Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ইতি নির্ভয়পুর – অর্পিতা সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প315 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ইতি নির্ভয়পুর – ৩

    ৩

    “আরে শুনলাম তো মল্লিকের নাকি রাত থেকে বুকে ব্যথা উঠেছিল। আমাদের ডাক্তারই নাকি ভর্তি করার কথা বলেছিল। স্টেন্ট বসাতে হবে শুনলাম তো।”

    নির্ভয়পুরের সীমানা শেষ হয়ে যেখানে রঙ্গিত নদীর বাঁধ শুরু হয়েছে সেই মনোরম জায়গায় বাঙালি উচ্চবিত্তরা নিজেদের মনোরঞ্জনের জন্য একটা ক্লাব বানিয়েছে। ক্যারম থেকে ব্যাডমিন্টন, কী নেই সেখানে? একমাত্র ক্লাব মেম্বারদের পরিবারের লোকজনেরাই এন্ট্রি পায় এখানে। অবশ্য ‘গ্রিনভ্যালি’ ক্লাবের কর্মী হিসেবে জনা পনেরো আদিবাসী কাজ পেয়েছে এখানে। সে ক্ষেত্রে দেখতে গেলে কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েকজনের। নির্ভয়পুরের মতো অনুন্নত জায়গায় এসব বাঙালিরা এসে বসবাস করছে, ব্যবসা করছে বলেই এখানের মানুষজন কাজকর্ম পাচ্ছে। যদিও নির্ভয়পুরের ভূমিপুত্ররা মোটেই ভালো চোখে দেখে না এদের। এরা মনে করে, ওদের মাটি দখল করে আছে এরা। তাই মনে মনে বিদ্বেষ একটা রয়েই গেছে। চা-বাগানের কর্মীরা বারবার বিক্ষোভ দেখিয়েওছে। কিন্তু অভাবের সংসারের পেট ভরা খিদের কাছে প্রতিবাদী সত্তা বারবার হেরে গেছে। আজও ক্লাবের বারে ড্রিঙ্ক বানাতে বানাতে শুনছিল কুন্তলীবাবুদের আলোচনা। মদ খেয়ে মাতাল হয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথাই এরা বলে ফেলে বেখেয়ালে। কুন্তলী সব মনে গেঁথে রাখে। সবটুকু গিয়ে বলতে হবে সুজয়কে। কুম্ভলী জানে না সুজয় ওকে ভালোবাসে কি না, ওকে বিয়ে করবে কি না, শুধু জানে ও ভালোবাসে সুজয়কে। সুজয় যখন শ্রমিকদের হয়ে লড়াই করে, মাইক নিয়ে বক্তৃতা দেয় তখন কুন্তলীর ইচ্ছে করে ছুটে গিয়ে সুজয়ের বুকে মাথা রাখতে। সুজয় ঠিক কী চায় এটা বুঝতে পারে না কুন্তলী, তবে এটুকু বোঝে, সুজয় নির্ভয়পুরের মানুষকে ভালোবাসে, ডাক্তারবাবুর মতোই।

    সুজয় হাঁসদার সঙ্গে কুন্তলীর পরিচয় হয়েছিল একটু নাটকীয়ভাবেই। নির্ভয়পুর ছোটো জনপদ। এমন কিছু বড়ো শহর নয় যে এ প্রান্তের লোক ও প্রান্তের লোককে চিনবে না। নির্ভয়পুরের পাড়াগুলোও বড়োই ছোট ছোট। তারই মধ্যে পাশের গ্রাম রংবুল নির্ভয়পুর পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়লেও নিজেকে বেশ আধুনিক করে নিয়েছে। কিন্তু নির্ভয়পুরের আদি মানুষগুলো কিছুতেই নিজেদের আধুনিক সাজে সাজাতে চায় না। তাই কুম্ভলীর কাছেও অপরিচিত ছিল না সুজয়। নির্ভয়পুরের লোকজন একটা দরখাস্ত লিখতে গেলেও ছোটে সুজয়ের কাছে। সুজয়ের বাবা জবুথবু, আর মা-টা কেন যে অমন উদাস হয়ে বসে থাকে কেউ জানে না। অল্পবয়সে সুজয়ের মা হাসিনী যে দেখতে অপরূপা ছিল সেটা এখনও বেশ বোঝা যায়। টানা চোখ দুটোতে যেন রঙ্গিত নদীর উদাসীনতা। সুজয়ের বাবাটা কথা নেই বার্তা নেই, “নষ্টা মেয়েমানুষ’ বলে প্রায়ই মারত মা-টাকে। একদিন কলেজ থেকে ফিরে সুজয় নিজের বাপকে ধরে এত মেরেছিল যে, বাপটা অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল বেশ কিছুক্ষণ। খুব শক্ত জান, তাই সেবারে বেঁচে গিয়েছিল। তারপর থেকে আর কোনওদিনই ওর মায়ের গায়ে হাত তোলার বা জোরে কথা বলারও সাহস পায়নি সুজয়ের বাপ। সুজয় নিজে লেখাপড়া করে অনুপমা টি-এস্টেস্টে চাকরি নিয়েছিল। ওই চা কারখানা থেকেই সেদিনও সন্ধে করে ফিরছিল সুজয়। পথে কুত্তলীদের ঘরের সামনের উঠানে মেয়েটা দাঁড়িয়ে ছিল ভূতের মতো। আলো-আঁধারিতে ভালো চিনতে পারেনি সুজয়।

    তবুও জোরেই বলেছিল, “কে রে ওখানে? কী মতলব?”

    কুত্তলী ভয়ে ভয়ে বলেছিল, “আমার মাকে একবার ওঝার বাড়ি নিয়ে যেতে হবে। ভূতে পেয়েছে।”

    সুজয় বলেছিল, “কোথায় তোমার মা?” মাকে দেখেই বলেছিল, “একে নিয়ে ডাক্তারখানায় যেতে হবে।”

    সুজয় একটা ঠেলা ভ্যানে চাপিয়ে সোজা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিল। কুন্তলীও ছুটেছিল পিছন পিছন। তখন এই নতুন ডাক্তারের সঙ্গেও দেখা হয়েছিল ওর।

    কুণ্ডলীকে ধমকে থামিয়ে সুজয় বলেছিল, “চুপ করে ভ্যানে বসো। তোমার মায়ের প্রবল জ্বর এসেছে। তাই ভুল বকছে। ভূতে ধরেনি। চিকিৎসা দরকার।”

    এ ঘটনা প্রায় বছর চারেক আগের। ডাক্তারবাবুর দশটা ট্যাবলেটেই কুন্ডলীর মায়ের জ্বর কমেছিল।

    তারপর কুণ্ডলী একদিন গাছের বেগুন নিয়ে সুজয়ের হাতে দিয়ে বলেছিল, “এই নাও তোমার জন্য।”

    সুজয় ওর দিকে চোখ সরু করে তাকিয়ে বলেছিল, “তোমার তো বাবা নেই। মা চা খেতে কাজ করে। লজ্জা করে না বাড়িতে বসে মায়ের ইনকামে খেতে?”

    অপ্রস্তুত কুন্তলী কী বলবে বুঝতে না পেরে বলেছিল, “কী কাজ করব আমি? আমার যে বুকের ব্যামো আছে।”

    বেশি পরিশ্রমের কাজে কুন্তলীর হাঁপ ধরে।

    সুজয় একটু ভেবে বলেছিল, “বিদেশি মদে বরফ দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারবে?” কুন্তলী অপলক তাকিয়ে খানিকটা অবাক হয়েই বলেছিল, “কাকে দেব মদ?”

    সুজয় বিরক্ত মুখে বলেছিল, “ভদ্দরলোকদের। যারা আমাদেরই বাবা-দাদুর জমি দখল করে নির্ভয়পুরের রাজা সাজে তাদের। পারবে?”

    ঠিক তখনই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে সূর্যদেব অস্ত গিয়েছিল। বাড়িমুখো সূর্যদেবের যেন বড্ড তাড়া। বাড়িতে বোধহয় কেউ আছে অপেক্ষা করে। কুত্তলী ওই সিঁদুর রঙের আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবে, একদিন ঠিক অমন রঙের বেনারসি পরে ওর বিয়ে হবে। ওকে চুপ করে থাকতে দেখেই * কনো পাতায় আওয়াজ তুলে সুজয়ে সাইকেলের প্যাডেলে পা দিয়েছিল

    কুন্তলী অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা না করেই ডেকেছিল, “সুজয়।”

    সাইকেল থেকে মাটিতে পা রেখে সুজয় বলেছিল, “হ্যাঁ বলো।”

    কুন্তলী নির্দ্বিধায় বলেছিল, “তুমি যা করতে বলবে, করতে পারব।”

    সুজয় হেসে বলেছিল, “বেশ, কাল একটু সেজেগুজে থেকো। নিয়ে যাব কারখানা ফেরত এক জায়গায়।”

    কুম্ভলীকে দেখতে মন্দ নয় বলে আর পাঁচটা লোক। মাকে এসে বলে মেয়ে তো দেখতে ভালোই, বিয়ে দিয়ে দাও। না অসহায় গলায় বলে, “বাপ মরা মেয়ে, আমি বাগানের কুলি। কে বিয়ে করবে ও মেয়েকে?” কুন্তলী আয়নার সামনে দাঁড়িয়েও দেখেছে, দেখতে তাকে মন্দ নয়। আয়না কেন মিথ্যে বলবে? আয়না কি ওর শত্রু না কি? তবে আয়নায় লেগে থাকা ওই অবাধ্য দাগগুলো ওর শত্রু তো বটেই। মুখটাও ঠিক করে দেখতে পায় না কুন্তলী। মায়ের কাছে অনেক বায়না করেছিল একটা বড়ো আয়না কিনে দিতে, মা দেয়নি। বলেছে, “পেটে জোটে না, আবার মুখ দেখবে!” বাজারের শেষপ্রান্তে কিষানকাকার দোকানে কত বড়ো বড়ো আয়না সাজানো আছে। শুধু মুখ নয়, গোটা কুন্তলী ধরা পড়বে সেই আয়নায়। কুন্তলী বাজার থেকে জিনিস কিনে আসার সময় ইচ্ছে করেই কিষানকাকার দোকানের সামনে থেকে ঘুরে আসে। একবার ওই আয়নায় নিজেকে পরিষ্কার দেখে আসে। নিজের গোটা শরীরটা আয়নায় দেখে ওড়নাটা ভালো করে জড়িয়ে নেয় কুন্তলী নরম লজ্জায়। একটু যেন শিরশির করে ওঠে স্তনবৃত্ত দুটো। কুড়ি বছরের কুন্তলীকে মা কোথাও যেতে দেয় না। শুধু বলে, “সোমত্ত মেয়ে, কার না কার নজর পড়বে, তারপর সর্বনাশ হয়ে যাবে।” সুজয় ওকে আগামিকাল সেজেগুজে থাকতে বলার পর থেকেই আয়নার ওই ছোপ ছোপ দাগগুলো দেখে বেশি রাগ হচ্ছে। যদি কোনও কাজ পায়, তা হলে তার মাইনে দিয়ে প্রথমেই ও একটা বড়ো আয়না কিনবে। তখন তো আর মা ওকে বকতে পারবে না। কিন্তু এই যে মাকে না বলেই ও সুজয়ের কথাতে রাজি হয়ে গেল, মা শুনলে কি আদৌ যেতে দেবে? মনের মধ্যে একটা অজানা আতঙ্ক এতক্ষণে কাজ করছে কুত্তলীর। মদের মধ্যে বরফ দিয়ে গ্লাসে ঢেলে কাদের দিতে হবে ওকে? সেই মাতালরা যদি ওর ইজ্জত নিয়ে টানাটানি করে, তখন?

    এ প্রস্তাবে মা কিছুতেই রাজি হবে না। তবে মাকে ওই দিন ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ করার পর থেকেই মা সুজয়কে একটু অন্য চোখে দেখে। বলে, “অমন মাতাল বাপের এমন শিক্ষিত ছেলে যে কী করে হয়!” সুজয় বলেছে বললে যদি একমাত্র রাজি হয়। কুত্তলী সেদিন ঘর-বার করছিল। মা ফিরলেই বলতে হবে বিষয়টা। মা ঢুকেই স্নান করে প্রতিদিন। কাজ থেকে ফিরে মা ঘরে ঢোকার আগেই বলে, “কুত্তলী জামা-কাপড় দে।” আজ মা ঢুকে দুয়ারে বসে পড়ল। কুন্তলী ঘর থেকে মায়ের পোশাক হাতে দাঁড়িয়ে বলল, “বসলে যে, শরীর ঠিক আছে?” মা কুন্তলীর দিকে তাকিয়ে বলল, “হ্যাঁ রে, তুই সুজয়কে বলেছিস তুই চাকরি করতে চাস? তুই তো বাড়ির কাজটুকুই কষ্ট করে করিস। হাঁপ ধরে বুকে। তারপর চাকরি কীভাবে করবি? তারা কি তোকে বসিয়ে বসিয়ে মাইনে দেবে? সুজয় গিয়েছিল আমার কাছে। বলল, অল্প খাটুনির কাজই নাকি ঠিক করেছে তোর জন্য। মাইনে তো বেশ ভালো শুনলাম।” কুন্তলী বুঝল, সুজয়ের দায়িত্বজ্ঞান অনেক। শুধু কুন্তলীকে রাজি করিয়েই সে ক্ষান্ত হয়নি। মায়ের পারমিশন অবধি নিয়ে নিয়েছে। মা চানঘরে যেতে যেতে বলল, “তবে ছেলেটার ওপরে আমার বিশ্বাস আছে। সে খারাপ কিছু করবে না।” মায়ের মুখে সুজয়ের প্রশংসা শুনে সেদিন খুব নাচতে ইচ্ছে করেছিল কুন্তলীর। কেন সেটা ও নিজেও জানে না। কুন্তলী যখন বছর আটেকের, তখন ওর ড্রাইভার বাবা মাঝরাতে প্যাসেঞ্জার নামিয়ে বাড়ি আসত। কুত্তলীর মাথার কাছে এক মুঠো লজেন্স রেখে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিত। বাবার ছোঁয়ায় ঘুমটা পাতলা হয়ে যেত কুন্তলীর। চোখ পিটপিট করে বাবার হাতটা একবার ছুঁয়ে আবার পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ত কুন্তলী। সকালে উঠে মাথার কাছে লজেন্সের প্যাকেট দেখে বুকের মধ্যে এক অজানা আনন্দ হত। সে আনন্দ কাউকে কোনওদিন বোঝাতে পারেনি ও। যেহেতু নির্ভয়পুর পুরো সমতল এলাকা নয়। ছোটো-বড়ো পাহাড় আছে এখানে, তাই মেঘ-বৃষ্টির খেলা চলতেই থাকে। কাজে বেরোনোর সময় আচমকা বৃষ্টি এলে সকলে বিরক্ত হয়, কিন্তু কুন্তলী মনে মনে বড়ো খুশি হয়। সে খুশির কথাও কোনওদিন কাউকে বলতে পারেনি ও। আজও এমনিই এক অজানা আনন্দে মনটা ভরে গেল। এ আনন্দের কথাও কাউকে বলতে পারবে না কুন্তলী। পরদিন বিকেলে একটা চা-পাতা রঙের চুড়িদার পরে, কপালে ছোট্ট কালো টিপ পরে, চোখের কোণে কাজল লাগিয়ে অস্থির হয়ে বারবার আয়না দেখছিল ও। কান খাড়া করে রেখেছিল বাইরে সাইকেলের বেলের আওয়াজ শোনার জন্য। ক্রিং ক্রিং বেল বাজিয়ে সুজয় এসে দাঁড়িয়েছিল ওদের দরজার সামনে। ছুটে বেরিয়ে এসেছিল কুন্তলী।

    ওকে একবার আপাদমস্তক দেখে সুজয় বলেছিল, “এমন সেজেগুজে থাকতে পারো না? অমন পাগলি সেজে বসে থাকো কেন বাড়িতে?”

    কুন্তলী লজ্জা পেয়ে বলেছিল, “অত ভালো ভালো পোশাক পাব কোথায়? আছেই তো হাতে গুনে দুটো-তিনটে।”

    সুজয় বলেছিল, “এবারে কিনবে, ভালো পোশাক তো পরতেই হবে। বড়োলোকদের ক্লাবে কাজ করবে, যেমন তেমন গেলে বাবুদের মানে লাগবে যে!”

    কুম্ভলী জানে না, বাবুদের ওপরে সুজয়ের কেন এত রাগ। বড়োলোক, ভদ্দরলোক কথাগুলো উচ্চারণের সময় ওর চোয়াল শক্ত হতে দেখেছিল কুন্তলী। এদের চা জমিতে কাজ করেই ওদের মা-মেয়ের পেট ভরে। তাই এঁদের ওপরে ওর কোনও রাগ নেই।

    কিন্তু সুজয়কে মোড়ের মাথায় মাইক নিয়ে বলতে শুনেছে, আমাদেরই জমিতে দাঁড়িয়ে আমাদের শোষণ করলে সব জ্বালিয়ে দেব। সুজয়ের এইসব শক্ত শক্ত কথার মানে বোঝে না কুম্ভলী। শুধু জানে, সুজয় এই নির্ভয়পুরের সবাইকে তার হক পাইয়ে দিতে চায়।

    সুজয় ধমকে বলেছিল, “হাঁ করে কী ভাবছ? তাড়াতাড়ি ওঠো সাইকেলে।” কুন্তলী সাইকেলের কেরিয়ারে না বসে রডে উঠে বসেছিল। হ্যান্ডেলে ওর হাতের পাশেই ছিল সুজয়ের বলিষ্ঠ হাতদুটো। সুজয় অনেক কথা বোঝাতে বোঝাতে যাচ্ছিল। কুণ্ডলী অর্ধেক শুনছিল, অর্ধেক নয়। কারণ সুজয়ের গায়ের ঘেমো পুরুষালি গন্ধটা তখন ওকে অবশ করে রেখেছিল। লোকে বলে, সোমত্ত মেয়েদের শরীরে নাকি চুম্বকের মতো টান থাকে। কিন্তু কুত্তলীর তো মনে হচ্ছে জোয়ান মরদের গায়ের গন্ধেও মাতাল করার শক্তি থাকে।

    সুজয় ধমকে বলেছিল, “এই কুন্তলী, তোমাকে কি আমি ওখানে পদ্য লেখার জন্য নিয়ে যাচ্ছি? এত কী ভাবছ? শুনছ না আমার কথা? ওখানে মল্লিকবাবু থাকবে, সমাদ্দারবাবু থাকবে আর থাকবে ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা করা ঘোষালবাবু। এরা তিনজন তোমার দেখে তবে চাকরি দেবে। ঘোষালবাবুর ট্রান্সপোর্টের গাড়িই চালাত তোমার বাবা। যেহেতু তোমার বাবা অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে কাজ করতে করতে, তাই তোমার একটা চাকরির ব্যবস্থা করা কর্তব্য ছিল ঘোষালেরই। কিন্তু তোমার মাকে অল্প কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে দায় সেরেছে। আমি সব খোঁজ নিয়ে তবে নেমেছি। যখন বলবে ‘কাজটা পারবে তো?” বলবে, “বাবাও তো আপনাদের কাজ করতে করতেই জীবন দিল, আমি কেন পারব না? বেইমানি রক্তে নেই, তাই ওসব থানা-পুলিশ করতে যাইনি, যাবও না। কাজটা হলে মায়ের পাশে দাঁড়াতে পারব।’ বুঝলে?”

    সংবিৎ ফিরে পেয়ে কুন্তলী দম দেওয়া পুতুলের মতো ঘাড় নেড়ে বলেছিল, “হ্যাঁ বুঝেছি।”

    নির্ভয়পুরে যে এমন একটা ঝকঝকে রাজপ্রাসাদের মতো ক্লাব আছে, ধারণাও ছিল না কুত্তলীর। গেট দিয়ে ঢুকেই বিশাল একটা গোলাপের বাগান। বাগানের পাশে ফোয়ারা। আর-একপাশে সাঁতারের জায়গা। সুজয় বলেছিল, “ওটা হল সুইমিংপুল। ওদিকে ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট খেলার জায়গা আছে। ওই যে মাথায় ছাতাওয়ালা টেবিলগুলো দেখছ, ওখানে বসেই লনপার্টি হয়। খানা-পিনা চলে বাবুদের।” কুন্তলীর চোখে অপার বিস্ময়। এদিক দিয়ে যাতায়াত করেনি এমন নয়। কিন্তু গেটের বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভিতরে এমন রাজকীয় ব্যাপার। কুন্তলী ভাবছিল, মানুষের কত টাকা থাকতে তবে এমন বাড়ি বানাতে পারে। ওদের একটা পাকা বাথরুম করার সামর্থ্য নেই।

    সুজয় বলল, “এ কার জমি জানো? আমাদের পাড়ার ফুলমণির বাবার। মদ গিলে ফুলমণির বাবা নিজের সব জমি লিখে দিয়েছিল ঘোষালকে। যে ফুলমণি ডাক্তারের ঘরে রান্না করে। এত এত সমতল জমি লিখে দিয়েছিল মাত্র কুড়ি হাজার টাকায়। ভাবতে পারো, কেমন ঠকিয়েছে! এর বদলা নিতে হবে আমাদেরই। ছাড়ব না কুন্তলী, আমাদের হক কেড়ে নিয়েছে এরা আমাদের বোকা পেয়ে। নির্ভয়পুরে জায়গার দাম যত কমই হোক, এ জায়গার বর্তমান দাম কত জানো কুন্তলী? এর দাম অন্তত কোটি টাকা। ফুলমণি আজ লোকের ঘরের রাঁধুনি। কেন যে নির্ভয়পুরের লোকজন এত বোকা হল কে জানে! বোঝালেও এরা বোঝে না। ভাবে, বাবুদের দুয়ারে কাজ করে পেট চলে তাই এরা ভগবান। কিছুতেই বোঝাতে পারি না, এত সস্তায় কুলি, শ্রমিক এরা কোথাও পাবে না বলেই এখানে এসেছে। কেউ বোঝে না কুন্তলী। তুমি অন্তত বুঝো। নিজের অধিকার নিজেকেই কেড়ে নিতে হয়।”

    কুন্তলীর চোখ তখন সুইমিংপুলের জলে। দুটো ছেলেমেয়ে প্রায় উলঙ্গ হয়ে সাঁতার কাটছে। ইস, ওদের লজ্জা করছে না? কথাটা বোধহয় মুখ ফসকেই বেরিয়ে গিয়েছিল কুন্তলীর।

    সুজয় সেদিকে তাচ্ছিল্যের চোখে তাকিয়ে বলল, “লজ্জা কেন করবে? ওরাই তো সভ্য মানুষজন। আমরা তো অসভ্য, অশিক্ষিত আদিবাসী। ওই যে তিন বাবু বসে আছে। সামনের কাচের গ্লাসের মতো দেখতে ওগুলোকে বলে পেগ। ওতে রয়েছে দামি মদ। ভুল কোরো না, আমার বাবা যে হাঁড়িয়া খেয়ে মাকে মারে, ওটা নয়। এর বহু দাম। এক বোতলের যা দাম সেটা দিয়ে তোমার-আমার গোটা মাসের সংসার খরচ চলে যাবে।”

    কুন্তলীর চোখে রাজ্যের বিস্ময়। এমন একটা জগৎ আছে, এটাই তো অজানা ছিল ওর। বিশাল একটা হল ঘরে গদি আঁটা লাল ভেলভেট জড়ানো দামি কাঠের চেয়ার রাখা। সামনে সব কাচের গোল টেবিল। সাইড বেশ কিছু দোকানের মতো কাউন্টার। ওখানে খাওয়ার জিনিস বিক্রি হচ্ছে। কুন্তলী ওই কাউন্টারে বসে থাকা দুজনকে বোধহয় চিনতেও পেরেছে।

    একটু উশখুশ করতেই সুজয় বলল, “উত্তেজিত হবার কিছু হয়নি। এখানের কাউন্টারে যারা বসে আছে খাবর সাজিয়ে, তারা সবাই আমাদের নির্ভয়পুরের আদিবাসী। এরা ভালো পোশাক পরিয়ে সাজিয়ে রেখেছে বলেই চিনতে কষ্ট হচ্ছে। ওপর তলায় আছে বেশ ক’টা বেডরুম, যাতে মালিকপক্ষের লোকজন অবাধে বেলেল্লাপনা করতে পারে। অবশ্য এদের পরিচিত লোকজন কলকাতা থেকে বেড়াতে এলে ক্লাবের ওপরের রুমে ফ্রি-তে ব্যবস্থা করে দেয় এরা। শহরের পরিচিত লোকদের দেখাতে হবে তো, পাহাড়ে কত সম্পত্তি করেছে, তাই আচমকা উদার হয়ে যায় এরা। শোনো, দু’মাস কাজ করলেই এদের মুখোশ খোলা রূপটা তুমি দেখতে পাবে। তাই একদিনে বেশি খেয়ে লাভ নেই, বদহজম হবে।”

    কুন্তলীকে আপাদমস্তক দেখে মল্লিকবাবু বলেছিলেন, “সুজয় ও কি পারবে? মানে আমাদের অনেক বিজনেস ডিল হয় এই ক্লাবে। অনেক ভিআইপি লোকজন আসেন আশেপাশের শহর থেকে। তাঁদের খুব স্মার্টলি ড্রিঙ্ক সার্ভ করতে হবে। তাঁদের অর্ডার মতো পেগ বানাতে হবে। ফরেন লিকারের নাম পড়তে পারবে এ?”

    সুজয় একটু ভেবে বলেছিল, “কেন পারবে না? নির্ভয়পুরে তো আগে আমরা বাইরের লোকজনদের ঢুকতেই দিতাম না শুনেছি। তির-ধনুক উঁচিয়ে নাকি তাড়িয়ে দিয়েছে আমাদের দাদুরা। তারপর আপনারা এ অঞ্চলের লোকেদের বশ করে ফেলতে পেরেছেন তো? আপনাদের এই ক্লাবে এই যে এত এত লোকজন রয়েছে, মালি থেকে রাঁধুনি যারা সব কম মাইনেতে খাটছে, এরা কি পারছে না?”

    সুজয় চোখের ইশারা করতেই কুম্ভলী বলল, “আমার বাবা বিজন মুর্মু তো আপনাদের ব্যবসার গাড়িই চালাত। গাড়িতে ধাক্কা লেগেই তো খাদে পড়ল। তারপরেও কি আমরা কোনও জবাব চাইতে এসেছি?”

    কুম্ভলীর কথা শেষ হবার আগেই মৃণাল ঘোষাল ব্যস্ত হয়ে বললেন, “আহা মল্লিক, এ আমাদের বিজনের মেয়ে। আমায় সুজয় বলেছিল। আরে জন্মেই কেউ শেখে না। ও শিখে নেবে ধীরে ধীরে।”

    কুন্তলী শিখে নিয়েছে। সেই বোকা কুম্ভলী আর নেই। গত তিনবছরে এই গ্রিনভ্যালিতে বসে ও বুঝেছে, সুজয়ের বলা কথার অর্থ। আসলে অভিজ্ঞতা মানুষকে শিক্ষিত করে। এই ক্লাবের আনাচে-কানাচে চলা ঘটনার মধ্যে দিয়েই কুন্তলী চিনেছে, শিক্ষিত, ধনী সমাজের মুখোশধারী মানুষগুলোর আসল রূপ

    সুজয় বলে, “কান খোলা রাখবে কুন্তলী, এরা আমাদের কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করার ফন্দি আঁটে।”

    সেবারে যখন সুজয় চা মালিক নিরঞ্জন সমাদ্দার আর পামেলা মিত্রর কারখানায় শ্রমিকদের বেশি মজুরির দাবিতে স্ট্রাইক ডেকেছিল, তখন এই ক্লাবেই পামেলা মিত্র আর নিরঞ্জন সমাদ্দারের আলোচনা শুনেছিল কুন্তলী। দুজনেই মদ্যপ অবস্থায় বলছিল, “ছেলেটার ঘরে একটা মেয়ে ঢুকিয়ে দিয়ে বদনাম করে দিলেই তো হয়। তা হলে আর নির্ভয়পুরের মানুষ ওকে বিশ্বাস করবে না। সুজয়ের বিষদাঁত ভাঙাও হল, আবার রক্তারক্তিও হল না।”

    পামেলা মিত্র বলেছিল, “আমার বাড়িতে যে মেড আছে, সে এই নির্ভয়পুরেরই বাচ্চা মেয়ে। টুসুকে পাঠিয়ে দেব বুঝিয়ে-সুঝিয়ে?”

    গ্লাসে বরফ মেশাতে মেশাতে হাত কেঁপে উঠেছিল কুন্তলীর। সুজয়ের বিপদে নিজেকে সংযত রাখতে পারছিল না। কিন্তু সুজয়ই বলেছিল, ওদের কথা শুনবে কিন্তু শুনছ এটা যেন ওরা সন্দেহ না করে। তাই চুপচাপ কাজ সেরে নির্দিষ্ট সময়েই বাড়ির পথ ধরেছিল কুন্তলী। সুজয়ের বাড়ি হয়ে যাবে কি না ভাবতে ভাবতে আনমনেই পথ হাঁটছিল। তখনই কানের কাছে জোরে বেল বেজেছিল।

    “কী, আজ সাইকেল আনোনি?”

    কুন্তলী চেনা গলা শুনেও চমকে উঠেছিল সেদিন। সুজয়ের হাতটা ধরে বলেছিল, “তোমার বিপদ। ওরা তোমার চরিত্রের বদনাম করতে চাইছে। পামেলা মিত্র তার কাজের মেয়েকে রাতে তোমার ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে লোক জমায়েত করতে চাইছে।”

    সুজয় থমকে দাঁড়িয়েছিল। নির্ভয়পুরের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে দিয়েই কুন্তলীকে আচমকা জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেছিল সুজয়। বাচ্চাদের মতো ফুঁপিয়ে কেঁদেছিল।

    কুন্তলী ঠিক কী করবে বুঝতে পারেনি। এমন শক্ত মানুষটা যে এভাবে কাঁদতে পারে, সেটাই তো ধারণার বাইরে ছিল। কুন্তলীদের পাকা বাথরুম হয়েছে, ঘরে রং হয়েছে। বড়ো আয়না লাগিয়েছে ও নিজের ঘরে। মা বলে, “সবই ওই ছেলেটার কৃপায়।” কুন্তলীর মাইনের টাকা মা কিছু কিছু করে জমায়। মেয়ের বয়েস বাড়ছে, বিয়ে দিতে হবে বলে। কুন্তলীর মা বলে, “সুজয়কেই বলব একটা ছেলে দেখে দিতে।” কুণ্ডলী রাগ করে বলেছিল, “একদম বলবে না ওকে এসব কিছু।” তখনও কি জানত, সকলের উপকার করে বেড়ানো, মালিক পক্ষের ওপরে রেগে থাকা ছেলেটা ওকে জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো কাঁদতে পারে!

    কুত্তলী ওর পিঠে হাত বুলিয়ে বলেছিল, “আজ বাড়ি ফিরতে হবে না। চলো আমাদের বাড়িতে রাতটা থাকবে।”

    সুজয় নিজেকে সামলে নিয়ে বলেছিল, “উঁহু, আজ নয় কাল, ওরা যখন ভেবেছে তখন এটা করেই ছাড়বে। আমি ওদের পথের কাঁটা। আমাকে সরাতে চাইবেই। তাই এভাবে হবে না কুত্তলী। পামেলা মিত্রর বাড়িতে কাজ করা মেয়েটার মা আমাদের কারখানার এক কর্মী। ওকে দিয়েই ব্যবস্থা করতে হবে। তুমি বাড়ি যাও, আমি সব ভেবে নিয়েছি।”

    কুন্তলী তবুও বলেছিল, “সাবধানে থেকো।”

    সুজয় বোধহয় আরও কিছু বলতে চাইছিল কুন্তলীকে, কিন্তু বলতে পারেনি। বাড়ি এসেও চুড়িদারটা খুলতে ইচ্ছে করছিল না কুন্তলীর। সুজয়ের চোখের নোনা জল আর উষ্ণ ছোঁয়া মিশে ছিল জামাটায়। সারারাত দু’চোখ এক করতে পারেনি কুন্তলী।

    কান খাড়া করে শুয়েছিল, যদি কোথাও গন্ডগোলের আওয়াজ পায়, তবে দৌড়ে যেতে হবে। গত মাসের মাইনে দিয়ে একটা ছোটো ফোন কিনেছে ও। ক্লাবের অফিস থেকেই বলেছিল ফোন নম্বর দিয়ে যেতে। যদি এক্সট্রা ডিউটি দিতে হয় তা হলে ফোন করে জানিয়ে দেবে। সেই কারণেই ফোনটা কিনতে হয়েছে ওকে।

    সুজয়ের ফোনে একটা কল করল কুণ্ডলী। সুজয় ফোনটা ধরল না। এভাবেই উত্তেজনায় কেটেছিল সেই রাত। ভোরের দিকে একটু তন্দ্ৰা এসেছিল ওর। তখনই মা এসে বলেছিল, “আমরা ধরনায় বসতে যাচ্ছি।” কুন্তলী ছুটে বাইরে বেরিয়ে দেখেছিল, পামেলা ম্যাডামের বাড়িতে কাজ করে যে মেয়েটা ও আর ওর মা মিছিলের আগে আগে হাঁটছে। সুজয়ের হাতে মাইক।

    “নির্ভয়পুরের মা-বোনদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে তাদের পরিশ্রমের অর্থ কেউ চুরি করবে এটা আমি থাকতে হতে দেব না।”

    নির্ভয়পুরের সব মহিলারা হাঁটছিল সে মিছিলে। কুন্তলীও সুজয়ের একান্ত গোপন নরম মুহূর্তের স্পর্শ লেগে থাকা চুড়িদারটা পরেই সেদিন হেঁটেছিল ওই মিছিলে। পামেলা মিত্রর টি-এস্টেটের অফিসের সামনে এসেই থেমেছিল সে মিছিল। বসেছিল ধরনা। মাত্র চার ঘণ্টায় হার স্বীকার করেছিল পামেলা। বাইরে বেরিয়ে এসে সুজয়ের দাবির কয়েকটা পয়েন্ট মেনে নিয়েছিল তখনই। মহিলা শ্রমিকরা আবার যে যার কাজে লেগেছিল। সে সব দিন আজও ভোলেনি কুন্তলী। ওই রাতটাও ভোলেনি। প্রচণ্ড কঠিন সুজয়ের আশ্রয় হতে পারার মুহূর্তটুকু কুন্তলীর সম্পদ।

    এমন কত খবর সংগ্রহ করে কুন্তলী এই ক্লাবের থেকে। রঙিন নেশায় বুঁদ হয়ে মানুষ মনের সব কথা উজাড় করে বলে দেয়। কুন্তলীর সদা জাগ্ৰত কান সেগুলো সুজয়কে দেয়।

    আজও কান খাড়া করে শুনছিল কুন্তলী, নিরঞ্জন সমাদ্দার বলছে, “মল্লিকের এই হার্ট অ্যাটাকের কারণ কী ঘোষাল? মেয়ে ডাক্তারি পড়ছে, ছেলে কলকাতায় ব্যবসা করছে। দ্বিতীয়পক্ষ তো শুনলাম মুখ ঝামটা দিলেও যত্নই করে। তা হলে হৃদয়ে এত দুঃখ পুষে কেন রেখেছিল বলো দেখি?”

    ঘোষাল আর-এক পেগ গলায় ঢেলে বলল, “আছে আছে, তারও অনেক গল্প আছে।”

    সমাদ্দার বলল, “সুজয় যা হোক জানে না তোমার আসল পরিচয়টা, কী বলো ঘোষাল? না হলে কিন্তু তোমায় রাস্তায় নামিয়ে দিত।”

    ঘোষাল খানিকক্ষণ চুপ করে ঝিম মেরে বসে থেকে ঝট করে উঠে বলল, “আমিও জানি না সুজয়ের আসল বা নকল পরিচয়টা, আজ চলি।”

    সেই থেকেই মাথার মধ্যে একটাই কথা ঘুরছে, সুজয়ের আসল পরিচয় বলতে? ঠিক কী বলল সমাদ্দার? কেন ঝট করে চলে গেল ঘোষাল? সুজয় তো কারখানার শ্রমিকদের জন্যই লড়াই করছে সেই কবে থেকে? তবে কি এর বাইরেও ওর আলাদা পরিচয় আছে? প্রায়ই মালিকপক্ষের সঙ্গে মিটিং-এ বসে ও। তা হলে কি সুজয়দা আসলে মালিকপক্ষের লোক?

    কেন যে কুন্তলী চালাক হল এই ক’বছরে? কেন যে এত ভাবতে শেখাল সুজয় ওকে! বেশ সহজ-সরল ছিল ও। আজকাল ভদ্রলোকদের দেখে দেখে আদব-কায়দা শেখার সঙ্গে সঙ্গে জটিল হয়ে যাচ্ছে ও। তাই তো সুজয়কে সন্দেহ করছে। যাকে দু’দিন না দেখলে ওর ভিতরটা হাঁসফাঁস করে, তাকেই সন্দেহ করছে কুন্তলী। এর থেকে অজ্ঞ থাকাই ভালো ছিল ওর।

    নিজের মনেই কাচের গ্লাসগুলো গুছিয়ে রাখছিল কুন্তলী। আজ ক্লাবের বারে ভিড় নেই একেবারেই। মল্লিকবাবুর স্ট্রোকের খবরে সবারই বোধহয় একটু ভয় করছে। বয়েস তো প্রায় কাছাকাছি। তাই সব মদ্যপান বাদ দিয়ে স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠেছে বোধহয়। ব্যাডমিন্টন খেলার আওয়াজ আসছে। সবই ঠিক আছে, সুজয়কে যে কুন্তলী ভালোবাসে না এমন নয়। সুজয়ের বিপদ শুনলে আজও বুকের ভিতর তোলপাড় করে। কিন্তু ইদানীং আর-একটা মানুষকেও কুন্তলীর খুব ভালো লাগছে। এই মানুষটা বাকি সকলের মতো নয়। অমন সুপুরুষ, অত ধনী কোনও ছেলে এর আগে কুন্তলীর সঙ্গে এত ভালো করে কথাই বলেনি। বাবুদের ছেলেমেয়েরা তো ওদের মানুষই মনে করে না। কর্মচারী ছাড়া কোনও পরিচয়ই নেই ওদের। কুণ্ডলীকে অনেকেই “এই মেয়েটা এদিকে একটা হুইস্কি দে” বলেই ডাকে সাধারণত। এই প্রথম কোনও ভদ্রলোকের ছেলে এসে ওর নাম জানতে চাইল। ওর দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে বলল, “নামের মতোই সুন্দরী তুমি।”

    গত তিনমাসে কুন্তলীর মনে নীহার একটা স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। এই প্রথম কোনও কথা সুজয়কে বলেনি কুন্তলী। কারণ নীহার বাকিদের মতো নয়। সে কারওর ক্ষতি চায় না। সুজয় বলেছিল, যারা ওদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে তাদের খবর দিতে, কিন্তু নীহার তো কোনও চক্রান্ত করেনি। তা হলে অযথা সুজয়কে বলে লাভ কী? এমনিই একটা আবছা যুক্তির পাঁচিল খাড়া করেছে কুম্ভলী। নীহার বার বন্ধ হয়ে যাবার পরে পুল সাইডে একা একা বসে ছবি আঁকে। কুণ্ডলীকে ফিসফিস করে বলে, “আমার মডেল হবে? হুবহু আর-একটা কুন্তলী এঁকে দেব। তাকে দেখে তুমি হিংসে কোরো না কিন্তু।

    নীহারের বলা কথাগুলোতে কেমন যেন মহুয়ার গন্ধ মেশানো থাকে। মাথাটা ঝিমঝিম করে কুন্তলীর। চোখ দুটোতে রঙিন স্বপ্ন এঁকে দেয় নীহার। ওকে কলকাতা ঘোরাতে নিয়ে যাবে বলেছে নীহার। কলকাতার কত ছবি দেখিয়েছে ওকে। আলোয় আলোয় ঢাকা। সন্ধে নামলেই নির্ভয়পুরের মতো নিস্তব্ধ হয়ে যায় না সে শহর। সন্ধেতেই নাকি আর-একটা দিন শুরু হয় সেখানে। কুত্তলী অবাক হয়ে শোনে।

    কুন্তলী জিজ্ঞাসা করেছিল, “আপনি বিয়ে করেননি?”

    নীহার আলতো হেসে বলেছিল, “তোমার মতো পাহাড়ি ঝরনা খুঁজে পাইনি যে।” আঠাশের নীহার দিদি পামেলা মিত্রর টি-এস্টেটের দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু ব্যবসায় তার মন নেই। তার মন ছবি আঁকে আর কবিতা লেখে।

    আজও মল্লিকবাবুর হার্ট অ্যাটাকের খবরে বার তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে কুন্তলীও ফিরে আসার জন্যই বেরিয়েছিল। তখন নীহার পথ আটকে বলেছিল, “চলো গল্প করি। আমি তো মাত্র পাঁচমাস এসেছি নির্ভয়পুরে, তাই কিছু‍ই চিনি না। তুমি আমায় চেনাও এখানের পাহাড়, নদী, জঙ্গলকে।”

    নীহারের কথার আবেশেই থেমে গিয়েছিল কুন্তলীর বাড়িমুখো গতিশীল পা দুটো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালির যৌনচর্চা : বটতলা থেকে হলুদ বই – অর্ণব সাহা
    Next Article নির্বাচিত গল্প ১ – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }