Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আলো হাতে সেই মেয়েটি – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    তপন বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প228 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    স্বপ্নের রাজপ্র‌াসাদ

    দুপুরের ঠিক পরেই গোটা আকাশটা এমন মেঘময় হয়ে উঠল, এমন বিষণ্ণতার প্র‌তীক যে, ব্রতীনের মুখখানা ধারাপাতের পাঁচ। ছুটির বিকেল, তার উপর আকাশের ধমক, কোন আহাম্মকের বেরতে ইচ্ছে করে ঘরের নিরাপত্তা ছেড়ে! কিন্তু বেরতে হবেই। বিমলেন্দ্রদাকে কথা দেওয়া রয়েছে বিশাখাকে সঙ্গে করে তাঁর ফ্ল্যাটে যাবে আরও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে।

    গড়িয়া থেকে নিউটাউন দূরত্ব কম নয়, কিন্তু কলকাতার লেটেস্ট ক্রেজ আপাতত নিউটাউন, সেখানেই এখন গড়ে উঠছে যাবতীয় স্বপ্নের হাইরাইজ বিল্ডিং, সেখানে একটা ফ্ল্যাটের সন্ধান দিয়েছেন বিমলেন্দ্রদা। বিশাখা একেবারে পাগল হয়ে উঠেছে সেই ফ্ল্যাট কিনতে।

    অবশ্য ফ্ল্যাট দেখলেই যে পছন্দ হয়ে যাবে তা নয়। গড়িয়ায় একটা প্র‌শস্ত ফ্ল্যাটে তারা ভাড়াটে হিসেবে থাকে, ফ্ল্যাটের ভিতরটা যদিও বা পছন্দ বিশাখার, কিন্তু অপছন্দ অনেকগুলি কারণে। প্র‌থমত, ভাড়াতে হয়ে থাকাটাই তার কাছে অপমানের। দ্বিতীয়ত, লোকেশন। এই অ্যাপার্টমেন্টের ঠিক পিছনেই একটা মস্ত বস্তি, রাত দুপুর পর্যন্ত সেখান থেকে বিশ্রী ঝগড়াঝাঁটি আর মদ খেয়ে হইহল্লার আওয়াজে রাতের ঘুম বিঘ্নিত হয়। তৃতীয়ত, কাছাকাছি ভালো ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অভাব। বুম্বার এই থ্রি প্লাস, এখনই স্কুলে ভর্তি না করলেই নয়!

    অতএব গত তিনমাস ধরে প্র‌তি রবিবার নিয়ম করে সকালে ও বিকালে ফ্ল্যাট দেখাদেখি চলছে, একদিন সল্টলেকের ফ্ল্যাট দেখে এল তো পরেরটা বাইপাসে, তার পরেরটা ঢাকুরিয়ায় তো তার পরেরটা লেক টাউনে। কিন্তু তেত্রিশটা মেয়ে দেখার পর যেমন বিশাখাকে পছন্দ করেছিল ব্রতীন, তার বদলা হিসেবে এর মধ্যে তেইশটা ফ্ল্যাট দেখে ফেলেছে বিশাখা, একটাও পছন্দ হয়নি। যে-ফ্ল্যাটটা বিশাখার পছন্দ হয়, সেটা ব্রতীনের রেস্তয় কুলোয় না, যেটা তার নাগালের মধ্যে, সেটা দেখে বিশাখা আবিষ্কার করে একশো এক খুঁত।

    এতদিন পরে তাদের অফিসের বিমলেন্দ্রদা নিউটাউনে, তাঁদের ফ্ল্যাটের অদূরে একটা ফ্ল্যাটের সন্ধান দিয়েছেন সেটা যদি বিশাখার মনমতো হয়, তা হলে বোধহয় ব্রতীনের অফিস-লোনের আওতার মধ্যে হবে। নিউটাউন শুনেই তো লাফাচ্ছে বিশাখা।

    শেষ-বিকেলে দুটো অটো আর দুটো বাস বদলে যখন বিমলেন্দ্রদার নিউটাউনের ফ্ল্যাট খুঁজে পেল, তখন সাতটা বেজে গেছে। তার মধ্যে টিপ টিপ করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, ছাতা সঙ্গে ছিল বলে ভিজতে হল না ঠিকই, কিন্তু বিমলেন্দ্রদার ফ্ল্যাটের বেল টিপতে খুলে দিল তার দশ বছরের পুত্র রম্বস, গম্ভীর মুখে বলল, বাবা-মা কেউ ঘরে নেই।

    নেই! ব্রতীনের গলায় প্র‌ায় আর্তনাদ, কোথায় গেলেন?

    শপিং-এ।

    শপিং-এ? কতক্ষণ আগে? কখন ফেরার কথা?

    রম্বস ঠোঁট উল্টে বলল, কে জানে কখন ফিরবে? যাওয়ার সময় বলে গেল এক ঘণ্টার মধ্যে ফিরবে, হয়ে গেল তিন ঘণ্টা। মাকে সঙ্গে নিলে এরকমই হয়।

    ব্রতীন কব্জিতে চোখ রেখে একটু চিন্তিত হল। বাইরে তখন বৃষ্টির ফোঁটার আকার বেড়েছে, সঙ্গে ছাতা থাকলেও এখন ফেরা মুশকিল।

    রম্বস ঘরে একা আছে, অতএব অতিথি সামলানোর দায়িত্ব এখন বর্তেছে তারই উপর, বলল, তোমরা এখন সোফায় বসো, আমি টিভি দেখছি।

    টিভিটা খোলাই ছিল, রম্বস তার কর্তব্যকর্ম সেরে আবার বসে গেল টিভির স্ক্রিনের সামনে।

    ব্রতীন চোখোচোখি করে বিশাখার সঙ্গে, আকাশের মেঘখণ্ডগুলি এখন জমতে শুরু করেছে বিশাখার চোখেমুখে, যেন বিমলেন্দ্রদার শপিং করার অপরাধ এখন ব্রতীনেরই।

    ব্রতীন হিসেব করছিল বিমলেন্দ্রদার ফেরার সময়। রম্বসকে বলে গিয়েছিলেন এক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসবেন, এক ঘণ্টার জায়গায় দু ঘণ্টা পরে ফিরলেও এতক্ষণ ফ্ল্যাটে ফিরে আসার কথা, কিন্তু বৃষ্টির কারণেই বোধহয় আটকে গেছেন কোথাও।

    একবার মোবাইল অন করে বিমলেন্দ্রদাকে ফোন কল, ফোনটা অনেকক্ষণ ধরে বেজে বেজে নীরব হয়ে গেল আচমকা। ব্রতীনের মুখটা অন্ধকার। নিশ্চয় বিমলেন্দ্রদা এমন কোথাও আছেন, মোবাইলের আওয়াজ শুনতে পাননি!

    এই বৃষ্টিতে এখন বেরনোও মুশকিল। এখন তাঁদের ফ্ল্যাটে বসে কালক্ষেপ করা ছাড়া উপায়ম নাস্তি।

    সোফায় বসে কিছুক্ষণ মুখ গোমড়া করে থাকার পর বিশাখার নজর পড়ল সেন্টার টেবিলের উপর জিরোতে থাকা একটা খেলনা-বাক্সের উপর। বাক্সটা একপাশে রাখা, তার পাশে বাক্সের ভিতকার ছোটো বড়ো নানা ধরনের আর নানা রঙের কিউব আর রড সাজিয়ে একটা মডেল ফ্ল্যাট বানানো।

    বিশাখা কিছুক্ষণ ফ্ল্যাটটা গভীর চোখে নিরীক্ষণ করে বলল, রম্বস, তুমি বানিয়েছ ফ্ল্যাটটা?

    টিভির স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে মডেলটা একবার দেখে নিয়ে রম্বস বলল, হ্যাঁ। বানিয়েছি আমাদের এই ফ্ল্যাটটাই। কিন্তু আমার মোটেই পছন্দ নয়! বড্ড ছোটো।

    বিশাখা চকিতে ফ্ল্যাটের বাইরের ঘরটা দেখে নিয়ে বুঝতে চাইল মডেলটির কোন ঘরে তারা বসে আছে! বাকি ঘরগুলির অবস্থান ও আকার কীরকম! দেখে বুঝল রম্বসের কথাই ঠিক। দু-কামরার এই ফ্ল্যাটটিতে বাইরের এই ঘরটাই যা একটু বড়ো, বাকি ঘরটায় তেমন নড়াচড়ার জায়গা নেই।

    বিশাখা হঠাৎ স্বর নিচু করে ব্রতীনকে বলল, ফ্ল্যাট কেনার জন্য আমরা ঘুরছি, কিন্তু একটা নিজস্ব বাড়ি হলে বেশ হত, তাই না?

    তা তো হতই। কিন্তু ফ্ল্যাট তবুও পাওয়া সম্ভব। জমি পাওয়া দূর অস্ত।

    বিশাখার মাথার মধ্যে তখন ঘুরছে তার একটা স্বপ্নের বাড়ি। বিমলেন্দ্রদারা কখন ফিরবেন তার ঠিক নেই, হঠাৎ রম্বসকে বলল, তোমার এই কিউবগুলো দিয়ে আমি একটা বাড়ি বানাব?

    রম্বস টিভিতে ব্যস্ত, এদিকে মাথা ঘামানোর সময় নেই, বলল, তোমার যা ইচ্ছে!

    জানালাটা খোলা বলে কিছু বৃষ্টির ছাঁট এসে বিঁধছে গায়ে, ভিজে যাচ্ছে একটা সোফাও। রম্বস ছোটোমানুষ বলে ঠিক গ্র‌াহ্য করছে না, ব্রতীন উঠে জানালাটা ভেজিয়ে দিতে বিশাখা মনঃসংযোগ করল রঙিন কিউব আর রডগুলোর উপর।

    পুরনো ফ্ল্যাটটা ভেঙে গড়তে বসল একটা নতুন বাড়ি। ব্রতীনকে বলল, দাঁড়াও, বিমলেন্দ্রদাদের আসতে এখনও অনেক দেরি। ততক্ষণে আমরা একটা থ্রি-বেডরুমের বাড়ির পরিকল্পনা নিয়ে কিউব আর রডগুলো সাজিয়ে ফেলি পটাপট। বেশ অনেকটা জায়গা থাকবে বাড়িটায়।

    ঝকঝকে কিউবগুলো সাজিয়ে বিশাখা বাড়ি তৈরি করতে শুরু করল দ্রুত হাতে। সামনে একটা মস্ত বারান্দা। বলল, এখানে একটা বেতের টেবিল-চেয়ারের সেট থাকবে, সেখানে আমরা সকাল-সন্ধে চা খাব।

    ব্রতীন হাসি-হাসি মুখে দেখল বিশাখার ব্যস্ততা।

    বিশাখা বলল, বারান্দা পেরিয়ে ভিতরে ঢুকলে তিনটে বেডরুম। প্র‌তিটা ঘরের তিনটে দেওয়াল একই রঙের তো চতুর্থ দেওয়ালটা হবে অন্য রঙের। তবে লিভিংরুমই সবচেয়ে বড়ো করে করলাম যেখানে দিনের বেশিরভাগ সময়টাই কাটবে আমাদের।

    লিভিংরুমের তিনটে দেওয়াল অফ হোয়াইট করল তো চতুর্থ দেওয়াল গাঢ় ঘিয়ে রঙের। তার একদিকে ডাইনিং টেবিল, অন্যদিকে মস্ত সোফাসেট। বড়ো করে একটা বইয়ের র‍্যাক বানাল যার মধ্যে থাকবে দেশি-বিদেশি নানা বই।

    উল্টোদিকের সোফায় বসে ব্রতীন বেশ মনোযোগ দিয়ে দেখছিল বিশাখার ফ্ল্যাট তৈরি। কিন্তু এই মুহূর্তে কোনও কথা বলছিল না কেননা ব্রতীন জানে বিশাখা একটু বিরক্ত হয়ে আছে আজকের এত দূরের জার্নিটা মাঠে মারা গেল বলে।

    তবে বিশাখাকে এখন স্বপ্নে পেয়েছে, বলল, বলো, লিভিংরুম কীরকম তোমার পছন্দ?

    ব্রতীনকে অংশগ্র‌হণ করতেই হল, বলল, যেদিকে মুখ করে সোফায় বসব, সেই দেওয়ালে শুধু একটা প্র‌মাণ সাইজের ওয়ালপেপার থাকবে। এটা জলপ্র‌পাতের ছবি।

    বিশাখা লাফিয়ে উঠে বলল, ঠিক। কোনও একটা রেস্তরাঁয় এরকম দেখেছিলাম। নীল জল ঝাঁপিয়ে পড়ছে অনেকটা নীচে। স্বপ্নের মতো লাগছিল সেই ঘরটা।

    লিভিংরুম শেষ করে বিশাখা তখন হাত দিয়েছে বড়ো বেডরুমটায়। এটাও বেশ প্র‌শস্ত করে তৈরি করছে যাতে বড়ো একটা খাট রেখেও তার চারদিকে জায়গা থাকে অনেকটা। তার তিনটে দেওয়াল হালকা নীল রং করল তো চতুর্থ দেওয়ালটা গাঢ় সমুদ্র রঙের। ঘরের ভিতর কোথায় আলমারি থাকবে, কোথায় ওয়ারড্রোব সব ঠিকঠাক তৈরি করে একবার দেখল মনোযোগ দিয়ে।

    ব্রতীন অধৈর্য হয়ে কান পেতে শুনছিল বৃষ্টির শব্দ কতটা জোরালো শোনা যাচ্ছে! কবজিতে নজরও রাখছিল রাত কতটা গড়িয়ে চলেছে নিজের মনে। নিউটাউন থেকে ঘরে ফেরার কথা মাথায় রাখতে হচ্ছে সারাক্ষণ। ট্যাক্সি ছাড়া ফেরা অসম্ভব। ট্যাক্সি পাওয়া আরও অসম্ভব।

    বিকেল থেকে মেঘ করে আছে দেখেও তাদের বেরতে হল শুধুমাত্র বিশাখাকে খুশি করতে। ফ্ল্যাট-ফ্ল্যাট করে বিশাখা এতটাই পাগল হয়ে গেছে যে, ফিরতে কষ্ট হবে জেনেও বেরিয়ে পড়েছে বৃষ্টি মাথায় করে নিয়ে। ব্রতীনকেও সমানে তাল দিয়ে যেতে হচ্ছে।

    বিশাখার এখন একটুও টেনসন নেই ফেরা বিষয়ে। সে তখন আরও মনোযোগ দিয়ে সাজাচ্ছে গেস্টরুমটা। তাদের এখনকার ফ্ল্যাটটা বড়ো ঠিকই, কিন্তু একটা এক্সট্রা ঘর নেই যে, কোনও একজন আত্মীয় এলে তাকে শুতে দিতে পারে একটা আলাদা ঘরে।

    অতএব মনোযোগ দিয়ে বানাচ্ছে গেস্টরুম। তার তিনটে দেওয়াল হালকা গোলাপি তো চতুর্থ দেওয়ালটা ঘন গোলাপি।

    বিশাখাকে এমন টেনসনহীন ব্যস্ত দেখে ব্রতীন স্বস্তি পাচ্ছিল। বিমলেন্দ্রদার কথায় এত দূরে এত কষ্ট করে এসে ফ্ল্যাট দেখতে পেল না এ নিয়ে পরে নিশ্চয় গঞ্জনা দেবে বিশাখা, কিন্তু আপাতত সে অতি ব্যস্ত বাড়ির পিছনেও একটা ব্যালকনি আকারের বারান্দা করতে। বেশ প্র‌শস্ত বারান্দা। তাতে পাতা থাকল দুটো চেয়ার একটা ছোট্ট সেন্টার টেবিল। কখনও ইচ্ছে হলে এখানে বসে চা খেতে খেতে পিছনের জমির দিকে চোখ রাখবে।

    পিছনের বারান্দাটা খুব পছন্দ হল ব্রতীনের, তবু বলল, দুপাশে দুটো বারান্দা! এত স্পেস এখনকার আর্কিটেক্টরা নষ্ট করে না!

    বিশাখা অনায়াসে বলল, তিনিও তোমার মতো স্পেসকেপ্পন। বাড়িতে হাত-পা ছড়িয়ে থাকতে হলে বড়ো বারান্দা আমার খুব পছন্দ। সামনে-পিছনে দুদিকেই। সামনের বারান্দায় বসে থাকলে সমস্ত এলাকার মানুষের চলাচল জানতে পারব। এলাকার হৃৎস্পন্দন জেনে যাওয়া যাবে।

    ব্রতীন হেসে উঠে বলল, আজকাল কার হাতে এত সময় আছে যে, সারা বিকেল মানুষ দেখে কাটিয়ে দেবে! আমি এক রবিবারে ঘরে থাকি, তাও যদি কোনও সিনেমা-থিয়েটারে যাওয়া না থাকে!

    বিশাখা তার ভাবনাকে নস্যাৎ করে বলল, আর নির্জনতা চাইলে পিছনের বারান্দায় বসে চা।

    বিশাখা ব্যস্ত হয়ে পড়ল কিচেন তৈরি করতে। রান্নাঘর হল মেয়েদের নিজস্ব জগৎ। সেখানে খুব মনোনিবেশ করে বেশ বড়ো মাপে তৈরি করল কিচেনটা। একদিকে একটা প্র‌শস্ত স্ল্যাব বসিয়ে বানাল গ্যাসের ওভেন রাখার জায়গা। অন্য দেওয়ালগুলিতে অনেকগুলো র‍্যাক। বাসনকোশন, মশলাপাতি— কত্ত জিনিস রাখতে হয় কিচেনে। দেওয়ালে বেশি র‍্যাক হলে অনেকটা জায়গা পাওয়া যায় মেঝের দিকে।

    ব্রতীন মুচকি হেসে বলল, এটা কি কিচেন হচ্ছে, না ব্যাডমিন্টনের কোর্ট! কিচেনের জন্য এত স্পেস?

    বিশাখা নিরস্ত না হয়ে বলল, বুঝলে রান্নাঘর বড়ো হলে রান্নাও ভালো হয়। রান্নাঘরে আরাম করে ঘুরে ফিরে বেড়াতে পারলে মন ভালো থাকে। মন খুশি-খুশি থাকলে রান্নার স্বাদই বদলে যায়।

    বলতে বলতে বিশাখা একটা চমৎকার র্যাক তৈরি করল যাতে থাকে অনেক রকমের ডাল— মুসুরি, মুগ, অড়হর, মটর। একদিকে রাখবে পেঁয়াজ-রসুন-আদা। একদিকে তেল-নুন-হলুদ-মশলা।

    ব্রতীন তবু খুঁত খুঁত করতে থাকে, রান্নাঘরে এত স্পেস দিলে বেডরুমে বেশি জায়গা পাবে না। কিচেনের চেয়ে বেডরুমে স্পেস বেশি দরকার। বেডরুমে আরাম বেশি।

    সে তোমরা পুরুষরা এরকম বলবে। তোমাদের তো রান্নাঘরে ঢুকতে হয় না! রান্নাঘর ছোটো হলে দম বন্ধ হয়ে আসে। গরমকালে ঘেমে সেদ্ধ হয়ে যায়। তোমরা সেবসব বুঝবে না! ছেলেদের কাছে শোওয়াটাই সব।

    আর শোওয়ার ঘর ছোটো হলে দম বন্ধ হবে না!

    বিশাখা বেশি সময় নষ্ট না করে চলে গেছে বাথরুম বানাতে। বেশ প্র‌শস্ত টয়লেট, যার একদিকে গিজার আর তার নিচে বাথটাব। একদিকে পোশাক বদলানোর জায়গা।

    ব্রতীন হেসে উঠে বলল, বাথরুমটা এত বড়ো করেছ যে, অনায়াসে ভলিবল খেলা যাবে।

    বিশাখা ঘাড় ঝাঁকিয়ে বলল, একমাত্র টয়লেটেই প্র‌ত্যেক মানুষ কিছুক্ষণের জন্য একা হতে পারে। তখন সে আর কারও নয়। পৃথিবীর সমস্ত মানুষ, মানুষের চারপাশ, সংসারের যাবতীয় কূটকচালি কিছুক্ষণ ভুলে থাকতে পারে বাথরুমে ঢুকলে। যা খুশি ভাবতে পারে। তার মনের দখল নেওয়ার কেউ থাকে না তখন।

    বলতে বলতে বিশাখা বাথরুমের দেওয়ালটা এমন একটা নীল আর সবচে মেশা রং করল যা স্বপ্ন দেখার পক্ষে চমৎকার। শাওয়ার খুলে দিলে মনে হবে স্নান করতে নেমেছে একটা সমুদ্রের মধ্যে। যেন সমুদ্র থেকে রূপবতী ভেনাস এখনই উঠে আসবে দু-চোখে স্বপ্ন মেখে। যেন তার নগ্ন শরীর থেকে ঝরে পড়বে সমুদ্রের তুঁতে রং জলের সঙ্গে সাদা ধবধবে ফেনা।

    ব্রতীন এক চোখ বিস্ময় নিয়ে দেখে যাচ্ছে নানা রঙের কিউব সাজিয়ে বিশাখা রচনা করে যাচ্ছে তার স্বপ্নের বাড়ি।

    এই রে, বাড়ি তো হল, কিন্তু ছাদ দেওয়া হয়নি যে! বিশাখা ভাবনায় পড়ে।

    অমনি তড়িঘড়ি খুঁজতে লাগল কী দিয়ে ছাদটা ঢাকবে! বাক্সটার মধ্যে খুঁজতে খুঁজতে পেয়েও গেল কয়েকটা প্লাস্টিকের শিট। অমনি মাপমতো শিট নিয়ে ছাউনি দিতে শুরু করল তার স্বপ্নের বাড়ির। ব্যাস, এবার বাড়িটাকে বাড়ি-বাড়ি মনে হচ্ছে।

    বাড়িটা শেষ হলে বিশাখা কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে রইল মুগ্ধ দৃষ্টিতে। সেই দৃষ্টি কিছুক্ষণের জন্য সম্মোহিত করল ব্রতীনকেও। মাঝেমধ্যে তার ছ-বছরের বিয়ে-করা বউটাকে ঠিক চিনে উঠতে পারে না। উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ বিশাখার দু-ঠোঁটের কোণে জড়ো হয়েছে কী এক রহস্যময় হাসি। অচেনা পুলক।

    এরকম হাসিই কি হেসেছিল কিংবদন্তী মোনালিসা!

    বিশাখা কিছুটা সময় বাড়িটা নিরিখ করে শুরু করল বাড়ির চারদিকে একটা পাঁচিল তুলতে। বলল, বাড়িতে পাঁচিল না দিলে যেন আব্রু থাকে না বাসিন্দার। পাঁচিল মাস্ট।

    পাঁচিল তুলতে গিয়ে বাড়ির চারপাশে অনেকটা জায়গা ছাড় দিচ্ছে যাতে পাঁচিল আর বাড়ির মধ্যে অনেকটা জায়গা থাকে যেখানে তৈরি হতে পারে সুন্দর সবুজ একটা লন। তার মধ্যে রকমরকম রঙের ফুল। গোলাপ ভারী পছন্দ করে বিশাখা। তিন-চার রঙের গোলাপ চারা পুঁতবে— সাদা, হলুদ, খুনখারাবি রং। পিছনেও কিছুটা জায়গা রাখল যেখানে পুঁতবে টম্যাটো, ফুলকপি, ঢ্যাঁড়শ। দু-তিনটে পেঁপে চারা।

    সব কিছু হওয়ার পরও বিশাখার মনে খুঁতখুঁতি। উঁহু, কিছু একটা খুঁত আছে বাড়িটায়। কেমন ন্যাড়া ন্যাড়া লাগছে! কী নেই কী নেই যেন!

    হঠাৎ মনে হল ছাদ তো দিলাম, ছাদের তো একটা প্যারাপিট চাই!

    বিশাখা মহা উৎসাহে বাক্স খুলে খুঁজতে বসল আরও কিছু ছোটো ছোটো কিউব। ব্যস, অমনি ছাদের চারপাশ ঘিরে ফেলল সেই কিউবগুলো সাজিয়ে। ব্যস, প্যারাপিটও শেষ। আরও অনেকটা উঁচু হয়ে উঠল বাড়িটা। ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার ভয়ও রইল না।

    বিশাখাকে খুব খুশি খুশি দেখাল এবার। বাড়িটা এতটাই উঁচু হয়ে গেছে যে, ওপাশে বসে থাকা ব্রতীনকেও আর দেখা যাচ্ছে না। অদৃশ্য ব্রতীনের দিকে তাকিয়ে বলল, কেমন হয়েছে বলো?

    ব্রতীনের কণ্ঠস্বর গম্ভীর শোনাল, বলল, ভালো।

    বিশাখা একটু উঁচু হয়ে ব্রতীনকে দেখার চেষ্টা করল, পারল না, এতটাই উঁচু বাড়িটা।

    এত বড়ো একটা বাড়ি বানাতে বেশ রাত হয়ে এল। বৃষ্টির রেশ এখন অনেকটাই কম। ব্রতীন অস্থির হচ্ছে ফেরার ভাবনাটা মাথায় ঘুরছে বলে।

    এখান থেকে গড়িয়া অনেকটাই দূর। সেসময় হঠাৎ মোবাইল বেজে উঠল বিমলেন্দ্রদার। ব্রতীন দ্রুত অন করতে শুনল, ব্রতীন, বৃষ্টিতে এমন আটকে গিয়েছিলাম যে বেরতেই পারলাম না। এখন থেমেছে। একটা ট্যাক্সি নিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সমস্যা হল, যিনি ফ্ল্যাট দেখাবেন, তিনিও ফেঁসে গেছেন হাওড়ার কাছে। আমাকে বললেন, আজ হবে না, পরে আর একদিন আসতে বলুন।

    তাহলে আমরা উঠছি আজ। রম্বস কিন্তু একা রয়েছে।

    রম্বসের একা থাকা অভ্যেস আছে। পাশের ফ্ল্যাটের কাকলিকে বলা আছে। ও-ই দেখাশুনা করে রম্বসের।

    ঠিক আছে, বিমলেন্দ্রদা।

    মোবাইল বন্ধ করে ব্রতীন। বিশাখার দিকে তাকায়, বিমলেন্দ্রদার ফোনেরর সারমর্ম জানিয়ে বলল, কী আর করা যাবে। আজ সন্ধেটাই বরবাদ। চলো। পরে একদিন অ্যাপো করে চলে আসব আবার।

    ব্রতীন ভেবেছিল বিশাখা হয়তো খুব প্র‌তিক্রিয়া প্র‌কাশ করবে। কিন্তু আশ্চর্য, বিশাখা তখনও বাস করছে এক ঘোরের মধ্যে। ব্রতীনের কথা শুনল কি শুনল না, একই ভঙ্গিতে বসে রইল সোফায়, সেন্টার টেবিলের উপর ঝুঁকে পড়ে, দুটি চোখ নিবদ্ধ তৈরি করা সেই বাড়িটার দিকে।

    ব্রতীন আবার বলল, চলো, বিশাখা।

    বিশাখা তখন বিড়বিড় করছে, দ্যাখো, কী চমৎকার বাড়িটা। একেবারে স্বপ্নের বাড়ি। এরকম একটা বাড়ি আমার পছন্দ।

    ব্রতীন হাসল, বলল, এরকম একখানা বাড়ি তৈরি করতে কত খরচ জানো?

    বিশাখা ফ্ল্যাটের বাইরে বেরিয়ে এসেছে, তবু তাকে ঘিরে আছে এক আশ্চর্য ঘোর। সিঁড়ি দিয়ে নামছে আর আত্মমগ্ন হচ্ছে ক্রমশ। সেই সম্মোহনের মধ্যে বলল, এটা তো স্বপ্নের বাড়ি। সব মানুষেরই একটা স্বপ্নের বাড়ি থাকে। সেই বাড়ি সবাই চায়, ক-জনই বা পায়!

    স্বপ্নের বাড়ি? ব্রতীন বোঝার চেষ্টা করছে তার বউকে।

    হ্যাঁ। স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করতে তো আর টাকা লাগে না। যা লাগে তা হল মন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগোয়েন্দা গার্গী সমগ্র – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস – শ্রী কৈলাসচন্দ্ৰ সিংহ প্রণীত

    Related Articles

    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    গোয়েন্দা গার্গী সমগ্র – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }