Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আয়নামহল – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প203 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আয়নামহল – ৯

    নয়

    তুমি কী মিষ্টি দেখতে গো মাসি! তোমার মতো সুন্দর আমি আর একটাও দেখিনি।

    মিমলির পাকা পাকা কথায় খিলখিল হেসে উঠল কৃত্তিকা, মাসিকে তুই আজ এই প্রথম দেখলি নাকি?

    হঠাৎ কথাটা বলে ফেলে মিমলি লজ্জা পেয়েছে খুব। চোখের পাতা কাঁপিয়ে বলল, কী করব, বলতে ইচ্ছে হল যে!

    এখন? এই খাবার টেবিলে বসে? কৃত্তিকার হাসি থামছে না। উচ্ছল স্বরে বলল, তোর দেখছি আরও একটা ভক্ত বেড়ে গেল রে, দিদি!

    রোহিণীর মুখোমুখি বসেছে বিভাস। ঠোঁটে তার পরিমিত হাসি। ফিশফ্রাইতে কামড় দিয়ে বলল, আমিও তো দিদির অ্যাডমায়ারার। এই দুনিয়ায় সুন্দরের অনুরাগী কে নয়!

    রোহিণী চোখ তুলেছে। আলগা ধমক দিয়ে বলল, আহ্ বিভাস, তুমিও এই আধবুড়িটাকে নিয়ে মজাক শুরু করলে!

    আপনি আধবুড়ি! এখনও স্বচ্ছন্দে আপনাকে কৃত্তিকার ছোট বোন বলে চালিয়ে দেওয়া যায়।

    পলকের জন্য কৃত্তিকার দৃষ্টি চাবুকের মতো আছড়ে পড়ল বিভাসের মুখে। পরক্ষণে স্বাভাবিক উচ্ছ্বাসে ফিরিয়েছে নিজেকে। হালকাভাবে বলল, বাপ মেয়েতে মিলে আমার দিদির রূপ গিললেই চলবে? হোস্টের ডিউটিটাও একটু পালন করো। ভাল করে খেতে বলো দিদিকে।

    সঙ্গে সঙ্গে দম দেওয়া পুতুলের মতো বিভাস বলে উঠেছে, হ্যাঁ দিদি, আপনি তো কিছুই খাচ্ছেন না, খালি খুঁটছেন। কৃত্তিকা আজ নিজের হাতে আপনার জন্য কত কী বানাল…

    না-চাইতেও একটা গর্বিত স্বর এসে গেল কৃত্তিকার গলায়, আমি আজ সাবিত্রীকে রান্নাঘরে ঢুকতেই দিইনি।… দ্যাখ দিদি, সব ক’টা তোর ফেভারিট আইটেম। মিষ্টি মিষ্টি পোলাও, দইমাছ, মটন কষা…

    দেখছি তো। রোহিণী ঠোঁট টিপে হাসল, দেখেই লোভ হচ্ছে।

    তো ঠিক করে খা। শুধু জিভে ঠেকিয়ে ঠেকিয়ে ছেড়ে দিচ্ছিস কেন?

    আজকাল আর বেশি রিচ রান্না হজম হয় না রে, ঝুনি। মা’র সঙ্গে থেকে থেকে এক ধরনের অভ্যেস হয়ে গেছে। দেখেছিসই তো তুই, আমরা ঝালমশলা কত কম খাই!

    মনে মনে আহত হল কৃত্তিকা। এমনিই তো কত সাধ্যসাধনা করে আজ আনা গেছে দিদিকে, এ-কাজ, সে-কাজের অছিলায় নেমন্তন্নটা কায়দা করে এড়িয়ে যাচ্ছিল। সোনামাটি যাওয়ার সময় হয়, কিন্তু চেতলা থেকে তিন কিলোমিটার পথ আসতে যত রাজ্যের বাহানা! এসেও না-ছুঁই, না-ছুঁই ন্যাকামো! বোনের আন্তরিকতা আর পরিশ্রমকে মূল্যহীন করে দিয়ে দিদি কি মজা পাচ্ছে?

    গলা সহজ রেখেই কৃত্তিকা বলল, শরীর যতটুকু চায়, ততটুকুই খা মাকে নয় ফোনে বলব, তোমাদের ঢেপসির যত্নআত্তি তোমার বড় মেয়ের পছন্দ হয়নি।

    মিথ্যে নালিশ করবি? রোহিণী হেসে ফেলল, তুই আর বদলালি না রে, ঝুনি। একই রকম পাগলামি করিস।

    হ্যাঁ, পৃথিবীতে একমাত্র আমিই তো পাগল।

    মাংসের টুকরো মুখে তুলতে গিয়েও থমকেছে বিভাস। একবার রেহিণীকে দেখছে, একবার কৃত্তিকাকে। সন্দিগ্ধ ভঙ্গিতে বলল, তোমরা কি মক ফাইট করছ? নাকি সিরিয়াস?

    না না, এটা আমাদের খেলা। রোহিণী হাসতে হাসতেই এক চামচ পোলাও তুলল পাতে। ভুরু বেঁকিয়ে বোনকে বলল, হ্যাঁরে ঝুনি, এখন রান্নাবান্নাকেই জীবনের মোক্ষ বলে ধরে নিলি নাকি? এক সময়ে চাকরি চাকরি করে অত খেপে উঠেছিলি, সেই চাকরি ছেড়ে এখন ঘরে বসে আছিস?

    দিদি কি প্রসঙ্গ ঘোরাচ্ছে? নাকি চাকরির কথাটা স্মরণ করিয়ে একটু ঠুকে নিল? কিন্তু কৃত্তিকা আজ একদমই চটবে না। তার সামান্যতম বিরক্তিকেও দিদি নিজের জয় বলে ভেবে নিতে পারে।

    মুচকি হেসে বলল, মিমলি বড্ড বায়না ধরেছিল রে। ছোটতে সাবিত্রীর কাছে থাকত, তখন ঝামেলা করেনি, যেই না স্কুলে যাওয়া শুরু হল, ওমনি ব্যস…। তাও ঠেকিয়ে ঠেকিয়ে রেখেছিলাম। আস্তে আস্তে দেখি আমাদের মিমলিরানি খুব জিদ্দি হয়ে যাচ্ছে। তাই ডিসিশনটা নিয়েই ফেললাম। চুলোয় যাক চাকরি, আমার এখন ঘর-সংসার আগে। সত্যি বলতে কী, আমাদের সংসারে আমার চাকরির তো দরকারও নেই। বিভাস যা ইনকাম করছে, তাতে তো দিব্যি চলে যায়। এই তো দ্যাখ না, দুম করে একটা সাড়ে ষোলোশো স্কোয়্যার ফিটের ফ্ল্যাট কিনে ফেলল।

    বিভাস বলল, লোভে পড়ে গিয়েছিলাম। এমন চমৎকার পজিশন, পাড়াটাও নতুন… তিনতলার ওপর দক্ষিণ খোলা… লিফট্, বড় বড় দু’খানা ব্যালকনি…

    রোহিণী ঘাড় ঘুরিয়ে আর একবার অতিকায় লিভিংরুমটাকে দেখল। তারিফ করার সুরে বলল, সুন্দর হয়েছে। খুব বড় ফ্ল্যাট।

    আমার একটু হাত পা ছড়িয়ে থাকাই পছন্দ রে, দিদি। তাও তো এটাতে টেরেস নেই। আমি বিভাসকে বলে দিয়েছি, পাঁচ বছর পরে আমরা কিন্তু একটা টেরেসওয়ালা ফ্ল্যাট কিনব, হ্যাঁ। সেখানে মাটি ফেলে, ঘাস লাগিয়ে, একটা লন বানাব।

    বিভাস সংকুচিতভাবে বলল, অনেক টাকার ধাক্কা। পারব কিনা কে জানে!

    কৃত্তিকা ধমক দিয়ে বলল, খুব পারবে। পারতেই হবে। জেদ না-থাকলে মানুষের ইচ্ছাপূরণ হয় নাকি?

    বলেই তেরচা চোখে রোহিণীকে দেখল কৃত্তিকা। দিদির কোনও প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি? মুখটা কি একটুও শুকনো লাগে না? উঁহু, বোঝা দায়। মুখে একই হাসি ধরে রেখেছে। হাসিটা বাড়ছেও না, কমছেও না। পাকা অভিনেত্রীর মতো মনের ভাব লুকিয়ে রাখতে পারে দিদি। দিব্যদাকে নিয়ে তার সঙ্গে লড়তে গিয়ে গোহারান হেরে যখন কলকাতা ছেড়ে পালিয়েছিল, তখনও তো কোনও তাপ-উত্তাপ দেখায়নি।

    কথাটা মনে হতেই কৃত্তিকা খানিকটা চনমন বোধ করল। একটা প্লেট নিয়ে বসে পড়ল টেবিলে। বহুমূল্য বিদেশি ডিনার সেটখানা বের করেছে আজ, সুদৃশ্য চিনামাটির পাত্র থেকে, পোলাও নয়, ভাত নিল অল্প। তার ডায়েটিং চার্টে রাত্তিরে ভাত নেই, তবুও। সামান্য দইমাছের কাই দিয়ে ভাতটা মাখতে মাখতে বলল, কাল সোনামাটি থেকে তুই কখন ফিরলি রে?

    রোহিণী এক ঢোক জল খেল, প্রায় সাড়ে দশটা। বেশ রাত হয়ে গিয়েছিল।

    অনেকটা রাস্তা, তাই না?

    দু’ঘণ্টা-সওয়া দু’ঘণ্টা মতো লাগে। পথে বম্বে রোডে জ্যাম ছিল… তুই যাসনি সুবর্ণলতায়?

    আমি গিয়ে কী করব? আমাকে কোন কাজে লাগবে?

    সে কী? দেখতেও যাসনি?

    বিভাস গেছে এক-আধবার। আমার অত সময় নেই।… স্পৃহাও নেই। দিব্যদাদের বাড়ির ঝিয়ের মেয়েটা ওখানে রাজত্ব করছে… ওই খরখরিটাকে দেখলেই আমার গা জ্বালা করে।

    কেন রে? কল্পনা তো বেশ ভালই চালাচ্ছে।

    চালাক না, মোচ্ছব করুক।… জানিস, মেয়েটার ওপর সব ছেড়ে দেওয়ার জন্য বড়মাসি কতটা দুঃখ পেয়েছে? বড়মাসি সেখানে যায় না পর্যন্ত। কৃত্তিকা বেছে বেছে ছোট্ট একটা মাংসের টুকরো তুলল হাতায়। চোখে বিচিত্র ভঙ্গি করে বলল, অশান্তি হবে বলে চুপচাপ থাকি। তবে

    বলতে গেলে তো অনেক কথা বলতে হয়।

    কী কথা?

    মাকে তো দিল্লিতে আমি বলেওছি। মা তোকে বলেছে কি না জানি না।

    কী ব্যাপারে বল তো? দিদার টাকা?

    হ্যাঁ। সুবর্ণলতা তো তৈরিই হয়েছে আমাদের দিদার টাকায়। দিদা যেমন বড়মাসির মা, আমাদের মায়েরও তো মা। তিনি তাঁর বড় মেয়েকে সম্পত্তিটা কিছু একটা করার জন্য দিয়ে গিয়েছিলেন। তার মানে তো এই নয়, বেচে আট-দশ লাখ যা পাওয়া গেছে সব দিব্যদার হয়ে গেল? আরও দুঃখের কথা কী জানিস? কত টাকা পাওয়া গেছে, কেউ নাকি জানে না! বড়মাসিও নয়! জিজ্ঞেস করলেই বড়মাসি হাত উলটে দেয়। বেচাবেচির পর্বটা দিব্যদা পুরো নিজের কন্ট্রোলে রেখেছিল। তোকে আমাকেও কি বলেছে কিছু? অন্তত মাকে তো একবার জানিয়ে দিতে পারত।

    বিভাসের আহার শেষ, এখন মিমলিকে খাওয়াচ্ছে। টেবিল ম্যানারস মেনে। আলগোছে কথা ভাসাল, ছাড়ো না কৃত্তিকা। দিব্যদা তো একটা ভাল কাজেই টাকাটা লাগিয়েছে।

    তুমি চুপ করো। এটা আমাদের ফ্যামিলি ম্যাটার।… ভাল কাজ হোক, কি খারাপ, ওই টাকায় আমাদেরও শেয়ার আছে। এবং সেই কারণে, ওই প্রতিষ্ঠানেও। আমাদের বাদ দিয়ে দিব্যদা একা একা সুবর্ণলতা খোলে কোন রাইটে?

    রোহিণীর হাত থেমে গেছে। ভুরুর মাঝে একটা দুটো রেখা ফুটে ও যেন মিলিয়ে গেল। দু’দিকে মাথা নেড়ে বলল, কিন্তু সুবর্ণলতা স্টার্ট হওয়ার পরেও তো দিব্যদার সঙ্গে মা’র বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। কই, মা তো দিব্যদাকে এ নিয়ে কিছু বলেনি!

    লজ্জায় বলেনি। বোনপোর ওপর স্নেহবশত বলেনি। বোনপোর স্বভাবচরিত্র সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেই বলে বলেনি। কৃত্তিকা চোখের পাতা কাঁপতে দিল না, তা ছাড়া কৃতজ্ঞতা ব্যাপারটাও বোধহয় মা’র মাথায় ঘোরে। এককালে ওরা আমাদের সাহায্য করেছে। অবশ্য…

    কৃত্তিকার মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল, বিনিময়ে দিব্যদাও নিয়েছে অনেক। কোনওক্রমে শব্দগুলো গিলে নিয়ে কৃত্তিকা বলল, অবশ্য দিব্যদা যে তার জন্য টাকাটা আত্মসাৎ করে নেবে, আর সেই টাকায় নাম কিনে দুনিয়ার লোকের বাহবা কুড়োবে… আরও বেশি খ্যাতিমান হবে… এটা কেই বা কল্পনা করতে পেরেছে!

    রোহিণীর চোখে তবুও যেন একটা হাসি খেলা করছে। এঁটো হাতের দিকে তাকিয়ে বলল, তুই দেখছি দিব্যদার একদম অ্যান্টি হয়ে গেছিস? কৃত্তিকা গোমড়া হল, আমি কারও পক্ষেও নই, বিপক্ষেও নই। যেটা উচিত কথা, সেটা আমি বলবই।

    দিব্যদাকে বলেছিস কখনও?

    বলব। দিন আসুক। সময় আসুক। কৃত্তিকা একবার মিমলিকে দেখে নিল। অনেকক্ষণ পর হাসছে মিটিমিটি। হাসতে হাসতে বলল, উঠে পড়, উঠে পড়, হাতটাত ধুয়ে নে। … সাবিত্রী এসো, এবার খাবার টাবারগুলো তোলো। মাংসটা বেশি ঘাঁটাঘাঁটি হয়েছে, ফ্রিজে ঢোকানোর আগে একবার গরম করে নিয়ো।

    মাঝবয়সি সাবিত্রী টেবিল সাফ করছে। মিমলি রোহিণীকে টানতে টানতে নিয়ে গেল বেসিনে, সেখান থেকে আধুনিক কেতায় সাজানো বসার জায়গাটায়। মেয়েটা মাসির মধ্যে কী মধু পেয়েছে কে জানে, গায়ে গায়ে লেগে থাকছে! বিভাসও গিয়ে বসেছে সোফায়, টুকটাক কথা চলছে রূপসি শ্যালিকার সঙ্গে। মিমলি মাসির গলা জড়িয়ে ঝুলে পড়ল, মাসি তাকে চুমু খাচ্ছে।

    সাবিত্রীকে খাবার দিতে কৃত্তিকা রান্নাঘরে ঢুকেছিল, বেরিয়ে কয়েক পল দেখল দৃশ্যটা। ঠোঁট চেপে হাসল একটু। কেন যে হাসল? শোওয়ার ঘরে গিয়ে মশলার কৌটোটা নিয়ে এসেছে। রোহিণীর সামনে ধরে বলল, হাত পাত।

    কী ওটা? মৌরি?

    উহুঁ, জোয়ান। সঙ্গে বিটনুন লেবু…। নে, রিচ খানা হজম হয়ে যাবে।

    মিমলি বায়না জুড়ল, আমাকেও দাও।

    মেয়ের হাতেও দু’-চার দানা জোয়ান দিল কৃত্তিকা, ব্যস, আর নয়। সন্ধে থেকে প্রচুর দৌড়ঝাঁপ হয়েছে, সোজা গিয়ে শুয়ে পড়।

    আর একটু থাকি না, মা। যতক্ষণ মাসি আছে।

    আবার অকারণে চপল হল কৃত্তিকা, ঠিক হ্যায়। এবার যখন দিল্লি যাব, তোকে মাসির কাছেই রেখে আসব। খুশি?

    হু^উউ।

    তোর দৌড় জানা আছে। আগেরবারই তো দিদা বলেছিল, মিমুসোনা আমার কাছে থাক… ওমনি তো ভ্যাঁ ভ্যাঁ কান্না জুড়ে দিয়েছিলি।

    আহা, ও তখন কতটুকু! ফস করে কথার মাঝে নাক গলিয়েছে বিভাস, সবে তো সাড়ে তিন কি চার।

    বিভাসের মনে করিয়ে দেওয়াটা মোটেই পছন্দ হল না কৃত্তিকার। সে যে প্রায় তিন বছর মা’র কাছে যায়নি, চোখে আঙুল দিয়ে সেটা দেখিয়ে দেওয়া কি একান্তই জরুরি? তবে ছদ্ম বিস্ময়ের ছটার আড়ালে লুকিয়েও ফেলল অসন্তোষটা। চোখ কপালে তুলে বলল, এমা যাহ্, আমি এত দিন দিল্লি যাইনি? ইস, এবার তো তা হলে পুজোয় যেতেই হয়। কী বলিস, দিদি?

    আসতেই পারিস। মা খুশি হবে।

    এবার কিন্তু মাকে আমি কলকাতায় নিয়ে আসব। আগে থাকতে বলে রাখলাম। কত বছর ধরে মা ওখানেই পড়ে… আমার সংসার করাটাও তো মা দেখল না।

    মা কি পারবে আসতে? শরীরের যা হাল। এদিকে বাতে ধরেছে, ওদিকে প্রেশার, হাঁপানির টান….

    ওগুলো সমস্যাই নয়। তেমন বুঝলে প্লেনে উড়িয়ে আনব। কলকাতায় ডাক্তারেরও কোনও অভাব নেই।

    কথাটা বলে বেশ আত্মপ্রসাদ অনুভব করল কৃত্তিকা। যেন দিদির ডাক্তার হওয়ার গুমোরটাকেও সে খানিকটা খাটো করতে পেরেছে। তা ছাড়া দিদি মাকে কাছে রেখেছে, একা সমস্ত দায়িত্ব কর্তব্য পালন করে চলেছে— এইসব সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কাঁটাগুলো উপড়ে ফেলার সুযোগও তো সেভাবে আসে না। আজ যখন পেয়েছে, ছাড়বে কেন।

    রোহিণী কবজি উলটে ঘড়ি দেখছে। বিভাসকে বলল, এবার তো উঠতে হয়, ভাই।

    বিভাস বলল, বসুন না আর একটু। সবে তো দশটা।

    রোজ রোজ রাত করাটা ঠিক নয়। বাড়িতে একটা রোগী আছে…। তোমাদের কম্পাউন্ডের সামনে থেকে কি ট্যাক্সি পাব?

    গাড়ি তো আছে, আমি পৌঁছে দিচ্ছি।

    মিছিমিছি কষ্ট করবে কেন?

    কষ্ট কীসের। ইটস মাই প্লেজার।

    বিভাস কি একটু বেশি গদগদ ভাব দেখাচ্ছে না? কৃত্তিকা কটাক্ষ হানতে গিয়েও সংযত করল নিজেকে। রোহিণীকে দরজা অবধি এগিয়ে দিতে দিতে বলল, তোর মুখ থেকে একটা খবর কিন্তু খুব আশা করেছিলাম রে দিদি।

    রোহিণী ঘুরে দাঁড়াল, কী বল তো?

    বড়মাসি বলছিল, তুই নাকি শেষ পর্যন্ত বিয়ে করছিস?

    রোহিণী অস্পষ্ট হাসল, এখনও ঠিক নেই।

    সেই ডাক্তার বন্ধু? মা যার কথা টেলিফোনে বলে?

    হুঁ।

    তোর সঙ্গেই নাকি এসেছে কলকাতায়? একবার দেখালি না?

    বিভাস গাড়ি বার করতে গেছে। মিমলি কৃত্তিকার পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে। ঝুঁকে বোনঝির চুল ঘেঁটে দিল রোহিণী। সোজা হয়ে বলল, দেখে কী করবি? বর মেয়ে নিয়ে দিব্যি তো সুখে আছিস, থাক না নিজের মতো।

    কৃত্তিকার কানে ঠং করে বাজল ইঙ্গিতটা। মাথা জ্বালা করে উঠল সহসা। লিফট্ নেমে যাওয়ার পরও ঝুম হয়ে দাঁড়িয়ে রইল একটুক্ষণ। হঠাৎই নজর গেছে মিমলির ওপর। কড়া গলায় মেয়েকে বলল, এখনও দরজায় কেন? যাও, শুতে যাও।

    মিমলি গা মোচড়াল, যাচ্ছি তো।

    যাচ্ছি নয়, এক্ষুনি যাও। এক্ষুনি।

    সশব্দে দরজা বন্ধ করল কৃত্তিকা। ভেতরে এসে সাবিত্রীকে বলল, মিমলিকে নাইটড্রেসটা পরিয়ে দাও।…রান্নাঘরের কাজ শেষ? মাংস ঠান্ডা করে ফ্রিজে তুলেছ তো?

    হ্যাঁ।

    তুমিও বিছানা করে শুয়ে পড়ো।

    আচ্ছা।

    বিভাস ফিরল প্রায় এগারোটায়। নিজেকে রাতপোশাকে বদলে নিয়ে ব্যালকনিতে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল কৃত্তিকা। মিষ্টি একটা মলয় বইছে আজ, হাওয়াটা তাকে যেন ছুঁতে পারছিল না। উৎকট এক তাপ বেরোচ্ছে শরীর থেকে। চিন্তা তো শুধু নিজেকে পোড়ায় না, চারপাশেও বুঝি আগুন ধরিয়ে দেয়।

    বিভাস ঘরে ঢোকামাত্র কৃত্তিকা গিয়ে হিসহিস করে উঠেছে, যাক, ফিরেছ তা হলে!

    সরল মনে বিভাস বলল, একটু দেরি হয়ে গেল, না? ভাবলাম, গেছি যখন, দোতলায় একবার উঁকি দিয়ে আসি।

    সে তো আমি জানি। দিদির পিছু ছাড়তে ইচ্ছে করছিল না, তাই তো?

    বিভাস যেন মজা পেয়েছে। ফিচেল হেসে বলল, এমন কী খারাপ বাসনা? শি ইজ সো চার্মিং! এখনও কী দারুণ ফিগারটা রেখেছেন!

    আমার ফিগার বুঝি ধসে গেছে? কৃত্তিকা দুপদাপিয়ে এগিয়ে গেল, কোনটা আমার দিদির চেয়ে খারাপ? বুক? পেট? হিপ?

    তুলনা তো করিনি! বিভাস অবাক তুমি হঠাৎ হিস্টিরিক হয়ে যাচ্ছ কেন? তুমি তোমার মতো, দিদি দিদির মতো।

    থাক। কথা ঘোরাতে হবে না। তোমাদের, পুরুষদের আমি খুব চিনি।

    বিভাস পাঞ্জাবি খুলে ওয়াড্রোবে রাখছিল। ঘুরে বলল, তুমি তোমার দিদিকে একটুও সহ্য করতে পারো না। কেন বলো তো?

    বাজে কথা। দিদি আমায় সহ্য করতে পারে না। দেখলে না, কত সাধাসাধি করলাম, তবু আমাদের বাড়িতে এসে উঠল না!

    বিভাস খাটে বসল। ঠোঁট ছুঁচোলো করে বলল, বেশ, তাই নয় হল। কিন্তু দিদিই বা কেন তোমায় সহ্য করতে পারেন না?

    আমায় হিংসে করে।

    তোমার নিজের দিদি… তোমাকে… হিংসে! বিভাসের গলা থেকে প্রশ্ন ঠিকরে এল, কেন?

    এক একজনের নেচার থাকে। আপনজনের ভাল দেখতে পারে না। এই যে আমি চমৎকার সেটল করে গেছি, আর ও এখনও…

    সেই জন্যই উনি কলকাতায় আসেন না? বিভাস যেন এতক্ষণে রহস্যের সমাধান খুঁজে পেয়েছে। বিজ্ঞ গোয়েন্দার ভঙ্গিতে বলল, তাই তুমি বেশি বেশি করে বলছিলে? টেরেসওয়ালা বাড়ি…?

    কৃত্তিকা বহুক্ষণ পরে অকৃত্রিম হাসল, খারাপ কিছু বলেছি।

    বিভাস হাসতে হাসতে বলল, তুমি কিন্তু বেশ দুষ্টু আছ। দিদি অত দূর থেকে ছুটতে ছুটতে দিব্যদাকে দেখতে এসেছেন, আর তুমি দিব্যদার সম্পর্কে তার কাছে ঝুরি ঝুরি অভিযোগ জানিয়ে গেলে।… দিদি মনে হল খুব হার্ট হয়েছেন।

    তাতে আমার বয়েই গেল। কৃত্তিকা বিভাসের পাশে এসে বসল। আলগাভাবে বিভাসকে জড়িয়ে ধরে বলল, তোমায় গাড়িতে কিছু বলছিল নাকি?

    না। চুপচাপই ছিলেন। বিভাস কৃত্তিকার নাকে নাক ঘসল, আচ্ছা, তুমি মাঝে মাঝেই গজগজ করো বটে, কিন্তু দিব্যদা কি সত্যিই অত মতলবি লোক?

    কৃত্তিকা ধীরে ধীরে সরে গেল। ড্রেসিংটেবিলের সামনে গিয়ে বসেছে। চুলে ব্রাশ চালাতে চালাতে বলল, আমি যা যা বলি, তার একটাও কি মিথ্যে?

    তবু…। বিভাস একটা হাই তুলল, দিব্যদাকে দেখে তো ওরকম মনে হয় না। অন্যকে ঠকিয়ে খুব রইসি চালে থাকেন, তাও তো দেখি না। বরং সোশাল ওয়ার্ক করছেন…। ছবির মার্কেটেরও খবর আমি একটু- আধটু রাখি, সেখান থেকেও ওঁর ইনকাম নেহাত কম নয়। বছর কুড়ি চাকরি করে ভি-আর নিলেন, কলেজ থেকেও না-হোক ছ’-সাত লাখ তো মিলেছেই। সব টাকাই তো শুনি উনি সুবর্ণলতায় লাগাচ্ছেন।

    যদি লাগায়ও, নিশ্চয়ই কোনও উদ্দেশ্য আছে। অকারণে কিছু করার লোক দিব্যদা নয়।

    কী করে বলছ? আমি তো গিয়ে দেখেছি, কত বড় একটা কাজ হচ্ছে সেখানে। ইনটিরিয়ার ভিলেজের গরিব মেয়েরা রোজগারের সুযোগ পাচ্ছে…

    থামো তো। রাতদুপুরে আর কচকচানি ভাল লাগছে না। ঘুমোও।

    কী জানি বাবা, তোমায় আমি বুঝি না। বিভাস শুয়ে পড়ল। আবার একটা হাই তুলে বলল, এই দেখি পড়িমরি করে মেয়ে নিয়ে দিব্যদার কাছে ছুটছ, এই দেখি দিব্যদার নিন্দায় পঞ্চমুখ! দিব্যদা অসুস্থ বলে টেনশনও তো কম করো না!

    কৃত্তিকা আর কিছু না বলে বাথরুমে চলে গেল। বেরিয়ে দেখল বিভাস যথা নিয়মে ঘুমিয়ে পড়েছে। নিদ্রায় তলিয়ে যেতে বিভাসের এক মিনিটও সময় লাগে না। কী পুরুষ! তার যখন দেহ জেগে ওঠে, বিভাসের তখন নাক ডাকে, কৃত্তিকা চাইলেও কিছুতেই চোখ খোলে না। সেভাবে শরীরের চাহিদা নেই, মাতামাতি নেই, অবরে-সবরে একটুখানি দানাপানি পেলেই বর্তে যায় যেন। এই মানুষটা দিব্যদার চেহারা আন্দাজ করবে কী করে!

    নিথর মুখে চুল বাঁধল কৃত্তিকা, নিঃশব্দে ক্রিম ঘষল গালে, নিঃসাড়ে শুয়ে পড়ল বিছানায়, আলো নিবিয়ে দিল। চকিত অন্ধকারে ভেসে উঠেছে দিব্যদার মুখখানা। সেই মুখ… সেই নিষ্ঠুর মুখ

    মস্তিষ্কে চলতে শুরু করেছে ভিডিও ক্যাসেট।… দিব্যদা এসেছে গাইঘাটায়, দিদির সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করছে, দিদিকে নিয়ে বেরিয়ে গেল হাঁটতে, পিছন পিছন যাচ্ছিল কৃত্তিকা, হাত নেড়ে দিব্যদা তাকে টা টা করে দিল! ঝুনি যেন নিতান্তই এলেবেলে! ঝুনিকে যেন সঙ্গে নেওয়া যায় না! বেচারা ঝুনির কপালটাই তো এরকম, জন্ম থেকেই। তাকে কালো হতে হবে, অঙ্কে কাঁচা হতে হবে, বাড়িতে কেউ এলে তাকে লুকিয়ে পড়তে হবে, পাছে দিদির সঙ্গে তুলনা শুরু হয়। দিব্যদাও কিনা দিদির খাতাতে দিদির স্কেচ বানিয়ে দিল, আর তার খাতায় আঁকল শুধু হিজিবিজি। আবার ঠাট্টা করে বলল, তোরটা অনেক মহৎ আর্ট রে, বড় হলে বুঝবি! হুঁহু, ঝুনি যেন তখন বাচ্চা আছে! দিদির চেয়ে সে কত ছোট? পুরো তিন বছরও তো নয়!

    …দিদি ডাক্তারি পড়তে চলে গেল কলকাতায়। ছুটিছাটায় যখন গাইগাটায় আসত, কীরকম একটা অদ্ভুত গন্ধ বেরোত দিদির গা থেকে। মিষ্টিও নয়, কড়াও নয়, কেমন যেন বুনো বুনো ঘ্রাণ। মা কোনওদিন গন্ধটা পায়নি, শুধু ঝুনিই…। তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে দিত, ওই গন্ধের উৎস ভীষণ চেনা কেউ। ওই গন্ধটার নেশায় কলকাতায় আসার জন্য ছটফট করত ঝুনি। কিন্তু হায়ার সেকেন্ডারিতে সে গড়িয়ে মড়িয়ে সেকেন্ড ডিভিশন, হাবড়া কলেজ ছাড়া তখন তার আর গতি কী!

    …একদিন দিদির ব্যাগে একটা চাবি আবিষ্কার করেছিল ঝুনি। হস্টেলের চাবির রিংয়ে নয়, আলাদা করে রাখা ছিল খাঁজে। সাদা মনে দিদিকে জিজ্ঞেস করতেই দিদির সে কী চোটপাট! কোন সাহসে তুই আমার ব্যাগ ঘাঁটিস! এরকম কুচ্ছিত হ্যাবিটগুলো কোত্থেকে হল! বাজে বা নোংরা নয়, ঝগড়ার সময়ে কুচ্ছিত শব্দটাই ব্যবহার করত দিদি। ঝুনি যে তার তুলনায় অসুন্দর, সেটাই শুনিয়ে দিত বোধহয়। অনেক পরে অবশ্য চাবি রহস্য বুঝেছিল ঝুনি, দিব্যদার কাছেই জেনেছে। চাবিটা ছিল চেতলার বাড়ির। দিব্যদারই বানিয়ে দেওয়া ডুপ্লিকেট।

    …তারপর তো দিদি ডাক্তারি পাশ করল, চাকরিও পেল নার্সিংহোমে। ভাড়া নিল ছোট্ট টু-রুম ফ্ল্যাট। এম.এ পড়ার বাসনায় ঝুনিও অমনি নাচতে নাচতে কলকাতায়। অনার্স একটা ছিল বটে, তবে মার্কস সুবিধের নয়, সুতরাং চান্সও জুটল না। দিদি বলল, কী আর করবি, ফিরে যা গাইঘাটায়। মা’র দেখভাল কর, আর পারলে কম্পিটিটিভ পরীক্ষা টরিক্ষার জন্য তৈরি হ। কেমন যেন একটা সুর ছিল দিদির গলায়! করুণা? নাকি বিদ্রূপ? না তাচ্ছিল্য? কিংবা হয়তো তাকে সরিয়ে দিয়ে স্বস্তি পেতে চাইছিল দিদি! কিন্তু ঝুনির তো তখন, মাত্র ক’দিনেই, চোখে একটা ঘোর লেগে গেছে। কলকাতা যেন চুম্বকের মতো ধরে রাখতে চাইছে তাকে। দিদিকেও তো দেখছে সে, কেমন পাখির মতো উড়ছে দিদি। কোনওভাবেই কি সে এখানে থেকে যেতে পারে না? দিদির গলগ্রহ না হয়ে? একটা চাকরি বাকরি জুটিয়ে?

    …তখনই দিব্যদার শরণাপন্ন হল। চেতলায় গিয়ে ধরল এক-দু’দিন, দিব্যদা সেভাবে পাত্তা দিল না। ওখানে যেতে খুব একটা ভালও লাগত না ঝুনির। পৃথাবউদি কেমন যেন বাঁকা চোখে তাকায়, আভাসইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেয় ঝুনির উপস্থিতি সে আদৌ পছন্দ করছে না। ঝুনি প্ৰথমে ভাবত, দিব্যদা, বড়মাসি তাদের জন্য এত করে বলেই বুঝি বউদির রাগ! কী করে মাথায় আসবে, পৃথাবউদি তখন এক ঘরপোড়া গোরু!

    …ঝুনি একদিন মরিয়া হয়ে হানা দিল দিব্যদার কলেজে। সেদিন ও এড়িয়ে যাচ্ছিল দিব্যদা, ঝুনি ঝুপ করে বলে ফেলল, আমার জন্য কেন গো কিছু করতে চাও না তুমি? দিদি কিছু বললে তো ঝাঁপিয়ে পড়ে করে দিতে!

    দিব্যদা স্থির চোখে তাকে দেখল খানিকক্ষণ। তারপর বলল, রুনি আর তুই কি এক?

    তোমার চোখে তো তাই হওয়া উচিত। দিদির জন্য যদি উইকনেস থাকে, আমার জন্যও থাকবে।

    খুব ভেবেচিন্তে কথাটা বলেনি ঝুনি, কিন্তু দিব্যদার চোয়াল শক্ত হয়ে গিয়েছিল। গমগমে স্বরে বলেছিল, ঠিক আছে, দেখছি।

    আমি তা হলে তোমার ভরসাতেই থাকছি ক’দিন? থাক।

    তবে রুনিকে কিছু বলার দরকার নেই।

    দিন পনেরো পর দিব্যদা হঠাৎ দুপুরবেলা যাদবপুরের ফ্ল্যাটে হাজির, তোর একটা ব্যবস্থা বোধহয় হয়ে গেল। কাজ একটা তোর জুটে যাবে।

    ঝুনি লাফিয়ে উঠল, কোথায়?

    আমার দুই পরিচিত আর্টিস্ট একটা অ্যাড এজেন্সি খুলেছে। ইন্টিরিয়র ডেকরেশনও করে। তাদের অফিসের ডে-টু-ডে কাজকর্ম সামলাতে হবে। পারবি?

    পারব।

    এখন তিন হাজারের বেশি দেবে না। চলবে?

    দৌড়োবে।… তোমায় যে কী বলে ধন্যবাদ দেব দিব্যদা…!

    ধন্যবাদ ধুয়ে কি জল খাব? দিব্যদার গলা আচমকা অন্য রকম, আমি ওই সব ধোঁয়া ধোঁয়া কথায় বিশ্বাস করি না।

    মানে?

    দিদির সঙ্গে নিজেকে তুলনা করেছিলি না? তোর দিদি যা দিতে পারে, সেটা তো তোর নেই। যা তোর আছে, সেটাই দে।

    কী দেব?

    শরীরটা। বলেই আঙুল নাচাল, নাইটিটা খুলে ফ্যাল।

    ঝুনি স্তম্ভিত, কী বলছ তুমি দিব্যদা?

    ন্যাকামি করিস না। খোল চটপট।

    আমি তোমার ছোট বোন, দিব্যদা!

    সঙ্গে সঙ্গে সপাটে গালে চড়, চোপ। বোন বলে মাগ্‌ায় সুবিধে নিবি? সব কিছুর একটা দাম আছে, পে কর।

    তারপরে তো হয়েই গেল। প্রায় জন্তুর মতো তার শরীরটাকে আঁচড়াল, কামড়াল দিব্যদা। কিন্তু কী আশ্চর্য, যেই শুনল দিদির সঙ্গেও দিব্যদার একটা দৈহিক সম্পর্ক আছে, অমনি এক অদ্ভুত পুলকে ভরে গেল মন। পুলক, না সুখ? পুলক, না তৃপ্তি? নাকি শুধুই দিদির পারফিউম পাউডার ক্রিম লুকিয়ে মেখে নেওয়ার শিহরন?

    তা একবার রক্তের স্বাদ পেলে বাঘিনী আর কি শান্ত থাকে! রক্তে তখন কল্লোল বাজছে, দিব্যদাকে চাই, দিব্যদাকে চাই। দিদি না-থাকলে সন্ধেবেলা চলে আসে দিব্যদা, খ্যাপা পশুর মতো দু’জনে দু’জনকে ছিন্নভিন্ন করে তখন। হ্যাঁ, পশুই। লজ্জা, হায়া, শরম, সবই তখন উবে গেছে ঝুনির। এর মধ্যে হঠাৎ দিদি মাকে নিয়ে এল কলকাতায়। কী বিপদ, এবার ঝুনি কী করে! দিব্যদাই সমাধান খুঁজে দিল। মিডলটন স্ট্রিটে দিব্যদার এক বন্ধুর ফ্ল্যাট ছিল, বন্ধু বিদেশে, সেখানে শুরু হল অভিসার। দিদির কাছ থেকে টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে আনছে দিব্যদাকে, এতে যে কী অপার আনন্দ!

    একটা মাত্র ভুলের জন্য জানাজানি হয়ে গেল। দিব্যদার জ্বর, পাঁচ- সাত দিন দেখা হচ্ছে না, অফিস ছুটির পর চেতলায় চলেই গেল ঝুনি। পৃথাবউদি ছিল না সেদিন তবে বড়মাসি ছিল। ওপাশের ঘরে বড়মাসি থাকা সত্ত্বেও দুঃসাহসী হওয়ার ভূত চাপল ঝুনির মাথায়। জ্বর থেকে সবে উঠেছে, দিব্যদা বেশ দুর্বল, তাও অবসন্ন মানুষটাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জাগাতে চাইছিল ঝুনি। আর সেই মুহূর্তে, যাকে সে হিসেবে ধরেনি, সেই হতচ্ছাড়ি কল্পনাই কিনা তাকে দেখে ফেলল! এবং চুকলি করল পৃথাবউদির কাছে!

    অবশ্য ধরা পড়ার জন্যে ঝুনির একটুও অনুতাপ নেই। কিল খেয়ে কিল হজম করা দিদির কলকাতা ত্যাগের জন্যও নয়। একটাই যা দুঃখ, দিব্যদার সঙ্গে খেলাটা ছানা কেটে গেল। দিব্যদা তার শরীরের প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলল হঠাৎ। পৃথাবউদি মারফত বড়মাসিও তখন জেনে গেছে, ঝুনির বিয়ের জন্য উঠতে বসতে চাপ দিচ্ছে মাকে। ঝুনি ও বা কেন আপত্তি করবে! দিদিই যখন ফ্রেম থেকে আউট, বিয়ে করে থিতু হওয়াটা মন্দ কী!

    …এক শুভলগ্নে সম্বন্ধ করা পাত্রের সঙ্গে ছাদনাতলায় বসে পড়ল ঝুনি। কিন্তু বিয়ের পরেই টের পেল, দিব্যদা তার কত বড় ক্ষতি করে দিয়েছে। বিভাস কেজো মানুষ, বিভাস দায়িত্বশীল মানুষ, কিন্তু ঝুনির বিছানায় সে অচল। ঝুনির চনচনে খিদে মেটাতে একমাত্র দিব্যদাই পারে। শুধু দিব্যদা।

    …মিমলিকে দিব্যদাই আনল পৃথিবীতে। মিমলি জন্মানোর পর বিভাসের উৎফুল্ল মুখখানা দেখে ভারী মায়া হয়েছিল ঝুনির, বেচারা!

    অন্ধকারে কৃত্তিকার চোখ দুটো জ্বলে উঠল সহসা। দিব্যদা ভেগে গেছে। যেদিনই ঝুনির মুখ থেকে শুনল মিমলির ব্যাপারটা, সেদিন থেকেই এড়িয়ে চলে সুকৌশলে। মহা হারামি লোক, নিজের বাচ্চার ওপরও কণামাত্র টান নেই। মেয়েটার দিকে ভাল করে তাকায় না পর্যন্ত। ইচ্ছে করলেই হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিতে পারে কৃত্তিকা। আজকাল যা সব টেস্ট বেরিয়েছে, অস্বীকার করে পার পাবে না। ভাগ্যিস সোনামাটিতে সেদিন দুম করে মরে যায়নি, তা হলে বিস্তর মুশকিল হত। বোধহয় কৃত্তিকার কথা ভেবেই দিব্যদাকে এবার প্রাণভিক্ষা দিল ভগবান।

    উঠে বসল কৃত্তিকা। হাতড়ে হাতড়ে টেবিল থেকে টানল জলের জগটা। দু’ঢোক ঢালল গলায়। দিব্যদা আর একটু সুস্থ হলে, এবার একটা হিসেবে বসতে হবে। ত্যান্ডাই-ম্যান্ডাই করলে কৃত্তিকা ছাড়বে না। মুখোশটা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে দিব্যদার আসল রূপ দেখিয়ে দেবে সকলকে। কৃত্তিকার গায়েও কালি লাগবে? লাগুক। সুবর্ণলতা থেকে শুরু করে দিব্যজ্যোতি সিংহের যাবতীয় সম্পত্তি মিমলির নামে হয়ে যাবে, এটা বোঝার পরে বিভাসের মতো হিসেবি মানুষ নিশ্চয়ই কৃত্তিকাকে পরিত্যাগ করার মতো মূর্খামি করবে না! করেও যদি, তারই লোকসান।

    কী অনবদ্য পরিস্থিতি! হেড আই উইন, টেল ইউ লুজ!

    আচমকা একটা শ্বাস পড়ল কৃত্তিকার। জয়ের ভাবনাতে তৃপ্তি নেই কেন? কোথায় যেন সে হেরে আছে, হেরেই আছে। দিদির কাছে। দিব্যদার কাছে। মা’র কাছে। বড়মাসির কাছে। এমনকী পাশে শুয়ে থাকা এই বোকাসোকা নিরীহ মানুষটার কাছেও।

    কৃত্তিকার কান্না পাচ্ছিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমার এখন সময় নেই – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article মিতিনমাসি সমগ্র ২ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }