাতে প্রফেসর তালুকদার মধ্যস্থতা করে ঐ সলিল মিত্র আর তার ভগিনী মালিনীর ‘মানি-সেটলমেন্ট’ কেসটা তাড়াতাড়ি ফয়শালা করে দেন।

    তালুকদার সরাসরি জানিয়ে দেন, আজ্ঞে না। লোকটা কোথাও কিছু ভুল করেছে। সলিল মিত্র নামে আমি কাউকে চিনি না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    পথের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }