Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ইগনাইটেড মাইন্ডস – এ পি জে আবদুল কালাম

    এ পি জে আবদুল কালাম এক পাতা গল্প135 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৭. শক্তিগুলো এক হচ্ছে

    ৭. শক্তিগুলো এক হচ্ছে

    Determine the things can and shall be done, and then we shall find the way.

    — Abraham Lincoln

    যখন আমাদের জ্ঞানলব্ধ অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে তখন দেশ দ্রুত প্রগতির পথে ত্বরান্বিত হবে; যেখানে থাকবে উচ্চশিক্ষিত প্রশাসকমণ্ডলী; আর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে রাজনীতিকদের ন্যূনতম উদার হস্তক্ষেপ।

    আমার বিবেচনায় উন্নয়ন হলো একটি নিরাপত্তামূলক বিষয় যা দারিদ্র্য থেকে নিরাপত্তা দেবে। খাদ্য সংস্থানের নিশ্চয়তা দেয়, সামাজিক নিরাপত্তা দেয় এবং সর্বোপরি যা জাতীয় প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করে।

    ২০২০ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গঠনে ৫টি ক্ষেত্রকে আমরা আমাদের প্রধান কর্মলক্ষ্য হিসেবে স্থির করেছি।

    পাঁচটির মধ্যে আমরা কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর জোর দিয়েছি যার আওতায় বছরে ৩৬০ মিলিয়ন টন খাদ্য ও কৃষিজাত পন্য উৎপাদনের টার্গেট হাতে নেওয়া হয়েছে। কৃষি এবং কৃষি নির্ভর খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্প গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সাধন করবে যা আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখবে।

    দ্বিতীয় সংস্কার ক্ষেত্র হল বিদ্যুৎ। দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সারাদেশে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা চালু অবশ্য জরুরী।

    আমাদের তৃতীয় সংস্কারমূলক ক্ষেত্র হল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা। আমরা গবেষণা করে দেখেছি শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায়, কেরালার মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক শিক্ষিত ও স্বাস্থ্য সচেতন, যে কারণে সে এলাকায় জন্মহার কমে এসেছে এবং সেখানকার মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। ঠিক একইভাবে তামিল নাড়তেও জন্মহার অনেক কমে এসেছে যার প্রধান কারণ হিসেবে শিক্ষাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্ধ্র প্রদেশেও শিক্ষার প্রসার ঘটায় সেখানকার জনসং রি কমেছে। জীবন যাত্রার মান আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। এই সমস্ত রাজ্যগুলোর শিক্ষা প্রবণতা বিহার ও উত্তর প্রদেশের এলাকাগুলোতে সম্প্রসারিত করা দরকার, কারণ বিহার ও উত্তর প্রদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখনও অনেক বেশী।

    আমাদের চতুর্থ পরিকল্পনাধীন সংস্কার ক্ষেত্র হলো তথ্য প্রযুক্তি। দ্রুত শিক্ষা বিস্তার ও উন্নত জনস্বাস্থ্যের লক্ষ্য পূরণে তথ্য প্রযুক্তি ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও পশ্চাৎপদ এলাকাগুলোকে দ্রুত আধুনিকায়নের আওতায় আনতে তথ্য প্রযুক্তির সম্প্রসারণ করতেই হবে।

    আমাদের পঞ্চম লক্ষ্য কৌশলগত ক্ষেত্রের উন্নয়ন। এক্ষেত্রে অবশ্য আমরা অনেকটা এগিয়ে এসেছি। পরমাণু, স্পেস এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রযাত্রা আশাব্যঞ্জক।

    এই পাঁচটি ক্ষেত্রে আমাদের সমন্বিত অগ্রযাত্রা আমাদের খাদ্য, অর্থনীতি, সামাজিক ও জাতীয় প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য গবেষণা ও উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানসমূহ, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের মানুষের সংগে সরকারী অধিদপ্তর ও পরিশক প্রতিষ্ঠানের সহযোগীতামূলক বন্ধন তৈরী করা দরকার। সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবেই এই পারস্পরিক যোগাযোগ দরকার। ছোট পরিবার ও অধিক কর্মশক্তির নিশ্চয়তা বিধানের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এটা কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়ন খাদ্যসংস্থাপনের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রের অগ্রগতি দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ শক্তি উন্নয়নের সর্বক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। শিল্প কারখানা ও কারিগরি উন্নয়নের পেছনে প্রকৌশলগত ও কারিগরি সহায়তা ব্যবস্থা জরুরী। মোটকথা একটি ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য এই পাঁচটি ক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি এই পাঁচ ক্ষেত্রের একটি সমন্বিত সংস্কার করা সম্ভব হয় তাহলে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত হবে। দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থানকারী ৩০ থেকে ৪০ কোটি লোকের জীবনযাপনের মানে অভাবনীয়ভাবে উন্নতি আসবে।

    আমি টিফাক (টিআইএফসি) টিমের সংগে একটা তিন বছর কৃষি, আধুনিক শিক্ষা এবং গ্রামীণ সংযোগ ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে কাজ করেছি। একাজ করতে গিয়ে আমি চিনি, ফ্লাইঅ্যাশ এবং সুতা উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমার বিগত অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করেছি। বিখ্যাত কৃষি বিজ্ঞানী এস কে সিনহার নেতৃত্বে টিফাঁক মধ্য বিহার ও পূর্ব ভারতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। ১৯৯৮ সালের খরিফ ঋতুতে একটি রাজ্যের ৬টি ও অন্য রাজ্যের ৯টি গ্রাম এ প্রকল্পের অধীনে আনা হয়। প্রকল্পের বিজ্ঞান পদ্ধতিতে জমির মাটি পরীক্ষা, বীজ নির্ধারণ, চাষের মৌসুম, সার নির্ধারণ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ দানের ব্যবস্থা করা হয়।

    সে বছর বিজ্ঞানী ও স্থানীয় কৃষকদের পারস্পরিক সহযোগীতায় প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন আড়াই টন থেকে ৫ টনে উন্নীত হয়েছিল। সে বছর আমি এবং আমার বন্ধু ওয়াই এস রাজন সেখানকার কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখেছি কৃষকরা দ্রুত ফসল কাটার যন্ত্রপাতি, গুদামজাতকরণ ব্যবস্থাপনা, বাজারজাতকরণ এবং ব্যাংক লোন সংগ্রহের বিষয়ে অনেক আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ওই প্রকল্পের কাজে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে, কৃষকরা যদি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হয়ে দলীয় পদ্ধতিতে চাষ করে তাহলে উৎপাদনের খরচ এবং সময় দুইই বাঁচে।

    আরেকটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প বর্তমানে চালু রয়েছে। সেটির নাম রিচ (আরইএসিএইচ-রিলেভেন্স অ্যান্ড এক্সিলেন্স অব অ্যাচিভিং নিউ হাইটস্ ইন এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস্)। এ প্রকল্পে ৮০ থেকে ১০০টি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই সেন্টারগুলো সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠক্রম অনুসরণ করছে এবং সর্বোচ্চ সফলতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সেন্টারগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে, একে অন্যের সংগে মতামত আদান প্রদান করছে এবং প্রয়োজনে সম্মিলিত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে পাতিয়ালা, ডিব্ৰুগড়, মুম্বাই, থানজাবুর এবং সুরাটের শিল্পভিত্তিক জৈব প্রযুক্তি, আধুনিক কম্পিউটিং ও ইনফরমেশন প্রসেসিং, পেট্রোলিয়াম মজুদকরণ কারখানার নিরাপত্তা, এনভায়রোনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও আয়ুর্বেদিক ওষুধ কারখানার আশেপাশে গড়ে উঠছে কোর (সিওআরই–সেন্টারস্ অব রিলেভেন্স অ্যান্ড এক্সিলেন্স)।

    কৃষি বিষয়ক রিচ প্রকল্পের সাফল্য দেখে উৎপাদন ও শিল্প বিষয়ক কোর প্রোগ্রামে শিল্প-কারখানাগুলো যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছে। এখন কিন্তু আশে পাশের এলাকার শিল্প-কারখানার মালিকরা তাদের এলাকায় কোর প্রতিষ্ঠার মোট খরচের ৪০ শতাংশ স্বেচ্ছায় ব্যয় করতে চাইছে। কোর প্রতিষ্ঠিত হলে এর বিনিময়ে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনশক্তি পাবে, অন্যদিকে গবেষণাগারে সর্বাধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তিও তাদের কাজে লাগাতে পারবে। প্রযুক্তি উন্নয়ন ও শিক্ষাক্ষেত্রে শিল্পপতিদের অংশীদারী হবার আগ্রহে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে। সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতির নেতৃস্থানে প্রধান বিজ্ঞান উপদেষ্টা হিসেবে ড. এম. এস. বিজয় রাঘবনকে পাওয়ায় আমরা আরও বেশী আশাবাদী হয়েছি। তার অভিনব আইডিয়া এই শিক্ষা প্রকল্পের প্রতি সবার প্রতিশ্রুতিশীল মানসিকতা গড়তে সহায়তা করেছে।

    আরেকটি গ্রাম ভিত্তিক সহযোগীতামূলক প্রকল্পের উদাহরণ গড়ে উঠেছে মাদ্রাজের আইআইটির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক পি.ভি. ইন্দিরেসানকে ঘিরে। পূর্বোল্লেখিত আধুনিক ব্যবস্থাপনায় গ্রামে শহরের আধুনিক সুবিধা সৃষ্টি করে আরও বেশী কর্মসংস্থানের সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের ব্যাবধান কমানোর জন্য তার প্রোগ্রাম কাজ করে যাচ্ছে। গ্রামে গ্রামে তার প্রোগ্রামের মডেল অনুযায়ী অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে গ্রামের মানুষ শহরমুখী হবে না। ক্রমশ গ্রামগুলো আরও উন্নত হয়ে উঠবে। বর্তমানে গ্রামগুলোকে পারস্পরিক সহযোগীতায় এগিয়ে আসার মাধ্যম হিসেবে বহু প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে এবং গ্রামগুলোর মধ্যে সার্বিক যোগযোগের দূরত্ব কমে আসছে।

    গ্রাম উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে আমরা পুরা নামের একটি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। গ্রামগুলোর মধ্যে বহুমুখী সংযোগ ব্যবস্থা চালুর জন্য আমরা চারটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছি। সেগুলো হল : পদার্থ বিদ্যা, ইলেক্ট্রনিক্স, অর্থনীতি ও সমন্বিত শিক্ষা। এক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় বিষয় হলো তথ্যপ্রযুক্তি পরিচালিত টেলিমেডিসিন।

    গত বছর মে মাসে আমি হায়দ্রাবাদের কেয়ার হাসাপাতাল পরিদর্শন। করেছিলাম। টেলিমেডিসিন সিস্টেমের উদ্বোধনী দিন উপলক্ষ্যে হাসপাতালের হল রুমে সেদিন ডাক্তার, কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞদের মিলন মেলা বসেছিল। টেলিমেডিসিন পদ্ধতিতে বহু দূরের রোগীকে পরীক্ষা করার ও ব্যবস্থাপত্র দেবার আয়োজন চলছিল। এ পদ্ধতিতে পাকস্থলির জটিলতা বিষয়ক কোন রোগীকে ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাফী যন্ত্রের নিচে শুইয়ে দেওয়া হবে। মজার ব্যাপার হল রোগী থাকবে বহু দূরে কিন্তু হায়দ্রাবাদে বসেই তার রোগ ডায়াগনোসিস করা হবে ইলেক্ট্রোমেডিসিন পদ্ধতিতে। ডাক্তার ও রোগী স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কথোপকথন করবে। হাই রেজুলেশন ইমেজ ট্রান্সফারের মাধ্যমে ইসিজি ডাটা এবং ক্লিনিক্যাল ইনফরমেশন সঠিক সময়ে পাঠানো সম্ভব হয়।

    আমি মনিটরে বহুদূরের একটি হাসপাতালের কোন এক রোগীর পাকস্থলি ও হৎপিন্ডের জীবন্ত ছবি দেখলাম। দেখলাম দূরবর্তী সেই হাসপাতালের রোগীর চিকিৎসক ও হায়দ্রাবাদের বিশেষজ্ঞরা কীভাবে রোগীর সংকট নিয়ে আলোচনা করছেন। যেসব শহরে উন্নত চিকিৎসার ও বিশেষজ্ঞদের অভাব রয়েছে তাদের সেবা দানের ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে একটি আশাবহ পদ্ধতি। টেলিমেডিসিন পদ্ধতি অজ গ্রামেও আধুনিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে পারে এবং গ্রামের প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে শুরু করে আঞ্চলিক হাসপাতাল এবং জেলা হাসপাতালের সংগে রাজধানীর সর্বোন্নত হাসপাতালের যোগাযোগ স্থাপন করে দিতে পারে। আধুনিক স্যাটেলাইট কম্যুনিকেশন এবং তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে, প্রকৌশল বিজ্ঞান ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের সম্মিলন ঘটিয়ে কয়েকশ মাইল দূরের একজন রোগীকে কীভাবে চিকিৎসা করা হচ্ছে- এটা দেখে আমি অভিভূত হয়ে গেলাম।

    এক বন্ধুর পরামর্শ অনুযায়ী আমার চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ১৯৯০ সালে মাদুরাইয়ে অবস্থিত অরবিন্দ চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি হতে গিয়েছিলাম। হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে দেখি অসংখ্য চোখের রোগী ভর্তি হবার জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশ লম্বা লাইন। কিন্তু লাইন লম্বা হলেও দ্রুতগতিতে তা শেষ হচ্ছিল এবং ওই লাইনে দাঁড়িয়ে আধঘণ্টার মধ্যেই ড. জি. নাচিয়ারের সাক্ষাত পেলাম। তিনি হাসপাতালে ভর্তির জন্য সুপারিশ করলেন। হাসপাতালের ভর্তি ফি দিতে গিয়ে এক বিপত্তি বাধল। আমি কাউন্টারে চেক দিতেই ক্যাশ কাউন্টারে বসা মেয়েটি তা গ্রহণে অস্বীকার করলো। বললো চেক তাদের সেখানে গ্রহণযোগ্য নয়, অথচ আমার কাছে তখন নগদ টাকা নেই। আমি আবার ডা. নাচিয়ারের কাছে ফিরে এলাম এবং আমার সমস্যা তার কাছে খুলে বললাম। ভদ্রমহিলা সহজেই আমার সমস্যা বুঝতে পারলেন এবং আমাকে ভর্তি করতে রাজী হলেন। কয়েকদিনের চিকিৎসা শেষে আমাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হল। এর কদিন পরে ডা. নাচিয়ারের কাছ থেকে একটি চিঠি পেলাম। ভদ্রমহিলা আমাকে চিনতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। হাসপাতাল ছাড়ার দিন আমার নিরাপত্তা কর্মীরা হাসপাতালে আমার খোঁজ করতে যাওয়ার পর তিনি আমার সম্পর্কে জানতে পারেন।

    প্রথম ভিজিট করার পরে আমি অরবিন্দ হাসপাতালে আরও বেশ কয়েকবার গেছি। আমার চিকিৎসক ডা. নাচিয়ারের ভাই ডা. জি ভেঙ্কটস্বামী ওই হাসপাতালে কর্মরত। তিনি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন। মাদুরাইয়ে গেলে প্রতিবারই ভেঙ্কটস্বামীর সংগে দেখা করি।

    এবার ভেঙ্কটস্বামী ও তার কাজ সম্পর্কে একটু বলি। ২০০১ সালে অরবিন্দ হাসপাতালে শুধু বহিরাগত রোগীর সংখ্যাই ছিল ১৩ লাখ। ওই হাসপাতালের পক্ষ থেকে সে বছর ১৫শ চক্ষু ক্যাম্প করা হয় এবং প্রায় ১১ হাজার চক্ষু অপারেশন করা হয়। এ কৃতিত্বের স্বীকৃতি বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা ইতিমধ্যেই তাকে দিয়েছে।

    বর্তমানে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বিখ্যাত বিদেশী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নেবার জন্য আসছে।

    ডা. ভেঙ্কটস্বামীর হাত দুটি স্বাভাবিক না থাকলেও তিনি অস্ত্রোপচারে অপ্রতিদ্বন্দী অবস্থানে চলে এসেছেন। মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় তার হাতের কয়েকটি আঙুল আথ্রাইটিসে আক্রান্ত হয়ে শুকিয়ে কুঁকড়ে যায়।

    একদিন আলোচনার সময় তিনি জানালেন, একদিন দিল্লি থেকে একজন শিল্পপতি ভেঙ্কটস্বামীর কাছে এসে বললেন, আমি দিল্লিতে নতুন একটি হাসপাতাল বানাতে চাই। আপনার হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আপনি কি আমাকে এই নতুন হাসপাতাল তৈরীতে সহায়তা করবেন? ডা, ভেঙ্কটস্বামী তাকে বললেন, আপনার অগাধ অর্থ রয়েছে। ইচ্ছে করলে এখনই তো কাজ শুরু করতে পারেন। কেন করছেন না? শিল্পপতি বললেন, না, আমি ঠিক এই অরবিন্দ হাসপাতালের মডেলে হাসপাতালটি করতে চাই। এখানকার লোকজন, চিকিৎসকরা অত্যন্ত আন্তরিক। তারা অর্থের চেয়ে মানুষকে বেশী সম্মান করে বলেই আমার মনে হয়েছে। আমি নতুন হাসপাতালে এখানকার আবহ প্রতিস্থাপন করতে চাই।

    আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়ও তাই মনে হয়েছে। অরবিন্দ হাসপাতালে থাকাকালীন আমি দেখেছি সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে সেখানকার চিকিৎসকরা কীভাবে আন্তরিকতার সংগে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে।

    চিকিৎসাবিদ্যার পাশাপাশি কৃষির মত আরও অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগ আমরা অদূর ভবিষ্যতেই দেখতে পাব। কিন্তু সমস্ত কর্মপরিকল্পনার পূর্বশর্ত হতে হবে জনকল্যাণ ও তাদের অভাব মেটানো।

    সমৃদ্ধ প্রজন্ম এবং সমৃদ্ধ নিরাপত্তা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ–এই বিবেচনাবোধ ধারণ করতে পারলেই আমরা উন্নত ভারতের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে পারবো। জনগণের শ্রম ও ঘামের সাফল্যের প্রতিনিধিত্ব করে সে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি।

    ভারতের ১৩ জন বৈষ্ণব কবির অন্যতম তামিল মহিলা কবি আন্দাল তার তিরুপ্লাভাই কবিতায় ঈশ্বরের প্রতি আহ্বান করেছেন ঈশ্বর যেন এ ধরীত্রীতে নিনগাথা সেলভাম (সম্পদের বৃষ্টি) বর্ষণ করেন। তার এ সম্পদের বর্ষণ হতে পারে শুধুমাত্র সবাই একত্রিত হয়ে উন্নতির ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আলাদা আলাদাভাবে তাদের স্ব স্ব মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনার অনুমোদন করছে। তা না করে যদি কয়েকটি মন্ত্রনালয় একত্রিত হয়ে বহুমুখী পরিকল্পনা অনুমোদন করে তাহলে তার ফলাফলও হবে বহুমুখী। আরও শক্তিগুলো এক হচ্ছে বেশী মানুষ বেশী সেবা পাবে। এজন্য দরকার সমন্বিত পরিকল্পনা। ঠিক একইভাবে অন্যান্য সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগের প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। যৌথ ও সমন্বিত উপায়ে ভারতের সর্বস্তরের উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত হলে ভারত দ্রুত উন্নত বিশ্বের সারিতে চলে আসবে।

    উন্নত দেশের আরেকটি প্রধান উপজীব্য হল সে দেশের শিল্পকারখানা গুলোকে বিশ্ববাজারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সক্ষম হতে হবে। শুধু দেশের বাজারে প্রাধান্য বিস্তারের চিন্তা মাথায় রাখলে হবে না। বিশ্ববাজারের কথা চিন্তা করে এদেশের শিল্প কারখানাগুলোকে দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করতে হবে।

    জিডিপির ক্ষেত্রে এই রফতানীযোগ্য পণ্যের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। উন্নয়নের জন্য ভারতের এটা অতি অবশ্য জরুরী হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতকে প্রমাণ করতে হবে যে উন্নত দেশগুলোর মত পণ্য উৎপাদনে অভিনবত্ব আনার সক্ষমতা তার রয়েছে। এতে স্থানীয়ভাবেই আমরা বহুজাতিক পণ্য উৎপাদনে সক্ষম হব।

    সত্যিকার উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য আরেকটি জিনিস দরকার। সেটি হল বিশ্বব্যাপী প্রচলিত ভাষা ও শিক্ষা অর্জনের সক্ষমতা। এটি উন্নয়নের জন্য একটি মৌলিক চাহিদার পর্যায়ে চলে এসেছে। শিক্ষার মাধ্যমে একটি বিপুল শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরী করতে হবে যারা বিশ্ববাজারের সর্বশেষ প্রযুক্তি ও সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে পারে।

    বর্তমানে দুঃখজনক হলেও সত্য ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে এখনও ব্যাপক ফারাক রয়ে গেছে। বহু শিক্ষার্থী আছে যারা উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণ করতে চায় কিন্তু সে অনুযায়ী এদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একেবারেই কম। এজন্য সুদক্ষ জনশক্তি এদেশের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তথ্য প্রযুক্তি, জৈব প্রযুক্তি, পরিবেশ প্রকৌশলবিদ্যা এবং প্রস্তুতকরণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতে উচ্চশিক্ষার মান আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। মুক্ত অর্থনীতির ক্ষেত্রে এ শিক্ষার ক্রমাগ্রগতি মোটেও প্রতুল নয়। আরও উন্নত সমাজ ও শিল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে আরও শক্তিশালী ও উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হওয়া দরকার।

    যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে অনেকদূর এগিয়ে এসেছে তারা নতুন নতুন প্রতিষ্ঠানকে অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে এসব কাজ হতে হবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে। মিশন মুড নিয়ে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন এগিয়ে না আসলে সামগ্রিকভাবে তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

    ২০০০ সালের ১৫ অক্টোবর পোন গ্রুপের বন্ধুরা আমার জন্য একটি ওয়েব সাইটের ডিজাইন করেছিল। IISc.র অধ্যাপক বলকৃষ্ণর উপস্থিতিতে পোন গ্রুপের চেয়ারম্যান এন.আর, নারায়ণমূর্তি ওই ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন। আমার কয়েকজন বন্ধু ওই ওয়েবসাইটে আমাকে কয়েকটি প্রশ্ন জুড়ে দিতে বলেন। সাইটে আমার তিনটি প্রশ্ন ছিল। প্রথম প্রশ্ন হল, পঞ্চাশ বছর ধরে ভারত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিত। তোমরা যারা তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থী তারা উন্নত ভারত গঠনে কী কী করণীয় আছে বলে মনে করছ? দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, কখন, কবে আমি ভারতের জয়গান গাইতে পারব? তৃতীয় প্রশ্নটি ছিল, বিশ্বের অন্য দেশগুলো যেখানে তাদের তৈরী পণ্যের প্রশংসা করছে সেখানে আমরা কেন বিদেশের সবকিছু পাবার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকি? আমার ওয়েব সাইটে আমি উল্লেখ করেছি উত্তরদাতাদের বয়স হতে হবে ২০ বছরের নিচে। কয়েকদিনের মধ্যে দেশের ও দেশের বাইরে থেকে শতাধিক উত্তর ও পরামর্শ পাওয়া গেল। এদের মধ্যে পাঁচটি উত্তর আমার কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয়েছে।

    চন্ডিগড়ের এক তরুণ তার উত্তরে লিখেছে, আমি বড় হয়ে একজন শিক্ষক হতে চাই (বিশেষ করে প্রকৌশলবিদ্যার অধ্যাপক হতে চাই), কারণ শিক্ষকতার বিষয়টি আমার কাছে উপভোগ্য এবং আমি বিশ্বাস করি জাতির সর্বোচ্চ সেবা করার দুটি মাধ্যম রয়েছে। হয় শিক্ষকতা নয়তো সেনাবাহিনীতে যোগদান করা। পন্ডিচেরী থেকে একটি মেয়ে লিখেছে, আমি জানি একটি ফুলে মালা গাঁথা হয় না। ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করতে গাঁথা মালার মত অগণিত মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমিও নিজেকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করতে চাই। গোয়া থেকে ২০ বছরের এক তরুণ উত্তর দিয়েছে, ইলেক্ট্রন তার সুক্ষ্ম কক্ষপথে যেভাবে ঘুরতে থাকে, আজ থেকে আমিও আমার দেশের উন্নয়নের জন্য বিরামহীনভাবে ঘুরতে থাকবো।

    আমি কবে ভারতের জয়গান গাইতে পারব?–এ প্রশ্নের জবাবে আটলান্টা থেকে এক তরুণ লিখেছে, যেদিন প্রয়োজনবোধে ভারত যে কোন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে সেদিন আমি ভারতের গান গাইব। অর্থাৎ সে তরুণ বোঝাতে চেয়েছে রাষ্ট্ৰীয় শক্তির সংগে অর্থনৈতিক শক্তি মিলিত হয়েই উন্নত ভারতভূমি গড়ে তোলা সম্ভব। প্রায় ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা লিখেছে, আমাদের ভারতে ৩৫ বছরের কম বয়সের লোকের সংখ্যা প্রায় ৭০ কোটি। এই ৭০ কোটি জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম ও কর্মক্ষমতার পূর্ণবিকাশ ঘটিয়ে তাদের একতাবদ্ধ করতে পারলেই ভারত উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটা একটা বিশাল শক্তি।

    এখন কথা হলো তরুণ মনগুলেকে কিভাবে জাগিয়ে তোলা যাবে? জাতি গঠনের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার আগ্রহ কীভাবে তাদের মধ্যে সৃষ্টি করা যাবে? শুধুমাত্র সম্মিলিত ও একতাবদ্ধ একটি নবায়িত চেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের পুনর্জাগরণ ঘটানো সম্ভব। তারাই দুর্নীতিমুক্ত একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে।

    দুর্নীতিহীন স্বচ্ছতা ও মূল্যায়নের শিক্ষাও আমি গান্ধীর জীবন থেকে পেয়েছি। একবার দিল্লিতে গান্ধীজির নাতি সুমিত্রা কুলকার্নির সংগে আমাকে দেখা করতে হয়েছিল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সুমিত্রাজি, আপনার ঠাকুরদার এমন কোন জীবনাচরণের কথা কি আমাদের বলবেন যা আপনি সব সময় স্মরণ করেন?

    তিনি উত্তর দিতে গিয়ে একটা গল্প বললেন। তিনি বললেন, আপনার মত সকলেই জানেন, তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রার্থনায় বসতেন। প্রার্থনার পর হরিজন সম্প্রদায়সহ অন্যান্যদের জন্য সাহায্য তহবিল গঠনের উদ্দেশ্যে তিনি জনগণের স্বেচ্ছাসেবামূলক দান গ্রহণ করতেন। গান্ধীজির সেবকদের কয়েকজন সর্বশ্রেণীর মানুষের কাছ থেকে সংগৃহিত ওই সাহায্য অর্থ রাতে হিসাবনিকাশ করে রাখতেন। রাতের খাবারের আগে সারাদিনে কত অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে তা গান্ধীজিকে জানানো হত। পরের দিন ওই অর্থ ব্যাংকে জমা রাখার জন্য ব্যাংক থেকে লোক আসত।

    একদিন ব্যাংকের লোক এসে গান্ধীজিকে বললেন, গতরাতে তিনি যে পরিমাণ অর্থের কথা জানিয়েছেন তার চেয়ে সামান্য কিছু কম পয়সা ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। কারণ সেবকদের একজন ওই পয়সা ধার হিসেবে রেখে দিয়েছেন। পরে তা ফেরত দেবার আশ্বাস দিয়ে তিনি ওই অর্থ গ্রহণ করেছেন। এটা শুনে গান্ধীজি সাংঘাতিক আঘাত পেলেন এবং বললেন, এ টাকা জনগণের। এ থেকে এক কানাকড়ি খরচ করারও অধিকার আমাদের নেই।

    সাধারণ জীবনের স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে এ ঘটনা নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমরা আজ সেই গান্ধীজির দেশেই সততা ও দুর্নীতি দেখতে পাচ্ছি। আমাদের সবাইকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে স্বচ্ছভারত গড়ে তোলার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতে হবে; যেভাবে আমাদের পূর্বসূরীরা করে গেছেন। উন্নয়নের অপরিহার্য ভিত্তি হল অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা।

    স্বাধীনতার পর থেকে আমরা অগ্রগতির কথা বলে আসছি। কৃষিক্ষেত্রে আমরা এখন অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ। দুগ্ধ উৎপাদনকারী হিসেবে বিশ্ববাজারে আমরা প্রথম শ্রেণীতে রয়েছি। এমন বহু ক্ষেত্রে আমাদের শিল্পকারখানা এগিয়ে এসেছে। এর পরেও আমরা শ শ উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ভুক্ত দেশ।

    আমাদের এখন বিবেচনা করে দেখতে হবে বিশ্বের প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোন পর্যায়ে রয়েছে। একটি দেশের প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক অবস্থান নির্ধারিত হয় তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিচার করে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্ব প্রতিযোগীতার দৌড়ে সিংগাপুর প্রথম, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়, হংকং তৃতীয়, তাইওয়ান চতুর্থ, কানাডা পঞ্চম, ব্রিটেন অষ্টম, ফ্রান্স তেইশতম, জার্মানি পঁচিশতম এবং ভারত উনষাটতম অবস্থানে রয়েছে।

    এখন প্রশ্ন হল এ বিশ্বপ্রতিদ্বন্দ্বীতা নির্ধারণ করে কে? এটা আসলে শিল্প কারখানার উন্নয়নমুখীতা, উন্নত প্রযুক্তির অগ্রসরতা, সরকারের সুস্থির চালিকাশক্তির একটি সম্মিলিত ফলাফল। গড় জিডিপি অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বে আমাদের অবস্থান দ্বাদশ পর্যায়ে। পার ক্যাপিটা জিডিপির ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান সাতান্নতম।

    এ অবস্থান কি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য? বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে? আমি বিশ্বাস করি আমাদের এমনভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানো উচিত যাতে জিডিপির ক্ষেত্রে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে আমরা চলে আসতে পারি। একই সংগে বিশ্ব প্রতিযোগীতার দৌড়েও আমরা চতুর্থ থেকে পঞ্চম অবস্থানে শক্তিগুলো এক হচ্ছে আসতে চাই। আর এ সাফল্য অর্জনের জন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি ২০২০ সাল। এ সাফল্য অর্জনের জন্য আমরা আগেই বেশ কয়েকটি পন্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

    এ সকল সমাজ গড়ার জন্য আমাদের একটি বলিষ্ঠ শিক্ষিত সমাজ গডে তুলতে হবে। আমি প্ল্যানিং কমিশনের এই শিক্ষিত প্রজন্ম সৃষ্টির রোডম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগে খুব খুশি হয়েছি।

    আমরা কোত্থেকে আমাদের কার্যক্রম শুরু করব? সম্প্রতি নতুন কিছু রাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। সেসব অঞ্চল থেকেই আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারি। অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও এই অঞ্চলগুলোর খুব কমই উন্নতি হয়েছে। সেখানকার মানুষ অনেক পরিশ্রম করছে কিন্তু দারিদ্র তাদের ছাড়ছে না। এই চরম বঞ্চনাপূর্ণ দারিদ্র্যের পথ থেকে কে আমাদের নতুন পথের সন্ধান দেবে? কে আমাদের এ পরিস্থিতিতে রেখেছে সেটি বড় প্রশ্ন নয়। এখন আমাদের সামনে মুখ্য জিজ্ঞাসা, কে এই দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটাতে পারে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleলার্নিং হাউ টু ফ্লাই : লাইফ লেসন্‌স ফর দি ইয়ুথ – এ পি জে আবদুল কালাম
    Next Article উইংস অব ফায়ার – এ পি জে আবদুল কালাম

    Related Articles

    এ পি জে আবদুল কালাম

    উত্তরণ : শ্রেষ্ঠত্বের পথে সকলে – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    সন্ধিক্ষণ : প্রতিকূলতা জয়ের লক্ষ্যে যাত্রা – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    উইংস অব ফায়ার – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    লার্নিং হাউ টু ফ্লাই : লাইফ লেসন্‌স ফর দি ইয়ুথ – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    টার্নিং পয়েন্টস : এ জার্নি থ্র চ্যালেঞ্জেস – এ.পি.জে. আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    এ পি জে আবদুল কালাম

    মাই জার্নি : স্বপ্নকে বাস্তবতা প্রদান – এ পি জে আবদুল কালাম

    July 15, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }