Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ইতি নির্ভয়পুর – অর্পিতা সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প315 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ইতি নির্ভয়পুর – ৮

    ৮

    সুজয় চোখের সামনে দেখল, মা চুপচাপ বসে ছিল উঠোনে, আচমকা রাস্তার দিকে তাকিয়ে ব্যবহারটা কেমন অস্বাভাবিক হয়ে গেল। হাসিনীকে পাড়ার লোকে পাগল বলে। সুজয়েরও মনে হয়, ওর মা আর পাঁচজনের মতো স্বাভাবিক নয়। ঘরের কাজ-কর্ম করলেও সবসময় কী সব বিড়বিড় করে বলে চলে। কী যে বলে কিছুই বোঝে না সুজয়। জন্মে থেকে দেখছে, ওর মা এমন আনমনা, অস্বাভাবিক ব্যবহার করত হঠাৎ হঠাৎ। রাতে ঘুমের ঘোরে ডুকরে কেঁদে উঠত। সুজয় যখন ছোটো তখন ওর দিদা বলেছিল, “সবই কর্মফল। হাসিনী নিজের বাবাকে খেলি, আবার নিজেও পাগল হলি।” শোনা যায়, অপরূপা হাসিনীর জন্য তার বাবা এক প্রাইমারি শিক্ষক পাত্র ঠিক করেছিল। কিন্তু কী সব গন্ডগোলের কারণে সে সম্বন্ধ নাকি ভেঙে যায়। তারপরেও ওই জুবথবু, চিররুগ্‌ণ মানুষটার সঙ্গে হাসিনীর বিয়ে হয়ে যায়। বিয়েটা ভেঙে যাবার পরেই নাকি দাদু হার্ট অ্যাটাক করে মারা যায়। অপয়া মেয়ে বলে আর পাত্র পাওয়া যাচ্ছিল না হাসিনীর। তখন বাবুরাই নাকি সুজয়ের বাবাকে কারখানায় একটা কাজ দেয়, তার বিনিময়ে হাসিনীকে বিয়ে করার শর্ত দিয়েছিল। সুজয়ের যাবতীয় লেখাপড়ার খরচ বাবার চা-কোম্পানিই দিয়েছিল।

    সুজয় এক অদ্ভুত পরিবেশের মধ্যে বড়ো হয়েছিল। বাড়িতে দিনরাত ঝগড়া হচ্ছে। একতরফা ঝগড়া। বাবা চেঁচাচ্ছে আর মাকে পেটাচ্ছে। মা চুপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে কাঁদছে। মাকে চিরটাকাল সুজয় এমনিই দেখে গেল। মায়ের মাথায় যে ঠিক কী সমস্যা, সেটা বোঝাও গেল না। সুজয় ডাক্তারের কাছেও নিয়ে গিয়েছিল কয়েকবার। ডাক্তাররা ঘুমের ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল। সুজয়ের মা হাসিনী পাড়ার কোনও অনুষ্ঠানে যায় না, পুজো-পার্বণেও যায় না। ঘরেই বসে থাকে। মাঝে মাঝে বিড়বিড় করে বলে, “পাহাড়ের রাস্তা কখনও চওড়া হয় না গো, সরু হয়। পাশে খাদ থাকে। এক ধাক্কায় নিচে পড়ে যায়। ঘাসের বুনন থাকে, সবুজ ঘাস। হাত ধরে বসে থাকতে থাকতেই ঠেলে দেওয়া যায়।”

    সুজয় বহুবার কান করে শোনার চেষ্টা করেছে, কারও নাম বলছে কি না মা। কিন্তু হাসিনী শুধু এটুকুই বলে। শেষে বলে, “মরে গেল।”

    কান্নাকাটি করলেও খুব বেশি উত্তেজিত হতে দেখেনি মাকে। কিন্তু আজ হঠাৎ কী এমন দেখল রাস্তায় যে, এমন অস্থির হয়ে উঠল? বাবা যথারীতি দড়ির খাটে শুয়ে আছে। মাঝে মাঝে গজ গজ করছে। সম্ভবত মাকেও কিছু বলছে। কিন্তু অস্পষ্ট উচ্চারণ। কারণ সুজয় বড়ো হবার পর থেকেই বাবা মাকে মারধর করা, গালাগাল করা বন্ধ করেছে। জানে, সুজয় ছেড়ে কথা বলবে না।

    হঠাৎই খুব শান্ত হয়ে গেল মা। ছুটে এসে সুজয়ের কোলে মুখ গুঁজে বসল। ভয়ার্ত গলায় বলল, “মারিস না। আমি বলব না কাউকে।”

    সুজয়ের বড্ড মায়া লাগে এই শিশুর মতো আশ্রয় খোঁজা মা-টাকে। সুজয় শান্ত করে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, “কেউ মারবে না তোমায়, কেউ না। আমি আছি না তোমার পাশে। কাকে দেখে ভয় পেলে তুমি মা? কে গেল রাস্তা দিয়ে?”

    মা ঘাড় ঝাঁকিয়ে বলল, “বলব না। আমায় মেরো না। আমি কাউকে বলব না।”

    সুজয় মাকে একটু জল খাইয়ে শান্ত করে বলল, “পরব আছে তো, তোমার জন্য নতুন শাড়ি কিনে দেব। কী রঙের শাড়ি নেবে তুমি?”

    হাসিনীর চোখে তখনও পড়ন্ত সূর্যের মনখারাপি চলে যাওয়ার চিহ্ন। ঠোঁটের কোণে শেষ বিকেলের ক্লান্তি। নাকের ওপরে ভয়ের কারণেই ঘামের বিন্দুদের আনাগোনা। চুলগুলোতে অযত্নের ছায়া। হাতের রোদে পোড়া বাদামি রঙের ওপরে লাল দুটো পলা নিজেদের বেমানান প্রমাণ করতে উদ্গ্রীব। নখগুলোর হলদে ছোপ বুঝিয়ে দেয়, এ সংসারে তার অবদানও কম নয়।

    কিন্তু নির্ভয়পুরে হাসিনী পাগলি নামে পরিচিত। এমনকী, সুজয় যখন স্কুলে যেত, তখনও ওর বন্ধুরা কেউ ওর বাড়িতে আসতেই চাইত না। ভয়ে ভয়ে বলত, “তোর মা কামড়ে দেবে না তো?” গলাটা বুজে আসত সুজয়ের। বলতে ইচ্ছে করত, আমার মা কামড়ায় না, বরং কামড়ানোর ভয় পায়। বাড়িতে কেউ এলে মা তাকে খুব যত্ন করে চিনির বাতাসা আর কুঁজোর ঠান্ডা জল দিত। যেহেতু পড়াশোনায় ভালো ছিল সুজয়, তাই স্কুলে ওর শত্রুর অভাব ছিল না। অন্য পাড়ার ছেলেরা ওকে নিয়ে হাসাহাসি করত। বলত, “পাগলির ছেলে।”

    বোবা কান্নায় বুকের ভিতরটা নির্ভয়পুরের মধ্যরাতের মতো খাঁ খাঁ করত। শূন্য শূন্য একটা অনুভূতিতে ঘিরে ধরত ওকে। বিকেলে স্কুল ফেরত ও ছুটত চার্চে। চার্চের ফাদার জর্জ ফিলিপের সামনে গিয়ে বসত।

    ফাদার চার্চের সংলগ্ন ঘরে ওকে ডেকে বসাতেন। নিজের দৈনন্দিন কাজ করতে করতেই জিজ্ঞাসা করতেন, “কী ব্যাপার, আজ রাজকুমারের মন খারাপ কেন?”

    সুজয় বলত, “আমার মা পাগলি তাই সবাই লেগপুল করে ফাদার। আসলে ফাদার, আমার মা একটু বোকা, পাগল নয়। কষ্ট হয় আমার।”

    ফাদার মাথায় হাত রেখে বলতেন, আমরা সবাই তো গড়ের সন্তান। গড যাকে যেমন তৈরি করেছে, সে তেমন হয়েছে। সবাই যদি চালাক হয় তা হলে তো এ পৃথিবীর কিছুই চলবে না। এই ধরো, যদি গড মনে করতেন, এ আকাশ শুধু উনি একটাই উপভোগ করবেন, এ বাতাস শুধু ওঁকেই ঠান্ডা করবে, এই জলধারা শুধু ওঁরই পিপাসা মেটাবে, এই সূর্য শুধু তাঁকেই উষ্ণতা দেবে তা হলে আমরা, এই অতি চালাক মানুষগুলো কোথায় যেতাম বলো দেখি? গড তো তা হলে বোকা, তাই না? সেই কারণেই সব কিছু অকৃপণ হাতে পৃথিবীর মানুষকে দান করছেন। আর এসব পেয়ে পৃথিবীর মানুষ হিংসা, হানাহানি করে চলেছে।”

    সুজয় বলত, “কিন্তু ফাদার, আমার মা বোকা কেন?”

    ফাদার একটু অন্যমনস্কভাবে বলতেন, “যারা ভালোবাসতে জানে তারাই বোকা হয়। তুমিও বড়ো হয়ে বোকা হয়ো সুজয়। নির্ভয়পুরের মানুষদের কথা ভেবো। চালাক হয়ে শুধু নিজের কথা ভেবো না।”

    তখন থেকেই সুজয়ের বেস্টফ্রেন্ড ফাদার। এখন ফাদারের বয়েস প্রায় সত্তর। এই নির্ভয়পুরের চার্চেই কাটিয়ে দিলেন প্রায় চল্লিশ বছর। সুজয় যখন স্কুল থেকে চার্চে যেত, তখন ফাদার ছিলেন বছর পঁয়তাল্লিশের কর্মঠ পুরুষ। এখন সেই ফাদারই মেরুদণ্ড একটু ঝুঁকিয়ে হাঁটেন। এখনও সুজয় একইরকমভাবে ফাদারের কাছে যায়। মন চঞ্চল হলে ওর একমাত্র আশ্রয়স্থল ফাদারের ছোটো ঘরটা। ফাদার কখনও নিজের অতীত নিয়ে কিছু বলেননি। শুধু নির্ভয়পুরের জঙ্গল কেটে কীভাবে রাতারাতি এখানে বড়ো বড়ো বাড়ি তৈরি করেছিল মালিকপক্ষ, সে সব গল্প শুনেছে ফাদারের মুখে। এই নির্ভয়পুরের অনেকের গোপন কথা জানেন ফাদার, কিন্তু স্মিত হেসে সে সব উড়িয়ে দেন। সুজয়ের শুধুই মনে হয়, ফাদার অনেক কিছু জানেন।

    “হাসিনী তো এরকম পাগল ছিল না, মিষ্টি একটা মেয়ে ছিল। কী সুন্দর গানের গলা ছিল। রোজ বিকেলে রঙ্গিত নদীর ধারে বসে গান গাইত।” এইটুকু বলেই থেমে গিয়েছিলেন ফাদার।

    তখন সুজয়ের ক্লাস ইলেভেন। তখন থেকে ও বারবার ছুটে গেছে ফাদারের কাছে, মায়ের এমন হবার কারণ জানতে, কিন্তু জানতে পারেনি।

    ফাদার গম্ভীর স্বরে বলেছেন, “কিছু সত্যকে রাতের অন্ধকারে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হয় সুজয়। সব প্রকাশ্যে এলে প্রাণহানির সম্ভাবনা আছে। তুমি কি চাও তোমার মা প্রাণে মারা যাক? এসব মন থেকে সরিয়ে পড়াশোনায় মন দাও। চাকরি করে মায়ের মানসিক চিকিৎসা করাও। তাছাড়া হাসিনী তো নরম স্বভাবে মানুষ, ও তো কোনওদিন কারওর ক্ষতি করেনি, করবেও না। তা হলে আর নির্ভয়পুরের লোকেদের ওকে নিয়ে চিন্তা কীসের? পাগলই তো ভালো, সুস্থ হলে অনেকের বিপদ।”

    সুজয় ফাদারের পায়ে অবধি ধরেছিল।

    ফাদারের সেই এক কথা, “কিছু সত্য নিজেই প্রকাশ পেতে অনিচ্ছুক সুজর। সেগুলোকে অহেতুক বিরক্ত কোরো না। ঈশ্বরও চান না, তাই তো সব সত্যি আমাদের সামনে আসে না। সুজয় হাসিনী তোমার জন্মদাত্রী, সে যেমনই হোক, তাকে যত্ন করাটা সন্তান হিসেবে তোমার কর্তব্য।”

    তাও সুজয় জেদ ধরে বলেছিল, “বলুন না ফাদার, কেন আমার মায়ের এমন হয়ে গেল? কেউ কি মায়ের সঙ্গে অন্যায় কিছু করেছিল? কেউ কি ধাক্কা দিয়ে পাহাড় থেকে ফেলে দিয়েছিল? মা প্রায়ই আতঙ্কিত হয়ে বলে, ‘ফেলে দিয়ো না আমায়’ কেন বলে ফাদার?”

    ফাদার চার্চের সামনের সবুজ চ্যাটালো বুগিয়ালের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, “এই যে হাওয়ায় ঘাসগুলো আন্দোলিত হচ্ছে, এটা কি কোনও বিশেষ উদ্দেশ্যে হচ্ছে সুজয়? না এরা হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গত দিচ্ছে? বলতে পারো, এরা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। এ তৃণভূমি আমাদের চোখের আরাম। তেমনই সব কিছুর তো কোনও কারণ হয় না সুজয়। হাসিনীর সব কথার মানে খুঁজতে যেয়ো না। ওগুলোকেও পরিস্থিতির ওপরে ছেড়ে দাও।”

    সুজয় নিজের সঠিক প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে রাগ করে উঠে চলে এসেছিল ফাদারের কাছ থেকে। তারপর আবারও গেছে, বারবার গেছে। কীসের টানে, কেউ জানে না। ফাদার তারপর ওর অসমবয়েসি বন্ধু হয়ে উঠেছেন। আজও সেই বন্ধুত্ব অবিচল আছে।

    আনন্দে-দুঃখে সুজয় ছুটেছে ফাদারের কাছে। অনুভূতি ভাগ করে নিতে অনুভূতি বড়ো বিচিত্র জিনিস। একজনের আনন্দের অনুভূতি অনেকসময় অন্যকে হিংসাপরায়ণ করে তোলে, আবার দুঃখের অনুভূতিতে সুযোগসন্ধানীরা সুযোগ খোঁজে। তাই ভুল মানুষের কাছে অনুভূতি প্রকাশ করাও একটা বড়ো সমস্যা। কিন্তু ফাদারের সে সব সমস্যা নেই। কারণ, নির্লোভ জীবন কাটানো একজন মানুষের কাছে হিংসার কোনও স্থান নেই। তাই ফাদারের কাছে সমস্ত অনুভূতি নির্দ্বিধায় প্রকাশ করতে পারে সুজয়।

    হাসিনী এখনও ছেলের বুকে মুখ গুঁজে বসে আছে।

    সুজয় মাকে শান্ত করে বলল, “এক জায়গায় যাবে? পলাশবনার নিচে, চার্চের পিছনে, সেখানে সবুজ বুগিয়াল গালিচার মতো পাতা রয়েছে। যাবে মা? চলো ফাদারের সঙ্গে গল্প করব আমরা।”

    মা স্বাভাবিক গলায় বলল, “ফাদার? ওই ঘরেই থাকেন এখনও? এই লোকটার আর বুদ্ধি হল না।”

    মা মাঝে মাঝেই এরকম খুব স্বাভাবিক গলায় কথা বলে। তখন বোঝাই যায় না, মানুষটার কোনও মানসিক সমস্যা আছে।

    সুজয় বলল, “চলো মা ঘুরে আসবে?”

    হাসিনী আবার নিজেকে ভরে ফেলল সেই খোলসটার ভিতরে, যেখানে ছেলে হয়েও কখনও পৌঁছতে পারবে না সুজয়। আবারও ঘাড় নেড়ে বলল, “আমি যাব না।”

    কেমন একটা দমবন্ধ লাগছিল সুজয়ের। ছুটির দিনটা বড়ো দীর্ঘ হয়, কাটতেই চায় না ওর। জামা-প্যান্ট গলিয়ে সাইকেলটা নিয়ে ফাদারের উদ্দেশেই রওনা দিল। যাওয়ার পথে একবার কুন্তলীর মাকে দেখে যেতে হবে। শরীরটা কেমন আছে জানা হয়নি। তারপর থেকে কুত্তলীর সঙ্গেও দেখা হয়নি। আজ নির্ভয়পুরের সব বন্ধ থাকে। কল-কারখানা, দোকান-বাজার সব বন্ধ। মঙ্গলবারে নির্ভয়পুরে হাট বসত আগে। হাতে তৈরি জিনিসপত্রের হাট। পাশাপাশি ট্যুরিস্টরা এসেও কিনত। তাই এখানের বাসিন্দারা ও দিন কাজে যেতে চাইত না। সেই কারণেই মালিকপক্ষ এই দিনটাকে ছুটি ঘোষণা করে দিয়েছে। যদিও এখন আর ওই হাট গুরুত্ব হারিয়েছে, কারণ এখন বাজার চত্বরে অনেক স্থায়ী দোকান তৈরি হয়েছে। তবু হাট বসে। অল্প সংখ্যক ব্যাপারী জিনিস নিয়ে বসে। কুত্তলীদের ঘরের পাশেই বসে নির্ভয়পুরের হাট। ওদের ঘরে ঢোকার আগেই সুজয়ের চোখে পড়ল ভাঙা ভাঙা হাটের পশরা

    কুন্তলীর মা উঠোনে বসে উনোনে মুড়ি ভাজছিল। অন্যদিন চা তুলতে বেরিয়ে যেতে হয় সকাল সকাল, তাই এসব ঝামেলার কাজ করাই হয় না। মঙ্গলবারের ছুটিতে এসব কাজে হাত দিয়েছে। সুজয়কে দেখেই একটা অ্যালুমনিয়ামের বাটিতে গরম মুড়ি দিয়ে বলল, “বসো বাবা।”

    সুজয় বলল, “আপনার শরীরটা তো দুর্বল, এখনই এত খাটছেন কেন? ক’দিন বিশ্রাম নিতে হত। কুন্তলী কোথায়? আজ তো ছুটি, সে তো আপনাকে সাহায্য করতে পারত।”

    কুন্তলীর মা বালি ঝেড়ে মুড়িগুলো ধামায় তুলতে তুলতে বলল, “সে বাড়িতে কোথায়? তার তো ছুটি নেই। আজ বরং দুপুর দুপুর বেরিয়ে গেছে সে। ক্লাবে কী একটা পার্টি আছে বলে সেজেগুজে বেরিয়ে গেল তো। মালিকদের ফূর্তির যেন শেষ নেই। ছুটির দিনেও ছুটি দেবে না।”

    শরীরের যত্ন নেওয়ার কথা বলে সুজয় কুত্তলীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল। চার্চমুখো যেতে গিয়েও মনে হল একবার গ্রিনভ্যালি ঘুরে আসা দরকার। আদিবাসীদের বোকা পেয়ে মালিকপক্ষ যদি ছুটির দিনেও খাটায় তা হলে এক্সট্রা মজুরি দিচ্ছে কি না সেটাও খোঁজ নিতে হবে। গ্রিনভ্যালির প্রায় সমস্ত কর্মীই এই নির্ভয়পুরের ভূমিপুত্র। একমাত্র ক্যাশিয়ার আর ম্যানেজার দুজন মালিকপক্ষের। ঘোষালের শালা বসে আছে ম্যানেজারের পোস্টে। আর ক্যাশিয়ারও মল্লিকবাবুর দূর সম্পর্কের আত্মীয়। ওই দুটো জায়গা এরা কাউকে ছাড়তে রাজি নয়। বাকি যত পরিশ্রমের কাজ, সেগুলো করে নির্ভয়পুরের বোকা অধিবাসীরা। সুজয় যতই বলুক, “তোমাদের শ্রম আর সময়ের দাম আছে। সেটার মূল্য তোমাদেরই বুঝে নিতে হবে।” তবুও কে বোঝে কার কথা! এরা বাবুদের নির্দেশের অপেক্ষাতেই থাকে যেন। অম্লানবদনে অমানুষিক খেটে যায়। গ্রিনভ্যালির মালি রঘু তো দিনরাত ক্লাবের বাগানে খেটে খেটে গোলাপ গাছে হরেক রঙের গোলাপ আর ডালিয়া গাছে বিরাট আকারের ডালিয়া ফুটিয়েই চলে, কিন্তু রঘুর হাত দুটো মাটি মাখা, ধূসর হয়েই থেকে যায়। বাহারি ফুলের সব রং, গন্ধ, রূপের ভাগীদার শুধুই বাবুরা। কিন্তু রঘুকে বোঝাবে কে? বললেই বলে, “গাছেরা যে আমায় চেনে সুজয়, আমি ওদের যত্ন না করলে ওরা তো রাগ করবে আমার ওপরে।” বড়ো সরল এই নির্ভয়পুরের মানুষগুলো। রঙ্গিত নদীর জলের মতো স্বচ্ছ।

    সুজয় গ্রিনভ্যালির সামনে গিয়ে দেখল, ভিতরটা একটু ফাঁকা ফাঁকা। রঘু শুধু কোদাল দিয়ে মাটি কুপিয়ে চলেছে। সুজয়কে দেখে কোদাল ফেলে এগিয়ে এল।

    সুজয় বলল, “মঙ্গলবারেও কাজ করছ কেন রঘুদা? আজ ছুটি নেই?”

    রঘু বোকা বোকা হেসে বলল, “ক্লাব তো বন্ধ আছে আজ। ছুটি তো। কেউই আসেনি। কিন্তু আমার জিনিয়ার বেডটা না বানালে রাতে ঘুম হবে না। তাই পামেলা ম্যাডামের কাছ থেকে চাবি চেয়ে নিয়ে এসে গেট খুলে কাজ করছি। ক্লাবের গেটে তালা ঝুলছে। আমি শুধু বাগানটাই খুলেছি।”

    বেলা পড়ে এল, আকাশটা লালচে হয়ে আছে এখনও। সূর্য ফিরে যাওয়ার পরেও স্মৃতি আঁকড়ে কিছুক্ষণ পড়ে থাকার মতো। কিছু স্মৃতি বুকের বাম দিককে বড়ো রক্তাক্ত করে। কিন্তু নাছোড় হয় বলেই দূর হ বলে তাড়াতেও পারে না। ঠিক যেমন কুত্তলীর সঙ্গে পথ চলাগুলো ঘায়ের মতো দগদগ করছে সুজয়ের বুকে। এই গেট দিয়েই ওই ভীতু ভীতু মেয়েটার হাত ধরে একদিন এনেছিল গ্রিনভ্যালিতে। আজ সে বাড়িতে মিথ্যে বলে, সুজয়কে লুকিয়ে কোথাও একটা গেছে। কেমন যেন অপমানের একটা চিরচিরে জ্বালা আহত করছে ওর পুরুষত্বকে। গেট দিয়ে বেরোতে বেরোতেই ভাবছিল সুজয়, আচ্ছা এমন তো হওয়ার কথা নয়। কত ছেলে-মেয়েকেই তো ও ডেকে এনে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তারা রাস্তায় দেখা হলে, “সুজয়দা কেমন আছ?” জিজ্ঞাসা করে। সম্মান করে। এর বাইরে তো তাদের জীবন সম্পর্কে কিছুই জানে না সুজয়। তারা সন্ধেবেলায় বাড়িতে থাকে নাকি বাজারে, সে খোঁজ তো সুজয় নিতেও যায় না। তাদের চাকরি করে দিয়েছে বলে আলাদা অধিকারবোধও তো জন্মায়নি কারওর উপরে। তা হলে কেন কুন্তলীকে নিয়ে এত ভাবছে? কুন্তলীর জীবন সে কীভাবে কাটাবে, সেটা তো সে-ই ঠিক করবে। না, কেউই কৃতজ্ঞতার ভার নিয়ে বাঁচুক, এমন তো কখনওই চায়নি সুজয়। কুন্তলী কোথায় যাচ্ছে তার জবাবদিহি করতে বাধ্য নয় ও। সুজয়ের কাছে তো নয়ই। তা হলে এই চিনচিনে অপমানবোধ কীসের? কেন-ই বা কুন্তলীকে নিয়ে এত পজেসিভনেস কাজ করছে সুজয়ের মনে? না না, এ দোষ সুজয়ের নিজের। কুন্তলীর এখানে কোনও দোষ নেই। ছুটির দিনে অনেকেই রংবুলে যায় বায়োস্কোপ দেখতে। কুন্তলীও হয়তো গেছে। মেয়েটা জীবনে কী-ই বা পেয়েছে! আজ যদি একমুঠো রং এসে ওর জীবনের ধূসরতাগুলোকে রাঙিয়ে দিতে চায়, ক্ষতি কী?

    হয়তো পাড়ার মেয়েদের সঙ্গে বায়োস্কোপ দেখতে গেছে। তাই মিথ্যে বলে পালিয়েছে। সুজয় খেয়াল করেনি, কখন ওর নিজের ঠোঁটেই এক চিলতে হাসির আনাগোনা শুরু হয়েছে।

    রাস্তায় উঠে সাইকেলের প্যাডেলে পা দেওয়ার আগেই দেখল, শৌনক ডাক্তার আকাশের দিকে ক্যামেরা তাক করে ছবি তুলছে। পাশেই দাঁড়িয়ে আছে সমাদ্দারের মেয়ে অস্মিতা। রূপে-গুণে যাকে বলে সরস্বতী। অস্মিতা বোধহয় এ চত্বরের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে। তেমনই শিক্ষিত। কী করে যে ওই নিরঞ্জন সমাদ্দারের মতো চামারের ঘরে এমন লক্ষ্মীমন্ত মেয়ে জন্মায় কে জানে!

    সুজয়ের সঙ্গে চোখাচোখি হতেই শৌনক বলল, “কী ব্যাপার, খবর কী? শুনলাম নির্ভয়পুরের ইলেকশনে নাকি এবারের ক্যান্ডিডেট তুমি? খুব ভালো। আশা করি নির্ভয়পুরের মানুষ এতদিনে তাদের একজন জনপ্রতিনিধি পাবে।” সুজয় হেসে বলল, “অন্যদিকের প্রতিনিধির নাম শুনেছেন তো? টাকা আর রাজনীতি দুটোকেই যে নিজের বশে এনে ফেলেছে।”

    অস্মিতা বলল, “পামেলা-আন্টি জিতবে না। তুমিই জিতবে।”

    শৌনকের মুখে একটু অপ্রস্তুত ভাব। সুজয় ওদের মূল্যবান বিকেলটুকুকে কেড়ে নেবে না বলেই বলে উঠল, “আজ যাই ডাক্তারবাবু। একটু কাজ আছে।”

    চার্চের দিকে জোরে সাইকেল চালাল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালির যৌনচর্চা : বটতলা থেকে হলুদ বই – অর্ণব সাহা
    Next Article নির্বাচিত গল্প ১ – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }