Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আলো হাতে সেই মেয়েটি – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    তপন বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প228 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দেশের বাড়ি

    একটা শৌখিন গাড়ি, ছ’জনের বসার জায়গা। সিক্স-সিটার নামে পরিচিত মাঝারি মাপের একটা গাড়িতে সস্ত্রীক তিন বন্ধু রওনা দিয়েছেন ইচ্ছামতীপুরের উদ্দেশে। বেড়াতে যাওয়া, তবুও ঝটিকা সফর। সকালে গিয়ে রাতের মধ্যে ফিরে আসা।

    তপসিয়া পেরিয়ে বানতলার রাস্তায় পড়তেই প্র‌থমে কিছুক্ষণ চামড়ার গন্ধ, চোখমুখ কুঁচকে কোনওক্রমে রাস্তাটা পার হওয়া, তারপর ঠান্ডা-ঠান্ডা মিঠে হাওয়া গায়ে লাগতেই সববার মন বেজায় ফুরফুরে। এ যেন উধাও হওয়া কোনও এক হারিয়ে যাওয়ার দেশে।

    হু হু করে ছুটছে সিক্স-সিটার। রাস্তাটা বেশ মসৃণ, সরলরৈখিক, ফলে গাড়িতে গতি বাড়ছে ক্রমশ। দুপাশে মন ভালো করা সবুজ গাছগাছালি।

    রাস্তাটার ডানদিকে পাশাপাশি চলেছে একটা ছোটো খাল। হয়তো নিকাশি খাল কেননা কটু গন্ধ ছাড়ছে এক-একবার।

    চৌধুরী, ঘোষ, দত্ত আর ব্যানার্জি চারজনের বন্ধুত্ব পাড়ার একটি জিম-এর ক্লাবে। চারজনেই স্বাস্থ্যসচেতন, সকালে ক্লাবে কিছুক্ষণ শরীরচর্চা করে রাস্তার পাশে একটি চায়ের দোকানে কিছুক্ষণ পরচর্চা করে ফিরে যান যার-যার বাড়িতে। হঠাৎ ঘোষ খবর নিয়ে এলেন তাঁর এক অফিসীয় বন্ধু সুনির্মল কথায় কথায় বলছিলেন তাঁর দেশের বাড়ি ইচ্ছামতীপুরে। চাকরির খাতিরে তিনি কলকাতায় বাস করেন বটে, কিন্তু দেশের বাড়ি গেলে আর ফিরতে ইচ্ছে করে না। ঘোষ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তার কাছে সব জেনে নিয়ে একদিন জিম-এর শেষে বললেন, চলুন একদিন সবাই মিলে ঘুরে আসি। আমার নিজের দেশের বাড়িতে তো আর যাওয়ার কোনও পথ নেই। অন্যের দেশের বাড়ি গিয়ে দেশের বাড়ির স্বাদ নিয়ে আসি।

    দত্ত খুব শিগগির ইউরোপ ভ্রমণে যাচ্ছেন, বললেন, এখন আমি টেমস নদী, রাইন নদীর ধার দিয়ে বউয়ের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে হেঁটে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছি, এখন ইছামতীর ধার দিয়ে হাঁটলে সব ঘেঁটে যাবে, বলে তিনি রেহাই চাইলেন এ-যাত্রা।

    অন্য তিনজন একটা সুবিধেমতো তারিখ বেছে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে ইচ্ছামতীপুরের উদ্দেশে।

    মাঝেমধ্যে ঘড়ি দেখছিলেন চৌধুরী, একটু ছটফটে ধরনের মানুষ, জিজ্ঞাসা করলেন, আর কতক্ষণ লাগবে?

    গাড়িতে ড্র‌াইভারের পাশের সিটে ব্যানার্জি, তাঁর ঠিক পিছনের প্র‌থম সিটে তিন বেটারহাফ— রুমেলা, মানে মিসেস চৌধুরী, দেবারতি, মানে মিসেস ঘোষ, আলপনা, মানে মিসেস ব্যানার্জি। আর একেবারে পিছনের সিটে চৌধুরী ও ঘোষ বসেছেন হাত-পা ছড়িয়ে।

    চৌধুরীর উদ্বেগ দেখে দেবারতি গুনগুন করে গান ধরলেন, ‘কত দূর, আর কত দূর, ইচ্ছামতীপুর!’ দেবারতির গানের গলাটি বেশ ভালো, সামনে থেকে ব্যানার্জি বললেন, ওখানে গিয়ে আমরা দেবারতির গান শুনব।

    রাস্তার দুপাশে চমৎকার সবুজ দেখে আলপনা চেষ্টা করছিলেন গাছগুলোর নাম জানার। তাদের ছাদের বাগানে কিছু ফুলগাছ ও পাতাবাহার আছে, সেখানে একটা মিনি বট্যানিক্যাল গার্ডেন করার ইচ্ছে, কিন্তু জায়গার বড়ো অভাব। আপাতত গাছগুলোর নাম জেনেও শান্তি। আর রুমেলা খুঁটিয়ে দেখছিলেন রাস্তাটার গতিপথ।

    বহুক্ষণ পর একটা ছোটো গঞ্জ আসতে ঠিক হল, প্র‌াতঃরাশ এখানেই সারা যাক।

    যে কোনও রোডসাইড হোটেলে টা-এর চেয়ে চায়ের স্বাদই বেশি মনোরম। ঘন দুধের গেলাসভর চা, অমৃতের চেয়ে সামান্য কম স্বাদু— কিছুক্ষণ তারিয়ে তারিয়ে শরীরের পেট্রল ভরে নিয়ে পুনর্যাত্রা।

    ঘোষ বলছিলেন, দেশের বাড়ি শব্দটাই কীরকম মন-কেমন করা।

    চৌধুরী বললেন, আমারও একটা ছিল, কিন্তু—

    বলে বিবৃত করলেন মেদিনীপুরে তাঁদের পৈতৃক ভিটের কথা।

    তিনজনের আলোচনা তখন যার-যার দেশের বাড়ি নিয়ে। স্কুলের পাঠ শেষ করে উচ্চশিক্ষার্থে তিনজনেই কলকাতার কলেজে পড়তে এসে কলকাতাতেই রয়ে গেলেন বাকি জীবন। তবে চৌধুরীর ইচ্ছে ছিল চাকুরিজীবন শেষ করে ফিরে যাবেন মেদিনীপুরের দেশের বাড়িতেই, একটা বাড়িও করে ফেলেছিলেন আত্মীয়পরিজনদের মাঝখানে, কিন্তু অবসরের পর দেখলেন কলকাতার মাটিতে এমন শিকড় গজিয়ে গেছে যে, আর গ্র‌ামে ফিরে যাওয়া অসম্ভব। অতএব দেশের বাড়ি বিক্রি করে ফ্ল্যাট কিনে নিয়েছেন কলকাতায়।

    ঘোষ বললেন, তাঁর হাওড়া জেলার আমতায় বাড়ির কথা। এখনও আত্মীয়স্বজন আছেন সেখানে, কিন্তু ফিরে গিয়ে থাকতে হবে ভাবলে আর মন চায় না। ব্যানার্জির অবস্থাও তদ্রূপ— দেশভাগের পর শিশুকাল থেকে উত্তর চবিবশ পরগনার বাড়িতে বড়ো হওয়া, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সেই বাড়িঘর প্র‌ায় ধূলিসাৎ। আত্মীয়স্বজন এখনও কেউ কেউ থাকেন সেখানে। এককালে প্র‌চুর ফলফলারির গাছ ছিল, প্র‌ায় এক বিঘের সেই প্লট এখন হাহা-শূন্যি।

    তিনজনের আপশোসবাক্য বেশ মজা দিচ্ছিল তিন গৃহিণীকে। দেবারতি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, একটা দেশের বাড়িটাড়ি থাকলে খারাপ হত না। মাঝেমধ্যে গিয়ে দু-দশদিন থেকে আসা যেত। কলকাতায় একঘেয়ে জীবন।

    আলপনা বললেন, আমার শাশুড়ির মুখে শুনেছি খুব আত্মীয়স্বজনের যাতায়াত ছিল দেশের বাড়িতে। হঠাৎ অনেক রাতে পাঁচ-সাতজন চলে এলেন কুটুমবাড়িতে থাকতে। সেই রাতে আবার নতুন করে রান্নাবান্না। হুল্লোড় চলত বেশ ক’দিন।

    রুমেলা বললেন, আমাদের নিজেদের বাড়িটা আর নেই ঠিকই, কিন্তু বিয়ে-পার্বণে মাঝেমধ্যে যেতে হয়, থাকতেও হয় দু-চারদিন। কিন্তু সেই দাবিটা আর নেই, নিজের বাড়ি থাকলে যা থাকত।

    এমন কথোপকথনের মধ্যে একটা বড়োসড়ো গঞ্জ দেখে চৌধুরী খুঁটিয়ে দেখলে না রাস্তার ধারের পথনির্দেশক ফলক, বলে উঠলেন, দেখুন, এবারে মনে হচ্ছে আর সোজা রাস্তায় নয়, বাঁদিকের রাস্তায় বাঁক নিতে হবে।

    ড্র‌াইভারও গাড়ির গতি কমিয়ে বাঁক নিতে নিতে বললেন, এই বাজারটা খুব বিখ্যাত চিংড়িমাছের জন্য। ইচ্ছে করলে ফেরার পথে ভালো বাগদা বা গলদা নিতে পারেন। দামে খুব সস্তা।

    ফেরার পথে ভাবা যাবে, আগে ইচ্ছামতীপুর আমাদের হাতছানি দিচ্ছে, ব্যানার্জি মুখ গোমড়া করে বললেন। তাঁর আবার চিংড়ি মাছে অ্যালার্জি।

    গাড়ি তখন হু হু করে ছুটছে গন্তব্য অভিমুখে। টানা তিন ঘণ্টা পেট্রল পোড়ানোর পর উপলব্ধি করা গেল বাতাসে ঠান্ডা নদী-নদী হাওয়া। তার মানে ইছামতী খুব কাছেই। তার অর্থ ইচ্ছামতীপুর আর দূরে নয়!

    ২.

    যে-গন্তব্যে ছয় চরিত্র পৌঁছে গেল তার নাম অদৌ ইচ্ছামতীপুর নয়। ইছামতী নদীর পাড়ে এই বর্ধিষ্ণু ঘনবসতির জন্য ইচ্ছামতীপুর নামটাই পছন্দ হয়েছিল তাদের. এককালের জমজমাট মফস্বল শহর, কালের গতিতে এখন শুধু অতীত জীবনের সাক্ষী। চারদিকে বহু সাত-পুরনো বাড়ি, কোনও কোনওটা বেশ অভিজাত ধরনের। কয়েকটা তো রাজবাড়ির মতো দেখতে। তারই ফাঁকফোঁকর খুঁজে নতুন নতুন বাড়িও গড়ে উঠেছে অনেক— এ-যুগের প্ল্যানারদের তৈরি।

    তবে লজ বা হোটেলের সংখ্যা এখন ক্রমবর্ধমান।

    একটা নতুন ঝকঝকে হোটেল খুঁজে নিয়ে সেখানেই একটা দুপুরের অস্থায়ী ঠিকানা। দুপুরের খাওয়ার নির্দেশ দিয়ে এলেন ঘোষ, ইছামতীর টাটকা মাছসহ দুধসর চালের কাঁটার মতো ভাত। অতঃপর খোঁজখবর নেওয়া হল কী কী দ্রষ্টব্য আছে এই পুরনো বসতিতে। এখানকার জনবসতিতে চারশো বছরের ইতিহাস। তবে রাজরাজড়ার ইতিহাস নয়, সাধারণ বাসিন্দাদের ইতিকথা।

    এই আধা-শহরটির প্র‌ধান আকর্ষণ ইছামতী নদী। বিশাল নদীর ওপারেই বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্রীপুর। অন্য পারে বাংলাদেশ বলেই এই শহরের পর্যটক-আকর্ষণ বেশি। বাংলাদেশ এপারের মানুষদের এক অনন্ত ভালোবাসার জায়গা।

    হোটেলের সামনেই ইছামতীর একটা অংশ, তার বাঁধানো কিনারে সারি সারি সিমেন্টের চেয়ার। হোটেলের পর্যটকরা কেউ বসে, কেউ পায়চারি করছেন কিনারের পাশের পাকা রাস্তা দিয়ে। নদীর জল ছুঁয়ে আসা মারকাটারি হাওয়ায় ওপারের গন্ধ।

    স্থানীয় তল্লাশিতে যা জানা গেল শহরের ভিতরের রাস্তা খুব সংকীর্ণ, কলকাতা থেকে নিয়ে আসা বড়ো গাড়ি নিয়ে ঘোরাফেরা করা যাবে না। ছ’জনে মিলে ঘুরতে এখানকার ভ্যানরিকশা ভাড়া করাই যুক্তিসঙ্গত। কিছু টোটোও আছে, তিনজন-তিনজন যাওয়া যেতে পারে, কিন্তু ভ্যান ভাড়া করে একসঙ্গে ঘুরলে অধিকতর মজা এই সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত হতে ছ’জন উঠে বসলেন এক অভিজ্ঞ ভ্যানওয়ালাকে পথপ্র‌দর্শক হিসেবে পেয়ে। বছর সাতাশ-আটাশের যুবকটির মুখেচোখে অবিরল বাক্যপ্র‌বাহ।

    ভ্যানরিকশা রওনা হতেই চাক্ষুষ হল ইচ্ছামতীপুরের আসল আভিজাত্য। এখানে অজস্র‌ অফিস, সরকারি ও বেসরকারি। স্কুল-কলেজ-পোস্ট অফিস-ব্যাঙ্ক— সবই আছে আর পাঁচটা মফস্বল শহরের মতো। সেগুলোর অধিকাংশই নতুন বিল্ডিং। কিন্তু বড়ো রাস্তা ছেড়ে ভিতরের শিরা-উপশিরার মতো উপপথ বেয়ে শহর ঢুঁড়তে গিয়ে আবিষ্কৃত হল এখানকার প্র‌াচীনত্বই প্র‌কৃত অহংকার।

    কতকালের পুরনো শহর, তিনশো-চারশো বছর বয়সি অট্টালিকাগুলি বিরাজ করছে উপপথের দুপাশে আপন মহিমায়। পুরনো আমলের নেমপ্লেটে একের পর এক নাম, নামের পাশে লেখা পেশা দিয়ে পরিচয়। কেউ প্র‌ফেসর, কেউ অ্যাডভোকেট, কেউ ডাক্তার।

    মাঝেমধ্যে ভ্যানরিকশা দাঁড় করিয়ে রেখে তারা দেখছিলেন বাড়িগুলির আভিজাত্য, কৌলীণ্য, বনেদিয়ানা। তারা বলাবলি করছিলেন শহরের প্র‌তিষ্ঠাকাল নিয়ে। আলোচনা করছিলেন জনপদের ইতিকথা নিয়ে। একদা নদীর পাশে জনবসতি গড়ে ওঠাই ছিল রীতি। ইছামতী এখানে মোহনার মুখোমুখি। অতএব বেশ বিশাল চেহারায়। তারই কিনার ঘেঁষে গড়ে তুলেছিল এই জনপদ যা এত বছর পরেও স্বমহিমায় বিরাজমান।

    ভ্যানরিকশা চলেছে নানা ইতিবৃত্ত উপহার দিতে দিতে।

    কোনও বাড়ির প্র‌াচীনত্ব বজায় রেখে তাকে রেনোভেট করা হয়েছে, বাস করছেন এ যুগের উত্তরাধিকারীরা। কোনও বাড়ির ধবংসাবশেষ পড়ে আছে হেলায়, বেরিয়ে পড়েছে খয়াটে ইঁট, ঢালাইয়ের নোনা-ধরা সুরকি। তাদের বুকে-পিঠে-মাথায় বট-অশ্বত্থের হইহই করে চড়ে বসা।

    কোনও বাড়ির প্র‌ায় সবটাই নতুন করে গড়ে নিয়েছেন বাসিন্দারা।

    এরকমই একটি অট্টালিকা সারিয়ে-সুরিয়ে রং করে এখন চেহারা নিয়েছে একটি হোটেলের। গেটের কাছে নেমপ্লেটে লেখা: ঘোষ লজ।

    ঘোষ লজ! সবাই কৌতূহলী। কেয়ারটেকারের কাছে খবর নিয়ে জানা গেল এটি ঠিক হোটেল নয়, হোমস্টে-টাইপের। পর্যটক ইচ্ছে করলে দিনপিছু ভাড়া দিয়ে বাড়ির মতো কাটিয়ে যেতে পারেন কয়েকটা দিন। ভিতরে রান্নার যাবতীয় সরঞ্জাম। কেউ চাইলে স্থানীয় বাজার থেকে সব কিনে-কেটে এনে রান্না করে খেতে পারেন।

    আলপনার আবার হোম-স্টে-তে থাকার খুব ইচ্ছে, উল্লাস প্র‌কাশ করে বললেন, বাহ্‌, ভালো ব্যবস্থা তো!

    চৌধুরী ঠাট্টা করে বললেন, ঘোষ, তুমি তো দেশের-বাড়ি দেশের-বাড়ি করছিলে, এই বাড়িটাকেই ধরে নাও তোমার দেশের বাড়ি। ‘ঘোষ লজ’ ধরে নাও তোমার।

    রুমেলা তাতে ইন্ধন দিয়ে বললেন, হ্যাঁ। তা হলে পরের বার ইচ্ছামতীপুরে এসে আপনার বাড়িতে দু-দিন গেস্ট হব।

    দেবারতির খুব পছন্দ হল বিষয়টা, বললেন, তাহলে এটাই আমাদের দেশের বাড়ি হোক। যখন খুশি আসা যাবে, দু’চারদিন কাটিয়ে যাব। ইছামতীর ফুরফুরে হাওয়া আর বাজারের টাটকা আনাজ আর মাছ কিনে রান্নাবাটি করে খাওয়া যাবে।

    দেবারতির উল্লাস দেখে ঘোষের মুখখানা দিব্যি ফুরফুরে। যাক, তবু একটা দেশের বাড়ি পাওয়া গেল প্র‌ায় নিরখরচায়। বললেন, ঠিক আছে, তাহলে সবার নিমন্ত্রণ রইল আমাদের সদ্য পাওয়া দেশের বাড়িতে। পরেরবার নিশ্চয়ই দত্তদা আর দত্তগিন্নিকেও পাওয়া যাবে।

    আবার ভ্যানরিকশায় ঢনঢন ঢনঢন— নতুন শহরের আনাচকানাচ ঘুরে নতুন নতুন দ্রষ্টব্য আবিষ্কার করা। কোথাও পুরনো লম্বা-গড়নের একতলা বাড়ি, গেটের দুপাশে দুটি নয়নাভিরাম পাম গাছ, ভিতরে মানুষজন নেই। কোথাও রাজকীয় গড়নের বিশাল উঁচু দোতলা বাড়ির সামনের বারান্দা সুদৃশ্য থাম, তার তিনটে থামের একটি ধসে পড়েছে। পরিত্যক্ত বাড়িতে কেউ নেই থামটাকে নতুন করে গড়ে তুলতে। কোনও পাঁচিল-ঘেরা বাড়ির সামনে চমৎকার ফুলবাগান।

    ঘুরতে ঘুরতে ভ্যানরিকশা আবার ইছামতীর কাছে। চোখ কাড়ল একটা ছবি-ছবি তিনতলা লম্বা বাড়ি, চারপাশে উঁচু পাঁচিল, লোহার সুদৃশ্য গেট। গেটের উপরে বড়ে নামফলক— তাতে লেখা ‘চৌধুরী বাগানবাড়ি’।

    রুমেলা উচ্ছবসিত, বললেন, এ-বাড়িটা না দেখে যাওয়া যাবে না।

    বাড়িটার সামনে ভ্যানরিকশা থেকে নেমে সবাই নেমে ঢুকে পড়লেন ভিতরে। এটা একটা গেস্ট হাউস। ভিতরে চমৎকার গাছগাছালি, একটা বড়ো শান বাঁধানো পুকুর। সবাই ঘুরছেন-ফিরছেন আর বলছেন, আহ্‌ এ তো স্বর্গের মাত্র দু’স্টেশন আগে!

    ঘোষ অমনি বললেন, চৌধুরী তোমাদের যে এরকম একটা বাগানবাড়ি আছে তা অ্যাদ্দিন বলোনি তো!

    চৌধুরী প্র‌থমে হতভম্ব, ‘আমার বাগানবাড়ি’। পরক্ষণে বুঝতে পেরে হো হো করে হাসি।

    ব্যানার্জি তাতে ইন্ধন দিয়ে বললেন, বুঝেছি, তাই ইচ্ছামতীপুরে আসার প্রোগ্র‌ামে চৌধুরীর এত উৎসাহ! আমাদের সারপ্র‌াইজ দেবে বলে!

    চৌধুরী হাসি-হাসি মুখে বললেন, একজ্যাক্টলি। কীরকম সারপ্র‌াইজ দিলাম।

    রুমেলার মুখেও খুশির ঝরনা, বললেন, যাক, ‘ঘোষ লজ’-এর পর ‘চৌধুরী বাগানবাড়ি’। অভাবনীয় প্র‌াপ্তি। তাহলে একটা প্রোগ্র‌াম করা যাক। ‘ঘোষ লজ’-এ প্র‌থমবার বেড়ানো। পরের বার আমাদের ‘চৌধুরী বাগানবাড়ি’। ফাইলাল?

    দুই বন্ধু দুটি দেশের বাড়ি আবিষ্কার করে অতি পুলকিত। বেশ জমজমাট দেখাচ্ছে দু’জোড়া মুখ। এক অপ্র‌ত্যাশিত উপহার। ভ্যানরিকশায় উঠে পরবর্তী দ্রষ্টব্যে যাওয়ার পথে দেবারতি বললেন, তা আমাদের দু’জনের দুটো দেশের বাড়ি হল। ব্যানার্জিদাদের হল না যে!

    ব্যানার্জি হেসে বললেন, সবার ভাগ্যে কী সব হয়!

    তাঁর কথার মধ্যে বোধহয় লুকিয়ে ছিল এক টুকরো হিউমার। তবু কোথাও কি একটু বিষণ্ণতার ছোঁয়া আছে! বোধহয় একটু ভারী হয়ে উঠল ভ্যানরিকশার আবহ।

    ভ্যানরিকশা চলেছে ইছামতীর কিনারা বরাবর। চমৎকার হাওয়া বইছে। গরমের প্র‌াদুর্ভাবে কিছু বিরতি। জলের উপর তিরতির ঢেউ। একটা আধভাঙা বাড়ি দেখিয়ে রিকশাওয়ালা বলল, এই বাড়িতে গত বছর একটা বই শুটিং হয়েছিল। ওই যে, বাংলাদেশের কী এক নায়িকা আছে না!

    বলতে বলতে রিকশা ঢুকে পড়ল আর একটা গলিতে।

    সব গলিই আধভাঙা ইঁটের তৈরি। হাঁই হাঁই করে লাফাচ্ছে ভ্যানরিকশাটা। কেউ বলছেন, ‘ডান্সিং রোড নাকি!’ কারও কোমর ভাঙার উপক্রম। কেউ বলছেন, অনেক হয়েছে, এবার ফেরার পথ ধরি।

    ভ্যানওয়ালা কিন্তু রেহাই দিতে চাইছে না, বলছে, ম্যাডাম, এখনও অনেক কিছু দেখার বাকি। এখনও তো মোহানা দেখাতে নিয়ে যাইনি!

    মোহানা! সে কত দূরে? আলপনা আবার নতুন নতুন পথে যেতে উৎসাহী।

    দাঁড়ান, আগে দুগ্গাদালান দেখিয়ে নিই।

    দুগ্গাদালান? সে কোথায়? দেবারতির আবার পুজোআচ্চায় খুব মতি।

    এই তো—

    বলতে বলতে এক মহাপুরনো অট্টালিকার সামনে এনে দাঁড়ল করায় ভ্যানরিকশা। বাড়িটার অনেকটাই কালের করালগ্র‌াসে, যেটুকু আছে, সত্যিই দর্শনীয়।

    সবাই হই হই করে নেমে ভিড় করলেন গেটের কাছে। নেমপ্লেট কিছুটা ঘসা হলেও পড়া যাচ্ছে। বাড়িটার নাম ‘হেভেন অন আর্থ’। তার নীচে ছোটো করে ‘ব্যানার্জি’স ভিলা’।

    গেটটা বন্ধ। ভিতরে একটা বড়োসড়ো লন— যদিও তার ঘাসগুলি বড়োই মলিন। পাঁচিলের ধার ঘেঁষে কিছু ফুলের গাছ, কিছু পাতাবাহার। বাড়িটা দোতলা হলেও বেশ উঁচু— প্র‌ায় তিনতলার সমান। ভিতরে একজন আধবুড়ো গোছের লোককে দেখে ঘোষ ডাকলেন— এই যে দাদা—

    আধবুড়ো শ্লথ পায়ে এসে বললেন, কী ব-অলছেন?

    এ-দেশের মানুষের কথায় যশোর-খুলনার টান। ঘোষ বললেন, এ-বাড়িতে কেউ থাকেন?

    হ্যাঁ। এক শরিক বউছেলেমেয়ে নিয়ে থাকেন। মোট চারজন! আর কেউ থাকেন না!

    আধবুড়ো কোমরে বাঁধা গামছাটা খুলে মুখ মুছতে মুছতে বললেন, আর আমি থাকি। বাড়ি চৌকি দিই। আমার নাম কানাইভাই। বাকি সব তো কলকাতায়। যে যার আলাদা। শুধু দুগ্গাপুজোর সময় একজোট হয়। অই যে দ্যাখছেন—

    তার আঙুল অনুসরণ করে তাকিয়ে দেখা যায় অট্টালিকার সঙ্গে লম্বভাবে এক বিশাল দুর্গামণ্ডপ। এখন ফাঁকা।

    ব্যানার্জি উৎসাহিত হয়ে জানতে চাইলেন, সবাই আসেন দুর্গাপুজোর সময়!

    হ্যাঁ। বড়ো শরিকের বড়ো ছেলে পুজোর একমাস আগে এসে সব ব্যবস্থাপনা করে যান। প্র‌তিমা বায়না করে, পুরোহিত ঠিক করে, আর যা-যা লাগে তা একপ্র‌স্ত কেনাকাটি করে বাকি শরিকদের খবর দেন। তারপর পুজোর ক’দিন আগে থেকে সবাই এসে যান কলকাতা থেকে। তখন এই শুনশান বাড়িতে খুশির তুবড়ি ফোটে।

    বাহ্‌, লোকটি বেশ গুছিয়ে কথা বলতে পারে।

    ব্যানার্জি হঠাৎ বললেন, ইস, আমারও ইচ্ছে করে দেশের বাড়িতে যদি এরকম একটা পারিবারিক মিলন-উৎসব করতে পারতাম!

    কানাইভাই বললেন, তা আপনারাও আসুন না দুর্গাপুজোর সময়। দেখবেন সবাই মিলে কি হুড়োমুড়ি করে চার-পাঁচদিন।

    ঘোষ হঠাৎ বললেন, ব্যানার্জিদা, এই তো আপনি পেয়ে গেলেন দেশের বাড়ি। আপনি তো বলছিলেন আপনার বাড়িও ছিল ইছামতীর তীরে। তা এই তো— এটাও তো ইছামতীর তীরে— ‘ব্যানার্জি ভিলা’। কানাইভাই আপনার ডেরায় আমাদেরও নিমন্ত্রণ করে ফেললেন।

    রুমেলা বললেন, ঠিক আছে, কানাইভাই, আমরা সবাই আসব ব্যানার্জিভিলার দুর্গাপুজো দেখতে।

    কানাইভাই আরও এক কদম এগিয়ে গিয়ে বলল, প্র‌তিদিন দুপুরে পাড়ার সবার ভোগ খাওয়ার নেমন্তন্ন থাকে। আপনাদেরও নেমন্তন্ন দিয়ে রাখলাম। চারদিন পাত পেড়ে খাবেন।

    তিনজোড়া মুখ তখন আলোয় আলো। বিকেলের সূর্যাস্তের রক্তিম আলোয় সবাই কিছুক্ষণ রঙিন। কানাইভাইয়ের সঙ্গে আরও কিছু কথোপকথন করে ওঁরা চড়ে বসলেন ভ্যানরিকশায়।

    সেদিন ফেরার পথে সবাই বেশ ফুরফুরে মেজাজে। ঘোষ বলছিলেন, ব্যানার্জিদা, তাহলে আমরা সবাই এক-একটা করে দেশের বাড়ি পেয়ে গেলাম।

    দেবারতি বললেন, আমার কিন্তু সবচেয়ে পছন্দ হল ব্যানার্জিদার দেশের বাড়ি। দারুণ হইহই ব্যাপার।

    আলপনা হেসে বললেন, সত্যিই দারুণ। আমার দেশের বাড়িতে আপনাদের সবার নিমন্ত্রণ হল, অথচ আমাদের কোনও আর্থিক দায়দায়িত্ব নেই।

    ব্যানার্জি কেমন যেন অন্যমনস্ক, তাঁর চোখদুটো স্মৃতিমেদুর, গাড়ির জানালা দিয়ে উড়ে আসা হাওয়ায় মাখামাখি হতে হতে বললেন, জানেন, কলকাতয় বহু বছর বাস করছি, কিন্তু শৈশব-কৈশোরের দেশকে আজও ভুলিনি। আমাদের সেই বাড়ি এখন আর নেই। মাত্র এক শরিক সেখানে বাস করে। বাকি সবাই কেউ টালিগঞ্জে, কেউ বারুইপুরে, কেউ পাতিপুকুরে, কেউ কুদঘাটে। একদিন আমরা কয়েকজন আলোচনা করছিলাম দেশের বাড়িতে যদি দু-তিনটে ঘর করে রাখি, মাঝেমধ্যে গেট-টুগেদার করে হইচই করতে পারি। কয়েকজনে গেলামও একদিন। কিন্তু যারা ওখানে আছে, তারা বলল, ‘তোমরা তো সবাই চলে গেছ, এখানে পাকাপাকি থাকবে না কেউ, শুধু শুধু কিছু জায়গা দখল করে রাখবে কেন! আমরা এই যে হাত-পা ছড়িয়ে বাস করছি তা আর পারব না!’ বুঝুন একবার। এক বিঘে জমি থেকে যদি দু-কাঠার উপর একটা বাড়ি করতাম, কী এমন অসুবিধে হত তাদের!

    রুমেলা বলল, যাক, আপনার আর দুঃখ রইল না। পুজোর সময় সবাই মিলে ইচ্ছামতীপুরে আসব। দু’দিন ঘোষ লজে, দু’দিন চৌধুরী বাগানবাড়িতে থাকব,তারপর ব্যানার্জি ভিলায় চারদিন পাত পেড়ে—

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগোয়েন্দা গার্গী সমগ্র – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস – শ্রী কৈলাসচন্দ্ৰ সিংহ প্রণীত

    Related Articles

    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    গোয়েন্দা গার্গী সমগ্র – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }