ইসলাম ও বিজ্ঞান – ২
যদি পাশ্চাত্যের বিজ্ঞানীগণ মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞ হত এবং তার জ্ঞানের বিশালতা সম্পর্কে জানত তারা এতো অহমিকায় মত্ত হতনা। সে তার নাফরমানীর বদলে আল্লাহ তায়ালার কাছে আরও জ্ঞানের প্রার্থনা করত। আমরা যদি সকল জ্ঞান বিজ্ঞানকে একত্রিত করে হিসাব করা শুরু করি যে, পথিবীতে আজ পর্যন্ত যতো জ্ঞান এসেছে এগুলো কোথা থেকে এসেছে এগুলোর মালিক। কে? এ জ্ঞান কিভাবে কোথা থেকে আসল? এটাকে অনুসন্ধান করা একান্ত প্রয়োজন। আমরা একথা জানি যে, আজকের পৃথিবীতে যতো জ্ঞান রয়েছে। এগুলো মানুষ ক্রমে ক্রমে উন্নতি করেছে। আজকে আমরা শুধুমাত্র ৫০০০বছরের জ্ঞান বিজ্ঞান সম্পর্কে জানি। কিন্তু ৫ হাজার বছর পূর্বেও মানুষের অস্তিত্ব ছিলো ৫ হাজার বছর পূর্বে লেখা অবিকৃত হয়েছিল বলে ৫০০০ বছরের জ্ঞান বিজ্ঞানের ডকুমেন্ট আমাদের কাছে রয়েছে। কিন্তু লেখা আবিস্কৃত হওয়ার পূর্বে মানুষ কি জানত তাদের জ্ঞান কতটুকু ছিলো তা আমাদের হাতে নেই। এইজন্যে আমরা ৫০০০ বছর আগে ফিরে যাব এবং দেখব যে, এই ৫০০০ বছরে জ্ঞান বিজ্ঞান কিভাবে উন্নতি লাভ করেছে । আমরা যদি ধরে নেই যে, প্রথম মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলো। তাহলে মানুষ কিভাবে জ্ঞান ও বিজ্ঞানকে দিন দিন উন্নতির দিকে ধাবিত করেছে? ৫ হাজার বছর আগের একজন মানুষ যে-কিনা প্রস্তর যুগে বসবাস করত তার আবাস ছিলো পাহাড়ের গুহা। সে জানত না আগুন কি? আল্লাহ রব্বল আলামীন আস্তে আস্তে মানুষকে মেধা ও যোগ্যতা দান করেছেন এবং তার নিয়ামত দান করেছেন। মানুষ সকল সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সৃষ্টি। অন্যান্য প্রাণী যেমন, বাঘ, সিংহ ও বানর এদেরকে আলাহ তায়ালা কিছু সক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন কিন্তু মানুষের মতো তাদেরকে জ্ঞান বুদ্ধি দান করা হয়নি। উদাহরণস্বরূপ একজন মানুষ যখন একটি পশুকে ঘায়েল করতে চায় পশুটিকে কিভাবে ঘায়েল করতে হবে এটা সে জানে । কিন্তু পশু এই পদ্ধতিটি জানে না বা রপ্ত করতে পারে না। মহান আলাহ মানুষকে বুদ্ধি দান করেছেন, বিভিন্ন নিয়ামতে তার চলার পথ সহজ করে দিয়েছেন। তার নিয়ামতের কারণেই মানুষ বিভিন্ন পথের সন্ধান পেয়েছে নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তি আবিষ্কার করছে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে আগুন আবিষ্কারকে সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হিসাবে ধরা হয়। যে সকল মানুষ আগুন আবিষ্কার করেছে তারা হয়ত আগ্নেয়গিরির লাভার উদগীরণ দেখে বিভিন্ন পাতা ও কাষ্ট খন্ডকে একত্রিত করে আগুন জ্বালাতে শিখেছে। কিন্তু প্রাচীনকালে মানুষ কিভাবে এটার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে সেটা আমরা জানি না। কিন্তু আমরা এটা ধারণা করতে পারি যে এই পদ্ধতিটি আস্তে আস্তে উন্নতি লাভ করেছে। এর পর অন্যান্য জ্ঞান গুলোও মানুষ আস্তে আস্তে রপ্ত করেছে। শিখে শিখেই মানুষ তার আজকের অবস্থানে পদার্পন করেছে। সর্ব প্রথম মানুষ এবং প্রথম যুগের মানুষের জ্ঞান সম্পর্কে বর্ণনা আমি করতে পারব কেননা, হযরত আদম আ.-এর জ্ঞান কতটুকু ছিলো সেটা আমরা জানি না। শুধু মাত্র প্রস্তর যুগের মানুষের জ্ঞান কতটুকু ছিলো সেটাই আমরা জানি। সবচেয়ে আশ্চার্যজনক ব্যাপার হলো ৫০০০ বছরের মানব সভ্যতার ইতিহাসে। আমাদের সময় পর্যন্ত মানুষের জ্ঞান কিভাবে মানুষ রপ্ত করতে পেরেছে? এর সবচেয়ে সহজ-সরল ব্যাখ্যা হলো মানুষের আজকের এই জ্ঞান বিভিন্ন তারিখ ও সালের সাথে রপ্ত করেছে এই ভাবে তারা আজকের জ্ঞান বিজ্ঞান পর্যন্ত আসতে পেরেছে। কিন্তু জ্ঞান বিজ্ঞানের ইতিহাস আমাদেরকে বলে ভিন্ন কথা, ইতিহাস থেকে আমরা শিখতে পারি যে, মানুষের জ্ঞান এইভাবে কোনো নিয়মিত প্রক্রিয়ায় (regular process) আসেনি। তাহলে কিভাবে উন্নতি লাভ করেছে? আমরা যখন অনুসন্ধান করি তখন দেখতে পাই যে প্রাথমিক দিকে মানুষ আস্তে আস্তে ক্রমধারায় (gradually) জ্ঞান লাভ করতে পেরেছে এই পদ্ধতিটি ছিলো একটি সময় পর্যন্ত কিন্তু এর পর এটা পর্যায়ক্রমে উন্নীত হয়েছে। তার পর এটা আবার মন্থর হয়ে পড়েছিল, কিন্তু জ্ঞান বিজ্ঞানের চরম উন্নতি ও অগ্রগতি হয়েছিল কোন সময়ে? জ্ঞান ও বিজ্ঞানের এই চরম উন্নতি ঘটেছিল মূলত ইসলামের সোনালী যুগ ৭ম শতাব্দীতে আর এই ধারা অব্যাহত ছিলো ১৪ থেকে ১৫ শতাব্দী পর্যন্ত । ইতিহাস স্বাক্ষী জ্ঞান বিজ্ঞান এইভাবে তার উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল । ৭ম শতাব্দী থেকে জ্ঞান বিজ্ঞানের এই বিপ্লব মূলত হয়েছিল মুসলিমদের হাতে কিন্তু পরবর্তীতে ইউরোপীয়ানরা মুসলিমদের কাছ থেকে ১৫শ শতাব্দী থেকে দখল করা শুরু করে। এটা শুরু হয় ইউরোপের রেনেসার মাধ্যমে এবং ক্রসেডের পর এটা পুরোপুরি তাদের হাতে চলে যায় এবং তারা এর উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে শুরু করে । প্রকৃত পক্ষে ইসলামের সোনালী যুগ থেকে রেনেঁসা (৭-১৪) শতাব্দী পর্যন্ত ৭ শত বছর জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখায় একচ্ছত্রভাবে মুসলিমদের বিচরণ ক্ষেত্র ছিলো। তারাই মূলত এই ৭শত বছর জ্ঞান বিজ্ঞানের লালন করত। গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে, আজকে মানুষের কাছে যে জ্ঞান রয়েছে এর ৬০-৭০% ই এসেছে মুসলিমদের কাছ থেকে। মুসলিম মনিষীরাই জ্ঞানের উন্নতি অগ্রগতিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিল। এটা দ্বারা কি বুঝায়? যারা আমাদের সাথে অহমিকা প্রদর্শন করে আমাদের মুসলিম জাতিকে হীন ও নীচু দৃষ্টিতে দেখে তারা জানে
যে তাদের জ্ঞানের ৭০ ভাগেরও বেশি এসেছে মুসলিমদের কাছ থেকে।
এমন অহমিকার মূল কারণ হলো জ্ঞান বিজ্ঞানের ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতা। সত্যিকার অর্থেই কি এমন? অর্থাৎ মুসলিম শাসনামলে জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে কি এতটাই উন্নতি হয়েছিল? আমি এই কথার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে যাওয়ার পূর্বে যে দুটি সময়ে জ্ঞান বিজ্ঞান উৎকর্ষ লাভ করেছিল সে সম্পর্কে তাৎপর্যপূর্ণ ৩টি বিষয় বলতে চাই। দেখুন ইসলামের সোনালী যুগে মুসলিমদের দ্বারা জ্ঞান বিজ্ঞানে যে। উৎকর্ষতা সাধিত হয়েছিল সে জ্ঞান মানব কল্যাণে কতটক ভূমিকা রেখেছিল। অপর পক্ষে ইউরোপীয় রেনেসার সময়ে মুসলিমদের কাছ থেকে যে জ্ঞান তারা আহরণ করেছিল সেটা কিভাবে হয়েছিল। যারা আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলে তারা বলে থাকে যে, শুধুমাত্র পাশ্চাত্যেই জ্ঞান বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা সাধিত হয়েছে। তোমরা এই সকল ব্যাপারে অজ্ঞতার অন্ধকারে রয়েছ। এই কথা বলেই তারা থেমে থাকেনি। পাশ্চাত্যে যারা ইসলাম বিদ্বেষী, ইসলামকে খাট করে প্রকাশ করা যাদের কাজ তারা মানুষের মাঝে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ও ভ্রান্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং তারা কি বলে জানেন? পাশ্চাত্যবাদীরা তাদের কথাগুলোকে বারবার পুনরাবৃত্তি করে থাকে এই বলে “আপনারা জ্ঞান ও বিজ্ঞানের যতটুকু উৎকর্ষ সাধন করেছেন মুসলিমরা তা করতে পারেনি। তারা প্রাচীন গ্রীক, প্রাচীন ভারত ও প্রাচীন মিশরের জ্ঞানকে নেওয়ার পর সেখান থেকে কিছুটা শিক্ষা গ্রহণ করে এবং মৌলিক মানবীয় যোগ্যতার বলে সেখানে কিছু উন্নতি করার চেষ্টা করে কিন্তু পরবর্তীতে জ্ঞানের আসল ধারক বাহক ইউরোপীয়ানদের কাছে এটা সমর্পণ করে দেয়। তাদের এই প্রচার সম্পূর্ণ ভাবেই মিথ্যা। সত্যিকার অর্থে মুসলিমগণ প্রাচীন গ্রীক, ভারতীয় ও মিশরীয়দের কাছ থেকে জ্ঞান বিজ্ঞান নিয়েছিল অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর কিন্তু এই জ্ঞান নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো।
১. এই তথ্য উপাত্ত্ব কার কোন্ বই থেকে নেওয়া হয়েছে সেটা উল্লেখ করত এবং বলত যে, “(Batlamyus) বাতলামুইসের এই বইটি পড়েছি সেখান থেকে এই তথ্য পেয়েছি। আমরা অকলিড (Oklid) এর এই এই বই কয়টি থেকে একথা জানতে পেরেছি, আমরা পিথাগরাসোর এই বই থেকে এ পেয়েছি” এইভাবে সর্বদাই তথ্যসূত্র দেওয়া থাকত।
২. ইসলামী পন্ডিতগণ প্রাচীন সভ্যতার সাথে সম্পৃক্ত বইগুলোকে পড়ে সেখান থেকে তথ্য উপাত্ত নেওয়ার সময় মুখস্ত করার মাধ্যমে গ্রহণ করেন নাই তারা এটাকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করার আগ পর্যন্ত গ্রহণ করেননি।
৩. ইসলামী পন্ডিতগণ যখন প্রাচীন গ্রীক, মিশরীয় ও ভারতীয়দের কাছ থেকে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছিল তখন তারা নিজেরাই জ্ঞান বিজ্ঞানে অন্যদের তুলনায় উচ্চে অবস্থান করছিল এবং গ্রীক, মিশর ও ভারতীয় জ্ঞান বিজ্ঞান ছিলো অনেক নিতে । তারা জ্ঞান বিজ্ঞানকে পরিপূর্ণ করার মানসে উন্নত অনুন্নত ভেদাভেদ না করে সকলের কাছ থেকেই জ্ঞান অর্জনে ব্রত ছিলো। এটার দ্বারা কি বুঝায়? এখন আমি আপনাদেরকে এই সম্পর্কে বলতে চাই। ৩য় স্তরে আমরা দেখতে পাই যে, মুসলিমগণ অন্যদের কাছ থেকে জ্ঞান আনয়নের ক্ষেত্রে সকলের জ্ঞানকেই গ্রহণ করেছেন। কিন্তু অপরপক্ষে ক্রুসেড ছড়িয়ে যাওয়ার পর ইউরোপীয়গণ যখন মুসলিমের সাথে উঠাবসা শুরু করে তখনই মূলত তারা। মুসলিমদের কাছ থেকে জ্ঞান লাভ করতে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে প্রনিধানযোগ্য। ক. ইউরোপীয়গণ এই তথ্য উপাত্ত জ্ঞান কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে এর উৎস সম্পর্কে কখনো বলেনি। মুসলিমদের লেখা বইগুলো পড়েছে কিন্তু কার কোন পুস্তক থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে এটা উল্লেখ করেন নাই। অন্যান্য ইউরোপীয়গণ যখন এই সকল বই-পুস্তক পড়েছে তখন তারা ভেবেছে এগুলো ইউরোপীয়ান লেখকদের লেখা পুস্তক । এইভাবে তথ্য বিভ্রাট ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ইউরোপ জুড়ে। আমাদের বই পুস্তকগুলোতেও আজ ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের তথ্য উপাত্তকেই পড়ানো হয়। আমরাও মনে করি যে, বিজ্ঞানে ব্যবহৃত সূত্রগুলো তারাই আবিষ্কার করেছে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে সত্য কথা হলো তারা এগুলো মুসলিমদের লেখা বই থেকেই পড়ে নিজেদের নামে চালিয়ে দিতো। সত্যিই কি তাই? আমি এগুলোকে প্রমাণ করার জন্য আপনাদের সামনে উদাহরণ পেশ করব। খ. ইউরোপীয়নরা মুসলিমদের কাছ থেকে জ্ঞান নেওয়ার সময় তারা এটাকে না বুঝেই গ্রহণ করেছিল । আজকের এতো উন্নত চোখ ধাধানো ইউরোপ কিভাবে এগুলো না বুঝে গ্রহণ করেছে? এটা হয় কিভাবে? হয়ত এই প্রশ্ন আপনারা আমাকে করবেন । আমি এখন আপনাদেরকে উদাহরণ দিব। আমরা দেখতে পাব তাদের না বুঝা বিষয়গুলো। গ, ইউরোপীয়গণ যখন এই জ্ঞান বিজ্ঞানগুলো মুসলিমদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিল তখন তাদের যোগ্যতা এই জ্ঞানগুলো গ্রহণ করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত ছিলো না। অর্থাৎ ইউরোপীয়ানরা মুসলিমদের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে উপর থেকে নীচে এই নীতিতে জ্ঞান আহরণ করেছে। মুসলিমরা ছিলো উপরে আর ইউরোপীয়ানরা ছিলো নীচে। কোন দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলিমরা উন্নত ছিলো? ইউরোপীয়ানরা যখন এই জ্ঞানগুলো নিচ্ছিলো তাদের ভাষা এই জ্ঞান গ্রহণ করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত ছিলো না। মুসলিমদের কিতাবগুলো ও কিতাবের পূর্ণ অর্থ গ্রহণে সক্ষম ছিলো না ।
১৪ শতাব্দীতে তারা যে সকল সূত্র ও তথ্য উপাত্ত অনুবাদ করেছিল সেগুলো তারা ১৮ শতাব্দীতে এসে বুঝতে শুরু করেছিল। অর্থাৎ ৪ শতাব্দী পর তারা এটাকে অনুধাবন করতে শুরু করেছিল। কিছু কিছু জ্ঞান তার ৫ শতাব্দী পর তারা বুঝতে শুরু করেছিল । সম্মানিত ভাইয়েরা, সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে, মুসলিমগণ অন্যদের নিকট থেকে জ্ঞান আহরণের সময় এটা কার কাছ থেকে কিভাবে গ্রহণ করছে সেটার তথ্য সূত্রকে উল্লেখ করত। এই সকল জ্ঞান যেমন ছিলো সেভাবেই গ্রহণ করেছিল, ভুলগুলোকে সংশোধন করে গ্রহণ করেছিল, বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেগুলোকে উপযোগী করে তুলেছিল। যে সকল জাতি থেকে জ্ঞান নিয়েছিল তাদের থেকে মুসলিমরা ছিলো অনেক উন্নত ও অগ্রগামী। কার কাছ থেকে কি এনেছিল সেটা উল্লেখ করেছিল। তারা এগুলোকে বুঝার জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দী ব্যয় করেছিল। আমরা এখানে এগুলো কোনো প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ ছাড়াই তুলে ধরতে পারছি। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো এগুলোকে ইসলামের শত্রু ও পাশ্চাত্যবাদীদের সামনে তুলে ধরে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা। আমরা যে ব্যাপারগুলো নিয়ে কথা বল্লাম এর সত্যতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের। এই দৃষ্টি ভঙ্গির সাথে সম্পৃক্ত কিছু উদাহরণ আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। আমি বলতে চাই যে, আজকে আমরা যেভাবে পাশ্চাত্যের জ্ঞান বলে অভিহিত করে থাকি, যেমন পদার্থ, রাসায়ন, গণিতশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাবিদ্যা, ইতিহাস, ভূগোল এমনকি আজকের জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল কিছুই মুসলিমদের উদ্ভাবিত। মুসলিমরাই এগুলোর সূচনা করেছে। অবশ্যই ৩টি অনেক বড় একটি দাবি কিন্তু আমি এই দাবিকে প্রমাণ করার জন্যে উপস্থিত । দেখুন উদাহরণস্বরূপ আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চাদে এবং মহাকাশে যাওয়া। মহাকাশ ও চাঁদে যাওয়ার যে বিষয় সেটি জ্যোতিবিদ্যার সাথে সম্পৃক্ত একটি জ্ঞান এবং আমরা জানি যে, জ্যোর্তিবিদ্যার জ্ঞান মূলত উদ্ভাবিত হয়েছিল মুসলিমদের মাধ্যমে। যে মুসলিম এই জ্ঞানের জনক কে তিনি? আমি আপনাদেরকে এগুলো থেকে শুধুমাত্র কয়েকটি বিষয়ের আলোচনা করব । ইসলামের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল বানী ইসমাইলি। তিনি হলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন জ্যোতিবিজ্ঞানী। আল-বাত্তানী কে? আপনারা কি জানেন কে তিনি? হয়ত আমাদের মধ্যে কেউ কেউ জেনে থাকবেন । দু:খ জনক হলেও সত্য যে, আমরা আমাদের বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে জানি না, আমাদেরকে আমাদের প্রেরণার উৎস মুসলিম বিজ্ঞান সম্পর্কে শেখানো হয় না। আমাদের মধ্যে হয়ত অনেকেই বাতলামাউস (Batlamyus) এর নাম জানেন। তাকে অনেকেই পতলেমে (Ptoleme) নামে চিনে। কেন? কেননা আমাদের বই পুস্তকে তাদের সম্পর্কে লেখা হয়, তাদেরকে নিয়ে আলোচনা করা হয় । কিন্তু আল-বাত্তানীর নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করা হয় না। কেন? এর পেছনে মূল কারণ হলো আমাদের বই পুস্ত কগুলোর অধিকাংশই পাশ্চাত্যের বই পুস্তকগুলো থেকে অনুবাদ করা হয়েছে। তথাপি বাতলামাউস (Batlamyus) এর অবস্থান কোথায় আর আল-বাত্তানী কোথায়? বিজ্ঞানে এই ২জনের মধ্যে কার অবস্থান কত উপরে সেটা আপনাদের সামনে প্রকাশ করব। আল বাত্তানীর পূর্বে মিশরীয় বিজ্ঞানী বাতলামাউস (Batlamvus) মহাকাশে সূর্যের প্রদক্ষিণ সম্পর্কে একটি ধারণা পেশ করেছিলেন সেটা হলো মহাকাশে সূর্য তার নিজস্ব জায়গায় ফিরে আসতে ২৬০ দিন লাগে অর্থ বছরে ২৬০ দিন। কিন্তু আল বাত্তানী তার এই কথাকে ভুল প্রমাণ করে বলেন যে সূর্য তার একই অবস্থানে ফিরে আসতে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৬ মিনিট ২২ সেকেন্ড লাগে । অর্থাৎ এক বছর মানে হল ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৬ মিনিট ২২ সেকেন্ড। এখন পাশ্চাত্য কি আমাদেরকে এটা বলতে পারবে যে, আল বাত্তানী এবং বাতলামাউস এর গবেষণার মাঝে খুব সামান্য পার্থক্য রয়েছে । আল-বাত্তানী যে হিসাব আমাদের সামনে পেশ করেছেন আজকের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে হিসাব বের করা হয়েছে তার সাথে মাত্র ২ মিনিট ২৪ সেকেন্ড এর পার্থক্য রয়েছে। আল বাত্তানী এতো বছর পূর্বে আমাদের সামনে এতো নিখুত একটি হিসাব করে দেখিয়েছেন। আচ্ছা যে ব্যক্তি হিসাব করে দেখিয়েছেন যে ২৬০ দিনে এক বছর আর যিনি বলেছেন যে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৬ মিনিট ২২ সেকেন্ড ২জনের অবস্থান কি একই? আমরা এরকম পার্থক্য অন্যান্য ক্ষেত্রেও দেখতে পাই। কেন? কারণ হলো মুসলিমগণ জ্ঞান বিজ্ঞানে উৎকর্ষ সাধন করার পর (Batlamyus) বাতলামাউস এর মতো বিজ্ঞানেও ইতিহাসের পেছনে পড়ে থাকবেন। প্রাচীন মিশরীয়রা ভূমধ্যসাগরের দৈর্ঘ্য অর্থাৎ মেরসিন থেকে ইসকেনদেরীয়া এর দূরত্ব তারা মেপেছিল আজকের দূরত্ব থেকে ২০ ভাগের ১ ভাগ অর্থাৎ আনকারা থেকে কনিয়ার দূরত্ব ২৬০ কিলোমিটার কিন্তু তারা ভাবত যে ১৩ কিলোমিটার কিন্তু যখন মুসলিমরা ক্ষমতা পায় তখন তারা ভূমধ্য সাগরের সঠিক দৈর্ঘ্য বের করতে সক্ষম হয়। কিভাবে তারা পরিমাপ করেছিল? আব্বাসীয় খলিফা মামুন নির্দেশ প্রদান করেন যে,“ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত মুসলিম জনগণের ভূমির তফসিলভূক্ত জরিপ ও সেখানে অবস্থিত মুসলিম জনগণের অধিকার নিরূপন করতে চাই। ভূমধ্য সাগরের তীরে অবস্থানরত মুসলিম জনগন ও তীরের দৈর্ঘ্য সঠিকভাবে নির্ণয় করে আমার কাছে নিয়ে আসবে”। এই কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি একদল ভূগোল বিজ্ঞানীকে দায়িত্ব প্রদান করেন । মুসলিম বিজ্ঞানীগণ সেই সময়ের সকল প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ভূমধ্য সাগরের প্রস্থ মাপার জন্য একটি পথ অনুসরণ করেন : তারা ভূমধ্য সাগরের তীরে গড়ে উঠা একটি শহর থেকে পরিমাপ করার কাজ শুরু করে। তারা উচু পাহাড়ের চূড়ায় উঠে সেই চূড়া থেকে যতটুকু দেখতে পারে ততটুকু পর্যন্ত তারা দেখে । এরপর তারা সাগরের উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ার উচ্চতাকে পরিমাপ করে । সূর্য ডোবার সময় পাহাড়ের চূড়া থেকে সেই সময়ের যন্ত্রপাতি দিয়ে এর মধ্যকার কোনকে পরিমাপ করে। যদি আরও সহজভাবে একটি উদাহরণ পেশ করি তাহলে যেমন ধরুন কনিয়াতে একটি পাহাড়ের চূড়ায় উঠলাম, দেখি কি কুলের ওখানে সূর্য অস্ত হচ্ছে। সূর্য সেখানে কত ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে ডুবছে সেটার একটা পরিমাপ করি । যে পাহাড়ের চূড়ায় উঠেছি তার উচ্চতা মেপে নেই । পাহাড়ের উচ্চতা মাপার পরও সূর্য কত ডিগ্রী কোনে ডুবলো সেটা জানার পর পাহাড় থেকে কুলের (একটি জায়গার নাম) দূরত্ব জেনে নেই। অর্থাৎ কুলে , থেকে কনিয়ার দূরত্ব হিসাব করছি । কিভাবে? হিসাব করি? শুধুমাত্র এটাকে হিসাব করার জন্য আজকে যে আমরা (sine) সাইন, (cosine)কোসাইন, (tangent)টেনজেন্ট ব্যবহার করি এই ত্রিকোনমিতির ধারণা আবিষ্কার করে হিসাব করা হলো। ত্রিকোনমিতির এই ধারণা সর্বপ্রথম খলিফা মামুনের সময়ে মুসলিম বিজ্ঞানীগণ আবিষ্কার করেন। তারা এই দূরত্ব হিসাব করার সময় বিপরীত কোনের সাইন (sine) ও কোসাইন (cosine) হিসাব করে এবং এই হিসাবের দ্বারা তারা দূরত্ব পরিমাপ করতে সক্ষম হয়। আমরা সাইন (sine) সম্পর্কে পরবর্তীতে আলোচনা করব । শুধুমাত্র ভূমধ্য সাগরের প্রস্থ কিভাবে মেপেছিল সে সম্পর্কে বলতে চাই। এখান থেকে যাওয়ার কুলুর পাহাড়ের চূড়ায় উঠার পর সেখান থেকে আনকারার দিকে তাকায়। এরপর দুই পাহাড়ের মাঝখানের দূরত্ব মেপে এইভাবে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে উঠে শহরের মাঝখানের সকল দূরত্বকে মেপে মেপে ভূমধ্য সাগরের সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্যকে পরিমাপ করে । প্রাচীন মিসরীয়রা ভূমধ্য সাগরের দৈর্ঘ্য আজকের দৈর্ঘ্য থেকে ২০ ভাগের ১ ভাগ ভাবত। কিন্তু মুসলিমরা সকল অসম্ভাবনাকে সম্ভব করে সত্যিকারের দূরত্ব মাপতে পেরেছিল। এখন আসি সাইন (sine) এর কথায়। যে সকল ভাইয়েরা তুলনামূলকভাবে আগে ত্রিকোনমিতি পড়েছেন তারা জানেন যে, আগে ত্রিকোনমিতি পড়ার সময় sine, cosine এ সকল শব্দের জায়গায় zeyp, শব্দ ব্যবহৃত হত । Zeyp শব্দটি একটি আরবি শব্দ। খলিফা মামুনের সময় সর্বপ্রথম মুসলিম বিজ্ঞানীগণ দূরত্ব পরিমাপ করার ক্ষেত্রে এই শব্দগুলোর ব্যবহার করেছিলেন। সে সময়ের মানুষগণ দৈর্ঘ্য পরিমাপ করার জন্য দৈর্ঘ্যকে জেপ (Zeyp) এর সাথে তুলনা করেছিলেন। এই জেপ (zeyp) আমাদের তারকিশ ভাষায় ব্যবহৃত জেপ (zeyp) জেপ (zeyp) নয় । হিসাব করার সময় বই পুস্তকে “zeyp down, zeyp above” এরকম অনেক হিসাব করা হতো। ক্রসেড এরপর ইউরোপীয়ানরা এই সকল বই পুস্তক পেতে শুরু করে এবং দেখে এরা ভূমধ্যসাগরের প্রস্থ অসাধারণ সঠিকভাবে পরিমাপ করেছে। গাণিতিক হিসাব গুলোতে zeyp এর মতো শব্দ থাকায় এ হিসাব তারা ধরতে ও বুঝতে পারেনি।
এ হিসাবগুলোকে বুঝার জন্য অভিধানের সাহায্য নিয়েছে, আরবিতে জেপ (zeyp) শব্দের ল্যাটিন হলো সাইন (sine) তারা এই ল্যাটিন শব্দকে ব্যবহার করেছে। ইউরোপীয়ানরা এটাকে sine (সাইন) বলার কারণে আমরাও যেহেতু ইউরোপ থেকে সবকিছু আমদানি করছি, সেহেতু আমাদের উদ্ভাবিত শব্দকে তারা না বুঝার কারণে তারা তাদের বুঝার স্বার্থে যে শব্দ ব্যবহার করেছে আমরাও আমাদের পাঠ্য পুস্তকে তাদের অভিহিত করা নামে আমরাও পড়ছি ও পড়াচ্ছি। এই জন্যই sine, cosine এই শব্দগুলি ব্যবহার করছি। শুধু কি তাই এগুলো যারা পড়ছেন পড়াচ্ছেন তারা সবাই মুসলিম। সম্পদের আসল মালিক হলো মুসলিম, ইউরোপীয়ানরা আমাদের কাছ থেকে না বুঝে নিয়েছিল আমরাও বুঝে ইউরোপীয়ানদের নিকট থেকে আনছি। মুসলিমদের ইতিহাস এ রকম আবিষ্কারে পরিপূর্ণ। শুধু এগুলোই নয়, মুসলিমরা আজকের ভূগোলের যে পরিমাপ এটারও আবিষ্কারক। খলিফা মামুনের সময়ে হাররান এলাকা আমাদের তুরস্ক থেকে ইরাক এর বিভিন্ন শহর পর্যন্ত দূরত্বের পরিমাপ করেছিলেন। আজকে আমরা জানি যে, ভূমধ্যসাগরের কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব ১১১,০০০ কিলোমিটার। সেটা খলিফা মামুনের সময়েই মুসলিমরা পরিমাপ করেছিল। আর তারা যে পরিমাপ করেছিল সেটাও ছিলো ১১১,০০০ কিলোমিটার।
এখানেই শেষ নয়, মুসলিমরা সাইনাস টেবিল (sinus table) ও আবিষ্কার করেছিল। এই sinus table (সাইনাস টেবিল) আজকে আমরা ব্যবহার করে থাকি। এমনকি এগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছিল । আর এগুলো ছাপা হয়েছিল ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে । আর আমরা খুবই হীনমন্যভাবে ধারণা করি যে, এ সকল পুস্তকের সকল হিসাব নিকাশ ও সূত্রাবলী ইউরোপীয়ানদের আবিষ্কার। অথচ সর্বপ্রথম ত্রিকোনমিতি টেবিল সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেছিল মুসলিমগণ। গিয়াসউদ্দিন জামশেদ তিনি খোরাসানের বাসিন্দা ছিলেন। তিনিও হলেন একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী । তিনি তার গ্রন্থ রিসালাতুল-মুহিতিয়েতে সর্ব প্রথম (sinus) সাইনাস এর হিসাব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। এখন চলুন পুনরায় আমরা পাশ্চাত্যের ইউরোপীয় মদদপুষ্টদের জিজ্ঞাসা করি, তোমরা যে বল মুসলিমরা গ্রীক ও মিশরীয়দের থেকে জ্ঞান বিজ্ঞান নিয়েছে। মিশরীয়দের মাঝে সাইনাস (sinus) এর ধারণা কোথায়? কোথায় তাদের মাঝে ত্রিকোনমিতির ধারণা? মিশরীয়দের মাঝে এসকল কিছুর বিন্দুমাত্রও ধারণা পাওয়া যায়না । কিন্তু দেখুন গিয়াসউদ্দিন জামশেদ কিভাবে (sinus) এর ধারণাকে বিশ্লেষণ করেছেন । D, 017452 404 437 238 371, তিনি সাইন এক ডিগ্রী এর ধারণাকে এমনভাবে তুলে ধরেছেন। যে, কমার পরে ১৬টি সংখ্যাকে তিনি সাইন (sin) এক ডিগ্রীশে গণনা করতে পেরেছেন। এই হিসাব যখন আজকে আমরা ইলেকট্রনিক ক্যালকুলেটরে করি তখন একই ফলাফল আমরা পেয়ে থাকি। গিয়াসউদ্দিন জামশেদ ত্রিকোনমিতির এই টেবিলকে/পরিমাপকে এ পদ্ধতিতে উদ্ভাবন করেছেন। কিভাবে তিনি এটা করেছেন? তারা কিভাবে একাজ এ হিসাব নিকাশগুলো করেছেন এই চিন্তা যখন করি তখন আমরা অবাক হয়ে যাই। আমরা যখন তাদের জ্ঞান গরিমার এই উপমা দেখতে পাই তখন তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায়ন্তর দেখিনা। একইভাবে যদি আমরা ইউরোপীয়ানদেরকে যদি জিজ্ঞাসা করি যে, পাই () এর সংখ্যার ধারণার আবিষ্কারক কে? তারা নিশ্চিত করেই এটা বলবে যে এটা প্রাচীন গ্রীকদের আবিষ্কার। না, পাই (রা) এর সংখ্যার আবিষ্কারক ও এর সর্বপ্রথম ধারণা দান। করেন মুসলিমগণ। আর গিয়াসউদ্দিন জামশেদ এর রচিত বই রিসালাতুল মুহিতিয়া থেকে এর সম্পর্কে আপনাদের জানাতে চাই। গিয়াসউদ্দিন জামশেদ পাই (L) এর মান হিসাবে এই সংখ্যাগুলো উদ্ভাবন করেন: 3.141592635589743। অর্থাৎ পাই () এর মান কমার পরে ১৫টি সংখ্যার মাধ্যমে সঠিকভাবে আবিষ্কার করেছেন। আজকে আমরা যখন ইলেকট্রনিক ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করি আমরা এই সংখ্যার কোনো ব্যতিক্রম পাই না। কেননা ইসলামের সোনালী যুগে সকল জ্ঞান বিজ্ঞান মুসলিমদের হাতে উন্নতি লাভ করে এবং জ্ঞানের সত্যিকারের প্রসারণ শুরু হয়। মুসলিমরা শুধুমাত্র জ্যোতির্বিদ্যা ও ত্রিকোনমিতিই আবিষ্কার করেনি। আজকের বীজগণিতের আবিষ্কারক হলেন মুসলিমগণ। আজকে আমাদের সামনে যে গণিত শাস্ত্র রয়েছে এর মূলনীতির উদ্ভাবক হলেন মুসলিম গণিত বিশারদগণ । দেখুন যারা আমাদের পাশে এসে গর্ব অহংকার করে বলে যে, আমরা চাঁদে যাই আমরা মহাকাশ পরিভ্রমন করি। তাদেরকে যদি প্রশ্ন করি আপনারা হিসাব
কিভাবে করেন? এই প্রশ্ন করার পর যে কিছু সংখ্যা লিখবে। আমরা যেরূপ জানি ১,২,৩,…৯ এরকম সংখ্যাগুলোই সে লিখবে । কিন্তু এ সংখ্যাগুলোর ও আবিষ্কারক মুসলিমগণ, সংখ্যাগুলোর আকৃতি মুসলিমদের দেওয়া। ইউরোপীয়ানরা এই সংখ্যাগুলোর যে আকৃতি ব্যবহার করে সে আকৃতি ইউরোপ আমেরিকাতে অবস্থানরত মুসলিমদের ব্যবহৃত সংখ্যাগুলোর ন্যয়। আরও যদি সামনের দিকে যাই তাহলেও দেখতে পাই যে, যে মানুষগুলো আমাদেরকে তাদের চোখে নীচু ও হীন দেখতে অভ্যস্ত তাদের হিসাবের পদ্ধতির ও আবিষ্কারক মুসলিমগণ । এটা কিভাবে হয়েছিল? লক্ষ্য করুন পাশ্চাত্যের পন্ডিতগণ বলে থাকে যে মুসলিমগণ প্রাচীন গ্রীক ভারতীয় ও মিশরীয়দের কাছ থেকে জ্ঞান বিজ্ঞান গ্রহণ করেন। এটা কেমন জ্ঞান আহরণ গ্রীকদের সংখ্যার ধারণায় ৬০ এর অধিক কোনো সংখ্যা ছিলো না।
তাদের ভাষার যতগুলো হরফ ছিলো ততগুলোই ছিলো তাদের সংখ্যা অর্থাৎ হরফ শেষ হলে সংখ্যাও শেষ হতো। এরপর যখন মুসলিমদের হাতে জ্ঞান বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধিত শুরু হয় তখন মুসলিমরা বলেন যে, আমাদের বিশাল বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আপনাদের সংখ্যার সীমাবদ্ধতা যথেষ্ট নয়। অর্থাৎ আমরা নতুন সংখ্যা আবিষ্কার করব । কি আবিষ্কার করবেন? উত্তর হিসাবে বলেছিলেন যে, এমন একটি সংখ্যা আবিষ্কার করব যে সংখ্যা দিয়ে যতো বড় ইচ্ছা ততো বড় গাণিতিক সংখ্যার সমাধান করা হবে। উদাহরণ স্বরূপ এক সংখ্যাটি লিখলাম । এটাকে যদি (১) এই গঠনে গঠন করি এবং এরপর যদি দুটি শূন্য (০০) বসাই তাহলে এটি হতে শতক তিনটি শূন্য বসালে হবে (১০০০) হাজারে এভাবে যতো ইচ্ছা শূণ্য বসানো সম্ভব। এ সকল সংখ্যার মাধ্যমে যতো ইচ্ছা গাণিতিক সংখ্যা লেখা সম্ভব । শুধু এখানেই শেষ নয়। এই সংখ্যা আবিষ্কার করার পর আজকের গুণ, ভাগ, যোগ, বিয়োগ এর পদ্ধতিও আবিষ্কার করে মুসলিমরা। প্রাচীন গ্রীক ও মিশরীয়রা কিন্তু গুণ, ভাগ, যোগ, বিয়োগ এই পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত ছিলো না। কেননা তাদের সংখ্যার পদ্ধতি এই পদ্ধতির জন্য উপযোগী ছিলো না। তারা যোগ বিয়োগ করার জন্য বিভিন্ন কাঠিকে ব্যবহার করত। মুসলিমগণ এগুলোকে বিশ্লেষণ করে দেখলেন যে এগুলো গণিতের জন্য উপযোগী নয়। তখন তা তারা নতুন সংখ্যার উদ্ভাবন। করে এই পদ্ধতিকে চালু করে। দশক সংখ্যার এই পদ্ধতির আবিষ্কার নি:সন্দেহে মানব জাতির জন্য একটি অনেক বড় খেদমত। মুসলিমরা যদি শুধুমাত্র বলে যে, তোমরা আমাদের উদ্ভাবিত সকল কিছুই ব্যবহার করতে পার শুধু আমাদের উদ্ভাবিত সংখ্যা ব্যবহার করবে না’একথা যদি বলা হয় তাহলে ইউরোপীয়ানরা তাদের উদ্ভাবন আর ধরে রাখতে পারবে না ।
