Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ইলিয়াড – হোমার

    পার্থ সারথী দাস এক পাতা গল্প473 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২১. নদীতীরের যুদ্ধ

    একবিংশতি পর্ব
    নদীতীরের যুদ্ধ

    যুদ্ধরত অবস্থায় এগিয়ে যেতে যেতে জিয়াসপুত্র জ্যানথাস নদীর মোহনার কাছে এসে উপনীত হলেন অ্যাকেলিস। এইভাবে এসে শত্রুসৈন্যদলকে দুইভাবে বিভক্ত করে দিলেন। তাদের একটি দলকে ট্রয়নগরী অভিমুখে বিতাড়িত করে নিয়ে যেতে লাগলেন। গতকাল যেখানে বিজয়গৌরবে গৌরবান্বিত হেক্টরের নেতৃত্বে একদল ট্রয়সেনাদের হাতে নির্জীত হয়ে সন্ত্রস্ত অবস্থায় পালাচ্ছিল গ্রীকসেনাদল এবং দেবী হেরা তাদের একরাশ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন করে তাদের পলায়নে সহায়তা করেন, আর সেইখানে গ্রীকসেনাদের হাতে নির্জীত হতে লাগল ট্রয়সেনাগণ। ট্রয়সৈন্যগণ আর একটি দল নদীর ধরে এসে আর পথ খুঁজে পেল না। কোনদিকে পথ না পেয়ে নদীর জলে ঝাঁপিয়ে পড়ল তারা। তাদের ভীতিবিহ্বল চিৎকারে নদীবক্ষে ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠল। তৃণক্ষেত্র অগ্নিসংযুক্ত হলে যেমন নিকটবর্তী কোন নদীবক্ষে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে যায় পঙ্গপালের দল, তেমনি অ্যাকেলিসের দ্বারা আক্রান্ত ট্রয়সেনাদল ও অশ্বের দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে উঠল জ্যানথাস নদীর জল।

    অ্যাকেলিস তখন তাঁর প্রকাণ্ড বর্শাটি নদীতীরস্থ একটি ঝোঁপের ধারে রেখে শুধু তরবারি হাতে নদীর জলে নেমে গেলেন। সেই তরবারি হাতে নদীর মাঝে চারিদিকে তাড়া করে নিয়ে যেতে লাগলেন তিনি শত্রুসেনাদের। তাঁর সুতীক্ষ্ণ তরবারির অব্যর্থ আঘাতে মুমূর্ষ ট্রয়সেনারা আর্তনাদ করতে লাগল। তাদের অমিত রক্তধারায় লাল হয়ে উঠল জ্যানথাস নদীর জল। মৎস্যভক্ষণকারী কোন বিশাল জন্তুর হাত থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য মাছগুলো যেমন যেদিকে সেদিকে ছুটে পালাতে থাকে তেমনি অ্যাকেলিসের আক্রমণ হতে আত্মরক্ষার জন্য নদীতীরের দিকে পালাতে লাগল ট্রয়সৈন্যরা। অসংখ্য শত্রুসৈন্যকে একের পর এক করে হত্যা করে ক্লান্ত হয়ে পড়ল যখন অ্যাকেলিসের বাহু দুটি। তখন তিনি প্যাট্রোক্লাসের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ উদ্দেশ্যে বারোজন ট্রয়যুবককে জীবন্ত ধরে নিয়ে তাদের হাতগুলো বেঁধে তাদের গ্রীকজাহাজে পাঠিয়ে দিলেন।

    তারপর আরও শত্রুরক্তক্ষয়ের জন্য নদীবক্ষে আবার ঝাঁপ দিলেন। এমন সময় অ্যাকেলিস দেখলেন অন্যতম প্রিয়ামপুত্র লাইকাওন জল থেকে উঠে পালাবার চেষ্টা করছে। এই লাইকাওন যখন একবার অ্যাকেলিসের পিতার শস্যক্ষেত্রে কোন এক রাত্রিতে একটি ডুমুরগাছ কাটছিল তার রথনির্মাণের জন্য তখন অ্যাকেলিস তাকে ধরে ফেললেন। পরে তাকে বন্দি অবস্থায় লেমন দ্বীপে জেসনের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু প্রিয়াম পরিবারের অন্যতম বন্ধু ইমব্রস নিবাসী এইডন তখন প্রচুর টাকার বিনিময়ে লাইকাওনকে মুক্ত করে অ্যারিসবেতে পাঠিয়ে দেন। অ্যারিসবে থেকে লাইকাওন পালিয়ে আসে তার পিতার কাছে। লেমন দ্বীপ থেকে ফিরে আসার পর এগার দিন সুখে শান্তিকে যাপন করে লাইকাওন; কিন্তু বারো দিনের দিন আবার সে পড়ে যায় অ্যাকেলিসের হাতে। অ্যাকেলিস দেখলেন লাইকাওন নিরস্ত্র। কারণ সে তার ঢাল, শিরস্ত্রাণ ও বর্শা সব নদীতীরে রেখে ঝাঁপ দেয় জলযুদ্ধে। এবার নিবিড় রণক্লান্তিতে বিবশ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে উঠে যাচ্ছিল সে নদীবক্ষ হতে।

    তখন অ্যাকেলিস বিস্মিত হয়ে আপন মনে বলতে লাগলেন, কী আশ্চর্যজনক ঘটনাই তা প্রত্যক্ষ করছি। লেমস দ্বীপে যাকে একদিন বিক্রি করা হয় সে যদি আজ সেখানে থেকে সমুদ্রের অনন্ত জলরাশির বাধা অবলীলাক্রমে অতিক্রম করতে পারে তাহলে যেসব ট্রয়সৈন্যকে আমি হত্যা করেছি তারাও উঠে আসবে মৃত্যুপুরী থেকে। এবারে কিন্তু তাকে আমার বর্শার আস্বাদন করতেই হবে। এবার আমি দেখব মৃত্যুপুরী তাকে ধরে রেখে দিতে পারে কিনা।

    এইভাবে অ্যাকেলিস যখন শান্ত মনে চিন্তা করছিলেন তখন লাইকাওন তার কাছে এসে তার পা দুটো জড়িয়ে ধরল। তাকে হত্যা করার মানসে যে বর্শাটি উৎক্ষিপ্ত করেছিলেন অ্যাকেলিস এক হাতে সেই বর্শাটি ধরে ও অন্য হাতে অ্যাকেলিসের একটি পা ধরে জীবনভিক্ষা করছিল অতৃপ্ত জীবনপিপাসায় আর্ত লাইকাওন। সে অনুনয় বিনয় করে বলল, অ্যাকেলিস, আমাকে বিক্রয় করে তুমি একদিন একশোটি বলদ লাভ করো। তার তিনগুণ অর্থ দান করে তার বিনিময়ে মুক্তি পাই আমি। অশেষ দুঃখ কষ্ট ভোগ করে মাত্র বারো দিন আগে এখানে আসি আমি। কিন্তু আমার প্রতি ঘৃণাবশত জিয়াস আবার আমাকে তোমার হাতে সঁপে দিলেন। আমার মাতা অ্যাটলাসকন্যা লাওমীর গর্ভে স্বল্পায়ুরূপেই জন্মগ্রহণ করি আমি। সাতনিউসিস নদীর ধারে খাড়াই পাহাড়ের উপর অবস্থিত পোদাদাস রাজ্যে রাজা বৃদ্ধ অ্যাটলাসের কন্যাকে বিবাহ করেন রাজা প্রিয়াম। সেই বিবাহের ফলে দুটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন আমার মাতা। তার মধ্যে পরিডোয়াসকে আগেই হত্যা করেছ তুমি। আর আমি জানি আমাকে যখন দেবতারা আবার তোমার হাতে অর্পণ করেছেন তখন আমিও পরিত্রাণ পাব না তোমার হাত থেকে। তবু বলছি, আমাকে মুক্তি দাও, কারণ যে হেক্টর তোমার বীর সহকর্মীকে হত্যা করেছে আমি তার সহোদর ভাই নই।

    প্রিয়ামপুত্র লাইকাওনের এই কাতর আবেদনের উত্তরে কঠোরভাবে অ্যাকেলিস বললেন, ওহে নির্বোধ,আমার কাছে মুক্তির বিনিময়ে উপঢৌকনের কথা বলো না। যতক্ষণ প্যাট্রোক্লাস নিহত হয় নি আমি যুদ্ধ হতে বিরত থেকে ট্রয়বাসীদের অনেক সুযোগ দিয়েছি, বহু বন্দিকে জীবিত অবস্থায় বিক্রি করেছি। কিন্তু এর যারা আমার হাতের কাছে এসে পড়বে তারা কেউ বাঁচতে পারবে না। প্রিয়ামপুত্রদের সঙ্গে ট্রয়বাসীদেরও মরতে হবে। সুতরাং বন্ধু, তোমাকেও মরতে হবে। কিন্তু কেন তুমি এত কাতর হচ্ছ মরতে? প্যাট্রোক্লাস তোমার থেকে অনেক যোগ্য ব্যক্তি ছিল, সে মরেছে, আর এই যে আমাকে দেখছ কত বড় বীর আর কেমন সুন্দর সুদর্শন-আমি এক মহান পিতার সন্তান এবং একজন দেবী আমার মাতা। কিন্তু অন্যান্য মানুষের মত মৃত্যুর করাল ছায়া আমার উপরেও পতিত হয়েছে। এমন একদিন আসবে যেদিন সকাল সন্ধ্যা অথবা বেলা দ্বিপ্রহর কালে এই যুদ্ধক্ষেত্রে কোন না কোন শত্রুসৈন্যদের নিক্ষিপ্ত বর্শা অথবা তীরের আঘাতে জীবনাবসান ঘটবে আমার।

    অ্যাকেলিসের একথায় হতাশায় ম্রিয়মান হয়ে উঠল লাইকাওন। অ্যাকেলিসের বর্শাটি ছেড়ে দিয়ে মাটিতে বসে পড়ল আর অ্যাকেলিস তখন তাঁর তরবারিটি আমূল বসিয়ে দিলেন তার দেহে। তারপর তার পা ধরে তার মৃহদেহটি টেনে নদীর জলে ফেলে দিয়ে বললেন, যাও, স্কামান্দার নদীর জল তোমাকে টেনে নিয়ে যাবে সমুদ্রের বুকে, সেখানে অসংখ্য মাছ জলের তলায় তোমার দেহটিকে ঠুকরে ঠুকরে খাবে। এইভাবে যতদিন পর্যন্ত আমি ইলিয়াম দুর্গ জয় করতে পারি ততদিন তোমার মতই বহু ট্রয়বাসীকে নিহত হতে হবে আমার হাতে। যে সব নদীর উদ্দেশ্যে বলদ,অশ্ব প্রভৃতি বহু জীবন্ত পশু উৎসর্গ করে তাদের জলে ফেলে দিয়েছ সেই সব নদীর রজতশুভ্র প্রশস্ত বক্ষ রক্ষা করতে পারবে না তোমাদের। তোমাদের মধ্যে এমন একজনও কেউ নেই যে আমার যুদ্ধবিরতিকালে নিহত প্যাট্রোক্লাস ও অসংখ্য গ্রীকসেনার মৃত্যু সমগ্র ঋণ পরিশোধ করতে পারে।

    অ্যাকেলিস যখন এই সব কথা বলছিলেন তখন এক প্রচণ্ড ক্রোধের উচ্ছ্বাসে ফুলে ফুলে উঠছিল স্কামান্দার নদীর জল। অ্যাকেলিসকে প্রতিহত করে ট্রয়বাসীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে চাইছিল স্কামান্দার। এদিকে অ্যাকেলিস বর্শা হাতে পেলিগন পুত্র অ্যাসটারোপীয়াসকে হত্যা করতে উদ্যত হলেন। পেলিগণ ছিলেন সর্বাপেক্ষা সুন্দর নদী এস্কিয়াসের পুত্র। জ্যানথান নদীর জলে অ্যাকেলিস বহু ট্রয়যুবককে হত্যা করার জন্য তাঁর উপর ক্রুদ্ধ হয়ে জ্যানথাস সাহস সঞ্চার করতে লাগলেন অ্যাসটারোপীয়াসের মনে। অ্যাকেলিস কাছে এসে অ্যাসটারোপীয়াসকে বললেন, কোন সাহসে তুমি আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছ? ধিক তোমার পিতামাতাকে!

    অ্যাসটারোপীয়াস তার উত্তরে বলল, কেন তুমি আমার বংশ পরিচয় জিজ্ঞাসা করছ? উর্বর দেশ পীওনিয়া আমার নিবাস। মর্ত্যভূমির উপর প্রবাহিত সকল নদীর মধ্যে সুন্দর অ্যাক্সিয়াস শেলিগন নামে যে বীর পুত্রের জন্ম দান করেন সেই পেলিগনই আমার পিতা।

    অ্যাকেলিস তাঁর প্রতি বর্শা নিক্ষেপ করতেই অ্যাসটারোপীয়াস তার দুই হাতে ধৃত দুটি বর্শা একসঙ্গে নিক্ষেপ করল। একটি বর্শা অ্যাকেলিসের ঢালে লেগে দেবদত্ত স্বর্ণস্তরে প্রতিহত হলো। আর একটি বর্শা অ্যাকেলিসের দক্ষিণ বাহুগর্ভের চর্মতৃক ছিন্ন করে পাশ দিয়ে চলে গেল। অ্যাকেলিস তখন আবার বর্শা নিক্ষেপ করতেই সে বর্শাটি নদীতীরের মাটিতে গেঁথে গেল। এবার তরবারি কোষমুক্ত করে তাই দিয়ে আক্রমণ করলেন অ্যাকেলিস। অ্যাসটারোপীয়াস যখন ঝুঁকে পড়ে নদীতীরের মাটি হতে অ্যাকেলিসের বর্শাটি তোলার চেষ্টা করছিল, তখন অ্যাকেলিস তাঁর তরবারিটি তার উদরদেশে আমূল বসিয়ে দিলেন। তার বর্মটি খুলে নিয়ে অ্যাকেলিস সদম্ভে বললেন, তুমি নদীর পুত্র হলেও আমি হচ্ছি ক্রোনাসপুত্রের বংশধর, কারণ পিতামহ ঈয়াকাস ছিলেন জিয়াসের পুত্র। তোমার মাঝেই রয়েছে এক বিশাল নদী। কিন্তু যে জিয়াসের সঙ্গে একিনোয়াসের মত রাজা ওসিয়ানসের মত শক্তিধর নদী যুদ্ধ করার সাহস পায় না সেই জিয়াসের বংশধরের সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসা উচিত নয় তোমাদের। জিয়াসের দ্বারা বিচ্ছুরিত বজ্রকে ভয় পায় না এমন কেউ নেই।

    নদীর চরে পড়ে থাকা অ্যাসটারোপীয়াসের মৃতদেহটিরে উপর দিয়ে নদীতরঙ্গগুলো যখন প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছিল তখন অসংখ্য মাছ সে দেহটিকে ঠুকরে ঠুকরে খাচ্ছিল। এবার তাদের নেতার মৃত্যুতে ছত্রভঙ্গ ও হতোদ্যম পীওনিয়াবাসীদের আক্রমণ করলেন অ্যাকেলিস। এই আক্রমণকালে তিনি থার্সিলোকাস, মাইডন, অ্যানথাই, পাইলাস, মেনেমাস, থেসিয়াস ও ওফেলেটেসকে হত্যা করলেন। তিনি হয়ত এইভাবে আরও অনেককেই হত্যা করতেন যদি না জ্যানথাস নদী জলের গম্ভীর হতে উঠে এসে মানবমূর্তি ধারণ করে অ্যাকেলিসকে সম্বোধন করে বলতেন, হে অ্যাকেলিস, তুমি শুধু শক্তিতে নয়, নিষ্ঠুরতাতেও অদ্বিতীয়। দেবতাদের কৃপায় তুমি যদি ট্রয়বাসীদের নিঃশেষে ধ্বংস করাতে চাও তাহলে অন্তত আমার বক্ষস্থল হতে উঠে স্থলভাগে গিয়ে তোমার এই ভয়াবহ ধ্বংসকাৰ্য্য সাধন করো। তুমি আমার জলে এত লোক হত্যা করেছ যে অসংখ্য মৃতদেহের স্থূপে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে আমার গতি, যার ফলে আমি সমুদ্রে যাবার কোন পথ খুঁজে পাচ্ছি না। আমার নির্মল জল হয়ে উঠেছে। ভয়াবহভাবে দূষিত। সুতরাং হে বীর সেনাপতি, আমার জলে হত্যাকার্য চালিয়ে গিয়ে আমাকে আর কষ্ট দিও না।

    অ্যাকেলিস উত্তর করলেন, তাই হোক জিয়াসসন্ততি স্কামান্দার, তবে জেনে রেখো, আমি সমস্ত ট্রয়বাসীকে তাদের অবরুদ্ধ করে না রাখা পর্যন্ত যুদ্ধ থামাব না। আমি হেক্টরের সম্মুখীন হয়ে জানতে চাই কে কাকে পরাজিত করবে?

    এই কথা বলা শেষ করে আবার ট্রয়সেনাদের উপর আক্রমণ শুরু করলেন অ্যাকেলিস। স্কামার তখন অ্যাপোলোকে বললেন, হে জিয়াসতনয়, তুমি নিশ্চয়ই জিয়াসের নির্দেশ মেনে চলছ না, কারণ তিনি সন্ধ্যাকাল সমাগত না হওয়া পর্যন্ত ট্রয়বাসীদের সাহায্য করতে বলেছিলেন তোমাকে।

    ইতিমধ্যে তীর হতে মধ্যনদীতে আবার ঝাঁপিয়ে পড়লেন অ্যাকেলিস। তখন স্কামার নদীও এক বিরাট ঢেউ তুলে আক্রমণ করলেন অ্যাকেলিসকে। প্রথমে সেই ঢেউটি অ্যাকেলিসের চারিপাশি এমনভাবে উত্তাল হয়ে উঠল যার ফলে নদীর জলে পা রেখে দাঁড়াতে পারছিলেন না অ্যাকেলিস। তাঁর ঢালটিকেও ধরে রাখতে পারছিলেন না। তীরসংলগ্ন একটি এলমগাছকে অবলম্বন হিসেবে হাত বাড়িয়ে ধরলেন অ্যাকেলিস। কিন্তু সেই বিশাল ঢেউটি গাছটিকে উপড়িয়ে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। অ্যাকেলিস তখন নদী থেকে উঠে ভয়ে পালাতে লাগলেন।

    কিন্তু তথাপি সেই কৃষ্ণকায় নদীতরঙ্গটি পশ্চাদ্ধাবন করতে লাগল অ্যাকেলিসের। তার কবল থেকে ট্রয়বাসীদের সত্যসত্যই উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন তিনি। ঈগলের মত দ্রুতবেগে অ্যাকেলিস সেখান থেকে সরে গেলেও নদীতরঙ্গটি ক্রমাগত প্রধাবিত হতে লাগল তার পশ্চাতে। দ্রুতগামী অ্যাকেলিস কিছুতেই পেরে উঠলেন না দুর্বারগতি সে তরঙ্গমালার সঙ্গে।

    তখন স্বর্গের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করে বললেন অ্যাকেলিস, হে পরম পিতা জিয়াস, পরে যা হয় হবে, কিন্তু এখন কি কোন দেবতা এই নদীর আক্রমণ হতে রক্ষা করতে পারবে না আমায়? এখন দেখছি আমার মাতা ছলনা ও প্রতারণা করেছেন আমার সঙ্গে। সব দোষ তার। আমার মাতা বলেছিলেন ট্রয়নগরীর প্রাচীরপার্শ্বে অ্যাপোলোর তীরে বা সর্বশ্রেষ্ঠ ট্রয়বীরের হাতে বীরের মতই মরব আমি। কিন্তু এখন দেখছি শূকরপালক এক রাখালবালকের মত সামান্য এক নদীর হাতে বন্দি হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হবে আমায়।

    অ্যাকেলিসের প্রার্থনা শেষ হতেই পসেডন ও এথেন মানুষের মূর্তিতে এসে উপস্থিত হলেন তাঁর কাছে। পসেডনই প্রথম বলেছেন, ভীত হয়ো না পেলেউসপুত্র, জিয়াসের অনুমতি নিয়ে আমরা দুজন দেবতা তোমার সাহায্যার্থে এখানে এসে উপস্থিত হয়েছি। এই নদীর হাতে তোমার মৃত্যু নেই। শীঘ্রই প্রশমিত হবে এর জলোচ্ছাস। আমরা তোমাকে এই পরামর্শ দান করছি, ইলিয়াম নগরীর মধ্যে ট্রয়বাসীদের অবরুদ্ধ না করা পর্যন্ত ক্ষান্ত হবে না তুমি। তারপর হেক্টরকে হত্যা করে জাহাজে ফিরে যাবে। আমার ইচ্ছায় তাকে তুমি অবশ্যই পরাজিত করবে।

    দেবতারা চলে গেলে তাঁর আকাঙ্ক্ষিত ধ্বংসকার্যসাধনোদ্দেশ্যে এগিয়ে যেতে লাগলেন অ্যাকেলিস। কূলপ্লাবী স্কামান্দারের জলোজ্জাস তখনো পরিব্যাপ্ত করে ছিল নদীতীরের বিশাল প্রান্তরটিকে। নিহত সৈনিকদের বহু মৃতদেহ ও বর্ম ভেসে যাচ্ছিল সে জলে। এথেন প্রদত্ত এক অলৌকিক শীক্তবলে সেই বিস্তীর্ণ জলরাশি ভেঙ্গে এগিয়ে যেতে লাগলেন অ্যাকেলিস।

    দেবতাদের নির্দেশবাক্য মানল না স্কামান্দার। কিছুমাত্র প্রশমিত করল না কুদ্ধ জলোচ্ছাসকে। বরং সে আরও উত্তাল হয়ে উঠতে লাগল অ্যাকেলিসের পথে। উপরন্তু তার ভ্রাতা সাইময় নদীকে ডেকে বলল স্কামান্দার, হে আমার প্রিয়তম ভাই, এস আমরা দুজনে প্রতিহত করি এই দুর্ধর্ষ লোকটিকে, তা না হলে রাজা প্রিয়ামের নগরটিকে ধ্বংস করে ফেলবে। নিজেকে দেবতাজ্ঞানে উতুঙ্গ স্পর্ধায় প্রমত্ত হয়ে উঠেছে ও এক অপ্রতিরোধ্য ধ্বংসলীলায়, তার গতিরোধ করার জন্য অসংখ্য গর্জনশীল তরঙ্গমালা বিস্তার করে এগিয়ে এস আমার সাহায্যে। কাষ্ঠ ও প্রস্তরখণ্ড ভাসিয়ে এনে বাধা সৃষ্টি করো ওর পথে। আমাদের সম্মিলিত জলরাশির তলদেশে কর্দমাক্ত অবস্থায় সমাহিত হয়ে এক বিরাট ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে ওর অমিত শক্তি ও দেহসৌন্দর্যের অহঙ্কার, ওর বর্ম ও অস্ত্ররাজির উদ্ধত উজ্জ্বলতা। বালুকা ও পলিমাটির স্তূপ দ্বারা আমি ওকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলব যে গ্রীকরা ওকে খুঁজেই পাবে না। ওর মৃতদেহকে চিতানলে দাহ করা বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার কোন প্রয়োজন হবে না।

    জ্যানথাসের একথা শেষ না হতেই তার ফেনায়িত ও রক্তাক্ত তরঙ্গমালা উত্তাল হয়ে উঠল আবার অ্যাকেলিসের চারিদিকে। সে তরঙ্গমালা হয়ত সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে ফেলত অ্যাকেলিসকে, ভাসিয়ে নিয়ে যেত তাকে, যদি না হেরা তাঁর পুত্র হিফাস্টাসকে ডেকে বলতেন, হে আমার খঞ্জ পুত্র, তোমার একদা শত্রু জ্যানথাসের বিরুদ্ধে সংহত করো তোমার সমস্ত শক্তি। তুমি এক বিরাট অগ্নিকুণ্ড প্রজ্জ্বলিত করো, আমি পশ্চিমা ও দক্ষিণা বায়ুকে একত্রিত করে এক ভয়াবহ সামুদ্রিক প্রভঞ্জনে পরিণত করে সেই অগ্নিকুণ্ডের লেলিহান শিখাগুলো চারিদিকে বিস্তার করে ট্রয়সেনাদের মৃতদেহগুলো পুড়িয়ে দেব আর তুমি জ্যানথাস নদীর তীরে গিয়ে গাছগুলোকে সব দগ্ধ করে তাকে এমনভাবে অগ্নিদ্বারা পরিবৃত করে রাখবে যাতে সে কোনদিকে যেতে না পারে। তার কোন কথায় ভুলবে না, আমি তোমাকে না বলা পর্যন্ত তুমি তাকে মুক্ত করবে না।

    হিফাস্টাস তখন নদীতীরস্থ সেই জলপ্লাবিত প্রান্তরে এমন এক বিশাল অগ্নিকুণ্ড প্রজ্জ্বলিত করলেন যার ভয়াবহ তাপে সমস্ত জলরাশি শুকিয়ে গেল। ভাসমান মৃতদেহগুলো সব দগ্ধ ও ভস্মীভূত হয়ে গেল। উত্তরের শুষ্ক বাতাসে যেমন শরৎকালীন বৃষ্টির জল নিঃশেষে শুকিয়ে যায় তেমনি হিফাস্টাস তখন এই জ্বলন্ত অগ্নির লেলিহান জিহ্বাগুলোকে নদীর দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে প্রথমে নদীতীরসংলগ্ন সমস্ত বৃক্ষগুলোকে পুড়িয়ে দিলেন। তারপর তার তাপে দগ্ধ করতে লাগলেন স্কামান্দারকে। স্কামান্দার তখন হিফাস্টাসকে কাতর কণ্ঠে বললেন, হে হিফাস্টাস, আমি তো কোন ছার কোন দেবতাই তোমাকে পরাজিত করতে পারে না। তোমাকে ক্রুদ্ধ ও লেলিহান শিখাকে প্রতিহত করার সামর্থ্য আমার নেই। সুতরাং আমাকে মুক্তি দাও। অ্যাকেলিস ট্রয়বাসীদের তাদের নগর থেতে বিতাড়িত করুন। মর্তমানবের যতসব হীন কলহবিবাদে জড়িত হয়ে কী লাভ আমার?

    জ্যানথাস যখন একথা বলছিল তখন হিফাস্টাস প্রজ্জ্বলিত অগ্নিতাপে দগ্ধ হচ্ছিল সে। চুল্লীতাপে কোন পাত্রস্থ ফুটন্ত জলরাশি যেমন বাষ্পীভূত হয়ে যায় ধীরেধীরে তেমনি শুকিয়ে উড়ে যাচ্ছিল জ্যানথাস নদীর সমস্ত জল। আর কোন প্রবাহ ছিল না তার শীর্ণ শুষ্ক বুকে। তখন অগ্নিদগ্ধ স্কামান্দর অনন্যেপায় হয়ে দেবরাজ্ঞী হেরার কাছে প্রার্থনা জানিয়ে বলল,যে সব দেবতা ট্রয়বাসীদের সাহায্য করছে তাদের মত আমার কাজ তেমন দোষের নয় তবে কেন তোমার পুত্র আমাকে এমনভাবে দগ্ধ করছে? তুমি তোমার পুত্রকে ক্ষান্ত হতে বল। আমি শপথ করছি এরপর আর কখনো ট্রয়বাসীদের ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য কোন চেষ্টাই করব না। এমন কি গ্রীকরা যখন ট্রয়নগরীতে অগ্নিসংযোগ করবে তখনো বা ধ্বংস না করার জন্য কোন সাহায্য তাদের করব না।

    এই শপথবাক্য শুনে হেরা হিফাস্টাসকে বললেন, এবার তোমার সমস্ত তেজ সংবরণ কর। মর্তমানবের খাতিরে কোন দেবতাকে অকারণে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়।

    মাতার আদেশে হিফাস্টাস সমস্ত অগ্নি নির্বাপিত করে দিলেন। আর জ্যানথাসও তখন বিপনুক্ত হয়ে তার চিরশীতল জলতলশয্যায় গিয়ে শায়িত হলো। জ্যানথাস চলে যেতে অ্যাকেলিসের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের অবসান হলো। হেরা তবু তখনো রেগে ছিলেন। এদিকে দ্বিমত উপস্থিত হলো দেবতাদের মধ্যে। নিজেদের মধ্যে বিবাদে প্রবৃত্ত হলেন। তাঁরা সকলে। এ বিবাদ শুরু হলো রণদেবতা অ্যারেসের দ্বারা। তরবারি হাতে এথেনকে আক্রমণ করে অ্যারেস বললেন, তুমি একবার টাইডেউসপুত্র ডায়োমিডিসকে উত্তেজিত করো আমার বিরুদ্ধে। তার বর্শা নিজের হাতে নিয়ে আমার দেহে আঘাত করো। এবার তার প্রতিফল ভোগ করতে হবে তোমার। দেবতাদের এই সব তর্জন গর্জনে মুহুর্মুহুঃ প্রকম্পিত হয়ে উঠতে লাগল সমগ্র পৃথিবী। ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠতে লাগল প্রশস্ত উদার আকাশ। এই কলহের কথা শুনে অলিম্পাস পর্বতের স্বর্ণশিখরে বসে এক ভয়ঙ্কর অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন দেবরাজ জিয়াস।

    অ্যারেস প্রথমে বর্শা নিক্ষেপ করলেন এথেনকে লক্ষ্য করে। এথেন সরে গিয়ে এক বিরাট প্রস্তরখণ্ড তুলে নিয়ে তা নিক্ষেপ করলেন অ্যারেসের উপর। সে পাথর অ্যারেসের ঘাড়ে লাগায় তিনি পড়ে গেলেন আর সঙ্গে সঙ্গে ধূলিধূসর হয়ে উঠল তাঁর দীর্ঘ কেশরাশি। তা দেখে হেসে এথেন বললেন, মূঢ়, তুমি কি জান না, তোমার থেকে কত শক্তিশালী আমি? এবার তোমার মাতার অভিশাপ নেমে আসবে তোমার উপর। কারণ তুমি গ্রীকপক্ষ ত্যাগ করে ট্রয়পক্ষকে সাহায্য করছ।

    এথেন ক্ষণিকের জন্য তাকে অন্যত্র সরিয়ে নিতেই অ্যাফ্রোদিতে এসে অ্যারেসকে সরিয়ে নিয়ে গেলেন। তা দেখে হেরা এথেনকে বললেন, দেখছ, অ্যাফ্রোদিতে এসে অ্যারেসকে সরিয়ে নিয়ে গেল যুদ্ধক্ষেত্র হতে। তুমি তার পশ্চাদ অনুসরণ করো।

    অ্যাফ্রোদিতের পশ্চাদ্ধাবন করে তাকে ধরে ফেলে তার বুকের উপর হাত দিয়ে এমনভাবে আঘাত করলেন এথেন যাতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন। তখন এথেনকে বললেন, যারা অ্যাফ্রোদিতের মত ট্রয়বাসীদের সাহায্য করেছিল তাদের সবার যদি এই অবস্থা হত তাহলে অনেক আগেই ইলিয়াম নগরী বিধ্বস্ত জয়ে ট্রয়যুদ্ধের অবসান ঘটত।

    একথা শুনে হাসতে লাগলেন হেরা। ইতিমধ্যে পসেডন অ্যাপোলোকে বললেন, ফীবাস, কেন আমরা দূরে দূরে রয়েছি যুদ্ধের কাছ থেকে অন্য দেবতারা যখন যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে নিজেদের মধ্যে তখন আমরা যদি বিনা যুদ্ধে অলিম্পাসের স্বর্গপ্রাসাদে প্রত্যাবর্তন করি তাহলে সেটা অপমানজনক হবে আমাদের পক্ষে। আমাদের দুজনের মধ্যে তুমি ছোট বলে তোমাকে আঘাত করা আমার উচিত হবে না। একবার তোমাকে ও আমাকে জিয়াসের নির্দেশে একটি বছর লওমীডনের কাছে ফরমাস খাটতে হয়। আমি ইলিয়াম নগরীর চারদিকে এক প্রশস্ত সুন্দর ও দুর্ভেদ্য প্রাচীর নির্মাণ করি আর তুমি তার মেষ চরাতে। কিন্তু বছরের কাজ শেষ হয়ে গেলে বেতন না দিয়ে আমাদের কুবাক্য বলে তাড়িয়ে দেয় লাওমীডন। উপরন্তু সে আমাদের এই বলে ভয় দেখায় যে, সে আমাদের বেঁধে রাখবে এবং কোন দূর দেশে বিক্রি করে দেবে। তখন আমরা রেগে বেতন না নিয়েই চলে যাই। আজ তুমি সেই দুবৃত্ত লাওমীডনের দেশের লোকদের অনুগ্রহ করছ। গর্বিত ট্রয়বাসীদের ধ্বংস সাধনের জন্য আমাদের এই প্রচেষ্টায় কোন সাহায্য করছ না।

    অ্যাপোলো উত্তর করলেন, হে ভূকম্পন দেবতা, আমি যদি সামান্য মরণশীল মানুষদের জন্য যুদ্ধ করি তোমার সঙ্গে তাহলে আমাকে তুমি কখনই শ্রদ্ধা করবে না। মানুষ হচ্ছে বসন্ত সমাগমে প্রচুর পরিমাণে উদগত বৃক্ষপত্রের ন্যায়, দুদিনের জন্য ভূমিগর্ভের সব রসটুকু পান করে নিষ্প্রাণ হয়ে মাটিতে ঝরে পড়ে। সুতরাং চল আমরা যুদ্ধক্ষেত্র হতে চলে যাই। ওরা যা করে করুক।

    অ্যাপোলো চলে গেলেন। তিনি তাঁর পিতার ভ্রাতার গায়ে হাত দেবেন না। কিন্তু তার বোন তীরন্দাজ দেবী আর্তেমিস ক্রুদ্ধ হয়ে বলেন, নির্বোধ, কেন তুমি তোমার ধনুর্বাণ নিষ্ক্রিয় করে রেখেছ? তুমি না একবার অহঙ্কার করে বলেছিলে তুমি পসেডনের সঙ্গে যুদ্ধ করবে?

    অ্যাপোলো কোন উত্তর দিলেন না। কিন্তু দেবরাজ্ঞী হেরা ক্রুদ্ধ হয়ে ভসনা করতে লাগলেন আর্তেমিসকে। তিনি বললেন, কোন সাহসে তুমি আমার বিরুদ্ধে দাঁড়াও। তোমার যতই ধনুর্বাণ থাক, আমার সঙ্গে কখনই পেরে উঠবে না। তোমার থেকে যারা শক্তিশালী তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে না এসে বনের পশুদের তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ানো উচিত তোমার। তুমি আমার সঙ্গে যদি লড়াই করতে চাও তো এস।

    এই বলে একটি হাত দিয়ে হেরা আর্তেমিসের একটি হাতের কব্জি ধরলেন আর একটি হাত দিয়ে তাঁর ধনুর্বাণটি কেড়ে নিয়ে তাকে আঘাত করলেন। সে আঘাতে মুচড়ে উঠল আর্তেমিসের দেহটা। তাঁর ধনুর্বাণ মাটিতে পড়ে গেল, আর কোন বাজপাখির তাড়নায় পলায়নরত এক বনকপোতের মত কাঁদতে কাঁদতে পালিয়ে গেলেন আর্তেমিস। তাঁর সাধের ধনুর্বাণ সেখানেই পড়ে রইল।

    অ্যাপোলো এবার লীটোর কাছে গিয়ে বললেন, লীটো, আমি আর কখনো জীয়াসের পত্নীর সঙ্গে যুদ্ধ করব না।

    আর্তেমিস তখন অলিম্পাসের পথে চলে গেলেন। লীটো তাঁর ধনুর্বাণটি কুড়িয়ে নিয়ে আর্তেমিসের সন্ধান করতে লাগলেন। আর্তেমিস সোজা দেবরাজ জিয়াসের কাছে যেতেই তিনি তাকে কাছে টেনে নিয়ে বললেন, কোন দেবতা তোমাকে এমন নিষ্ঠুরভাবে আঘাত করেছে? আর্তেমিস বললেন, তোমার পত্নী হেরা আমাকে আঘাত করেছে পিতা। দেবতাদের সঙ্গে আমার কোন বিবাদই হলেই তিনি আমাকে এইভাবে আঘাত করেন।

    অন্যান্য দেবতারা যখন ক্রুদ্ধ হয়ে অলিম্পাসে ফিরে গেলেন, একা ফীবাস অ্যাপোলো তখন চলে গেলেন ইলিয়াম নগরীতে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই যাতে গ্রীকদের হাতে বিধ্বস্ত না হয় এজন্য উদ্বেগ অনুভব করছিলেন তিনি। এদিকে অ্যাকেলিস তখনো ক্রমাগত ট্রয়সৈন্য ও রথাশ্ব বধ করে চলেছিলেন।

    বৃদ্ধ রাজা প্রিয়াম ট্রয়ের দুর্গপ্রাকারের এক স্থানে দাঁড়িয়ে দেখলেন, এক অপরাজেয় পৌরুষ ও বিপুল বিক্রমের সঙ্গে অ্যাকেলিস একাই সমস্ত ট্রয়সৈন্যদের তাড়িয়ে নিয়ে চলেছেন। ট্রয়সৈন্যরা ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছুটে পালিয়ে আসছে। তাদের সাহায্য করার কোথাও কেউ নেই। এই দৃশ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গে রাজা প্রিয়াম এক আদেশ জারি করে সমস্ত নগরদ্বার সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত করে দিতে বললেন। তিনি বললেন, সব দরজা খুলে দাও, অ্যাকেলিসের তাড়নায় বিপন্ন ও বিব্রত ট্রয়সেনারা নগরমধ্যে এসে আশ্রয় গ্রহণ করুক। সমস্ত সৈন্যরা ভিতরে এলে দরজাগুলো আবার বন্ধ করে দেবো। তা না হলে ঐ ভয়ঙ্কর লোকটা নগরমধ্যে ঢুকে পড়বে।

    রাজা প্রিয়ামের আদেশে নগরদ্বারগুলো উন্মুক্ত হবার সঙ্গে সঙ্গে ট্রয়সৈন্যরা সকলে প্রবেশ করার জন্য ঠেলাঠেলি শুরু করে দিল। এমন সময় অ্যাপোলো নগর হতে বেরিয়ে এলেন তাদের রক্ষার জন্য। তিনি দেখলেন, পিপাসার্ত ও ধূলিমলিন ট্রয়সেনারা সকলে একসঙ্গে নগরমধ্যে প্রবেশ করার জন্য ছুটে আসছে দ্বারপথে আর জয়গৌরবপিপাসু অ্যাকেলিস ভয়ঙ্কর মূর্তিতে তাদের তাড়ানা করে নিয়ে চলেছে।

    এইভাবে অ্যাকেলিসের নেতৃত্বে গ্রীকসেনারা হয়ত ট্রয়নগরীর মধ্যে প্রবেশ করে ফেলত। কিন্তু অ্যাপোলো তখন অ্যাটিনরের বীর পুত্র অ্যাজিনরের মধ্যে সাহস ও শক্তি সঞ্চার করলেন। একটি ওকগাছের পাশে থেকে অ্যাপোলো এক কৃত্রিম অন্ধকার দ্বারা আচ্ছান্ন ও অদৃশ্য করে তুললেন অ্যাজিনরকে। অ্যাজিনর তখন অ্যাকেলিসকে দেখে ভীত হয়ে ভাবতে লাগল, আমি যদি অন্যান্য ট্রয়সেনাদের মত তার সামনে দিয়ে পালিয়ে যাই তাহলে অ্যাকেলিস আমাকে অবশ্যই কাপুরুষ ভেবে ধরে ফেলে হত্যা করবে। অ্যাকেলিন যখন এইভাবে আমাদের সৈন্যদের তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমি তখন কেমন করে নির্জন আইডা পর্বতে পালিয়ে গিয়ে তার বনমধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করি? সারাদিন লুকিয়ে থাকার পর সন্ধ্যার আবার ফিরে আসতে পারি ইলিয়াম নগরীতে । কিন্তু এই হীন কথা কেন আমি ভাবছি? নগর হতে পলায়নকালে নিশ্চয় সে আমাকে দেখে ফেলবে এবং সে আমাকে ধরে ফেলবে। সে অনেক বেশি শক্তিশালী আমার থেকে। তার থেকে আমি যদি তার কাছে গিয়ে তার সম্মুখীন হই? তারও দেহগাত্র বিদ্ধ হবে ব্রোঞ্জনির্মিত বর্শাফলকের দ্বারা। সকল মানুষের মধ্যেই সেই একই জীবন বিরাজ করছে। জিয়াস তাকে যতই জয়ের গৌরবে ভূষিত করুন না কেন, সেও একজন মরণশীল মানুষ।

    আপন মনে এই কথা বলে অ্যাকেলিসের জন্য প্রতীক্ষা করতে লাগল অ্যাজিনর। কোন বাঘিনী যেমন কোন শিকারিকে আক্রমণ করার জন্য বন হতে বেরিয়ে আসে শিকারি কুকুরদের চিৎকার অগ্রাহ্য করে, অ্যাজিনরও তেমনি দাঁড়িয়ে রইল অ্যাকেলিসের প্রতীক্ষায়। সে অ্যাকেলিসকে উদ্দেশ্য করে বলল হে মহান অ্যাকেলিস, তুমি হয়ত ভেবেছ, তুমি আজই ইলিয়াম নগরী বিধ্বস্ত করবে। কিন্তু তুমি নির্বোধ, জেনে রেখো, এ নগরী ধ্বংসের আগে বহু কষ্ট ভোগ করতে হবে তোমাদের। এই নগরমধ্যে আমার মত বহু বীর তাদের নগররক্ষার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। সুতরাং যত বড়ই বীর হও না কেন তুমি তোমাকে এখানে মরতেই হবে।

    এই বলে বর্শা নিক্ষেপ করল অ্যাজিনর অ্যাকেলিসকে লক্ষ করে। সে বর্শা অ্যাকেলিসের পায়ের জানুর তলায় লাগল। কিন্তু দৈবানুগ্রহে তাঁর গাত্রত্বককে বিদ্ধ করতে পারল না সে বর্শাফলক। এরপর অ্যাকেলিস আক্রমণ করলেন অ্যাজিনরকে। কিন্তু অ্যাপোলো তখন অ্যাজিনরকে কুয়াশাদ্বারা আচ্ছন্ন করে সরিয়ে দিলেন অক্ষত অবস্থায়। তারপর তিনি অ্যাকেলিসকে নগরদ্বার হতে কৌশলে সরিয়ে নেবার জন্য নিজে অ্যাজিনরের রূপ ধারণ করে অ্যাকেলিসের সামনে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। নগরদ্বার হতে রণপ্রান্তরের পথে ছুটে গিয়ে অ্যাকেলিসকে বিভ্রান্ত করতে লাগলেন। বারবার। প্রান্তর হতে একবার নদীর তীরের পথে ছুটে গেলেন। কিন্তু অ্যাকেলিস যখনি ভাবতে লাগলেন তিনি ধরে ফেলেছেন অ্যাজিনরকে তখনি অ্যাজিনররূপ অ্যাপোলো অন্যদিকে পালাতে লাগলেন। ইত্যবসরে ট্রয়সেনারা সকলে নগর মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করল। তাদের মধ্যে কারা পালাতে সমর্থ হয়েছে আর কারাই বা মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে সেকথা জানার জন্য নগরদ্বারের বাইরে অপেক্ষা করল না তারা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleওডিসি – হোমার
    Next Article বৃশ্চিকচক্র – পিয়া সরকার

    Related Articles

    পার্থ সারথী দাস

    ওডিসি – হোমার

    October 13, 2025
    পার্থ সারথী দাস

    ইলিয়াড – হোমার

    September 12, 2025
    পার্থ সারথী দাস

    ওডিসি – হোমার

    September 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }