Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ইবনে বতুতার সফরনামা – এইচ. এ. আর. গিব

    মোহাম্মদ নাসির আলী এক পাতা গল্প469 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৯. মা’বার যাবার পথে

    নয়

    আমাদের মা’বার যাবার পথে হঠাৎ সমুদ্রে ঝড় উঠলো এবং পানিতে জাহাজ প্রায় ভর্তি হয়ে গেলো। অথচ জাহাজে আমাদের কোনো অভিজ্ঞ পদপ্রদর্শক ছিলো না। অল্পের জন্য আমাদের জাহাজ পাহাড়ের ধাক্কায় ভেঙ্গে চুরমার হবার হাত থেকে রেহাই পেলো। তারপরে জাহাজ এসে এক চড়ায় ঠেকে গেলো। আমরা প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি এসে পড়েছিলাম। জাহাজ হালকা করার জন্য যাত্রীরা নিজেদের মালপত্র সবই সমুদ্রে নিক্ষেপ করে একে-অপরের কাছে শেষ বিদায় নিয়ে রেখেছিলো। আমরা জাহাজের মাস্তুলটি কেটে সমুদ্রে ফেলে দিলাম। নাবিকরা তাই দিয়ে তৈরী করলো একটি কাঠের ভেলা। তখন আমরা তীর থেকে প্রায় ছ’মাইল দূরে। আমি ভেলায় উঠতে যাচ্ছি, এমন সময় আমার সঙ্গীরা (দু’জন বাদী ও অপর দু’জন সঙ্গী) আমাকে ডেকে বললো, আমাদের ফেলে আপনি ভেলায় চড়তে যাচ্ছেন। কাজেই আমার আগে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে বললাম, তোমরা দু’জন যাও এবং যে বালিকাটিকে আমি পছন্দ করি তাকেও সঙ্গে নাও।

    এই বালিকাটি তখন বলে উঠলো, আমি খুব ভাল সাঁতার কাটতে জানি। ভেলার একটা দড়ি ধরে আমি সাঁতার কেটেই ওদের সঙ্গে যেতে পারব।

    কাজেই আমার সঙ্গীদের দুজন, একজন বালিকা গেলো ভেলায় চড়ে আর অপর বালিকাটি গেলো সাঁতার কেটে। নাবিকরাও ভেলার সঙ্গে দড়ি বেঁধে তাই ধরে সাঁতার কেটে চলে গেলো। আমি আমার দরকারী জিনিসপত্র, অলঙ্কারাদি এবং সুগন্ধ দ্রব্যাদি তাদের সঙ্গে পাঠিয়েছিলাম এবং তারা নিরাপদেই তীরে পৌঁছেছিল কারণ হাওয়া তাদের অনুকুলে ছিলো। আমি নিজে জাহাজেই থেকে গেলাম। ক্যাপ্টেন হালের সাহায্যে তীরে যাবার ব্যবস্থা করলেন। নাবিকরা চারখানা ভেলা তৈরী করতে আরম্ভ করলো কিন্তু সেগুলো তৈরী হবার আগেই রাত হয়ে গেলো এবং জাহাজও বোঝাই হয়ে গেলো পানিতে। আমি জাহাজের পেছনের সবচেয়ে উঁচু পাটাতনটির উপরে গিয়ে উঠলাম। ভোর না-হাওয়া অবধি সেখানেই কাটলো। ভোরে একদল বিধর্মী একটি নৌকায় আমাদের কাছে এলে আমরা তাদের মা’বারের মাটিতে এসে পা ফেললাম। আমরা তাদের জানালাম যে, তারা যে সুলতানের প্রজা, আমরা তার বন্ধু। তখন একথা তারা। সুলতানকে লিখে জানালো। ঘটনার বিবরণ আমিও তাকে লিখে জানালাম।

    আমরা সেখানে তিন দিন কাটালাম। তিন দিন পরে সুলতানের পাঠানো কয়েকটি ঘোড়া ও কয়েকজন লোক নিয়ে একজন আমীর এলেন। তাদের সঙ্গে একখানা পালকী ও দশটি ঘোড়া ছিলো। আমি আমার সঙ্গীরা, ক্যাপ্টেন এবং একটি বালিকা ঘোড়ায় এবং অপর বালিকাটি পালকীতে আরোহণ করলো। অতঃপর হারকাটু ১ কেল্লায় পৌঁছে আমরা রাত কাটালাম। বাদী বালিকা, দু’জন বালিকা, গোলাম এবং আমার সঙ্গীরা এখানেই থেকে গেলো।

    পরের দিন আমরা সুলতানের তাবুতে পৌঁছলাম। সুলতানের নাম গিয়াসউদ্দিন দামাখান। তিনি মরহুম সুলতান জালালউদ্দিনের এক কন্যাকে বিবাহ করেছেন। আমি দিল্লীতে থাকাকালে তার অপর কন্যাকে বিবাহ করি। সারা ভারতে প্রচলিত রীতি এই। যে, সুলতানের সাক্ষাতে যেতে হলে পায়ে বুট (Boots)পরে যেতে হবে। আমার বুট ছিলো না বলে একজন বিধর্মী আমাকে এক জোড়া বুট দিলো। সেখানে অনেক মুসলিমও ছিলো; কিন্তু আমি দেখে অবাক হলাম যে, একজন বিধর্মী আমার প্রতি বেশী ভদ্রতা দেখালো।

    সুলতানের কাছে যেতে তিনি আমাকে বসতে বললেন এবং নিকটেই তিনখানা তাবুর ব্যবস্থা করে দিলেন। তাবুতে কাপের্ট এলো, খাবার জিনিসও এলো। পরে আমি সুলতানের সঙ্গে দেখা করে মালদ্বীপে অভিযান করবার প্রস্তাবটি উত্থাপন করলাম। সে। প্রস্তাব মঞ্জুর করে তিনি কোন্ কোন্ জাহাজ পাঠানো হবে তা স্থির করলেন। তাছাড়া সুলতানের জন্য উপঢৌকন ঠিক করে দিলেন এবং আমীর ও উজিরদের জন্যও পোশাক ও অন্যান্য উপহার পাঠাবার ব্যবস্থা করলেন। তিনি সুলতানের ভগ্নীর সঙ্গে তার। বিবাহের চুক্তিপত্রের একটি খসড়া তৈরী করবার ভারও আমার উপর দিলেন। সে দ্বীপপুঞ্জের গরীবদের জন্য তিনখানা জাহাজ বোঝাই করে খয়রাতি মাল পাঠাবার হকুম হলো। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, “পাঁচ দিনের মধ্যে তোমাকে ফিরে আসতে হবে।”

    তখন নৌ-সেনাপতি তাঁকে বললেন, আগামী তিন মাসের ভেতর সে-দ্বীপে জাহাজ নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

    সে-কথা শুনে সুলতান আমাকে বললেন, বেশ, অবস্থা যদি তাই হয় তবে বর্তমান কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফাত্তানে চলুন। সেখান থেকে মুত্রা (মাদুরা) যাবেন এবং সেখান থেকেই অভিযান করা হবে।

    যে-অঞ্চলের ভেতর দিয়ে আমাদের যেতে হলো সে-অঞ্চলটি ছিলো গাছগাছাড়ায় ও নলখাগড়ায় পূর্ণ। নিরবচ্ছিন্ন সে-বন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পথ করে যাওয়া সাধ্যাতীত ব্যাপার। সুলতান হুমকি দিলেন, সেনাদলের প্রতিটি লোক, ছোট বড় নির্বিশেষে একটি করে কুঠার হাতে নিয়ে যাবে গাছ ও আগাছা কেটে পথ করবার জন্য। অতঃপর শিবির সন্নিবেশ করা হলে অশ্বারোহী সুলতান তার সেনাদলসহ অগ্রসর হলেন এবং সৈন্যগণ ভোর হতে দ্বিপ্রহর অবধি গাছ কেটে চললো। দ্বিপ্রহরে খাবার দেওয়া হয়, দলের পর দল এসে সৈন্যরা তখন আহার শেষ করে। আবার সন্ধ্যাবধি গাছ কাটার কাজ। জঙ্গলে যে সব বিধর্মীদের সঙ্গে তাদের দেখা হতো তাদের সবাইকে স্ত্রীপুত্রসহ তারা বন্দী করে শিবিরে নিয়ে আসততা। সৈন্যরা চতুর্দিকে কাঠের বেষ্টনী দিয়ে তাদের শিবির সুরক্ষিত করতো। বেষ্টনীর চারটি দরজা থাকতো। বেষ্টনীর বাইরে থাকতো তিন ফিট উঁচু কয়েকটি মঞ্চ। সে সব মঞ্চে রাত্রে আগুন জ্বালিয়ে রাখার নিয়ম। সেই অগ্নিকুণ্ডের পাশে গোলামদের বা পদাতিকদের একজন পাহারাদার থাকে। তার হাতে থাকে সরু বেতের একটি আঁটি। যদি রাত্রে কোনো বিধর্মীদল শিবির আক্রমণের চেষ্টা করে তবে পাহারাদাররা সবাই নিজ নিজ বেতের আঁটি আগুনে জ্বালায় এবং সে আলোতে রাত্রি দিনের মতো আলোকিত হয়ে ওঠে। তখন ঘোড়সওয়ার ছুটে যায় বিধর্মীদের উদ্দেশ্যে।

    আগের দিন যে সব বিধর্মীদের ধরা হয়েছিলো পর দিন ভোরে তাদের চারভাগ করে কাঠের বেষ্টনীর চার দরজায় শুলে চড়ানো হলো। তাদের মেয়েদের এবং ছোট ছোট শিশুদেরও কেটে ফেলা হলো এবং মেয়েদের চুল খোটার সঙ্গে বেঁধে রাখা হলো। তারপর আবার শিবির সন্নিবেশ করে যথারীতি জঙ্গল কেটে পথ করা শুরু হলো। সেখানে যেসব বিধর্মী পাওয়া গেল তাদের প্রতিও পূর্বের মতোই ব্যবহার চললো। নারী। ও শিশুহত্যার এ রীতি অত্যন্ত কাপুরুষোচিত কাজ। এ ধরণের কাজ অন্য কোনো রাজা করেছেন বলে আমার জানা নেই। এ অপরাধের জন্যই খোদ এ রাজার ধ্বংস ত্বরান্বিত করেন।

    আমি শিবির ছেড়ে ফাত্তানে গিয়ে পৌঁছলাম। ফাত্তান নামক উপকুলবর্তী বড় শহরে চমৎকার একটি পোতাশ্রয় আছে। পোতাশ্রয়ের বড় বড় স্তম্ভের উপরে স্থাপিত একটি মঞ্চ আছে। কাঠের নির্মিত একটি আবৃত সিঁড়ি মঞ্চ অবধি উঠে গেছে। স্থানটি শক্ৰদ্বারা কখনো আক্রান্ত হলে এরা তাদের সমস্ত জাহাজ এনে এ মঞ্চের সঙ্গে বাঁধে এবং তাতে। সৈনিক এবং তীরন্দাজদের এনে রাখে, ফলে শত্রুরা আক্রমণের কোনো সুযোগ পায় না। এ শহরে পাথরে নির্মিত সুন্দর একটি মসজিদ আছে। প্রচুর আঙ্গুর ও চমৎকার বেদানা এখানে পাওয়া যায়। আমি এখানে ধর্মপ্রাণ শেখ মোহাম্মদ নিশাপুরীর সাক্ষালাভ করি। যেসব পাগলা দরবেশ কাঁধে অবধি লম্বা বাবরী চুল রাখেন তিনি ছিলেন তাঁদেরই একজন। তাঁর সঙ্গে একটি সিংহ ছিলো, তিনি সিংহটিকে পোষ মানিয়েছেন। পোষমানা এ সিংহ দরবেশদের সঙ্গেই উঠাবসা ও আহার করতো। তার। সঙ্গে আরও প্রায় ত্রিশ জন দরবেশ থাকতেন। তাঁদের একজনের ছিলো একটি সুদৃশ্য হরিণ। যদিও সিংহ হরিণ একই জায়গায় বসবাস করতো তবু সিংহ কখনোও হরিণের অনিষ্ট করতো না। আমি যখন ফাত্তানে তখন সুলতান অসুস্থ হয়ে শহরে এলেন। আমি তার সঙ্গে দেখা করে একটি উপহার দিয়ে এলাম। তিনি সেখানে বাস করতে এসে নৌসেনাপতিকে ডেকে বললেন, দ্বীপপুঞ্জে অভিযানের জন্য জাহাজগুলোকে সাজসজ্জায় তৈরী করা ছাড়া অন্য কোনো কাজ করবেন না। তিনি উপহারের মূল্য ফেরৎ দিবার ইচ্ছাও প্রকাশ করলেন; কিন্তু আমি তাতে রাজী হইনি। পরে অবশ্য এজন্য আমি দুঃখিত হয়েছিলাম, কারণ, তিনি এন্তেকাল করেন এবং আমি কিছুই পেলাম না। তিনি এক পক্ষকাল ফাত্তানে কাটিয়ে রাজধানীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন; কিন্তু আমি সেখানে আরও পক্ষকাল কাটালাম।

    অতঃপর আমিও তার রাজধানী মুত্রা (মাদুরা) শহরে এলাম। মুত্রা প্রশস্ত রাস্তাঘাটযুক্ত একটি বড় শহর। আমি এসেই দেখলাম শহরটি প্লেগের কবলে পড়েছে। এ রোগে যে আক্রান্ত হয় দ্বিতীয় বা তৃতীয় অথচ বড়জোড় চতুর্থ দিনে মৃত্যুবরণ করে। ঘরের বাইরে যখন গিয়েছি তখন রোগাক্রান্ত ও মৃত ছাড়া আর কাউকে দেখিনি। মুত্রায় পৌঁছে সুলতান ও তাঁর মাতা, স্ত্রী ও পুত্রকে রোগাক্রান্ত অবস্থায় পেলেন। তিনদিন শহরে কাটিয়ে তিনি তিন মাইল দূরে এক নদীতে গিয়ে বাস করতে লাগলেন। আমি সেখানে তাঁর সঙ্গে গিয়ে মিলিত হলে তিনি কাজীর গৃহের পাশে আমাকে বাস করতে হুকুম করলেন। এর ঠিক পনরো দিন পরেই সুলতান এন্তেকাল করলেন। এবং তার ভাইপো নাসিরউদ্দিন তার স্থলাভিষিক্ত হলেন। নতুন সুলতান হুকুম করলেন তাঁর পিতৃব্যের ইচ্ছানুসারে দ্বীপে অভিযানের জন্য নিযুক্ত সমস্ত জাহাজ আমার হেফাজতে। দিতে হবে। পরে আমিও সাংঘাতিক এক প্রকার জ্বরে আক্রান্ত হলাম। এ অঞ্চলে এ রকম জ্বর অত্যন্ত মারাত্মক বলে আমার মনে হয়েছিলো যে, আমার শেষ দিন ঘনিয়ে এসেছে। তখন আল্লাহ আমাকে তেঁতুলের সন্ধান দিলেন। তেঁতুল এ অঞ্চলে প্রচুর জন্মে। আমি প্রায় আধসের পরিমাণ তেঁতুল পানিতে গুলে তাই পান করলাম। তার ফলে তিন দিন শিথিল অবস্থায় কাটানোর পর খোদা আমাকে আরোগ্য করলেন। এ ঘটনার পরে এ শহরের উপর আমি বীতশ্রদ্ধ হয়ে উঠলাম এবং সুলতানের কাছে বিদায়ের প্রার্থনা জানালাম। তিনি আমাকে বললেন, আপনি যাবেন কেননা? দ্বীপে অভিযানের মাত্র এক মাস বাকি। জাহাপনার (মৃত সুলতান) ইচ্ছানুযায়ী আপনাকে সব কিছু না-দেওয়া পর্যন্ত আপনি অপেক্ষা করুণ। আমি অসম্মতি জানালাম। তখন তিনি আমার ইচ্ছামতো যে কোনো জাহাজে রওয়ানা হবার সুযোগ দিলেন এবং সেভাবে ফাত্তানে চিঠি লিখে দিলেন।

    আমি ফাত্তানে ফিরে এসে দেখলাম, আটখানা জাহাজ ইয়েমেনে রওয়ানা হয়েছে। তার একটিতে আমি আরোহণ করলাম। পথে চারটি যুদ্ধ জাহাজের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়। জাহাজগুলো কিছু সময়ের জন্য আমাদেরও কাজে নিযুক্ত করে। পরে তারা। প্রত্যাবর্তন করলে আমরা কালাম (কুইন), চলে আসি। তখন অবধি আমি রোগের প্রকোপ কাটিয়ে উঠতে পারিনি বলে সেখানে তিন মাস কাটালাম। তারপর হিনাওরে সুলতান জামালউদ্দিনের কাজে যাওয়ার জন্য জাহাজে উঠলাম। হিনাওর ফাঁকানুর দ্বীপের মধ্যবর্তী ছোট একটি দ্বীপে আমরা যখন পোঁছেছি তখন বিধর্মীদের বারোখানা যুদ্ধজাহাজ আমাদের আক্রমণ করে। প্রচণ্ড যুদ্ধের পরে তারা আমাদের পরাজিত করলো এবং প্রয়োজনের জন্য রক্ষিত আমার সব কিছু সম্বল তারা নিয়ে গেলো। সেই সঙ্গে ছিলো অলঙ্কারাদি, সিংহলের রাজার দেওয়া জহরত, কাপড়-চোপড়, সফরের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য জিনিস যা ধর্মপ্রাণ লোক ও দরবেশের কাছে পেয়েছিলাম। সবকিছু গিয়ে তখন বাকী ছিলো আমার পরিধানের পায়জামা। সে জাহাজে যারা ছিলো। তাদের সবারই জিনিসপত্র রেখে নামিয়ে দেওয়া হলো তীরে। আমি ফিরে এলাম কালিকটে। সেখানে এসে একটি মসজিদে উঠলাম। একজন মৌলভী আমাকে একটি জামা দিলেন; সেখানকার কাজী দিলেন একটি পাগড়ী। একজন ব্যবসায়ী আরও একটি জামা দিলেন।

    কালিকটে থাকতেই আমি জানতে পারি উজির জামালউদ্দিনের মৃত্যুর পরে সুলতানা খাদিজার (মালদ্বীপের) সঙ্গে উজির আবদুল্লার বিয়ে হয়েছে এবং আমার যে স্ত্রীকে গর্ভবতী অবস্থায় ছেড়ে এসেছিলাম সে একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেছে। কাজেই আমি সেই দ্বীপপুঞ্জে যাবার বিষয় চিন্তা করতে লাগলাম। কিন্তু উজির আবদুল্লার সঙ্গে শক্রতার কথা মনে পড়ায় (দৈববানী লাভের আশায়) আমি কোরান খুলে একটি পৃষ্ঠায় পেলাম–ফেরেস্তাগণ নেমে এসে বলবে, ‘ভয় করোনা, দুঃখ করোনা। কাজেই নিজকে খোদার উপর সোপর্দ করে আমি যাত্রা করলাম। দশদিন পর কান্নালুস অবতরন করলে সেখানকার শাসনকর্তা এসে আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং মেহমান হিসাবে রেখে। আমার জন্য নৌকার বন্দোবস্ত করে দিলেন। দ্বীপের কয়েকজন তখন উজির আবদুল্লাহর কাছে গিয়ে আমার আগমনের সংবাদ দিলো। তিনি আমার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং কে আমার সঙ্গে এসেছেন জানতে চান। তাঁকে জানানো হয় যে, আমি আমার দুই বছর বয়স্ক পুত্রকে নেবার জন্য এসেছি। এ খবর পেয়ে ছেলের মা এসে উজিরের কাছে নালিশ করে। উজির তাকে বলেন, আমার পক্ষ থেকে তার ছেলে নিয়ে যেতে আমি বাধা দেবো না। উজির আমাকে মহল দ্বীপে যাবার জন্য পীড়াপীড়ি করেন এবং যাতে সহজেই আমার গতিবিধি লক্ষ্য করা যায় তজ্জন্য তার প্রাসাদের মিনারের সামনে একটি গৃহে আমাকে থাকতে দেন। আমার পুত্রকে আমার সামনে আনা হলে আমার মনে হলো, সেখানে রেখে আসাই সমীচীন। কাজেই তাকে তাদের কাছেই রেখে এলাম। পাঁচদিন সেখানে অবস্থানের পরে সেখান থেকে তাড়াতাড়ি চলে আসাই সঙ্গত মনে হলো। কাজেই আমি চলে আসবার জন্য সুলতানের অনুমতি চাইলাম। উজির আমাকে ডেকে পাঠালেন। তাঁর কাছে যেতেই পাশে বসিয়ে তিনি আমার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করলেন। তার সঙ্গেই আমি আহার করলাম এবং যে চিলচীতে হাত ধোন একই সঙ্গে সে চিলমূচীতে হাত ধূলাম। তিনি অন্য কারো সঙ্গে একাজ করেন না। পান আনা হলে আমি বিদায় নিয়ে এলাম। তিনি আমাকে একটি পোশাক ও অনেক কড়ি উপহার পাঠালেন। আমার প্রতিও তিনি সহৃদয় ব্যবহার করেছিলেন।

    অতঃপর পুনরায় যাত্রা করলাম। দীর্ঘ তেতাল্লিশ রাত্রি সমুদ্রের বুকে কাটিয়ে আমরা বাঙ্গালা (বাংলা) দেশে পৌঁছলাম। এ বিশাল দেশে প্রচুর চাউল উৎপন্ন হয়। সারা। পৃথিবীতে আমি এমন কোনো দেশ দেখিনি যেখানে জিনিসপত্রের মূল্য বাংলার চেয়ে কম। পক্ষান্তরে এ একটি অন্ধকার (gloomy) দেশ। খোরাসানের লোকেরা বলে বাংলা ভাল জিনিসে পরিপূর্ণ একটি নরক। (A hell full of good things) এক দেরহামে আটটি মোটাতাজা মুরগী, দু’দেরহামে একটি মোটাতাজা ভেড়া এখানে বিক্রি হতে আমি দেখেছি। তাছাড়া ত্রিশ হাত লম্বা উৎকৃষ্ট ধরনের সূতী কাপড় মাত্র দু’দীনারে এখানে বিক্রি হতে দেখেছি। এক স্বর্ণ দীনারে অর্থাৎ মরক্কোর আড়াই স্বর্ণদীনারে এখানে একজন সুন্দরী ক্রীতদাসী বালিকা বিক্রি হয়। সমুদ্রোপকুলে বাংলার যে বৃহৎ শহরে আমরা প্রবেশ করি তার নাম সাদকাওয়ান। এ শহরের কাছেই গঙ্গা ও জুন নদী একত্র মিলিত হয়ে সাগরে পড়েছে। গঙ্গা নদীতে হিন্দুরা তীর্থ করতে আসে। এখানে নদীতে প্রকাও একটি নৌবহর আছে। তার সাহায্যে এরা লক্ষ্মণাবতীর অধিবাসীদের সঙ্গে যুদ্ধ করে।

    বাংলার সুলতান তখন ফখরউদ্দিন। শাসনকর্তা হিসাবে তিনি উৎকৃষ্ট ছিলেন। মুসাফেরদের বিশেষতঃ দরবেশ ও সূফীদের প্রতি তিনি বিশেষ অনুরাগ প্রদর্শন করতেন। এ প্রদেশের অধিপতি ছিলেন সুলতান নাসিরউদ্দিন। দিল্লীর সুলতান তার এক পৌত্রকে কারারুদ্ধ করেন। সুলতান মোহাম্মদ সিংহাসন আরোহণের পর তাকে মুক্ত করে দেন। শর্ত ছিলো নাসিরউদ্দিন তার রাজত্বের অর্ধেক তাকে দান করবেন। কিন্তু পরে তিনি সে শর্ত ভঙ্গ করলে সুলতান মোহাম্মদ তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করেন ও তাঁকে হত্যা করে নিজের বেগমের কোনো আত্নীয়ের উপর এ দেশের শাসনভার অর্পণ করেন। এ ব্যক্তিও সৈন্যদের দ্বারা নিহত হন। তখন লক্ষ্মণাবতী থেকে এসে এ-রাজ্য দখল করেন। আলী শাহ্। ফখরউদ্দিন যখন দেখলেন রাজত্ব সুলতান নাসিরউদ্দিনের বংশধরদের হস্তচ্যুত হয়ে গেছে (তিনি তাঁদেরই অনুগত ছিলেন) তখন সাদকাওয়ানে ও বাংলায় বিদ্রোহ করে তিনি নিজকে স্বাধীন নবাব বলে ঘোষণা করেন। তাঁর সঙ্গে আলী-শার। ঘোরতর যুদ্ধ হয়। শীত ও বর্ষায় ফখরউদ্দিন নদীপথে লক্ষ্মণাবতীর উদ্দেশে অভিযান করতেন। কারণ তিনি নৌবলে বিশেষ বলীয়ান ছিলেন। কিন্তু আলী শাহর স্থল-সৈন্য কম ছিলেন বলে তিনি শীত-বর্ষা ছাড়া অন্য সময়ে স্থলপথে অভিযান চালাতেন। আমি সাদকাওয়ানে এসে সুলতানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিনি, কারণ তিনি ভারত সুলতানের বিরোধী ছিলেন বলে আমার সাক্ষাতের ফলাফল সম্বন্ধে আমি সন্দিহান ছিলাম।

    সাদকাওয়ান থেকে আমি কামারু পর্বতের দিকে রওয়ানা হই। সেখান থেকে কামারু এক মাসের পথ। বিশাল এ পর্তমালা চীন ও মৃগনাভির দেশ ঘুরবাত (তিব্বত) পর্যন্ত বিস্তৃত। এ পাবর্ত্য অঞ্চলের অধিবাসীরা দেখতে তুর্কীদের মতো। তারা অত্যন্ত কষ্টসহি। ক্রীতদাস হিসাবে তাদের মূল্য অন্য যে কোনো জাতীয় ক্রীতদাসের। চেয়ে বহুগুণ বেশী। এখানকার লোকেরা তাদের যাদবিদ্যা প্রদর্শনের জন্য বিখ্যাত। আমার এ পার্বত্য অঞ্চলে ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল তাব্রিজের শেখ জালালুদ্দিন নামক একজন প্রসিদ্ধ ধর্মপ্রাণ সাধু ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করা। তার বাসস্থান থেকে দুদিনের পথ দুরে থাকতেই আমি তাঁর চারজন শিষ্যের দেখা পেলাম। তারা আমাকে জানালেন শেখ তার সঙ্গী দরবেশদের বলেছেন, “পশ্চিম দেশের একজন সফরকারী তোমাদের কাছে এসেছেন, তোমরা গিয়ে তাকে অভ্যর্থনা করো।” আমার সম্বন্ধে তিনি কিছুই জ্ঞাত। ছিলেন না। তার উপর এ ব্যাপার নাজেল হয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে গুহার বাইরে। অবস্থিত তার আস্তানায় গিয়ে হাজির হলাম। সেখানে কোনো রকম আবাদী জমি নেই। কিন্তু মুসলমান ও অ-মুসলমান নির্বিশেষে সেখানকার অধিবাসীরা নানারকম উপহার। দ্রব্য নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে আসে। সে-সব উপহার ও মানতের জিনিসপত্রেই। মুসাফের ও দরবেশদের ব্যয় নির্বাহ হয়। শেথের নিজের প্রয়োজন মিটানোর জন্য রয়েছে এক মাত্র গরু। প্রতি দশদিন অন্তর তিনি গরুর দুধ খেয়ে ইফতার করেন। একমাত্র তার চেষ্টায়ই এ পার্বত্যাঞ্চলের অধিবাসীরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। এ উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি এদের ভেতর বাস করছেন। আমি তার সামনে গিয়ে হাজির হলে তিনি দাঁড়িয়ে আমাকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং কোলাকুলি করলেন। আমার দেশ ও সফর সম্বন্ধে তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমি যথাযথ উত্তর দিলাম। তিনি তখন বললেন, আপনি আরবদের সফরকারী।

    তাঁর শিষ্যদের যারা উপস্থিত ছিলো তারা বললো, মওলানা, ইনি আরবদের ছাড়া অন্যদেরও সফরকারী।

    তখন শেখ তাদের কথার পুনরাবৃত্তি করে বললেন, হাঁ অন্যদেরও সফরকারী। কাজেই একে সম্মান করো।

    তারা আমাকে আস্তানার ভেতর নিয়ে গেলো। আমি তিনদিন তাদের আতিথ্যে কাটালাম।

    শেখের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দেখলাম, তিনি ছাগলের লোমে তৈরী একটি আলখেল্প পরিধান করে আছেন। আলখেল্লাটি দেখে আমার পছন্দ হলে মনে-মনে বললাম, আহা, শেখ যদি এটি আমাকে দান করতেন। পরে তার কাছে যখন বিদায় নিতে গেলাম, তিনি উঠে গুহার এক কোণে গিয়ে আলখেল্পটি খুলে এসে আমার গায়ে পরিয়ে দিলেন এবং নিজের মাথার গোলটুপিটিও আমার মাথায় দিলেন। নিজে এলেন তালি লাগানো একটি পোশাকে। দরবো আমাকে বললেন, শেখ সচরাচর এ আলখেল্লাটি পরিধান করেন না। শুধু আমি এখানে এলেই এটি পরিধান করে তিনি বলেছেন, “মরক্কোর অধিবাসী এ আলখেল্লাটি চেয়ে নেবেন। তার থেকে এটি নেবেন একজন বিধর্মী সুলতান। এটি আমার ভাই সাঘার্জের বোরহানউদ্দিনকে দেবেন। তাঁর জন্যই এটি তৈরী হয়েছে।”

    তাঁদের মুখে একথা শুনার পর আমি বললাম, এ পোশাকের ভেতর দিয়ে আমি শেখের দোয়া লাভ করেছি। এটি পরে মুসলমান বা বিধর্মী কোনো সুলতানের সাক্ষাতেই আমি যাবো না।

    একথা বলে আমি শেখের কাছে বিদায় নিয়ে এলাম। তারপর চীন সফরে গিয়ে বহুদিন পরে থানসা (হ্যাং-চৌ-ফু) শহরে এসে হাজির হলাম। এখানে এসে লোকের ভিড়ে আমি সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লাম। তখন আমার পরিধানে ছিলো সেই আলখেল্লাটি। সেখানে ঘটনাক্রমে এক রাস্তায় দেখা হলো সেখানকার উজির ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের সঙ্গে। আমার উপর নজর পড়তেই তিনি আমাকে কাছে ডেকে হাত ধরে আমার আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন এবং কথা বলতে-বলতে সুলতানের প্রাসাদে নিয়ে হাজির করলেন। এখানে পৌঁছে আমি বিদায় নিতে চাইলাম, কিন্তু তিনি আমার কথায় আদৌ কান দিলেন না। তিনি আমাকে সুলতানের কাছে নিয়ে হাজির করলেন। সুলতান আমাকে সুলতানদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। আমি তার কথার জবাব দেবার সময় তিনি আলখেল্লাটির দিকে নজর দিলেন এবং এটি তার পছন্দ হলো। উজির তখন আমাকে বললেন, এটি খুলে ফেলুন।

    আমি তার কথা অমান্য করতে পারলাম না। কাজেই সুলতান সে আলখেল্লাটি নিয়ে আমাকে দশটি জামা, একটি ঘোড়া ও জিন এবং কিছু অর্থ দিতে হকুম করলেন। এ ঘটনায় আমি রাগান্বিত হয়েছিলাম কিন্তু পরে মনে পড়লো শেখের কথা। তিনি বলেছিলেন, একজন বিধর্মী সুলতান একদিন এ আলখেল্লাটি নিয়ে নেবেন। তার সে ভবিষ্যদ্বাণী এভাবে পূর্ণ হওয়ায় আমার বিস্ময়বোধ করতে লাগল।

    পরের বছর খান-বালিক (পিকিং) শহরে আমি সম্রাটের প্রাসাদে প্রবেশ করলাম এবং শেখ বোরহানউদ্দিনের দরগা খুঁজে বের করলাম। দেখলাম, সেই আলখেল্লাটি গায়ে দিয়ে তিনি তখন পড়তে বসেছেন। বিস্মিত হয়ে সেটি হাতে নিয়ে আমি পরীক্ষা করতে লাগলাম। তাই দেখে তিনি বললেন, আগে থেকেই সব জানেন তবে আর পরীক্ষা করছেন কি? আমি বললাম, সত্যই। এ আলখেল্লাটি খান্সার সুলতান আমার কাছ থেকে নিয়েছিলেন।

    “এটি খাস করে আমার ভাই জালালউদ্দিন আমার জন্যই তৈরী করেছিলেন। তিনি আমাকে লিখে জানিয়েছিলেন অমুক অমুকের হাত দিয়ে আলখেল্পটি তোমার কাছে গিয়ে পৌঁছবে।”

    অতঃপর বোরহানউদ্দিন সে পত্ৰখানা বের করলেন। সেটি পাঠ করে ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে শেখ জালালউদ্দিনের এ নিখুঁত জ্ঞানের পরিচয় পেয়ে আমি বিস্ময় বোধ করলাম। এ ব্যাপারে যা-কিছু ঘটেছে সবই আমি শেখ বোরহানউদ্দিনকে খুলে বললাম। তিনি বললেন আমার ভাই জালালউদ্দিন এসবের চেয়েও অনেক বেশী কিছু করতে পারেন। …আমি শুনেছি, প্রতিদিন তিনি মক্কায় ফজরের নামাজ আদায় করেন এবং প্রতি বছর হজ করেন। কারণ আরফা এবং হজের সময় তিনি কোথায় নিরুদ্দেশ হয়ে যান কেউ তা বলতে পারেন না।

    শেখ জালালউদ্দিনের কাছে বিদায় নিয়ে আমি হাজং পৌঁছি। কামারু পর্বত থেকে উৎপন্ন একটি নদীর দু’পাড়ে বিস্তীর্ণ এ সুন্দর শহরটি। নদীটির নাম নীল নদী।১০ এ নদী পথেই বাংলা ও লক্ষ্মণাবতী যেতে হয়। মিশরের নীল নদের মতো এই নদীটির দু’পাশে অনেক স্রোতচালিত কল, ফলের বাগান ও গ্রাম রয়েছে। মুসলমান সুলতানদের শাসনাধীনে এখানে বিধর্মীরা বাস করে। তাদের উৎপন্ন অর্ধেক শষ্য জরিমানা স্বরূপ কর্তন করা হয়। তাছাড়া তাদের ট্যাক্স আদায় দিতে হয়। আমরা পনেরো দিন অবধি এ নদী দিয়ে ভাটির দিকে এগিয়ে গেলাম; নদীর দু’পাশে গ্রাম ও ফলের বাগান দেখে মনে হচ্ছিল আমরা যেন একটি বাজারের ভেতর দিয়ে চলেছি। অসংখ্যা নৌকা চলাচল করছে এ নদীতে। প্রত্যেক নৌকায় একটি করে ঢাক। এক নৌকার সঙ্গে অপর একটি নৌকার দেখা হলেই উভয়ে নিজ নিজ ঢাক পিটায় এবং একে অপরকে অভিবাদন। জানায়। সুলতান ফখরউদ্দিনের হুকুম, দরবেশদের কাছ থেকে এ নদীতে চলাচলের জন্য কোনো কর আদায় করা হবে না। তাদের কারো খাদ্যের সংস্থান না থাকলে খাদ্যও দিতে হবে। কোনো দরবেশ শহরে এলে তাকে অর্ধ দীনার দেওয়া হয়। পূর্ব বর্ণিত মতে পনেরো দিন নদীপথে চলে আমরা সোনারকাওয়ান১১ এসে পৌঁছলাম। এখানে এসে একটি নৌকা পেলাম যেটা যাভা (সুমাত্রা) যাত্রার জন্য তৈরী। এখান থেকে সুমাত্রা চল্লিশ দিনের পথ। আমরা সেই নৌকায় আরোহণ করলাম।

    ***

    পরিচ্ছেদ ৯

    ১। হরকাতু আরকটের আধুনিক শহর হতে পারে না। এটা অনেক উত্তরে অবস্থিত। এ ছিল কেবল একটি দূর্গ। কাজেই এর অবস্থান জায়গা সন্দেহজনক। যদিও এর নাম আরকট জেলার সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত (তামিল আৰু-কাদু’ ছয়টি অরণ্য)।

    ২। জালাল উদ্দীনকে দিল্লীর সুলতান মুহাম্মদ মাবারের সামরিক শাসক পদে নিযুক্ত করেন (মুসলিমগণ এ দেশটি ১৩১১ সালে অধিকার করেছিলেন)। ১৩৩৮ সালে ইনি নিজকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করেন এবং এর পাঁচ বছর পরে নিহত হন। অতঃপর পর্যায়ক্রমে কয়েকজন সেনাপতি সিংহাসনে বসেন। এদের মধ্যে গিয়াসুদ্দীন ছিলেন তৃতীয়।

    ৩। কারোম্যাণ্ডেল সমুদ্র উপকুলের অনেক প্যাটাস এবং প্যাটাসের মধ্যে ফ্যাটানকে সঠিকভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। মধ্য যুগীয় মাবারের প্রধান বন্দর ছিল কাবেরি, পাটুআনাম কাবেরির একটি মুখে–১৩০০ খ্রীষ্টাব্দের এক জলপ্লাবনে স্থানটি বিনষ্ট হয়েছে বলে বলা হয়।

    এটাই যদি ইব্‌নে বতুতার ফ্যাটান হয়ে থাকে তবে এর ধ্বংসকালের তারিখ হবে ১৩৫০ সালের। কাছাকাছি (মার্কোপলো, ২য় খণ্ড, ৩৩৫-৩৬)। ফ্যাটান হয়তো নাগাপইম। পরবর্তী শতাব্দীগুলিতে এটা এক গুরুত্বপূর্ণ পোতাশ্রয় ছিল। ইউনূসের মতে স্থানটি আরো অনেক দক্ষিণে রামনাদের কাছাকাছি-এটা অসম্ভব হবে যদি আরুকটের সঙ্গে হারকাতু নামের কোনো সম্বন্ধ বিবেচনা করা হয়। (টীকা ১ দ্রষ্টব্য)। মাবার পরিভ্রমণের কোনো এক সময়ে কিম্বা ফ্যাটান থেকে কালামের পানে সফরের সময় মনে হয় ইব্‌নে বতুতা কেলুকারির ক্ষুদ্র বন্দরে উপনীত হয়েছে। এটা রামনাদের ১০ মাইল দক্ষিণে। পরে এটাকে তিনি লাগিয়েছেন চীন সমুদ্রের কোনো এক স্থানে (পরিচ্ছেদ ১০ টীকা দ্রষ্টব্য)। এটা আশ্চর্য যে ইব্‌নে বতুতা কেয়াল বা মার্কোপলোর কেইল বন্দরের কথা উল্লেখ করেননি। এটা তামনাপারনি নদীর ডেলটার তুতিকরিনের দক্ষিণে সে সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য বন্দর ছিল (মার্কোপলো, ২য় খণ্ড, ৩৭০-৪ দ্রষ্টব্য)।

    ৪। ইউলের বর্ণনা অনুসারে এটাকে পিজন আইল্যাণ্ড’ বলে স্থির করা হয়েছে, অনুরের (হিনাওর) ২৫ মাইল দক্ষিণে।

    ৫। সুদূর পূর্বাঞ্চলে ইব্‌নে বতুতার যে কোনো ভ্রমণ ইতিহাসের সঙ্গে এ উক্তির সামঞ্জস্য সাধন করা কঠিন। বর্ণনার গতিধারার দিক দিয়ে বিচার করে দেখলে এই দ্বিতীয় সফর তার মালদ্বীপ থেকে যাত্রার এক বছর পরবর্তী কালের পরে ছাড়া হতে পারে নাই।

    ৬। সুদকাওয়ান স্থানটিকে অনেক সাতগাঁও বলে স্থির করেছেন। এটা হুগলী শহরের উত্তর পশ্চিমে হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর। হিন্দু শাসনের যুগ থেকে পর্তুগীজগণ কর্তৃক হুগলীর প্রতিষ্ঠা কাল পর্যন্ত এটা ছিল বাংলাদেশের ব্যবসায়ী রাজধানী। ইউল এটাকে চিটাগং বলে স্থির করেছেন। এটা সাতগাঁও অপেক্ষা সুবিধাজনক বন্দর ছিল। এবং ইব্‌নে বতুতা একে “মহাসমুদ্রের তীরবর্তী” বন্দর বলে বর্ণনা করেছেন। সুলতান ফকরুদ্দীনের সঙ্গে চিঠাগাংয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না সেটা অনিশ্চিত (cf, Book of Duarte Barbosa; ২য় খণ্ড, ১৩৯)।

    ৭। জুন হচ্ছে ইব্‌নে বতুতার যমুনা নামের লিপ্যান্তর। এখানে এটা ব্ৰহ্মপুত্রকে বোঝাচ্ছে (৫২ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য)।

    ৮। লখিনাওতি (লক্ষমনওয়াতি) মানে লক্ষনাবতী হচ্ছে গৌড়ের পুরাতন নাম। এটা অনেক দিন বাংলার মুসলিম শাসকদের রাজধানী ছিল। এ শহর তারা জয় করেছিলেন ১২০৪ খ্রীষ্টাব্দে। মালদহের নিকটে এর ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। বাংলাদেশের তিনটি জেলা এ নাম গ্রহণ করেছিল (টীকা ১৩ দ্রষ্টব্য)। এ জেলা তিনটি ছিল গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্রের মাঝখানে।

    ৯। এ কথা ইউল সম্পূর্ণভাবে স্থির করেছেন যে (ক্যাথে, ৪র্থ খণ্ড, ১৫১-৫) ইব্‌নে বতুতা যে জেলাটি ভ্রমণ করেছিলেন সেটা সিলেট। সেখানে শাজালালের সমাধি এখনো সম্মানিত হয়ে থাকে (শেখ জালালউদ্দীন) কামরু বলে যে স্থানটির নাম করা হয়েছে সেটা শুদ্ধভাবে কামরূপ। এটা আসামে যুক্ত একটি জেলার নাম। এ স্থানের ইন্দোচীনে জনসাধারণ মোঙ্গলিয়ান চরিত্রের পরিবাহক।

    ১০। নীল নদী হচ্ছে মেঘনা। বারাকের বাম তীরে অবস্থিত। বারাক এর একটি শীর্ষস্থানীয় নদী। এখানে এখনো একটি টিলা বা নিচু পাহাড় রয়েছে। একে বলা হয় হাবাং-হবিগঞ্জের কিছুটা দক্ষিণে অবস্থিত।

    ১১। সোনার গাঁও ঢাকা থেকে ১৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে। এটা ছিল মুসলিমগণের বঙ্গদেশের অন্যতম পুরাতন রাজধানী এবং এর নাম দেওয়া হয়েছিল বাংলার তিনটি জেলার একটিকে। তৃতীয়টি ছিল সাতগাঁও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিলেতে সাড়ে সাতশ দিন – মুহম্মদ আবদুল হাই
    Next Article পরিবার, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি – ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস (অনুবাদক : মন্মথ সরকার)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }