Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া – ১

    বিদায়া ওয়ান নিহায়া এক পাতা গল্প1327 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৮. ইসহাক ইব্‌ন ইবরাহীম (আ)

    ইসহাক ইবন ইবরাহীম (আ)

    পূর্বেই বলা হয়েছে যে, হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর একশ’ বছর বয়সকালে এবং ইসমাঈল (আ)-এর জন্মের চৌদ্দ বছর পর ইসহাক (আ)-এর জন্ম হয়। তাঁর মাতা সারাহকে যখন পুত্র হওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয় তখন তাঁর বয়স ছিল নব্বই বছর। আল্লাহ্ বলেনঃ

    (وَبَشَّرۡنَـٰهُ بِإِسۡحَـٰقَ نَبِیࣰّا مِّنَ ٱلصَّـٰلِحِینَ ۝ وَبَـٰرَكۡنَا عَلَیۡهِ وَعَلَىٰۤ إِسۡحَـٰقَۚ وَمِن ذُرِّیَّتِهِمَا مُحۡسِنࣱ وَظَالِمࣱ لِّنَفۡسِهِۦ مُبِینࣱ)[Surat As-Saaffat 112 – 113]

    অর্থাৎ, আমি ইব্রাহীমকে ইসহাকের সু-সংবাদ দিয়েছিলাম সে ছিল একজন নবী ও সৎকর্ম পরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত। আমি ইবরাহীমের প্রতি ও ইসহাকের প্রতি বরকত দান করেছিলাম। তাদের বংশধরদের মধ্যে কতক সৎকর্মশীল এবং কতক নিজেদের প্রতি স্পষ্ট অত্যাচারী। (৬৭:১১২-১১৩)

    আল্লাহ্ কুরআনের অনেক আয়াতে ইসহাক (আ)-এর প্রশংসা করেছেন। আবু হুরায়রা (রা) বর্ণিত এ মর্মের হাদীসে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ একজন সম্মানিত ব্যক্তি, যার পিতাও ছিলেন সম্মানিত, তার পিতাও ছিলেন সম্মানিত এবং তাঁর পিতাও ছিলেন সম্মানিত। তিনি হলেন ইউসুফ ইবন ইয়াকূব ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহীম। আহলি কিতাবগণ বলেন, ইসহাক (আ) তাঁর চল্লিশ বছর বয়সে পিতার জীবদ্দশায় রুফাকা বিনত বাৎওয়াইলকে বিবাহ করেন। রুফাকা ছিলেন বন্ধ্যা। তাই ইসহাক (আ) সন্তানের জন্যে আল্লাহর কাছে দু’আ করেন। এরপর স্ত্রী সন্তান-সম্ভবা হন এবং তিনি জময দুই পুত্র সন্তান প্রসব করেন। তাদের প্রথমজনের নাম রাখা হয় ‘ঈসূ’ যাকে আরবরা ‘ঈস’ বলে ডাকে। এই ঈস হচ্ছেন রূমের পিতা। দ্বিতীয় সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার সময় থেকে তার ভাইয়ের পায়ের গোড়ালি আঁকড়ে থাকতে দেখা যায়। এই কারণে তার নাম রাখা হয় ইয়াকূব। কেননা এ শব্দটির মূল ধাতু (عقب) অর্থ গোড়ালি বা পশ্চাতে আগমনকারী। তাঁর অপর নাম ইসরাঈল, যার নামে বনী-ইসরাঈল বংশের নামকরণ করা হয়েছে।

    কিতাবীগণ বলেন, হযরত ইসহাক (আ) ইয়াকুবের তুলনায় ঈসূকে অধিকতর ভালবাসতেন; কারণ তিনি ছিলেন প্রথম সন্তান। পক্ষান্তরে তাদের মা রুফাকা ইয়াকূবকে বেশি ভালবাসতেন; কেননা, তিনি ছিলেন কনিষ্ঠ। ইসহাক (আ) যখন বয়োবৃদ্ধ হন এবং তার দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়, তখন তিনি পুত্র ঈসের নিকট একটি উত্তম আহার্য চান। তিনি একটি পশু শিকার করে রান্না করে আনার জন্যে দলকে নির্দেশ দেন। যা আহার করে তিনি তার জন্যে বরকত ও কল্যাণের দুআ করবেন। ঈস শিকার কাজে পারদর্শী ছিলেন। তাই তিনি শিকারে বেরিয়ে পড়লেন। এদিকে রুফাকা তার প্রিয় পুত্র ইয়াকূবকে পিতার দু’আ লাভের জন্যে পিতার চাহিদা অনুযায়ী দুটি উৎকৃষ্ট ছাগল ছানা যবেহ করে খাদ্য প্রস্তুত করে ভাইয়ের পূর্বেই পিতার সম্মুখে পেশ করার আদেশ দেন। খাদ্য তৈরি হবার পর মা রুফাকা ইয়াকুবকে ঈসের পোশাক পরিয়ে দেন এবং উভয় হাতে ও কাঁধের উপরে ছাগলের চামড়া জড়িয়ে দেন। কারণ ঈসের শরীরে বেশি পরিমাণ লোম ছিল, ইয়াকূবের শরীরে সেরূপ লোম ছিল না। তারপর যখন খাদ্য নিয়ে ইয়াকূব পিতার কাছে হাযির হলেন তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কে? উত্তরে তিনি বললেনঃ আপনার ছেলে। তখন পিতা তাকে কাছে টেনে নেন ও আলিঙ্গন করেন। তবে তিনি মুখে ব্যক্ত করলেন যে, কণ্ঠস্বর তো ইয়াকুবের মত কিন্তু শরীর ও পোশাক ঈসের বলে মনে হয়। আহার শেষে তিনি দুআ করলেন যে, ভাইদের মধ্যে তিনি যেন অধিকতর ভাগ্যবান হন, ভাইদের উপরে ও পরবর্তী বংশধরদের উপরে যেন তাঁর নির্দেশ ও প্রভাব কার্যকরী হয় এবং তিনি অধিক পরিমাণ জীবিকা ও সন্তানের অধিকারী হন।

    পিতার নিকট থেকে ইয়াকূব চলে আসার পর তাঁর ভাই ঈস সেই খাদ্য নিয়ে পিতার কাছে হাযির হন যা খাওয়ানোর জন্যে তিনি তাকে আদেশ করেছিলেন। পিতা জিজ্ঞেস করলেন, বৎস! এ আবার তুমি কি নিয়ে এসেছ? ঈস বললেনঃ এতো সেই খাদ্য যা আপনি খেতে চেয়েছিলেন। পিতা বললেন, এই কিছুক্ষণ পূর্বে কি তুমি খাদ্য নিয়ে আসনি এবং তা আহার করে কি তোমার জন্যে আমি দুআ করিনি? ঈস বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমি আসিনি। তিনি তখন বুঝতে পারলেন যে, ইয়াকূবই আমার আগে এসে এ কাজ করে গেছে। তিনি ইয়াকূবের উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হলেন। কিতাবীদের বর্ণনা মতে, এমনকি পিতার মৃত্যুর পর তাকে হত্যা করার হুমকিও দেন। তারপর পিতার নিকট দু’আ চাইলে পিতা তার জন্যে ভিন্ন দুআ করেন। তিনি দু’আ করলেন যেন ঈসের সন্তানরা শক্ত যমীনের অধিকারী হয়, তাদের জীবিকা ও ফল-ফলাদি যেন বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। ইয়াকূব (আ)-এর প্রতি ঈসের হুমকির কথা তাদের মা’র শ্রুতিগোচর হলে তিনি ইয়াকুব (আ)-কে তার ভাই অর্থাৎ ইয়াকুবের মামা লাবানের কাছে চলে যেতে নির্দেশ দেন। লাবান হারানে বসবাস করতেন। ঈসের ক্রোধ প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার জন্যে তিনি তাকে পরামর্শ দেন। এ ছাড়া তিনি লাবানের কন্যাকে বিয়ে করতেও তাকে বলে দেন। এরপর তিনি তাঁর স্বামী ইসহাক (আ)-কে এ ব্যাপারে অনুমতি ও প্রয়োজনীয় উপদেশ দান এবং তার জন্য দু’আ করতে বলেন। হযরত ইসহাক তাই করলেন। ইয়াকূব (আ) ঐ দিন বিকেলেই তাদের কাছ থেকে বিদায় নেন। তারপর যেখানে পৌঁছলে সন্ধ্যা হয় সেখানে একটি পাথর মাথার নিচে রেখে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখেন, যমীন থেকে আসমান পর্যন্ত একটি সিঁড়ি স্থাপিত রয়েছে। ফেরেশতাগণ সেই সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করছেন। আর আল্লাহ তাকে ডেকে বলছেনঃ আমি তোমাকে বরকতে পরিপূর্ণ করব, তোমার সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করব, তোমাকে ও তোমার বংশধরদেরকে এই যমীনের অধিকারী বানাব। ঘুম থেকে জেগে এরূপ একটি স্বপ্নের জন্যে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং মানত করেন যে, আল্লাহ যদি আমাকে নিরাপদে পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেন তাহলে এই স্থানে আল্লাহর উদ্দেশে একটি ইবাদতখানা নির্মাণ করব; যা কিছু রিযিক পাব তার এক-দশমাংশ আল্লাহর রাহে দান করব। তারপর সেই পাথরটি চেনার সুবিধার্থে তার উপর কিছু তেল ঢেলে দেন। তিনি এই স্থানের নাম রাখেন বায়তুল অর্থাৎ বায়তুল্লাহ। এটাই বর্তমান কালের বায়তুল মুকাদ্দাস যা হযরত ইয়াকূব (আ) পরবর্তীকালে নির্মাণ করেছিলেন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পরে আসবে।

    আহলি কিতাবগণ আরো বলেন যে, হযরত ইয়াকূব (আ) হারানে পৌঁছে মামার কাছে উপস্থিত হন। মামা লাবানের ছিল দুই কন্যা। বড়জনের নাম লায়্যা এবং ছোটজনের নাম রাহীল। রূপ-লাবণ্যে ছোটজনই শ্রেষ্ঠ। তাই ইয়াকূব মামার কাছে ছোটজনকে বিবাহ করার প্রস্তাব দেন। মামা এই শর্তে বিবাহ দিতে রাযী হন যে, সাত বছর পর্যন্ত তাঁর মেষ পালের দেখাশোনা করতে হবে। সাত বছর অতীত হবার পর লাবান বিবাহের আয়োজন করেন। লোকজনকে দাওয়াত দেন এবং আপ্যায়িত করেন এবং রাতে জ্যেষ্ঠ কন্যা লায়্যাকে ইয়াকুবের নিকট বাসরঘরে প্রেরণ করেন। লায়্যা দেখতে কুৎসিত ও ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি-সম্পন্না ছিলেন। সকাল বেলা ইয়াকূব তাঁর কাছে লায়্যাকে দেখতে পেয়ে মামার নিকট অভিযোগ করলেন যে, আপনি কেন আমার সাথে প্রতারণা করলেন? আমি তো আপনার কাছে রাহীলের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। উত্তরে মামা বললেন, এটা আমাদের সামাজিক রীতি নয় যে, জ্যেষ্ঠা কন্যাকে রেখে কনিষ্ঠা কন্যাকে বিয়ে দেব। এখন যদি তুমি এর বোনকে বিয়ে করতে চাও তবে আরও সাত বছর কাজ কর, তাহলে তাকেও তোমার সাথে বিয়ে দেব। সুতরাং ইয়াকূব (আ) আরও সাত বছর কাজ করলেন। তারপর তিনি তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যার সাথে কনিষ্ঠ কন্যাকেও ইয়াকুব (আ)-এর কাছে বিয়ে দেন। এরূপ দুই কন্যাকে একই ব্যক্তির সাথে বিবাহ দেওয়া তাদের শরীআতে বৈধ ছিল। পরবর্তীকালে তাওরাতের মাধ্যমে এ বিধান রহিত হয়ে যায়। এই একটি দলীলই রহিত হবার জন্যে যথেষ্ট। কেননা, হযরত ইয়াকূব (আ)-এর কর্মই এটা বৈধ ও মুবাহ হওয়ার প্রমাণবহ। কারণ, তিনি ছিলেন মাসূম বা নিস্পাপ। লাবান তাঁর উভয় কন্যার সাথে একটি করে দাসী দিয়েছিলেন। লায়্যার দাসীর নাম ছিল যুলফা এবং রাহীলের দাসীর নাম ছিল বালহা। লায়্যার যে ঘাটতি ছিল আল্লাহ তাকে কয়েকটি সন্তান দান করে সে ঘাটতি পূরণ করেন। সুতরাং লায়্যার গর্ভে ইয়াকূব (আ)-এর প্রথম সন্তান রূবীল দ্বিতীয় সন্তান শাউন, তৃতীয় সন্তান লাবী এবং চতুর্থ সন্তান য়াহুযা। রাহীলের কোন সন্তান হত না, তাই তিনি ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়লেন এবং নিজের দাসী বালহাকে ইয়াকূব (আ)-এর কাছে সমর্পণ করলেন। ইয়াকূব (আ) দাসীর সাথে মিলিত হলে এক পুত্র সন্তান জন্ম হয়। নাম রাখা হয় দান। বালহা দ্বিতীয়বার গর্ভ ধারণ করে এবং দ্বিতীয়বারও পুত্র সন্তান জন্ম হয়। এর নাম রাখা হয় নায়ফতালী। এবার লায়্যাও তাঁর দাসী যুলফাকে ইয়াকূব (আ)-এর কাছে সমর্পণ করেন। যুলফার গর্ভেও দুই পুত্র সন্তানের জন্ম হয়; একজনের নাম হাদ এবং অপরজনের নাম আশীর। তারপর লায়্যা নিজেও সন্তান-সম্ভবা হন এবং পঞ্চম পুত্রের মা হন। এ পুত্রের নাম রাখা হয় আয়সাখার। পুনরায় লায়্যা গর্ভবতী হলে ষষ্ঠ পুত্রের জন্ম হয় যার নাম রাখা হয় যাবিলূন। এরপর তিনি সপ্তম সন্তানরূপে এক কন্যা সন্তান প্রসব করেন যার নাম রাখা হয় দিনা। এভাবে লায়্যার গর্ভে ইয়াকূব (আ)-এর সাত সন্তানের জন্ম হয়। তারপর স্ত্রী রাহীল একটি পুত্র সন্তানের জন্যে আল্লাহর কাছে দু’আ করেন। আল্লাহ্ তাঁর প্রার্থনা কবুল করেন। ফলে আল্লাহর নবী ইয়াকূব (আ)-এর ঔরসে তার গর্ভে এক সুন্দর সুশ্রী মহান পুত্র সন্তান জন্মলাভ করেন যার নাম রাখা হয় ইউসুফ।

    এ পরিবারের সকলেই হারানে বসবাস করতে থাকেন। ইয়াকূব (আ) মামার উভয় কন্যাকে বিবাহ করার পর আরও ছয় বছর পর্যন্ত তাঁর মেষ চরান। অর্থাৎ সর্বমোট বিশ বছর তিনি মামার কাছে অবস্থান করেন। তখন হযরত ইয়াকূব (আ) নিজ পরিবারবর্গের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্যে মামার কাছে অনুমতি চান। মামা তাঁকে বললেন, তোমার কারণে আমার ধন-সম্পদে অনেক বরকত হয়েছে। অতএব, আমার সম্পদের যে পরিমাণ ইচ্ছে, তুমি আমার কাছে চেয়ে নাও। ইয়াকূব (আ) বললেন, তাহলে এই বছরে আপনার বকরীর যতগুলো বাচ্চা হবে তা থেকে যেগুলোর রং হবে সাদা-কালো ফোঁটা বিশিষ্ট, সাদা-কালো মিশ্রিত, কালো অংশ বেশি ও সাদা অংশ কম কিংবা মাথার দু’দিকে টাকপড়া সাদা এ জাতীয় বাচ্চাগুলো আমাকে দিন। মামা তার দাবি মেনে নেন। সে মতে মামার ছেলেরা পিতার মেষ-পাল থেকে এ জাতীয় বকরীগুলো বেছে বেছে আলাদা করে নিলেন এবং সেগুলোকে পিতার মেষপাল থেকে তিন দিনের দূরত্বে নিয়ে যান। যাতে করে ঐ জাতীয় বাচ্চা জন্ম হতে না পারে। এ দেখে ইয়াকূব (আ) সাদা রং-এর তাজা বাদাম ও দালাব নামক ঘাস সংগ্রহ করলেন এবং সেগুলো ছিড়ে ঐসব বকরীর খাওয়ার পানিতে ফেললেন। উদ্দেশ্য এই যে, বকরী ঐ দিকে তাকালে ভীত হবে এবং পেটের মধ্যের বাচ্চা নড়াচড়া করবে। ফলে সে সব বাচ্চা উপরোক্ত রং-বিশিষ্ট হয়ে জন্মাবে। বস্তুত এটা ছিল একটি অলৌকিক ব্যাপার এবং ইয়াকুব নবীর অন্যতম মুজিযা। এভাবে নবী ইয়াকূব (আ) প্রচুর সংখ্যক বকরী, পশু ও দাস-দাসীর মালিক হন এবং এ কারণে তার মামার ও মামার ছেলেদের চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায়, যেন ইয়াকূব (আ)-এর কারণে তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

    আল্লাহ্ ওহীযোগে ইয়াকূব (আ)-কে নির্দেশ দেন যে, তুমি তোমার জন্মভূমিতে নিজ জাতির কাছে চলে যাও। এ সময় আল্লাহ্ তাকে সাহায্যের আশ্বাস প্রদান করেন। অতঃপর ইয়াকূর্ব (আ) নিজ স্ত্রী-পুত্র-পরিজনের কাছে বিষয়টি পেশ করেন। তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর আনুগত্যের পক্ষে সাড়া দেন। সুতরাং ইয়াকূব (আ) তার পরিবারবর্গ ও ধন-সম্পদ সাথে নিয়ে রওয়ানা হয়ে পড়েন। আসার সময় স্ত্রী রাহীল তার পিতার মূর্তিসমূহ লুকিয়ে নিয়ে আসেন। তারা যখন ঐ এলাকা অতিক্রম করেন তখন লাবান (রাহীলের পিতা) ও তাঁর সম্প্রদায় তাদের কাছে এসে উপস্থিত হন। লাবানকে না জানিয়ে আসার জন্যে তিনি ইয়াকূব (আ)-কে মৃদু ভর্ৎসনা করে বললেন, আমাকে জানিয়ে আসলে ধুমধামের সাথে কন্যাদের ও তাদের সন্তানদের বিদায় সম্বর্ধনা জানাতে পারতাম। ঢোল-তবলা ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে আমোদ-ফুর্তি করে বিদায় দিতাম। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমার মূর্তি কেন নিয়ে এসেছ? মূর্তির ব্যাপারে ইয়াকুব (আ) কিছুই জানতেন না। তাই তিনি অস্বীকার করে বললেন, আমরা তো মূর্তি আনিনি। লাবান তাঁর কন্যা ও দাসীদের অবস্থান স্থল ও জিনিসপত্র তল্লাশি করলেন কিন্তু কিছুই পেলেন না। রাহীল ঐ মূর্তিটি নিজ বাহনের পৃষ্ঠদেশে বসার স্থানে গদির নীচে রেখে দিয়েছিলেন। তিনি সে স্থান থেকে উঠলেন না এবং ওযর পেশ করে জানালেন যে, তিনি ঋতুবতী। সুতরাং তিনি তা উদ্ধার করতে ব্যর্থ হলেন।

    অবশেষে শ্বশুর-জামাতা উভয়ে তথায় অবস্থিত জালআদ নামক একটি টিলার কাছে পরস্পরে এ মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন যে, ইয়াকূব (আ) সাবানের কন্যাদেরকে ত্যাগ করবেন না এবং তাদের বর্তমানে অন্য কাউকে বিয়ে করবেন না এবং এই টিলা অতিক্রম করে লাবান ও ইয়াকূব কেউই অন্যের দেশে যাবেন না। অতঃপর খাবার পাক হল। উভয় পক্ষ একত্রে আহার করলেন এবং একে অপরকে বিদায় জানিয়ে প্রত্যেকে স্ব-স্ব দেশের পানে যাত্রা করলেন। ইয়াকুব (আ) সাঈর এলাকা পর্যন্ত পৌঁছলে ফেরেশতাগণ এসে তাকে অভ্যর্থনা জানান। ইয়াকূব (আ) সেখান থেকে একজন দূতকে তার ভাই ঈসের নিকট প্রেরণ করেন, যাতে ভাই তাঁর প্রতি সদয় হন এবং কোমল আচরণ করেন। দূত ফিরে এসে ইয়াকূব (আ)-কে এই সংবাদ দিল যে, ঈস চারশ’ পদাতিক সৈন্যসহ আপনার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ সংবাদ পেয়ে ইয়াকুব (আ) ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। আল্লাহর কাছে দুআ করেন, সালাত আদায় করেন, কাকুতি-মিনতি জানান এবং ইতিপূর্বে প্রদত্ত সাহায্যের প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করেন এবং ঈসের অনিষ্ট থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। এছাড়া তিনি তার ভাইকে দেয়ার জন্যে বিপুল পরিমাণ উপঢৌকন তৈরি রাখলেন। উপঢৌকনের মধ্যে ছিল দু’শ ছাগী, বিশটা ছাগল, দু’শ’ ভেড়ী, বিশটা ভেড়া, ত্রিশটা দুধেল উটনী, চল্লিশটা গাই, দশটি ষাঁড়, বিশটি গাধী ও দশটা গাধা। তারপর তিনি এ পশুগুলোর প্রত্যেক শ্রেণীকে আলাদা আলাদাভাবে হাঁকিয়ে নেওয়ার জন্যে রাখালদেরকে নির্দেশ দেন এবং এর এক-একটি শ্রেণী থেকে আর একটি শ্রেণীর মাঝে দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এরপর তাদেরকে বলে দেন যে, ঈসের সাথে প্রথমে যার সাক্ষাৎ হবে এবং ঈস বলবেন, তুমি কার লোক এবং এ পশুগুলো কার? তখন উত্তর দিবে, আপনার দাস ইয়াকুবের। মনিব-ঈসের জন্যে তিনি এগুলো হাদিয়াস্বরূপ পাঠিয়েছেন। এরপর যার সাথে দেখা হবে এবং তার পরে যার সাথে সাক্ষাৎ হবে সবাই ঐ একই উত্তর দিবে। আর তোমরা প্রত্যেকেই এ কথা বলবে যে, তিনি আমাদের পেছনে আসছেন।

    সবাইকে বিদায় করার দুইদিন পর ইয়াকূব (আ)-সহ তার দুই স্ত্রী, দুই দাসী এবং এগারো পুত্র যাত্রা শুরু করেন। তিনি রাত্রিকালে পথ চলতেন এবং দিনের বেলা বিশ্রাম নিতেন। যাত্রার দ্বিতীয় দিন প্রভাতকালে ইয়াকূব (আ)-এর সম্মুখে জনৈক ফেরেশতা মানুষের আকৃতিতে দেখা দেন। ইয়াকূব (আ) তাঁকে একজন পুরুষ মানুষ বলে ধারণা করেন। ইয়াকূব (আ) তাঁকে পরাস্ত করার জন্যে অগ্রসর হন এবং ধস্তাধস্তির মাধ্যমে বাহ্যিক দৃষ্টিতে ইয়াকূব (আ) জয়ী হন। তবে ফেরেশতার দ্বারা ইয়াকূব (আ) তাঁর উরুতে আঘাত প্রাপ্ত হন। তখন তিনি খোঁড়াতে থাকেন। প্রভাতের আলো ফুটে উঠলে ফেরেশতা ইয়াকূব (আ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার নাম কি? উত্তরে তিনি বললেন, আমার নাম ইয়াকূব (আ)। ফেরেশতা বললেন, এখন থেকে আপনার নাম হবে ইসরাঈল। ইয়াকূব (আ) জিজ্ঞেস করলেন, আপনার পরিচয় কি এবং আপনার নাম কি? প্রশ্ন করার সাথেই ফেরেশতা অদৃশ্য হয়ে গেলেন। তখন ইয়াকূব (আ) বুঝতে পারলেন যে, ইনি ফেরেশতা। পায়ে আঘাত পেয়ে ইয়াকূব (আ) খোঁড়া হয়ে আছেন। বনী-ইসরাঈলগণ এ কারণে উরু-হাঁটুর মাংসপেশী খান না।

    তারপর ইয়াকূব (আ) দেখতে পান যে, তাঁর ভাই ঈস চারশ’ লোকের এক বাহিনী নিয়ে তার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। তিনি পরিবারবর্গকে পেছনে রেখে সম্মুখে যান। ঈস সম্মুখে উপস্থিত হলে তাকে দেখেই ইয়াকূব (আ) সাতবার তাঁকে সিজদা করেন। এই সিজদা ছিল সে যুগে সাক্ষাৎকালের সালাম বা অভিবাদন (সম্মান সূচক) এবং তাঁদের শরীআতে এ সিজদা বৈধ ছিল। যেমন ফেরেশতারা হযরত আদম (আ)-কে সম্মানসূচক সিজদা করেছিলেন এবং হযরত ইউসুফ (আ)-কে তাঁর পিতা-মাতা ও ভাইয়েরা সিজদা করেছিলেন। এ সম্পর্কে আলোচনা সামনে আসবে। ইয়াকূব (আ)-এর এ আচরণ দেখে ঈস তার কাছে গেলেন এবং তাঁকে আলিঙ্গন করে চুমো খেলেন এবং কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। তারপর চোখ তুলে তাকাতেই নারী ও বালকদেরকে দেখে ঈস ইয়াকূব (আ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, এদেরকে তুমি কোথায় পেলে? ইয়াকূব (আ) বললেন, আল্লাহই আপনার দাসকে এসব দান করেছেন। এ সময় দাসীদ্বয় ও তাদের সন্তানরা ঈসকে সিজদা করল। এরপর লায়্যা ও তার সন্তানরা সিজদা করে এবং শেষে রাহীল ও তার পুত্র ইউসুফ এসে ঈসকে সিজদা করেন। এরপর ইয়াকুব (আ) তার ভাইকে দেয়া হাদিয়াগুলো গ্রহণ করার জন্য বারবার অনুরোধ জানালে ঈস তা গ্রহণ করেন। এরপর ঈস সেখান থেকে বাড়ির দিকে রওয়ানা হলেন, তখন তিনি আগে-আগে ছিলেন এবং ইয়াকূব ও তার পরিবার-পরিজন, দাস-দাসী ও পশু সম্পদসহ তার পিছে পিছে সাঈর পর্বতের উদ্দেশে যাত্রা করলেন।

    সাহুর নামক স্থান অতিক্রমকালে তিনি সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেন এবং পশুগুলোর জন্যে ছাউনি তৈরি করেন। এরপর শাখীম এলাকার উর-শালীম (اورشليم) নামক গ্রামের সন্নিকটে অবতরণ করেন এবং শাখীম ইবুন জামূর-এর এক খণ্ড জমি একশ’ ভেড়ার বিনিময়ে ক্রয় করেন। সেই জমিতে তিনি তাঁবু স্থাপন করেন এবং একটি কুরবানীগাহ্ তৈরি করেন। তিনি এর নাম রাখেন ‘ঈল-ইলাহে ইসরাঈল।’ এই কুরবানীগাহটি আল্লাহ্ তার মাহাত্ম্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করার আদেশ দিয়েছিলেন। এটাই বর্তমান কালের বায়তুল মুকাদ্দাস। পরবর্তীকালে সুলায়মান ইবন দাউদ (আ) এ ঘরের সংস্কার করেন। এটাই সেই চিহ্নিত পাথরের জায়গা যার উপর তিনি ইতিপূর্বে তেল রেখেছিলেন—যার আলোচনা পূর্বে করা হয়েছে।

    আহলি কিতাবগণ এখানে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন, যা ইয়াকূব (আ)-এর স্ত্রী লায়্যার পক্ষের কন্যা দীনা সম্পর্কিত। ঘটনা এই যে, শাখীম ইবন জামূর দীনাকে জোরপূর্বক তার বাড়িতে ধরে নিয়ে যায়। তারপর দীনার পিতা ও ভাইদের কাছে তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়। দীনার ভাইয়েরা জানাল যে, তোমরা যদি সকলে খাতনা করাও তাহলে আমাদের সাথে তোমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক হতে পারে। কেননা, খাৎনাবিহীন লোকদের সাথে আমরা বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করি না। শাখীমের সম্প্রদায়ের সবাই সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে খাতনা করাল। খাতনা করার পর তৃতীয় দিবসে তাদের ভীষণ যন্ত্রণা শুরু হয়। এই সুযোগে ইয়াকূব (আ)-এর সন্তানগণ তাদের উপর হামলা করে। শাখীম ও তার পিতা জামূরসহ সকলকে হত্যা করে ফেলে। হত্যার কারণ ছিল তাদের অসদাচরণ, তদুপরি তারা ছিল মূর্তিপূজারী, কাফির। এ কারণে ইয়াকুব (আ)-এর সন্তানরা তাদেরকে হত্যা করে এবং তাদের ধন-সম্পদ গনীমত হিসেবে নিয়ে নেয়।

    এরপর ইয়াকূব (আ)-এর কনিষ্ঠ স্ত্রী রাহীল পুনরায় সন্তান-সম্ভবা হন এবং পুত্র বিন-য়ামীন জন্মগ্রহণ করেন। রাহীল বিন-য়ামীন প্রসব করতে গিয়ে খুবই কষ্ট পান। ফলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার অব্যবহিত পরে রাহীলের ইনতিকাল হয়। ইয়াকূব (আ) আফরাছ অর্থাৎ বায়তু-লাহমে (বেথেলহামে) তাকে দাফন করেন। তিনিই তার কবরের উপর একটি পাথর রেখে দিয়েছিলেন যা আজও বিদ্যমান আছে। হযরত ইয়াকূব (আ)-এর সন্তানের মধ্যে বারজন পুত্র। এদের মধ্যে লায়্যার গর্ভে যাঁদের জন্ম হয় তারা হচ্ছেন (১) রূবীল, (২) শামউন, (৩) লাবী, (৪) য়াহুযা, (৫) আয়াখার ও (৬) যায়িলুন। রাহীলের গর্ভে জন্ম হয় (৭) ইউসুফ ও (৮) বিন-য়ামীনের। রাহীলের দাসীর গর্ভে জন্ম হয় (৯) দান ও (১০) নায়ফতালী-এর। লায়্যা দাসীর গর্ভে জন্ম হয় (১১) হাদ ও (১২) আশীর-এর। অতঃপর হযরত ইয়াকূব (আ) কানআনের হিবরূন গ্রামে চলে আসেন এবং তথায় পিতার সান্নিধ্যে থাকেন। হযরত ইবরাহীম (আ)-ও এখানেই বসবাস করতেন। রোগাক্রান্ত হয়ে হযরত ইসহাক (আ) একশ’ আশি বছর বয়সে ইতিকাল করেন। তাঁর পুত্রদ্বয় ঈস ও ইয়াকূব (আ) তাকে তার পিতার পূর্বোল্লেখিত তাদের কেনা জমিতে হযরত ইব্রাহীম (আ)-এর কবরের পাশে সমাহিত করেন।

    ইসরাঈলের জীবনে সংঘটিত আশ্চর্য ঘটনাবলী

    ইসরাঈলের জীবনে যে সব আশ্চর্য ঘটনা সংঘটিত হয় তন্মধ্যে ইউসুফ ইবন রাহীলের ঘটনা অন্যতম। তাঁর সম্পর্কে আল্লাহ্ কুরআনে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাযিল করেছেন, যাতে মানুষ এর থেকে গবেষণা করে উপদেশ, শিষ্টাচার ও সূক্ষ্ম তত্ত্ব লাভ করতে পারে।

    (بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَـٰنِ ٱلرَّحِیمِ الۤرۚ تِلۡكَ ءَایَـٰتُ ٱلۡكِتَـٰبِ ٱلۡمُبِینِ ۝ إِنَّاۤ أَنزَلۡنَـٰهُ قُرۡءَ ٰ⁠ نًا عَرَبِیࣰّا لَّعَلَّكُمۡ تَعۡقِلُونَ ۝ نَحۡنُ نَقُصُّ عَلَیۡكَ أَحۡسَنَ ٱلۡقَصَصِ بِمَاۤ أَوۡحَیۡنَاۤ إِلَیۡكَ هَـٰذَا ٱلۡقُرۡءَانَ وَإِن كُنتَ مِن قَبۡلِهِۦ لَمِنَ ٱلۡغَـٰفِلِینَ)[Surat Yusuf 1 – 3]

    অর্থাৎ, আলিফ-লাম-রাঃ এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। আমি এটি অবতীর্ণ করেছি আরবী ভাষায় কুরআন যাতে তোমরা বুঝতে পার। আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি, ওহীর মাধ্যমে তোমার নিকট কুরআন প্রেরণ করে; যদিও এর পূর্বে তুমি ছিলে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত। (১২ সূরা ইউসুফঃ ১-৩)

    হরূফে মুকাততাআত সম্পর্কে আমরা সূরা বাকারার তাফসীরের শুরুতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে কেউ জানতে চাইলে সেখানে দেখে নিতে পারেন। তারপর এ সূরা সম্পর্কে তাফসীরের মধ্যে আমরা বিশদভাবে আলোচনা করেছি। তার কিছুটা আমরা এখানে অতি সংক্ষেপে আলোচনা করব।

    তার সংক্ষিপ্তসার হচ্ছে এই যে, আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূলের উপর উচ্চাংগ আরবী ভাষায় যে মহান কিতাব নাযিল করেছেন তার প্রশংসা করছেন। এর পাঠ ও বক্তব্য এতই সুস্পষ্ট, যে কোন বুদ্ধিমান ধী-শক্তিসম্পন্ন লোক সহজেই তা অনুধাবন করতে পারে। সুতরাং আসমানী কিতাবসমূহের মধ্যে এ কিতাবই শ্রেষ্ঠ। ফেরেশতাকুলের শ্রেষ্ঠ ফেরেশতা। এটি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের উপর সর্বোত্তম সময়ে ও সর্বোৎকৃষ্ট স্থানে নাযিল করেছেন।

    وهو اشرف كتاب نزل من السماء انزله اشرف الملئكة على اشرف الخلق فى اشف زمان ومجان

    যে ভাষায় তা নাযিল হয়েছে তা অতি প্রাঞ্জল এবং তার বক্তব্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আহসানুল কাসাস বা উত্তম বর্ণনার সম্পর্ক যদি অতীত কিংবা ভবিষ্যতের ঘটনার সাথে হয়, তবে তার অর্থ হবে মানুষ সে বিষয়ে যে মতভেদ করছে তন্মধ্যে সঠিক পন্থা কি স্পষ্টভাবে বলে দেয়া এবং ভুল ও বাতিল মতের খণ্ডন করা। আর যদি তার সম্পর্ক আদেশ ও নিষেধের সাথে হয় তাহলে তার অর্থ হবে ভারসাম্যপূর্ণ শরীআত ও বিধান, উত্তম পদ্ধতি এবং স্পষ্ট ও ন্যায়ানুগ ফয়সালা। অন্য আয়াতে এর দৃষ্টান্ত নিম্নরূপঃ

    (وَتَمَّتۡ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدۡقࣰا وَعَدۡلࣰاۚ لَّا مُبَدِّلَ لِكَلِمَـٰتِهِۦۚ وَهُوَ ٱلسَّمِیعُ ٱلۡعَلِیمُ)

    [Surat Al-An’am 115]

    অর্থাৎ, সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে তোমার প্রতিপালকের বাণী সম্পূর্ণ। (৬: ১১৫)

    অর্থাৎ সংবাদ ও তথ্য দানের ক্ষেত্রে এটা সত্য আর আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে এটা ন্যায়নিষ্ঠ। এ কারণেই আল্লাহ্ বলেছেনঃ

    (نَحۡنُ نَقُصُّ عَلَیۡكَ أَحۡسَنَ ٱلۡقَصَصِ بِمَاۤ أَوۡحَیۡنَاۤ إِلَیۡكَ هَـٰذَا ٱلۡقُرۡءَانَ وَإِن كُنتَ مِن قَبۡلِهِۦ لَمِنَ ٱلۡغَـٰفِلِینَ)[Surat Yusuf 3]

    অর্থাৎ, ” আমি তোমার কাছে উত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি। ওহীর মাধ্যমে তোমার কাছে এ কুরআন প্রেরণ করেছি। যদিও এর আগে তুমি ছিলে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত। (১২: ৩)

    অর্থাৎ যে বিষয়ে তোমার কাছে ওহী প্রেরিত হচ্ছে সে বিষয়ে অনবহিত ছিলে।

    অনুরূপভাবে আল্লাহ্ অন্যত্র বলেছেনঃ

    (وَكَذَ ٰ⁠لِكَ أَوۡحَیۡنَاۤ إِلَیۡكَ رُوحࣰا مِّنۡ أَمۡرِنَاۚ مَا كُنتَ تَدۡرِی مَا ٱلۡكِتَـٰبُ وَلَا ٱلۡإِیمَـٰنُ وَلَـٰكِن جَعَلۡنَـٰهُ نُورࣰا نَّهۡدِی بِهِۦ مَن نَّشَاۤءُ مِنۡ عِبَادِنَاۚ وَإِنَّكَ لَتَهۡدِیۤ إِلَىٰ صِرَ ٰ⁠طࣲ مُّسۡتَقِیمࣲ ۝ صِرَ ٰ⁠طِ ٱللَّهِ ٱلَّذِی لَهُۥ مَا فِی ٱلسَّمَـٰوَ ٰ⁠تِ وَمَا فِی ٱلۡأَرۡضِۗ أَلَاۤ إِلَى ٱللَّهِ تَصِیرُ ٱلۡأُمُورُ)[Surat Ash-Shura 52 – 53]

    অর্থাৎ, এ ভাবে আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করেছি রূহ তথা আমার নির্দেশ। তুমি তো জানতে কিতাব কি এবং ঈমান কি? বরং আমি একে করেছি আলো—যা দিয়ে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ করি। তুমি তো প্রদর্শন কর কেবল সরল পথ। সে আল্লাহর পথ যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার মালিক। জেনে রেখ, সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তন করে। (৪২: ৫২-৫৩)

    আল্লাহ্ বলেনঃ

    (كَذَ ٰ⁠لِكَ نَقُصُّ عَلَیۡكَ مِنۡ أَنۢبَاۤءِ مَا قَدۡ سَبَقَۚ وَقَدۡ ءَاتَیۡنَـٰكَ مِن لَّدُنَّا ذِكۡرࣰا ۝ مَّنۡ أَعۡرَضَ عَنۡهُ فَإِنَّهُۥ یَحۡمِلُ یَوۡمَ ٱلۡقِیَـٰمَةِ وِزۡرًا ۝ خَـٰلِدِینَ فِیهِۖ وَسَاۤءَ لَهُمۡ یَوۡمَ ٱلۡقِیَـٰمَةِ حِمۡلࣰا)

    [Surat Ta-Ha 99 – 101]

    অর্থাৎ, এ ভাবেই আমি তোমার কাছে সেই সব ঘটনার সংবাদ দেই যা পূর্বে সংঘটিত হয়েছিল। আর আমি তোমাকে আমার কাছ থেকে উপদেশ দান করেছি। যে এর থেকে বিমুখ হবে সে কিয়ামতের দিন মহাভার বহন করবে। সেখানে তারা স্থায়ী হয়ে থাকবে। কিয়ামতের দিন এই বোঝ তাদের জন্যে কতই না মন্দ! (২০: ৯৯-১০১)

    অর্থাৎ এই কুরআন বাদ দিয়ে যে ব্যক্তি অন্য কিতাবের অনুসরণ করবে, সে ব্যক্তিই এ সতর্কবাণীর যোগ্য হবে। মুসনাদে আহমদ ও তিরমিযী শরীফে হযরত আলী (রা) থেকে মারফূ ও মওকূফ উভয়ভাবে বর্ণিত হাদীসে এ কথাই বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি কুরআন বাদে অন্য কিছুতে হিদায়ত অন্বেষণ করবে তাকে আল্লাহ্ পথভ্রষ্ট করবেন। ইমাম আহমদ (র) জাবির (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, একদা হযরত উমর (রা) আহলি কিতাবদের থেকে প্রাপ্ত একখানি কিতাব নিয়ে রাসূল (সা)-এর কাছে আসেন এবং তা তাঁকে পড়ে শোনান। রাসূলুল্লাহ (সা) ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে বললেন, “ওহে ইবনুল-খাত্তাব! কোনরূপ চিন্তা-ভাবনা না করেই কি তোমরা এতে নিমগ্ন হয়ে পড়েছ? সেই সত্তার কসম করে বলছি, যার হাতের মুঠোয় আমার জীবন। আমি তোমাদের কাছে এক উজ্জ্বল আলোকদীপ্ত পরিচ্ছন্ন দীন নিয়ে এসেছি। আহলি কিতাবদের কাছে যদি কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস কর এবং তারা কোন কিছুকে হক বলে তবে তোমরা তা মিথ্যা জানবে কিংবা তারা যদি কোন কিছুকে বাতিল বলে, তবে তোমরা তা সত্য বলে জানবে। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন, যদি মূসা (আ) জীবিত থাকতেন, তাহলে আমার আনুগত্য না করে তারও উপায় থাকতো না।’

    এ হাদীছ বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আহমদ (র) ভিন্ন এক সূত্রে এ হাদীসটি হযরত উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা) বললেনঃ

    والذي نفسي بيده لو اصبح فيكم موسى ثم اتبعتموه وتركتمونی الضللتم – انكم حظى من الأمم وانا حظكم من النبين

    যে সত্তার হাতে আমার জীবন, সেই সত্তার কসম, তোমাদের মাঝে যদি নবী মূসা বর্তমানে থাকতেন আর আমাকে বাদ দিয়ে তোমরা তাঁর অনুসরণ করতে, তবে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হতে। তোমরা আমারই উম্মত আর আমিই তোমাদের নবী।

    এই হাদীসের সনদ ও মতন সূরা ইউসুফের তাফসীরে বর্ণনা করা হয়েছে। হাদীসটির কোন কোন বর্ণনায় এরূপ এসেছে যে, রসূলুল্লাহ (সা) একদা জনসমক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে বললেন, হে জনমণ্ডলী! আমাকে সংক্ষিপ্ত বাক্যে ব্যাপক কথা বলার শক্তি দান করা হয়েছে, চূড়ান্ত কথা বলার শক্তি দেওয়া হয়েছে, অতি সংক্ষেপ করার ক্ষমতা আমাকে প্রদান করা হয়েছে। একটি সুস্পষ্ট উজ্জ্বল জীবন ব্যবস্থা আমাকে দেওয়া হয়েছে। অতএব, না বুঝে-শুনে নির্বোধের ন্যায় অন্য কিছুতে প্রবিষ্ট হয়ো না। নির্বোধ লোকদের কর্মকাণ্ড যেন তোমাদেরকে ধোকায় না ফেলে। অতঃপর তিনি সেই লিপিটি আনতে বলেন এবং একটি একটি করে এর প্রতিটি অক্ষর মুছে ফেলা হয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইসলাম ও বিজ্ঞান – প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    Next Article নতুন বিশ রহস্য – স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }