Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ইগনাইটেড মাইন্ডস – এ পি জে আবদুল কালাম

    এ পি জে আবদুল কালাম এক পাতা গল্প135 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪. মহামানব ও দ্রষ্টাদের শিক্ষা

    ৪. মহামানব ও দ্রষ্টাদের শিক্ষা

    For the society to prosper there are two important needs. They are : Prosperity through wealth generation and cherishing the value system of the people. The Combination of the two will make the nation truely strong and prosperous.

    আমি সব সময় তরুণদের স্বপ্ন দেখতে বলি। আমি তাদের সে অছিয়ত করি এই বিশ্বাসে যে আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে সাফল্যজনক পরিস্থিতি সৃষ্টির সক্ষমতা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু তীব্র উন্মাদনাপূর্ণ আকাক্ষা সৃষ্টি করা।

    শৈশবে আইনস্টাইন কম্পাসের কাঁটা দেখে অভিভূত হয়েছিলেন। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন কম্পাসের কাঁটাটি তিনি যেদিকেই ঘোরান না কেন সে তার আপন জায়গায় চলে যাচ্ছে। গভীরভাবে তিনি কাঁটাটির অদৃশ্য শক্তির উৎস বোঝার চেষ্টা করলেন। তার মধ্যে প্রশ্ন এল, কম্পাসের এ শক্তি আসলে ঠিক কোন জায়গায়? এটা নিয়ন্ত্রণ করছে কে? এটা সব সময়ই কাজ করে কেন? এটা কী দিয়ে তৈরী? কম্পাস তার কাজ করবে না এমন কোনও জায়গা কি আছে? থাকলে সেটা কোথায়?

    আমরা জানি এটা পৃথিবীর চৌম্বকীয় শক্তি যা ওই চুম্বক নির্মিত কম্পাসের কাটাটিকে উত্তর-দক্ষিণ মুখো করে রাখে, কারণ পৃথিবী উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর ম্যাগনেটিক ফিল্ড তাকে দুপাশ থেকে আকর্ষণ করে। কিন্তু এই কার্যকারণ বুঝতে পারাই কি আমাদের শেষ কথা?

    মহামানব ও দ্রষ্টাদের শিক্ষা আমরা সহজেই এই ম্যাগনেটিক ফিল্ডের কার্যক্ষমতা দেখতে পাই কিন্তু এর সংগে আমাদের চিন্তাভাবনার সাদৃশ্য বুঝতে পারি না, যদিও আমাদের এই গ্রহের সর্বত্রই ম্যাগনেটিক ফিল্ডের অস্তিত্ব রয়েছে। যৌক্তিকভাবে আমাদের মধ্যেও রয়েছে এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড বা চৌম্বকীয় ক্ষেত্র।

    একইভাবে আমাদের এই গ্রহ অন্তহীনভাবে সচল রয়েছে, আবর্তিত হচ্ছে তার কক্ষ পথে। এ গ্রহের সবকিছুই পৃথিবীর মুভমেন্টের অংশ, যদিও আমাদের কাছে মনে হয় আমরা স্থির ও গতিহীন অবস্থায় রয়েছি। আমি যেহেতু এ গ্রহেরই অংশ সেহেতু আমিও সচল শক্তির অংশ। এ গ্রহের যে মূল পরিচালনা শক্তি, তা আমার ভেতরেও রয়েছে।

    ডায়ারের মতে, আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করতে এই শক্তিকে কাজে লাগাতে পারি। কারণ আমাদের ভেতরে যেমন আকাঙ্ক্ষা আছে তেমনি আকাঙ্ক্ষা পূরণের শক্তিও আছে। এটা মূলত একটা বিন্যাসের মত বিষয় যা আমাদের ইচ্ছাশক্তিকে প্রচণ্ডভাবে কেন্দ্রীভূত করে।

    এই দৃষ্টিভঙ্গির জায়গায় বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিক দর্শন এক হয়েছে। আমি বেশ কয়েক বছর ধরে কিছু পবিত্র স্থান পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছি। এর মধ্যে সাধক তাপস ও ভবিষ্যতদ্রষ্টাদের মাজার ও তীর্থস্থানে গিয়েছি। আমার ভেতরে যে দর্শন লুকায়িত ছিল সে সব স্থানে গিয়ে তা নিজেই আবিষ্কার করেছি। এসব জায়গায় ভ্রমন করে দেখেছি বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিক সাধনার মধ্যে এক অপূর্ব সুফী সাধক ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের কাছে অনুসরণীয় হয়ে ওঠেন।

    একবার এক ধর্মগুরুর সংগে বিজ্ঞান ও ধর্মতত্ত্বের সংমিশ্রণ বিষয়ে আলাপ করেছিলাম। আমি অবাক বিস্ময়ে দেখলাম আধ্যাত্মিক শক্তি সম্পন্ন এক পূণ্যাত্মা কীভাবে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন। এমন কি সাধারণ মানুষের খাবার পানি সরবরাহের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।

    তার আশ্রমের এক অংশে দেখলাম রোগীদের চিকিৎসা চলছে। অন্যত্র দেখলাম একটি ধ্যানাগার যেখানে মেডিকেল সায়েন্স ও যোগসাধনার তালিম দেওয়া হচ্ছে।

    আহমেদাবাদে অবস্থিত স্বামী নারায়ণ সংস্থার আচার্য প্রমুখ স্বামী মহারাজার সংগে ২০০১ সালের ১৩ জুন আমি দেখা করেছিলাম। স্বামীজীর সংগে আমার আলোচনার বিষয় ছিল বিজ্ঞান ও ধর্মের সংমিশ্রন চিন্তা এবং এই চিন্তা কীভাবে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রায় ১ ঘণ্টা আমাদের কথোপকথন হয়। স্বামীজীকে আমি যেসব প্রশ্ন করেছিলাম এবং তিনি উত্তরে যা যা বলেছিলেন তার কিছু অংশ উল্লেখ করার লোভ সামলাতে পারছি না।

    আব্দুল কালাম (আ: কা:) : স্বামীজি, ১৮৫৭ সাল থেকেই ভারত স্বাধীনতা লাভের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে আমাদের সময় লেগেছে ৯০ বছর। পরাধীনতার এই সময়ে গোটা জাতি তরুণ-বৃদ্ধ, ধনী-গরীব, শিক্ষিত-নিরক্ষর সবাই তাদের উদ্দেশ্য লাভের ক্ষেত্রে ছিল সম্মিলিত ও একান্নবর্তী।

    তখন সবার লক্ষ্য ছিল একটাই, সবার সচেতন দাবি ছিল শুধুই স্বাধীনতা। স্বামীজি, আজ এই স্বাধীন ভারতের সবার প্রধান চাওয়া কি হতে পারে? গত পঞ্চাশ বছর ধরে ভারত উন্নয়নশীল একটি দেশ। কারণ আর্থিকভাবে এদেশ শক্তিশালী নয়, সামাজিকভাবে এটি সুস্থিত নয়, প্রতিরক্ষায় এদেশ এখনও স্বয়ং সম্পূর্ণতা পায়নি। এসব কারণেই ভারতকে বলা হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশ। টিআইএফএসি (টেকনোলজি ইনফরমেশন, ফোকাসিং অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট কাউন্সিল)র প্রায় ৫ শ সদস্য ভারতের পরবর্তী প্রধান পদক্ষেপ হিসেবে তাদের মতামত ব্যাখ্যা করেছেন। আগামী ২০ বছরের মধ্যে ভারতকে উন্নয়নশীল থেকে কীভাবে উন্নত দেশে পরিণত করা যায়? আমরা এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উন্নয়ন করা দরকার বলে মনে করছি। সেগুলো হল : শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা, কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগ, ভৌত অবকাঠামো এবং উন্নত প্রযুক্তি। স্বামীজি, আমরা আমাদের কর্মপরিকল্পনা ও প্রকল্প সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারি, কিন্তু আমাদের এই বিশাল পরিকল্পনায় জনগণকে কীভাবে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করব?

    আমাদের দরকার দক্ষ ও সচেতন জনশক্তি। তা না হলে আমাদের জাতীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার সম্ভব হবে না। এ লক্ষ্য অর্জনে আপনার পরামর্শও প্রয়োজন স্বামীজি!

    স্বামীজি : এই পাঁচটির সংগে আরেকটি বিষয় যোগ করতে হবে। ষষ্ঠ বিষয়টি হলো ঈশ্বরে বিশ্বাস ও আধ্যাত্মবাদের মাধ্যমে জনগণকে গড়ে তোলা। এটা খুবই জরুরী। আমাদের প্রথমে একটি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের ক্ষেত্র গড়ে তুলতে হবে। আজকের এই দুর্নীতি ও অপরাধ কবলিত সমাজকে শুদ্ধ করতে পারে শুধুমাত্র নৈতিক মূল্যবোধ যা ধর্মপালনের মাধ্যমে অর্জন করা সহজ হয়। আমাদের এমন জনশক্তি তৈরী করতে হবে যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে এবং তার অলিখিত আইন মেনে চলে। এজন্য দরকার এক পুনরুদ্দীপ্ত বিশ্বাস। এতে আমাদের লক্ষ্য পূরণ সহজ হয়ে পড়বে। আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারব।

    আ: কা: স্বামীজি, ভারতভূমিকে উন্নত দেশে রূপান্তরের মত এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কি প্রথমে আমাদের ঈশ্বরে বিশ্বাসের মত স্পিরিচুয়াল ট্রেডিশান গড়ে তুলতে হবে? তারপর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর দিতে হবে? নাকি যুগপৎভাবে সব বিষয়কে নিয়ে এগুতে হবেঃ

    স্বামীজি : সবগুলো বিষয়কে একত্রে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগুতে হবে। দেশের অগ্রগতির জন্য তোমার বিশেষজ্ঞদল যে পাঁচ বিষয়কে চিহ্নিত করেছে তার সবগুলোই একটি অন্যটির সহযোগী হিসেবে এগিয়ে যাবে। আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতি আমাদের পারা (আধ্যাত্মিক) ও অপারা (পার্থিব) উভয় বিদ্যা অর্জনের শিক্ষা দেয়। সে মতে অপারা বিদ্যা অর্জনের সংগে সংগে একজন মানুষ পারা বিদ্যাও অর্জন করতে পারে। যে এই মন্ত্রের গুঢ়ার্থ বুঝতে পারবে তখন ধর্ম ও আধ্যাত্মিক ভিত্তির ওপর তার অপারা বিদ্যা প্রতিষ্ঠিত হবে।

    আমাদের বুঝতে হবে এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সৃষ্টির নেপথ্যে ঈশ্বরের উদ্দেশ্য একটাই। সেটা হল তার সৃষ্টির জন্য শান্তি ও সুখ নিশ্চিত করা।

    আ:কা: ভারতকে উন্নত বিশ্বে পরিণত করতে আমার মনে হয় তিন শ্রেণীর লোক দরকার– পূণ্য আত্মা (সচ্চরিত্রবান লোক), পূণ্য নেতা (আদর্শবান নেতা) ও পণ্য অধিকারী নীতিবান অফিসার)। আমাদের সমাজে যদি এই তিন শ্রেণীর মানুষের সংখ্যা বাড়ানো যায় তাহলে ভারতবর্ষ জগৎগুরুতে পরিণত হবে। কিন্তু স্বামীজি, তাদের সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো সম্ভব বলে আপনি মনে করেন?

    স্বামীজি : সমাজে এজাতীয় লোকের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য একাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি আমাদের স্কুল কলেজের পাঠ্যক্রমে আধ্যাত্মিক ট্রেনিংয়েরও ব্যবস্থা থাকতে হবে।

    বর্তমানে ধর্মীয় স্কুল কলেজের সিলেবাস থেকে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। যে নৈতিক শিক্ষাগুলো শৈশবেই একটি মানুষের জন্য দরকার সেটাই এড়িয়ে চলা হচ্ছে। কিন্তু জীবনের শুরু থেকে জন্মের পর থেকে নৈতিক শিক্ষা পেলে তবেই একটি শিশু আদর্শবান নাগরিক হয়ে উঠবে। নৈতিকমূল্যবোধ সম্পন্ন জাতিগঠনের জন্য আমাদের পাঠ্যসূচীর সিলেবাসে সাধু ও জ্ঞানতাপসদের জীবনী ও বাণী অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনীতির ক্ষেত্রে যেসব মহান নেতা সর্বজন শ্রদ্ধেয় তাদের সঠিক মূল্যায়নের জন্য তাদের মহানশিক্ষাও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অতীতে, আমাদের গুরুকুল পদ্ধতির শিক্ষানীতিতে এ ধরণের পাঠ্য বিষয় চালু ছিল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাতেই সত্যবড়া, ধর্মছড়া, পারস্পরিক সহযোগিতা, ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস ইত্যাদি বিষয়গুলো পড়ানো হত।

    আ: কা: সরকারের আইন ছাড়া কখনও উত্তম নাগরিক গড়ে তোলা যায়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি একাজটি করতে পারছে? আপনি কি পিতামাতাকে তাদের বাচ্চাদেরকে পনেরো বছরের অধিক বয়সের মানুষের নাগরিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য নির্দেশ দিতে বলবেন? একইভাবে বাচ্চাদেরকে বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উপদেশ দেওয়া সমস্ত স্কুল শিক্ষকদেরও উচিত। যদি আমরা এক্ষেত্রে ব্যর্থ হই তাহলে সরকারও সৎ ও ভালো নাগরিক সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হবে। স্বামীজি কি আমার সংগে একমত হবেন?

    স্বামীজি : অবশ্যই। একথা সত্যি। একথা সর্বাংশে সত্যি। প্রথম থেকেই তো আমরা বলছি বাড়িতে পিতামাতার কাছ থেকে, স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছ থেকে এ শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। আর পরবর্তী জীবনে গুরুর নির্দেশ মত জীবন গঠন করতে হবে।

    আ: কা: স্বামীজি, আমি যখন প্রথম একটি রকেট উৎক্ষেপন করি– সেটি ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু আইএসআরওর সহযোগীতা ও প্রেরণায় দ্বিগুণ উৎসাহিত হয়ে আমার টিম ব্যর্থতাকে সফলতায় পরিণত করে। একই ঘটনা ঘটেছিল তিরুয়াভালুবার উৎক্ষেপনের সময়। প্রথমে ব্যর্থ হয়ে, ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সে মিশনেও সফল হয়েছিলাম।

    স্বামীজি : এমন মহান উচ্চাশা ও আকাঙ্ক্ষা থাকলে দেশপ্রেম আপনিই জাগ্রত হয়। একারণেই আমরা বলি, জীবনের শুরুতে যদি কারও মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞানের জন্ম দেওয়া যায় তাহলে আপোসেই তার মধ্যে জাতির প্রতি, সমাজের প্রতি এবং ধর্মের প্রতি ভালোবাসা পয়দা হবে। মোট কথা, ধর্মীয় অনুভূতি জীবনের পোক্ত ভিত্তি রচনা করে।

    আ: কা: ও আধ্যাত্মিক শক্তি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এর সংগে আমি মনে করি অর্থনৈতিক শক্তিও দরকার। মানে আমি বলতে চাইছি আধ্যাত্মিক শক্তি ও অর্থনৈতিক শক্তির সম্মিলন হওয়া জরুরী। আর এ দুটো অর্জনের জন্য অপরিহার্য বিষয় হলো শ্রম-ঘাম। কঠোর পরিশ্রম অবশ্যই দরকার।

    স্বামীজি: আমরা প্রায়ই বলি, ঈশ্বরের আশীর্বাদ আর মানুষের কর্ম। এমন কি এই যে একটু আগে তুমি বললে তোমার প্রথম রকেট উৎক্ষেপন ব্যর্থ হয়েছিল; তার মধ্যেও কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তোমার প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তুমি কাজটি আরও নিখুঁতভাবে করতে পেরেছিলে। ঈশ্বর স্বাভাবিকভাবেই অবশেষে তোমাকে সাফল্য দিয়েছেন।

    আ: কা: ভারতবর্ষের উন্নয়নের জন্য পাঁচজন মহান ব্যক্তিকে সংগে নিয়ে আমি ভিশন ২০২০ নামে একটি গণমত আন্দোলন গড়তে চাচ্ছি। আমি আপনার আশীর্বাদ চাচ্ছি।

    স্বামীজি: তোমার ওপর এমনিতেই ঈশ্বরের আশীর্বাদ রয়েছে। আমি প্রার্থনা করি তোমার উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা যেন সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে। ভারতবর্ষ আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক ভাবে যেন উন্নত হয়। আমার প্রার্থনা ভারতবাসী যেন আধ্যাত্মিক ও নৈতিক সম্পদে ঐশ্বর্যবান হয়। ঐশ্বর্যশালী ইচ্ছাশক্তির মানুষের কাছে পৃথিবীর তাবৎ ঐশ্বর্য আপনিই ধরা দেয়। তুমি যদি শুধু পার্থিব ধনের পাহাড় গড়ে তোল তাহলে মানুষ জাগতিক ও পার্থিব ভোগবিলাসীতায় হারিয়ে যাবে। আধ্যাত্মিক শক্তি তার সহগামী হলে ধ্বংসের পথ থেকে তাকে তা রক্ষা করবে। বাস্তবতায় আমরা জনগণের ভাত, কাপড়, আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এসবের সংগে তার আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের দিকেও আমাদের খেয়াল করতে হবে। যখন একজন মানুষ তার প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশী সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে তখন সে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিজেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনে।

    তুমি এখানে আসাতে আমরা খুবই আনন্দিত হয়েছি। আমাদের অতীতের ঋষি মুনিরা আমাদের বিজ্ঞান দিয়ে গেছেন, তুমিও দিচ্ছ। তুমিও অনেক বড় সাধক, তুমিও ঋষি।

    ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আজমিরের সুফি সাধক গরীবে নওয়াজ খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর দরগাহ শরীফে গিয়েছিলাম। ১২৫৬ সালে ১১৪ বছর বয়সে তার ইন্তেকালের কিছুদিন আগে এই বুজর্গ ৬ দিনব্যাপী ইবাদতের জন্য এখানে নির্মিত তার প্রকোষ্ঠে ঢুকেছিলেন। আমি যখন দরগাহ ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম, তখন মাজারের প্রতীকী স্থাপনার সৌন্দর্য দেখে বিমুগ্ধ ও হতবাক হয়েছিলাম।

    আটশ বছর আগে শশ মাইল পাড়ি দিয়ে সৌদি আরব থেকে আজমির এসেছিলেন এই ওলী। এখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ তার মাজারের চারপাশে সম্প্রীতির সাথে বাস করছে।

    খাজা গরীব নওয়াজের শিক্ষা ও বাণী তাকে এক অনন্য চরিত্রে রূপায়িত করেছে। তার সাধারণ অছিয়ত পাথর হৃদয়ের মানুষকেও দ্রবীভূত করতো। তার স্নেহশীল দৃষ্টি তার জানের দুশমনকেও প্রশান্ত করে ফেলতো। তিনি বিশ্বশান্তি ও ভালোবাসার বার্তা নিয়ে এসেছিলেন ভারতবাসীর জন্য। চিশতী সুফিরা তার সে শিক্ষাকে এখনও ধারণ করে আছেন। জাতীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে তাদের অবদান ভুলবার নয়।

    বিভিন্ন বইয়ে খাজা সাহেবের বাণী ও শিক্ষা লিপিবদ্ধ রয়েছে। খাজা সাহেব বলতেন, সেই ব্যক্তিই উত্তম চরিত্রের লোক যে দারিদ্র্য নিয়েও অবিচল, দুঃখের মধ্যেও সুখী, ক্ষুধার্ত থেকেও তৃপ্ত ও আক্রান্ত হয়েও বন্ধুবৎসল। এই ওলীকুল শিয়োমনির মতে, জাহান্নাম থেকে নিশ্চিত পরিত্রানের উপায় হলো ক্ষুধার্তকে মহামানব ও দ্রষ্টাদের শিক্ষা খাওয়ানো, বস্ত্রহীনকে বস্ত্রদান এবং পীড়িতকে সেবাদান করা। খাজা সাহেব ছিলেন সত্যিকার ঈমানদার বা আরিফের একজন রোল মডেল : যিনি শত্রুর মাঝেও শংকামুক্ত ছিলেন এবং সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করতেন। একজন আরিফ আল্লাহভীত হন। লজ্জাবোধ তার চরিত্রের বিশেষ অলঙ্কার।

    আমি চিন্তা করতে লাগলাম, আমরা কেন নিজেদের আরিফ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি না?

    কোনও কাজ করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়, যা বলতে যাচ্ছি বা করতে যাচ্ছি তা কি আমার জন্য শান্তি বয়ে আনবে? ডায়ার বলেছেন, উত্তরটা যদি হ্যাঁ হয় তাহলে প্রাণমন দিয়ে সে কাজে এগিয়ে যাও। আর যদি না হয় তাহলে তুমি তোমার অহংবোধ থেকে সাবধানী হও। কারণ অহংবোধ বা আমিত্ব তোমাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলবে, এমনকি আল্লাহ থেকেও। খাজা সাহেবের মাজারে আমি সেদিন শুধু একটি ধ্বনিই শুনেছি, সর্বাবস্থায় তোমরা শান্তিতে থাকো।

    দরগাহ শরীফের পাশেই পবিত্র পুষ্করণী নামে একটা লেকের মত জলাশয় রয়েছে। এ দুটি পবিত্র জায়গাকে আমার ভারতের ধর্ম সহিষ্ণু অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক বলে মনে হল। আজমির শান্তিপূর্ণ সমাজের আদর্শতম মডেল। আমি মাজারে শোকরানা নামাজ আদায় করলাম। এ দরগাহ শরীফের দৃশ্য আমাকে আরও দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কথা মনে করিয়ে দিল। এর একটি হলো নগর দরগাহ, আরেকটি ভেলানকান্নি গীর্জা।

    ২০০১ সালের ২ অক্টোবর ভিএসএসসির পরিচালক জি, মধুবন নায়ার এবং IISc-এর প্রফেসর এন বালাকৃষ্ণর সংগে কেরালার অমৃত ইনস্টিটিউট অব কম্পিউটার টেকনোলজি পরিদর্শন করতে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রায় ১হাজার তরুণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্রহ্মচারী ও স্বামীদের মধ্যে আমি বক্তব্য রেখেছিলাম।

    আমার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, জ্ঞানের বহুমুখী ব্যবহার। আমি দেখলাম ছাত্রদের মধ্যে নতুন আইডিয়া গ্রহণের সাংঘাতিক প্রবণতা রয়েছে। আমার প্রতি তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের মধ্য দিয়ে তারা শুধু প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেই নয় বরং সঞ্জীবন যাপনের ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করলো। তাদের সংগে কথাবার্তা শেষ করে আমি আম্মার সংগে দেখা করলাম। এটি আমার জীবনের এক উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা।

    সেখানকার প্রধান সাধ্বীকে সবাই আম্মা বলে ডাকে। একজন মানুষ কীভাবে নিজেকে ঈশ্বরের নিকটবর্তী করে গড়ে তুলতে পারে তিনি লোকজনের কাছে সেই বাণীই প্রচার করে থাকেন। ধর্মোপদেশদান ছাড়াও তিনি হাসপাতাল নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছেন, প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি উচ্চশিক্ষাদানকারী ব্যবস্থাপনা কলেজ। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে আশ্রমের প্রধান আম্মা এবং অন্যান্য সন্ন্যাসীদের সংগে কথা হল। যদিও তার এ প্রতিষ্ঠানে আধুনিক সকল শিক্ষাই দেওয়া হয় এবং সেখান থেকে প্রতিবছর অসংখ্য প্রকৌশলী, চিকিৎসক, ব্যবস্থাপনা ও বিজ্ঞানের উচ্চতম ডিগ্রিধারী বেরিয়ে আসছে তারপরও তারা তাদের আধ্যাত্মিক শিক্ষার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুৎ হননি।

    কথা বলার এক পর্যায়ে আম্মা বললেন, কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছে। এই কিছু একটা আসলে কী? এই কিছু একটা বলতে তিনি পার্থিব ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার সমন্বয়কে বোঝাতে চাইছিলেন।

    আমি যখন রাজকোটের খ্রীস্ট কলেজ পরিদর্শন করছিলাম, সে সময় রামকৃষ্ণ মিশন থেকে স্বামী নিখিলেশ্বরানন্দ আমাকে নেমন্তন্ন জানালেন। স্বামীজি তার আশ্রমটাতে একবার ঘুরে যাবার জন্য অনুরোধ পাঠালেন। আমিও না গিয়ে পারলাম না। খ্রীস্ট কলেজের অনুষ্ঠান শেষ করে আশ্রমে হাজির হলাম। আমি যখন আশ্রমে পৌঁছেছি তখন আশ্রমের সান্ধ্য আরতি ও ভজন শুরু হয়েছে। ভজন সংগীতের মুচ্ছনা আমাকে এত আপুত করলো যে প্রায় পনের মিনিট আমি তাদের সংগে বসে এক অতিলৌকিক ধ্যানের জগতে চলে গেলাম।

    মহাত্মা গান্ধীর জন্মস্থান পোরবান্দারে অবস্থিত স্বামী বিবেকানন্দ হলে ধ্যান করার সময় আমার ভেতরে যে শিহরণ অনুভব করেছিলাম, এখানেও সেই আধ্যাত্মিক শিহরণ আমার সমস্ত দেহমনকে নাড়িয়ে গেল।

    ২০০১ সালের ৬ অক্টোবর কাঞ্চিতে প্রায় ১শ গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে কৃষক পরিবার তাদের গ্রামীন উন্নয়নের উদ্দেশ্যে শঙ্করাচার্য নামের একটি সভার মহামানব ও দ্রষ্টাদের শিক্ষা আয়োজন করেছিল। আমাকে নেমন্তন্ন করা হলো এবং সে সভায় যোগ দিলাম আমি। ওই সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ তাদের গ্রামাঞ্চলে শহরকেন্দ্রীক নাগরিক সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে মিলিত হয়েছেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সভাটির সভাপতিত্ব করলেন। একটি বিষয় দেখে আমি খুব অবাক ও আনন্দিত হলাম যে উন্নয়নমুখী কার্যক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতারাও এগিয়ে এসেছেন।

    সভাশেষ হলে প্রধান দুই আচার্য আমার সংগে একান্ত আলোচনায় বসলেন। স্বামী বিজয়েন্দ্র স্বরস্বতীগল হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কথা জিজ্ঞেস করলেন, আমার শারীরিক অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করলেন ও আশীর্বাদ করলেন।

    স্বামী বিজয়েন্দ্র স্বরস্বতীগল আমাকে জানালেন, সেখানকার ৩শ বছরের পুরনো একটি বিখ্যাত মসজিদের ইমাম আমাকে দাওয়াত দিয়েছেন। স্বামীজি আমাকে মৌলভী সাহেবের দাওয়াত কবুল করার এবং সে মসজিদ পরিদর্শন করার পরামর্শ দিলেন।

    তার কথা শুনে, সাবেক প্রেসিডেন্ট আর ভেঙ্কটরমনের কথা মনে পড়ে গেল। বছর দশেক আগে কাঞ্চি মঠের কাছে ভেঙ্কটরমন একবার আমাকে একটা বহু প্রাচীন মসজিদ দেখিয়েছিলেন। কয়েক বছর আগে মসজিদ কর্তৃপক্ষ এবং জেলা কর্তৃপক্ষ মসজিদটি আরেক জায়গায় স্থানান্তর করার সিদ্ধন্ত নেয় কারণ মসজিদ ও মঠের অবস্থান কাছাকাছি হওয়ায় উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য কিছুটা অসুবিধা হচ্ছিল। তাছাড়া প্রতিদিন ওই মসজিদে হাজার হাজার মানুষ ইবাদত করার জন্য আসে; অন্যদিকে মঠেও হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু লোক আসে। এর ফলে ট্রাফিক জ্যাম সৃষ্টি হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মঠ কর্তৃপক্ষ ওই ঐতিহাসিক মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তর করবে তাদের অর্থায়নে। এ খবর পরমাচার্যের কাছে পৌঁছলে তিনি কঠিনভাবে এ সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেন। পরমাচার্য বললেন, ভোর সাড়ে চারটায় যে ফজরের আযান হয় সে আযান আমাদেরও উপাসনা করার জন্য জাগিয়ে দেয়। এ ছাড়াও নানা কারণে তিনি মসজিদ সরিয়ে নেবার বিরোধীতা করেন। তিনি জেলা কর্তৃপক্ষ ও মঠ পরিচালকদের তার বক্তব্য বুঝিয়ে বললেন এবং মাওনাদিম বা গভীর ধ্যানে মনঃসংযোগ করলেন। অবশেষে তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মসজিদ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।

    পরমাচার্যের মঠ থেকে আমি মসজিদ পরিদর্শনে এলাম। সেখানকার কাজী ও মৌলভীর সংগে দেখা করলাম। সেখানে নামাজ আদায় করলাম। সেখানে প্রায় পঞ্চাশজন তালবে এলেম কোরান শরীফ শিখছিল। আমি তাদের পাশে বসলাম এবং কোরান শরীফের আত্মাখ্যাত আলহামদু সুরা পড়ার জন্য তাদের অনুরোধ করলাম।

    এই কাঞ্চিতে এসেই আমি ছাত্রদের কোরান ও বেদ পাশাপাশি বসে পড়তে দেখেছি।

    এখানেই ভারতের প্রকৃত মহত্ব লুকিয়ে আছে। কাঞ্চির এই ধর্মীয় সহিষ্ণুতা আমাদের জন্য এবং পরবর্তী পৃথিবীর জন্য এক মহান শিক্ষা।

    শঙ্কর কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক, ছাত্র ও শিক্ষকদের এক আলোচনায় আমি উপস্থিত ছিলাম। বক্তাদের আলোচনায় সেদিন একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছিল যে প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্য বিজ্ঞান চেতনার এক অপূর্ব সম্ভার। এই সংস্কৃত সাহিত্যেই বিমান আবিষ্কারের ধারণা রয়েছে।

    এছাড়া পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসাবিদ্যা, আয়ুর্বেদীর বহু সূত্র রয়েছে সংস্কৃত পুঁথি ও পূরাণে। সে আলোচনায় তারা আমাদের প্রাচীন পণ্ডিত ও বিজ্ঞানীদের মতামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে আধুনিক বিজ্ঞানের সংগে সমন্বয় ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    হোয়াইটফিল্ডে অবস্থিত শ্ৰী সত্যসাঈ ইনস্টিটিউট থেকে একবার প্রফেসর রমা রাও ও আমাকে দাওয়াত করা হয়েছিল।

    ফজরের নামাজ শেষে আনুষঙ্গিক ইবাদত শেষ করে সকাল ৭টায় একটা কাব্যিক আবহে সেখানে ধর্মালোচনা শুরু হল। আলোচনার বিষয় ছিল কিভাবে অন্তর থেকে অহংকার উপড়ে ফেলে সেখানে ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করা যায়। দেখলাম, সঈ বাবা যখন তার অনুসারীদের মধ্য দিয়ে হেঁটে গেলেন তখন তার চেহারা মোবারকের নূরানী তাজাল্লিতে ভক্তকুলের সব দুঃখ কষ্ট যেন মুহূর্তে উধাও হয়ে গেল।

    ২০০২ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইটফিল্ডের একটি চিকিৎসা প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলাম। সকাল সাড়ে নটায় আলোচনা শুরু হল, শেষ হল রাত আটটায়। ওই সম্মেলনের পুরো আলোচনা অনুষ্ঠানে শ্রী সাঈ সত্যবাবা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেক আলোচকের বক্তব্যেই তিনি সাধুবাদ

    মহামানব ও দ্রষ্টাদের শিক্ষা জানাচ্ছিলেন। আমি আমার পাঁচ মিনিটের বক্তৃতায় বোঝানোর চেষ্টা করলাম কীভাবে প্রযুক্তি মানুষের কাজে এসেছে–দৃষ্টান্ত হিসেবে আমাদের আবিষ্কৃত কার্ডিয়াক স্টেন্টের উল্লেখ করলাম যা পঙ্গু রোগীদের হাঁটা-চলায় সাহায্য করে।

    আমার বক্তব্য শেষ হতেই সত্যবাবা দর্শকদের চেয়ারে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে হাত তুলে আমাকে আশীর্বাদ জানাতে লাগলেন। হোয়াইটফিল্ডের আগে তার আখড়ায় গিয়ে অভূতপূর্ব আতিথেয়তা পেয়েছি, বিস্মিত হয়েছি। এখানে এই আলোচনার প্রতি সাঈজীর আগ্রহ দেখে আবার বিস্মিত হলাম। আলোচনার আগে তিনি বলেছিলেন, চেন্নাইয়ে পানির আকাল চলছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানুষ ভারী সমস্যায় পড়েছে। তিনি যখন তার বক্তব্যে ঘোষণা করলেন তিনি চেন্নাইয়ের এ জলসংকট নিরসন করবেন, তখন মনটা তার প্রতি শ্রদ্ধায় ভরে গেল।

    ২০০২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি অবু পাহাড়ে অবস্থিত ব্ৰহ্মকুমারী আশ্রমে ঘুরে আমার কিছু ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেখানে গিয়ে শুনলাম ধাধী গুর্জর নামে এক শিবভক্তের ওপর শিব ভর করেছে। ধাধী নামের সেই মহিলা আমাদের দিকে চাইল। তার চেহারা যেন একেবারে পাল্টে গেছে। মুখ রক্তিম হয়ে গেছে। জলদগম্ভীর কণ্ঠে সে জ্ঞান, যোগ, চরিত্র ও কর্ম, এই চারটি বিষয়ে আমাদের উপদেশ দেওয়া শুরু করলো।

    আমাদের মানে আমি, শিবতনু পিল্লাই, ও সিলভামূর্তি এই তিনজনকে হঠাৎ সে কাছে ডাকল। ভয়ে ভয়ে তার কাছে গেলাম। সে গম্ভীর কণ্ঠে আমাদের আশীর্বাদ করে বললো, ভারতই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম দেশ।

    ব্ৰহ্মকুমারী একাডেমী পরিচালিত গ্লোবাল হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে চিকিৎসা গ্রহণ করতে আসা করোনারি আর্টারি ডিজিস (সিএডি)র রোগীদের সংগে আমি দেখা করলাম। এখানে একই সংগে রোগীর শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা সেবা দানের পাশাপাশি তাদের আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধিরও চেষ্টা চালানো হয়। আমার বন্ধু ডক্টর ডব্লিউ সিলভামূর্তি দীর্ঘদিন চিকিৎসা বিদ্যা চর্চার পর স্বীকার করেছেন, যোগ সাধনা ও ধ্যান রোগীর ব্যথা উপশমে সাংঘাতিক কার্যকর।

    আমি যখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বিজ্ঞান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। তখন ডিআইপিএস (ডিফেন্স ইনস্টিটিউট অব ফিজিওলজি অ্যান্ড আলাইড সায়েন্স)-এ আমি মেডিটেশনের মাধ্যমে রোগীকে আরোগ্য করে তুলতে দেখেছি। কার্ডিয়াক রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য ডা, প্রতাপ মৃধা ও ডা. সিলভামূর্তি দুজনে মেডিটেশন সংশ্লিষ্ট এক অভিনব চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। দুবছর পরে খোঁজ নিয়ে শুনেছি অন্তত ৪শ রোগী আরোগ্যের পথে এবং ৬০ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

    তাদের চিকিৎসা পদ্ধতির অংশ হিসেবে তারা রোগীদের প্রতিদিন যোগ সাধনা করাতেন, উচ্চ রক্তচাপ এড়ানোর জন্য স্বপ্নমাত্রার চর্বিযুক্ত খাবার দিতেন আর রোগিদের কার্ডিওভাসকুলার ও মেটাবোলিক এফিশিয়েন্সী বাড়ানোর জন্য কোন না কোন ব্যায়াম করাতেন। আমি আশা করি চিকিৎসাবিদ্যা শুধু শারীরিক রোগ উপসর্গ দূর করার প্রবণতা ছেড়ে মনের অসুখ সারিয়ে তোলার ক্ষেত্রে সচেষ্ট হবে।

    অবু পাহাড়ের ব্ৰহ্মকুমারী একাডেমী পরিদর্শনের সময় একাডেমীতে সদ্য যোগদানকারীনী ১৩ জন ব্ৰহ্মকুমারীর সংগে বাক বিনিময় করার সুযোগ দিয়েছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের সিস্টার ঊষা। রাতের খাবার শেষে তাদের সংগে আলোচনায় অংশ নিলাম। আমি তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম তাদের জীবনের লক্ষ্য কী? তারা জবাবে বলেছিল ধর্মীয় আদর্শের পথে থেকে বাকি জীবন তারা দেশবাসীর জন্য কাজ করে যেতে চায়। তাদের কথা শুনে আমি ও ডা. সিলভামূর্তি হাজার বছর আগে লেখা তামিল ভাষার কবি আওয়াইয়ারের লেখা একট কবিতা আবৃত্তি করলাম:

    মানুষ হয়ে জন্মানোটা দুঃসাধ্য বটে
    খুঁতহীন জন্ম নিয়েও নিখুঁত মানুষ
    কজন হতে পারে?
    অঢেল জ্ঞান আর শিক্ষা পেয়েও কজন
    মানুষ শিক্ষিত আর জ্ঞানী?
    সবার চেয়ে কঠিনতম কাজ
    সত্যিকারের পুজো আর সত্যি আরাধনা
    এ কাজ যারা করতে পারে
    অথবা পেরেছিল–
    তাদের জন্যে স্বর্গদুয়ার–চিরকালই খোলা
    স্বর্গে তারা চিরকালই মহান অতিথি।

    মহামানব ও দ্রষ্টাদের শিক্ষা। এর পর আমি ব্ৰহ্মকুমারীদের কাছে থাম্বার বিশপের ঘটনা খুলে বললাম, কেমন করে তিনি স্পেস রিসার্চ স্টেশনের জন্য তার উপসনালয় আমাদের হাতে ছেড়ে দিয়েছিলেন। (এ বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে এ ঘটনা বলেছি আমি)।

    বলার পর ব্রহ্মকুমারীদের কাছে প্রশ্ন করলাম, এ ঘটনা সম্পর্কে তোমাদের মন্তব্য কী?

    তারা বললো, আমাদের জাতি অনেক উন্নত। আমাদের সমৃদ্ধ সভ্যতা আমাদের উদারভাবে, সমঝোতার দৃষ্টিতে সব কিছু দেখতে শিখিয়েছে। এমন একটি সম্ভ্রান্ত জাতি হয়ে কেন আমরা বর্ণবাদী ও সাম্প্রদায়িক সংঘাতে যাবো? আমি বিশ্বাস করি যখন কোন জাতির ভবিষ্যত লক্ষ্য থাকবে না তখন সে জাতি হীনম্মন্যতায় ঢেকে যাবে। হারিয়ে যাবে কালের অতল গর্ভে।

    মানবতার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে উপযোগী করতে হলে বিজ্ঞান ও ধর্মের সংমিশ্রণ ঘটাতে হবে। ১৯১১ সালে শ্রী অরবিন্দ তার মানবতার গানে বলেছিলেন, এমন একটা সময় আসবে যেদিন নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পূর্ণ মুক্তির জন্য গোটা ভারতবর্ষ তার দেহের ওপর আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকা অন্ধকারকে ঝাড়া দিয়ে ফেলে দেবে। দারিদ্র্যের এই শৃংখল থেকে মুক্তির জন্য আমাদের এখনই একযোগে কাজ করতে হবে।

    আমি যতবার যেখানে গেছি, সবখানেই একটি সাধারণ মেসেজ প্রচারের চেষ্টা করেছি। সেটা হল তোমার মধ্যেই আরেকজন মহান তুমি রয়েছে যে এই দৃশ্যমান পৃথিবীর সীমান্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে। আমি আমার আব্বার মধ্যে এমন একটি সত্তার উপস্থিতি টের পেয়েছিলাম।

    আব্বার কাছ থেকেই আমি পারিপার্শ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও মনকে প্রশান্ত রাখার বিষয়টি শিখেছি। বহু দুঃখ ও ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েও নিজেকে পরাজিত হিসেবে বিবেচনা করিনি। বাকি জীবনটা আমি আমার ও আমার চার পাশের মানুষের সংগে শান্তিতে কাটাতে চাই। অন্যদের সংগে বিতন্ডায় জড়ানোর কোন ইচ্ছে আমার নেই।

    ব্যক্তি সীমাবদ্ধতাকে ছাপিয়ে বহুত্বে বিলীন হবার জন্য এটা অবশ্যই জরুরী বলে আমি মনে করি।

    এ প্রসংগে আমি পবিত্র কোরান শরীফের একটি সুরার উল্লেখ করতে চাই:

    হে রাসূল (সঃ), যারা ঈমান আনেনি তাদের কাছে আপনি দ্বীনের দাওয়াত প্রচার অব্যাহত রাখুন।

    আপনি যার এবাদত করেন, আমি তার এবাদত করি না আর আমি যা করি আপনি তা করেন না।

    আপনার কর্মফল আপনার কাছে।
    আর আমার কর্মফল আমার কাছে।

    আমরা নিজেরা নিজেদের ব্যাপারে যে মত পোষণ করি, আমরা নিজেরা যা বিশ্বাস করি আমাদের কাছে সেটাই সত্য। একদা আমরা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে আস্থা এনছিলাম তাই আজ এতদূর আসতে পেরেছি। এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করতে পারলে এই অবস্থাই আমাদের ব্যক্তি থেকে মহাকালে ছড়িয়ে দেবে।

    ভারতীয়রা নিজেদের মর্যাদাশালী জাতি হিসেবে হাজার বছর ধরে ভেবে এসেছে। আমাদের পূর্বপুরুষরাও সেই বিশ্বাস নিয়ে তাদের জীবন কাটিয়ে গেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকের দিনে ভারতের মানুষ তার সেই চেতনাকে ফেলে এমন গভীরভাবে বস্তুজগতের মোহে ছোটা শুরু করেছে যা প্রকৃত জীবনের জন্য অত্যন্ত পশ্চাৎপদ বলে আমি মনে করি।

    একবার এক বিশেষ উপলক্ষ্যে আমাকে ব্যাঙ্গালোরে যেতে হচ্ছিল। আমার এক বন্ধুকে আমার সম্ভাব্য যাত্রা সম্পর্কে বললাম। তাকে জানালাম সেখানে গিয়ে আমি তরুণ-কিশোরদের সংগে দেখা করব, তাদের সংগে কথা বলবো। এ ব্যাপারে আমি তার পরামর্শ চাইলাম। তিনি সরাসরি আমাকে কোন পরামর্শ দিলেন না কিন্তু একগুচ্ছ প্রজ্ঞাময় হাদীসের বাণী শোনালেন—

    যখন কথা বলবে, সত্য বলবে,
    প্রতিশ্রুতি দিলে পূরণ করবে
    কাউকে আঘাত করা এবং মন্দ ও বেআইনি জিনিস
    গ্রহণ থেকে তোমার হাতকে বিরত রাখবে।

    কোন কাজ সর্বাপেক্ষা উত্তম? মানুষের মনে শান্তি দেওয়া, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, দুস্থকে সহায়তা করা, দুঃখীর দুঃখ হ্রাস করা আর আহতকে মহামানব ও দ্রষ্টাদের শিক্ষা সারিয়ে তোলাই সর্বাপেক্ষা ভাল কাজ।

    আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি নিয়েই তার পরিবার এবং সেই ব্যক্তিই তার সবচে প্রিয় যে তার সৃষ্টির জন্য ভাল কিছু করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়।

    এগুলোই রাসুলের হাদীস। এ হাদীসগুলো যিনি আমাকে শুনিয়েছিলেন তিনি হলেন তামিলনাড়ু র বিখ্যাত এক দীক্ষিদারের নাতির ছেলে এবং একজন গণপতিগল (বেদ বিশেষজ্ঞ)র নাতি। আমার এ ঘনিষ্ঠ বন্ধুটি ওয়াই, এস, রাজন ছাড়া আর কেউ নন। এমন উদার মানসিকতা খুঁজে পাওয়া কেবল আমাদের দেশেই সম্ভব। ঋগ্বেদে বলা হয়েছে,

    আনো ভদ্রো ও কর্তব্য য়েনথু বিম্ব থা?-অর্থাৎ সর্বদিক হতে (তোমাদের দিকে) মহান জ্ঞান আসতে দাও।

    আমার পরিবারের একটি ঘটনা মনে পড়ছে। আমার দাদা ও তার বাবা রামেশ্বরের আম্বালাকারার বা সম্ভ্রান্ত নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কথিত আছে আমার জন্মভূমি এই রামেশ্বর দ্বীপেই ভগবান রাম রাবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এ ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করতে রামেশ্বরমবাসী প্রতি বছর রাম-সীতার বিবাহ উৎসব পালন করে থাকে।

    এখানে রাম তীর্থম নামে একটি পবিত্র পুষ্করণী আছে। পুষ্করণীটি সাংঘাতিক গভীর। পুষ্করণীর মাঝখানে ছোট একটি ভাসমান মন্ডপ বানানো হয়েছে। উৎসবের দিন স্বর্ণালংকার শোভিত রাম-সীতার বিগ্রহ একটি সুসজ্জিত ভেলায় ওই মন্ডপে নিয়ে যাওয়া হতো এবং পুজো করা হতো। আমার দাদার বাবা প্রতিবছর ওই ভেলা সরবরাহ করতেন। বহু প্রাচীনকাল থেকে রামেশ্বরে ওই রাম-সীতার বিবাহ উৎসব আজ অবধি পালিত হয়ে আসছে।

    এক বছর, আমার দাদার বাবা পুষ্করণীর পাড়ে দাঁড়িয়ে উৎসব দেখছিলেন। তখনই একটা দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ তিনি দেখলেন বিগ্রহটি ভেলা থেকে পড়ে ডুবে গেল। কোন ভাবনা চিন্তা না করেই তিনি পুষ্করণীতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং ডুবন্ত সেই বিগ্রহ উদ্ধার করে আনলেন। ঘটনাটি ঘটলো পুরো রামেশ্বরমবাসীর সামনে।

    এ ঘটনার পর–

    মন্দিরের পুরুৎ আমার দাদার বাবার সম্মানে আমাদের পরিবারকে বিগ্রহে প্রথম শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদানের সুযোগ দিলেন। বিগ্রহ উদ্ধারের পর করুণাময়ের প্রশংসায় ও আমাদের পরিবারের শান্তি কামনা করে ওই দিন রামেশ্বরম মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছিল।

    আজকের বাস্তবতায় পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবতার ক্ষেত্রে আমার কাছে। এ ঘটনা এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মনে হয়।

    আমরা কি সবাই এমন সৌভ্রাতৃত্ত্বের মন্ত্রে জেগে উঠতে পারবো না?

    ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে পন্ডিত জওহরলাল নেহেরুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ শুনতে আমার হাইস্কুলের শিক্ষক ইয়াদুরাই সলোমন আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। আমরা এখন স্বাধীন এমন ঘোষণা শুনতে আমরা সবাই সেদিন জড়ো হয়েছিলাম।

    পরের দিন সকাল বেলায় নেহেরুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ পত্রিকার প্রধান শিরোনামে ছাপা হল। তামিল ভাষায় প্রকাশিত ওই সংবাদপত্রে নেহেরুর ভাষণের সংবাদের পাশেই আরেকটি সংবাদ ছাপা হয়েছিল যা আজও আমার স্মৃতিতে প্রোথিত হয়ে আছে। সংবাদটি ছিল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কবলিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে মহাত্মা গান্ধী ১৫ আগস্ট নোয়াখালিতে পায়ে হেঁটে উপস্থিত হয়েছেন।

    স্বাভাবিকভাবেই জাতির জনক হিসেবে মহাত্মা গান্ধী সেদিন স্বাধীন ভারতের প্রথম পতাকা উত্তোলন করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে মানবাত্মার সেবায় তিনি তখন খালি পায়ে নোয়াখালিতে হেঁটে বেড়াচ্ছেন। এমনই ছিল মহাত্মার মহত্ব। যে মহত্ব একজন স্কুলছাত্রের মনে কী ভীষণ এক অমোচনীয় রেখাপাত করেছিল।

    তারুণ্যের শক্তি উপলব্ধি করে এবং বয়োজেষ্ঠ্যদের প্রজ্ঞাকে সম্বল করে আমি আমার প্রযুক্তি কেন্দ্রীক উন্নয়ন পরিকল্পনায় হাত দিয়েছি। যেখানে মানুষ নতুন নতুন বাধা অতিক্রম করবে নতুন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে।

    সেখানে তারা বুঝতে চেষ্টা করবে কঠিন সমস্যা উৎরে কীভাবে সফলতার পথে আসতে হয়। আমরা আগেই আলোচনা করেছি কীভাবে স্বপ্ন দেখতে হয়, কীভাবে প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়ন করতে হয়। আর কীভাবে আধ্যাত্মিক শক্তিকে জাগতিক সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করতে হয়। এতে কি সৃষ্টিচক্রের কিছুমাত্র ক্ষতি হতে পারে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleলার্নিং হাউ টু ফ্লাই : লাইফ লেসন্‌স ফর দি ইয়ুথ – এ পি জে আবদুল কালাম
    Next Article উইংস অব ফায়ার – এ পি জে আবদুল কালাম

    Related Articles

    এ পি জে আবদুল কালাম

    উত্তরণ : শ্রেষ্ঠত্বের পথে সকলে – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    সন্ধিক্ষণ : প্রতিকূলতা জয়ের লক্ষ্যে যাত্রা – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    উইংস অব ফায়ার – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    লার্নিং হাউ টু ফ্লাই : লাইফ লেসন্‌স ফর দি ইয়ুথ – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    টার্নিং পয়েন্টস : এ জার্নি থ্র চ্যালেঞ্জেস – এ.পি.জে. আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    মাই জার্নি : স্বপ্নকে বাস্তবতা প্রদান – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }