Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আলো হাতে সেই মেয়েটি – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    তপন বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প228 Mins Read0
    ⤶

    নতুন বউ

    বিয়ে মানেই কি যৌনতা?

    অস্মিতার আকস্মিক প্রশ্নে প্র‌ায় ছিটকে গেল রাজকুমার। একটা হাউই ছুটে যাচ্ছিল সাত রঙের ফুল ফোটাতে ফোটাতে, হঠাৎ মাঝপথে দম হারিয়ে হুশ করে নেমে গেলে যেমনটা হয় তেমনই রাজকুমারের জোশ। ফুলশয্যার রাতে নতুন বউয়ের মুখে এরকম একটা ধাক্কার মুখোমুখি হবে তা ধারণার বাইরে ছিল তার।

    অস্মিতা ঠিক নতুন বউ তা নয়, তাদের বিয়েটা দু’দিন আগে হলেও তার আগে অন্তত বছর দুয়ের নিবিড় প্রে‌মপর্ব। এই দুবছরে তাদের মধ্যে যৌনতা নিয়ে কোনও বাক্যালাপ হয়নি। বলতে কি অস্মিতা খুবই ইন্ট্রোভার্ট ধরনের। কোনও দিন চুমু খাওয়ার কথা বললেও মৃদু ধমক দিয়ে বলেছে, তোমাদের ছেলেদের কি মেয়েদের শরীর ছাড়া আর কোনও ভাবনা নেই?

    রাজকুমার অতএব চুমু খাওয়ার মতো অশ্লীল ভাবনায় ইতি টেনে প্রে‌ম করে গেছে দু বছর ধরে, লক্ষ করেছে বিয়ের জন্য কখনও তাড়া দেয়নি অস্মিতা। তার একমাত্র প্যাশন ছবি-আঁকা। ক্যানভাসের সামনে বসে প্যালেটে তুলি ডুবিয়ে পরম মগ্নতায় কাটিয়ে দিতে পারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অস্মিতার তুমুল ঔদাসীন্য দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে অবশেষে নিজেই একটু চাপ সৃষ্টি করেছিল অস্মিতার উপর। অস্মিতা বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে, তার বাবা-মায়েরও কোনও উদ্যোগ দেখেনি মেয়ের বিয়ে দিতে। রাজকুমার বুঝেছে মেয়ের বিয়ে হলে তার বাবা-মায়ের ঘর শূন্য হয়ে যাবে এ যেন তাঁদের ভাবনার বাইরে। মেয়ে আইবুড়ো থাকলেই তাঁদের সুবিধে।

    বেশ জোর খাটিয়েই বিয়েটা করতে হল রাজকুমারকে। পাত্র হিসেবে সে নেহাৎ মন্দ নয়। ব্যাঙ্কের অফিসার, দেশের বাড়িতে কিছু জমিজমাও আছে। অস্মিতার মা-বাবাকে বোঝাল, তাঁদের নেতাজিনগরের বাড়ি থেকে রাজকুমারের সদ্য কেনা রানিকুঠির ফ্ল্যাটের দূরত্ব খুব বেশি হলে এক কিলোমিটারও না। এ-বেলা ও-বেলা দেখা হবে মেয়ের সঙ্গে বাবা-মায়ের।

    বিয়ে তো হল, ফুলশয্যার রাতে এরকম একটা ঝাপট খাওয়ার পর মধুচন্দি্রমায় যাওয়ারও কোনও ইচ্ছে রইল না রাজকুমারের। অস্মিতা বরাবরই যেন কেমন-কেমন। কীরকম নির্বিকার, আত্মমগ্ন। ওকে নিয়ে কোনও পাহাড়ি দেশে যাবে এমনটাই ভেবে রেখেছিল, কিন্তু ফুলশয্যার পর সাতদিনের মধ্যেও অস্মিতা তার হাতে হাত পর্যন্ত রাখতে দেয়নি দেখে হতাশ হতে শুরু করল রাজকুমার।

    ফলে মধুচন্দ্রিমায় দূরে কোথাও যায়নি, বিয়ের পর বেড়ানোর জায়গা বলতে ওরা বেছে নিয়েছে রাজকুমারের গাঁয়ের বাড়ি সরসপুরে। কলকাতা ছেড়ে এই প্র‌থম কোনও গাঁ-বাড়িতে এসেছে অস্মিতা। সাতদিনের থাকা, প্র‌থম তিনদিন সরসপুর ঘুরে দেখে অস্মিতার চোখে ঘোর। চারপাশে শুধু সবুজ আর সবুজ। প্র‌কৃতির নিজের হাতে গড়া বোটানিক্যাল গার্ডেন। অস্মিতার হাতে সারাক্ষণ একটা ছোটো নোটবই। যে-দৃশ্যই তার পছন্দ হয়, অমনি ঘাসের উপর বসে পড়ে নোটবইয়ের পৃষ্ঠায় তার একটা স্কেচ করে নেয়। বেশিরভাগ সময় রাজকুমারকে সঙ্গে নেয় না। বলে, তুমি বড্ড বকবক করো। কনসেন্ট্রেশন নষ্ট হয়ে যায়।

    অস্মিতা একা-একাই ঘোরে তন্ময় হয়ে। রাজকুমার সবসময় তাকে একা ছাড়ে না, অনেকটা দূরত্ব রেখে অনুসরণ করে তন্ময় হয়ে ঘোরা মেয়েটাকে। কোথায় যেতে কোথায় চলে যাবে তার নতুন বউ তার ঠিক নেই। কখনও অস্মিতা তার চোখ এড়িয়ে ঘুরতে বেরোয় একা একা।

    রাজকুমার তাকে খুঁজতে বেরোয়। কখনও শেষ বিকেলে বারোয়ারিতলায় গিয়ে সে যখন একা একা চরাচরে সূর্যাস্ত দেখে, তখনও লোকে তার দিকে কৌতূহলী চোখে তাকায়, সূর্যাস্তের পরও যখন সে ঘরে ফেরে না, দেখে কীভাবে অন্ধকারের পোঁচ লেগে কেমন কালচে হয়ে যাচ্ছে চরাচর, তখনও তার দিকে লক্ষ রাখে গাঁয়ের মানুষ। সন্ধের পর যখন আঁধারে ডুবে যাচ্ছে তার কমলারঙের শাড়ি, সে ঘরে ফিরছে না, তখন কোনও গাঁয়ের মানুষ হয়তো তাকে বলল, বউমা, ঘরে যাও।

    হয়তো তখন তার সাড় ভাঙে। চারদিকে চোখ পেতে দেখে সে বিশাল প্র‌ান্তরে দাঁড়িয়ে আছে ভূতের মতো। চমক ভাঙতে সে পা চালিয়ে ফিরতে থাকে ঘরের দিকে। হঠাৎ কোনো বুনোফুলের গন্ধ নাকে যেতে সে থমকে যায় ফের, অন্ধকারে চোখ চালিয়ে খুঁজতে থাকে সেই বুনোফুলের গন্ধের উৎস। পথের দুপাশে বুনোঝোপ। তার মধ্যে কী না কী লুকিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু সে বিষয়ে তার সংবিৎ নেই, সে পাতালতা সরিয়ে দেখতে চায় কী ফুলের গন্ধ এটা। সেই আবিষ্কারের মধ্যেই তার নজরে পড়ে ঘন অন্ধকারে কী দ্যোতনা ছড়িয়ে ফুটে আছে একটা বিশাল লালফুল। তার বিশাল পাপড়িগুলো জ্বলছে কী অদ্ভুতভাবে!

    হঠাৎ তার চমক ভাঙে কারও ডাকে, ফিরে দেখে রাজকুমার খুঁজতে বেরিয়েছে তাকে। তামে অমন ঝোপঝাড় ঢুঁড়ে বেড়াতে দেখে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলে, তুমি এত রাতে একা-একা?

    অস্মিতা তাতে কুণ্ঠিত হয় না, বলে, দেখে যাও, কী চমৎকার একটা ফুল। নাম জানো?

    রাজকুমারের তাতে উৎসাহ নেই, বলল, ফুল তো সরসভূমির সর্বত্র। তাতে তো নতুন কিছু নেই!

    কিন্তু এই ফুলটা তুমি কখনও দেখোনি! নামও জানো না?

    সরসভূমিতে কত ফুল আছে যার নাম কেউ জানে না।

    ধরো, এই ফুলটার নাম দিলাম রক্তমঞ্জরী।

    রাজকুমার চমৎকৃত হয়, বলে বেশ নাম। ঠিক আছে কাল রক্তমঞ্জরী ফুল নিয়ে একটা কবিতা লিখে তোমাকে উপহার দেব। এখন চলো।

    একটা লাইন মুখে মুখে তৈরি করো তো!

    ঠিক আছে, শোনো।

    ‘রক্তমঞ্জরী তুমি একা একা ফুটে আছো বনের আড়ালে

    সঙ্গোপনে, রাজার কুমারী সেজে।’ হয়েছে?

    অস্মিতা হেসে বলল, হয়েছে।

    তুমি এতক্ষণ একা-একা কোথায় ঘুরলে?

    বারোয়াতিলায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখতে দারুণ লাগে। চলো না, দেখবে দূরের বিলের জলে কীরকম টুপ করে এসে বসে পড়ে সুয্যিদেব। তখন তার শরীরে কী যে সুন্দর রং মেখে নেয় কী যে বলব! টুকটুকে লাল শরীর নিয়ে বসে থাকে চুপটি করে, বোধহয় ইতি-উতি তাকিয়ে দেখে কেউ তাকে দেখছে কি না। যখন দেখে আমি তাকে দেখছি, সে আরও একটু লাল হয়, মেয়েরা লজ্জায় লাল হলে যেমন দেখায় আর কি। তারপর অমনি আবার টুপ করে ডুব দিতে থাকে জলের মধ্যে। অমনি বিলের জল লালে লাল।

    রাজকুমার শিউরে ওঠে কেন যেন। অস্মিতার গলার স্বরে থরথর কাঁপ। তার চোখে কী এক উদাসীন চাউনি। রাজকুমার বলল, তুমি এজন্য এত দূর আসো রোজ রোজ?

    কী জানি। বিকেল হলেই সুয্যিদেব যেন আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতে থাকেন।

    নীল আকাশে তখন সাদা মেঘের ভেলা উড়ে যায় দিক থেকে দিগন্তের পথে। সেই ভেলায় কখনও চড়ে বসে অস্মিতা তার নীল শাড়ি আঁচল উড়িয়ে ভেসে যায় যেখানে তার ইচ্ছে, যত দূরে তার মন চায়। এ এক অদ্ভুত ভ্রমণ তার।

    সাদা মেঘের ভেলা দূরে উড়ে যাওয়ার পর সে বাস করতে থাকে এক ঘোরের মধ্যে। যেন পার হয়ে যাচ্ছে একটা লম্বা ক্যালেন্ডার। তার দু চোখ আশ্বিন পার হয়ে হিমের স্পর্শ নিয়ে পা ফেলতে থাকে কার্তিকের দিকে। লক্ষ করতে থাকে পৃথিবীর গায়ে কেউ যেন নতুন করে আঁকতে থাকে জলছবি। রং বদলে যায় পৃথিবীর। সবুজ বল্লমের মতো লকলক করতে থাকে ধানপাতা। হেমন্তে তখন মল্লিকার ফুটে ওঠার ধুম। যে-গাছগুলি নিরীহ বালিকার মতো এলেবেলে দাঁড়িয়ে থাকত চলার পথের এখানে-ওখানে, তারাই ফুলন্ত হয়ে রূপসী হয়ে উঠল হঠাৎই। অস্মিতাকে ডেকে বলতে থাকে, দ্যাখো, আমাকেও দ্যাখো তুমি।

    অস্মিতা তাদের গায়ে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে, ইস, কী সুন্দর তোরা! আমি কেন তোদের মতো হতে পারিনে?

    অস্মিতা তখন পার হচ্ছে হেমন্তের জলছবি। কার্তিকের দিনগুলিতে হাঁটতে থাকে সার সার ধানের ডগায় পা ফেলে ফেলে। ধানের পাতায় আঁকা হতে থাকে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ। অস্মিতার তুলিতে ক্রমে ভরে ওঠে নানা রঙের আলোছায়া। কখনও তার চোখে পড়ে একজোড়া হরিয়াল বসে আছে সজনে গাছটির ডালে। খণ্ডদুপুরের এমন সব টুকরো মুহূর্ত অস্মিতাকে ঋদ্ধ করে নানান অভিজ্ঞতায়। বাড়ির অন্যরা যখন এমন আশ্চর্য সব ভেজা দুপুরে বিশ্রাম নিতে ব্যস্ত, অস্মিতার তুলি এঁকে চলে সরসপুরের এমন সব ছবি যা আগেও কখনও ছিল না, পরেও হবে না। নানা রঙে ভরে ওঠে তার সাদা ক্যানভাস।

    তার মধ্যে দেশে আরও হিম পড়তে শুরু করে। একটু একটু করে শীতের হাওয়ায় কাঁপতে থাকে ধানের শিষ। অস্মিতা অবাক হয়ে দেখে কখন যেন একটু একটু করে ধানের পাতায় হলুদ রং ধরেছে। হলুদ হয়ে গেছে শীষগুলো। মাঠের পর মাঠে কাঁচাপাকা ধান ঢেউ তুলতে থাকে নিজের শরীরে। গর্ভবতী নারীর মতো তার শরীর ভারী হয়ে উঠছে দ্রুত। কোথাও কোথাও মাটিতে নুয়ে পড়েছে সোনার বর্ণ ধান।

    তিনদিন সরসপুরকে তার নোটবইতে তুলে নেওয়ার পর একদিন বলল, কাছাকাছি আর কোনও গ্র‌াম আছে যা এর চেয়েও সুন্দর?

    আছে বইকি।

    পরদিন সকালে প্র‌াতঃরাশের পর রাজকুমার তাকে নিয়ে চলেছে সরসপুর সংলগ্ন গ্র‌াম দিকচিহ্ন। দুটি গ্র‌াম লাগোয়া হলেও তাদের মধ্যে জড়িয়ে আছে আত্মীয়তা। সরসপুরে যারা বসবাস করে, তাদেরই শরিকরা থাকে দিকচিহ্ন গ্র‌ামে। দুই গাঁয়ে এক অলিখিত রেষারেষি। হাঁটতে হাঁটতে তুলনাও চলছিল দুই গাঁয়ের যার যার গরিমার।

    দুটি ছিমছাম ঝাউগাছের মতো পাশাপাশি অস্মিতা আর রাজকুমার, নতুন বরবউ হেঁটে যাচ্ছে দিকচিহ্নের দিকে। অস্মিতা শিল্পী, হাঁটতে হাঁটতে তার তুলিতে তখন ভরে আসছে রকমারকম রং। সেই তুলি দিয়ে সে এঁকে চলেছে কোনও এলেবেলে বালকের মতো উধাও হয়ে যেতে থাকা দিকচিহ্নের আঁকাবাঁকা মেঠো পথটি। এখানে দুপাশে বাঁশবন। বাঁশবনের কঞ্চির আঙুলগুলি নিচু হয়ে নেমে এসে অস্মিতার শাড়িতে টান দিচ্ছে দুষ্ুটমির ছল করে।

    অশত্থ গাছের ছায়ার সীমানা পেরোলেই বাঁশবনের ভিতর দিয়ে এই গুহাপথ। উপরে অসংখ্য কঞ্চির জাপটাজাপটির সহাবস্থান। পথে পড়ল এক মস্ত দিঘি— যার চারদিকের পাড় বাঁধানো, প্র‌তি কিনারেই একটি করে বাঁধানো ঘাট। টলটলে জল দেখে স্নানে নামতে ইচ্ছে করছিল অস্মিতার। বলল, এসো না, স্নান করি—

    রাজকুমার সপাটে ঘাড় নেড়ে বলল, না, নতুন বউ খোলা জায়গায় স্নান করলে গাঁয়ে নিন্দে হবে নিশ্চিত।

    অস্মিতার মুখ বেজার, বলল, সরসপুরে কত মেয়ে-বউরা তো পুকুরে স্নান করে ভিজে কাপড় ছপছপিয়ে ঘরে ফিরছে দেখলাম।

    তারা স্থানীয় মেয়ে-বউ। তুমি কলকাতা থেকে এসেছ।

    অস্মিতা কিছু বুঝে বা না-বুঝে আবার হাঁটা শুরু করে জেদি গলায় বলল, আমি এই দিঘিতে স্নান করবই। কাউকে না বলে একা চলে আসব।

    দিঘিতে ছাপাছাপি পদ্মফুলের রাশি, জল অনাবিল, টলটলে। রাজকুমার তাকে নিবৃত্ত করতে বলল, দিঘিতে কেউ স্নান করা দূরে থাকুক, তার ধারে যাওয়ার কথাও ভাবতে পারে না এমন সাপের বাস।

    অস্মিতা খিলখিলিয়ে হাসে, তা সাপেদেরও তো একটা বাসভূমি চাই। কোথায় যাবে বেচারারা! আমি তাদের সঙ্গে ভাব করে নেব। আমাকে কিছু বলবে না।

    লোকে বলে এই দিঘিতে গাঁয়ের জমিদার-বউ ডুবে মরার পর তার জলে সেই বউয়ের শাপ লেগেছে, তাই এত সাপ।

    অস্মিতা হাসল। রাজকুমার এখনও বুঝে উঠতে পারছে না তার বউকে। বিয়ের আগেও অস্মিতা ছিল তার ধরাছোঁয়ার বাইরে। এখন যেন আরও।

    অস্মিতা তখন দু চোখে বিস্ময় নিয়ে হেঁটে চলেছে অদূরে নতুন গড়ে ওঠা দিকচিহ্নের দিকে। এ সবই ছিল ধানমাঠ। সভ্যতা এখন সেখানে গড়ে তুলেছে একতলা-দোতলা পাকা বাড়ি।

    দিকচিহ্ন এক অদ্ভুত গাঁ, কিছুটা সবুজ, কিছুটা ধূসর। বাড়িগুলো সবই সাদা। তাদের চারপাশে গাছগাছালির সমাহার। ফুল আর ফলফলারির গাছই বেশি। এ হল নতুন গড়ে ওঠা বসত। এখানকার জীবনে শহুরে ছাপ।

    রাজকুমার বলল, জমিদারবাড়ির অনেক উত্তরাধিকারী এখন কলকাতায় বসবাস করে। কেউ চাকুরে। কেউ বাণিজ্য করে লক্ষ্মীলাভের আশায়। গ্র‌ামের জমিজমা এখন অধিকাংশই বর্গাদারদের দখলে। প্র‌ায় সময়েই জমিদারদের ভাগ এসে পৌঁছোয় না। কোথাও বেনামে জমি। নায়েব বা গোমস্তা ধরনের লোক দেখভাল করে সেই সব জমিজমার। যেটুকু ভাগের ধান এসে পৌঁছয়, তা বিক্রি করে জমা হয় শরিকদের নামে।

    রাজকুমার কী বলল না বলল তাতে অস্মিতার ভ্রূক্ষেপ নেই। সে ঘুরে ঘুরে দেখে চলেছে নতুন গাঁয়ের ছবি-ছবি দৃশ্যপট। ঘুরছে তো ঘুরছেই। দেখছে দালানবাড়িগুলোর গঠনবৈচিত্র্য। কোনওটাই কলকাতার মতো হাল ফ্যাশনের নয়। নতুন, কিন্তু গ্র‌াম্যতার ছাপ সবখানে। সেটাই দস্তুর। অস্মিতার হাতে ছোটো ডায়েরিটা, তাতে টুকটুক করে এঁকে চলেছে নানা রেখাচিত্র। সেগুলো পরে ক্যানভাসে তুলে নেবে এক-এক করে।

    ঘুরতে ঘুরতে দুপুর পার করে ফেলল অস্মিতা। কী এক ঘোরের মধ্যে তার চোখ অবিরাম ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে প্র‌তিটি মুহূর্তের ছবি। যেন এই পৃথিবীটা তার কাছে শুধু ছবির সমন্বয়। যত নতুন দৃশ্যের কাছে যাচ্ছে, তার মুখে ফুটে উঠছে এক স্বর্গীয় অনুভূতি। তার সামনে ঘটে চলেছে বিস্ময়ের পর বিস্ময়।

    ঘরের ফেরার পর এক অভাবনীয় উল্লাসে জমজম করছিল তার অভিব্যক্তি। রাজকুমারকে বলল, ভাগ্যিশ তুমি নিয়ে এসেছিল দিকচিহ্নে। গোটা গাঁ-টাই যেন একটি অ্যালবাম।

    রাজকুমার ভাবছিল হয়তো আজ অস্মিতা তার কাছ ঘেঁষে শোবে। তার গায়ে হাত রাখতে দেবে। কিন্তু হা হতোস্মি! সে রাতেও বিছানায় শুয়ে যথারীতি এক হাত দূরত্ব বজায় রাখল অস্মিতা। রাজকুমার কাছ ঘেঁষে শুতে চেয়েছিল, তার হাতটা সপাটে সরিয়ে দিয়ে নিচু গলায় বলল, সম্পর্কটা অশ্লীল করে তুলো না।

    পলক না-ফেলতে অস্মিতা ঘুমে কাদা।

    রাজকুমার দীর্ঘশ্বাস ফেলে অন্যদিকে পাশ ফিরে ঘুমোতে চাইল, কিন্তু তার চোখে ঘুম আসে কই!

    সেদিন অনেক রাতে হঠাৎ রাজকুমার অনুভব করল তাকে কে যেন ঠেলছে। সে বুঝে উঠতে পারছিল না হাতটা অস্মিতারই কি না।

    অস্মিতা তখন মোবাইলের টর্চ জ্বেলে উঠে পড়েছে বিছানা থেকে, ফিসফিস করে বলল, দেখছ না, বাইরে কীরকম রমরম করছে জ্যোৎস্না! ওঠো শিগগির।

    রাজকুমারের চোখে তখন রাজ্যের ঘুম, কিন্তু শুয়ে থাকার জো রইল না, উঠে পড়তেই হল।

    অস্মিতার পরনে একটা লাল টুকটুকে শাড়ি, হাওয়ায় লাল আঁচল উড়িয়ে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। অস্মিতার পিছু পিছু চলতে শুরু করে ঘুম-জড়ানো গলায় বলে, ইস, এমন ঘুম-চোখে কি কখনও রাস্তায় বেরিয়ে টো টো করে ঘোরা যায়!

    বনজ্যোৎস্নায় চাপুড়চুপুড় ভিজে অস্মিতা হাঁটতে থাকে বাড়ির উত্তরদিকে। কাল দিকচিহ্ন যাওয়ার পথে দেখে এসেছে তলপা বাঁশের ঝাড়। কী সুন্দর কয়েকটা চারা বেরিয়েছে ঝাড়ের গোড়ায়। সেই চারার অফ হোয়াইট রং দেখে আসা ইস্তক ছটফট করছে তারা আজ কতটা বড়ো হল! আজ পায়ে পায়ে গিয়ে দেখে, ও মা, অফ হোয়াইট রঙে এর মধ্যে কচি কলাপাতার রং। মাথায়ও অনেক বেড়েছে একদিনের ফুরসতে। রাজকুমার বলছিল বাঁশের চারা রোজ নাকি এক হাত করে বাড়ে। অস্মিতা তার ফরসা নরম হাত দিয়ে মাপতে চেষ্টা করে চারাগুলোর উচ্চতা।

    অস্মিতা দ্রুত পায়ে হেঁটে চলেছে জ্যোৎস্নায় রুপোভেজা হয়ে। পার হয়ে যাচ্ছে বারোয়ারিতলা, পার হয়ে যাচ্ছে দুর্গামণ্ডপ, পার হয়ে যাচ্ছে মস্ত অশত্থগাছটার তলা। অনেক ব্যস্ত পা ফেলে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে মস্ত দিঘিটার এক দুরূহ কোণে। এদিকটায় সচরাচর মানুষজন আসে না। এত রাতে তো আসবেই না।

    মাথার উপরে গোল সোনালি রুমালি-রুটির মতো মস্ত চাঁদটা তখন জ্যোৎস্নার গুঁড়ো ছড়াচ্ছে অঝোরে। জ্যোৎস্নার গুঁড়ো তখন মিশে যাচ্ছে দিঘিটার জলে। জ্যোৎস্নায় ভিজছে দুই চেনা, অথচ অচেনা দুই নারী-পুরুষ।

    রাজকুমার বুঝে পাচ্ছে না অস্মিতা এত রাতে, দিঘির তীরে কী করতে চায়!

    অস্মিতা হঠাৎ রাজকুমারের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিতে হাসল, ফিসফিস করে বলল, দিঘিতে স্নান করব।

    এখন! এত রাতে!

    তুমি তো বললে দিনের বেলা স্নান করলে আমার নিন্দে হবে।

    কিন্তু তাই বলে এখন?

    অস্মিতা কোনও কথা না বলে তার পরনের শাড়িটা খুলে ছুড়ে দিল দিঘির কিনারে কলমির ঝোপের দিকে।

    রাজকুমার চমকে উঠল।

    অস্মিতা তখন স্নান করতে মরিয়া। তার পরনের বাকি পোশাকও উড়িয়ে দিল হাওয়ায়, সেগুলো ভাসতে ভাসতে গিয়ে ঠেক খেল গিমে আর বউটুনির শাকের ঝোপে।

    রাজকুমার শিউরে উঠল নগ্ন অস্মিতাকে দেখে। তার সম্পূর্ণ শরীর এই প্র‌থম দেখল। সোনার মতো ঝকঝক করছে। সেই শরীরের ঐশ্বর্য দেখে রাজকুমার থরথর করে কাঁপতে লাগল। তার গলায় তখন স্বর ফুটছে না, ফ্যাঁসফেসে গলায় বলল, অস্মিতা, এত রাতে স্নান কোরো না। তাছাড়া এই দিঘিতে অনেক—

    অস্মিতা তার রুপোভেজা সোনালি শরীর নিয়ে এগিয়ে এল রাজকুমারের দিকে, তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে বলল, তাহলে তুমিই আমাকে স্নান করিয়ে দাও। তুমি নিশ্চয়ই এতদিনে বুঝতে পেরেছ আমি আর পাঁচটা মেয়ের মতো নই। এই জ্যোৎস্না রাতে খোলা আকাশের নীচে আমি অনুভব করতে চাই মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তগুলি। মানুষের যৌন-অনুভূতি জীবনের শ্রেষ্ঠ অনুভূতি। এক স্বর্গীয় অনুভূতি। রাতের অন্ধকারে তাকে কলুষিত করার কোনও মানে হয় না। এসো, এই প্র‌গাঢ় জ্যোৎস্নায় আজ দু’জনে ভিজি। প্র‌বলভাবে ভিজি।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগোয়েন্দা গার্গী সমগ্র – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস – শ্রী কৈলাসচন্দ্ৰ সিংহ প্রণীত

    Related Articles

    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    গোয়েন্দা গার্গী সমগ্র – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }