Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া – ১

    বিদায়া ওয়ান নিহায়া এক পাতা গল্প1327 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৯. পরিচ্ছেদ

    পরিচ্ছেদ

    আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ

    اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ۖ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۖ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّى ۚ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُم بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَوَ﴿۲﴾هُوَ الَّذِي مَدَّ الْأَرْضَ وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنْهَارًا ۖ وَمِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ جَعَلَ فِيهَا زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ ۖ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ﴿۳﴾ وَفِي الْأَرْضِ قِطَعٌ مُّتَجَاوِرَاتٌ وَجَنَّاتٌ مِّنْ أَعْنَابٍ وَزَرْعٌ وَنَخِيلٌ صِنْوَانٌ وَغَيْرُ صِنْوَانٍ يُسْقَىٰ بِمَاءٍ وَاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَىٰ بَعْضٍ فِي الْأُكُلِ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ

    [Surat Ar-Ra’d 2 – 4]

    অর্থাৎ – আল্লাহই উর্ধ্বদেশে আকাশমণ্ডলী স্থাপন করেছেন স্তম্ভ ব্যতীত তোমরা তা দেখতে পাও। তারপর তিনি আরশে সমাসীন হন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মাধীন করেন, প্রত্যেক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করতে পার।

    তিনি ভূতলকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে পর্বত ও নদী সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেক প্রকারের ফল সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়। তিনি দিনকে রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন। এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।

    পৃথিবীতে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন ভূখণ্ড তাতে আঙ্গুর বাগান, শস্য ক্ষেত্র, একাধিক শিরবিশিষ্ট অথবা এক শিরবিশিষ্ট খেজুর গাছ- সিঞ্চিত একই পানিতে এবং ফল হিসেবে এগুলোর কতক কতকের উপর আমি শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি। অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য এতে নিদর্শন রয়েছে। (১৩ঃ ২-৪)

    আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَأَنْزَلَ لَكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنْبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُنْبِتُوا شَجَرَهَا ۗ أَإِلَٰهٌ مَعَ اللَّهِ ۚ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ. أَمَّنْ جَعَلَ الْأَرْضَ قَرَارًا وَجَعَلَ خِلَالَهَا أَنْهَارًا وَجَعَلَ لَهَا رَوَاسِيَ وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزًا ۗ أَإِلَٰهٌ مَعَ اللَّهِ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ.

    অর্থাৎ- বরং তিনি যিনি সৃষ্টি করেছেন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং আকাশ থেকে তোমাদের জন্য বর্ষণ করেন বৃষ্টি; তারপর আমি তা দিয়ে মনোরম উদ্যান সৃষ্টি করি, তার গাছপালা উদগত করবার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহ আছে কি? তবুও তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা সত্য-বিচ্যুত হয়।

    বরং তিনি, যিনি পৃথিবীকে করেছেন বাসোপযোগী এবং তার মাঝে মাঝে প্রবাহিত করেছেন নদী-নালা এবং তাতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বত ও দু’ সমুদ্রের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন অন্তরায়, আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহ আছে কি? তবুও তাদের অনেকেই জানে না। (২৭ঃ ৬০-৬১)

    অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেনঃ

    هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً ۖ لَكُمْ مِنْهُ شَرَابٌ وَمِنْهُ شَجَرٌ فِيهِ تُسِيمُونَ. يُنْبِتُ لَكُمْ بِهِ الزَّرْعَ وَالزَّيْتُونَ وَالنَّخِيلَ وَالْأَعْنَابَ وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ. وَسَخَّرَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ وَالنُّجُومُ مُسَخَّرَاتٌ بِأَمْرِهِ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ.

    অর্থাৎ—তিনিই আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন; তাতে তোমাদের জন্য রয়েছে পানীয় এবং তা থেকে জন্মায় উদ্ভিদ যাতে তোমরা পশুচারণ করে থাক। তোমাদের জন্য তিনি তা দিয়ে জন্মান শস্য, যায়তুন, খেজুর গাছ, আঙ্গুর সব ধরনের ফল-ফলারি। অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।

    তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিন, সূর্য এবং চন্দ্র আর নক্ষত্ররাজিও অধীন হয়েছে তারই বিধানে। অবশ্যই এতে বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন। (১৬ঃ ১০-১২)।

    এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা’আলা উল্লেখ করেছেন, যা তিনি পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন, যেমনঃ পাহাড়-পর্বত, গাছ-গাছড়া, ফলমূল, নরম ও শক্ত ভূমি এবং জলে-স্থলে সৃষ্ট নানা প্রকার জড়পদার্থ ও প্রাণীকুল, যা তার মাহাত্ম্য ও কুদরত, হিকমত ও রহমতের প্রমাণ বহন করে, আবার সাথে সাথে সৃষ্টি করেছেন ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী সকল প্রাণীর জীবিকা। দিনে রাতে, শীতে গ্রীষ্মে ও সকাল সন্ধ্যায় তারা যার মুখাপেক্ষী।

    وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا ۚ كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُبِينٍ.

    অর্থাৎ- ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী সকলের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহরই। তিনি তাদের স্থায়ী-অস্থায়ী অবস্থিতি সম্বন্ধে অবহিত; সুস্পষ্ট কিতাবে সবই আছে। (১১ঃ ৬)

    হাফিজ আবু ইয়ালা বর্ণনা করেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি যে,

    خلق الله ألف أمة منها ستمأة في البحر واربعمأة في البر وأول شيئ يهلك من هذه الأمم الجراد فإذا هلك تتابعت مثل النطام اذ قطع سلكه.

    অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা এক হাজারটি প্রজাতি সৃষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে ছ’শ হলো জলভাগে আর চারশ স্থল ভাগে। আর এ প্রজাতিসমূহের যেটি সর্বপ্রথম ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, তা হলো পঙ্গপাল। পঙ্গপাল ধ্বংস হয়ে গেলে অপরাপর প্রজাতি মালার সূতা ছিড়ে গেলে দানাগুলো যেভাবে পর পর পড়তে থাকে ঠিক সেভাবে একের পর এক ধ্বংস হতে শুরু করবে।

    এ হাদীসের সনদে উল্লেখিত একজন রাবী অত্যন্ত দুর্বল। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ ۚ مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ ۚ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ.

    ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন কোন জীব নেই অথবা নিজ ডানার সাহায্যে এমন কোন পাখি উড়ে না, যা তোমাদের মত একটি উম্মত নয়। কিতাবে কোন কিছুই আমি বাদ দেইনি; তারপর তাদের প্রতিপালকের দিকে তাদের সকলকেই একত্র করা হবে। (৬ঃ ৩৮)

    আকাশসমূহ ও তন্মধ্যস্থ নিদর্শনাবলীর সৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা

    উপরে আমরা একথা বলে এসেছি যে, পৃথিবী সৃষ্টি আকাশ সৃষ্টির আগে হয়েছিল। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ اسْتَوَىٰ إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ ۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ.

    অর্থাৎ- তিনি পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে মনোসংযোগ করেন এবং তাকে সাত আকাশে বিন্যস্ত করেন; তিনি সর্ববিষয়ে সবিশেষ অবহিত। (২ঃ ২৯)

    আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَنْدَادًا ۚ ذَٰلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ. وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِنْ فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءً لِلسَّائِلِينَ. ثُمَّ اسْتَوَىٰ إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ ائْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ. فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَىٰ فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا ۚ وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ.

    অর্থাৎ-বল, তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করবেই, যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দু’দিনে এবং তোমরা তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাতে চাও? তিনি তো জগতসমূহের প্রতিপালক!

    তিনি স্থাপন করেছেন অটল পর্বতমালা ভূপৃষ্ঠে এবং তাতে রেখেছেন কল্যাণ এবং চার দিনের মধ্যে এতে ব্যবস্থা করেছেন খাদ্যের, সমভাবে যাচনাকারীদের জন্য। তারপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন। যা ছিল ধূমপুঞ্জ বিশেষ, তারপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে এসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা আসলাম অনুগত হয়ে।

    তারপর তিনি আকাশমণ্ডলীকে দু’দিনে সাত আকাশে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার বিধান ব্যক্ত করলেন, এবং আমি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করলাম প্রদীপমালা দ্বারা এবং করলাম সুরক্ষিত। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা। (৪১ঃ ৯-১২)

    আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    أَأَنْتُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمِ السَّمَاءُ ۚ بَنَاهَا. رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاهَا. وَأَغْطَشَ لَيْلَهَا وَأَخْرَجَ ضُحَاهَا. وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَاهَا.

    অর্থাৎ- তোমাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আকাশ সৃষ্টি? তিনিই এটা নির্মাণ করেছেন; তিনিই একে সুউচ্চ ও সুবিন্যস্ত করেছেন।

    তিনি রাতকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং প্রকাশ করেছেন সূর্যালোক; এবং পৃথিবীকে এরপর বিস্তৃত করেছেন। (৭৯ঃ ২৭-৩০)

    আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ. الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا ۖ مَا تَرَىٰ فِي خَلْقِ الرَّحْمَٰنِ مِنْ تَفَاوُتٍ ۖ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَىٰ مِنْ فُطُورٍ. ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنْقَلِبْ إِلَيْكَ الْبَصَرُ خَاسِئًا وَهُوَ حَسِيرٌ. وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَجَعَلْنَاهَا رُجُومًا لِلشَّيَاطِينِ ۖ وَأَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابَ السَّعِيرِ.

    অর্থাৎ- মহা মহিমান্বিত তিনি, সর্বময় কর্তৃত্ব যার করায়ত্ত; তিনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল। যিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সাত আকাশ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবে না; আবার তাকিয়ে দেখ, কোন ত্রুটি দেখতে পাও কি?

    তারপর তুমি বার বার দৃষ্টি ফিরাও, সে দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমাদের দিকে ফিরে আসবে। আমি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করেছি প্রদীপমালা দ্বারা এবং তাদেরকে করেছি শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ এবং তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি জ্বলন্ত অগ্নির শাস্তি। (৬৭ঃ ১-৫)

    আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    وَبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًا شِدَادًا. وَجَعَلْنَا سِرَاجًا وَهَّاجًا.

    অর্থাৎ- আর আমি নির্মাণ করেছি তোমাদের ঊধ্বদেশে সুস্থিত সাত আকাশ এবং সৃষ্টি করেছি প্রোজ্জ্বল দীপ। (৭৮ঃ ১২-১৩)

    আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    أَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللَّهُ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا. وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا.

    অর্থাৎ- তোমরা কি লক্ষ্য করনি? আল্লাহ কিভাবে সৃষ্টি করেছেন সাত স্তরে বিন্যস্ত আকাশমণ্ডলী? এবং সেখানে চন্দ্রকে স্থাপন করেছেন আলোরূপে ও সূর্যকে স্থাপন করেছেন প্রদীপরূপে। (৭১ঃ ১৫-১৬)

    আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا.

    অর্থাৎ আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আকাশ এবং পৃথিবীও। তাদের অনুরূপভাবে তাদের মধ্যে নেমে আসে তার নির্দেশ; ফলে তোমরা বুঝতে পার যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং জ্ঞানে আল্লাহ সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন। (৬৫ঃ ১২)

    আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    تَبَارَكَ الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَجَعَلَ فِيهَا سِرَاجًا وَقَمَرًا مُنِيرًا. وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ خِلْفَةً لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يَذَّكَّرَ أَوْ أَرَادَ شُكُورًا.

    অর্থাৎ- কত মহান তিনি যিনি নভোমণ্ডলে সৃষ্টি করেছেন রাশিচক্র এবং তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ ও জ্যোতির্ময় চন্দ্র এবং যারা উপদেশ গ্রহণ করতে ও কৃতজ্ঞ হতে চায় তাদের জন্য তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত এবং দিন পরস্পরের অনুগামীরূপে। (২৫ঃ ৬১-৬২)

    আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ

    إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ. وَحِفْظًا مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ مَارِدٍ. لَا يَسَّمَّعُونَ إِلَى الْمَلَإِ الْأَعْلَىٰ وَيُقْذَفُونَ مِنْ كُلِّ جَانِبٍ. دُحُورًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ. إِلَّا مَنْ خَطِفَ الْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ ثَاقِبٌد.

    অর্থাৎ- আমি নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজির সুষমা দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং রক্ষা করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে। ফলে তারা উর্ধ্বজগতের কিছু শুনতে পায় না এবং তাদের প্রতি নিক্ষিপ্ত হয় সকল দিক থেকে বিতাড়নের জন্য এবং তাদের জন্য আছে অবিরাম শাস্তি। তবে কেউ হঠাৎ কিছু শুনে ফেললে জুলন্ত উল্কাপিণ্ড তার পিছু ধাওয়া করে। (৩৭ঃ ৬-১০)

    আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    وَلَقَدْ جَعَلْنَا فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَزَيَّنَّاهَا لِلنَّاظِرِينَ. وَحَفِظْنَاهَا مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ رَجِيمٍ. إِلَّا مَنِ اسْتَرَقَ السَّمْعَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ مُبِينٌ.

    অর্থাৎ-আকাশে আমি গ্রহ-নক্ষত্র সৃষ্টি করেছি এবং তাকে করেছি সুশোভিত দর্শকদের জন্য; প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান থেকে আমি তাকে রক্ষা করে থাকি। আর কেউ চুরি করে সংবাদ শুনতে চাইলে তার পশ্চাদ্ধাবন করে প্রদীপ্ত শিখা। (১৫ঃ ১৬-১৮)

    আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

    وَالسَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا بِأَيْدٍ وَإِنَّا لَمُوسِعُونَ.

    অর্থাৎ-আমি আকাশ নির্মাণ করেছি আমার ক্ষমতাবলে এবং আমি অবশ্যই মহা সম্প্রসারণকারী। (৫১ঃ ৪৭)

    আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

    وَجَعَلْنَا السَّمَاءَ سَقْفًا مَحْفُوظًا ۖ وَهُمْ عَنْ آيَاتِهَا مُعْرِضُونَ. وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ.

    অর্থাৎ- এবং আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ কিন্তু তারা আকাশস্থিত নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে সাঁতার কাটে। (২১ঃ ৩২-৩৩)

    وَآيَةٌ لَهُمُ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَإِذَا هُمْ مُظْلِمُونَ. وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ. وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّىٰ عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ. لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ ۚ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ.

    অর্থাৎ তাদের জন্য এক নিদর্শন রাত্রি, তা থেকে আমি দিবালোক অপসারিত করি, সকলেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এবং সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ এবং চন্দ্রের জন্য আমি নির্দিষ্ট করেছি বিভিন্ন মনযিল, অবশেষে তা শুষ্ক বক্র পুরাতন খেজুর শাখার আকার ধারণ করে।

    সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রের নাগাল পাওয়া এবং রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষ পথে সাঁতার কাটে। (৩৬ঃ ৩৭-৪০)

    আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    فَالِقُ الْإِصْبَاحِ وَجَعَلَ اللَّيْلَ سَكَنًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ حُسْبَانًا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ. وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ النُّجُومَ لِتَهْتَدُوا بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ۗ قَدْ فَصَّلْنَا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ.

    অর্থাৎ-তিনিই ঊষার উন্মেষ ঘটান, তিনিই বিশ্রামের জন্য রাত্রি এবং গণনার জন্য সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন; এসবই পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নিরূপণ। তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্র সৃষ্টি করেছেন যেন তা দ্বারা স্থলের ও সমুদ্রের অন্ধকারে তোমরা পথ পাও; জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আমি নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বিবৃত করেছি। (৬ঃ ৯৬-৯৭)

    আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ

    إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ ۗ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ۗ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ.

    অর্থাৎ-তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী ছ’দিনে সৃষ্টি করেন; তারপর তিনি আরশে সমাসীন হন। তিনিই দিনকে রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন, যাতে তাদের একে অন্যকে দ্রুত গতিতে অনুসরণ করে আর সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি যা তারই আজ্ঞাধীন, তা তিনিই সৃষ্টি করেছেন। জেনে রেখ, সৃজন ও আদেশ তাঁরই। মহিমময় বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ্। (৭ঃ ৫৪)

    উল্লেখ্য যে, এ ব্যাপারে প্রচুর আয়াত রয়েছে। এই তাফসীরে আমরা তার প্রতিটির উপর আলোকপাত করেছি। মোটকথা, আল্লাহ্ তা’আলা আকাশসমূহ সৃষ্টি, তার বিশাল ও উচ্চতা সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করছেন, আরো সংবাদ দিচ্ছেন যে, তা যারপর নাই রূপ ও সৌন্দর্য ও সুষমামণ্ডিত। যেমনঃ আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ والسماء ذات الحبك অর্থাৎ- শপথ! সুষমামণ্ডিত আকৃতি বিশিষ্ট আকাশের।

    অন্য আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    فارجع البصر هل ترى من فطور . ثم ارجع البصر گتين ينقلب

    إليك البصر خاسئا وهو حسي.

    অর্থাৎ- আবার তাকিয়ে দেখ, (দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে) কোন ত্রুটি পাও কি? তারপর তুমি বার বার দৃষ্টি ফিরাও, সে দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।

    অর্থাৎ আকাশের সৃষ্টিতে কোন প্রকার ত্রুটি কিংবা খুঁত দেখার ব্যাপারে তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসবে এবং সে দৃষ্টি এতই দুর্বল যে, দেখতে দেখতে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে গেলেও তাতে সে কোন ত্রুটি বা খুঁত খুঁজে বের করতে পারবে না। কেননা আল্লাহ তা’আলা তাকে অত্যন্ত শক্তভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং তার দিগন্তকে নক্ষত্ররাজি দ্বারা সুভোশিত করেছেন। যেমন আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ واسماء ذات البروج অর্থাৎ শপথ গ্রহ নক্ষত্র বিশিষ্ট আকাশের। (৮৫ঃ ১)

    البروج অর্থ النجوم অর্থাৎ গ্রহ-নক্ষত্র। কেউ কেউ বলেছেন البروج অর্থ প্রহরার স্থানসমূহ, যেখান থেকে চুরি করে শ্রবণকারীর প্রতি উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ করা হয়। এ দু’টি অভিমতের মাঝে কোন বিরোধ নেই। এক স্থানে আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ

    وَلَقَدْ جَعَلْنَا فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَزَيَّنَّاهَا لِلنَّاظِرِينَ. وَحَفِظْنَاهَا مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ رَجِيمٍ.

    অর্থাৎ- আকাশে আমি গ্রহ-নক্ষত্র সৃষ্টি করেছি এবং তাকে করেছি সুশোভিত দর্শকদের জন্য; প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান থেকে আমি তাকে রক্ষা করে থাকি। (১৫ঃ ১৬-১৭)

    এ আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা একথা ব্যক্ত করেছেন যে, তিনি আকাশের দৃশ্যকে স্থির ও গতিশীল গ্রহরাজি দ্বারা সুশোভিত করেছেন। যেমনঃ সূর্য, চন্দ্র ও উজ্জ্বল নক্ষত্রমালা এবং তিনি তার সীমান্তকে শয়তানের অনুপ্রবেশ থেকে সংরক্ষণ করেছেন। আর এক অর্থে এও এক প্রকার শোভা। এ প্রসঙ্গেই তিনি বলেছেনঃ وحفظنا ها من كل شيطان رجيم.

    অর্থাৎ- আর আমি তাকে প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান থেকে রক্ষা করেছি। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

    إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ. وَحِفْظًا مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ مَارِدٍ. لَا يَسَّمَّعُونَ إِلَى الْمَلَإِ الْأَعْلَىٰ وَيُقْذَفُونَ مِنْ كُلِّ جَانِبٍ. دُحُورًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ.

    অর্থাৎ- আমি নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজির সুষমা দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং রক্ষা করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে। ফলে তারা ঊধ্বজগতের কিছু শুনতে পায় না। (৩৭ঃ ৬-৯)

    ইমাম বুখারী (র) সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়ে বলেছেনঃ ولقد زينا السماء الدنيا بمصابيح এ আয়াতের ব্যাখ্যায় কাতাদা (র) বলেন, এ তিন নক্ষত্রকে আল্লাহ্ তা’আলা আকাশের শোভা, শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ এবং পথের দিশা লাভের চিহ্নরূপে সৃষ্টি করেছেন। কেউ এর ভিন্ন ব্যাখ্যা করলে সে ভুল করবে, নিজের ভাগ্য নষ্ট করবে এবং যে বিষয়ে তার জ্ঞান নেই সে বিষয়ে পণ্ডশ্রম করবে। কাতাদা (র)-এর এ বক্তব্য নিচের আয়াত দু’টোতে সুস্পষ্ট বিবৃত হয়েছেঃ

    وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَجَعَلْنَاهَا رُجُومًا لِلشَّيَاطِينِ.

    অর্থাৎ- নিকটবর্তী আকাশকে আমি প্রদীপমালা দ্বারা সুশেভিত করেছি এবং তাদেরকে করেছি শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ। (৬৭ঃ ৫)

    وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ النُّجُومَ لِتَهْتَدُوا بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ.

    অর্থাৎ- তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্র সৃষ্টি করেছেন যেন তদ্দারা স্থলের ও সমুদ্রের অন্ধকারে তোমরা পথের দিশা পাও। (৬ঃ ৯৭)

    অতএব, যদি কেউ এ তিনটির বাইরে এর অন্য কোন মর্ম বের করার চেষ্টা করে তাহলে সে মারাত্মক ভুল করবে। যেমন এগুলোর চলাচল ও একটির সঙ্গে আরেকটির মিলন ঘটলে কী হবে সে জ্ঞান আহরণ করা এবং এ বিশ্বাস করা যে, এগুলো পৃথিবীতে কোন অঘটন ঘটার প্রমাণ দেয়। এ সংক্রান্তে তাদের অধিকাংশ বক্তব্যই ভিত্তিহীন, মিথ্যা ধারণা ও অবাস্তব দাবি।

    আবার আল্লাহ তা’আলা জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি স্তরে স্তরে অর্থাৎ একটির উপর একটি করে সাত আকাশ সৃষ্ট করেছেন কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে এ ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে যে, সেগুলো কি পরস্পর মিশ্রিত নাকি বিচ্ছিন্ন, মধ্যে ফাঁকা রয়েছে। তবে দ্বিতীয় অভিমতটিই সঠিক। তার প্রমাণ পার্বত্য ছাগল اعوال সংক্রান্ত হাদীসে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) থেকে আহনাফ সূত্রে বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবন উমায়রার হাদীস যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেনঃ

    اتدرون كم بين السماء والأرض قلنا الله ورسوله أعلم قال بينهما مسيرة خمسماة عام ومن كل سماء إلى سماء خمسمأة سنة وكثف كل سماء خمسماة سنة .

    অর্থাৎ- তোমরা কি জান যে, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে ব্যবধান কতটুকু? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সম্যক অবহিত। তিনি বললেনঃ উভয়ের মধ্যে পাঁচশ বছরের দূরত্ব এবং এক আকাশ থেকে আরেক আকাশ পর্যন্ত দূরত্ব পাঁচশ বছর আর প্রত্যেক আকাশের স্থুলত্ব হলো পাঁচশ বছর।

    ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, ইবন মাজাহ ও তিরিমিযী (র) এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী হাদীসটি হাসান বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

    সহীহ বুখারী ও মুসলিমে মিরাজ সংক্রান্ত হাদীস আনাস (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন, ‘এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) নিকটবর্তী আকাশে আদম (আ)-কে পান, তখন জিবরাঈল (আ) তাকে বললেন, ইনি আপনার পিতা আদম (আ)। ফলে তিনি তাঁকে সালাম করেন এবং তিনি সালামের জবাব দেন ও বলেন, مرحبا واهلايابني نعم الابن انت (মারহাবা স্বাগতম হে আমার পুত্র, আপনি কতই না উত্তম পুত্র!) আনাস (রা) এভাবে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম আকাশে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর আরোহণ ও এর কথা উল্লেখ করেন, তা আকাশসমূহের মধ্যে বিস্তর ব্যবধানের প্রমাণ বহন করে। আবার রাসূলুল্লাহ (সা) নিজেও বলেছেনঃ

    ثم عرج بنا حتى أتينا السماء الثانية فاستفتح فقيل من هذا.

    অর্থাৎ- তারপর সে (বোরাক) আমাদেরকে নিয়ে উপরে আরোহণ করে। এমনকি আমরা দ্বিতীয় আকাশে এসে উপনীত হই। তিনি (জিবরাঈল) দরজা খুলতে বললে জিজ্ঞাসা করা হলো, ইনি কে? এ হাদীস আমাদের বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ বহন করে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

    ইবন হাযম, ইবনুল মুনীর ও আবুল ফায়জ ইবনুল জাওযী (র) প্রমুখ এ ব্যাপারে আলিমগণের ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন যে, আকাশমণ্ডলী হলো একটি গোলাকার বল স্বরূপ। আল্লাহর বাণী, كل في قلك يسبحون(প্রত্যেকে আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করো) এ আয়াত দ্বারা তার সপক্ষে প্রমাণ দেয়া হয়েছে।

    হাসান (র) বলেন, يسنحون অর্থ يدورون অর্থাৎ চক্রাকারে ঘুরে। ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, প্রতিটি চক্রে চরকার ন্যায় বৃত্ত আছে। আলিমগণ বলেন, প্রতি রাতে পশ্চিম আকাশে সূর্যের অস্ত যাওয়া এবং শেষে পূর্ব আকাশে আবার উদয় হওয়াও এর প্রমাণ বহন করে। যেমন উমাইয়া ইবন আবুসসালত বলেনঃ

    والشمس تطلع كل أخر ليلة – حمراء مطلع لونها متورد

    تأبى فلا تبدو النا في رسلها – إلا معذبة وإلا تجلد

    অর্থাৎ- সূর্য প্রতি রাতের শেষে লাল হয়ে উদয় হয়। তার উদয় স্থলের রঙ হলো গোলাপী। আমাদের জন্য আত্মপ্রকাশ করতে সূর্য ইতস্তত করে। অবশেষে ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে শাস্তিদানকারী অথবা কশাঘাতকারী রূপে।

    ইমাম বুখারী (র) বর্ণনা করেন যে, আবু যর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) একদিন সুর্যাস্তের সময় আমাকে বললেনঃ তুমি কি জান যে, সূর্য কোথায় যায়? বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই সম্যক অবগত। তিনি বললেনঃ সূর্য গিয়ে আরশের নিচে সিজদায় পড়ে যায়। তারপর অনুমতি প্রার্থনা করলে তাকে অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু একটি সময় এমন আসবে, যখন সূর্য সিজদা করবে কিন্তু তা কবুল হবে না এবং সে অনুমতি প্রার্থনা করবে কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে, যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও, ফলে সে পশ্চিম দিক থেকে উদয় হবে। والسمس تجري لمستقر لها الخ এ আয়াতে আল্লাহ তা’আলা এ কথাটিই বলেছেন।

    এ হলো সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়ে ইমাম বুখারী (র)-এর ভাষ্য। কিতাবুত তাফসীরেও তিনি হাদীসটি বর্ণনা করেছেন; আবার তাওহীদ অধ্যায়ে আমাশ-এর হাদীস থেকেও তা বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম, ইমাম আবু দাউদ (র) হাদীসটি ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করছেন। ইমাম তিরমিযী (র) হাদীসটি হাসান সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।

    উপরে আমরা আকাশসমূহের চক্রাকারে আবর্তিত হওয়ার ব্যাপারে যা বলে এসেছি, এ হাদীসটি তার পরিপন্থী নয় এবং হাদীসটিতে আরশের গোলাকার হওয়ারও প্রমাণ মিলে না। যেমন কেউ কেউ ধারণা করে থাকেন। ইতিপূর্বে আমরা তাদের বক্তব্য ভুল প্রমাণ করে এসেছি। আবার তা এ কথাও প্রমাণ করে না যে, সূর্য আমাদের দিক থেকে গিয়ে আকাশমণ্ডলীর উপরের দিকে উঠে আরশের নিচে সিজদায় লুটে পড়ে। বরং নিজ কক্ষে সন্তরণ অবস্থাতেই আমাদের দৃষ্টি থেকে অস্তমিত হয়ে যায়। একাধিক তাফসীর বিশেষজ্ঞের মতে, সূর্যের কক্ষ পথ হলো চতুর্থ আকাশ। শরীয়তেও এর বিরোধী কোন বক্তব্য পাওয়া যায় না বরং বাস্তবে এর পক্ষে প্রমাণ রয়েছে। যেমন সূর্যগ্রহণে তা প্রত্যক্ষ করা যায়। মোটকথা, সূর্য দুপুর বেলায় আরশের সর্ব নিকটবর্তী স্থানে অবস্থান করলেও, মধ্য রাতে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর ঠিক মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছে—আরশ থেকে দূরবর্তী স্থান, এটাই সূর্যের সিজদার স্থান। এখানে গিয়ে সে পূর্বদিক থেকে উদয় হওয়ার জন্য আল্লাহ তা’আলার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করে। অনুমতি পেয়ে সে পূর্বদিক থেকে আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু এতদসত্ত্বেও সে নাফরমান বনী আদমের উপর উদিত হওয়াকে অপছন্দ করে। আর এজন্যই উমাইয়া বলেছিলঃ

    تأبى فلا تبد ولنا في رسلها – الا معذبة والا تجلد.

    অর্থাৎ—আমাদের উপর উদয় হতে সূর্য ইতস্তত করে। শেষ পর্যন্ত উদয় হয় শাস্তি দানকারীরূপে বা কশাঘাতকারীরূপে।

    তারপর যখন সে সময়টি এসে যাবে, যে সময়ে আল্লাহ পশ্চিম দিক থেকে সূর্যকে উদিত করতে মনস্থ করবেন; তখন সূর্য তার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী সিজদা করবে এবং নিয়ম অনুযায়ী উদিত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করবে, কিন্তু তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। ফলে সে আবারো সিজদায় পড়ে অনুমতি চাইবে কিন্তু অনুমতি দেয়া হবে না। পুনরায় সে সিজদা করে অনুমতি প্রার্থনা করবে কিন্তু এবারও তাকে অনুমতি দেয়া হবে না এবং সে রাতটি দীর্ঘ হয়ে যাবে, যেমন আমরা তাফসীরে উল্লেখ করেছি। তারপর সূর্য বলবে, হে আমার রব! প্রভাত তো ঘনিয়ে এলো, অথচ পাড়ি অনেক দূর। জবাবে তাকে বলা হবে, তুমি যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও। ফলে সে পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে। তা দেখে তখন সকলে ঈমানদার হয়ে যাবে কিন্তু ইতিপূর্বে যে ব্যক্তি ঈমান আনেনি কিংবা ঈমান এনে কোন কল্যাণ অর্জন করেনি, তার সে সময়ের ঈমান কোন কাজে আসবে না। আলিমগণ والشمس تجري لمستقرلها এর এ ব্যাখ্যাই করেছেন।

    কেউ কেউ বলেন, এ আয়াতের অর্থ হলো, পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার আদেশ প্রাপ্তির পূর্ব পর্যন্ত সূর্য এভাবেই চলতে থাকবে।

    কেউ কেউ বলেন, مستقوها বলতে আরশের নিচে সূর্যের সিজদার স্থানকেই বুঝানো হয়েছে। কারো কারো মতে,مستقوها অৰ্থ منتهي অর্থাৎ সূর্যের সর্বশেষ গন্তব্যস্থল যা পৃথিবীর শেষ প্রান্ত।

    ইবন আব্বাস (রা) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি والشمس تجري لمستقرلها তিলাওয়াত করে এর ব্যাখ্যায় বলেন, অর্থাৎ সূর্য অবিরাম ভ্রমণ করে কখনো ক্ষান্ত হয় না। এ অর্থে সূর্য চলন্ত অবস্থায়ই সিজদা করে নেয়। আর এ জন্য আল্লাহ্ বলেনঃ

    لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ ۚ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ.

    অর্থাৎ- সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চন্দ্রের নাগাল পাওয়া এবং রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা; এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে সন্তরণ করে। (৩৬ঃ ৪০)

    অর্থাৎ – সূর্য চন্দ্রের নাগাল পায় না। ফলে সে নিজ রাজ্যেই উদিত হয় আর চন্দ্রও সূর্যকে ধরতে পারে না। রাত দিনকে অতিক্রম করতে পারে না। অর্থাৎ রাত এমন গতিতে অতিক্রম করে না যে, দিনকে হটে গিয়ে তাকে স্থান করে দিতে হয়। বরং নিয়ম হলো, দিন চলে গেলে তার অনুগামীরূপে তার পেছনে রাতের আগমন ঘটে। যেমন অন্য এক আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ

    يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ ۗ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ۗ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ

    অর্থাৎ তিনি দিবসকে রাত্র দ্বারা আচ্ছাদিত করেন যাতে তাদের একে অন্যকে দ্রুত গতিতে অনুসরণ করে আর সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি যা তারই আজ্ঞাধীন, তা তিনি সৃষ্টি করেছেন। জেনে রাখ, সৃজন ও আদেশ তাঁরই; মহিমময় বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ্। (৭ঃ ৫৪)

    আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ خِلْفَةً لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يَذَّكَّرَ أَوْ أَرَادَ شُكُورًا.

    অর্থাৎ এবং যারা উপদেশ গ্রহণ করতে ও কৃতজ্ঞ হতে চায় তাদের জন্য তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত এবং দিনকে পরস্পরের অনুগামী রূপে। (২৫ঃ ৬২)

    অর্থাৎ রাত ও দিনকে তিনি এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, একটির পর অপরটি পর্যায়ক্রমে আগমন করে থাকে। যেমন রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ

    إذا أقبل الليل من ههنا وأدبر النهار من ههنا وغربت الشمس فقد افطر الصائم .

    অর্থাৎ-একদিকে রাত ঘনিয়ে এলে অপরদিকে দিনের পরিসমাপ্তি ঘটলে এবং সূর্য ডুবে গেলে রোযাদার যেন ইফতার করে নেয়।

    মোটকথা, সময় রাত ও দিন এ দু’ভাগে বিভক্ত। এ দু’য়ের মাঝে অন্য কিছু নেই। আর এজন্যই আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي إِلَىٰ أَجَلٍ مُسَمًّى.

    আল্লাহ রাতকে দিনে এবং দিনকে রাতে পরিণত করেন। তিনি চন্দ্র-সূর্যকে করেছেন নিয়মাধীন, প্রত্যেকে বিচরণ করে নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত (৩১ঃ ২৯)

    অর্থাৎ রাত ও দিনের একটির কিছু অংশকে তিনি অপরটির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন। অর্থাৎ একটির দীর্ঘায়তন থেকে কিছু নিয়ে অপরটি ক্ষুদ্রায়তনে ঢুকিয়ে দেন। ফলে দুটো সমান সমান হয়ে যায়। যেমন বসন্তকালের প্রথম দিকে হয়ে থাকে যে, এর আগে রাত থাকে দীর্ঘ আর দিন থাকে খাটো। তারপর ধীরে ধীরে রাত হ্রাস পেতে থাকে আর দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। এভাবে এক সময় উভয়ে সমান হয়ে যায়। তাহলে বসন্তের প্রথম অংশ। তারপর দিন দীর্ঘ ও রাত খাটো হতে থাকে। এভাবে পুনরায় হেমন্তের শুরুতে উভয়ই সমান হয়ে যায়। তারপর হেমন্তের শেষ পর্যন্ত রাত বৃদ্ধি পেতে এবং দিন হ্রাস পেতে থাকে। তারপর একটু একটু করে দিন প্রাধান্য লাভ করতে থাকে এবং রাত ক্রমে ক্রমে হ্রাস পেতে থাকে। এভাবে বসন্তের শুরুতে এসে রাত-দিন দু’টো সমান হয়ে যায়। আর প্রতি বছরই এরূপ চলতে থাকে। এ জন্যই আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ

    وَلَهُ اخْتِلَافُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ.

    এবং তাঁরই অধিকারে রাত ও দিনের পরিবর্তন। (২৩ঃ ৮০)

    অর্থাৎ এ সব কিছু আল্লাহরই হাতে। তিনি এমন এক শাসক, যার বিরুদ্ধাচরণ করা কিংবা যাকে বাধা প্রদান করা যায় না। এ জন্যই তিনি আকাশসমূহ, নক্ষত্ররাজি ও রাত-দিনের আলোচনার সময় আয়াতের শেষে বলেছেনঃ ذالك تقدير العزيز العليم অর্থাৎ-এসবই পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণ। (৬ঃ ৯৬)

    العزيز অর্থ সবকিছুর উপর যিনি পূর্ণ ক্ষমতাবান এবং সবই যাঁর অনুগত। ফলে তাঁকে ঠেকানো যায় না, পরাস্ত করা যায় না। আর العليم অর্থ যিনি সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞ। ফলে সব কিছুকে তিনি যথারীতি একটি অপরিবর্তনীয় ও অলংঘনীয় নিয়মে নিয়ন্ত্রণ করেন।

    সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ

    قال الله يوذینی ابن آدم يسب الدهر وأنا الدهر بيدي الأمر. اقلبالليل والنهار.

    অর্থাৎ—আল্লাহ বলেন, আদমের সন্তানরা আমাকে কষ্ট দেয়। তারা সময়কে গালাগাল করে। অথচ আমিই সময়, আমার হাতেই সব ক্ষমতা। রাত ও দিনকে আমিই আবর্তিত করে থাকি।

    অন্য বর্ণনায় আছেঃ           فأنا الدهر اقلب ليله ونهاه

    অর্থাৎ আমিই কাল। তার রাত ও দিনকে আমিই আবর্তিত করে থাকি।

    ইমাম শাফেঈ ও আবু উবায়দ কাসিম (র) প্রমুখ আলিম يسب الدهر এর ব্যাখ্যায় বলেনঃ মানুষ বলে থাকে যে, কাল আমাদের সঙ্গে এরূপ আচরণ করেছে কিংবা বলে যে, হায় কালের করাল গ্রাস! সে আমাদের সন্তানদেরকে ইয়াতীম বানিয়ে দিল, নারীদেরকে বিধবা করল। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ وانا الدهر অর্থাৎ প্রকৃত পক্ষে আমিই সে কাল যাকে উদ্দেশ করে মানুষ এসব বলে থাকে। কেননা কালের প্রতি আরোপিত কর্মকাণ্ডের কর্তা তিনিই; আর কাল হলো তাঁরই সৃষ্ট। আসলে যা ঘটেছে আল্লাহই তা ঘটিয়েছেন। সুতরাং সে কর্তাকে গাল দিচ্ছে আর ধারণা করছে যে, এ সব কালেরই কাণ্ড! কর্তা মূলত আল্লাহ যিনি সবকিছুর স্রষ্টা ও সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। যেমন তিনি বলেছেনঃ

    ونا الدهربيدي الامر اقلب ليله ونهاره আমিই কাল। আমার হাতেই সব কিছু। তাঁর রাত ও দিবসকে আমিই পরিবর্তন করি।

    কুরআনে করীমে আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ

    قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ ۖ بِيَدِكَ الْخَيْرُ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. تُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَتُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ ۖ وَتُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَتُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ ۖ وَتَرْزُقُ مَنْ تَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ.

    অর্থাৎ—বল, হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা প্রদান কর এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দাও, আর যাকে ইচ্ছা তুমি হীন কর। কল্যাণ তোমার হাতেই। তুমি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

    তুমিই রাতকে দিনে পরিণত কর এবং দিনকে রাতে পরিণত কর; তুমিই মৃত থেকে জীবন্তের আবির্ভাব ঘটাও, আবার জীবন্ত থেকে মৃতের আবির্ভাব ঘটাও। তুমি যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবনোপকরণ দান কর। (৩ঃ ২৬-২৭)

    অন্য আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ ۚ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذَٰلِكَ إِلَّا بِالْحَقِّ ۚ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ. إِنَّ فِي اخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَّقُونَ.

    অর্থাৎ—তিনিই সূর্যকে তেজকর ও চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার মনযিল নির্দিষ্ট করেছেন যাতে তোমরা সাল গণনা ও হিসাব জানতে পার। আল্লাহ এটা নিরর্থক সৃষ্টি করেননি। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য তিনি এসব নিদর্শন বিশদভাবে বিবৃত করেন। দিন ও রাতের পরিবর্তনে এবং আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা সৃষ্টি করেছেন তাতে নিদর্শন রয়েছে মুত্তাকী সম্প্রদায়ের জন্য। (১০ঃ ৫-৬)

    অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা আলো, আকার-আকৃতি, সময় ও চলাচলের ক্ষেত্রে সূর্য ও চন্দ্রের মাঝে ব্যবধান করেছেন। সূর্যের কিরণকে করেছেন তেজঙ্কর জ্বলন্ত প্রমাণ ও দীপ্ত আলো আর চন্দ্রকে বানিয়েছেন নূর অর্থাৎ জ্বলন্ত সূর্যের প্রমাণের তুলনায় নিষ্প্রভ এবং তার আলো সূর্যের আলো থেকে প্রাপ্ত।

    আবার তিনি চন্দ্রের মনযিলসমূহও নির্ধারণ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ চন্দ্র সূর্যের নিকটে থাকার কারণে এবং উভয়ের মুখোমুখিতা কম হওয়ার ফলে মাসের প্রথম রাতে চন্দ্র দুর্বল ও স্বল্প আলোকময় হয়ে উদিত হয়। চন্দ্রের আলো তার সূর্যের মুখোমুখিতা অনুপাতে হয়ে থাকে। তাই দ্বিতীয় রাতে চন্দ্র প্রথম রাতের তুলনায় সূর্যের দ্বিগুণ দূরবর্তী হওয়ার কারণে তার আলোও প্রথম রাতের দ্বিগুণ হয়ে যায়। তারপর চন্দ্র সূর্যের যত দূরে আসতে থাকে তার আলোও তত বাড়তে থাকে। এভাবে পূর্ব আকাশে উভয়ের মুখোমুখি হওয়ার রাতে চন্দ্রের আলো পরিপূর্ণতা লাভ করে। আর তাহলো মাসের চৌদ্দ তারিখের রাত। তারপরে অপরদিকে চন্দ্র সূর্যের নিকটে চলে আসার কারণে মাসের শেষ পর্যন্ত তা হ্রাস পেতে থাকে। এভাবে এক পর্যায়ে তা অদৃশ্য হয়ে দ্বিতীয় মাসের শুরুতে আবার পূর্বের ন্যায় উদিত হয়। এভাবে চন্দ্র দ্বারা মাস ও বছরের এবং সূর্য দ্বারা রাত ও দিনের পরিচয় পাওয়া যায়। এ জন্যই আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ

    هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ.

    অর্থাৎ—তিনিই সূর্যকে তেজঙ্কর এবং চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার মযিলসমূহ নির্দিষ্ট করেছেন যাতে তোমরা সাল গণনা ও হিসাব জানতে পার। (১০ঃ ৫)

    অন্য আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ

    وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ آيَتَيْنِ ۖ فَمَحَوْنَا آيَةَ اللَّيْلِ وَجَعَلْنَا آيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً لِتَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ وَلِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ ۚ وَكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلًا.

    অর্থাৎ—আমি রাত ও দিনকে করেছি দু’টি নিদর্শন; রাতের নিদর্শনকে অপসারিত করেছি এবং দিবসের নিদর্শনকে করেছি আলোকপ্রদ যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা বর্ষসংখ্যা ও হিসাব স্থির করতে পার এবং আমি সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করেছি। (১৭ঃ ১২)

    অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেনঃ

    يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ ۖ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ.

    অর্থাৎ–লোকে তোমাকে নতুন চাঁদ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে; বল, তা মানুষ এবং হজ্জের জন্য সময় নির্ধারক। (২ঃ ১৮৯)

    তাফসীরে আমরা এসব প্রসংগে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। মোটকথা, আকাশে যেসব গ্রহ আছে, তন্মধ্যে কিছু হলো গতিশীল। তাফসীরবিদদের পরিভাষায় এগুলোকে মুতাখায়্যারা বলা হয়। এ এমন এক বিদ্যা যার বেশির ভাগই সঠিক। কিন্তু ইলমুল আহকাম অর্থাৎ এগুলোর অবস্থানের ভিত্তিতে বিধি-নিষেধ আরোপ করা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অবাস্তব এবং অমূলক দাবি মাত্র।

    গ্রহ মোট সাতটি। (১) চন্দ্র, প্রথম আকাশে (২) বুধ, দ্বিতীয় আকাশে (৩) শুক্র, তৃতীয় আকাশে (৪) সূর্য, চতুর্থ আকাশে (৫) মঙ্গল, পঞ্চম আকাশে (৬) বৃহস্পতি, ষষ্ঠ আকাশে এবং (৭) শনি, সপ্তম আকাশে।

    অবশিষ্ট গ্রহগুলো স্থির, গতিহীন। বিশেষজ্ঞদের মতে তা অষ্টম আকাশে অবস্থিত। পরবর্তী যুগের বহু সংখ্যক আলিমের পরিভাষায় যাকে কুরসী বলা হয়। আবার অন্যদের মতে, সবকটি গ্রহই নিকটবর্তী আকাশে বিরাজমান এবং সেগুলোর একটি অপরটির উপরে অবস্থিত হওয়া বিচিত্র নয়। নিচের দু’টো আয়াত দ্বারা এর সপক্ষে প্রমাণ দেওয়া হয়ে থাকে।

    وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَجَعَلْنَاهَا رُجُومًا لِلشَّيَاطِينِ.

    অর্থাৎ—আমি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করেছি প্রদীপমালা দ্বারা এবং তাদেরকে করেছি শয়তানের প্রতি নিক্ষেপের উপকরণ। (৬৭ঃ ৫)

    فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَىٰ فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا ۚ وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ.

    অর্থাৎ—তারপর তিনি আকাশমণ্ডলীকে দু’দিনে সাত আকাশে পরিণত করেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার বিধান ব্যক্ত করেন এবং আমি প্রদীপমালা দ্বারা আকাশকে সুশোভিত ও সুরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা। (৪১ঃ ১২)

    এ আয়াতদ্বয়ে সবক’টি আকাশের মধ্যে শুধুমাত্র নিকটবর্তী আকাশকেই নক্ষত্র শোভিত বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। এর অর্থ যদি এই হয় যে, নক্ষত্রসমূহকে নিকটবর্তী আকাশে গেঁথে রাখা হয়েছে; তাহলে কোন কথা নেই। অন্যথায় ভিন্নমত পোষণকারীদের অভিমত সঠিক হওয়ায় কোন বাধা নেই। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সাত আকাশ বরং অষ্টম আকাশও তাদের মধ্যস্থিত গতিহীন ও গতিশীল গ্রহসমূহসহ পশ্চিম থেকে পূর্বে ঘুরে বেড়ায়। চন্দ্র এক মাসে তার কক্ষপথ অতিক্রম করে এবং সূর্য তার কক্ষপথ তথা চতুর্থ আকাশ অতিক্রম করে এক বছরে।

    সুতরাং দু’গতির মাঝে যখন কোন তারতম্য নেই এবং উভয়ের গতিই যখন সমান তাই প্রমাণিত হয় যে, চতুর্থ আকাশের পরিমাপ প্রথম আকাশের পরিমাপের চারগুণ। আর শনিগ্রহ ত্রিশ বছরে একবার তার কক্ষপথ সপ্তম আকাশ অতিক্রম করে। এ হিসেবে সপ্তম আকাশ প্রথম আকাশের তিনশ ষাট গুণ বলে প্রমাণিত হয়।

    বিশেষজ্ঞগণ এসব নক্ষত্রের আকার ও গতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এমনকি তারা ইলমুল আহকামের পর্যন্ত শরণাপন্ন হয়েছেন। ঈসা (আ)-এর বহু যুগ আগে সিরিয়ায় যে গ্রীক সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করত, এ বিষয়ে তাদের বিশদ বক্তব্য রয়েছে। তারাই দামেশক নগরী নির্মাণ করে তার সাতটি ফটক স্থাপন করে এবং প্রতিটি ফটকের শীর্ষদেশে সাতটি গ্রহের একটি করে প্রতিকৃতি স্থাপন করে সেগুলোর পূজা পার্বণ এবং সেগুলোর কাছে প্রার্থনা করতে লাগলো। একাধিক ঐতিহাসিক এবং আরও অনেকে এসব তথ্য বর্ণনা করেছেন। আসসিররুল মাকতুম ফী মাখাতাজতিশ শামসে ওয়াল কামারে ওয়ান নুজুম ( السر المكتوم في مخاطة الشمس والقمر والنجوم) গ্রন্থের লেখক হাররানের প্রাচীনকালের দার্শনিক মহলের বরাতে এসব উল্লেখ করেছেন। তারা ছিল পৌত্তলিক। তারা সাত গ্রহের পূজা করত। আর তারা সাবেয়ীদেরই একটির অন্তর্ভুক্ত সম্প্রদায়।

    এ জন্যই আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ ۚ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ.

    অর্থাৎ—তার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না চন্দ্রকেও না, সিজদা কর আল্লাহকে, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা তাঁরই ইবাদত করে থাকো। (৪১ঃ ৩৭)

    আবার আল্লাহ তা’আলা হুদহুদ সম্পর্কে বলেছেন যে, সে সুলায়মান (আ)-কে ইয়ামানের অন্তর্গত সাবার রাণী বিলকীস তার বাহিনী সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করতে গিয়ে বলেছিলঃ

    إِنِّي وَجَدْتُ امْرَأَةً تَمْلِكُهُمْ وَأُوتِيَتْ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ وَلَهَا عَرْشٌ عَظِيمٌ. وَجَدْتُهَا وَقَوْمَهَا يَسْجُدُونَ لِلشَّمْسِ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ فَهُمْ لَا يَهْتَدُونَ. أَلَّا يَسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي يُخْرِجُ الْخَبْءَ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُخْفُونَ وَمَا تُعْلِنُونَ. اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ.

    অর্থাৎ—আমি এক নারীকে দেখলাম তাদের উপর রাজত্ব করছে। তাকে সবকিছু থেকে দেয়া হয়েছে এবং তার আছে এক বিরাট সিংহাসন। আমি তাকে এবং তার সম্প্রদায়কে দেখলাম তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সিজদা করছে। শয়তান তাদের কার্যাবলী তাদের নিকট শোভন করে দিয়েছে এবং তাদেরকে সৎপথ থেকে নিবৃত্ত করেছে, ফলে তারা সৎপথ পায় না।

    নিবৃত্ত করেছে এ জন্য যে, তারা যেন সিজদা না করে আল্লাহকে যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর লুক্কায়িত বস্তুকে প্রকাশ করেন, যিনি জানেন যা তোমরা গোপন কর এবং যা তোমরা ব্যক্ত কর। আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, তিনি মহা আরশের অধিপতি। (২৭ঃ ২৩-২৬)

    অন্যত্র আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ

    أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوَابُّ وَكَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ ۖ وَكَثِيرٌ حَقَّ عَلَيْهِ الْعَذَابُ ۗ وَمَنْ يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ مُكْرِمٍ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ.

    অর্থাৎ—তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে ও পৃথিবীতে সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমণ্ডলী, পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীব-জন্তু এবং মানুষের মধ্যে অনেকে। আবার অনেকের প্রতি অবধারিত হয়েছে শাস্তি। আল্লাহ যাকে হেয় করেন তার সম্মানদাতা কেউই নেই। আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন তা করেন। (২২ঃ ১৮)

    অন্যত্র আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ

    أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَىٰ مَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ يَتَفَيَّأُ ظِلَالُهُ عَنِ الْيَمِينِ وَالشَّمَائِلِ سُجَّدًا لِلَّهِ وَهُمْ دَاخِرُونَ. وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ وَالْمَلَائِكَةُ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ. يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ.

    অর্থাৎ—তারা কি লক্ষ্য করে না আল্লাহর সৃষ্ট বস্তুর প্রতি, যার ছায়া দক্ষিণে ও বামে ঢলে পড়ে আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হয়? আল্লাহকেই সিজদা করে যা কিছু আছে আকাশমণ্ডলীতে, পৃথিবীতে যত জীব-জন্তু আছে সে সমস্ত এবং ফেরেশতাগণও; তারা অহংকার করে না। তারা ভয় করে তাদের উপর পরাক্রমশালী তাদের প্রতিপালককে এবং তাদেরকে যা আদেশ করা হয়। তারা তা করে। (১৬ঃ ৪৮-৫০)

    অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেনঃ

    وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَظِلَالُهُمْ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ.

    অর্থাৎ-আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হয় আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় এবং তাদের ছায়াগুলোও সকাল-সন্ধ্যায়। (১৩ঃ ১৫)

    অন্যত্র তিনি বলেনঃ

    تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ ۚ وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَٰكِنْ لَا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ ۗ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا.

    অর্থাৎ—সাত আকাশ, পৃথিবী এবং তাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু তারই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং এমন কিছু নেই যা তার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা না করে কিন্তু তাদের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা তোমরা অনুধাবন করতে পার না; তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ। (১৭ঃ ৪৪)

    এ প্রসংগে আরো প্রচুর সংখ্যক আয়াত রয়েছে। আর যেহেতু আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে দৃশ্যমান বস্তু নিচয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো গ্রহ-নক্ষত্রাদি আবার এগুলোর মধ্যে দর্শনীয় ও শিক্ষণীয় হিসাবে সেরা হলো সূর্য ও চন্দ্র। সেহেতু ইবরাহীম খলীল (আ)-এর কোনটিই উপাসনার যোগ্য না হওয়ার প্রমাণ পেশ করেছিলেন। নীচের আয়াতে তার বিবরণ রয়েছেঃ

    فَلَمَّا جَنَّ عَلَيْهِ اللَّيْلُ رَأَىٰ كَوْكَبًا ۖ قَالَ هَٰذَا رَبِّي ۖ فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لَا أُحِبُّ الْآفِلِينَ. فَلَمَّا رَأَى الْقَمَرَ بَازِغًا قَالَ هَٰذَا رَبِّي ۖ فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لَئِنْ لَمْ يَهْدِنِي رَبِّي لَأَكُونَنَّ مِنَ الْقَوْمِ الضَّالِّينَ. فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَٰذَا رَبِّي هَٰذَا أَكْبَرُ ۖ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ. إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا ۖ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ.

    অর্থাৎ—তারপর রাতের অন্ধকার যখন তাকে আচ্ছন্ন করল তখন সে নক্ষত্র দেখে বলল, এ আমার প্রতিপালক তারপর যখন তা অস্তমিত হলো, তখন সে বলল, যা অস্তমিত হয় তা আমি পছন্দ করি না।

    তারপর যখন সে চন্দ্রকে সমুজ্জ্বল রূপে উদিত হতে দেখল তখন সে বলল, এ আমার প্রতিপালক। যখন তাও অস্তমিত হলো তখন সে বলল, আমার প্রতিপালক আমাকে সৎপথ প্রদর্শন না করলে আমি অবশ্যই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হবো।

    তারপর যখন সে সূর্যকে দীপ্তিমানরূপে উদিত হতে দেখল তখন সে বলল, এ আমার প্রতিপালক, এ সর্ববৃহৎ; যখন তাও অস্তমিত হলো, তখন সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যাকে আল্লাহর শরীক কর, তার সাথে আমার কোন সংশ্রব নেই। আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকে আমার মুখ ফিরাই যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। (৬ঃ ৭৬-৭৯)

    মোটকথা, ইবরাহীম (আ) অকাট্য প্রমাণ দ্বারা পরিষ্কারভাবে একথা বুঝিয়ে দিলেন যে, নক্ষত্ররাজি, চন্দ্র ও সূর্য প্রভৃতি দৃশ্যমান বস্তু নিচয়ের কোনটিই উপাস্য হওয়ার যোগ্যতা রাখে না    । কারণ এর সবটিই সৃষ্ট বস্তু, অন্যের দ্বারা প্রতিপালিত, নিয়ন্ত্রিত এবং চলাচলের ক্ষেত্রে অন্যের আজ্ঞাধীন, যাকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে তা থেকে এতটুকু নড়চড় হওয়ার শক্তি কারো নেই। এগুলো প্রতিপালিত, সৃষ্ট ও অন্যের আজ্ঞাধীন হওয়ার এটাই প্রমাণ। আর এ জন্যই আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ ۚ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ.

    অর্থাৎ—তার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না, চন্দ্রকেও না। সিজদা কর আল্লাহকে যিনি এগুলো সূষ্টি করেছেন, যদি তোমরা তারই ইবাদত করে থাকো। (৪১ঃ ৩৭)

    সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে ইবন উমর, ইবন আব্বাস (রা) ও আয়েশা (রা) প্রমুখ সাহাবী থেকে সালাতুল কুসুফ (সূর্য গ্রহণের নামায) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা) একদিন তাঁর ভাষণে বলেনঃ

    إن الشمس والقمر آيتان من آيات الله عز وجل وإنهما لا ينكسفان لموت احد ولا لحياته.

    অর্থাৎ—“সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের দু’টো নিদর্শন। কারো জীবন বা মৃত্যুর কারণে এগুলোতে গ্রহণ লাগে না।”

    ইমাম বুখারী (র) সৃষ্টির সূচনা অধ্যায়ে বর্ণনা করেন যে, আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ الشمس والقمر مكوران يوم القيامة অর্থাৎ-“সূর্য ও চন্দ্র কিয়ামতের দিন নিষ্প্রভ হয়ে যাবে।”

    ইমাম বুখারী (র) এককভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে হাফিজ আবু বকর বাযযার (র)-এর চেয়ে আরো বিস্তারিতভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাহলোঃ

    আবুদল্লাহ ইবন দানাজ বলেন, আমি আবু সালামা ইবন আবদুর রহমানকে খালিদ ইবন আবদুল্লাহ আল-কাসবী-এর আমলে কূফার এ মসজিদে হাসান-এর উপস্থিতিতে বলতে শুনেছি যে, আবু হুরায়রা (রা) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ

    أن الشمس والقمر ثوران في النار يوم القيامة.

    অর্থাৎ—“সূর্য ও চন্দ্র কিয়ামতের দিন জাহান্নামে দু’টো ষাঁড় হবে।”

    একথা শুনে হাসান (র) বললেন, ওদের কোন কর্মফলের দরুন? জবাবে আবূ সালামা বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-এর হাদীস তোমার নিকট বর্ণনা করছি আর তুমি কি না বলছ ওদের কোন কর্মফলের দরুন তারপর বাযযার (র) বলেন, আবু হুরায়রা (রা) থেকে এ সূত্র ব্যতীত হাদীসটি বর্ণিত হয়নি। আর আবদুল্লাহ দানাজ আবু সালামা (রা) থেকে এ হাদীসটি ব্যতীত অন্য কোন হাদীস বর্ণনা করেননি।

    হাফিজ আবু ইয়া’লা আল-মূসিলী য়াযীদ আর রুকাশী নামক একজন দুর্বল রাবী সূত্রে আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ

    الشمس والقمر ثوران عقيران في النار .

    অর্থাৎ—“সূর্য ও চন্দ্র জাহান্নামে দু’টো ভীত-সন্ত্রস্ত ষাড় হবে।”

    ইবন আবু হাতিম (র) বর্ণনা করেন যে, ইবন আব্বাস (রা) اذا الشمس كورت -এর ব্যাখ্যায় বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্রসমূহকে সমুদ্রে ফেলে নিষ্প্রভ করে দেবেন। তারপর আল্লাহ পশ্চিমা বায়ু প্রেরণ করবেন, তা সেগুলোকে আগুনে ইন্ধনরূপে নিক্ষেপ করবে।

    এসব বর্ণনা প্রমাণ করে যে, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর সৃষ্টিসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ বিশেষ উদ্দেশ্যে এগুলো সৃষ্টি করেছেন। তারপর আবার একদিন এগুলোর ব্যাপারে তার যা ইচ্ছা তাই করবেন। তিনি অকাট্য প্রমাণ ও নিখুঁত হিকমতের অধিকারী। ফলে তাঁর প্রজ্ঞা, হিকমত ও কুদরতের কারণে তিনি যা করেন তাতে কারো কোন প্রশ্নের অবকাশ নেই এবং তার কর্তৃত্বকে প্রতিরোধ বা প্রতিহত করার ক্ষমতা কারো নেই। ইমাম মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) তার সীরাত গ্রন্থের শুরুতে যায়দ ইবন ’আমর ইবন নুফায়ল আকাশ, পৃথিবী, সূর্য ও চন্দ্র ইত্যাদি সৃষ্টি সম্পর্কিত যে পংক্তিগুলো উল্লেখ করেছেন তা কতই না সুন্দর। ইবন হিশাম বলেন, পংক্তিগুলো উমায়া ইবন আবুস সালত-এর। পংক্তিগুলো এইঃ

    الى الله اهدى مدحتى وثنائيا – وقولا رضيا لا يني الدهر باقيا

    إلى الملك الاعلى الذي ليس فوقه – اله ولا رب يكون مدانيا

    ألا أي تها الإنسان اياك والردی -فإنك لا تخفي من الله فاقيا

    واياك لا تجعل مع الله غيره – فإن سبيل الرشد اصبح باديا

    حنانيکه ان الجن كانت رجائهم – وانت الهی ربنا ورجيئيا

    رضيت بك اللهم ربا فلن ارى – أدين الها غيرك الله ثانيا

    وانت الذي من فضل من ورحمة – بعثت إلى موسی رسولا مناديا

    فقلت له اذهب وهارون فادعوا – الى الله فرعون الذي كان طاغيا

    وقولا له أأنت سويت هذه – بلا وتد حتى اطمأنت كما هيا

    وقولا له أأنت رفعت هذه – بلا عمد ارفق إذابك بانيا

    وقولا له أأنت سويت وسطها – منيرا اذاما جنه الليل هاديا

    وقولا له من يرسل الشمس غدوة – فيصبح ما مست من الارض ضاحيا

    وقولا له من ينبت الحب في الثرى – فيصبح منه البقل يهتز رابيا

    ويخرج منه حبه في رؤسه – وفي ذالك آيات لمن كان واعيا

    وانت بفضل منك نجيت يونسا – وقد بات في اضعاف حوت لياليا

    وإني لو سبحت باسمك ربنا – لاكثر إلا غفرت خطائيا

    فرب العباد ألق سیبا و رحمة – علي وبارك في بني وماليا

    অর্থাৎ—আমার যাবতীয় প্রশংসা, স্তুতি ও প্রেম গাঁথা অনন্তকালের জন্য আল্লাহর সমীপেই আমি উৎসর্গ করছি, যিনি রাজাধিরাজ যাঁর উপরে কোন উপাস্য এবং যার সমকক্ষ কোন রব নেই।

    ওহে মানব জাতি! ধ্বংসের হাত থেকে তুমি বেঁচে থাক। আল্লাহর থেকে কিছুই গোপন রাখার সাধ্য তোমার নেই। আর আল্লাহর সঙ্গে অন্যকে অংশীদার স্থাপন করা থেকে বেঁচে থাকা তোমার একান্ত প্রয়োজন। হেদায়াতের পথ আজ একেবারেই সুস্পষ্ট।

    প্রভু! তোমার রহমতই আমার কাম্য; তুমিই তো আমার উপাস্য।

    হে আল্লাহ! তোমাকেই আমি রব বলে গ্রহণ করে নিয়েছি; তোমাকে ছাড়া অপর কারো উপাসনা করতে তুমি আমায় দেখবে না।

    তুমি তো সে সত্তা, যিনি আপন দয়া ও করুণায় মূসাকে আহবানকারী রাসূল বানিয়ে প্রেরণ করেছে। আর তাকে বলে দিয়েছ হারূনকে নিয়ে তুমি অবাধ্য ফিরআউনের নিকট যাও এবং তাকে আল্লাহর প্রতি আহবান কর। আর তাকে জিজ্ঞেস কর; তুমি কি স্থির করেছ এ পৃথিবীকে কীলক ব্যতীত? তুমিই কি ঊর্ধ্বে স্থাপন করেছ আকাশমণ্ডলীকে স্তম্ভ ব্যতিরেকে? রাতের আঁধারে পথের দিশারী এ উজ্জ্বল চন্দ্রকে আকাশের মাঝে স্থাপন করেছ কি তুমিই? প্রভাতকালে সূর্যকে কে প্রেরণ করে, যা উদয় হয়ে পৃথিবীকে করে দেয় আলোকময়? বল, কে মাটির মধ্যে বীজ অংকুরিত করে উৎপন্ন করে তাজা শাক-সবজি ও তরিতরকারি? এতে বহু নিদর্শন রয়েছে তার জন্য যে বুঝতে চায়।

    আর তুমি নিজ অনুগ্রহে মুক্তি দিয়েছ ইউনুসকে। অথচ সে মাছের উদরে কাটিয়েছিল বেশ ক’টি রাত।

    প্রভু! আমি যদি তোমার মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করতে যাই তা হলে তো তোমার অনেক অনেক মহিমার কথা বলতে হয়, তবে তুমি যদি মাফ করে দাও, তা হলে ভিন্ন কথা!

    ওহে মানুষের প্রভু! আমার উপর বর্ষণ কর তুমি তোমার অপার দয়া ও করুণার বারিধারা আর বরকত দাও আমার সন্তান-সন্ততি ও ধন-দৌলতে।

    যাহোক, এতটুকু জানার পর আমরা বলতে পারি যে, আকাশে স্থির ও চলমান যেসব নক্ষত্র আছে, তা সবই মাখলুক, আল্লাহ তা’আলা তা সৃষ্টি করেছেন। যেমন তিনি বলেনঃ

    وَأَوْحَىٰ فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا ۚ وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ

    অর্থাৎ—এবং তিনি প্রত্যেক আকাশে তার বিধান ব্যক্ত করলেন, এবং আমি নিকটবর্তী আকাশকে সুশোভিত করেছি প্রদীপমালা দ্বারা এবং করলাম সুরক্ষিত। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ অল্লিাহর ব্যবস্থাপনা। (৪১ঃ ১২)

    পক্ষান্তরে, হারুত ও মারূতের কাহিনী সম্পর্কে অনেক মুফাসসির যে কথাটি বলে থাকেন, যুহরা (শুক্রগ্রহ) ছিল এক মহিলা, তার কাছে তারা অসৎ প্রস্তাব দিলে তারা তাকে ইসমে আজম শিক্ষা দেবে এ শর্তে সে তাতে সম্মত হয়। শৰ্তমত হারূত ও মারুত তাকে ইসমে আজম শিখিয়ে দিলে তা উচ্চারণ করে সে নক্ষত্র হয়ে আকাশে উঠে যায়। আমার ধারণা, এটা ইসরাঈলীদের মনগড়া কাহিনী। যদিও কা’ব আল-আহবার তা বর্ণনা করেছেন এবং তার বরাতে পূর্ববর্তী যুগের একদল আলিম বনী ইসরাঈল-এর কাহিনী হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

    ইমাম আহমদ এবং ইবন হিব্বান (র) তার সহীহ গ্রন্থে এ প্রসংগে একটি রিওয়ায়েত করেছেন, আহমদ উমর (রা) সূত্রে নবী করীম (সা) থেকে কাহিনীটি সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে যে, যুহরাকে (শুক্রগ্রহ) পরমা সুন্দরী এক নারী রূপে হারুত-মারূতের সম্মুখে উপস্থিত করা হয়।

    মহিলাটি তাদের কাছে এলে তারা তাকে প্ররোচিত করে। এভাবে বর্ণনাকারী কাহিনীটি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন।

    হাদীসবিদ আবদুর রাযযাক তাঁর তাফসীর অধ্যায়ে কা’ব আল-আহবার (রা) সূত্রে কাহিনীটি বর্ণনা করেছেন। আর এটিই সর্বাপেক্ষা সঠিক ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনা।

    আবার হাকিম (র) তাঁর মুসতাদরাকে এবং ইবন আবু হাতিম (র) তার তাফসীরে ইবন আব্বাস (রা) থেকে কাহিনীটি বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, সে যুগে এক রমণী ছিল। মহিলাদের মধ্যে তার রূপ ছিল ঠিক নক্ষত্ৰকুলে যুহরার রূপের ন্যায়। এ কাহিনী সম্পর্কে বর্ণিত পাঠসমূহের মধ্যে এটিই সর্বোত্তম পাঠ।

    ইবন উমর (রা) সূত্রে বর্ণিত হাফিজ আবু বকর বাযযার (র)-এর হাদীসটিও একইরূপ। তাহলো, রাসূলুল্লাহ (সা) সুহায়ল সম্পর্কে বলেছেনঃ

    كان عشارا ظلوما فمسخه الله شهابا .

    অর্থাৎ “সুহায়ল কর আদায়ের ব্যাপারে অত্যন্ত জালেম ছিল। ফলে আল্লাহ তাকে উল্কাপিণ্ডে রূপান্তরিত করে দেন।”

    আবু বকর বাযযার (র) এ রিওয়ায়াতের সনদে দু’জন দুর্বল রাবী রয়েছেন বলে উল্লেখ করা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে অন্য কোন সূত্রে বর্ণনাটি না পাওয়ার কারণে এ সূত্রেই বর্ণনাটি উপস্থাপিত করলাম। বলাবাহুল্য যে, এ ধরনের সনদ দ্বারা একদম কিছুই প্রমাণিত হয় না। তাছাড়া তাদের ব্যাপারে সুধারণা রাখলেও আমাদের বলতে হবে যে, এটি বনী ইসরাঈলের কাহিনী। যেমনটি ইবন উমর (রা) ও কা’ব আল-আহবার (রা)-এর বর্ণনা থেকে পূর্বে আমরা বলে এসেছি। এসব তাদের মনগড়া অলীক কাহিনী যার কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই।

    ছায়াপথ ও রংধনু

    আবুল কাসিম তাবারানী (র) বর্ণনা করেন যে, ইবন আব্বাস (রা) বলেন, সম্রাট হিরাক্লিয়াস মু’আবিয়া (রা)-এর নিকট পত্র লিখেন এবং এ সময় তিনি বলেন যে, যদি তাদের অর্থাৎ মুসলমানদের মধ্যে নবুওতের শিক্ষার কিছুটাও অবশিষ্ট থাকে তবে অবশ্যই তারা আমাকে আমার প্রশ্নের জবাব দেবে। ইবন আব্বাস (রা) বলেন, পত্রে তিনি মু’আবিয়া (রা)-কে ছায়াপথ, রংধনু এবং ঐ ভূখণ্ড সম্পর্কে প্রশ্ন করেন যাতে স্বল্প সময় ব্যতীত কখনো সূর্য পৌঁছেনি। ইবন আব্বাস (রা) বলেন, পত্র ও দূত এসে পৌঁছলে মুআবিয়া (রা) বললেন, এ তো এমন একটি বিষয় যে ব্যাপারে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে বলে এ যাবত কখনো আমি কল্পনাও করিনি। কে পারবেন এর জবাব দিতে? বলা হলো, ইবন আব্বাস (রা) পারবেন। ফলে মু’আবিয়া (রা) হিরাক্লিয়াসের পত্রটি গুটিয়ে ইবন আব্বাসের নিকট পাঠিয়ে দেন। জবাবে ইবন আব্বাস (রা) লিখেনঃ রংধনু হলো, পৃথিবীবাসীর জন্য নিমজ্জন থেকে নিরাপত্তা। ছায়াপথ আকাশের সে দরজা, যার মধ্য দিয়ে পৃথিবী বিদীর্ণ হবে আর যে ভূখণ্ডে দিনের কিছু সময় ব্যতীত কখনো সূর্য পৌঁছেনি; তাহলো সাগরের সেই অংশ যা দু’ভাগ করে বনী ইসরাঈলদেরকে পার করানো হয়েছিল। ইবন আব্বাস (রা) পর্যন্ত এ হাদীসের সনদটি সহীহ।

    তাবারানী বর্ণনা করেন যে, জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বললেনঃ “হে মু’আয! তোমাকে আমি কিতাবীদের একটি সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করছি। যখন তুমি আকাশস্থিত ছায়াপথ সম্পর্কে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে তখন বলে দেবে যে, তা আরশের নীচে অবস্থিত একটি সাপের লালা।”

    এ হাদীছটি অতিমাত্রায় মুনকার বরং এটা মওযূ বা জাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এর রাবী ফাজল ইবন মুখতার হলেন আবু সাহল বসরী। পরে তিনি মিসরে চলে যান। তার সম্পর্কে আবু হাতিম রাযী বলেছেন, লোকটি অজ্ঞাত পরিচয়, বাজে কথা বলায় অভ্যস্ত। হাফিজ আবুল ফাতহ আযদী বলেছেন, লোকটি অতি মাত্রায় মুনকারুল হাদীস। আর ইবন আদী (র) বলেছেন, মতন ও সনদ কোন দিক থেকেই তার হাদীস অনুসরণযোগ্য নয়।

    আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

    هُوَ الَّذِي يُرِيكُمُ الْبَرْقَ خَوْفًا وَطَمَعًا وَيُنْشِئُ السَّحَابَ الثِّقَالَ. وَيُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ وَيُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَنْ يَشَاءُ وَهُمْ يُجَادِلُونَ فِي اللَّهِ وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ

    অর্থাৎ তিনিই তোমাদেরকে দেখান বিজলী যা ভয় ও ভরসা সঞ্চার করে এবং তিনিই সৃষ্টি করেন ঘন মেঘ। বজ্রনির্ঘোষ ও ফেরেশতাগণ সভয়ে তাঁর সপ্রশংসা মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তিনি বজ্রপাত করেন এবং যাকে ইচ্ছা তা দ্বারা আঘাত করেন; তথাপি তারা আল্লাহ সম্বন্ধে বিতণ্ডা করে, যদিও তিনি মহাশক্তিশালী। (১৩ঃ ১২-১৩)

    অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেনঃ

    إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ مَاءٍ فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ.

    অর্থাৎ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে দিন ও রাতের পরিবর্তন, যা মানুষের হিত সাধন করে তা সহ সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানসমূহে আল্লাহ আকাশ থেকে যে বারিবর্ষণ দ্বারা পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন তাতে এবং তার মধ্যে যাবতীয় জীব-জন্তুর বিস্তারণে, বায়ুর দিক পরিবর্তনে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে জ্ঞানবান জাতির জন্য নিদর্শন রয়েছে। (২ঃ ১৬৪)

    ইমাম আহমদ (র) যথাক্রমে ইয়াযীদ ইবন হারূন, ইবরাহীম ইবন সা’দ ও সা’দ সূত্রে গিফার গোত্রের জনৈক প্রবীণ ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছিঃ

    إن الله ينشئ السحاب فينطق أحسن النطق ويضحك أحسن الضحك

    অর্থাৎ “আল্লাহ মেঘ সৃষ্টি করেন, ফলে তা উত্তমভাবে কথা বলে ও উত্তম হাসি হাসে।”

    মূসা ইবন উবায়দা ইবন সাদ ইবরাহীম (র) বলেন, ‘মেঘের কথা বলা হলো বজ্র আর হাসি হলো বিজলী।’ ইবন আবু হাতিম বর্ণনা করেন যে, মুহাম্মদ ইবন মুসলিম বলেন, আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, এমন একজন ফেরেশতা, যার চারটি মুখ আছে, মানুষের মুখ, ষাঁড়ের মুখ, শকুনের মুখ ও সিংহের মুখ। সে তার লেজ নাড়া দিলেই তা থেকে বিজলী সৃষ্টি হয়।

    ইমাম আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও বুখারী (র) কিতাবুল আদবে এবং হাকিম তার মুসতাদরাকে হাজ্জাজ ইবন আরতাহ (র) বর্ণিত হাদীসটি সালিমের পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) যখন বজ্রধ্বনি শুনতেন তখন বলতেনঃ

    اللهم لا تقتلنا بغضبك ولا تهلكنا بعذابك و عافنا قبل ذالك.

    অর্থাৎ—‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে তুমি তোমার গযব দ্বারা বধ কর না ও তোমার আযাব দ্বারা ধ্বংস কর না এবং এর আগেই তুমি আমাদেরকে নিরাপত্তা দান কর।

    ইবন জারীর (র) আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বজ্রের আওয়াজ শুনলে বলতেনঃ

    سبحان من يسبح والرعد بحمده

    অর্থাৎ—পবিত্র সেই মহান সত্তা, বজ্র যার সপ্রশংসাা মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে।

    আলী (রা) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতেনঃ

    من سبحت له

    ইবন আব্বাস, আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ ও তাউস প্রমুখ থেকেও এরূপ বর্ণিত আছে। মালিক আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বজ্রের আওয়ায় শুনলে কথা-বার্তা ত্যাগ করে বলতেনঃ

    سبحان من يسبح الرعد بحمده والملئكة من خيفته

    অর্থাৎ পবিত্র সেই মহান সত্তা, বস্ত্র ও ফেরেশতাগণ সভয়ে যার সপ্রশংসা মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে।

    তিনি আরো বলতেনঃ

    ان هذا وعيد شديد لاهل الارض

    অর্থাৎ নিশ্চয় এটা পৃথিবীবাসীর জন্য এক কঠোর হুঁশিয়ারি।

    ইমাম আহমদ (র) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ

    قال ربكم لو أن عبیدی اطاعوني لأسقيتهم المطر بالليل و أطلعت عليهم الشمس بالنهار ولما اسمعتهم صوت الرعد فاذكروا الله فإنه لا يصيب ذاكرا.

    অর্থাৎ- তোমাদের রব বলেছেনঃ আমার বান্দারা যদি আমার আনুগত্য করতো, তাহলে আমি তাদের জন্য রাতে বৃষ্টি দিতাম আর দিনে সূর্য উদিত করতাম আর তাদেরকে বজ্রের নিনাদ শুনাতাম না। অতএব, তোমরা আল্লাহর যিকির কর। কারণ যিকিরকারীর উপর তা আপতিত হয় না।

    আমার তাফসীর গ্রন্থে এর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। প্রশংসা সব আল্লাহরই প্রাপ্য।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইসলাম ও বিজ্ঞান – প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    Next Article নতুন বিশ রহস্য – স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }