Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ইতি নির্ভয়পুর – অর্পিতা সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প315 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ইতি নির্ভয়পুর – ১৩

    ১৩

    ডাক্তার শোভন বসু ড্রয়িং রুমে এসে বসেই একটু তিরিক্ষি মেজাজে বলল, “কল্পনা, এক কাপ কড়া করে কফি করে দে।”

    কল্পনা এ বাড়ির সব সময়ের পরিচারিকা। শোভনের গলার স্বর শুনেই নিবেদিতা আন্দাজ করল, কিছু একটা হয়েছে চেম্বারে। সাধারণত রোগীদের হ্যান্ডেল করার অসম্ভব ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছে শোভন। কিছুতেই তেমন বিরক্ত হয় না ও। শোভন বলে, “কার্ডিওলজিস্টদের বিরক্ত হলে চলবে? আমি বিরক্ত হলে আমার পেশেন্টের হৃদয় আরও বিচলিত হবে যে। তাই যা-ই প্রশ্ন করুক, মাথা ঠান্ডা রাখতেই হবে।”

    শোভনের চেম্বারে আসা রোগীদের প্রশ্নের বহর শুনলে নিবেদিতার মনে হয় ওরই বোধহয় হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে। দিন কয়েক আগে এল ভদ্রমহিলা এসে শোভনকে বলেছেন, “ডাক্তারবাবু, আমার বর্তমান বয়েস পঞ্চান্ন আর স্বামী সাতান্ন। আমরা দুজনেই মর্নিং ওয়াকে যাই, খুব কম তেলে রান্না খাই। তারপরেও ইদানীং আমার হার্টটা দুর্বল হয়ে পড়ছে।”

    শোভন নাকি ইসিজি করার আগেই জিজ্ঞাসা করেছে, “কখনও হাঁপ ধরছে সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে?”

    ভদ্রমহিলা বলেছেন, “না ডাক্তারবাবু, হাঁপ তো ধরে না। শুধু টাইগার শ্রফের হটনেস দেখলে আমার বুকের হৃৎপিণ্ডটা কেমন যেন লাফিয়ে ওঠে।”

    শোভন এদিকে টাইগার শ্রফ কে সেটাই চেনে না। অমিতাভ বচ্চনের পরে আর কোনও নায়ক জন্মেছে বলেই না মনে করা শোভন বলে বসেছিল, “রিসেন্ট ঘটেছে? কোথায় দেখেছিলেন? সুন্দরবন না থাইল্যান্ডে? সুন্দরবনেরগুলো একটু ভয়ের কারণ বই-কি, তবে থাইল্যান্ডে ওদের ইনজেক্ট করা থাকে, চমকানোর কিছু নেই।”

    ভদ্রমহিলা নাকি পাক্কা পঞ্চাশ সেকেন্ড চোখের পলক না ফেলে শোভনের দিকে তাকিয়েছিলেন। ঠিক যেন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডাইনোসোর দেখতে পেয়েছেন। তারপর চূড়ান্ত বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন, যে ডক্টর টাইগার শ্রফকে চেনে না তার কাছে নাকি চিকিৎসা করাবে না।

    শোভন বাড়ি ফিরে শানুকে জিজ্ঞাসা করেছিল, “হ্যাঁ রে, টাইগার নামের কোনও প্লেয়ারকে চিনিস? যার হটনেস দেখে পঞ্চান্নর মহিলার হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে?”

    শৌনক বেচারা তখন সদ্য কোল্ডড্রিঙ্কের বোতল খুলে মুখে ঢেলেছিল। সে ড্রিঙ্ক তো মুখ থেকে মেঝেতে ফেলে যাচ্ছেতাই কাণ্ড ঘটেছিল। তারপর হাসতে হাসতে বলেছিল, “বাবা, টাইগার শ্রফ কোনও প্লেয়ার নয়, ফিল্ম আর্টিস্ট। জ্যাকি শ্রফের ছেলে, নতুন উঠছে।”

    তখনও টাইগার শ্রফের ঝুলিতে বোধহয় দুটো মাত্র সিনেমা ছিল।

    শোভন ভ্যবাচ্যাকা খেয়ে বলেছিল, “জানিস, ভদ্রমহিলা আমায় রীতিমতো অপমান করে গেছে ওই টাইগার শ্রফের জন্য। বলে গেছে, যে ওকে চেনে না তার কাছে নাকি হার্টের চিকিৎসাই করা যায় না।”

    নিবেদিতা আর শৌনক সেদিন হাসতে হাসতে সোফাতেই শুয়ে পড়েছিল।

    শৌনক বলেছিল, “এই জন্যই তো বলি, শোলে আর সিলসিলা বত্রিশ বার করে না দেখে এখনকার কিছু মুভিও দেখো।”

    শোভন টাইগার শ্রফকে চিনে ভদ্রমহিলাকে ফোন করে বলেছিল, “সত্যিই ম্যাডাম ছেলেটার হটনেস দেখে আপনার হৃদয় যে বিচলিত হচ্ছে, এটা কোয়াইট ন্যাচারাল। আপনার সব রিপোর্ট পারফেক্ট আছে। তাই আপনি নিশ্চিন্তে টাইগার শ্রফের মুভি দেখুন। হার্টের ওই চমকানি এনজয় করুন।”

    ভদ্রমহিলা এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে নিজে হাতে পায়েস আর মাংস রান্না করে শোভনকে খাইয়ে গিয়েছিলেন।

    এমন ধরনের পেশেন্টকেও হ্যান্ডেল করেছে শোভন, তাই নিবেদিতা বেশ বুঝতে পারছে এসব নয়, অন্য কিছু ঘটেছে। যেটার কারণে ও স্থির হয়ে বসতেই পারছে না। নিবেদিতার আজ চেম্বার থাকে না। আগের থেকে প্র্যাকটিস অনেক কমিয়ে দিয়েছে। এখন সপ্তাহে দু’দিন মাত্র চেম্বার রেখেছে। কিন্তু শোভন রিটায়ার করব রিটায়ার করব বলে বলে এখনও সপ্তাহে চারদিন চেম্বার করে।

    ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জল বের করে নিবেদিতা শোভনের হাতে দিয়ে বলল, “এই গরমে হঠাৎ কড়া কফি কেন? কী হয়েছে?”

    শোভন টিভিটা রিমোট দিয়ে অন করে বলল, “কেন? এ বাড়িতে কি আমার ইচ্ছে মতো কিছু খাওয়াও যাবে না? সেটাও কি আজকাল সবার পারমিশন নিয়ে করতে হবে?”

    কথা বলতে বলতেই নিবেদিতার হাত থেকে জলের গ্লাসটা নিয়ে নিমেষে খেয়ে ফেলল। নিবেদিতার আন্দাজ যে নির্ভুল সেটা আরও বুঝল, শোভনের মেজাজ হারানো দেখে। কিন্তু এই মুহূর্তে জিজ্ঞাসা করলে ও আরও রেগে যাবে তাই নিবেদিতা ধৈর্য ধরেই বলল, “কল্পনা শুধু কফি আনবি না, সঙ্গে বিস্কিট আনবি।”

    শোভন যেন চাইছে নিবেদিতা কথা বলুক, তা হলে ও আক্রমণ করতে পারবে। আবারও তিরিক্ষি মেজাজে বলল, “কেন আমি বিস্কিট চেয়েছি? আমার মনমর্জির তো কোনও মূল্য নেই এ বাড়িতে। ওদিকে তোমার পুত্র তো যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াচ্ছে। এতটা অসম্মান করে কী করে ছেলেটা আমাকে, সেটাই তো বুঝতে পারি না আমি!”

    নিবেদিতা শান্ত গলায় বলল, “ফোন করেছিল শানু? কিছু বলেছে তোমায়?”

    শোভন বলল, “না না, ফোন সে কেন করবে? আমরা তো পাপী, মিথ্যাবাদী মানুষ। আমাদের ফোন করলে তো তার ইগো হার্ট হবে। আজ কলকাতা থেকে এক পেশেন্ট এসেছিল। সঙ্গে পেশেন্টের ছেলে আর স্ত্রী। অরুণাংশু মল্লিক। নির্ভয়পুরে থাকেন। ভদ্রলোকের রিসর্ট, হোটেলের বিজনেস। ওঁর হার্টের প্রবলেম ধরা পড়েছে। স্টেন্ট বসবে গোটা তিনেক। অরুণাংশু মল্লিকের ছেলে বলল, আসলে নির্ভয়পুরে ভালো কার্ডিওলজিস্ট নেই, সরকারি হাসপাতালের হাতুড়ে ডাক্তার এনজিওগ্রাফি করে বলেছে স্টেন্ট বসাতে হবে। আমরা রিস্ক নিইনি ওই হাতুড়ে ডাক্তারের কথায়। সোজা কলকাতার বেস্ট হার্ট স্পেশালিস্টের কাছে নিয়ে চলে এসেছি। আপনি যা বলবেন, যেভাবে বলবেন, সেটাই করব।”

    নিবেদিতা বলল, “তারপর? মানে, এতে তুমি এত রেগে যাচ্ছ কেন?”

    শোভন বলল, “বুঝতে পারছ না তাই তো? নির্ভয়পুর সরকারি হাসপাতালের ওই হাতুড়ে ডাক্তার হলেন তোমার গুণধর পুত্র। তার হাতের প্রেসক্রিপশন দেখলাম। দুর্দান্ত ডায়গনসিস করেছেও সে। কলকাতা মেডিকেল কলেজ ছেড়ে যে নির্ভয়পুরে যায়, তাকে লোকে হাতুড়েই বলে। তোমার ছেলে মনে করছে বিশাল সমাজসেবী হয়ে গেছে সে, জানেও না তার আড়ালে লোকজন তাকে নিয়ে কী ভাবে। আমার অমন ব্রিলিয়ান্ট রেজাল্ট করা ছেলেটাকে ওখানের ওই অর্ধশিক্ষিত লোকজন হাতুড়ে ডাক্তার বলছে নিবেদিতা, আর আমায় সেটা সহ্য করতে হচ্ছে। ভদ্রলোককে জাস্ট বাঁচিয়ে দিয়েছে শৌনক তৎক্ষণাৎ রাইট মেডিসিন দিয়ে। আর ছেলেটা বলে কি না হাতুড়ে ডাক্তার? কোনও কৃতজ্ঞতাবোধ নেই গো। ওরা জানে শৌনকের রেজাল্ট? জানে ওর মেডিকেল কলেজের চাকরি ছেড়ে নির্ভয়পুর যাওয়ার ইতিহাস? নিবেদিতা, আমার আজ ইচ্ছে করছিল এক থাপ্পড়ে ছেলেটার দাঁতগুলো ফেলে দিই। শৌনকের লেখা প্রেসক্রিপশন দেখলাম নিবেদিতা। দেখবে? আমি প্রিন্ট আউট বের করে নিয়েছি।”

    নিবেদিতার দু’চোখে জল। ঠোঁট কাঁপছে। ব্যাগ থেকে বের করে নিবেদিতার হাতে দিয়ে বলল, “দেখো হাতের লেখাটা পুরো তোমার মতো হয়েছে। মনে আছে আমি বলতাম, এমন সুন্দর কবিতা লেখা হাতের লেখার ডাক্তার জীবনে দেখিনি। শানুর হাতের লেখাও তোমার মতো স্পষ্ট, তাই না? টানটা একইরকম, তাই না? আগে এতটা খেয়াল করিনি কখনও। আজ যেন বেশি করে বোঝা যাচ্ছে।”

    নিবেদিতা শৌনকের লেখা প্রেসক্রিপশনে হাত বোলাতে বোলাতে বলল, “আর কিছু জানতে পারলে?”

    শোভন বলল, অরুণাংশু মল্লিক খুবই ভদ্রলোক। তিনি তো শৌনকের নামে ঢোক গিলছেন। ওঁর স্ত্রী ভদ্রমহিলাও বারবার স্বীকার করলেন, ডাক্তারবাবুর জন্যই এ যাত্রা বেঁচে গেছেন। নির্ভয়পুরের লোকজন নাকি এ ডাক্তারকে ভগবানের মতো বিশ্বাস করে। আমি বললাম, ‘যতদূর শুনেছি আপনাদের ওই হসপিটালে তো কোনও ডাক্তারই এক বা দুই বছর টেকে না। ইনি ক’বছর আছেন?’ তো অরুণাংশুবাবু বললেন, ‘তা প্রায় চার-পাঁচ বছর আছেন’।”

    নিবেদিতা বলল, “পাঁচ বছর সাতাশ দিন শানু ওখানে আছে।”

    শোভন একটু বিরতি নিয়ে বলল, “উনি বলছিলেন, ওঁর মেয়েও নাকি শৌনককে দেখে ইন্সপায়ার্ড হয়ে নির্ভয়পুর হসপিটালেই চাকরি নিয়েছে। বলেছে, শৌনক ওর আদর্শ। কিন্তু এ সবই বলছিলেন ওই ভদ্রলোক। আর ছেলেটা বলে যাচ্ছিল, ‘আসলে ডাক্তারবাবু আদার গাঁয়ে শেয়াল রাজা বুঝলেন কি না। কলকাতায় সুযোগ পায়নি, তাই জনসেবায় মন দিয়েছে আমাদের হাতুড়ে ডাক্তার। বাবা-মায়ের বয়েস হয়েছে তাই এত কিছু বোঝে না। আমি আমার বোনকে এইভাবে কেরিয়ার শেষ করতে দেব না।’ আমি বললাম, শহরে চান্স পায়নি এ কথা আপনার কেন মনে হল? এমনও তো হতে পারে শহরের জীবন ছেড়ে সে পাহাড়ি পরিবেশে থাকতে চাইছে, ওখানের অসহায় মানুষগুলোর পাশে থাকতে চাইছে।’ সে ছেলে বলল, ‘আমরা ব্যবসাদার ফ্যামিলি, মানুষ চরিয়ে খাই। তাই বেশ বুঝতে পারি কলকাতায় তল খুঁজে না পেয়ে, ল্যাং খেয়ে নির্ভয়পুরে গেছে। আপনার মতো ডাক্তার যাবে ওখানে? ক’টা টাকা মাইনে পায়? থাকে তো ওই সরকারি কোয়ার্টারে। যা-ই হোক মন্দের ভালো আছে একটা, অন্য ডাক্তারগুলো তো পাশ করা কি না সেটা নিয়েও সন্দেহ হয়। আপনি দেখুন ডাক্তারবাবু, আমার বাবাকে কী করতে হবে।’ আমি আর কথা না বাড়িয়ে শৌনকের প্রেসক্রাইব করা ওষুধগুলোই রিপিট লিখে দিলাম। আর বললাম, ‘স্টেন্ট বসবে, ভর্তি করুন।’ তাতে ছেলের আবার গোসা হল, বলে কি না ‘আপনি ওই মেডিসিনগুলোই রিপিট কেন করছেন ডাক্তারবাবু? পালটে দেবেন না?’ আমি বললাম, ‘ডাক্তার আমি না আপনি? কখনও নির্ভয়পুর গেলে আপনার রিসর্ট ভাড়া করব, তখন না হয় গাইড করবেন। আপাতত আমায় কাজ করতে দিন।’ সেই তখন থেকেই আমার শরীরটা খারাপ লাগছে নিবেদিতা। ছেলেটা কাদের জন্য ওখানে পড়ে আছে? যারা একটু অবস্থাপন্ন তারা শিলিগুড়ি না হয় জলপাইগুড়ি ছুটছে। যারা বেশ ধনী তারা কলকাতা অথবা চেন্নাই আসছে। ও কি শুধু আদিবাসী মানুষগুলোর জ্বর-জ্বালা কমানোর জন্য ওখানে বসে আছে? এফআরসিএস করার কথা চলছিল শৌনকের, সে এখন নির্ভয়পুরের হাতুড়ে ডাক্তার পরিচয়ে বসে আছে। এটা মানা কোনও বাবার পক্ষে সম্ভব?

    নিবেদিতা বলল, “শান্ত হও। ওকেই বুঝতে হবে। যাদের ও উপকার করছে একদিন এরাই ওর সবচেয়ে বড়ো শত্রু হবে দেখো। কারণ কী জানো? ওখানের মানুষ অত্যন্ত সরল, বোকা। তারা চলে এই শিল্পপতিদের বুদ্ধিতে। এরা যেভাবে পরিচালনা করে, ওখানের ওই সহজ-সরল মানুষগুলো সেদিকেই চলে। শৌনক যেদিন বুঝবে এভাবে ক্রিম টাইমে নিজের কেরিয়ারের সর্বনাশ করছে, তখন অবশ্য কিছুই করার থাকবে না ওর। কিন্তু বুঝবে তো বটেই। আমরাও মেডিকেল ক্যাম্পে গিয়েছিলাম নির্ভয়পুর। সুন্দর, ছিমছাম, পাহাড়ি পরিবেশে থাকতে মন্দ লাগছিল না। তারপরেই ওখানের নোংরা রাজনীতিটা চোখে পড়েছিল। শিউরে উঠেছিলাম আমরা। কিন্তু এই ব্যবসাদারদের দাপটে কেউ মুখ খোলেনি সেদিন। রাতের অন্ধকারে পালিয়ে আসতে হয়েছিল শোভন। তখন আমরাও জুনিয়র ছিলাম। মনে জেদ ছিল, বুকে সাহস ছিল। জগৎ পালটে দেবার স্বপ্ন দেখতাম।”

    শোভন বলল, “এমন সব জায়গায় মেডিকেল ক্যাম্প করতে গিয়ে দেখেছি, ইঞ্জেকশনের কারণে রাতে হাতে যন্ত্রণা হচ্ছে বলে লাঠি, বাঁশ নিয়ে ডাক্তার পেটাতে এসেছে রোগীর বাড়ির লোকজন। তাদের বোঝাতে পারিনি, ওষুধের অ্যাকশনে হচ্ছে, সকালে ঠিক হয়ে যাবে। আসলে কী জানো, অশিক্ষা আমাদের দেশে সবচেয়ে বড়ো অভিশাপ। ওদের দোষ তো নেই। ওরা তো জানেই না কিছু। ভিটামিন ওষুধ খাওয়াতে গিয়ে নাজেহাল হয়েছিলাম এই নির্ভয়পুরেই। তুমি ঠিকই বলছ নিবেদিতা, ও যখন বুঝবে তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে। বুকের ভিতরটা হাহাকার করে ওঠে। কী হতে পারত আর কী হয়ে গেল নিবেদিতা! সাহেব বলে ছেলেটির কথা শুনে মনে হল, শৌনককে একেবারেই পছন্দ করে না। এভাবে ওখানে শত্রু তৈরি হলে বিপদে পড়তে দেরি হবে না শানুর। কারণ নির্ভয়পুর চলে এদের টাকায়। ওই অসহায় গরিব মানুষগুলো, যাদের পেটের ভাত নেই, তারা কীভাবে রক্ষা করবে শৌনককে?”

    নিবেদিতা বলল, “ওরা আবার কবে আসবে গো? আমি সেদিন যাব তোমার চেম্বারে?”

    শোভন ঘাড় নেড়ে বলল, “উঁহু, বেশি ইন্টারেস্ট দেখালে সন্দেহ করবে। আর তাছাড়া ভুলে গেলে সেদিন ঋতব্রত আর শর্মিলা ফোন করে কী বলল?”

    নিবেদিতা বলল, “ভুলব কেন গো? শর্মিলাকে তো পরিষ্কার বলেছে শানু শোভন বসু আর নিবেদিতা বসু নামে কাউকে ও চেনেই না। ঋতমের নাম করায় শানু নাকি অস্বীকার করেছে ওদের বন্ধুত্বের কথাও। শর্মিলা তো মারাত্মক কনফিউজ হয়ে কল করে বলল, ‘শৌনক কি এখন নির্ভয়পুর বলে কোনও জায়গায় আছে?’ আমি বললাম, ‘কেন বলো তো?’ শর্মিলা বলল, শৌনক নাকি কাউকেই চিনতে পারেনি। আমি অপমানটা হজম করে নিয়ে বললাম, ‘তুমি হয়তো ভুল দেখেছ। ও উত্তরবঙ্গে আছে ঠিকই, কিন্তু নির্ভয়পুরে নয়।’ তবুও ওর গলা থেকে সন্দেহ গেল না। না যাওয়ারই কথা।”

    শোভন আলতো করে নিবেদিতার হাতটা ধরে বলল, “তোমার নজরেও কি আমিই অপরাধী নিবেদিতা? শানুকে কি সত্যিগুলো বলা অনুচিত হল?”

    নিবেদিতা কথা না বলে হাতটা সরিয়ে নিয়ে বলল, “এখন এসব ভেবে লাভ কী শোভন? প্রতিজ্ঞাটা আমরা দুজনে মিলে করেছিলাম সেদিন। তাই একজন কারও ভাঙার অধিকার ছিল না। তুমি ভেঙে ফেললে, আমাকে না জানিয়েই। ভেবে দেখো, সেটা যদি অপরাধ বলে গণ্য হয় তোমার নিজস্ব আদালতে, তা হলে তুমি অপরাধী। আর যদি মনে করে থাকো, সে প্রতিজ্ঞা ভাঙার অধিকার তোমার ছিল, তা হলে তুমি নিরপরাধ। প্লিজ শোভন, আমি গত পাঁচ বছরে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। আর এই একই প্রশ্ন কোরো না। চিরকাল তুমি নিজের মনের কথা শুনে চলা মানুষ, এখন এসব পুনরাবৃত্তি করে লাভ কী আছে! শানুর চোখে তো আমি মিথ্যাবাদী, চূড়ান্ত ফ্রড হয়েই গেছি। তাই থাক এসব কথা। চেম্বার থেকে ফিরেছ, ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নাও কিছু।”

    শোভন ভাঙা গলায় বলল, “জানি জানি, বুঝি সবই। আমি যে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জীবন কাটাচ্ছি সেটা আমি নিজেও ফিল করি, তুমি মুখে না বললেও চলবে নিবেদিতা। এই কারণেই তো ইদানীং বেঁচে থাকাটা অর্থহীন লাগে। যাবে নির্ভয়পুর একবার?”

    নিবেদিতা ব্যঙ্গাত্মক ঢঙেই বলল, “না, তোমায় ছোটো করতে তোমার স্ত্রী হিসেবে ওখানে যাব না। শানু বাড়ি ছেড়ে যাবার পরেই আমি তোমাকে বলেছিলাম নির্ভয়পুর যেতে। সেদিন তুমি ঠিক এই বাক্যটাই বলেছিলে, তাই না? বলেছিলে ঘুম না হলে সিডেটিভ নাও, কিন্তু ওই ছেলের কাছে যাওয়া চলবে না। মনে আছে? নাকি স্মৃতিও প্রতারণা করছে তোমায়?”

    শোভন আর কথা না বাড়িয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। কিছু অপরাধী বোধহয় আইনের চোখে ছাড়া পেয়ে গেলেও সারাজীবন শাস্তি পায় আপনজনদের ভর্ৎসনার দৃষ্টিতে বিদ্ধ হয়ে।

    শোভন ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। নিবেদিতা নিজের ল্যাপটপ খুলে বসল। শানুর ছোটোবেলা থেকে বড়ো হওয়ার সব ছবি আপলোড করা আছে একটা ফোল্ডারে। সেদিকেই স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবছিল নিবেদিতা, শৌনক যে কোনওদিন আলাদা হবে ওর কাছ থেকে, এ যেন কল্পনার বাইরে ছিল। পাঁচবছর ও আর স্পর্শ পায় না ছেলেটার, মা ডাকটাও শুনতে পায় না। ভিতরে ভিতরে গুমরে ওঠে। শোভন চিরটাকাল নিজের জেদ নিয়ে রয়ে গেল। শৌনক যখন ওদের ভুল বুঝে বাড়ি ছেড়ে চলে গেল, তখনই নিবেদিতা ছোটো ট্রলিতে নিজের আর শোভনের দু’সেট করে জামাকাপড় গুছিয়ে রেডি হয়ে বলেছিল, “ফ্লাইটের টিকিট বুক করে দিয়েছি শোভন, চলো নির্ভয়পুরে গিয়ে ছেলেকে নিয়ে আসি। এই বয়সের ছেলে মাথা গরম করে দু’-চারটে কথা না হয় বলেই ফেলেছে, আমরা বাবা-মা হয়ে অভিমান করলে চলবে কেন? ওর বয়েস আর আমাদের?”

    শোভন জেদ ধরে বলেছিল, “কিছুতেই না। ও আমাদের যেভাবে অপমান করেছে তারপর আমি কোনওভাবেই ওর সামনে নত হব না। আর তোমাকেও হতে দেব না।”

    নিবেদিতা সেদিন অনেকভাবে বুঝিয়েছিল, কোনওভাবেই টলানো যায়নি শোভনকে। শোক-দুঃখ-রাগের প্রকোপ একবার যদি কমে যায়, মানুষ যদি সামলে নেয় প্রাথমিক কষ্টের ধাক্কাটা, তা হলে সে ভীষণ কঠিন হয়ে যায়। সেই বরফ শীতল কাঠিন্য ভাঙা সহজ হয় না। এটাই ঘটেছিল শৌনকের সঙ্গে ওদের। শৌনককে ফিরিয়ে আনতে যায়নি ওরা, ভয়ঙ্কর অভিমান করে বসেছিল শৌনকও। তারপর ধীরে ধীরে নিজের ক্ষততে নিজেই প্ৰলেপ লাগিয়ে কঠিন হয়েছিল শৌনক। নিবেদিতার ফোনে বলেছিল, “মনে করো কোনও ভয়ংকর অ্যাক্সিডেন্টে ছেলেকে হারিয়েছ তুমি। তা হলেই দেখো বিষয়টা সহজ হয়ে যাবে। আর-একটা কথা, যোগাযোগ করার চেষ্টা কোরো না, তা হলে চিরতরে হারিয়ে যাব।”

    শৌনকের গলা শুনে সেদিন চমকে উঠেছিল নিবেদিতা। কথায় কথায় মা মা বলে জড়িয়ে ধরে আবদার করা সেই ছেলেটার সঙ্গে কিছুতেই মেলাতে পারছিল না ফোনের অন্য প্রান্তের ছেলেটাকে। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। শান্ত গলায় শুধু বলেছিল, “মাকে মনে পড়বে না তোর?”

    শৌনক কঠিন গলায় বলেছিল, “যাতে মনে না পড়ে সে চেষ্টা করব। আর তুমি তো জানো জেতাটা আমার চিরকালের অভ্যাস।”

    ফোনটা কেটে দিয়েছিল শৌনক।

    অভিমান নিবেদিতাও করেছিল। হাজার কষ্ট হলেও যোগাযোগ করেনি শৌনকের সঙ্গে। ভেবেছিল, মা ফোন করছে না দেখে নিশ্চয়ই নিজে খবর নিতে ফোন করবে। কিন্তু সে ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল শৌনক। একটাও ফোন আসেনি ওদিক থেকে। নিবেদিতার প্রতীক্ষারাও ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছে। তারপর শুধু জন্মদিনের দিনে ফোন করে। শৌনকের রিসিভ করতে ইচ্ছে হলে ধরে, না হলে নয়।

    নিবেদিতা খেয়াল করেনি কখন শোভন এসে পাশে দাঁড়িয়েছে। আলতো করে বলল, “চোখের জলটা মোছো। এতটা কষ্ট পেয়ো না, আবার প্রেশার ফ্লাকচুয়েট করবে।”

    নিবেদিতা বলল, “না দুঃখ আর কী, বরং আজ তো তাও ছেলেটার খবর পেলাম। ভালো আছে, মানুষের চিকিৎসা করছে। ওখানের মানুষজন নিশ্চয়ই ওকে ভালোবাসে, তাই রয়ে গেল। ভালোবাসা, আদর ছাড়া যে আমার শানু থাকতেই পারত না।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালির যৌনচর্চা : বটতলা থেকে হলুদ বই – অর্ণব সাহা
    Next Article নির্বাচিত গল্প ১ – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }