Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ইতি নির্ভয়পুর – অর্পিতা সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প315 Mins Read0
    ⤷

    ইতি নির্ভয়পুর – ১

    ১

    নির্ভয়রপুর তার নিজের সুনাম বজায় রাখার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেনি কোনওদিন। নামে নির্ভয়পুর হলেও এখানে ভয়ের যথেষ্ট কারণ আছে। সন্ধে হলেই সামনের জঙ্গল থেকে হাতি বেরোয়। সেই হাতির দল এই ছোটো ছোটো কাঠের ঘরগুলোকে খেলনা ঘরের মতো নিমেষে সমতলভূমি বানিয়ে দিয়ে আবারও ফিরে যায় নির্ভয়পুরের উত্তর দিকের ঘন জঙ্গলে। নিজের সুনাম বা বদনাম কোনওটা বজায় রাখতেই আগ্রহী নয় নির্ভয়পুর। সে যেন সন্ধের পরেও বাড়ির নিষেধ-না-মেনে মাঠে খেলা করে বেড়ানো অবাধ্য ছেলেটা। বাড়ি গেলে বকুনি জুটবে জেনেও নিরুত্তাপ। কে তাকে ভালো বলল, না বলল সেটা নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই। নিজের খেয়ালেই সে থাকতে পছন্দ করে। এসব ছেলেরা সঙ্গী হিসেবে পেয়েও যায় নিজেদের মতোই কয়েকজনকে। ঠিক যেমন নির্ভয়পুর পেয়েছে দূর বিস্তৃত পাহাড়কে, নাম না-জানা কিছু পাহাড়ি নদীকে। পাশের গ্রাম রংবুল ছোটো হলেও নিজেকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচয় করাতে উদ্যত। কিন্তু নির্ভয়পুরের নাম ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে কেউ তেমন জানে না। জানানোর কোনও আগ্রহও যেন নেই এ অঞ্চলের কারও। বরং বাইরের লোকের প্রবেশ ঠিক মেনে নিতে পারে না এই আদিবাসী মানুষগুলো। ভূমিপুত্ররা এক চুল জায়গা ছাড়তে নারাজ সভ্য জনগোষ্ঠীকে। তবু অনাত্মীয় প্রবেশকারীরা ফাঁক-ফোকর দিয়ে ঠিকই জায়গা করে নেয় নির্ভয়পুরের মাটিতে। আবার পাশাপাশি এই মানুষগুলোই বিশ্বাস করে ডাক্তারবাবুকে। ডাক্তারবাবু তাদের যা ওষুধ দেয়, সেটাই তারা অম্লানবদনে বিশ্বাসের সঙ্গে খেয়ে নেয়। রোগের জ্বালা অবশ্য কমে তাতে। নির্ভয়পুরের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রের ডাক্তার শৌনক বসু। বয়েস বত্রিশ। লম্বায় প্রায় ছ’ফুট। শ্যামলা গায়ের রঙে পেটানো চেহারা। শরীরের কোথাও এতটুকু মেদের আধিক্য নেই। ওষুধের ব্যাগ কাঁধে চড়াই-উতরাই পেরোতে হয় রাত-বিরেতে শৌনককে। সঙ্গী থাকে প্রলয়। নির্ভয়পুরের ছেলে। সায়েন্স গ্র্যাজুয়েট। বছর চারেকের চেষ্টায় তাকেই গড়েপিটে নিয়েছে শৌনক। ডাক্তারি ছাড়াও আর একটা নেশা তাকে কাবু করে ফেলেছে। প্রকৃতির ছবি তোলা। শৌনক জানে, নির্ভয়পুরকে ক্যামেরাবন্দি করে ফেলা অত সহজ নয়। এ বড়ো বেয়াড়া জায়গা। এখানের মানুষের ভালোবাসাও ভীষণ রকমের তীক্ষ্ণ। এরা কাউকে ভালোবাসলে উজাড় করে দিতে পিছ-পা হয় না, কিন্তু একবার যদি অবিশ্বাস করে, তাকে ছুড়ে ফেলে দেয় জঙ্গলে। ভালোবাসায় এরা বেইমানি পছন্দ করে না। শৌনক যখন প্রথম এসেছিল এই নির্ভয়পুরে ফ্রি ট্রিটমেন্ট ক্যাম্পে, তখন ও সদ্য ডাক্তারি পাশ করেছে। বর্ধমান হসপিটালে পোস্টেড ছিল।

    শৌনকের স্যার শ্রী ধ্রুবাশীষ মাহাতো বলেছিলেন, “শৌনক, যাবে নাকি ফ্রি ট্রিটমেন্ট ক্যাম্পে। পাহাড়ি জনপদ নির্ভয়পুরে? ঝাঁ-চকচকে কিছুই নেই সেখানে, শুধু খরস্রোতা নদীর জলটাই একমাত্র স্ফটিকের মতো ঝকমক করে। অবশ্য ব্যবসাদারদের অত্যাচার যা বাড়ছে তাতে চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত না হোক, জীবনযাত্রা উন্নত হবে কিছু মানুষের খুব শীঘ্রই।”

    শৌনক এক কথায় রাজি হয়েছিল। প্রত্যন্ত জায়গায় মেডিকেল ক্যাম্পে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ ছাড়তে চায়নি।

    স্যারকে হ্যাঁ বলে দিয়েছিল। বাড়ি ফিরে বাবাকে বলতেই, অদ্ভুতভাবে বাবা রাজি হয়নি। সেই প্রথম শৌনকের কোনও কথায় বাবা রাজি হয়নি। ছোটো থেকে বাবাকে যা বলেছে শৌনক, সেটাই প্রশ্নহীনভাবে শুনেছিল শোভন বসু। হঠাৎ এমন বেঁকে বসার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই, ওর নিরীহ নির্বিবাদী মা-ও রাশভারী গলায় বলেছিল, “বাবা যখন বারণ করছে, তখন জেদ ধরার তো কিছু নেই। এসব মেডিকেল ক্যাম্প তো প্রায়ই লেগে থাকে। আমিও অল্পবয়সে তোর বাবার সঙ্গে বহু ক্যাম্পে গিয়েছিলাম। তখনও আমি ডাক্তারি পাশ করিনি। তোর বাবাও সদ্য প্র্যাকটিস শুরু করেছে। আমি তখন থার্ড ইয়ারে। বেশ কয়েকটা মেডিকেল ক্যাম্পে গিয়েছিলাম। তাই বলছি, এ সুযোগ বহুবার আসবে। এত তাড়াহুড়োর কিছু নেই।”

    শৌনক শুধু বলেছিল, “কিন্তু এখানে যাব না কেন?”

    নিবেদিতা বসু নির্লিপ্ত গলায় বলেছিল, “আমরা বারণ করেছি তাই। তোর কোনও কাজে তো কখনও নিষেধ করিনি, এবারে বারণ করছি, তাই যাবি না।”

    .

    “কী ব্যাপার ডাক্তার তুমি, এখানে এতক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে কী ভাবছ? চায়ের ব্যবসা করবে নাকি?”

    নিরঞ্জন সমাদ্দার গাড়ি হাঁকিয়ে এদিক দিয়েই যাচ্ছিল। শৌনক এতক্ষণে খেয়াল করল, ও নিরঞ্জন সমাদ্দারের চা বাগানেই দাঁড়িয়ে আছে। বিঘের পর বিঘে চা বাগান নিয়ে টি-এস্টেট গড়ে তুলেছে সমাদ্দার। বয়েস প্রায় ষাটের কোঠায়। কিন্তু এখানের জল-হাওয়ায় সে বয়েসকে পঞ্চাশের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে দেয়নি। এ পাহাড়ি অঞ্চলে নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে নিরঞ্জন। খোশ-মেজাজি, মিশুকে মানুষ। নির্ভয়পুরেই বিশাল বাংলো বাড়ি করে রেখেছে। বছরের অর্ধেক সময় এখানে অর্ধেক সময় কলকাতায় কাটায় ভদ্রলোক। এ অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষের কর্মসংস্থান করেছে অনুপমা টি-এস্টেট। অনুপমা নিরঞ্জনের স্ত্রীর নাম। একমাত্র কন্যার নামেই চায়ের ব্যবসা শুরু করেছিলেন নিরঞ্জনের শ্বশুরমশাই। তখন অবশ্য এ ব্যবসার এতটাও রমরমা ছিল না। এমনিই শখের বশে বেশ কয়েক বিঘা চা-জমি কিনেছিলেন নিরঞ্জনের শ্বশুর জলের দরে। জমি কিনেছিলেন নিজের মেয়ে অনুপমার নামে। তার পরের ইতিহাসে বেশ বড়ো। সমাদ্দারের সঙ্গে মিনিট দশেক গল্প করলেই সে ইতিহাস লোকে জেনে যাবেই। কারণ নিরঞ্জন সর্বদা আত্মপ্রচার করতে ব্যস্ত। এ অঞ্চলের লোকজন নিরঞ্জনকে আড়ালে টাকার কুমির বলে ডাকে। অবশ্য শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতেই ওর যত কষ্ট। নির্ভয়পুরে ওর অনুপমা টি-এস্টেটকে কেন্দ্র করে বারবার বিক্ষোভ হয়েছে সুজয় হাঁসদার নেতৃত্বে একবার প্রায় মাসখানেক কোম্পানির কা রেখেছিল শ্রমিকরা। কিন্তু গরিব মানুষ, খিদে নিয়ে আর ক’দিন লড়াই করা শেষে বাধ্য হয়েই একে একে কাজে যোগ দিয়েছিল।

    সুজয় বলে, “আসলে কলেজে যখন পড়তাম, তখন থেকেই দেখতাম বন্ধুরা বলত, তোদের আর চিন্তা কী রে? কোটায় চাকরি পাবি। ওরা বুঝত না, নির্ভয়পুরের ঘরে ঘরে আজও মানুষ নিজেদের মানুষই ভাবে না।”

    সুজয় নিরঞ্জনের কোম্পানিতেই অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টে কাজ করে। ও জানে কীভাবে এখানের শ্রমিকদের কতটা ঠকায় নিরঞ্জন সমাদ্দার। এসব প্রথম প্রথম কিছুই জানত না শৌনক। থাকতে থাকতে জেনেছে নির্ভয়পুরের অলিগলিতে লুকিয়ে রাখা গল্পগুলো।

    শৌনক হেসে বলল, “আরে না না, আমি একটু মল্লিকবাবুর বাড়িতে যাচ্ছিলাম। ভোর ভোর খবর এসেছে, ভদ্রলোক বেশ অসুস্থ।”

    নিরঞ্জন মুচকি হেসে বলল, “সে তো হবেই। বুড়ো হাড়ে দ্বিতীয়পক্ষের অত্যাচার সইবে কেন?”

    কথাটা বলেই একটু চোখের ইশারা করল নিরঞ্জন।

    “সাহেব তো বাবাকে মোটেই সহ্য করতে পারে না। ওইজন্যই তো নির্ভয়পুরের বাংলো ছেড়ে কলকাতায় ফ্ল্যাট কিনে আছে। বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসেই না। এদিকে অরুণাংশু মল্লিক তো আবার রসিক লোক, তার তো ছেলের থেকে বেশি দ্বিতীয়পক্ষের প্রতি টান।”

    সাহেব অরুণাংশু মল্লিকের একমাত্র ছেলে।

    শৌনক জানে, এই ছোটো জনপদে প্রত্যেকে প্রত্যেকের খবর রাখে। কার হাঁড়িতে কী রান্না হল সেটাও বোধহয় জানে এখানের বাঙালি পরিবারগুলো। হাতে গোনা গোটা দশেক বাঙালি পরিবার আছে এই নির্ভয়পুরে। তাদের মধ্যে একটা অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলে সারাবছর। কারণ এই পরিবারগুলো সবই ব্যবসাদার। নির্ভয়পুরের প্রাকৃতিক সম্পদকে কবজা করেই বংশপরম্পরায় চলছে এদের ব্যবসা।

    নিরঞ্জন বলল, “দেখো ডাক্তার, রাতবিরেতে তুমিই আমাদের একমাত্র ভরসা। না হলে পাশ করা ডাক্তার তো এখানে কোনওদিনই এক মাসের বেশি টিকল না। সবই হাতুড়ে দিয়ে কাজ সারতে হত। এই তুমি এখানে এসে জ্বর-জ্বালায় মানুষের মৃত্যুর হার কমেছে। ও মল্লিক বুড়োর কিছু হবে না আধঘণ্টা দেরি করে গেলে। তুমি ডাক্তার আমার সঙ্গে একটু অরেঞ্জ-টি পান করে তবে যাবে। সকাল সকাল চা না খাইয়ে তোমায় ছাড়লে অস্মিতা আমার ওপরে খুব রাগ করবে।”

    অস্মিতার নাম শুনলেই একটু গুটিয়ে যায় শৌনক। অস্মিতা নিরঞ্জন সমাদ্দারের একমাত্র আদুরে সুন্দরী মেয়ে। বিদেশ থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্ট পড়ে ফিরে এসে আপাতত বাবার এস্টেট নিয়ে নতুন কিছু ভাবনাচিন্তা করছে। কলকাতাতেই থাকে বেশি। মাঝে মাঝে এসে এখানেও থেকে যায় মাসখানেক। বার চারেক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিল অস্মিতার সঙ্গে। শৌনকের প্রতি যে অস্মিতার দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, সেটা একটু হলেও টের পেয়েছে ও। তবে অস্মিতার ব্যবহার অন্তত মার্জিত। হাবেভাবে কোনও প্রকাশ নেই তার। কিন্তু নিরঞ্জন বোধহয় তার মেয়ের ঘরজামাই হিসেবে শৌনককেই পছন্দ করে রেখেছে। তাই দেখা হলেই অস্মিতার কথা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলে। শৌনক একটু অস্বস্তি নিয়েই বলল, “না না নিরঞ্জনবাবু, আমি মল্লিকবাবুকে আজ দেখে আসি। পরে না হয় জমিয়ে চায়ের আসরে বসা যাবে।”

    নিরঞ্জনের গাড়িকে বাঁ-পাশে রেখেই হনহন করে পা চালাল শৌনক। শর্টকাট পাহাড়ি রাস্তা ধরেছিল ও, গাড়ি করে গেলে ঘুরপথে দেরি বেশি হত।

    নির্ভয়পুরে আসার পর একটা জিনিস ওর সবসময়ের সঙ্গী হয়েছে, ওষুধের ব্যাগের সঙ্গে একটা নাকলম্বা ছাতা। বার চারেক আচমকাই রোদেলা আকাশকে মুখ গোমড়া অভিমানী হয়ে অযথা অশ্রু বিসর্জন করতে দেখেছে। সেই আচমকা বৃষ্টিতে ভিজেও গিয়েছিল শৌনক। তারপর টোংলু বাজার থেকে এই বিকট সাইজের ছাতাটা ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে প্রলয় বলেছিল, “স্যার, এটা ছাড়া পথে বেরোলে বিনা নোটিশে ভিজে যাবেন।” সেই থেকেই ছাতটা শৌনকের সর্বসময়ের সঙ্গী।

    অরুণাংশু মল্লিকের স্ত্রী-ভাগ্য যে মোটে সুবিধার নয়, সেটা শুধু উনি নন, এ অঞ্চলের সকলেরই জানা বিষয়। প্রথম স্ত্রী নিরুপমাদেবীও খুবই দাপুটে মহিলা ছিলেন। তাঁর চিৎকারে মল্লিক বাড়ির সকলেই ভীত হয়ে থাকত। কিন্তু নিরুপমাদেবীর পরমায়ু কম থাকায়, সন্তান যখন মাত্র বছর দশেকের তখন গত হলেন। অরুণাংশু মল্লিকের হোটেলের ব্যবসা। নির্ভয়পুর থেকে মাইল তিনেক দূরে গোটা তিনেক গেস্ট-হাউস আর গোটা দশেক কটেজ রয়েছে। পর্যটনপ্রিয় বাঙালির দৌলতে সারাবছর গেস্ট হাউসের সব রুম আর কটেজগুলো ভর্তিই থাকে। মা লক্ষ্মীর কৃপায় কলকাতাতেও ব্যবসার রমরমা। কিন্তু যতদিন নিরুপমা সংসারে ছিলেন, ততদিন মল্লিকবাবু একটু নিশ্চিন্তে ছাদে ঘুরতেও পারেননি। দোষের লিস্ট হাতে নিরুপমা পিছন পিছন ঘুরে ঘুরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এত বড়ো অকর্মার ঢেঁকি বিশ্বে আর দুটি নেই। কথায় কথা বাড়বে বলেই মল্লিকবাবু চুপ করে থেকেছেন। আর তাতেই নিরুপমাদেবী প্রশ্রয়ে আটখানা হয়ে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। নিরুপমাদেবী যখন আচমকাই কিডনির রোগে আক্রান্ত হলেন, তখন নাকি মল্লিকবাবু নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে স্ত্রীর সেবা করেছিলেন। কিন্তু বাঁচাতে পারেননি। নিরুপমাদেবী চলে যাওয়ার পরে ছেলে সাহেবকে নিয়েই কাটছিল সময়। ব্যবসায় বেশি করে মনোযোগ দেন। চল্লিশের মল্লিকবাবুর বিয়ে দেবার জন্য অনেকেই উঠে-পড়ে লেগেছিল। তারপরেই হঠাৎই মল্লিকবাবু প্রায় সমবয়েসি এক মহিলাকে বিয়ে করে বসেন। মহিলার ঠিক কী পরিচয় কেউই জানে না। অতসী মল্লিক দেখতে ভারি সুন্দরী। তবে দ্বিতীয়পক্ষটিও বড়োই কড়া স্বভাবের। কথায় কথায় মল্লিকবাবুকে বিঁধিয়ে তবে ছাড়েন। বেচারা অরুণাংশু মল্লিক! সারাজীবন শুধু নিগৃহীতই হয়ে গেলেন। মানুষটা আবার খুবই আড্ডাবাজ, মিশুকে স্বভাবের। বাড়িতে অতিথি গেলে তাকে না খাইয়ে ছাড়েন না। সাহেব বরাবরই কলকাতার নামী স্কুলের হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেছে। সৎ মায়ের সঙ্গে সাহেবের সম্পর্কটা ভালো হলেও হতে পারত, কিন্তু দু’পক্ষেরই অনাগ্রহে সে সম্পর্ক শীতলই রয়ে গেছে। কিন্তু কোনও এক অজানা কারণে সাহেব বাড়িতে এলে অতসীদেবী পাল্টে যান। সৎ ছেলের যত্নের কোনও ত্রুটি করেন না। গলার আওয়াজও তখন খাদে বয়ে যায়। বাড়ির চারটে পরিচারিকাকে বলেন, “ছেলেটা ওখানে কী ছাইপাঁশ খায় কে জানে? যে ক’দিন আছে, সে ক’দিন যেন এ বাড়ির হেঁশেলে সাহেবের পছন্দের রান্নাই হয়।” মুখোমুখি কথা হলে সাহেব অতসীকে আন্টি বলে ডাকে। অতসীও কোনওদিন মা ডাকতে বলেনি সাহেবকে। অরুণাংশু আর অতসীর মেয়ের বয়েস এখন বছর পঁচিশ-ছাব্বিশ। সে মেডিকেল পড়ছে উত্তরবঙ্গ কলেজে। ইন্টার্নশিপ করছে। সাহেবের সঙ্গে নূপুরের খুব ভাব। নূপুর দাদা বলতে অজ্ঞান। ওদের দেখে কখনওই মনে হয় না, ওরা সৎ ভাই-বোন। সাহেব কলকাতার ব্যবসা দেখে। অরুণাংশুবাবুর ওপরে একটু যেন বিরক্ত। সেই বিরক্তির কারণ অতসী না অন্য কিছু সেটা আজও মল্লিকবাবুর কাছে পরিষ্কার নয়। কারণ অতসীর যাবতীয় রাগ মল্লিকবাবুর ওপরে। সাহেবকে আর নুপুরকে কোনওদিন আলাদা চোখে দেখেননি অতসী।

    দরজায় বেল বাজতেই সাহেবই দরজার খুলল। শৌনককে দেখেই উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল, “আমি গাড়ি পাঠাতেই যাচ্ছিলাম তারপর বুনি বলল, আপনি নাকি পেশেন্টের পাঠানো গাড়ি ইউজ করেন না।”

    শৌনক মৃদু হেসে বলল, “বাবা এখন কেমন আছেন? বুকে ব্যথাটা কখন থেকে হচ্ছে?”

    সাহেব বলল, “গতকাল রাতে প্রথম বলল বুকে ব্যথা। আন্টি তখনই আপনাকে খবর দিতে চাইছিল। তখন আবার বাবা বলল, এখন বেটার লাগছে। আর রাতে ডাক্তারকে বিরক্ত করতে হবে না। সকালে খবর দিলেই চলবে। কিন্তু ভোর পাঁচটায় আবার বলছে ব্যথা করছে। তখনই ফোনটা করলাম।”

    শৌনক সোজা মল্লিকবাবুর ঘরে গিয়ে বুকে টেথোস্কোপটা লাগিয়ে বার দুয়েক পরীক্ষা করেই বলল, “সাহেব, গাড়ি কে ড্রাইভ করবে? তুমি?”

    সাহেব একটু ঘাবড়ানো গলায় বলল, “কেন ডক্টর? এনি এমার্জেন্সি?”

    শৌনক বলল, “অ্যাডমিট করে বেশ কয়েকটা টেস্ট করাতে চাইছি।” মল্লিকবাবু কিছু একটা বলতে গেলেন। ওঁকে মাঝপথে থামিয়ে অতসীদেবী বেশ নির্দেশের সুরেই বললেন, “সাহেব গাড়ি বের কর। এ মানুষ চিরটাকাল মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না। পারে না বলেই যত সমস্যা।”

    শৌনক বলল, “সোজা এমার্জেন্সিতে নিয়ে যাও সাহেব। আমি লিখে দিচ্ছি।”

    অতসী বললেন, “ডাক্তারবাবু ওর কিন্তু এমনিতেই গ্যাসের ধাত। তাই সাধারণত বাড়ির খাবারেও আমি তেল কম দিয়ে রাঁধতে বলি। সেই কারণে অবশ্য আমি চক্ষুশূল।”

    সাহেব আর অতসী মল্লিকবাবুকে নিয়ে গাড়িতে উঠল।

    শৌনকের অভিজ্ঞতা বলছে, এটা গ্যাসের ব্যথা নয়। চোখ আর জিভ দেখে মনে হচ্ছিল, মাইল্ড অ্যাটাক হয়েছিল ঘুমের মধ্যেই। তাই কোনওরকম রিস্ক নিতে চায় না শৌনক।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালির যৌনচর্চা : বটতলা থেকে হলুদ বই – অর্ণব সাহা
    Next Article নির্বাচিত গল্প ১ – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }