Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আয়নামহল – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প203 Mins Read0
    ⤶

    আয়নামহল – ১৩

    তেরো

    দিব্যজ্যোতি একা একা দাবা খেলছিল। চৌষট্টি ঘরের বোর্ডটা তাকে আজ পেয়ে বসেছে যেন। মধ্যাহ্নভোজের পর একটু ঝিমিয়ে নিয়ে খুঁটি সাজিয়ে শুরু করেছিল, এখনও একটা দান পুরো হল না। সম্পূর্ণ পক্ষপাতশূন্য হয়ে খেলা যে কী কঠিন! সাদা এগোতে গেলে কালোর ফাঁকফোকর নজরে পড়ে যায়, কালোকে এগোলে সাদার। কাউকেই তো সহজে জিততে দেওয়া চলে না, তাই দিব্যজ্যোতি খেলছে খুব সতর্ক হয়ে, ঢিমেতালে। এক একটা চাল দিয়ে ভাবছে তো ভাবছে, ভাবছে তো ভাবছে।

    ডান দিকে নৌকোর ঘরের কালো বোড়েটাকে ষষ্ঠ ঘরে ঠেলতে গিয়ে দিব্যজ্যোতির হাত থেমে গেল। সাদা গজের রাস্তাটা খুলে যাচ্ছে না? চাল একবার দিয়ে ফেললে ফেরত নেওয়া যাবে না, এ-নিয়ম সে নিজেই স্থির করেছে, সুতরাং বোড়েটা না-ছোঁয়াই ভাল। বরং টিকে থাকা কালো ঘোড়াটাকে নিয়ে একটু ভাবলে হয়। রাজা-মন্ত্রীকে ঘিরে জব্বর দুর্গ গড়ে ফেলেছে সাদা, সরাসরি সেখানেই হানা দেওয়া দরকার।

    মাথা চুলকে চুলকে শেষমেশ ঘোড়াটাকেই আড়াই ঘর বাড়াল দিব্যজ্যোতি। হ্যাঁ, এই ভাল। নৌকো মন্ত্রী, দুটোই একসঙ্গে ধরা পড়ছে, আবার ঘোড়ার পিছনে বোড়ের জোরও থাকছে। সাদা এবার সরাক মন্ত্রীকে।

    নিজের মগজকে ঘুরিয়ে ফের কালো থেকে সাদায় আনছিল দিব্যজ্যোতি, সামনে মূর্তিমানা বাধা। মীরা আর গোবিন্দর যুগলে

    প্রবেশ।

    দিব্যজ্যোতি ঘাড় ওঠাল। মীরাকে দেখে নিয়ে বলল, বেরোেচ্ছ নাকি? আজ তো তোমার মিশন নেই!

    একটু কসবা যাব রে।

    সেখানে আবার কে আছে? তোমার ধর্মপথের কোনও সহযাত্রী?

    ফের তোর ওই বাঁকা বাঁকা কথা! কতবার বলেছি, ধর্মকর্ম করতে আমি যাই না। নানান ধরনের তত্ত্বকথা শুনতে আমার ভাল লাগে। নিজে মানা না-মানাটা বড় নয় দিব্য, জানাটাই বড়।

    ওয়েল সেড। দিব্যজ্যোতি খুনসুটিটায় মজা পেল। দাঁত বার করে বলল, কসবায় তা হলে কোন মক্কেল?

    বললাম যে, মুঙ্গেরের রানিদি এসেছে। পেটে কী একটা অপারেশন হবে।… যাই, একবার দেখা করে আসি। মনটা খুব টানছে।

    তোমাদের মনেরও বলিহারি। দিদা মারা যাওয়ার পর তো মুঙ্গেরের ছায়াও মাড়াওনি। বিশ বছর পর সেই মুঙ্গেরের দিদির জন্য হঠাৎ মন উচাটন!

    মন থাকলেই উচাটন হয়, দিব্য। শুধু বিশ বছর নয়, যদ্দিন মানুষ বেঁচে থাকে, তদ্দিনই হয়। তুই এসব বুঝবি না।

    কিউ? দিব্যজ্যোতি ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসল, মুঝমে দিল য্যায়সা গড়বড়িয়া চিজ নেহি হ্যায় কেয়া?

    হ্যায়, কি নেই হ্যায়, ভাবো। আমি যাচ্ছি।

    যাও। গলা জড়িয়ে একটু কেঁদে এসো। দিব্যজ্যোতি চোখ টেরচা করে গোবিন্দকে দেখল, তা এই পক্ষীপ্রেমিকটিও তোমার সহচর হচ্ছেন নাকি?

    তোকে একা ফেলে বেরোই আমি? মাখনলালকে চারটে শাড়ি ইস্ত্রি করতে দিয়েছিলাম, নিয়ে চলে আসবে গোবিন্দ।

    দিব্যজ্যোতি চোখ টিপল, তা হলে ওকে দিয়ে কয়েকটা সাদাকাঠিও আনাই…

    কী? কী আনাবি?

    সিগারেট। আহা, কতকাল সুখটান দিইনি। তিন তিনটে মাস…। খেতে কেমন তাই তো ভুলে গেছি।

    ভুলেই থাকো। আবার তোমার ডানা গজাচ্ছে, তাই না?

    বা রে, এবার তো ওড়াউড়ি স্টার্ট করতেই হবে। আমি ডিসাইড করে ফেলেছি, নেক্সট শনিবার সুবর্ণলতায় যাব।

    খবরদার। একদম বাড়াবাড়ি নয়। এখনও তুমি লাঠি নিয়ে হাঁটছ। ডাক্তার বলে দিয়েছে, আরও মিনিমাম এক মাস রেস্ট।

    ওই ডাক্তারের বাড়ি ঢোকা এবার আমি বন্ধ করে দেব। ভয় দেখিয়ে দেখিয়ে তোমাকে আধমরা করে দিল!

    যা খুশি করো।

    ছেলের দিকে একটা ক্রুদ্ধ দৃষ্টি ছুড়ে দিয়ে বেরিয়ে গেলেন মীরা। লেজুড় সহ। হা হা হেসে উঠল দিব্যজ্যোতি। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা শুনল কান পেতে। আবার মনোনিবেশ করেছে সাদা-কালোর যুদ্ধে।

    সাদা মন্ত্রীকে যে কোন ঘরে রাখা যায় ভেবে পাচ্ছিল না দিব্যজ্যোতি। কালো বেশ ভালমতোই চেপে ধরেছে। তিড়িংবিড়িং লাফানো ঘোড়াটাকে কি সাফ করে দেবে বোর্ড থেকে? বড় প্যাঁচোয়া এই ঘোড়া, সোজাসাপটা চলে না, হুশহাশ ঢুকে পড়ে এদিক-ওদিক। সামনে আড়াল রেখেও নিস্তার নেই, টপকে যাবে টুপ করে। তফাতে থেকেও রাজা বিপন্ন হয়ে পড়ছে মাঝে মাঝে। নাহ্, একটা কিছু করতেই হয়।

    সাদা গজ দিয়ে দিব্যজ্যোতি কালো ঘোড়াকে সাবাড় করে দিল। সঙ্গে সঙ্গে কালো বোড়ে কাটল গজকে। ঝট করে এগিয়েও গেল এক ঘর। দিব্যজ্যোতির মনে হল যেন অনেকটা। ষষ্ঠ ঘরে পৌঁছেছে, আর দু’ধাপ পেরোলে ওই তুচ্ছ একরত্তি বোড়ে হয়ে যাবে মন্ত্রীর সমান সমান। সাদাকে আরও সাবধানী হতে হবে এবার।

    মাথা বোর্ডের আরও কাছে ঝুঁকিয়ে সাদার শক্তি নিরীক্ষণ করল দিব্যজ্যোতি। ঘোড়া গেছে, গজও খতম, একটা নৌকোও বদল করতে হয়েছে একটু আগে, মন্ত্রী ছাড়া আছে মাত্র দুটো ক্ষীণ বল বোড়ে… শালা সাদার আর এ-যাত্রা রক্ষা নেই। কী করা যায়? কী করে বাঁচানো যায়? মরিয়া হয়ে বোড়ের চাল দেবে? সাইডের সাদা পদাতিক যদি এক পা এগোয়, কালো হাতিকে পিছোতে হবে দু’পা। তখন যদি মন্ত্রীকে ঠিকঠাক ব্যবহার করা যায়…! একটাই সমস্যা, কালো বিশেষ ভুল করেনি, বরং সাদাই দুটো-তিনটে গন্ডগোল করে ফেলেছে। অকারণে দু’-দু’খানা আয়ুধ খোওয়াল।

    প্যাসেজে কলিংবেলের আওয়াজ। দিব্যজ্যোতির ভুরু কুঞ্চিত হল। গোবিন্দ ব্যাটা কি চাবি নিয়ে যায়নি? গলা চড়িয়ে বলল, আসছি। দাঁড়া।

    বিছানা থেকে নেমে লাঠি শক্ত করে ধরল দিব্যজ্যোতি। হাঁটতে গেলে টাল খাচ্ছে না বটে, তবে এখনও যেন কাঁপে ডান পা। এ-সপ্তাহ থেকে ফিজিওথেরাপিস্ট এক বেলা আসছে। আজ সকালেই ছেলেটা বলছিল, হাতের চেয়েও পা নাকি বেশি দিন ভোগাবে। অনেকটা ভার নিতে হয় কিনা।

    খুট খুট লাঠি বাজিয়ে দিব্যজ্যোতি দরজায় এল। পাল্লা খুলে অবাক গোবিন্দ নয়, ঝুনি!

    দিব্যজ্যোতি ঘাড় উঁচিয়ে ল্যান্ডিংটা দেখছিল। ঝুনি ফিক করে হাসল, কাকে খুঁজছ? মিমলি? সে আজ আসেনি।

    দরজা থেকে সরে এল দিব্যজ্যোতি। স্বাভাবিক গলাতেই বলল, সে তো দেখতেই পাচ্ছি। ভেতরে আয়।

    প্যাসেজে ঢুকে চটি ছাড়তে ছাড়তে ঝুনি বলল, মিমলিকে না-দেখে হতাশ হলে নাকি?

    সবসময়ে এত সিলি কথা বলিস কেন?… সদর দরজা ভাল করে লাগিয়ে দে।

    ফের বিছানায় এসে বসল দিব্যজ্যোতি। লাঠিটা পাশে রেখেছে। ঝুনি বেড়াল পায়ে অন্দরমহল ঘুরে দিব্যজ্যোতির ঘরে এল। চোখ বড় বড় করে বলল, তাই ভাবি, তুমি দরজা খুললে কেন! বাড়ি ফাঁকা! গেল কোথায় সব?

    যে যার কাজে গেছে। সময় হলেই আসবে।

    কম্পিউটারের সামনে রাখা চেয়ার টেনে এনে বসল ঝুনি। ঠোঁটে চিলতে হাসি ফুটিয়ে বলল, এমন কাঠ কাঠ করে বলছ কেন? আমায় দেখে খুশি হওনি মনে হচ্ছে?

    তোকে দেখে অখুশি হতে যাব কোন দুঃখে?

    এক সময়ে কিন্তু… ঝুনি দুলছে অল্প অল্প। গলার আওয়াজটাকেও দুলিয়ে দিয়ে বলল, এরকম একা বাড়িতে আমায় দেখলে তোমার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠত।

    পুরনো কথা থাক।

    থাক তবে। ঝুনি স্থির হল। চোখ কুঁচকে দেখল দাবার বোর্ডখানা তারপর যেন আপন মনেই বলে উঠেছে, তবে কী জানো দিব্যদা… পাস্ট ভীষণ বিচ্ছিরি ব্যাপার, কিছুতেই পিছু ছাড়ে না। কোনও না কোনওভাবে সে ঘুরে-ফিরে আসবেই লাইফে।

    ভাঁজ মারিস না তো। প্যাঁচোয়া ডায়ালগ আমার পছন্দ হয় না। যা বলবি স্ট্রেটকাট বল।

    শুনবে? সে ভারী ইন্টারেস্টিং ব্যাপার।… পৃথাবউদির সঙ্গে কবেই তো তোমার কাট্টি হয়ে গেছে, তারপর থেকে তো তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগই নেই। সে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিছুই জানি না। শুধু বড়মাসির কাছে শুনেছি, সে এখন হ্যাপিলি ম্যারেড।

    হ্যাঁ। কণাদকে বিয়ে করেছে। কণাদ আমার ছাত্র। তো?

    আরে সেই কণাদের গল্পই তো বলতে চাই। হঠাৎ ওই কণাদ একদিন আমাদের ফ্ল্যাটে হাজির! ভাবতে পারো?

    কণাদ? তোদের বাড়ি? কেন?

    সেও এক কাহিনি। কত কী যে ঘটে গো!… কণাদবাবু নাকি আমার বিভাসবাবুর স্কুলের ক্লাসমেট! বিভাস একদিন অফিস থেকে বেরোচ্ছিল, হঠাৎই পার্ক স্ট্রিটে কণাদের সঙ্গে মোলাকাত। অনেক বছর পর পুরনো বন্ধুর দেখা পেয়ে বিভাসের বুকে পুলক জাগল, টানতে টানতে বন্ধুকে নিয়ে এসেছিল বাড়িতে।

    অ। তা এমন তো হতেই পারে।

    সে তো বটেই। তবে তোমার এক্স বউয়ের একদা-প্রেমিক-এখন- হাজব্যান্ডটি সেদিন কিন্তু আমায় খুব বোর করেছে। ঝুনি মুখভঙ্গি করল, আমি তো তাকে চিনতেও পারিনি। তুমি ছাড়া কাকেই বা সে যুগে আর চিনতাম, বলো! হয়তো দেখেছি। তোমার কত ছাত্রকেই তো চোখে পড়ত। তোমরা তো তখন কেউ আমায় বলোনি, পার্টিকুলার ওই ছাত্রটির সঙ্গেই তোমার বউ…। বাট দ্যাট কণাদ কিন্তু প্রথম দর্শনেই আমাকে রেকগনাইজ করল।

    তুই সুন্দরী তো, তাই বোধহয় মনে রেখে দিয়েছে।

    টিজ করো না দিব্যদা। ঝুনি ঠোঁট টিপে হাসল, একদিন এই ঝুনিকেই কিন্তু তোমার কুৎসিত লাগেনি।

    বাজে কথা ছাড়। যা বলছিস, বল।

    ইস, তোমার দেখি খুব আগ্রহ! ঝুনি মুখময় ছড়িয়ে নিল হাসিটা, হ্যাঁ… হয়েছে কী… মিস্টার কণাদের সঙ্গে বিভাস আমার আলাপ করিয়ে দিতেই সে সটান বলে উঠল, আমি তো আপনাকে চিনি! আপনি তো দিব্যদার বোন! পৃথা, আই মিন আমার মিসেসের কাছে আপনাদের দুই বোনের অনেক গল্প শুনেছি। দিব্যদা আপনাদের কত ভালবাসেন! আপনাদের জন্য কত কী করেছেন!… ভাবো তুমি, কী বজ্জাতি! আমাকে চাপে ফেলার কী চেষ্টা!

    দিব্যজ্যোতি আলগা হাসল, তুইও তা হলে চাপে পড়িস?

    অত সোজা! আমি ম্যানেজ করে নিয়েছি। হেসেটেসে। প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে। তবে চলে যাওয়ার পরে মনে হল, কী জানি ওই কণাদ যদি বিভাসকে গলগল করে সব কথা…। যাক গে যাক, মরুক গে যাক, বললে বলবে। অত ভাবাভাবি আমার পোষায় না।… অ্যাদ্দিন পর জেনে বিভাস করবেটাই বা কী? হয় কোঁত করে গিলে নেবে, নয় আমায় প্রশ্ন করবে। গিলে নিল, তো চুকেই গেল। জিজ্ঞেস করলে সোজা ডিনাই।… কাকে সে বিশ্বাস করবে? বউ? না বন্ধু?

    তেরচা চোখে দিব্যজ্যোতি বলল, আরও কিছু করতে পারে। যদি তোকে ছেড়ে চলে যায়?

    ঝুনি দু’-এক সেকেন্ড চুপ। তারপর হেসে প্রায় লুটিয়ে পড়ে আর কী। কোনওক্রমে হাসির দমক সামলে বলল, ওফ, একটা কথা বললে বটে! বিভাস কোন যুক্তি দিয়ে আমায় ছাড়বে, অ্যাঁ? বিশ্বসুদ্ধু লোককে মুখ ফুটে বলতে পারবে কারণটা? নিজের মুখ পুড়বে না? তা ছাড়া বিয়ের আগে আমার কার সঙ্গে কী সম্পর্ক ছিল, সেই গ্রাউন্ডে ডিভোর্স হয় নাকি? জজ ওকে কান ধরে কাঠগড়া থেকে নামিয়ে দেবে।

    দিব্যজ্যোতি আরও একটু উসকোনো গলায় বলল, তবু… তোদের সম্পর্কে একটা ফাটল তো ধরে যাবে।

    ধরতে দেবই না। ঠিক জোড়া লাগিয়ে নেব।… শোনো দিব্যদা, অত দূর ভাবার দরকারই নেই। বিভাস বিশ্বাস করবেই না। তোমার কোনও বদনাম শোনার আগে ও কানে আঙুল দেবে। যা রেসপেক্ট করে তোমায়।

    সদর দরজায় আওয়াজ। গোবিন্দ ফিরল। দিব্যজ্যোতির ঘর এক ঝলক দেখে নিয়ে সরে যাচ্ছিল, ঝুনি চেঁচিয়ে ডাকল, অ্যাই, অ্যাই, শোন…?

    ঘুরে এসেছে গোবিন্দ। মীরার শাড়িগুলো সামলাতে সামলাতে বলল, আজ্ঞে, কাকিমা?

    অ্যাই, আবার কাকিমা! মাসি বল। … কফি বানাতে পারিস?

    হ্যাঁ।

    দিব্যদাও তো খাবে… দু’কাপ করে আন। ঝটপট। আমি তোর মামার মতো তিতকুটে কফি খাই না, আমায় দুধ, চিনি সব দিবি।

    মামাকে এখন চিঁড়েভাজা দেব। তুমি খাবে চাট্টি?

    নাহ্। শুধু কফি।

    গুছিয়ে হুকুম করে বাহারি ভ্যানিটিব্যাগখানা খুলেছে ঝুনি। রুমাল বার করে মুখে জমা বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছল সযত্নে। ছোট্ট আয়না সামনে ধরে দেখছে নিজেকে। তাকে স্থির দৃষ্টিতে লক্ষ করছিল দিব্যজ্যোতি। নজরে পড়তেই ঝুনি টেরিয়ে টেরিয়ে তাকাচ্ছে। ভুরু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল, কী দেখছ গো?

    কিছু না।

    লিপস্টিক খুলে ঠোঁটে বোলাল ঝুনি, তোমার পেয়ারের রুনি তা হলে শ্বশুরবাড়ি চলল?

    দিব্যজ্যোতি ঠোঁট ছুঁচোলো করল, আমি যে উলটোটাই শুনলাম। মানে? ফট করে হাতআয়না বন্ধ করেছে ঝুনি। বিস্মিত মুখে বলল, দিদির বিয়ে আবার কেঁচে গেল নাকি!

    আরে না। শুনলাম সোহমই নাকি রুনির ফ্ল্যাটে এসে থাকবে।

    তাই বলো। রুমাল, আয়না, লিপস্টিক ব্যাগে রাখল ঝুনি। চটুল হেসে বলল, দিদি যে কোনও দিন বিয়ে করবে, এ আমি এক্সপেক্টই করিনি। এখন দেখা যাচ্ছে, আলটিমেটলি তোমার ওপর ওর সেই অক্ষয় প্রেমও উবে গেছে।

    প্রেম কখনও অক্ষয় হয় না রে ভাই। ভেরি মাচ পেরিশেবল। নশ্বর। কোল্ড স্টোরেজে রেখে দিলে কিছু দিন থাকে বটে, তবে শেষ পর্যন্ত পচেই যায়। তখন তার থেকে দুর্গন্ধ বেরোয়। তার চেয়ে উবে যাওয়া ঢের ঢের ভাল।

    কথার ফুলঝুরি ছুটিও না দিব্যদা। আমি জানি, তুমি মনে মনে দাগা পেয়েছ।… বলতে না, রুনির মধ্যে একটা ডেপথ্ আছে…। কোথায় গেল সেই ডেপ্‌থ, অ্যাঁ? সোহম সব ভাসিয়ে দিল তো?

    দিব্যজ্যোতি হো হো হেসে উঠল, ওরে শোন, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে দিব্যজ্যোতি সিংহর হিংসে জাগানো যায় না। কোনও ব্যাপারে, কারও ওপর, আমার যদি হিংসে হয়, আমি সেটাকে ফাইট আউট করি। … তবে তুই যে এখনও জ্বলিস, সেটা কিন্তু প্রমাণ করে দিলি।

    আমার ভারী বয়ে গেছে। আমি দিদির চেয়ে ঢের ভাল আছি।

    গুড। ওরকমটাই থাকার চেষ্টা কর।… এবার ধানাইপানাই ছেড়ে ঝেড়ে কাশ তো। হঠাৎ কেন আবির্ভূত হলি বল?

    বা রে, আমি তো প্রায়ই তোমায় দেখতে আসি। আসি না?

    সঙ্গে সারাক্ষণ একটা ল্যাংবোট থাকে, আজ তাকে রেখে এসেছিস যে বড়?

    ঝুনির মুখে হাসি ফিরে এল, আমি জানি মিমলিকে দেখার জন্য তুমি ছটফট করো। নিজের মেয়ের ওপর টান যাবে কোথায়?

    কাজের কথা বল ঝুনি

    ঝুনির মুখ ফের গম্ভীর। চোয়াল শক্ত করে বলল, হ্যাঁ, বলতে তো হবেই। তুমি যতই অস্বীকার করো, মিমলির কিন্তু তোমার ওপর একটা অধিকার আছে। তোমার সব কিছুই মিমলির প্রাপ্য।

    দিব্যর কপালে হালকা ভাঁজ পড়েই মিলিয়ে গেল। মুচকি হেসে বলল, আমার তো কিছুই থাকবে না রে। কী দেব?

    আমাকে বোকা ভেবো না, দিব্যদা। তোমার সুবর্ণলতা আছে, বাড়ি আছে, ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সও নেহাত কম নেই…

    তুই আমার পাসবই দেখেছিস নাকি?

    আন্দাজ তো করতে পারি। দিদার সম্পত্তিটাই তো ষোলো লাখে বেচেছ।

    উঁহুঁ। টোটাল একুশ লাখ পেয়েছিলাম। মা সঠিক ইনফরমেশন পায়নি। দিব্যজ্যোতি বাঁকা হাসল, উইল তো আমি মনে মনে বানিয়ে ফেলেছি রে। সুবর্ণলতার জন্য একটা ট্রাস্ট তৈরি হবে। বাড়ি, ব্যাঙ্ক ব্যালান্স, এভরিথিং চলে যাবে ট্রাস্টে। এমনকী আমার মৃত্যুর পরে যদি কোনও ছবি বিক্রি হয়, তার টাকাও। কে সেই ট্রাস্টের প্রধান হবে, তাও আমার ঠিক করা হয়ে গেছে।

    ঝুনি পাংশু মুখে জিজ্ঞেস করল, কে?

    তুই জেনে কী করবি? আমি মরার পরেই দেখতে পাবি।

    বুঝেছি।… দিদি?

    দিব্যজ্যোতি আবার হো হো হেসে উঠল। দু’দিকে মাথা নেড়ে বলল, নাহ্, তুই আর বড় হলি না।

    গুমগুমে গলায় ঝুনি বলল, কবে উইলটা করছ?

    তাড়া কীসের! ধীরেসুস্থে করে ফেলব।

    কফি এনেছে গোবিন্দ। সঙ্গে দিব্যজ্যোতির চিঁড়েভাজাও। রেখে চলে যেতে যেতে বলল, গল্প করতে করতে খেয়ে নাও, মামা। অনেকক্ষণ তোমার পেট খালি আছে।

    দিব্যজ্যোতি চামচে করে চিঁড়েভাজা ফেলল মুখে। চিবোতে চিবোতে বলল, নে, কফি খা।

    ছোট্ট চুমুক দিয়ে কাপ নামিয়ে রাখল ঝুনি। শুকনো গলায় বলল, মিমলি সত্যিই কিছু পাবে না?

    দিব্যজ্যোতি জবাব দিল না। টুকটুক করে খেয়েই যাচ্ছে চিঁড়েভাজা। মাঝে মাঝে চুমুক দিচ্ছে কাপে। হাসিহাসি মুখে ঝুনিকে বলল, কফিটা খা। জুড়িয়ে যাচ্ছে যে।

    থাক। আমার তেষ্টা মরে গেছে।… যাচ্ছি।

    ঝুনি চলে যাওয়ার পর দিব্যজ্যোতির মনে হল আজ ভারী সুন্দর করে সেজে এসেছিল ঝুনি। ময়ূরপঙ্খী রং শাড়ি, ঘাড়ের কাছে এলোখোঁপা, কপালে ছোট্ট খয়েরি টিপ… বেশ দেখাচ্ছিল মেয়েটাকে। লম্বা একটা শ্বাস টেনে দিব্যজ্যোতি টানটান হল বিছানায়। পাশে দাবার বোর্ডে যুযুধান প্রতিপক্ষ। সাদা আর কালো। মিনিট দশেক চোখ বুজে থেকে আবার উঠে পড়েছে। ঝুঁকল দাবার লড়াইয়ে। সাদা মন্ত্রীটাকে এগিয়ে দিল কোনাকুনি। হাঁক পাড়ল, গোবিন্দ, কাপপ্লেটগুলো এখান থেকে সরা। আর ও-ঘর থেকে দিদার টেলিফোনের ছোট বইটা আমায় দিয়ে যা তো।

    মীরার কালো ডায়েরিখানা রেখে চলে যাচ্ছিল গোবিন্দ। দিব্যজ্যোতি ফের বলল, দাঁড়া। আর একটা কাজ আছে। আমার কাঠের আলমারিটা খোল। দ্যাখ মাঝের তাকে একটা কাচের বড়

    বোতল আছে, বের কর।

    হুইস্কির বোতল হাতে নিয়ে গোবিন্দ শিহরিত, এ মা, এ তো মদ!

    দিব্যজ্যোতি হেসে বলল, দুর ব্যাটা। ওটাকে বলে কারণবারি। খেলে মন চাঙা হয়। যা, এবার লক্ষ্মী ছেলের মতো একটা গ্লাস আর ঠান্ডা জল এনে দে তো।

    সাইডটেবিলে পানীয়র আয়োজন। অনেকদিন পর সোনালি তরলের মায়াবী হাতছানি। দিব্যজ্যোতি বোতলটা তুলেও কী ভেবে রেখে দিল। মীরার ডায়েরিটা ঘাঁটছে। খুঁজে খুঁজে পেয়ে গেল প্রার্থিত নম্বর। কর্ডলেস টেলিফোন হাতে থেমে রইল ক্ষণকাল। তারপর বুড়ো আঙুলে বোতাম টিপছে।

    রিং বেজে উঠল। বাজছে। বাজছে।

    বারদশেক ঘণ্টি বাজার পর সাড়া পাওয়া গেল। বাচ্চার গলা, হ্যালো?

    দিব্যজ্যোতি যেন হোঁচট খেল সামান্য।

    ওপারে ফের রিনরিনে স্বর, হ্যালো? কে বলছ?

    তুমি কে বলছ?

    আমি টুকুস। না না, আমি অনিরুদ্ধ।

    কেন, টুকুস নামটাই তো বেশ।

    কিন্তু মা যে বলেছে অচেনা লোকদের ভাল নাম বলতে!

    তাই নাকি? আমার তো বাবা টুকুসটাই বেশি ভাল লাগছে। তোমার মা কোথায়, টুকুস?

    বাড়ি নেই। ফিরতে দেরি হবে। দাদুকে দেখতে গেছে।

    কোন দাদু? যিনি সুকিয়া স্ট্রিটে থাকেন?

    তুমি আমার দাদুকে চেনো?

    চেনা তো উচিত। কী হয়েছে তোমার দাদুর?

    ফ্র্যাকচার। পা ভেঙে গেছে।

    সর্বনাশ! কী করে ভাঙল?

    সে এক কাণ্ড! একটা লোক নাকি ঠিকানা খুঁজে পাচ্ছিল না, ঘুরে ঘুরে মরছিল, দাদু তাকে ঠিকানা খুঁজে দিতে একটা অন্ধকার গলিতে ঢুকেছিল। সেই লোকটাকে বাড়ি খুঁজে দিয়ে আসার সময়ে নিজেই একটা গর্তে পড়ে গেছে।

    দিব্যজ্যোতি স্থির হয়ে গেল। গলা দিয়ে কোনও আওয়াজ বেরোচ্ছে না।

    আবার টুকুসের স্বর, কী হল? শুনছ?

    হুঁ। শুনলাম। তোমার দাদুর কপালটাই খারাপ।

    যা বলেছ। বাসে-ট্রামে উঠবে না, শুধু হেঁটে হেঁটে ঘুরবে। দিদা কত বকাবকি করে, দাদু শোনেই না। থাকো এখন পায়ে প্লাস্টার নিয়ে পড়ে। টুকুস একটু দম নিল যেন। বড়দের ভঙ্গিতেই বলল, জানো তো, আমার বাবারও খুব ছোটাছুটি যাচ্ছে। দাদুকে নিয়ে ডাক্তার হসপিটাল, তার ওপর আবার নিজের অফিস…।

    এই রকমই হয়, টুকুস। একজনের খেয়ালিপনায় পাঁচজনকে ভুগতে হয়।… তা তুমি কি এখন বাড়িতে একা?

    না তো। ময়নামাসি আছে। টিভি দেখছে। ডাকব?

    থাক। তোমার সঙ্গেই তো বেশ গল্প করছি। তোমার ডিস্টার্ব হচ্ছে না তো?

    একটু একটু হচ্ছে।

    সে কী? কেন?

    এখনও যে হোমওয়ার্ক ফিনিশ হয়নি। বেঙ্গলি এসেটা না লিখে রাখলে মা এসে ঝাড় দেবে।

    সরি। সরি। তা হলে তো এবার ছাড়তে হয়।

    কিন্তু তুমি কে, তা তো এখনও বললে না?

    আমি? আমি একটা রাক্ষস।

    যাহ্, গুল মেরো না। রাক্ষস তো স্টোরিবুকে থাকে।

    তার বাইরেও আছে দু’-চারটে। আমার মতো। যে গপ করে সবাইকে গিলে ফেলে।

    মাকে তা হলে কী বলব? একটা রাক্ষস তোমায় ফোনে খুঁজছিল? তাই বোলো।

    ঠিক আছে। বাই।

    বাই।

    টেলিফোন অফ করে গ্লাসে হুইস্কি ঢালল দিব্যজ্যোতি। চুমুক দিয়ে

    আপনাআপনি বিকৃত হয়ে গেছে মুখ। বেশ কিছুদিন পর শরীরে যাচ্ছে অ্যালকোহল। জানান দিচ্ছে। ছোট ছোট চুমুক দিতে দিতে চোখ ঘোরাল রণক্ষেত্রে। সাদা-কালোর যুদ্ধ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। কালোই জিতবে মনে হচ্ছে। সাদার কি আর কোনও চান্স নেই? মন্ত্রীকে যদি ঠিকঠাক ব্যবহার করা যায়…। কিন্তু বল এত কমে এসেছে…!

    গ্লাস শূন্য করে দিব্যজ্যোতি বাথরুমে গেল। ফিরে আর দাবায় বসল না, খেলার উৎসাহ যেন অনেকটা নিবে এসেছে। লাঠি ধরে ধরে এল ঝুলবারান্দায়।

    খাঁচায় অল্প অল্প নড়াচড়া করছে গোবিন্দর পাখি। দিব্যজ্যোতি ঝুঁকল খাঁচার সামনে। ওমনি সরু লোহার দাঁড় বেয়ে পায়ে পায়ে সরে যাচ্ছে পাখিটা।

    দিব্যজ্যোতি হেসে উঠল, বোকা কোথাকার। ভিতুর ডিম…। ধরা পড়লি কী করে?

    পাখি চোখ পিটপিট করল।

    দিব্যজ্যোতি আরও জোরে হেসে উঠল। হাসতে হাসতে গান ধরেছে, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কমনে আসে যায়… ধরতে পারলে মনবেড়ি দিতাম তাহার পায়ে…

    দু’লাইন গাইতেই গানটা যেন দখল করে নিল দিব্যজ্যোতিকে। গলা চড়ছে ক্রমশ,

    আট কুঠুরি নয় দরজা আঁটা,
    মধ্যে মধ্যে ঝল্কা কাটা,
    তার উপরে আছে সদর কোঠা আয়নামহল তায়…

    গোবিন্দ বারান্দায় উঁকি দিয়েছে। জুলজুল চোখে দেখছে মামাকে। দিব্যজ্যোতি গান থামিয়ে জিজ্ঞেস করল, কী রে ব্যাটা, কেমন শুনছিস?

    বলেই উত্তরের অপেক্ষায় না-থেকে সামনে হাত মেলে দিয়েছে। ফিরছে ঘরে। হাঁটতে হাঁটতে গাইছে,

    মন তুই রইলি খাঁচার আশে,
    খাঁচা যে তোর তৈরি কাঁচা বাঁশে রে।
    কোন দিন খাঁচা পড়বে খসে,
    ও মন
    লালন কয় খাঁচা খুলে সে পাখি কুনখানে পালায় …

    নিজের ঘরের চৌকাঠ ডিঙোতে গিয়েও দিব্যজ্যোতি দাঁড়িয়ে পড়ল। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল ছাদে ওঠার সিঁড়িটাকে। সুরার প্রভাবে মাথা অল্প ঝিমঝিম। বহুকাল খোলা আকাশের নীচে দাঁড়ানো হয়নি, যাবে একবার? সিঁড়িতে পা রাখতেই পিছনে গোবিন্দ, তুমি ওপরে চললে যে? তোমার না সিঁড়ি চড়া বারণ?

    বেশি গার্জেনি ফলাস না তো। ঊর্ধ্বপানে চলি আমি, রোধে কে আমায়!

    লালনের সুরে স্বরচিত পঙ্ক্তি গেয়ে উঠল দিব্যজ্যোতি। লাঠিতে ভর দিয়ে, সময় নিয়ে নিয়ে, ভাঙছে সিঁড়ি। একটা করে ধাপ, একটু করে থামা। বাইশটা সিঁড়ি চড়তে যেন বাইশ বছর সময় লেগে গেল। ওপরে ওঠা কী যে কঠিন!

    ছাদে পৌঁছে হাঁপাচ্ছে দিব্যজ্যোতি। ঘেমে গেছে রীতিমতো। কাঁপছে থিরথির। মিষ্টি হাওয়ার ঝাপটা এল সহসা। কিছুটা যেন জুড়োল শরীর। চিলেকোঠার দেওয়ালে হেলান দিয়ে তাকাল উপর পানে। মেঘ নেই, সন্ধের আকাশে ঝিকমিক করছে তারা।

    চোখ চালিয়ে দিব্যজ্যোতি চেনা তারাদের খুঁজতে শুরু করল। ওই তো সপ্তর্ষিমণ্ডল। পুলহ, ক্রতু… সোজা চলে গেলে ওই তো সিংহ রাশি। ওদিকের উজ্জ্বল তারাটা মঘা না? সিংহরাশির পূর্ব দিকে তো বুয়োটিসের থাকার কথা!

    হ্যাঁ, আছে। লালচে রং স্বাতীকেও দেখা যায়। কিন্তু চিত্রা কোথায় গেল? আবার সপ্তর্ষিমণ্ডলে এল দিব্যজ্যোতি। আন্দাজে আন্দাজে বশিষ্ঠ, অঙ্গিরা আর মরীচিকে জুড়ল। বৃত্তচাপের মতো লাইনটাকে ঘুরিয়ে দিল দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে। আছে, আছে, স্বাতীর পরে চিত্রাও আছে। উত্তরফাল্গুনী, চিত্রা আর স্বাতী… মুঙ্গেরের দাদু বলত, ঠিক যেন ত্রিভুজের তিনটে কোণ। আরও কত তারা যে তাকে চিনিয়েছিল দাদু। শ্রবণা, আর্দ্রা, জ্যেষ্ঠা, রোহিণী….

    রোহিণীর বিয়ে। শ্রাবণ মাসে দিল্লি যেতেই হবে দিব্যজ্যোতিকে। গাঢ় নীল আকাশে দিব্যজ্যোতি রোহিণী তারাটাকে খুঁজল। নেই। কৃত্তিকাকেও দেখা যায় না। কোথায় যে হারিয়ে যায় তারাগুলো! সোনামাটির আকাশ হলে হয়তো চোখে পড়ত। সুবর্ণলতা ঠিকঠাক চলছে তো এখন? কল্পনার বড্ড রাগ, নিজের সব জ্বালাপোড়া দিব্যজ্যোতির সুবর্ণলতায় উগরে দেয়। পৃথা আর কণাদকে একবার বলবে, টুকুসকে নিয়ে সুবর্ণলতায় যেতে? যাবে কি পৃথা?

    দিব্যজ্যোতি আবার দৃষ্টি মেলল আকাশে। কী তিথি কে জানে, চাঁদ আজ ওঠেনি এখনও। অন্ধকার ঘনতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নক্ষত্রপুঞ্জের ঔজ্জ্বল্যও যেন বাড়ছে ক্রমশ। বিচ্ছুরিত হচ্ছে অজস্র রং। খাঁচা খুলে দিলে পাখি কি ওই রঙের দেশে উড়ে যেতে পারে?

    ফের দিব্যজ্যোতি গেয়ে উঠল,

    আট কুঠুরি নয় দরজা আঁটা….
    মধ্যে মধ্যে ঝল্কা কাটা…
    তার ওপরে আছে সদর কোঠা আয়নামহল তায়…

    হঠাৎই ছিঁড়ে গেল গান। সহসা শরীরের সমস্ত রক্ত আলোর গতিতে ধেয়ে এসে আঘাত করল দিব্যজ্যোতির মাথায়। একটা তীক্ষ্ণ, তপ্ত, লৌহশলাকা মস্তিষ্ককে বিদ্ধ করল যেন। মুহূর্তের জন্য, অথবা মুহূর্তের এক অতি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশের জন্য, দিব্যজ্যোতির কণ্ঠনালি ছিঁড়ে এক বিকট গোঙানি ছিটকে এল। পরক্ষণে দীর্ঘ দেহটি আছড়ে পড়েছে মাটিতে। পাশে লাঠিটাও।

    শরীর থেকে শেষ বাতাসটুকু বেরিয়ে যাওয়ার আগে ক্ষীণভাবে দিব্যজ্যোতির মনে হল, সাদা আর কালোর যুদ্ধটা অসমাপ্তই রয়ে গেল।

    নিষ্প্রাণ দুটো খোলা চোখ অসীম মহাশূন্যে তারাদের দেখছে এখন। নক্ষত্ররাও দিব্যজ্যোতিকে দেখছিল। জ্বলছিল মিটমিট। নিবছিল।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমার এখন সময় নেই – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article মিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }