ইসলাম ও বিজ্ঞান – ১
আজকে আমি আপনাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা পেশ করতে চাই। সংক্ষিপ্তভাবে আমি এর নাম করণ করেছি ‘ইসলাম ও বিজ্ঞান’। আমি আমার আলোচনায় কেন এই বিষয়টিকে নির্বাচন করলাম ইনশাল্লাহ আশা করি আমরা সকলেই উক্ত আলোচনা হতে বুঝতে পারব। এরকম একটি বিষয়ে আলোচনা করা আজকে সময়ের একটি দাবি। কেননা একজন মুসলিম হিসাবে দুনিয়ার অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করা আজ সময়ের একটি দাবি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের সোনালী অতীতের চিন্তা চেতনাকে লালন করতে না পারার কারণে আমাদেরকে সর্বদাই ভিত্তিহীন কিছু চিন্তাধারার ও চিন্তা চেতনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে এটা সত্য যে, ভিত্তিহীন চিন্তার সাথে আমাদের চিন্তার এই সংগ্রাম আমাদের মুসলমানদের সম্মান ও মান মর্যাদাকে বৃদ্ধি করেছে। অপরদিকে পশ্চাত্যের এই ভিত্তিহীন চিন্ত ধারা আমাদের দেশে আমাদের ধর্ম আমাদের সংস্কৃতিকে জানার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হিসাবে দাঁড়িয়েছে। আজ জ্ঞান ও বিজ্ঞান প্রসারের ক্ষেত্রে ইসলামের ভূমিকা কি ছিলো এবং ইসলাম জ্ঞান ও বিজ্ঞানে কি অবদান রেখেছে সে সম্পর্কে আলোকপাত করব। আমি কেন আজ এই বিজ্ঞান কে বেছে নিলাম? আমি নিশ্চিত যে, আমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত তাদের অধিকাংশই এই সম্পর্কে জানি না। কেন আমরা জানি না? কারণ আমরা এই সম্পর্কে জানার ও শেখার সুযোগ পাইনি। আমাদের মূল বিষয়ে যাওয়ার পূর্বে, একটি বিষয়কে ব্যাখ্যা করে আমরা আমাদের মূল বিষয়ের গুরুত্বকে জোর দিয়ে বুঝাতে চাই। ইসলামী চিন্তা ও চেতনায় কিন্তু কোনো প্রকারের ঘাটতি নেই। কিন্তু ভুল পদ্ধতির কারণে আমরা ভুল পথে পরিচালিত হতে পারি। আর সেটা হলো ইসলাম এখনো তার পূর্ণ স্বতন্ত্র সত্তা নিয়ে আমাদের মাঝে বিরাজমান। ইসলাম আমাদেরকে আখিরাতের জীবনের ওহির জ্ঞান, নৈতিক চরিত্র গঠন, মানসিক উন্নয়ন ও জ্ঞানের সকল ক্ষেত্রে ও বিভাগের ব্যাপারে আমাদেরকে যে মূলনীতি সমূহ দিয়েছে আমরা সেগুলো জানি। কিন্তু আমরা ভাবি কি, ইসলাম প্রদত্ত মূলনীতি সমূহের বাহিরেও নীতি পদ্ধতি রয়েছে । কি আছে ইসলামের বাহিরে? আমেরিকা ও ইউরোপের বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন আবিষ্কার নিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত হচ্ছে। মঙ্গল গ্রহ ও চাদে যাচ্ছে। এগুলো যে মানুষ করছে তাদের এই সকল কর্মকান্ড কি কুরআনে প্রদত্ত আলোকে হচ্ছে? নাকি হচ্ছে না? আমি মনে করি আমরা এটা দাবি করি না অর্থাৎ কুরআনে প্রদত্ত জ্ঞানের আলোকে হচ্ছে না বলে আমরা মনে। করি। আমরা বলে থাকি যে, তারা সৌরজগৎ-এর প্রতিটি সেকেন্ডকে হিসাব। করে এটা বের করে থাকেন যে, চাদে যাব এই সময়ে, মঙ্গলে যাব এই সময়ে এমনকি তারা তাদের বের করা সময়ে পৌঁছতে ঠিকই সক্ষম হচ্ছে। তাদের এই গবেষণা বা কর্মতৎপরতার দ্বারা এটা প্রতীয়মান হয় যে, তাদেরও একটা জ্ঞানের উৎস আছে বা সত্যের উৎস আছে। আর এর মাধ্যমে আমরা ইউরোপীয় ও আমেরিকানদেরকে একটি মূল্যায়ন দিয়ে থাকি যে, ইসলামের বাহিরেও চিন্তা ও সত্যের উৎস রয়েছে, না হলে তারা এই সকল কাজ করতে সমর্থ হয় কিভাবে? এখন আমরা আমাদের এই বক্তব্যে যুক্তির আলোকে এই কথা প্রমাণ করার চেষ্টা করব যে, ইসলামের বাহিরে সত্যের কোনো উৎস নেই’ ইসলাম ছাড়া আর কোনো সত্য নেই । আচ্ছা তাহলে ইউরোপের বিজ্ঞানীরা অতি আশ্চার্য যে কাজগুলো করতেছে তাহলে সেগুলো কি? এ গুলো কোথা থেকে জনসমক্ষে আসছে? তাদের এই সকল কার্যক্রমের উৎস বা ভিত্তিমূলে কি আছে? ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার ও তাদের চিন্তাধারা ও ইসলামী মূলনীতির মধ্যে কি সম্পর্ক বিদ্যমান সেটাকে বের করার চেষ্টা করব। আমি আমার কথাকে এইভাবে শুরু করতে চাই যে, আমরা যদি এখন বের হয়ে দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করি, যখন বাহির থেকে দেখি তখন আমরা বলে থাকি ‘উ আউ কত বড় বিল্ডিং! কত বিশাল সেতু! এগুলো কিভাবে বানালো? তারা কিভাবে তাদের তৈরি এই সকল বিমানে করে চাঁদে যায়? মঙ্গলে যায়? এই সকল বড় বড় বিজ্ঞানাগারে তারা কিভাবে কাজ করে থাকে?এই সকল কথা বলতে বলতে আমরা এই সকল জিনিসকে পর্যবেক্ষণ করে থাকি। আমেরিকা থেকে চাদে গমনকারী যে কোনো রকেট এর নিয়ন্ত্রণকারী কোনো অফিসে যদি গিয়ে সেখানে কর্মরত একজনের সাথে কথা বলি এবং সে ব্যক্তির জ্ঞানের গভীরতা কতটুকু তা যদি পরীক্ষা করতে শুরু করি আমরা সহজেই সেই ব্যক্তিকে খুব শ্রদ্ধার সাথে দেখতে থাকব। চলুন দেখা যাক আমাদের দৃষ্টিতে সেই বড় ব্যক্তিটিকে একটু পরখ করি । যে সকল বিজ্ঞানীরা সেখানে কাজ করেন ও সেই সকল বিজ্ঞানাগারকে রক্ষণাবেক্ষন করেন তার কাছে বসে যদি তাকে প্রশ্ন করি আপনি এখানে কি করেন? সে নিশ্চয় বলবে: “আমি অমুক রকেট এর অমুক গতি পথকে নিয়ন্ত্রণ করি’ কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন? সে উত্তর দিবে যে আমি শুধু মাত্র এই যন্ত্র বা যন্ত্রাংশটুকুকে নিয়ন্ত্রণ করি। আমরা যদি তাকে প্রশ্ন করি যে এই যন্ত্র বা যন্ত্রাংশটি কিভাবে তৈরি হলো? সে হয়ত কিছু সূত্রের কথা বলবে বা কিছু সূত্র লিখে দিবে । সে হয়ত এই সূত্রগুলোর আগে কিছু সংখ্যা অথবা সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করবে ।
তখন আমরা আমাদের নিজেদের অজান্তেই বলে উঠব যে, আমরা যা কোনো দিন বুঝি না বা জানি নাই সেরকম একটি বিষয় সম্পর্কে উনি আমাদের অবহিত করছেন । তথাপি, একজন মুসলিম হিসাবে আমরা যখন এরকম একটি ব্যাপারকে মোকাবেলা করব, তখন আমাদের উচিত হবে না যে, এর প্রতি খুব বেশি গুরুত্বারোপ করা। বিজ্ঞানাগারে কর্মরত ব্যক্তিকে যখন আমরা প্রশ্ন করব তিনিও তখন আমাদের সাথে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সূত্রাবলী নিয়ে আলোচনা করবেন । চলুন এখন আমরা তার প্রদর্শিত সেই সূত্রাবলী নিয়ে আলোচনা করি । দেখুন, সেই বিজ্ঞানী আমাদের যে সূত্র থেকে কথা বলেন বা দেখান না কেন সে সূত্রের গঠন ও সেই সূত্রটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। সত্যিকার অর্থে তাদের তৈরি উদ্ভাবিত সে সকল সূত্র ও সূত্রাবলী শুধুমাত্র তাদের চিন্তার একটি ব্যাখ্যামাত্র । উদাহরণ স্বরূপ সেই বিজ্ঞানীর চাঁদে রকেট প্রেরণের হিসাবের সাথে সাধারণ একটি পাথরের একই উচ্চতা থেকে মাটিতে পড়ার যে হিসাব তার থেকে ভিন্ন নয় । যারা শুধু মাত্র পদার্থ বিজ্ঞান পড়ছে অথবা শুধু মাত্র কলেজের গন্ডিকে পেরিয়েছে তারাও এই সময়টাকে হিসাব করতে পারে। আমরা যদি উচ্চ মাধ্যমিক পাস অথবা উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত একজন ছাত্রকে প্রশ্ন করি যে, দশ মিটার। উচ্চতা থেকে একটি পাথর মাটিতে পড়তে কতটুকু সময় লাগবে? এই একই প্রশ্ন যদি আমরা কোনো মেকানিকেল ইঞ্জিনিয়ারকে করি তারা দুইজনেই একই পদ্ধতিতে এই প্রশ্নের সমাধান করবে। তারা একটি সূত্রকে ব্যবহার করবে আর সেটা হলো : H= 1/2G তাই সূত্রে যেখানে S হলো সময় এবং আমরা এটাকে বর্গ 2H /G এইভাবে লিখতে পারি। যেহেতু H হলো ১০ মিটার, এবং আমরা G কেও ১০ ধরতে পারি যেখানে S সময় ১.৪১। ফলাফল হিসাব করে দেখা গেল ১০ মিটার উচ্চতা থেকে একটি পাথরকে ফেলে দিলে ১.৪১ সেকেন্ড পর এটি মাটিতে পৌঁছে। সত্যিকার অর্থে আমরা একটি পাথরকে ১০ মিটার উচ্চতায় জানালা থেকে মাটিতে নিক্ষেপ করলে আর আমরা যদি টাইম ওয়াচ দিয়ে হিসাব করি তাহলে একই সময় দেখতে পাই।
এখানে কি এমন বিশেষত্ব আছে যে, বিজ্ঞানী সেটা জানে? এটা খুবই সহজ একটা ব্যাপার যে, আমরা যদি এটাকে বিশ্লেষণ করি তাহলে যা পাই তাহলো এই হিসাব করার সময় আমরা যদি প্রশ্ন করি, এই হিসাব আপনি কিভাবে করলেন? এই ফর্মুলাটাকে কোথায় পেলেন? সে আমাদেরকে বলবে কি এই পাথরটি এখান থেকে নিচে পড়ার সময় ভূমি এটাকে আকর্ষণ করে। আর এখানে মূল বিষয় হলো মধ্যাকর্ষণ শক্তি। একটি শক্তি এটাকে তার দিকে আকর্ষণ করে। পাথরটি মাটিতে পড়ার সময় এটা তরঙ্গায়িত হয়। আর এই গতি তরঙ্গের কারণেই এটাতে একটা গতির সৃষ্টি। আর এর গতিবেগের আকর্ষণ (Magnitucle) উপর এবং নীচ উভয় দিকেই সমান। এই শক্তি (Force) উভয় দিকেই সমান কেন? এর কারণ হলো ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া। সত্যিকার অর্থেই কি এটা? সম্ভবত সে আমাদেরকে আরও অন্যান্য বিভিন্ন উদাহরণ দিবে। তিনি বলবেন যে, প্রতিটি ক্রিয়ার-ই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রয়া আছে। এই সূত্রটি প্রতিটি পদার্থের ও প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর এই সূত্রটি পৃথিবীর সব জায়গায় গ্রহণযোগ্য আর বিভিন্ন ক্ষেত্র অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা এর সত্যতা পাই । আর এটা গোটা দুনিয়াতেই ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সূত্র নামে পরিচিত, যে প্রতিটি ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। আমরা যখন এমন কোনো সমস্যাই পড়ি যেটা পদার্থ বিদ্যার সাথে সম্পৃক্ত তখন আমরা পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রাবলীকে ব্যবহার করে থাকি। অন্যান্য হিসাবের ক্ষেত্রেও আমরা অন্যান্য সূত্রাবলিকে ব্যবহার করে থাকি। এগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হলো ‘পদার্থকে সৃষ্টি করা যায় না বা ধ্বংস করা যায় না, এক অবস্থা হতে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা যায় মাত্র। এটা হলো ভরের নিত্যতা সূত্র । আর অপরটা হলো শক্তির সৃষ্টির বা বিনাশ নেই শুধুমাত্র এক রূপ হতে অন্য রূপে রূপান্তর করা যায় মাত্র। এটাকে বলে শক্তির নিত্যতা সূত্র। আজকের পৃথিবীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যতো কিছুই আবিষ্কার হচ্ছে ও যতো মৌলিক ধারণার উৎপত্তি হয়েছে এর মূলে হলো এই সূত্রগুলো। পদার্থ, রসায়ন ও যান্ত্রিক সকল ক্ষেত্রেই এ সূত্রগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সূত্র তিনটির বাহিরে অন্য কোনো সূত্র নেই যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজ ব্যবহৃত হচ্ছে। এই তিনটি সূত্রই হলো বিজ্ঞানের মূল । এই অবস্থায় পাশ্চাত্যের যে কোনো বিজ্ঞানী যখন হিসাব করে আমাদেরকে তার প্রতিভা বা কেরামতি প্রদর্শন করে জেনে রাখবেন যে যতো কিছুরই হিসাব করুন।
কেন যতো উদ্ভাবনী শক্তিই প্রদর্শন করেন না কেন সকল কিছুর পেছনেই তার সেই তিনটি সূত্রই বিরাজমান। সেগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো ভরের নিত্যতা সূত্র (Conservation of mass) দ্বিতীয়টি হলো শক্তির নিত্যতা সূত্র (Conservation of Energy) আর তৃতীয়টি হলো ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার সূত্র (Action Reaction)। এখন সকল হিসাব নিকাশ ও তার ফলাফল পাওয়ার পর যে বিজ্ঞানী এটার হিসাব নিকাশ করেছেন ও এই সমস্যা সমাধান করেছেন তাকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, আপনি যখন এই সমস্যাগুলির সমাধান করেন তখন আপনি কিছু টার্ম ব্যবহার করেন, যেমন: শক্তি, গতি, পদার্থ এগুলোর দ্বারা আপনি কি বুঝাতে চান? যে নিখুতভাবে তার হিসাব সম্পাদন করতে পারবে কিন্তু সে এই টার্মগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা কখনোই দিতে পারবে না। সে এগুলোকে ব্যবহার করছে, এগুলোর দ্বারা তার সমস্যার সমাধান করছে কিন্তু অতীব আশ্চার্যের বিষয় হলো যে এগুলো সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছে না। সে কেন দেখাতে পারে না? দেখুন-উদাহরণ স্বরূপ আমরা যখন পদার্থের কথা বলি এটা কি করে হয় যে মানুষ পদার্থ দেখাতে পারবে না? তাহলে পদার্থ কি? এখানে। টেবিল, চেয়ার ইত্যাদি যেগুলো দেখা যাচ্ছে এগুলোই তো পদার্থ। কিন্তু আমরা যখন এটাকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখি তখন এটা ততোটা সহজ নয়। একটা টেবিলকে যখন পদার্থের উদাহরণ হিসাবে দেখানো হলো তখন আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে এই টেবিলটা কি? এইভাবে যখন আমরা প্রশ্ন করতে শুরু করি আর টেবিলকে ঘিরে বড় একটি মাইক্রোস্কোপ যন্ত্র দিয়ে যদি পরীক্ষা করতে শুরু করি যে, পদার্থ আসলে কি? পদার্থ কি এটা জানার জন্য যখন আমরা মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখতে শুরু করি তখন টেবিলের উপর আমরা বিভিন্ন ধরনের কাঠিন্যতা দেখতে পাই। যখন আমরা এর কাঠিন্যতাকে ভেদ করে এর ভেতরে প্রবেশ করি তখন কাষ্ঠ বা কাষ্ঠ খন্ডের তৈরি এই টেবিলের কাঠগুলোতে আমরা বিভিন্ন কোষ দেখতে পাই। এই কোষগুলোর অভ্যন্তরে যখন আমরা ধীরে ধীরে প্রবেশ করি এই কোষগুলোর মধ্যে বিভিন্ন জৈব পদার্থকে দেখতে পাই এবং জৈব পদার্থগুলোর ভেতরেও রয়েছে বিভিন্ন অণু পরমাণু ।
যদি আমরা এই সকল অণুগুলোকে মাইক্রোস্কোপ যন্ত্র দিয়ে নিরিক্ষণ শুরু করি তাহলে আমরা দেখতে পাই যে, পদার্থের অভ্যন্তরে যে অণুগুলো রয়েছে সেগুলো আবার পরমাণু থেকে তৈরি । পরমাণু কি? এই প্রশ্নের উত্তর খুজে বের করার জন্য যখন আমরা পরমাণুর ভেতরে প্রবেশ করি তাহলে দেখতে পাই যে, পরমাণুর গঠন প্রণালী ও এর কার্যবিধি সূর্য এবং তার চতুষ্পর্শ্বে আবর্তিত ঘূর্ণায়মান বিভিন্ন নক্ষত্র সমূহের মতই। সূর্য যেমনিভাবে কেন্দ্র তেমনিভাবে এরও একটি কেন্দ্র রয়েছে। আর একে বলা হয় প্রোটন। এই প্রোটনকে কেন্দ্র করে এর চতুপার্শ্বে আবর্তিত হয়। নিউট্রন যেমনিভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অন্যান্য গ্রহ উপগ্রহ আবর্তিত হয় । সূর্যের চারপাশে যেমনিভাবে পৃথিবী নামক গ্রহ ও অন্যান্য গ্রহ উপগ্রহ আবর্তিত হয় তেমনিভাবে টেবিলের অভ্যন্তরে প্রতিটি পরমাণুর কার্যপ্রণালী একই নিয়মে চলে । আচ্ছা এই পরমাণু আসলে কি? যখন আমরা মাইক্রোস্কোপ দিয়ে এটাকে পর্যবেক্ষণ করি, তখন আমরা দেখতে পাই যে, ইলেকট্রন এবং প্রোটনের মধ্যে রয়েছে একটি বিশাল দূরত্ব এই একই কার্যপ্রণালী আমরা সৌরজগত এর ক্ষেত্রেও দেখতে পাই। সূর্য এবং তারকা সমূহের মধ্যেও রয়েছে বিশাল এক দূরত্ব। যখন আমরা টেবিলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করি তখন আমরা এখানে ফাকা জায়গা দেখতে পাই। আমরা খোলা চোখে দেখি যে এটি কোনো বস্তু দ্বারা পরিপূর্ণ কিন্তু বাস্তবিক অর্থে এটি বস্তু দ্বারা পরিপূর্ণ নয়। এর ভেতরে রয়েছে ফাকা। এখানে রয়েছে শুধু মাত্র ইলেকট্রন প্রোটন । নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রন এর মধ্যকার দূরত্ব সূর্য এবং তারকাদের মধ্যে অবস্থিত দূরত্বের দশগুণ । আমরা এটাকে পরিপূর্ণ ভাবতাম । হ্যা যখন আমরা বাহির থেকে দেখি তখন এটাকে পরিপূর্ণই (fiul) দেখতে পাই। কেননা আমরা এর ভেতরে দেখতে সক্ষম নই। আমাদের চর্ম চক্ষু এটাকে দেখতে সক্ষম নয় যে এর ভেতরে পুরোটাই ফাকা (empty) এখন যখন আমরা আমেরিকার সেই বিজ্ঞানাগারে গবেষণারত বিজ্ঞানীটিকে নিয়ে এসে ও একটি মাইক্রোস্কোপ হাতে দিয়ে এই ফাকা জায়গা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি যে, জনাব আমাদেরকে হিসাব দেখানোর সময় পদার্থ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, এখন সেই ( ) গুলো কোথায়? সে এর কোনো উত্তর দিতে সক্ষম হবে না। কেননা এই ইলেকট্রন ও প্রোটনগুলো হলো পরমাণুর সাধারণ উপাদান, এদের কোনো ওজন ও উল্লেখযোগ্য কোনো আয়তন নেই (do not have important weights and Voluame)। উদাহরণ স্বরূপ যদি আমরা দুনিয়ার সকল স্বর্ণের কথাই ধরি, যদি আমরা স্বর্ণের পরমাণু গুলোর অভ্যন্তরে ফাকা জায়গা গুলোকে পরিপূর্ণ করার জন্য পরমাণুগুলোকে সংকোচিত করতে পারি তাহলে সকল স্বর্ণ শুধুমাত্র একটি আঙ্গুল (thimble)-এর মাথাকে ডুকাতে যে ফাকা জায়গা প্রয়োজন সেটাকে পরিপূর্ণ করতে পারে কিন্তু এটা আমাদের সকলেরই জানা যে, দুনিয়াতে যে পরিমাণ স্বর্ণ রয়েছে এটা লিবসন ও সাইবেরিয়ার মধ্যবর্তী জায়গাকে পরিপূর্ণ করতে পারবে। চিন্তা করুন এটা গোটা ইউরোপকে পূর্ণ করে দিতে পারবে । যখন আমরা নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রন এর মধ্যকার এই দূরত্বকে কমিয়ে নিয়ে আসি তখন গোটা দুনিয়ার স্বর্ণ নামক এই বস্তুকে একটি অঙ্গুলিস্তান (thimble) এ জমা করতে পারি। এটা আমাদেরকে দেখিয়ে দেয় যে, শুধু মাত্র হালকা বা সহজ পদার্থ সমূহ নয় বরং স্বর্ণের মতো ভারি বস্তুকেও শূন্যতা থেকে গঠন করা হয়েছে। যদিও বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন যে, বাস্তবিকভাবে ইলেকট্রন কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে না। তাহলে তারা কোথায় অবস্থান করে? দাবি করা হয়ে থাকে যে, যেখানে ইলেকট্রন এর কোনো অস্তিত্ব নেই আছে শুধু মাত্র তরঙ্গ (wave), তরঙ্গ (wave) নিউক্লিয়াস এর চতুষ্পর্শে আবর্তিত হয়। আধুনিক বিজ্ঞানের মতে সেখানে কোনো বস্তুর/পদার্থের (meter) এর অস্তিত্ব নেই। তাহলে এটা কোন্ প্রকারের তরঙ্গ? যদি আমরা এই অডিটরিয়ামের একপাশ থেকে অপরপাশ পর্যন্ত রশি টানিয়ে দেই এবং এর একপাশ থেকে এটিকে তরঙ্গায়িত করি তাহলে এটি অন্য প্রান্তে গিয়ে পৌঁছে। এখানে আপনারা গ্রহণ করেন যে ইলেকট্রন আবর্তিত হয়, কিন্তু না ইলেকট্রন ও আবর্তিত হয়না। তাহলে কি আবর্তিত হয়? আবর্তিত হয় মূলত এই তরঙ্গ। এখানে পদার্থ বলতে কিছু নেই। তথাপি আজকের পাশ্চাত্য বিশ্ব কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করে ও মনে হয় যে তারা কিছু কাজের প্রজেক্ট ও গ্রহণ করেছে। কিন্তু তারা এটা অনুধাবন করে না যে, তা কি ব্যবহার করছে। এমন কি তারা এটাও উপলব্ধি করেনা যে, তারা কিসের উপর ভিত্তি করে তাদের কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে। আজকে পাশ্চাত্যের একজন মানুষের পদার্থ (meterial) শক্তি (energy) ও বল (Force) সম্পর্কে ধারণা নেই। আমরা কেন আজকে এর উপর এতো দৃষ্টিপাত করছি? এই মুহুর্তে কি এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়? আমি এখন অন্য একটি ব্যাপারকে তুলে ধরতে চাই। যখন আমাদের মুসলিম ভায়েরা পাশ্চাত্যের কোনো ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করে বা পাশ্চাত্যের সাথে কোনো ব্যাপারে আলোচনায় আসে তখন তাদেরকে পাশ্চাত্যের আচরণকে সহ্য করতে হয়। তারা মুসলিমদেরকে তাদের তুলনায় পাশ্চাদমুখী ও নিকৃষ্টভাবে। অথচ তারা যে নিজেরাই ছোট (inferior) এটা তারা জানে না। আজকের এই বক্তব্যে আমি এটা প্রমাণ করব যে, মুসলিমদেরকে যারা নিকৃষ্টছোট (inferior) ভাবে তারাই বরং ছোট, মুসলিমরা ছোট নয়। তারা নিজেদেরকে না চিনেই, নিজেদের অবস্থানকে দৃষ্টিপাত না করেই, তার অবস্থান কি? এটাকে উপলব্ধি না করেই তারা বলে থাকে যে, বিজ্ঞান হলো জ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখা । তাদের মতে বিজ্ঞান কি? দেখুন তারা চাঁদে যায়, তারা মঙ্গলসহ মহাকাশে গিয়ে থাকে। কিন্তু কোন পথে, কিভাবে, কোন উপায় অবলম্বন করে থাকে, তারা এ সম্পর্কে জানে না । যখন আপনি তাদেরকে এই সকল হিসাবের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন সে এর জবাব দিতে পারবে না। যদিও তারা দিতে পারে তবে তারা বলবে যে, এ সকল কিছুর উৎস হলো কিছু সূত্রমালা। এই সূত্রগুলো থেকেই তারা তাদের ধারণা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তারা বলে যে, এটা আমাদের বদ্ধমূল বিশ্বাস যে, এই সূত্রগুলোর উপর ভিত্তি করেই আমরা সকল কিছুই উদ্ভাবন করে থাকি। এই সূত্রগুলো কি? এই সূত্রগুলো হলো
১. প্রত্যেকটি ক্রিয়ার-ই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে ।
২. কোনো পদার্থ ও শক্তিকে সৃষ্টি ও ধ্বংস করা যায় না শুধুমাত্র এক অবস্থায় রূপান্তর করা যায় মাত্র। আচ্ছা আপনার মতে যে পদার্থের কথা বলছেন এই পদার্থ বলতে কি বুঝায়? শক্তি (energy) ও বল (force) বলতে কি বুঝায়? যখন আমরা এই সকল প্রশ্ন তাদের সামনে পেশ করি তারা এর সঠিক কোনো জবাব সংক্ষিপ্ত ও সঠিকভাবে পেশ করতে পারে না। কেন পারে না তারা? কারণ হলো সত্যিকারের জ্ঞান বলতে কি বুঝায় তারা তা জানে না। তারা এই ছোট ব্যাপার গুলোকেই সবচেয়ে বড় জ্ঞান বলে ধারণা করে থাকে সত্যিকার অর্থে বিজ্ঞান শুরু হয় মূলত এখান থেকে। যেখানে এসে তারা থেমে যায় সেখান থেকেই আসল জ্ঞান ও বিজ্ঞান শুরু হয়। তারা কিভাবে আমাদেরকে বিজ্ঞান শিক্ষা দেবে যেখানে তারা পদার্থ বস্তু সম্পর্কেই অবগত নয়। তেমনিভাবে সে জানে না যে, শক্তি কি (energy), বল (force existence) কি ও ভর (mass) কি? পদার্থ বা বস্তু (Subtance metarial) নামে কোনো কিছু আছে না কি নাই? তাহলে তোমরা আমাদেরকে শিক্ষা দিতে পার না। দেখুন আপনাদের কেউ বলে এভাবে, কেউ বলে সেভাবে আবার কেউ বলে হ্যা পদার্থ (Subtance metarial) আছে। আবার কেউ বলে না পদার্থের (Subtance) এর কোনো অস্তিত্ব নেই। আবার কেউ বলে এটা হলো তরঙ্গ। এটা ওটা নানান কিছু। আপনারা জেনে থাকবেন যে, এদের মধ্যে অন্যতম হলো আইনস্টাইন (Einstein) যে হলো একজন ইয়াহুদী বিজ্ঞানী যে তার সারা জীবন এই সকল গবেষণায় কাটিয়েছে । সে তার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বলেছিল আমি প্রায় সারা জীবন বিজ্ঞান গবেষণায় কাটিয়েছি। আমি শক্তি (energy) বল, (force) এবং পরমাণু (Atom) সম্পর্কে অধ্যায়ন করেছি এগুলো নিয়ে হিসাব নিকাশ করেছি। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও এগুলো সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবগত হতে পারলাম না। তথাপি আমি আপনাদেরকে একটা বিষয়ে অবগত করতে চাই। যদি আমরা শক্তি (energy), বল (force), পদার্থ (Substance) এর জায়গায় অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক ধারণাকে গ্রহণ করতাম তাহলে কি আমরা একই ফলাফল পেতাম? নাকি সহজ কোনো হিসাব বের করতে পারতাম? এটা আমরা জানি না। কিন্তু আমি ধারণা করি যে, পদার্থ (Substance) শক্তি (energy) বল (force) এগুলো একে অপরের থেকে ভিন্ন নয় ।
আমি এগুলোকে একই ব্যাপার মনে করে থাকি। আমি মনে করি যে, এগুলো একই জিনিস আর সেটা হলো শক্তি (energy) আর এটি কখনো পরিণত হয়। পদার্থে (Substance) আবার কখনো বা বলে (force)। আমি এটা ধারণা করতে পারি যে, এটা কি? কিন্তু আমি এটাকে বিশ্লেষণ করতে পারি না। যেমনিভাবে আমরা যখন পরমাণু (Atom) কে বিভিন্ন খণ্ডে বিভক্ত করি তখন এটা শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তেমনিভাবে শক্তিকে (energy)কে যখন একত্রিত করা হয় তখন এটা পদার্থে (Substance) পরিণত হয় । তথাপি পদার্থের ক্ষেত্রে কি ঘটে? শক্তি কি? এগুলোর আসল কোনটি? আজ আমরা এই সকল প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য যদি পাশ্চাত্যের জ্ঞানে পরিপূর্ণ পান্ডিত্য অর্জনকারী আইনস্টাইনকে জিজ্ঞাসা করি তিনিও এসকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন না । অবশেষে তাদের জ্ঞানের অপূর্ণতা স্বীকার করতে বাধ্য হন। মুসলিমদেরকে নীচু (inferior) ভাবে দেখার পূর্বে তাদের নিজেদের এই হীনতাকে পর্যালোচনা করা উচিত । তারা সর্বদাই একটি কঠিন সমস্যা মোকাবেলা করে থাকে। আর তাদের এই সমস্যার (Complexity) এর মূল কারণ হলো সঠিক জ্ঞানের অভাব। পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন সূত্রকে অবলম্বন করে তাদের হিসাব নিকাশ করে থাকে কিন্তু আজকে তারা তাদের হিসাব নিকাশের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এজন্য আজ আমরা তাদের মুখে বিভিন্ন হতাশার বাণী শুনতে পাই, কিন্তু তারা প্রকৃতপক্ষে এর মূল কারণ অনুসন্ধান করেন না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে আমাদের ছাত্রদেরকে ডক্টরেট করিয়ে থাকি। পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেও ডক্টরেট (PHD) করার দিকে উৎসাহিত করা হয়ে থাকে। গবেষণার সময় বা গবেষণার বিষয়ে আমাদের এমন অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় যেটার সমাধান আমরা কেউ দিতে পারি না। কিন্তু প্রায় সময়ই আমরা ব্যাপারটাকে এড়িয়ে যাই কিংবা গোপন রাখি। কিন্তু এটা আমাদের বলা একান্ত প্রয়োজনীয় এবং সে সাথে মানুষের অক্ষমতাটাও তুলে ধরা। এখন পাশ্চাত্যের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছে এমন কারো সাথে যদি এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করি আর আপনারা যদি আমাদের বিচারক থাকেন। আর আমি যদি বলি “পাশ্চাত্যের করা বিভিন্ন হিসাব নিকাশ, তাদের ব্যবহৃত সূত্রাবলী সম্পর্কে পুরোপুরিভাবে তারা অবহিত নয়, দ্বিতীয়ত, তারা তাদের এই সকল হিসাব নিকাশ গবেষণার সময় সর্বদাই একটি জটিলতায় (Complexity) থাকে। তারা এই সকল জটিলতার সমাধানে মোটেও সক্ষম নয়। আচ্ছা তাহলে তারা তাদের ডক্টরেটে (PHD) গবেষণায় কি করে থাকে? আমি আপনাদেরকে বুঝাবো তারা বা আমরা কি করে থাকি। উদাহরণ স্বরূপ আমার গবেষণার বিষয় হলো সাগরে জাহাজ চালনা পদ্ধতি বা গতিবিধি এরথেকে তরঙ্গগুলো কিভাবে গঠিত হবে বা কিভাবে এর তরঙ্গগুলো সাগরে মিশে যাবে? আমাদের প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করা বা আমরা যেটাকে জ্ঞান বলে অবিহিত করে থাকি সে ব্যাখ্যা মতে, আমরা জাহাজকে সাগরে চালনা করি, জাহাজের পেছনের ঢেউগুলোর ছবিগুলো সংগ্রহ করার পর সকলেই টেবিলে বসে পর্যালোচনা করি যে, জাহাজ পরিচালনার পর তরঙ্গগুলোর এইভাবে প্রবাহিত হয়েছে। আমাদের এই হিসাবকে পূর্ণ করার জন্য সেই সূত্র তিনটিকে যদি লিখি এবং লেখার পর যদি সমস্যাটিকে সমাধান করার জন্য চেষ্টা করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমরা এর কোনো সমাধান দিতে পারি না। কেননা আমাদের মাথায় এর যুক্তি বুঝে আসে না। আমরা এর নিখুঁত তথ্য ও তত্ত্ব নির্ভুলভাবে না জানার কারণেই আমরা এর সঠিক কোনো উত্তর খুঁজে পেতে সক্ষম নই। এরপর আমরা সহজ রাস্তা বের করার চেষ্টা করি কিন্তু সত্যিকার অর্থ বের করতে ব্যর্থ হয়ে সহজভাবে সমাধান করার চেষ্টা করার নাম জ্ঞান নয়। নিজে নিজেই সহজতর পথ বেছে নেওয়া অনেকটা চিত্রাকরের ছবি আকার মতো যে তার মনের মাধুরী মিশিয়ে তার ছবিকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে ছবির কোনো অংশ আঁকতে সক্ষম না হলে সে অন্য কোনো ভাবে এটাকে আঁকার চেষ্টা করে থাকে। আমরা চাই যে, আসল ছবিটি আমার অংকনকৃত ছবির আলোকে দর্শকদের সামনে আনতে। আমরা কেন এরকম কাজের দিকে এগিয়ে যাই? কেননা আমাদের ব্যবহৃত সূত্র ও পদ্ধতিসমূহকে সমাধান করার জন্য পর্যাপ্ত গাণিতিক জ্ঞান আমাদের নেই। আমরা যে পথে সকল গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করি সেটা হলো সীমাবদ্ধ একটি পথ। পাশ্চাত্যের যে প্রযুক্তি ও জ্ঞানকে ব্যবহার করে রকেট এর মাধ্যমে চাঁদে যাবে, এটাকে আপনারা জ্ঞানের সর্বোচ্চ চূড়া হিসাবে ধরবেন না। পাশ্চাত্যের জ্ঞান ও বিজ্ঞান এমন একটি অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যে, এখান থেকে তারা আর খুব বেশিদূর এগুতে পারবে না। আমার এই সকল উদাহরণ এর মূল উদ্দেশ্য হলো পাশ্চাত্যের অসরতা প্রমাণ করা। যারা নিজের বড়ত্বকে প্রকাশ করে মুসলিমদেরকে খাটো করে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে তারাই মুসলিমদের কাছে চিরঋণী। যদিও বা তারা নিজেদেরকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ধারক ও বাহক করে পেছন থেকে বলে যে মুসলিমরা নীচু, তারা কিছু জানে না সত্যিকার অর্থে তারা জানে না যে, তারা কি করছে। এটা তাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তাদের এই অহংকার তাদের জন্য এমন একটা পথ যেখান থেকে তারা বের হতে পারবেনা। এর ফলাফল কি হবে তাহলে? বন্ধ পথের সন্ধান দেওয়ার জন্য মুসলিমরা জ্ঞান বিজ্ঞানের ব্যাপারে কি মতামত পোষণ করে সেটাকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। মুসলিমগণ এই সূত্রবলী ও হিসাব নিকাশের পদ্ধতিতে কিভাবে দেখে থাকে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদেরকে জানতে হবে যে, পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীদের দ্বারা ব্যবহৃত আশ্চার্য জনক সূত্রাবলী কাদের দ্বারা অবিস্তৃত। প্রথমেই এটা আমাদের অনুসন্ধান করা উচিত। যদি পাশ্চাত্যের কোনো বিজ্ঞানী বলে যে, সে সকল বিষয়ে জ্ঞান রাখে তাহলে আমাদেরকে বুঝতে হবে যে তার জ্ঞানের স্বল্পতা আছে। আমরা সকলেই জানি যে, পৃথিবীর সকল মানুষের জ্ঞানকে যদি একত্রিত করা হয়, তাহলেও মহান আল্লাহ তায়ালার যে জ্ঞান তার সাথে তুলনা করলে সাগরের এক বিন্দু পানির সমান ও হবে না। এই জন্য সামান্য জ্ঞানের অধিকারী মানুষের অহমিকা করা কখনো শোভা পায় না।
