Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ইলিয়াড – হোমার

    পার্থ সারথী দাস এক পাতা গল্প473 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৯. অ্যাকেলিসের নিকট দৌত্য

    নবম পর্ব
    অ্যাকেলিসের নিকট দৌত্য

    এইভাবে সারারাত্রি ধরে এক সতর্ক প্রহরায় বসে বসে কাটাল ট্রয়বাসীরা। ওদিকে সামরিক উন্মত্ততার সহচর শঙ্কা সর্বক্ষণ আচ্ছন্ন করে রইল গ্রীকদের মনোভূমি। অকস্মাৎ থ্রেস থেকে আগত উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দুটি বায়ুপ্রভাবে যেমন প্রচণ্ডভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সমুদ্রের বুক, উত্তাল অন্ধকার তরঙ্গমালা অসংখ্য জলজ আগাছাকে ভাসিয়ে নিয়ে কূলের দিকে প্রধাবিত হয় তেমনি বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছিল গ্রীকদের অন্তর।

    রাজা অ্যাগামেমনন স্বয়ং ভীত হয়ে প্রহরীদের আদেশ দিলেন তারা যেন প্রতিটি গ্রীকবীরকে ব্যক্তিগতভাবে আহ্বান করে এক প্রার্থনা সভায় মিলিত করে। প্রবহমান নদীর মত অশ্রু ঝরে পড়তে লাগল অ্যাগামেমননের চোখ হতে। কতকগুলো দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বললেন, হে আমার প্রিয় বন্ধুগণ, রাজন্যবর্গ মন্ত্রণাদাতাগণ, স্বর্গের দেবতাদের কোপদৃষ্টি পতিত হয়েছে আমার উপর। নিষ্ঠুর জিয়াস একদিন আমায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে দেশে ফিরে যাবার আগে আমি ট্রয়নগরী বিধ্বস্ত করতে পারব, কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে ছলনা করেছেন সে প্রতিশ্রুতির দ্বারা এবং এখন তিনি চাইছেন অপরিমিত ক্ষয়ক্ষতির গ্লানি আর পরাজয়ের অগৌরব নিয়ে দেশে ফিরে যাই আমি। যে জিয়াস সভ্যতাগর্বী বহু নগরীর মাথাকে ধূলিস্যাৎ করে দিয়েছেন এবং আরও দেবেন সেই সর্বশক্তিমান জিয়াসের এটাই হলো ইচ্ছা। সুতরাং আমি যা বলছি তা করো। ট্রয়নগরী যখন অধিকার করতে পারব না তখন দেশের পথে রওনা হও।

    অ্যাগামেমননের এ কথা শুনে বিষণ্ণ চিত্তে স্থির হয়ে নীরবে বসে রইল গ্রীকগণ। অবশেষে ডায়োমেডিস উঠে উচ্চকণ্ঠে বলতে লাগলেন, হে আত্রেউসপুত্র, তোমার নির্বুদ্ধিতার জন্য আমি ভর্ৎসনা করব তোমায়, মন্ত্রণাদাতা হিসেবে সে অধিকার আমার আছে তা যদি করি তাহলে দুঃখিত হয়ো না আমার প্রতি। গ্রীকদের আবালবৃদ্ধ সকলেই জানে যে একদিন তুমি আমাকে তিরস্কার করে বলেছিলে আমি একজন কাপুরুষ, প্রকৃত সৈনিক নই। ক্রোনাসপুত্র তোমাকে শুধু আংশিক গুণে সমৃদ্ধ করেছেন, তোমাকে তিনি একটি জাতির প্রধান প্রশাসকের মর্যাদা দান করেছেন, কিন্তু বীরোচিত সাহস যা একই সঙ্গে ন্যায়পরায়ণতা ও শক্তিমত্তার শ্রেষ্ঠ প্রতীক তা তোমাকে দান করেননি। তাই তুমি ভাব অন্যান্য গ্রীকগণও তোমার মতই যুদ্ধবিমুখ ও কাপুরুষ। যদি তোমার একান্তই গৃহে প্রত্যাবর্তনের জন্য মন উন্মুখ হয় তাহলে তুমি যাও, মাইসেন হতে যে জাহাজ তোমায় এখানে বহন করে এনেছে তা প্রস্তুত হয়ে আছে ঐ উপকূলে। কিন্তু অন্যান্য গ্রীকরা চলে গেলেও আমি আর আমার সারথি স্থেনেলাস দুজনে সমানে যুদ্ধ করে যাব ইলিয়াম নগরীকে আমাদের লক্ষ্যস্থল করে। কারণ আমরা আসার সময় ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করি।

    ডায়োমেডিস-এর কথা শেষ হতে গ্রীকগণ উল্লাসে ধ্বনি দিতে লাগল। তখন বৃদ্ধ নেস্টর দাঁড়িয়ে বললেন, হে টাইডেউসপুত্র, যুদ্ধে তোমার শক্তিমত্তার শ্রেষ্ঠত্ব অবিসংবাদিত। তোমার সমবয়সী অন্যদের থেকে তোমার পরামর্শও বিশেষ মূল্যবান। তুমি যা বলেছ কোন গ্রীকই তা লঘু ভেবে উড়িয়ে দিতে পারবে না। কিন্তু সমগ্র ব্যাপারটি আদ্যোপান্ত তুমি পর্যালোচনা করে দেখ নি। বয়সে নবীন হয়েও অবশ্য তুমি বিজ্ঞের মতই কথা বলেছ এবং তোমার বক্তব্যের মধ্যে যুক্তির অভাব নেই। তবে বয়সে আমি তোমার থেকে প্রবীণ এবং আমি তোমাকে সবকিছু বলব। কিন্তু আমি যা বলব তা যেন কোন গ্রীক এমন কি রাজা অ্যাগামেমননও অমান্য না করে। কারণ যারা নিজেদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের সৃষ্টি করে তারা আসলে হলো সমাজবিরোধী দস্যু।

    এখন অবশ্য যেহেতু রাত্রিকাল উপস্থিত, নৈশ ভোজনের ব্যবস্থা করো। কিন্তু প্রহরীদের বল তারা যেন প্রাচীরের বাইরে পরিখার পাশে শিবির স্থাপন করে প্রহরায় নিযুক্ত থাকে। এরপর হে আত্রেউসপুত্র, তুমি আমাদের সকলের সর্বপ্রধান অধিনায়ক হিসেবে তাদের নির্দেশদান করো তাদের করণীয় সম্বন্ধে। এরপর মন্ত্রণাদাতাদের আহ্বান করে এক ভোজসভার আয়োজন করো। তোমার ভাণ্ডারে এখন প্রচুর খাদ্য ও পানীয় আছে যা দিয়ে সকলকে প্রীত করতে পারবে তুমি। শক্ররা এখন সতত সজাগ। আজকের রাত্রিতেই হয় আমরা ধ্বংস হয়ে যাব অথবা বেঁচে যাব। সুতরাং আজ তোমাদের এখন এক কূটিনীতিপূর্ণ বিজ্ঞ পরামর্শ প্রয়োজন যা ঠিক পথে চালিত করতে পারবে আমাদের।

    নেস্টরপুর থ্রেসিমেদিস, অ্যাসকালাপাস, আয়ানমেলাস, মেরিওন, অ্যাকাবিয়াস, দীপাইরাস ও লাইকমেদিস–এই সাতজন সুযোগ্য অধিনায়কের নেতৃত্বে একলোজন করে গ্রীক ও যুবক বর্শা হাতে প্রাচীর ও পরিখার মধ্যবর্তী স্থানে গিয়ে সতর্কতামূলক প্রহরাগ্নি প্রজ্জ্বলিত করল।

    অতঃপর আপন বাসভবনে মন্ত্রণাদাতাদের সম্মানার্থে এক বিরাট ভোজসভার আয়োজন করলেন অ্যাগামেমনন। প্রচুর আহার্য ও পানীয় গ্রহণে যখন তৃপ্ত হলেন সকলে তখন নেস্টর বলতে শুরু করলেন, হে আত্রেউসপুত্র অ্যাগামেমনন, আমি প্রথমে তোমাকে নিয়েই আমার বক্তব্য শুরু করব। যেহেতু দেবরাজ জিয়াস তোমার হাতেই তুলে দিয়েছেন ন্যায় বিচারসমন্বিত রাজদণ্ড, তোমাকেই ভাবতে হবে সমগ্র জাতির মঙ্গলের কথা। জাতির স্বার্থের খাতিরে বিজ্ঞজনের পরামর্শ তোমায় গ্রহণ করতে হবে। আমি যা ভাল বুঝি তা ব্যক্ত করব। যথন তুমি তার বন্দিনীকে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়ে এসে অ্যাকেলিসকে ক্রুদ্ধ করে তোল তখন সে বিষয়ে আমার মত ন্যায়সঙ্গত দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় আর কেউ দেয় নি। আমি তোমাকে এ কাজ করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু আপন অহঙ্কারে মত্ত হয়ে তুমি এমন একজন বীরকে অপমানিত করো যাকে দেবতাগণও সম্মানের চোখে দেখেন। তাঁর পারিতোষিক তুমি এখনো পর্যন্ত উপভোেগ করছ। যাই হোক, এখন ভেবে দেখ, কি ভাবে কিছু উপহার ও মধুর ভাষণে তাঁকে তুষ্ট করে পুনর্মিলন সংঘটিত করা যায়।

    রাজা অ্যাগামেমনন তখন উত্তর করলেন, মহাশয়, আপনি যথার্থ ও ন্যায়সঙ্গত কথাই বলেছেন। আমি অন্যায় করেছিলাম এবং অন্যায়ভাবে তাঁর পারিতোষিক উপভোগ করছি। স্বর্গের দেবতাদের যিনি সুহৃদস্বরূপ, তিনি নিজে একাই এক সৈন্যদলের সমান। জিয়াস যে তাঁকে স্নেহের চোখে দেখেন তা তিনি বহু গ্রীকের মৃত্যু ঘটিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন। কামনায় অন্ধ হয়ে হীনমনা হয়ে উঠেছিলাম আমি। সুতরাং প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ বহু উপহার প্রদান করে আমি আমার ভুলের প্রতিকার করব। আমি সকলের সামনে আমার অন্যায় স্বীকার করব। আমি তাঁকে সাতটি ত্রিপদসমন্বিত কণ্ঠশিল্পকর্ম, দশটি স্বর্ণমুদ্রা, কুড়িটি বড় রন্ধনপাত্র, বারোটি বলিষ্ঠ অশ্ব দেব। আমি তাঁকে দেব সাতজন সুন্দরী সেবাদাসী যাদের লেসবস জয়কালে আমি পছন্দ করে গ্রহণ করেছিলাম। অতুলনীয় সৌন্দর্যমণ্ডিত এই সব রমণীদের ছাড়াও আমি বন্দিনী বিসেইসকেও প্রত্যপর্ণ করব। আমি শপথ করে বলব, আমি কোনদিন ব্রিসেইসকে আমার অঙ্কশায়িনী করি নি বা তার সঙ্গে সহবাস করি নি।

    এই সব উপহার আমি এই মুহূর্তে তাঁকে দেব। এরপর দেবতাদের কৃপায় যদি আমি ধ্বংস করতে পারি রাজা প্রিয়ামের সাধের নগরী তাহলে অধিকৃত ধনরত্ন ভাগের সময় তিনি তাঁর ইচ্ছামত স্বর্ণ ও ব্রোঞ্জ ধাতুতে পরিপূর্ণ করে তুলবেন তাঁর জাহাজ। তাছাড়া তিনি কুড়িজন সুন্দরী ট্রয়রমণীকে পছন্দমত বেছে নেবেন, সৌন্দর্যে হেলেনের পরেই যাদের স্থান। তারপর যখন আমরা আমাদের উর্বর দেশে ফিরে যাব তখন আমার স্বীয় পুত্র ওরেস্টের মত সমপরিমাণ সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করব তাঁকে। ক্রাইসোথথমি, লাওডাইস ও ইসিয়ানামা–আমার এই তিনজন কন্যার মধ্যে তিনি যেকোন এক কন্যাকে পছন্দ করে বিবাহ করতে পারবেন এবং আমি তাকে এমন বিপুল পরিমাণ যৌতুক দান করব যা এর আগে কেউ কোথাও কন্যার বিবাহে দান করে নি। তাঁর প্রেমের জন্য পেলেউসভবনে কোন উপহার দিতে হবে না। আমি তাঁকে সাতটি সুপ্রতিষ্ঠিত নগর দান করব। তার মধ্যে আছে কার্ডামাইস, এনোপ ও হায়ার তৃণাচ্ছাদিত ও উর্বরক্ষেত্র। হেরা ও অ্যানথিয়া বিশাল প্রান্তর ও গোচারণক্ষেত্র সমন্বিত নিসর্গ সৌন্দর্যে মণ্ডিত। সমুদ্রকূলবর্তী পাইলসের বেলাভূমির সন্নিকটে পার্বত্য নিম্ন উপত্যকায় অবস্থিত পেদামাসা ও এফিয়া আঙ্গুর ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ। এই সব অধিবাসীরা ধনী এবং বহু পশুপালের অধিকারী। তারা তাঁকে দেবতার মত শ্রদ্ধা করবে এবং তাঁর আদেশ মান্য করে চলবে। যদি তিনি তাঁর ক্রোধ সংবরণ করেন তাহলে আমি আমার সব প্রতিশ্রুতি পালন করব। সুতরাং আমাদের অনুরোধ রক্ষা করতে বল তাঁকে। একমাত্র মৃত্যুর দেবতা হেডসই সর্বাপেক্ষা নিষ্ঠুর, এই জন্য মানবজাতির কাছে তিনি ঘৃণ্য ও একান্ত অবাঞ্ছিত। তাছাড়া তাঁকে বলবে তাঁর থেকে আমি বয়সে বড় এবং অধিকতর রাজশক্তিকে শক্তিমান।

    নেস্টর উত্তর করলেন, হে মহান আত্রেউসপত্র রাজা অ্যাগামেমনন, তুমি যে সব উপহারের উল্লেখ করেছ তা কোনমতেই তুচ্ছ নয়। সুতরাং অবিলম্বে কয়েকজন দূতকে নির্বাচন করে পেলেউসপুত্রের নিকট পাঠিয়ে দাও। যাদের নাম বলছি তারা এই মুহূর্তে চলে যাও। দূতগণের প্রথমে থাকবে জিয়াস প্রিয় ফোনিক্স, তারপর থাকবে অ্যাজাক্স ও ওডিসিয়াস, তারপর থাকবে ওজিয়াস ও ইউবিরেটস নামে দুজন প্রহরী। এবার আমাদের হাতে পবিত্র জল দাও, তারপর নীরবে দাঁড়িয়ে থাক। আমরা এখন ক্রোনাসপুত্র জিয়াসের কৃপালাভের জন্য প্রার্থনা করব তাঁর কাছে।

    একথায় সকলেই সন্তুষ্ট হলো। পুরুষ ভৃত্যগণ অতিথিদের সকলকে পবিত্র জল দেওয়ার পর তাঁদের পানপাত্রগুলো জল ও মদ্য দিয়ে ভরে দিল। সেই জলমিশ্রিত মদ্য দেবতাদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে তা সাধ মিটিয়ে পান করল সকলে। তখন দূতগণ রওনা হলো এবং তারা যাতে অ্যাকেলিসকে সম্মত করাতে পারে প্রস্তাবে তার জন্য বিশেষ ওডিসিয়াসকে বলে দিলেন নেস্টর।

    গর্জনশীল সমুদ্রের উপকূলবর্তী পথ দিয়ে এগিয়ে চললেন দূতগণ। যাবার পথে তারা ভূবেষ্টনকারী দেবতা পসেডনের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করে বললেন, ঈয়াকাসপুত্র যেন তাদের উপর প্রসন্ন হন। তারা মার্মিডনের জাহাজে গিয়ে দেখলেন একটি সুন্দর বীণা হাতে নিয়ে সেটি বাজাচ্ছেন অ্যাকেলিস। সেই বীণার তারগুলো রজত নির্মিত। এই বীণাটি একদিন ঈশন নগরী ধ্বংস করার সময় লাভ করেন অ্যাকেলিস এবং বর্তমানে তিনি এই বীণাসহ বীরত্বব্যঞ্জক গান গেয়ে তার অফুরন্ত অবসর সময় যাপন করেন। তাঁর সহচর প্যাট্রোক্লাস নিবিষ্ট মনে শুনছিল তাঁর বীণাবাদন। অ্যাকেলিসের কাছে গিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে রইলেন ওডিসিয়াস। তাঁকে একসময় দেখতে পেয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন অ্যাকেলিস। তাঁদের সকলকে অভ্যর্থনা জানিয়ে অ্যাকেলিস বললেন, আপনাদের সকলকে সাদর সম্ভাষণ জানাই, নিশ্চয় কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে এসেছেন আমার কাছে। আমার ক্রোধ সত্ত্বেও আপনারা আজও প্রিয় আমার কাছে।

    এই কথা বলে তাঁদের আহ্বান করে নিয়ে গিয়ে তার ঘরে নীলাভ বাচ্ছাদিত কয়েকটি আসনে উপবেশন করতে বললেন অ্যাকেলিস। তারপর প্যাট্রোক্লাসকে আদেশ করলেন, সামান্য জলমিশ্রিত প্রচুর পরিমাণ মদ্যসম্বলিত এক বড় পাত্র রাখ টেবিলের উপর। তারপর অতিথিদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে পানপাত্র দাও। আজ যারা আমার ঘরে এসেছে তারা সকলেই আমার প্রিয় বন্ধু।

    প্যাট্রোক্লাস তখন প্রচুর পরিমাণে মেষ, ছাগ ও শূকর মাংস আগুনে সেদ্ধ করে তাতে লবণ মিশিয়ে অতিথিদের পরিবেশন করল। টেবিলের উপর এক ঝুড়ি রুটিও সংস্থাপন করল। তারপর অ্যাকেলিস দেবতাদের উৎসর্গ করে সেই খাদ্য ও পানীয় সকলে মিলে গ্রহণ করলেন। অ্যাজাক্স এবার আসল কথাটি উত্থাপন করার জন্য ফোনিক্সকে ইঙ্গিত দান করলেন। তা দেখে ওডিসিয়াস অ্যাকেলিসকে সম্বোধন করে বললেন, হে অ্যাকেলিস, তোমার এখানকার মত অ্যাগামেমননের শিবিরেও প্রচুর পরিমাণে খাদ্য ও পানীয়জনিত আনন্দের অভাব নেই। কিন্তু পানাহারের পরিবর্তে মন এখন আমাদের অন্য দিকে নিবদ্ধ। আজ আমরা সমূহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন। আজ তোমার সাহায্য ব্যতীত আমাদের রণতরীগুলোক রক্ষা করতে পারব কিনা জানি না। আজ ট্রয়সৈন্যরা আমাদের প্রাচীর ও রণতরীগুলোর সন্নিকটে শিবির স্থাপন করে প্রজ্জ্বলিত প্রহরাগ্নি স্থাপন করেছে। দেবরাজ বিদ্যুৎকে পাঠিয়েছেন তাদের সহায়তায়। জিয়াসের কৃপাভিমানী হেক্টর বিজয় গৌরবে উন্মাদের মত আস্ফালন করে বেড়াচ্ছে এবং দিব্যলোকের জন্য প্রার্থনা করছে। সে শপথ করে বলছে সে আমাদের সব জাহাজগুলো

    ধ্বংস করবে। আমার আশঙ্কা হচ্ছে দেবতারা তার দম্ভোক্তি সত্যে পরিণত করবেন এবং আমাদের সকলকে স্বদেশ হতে বহু দূরে ট্রনগরীর সীমানার মধ্যে প্রাণ হারাতে হবে। অতএব ওঠ, জাগো, বিলম্বে হলেও গ্রীকসন্তানদের রক্ষা করো ট্রয়বাসীদের ভয়াবহ কোপদৃষ্টি হতে। যদি তুমি এখন তাদের রক্ষা না করো তাহলে পরে অনুতাপ ভোগ করতে হবে তোমায়, কারণ একবার ধ্বংসকার্য সম্পন্ন হয়ে গেলে প্রতিকারের আর কোন উপায় থাকবে না।

    হে আমার প্রিয় বন্ধু, যখন তোমার পিতা পেলেউস তোমাকে অ্যাগামেমননের সাহায্যার্থে প্রেরণ করেন তখন কি তিনি তোমার ক্রোধকে সংযত করে বলেন নি? কারণ ধৈর্য ও শুভেচ্ছাই মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। তিনি বলেছিলেন বৃথা কলহ বিবাদ কারো সঙ্গে করা উচিত নয়। তা না করলে প্রতিটি গ্রীক তোমাকে শ্রদ্ধা করবে গভীরভাবে। তুমি তোমার পিতার কথা ভুলে গেছ। এখনও সময় আছে, শান্ত হও, ক্রোধ সংবরণ করো। যদি তুমি অ্যাগামেমননকে ক্ষমা করো, তাহলে তিনি তোমার সব ক্ষতিপূরণ করে সন্তুষ্ট করবেন তোমায়। তিনি যা যা তোমায় দান করবেন বলে স্বীকৃত হয়েছেন তাঁর শিবির মধ্যে, তা মনোযোগ সহকারে শোন। তিনি তোমাকে দেবেন সাতটি সুন্দর কাষ্ঠশিল্পকর্ম, দশটি স্বর্ণমুদ্রা, কুড়িটি উজ্জ্বল রন্ধনপাত্র, বারোটি তার নিজের মত বলিষ্ঠ ও বেগবান অশ্ব, সাতজন সুন্দরী সেবাদাসী। তাছাড়া তোমার ব্রিসেইসকেও ফিরিয়ে • দেবেন এবং এরপর দেবতাদের কৃপায় যদি তিনি ট্রয় জয় করতে পারেন তাহলে স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুতে তোমার জাহাজ ভরে দেবেন। কুড়িজন সুন্দরী ট্রয়রমণীকে বেছে নেবে তুমি। তাছাড়া তাঁর তিনজন কন্যার মধ্যে তোমার পছন্দমত একজনকে স্ত্রী হিসেবে বেছে নিতে পারবে তুমি এবং তার জন্য প্রভূত পরিমাণ যৌতুকসহ সাতটি সমৃদ্ধ নগরী তিনি তোমায় দান করবেন। সেই সাতটি নগরের অধিবাসীরা তোমাকে দেবতার মত ভক্তি করবে এবং তোমার ক্রোধ সংবরণ করো। যদি তুমি অ্যাগামেমনন ও তাঁর উপহারসমূহকে অন্তরের সঙ্গে ঘৃণা কর তাহলেও ট্রয়বাসীদের হাতে নিগৃহীত ও নিপীড়িত অন্যান্য গ্রীকদের উপর দয়াবশত এ যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া উচিত তোমার। তাহলে তোমাকে তারা দেবতার মত শ্রদ্ধা করবে এবং অনন্ত গৌরব লাভ করবে তুমি। হেক্টর অবশ্যই তোমার লাগালের মধ্যে এসে পড়বে এবং তুমি তাকে হত্যা করতে পারবে। কারণ সে এখন অহঙ্কারে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে এবং আস্ফালন করে বেড়াচ্ছে এই বলে যে তার সঙ্গে যুদ্ধ করার মত একজন গ্রীকবীরও নেই।

    অ্যাকেলিস উত্তর করলেন, লার্তেসপুত্র হে মহান ওডিসিয়াস, আমি আমার বক্তব্য দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করব যাতে তোমরা আমাকে এবিষয়ে প্ররোচিত করার প্রয়াস আর না পাও। যে অন্তরে একটি কথা চেপে রেখে মুখে অন্য কথা বলে আমি তাকে নরকের দ্বারের মত ঘৃণা করি। সুতরাং শোন আমার কথা। আমি রাজা অ্যাগামেমনন বা অন, কোন গ্রীকের কথায় শান্ত হব না, কারণ যুদ্ধে আমি প্রচুর কৃতিত্ব প্রদর্শন করেও কোন প্রকৃত ধন্যবাদ লাভ করি নি কারো কাছ থেকে। যে ব্যক্তি যুদ্ধে পারদর্শী আর যে ব্যক্তি যুদ্ধে অনভিজ্ঞতারা সকলেই একই সম্মান লাভ করে। একই মর্যাদা পান বীর এবং কাপুরুষ। কর্মঠ এবং অলস উভয়কেই গ্রাস করে মৃত্যু। যে তুলনায় আমি কষ্ট করেছি সে তুলনায় কিছুই পাই নি আমি। পক্ষীমাতা যেমন বিভিন্ন স্থানে আহৃত সব আহাৰ্যবস্তু তার শাবককে এনে দিয়ে নিজে কষ্টভোগ করে আমিও তেমনি আমার অধিকৃত সব বস্তু তাঁকে ছেড়ে দিয়েছি। সারাদিন প্রাণপণ যুদ্ধ করে কত বিনিদ্র রাত্রি আমি যাপন করেছি। আমি আমার রণতরী ও নিজস্ব সেনাদল নিয়ে বারোটি নগর অধিকার করেছি এবং ট্রয়ের চারিদিকে এগারটি নগর আমি অবরোধ করেছি। এই আক্রমণকালে আমি যত ধনসম্পদ লাভ করেছি তা সব অ্যাগামেমননকে দান করেছি। কিন্তু তিনি য পেয়েছেন তার থেকে আমাকে কিছুই দেন নি। নিজেই আত্মসাৎ করেছেন সবকিছু।

    তা সত্ত্বেও তিনি কিছু কিছু সম্মান কয়েকজন সর্দার ও রাজন্যকে ভাগ করে দেন একমাত্র আমার কাছ থেকেই আমার প্রিয় রমণীকে কেড়ে নিয়ে যান। ঠিক আছে, তাকে তাঁর অঙ্কশায়িনী করতে বল। কেন গ্রীকরা ট্রয়বাসীদের সঙ্গে যুদ্ধ করবে বলতে পার? কি জন্য আত্রেউসপুত্র এত সৈন্য সমাবেশ করেছে? তা কি শুধু হেলেনের জন্য নয়? কিন্তু সারা পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র আত্রেউসপুত্ৰই কি তার স্ত্রীকে ভালবাসেন? আমার বর্শাফলকে ধৃত হলেও এই বন্দিনীকে আমি তেমনি ভালবাসতাম, পৃথিবীতে সব মানুষ যেমন তার নিজের স্ত্রী বা প্রণয়িণীকে ভালবাসে। অ্যাগামেমনন আমার সঙ্গে প্রতারণা করে আমার প্রিয় বন্দিনীকে নিয়ে গেছেন আমার কাছ থেকে। আমি তাঁকে জানি। তিনি আমাকে আর প্রলুব্ধ করে আমায় বিচলিত করতে পারবেন না। অগ্নিদাহ হতে তার রণতরীগুলোকে রক্ষা করার জন্য ওডিসিয়াস এবং অন্যান্য রাজাদের উপর নির্ভর করুন তিনি। আমাকে বাদ দিয়ে তিনি ইতিপূর্বেই অনেককিছু করেছেন। তিনি এক প্রাচীর নির্মাণ করেছেন এবং পরিখা খনন করেছেন। কিন্তু এত করেও তিনি হেক্টরের বিরাট ধ্বংসাত্মক শক্তিকে প্রতিহত করতে পারছেন না কিছুতেই। আমি যতদিন যুদ্ধ করেছি হেক্টর তার নগরসীমানা পরিত্যাগ করে এগিয়ে আসতে সাহস পায় নি কোনদিন। বড় জোর ওকগাছের তলায় সেই স্কীয়ান গেটের নিকট পর্যন্ত আসত একদিন যুদ্ধে সে আমার সম্মুখীন হয় এবং কোনরকমে প্রাণ নিয়ে পালাতে সক্ষম হয়। যাই হোক, যুদ্ধে যখন আমার মন নেই তখন আগামীকাল সকালে আমি জিয়াস ও অন্যান্য দেবতাদের পূজা দিয়ে জাহাজ ভাসিয়ে দেব সমুদ্রে। ঝড়ের দেবতা পসেডন কৃপা করে আমার সমুদ্রযাত্রা শুভ করলে তিন দিনের মধ্যে আমার স্বদেশ পিথিয়ায় উপনীত হব আমি। সেখানে অনেক সম্পদ আমার আছে এবং জীবনে আরও অনেক সম্পদ ও সুন্দরী রমণী আমি লাভ করব। কিন্তু আমার এক অতি মূল্যবান পারিতোষিক সেই দুর্বিনীত অহঙ্কারী ছিনিয়ে নিয়ে গেছে আমার কাছ থেকে। তাকে আমি যা আদেশ করছি বলবে, বলবে তিনি যদি মনে ভাবেন সকলের সঙ্গে প্রতারণা করবেন তাহলে সমস্ত গ্রীকরা তাঁকে ঘৃণা করবে এবং তাঁকে এড়িয়ে যাবে।

    সেই শিকারী কুকুরটা আমার মুখপানে তাকাতে সাহস পায় না। আমি তার সঙ্গে কোন আলোচনা করব না বা কোন কাজে তার সঙ্গে সহযোগিতা করে চলব না। সে আমার উপর অন্যায় করেছে এবং আমাকে প্রতারিত করেছে। সে কিন্তু আর আমায় বিভ্রান্ত করতে পারবে না। এখন সে যা খুশি করতে পারে। জিয়াস তাঁর সব যুক্তিবোধ কেড়ে নিয়েছেন। সে তার এই প্রস্তাবিত উপহারের দশ অথবা বিশগুণ দিতে পারে, সে আমাকে বিশ্বের মধ্যে সর্বাপেক্ষা ধনশালিনী নগরী আর্কেমিনাস এবং মিশরের থীবস দান করতে পারে, সমুদ্রের বেলাভূমির বালুরাশি অথবা প্রান্তরের ধূলিরাশির মত অসংখ্য উপহার বা উপঢৌকন সে আমাকে দান করতে পারে, তথাপি আমি তার সব অন্যায়ের প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত ক্ষান্ত হব না। তার কন্যা দেবী আফ্রোদিতের মত সুন্দরী হলেও আমি তাকে বিবাহ করব না। আমার থেকে বেশি বিত্তবান ও যোগ্যতার লোক তাকে বিবাহ করুক। দেবতাদের কৃপায় যদি আমি দেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারি নিরাপদে তাহলে আমার পিতা পেলেউস হেলাস বা পিথিয়ার কোন রাজকন্যার সঙ্গে আমার বিবাহের ব্যবস্থা করবেন। গৃহে অবস্থানকালে এমন এক নারীকে বিবাহ করার বাসনা জেগেছিল আমার মনে সে আমাকে তৃপ্ত করবে স্ত্রী হিসেবে। ইলিয়ামের সমস্ত সম্পদ অথবা অ্যাপোলোর প্রস্তরনির্মিত মন্দিরের সকল ঐশ্বর্যের থেকে আমার জীবনের মূল্য অনেক বেশি। গবাদি পশু চুরি করেও পাওয়া যায়। কাঠের আসবাব বা অশ্ব মানুষ ইচ্ছা করলে কিনতে পারে, কিন্তু জীবন একবার হারালে আর কিনতে পারা যায় না।

    আমার মাতা দেবী থেটিস বলেছেন দুইভাবে আমার মৃত্যু ঘটতে পারে। যদি আমি এখান থেকে যুদ্ধ করি তাহলে আমি জীবিত অবস্থায় স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারব না। কিন্তু আমার নাম যশ চিরকাল অক্ষুণ্ণ থাকবে। কিন্তু আমি যদি যুদ্ধ না করে দেশে ফিরে যাই তাহলে আমার নাম যশ ভুলে গেলেও আমি বহুকাল বাঁচব। আমি তোমাদের এই কথা বলতে চাই, বাড়ি যাও তোমরা সকলে। কারণ ইলিয়াম নগরী তোমরা জয় করতে পারবে না। দেবরাজ জিয়াস স্বহস্তে এ নগরী রক্ষা করতে চান। জিয়াসের এই ইচ্ছার কথা জানতে পেরে ট্রয়নগরীর জনগণ উৎসাহিত হয়ে উঠেছে। সুতরাং কর্তব্যের খাতিরে গ্রীক জনগণ ও রাজন্যবর্গকে আমার কথা বলগে, তাদের রণতরী ও জীবন রক্ষা করার জন্য কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে বলবে। ইচ্ছা করলে ফোনিক্স আজকের রাত্রির মত আমার এখানেই বিশ্রাম করতে পারে এবং আগামীকাল সকালে আমাদের সঙ্গেই দেশে রওনা হতে পারে। কিন্তু আমি তাকে জোর করে নিয়ে যাব না।

    যে দৃঢ়তা ও কঠোরতার সঙ্গে অ্যাকেলিস প্রত্যাখান করলেন অ্যাগামেমননের দূতগণের প্রস্তাব তাতে তারা ভীত হয়ে পড়লেন। কোন কথা বলতে পারলেন না। অবশেষে বৃদ্ধ নাইট উপাধিধারী বীর ফোনিক্স অশ্রুপূর্ণ নয়নে বললেন, হে মহান অ্যাকেলিস, যদি তুমি তোমার প্রচণ্ড ক্রোধাবেগের বশবর্তী হয়ে গ্রীক রণতরীগুলোকে অগ্নিদাহের হাত হতে রক্ষা না করেই দেশে ফিরে যাও তাহলে কেমন করে আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারি এখানে? যখন তোমার পিতা পেলেউস পিথিয়া হতে অ্যাগামেমননের নিকট তোমায় প্রেরণ করেন তখন তুমি ছিলে তরুণ যুবক এবং তখন তিনি আমাকেও তোমার সঙ্গে যেতে আদেশ করেন। তখন তুমি যুদ্ধবিদ্যা বা মন্ত্রণাকার্য সম্বন্ধে কিছুই জানতে না। কথাও কাজে তোমার সুদক্ষ ও সুশিক্ষিত করে তোলার জন্য তিনি আমাকে নিযুক্ত করেন। সুতরাং আমি তোমাকে ছেড়ে এখানে কিছুতেই থাকতে পারব না; এমন কি দেবতারা যদি আমার বয়স কমিয়ে আমাকে আমার সেই যৌবন বয়সে ফিরিয়ে নিয়ে যান তাহলেও থাকব না। সুন্দরী নারীদের জন্য প্রসিদ্ধ হেলাস দ্বীপে ছিল আমার বাস। আমার যৌবনকালে আমি একবার আমার পিতার ক্রোধের কারণ হয়ে উঠি। একবার আমার পিতা ওর্মেনাসপুত্র অ্যামান্টার তার এক রক্ষিতার ব্যাপারে আমার উপর ক্রুদ্ধ হন। রক্ষিতা রেখে তার বৈধ স্ত্রী অর্থাৎ আমার মার উপর অবিচার করেন তিনি। আমার মা তখন আমাকে ঐ মহিলার সঙ্গে অবৈধ দেহসংসর্গে লিপ্ত হবার জন্য অনুরোধ করেন যাতে তিনি আমার পিতাকে ঘৃণা করার আরও সুযোগ পান আর আমি তাতে সম্মত হই। কিন্তু আমার পিতা তা জানতে পেরে রেগে গিয়ে আমায় অভিশাপ দেন। তিনি ভয়ঙ্কর দেবতা ইউরিনায়েসকে সাক্ষী রেখে আমাকে অভিশাপ দিলেন যাতে আমার কোনদিন পুত্রসন্তান না হয় এবং জিয়াস ও অন্যান্য দেবতারা তাঁর সেই অভিশাপবাক্যকে সত্যে পরিণত করেন। আমি আমার পিতাকে হত্যা করার মনস্থির করি। কিন্তু কয়েকজন দেবতা আমাকে প্রতিনিবৃত্ত করে বললেন, তাহলে আমি পিতৃহন্তারূপে চিহ্নিত হব এবং লোকে আমায় তীব্র ভাষায় নিন্দা করবে। পিতাকে হত্যা না করলেও তাকে আর সহ্য করতে পারলাম না আমি। তার উপর আমার সেই ক্রোধ বেড়েই যাচ্ছিল দিনে দিনে। বাড়ি ছেড়ে চলে আসব মনস্থ করতেই আমার জ্ঞাতিভাইরা আমাকে বাড়িতে থাকার জন্য চাপ দিতে লাগল আমার উপর। কিন্তু দশদিনের দিন অন্ধকার ঘন হয়ে আসতেই আমি রুদ্ধ দরজা খুলে ভৃত্য ও প্রহরীদের দৃষ্টি এড়িয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেলাম। আমি হেলাস থেকে সোজা চলে গেলাম বিশাল পশুচারণক্ষেত্ৰমণ্ডিত সমৃদ্ধিশালিনী পিথিয়াতে। লোকে যেমন একমাত্র পুত্র এবং সমস্ত ধনসম্পদের উত্তরাধিকারীকে স্নেহ করে তেমনি এক অখণ্ড অপত্যস্নেহের সঙ্গে আমাকে সেখানে সাদর অভ্যর্থনা জানালেন রাজা পেলেউস। তিনি আমাকে রাজ্য দান করে প্রচুর ধনসম্পদের অধিকারী করে তুললেন। পিথিয়ার সীমান্ত অঞ্চল ভলোপিয়ার প্রধান প্রশাসক নিযুক্ত করলেন তিনি আমায়।

    আমিই তোমাকে মানুষ করে তুলি অ্যাকেলিস। বাড়িতে থাকাকালে অথবা বাইরে কোথাও গেলে আমি যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমার খাদ্য ও পানীয় থেকে কিছু অংশগ্রহণ করতাম ততক্ষণ তুমি কিছুই খেতে না। কতবার তুমি তোমার মদের পাত্র থেকে মদ ফেলে দিয়েছ আমার পেশাক ও দেহবন্ধনীর উপর। তুমি আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছ। তবু আমি এই ভেবে সবকিছু সহ্য করতাম যে দেবতা যখন আমাকে সন্তান দেন নি তখন আমি তোমাকেই আমার সন্তান বলে মনে করব। হে অ্যাকেলিস, আজ তুমি আমায় রক্ষা করতে পারতে। আমার কথা শোন, এখন যুদ্ধ করে শত্রুদের পরাস্ত করো। দেবতাদের শক্তি ও প্রভুত্ব আমাদের থেকে অনেক বেশি ঠিক, কিন্তু কোন লোক যদি দেবতাদের উপযুক্ত পূজা ও অর্ঘ্য দান করে সাহসের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাহলে দেবতারা তুষ্ট হন। প্রার্থনারা হচ্ছে দেবরাজ জিয়াসের কন্যা যা সব সময় দ্রুতগামী পাপের পিছনে পিছনে যায়। এই প্রার্থনারা যখন কারো কাছ থেকে যায় তখন তাদের সাদরে বরণ করে নেওয়া উচিত, তা হলে তাদের অভিশাপে মানুষদের পাপের কবলে পড়তে হয় এবং প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ অনেক বেশি প্রার্থনা করতে হয় পরবর্তীকালে। অতএব হে অ্যাকেলিস, জিয়াসকন্যা প্রার্থনাকে এখন বরণ করে নাও। আরো কত সদাশয় ব্যক্তি বহু অন্যায় অবিচার লাভ করার পরে প্রার্থনায় নত হয়েছেন। তাছাড়া আত্রেউসপুত্র যদি এখনো পর্যন্ত ক্রোধে কুটিল ও অনমনীয় থাকতেন তোমার প্রতি তাহলে গ্রীকদের শত প্রয়োজনেও আমি কোন অনুরোধ করতাম না তোমাকে এ যুদ্ধে পুনরবতীর্ণ হওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি এখন তোমাকে প্রচুর উপহার দিতে স্বীকৃত হয়েছেন এবং পরে আরও অনেক কিছু দেবেন। আজ তিনি সেই গ্রীকবীরদের তোমার সকাশে দূতরূপে পাঠিয়েছেন যারা তোমার প্রিয় এবং বরণীয়। আজ তাদের সকলকে বিমুখ করো না। আমরা জানি তোমার ক্রোধ ন্যায়সঙ্গত। কিন্তু আমরা একটি গান জানি যার থেকে বোঝা যায় প্রাচীনকালে কুদ্ধ ও রুষ্ট বীরেরা উপঢৌকনে তৃপ্ত ও তুষ্ট হতেন। মিষ্ট ভাষণে সান্তনা লাভ করতেন।

    একটি প্রাচীন কাহিনীর কথা আজও আমার মনে আছে। একবার ক্যালিডনের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কিউরেনস ও ইটোলিয়াবাসীদের মধ্যে যুদ্ধ হয়। ইটোলিয়াবাসীরা তাদের দেশ রক্ষা করছিল আর আক্রমণকারীরা কিউরেনসরা তাদের বেশ ধ্বংস করার জন্য যুদ্ধ করছিল। কারণ জিয়াসকন্যা আর্তেমিসকে প্রথম ফসলের অংশ উৎসর্গ করে তুষ্ট করা হয় নি বলে তিনি ক্রুদ্ধ হন ইটোলিয়াবাসীদের উপর। অন্যান্য দেবতাদের রাজা ঈনেউস পূজা ও অর্ঘ্যদানে তৃপ্ত করলেও আর্তেমিসের কথা ভুলে যান এবং এটা ছিল রাজা ঈনেউসের পক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ। আর সেই অপরাধের শাস্তিস্বরূপ তীরন্দাজ দেবী আর্তেমিস শুভ্রকুটিল এক বিরাট দন্তবিশিষ্ট বন্য শূকর পাঠিয়ে দিলেন রাজা ঈনেউসের রাজ্যোদ্যানে। শূকরটি ফলভারে অবনত আপেল গাছগুলোকে উপড়ে চারিদিকে ফেলে প্রচুর ক্ষতিসাধন করতে লাগল। তখন ঈনেউসপুত্র মেলিগার সেই শূকরটিকে হত্যা করে চিতানলে দাহ করেন। তখন দেবী ক্রুদ্ধ হয়ে যুদ্ধ বাধিয়ে দেন কিউরেনস ও ইটোলিয়াবাসীদের মধ্যে।

    যতদিন পর্যন্ত মেলিগার যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন ততদিন কিউরেনসরা সুবিধা করতে পারছিল না। ক্যালিডনের নগরপ্রাচীরের মধ্যে পদার্পণ করতে পারছিল না তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও। কিন্তু কালক্রমে মেলিগার একবার তার মার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর বিবাহিত স্ত্রী ক্লিওপাত্রাকে নিয়ে বিদেশ চলে যান। ক্লিওপাত্রা ছিলেন সেকালের বলিষ্ঠতম মানবসন্তান আইডার ঔরসে অ্যানলাসের গর্ভে জাত মাপাসার কন্যা। একবার সূর্যদেবতা অ্যাপোলো যখন মার্পাসকে চুরি করে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তার মাতা অ্যানেলাস ক্রৌঞ্চ পাখির মত এমন করুণ সুরে ক্রন্দন করতে থাকেন যে তা শুনতে থাকতে না পেরে তীর ধনুক নিয়ে অ্যাপোলোকে আক্রমণ করেন আইডা। সেই মার্পাসকন্যাকে বিবাহ করার জন্য তাঁর ভাই-এর মৃত্যুর কারণে মেলিগারের মাতা আনথিয়া মাটির উপর নতজানু হয়ে বসে ও মাটির উপর হাত চাপড়ে মৃত্যুর দেবতা হেডস ও পার্কিকোলের নিকট কাতর আবেদন জানান, তাঁরা যেন পুত্রের প্রাণ সংহার করেন। অবিরত অশ্রুধারায় ভেসে যায় আনথিয়ার বক্ষস্থল।

    কিউরেনসরা ক্রমশই এগিয়ে আসায় ক্যালিডনের নগরদ্বারে যুদ্ধের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল স্পষ্ট। তারা নগরপ্রাচীর ভাঙ্গার চেষ্টা করছিল। তারা রাজ্যের বয়োপ্রবীণ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মেলিগারের নিকট সেই ঘোর বিপদে তাঁদের রক্ষা করার জন্য অনুনয় বিনয় করতে লাগলেন। তারা প্রধান পুরোহিতকে মেলিগারের নিকট পাঠিয়ে জানালেন মেলিগার যুদ্ধে অবতীর্ণ হলে তাকে প্রচুর পারিতোষিক দেওয়া হবে। আঙ্গুরক্ষেত ও কৃষিযোগ্য ভূমিসহ পঞ্চাশ একর সর্বাপেক্ষা উর্বর জমি তাঁরা দান করতে চাইলেন তাঁকে। প্রবীণ যোদ্ধা ঈনেউস তাকে অনুরোধ জানাতে লাগলেন। কিন্তু কারো কোন আবেদন নিবেদনে সাড়া দিল না মেলিগার। অবশেষে কিউরেনসরা যখন নগরপ্রাচীর অতিক্রম করে নগরে প্রবেশ করে আগুন ধরাতে লাগল চারিদিকে, মেলিগারের ঘরের দরজার উপর করাঘাত করতে লাগল, যখন তার স্ত্রী যুদ্ধের বিভীষিকার কথা বর্ণনা করে যুদ্ধে যোগদানের জন্য অনুরোধ করল তাকে তখন শেষসময়ে বর্ম পরিধান করে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো মেলিগার এবং শত্রুদের বিতাড়িত করে রক্ষা করল নিজের দেশকে। কিন্তু নগর বিধস্ত হওয়ায় কোন উপহার সে পেল না।

    হে আমার পুত্রপ্রতিম প্রিয় অ্যাকেলিস, তুমি যেন কোন দেবতার ছলনায় সেই ভুল করে বসো না। তুমি আমাদের প্রস্তাবিত সব উপহার গ্রহণ করো। গ্রীকরা তোমাকে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মানে ভূষিত করবে, কিন্তু পরে যদি তুমি ঘটনাক্রমে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে জয়লাভও করো তাহলেও কোন কিছুই পাবে না, কোন সম্মানই লাভ করতে পারবে না।

    অ্যাকেলিস উত্তর করলেন, পিতৃপ্রতিম শুভাকাঙ্ক্ষী এবং প্রবীণতম বন্ধু, আমার জন্য কোন সম্মানের প্রয়োজন নেই, যতক্ষণ আমার দেহে প্রাণ থাকবে, আমার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সবল থাকবে, ততক্ষণ জিয়াস আমার সম্মানিত করবেন। আমি আবার বলে দিচ্ছি এই কাতর আবেদন নিবেদন বা অশ্রু বিসর্জনের দ্বারা আমাকে আর বিরক্ত করো না আত্রেউসপুত্রের খাতিরে। তাহলে তোমার প্রতি আমার ভালবাসা তুমি হারাবে। যাও, তাদের ভালবাসগে। যারা আমার মনে আঘাত দিয়েছে তাদের কাছে না গিয়ে তুমি আমার পক্ষে যোগদান করতে পার। আপতত তুমি আমার এখানেই শয়ন ও বিশ্রাম করতে পার, অন্যান্য দূতগণ চলে যাক। পরদিন প্রাতে স্থির করা যাবে এখানে। থাকব না যাব।

    এই বলে অ্যাকেলিস প্যাট্রোক্লাসকে ইঙ্গিত করলেন ফোনিক্সের জন্য শয্যা প্রস্তুত করার জন্য। অন্যরা চলে যাবেন এমন সময় তেলামনপুত্র অ্যাজাক্স বললেন, হে লার্তেসপুত্র ওডিসিয়াস, আমাদের দৌত্যকার্য বিফল হলো, চলো আমরা প্রত্যাবর্তন করি। অবাঞ্ছিত অ্যাকেলিসের এই উত্তর বহন করে নিয়ে যেতে হবে গ্রীকদের কাছে। তারা ব্যগ্রভাবে প্রতীক্ষা করছে এই উত্তরের জন্য। অ্যাকেলিস নির্মম, নিষ্ঠুর ও অনুশোচনাবিহীন। তার সহকর্মীরা তাঁকে যে সম্মানের দ্বারা ভূষিত করতে চান তা তিনি গ্রাহ্য করেন না। এমন কি হত্যাকারী কোন নিহত ব্যক্তির পিতা বা পুত্রকে প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ কিছু জরিমানা দিয়ে শান্তিতে পরিত্রাণ লাভ করে। কিন্তু এতকিছু পাবার বিনিময়েও অ্যাকেলিস অনড় অনমনীয়। শোন অ্যাকেলিস, নিশ্চয় দেবতারা তোমার আত্মার মধ্যে ক্ষমাহীন নির্মম এক মনোভাব সঞ্চারিত করে দিয়েছেন। সামান্য একটি বালিকার জন্য তুমি এতকিছু করছ আর আমরা তোমাকে সাতটি সুন্দরী রমণী দান করতে চাইছি। মনকে আরও উদার করো, আমাদের প্রস্তাবে সম্মত হয়ে আমাদের এই দৌত্যকার্য সফল করো, আমরা সকল গ্রীকদের মধ্যে তোমার নিকটতম ও প্রিয়তম সুহৃদরূপে গণ্য করি নিজেদের।

    অ্যাকেলিস উত্তর করলেন, হে তেলামনপুত্র অ্যাজাক্স, তুমি আমার পছন্দমত অনেক কথাই বলেছ, কিন্তু যখন আমি ভাবি গ্রীকসৈন্যদের সামনে আমাকে এক হীন দুবৃত্তরূপে গণ্য করে কি ধরনের অপমান আত্রেউসপুত্র আমায় করেছে তখন আমার দেহের রক্ত আগুন হয়ে ওঠে। এখন যাও, গ্রীকদের এই সংবাদ দাও যে আমি কোনমতেই ততদিন যুদ্ধ করব না যতদিন প্রিয়ামপুত্র হেক্টর রক্তলোলুপ অবস্থায় মার্মিনদের জাহাজে অগ্নিসংযোগ করে তাদের শিবিরে প্রবেশ করে। তবে জেনে রেখো, হেক্টরের যুদ্ধপিপাসা যতই প্রবল হোক না কেন, সে যখন আমাদের শিবিরে বা জাহাজে আসবে তখন তাকে আমরা প্রতিহত করবই।

    অ্যাকেলিসের কথা শেষ হতে মদ্য উৎসর্গ করে বিদায় নিলেন অতিথিরা। এবার অতিথিদের সর্বাগ্রে রইলেন ওডিসিয়াস। প্যাট্রোক্লাস তখন ফোনিক্সের জন্য এক সুন্দর শয্যা প্রস্তুত করে দিলেন। অ্যাকেলিস এক প্রকোষ্ঠে লেসবস হতে আনীত ফোবরাসকন্যা সুন্দর ডাওমিডকে নিয়ে শয়ন করলেন। আর অ্যানাউস হতে আনীত অ্যাকেলিসপ্রদত্ত সুন্দরী ইফিসকে নিয়ে একটি ঘরে শয়ন করল প্যাট্রোক্লাস।

    দূতগণ অতঃপর আত্রেউসপুত্রের শিবিরে প্রত্যাগমন করতেই উপস্থিত গ্রীক বীরেরা স্বর্ণপাত্র উত্তোলন করে তাঁদের প্রশ্ন করতে লাগলেন। প্রথমে প্রশ্ন করলেন রাজা অ্যাগামেমনন, বল ওডিসিয়াস, তিনি কি আমাদের রণতরীগুলোকে রক্ষা করবেন না কি প্রত্যাখ্যান করেছেন আমার প্রস্তাব? তিনি কি এখনো ক্রুদ্ধ হয়ে আছেন আমার প্রতি?

    ওডিসিয়াস উত্তর করলেন, হে রাজন অ্যাগামেমনন, অ্যাকেলিস শান্ত হলো না, সে বরং ক্রোধে আরও প্রচণ্ড হয়ে উঠল আগের থেকে এবং আপনার উপহারের সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল। সে বলল, আপনি অন্যান্য গ্রীকদের সঙ্গে পরামর্শ করে যা ভাল বোঝেন করেন। সে আগামীকাল সকালে জাহাজে করে স্বদেশের পথে রওনা হবে। সে সকলকেই দেশে ফিরে যাবার পরামর্শ দিচ্ছে, কারণ আপনি নাকি কোনদিনই ইলিয়াম নগরীতে পদার্পণ করতে পারবেন না। সে বলল, জিয়াস নিজে সে নগরী রক্ষা করছেন। আমার সঙ্গে যারা আছেন তারা সকলেই ঐ একই কথা বলবেন। ফোনিক্স অ্যাকেলিসের আদেশে রাত্রির মত তার জাহাজেই রয়ে গেল। আগামীকাল ইচ্ছা করলে সে দেশে ফিরে যেতে পারে, তবে অ্যাকেলিস অবশ্য জোর করবে না তার উপর।

    গ্রীকবীরেরা তখন বিষণ্ণ চিত্তে দীর্ঘক্ষণ ধরে পরামর্শ করতে লাগল নিজেদের মধ্যে। যে কঠোরতার সঙ্গে অ্যাকেলিস তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন তার কথা চিন্তা করতে লাগল তারা। অবশেষে ডায়োমেডিস বললেন, হে মহান আত্রউেসপুত্র রাজা অ্যাগামেমনন, অ্যাকেলিসকে এত উপঢৌকনদানের প্রস্তাব করা উচিত হয় নি তোমার পক্ষে। স্বভাবতই সে অহঙ্কারী এবং তার সে অহঙ্কার তুমি আরও বাড়িয়ে দিয়েছ। তার ইচ্ছা হয় থাকবে অথবা যাবে। যখন খুশি হয় যুদ্ধ করবে। দেবতাদের নির্দেশ পেলেই সে যুদ্ধ করতে বাধ্য হবে। এখন আমার কথামত কাজ করো। আমরা এখন নৈশভোজনে প্রীত হয়েছি। এখন বিশ্রাম গ্রহণ করো এবং দীর্ঘ নৈশ বিশ্রামের মাধ্যমে আমরা নতুন শক্তি ও উদ্যাম সঞ্চয় করব। নিশাশেষে গোলাপকলিকাতুল্য অঙ্গুলিবিশিষ্ট অপরূপ বর্ণচ্ছটা বিকীর্ণ করে যখন পূর্ব দিগন্তে আবির্ভূত হয়ে শত্রুসৈন্যদের যুদ্ধে প্রবৃত্ত করবেন ঊষাদেবী, যখন তারা তোমাদের জাহাজের সামনে এসে যুদ্ধে আহ্বান করবে তোমাদের, তখন তুমি বেরিয়ে যাবে সবার আগে কারণ তুমি গ্রীকদের মধ্যে সর্বপ্রধান।

    অন্যান্য দলপ্রধানগণ সমর্থন করল তাঁর কথা। তারপর তারা দেবতাদের মদ উৎসর্গ করে আপন আপন শিবিরে গিয়ে রাত্রির মত নিদ্রাসুখ উপভোগ করতে লাগল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleওডিসি – হোমার
    Next Article বৃশ্চিকচক্র – পিয়া সরকার

    Related Articles

    পার্থ সারথী দাস

    ওডিসি – হোমার

    October 13, 2025
    পার্থ সারথী দাস

    ইলিয়াড – হোমার

    September 12, 2025
    পার্থ সারথী দাস

    ওডিসি – হোমার

    September 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }