Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আলীবর্দী ও তার সময় – কালিকিঙ্কর দত্ত

    কালিকিঙ্কর দত্ত এক পাতা গল্প312 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অধ্যায় ৬ : আলীবর্দীর শাসনের সমাপ্তি তার চরিত্র ও প্রশাসন

    অধ্যায় ৬ – আলীবর্দীর শাসনের সমাপ্তি তার চরিত্র ও প্রশাসন

    ১৭৫১ সালের পর সেনাবাহিনীর ব্যয় সঙ্কোচন ও পদে রদবদল

    ১৭৫১ সালের জুন মাসের পর আলীবর্দী মারাঠাদের ত্রাস থেকে মুক্ত হয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন। আপাতভাবে আর কোনো বাইরের বিপদ না দেখে, তিনি সেনাবাহিনী থেকে সৈন্য কমিয়ে ফেলতে শুরু করেন। তিনি তার প্রশাসনে সময়ের দাবি অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসেন। এতদিন তার গুপ্তচর বিভাগের প্রধান হয়ে থাকা রাজারাম সিংকে মেদিনীপুরের নতুন ফৌজদার করা হয়, তার ভাই নারায়ণ সিংকে গুপ্তচর বিভাগের প্রধান করা হয়। মুযাফফারনামাহর লেখক করম আলী উত্তরবঙ্গের চাকলা ঘোড়াঘাটের ফৌজদারি লাভ করেন। নবাবের পুরনো দিওয়ান বিরু দত্ত এসময়ে মারা গেলে রাজা কিরাতচাঁদ তার স্থলাভিষিক্ত হন, আর তার সহকারী হিসেবে আসেন উমিদ রায়। কিরাতচাঁদ ছিলেন বিখ্যাত কর্মকর্তা রায়রায়ান আলমচাঁদের ছেলে। পাটনায় জৈনুদ্দিনের দপ্তরে দিওয়ান হিসেবে কাজ করার সময়ে বেশ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন তিনি, আর জৈনুদ্দিনের মৃত্যুর পর আতাউল্লাহ খান রাজমহলে নিযুক্ত হন। বাংলা থেকে আলীবর্দীর নির্দেশে আতাউল্লাহ খান যখন অযোধ্যার দিকে যান, তখন কিরাতচাঁদ বারাণসী পর্যন্ত তার সঙ্গে থাকার পর তাকে ত্যাগ করেন। তাকে তখন আলীবর্দী মুর্শিদাবাদে ডেকে পাঠান ও উপরে উল্লেখ করা দপ্তরের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। দপ্তরের কিছু কাগজপত্র নিরীক্ষা করে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলার অনেক জমিদার- ধনাঢ্য ব্যক্তিদের রাজকোষে অর্থ-সংক্রান্ত ব্যাপারে এক কোটি কয়েক লক্ষ রুপির গোঁজামিলের অকাট্য প্রমাণ বের করেন, এর মধ্যে জগৎ শেঠ, মাহতাবচাঁদ, তিলকচাঁদ ও বর্ধমানের মহারাজাও ছিলেন। পুরো অর্থ উদ্ধার করার পাশাপাশি কিরাতচাঁদ তার মৃত্যুর আগে দুবছর পূর্ণ ক্ষমতা ও কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে করেন, তার মৃত্যুর পর তারই সহকারী উমিদ রায়কে রায়রায়ান উপাধি দিয়ে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। ১৭৫২ সালে বিহারের সহকারী প্রশাসক রাজা জানকিরামের মৃত্যুর পর তার জায়গায় বসানো হয় তার দিওয়ান রামনারায়ণকে। রাজা জানকিরামের ছেলে দুর্লভরাম তার বাবার জীবদ্দশাতেই নবাব সরকারের সেনাবিভাগে সহকারী দিওয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন, আর এসময়ে তিনি সেই দপ্তরেরই দিওয়ান নিযুক্ত হন আর রামনারায়ণ তাকে তার উকিল হিসেবে মুর্শিদাবাদের দরবারে নিয়োজিত করেন।

    রামনারায়ণের প্রাথমিক কর্মজীবন

    বিহারের শাহাবাদ জেলার সাসারাম পরগণা নিবাসী রঙ্গলাল নামের এক শ্রীবাস্তব কায়স্থের ছেলে ছিলেন রামলাল। ইউসুফ আলী বা গোলাম হুসাইন কেউই আলীবর্দীর সঙ্গে রঙ্গলালের সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলেননি। করম আলী ও কল্যাণ সিং একজন রঙ্গলালের উল্লেখ করেছেন যিনি গিরিয়ার ময়দানে গাউস খানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, কিন্তু এই দুই রঙ্গলাল এক কি না সে-ব্যাপারে কোনো উল্লেখ নেই। আমরা যদিও অন্য সূত্র থেকে জানি, রামলালের বাবা রঙ্গলাল আলীবর্দীর একজন দিওয়ান ছিলেন, সম্ভবত আলীবর্দী যখন বিহারের সহকারী প্রশাসক ছিলেন তখন থেকেই। যাই হোক. রামনারায়ণের বাবা আলীবর্দীর অধীনে কাজ করেছেন ও তিনি নিজেও শুরু থেকে আলীবর্দীর পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছেন, রামনারায়ণের চিঠি থেকেও স্পষ্ট এটা, কারণ তিনি সেখানে নিজেকে উল্লেখ করেছেন  বংশানুক্রমিক ভৃত্য ( আলীবর্দীর) ,  ভৃত্যের সন্তান ,  যাকে আপনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ও নবাবের (হাইবাত খান) হত্যাকারী  হিসেবে। রামনারায়ণ তার কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বিহারে একজন কেরানি হিসেবে মাসিক পাঁচ রুপির বিনিময়ে। এরপর ইতিহাস-লেখক গোলাম হোসেনের বাবা হিদায়াত আলীর সহায়তায় জৈনুদ্দিন বিহারের সহকারী প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পরপরই রামনারায়ণ তার খাসনবিশ বা ব্যক্তিগত সচিবে পরিণত হন।  ১৭৪৫ সালে তিনি জৈনুদ্দিনের পক্ষে মুস্তাফা খানের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। তিনি ধীরে ধীরে ফার্সি ও আরবি ভাষায়ও দক্ষতা অর্জন করেন, আর ইস্পাহানের ফার্সি ও উর্দু ভাষার বিখ্যাত কবি শেখ আলী হাজিন পাটনায় এলে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করে এ দু-ভাষায় কবিতাও লিখতে শুরু করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনিক দক্ষতা ও সক্ষমতাও অর্জন করেন, ফলে জানকিরামের সময়ে তিনি দিওয়ান পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন। বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বাঙালি সহকারী প্রশাসকের সঙ্গে বিহারি দিওয়ানের, যিনি বেশকিছু চিঠিতে ঋণ স্বীকার করেছেন তার প্রভুর কাছে, আর তার সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সন্তোষজনকভাবে দৃঢ় করতে সহায়তা করেন। এভাবেই তিনি বিহারের সহকারী প্রশাসক হিসেবে তার পৃষ্ঠপোষকের জায়গায় যোগ্য হয়ে ওঠেন। আর্থিক ব্যাপারে দক্ষ, আর একজন কুশলী রাজনীতিবিদ হিসেবে রামনারায়ণ দক্ষতার সঙ্গে আলীবর্দীর লক্ষ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিহার শাসন করেন। তিনি নবাবকে নিয়মিত প্রতিটি প্রশাসনিক ব্যাপারের খুঁটিনাটি জানাতে থাকতেন আর তার আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। তিনি নিয়মিত কর সংগ্রহের আয়োজন করতেন, নিবিড়ভাবে ছত্রধারী সিং, উদ্যন্ত সিং উজ্জয়ন ও শাহাবাদের পালোয়ান সিং, সামাই ও নারহাটের কামগার খান মাইয়ি টিকারির সুন্দর সিংয়ের মতো বিহারের ক্ষমতাবান জমিদারদের গতিবিধি পর্যক্ষেণ করতেন, আর তাদের বাধ্য করতেন বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করতে। তিনি দিল্লি ও আওধের (অযোধ্যা) দরবারের ঘটনাবলির দিকে নজর রাখতেন চতুরতার সঙ্গে সাতজন হরকরার (চর) মাধ্যমে।

    আলীবর্দীর পরিবারের সদস্য একরামুদ্দৌলার মৃত্যু

    বিহারে এধরনের সক্ষম সহকারী প্রশাসক আলীবর্দীর জন্য বেশ মূল্যবান সম্পদ ছিল। কিন্তু তখন ৭৬ বছর বয়সি নবাবের কপালে শান্তিপূর্ণ শাসন লেখা ছিল না। তার শেষদিনগুলো বেশ অসুখী কেটেছিল তারই পরিবারের সদস্যদের কিছু অপরিণত সাহসিকতায়। সিরাজ-উদ-দৌলার ছোটভাই একরামুদ্দৌলা যত্নের সঙ্গে নিঃসন্তান শাহামাত জংয়ের পালিত পুত্র হিসেবে বেড়ে ওঠার পর ১৭৫২ সালে মারা গিয়েছিলেন গুটি-বসন্তে। এটা কেবল শাহামাত জং নয়, গোটা আলীবর্দী- পরিবারের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। এমনকি গোলাম হোসেনও উল্লেখ করেছেন, নবাবের পরিবার ঐশী শাস্তি ভোগ করেছেন পরাজিত নবাব সারফারাজের হারেমের মহিলাদের সঙ্গে হাজী আহমাদের অপমানজনক ব্যবহারের, ভাইয়ের মৌন সম্মতিতে। একরামুদ্দৌলার মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত শাহামাত জং শোথরোগে মৃত্যুবরণ করেন ১৭ ডিসেম্বর, ১৭৫৫ তারিখে।

    শাহামাত জং

    তার মৃতদেহ মতিঝিল বা মুক্তোর হ্রদে নিয়ে যাওয়া হয়, যেটা তিনি খনন করে সাজিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদ প্রাসাদের দেড় মাইল দক্ষিণ-পূর্বে, আর তারই নির্দেশে তৈরি মসজিদের উঠোনে একরামুদ্দৌলার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছিল। তার মৃত্যুতে অনেকেই শোকাক্রান্ত হয়েছিলেন, কারণ তিনি ছিলেন উদার মনের ও দানশীল। ব্যক্তিগত নৈতিকতার ঘাটতি থাকলেও তার দয়ালু হৃদয় ছিল, যা দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্তদের জন্য আর্দ্র ছিল। গোলাম হোসেন তার বহু দানশীলতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন তিনি প্রতিমাসে আত্মীয়-অনাত্মীয় নির্বিশেষে সকল বৃদ্ধ ও অক্ষম লোকেদের জন্য প্রায় ৩৭ হাজার টাকার ভাতা বরাদ্দ তো করেছিলেনই, এছাড়াও মুর্শিদাবাদে এমন বিধবা ও অনাথ খুব কমই আছে যারা কোনো-না-কোনোভাবে তার থেকে উপকৃত হয়নি।

    এবং সাওলাত জং

    আলীবর্দীর শোক আরও বেড়ে যায় সাওলাত জং ১৭৫৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তার ভাইয়ের অনুবর্তী হলে, আর তাকে সমাহিত করা হয় পূর্ণিয়ার এক মনোরম বাগান জাফরি বাগে। সাওলাত জং পুরো সাতবছর (১৭৪৯-৫৬) পূর্ণিয়ার প্রশাসনে ছিলেন সবার প্রতি সমভাবাপন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ দিয়ে প্রজাদের উন্নয়নে, ফলে সমাজের উঁচু-নিচু সকলেই শান্ত ছিল তার সরকারের অধীনে। তার মৃত্যুর পর পূর্ণিয়ার শাসনভার চলে আসে তার ছেলে শওকত জংয়ের হাতে, যিনি ছিলেন উচ্চাভিলাষী ও উড়নচণ্ডী স্বভাবের।

    আলীবর্দীর শোথরোগ

    এই দুর্যোগগুলো বৃদ্ধ নবাবের মনে ভয়াবহ বিষণ্নতা তৈরি করে আর তার শরীরেও সেটার প্রভাব পড়তে থাকে। তিনি শোথরোগে আক্রান্ত হন ১৭৫৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তারিখে, আর ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে তাকে জলপান থেকে বিরত রেখে ও খাবারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। এরপর তাকে প্রথাগত চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু হাকিম হাজী খান ও কাশিমবাজার কুঠির সার্জন ডাক্তার ফোর্থের মতো সেরা সব চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টায়ও তিনি স্বস্তি পেলেন না। তিনি যখন বুঝলেন তার শেষ ঘনিয়ে এসেছে, তখন সিরাজ-উদ-দৌলাকে তলব করে আনিয়ে বললেন :  প্রিয়! বার্ধক্যের দুর্বলতার জায়গায় এখন তারুণ্যের শক্তির জায়গা করে নেওয়ার পালা আর মৃত্যুও সন্নিকটে। আল্লাহর কৃপায় আমি তোমার জন্য একটি সম্পদশালী এলাকা তৈরি করেছি। তোমার কাছে আমার শেষ উপদেশ, তোমার শত্রুদের দমন করবে ও বন্ধুদের তুলে ধরবে, আর নিজেকে নিয়োজিত করবে জনগণের অবস্থার উন্নতিতে এবং অত্যাচার ও বিশৃঙ্খলা দমনে। রাজ্যের সমৃদ্ধি নির্ভর করে একতা ও সহযোগিতার উপর আর ঝগড়া-বিবাদ তা নষ্ট করে; তোমার সরকার স্থিতিশীল হবে যদি জনগণের উন্নয়নের উপর তার ভিত্তি স্থাপন করা হয়। আমার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে যেন তোমার জীবদ্দশায় শত্রুরা কোনো ক্ষতি করতে না পারে। কিন্তু তুমি যদি বিদ্বেষ ও শত্রুতা বেছে নাও তাহলে সমৃদ্ধির উদ্যান শুকিয়ে যাবে ।

    মৃত্যু

    নবাবের অসুস্থতা তার জীবনের জন্য প্রাণনাশী হিসেবেই দেখা যায়। তিনি ৮০ বছর বয়সে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল, ভোর পাঁচটায়। তাকে দাফন করা হয় মতিঝিলের ঠিক উল্টোদিকে, ভাগীরথীর পশ্চিমতীরে খোশবাগে মায়ের কবরের নিচে।

    আলীবর্দীর ব্যক্তিজীবন, উচ্চমানের আদর্শের পরিচায়ক

    ব্যক্তিগত জীবনে আলীবর্দী ছিলেন উচ্চমানের আদর্শের ধারক। প্রারম্ভিক প্রতিকূলতার পাঠ আচারনিষ্ঠতার ছাঁচে তার মেজাজ গড়া ছিল, আর যুবক বয়স থেকেই তিনি ভোগবিলাস আর পানাসক্তি থেকে দূরে ছিলেন। ওম তার সম্পর্কে সঠিকভাবেই বলেছেন যে,  তার ব্যক্তিজীবন ইন্দোস্তানের অন্য মুসলিম রাজাদের থেকে ভিন্ন ছিল; তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল, প্রমোদ-বিলাসহীন, হারেম রাখেননি কোনো, আর সবসময় এক স্ত্রীর সঙ্গেই ছিলেন। ১ তার গান-বাজনা ও নর্তকীতে আগ্রহ ছিল না আর নিজের পরিবারের বাইরের মহিলাদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলতেন। তিনি নারীদের প্রতি প্রচণ্ড শ্রদ্ধাশীল ছিলেন তা প্রমাণিত হয় তার চরম বিরোধী শামশির খানের বিধবা স্ত্রী ও মেয়ের প্রতি তার উদার ও দয়ালু আচরণে, আর মারাঠা শিবিরে তাকে ছেড়ে যাওয়া মীর হাবিবের পরিবারের নারীদের সেখান থেকে সম্মানের সঙ্গে মুর্শিদাবাদে প্রেরণ করা হয়। তিনি মনেপ্রাণে ধার্মিক ছিলেন আর সৃষ্টিকর্তার প্রতি ছিল তার অগাধ আস্থা। শত্রুর সঙ্গে বিভিন্ন লড়াইয়ের প্রতিকূল মুহূর্তেও তিনি ঈশ্বরের সহায়তা চাইতেন আর এভাবেই তিনি উৎসাহ পেতেন প্রবল বিক্রমে লড়াইয়ের।

    তার প্রাত্যহিক অভ্যেস

    নিত্যদিনের কাজে আলীবর্দীর কিছু অভ্যেস ছিল, আর সেভাবেই তিনি প্রতিদিনের সময় ভাগ করে রাখতেন যেন প্রতিটি দায়িত্ব তিনি পালন করতে পারেন। তিনি সূর্যোদয়ের দুঘণ্টা আগে বিছানা ছাড়তেন, প্রাতঃকৃত্য শেষে অজু করে প্রার্থনায় বসতেন। সকালের প্রার্থনাশেষে নির্দিষ্ট কিছু বন্ধুর সঙ্গে কফি পান করতেন। সকাল সাতটায় তিনি দরবারে আসতেন ও প্রশাসনিক ব্যাপারগুলোর দেখভাল করতেন। এরপর তিনি প্রধান নাগরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সমস্যাগুলো শুনতেন ও সমাধা করতেন। দুঘণ্টা পর তিনি তার খাস কামরায় চলে যেতেন যেখানে শাহামাত জং, সাওলাত জং ও সিরাজ-উদ-দৌলার মতো তার কিছু কাছের বন্ধু ও আত্মীয়রা সঙ্গ দিতেন। সেখানে তিনি পুরো একঘণ্টা সময় কাটাতেন, কবিতা ও গল্প শুনতেন। তিনি ভালো ও সুস্বাদু খাবার পছন্দ করতেন। মাঝেমধ্যে তিনি নিজেই রান্নার ব্যাপার তদারকি করতেন, আর খানসামাদের নতুন সব রান্নার প্রক্রিয়া চেষ্টা করে দেখতে বলতেন। তিনি প্রচুর মেহমান ছাড়া দুপুরের খাবার খেতে বসতেন না। খাওয়ার পর তিনি গল্প-কথকদের সান্নিধ্য উপভোগ করতেন আর তারপর প্রহরীদের প্রহরায় খানিক দিবানিদ্রা। বেলা একটায় উঠে দুপুরের নামাজ পড়তেন, তারপর বিকেলে নামাজের আগে পর্যন্ত কাটাতেন কোরআন শরিফ পড়ে। পানি খেতেন বরফ বা শোরা দিয়ে ঠাণ্ডা করে, অবশ্য সেটা মৌসুম অনুযায়ী। এরপর তার সামনে আসতেন ধার্মিক ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা, যাদের তিনি সম্মানের সঙ্গে অভ্যর্থনা জানাতেন। এই লোকগুলো চলে যাওয়ার পর তিনি আবারো ঘণ্টাদুয়েক সরকারি কাজে মগ্ন থাকতেন। রাতের আগমন হলে তিনি নামাজ পড়তেন, এরপর তার বেগম, সিরাজ-উদ-দৌলার বেগম ও তার পরিবারের অন্য নারীরা তার সামনে আসতেন। রাতের খাবারে তিনি কেবল কিছু ফল আর মিষ্টান্ন খেতেন এই মহিলাদের সঙ্গে। এরপর তিনি বিছানায় যেতেন, গল্প-কথক তাকে গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়াতেন, আর প্রহরীরা সারারাত সতর্ক হয়ে তাকে পাহারা দিত।

    আত্মীয়, কর্মকর্তা ও অন্যদের প্রতি তার দয়াশীলতা

    আলীবর্দী তার আত্মীয়, কর্মকর্তা ও সাধারণ ভূত্যের প্রতিও দয়াশীল ছিলেন, আর প্রায়ই তাদের অঢেল পুরস্কার দিতেন। তার মনে বিধবা, শিশুদের জন্য কোমল স্থান ছিল আর দিল্লিতে শুরুর দুর্যোগপূর্ণ দিনগুলোতে তাকে সাহায্য করা দিল্লির আত্মীয়স্বজনদেরও তিনি তার আনুকূল্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, হয় অর্থ দিয়ে নাহয় তার সরকারে উঁচুপদে অধিষ্ঠিত করে।

    তার চারিত্রিক ত্রুটি

    কিন্তু তার চরিত্রকে ঠিক নিখুঁত বলা যায় না সবদিক বিচার করে। জিন ল তাকে সঠিক মূল্যায়ন করেছেন,  তিনি ছিলেন প্রতারক ও সর্বোচ্চমাত্রায় উচ্চাভিলাষী । তার নির্দেশে বিহারের সহকারী প্রশাসক আবদুল করিম খান রুহেলাকে বিশ্বাসঘাতকতা করে হত্যা করা হয়, সারফারাজের প্রতি তার কৃতকর্ম সবচেয়ে অকৃতজ্ঞতার নিদর্শন, আর যেভাবে তিনি ভাস্কর ও তার অনুসারীদের উপর তাণ্ডব চালিয়েছিলেন ভাগীরথী তীরের মানকারায় সেগুলোর পেছনে যুক্তি দাঁড় করানো খুবই ঘৃণ্যতম কাজ হবে। তার কর্মজীবন আমাদের সামনে তার ব্যক্তিগত শাসনব্যবস্থার দুর্বলতাই তুলে ধরে অনেকটা রাজা ডেভিড আর তৃতীয় এডওয়ার্ডের মতোই, শেষজীবনে তিনি ভীমরতির ভেতরেই পড়েছিলেন, যে-কারণে তিনি তার বখে যাওয়া নাতি সিরাজকে তার উত্তরাধিকার নির্বাচন করে যান। হেনরি বেভারিজ বলেছেন,  ছোট পর্যায়ে এই ভুলকে তুলনা করা যেতে পারে মা(র)কাস অরিলিয়াসের কর্মকাণ্ডের খারাপ পরিণতির সঙ্গে, যখন তিনি রোমের ভাগ্য ছেড়ে দেন কমোডাসের দয়ার উপর। মা(র)কাস অরিলিয়াস কমোডাসের ত্রুটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না, তাই তারটা মেনে নেওয়া গেলেও আলীবর্দীর ব্যাপারটা মেনে নেওয়া কষ্টকর, কারণ তিনি তার নাতির দোষগুলো জানতেন।

    আলীবর্দীর প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা, পশুর লড়াই দেখা আর শিকার

    ঘোড়া, কুকুর আর বিড়ালসহ নানা ধরনের প্রাণী পালতে পছন্দ করতেন আলীবর্দী, আর ভালোবাসতেন পশুর লড়াই দেখতে আর শিকারে যেতে। ১৭৪৬ সালের ১১ জানুয়ারি সুরাটের ফরাসি প্রধান লে ভার্নিয়েরের কাছে চন্দননগরের (চান্দেরনাগোর ) ফ্রেঞ্চ কাউন্সিলের লেখা চিঠিতে রয়েছে :  নবাব অনেকদিন ধরেই আমাদের অনুরোধ করছেন পারস্য বেড়ালের (পার্সিয়ান ক্যাট) জন্য। আপনি কি পারেন না মে মাসে আপনার এলাকা থেকে গঙ্গার দিকে ছেড়ে আসা আর্মেনীয় জাহাজগুলোকে দুটো বিড়াল পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলতে? তিনি সাদা রঙের পুরুষ বিড়াল চেয়েছেন। ১৫৭ ১৭৪৯ সালে কলকাতার ইংরেজরা তাকে আরবীয় ঘোড়া দিয়ে খুশি করতে চেয়েছিল, আর ১৭৫৪ সালে তারা একটি পারসিক বিড়ালও তাকে উপহার দিয়েছিল, যেন তার দরবার  বন্ধুত্বের আড়ালে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করে  কোম্পানির বাণিজ্য। মৃগয়ার জন্য নবাব শীতের মৌসুমে রাজমহলের পাহাড় আর জঙ্গলে যেতেন, ফিরতেন প্রচুর মৃত বাঘ আর হরিণ নিয়ে। সেখানে তিনি সকালবেলায় বন্যপ্রাণীর পিছু ছুটতেন আর বিকেলে তিনি দাক্ষিণাত্যের মোরগ ও হাতির লড়াই দেখতেন। তার ভাতিজা সাওলাত জং প্রায়ই পূর্ণিয়া থেকে তার এই শিকার অভিযানে অংশ নিতে আসতেন আর তার সঙ্গে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত চলে আসতেন।

    রণাঙ্গনে বীরত্ব

    নবাব ছিলেন সাহসী, নতুন সব ব্যাপারে আগ্রহী আর বীরযোদ্ধা। জিন ল লিখেছেন,  তিনি জানতেন, কীভাবে একটি সেনাদলকে নেতৃত্ব দিতে হয় । গোলাম হোসেন উল্লেখ করেছেন,  সেনাপতিত্বে তার সময়ে আসাফ ঝা নিজাম- উল-মুল্ক ছাড়া তার সমকক্ষ আর কেউ ছিলেন না। তার মারাঠা ও আফগানদের বিরুদ্ধে অভিযান যুদ্ধক্ষেত্রে তার অসাধারণ বীরত্ব, কৌশল আর দূরদর্শিতার পরিচায়ক।

    শিল্প-সাহিত্যে তার পৃষ্ঠপোষকতা

    নাচ-গানে আগ্রহ না থাকলেও, অবসর কাটানোর জন্য আলীবর্দীর অন্য আনন্দ ও বিনোদনের ব্যবস্থা ছিল। তিনি অনেক চারু ও কারু শিল্প, আর শারীরিক কসরতের সমঝদার ছিলেন আর যারা এগুলোর সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের উঁচু চোখেই দেখতেন অবসর সময়ে তিনি প্রায়ই ধর্ম ও ইতিহাসের বই পড়তেন, আর জ্ঞানী ও বিদ্বানদের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। বিশিষ্ট আলেমদের একটি দল তার দরবারে বেড়ে উঠেছিল, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন- মৌলভী নাসির আলী খান, তার ছেলে দাউদ আলী খান, যাইর হুসাইন খান, মীর মুহাম্মাদ আলিম, মৌলভী মুহাম্মাদ আরিফ, মীর রুস্তম আলী, শাহ মুহাম্মাদ আমিন, শাহ আদম, হায়াত বেগ, শেখ খিজুর, সৈয়দ মীর মুহাম্মাদ সাজ্জাদ, সিয়ারের রচয়িতা গোলাম হোসেনের দাদা সৈয়দ আলিমুল্লাহ, গোলাম হোসেনের দাদার মামা শাহ হায়দারি ও কাজী গোলাম মুযাফফার, যাকে আলীবর্দী স্বয়ং মুর্শিদাবাদের সর্বোচ্চ বিচারকের দপ্তরে উন্নীত করেছিলেন।

    আলীবর্দীর প্রশাসনের প্রকৃতি

    গোলাম হোসেন আর করম আলী দুজনেই আলীবর্দীর প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে প্রসংশাসূচক শব্দে ভরিয়ে তুলেছেন। গোলাম হোসেন এমনকি এটাও বলেছেন যে এসময়টা ছিল ক্ষমাশীলতার আর নবাব বেশ যত্নের সঙ্গে তার প্রজাদের সুযোগ- সুবিধা আর উন্নয়নে মনোনিবেশ করেছিলেন, বিশেষ করে কৃষকদের যেন তারা মনে করে তারা রয়েছে বাবার পায়ের কাছে বা মায়ের বাহুডোরে। এই লেখকদ্বয়ের অতিবচনের কারণ তারা বিভিন্নভাবেই আলীবর্দীর কাছে ঋণী ছিলেন। তবে ইতিহাসের একনিষ্ঠ ছাত্র হিসেবে বলতেই হয় যে তিনি ছিলেন কুশলী ও শক্ত প্রকৃতির প্রশাসক, যিনি মনন ও শক্তিমত্তা একীভূত করার চেষ্টা করেছিলেন তার প্রশাসনের প্রতিটি শাখায় আর শাসকদের স্বার্থ বজায় রেখেছিলেন।

    আলীবর্দীর নীতি ও ১৭৫১ সালের পর নেওয়া ব্যবস্থা

    আলীবর্দীর শাসনের প্রথম ১১ বছর ছিল ঝড় ও চাপের, যে-সময়টায় তিনি ব্যস্ত ছিলেন শত্রু প্রতিরোধে আর বাংলার বৈষয়িক স্বার্থের জন্য তেমন কিছুই তিনি করতে পারেননি। কিন্তু ১৭৫১ সালের মে বা জুন মাসে মারাঠাদের সঙ্গে সন্ধি হলে তিনি দীর্ঘকাল ধরে চলা যুদ্ধের তাণ্ডবের ফলে সৃষ্ট ক্ষত নিরসনে পুনর্গঠন উদ্যোগের গুরুত্ব বুঝতে দেরি করেননি। তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেন  ন্যায় বিচার ও উদ্দীপনার ভেতর দিয়ে তার প্রজাদের মধ্যে স্থিরতা আনতে, আর এরপরে তা থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি । তিনি সমস্ত মনোযোগ মারাঠাদের কারণে বিরান হয়ে পড়া বা তাদের আগমনী সংবাদে খালি হয়ে যাওয়া শহর ও গ্রামগুলোকে পুনর্গঠন আর পুনরুদ্ধারে গিয়েছিলেন, আর কৃষিজীবীদের আবারও তাদের জমিতে চাষ শুরু করার উৎসাহ দেন। এভাবে, একজন জ্ঞানী ও উপকারী শাসক হিসেবে, গ্রামগুলোর উন্নয়ন নিশ্চিত করেন আর ভারতীয় উপমহাদেশের মতো এলাকায় উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে স্বীকৃত কৃষির উন্নয়ন করেন, আর সেটা প্রশাসনিক পুনর্গঠনের প্রকল্পেও সবার উপরে স্থান পেয়েছিল।

    নবাব সরকারের রাজস্ব আদায়ের ধরন মোটেও এলোমেলো ছিল না। সেসময়ের সাধারণ রাজস্ব অনুসারে নবাব তার প্রদেশের জমিদারদের উপর মালগুজারি (রাজস্ব মূল্যায়ন) করেছিলেন  মধ্যমপন্থি শর্তে। এই জমিদারেরা তাদের এলাকার প্রতি স্বাভাবিক আগ্রহের কারণেই রায়তদের (কৃষকদের থেকে ফসল-সংগ্রহকারী) অতি উচ্চহারে ভাড়া দিতেন না, কিন্তু, প্রয়োজন পড়লে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভাড়া দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন, এমনকি কখনও তারা নিজেদের কাছ থেকেই ধার করে সময়মতো তাদের মালগুজারি নবাব সরকারের কাছে জমা দিতেন। প্রতি জেলাতেই শ্রফ (যারা অর্থ ধার দিত বা ব্যাংকার) শ্রেণির লোকেরা ছিলেন যারা  প্রয়োজনমতো জমিদারদের অর্থ ধার দিতে প্রস্তুত থাকতেন, এমনকি রায়তদেরও দিতেন জমি চাষের জন্য, নইলে হয়তো সেটা পতিতই থাকত । এভাবে কৃষি অর্থের জন্য কখনোই বাধাগ্রস্ত হয়নি, কেবল মারাঠা আর মগদের আক্রমণের সময় ছাড়া। এক্ষেত্রে এটা বলতেই হয় যে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাহীনতা বাংলার কৃষিকেও প্রভাবান্বিত করেছিল, যেমনটা শিল্পের ক্ষেত্রেও হয়েছিল।

    আলীবর্দীর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ

    নবাব জোরজবরদস্তি করে জনসাধারণের থেকে কখনও অর্থ নেননি; কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটের জরুরি সময়ে, প্রথম ১১ বছরে আদায় করা রাজস্বের পরিমাণ ধারণার থেকেও কম হচ্ছিল, তখন তাকে প্রায়ই  অনিয়মিত সহায়তা নিতে হত ইউরোপীয় বণিকদের থেকে, আর রাজশাহীর রাজা রামকান্ত, দিনাজপুরের রাজা রাম নাথ আর গঙ্গার পূর্বদিকে মারাঠা তাণ্ডব থেকে প্রায় মুক্ত থাকা এলাকা নদীয়ার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের মতো প্রভাবশালী জমিদারেরাও এই  অনিয়মিত সহযোগিতা  করতেন। ১৭৫১ সালের পর, তিনি মুর্শিদ কুলি জাফর খান ও সুজাউদ্দিনের মতো আবওয়াব আরোপ করেছিলেন, যা ছিল জমিদারদের উপর সাধারণ মূল্যায়নের চেয়ে অতিরিক্ত আরোপিত কর। তার সময়ে আদায়কৃত আবওয়াবের মোট পরিমাণ ছিল ২২ লক্ষ ২৫ হাজার ৫৫৪ রুপি। শোর বলেছেন এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় সাধারণ মানুষের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়নি, কারণ  সেসময়ে দেশের সম্পদ এই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার মতো সক্ষম ছিল । কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে এই অর্থ গ্রহণযোগ্য ছিল বলেই মনে হয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের চাহিদার তুলনায়, যা আলোচ্য সময়ে বাংলা ও বিহারের সক্ষমতার বাইরে ছিল। এছাড়াও আগেই বলা হয়েছে কৃষিকে উৎসাহ দেওয়া হলেও, এই খাতের অবস্থা বিভিন্ন কারণে সন্তোষজনক পরিস্থিতির ধারেকাছেও ছিল না। যে-কোনোভাবেই এর অন্তর্নিহিত মূলনীতি ক্ষতিকর ছিল, আর ভবিষ্যতে এর বৃদ্ধি দেশের স্বার্থে বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল। ১৭৮৯ সালের ১৮ জুন শোর নিজে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে,  রায়ত ও জমিদার – সবার জন্যই এই আরোপ করার ধরন মৌলিকভাবেই ধ্বংসাত্মক ছিল; আর সরাসরি জমিদারদের জোরপূর্বক অর্থ আদায়ে বাধ্য করত ও সবাই জালিয়াতি, লুকোচুরি আর দিনশেষে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়তেন ।

    আলীবর্দীর অধীনে হিন্দু কর্মকর্তা

    আলীবর্দীর সরকারের পেছনে সক্ষম হিন্দু কর্মকর্তাদের উদ্যোগী কর্মকাণ্ডেরও ভূমিকা ছিল। তাদের মধ্যে জানকিরাম, দুর্লভরাম, দর্পনারায়ণ, রামনারায়ণ, কিরাতচাঁদ, উমিদ রায়, বীরু দত্ত, রামরাম সিং ও গোকূলচাঁদ অন্যতম। ওম জনপ্রশাসনে আলীবর্দীর হিন্দু কর্মকর্তাদের প্রভাব সঠিকভাবেই ধরতে পেরেছিলেন, কিন্তু তিনি ভুল করেছিলেন এই ভেবে যে তারা নবাবের সামরিক বাহিনীর উপর প্রভাববলয় বিস্তার করতে পারেননি। গোলাম হোসেনের লেখনি থেকে জানতে পারি নবাব তাদের মধ্যে কয়েকজনকে সাতহাজারি মসনবের সম্মান দিয়েছিলেন আর প্রচুর হিন্দুকে তার সরকারের সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আসীন করেছিলেন। ফতেহ রাও, ছেদন হাজারিসহ আরও কিছু হিন্দু সেনাপতি ৫০ হাজার বন্দুকবাজ (মাস্কেটিয়ার) নিয়ে আলীবর্দীকে উড়িষ্যা অভিযানে সহায়তা করেছিলেন; জাসওয়ান্ত নাগোর, কিরাতচাঁদ, রামনারায়ণ ও আরও কিছু হিন্দু অধিনায়ক তার পক্ষে মুস্তাফা খানের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন।

    হিন্দুদের সহায়তা– আলীবর্দীর কর্মজীবনে প্ৰধানতম শক্তি

    আলীবর্দীর জীবনে সত্যিকার অর্থেই হিন্দুদের সহযোগিতা প্রধানতম বিষয় ছিল। আলমচাদ ও ফতেহচাঁদ জগৎ শেঠরা ছিলেন ১৭৩৯-৪০ সালের ষড়যন্ত্রে অন্যতম অংশগ্রহণকারী, যার ফলে তিনি বাংলা সরকার দখল করতে সক্ষম হন। মুর্শিদাবাদের অমিচাঁদ ও অন্য শেঠরা আর অন্য শীর্ষস্থানীয় হিন্দু ব্যবসায়ীদের মতো লোকেরা তার সঙ্গেই ছিলেন পুরোটা সময়। বাংলার হিন্দুদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা আদায় করে নেওয়া আলীবর্দীর পক্ষ থেকে বেশ কার্যকর ও বুদ্ধিমত্তার নীতি ছিল, আর পরাজিত নবাব সারফারাজের অনুসারী, অসন্তুষ্ট আফগান সৈন্য আর মারাঠা আক্রমণকারীদের থেকে মসনদ রক্ষায় তাদের রাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ে আসীন করেছিলেন।

    হিন্দুদের ভেতরের অসন্তোষ

    এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে আলীবর্দীর সমঝোতার চেষ্টার পরও কিছু হিন্দু জমিদারদের ভেতর অসন্তোষ ছিল, যারা মনে করেছিল তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া বোঝা অনেক ভারী আর অন্যায্য ছিল। এই অসন্তোষ পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে তৎকালীন হিন্দু-লেখক ভারতচন্দ্রের কলমে, যিনি নদীয়ার জমিদার মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। বিদেশি পর্যবেক্ষক, কোম্পানির প্রধান প্রকৌশলী কর্নেল স্কট ১৭৫৪ সালে তার বন্ধু নোবেলকে লিখেছেন :  জেন্টু (ইউরোপীয়রা স্থানীয় হিন্দু অধিবাসীদের বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করত) রাজারা ও অধিবাসীরা মুর (মুহাম্মাদি বা মুসলিম) শাসকদের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিল আর গোপনে তাদের জোয়াল কাঁধ থেকে ফেলে দেওয়ার সুযোগ আর পরিবর্তন কামনা করত। যতক্ষণ পর্যন্ত আলীবর্দী শক্তহাতে ক্ষমতার লাগাম ধরে ছিলেন, এই ধিকিধিকি জ্বলতে-থাকা অসন্তোষ তারা প্রকাশ করতে পারেননি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক পদক্ষেপের ভেতর দিয়ে। কিন্তু এই আগুনে হাওয়া দেওয়া তার দুর্বল উত্তরসূরী সিরাজ-উদ-দৌলার ভুল ও খেয়ালি মনোভাব, আর তা দ্রুত বিস্তৃত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। কেবল অসন্তুষ্ট জমিদাররাই নন, আলীবর্দীর কিছু কট্টর সমর্থকও ১৭৫৭ সালের  মহা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় তারই নাতির বিরুদ্ধে

    নবাবির প্রতি তৎকালীন হিন্দু জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি

    বাংলার হিন্দু অভিজাতরা ও কর্মকর্তারা এরপর থেকে তাদের সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতি, আর নবাবির প্রতি তাদের মনোভাব আরও বিদ্বেষপূর্ণ হতে থাকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশাহজাদা দারাশুকো – কালিকারঞ্জন কানুনগো
    Next Article রঘুবংশ – কালিদাস
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }