Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আলো হাতে সেই মেয়েটি – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    তপন বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প228 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    একটি কাঁঠালগাছ ও ঠাকুরদার শেষ স্মৃতি

    সকালের ব্যস্ত মুহূর্তে হিমশিম খাচ্ছি হাতের কাজটা শেষ করতে, হঠাৎই ফোন এল ফুলকাকার, শুনেছিস, ওরা কাঁঠালগাছটা বিক্রি করে দিতে চাইছে।

    কার কাঁঠালগাছ, কোথাকার কাঁঠালগাছ, ফুলকাকা তার কিছুই না বললেও আমি তাঁর কণ্ঠের উৎকণ্ঠা লক্ষ করে বুঝে গেলাম কথাটার অর্থ।

    বহুকাল হল দেশের বাড়ির সঙ্গে আমার বা ফুলকাকার কারও কোনও সম্পর্ক নেই। প্র‌ায় চল্লিশ বছর আগে দুজনে স্কুলের শেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলেজে পড়তে দেশের বাড়ি থেকে চলে এসেছিলাম কলকাতায়। চলে এসেছিলাম ঠিকই, কিন্তু তখনও স্থির ধারণা, যে-মাটিতে আমাদের শিকড় সেখানে ফিরে আসতে হবে কোনও একদিন। কলকাতায় এসে প্র‌ায় প্র‌তিদিনই ফুলকাকা আর আমি আলোচনা করতাম দেশের বাড়ি নিয়ে, রোমন্থন করতাম ফেলে আসা দিনগুলোর স্মৃতি। মনে মনে দিন গুনতাম আবার কবে যাব সেই ফেলে আসা মাটিতে।

    সেই শিকড় তখনও পর্যন্ত বেশ শক্তপোক্ত ছিল কেন না জন্ম থেকেই সেই বাড়িতে আমাদের বসবাস, সেখানেই কাটিয়েছি জীবনের প্র‌থম পনেরোটা বছর, সেই পনেরো বছর মানে জীবনের গড়ে ওঠার সময়, আর কে না জানে প্র‌ত্যেক মানুষের জীবনে শৈশব-কৈশোরই প্র‌কৃত ঐশ্বয, সেই ঐশ্বর্য কোনও মানুষ ভুলতে পারে না আমৃত্যু।

    সেই যে চল্লিশ বছর আগে চলে এসেছিলাম, তার পরে কোনও বছর একবার, কোনও বছর দু-বার দেশের বাড়িতে যেতে হয়েছে নানা কারণে। কখনও আত্মীয়স্বজনের ছেলে বা মেয়ের বিয়েতে, বা তাদের বাচ্চাদের মুখেভাতে। কখনও যে-স্কুলে পড়েছিলাম সেখানকার কোনও উৎসবের আমন্ত্রণে। কলকাতা থেকে দুটো বা তিনটে বাস বদলে প্র‌ায় ঘণ্টাচারেকের পথ হলেও নিজের বাড়িতে যাওয়ার আনন্দই ছিল আলাদা, সেই কারণেই জার্নিটা তেমন কষ্টকর মনে হত না কখনও। বরং কোনও একটা উপলক্ষ্য থাকলে নাচতে নাচতে যেতাম সবাই মিলে। ভিটেবাড়ির গন্ধে যেমন ফিরে পেতাম শৈশব-কৈশোরের দিনগুলি, তেমনই দেখা হত ছোটোবেলার বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে, সারাদিন তাদের সঙ্গে কাটিয়ে সন্ধের বাস ধরে আবার ফিরে আসতাম কলকাতায়। তবে বিয়েটিয়ের অনুষ্ঠান থাকলে রাত্রিটা কাটাতে হত।

    কলকাতায় তখনও নিজেদের কোনও বাড়ি ছিল না, থাকতে হত ভাড়াবাড়িতে। ফলে কলেজের ভর্তির ফর্মে হোক, চাকরির কোনও পরীক্ষার ফর্মে হোক, কিংবা সরকারি কোনও রেকর্ডের প্র‌য়োজনে হোক, অস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে লিখতাম কলকাতার ভাড়াবাড়িটার ঠিকানা, কিন্তু স্থায়ী ঠিকানা লিখতাম দেশের বাড়ির ঠিকানা।

    দেশের বাড়ির ঠিকানা কতদিন যে আমাদের ‘পার্মানেন্ট অ্যাড্রেস’ ছিল তা এখন আর মনে নেই, তবে সম্ভবত কলকাতায় ভাড়াবাড়িতে বহুদিন একটানা থাকার ফলে ও দেশের বাড়িতে যাতায়াত কমে আসার কারণে সেই অস্থায়ী ঠিকানাটিও কোনও একদিন লেখা হয়েছিল স্থায়ী ঠিকানার ঘরে।

    তবু সত্যি বলতে কি দেশের বাড়ির স্মৃতি ও গন্ধ দীর্ঘকাল পরেও ম্লান হয়নি একরত্তিও। পরবর্তীকালে এমন হয়েছে দেশের বাড়িতে যেতে হয়তো পার হয়ে গেল তিন বা চার বছর, কিন্তু সেই বাড়ির অস্তিত্ব গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে মনের ভিতর।

    তবে দীর্ঘদিন পরে কখনও যেই না পৌঁছেছি দেশের বাড়ি, অমনি সেখানকার আত্মীয়স্বজনরা মুহূর্তে হিসেব করে বলে দেয়, এবার তুমি চার বছর পরে এলে!

    চমকে উঠে বলেছি, সে কী! এই তো সেদিন ঘুরে গেলাম, বিয়েবাড়িতে কত হইচই হল!

    যার বিয়েতে এসেছিলাম তার কোলে তখন আড়াই বছরের বাচ্চা, সে হেসে তার বাচ্চাটাকে মেলে ধরল আমাদের সামনে!

    মনে মনে দমে গেলেও হিসেব যেন মেলাতে পারি না কিছুতেই। মনে হত এই তো সেদিন!

    আসলে দেশের বাড়ির সঙ্গে ছোটোবেলার অনেকগুলো বছর লেপ্টে থাকার ফলে এখানকার প্র‌তিটি ধুলোর কণাও যেন আমাদের পরিচিত। বাস থেকে নামতেই পরের পর মিলে যায় সেই অশ্বত্থ গাছ, সেই নদীর বাঁক, সেই রথতলা, সেই কালীবাড়ি, সেই মুচকন্দ ফুলের গাছ।

    ইছামতী নদীর ধারে আমাদের সেই বাড়ির বৃত্তান্তটা একটু বলে নেওয়া যাক। ওপার বাংলা থেকে আমার ঠাকুর্দা সপরিবারে এসে বিখ্যাত নদীটির তীরে একখণ্ড পতিত জমি পরিষ্কার করে প্র‌থমে একটি খড়ের ঘর, তার কয়েক বছর পর টালির বাড়ি, আরও ক-বছর পর শুরু করেছিলেন পাকাবাড়ির গাঁথনি। পাশাপাশি চারখানা ঘর ছিল, তার মাঝের ঘরটিতে ছিল আমার আর ফুলকাকার শোয়া-বসা-পড়া। আমি কখনও পড়ার বই চাপা দিয়ে চুপিচুপি পড়ে ফেলতাম শিশু ও কিশোর সাহিত্যের মন-ভালো-করে দেওয়া বইগুলি। কখনও কবিতা লেখার খাতা খুলে লিখতাম ছন্দ আর মিল দিয়ে লেখা এক-একটি ছড়া। নিজের কৃতিত্বে মশগুল হয়ে থাকতাম কিছুক্ষণ। হঠাৎ ঘোর কেটে গিয়ে মনে হত, এই রে, সামনেই তো পরীক্ষা, এত ফাঁকি দেওয়া মোটেই ভালো কাজ নয়!

    ঠাকুর্দার সামনে তখন এক ভয়ংকর লড়াই তাঁর পরিবারের ভরণপোষণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে। নির্দিষ্ট কোনও চাকরি ছিল না তাঁর। রুজিরোজগারের জন্য ছুটে বেড়াতে হত সারাদিন।

    সতেরো কাঠা জমিটির সদ্ব্যবহার করতে পোঁতা হয়েছিল দুটো নারকেল ও কিছু সুপারির চারা। নানা জাতের আমগাছ বসানো হয়েছিল, তাতে যেমন ফল ধরত, তেমনি দিত ছায়াও। ছিল একটি তেঁতুল গাছ, মাত্র কয়েক বছরে কীরকম বড়ো হয়ে গিয়েছিল ধাঁ ধাঁ করে। যত দূর মনে পড়ে তেঁতুল গাছটা কেউ পোঁতেনি! হয়তো ফেলে দেওয়া কোনও বিচি থেকে হঠাৎই একদিন জন্মেছিল ছোট্ট একটি চারা, তারপর দিনে দিনে ধারণ করেছিল একটি মহিরুহের আদল।

    বাড়ির পিছনদিকে প্র‌ায় সাত-আট কাঠা জমি ছিল যেখানে পোঁতা হয়েছিল নানা ফলফলারির গাছ। বহুবছর ধরে ছিল একটা কলাবাগান, অন্তত পনেরো-কুড়িটা ঝাড় হয়েছিল যাতে সারা বছর বড়ো বড়ো কলার কাঁদিতে ভরে থাকত। পেকে হলুদ হয়ে উঠলে সেই কাঁদি পাড়া হত একটার পর একটা। সে ছিল ভারী উল্লাসের দিন। সেই কলাবাগান একসময় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভারী আপশোস করেছিল বাড়ির সবাই। পরবর্তীকালে সেই জমিতে কখনও আদা, কখনও হলুদ ইত্যাদির চাষ করে আমার ঠাকুর্দা বেশ জমিদারি-জমিদারি অভিব্যক্তি ফোটাতেন মুখে।

    বসানো হয়েছিল একটি জাম ও খুদে জাম গাছ। এক কোণে একটি লিচু গাছ। ছিল একটি ফলসা, গোটা তিনেক পেয়ারা গাছ। তার মধ্যে একটি কাশির পেয়ারা যার ভিতরের শাঁস ছিল চমৎকার লালচে। একটির নাম দিয়েছিলাম বোম্বাই পেয়ারা, তার এক-একটি পেয়ারা এত বড়ো হত যে, ধরত না আমাদের ছোটো ছোটো দুই হাতের মুঠোয়। এক কোণে লতিয়ে বেড়াত একটি করমচা গাছ, সেই করমচা গোটা বিশেক খেলে সকালের বা বিকেলের রুটি খাওয়া থেকে রেহাই নিতাম। একটি সবেদা গাছও একবার পোঁতা হয়েছিল যা বেশিদিন বাঁচেনি।

    বসতবাড়ির সেই জমিতে এরকম একটি ছোটোখাটো ফলবাগিচা ছিল আমাদের ছোট্ট অহংকার।

    ঠাকুর্দা তখন একটু একটু অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, সেসময় হঠাৎ একদিন সস্তায় পেয়ে নিয়ে এসেছিলেন অনেকগুলো নারকেল গাছ। তারপর একটা পুরো দিন ধরে বাড়ির চারপাশে গর্ত খোঁড়া হল, ঠাকুর্দা একটার পর একটা গর্তের ভিতর নিজের হাতে পুঁতলেন নারকেল গাছগুলো। বিকেলের দিকে তাঁকে খুব শ্রান্ত দেখাচ্ছিল, কিন্তু মুখে জ্বলজ্বল করছিল একঝাঁক তৃপ্তির হাসি।

    পরে শুনেছি এতগুলি গাছ তিনি নিজের হাতে পুঁতেছিলেন তার কারণ গ্র‌ামদেশে একটি প্র‌বাদ প্র‌চলিত আছে, নিজের হাতে গাছ পুঁতলে সেই গাছের ফল না খেয়ে কেউ মরে না।

    নারকেল গাছগুলোর অনেকগুলোই চার-পাঁচ বছরের মধ্যে ফল দিয়েছিল, সেদিন ঠাকুর্দার কী আনন্দ!

    আরও একটি গাছ ঠাকুর্দা বসিয়েছিলেন বসতবাড়িটার দক্ষিণদিকে। সেটি একটি কাঁঠাল গাছ। ঠাকুর্দার অসুখ তখন বেশ বাড়াবাড়ির পর্যায়ে। প্র‌ায়ই ডেকে আনতে হচ্ছে সরকারি ডাক্তারকে। এলএমএফ হলেও তিনিই এই এলাকার সবচেয়ে নামী ও দামি ডাক্তার। তিনি প্রে‌সক্রিপশন করছেন আর মৃদু স্বরে বলছেন, ‘কলকাতায় নিয়ে গেলেই ভালো হত।’ কিন্তু তখন আমাদের যা অবস্থা তাতে কলকাতা নিয়ে যাওয়ার জন্য যে-টাকার প্র‌য়োজন তা ছিল না।

    সেই সময় পাড়ার এক শুভানুধ্যায়ী মাসিমা বলেছিলেন, ওঁকে দিয়ে আবার একটা গাছ পোঁতাও। তা হলে যদি—

    কথাটা বাড়ির সবাইকার মনে ধরতে কাকাদের কেউ নিয়ে এসেছিলেন কাঁঠাল গাছের একটি চারা। ঠাকুর্দা তখন প্র‌ায় চলচ্ছত্তিহীন। বিছানাতেই শুয়ে থাকেন বেশিরভাগ সময়। তবু সবাই তাঁকে কথাটা বলতে রাজি হয়েছিলেন চারাটা পুঁততে। বুঝতে পেরেছিলাম সংস্কারটা তাঁর মনেও ছিল প্র‌বলভাবে। সবাই তাঁকে ধরাধরি করে নিয়ে গিয়ে বসতে দিয়েছিলেন একটি মোড়ার উপর, সেখানে বসে কাঁপা কাঁপা হাতে ধরেছিলেন কাঁঠাল চারাটা, তারপর আগে থেকে কেটে রাখা একটি গর্তের মধ্যে চারাটিকে বসিয়ে দিতে আবার তাঁকে ধরাধরি করে নিয়ে আসা হয়েছিল ঘরের ভিতর বিছানায়।

    কিন্তু এবারের উদ্যোগটা আর কাজে লাগেনি। ঠাকুরর্দার অসুখ এমন বাড়াবাড়ি হয়ে গেল যে, আর বেশিদিন ধরে রাখা যায়নি তাঁকে।

    বাবারা পাঁচ ভাই, একে একে চার ভাই রুজিরোজগারের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছিলেন চারদিকে। পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পেয়ে ডেরা বেঁধেছিলেন কেউ কলকাতায়, কেউ শহরতলিতে, কেউ পাশ্ববর্তী জেলায়। ততদিনে সবাই প্র‌ায় সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলেছেন দেশের বাড়ির সঙ্গে।

    একমাত্র রাজুকাকা চাকরি না-জোটাতে পেরে রয়ে গিয়েছিলেন সেই ভিটেবাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ করতে। তাঁর সংসার ভালোমতো চলে না, এ-বাড়ির যা কিছু ফলফসল তাঁরই প্র‌াপ্য। ফলে গাছের ফল ধরলে তিনি সেগুলি বিক্রিবাঁটা করে মেটাতেন তাঁর অভাবের সংসারের চাহিদা।

    আমরা তখন কলকাতায় থাকি বলে এ নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্যও হত না নিজেদের মধ্যে। আমাদের এজমালি সম্পত্তি সামান্য হলেও তিনি আগলাচ্ছেন এটাই ঢের!

    সেই নারকেল গাছগুলো তখন বিশাল বিশাল আকার ধারণ করেছে, তার ডগায় ঝুলতে থাকে কখনও ডাব, কখনও দুম্বো, কখনও ঝুনো। আমরা বহুদিন পর পর দেশের বাড়িতে গেলে রাজুকাকা ব্যস্ত হয়ে বলতেন, ‘দাঁড়া, ক-টা ডাব পাড়াই।’ সেই ডাব লোক দিয়ে পাড়িয়ে কেটে আমাদের সামনে ধরতেন, স্টর‌ ছাড়াই মুখ লাগিয়ে সেই জল ঢক ঢক করে খেলে খুব খুশি হতেন রাজুকাকা। যেন এ-বাড়ির সব কিছুরই উপর আমাদেরও তো সমান অধিকার।

    হঠাৎ একদিন শুনেছিলাম বিশাল জামগাছটা নাকি কাকা ফড়ে ডেকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন নামমাত্র দামে। জামগাছটার উপর ছিল আমার আশৈশব দুর্বলতা। তখন নিতান্তই শিশু ছিল জামগাছটা, বৈশাখ মাস আসতে না আসতে তার কচি ডালগুলো ভরে উঠত টোপা টোপা জামে। কুচকুচে কালো সেই জামের খোসা সরাতেই নধর আর ঘন বেগুনি রঙের মিষ্টি শাঁস। আমি অনায়াসে তার নীচের ডালটা ধরে ঝুলে পড়ে এক হেঁচকায় উঠে পড়তাম উপরে, ডাল বেয়ে বেয়ে অনেকখানি উপরে উঠে বেশ জমিয়ে বসে একটার পর একটা জাম পাড়তাম, আর মুখে ফেলতাম টকাটক। ঘণ্টাখানেক ধরে চলত এই অসাধারণ অ্যাডভেঞ্চার। যখন নীচে নামতাম, আমার জিব ততক্ষণে ধারণ করেছে বেগুনিবর্ণ, আর গাছের নীচে ছড়িয়ে আছে বৃষ্টির ফোঁটার মতো অজস্র‌ জামবিচি।

    সেই জামগাছটা খুবই ঝাঁকড়া আর বড়ো হয়ে গিয়েছিল, তার ডালে চড়ার কোনও প্রশ্নই নেই, তবু সেটির বিক্রি খবর পেয়ে কেউই খুশি হতে পারিনি।

    কিন্তু রাজুকাকাই বা করবেন কী! তাঁর কোনও নির্দিষ্ট রোজগার না-থাকায় হঠাৎ কিছু টাকার দরকার হলে এরকম করে মেটাতেন সেই অভাব।

    এমনি করে একদিন কাটা পড়ল খুদে জাম গাছ।

    বিশাল একটা তেঁতুলগাছ ছিল সেটাও হঠাৎ বিক্রি করে দিয়ে রাজুকাকা বলেছিলেন, তেঁতুল তো কোনও কাজেই লাগে না আমাদের!

    সেবার আমি আর ফুলকাকা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতাম বিষয়টা আর বলতাম, যেমন একটা গাছ কাটা হয়ে গেল, তার পরিবর্তে আরও ক-টা নতুন গাছ তো পুঁততে পারে রাজুকাকা! তা হলে কালে কালে সেগুলো আবার বড়ো হতে পারে, ফল ধরতে পারে!

    অত বড়ো তেঁতুলগাছটা কেটে ফেলা মানে পিছনদিকের বাগানটা আর চেনাই যাবে না! তেঁতুল গাছটা তার বিশাল ঝাঁকড়া চুল নিয়ে আজ কত্ত বছর দাঁড়িয়ে ছিল বাগানে! আমাদের সেই ছোটোবেলার কত দৌরাত্মেরর সাক্ষী ছিল সে।

    আমি আর ফুলকাকা বলাবলি করতে থাকি, এভাবে একটি-একটি করে সব ক-টা বড়ো গাছ কাটা হয়ে গেলে আমাদের বাড়ির সেই ছায়াসুনিবিড় চেহারাটাই যাবে বদলে।

    কিন্তু কলকাতায় বসে তো কোনও সুরাহাও করতে পারব না এই বৃক্ষনিধনপর্বের।

    ইতিমধ্যে রাজুকাকা গত হয়েছেন, সেখানে বসবাস করছে তাঁর দুই পুত্র রিভু আর বিভু। তারা ইতিমধ্যে বিয়ে-থা করে সংসারও করছে স্ত্রী-ছেলেমেয়ে নিয়ে। সমস্যা হচ্ছে তাদের দুজনের রোজগারও তেমন আহামরি নয়, ফলে বাড়িটি মেরামত করার মতো অবস্থাও তাদের নেই, তেমনই রক্ষণাবেক্ষণ করে না সেই ফলবাগিচার।

    আমরা কলকাতায় বসে মাঝেমধ্যে ক্ষোভ প্র‌কাশ করি রিভু-বিভুর উদ্দেশে, বলাবলি করি, এতটা জমি শুধু-শুধু পড়ে আছে, কিছু নতুন গাছগাছালি তো লাগাতে পারে। তাতে তাদেরই তো সুসার হয়! আমরা তো আর কেউ ও-বাড়িতে যাচ্ছি না ভাগ নিতে।

    এরকম আলোচনার দিনে একদিন রিভু-বিভু কলকাতায় চলে এল আমার ফুলকাকার সঙ্গে কী জরুরি কথা বলতে। এ-কথা সে-কথার পর বলল, তোমরা তো কেউ আর দেশের বাড়িতে যাও-টাও না, এখন তো আমরা দুই ভাই থাকি। শুনছি নাকি সেটেলমেন্ট থেকে নতুন রেকর্ড হবে আমাদের গাঁয়ের জমি, তা—

    বলে কথায় একটু যতি দিয়ে বলল, আমাদের বাড়ির জমিটা যদি আমাদের দু-ভায়ের নামে না-দাবি লিখে দাও, তাহলে বাড়িটা আমাদের নামে রেকর্ড হয়।

    প্র‌স্তাবটা এমনই অপ্র‌ত্যাশিত যে, আমি আর ফুলকাকা দুজনেই কিছুক্ষণ বুঝে উঠতে পারলাম না বিষয়টা। পরক্ষণে বললাম, তা কী করে হবে!

    আমাদের চোখে অপার বিস্ময় দেখে হয়তো রিভু-বিভুর চোখেও বিস্ময়ের সরোবর। একটু থেমে বলল, তোমাদের তো এদিকে বাড়িঘর হয়ে গেছে, কেউ আর দেশের বাড়ি থাকতে যাবে না কখনও, তা হলে না-দাবি লিখে দিতে আপত্তি কেন?

    ফুলকাকাই বলল, শুধু তোদের দুজনের নামে বাড়ি হলে বাড়তি কী সুবিধে হবে তোদের? বরং যেরকম আছে সেরকমই থাকুক না! পাঁচ ভাইয়ের এজমালি সম্পত্তি। শুধু তোরা থাকিস ওখানে। তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না! চার ভাইয়ের এখন অনেক উত্তরাধিকারী। তাদের কার কী মত তা তো বলতে পারব না! এখন সবাইকার মতামত জোগাড় করাই হবে কঠিন। সবাই এক জায়গায় বসে আলোচনা না করলে এত বড়ো একটা সিদ্ধান্ত শুধু আমরা দুজন নিতে পারব না। বরং যেমন আছে তেমনই থাকুক।

    রিভু-বিভু মুখ কালো করে ফিরে গেল দেশের বাড়িতে। আমি আর ফুলকাকা বুঝে উঠতে পারলাম না রিভু-বিভুকে এভাবে ফিরিয়ে দেওয়া ঠিক হল কি না!

    কিন্তু যে-কথাটা আমরা উচ্চারণ করতে পারলাম না তা হল দেশের বাড়ির ভিটেমাটিতে আমরা কখনও ফিরে যাব না, তার মালিকানাও দাবি করব না কখনও, কিন্তু সেই ভিটেবাড়ি থেকে এত দূরে বসবাস করেও প্র‌তি মুহূর্তে সেই বাড়িটার উপর কী অপরিসীম মমত্ব অনুভব করি। সেই সতেরো কাঠা জমির মধ্যে আজও রয়ে গেছে আমাদের শৈশব-কৈশোর। এখনও যত বছর পরেই সেখানে যাই না কেন, সেই জমিটার ভিতর এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে পা দিই, ঘুরে ঘুরে দেখি কোথায় সেই লতার আমগাছটা, এখনও তাতে প্র‌তি বছর আম হচ্ছে কি না! কোথায় সেই বিশাল গাম্বুল গাছটা! সেই ইছামতীতে আজও জোয়ার-ভাটা খেলে কি না! স্নান করার জন্য যে চৌবাচ্চাটা করা হয়েছিল, তার চাতালটা আরও কতখানি ভেঙে গেছে!

    যে-ঘরগুলোয় আমরা থাকতাম, যে-ঘরের মধ্যে জড়িয়ে আছে আমাদের প্র‌তিদিনকার স্মৃতি, সেই ঘরগুলি আর সেভাবে মেরামত না হওয়ায়, একটু একটু করে ধসে পড়েছে তার কয়েকটা দেওয়াল। চারখানা ঘর ভেঙেটেঙে এখন সেখানে অস্তিত্ব আড়াইখানা ঘরের। বাড়িটা পুরনো আর ঝরঝরে হয়ে গেলেও সতেরো কাঠার উপর অতি যত্নে তৈরি করার বাগানটার কিছুটা তো আছে! আজও বাড়ির চারদিকে প্র‌হরীর মতো রয়ে গেছে নারকেল গাছগুলি। আর ঠাকুর্দার পুঁতে যাওয়া সেই কাঁঠালগাছটাও।

    সেই কাঁঠালগাছটা বিক্রি করতে চাইছে শুনে ভিতরে ভিতরে বেশ বিদ্রোহ হয় আমার মনে। কাঁঠালগাছটা যেদিন পোঁতা হয়েছিল সেই দিনটা আজও স্পষ্ট মনে আছে আমার। গাছটা বসানোর মুহূর্তে ঠাকুর্দার অভিব্যক্তিতে দেখেছিলাম এক অদ্ভুত আলো। ডাক্তার তখন প্র‌ায় ‘জবাব’ দিয়ে গেছেন, কিন্তু সে-কথা তাঁকে বলা হয়নি, তাই মৃত্যুপথযাত্রীরও যেমন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা থাকে হয়তো কোনও অলৌকিক শক্তিতে বেঁচে উঠবেন, শুরু করবেন নতুন জীবন, তেমনই ঠাকুর্দার বলিরেখাময় মুখ থেকে ঠিকরে বেরোচ্ছিল এক আশ্চর্য আলোর রশিম, তাঁতে প্র‌তিফলিত নতুন করে বাঁচার প্রে‌রণা।

    আজ এতদিন পরে সেই কাঁঠালগাছ কেটে ফেলার পরিকল্পনা করেছে রিভু-বিভু, তাতে কি কখনও সায় দিতে পারি আমরা!

    আমাদের আপত্তি জানানোর আগেই খবর পেয়ে যাই কাঁঠালগাছটা বিক্রি হয়ে গেছে। একজন ফড়ে তার শিকড়সুদ্ধ কেটে নিয়ে গেছে ভ্যানবোঝাই করে।

    এক মুহূর্তে বাড়ির সামনে, দক্ষিণ দিকের সেই কাঁঠালগাছটার বিশাল শূন্যতা বিশালতর হয়ে ওঠে আমার চোখের সামনে। যেন বাড়িটার একটা আব্রু ছিল, হঠাৎ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে সেই আব্রু। সেই সঙ্গে বিপন্ন হয়ে গেল আমাদের শৈশব-কৈশোরের অস্তিত্বও। লোপ পেয়ে গেল ঠাকুর্দার জীবনের শেষ দিনগুলোর স্মৃতিও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগোয়েন্দা গার্গী সমগ্র – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস – শ্রী কৈলাসচন্দ্ৰ সিংহ প্রণীত

    Related Articles

    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    গোয়েন্দা গার্গী সমগ্র – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }