Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আলো হাতে সেই মেয়েটি – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    তপন বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প228 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ক্যানভাসে রং নেই

    আকাদেমির সাউথ গ্যালারিতে অনেকদিন পরে প্র‌দর্শনী করতে পেরে বেশ খুশিয়াল মেজাজে ঋভু। তাঁর শিল্পীজীবনের চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই প্র‌দর্শনী। তিনি এখন খ্যাতির মধ্যগগনে। তাঁর এবারের ছবির বিষয় একেবারেই নতুন। ‘তন্ত্র আর্ট’— এই ক্যাপশনে এঁকেছেন ছবিগুলি। অনেক গবেষণা করে, বহু বইপত্তর ঘেঁটে একসঙ্গে বত্রিশটা ছবি এঁকে ফেলে নিজেরও খুব ভালো লাগছিল। যাঁরা প্র‌দর্শনী দেখতে এসেছেন, তাঁরাও খুব উচ্ছবসিত ঋভুর ব্যবহৃত রঙের ব্যবহার, বিষয় ও রেখার টান দেখে।

    এর মধ্যে ভিজিটরস বুকও ভরে উঠেছে অনেক নামীদামি শিল্পীর মন্তব্যে। সাধারণ দর্শকদের মধ্যেও অনেক সমঝদার দর্শক আছেন যাঁরা খুব একটা জাহির করতে চান না নিজেকে, অথচ ছবি খুব ভালো বোঝেন।

    তিনদিনের প্র‌দর্শনী, শেষদিনে রাত্রি আটটা নাগাদ প্র‌দর্শনী গুটিয়ে ফেলা শুরু করেছেন, দেওয়াল থেকে নামিয়ে ফেলছেন ছবিগুলি। সঙ্গে তাঁর অনুরাগী এক তরুণ শিল্পী সোমঋক সাহায্য করছে। আর এক তরুণ শিল্পীক রজতাভ এই প্র‌দর্শনীর উদ্বোধনের দিন খুব খেটেছিল, তাকেও আসতে বলেছিলেন, তবে তাকে দেখতে পাচ্ছেন না।

    প্র‌ত্যেকটি ছবি দেওয়াল থেকে খুলে কাগজে মুড়ে পর পর সাজিয়ে রাখা খুবই ঝঞ্ঝাটের কাজ। প্র‌দর্শনী যারা দেখতে এসেছিলেন, একে একে বেরিয়ে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে একটি তরুণী একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিল ঋভু আর সোমঋকের তৎপরতা হঠাৎ এগিয়ে এসে বলল, আমি কি আপনাদের সঙ্গে হাত লাগাতে পারি?

    ঋভু একটু অবাক হলেন, আবার হলেন না। মেয়েটার বয়স ছাব্বিশ-সাতাশ, পরনে ফাটা-চটা জিনসের উপর হালাক গোলাপি শার্ট। কানে বড়ো বড়ো লাল-সবুজ পাথর বসানো দুল, গলায় একই রকম পাথর-বসানো হার। কীরকম উসকো খুসকো হর্সটেল করা চুল। কিছুক্ষণ নিরিখ করে, ইতস্তত করে বললেন, লাগাতে পারো। কিন্তু এ-কাজে একবার হাত দিলে তোমার অনেক রাত হয়ে যাবে।

    তা হোক। অনেক ছবি। আমি একটু সাহায্য করে দিলে কিছুটা তাড়াতাড়ি শেষ করতে পারবেন।

    ঋভুর অনুমতি পেতেই মেয়েটি খুব দক্ষ হাতে দেওয়াল থেকে ছবি পাড়তে শুরু করে, সাবধানে নামিয়ে খবরের কাগজ দিয়ে যত্ন করে জড়িয়ে পাশে রাখতে লাগল একের পর এক।

    গত তিনদিন ধরেই ঋভু খেয়াল করছিলেন, এই মেয়েটি রোজই একবার করে তাঁর প্র‌দর্শনী দেখতে এসেছে ও দু’তিন ঘণ্টা ধরে থাকছিল গ্যালারিতে। প্র‌তিটি ছবি বারবার খুঁটিয়ে দেখেছে ও একটা কাগজে নোট করেছে। ঋভু ভেবেছিলেন মেয়েটা কোনও কাগজের প্র‌তিবেদক, প্র‌দর্শনী বিষয়ে কিছু লিখবে। কিন্তু তিনদিনের মধ্যে ছবি বিষয়ে তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসা না-করায় বুঝতে পারছিলেন না মেয়েটার কী অভিপ্র‌ায়। আজ তাঁদের সঙ্গে হাত লাগিয়ে দ্রুত ও দক্ষ হাতে প্যাক করছে, তার মধ্যে দু-একবার তাকাচ্ছে তাঁর দিকে।

    ঋভু হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নাম কী?

    তনিমা। সবাই তনু বলে ডাকে।

    একটু হাস্কি কণ্ঠস্বর। উত্তর দিয়েই তনিমা আবার প্যাক করে চলেছে।

    তার প্যাকিং-এর দ্রুততা দেখে ঋভু আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কী করো?

    কিছু না। ছবিটবি আঁকি। এলোমেলো ঘুরে বেড়াই।

    ঋভু আশ্চর্য হচ্ছিলেন মেয়েটির উদাসীন কথাবার্তা শুনে। প্যাকিং শেষ হতে রাত্রি প্র‌ায় সাড়ে দশটা। ঋভু সোমঋককে বললেন, একটা বড়ো গাড়িকে বলেছিলাম বাইরে এসে দাঁড়াতে। দেখে আয় তো এল কি না!

    সোমঋক দ্রুত বেরিয়ে গেলে ঋভু তাকালেন তনিমার দিকে, তুমি কোনদিকে থাকো? এখন ফিরবে কী করে? অনেক তো রাত হয়ে গেল!

    তনিমা তাঁকে অবাক করে দিয়ে বলল, কোথায় ফিরব? আমার তো কোনও ফেরার ঠিকানা নেই।

    নেই! সে কী! বাড়িতে কেউ নেই?

    থেকেও নেই।

    তার মানে?

    আমার একটা বাড়ি আছে, বাবা আছে, মা আছে, কিন্তু তাঁরা আমাকে এলেক দিয়ে দিয়েছেন!

    এলেক!

    মানে বাড়ির দুটো মেয়ের একটা যদি বাউণ্ডুলে হয়, কারও কথা না শোনে, বাড়ি থাকলে দরজা বন্ধ করে হাবিজাবি ছবি আঁকে, হঠাৎ-হঠাৎ বেরিয়ে যায় কাউকে না-বলে, তার তো বাড়ি বলে কিছু থাকে না!

    কিন্তু সেটাও তো একটা ঠিকানা? কোনদিকে বলো। তোমাকে যাওয়ার পথে নামিয়ে দিয়ে যাই। আমি যাব যাদবপুর।

    তনিমা ঠোঁট উল্টে বলল, আমি থাকি দমদম— আপনার উল্টোদিকে।

    পরের মুহূর্তে বলল, না-ই বা ফিরলাম বাড়িতে। আপনি আমাকে নিয়ে চলুন না আপনার বাড়ি। আমি আপনার সব কাজ করে দেব।

    এমন আচম্বিত প্র‌স্তাবে ঋভু চমৎকৃত, মেয়েটা বলে কী!

    আমি তো একটু একটু ছবি আঁকি, মাউন্ট করতেও জানি। আপনি ছবি আঁকবেন, আমি ছবিগুলো মাউন্ট করে প্যাক করে ঘরে গুছিয়ে রাখব। একজিবিশন হলে নিয়ে যাব। দেওয়ালে টাঙিয়ে দেব। একজন নামী শিল্পীর কত কাজ। আমি আপনাকে সাহায্য করব। নিয়ে যাবেন আপনার বাড়িতে?

    ঋভু খুব সমস্যায় পড়ল। তার ফ্ল্যাটটা খুব ছোটো নয়, এগারোশো স্কোয়ার ফুট। ফ্ল্যাটে তিনি ছাড়া তাঁর স্ত্রী গায়ত্রী থাকে। গায়ত্রী বেশ অসুস্থ। প্র‌ায় শয্যাশায়ী। হার্টের সমস্যা আছে। তাছাড়া দুটো হাঁটুই প্র‌ায় অকেজো। হাঁটু পাল্টাতে বলেছে ডাক্তার, কিন্তু হৃৎপিণ্ডের সমস্যা গুরুতর হওয়ায় অপারেশনে রাজি হচ্ছেন না তিনি। একজন রান্নার মাসি আছেন। একজন কাজের মাসি ঘণ্টা দুই থেকে অনেক টুকিটাকি কাজ করে দিয়ে যায় বলেই সংসারটা চলছে এখনও।

    গায়ত্রীর সঙ্গে কথা না-বলে হঠাৎ এই বয়সের একটা মেয়েকে কি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া শোভন হবে! কিন্তু যদি গায়ত্রীকে ফোন করে পরামর্শ করতে চান, গায়ত্রী যদি না বলে দেয়, তাহলে মেয়েটাকে এই রাতে কি দমদমে দিয়ে আসা যাবে!

    ভাবনাটা নিয়ে মাথায় পাক খাওয়াচ্ছেন, তার মধ্যে সোমঋক ফিরে এসে বলল, স্যার, গাড়ি এসে গেছে।

    শুনেই তনিমা দুটো বড়ো ছবি একবারে কাঁধে তুলে নিয়ে বলল, আমি এ দুটো গাড়িতে রেখে এখনই আবার ফিরে আসছি। কোথায় গাড়ি, দেখিয়ে দিন তো।

    তনিমার তৎপরতা দেখে সোমঋকও দুটো ছবি তুলে নিয়ে বলল, চলো—

    ঋভুকে বলল, স্যার, আপনি এখানে দাঁড়ান, আমরা দুজনে ছ-সাতটা ট্রিপে তুলে দিচ্ছি ছবিগুলো।

    সব ছবি গাড়িতে তুলে রওনা করে দিতে রাত্রি সাড়ে এগারোটা। কলকাতার রাস্তায় তখন গাড়ির চলাচল ক্রমহর‌াসমান। সোমঋক উঠে বসল ড্র‌াইভারের পাশের সিটে। বলল, স্যার, আমাকে গড়িয়াহাট মোড়ে নামিয়ে দিলেই হবে।

    সোমঋক গাড়িতে উঠতে ঋভু তাকায় তনিমার দিকে, বলল, উঠে পড়ো—

    তনিমা অপেক্ষা করছিল ঋভুর ডাকের। অমনি পিঠের ব্যাগটা কোলে নিয়ে উঠে বসল পিছনের সিটে। তার পাশে ঋভু উঠতেই গাড়ি রওনা দিল যাদবপুরের উদ্দেশে। রাস্তায় খুব একটা কথা হল না। সোমঋককে গড়িয়াহাট মোড়ে নামিয়ে দিয়ে যাদবপুরে ফ্ল্যাটে যখন পৌঁছোলেন দুজনে, রাত তখন মধ্যরাত।

    লিফটে উঠে তিনতলায় নেমে বেল না বাজিয়ে পকেট থেকে চাবি বার করে ঢুকে পড়লেন ভিতরে। এত রাতে গায়ত্রীর ঘুমিয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। অন্যদিন হলে তাকে না-ডেকে টেবিলে ঢেকে রাখা খাবার খেয়ে চুপ করে শুয়ে পড়তেন বিছানায়। কিন্তু আজ তনিমা সঙ্গে থাকায় আস্তে আস্তে গিয়ে ডাকলে, গায়ত্রী—

    গায়ত্রীর ঘুম খুব আলগা। এত রাতের ঋভুর সঙ্গে একটি অচেনা তরুণীকে দেখে বেশ তাজ্জব। তার জিজ্ঞাসু চোখের দিকে তাকিয়ে ঋভু বললেন, তনিমা ছবি আঁকে। বাকিটা পরে বলছি। আমরা দুজনে ভাত বেড়ে খেয়ে নিচ্ছি। তারপর ওকে গেস্টরুমে থাকার ব্যবস্থা করে আমি আসছি।

    ঋভুদের গেস্টরুমটা ওদের ফ্ল্যাটের একটু নিরিবিলি কোণে। খাওয়া শেষ করে তনিমাকে শোওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে ঋভু ফিরে এলেন গায়ত্রীর কাছে। গায়ত্রী আজ এখনও ঘুমোয়নি। বিছানায় গা এলিয়ে দিতে দিতে বললেন, তনিমাকে কী করে পেলেন সেই বৃত্তান্ত। তনিমা তাঁদের ফ্ল্যাটে থাকতে চেয়েছে তাও বললেন।

    গায়ত্রী কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, তুমি যা ভালো বুঝেছ তাই করো।

    পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ঋভু দেখলেন তনিমা তাঁদের অনেক আগেই ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে স্নান সেরে বসে আছে সোফায়। নিজের বিছানা তুলে সাজিয়েছে পরিপাটি করে। ঋভুকে দেখে বলল, গুড মর্নিং, স্যার।

    ঋভু প্র‌ত্যুত্তরে গুড মর্নিং বলতেই তনিমা বলল, চা করে আনব?

    সকালের চা-টা ঋভুকেই করতে হয়। ঋভু ইতস্তত করে বললেন, তুমি তো জানো না কোথায় কী থাকে। আমি করে আনছি।

    তনিমা সোফা থেকে তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠে বলল, আমাকে দেখিয়ে দিন কোথায় কী আছে। ততক্ষণে আপনি আর আন্টি ব্রাশ করে নিন।

    ঋভুর অনুমতির অপেক্ষা না করেই তনিমা ঢুকে গেল রান্নাঘরের ভিতর। সামান্য গলা চড়িয়ে বলল, চায়ের সরঞ্জাম কোথায় থাকে, স্যার।

    ঋভু চলে এল রান্নাঘরের দরজার মুখে, ঝুঁকে পড়ে দেখিয়ে দিল চা, ইলেকট্রিক কেটলি ও কাপ-প্লেটের অবস্থান। তারা দুজনেই বিনি-দুধ-চিনি চা খায় রোজ। সেকথা জানিয়ে গায়ত্রীকে গিয়ে বলল, ব্রাশ করে নাও। তনিমা চা করছে।

    একটু পরে গায়ত্রী পা টেনে-টেনে বেরিয়ে এসে মুখ-হাত ধুয়ে এসে বসল সোফায়। তার একটু পরে তনিমা একটা ট্রে-তে করে তিন কাপ চা এনে সেন্টার টেবিলে রেখে নিজেও বসে পড়ল একটা সোফায়। তার কাপ তুলে নিয়ে বলল, দেখুন তো আন্টি, চায়ের ফ্লেভার ঠিক আছে কি না!

    গায়ত্রী কৌতূহলী চোখে তাকাচ্ছিল তনিমার দিকে। চায়ে চুমুক দিয়ে ঘাড় নাড়ল, ঠিক আছে।

    তনিমা ঋভুর দিকে তাকিয়ে বলল, স্যার, আপনার ছবিগুলো এখানে-ওখানে ছড়িয়েটিছিয়ে রয়েছে। আমি কোনও একটা জায়গায় গুছিয়ে রাখব?

    ঋভু অনেকটাই অবাক। এরমধ্যে তনিমা কখন দেখে নিয়েছে তার ছবিগুলি পড়ে আছে এলোমেলো হয়ে! ঋভু কতদিন ধরে ভাবছে ছবিগুলো গোছাতে হবে, আঁকার সময়কাল হিসেব করে পর পর সাজিয়ে রাখবে, তারপর একটা ক্যাটালগ করে রাখলে আরও ভালো হয়। কিন্তু তার সময় হচ্ছে না, করতে ইচ্ছেও করে না। তনিমার মতো একজন কেউ করে দিলে কী ভালোই না হয়। বলল, ঠিক আছে, সে হবে’খন পরে।

    গায়ত্রী হঠাৎ ঋভুকে বলল, ঘরে সবজি-মাছ কিছুই নেই। কাল বিমলা বলছিল।

    বিমলা ওদের রান্নার মাসি। ঋভু ব্যস্ত হয়ে বলল, তাহলে আমি আগে বাজারে যাই।

    গায়ত্রী আবার বলল, একটা রুটি কিনে এনো। ডিম আর মাখন। সকালে খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে তো।

    তনিমা বলল, আমি আলুর পরোটা বানাতে পারি? করব?

    গায়ত্রী-ঋভু দুজনের কাছেই বেশ চমক, বললেন, তা হলে তো ভালোই হয়। রোজ বের‌ড আর বাটার খেতে খেতে একঘেয়ে হয়ে গেল।

    গায়ত্রী গ্রি‌ন সিগনাল দিতে তনিমা অমনি একলাফে রান্নাঘরে। চেঁচিয়ে বলল, স্যার, আলু আর ময়দা কোনওটা খুঁজে পাচ্ছি না!

    ঋভু আবার রান্নাঘরে গিয়ে সব দেখিয়ে দিয়ে বললেন, তুমি করতে থাকো। আমি আধঘণ্টার মধ্যে বাজার করে নিয়ে আসছি।

    তনিমা বলল, আমি সঙ্গে গেলে অসুবিধে আছে? আপনি শিল্পী মানুষ। রোজ বাজার করতে গিয়ে কত সময়ের অপচয়। আমাকে আজ বাজারটা দেখিয়ে দিন। ব্রেকফাস্ট করে দিয়ে আমি রোজ এই সময়ে বাজার করে আনব। সেই সময়টা আপনি ছবি আঁকবেন।

    ঋভু ক্রমশ চমৎকৃত হচ্ছিলেন তনিমার কাজের তৎপরতায় ও বুদ্ধিমত্তায়। সত্যিই তো, রোজ না হলেও সপ্তাহে তিনদিন বাজারে যেতে হয়, সকালের এই সময়টা তার কাছে প্র‌াইম টাইম, বাজারে যাওয়া-আসা মিলিয়ে প্র‌ায় এক-দেড় ঘণ্টা সময় নষ্ট। এ সময়ে আঁকতে পারলে বেশ হয়।

    মিনিট পনেরোর মধ্যে আলুর পরোটার পাশে টমেটোর সস দিয়ে তিনজনের জন্য সাজিয়ে নিল প্লেটে প্লেটে। গায়ত্রীর মুখ দেখে ঋভু অনুভব করছিল এতক্ষণে তার মুখে খুশির ঝিলিক। রোজ একই প্র‌াতঃরাশ। আজ বেশ অন্যরকম।

    বাজারে যাওয়ার সময় তনিমাও চলল ব্যাগ হাতে। যেতে যেতে বলল, বাজারটা আমার হাতে ছেড়ে দিন। প্র‌থম-প্র‌থম হয়তো একটু ঠকব, কিন্তু ক’দিনের মধ্যে সড়োগড়ো হয়ে যাব।

    অনেকটাই বাজার করে ফেলল দুজনে। তনিমা বলল, বাড়িতে থাকলে বাজার তো আমিই করি। বাজার করতে আমার বেশ ভালোই লাগে। তবে ওই— বারগেনিং করতে তেমন পারি না।

    ঋভু ক্রমশ বিস্মিত হচ্ছিলেন তনিমার সারল্য ও কর্মদক্ষতার পরিচয়ে। বলল, দেখলে তো দরাদরি আমিও তেমন করতে পারি না। ভালো জিনিস কেনা নিয়ে কথা।

    ঋভু ফ্ল্যাটে ফিরে দেখল রান্নার মাসি, কাজের মাসি দুজনেই যার যার কাজ শুরু করে দিয়েছে পুরোদমে। ঘরে হঠাৎ নতুন অতিথি দেখে তারা খুব কৌতূহলী। কী জানি কী বলেছে গায়ত্রী! ঋভু আপাতত সে বিষয়ে নাক না গলিয়ে বসলেন নিজের কাজে। তনিমা অবশ্য বসে নেই: ঋভুদের খাটের তলা থেকে টেনে-টেনে বার করল অজস্র‌ ছবির বাণ্ডিল। সেগুলো পাতিয়ে নিয়ে বসল লিভিং রুমের মেঝেয়। প্র‌তিটি ছবির উল্টোপিঠে লেখা আছে কবে আঁকা, কোথায় বসে আঁকা। সেগুলি খুলে-খুলে সন-তারিখ সেঁটে রাখতে শুরু করল পাশে পাশে।

    প্র‌ায় ঘণ্টাদুয়েক টানা খেটে কিছুটা বাগে আনল ছবিগুলোকে। তখনও অনেক কাজ বাকি। ঋভু বললেন, আজ এই পর্যন্ত থাক। নইলে টায়ার্ড হয়ে যাবে।

    তনিমা থামল, বলল, ছবি সাজাতে আমার কোনও কষ্ট হয় না। ছবি নিয়েই তো আমার দিনরাত।

    ঋভু বোঝার চেষ্টা করছিলেন সদ্য পরিচিত মেয়েটিকে। কিছুই জানেন না তার সম্পর্কে, হঠাৎ বলল, ‘আমাকে নিয়ে যাবেন’ বলে চলে এল তাঁর সঙ্গে। এখন বলল ছবি নিয়েই তার দিনরাত। জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি নিয়মিত ছবি আঁকো?

    নিয়মিত কোথায়? কখন কোথায় থাকি তার কোনও ঠিক নেই। যখন থিতু থাকি, মুড আসে, অমনি তুলিতে রং ঢালি।

    বলতে বলতে ছবিগুলো ভালো করে মুড়ে আবার রেখে দিল যেখানে ছিল। বলল, কাল আবার বাকিটা করব।

    ঋভু বুঝে উঠতে পারছিলেন না মেয়েটা কতদিন থাকবে, কী তার অভিপ্র‌ায়। তাঁর ছবি খুব ভক্ত, তা বলেছিল কাল। গায়ত্রী এর মধ্যে একবার আলোচনা করেছে একেবারেই অচেনা মেয়েকে বাড়িতে থাকতে দেওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত।

    তবে এখনও পর্যন্ত যা অভিজ্ঞতা তাতে উতলা হওয়ার কোনও কারণ নেই। তার হাতে রং তুলি আর ক্যানভাস ধরিয়ে দিয়ে বললেন, এখানে তুমি নিয়মিত ছবি আঁকবে।

    তনিমা কী যে খুশি হল, বলল, ভুল হলে আপনি আমাকে দেখিয়ে দেবেন।

    সারা দুপুর রং আর তুলি নিয়ে কাটাল তনিমা।

    সেদিন বিকেলে তাঁর বন্ধুর একটি প্র‌দর্শনী দেখতে যাওয়ার কথা, গাড়ি নিয়ে ড্র‌াইভার এসে খবর দিতে প্র‌স্তুত হলেন। গায়ত্রীকে বলতে গেলেন ফিরতে রাত হবে। তনিমা কোথাও ছিল, তাঁর কথা শুনতে পেয়ে দৌড়ে এসে বলল, আমাকে নিয়ে যাবেন? আমি তো বিকেল হলেই কোনও না কোনও প্র‌দর্শনী দেখতে বেরিয়ে পড়ি।

    ঋভু সামান্য অপ্র‌স্তুত, কিন্তু না বলে পারলেন না, চলো তা হলে—

    গায়ত্রীকে বলতেই সেও বলল, নিয়ে যাও, নইলে সারা সন্ধে একা-একা করবে কী!

    অনুমতি পেতে তনিমা পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে অমনি তাঁর গাড়ির সামনে সিটে আসীন।

    প্র‌দর্শনীতে গিয়ে তনিমা শুরু করল ছবি দেখতে। ঋভুর ধারেকাছে থাকল না। শিল্পীর টেবিল থেকে একটা বের‌াসিওর তুলে নিয়ে দেওয়ালে টাঙানো ছবিগুলো দেখছে, ব্যাগ থেকে একটা নোটবই বার করে কী যেন লিখেই চলেছে ছবিগুলো দেখে।

    ঠিক এরকমই করেছিল তাঁর ছবির প্র‌দশনী দেখতে গিয়ে।

    ঋভু অশ্চর্য হচ্ছিলেন তার অধ্যবসায় দেখে। কী তন্ময় হয়ে ছবি দেখছে, আর নোট করছে একমনে। তবে কাজের ফাঁকে সে যে ঋভুর দিকে নজর রাখছিল তা বোঝা গেল। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর ছবি দেখা শেষ করে ঘরে ফিরবেন ভাবছেন, কোথায় ছিল তনিমা, এসে হাজির। বলল, আমার হয়ে গেছে।

    ফেরার পথে জিজ্ঞাসা করলেন, কেমন লাগল শুভেন্দুর একজিবিশন?

    তনিমার ঠোঁটের ডগায় উত্তর মুখিয়ে ছিল, বলল, ভালো। তবে আপনার ধারেকাছে নয়।

    বাহ্‌, বেশ মন রেখে কথা বলতে পারে তনিমা।

    আপনার ছবিতে দেশজ প্র‌তীকের বিমূর্ত বা আধ-বিমূর্ত রূপ। এক আশ্চর্য রহস্যময় ভাবের সৃষ্টি। কিন্তু শুভেন্দুবাবুর ছবিতে গ্র‌ামীণ সম্প্রদায়ের জীবনধারা।

    ঋভু খুবই আশ্চর্য হলেন মাত্র এক দু লাইনের মধ্যে দুটি প্র‌দর্শনীর ছবির প্রে‌ক্ষাপট বলে দিল কী সাবলীল ভাষায়। তার মানে মেয়েটা খুব ভালো ছবি বোঝে।

    তনিমা হঠাৎ বলল, আপনি তন্ত্র আর্ট এঁকেছেন বলেই আমি আপনার ফ্যান হয়ে গেলাম। তন্ত্র আমার প্রি‌য় বিষয়। আপনার তন্ত্র সিরিজ নিয়ে আমার শুধু একটাই বক্তব্য।

    কী বক্তব্য?

    তন্ত্র বিষয়ক ছবিতে রং আর একটু চড়া হলে ভালো হত।

    ঋভু বেশ অবাক হলেন। তাঁর ছবি নিয়ে বোদ্ধা-দর্শক সবাই এত প্র‌শংসা করেছেন, আর এই মেয়েটা কিনা বলছে—

    পরক্ষণে ভাবলেন আঁকার সময় তাঁরও তো মনে হয়েছিল আরও একটু বর‌াইট রং হলে খুলত ছবিগুলো! কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, তন্ত্র নিয়ে পড়াশুনা করেছ বুঝি?

    প্র‌চুর। থিওরিটিক্যাল প্র‌াকটিক্যাল দুইই।

    প্র‌াকটিক্যাল! রীতিমতো স্তম্ভিত হলেন ঋভু। মাত্র একদিনের পরিচয়ে মেয়েটাকে ফ্ল্যাটে থাকতে দিয়েছেন। তন্ত্রের প্র‌াকটিক্যাল দিকটা তিনি নিজেও বোঝেন না, অথচ তনিমা বোঝে।

    স্যার, জীবনটাকে নিয়ে অনেক এক্সপেরিমেন্ট করেছি। বোঝার চেষ্টা করেছি পঞ্চ ম-কারের কী এফেক্ট। একটাই তো জীবন। দেখিই না পরীক্ষানিরীক্ষা করে।

    ঋভুর দু’চোখ বিস্ফারিত। তন্ত্র বিষয়ে তিনি বেশ কিছু বই পড়েছেন। তন্ত্রে নারীশরীর এক বিচিত্র আধার। নারীশরীরে বাহান্ন বর্ণমালার অবস্থান। খুব জটিল বিষয়। তনিমা তার কতটা কী জেনেছে তা বুঝে উঠতে পারলেন না। বেশ কঠিন মেয়ে— এই শব্দগুলো মাথায় এল তাঁর। অথচ তার মুখে অজস্র‌ সারল্য।

    তাঁর ছবিতে রং বোধহয় একটু কমই থাকে, তার একটা কারণ হয়তো এই যে, তাঁর জীবনেও তো রঙের বেশ অভাব।

    স্যার আপনার তন্ত্র সিরিজে বিষয়টা এমন সাবলীলভাবে এনেছেন যা আমাকে শিহরিত করেছে।

    তার বলা শেষ হওয়ার আগেই গাড়ি ফ্ল্যাটের সামনে। লিফটের মুখে দোতলার বর্ণনা ব্যানার্জির সঙ্গে দেখা। চড়া মেক-আপে পঞ্চাশোধর্ব মহিলাকে দারুণ সুন্দরী লাগছে। নিশ্চয়ই কোনও পার্টি থেকে ফিরছেন। তাঁর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে আড়চোখে দেখছিলেন তনিমাকে।

    তনিমা শুধু ছবিই ভালো বোঝে তা নয়, দু-তিন দিনের মধ্যে ঋভুর সমস্ত ছবি ঝেড়েমুছে সাজিয়ে রাখার কাজ শুরু করে দিল। শুধু তাই নয়, গায়ত্রী অসুস্থ থাকায় বাড়ির আসবাবপত্র থেকে শুরু করে যাবতীয় জিনিস ঝেড়েমুছে ঝকঝকে করে ফেলল দ্রুত ও দক্ষ হাতে।

    গায়ত্রীও অবাক মেয়েটির কর্মদক্ষতায়। যেন এরকম একটি মেয়ের খুব দরকার ছিল তাদের সংসারে। স্বস্তিও বোধ করছেন, আবার ভাবছেন সম্পূর্ণ অচেনা একটি মেয়েকে এভাবে রেখে দেওয়াও তো মুশকিল।

    কয়েকদিনের মধ্যে তনিমাই হয়ে উঠল ফ্ল্যাটের কেন্দ্রবিন্দু। সকালের চা থেকে শুরু করে নিত্যনতুন ব্রেকফাস্ট, বাজার-দোকান করা, তাঁর যে কোনও জরুরি কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে তুলে দেওয়া। গায়ত্রীকে যা একটু-আধটু কাজ করতে হত তাও এখন আর করতে দেয় না তনিমা। এমনকী তার সারাদিনের ওষুধ খাওয়ানোর দায়িত্বও তনিমার।

    এখন ফ্ল্যাটের মধ্যে বাস করার আনন্দই আলাদা।

    একদিন একটু বেশি রাতে তনিমাকে নিয়ে ফ্ল্যাটে ফিরছেন, লিফটে উঠছেন, লিফটে তাঁদের বিপরীত ফ্ল্যাটের আনন্দ পাকড়াশিও উঠেছেন, বেশ আড়চোখে দেখছেন তনিমাকে, কিছু বলছেন না, কিন্তু তাকানোর ধরনটা বেশ খারাপ।

    লিফট থেকে নামার সময় হঠাৎ মুচকি হেসে বললেন, আপনি বেশ রসেবশে আছেন।

    বলে আর দাঁড়ালেন না, গট গট করে ঢুকে গেলেন তাঁর ফ্ল্যাটে।

    ঋভু স্তম্ভিত, এক ঝলক তাকালেন তনিমার মুখের দিকে। তার মুখ বিবর্ণ, গম্ভীর।

    ফ্ল্যাটে ঢুকে অনেকক্ষণ বাক্যহীন রইলেন ঋভু। তনিমা তার ঘরে চলে যেতে গায়ত্রীকে বললেন আনন্দ পাকড়াশির কথাগুলো। গায়ত্রী চুপ করে রইলেন কিছুক্ষণ, তারপর বললেন, তোমাকে তো বলিনি, গত দু’তিনদিন ধরে পাশের ফ্ল্যাটের মিসেস পাকড়াশি, নীচের ফ্ল্যাটের মিসেস পাল আর মিসেস বটব্যাল— এঁরা দল বেঁধে আসছিলেন আমাদের ফ্ল্যাটে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন মেয়েটা কে, আমাদের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক, কতদিন থাকবে, তার বাবা-মা কোথায় থাকে— এইসব।

    ঋভুর বিস্ময়ের অন্ত থাকে না। তাঁর অনুপস্থিতিতে এত সব কাণ্ড ঘটে গেছে আর গায়ত্রী তাঁকে কিছুই বলেনি! বিড়বিড় করে বললেন, ওদের তো খেয়েদেয়ে কোনও কাজ নেই। শুধু পরনিন্দা আর পরচর্চা।

    আরও কতকিছু বলছিল!

    কী বলছিল?

    আমাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছিল। বলছিল, তুমি তো বিছানায় শুয়ে থাকো। সেই সুযোগ নিয়ে তোমার বর আর একটা মেয়েকে জুটিয়ে এনে—

    বাকিটা বলল না গায়ত্রী, যা বোঝার বুঝে গেলেন ঋভু।

    ডাইনিং টেবিলে থালাবাসনের নাড়াচাড়া দেখে ঋভু ঘাড় ফিরিয়ে দেখলেন তনিমা রাতের খাওয়ার আয়োজন করছে। একটু পরেই ডাকল, স্যার, ভাত বেড়েছি। আপনি আন্টিকে নিয়ে আসুন।

    রাত অনেকটাই হয়ে গেছে, ঋভু খেয়াল করলেন ঘুমে টসটস করছে তনিমার চোখ, কিন্তু তার মুখ গম্ভীর। খাওয়ার মুহূর্তগুলো মনে হচ্ছিল এক অনন্ত সময়। তনিমা ভাত মুখে দিচ্ছে, কিন্তু অন্যদিনকার মতো কলকল করে কথা বলছে না, মুখের ভিতর ভাত আটকে যাচ্ছে যেন। নিশ্চয়ই গায়ত্রীর কথাগুলে কানে গেছে তার।

    ঘরের আলো কি আজ একটু ফ্যাকাসে। তনিমার মুখখানা কি রোজকার তুলনায় নিষ্প্রভ! এই মুহূর্তে কিছু বলতে চাইলেন না ঋভু। কাল সকালে একটু নিভৃতি খুঁজে নিয়ে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করবেন। বলবেন, জীবনের সব ক্ষেত্রেই কিছু ইঁদুর-আরশোলা-ছুঁচো থাকে যারা সুস্থ, সুন্দর জীবন বিশৃঙ্খল করে দিতেই আহ্লাদ বোধ করে।

    রাতে বিছানায় শুয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন গায়ত্রীর সঙ্গে। গায়ত্রী বলল, আমার তো কোনও অসুবিধে হচ্ছে না। বরং ও আসার পর আমার অনেকটাই রিলিফ। কী সুন্দর গুছিয়ে সংসারের কাজগুলো করছে!

    স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ঋভু বললেন, আমার ছবির ঘরটা একেবারেই এলোমেলো হয়ে ছিল। তনিমা এমন ঝকঝকে করে রেখেছে যে, এখন ছবি আঁকতে আরও জোশ পাচ্ছি। আসলে কী জানো, আমরা নানা সমস্যার মধ্যে আছি তো কিছু মানুষ বেশ উপভোগ করে। তারা চায় আমাদের সমস্যা স্থায়ী হয়ে থাকুক। কেউ এসে আমাদের জীবনটা ভালো করে দিচ্ছে তা সহ্য হয় না তাদের।

    পরদিন ঘুম ভাঙল একটু দেরি করেই। তনিমা অন্যদিন দরজায় নক করে ঘুম ভাঙায়। ঋভু দরজা খুলতেই দেখেন দু’কাপ চা হাতে সহাস্য তনিমা। আজ বেলা আটটা বাজে, অথচ এখনও তনিমা ডাকেনি। তাহলে কি সেও এত বেলা পর্যন্ত ঘুমোচ্ছে।

    ঋভু বাইরে বেরিয়ে দেখলেন তনিমার ঘর খোলা। তার মানে সে আগেই ঘুম থেকে উঠেছে।

    তবে কি কিচেনে গিয়ে চা করছে!

    কিন্তু না, কিচেনেও নেই।

    ঋভু বিস্মিত হয়ে ঘুরতে লাগলেন ঘরে। হঠাৎ চোখে পড়ল ডাইনিং টেবিলে পড়ে থাকা একটা চিরকুটের দিকে। চামচ দিয়ে চাপা। দ্রুত তুলে নিয়ে চোখ রাখলেন গোটা গোটা অক্ষরে লেখা, স্যার, আমার কপালটা চিরকালের মন্দ। ছোটো থেকেই আমি একটু ব্যাকরণের বাইরে বাস করা মেয়ে। আমার পরের বোন যখন বই নিয়ে নিবিষ্ট, আমি ছবি আঁকতাম নিজের মনে। বাবা পছন্দ করতেন না ছবি আঁকা। হাত থেকে রং তুলি কেড়ে নিতেন প্র‌তিবার। এভাবেই চলে আসছে এত বছর। কিন্তু আমি কী করব। পৃথিবীতে সবাই লেখাপড়া করার জন্য জন্মায় না। কেউ ছবি আঁকবে, কেউ গান করবে, কেউ সাহিত্য রচনা করবে, কেউ পাহাড়ে উঠবে— এই তো নিয়ম। এ কারণেই নিজের বাড়িতে আমি সুস্থির থাকতে পারি না। আপনাকে দেখে মনে হয়েছিল আপনার কাছে থাকলে আমার নিজের জগৎটা ফিরে পাব। জীবনের সব রং যখন শেষ হয়ে গিয়েছিল, আপনি আমার হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন রং আর তুলি। আস্তে আস্তে রঙিন হয়ে উঠছিল আমার পৃথিবী। কিন্তু ভাগ্য যার সহায় নেই, তার জীবনে রং কী করে থাকবে! অদৃশ্য থেকে কেউ এসে আবার রং তুলি কেড়ে নিয়ে আমাকে নিঃস্ব করে দিলেন। আমি চাই না আমার মতো একটি সহায়সম্বলহীন মেয়ের জন্য আপনার সুন্দর জীবনে কালি লাগুক। যেমন হঠাৎ করে এসেছিলাম, সেভাবেই চলে গেলাম আমার পুরোনো ঠিকানায়।

    ক’টা দিন আপনারা আমাকে যে সম্মান দিয়েছিলেন তা আমার জীবনের সেরা প্র‌াপ্তি। হয়তো আবার কোনওদিন এভাবেই দেখা হয়ে যাবে কোনও প্র‌দর্শনীতে। আন্টিকে আমার খুব ভালো লেগেছে। ইতি—তনিমা।

    চিরকুটটা পড়ে স্তব্ধ হয়ে রইলেন ঋভু। গায়ত্রীও পায়ে পায়ে এসে দাঁড়িয়েছে তাঁর পাশে। চিরকুটটা হাতে নিয়ে পড়ল। তাকাল ঋভুর দিকে। বলল, তুমি ওর ঠিকানা রাখোনি?

    ঋভু ঘাড় নাড়লেন, না। বলেছিল পরে দেব।

    একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল গায়ত্রী।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগোয়েন্দা গার্গী সমগ্র – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস – শ্রী কৈলাসচন্দ্ৰ সিংহ প্রণীত

    Related Articles

    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    গোয়েন্দা গার্গী সমগ্র – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }