ইসলাম ও বিজ্ঞান – ৩
এমনকি তারা নতুন আবিষ্কারের দিকে এগোতে পারবে না। অথচ তারা আমাদের কাছে এসে গর্বে বুক ফুলিয়ে বলে যে ইসলাম হলো মধ্যযুগীয় একটি ধারণা। বর্তমানে এটি মানব সভ্যতাও মানব কল্যাণের উপযোগী নয়। হ্যাঁ আমরা আমাদের মধ্যযুগীয় ধারণা নিয়েই সন্তুষ্ট আপনারা আমাদের সকল সম্পদ ফিরত দিন, আমাদের মধ্যযুগের উদ্ভাবন আপনারা কেন ব্যবহার করছেন? আপনারা আমাদের উদ্ভাবন ব্যবহার করবেন না । আমরাও আপনাদের তথা কথিত নতুন উদ্ভাবন এগুলোও ব্যবহার করব না। আমরা আমাদের আবিষ্কার ও উদ্ভাবন দিয়ে আপনাদের চেয়েও উন্নত ও সোনালী সমাজ গড়ে তুলতে পারি যেমনিভাবে অতীতে পেরেছিলাম। গাণিতিক বিপ্লব ও বিজ্ঞানের সকল আবিষ্কার মুসলিমগণ গোটা মানব সভ্যতাকে উপহার হিসাবে পেশ করেছেন। কিন্তু আমরা নিজের অতীত ইতিহাস ভুলে অন্যকে অনুসরণ করছি ।। মুসলিমদের আবিষ্কার এখানেই শেষ নয়। আল জেবরা বা বীজগণিতের আবিষ্কারক ও মুসলিমগণ । “জেবির” অর্থাৎ বীজ গণিত বলতে কি বুঝায়? জেবির শব্দটি ও মুসলিম গণিতবীদ আল-জাবির এর নাম থেকে নেয়া হয়েছে । ইউরোপীয়ানরা এই নামটিকেও তাদের মুখে উচ্চারণ করে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে পারেনি। তারা এই মহান ব্যক্তির নামকে লুকানোর লক্ষে তার নামকে বিকৃত করে তাদের সকল পুস্তকে তার প্রণীত গণিতকে আল-জেব্রা নামে অবহিত করে। আজ ইউরোপের ইংল্যান্ড ও জার্মানির সকল স্কুলে গণিতের বইগুলোকে আল-জেব্রা নামে অবিহিত করা হয় । আর আমরাও বীজ গণিতকে আল-জেব্রা নামে অবিহিত করে থাকি। কে এই বীজ গণিতের আবিষ্কারক? অবশ্যই মুসলিমগণ । কি করেছিল আল জাবির? জাবির যা করেছিলেন সেটা হলো প্রাচীন গ্রীক ও ভারতীয়দের গণিতকে তিনি ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন। কিন্তু তিনি পাশ্চাত্যের মতো তাদের থেকে নেওয়া জ্ঞানগুলোকে নিজের বলে দাবি করেননি। তা হলে তিনি কি করেছেন? তিনি যখন তাদের গণিতগুলোকে পর্যালোচনা করলেন তখন দেখতে পেলেন যে তারা ত্রিভূজ ও কিছু নকশার মাধ্যমে তাদের গাণিতিক সমস্যাকে সমাধান করে থাকেন। কান প্রাচীন গ্রীক ও মিশরীয়দের নিকট বীজগণিতের কোনো ধারণা ছিলো না। গাণিতিক সূত্রগুলোকে বর্ণমালার মাধ্যমে প্রকাশ করে আজকের এই বীজগণিতের ধারণার প্রবর্তন করেন।
যারা আজকে আমাদের সাথে দম্ভ করে কথা বলে তারা জানে না যে, বীজগণিতের উদ্ভাবকও মুসলিমগণ অর্থাৎ আল-জাবির। একটি সমীকরণের উভয় পক্ষে যদি যোগ করা হয়, গুণ করা হয় অথবা ভাগ করা হয় এই সমীকরণ এর কোনো পরিবর্তন হবে না। এটারও আবিষ্কারক হলেন আল জাবির। জাবির কি করেছেন? তিনি একই সাথে সমীকরণ দ্বিঘাত সমীকরণ ও ত্রিঘাত সমীকরণ এরও সমাধান দিয়েছেন তার রচিত বইয়ে । অপরপক্ষে বর্গ এর সাথে সম্পৃক্ত অনেক সমীকরণ ত্রিঘাত সমীকরণ দিয়ে সমাধান করা যায় না। কিন্তু ইসলামের সোনালী যুগের জ্ঞান বিজ্ঞান যখন মুসলিম উৎকর্ষের শীর্ষে তখন তাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম গণিতবিদ আল জাবির ত্রিঘাত সমীকরণ এর মাধ্যমে কিভাবে সমাধান করা যায় সেটা তিনি দেখিয়েছেন এবং সে সাথে ঘনমূল (cube root) কে কিভাবে সম্পৃক্ত করা যায় সেটাও তিনি সর্বপ্রথম দেখিয়েছেন। এগুলো এতটাই উন্নতমানের ছিলো যে, তারা পুরাতন জ্ঞান বিজ্ঞানকে ঢেলে নতুন করে সাজিয়েছিলেন। আর এটা করেছিলেন দূরদর্শী মুসলিমগণ। রাসূল সা. ইরশাদ করেন “তোমরা মুমিনের দূরদৃষ্টিকে ভয় কর, কেননা সে আল্লাহ তায়ালার নূরের মাধ্যমে দেখে থাকে তাদের এই দৃষ্টি শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক যে ছিলো সেটাও না। বরং এটা বাস্তবিক ও প্রকাশ্যেই ছিলো ইসলামের এই শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের জ্ঞান গবেষণার দিকে যখন আমরা তাকাই তখন আমাদের বিবেকের বুদ্ধি থমকে দাঁড়ায়। তারা এতো বড় বড় অসাধ্য কিভাবে সম্ভব করেছিল তার দিকে তাকিয়ে আমরা আশ্চার্য হয়ে যাই সেই সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কোনো আল জাবির জ্ঞানের ক্ষেত্রে আর আসেনি। যারা নজিদেরকে আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের ধারক বলে মনে করে তারা এরকম আল জাবির আমাদের সামনে পেশ করুন দেখি,.. আমরা যে শূণ্য (০) ব্যবহার করে থাকি এ ধারণাও মুসলিমরা উদ্ভাবন করেছেন। আজকের যে বীজগণিতের উচ্চ পর্যায়ে লিমিট (limit) পড়ানো হয় এটাও মুসলিমদের উদ্ভাবন । আমরা লাগারিদম (logarithem) বলে যেটা জানি এটাও মুসলিমদের আবিষ্কার। লাগারিদম এর সকল সূত্রাবলী সর্ব প্রথম আল হারজেম (Al-Harzem) নামক মুসলিম বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছেন । মুসলিমরা এই সকল গণিতকে উদ্ভাবন করেছেন । অপর দিকে ইতিহাস, পদার্থ, রসায়নেরও জনক মুসলিমগণ । আচ্ছা মুসলিমরা পদার্থ বিজ্ঞানে কি অবদান রেখেছিলেন? পশ্চাত্যরা যেভাবে বলে থাকে তোমরা সব প্রাচীন গ্রীক থেকে নিয়েছে। আমি একটা উপমার মাধ্যমে বুঝাতে চাই, আজকে পদার্থ বিজ্ঞানের জনক হলেন ইবনে হেইশাম (Ibni Heysam) আমি যা জিজ্ঞাসা করি তিনি কে ছিলেন, তাহলে কেউ তার সম্পর্কে বলতে পারবে না। অথচ তার রচিত বই আমরা অনেকেই স্কুল কলেজে পড়েছি। কিন্তু ইবনে হাইশেম এর নামসহ আমাদেরকে পড়ানো হয়নি। কিন্তু তিনি হলেন পদার্থ বিজ্ঞানের জনক।
অপরদিকে ইবনে হেইশাম (Ibni Heysam) আজকের পরমাণু (Atom) ও অণুর সর্বপ্রথম ধারণা প্রদান করেছিলেন । তিনি আলোর প্রতিসরণ এর সূত্র আবিষ্কার করেন। প্রাচীন গ্রীক বিজ্ঞানী অকলিত এর মতে “যখন কোনো আলোকরশ্মি একটি ত্রিপাশ্ব কাঁচ (prism) ভেদ করে তখন আলোক রশ্মির গতি কমে যায় এবং এর কমার হার প্রতিসরণের সমানুপাতিক প্রতি শব্দ কোনের সমানুপাতিক। কিন্তু ইবনে হেইসেম (Hevsem) বলেন এর কমার হার প্রতিসরণ কোণের সমানুপাতিক নয়। বরং এটি প্রতিসরণ কোণের সাইনের সমানুপাতিক গভির হাস পাওযা বস্তুর সমানুপাতিক। এবং বস্তুর অভ্যন্তরীণ বিষয়টি তিনি পরমানু সুত্রের আলোকে সম্পন্ন করেন। রসায়ন বিজ্ঞানের জনক হলেন মুসলিম বিজ্ঞানীগণ । এর জনক হলেন জাবের ইবনে হাইয়্যান। তিনি সর্বপ্রথম (Fission of Atom) পরমাণু কে বিভক্ত করা যেতে পারে এ ধারণা প্রদান করেছিলেন । হিজরী ২য় শতাব্দীতে তিনি শ্রেষ্ঠ একজন বিজ্ঞানী হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। রসায়ন (Chemestry) বিজ্ঞানে। তিনি ছিলেন একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র । পরমাণু তত্ত্ব তিনি প্রকাশ করেছিলেন । আজকে আমাদের পুস্তকে (Lavoisi) লাভোইস ও নিউটনের যে সূত্রগুলো পড়ানো হয় এগুলো তিনি বহু শতাব্দী আগে উদ্ভাবন করেছিলেন । ইউরোপীয়নদের আবিষ্কারের ১০০০ বছর পূর্বে তিনি এগুলো উদ্ভাবন করেছিলেন । জাবির ইবনে হাইয়্যান হলেন ৮ম শতাব্দীর বিজ্ঞানী। অন্যদিকে নিউটন ১৯ শতাব্দীতে ইউরোপে সূত্রগুলোর ধারণা প্রদান করেন । মধ্যাকর্ষণ শক্তির ধারণা সর্বপ্রথম আবিষ্কার করেন জাবির ইবনে হাইয়্যান এটা কিভাবে আমরা জানি? অতি সম্প্রতি জার্মানিতে ৪খন্ডে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে, এই বইতে জাবির ইবনে হাইয়্যান এর বইয়ের ফটোকপি সংযুক্ত করা হয়েছে । ঐ বইয়ের মাধ্যমে সকলেই এই ব্যাপারে জানতে ও দেখতে পারবে। ইউরোপীয়রা। ১৪শ শতাব্দীতে জাবির ইবনে হাইয়্যান এর বইকে অনুধাবন করেছিল। কিন্তু তারা এটা বুঝতে পেরেছে ১৬ শতাব্দীতে এবং লাভইসির (lavoisi) সূত্রনামে প্রকাশ করে। অন্যটা ১৭শ শতাব্দীতে বুঝতে পেরেছে সেটাকে গেই লুসাক (Gay lussac) এর সূত্র নামে প্রকাশ করেছে এবং ১৯শ শতাব্দীতে যখন মধ্যাকর্ষণ শক্তির ব্যাখ্যা বুঝতে পেরেছে তখন এটাকে নিউটনের সূত্র ও আবিষ্কার বলে প্রকাশ করেছে। জাবির ইবনে হাইয়্যান সর্বপ্রথম বিজ্ঞানাগারের ধারণার প্রবর্তক। তিনি সর্বপ্রথম পরিমাপ (measurement) এবং পরীক্ষা (exper) এর উদ্ভাবন করেন। তিনি সর্বপ্রথম একটি বিজ্ঞানাগার প্রতিষ্ঠা করেন । ইউরোপীয়ানরা এখনো সেই মানের কোনো বিজ্ঞানাগার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। অবশ্যই আমরা যখন এখানে আসি তখন আমাদের বুদ্ধি বিবেক থমকে দাঁড়ায়।
কিন্তু জাবির বিন হাইয়্যান হিজরী ২য় শতাব্দীর জ্ঞানকে এতো উৎকর্ষতায় উন্নীত করেছিলেন। আজকে জার্মানিতে জাবির ইবনে হাইয়্যানকে নিয়ে ডক্টরেট করা হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, পশ্চিমারা আমাদের বিজ্ঞানীদের লেখা বই গুলোকে নিয়ে তাদের নামকে গোপন করে, তাদের নিজস্ব অমুসলিম বিজ্ঞানীদের নামে চালিয়ে দিচ্ছে। আর আমরাও তাদের রচিত বই গুলোকে অনুবাদ করে তাদের বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে জানাচ্ছি এবং সকল আবিষ্কার তাদের বলে ধারণা করছি আর আমাদের মহান বিজ্ঞানীগণ সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছি। মুসলিমগণ সঠিক ইতিহাসের সন্ধান বিশ্ববাসীকে দিয়েছে। ভূগোল এর আবিষ্কার করেছে মুসলিমগণ। অতীতে ইতিহাস ছিলো উপন্যাস নির্ভর । ইবনে খালদুন হলেন সর্বপ্রথম ঐতিহাসিক যিনি ইতিহাসকে উপন্যাস ধারা থেকে বের করে নিয়ে আসে: ইতিহাস কোনো উপন্যাস হতে পারে না । ইতিহাস হলো। সকল মানুষ ও সকল জাতির পতন ও বসবাস করার কাহিনী এগুলো বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে এটি যে একটি জ্ঞানের অন্যতম শাখা এবং এই ব্যাপারে সর্বপ্রথম ইতিহাসের পুস্তক রচনাকারী হলেন ইবনে খালদুন এবং তিনি সর্বপ্রথম ভৌগলিক মানচিত্র আবিষ্কার করেন। এমনকি আমেরিকারও আবিষ্কার সর্বপ্রথম মুসলিমরাই করেছিলেন । মুসলিমদের প্রস্তুতকৃত মানচিত্রে আমেরিকার অস্তিত্ব দেখা হয়েছিল। কিন্তু আমরা জানি যে আমেরিকাকে আবিষ্কার করেছেন ক্রিস্টোফার কলম্বাস। কেনই আমরা সব কিছুই এরকম জানি? কারণ হলো আমরা সকল তথ্য উপাত্ত্ব ইউরোপীয়ানদের থেকে আমদানী করি বলেই এই অবস্থা। দেখুন ক্রিস্টোফার কলম্বাস সম্পর্কে নতুন করে অনুদ্ধান কি বলে? ক্রিস্টোফার কলম্বাস ছিলেন একজন ভেনেডিষ্ট (venedians) অর্থাৎ তিনি বনিকদের জাহাজের মাধ্যমে মুসলিম দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক তৈরি করেন। অনেক মুসলিম তাদের বই পুস্তুক ভেনেডিয়ান (venedian) ও জেনিভিজ (Genovese) ভাষায় অনুবাদ করে সেখানে ইন্তেকাল করেন । ক্রিস্টোফার কলম্বাস মুসলিমদের সেই সকল বই থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন যে, যদি পশ্চিমের দিকে সোজা যাওয়া যেতে পারে তাহলে সে নতুন মহাদেশের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। এই জন্য সে, এই ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে প্রথম বারের মতো আটলান্টিক এর বুকে পাড়ি জমান। ক্রিস্টোফার কলম্বাস মাসের পর মাস পশ্চিম দিকে যেতে থাকে কিন্তু কোনো স্থলভূমি খুজে পাননা। অবশেষে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে জাহাজের অভ্যন্ত রের তার সাথীগণ তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে। তারা বলতে থাকে যে আমরা ফিরে যাব। তুমি নিজেও জান না আমাদেরকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যাচ্ছ। এই যাত্রার কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না। তাদের এই ক্ষোভকে দমন করার জন্য ক্রিস্টোফার কলম্বাস এই কথা বলে তাদেরকে নিবৃত্ত করেন যে “দুঃচিন্তা গ্রস্থ হয়োনা, এইভাবে বলনা। আমি যদি সঠিকভাবে পশ্চিম দিকে যাই তাহলে যে, নতুন ভূমির সন্ধান পাব এই চিন্তাও তথ্য মুসলিমদের রচিত বই থেকে জানতে পেরেছি । সে ভূমিতে আমরা অবশ্যই পৌছতে পারব। কারণ মুসলিমরা কখনো মিথ্যা বলতে পারে না। এর পর তারা সকলেই ধৈর্য ধারণ করে সেই পথে যেতে থাকে। অবশেষে তারা আমেরিকা মহাদেশের সন্ধান লাভ করে । ইতিহাস, ভূগোল, পদার্থ, রসায়ন, গণিত, বীজগণিত (আল জেবরা) সহ জ্ঞান বিজ্ঞানর প্রতিটি শাখায় মুসলিমদের অসামান্য অবদান রয়েছে। আর এই জ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন মুসলিমগণ। ইউরোপীয়ানরা এই জ্ঞান কিভাবে মুসলিমদের কাছ থেকে নিয়েছিল? একটু পর এখানে আসব: ইউরোপীয়ানরা মুসলিমদের সাথে ক্রুসেড এর সময় মুসলিমদের কাছ থেকে জ্ঞানগুলো নিয়ে আস্তে তাদের নিজস্ব ভাষায় অনুবাদ করে শিখতে শুরু করে । কিন্তু প্রথম দিকে তারা এই জ্ঞানকে উপলব্ধি করতে পারেনি । ফ্রান্স যখন স্পেন এর বিভিন্ন শহর দখল করে নেয় তখন তারা সেই সকল শহরের মুসলিম বিজ্ঞানীদের গড়ে তোলা সকল লাইব্রেরীকে পুড়িয়ে দেয়। শুধু মাত্র কর্ডোভা শহরের কেন্দ্র বিন্দুতে ত্রিশ হাজার বিজ্ঞানের কিতাবকে পুড়িয়ে দেয়। হালাকু খান যখন আক্রমণ করে তখন বাগদাদের সকল লাইব্রেরীর বই গুলোকে টাইগ্রীস ও ফোরাত নদীতে নিক্ষেপ করে । টাইগ্রীস ও ফোরাত এর মতো খরস্রোতা নদীতে এই বইগুলা প্রবাহিত হতে ১ সপ্তাহের মতো সময় লাগে । ফ্রান্স যখন স্পেনে হামলা করে স্পেনকে দখল করে নেয় তখন তারা বিভিন্ন ইসলামীক জ্ঞান-গবেষণা সেন্টারের তাৎপর্য বুঝতে পারেনি এবং পরবর্তীতে যখন তারা এটা বুঝতে পেরেছিল তখন তারা নিজেদের মধ্যে মুসলিমদের প্রসংশায় পঞ্চমুখ হয়েছিল। তারা এতটাই মুসলিমদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল যে, ২০০ শত বছর পূর্বেও প্যারিস এর সরবোন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ মুসলিমদের ন্যায় জুব্বা পরিধান করত, মাথায় টুপি, পাগড়ি পড়ত এমনকি তারা সর্বান্তকরণে মুসলিম বিজ্ঞানীদের ন্যায় হওয়ার চেষ্টা করত। এটা এজন্য করত যে, “জ্ঞান বিজ্ঞান উৎকর্ষ সাধন করেছে মুসলিমরা তাই আমরাও যদি তাদের মতো বিজ্ঞানী হতে চাই তাহলে আমাদেরকেও সব দিক থেকে তাদের মতো হতে হবে” একথা তারা বলত। ইউরোপীয়ানদের যে ইসলামিক জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতি এতো ঝোক ছিলো এটা যে শুধু মাত্র ২ শতাব্দী পূর্বে ছিলো তা নয়, এখনও তাদের মাঝে এটা বিদ্যমান। ইউরোপীয়ানরা যে শুধুমাত্র আমাদের জ্ঞান বিজ্ঞানকে নিয়েছিল তা নয়, তারা আমাদের জীবন চলার (Life style) পদ্ধতি থেকেও অনেককিছুই নিয়েছিল। আমি আপনাদেরকে একটি ঘটনা বলতে চাই। একদিন আমি জার্মানির ডুসেলড্রফ (Dusseldorf) শহরের একটি অর্থনৈতিক যাদুঘর পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। এই যাদুঘরের বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। এর নিচ তলায় রয়েছে বাথরুম। যুগের সাথে বাথরুমের কিভাবে উন্নতি হয়েছে এটাকে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এর উপরের তলায় গাড়ির বিবর্তন দেখানো হয়েছে । এর উপর তলায় বিমানের বিবর্তন (evalution) প্রদর্শন করা হয়েছে। কিন্তু বিমানের বিবর্তন প্রদর্শনীর বিশাল একটি ফ্লোরকে ব্যবহার করা হলেও, বাথরুমের বিবর্তনটা খুবই ছোট একটি প্রদর্শন করা হয়েছে। এটা কেন হয়েছে কারণ হলো তাদের ঘর বাড়িতে কোনো বাথরুম ছিলো না কারণ পূর্বে তারা পানি ব্যবহার করত না। (এখনো জার্মান বাথরুমগুলোতে পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। কেন তারা পানি ব্যবহার করত না? যাদুঘরের বাথরুম যে রুমে প্রদর্শন করা হয়েছে সেখানের দেয়ালের উপর লেখাতে আমার চোখ আটকে যায়। জার্মানির একজন বিখ্যাত দার্শনিক গয়েথ (Geothe) একদিক প্রাকৃতিক কার্য সম্পাদন করার সময় দেয়ালে টানানো কাজের দিকে তাকিয়ে দেখেন তিনি সর্বশেষ একবছর পূর্বে পানি ব্যবহার করেছিলেন। আমাকে ক্ষমা করবেন, আজকে আমরা আমাদের বেডরুমের পাশেই বিভিন্ন আলমিরা ব্যবহার করে থাকি। এটা আমরা নিয়েছি ইউরোপীয়ানদের কাছ থেকে। অথচ তারা এটা ব্যবহার করত প্রাকৃতিক কার্য সম্পাদনের জন্য। কেন তারা এমন ছিলো? কারণ তারা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জানত না। এমনকি ফ্রান্সের ভার্সাহ রাজপ্রসাদে কোনো শৌচাগার ছিলো না। যখন কোনো দূত আসত বা অন্যদেশ থেকে কোনো মেহমান আসত তাদেরকে দুপুরের পর প্রসাদে ঢোকার অনুমতি প্রদান করত এর আগে নয়। আর এটা হলো এক শতাব্দী পূর্বের ঘটনা। সকালে না ঢুকতে দেওয়ার কারণ হলো রাতের যে প্রাকৃতিক কাজ কর্ম সেরেছে সেটার গন্ধ যেতে দুপুর পর্যন্ত সময় লেগে যেত। মুসলিমগণ শুধুমাত্র ইউরোপীয়ানদেরকে জ্ঞান বিজ্ঞানের শিক্ষাই প্রদান করেনি বরং তারা সকল মানুষকে মানবিক মূল্যবোধও শিক্ষা দিয়েছে। আজকে ইউরোপে যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এটা মুসলিমদেরই অবদান। এজন্য আজকে মুসলিমদেরকে হীন ও নীচু মনে করা তাদেরকে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক মনে করার কোনো অধিকার ইউরোপীয়ানদের নেই। কারণ মুসলিমগণ তাদেরকে যা দিয়েছে তা যদি আজ ফেরত চায় তাহলে ইউরোপীয়ানরা উলঙ্গ হয়ে দরিদ্রের মতো পড়ে থাকবে । কেননা তাদের মস্তিষ্কে যে জ্ঞান রয়েছে সেটা দিয়েছে মুসলিমরা, তার পরনে যে পোশাক সেটা শিখিয়েছে মুসলিমরা, তার মধ্যে সকল সভ্যতা ও মানবিয়তা সৃষ্টি করেছে মুসলিমরা। মুসলিমগণ মানব সভ্যতাকে সকল প্রকার আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছে। ইউরোপীয়ানরা না বুঝে এই জ্ঞানকে নিয়েছিল। কিন্তু শতাব্দী থেকে শতাব্দীর পর তারা এটাকে বুঝতে শুরু করেছিল। নিজে থেকে কিছু করার উদ্দীপনা পেয়েছিল তাদের অবস্থা আজকে অনেক দূর এসে বোতলের গলায় আটকে পড়ার মতো। এই সরু পথ থেকে বের হওয়ার শক্তি তাদের নাই এমনকি তারা সামনের দিকেও যেতে পারবে না। কারণ হলো যে সকল মূলনীতি সমূহকে আগে পেশ করা হয়েছে এগুলোর জায়গায় নতুন করে সূত্র বা মূলনীতি তৈরি করার যোগ্যতা তাদের নেই। তাহলে কি হবে? এ প্রশ্নের উত্তর আমি আপনাদের এইভাবে দিতে চাই এরকম একটি কথা আছে । মানুষের কাছে সকল মৌলিক জ্ঞানগুলো এসেছিল নবীগণের মাধ্যমে । শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক জ্ঞান নয়, ঈমান, আখলাক, দ্বীন ও ইবাদতের পদ্ধতি নবী করীম সা. এর মাধ্যমে আমরা শিখতে পেরেছি। কিন্তু বস্তুগত বা জাগতিক জ্ঞান নবীদের মাধ্যমে এসেছিল কিনা আমরা সবাই সেটা জানি না। উদাহরণ স্বরূপ, জাহাজ তৈরি করা সম্পর্কিত মৌলিক চিন্তা বা ধারণা নূহ আ. এর নৌকার ঘটনার মাধ্যমে আমরা শিখতে পেরেছি। দর্জি হযরত ইদ্রীস আ. এর মাধ্যমে, চিকিৎসা হযরত ঈসা আ.-এর মাধ্যমে, জাদুবিদ্যা সম্পর্কিত বিজ্ঞান মুসা আ.-এর মাধ্যমে আমাদের কাছে এসেছে । নবীদের মাধ্যমে আগত এই বিষয়গুলোই আজ জ্ঞান বিজ্ঞানের মূল চাবিকাঠি। আমরা আমাদের এখানে যতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এর সকল জ্ঞান কুরআনে কারীমের মাধ্যমে মানব জাতির কাছে এসেছে । এই জন্য আজকে আমরা যে যুগে যে সমাজে বসবাস করছি আমরা যদি শান্তি কল্যাণ ও বরকত চাই তাহলে কুরআনে প্রদর্শিত বিধান অনুযায়ী চলা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই । আমরা বলে থাকি যে, আজ আমরা মহাকাশ এর যুগে বসবাস করছি। অথচ কুরআনে মহাকাশ সম্পর্কে অনেক আয়াত রয়েছে। কিন্তু আমরা এটা জানি না। কুরআন আমাদের সকল কিছু সম্পর্কে পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে কিন্তু আমরা তা জানি না । কুরআন আমাদেরকে সকল কিছুরই নিদর্শন দিয়েছে। কুরআনে মহাকাশ সম্পর্কে অনেক আয়াত রয়েছে, এখানে সেই সকল আয়াতের ব্যাখ্যা করা সময় সল্পতার জন্যে সম্ভব নয়। কিন্তু শুধুমাত্র একটি পয়েন্ট আলোচনা। করতে চাই। আর সেটা হলো, যেমন আমি পূর্বে বলেছিলাম যে, বিভিন্ন সূত্রের আবিষ্কারক হলো মুসলিমগণ । যখন আমরা এই সূত্রগুলোকে সংকোচিত করি তখন আমরা এখানে তিনটি জিনিস খুজে পাই। এই সূত্রগুলোর মূল কি এটা তারা কেউ জানে না। অর্থাৎ এগুলোকে বুঝতে হবে । আর এগুলো বুঝার জন্য কুরআনের সাহায্য নেওয়া ছাড়া বুঝা সম্ভব নয়। এটা কিভাবে হবে? দেখুন আমার একজন বন্ধুর একটি প্রবন্ধ রয়েছে সে আমিরিকাতে দশ বছর শিক্ষকতা করেছে। সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সে আলোচনা করে যে সে প্রাচীন একটি বই খুজে পেয়েছে। সেটা হলো বিখ্যাত কবি ইউসুফ হাস হাজিব এর লেখা একটি কবিতার বই নাম হল (kutadgu Bilig), ইউসুফ হাস হাজিব একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি। আমরা যদি এই ব্যক্তিকে শুধুমাত্র একজন আধ্যাত্মিক কবি হিসাবে বিবেচনা করি তাহলে আমরা ভুল করব । আমার বন্ধুকে তার কিছু কবিতা দৃষ্টি কেড়েছে। দেখুন তিনি কি লিখেছেন “হে এক ও অদ্বিতীয় সৃষ্টিকর্তা, কেউ তোমার সমকক্ষ হতে পারবে না। শুরুতেও তুমি ছিলে । সকল কিছুর ধ্বংসের পরেও তুমি থাকবে । সকল সৃষ্টি তোমার অমিত্ত সম্পর্কে ওয়াকিফহাল। তুমি সৃষ্টি করেছ দুটি, যার একটি তোমার স্বাক্ষী।” যখন আমরা এটা পড়ি তখন মনে করি যে, এটি আল্লাহ তায়ালার গুণগান বর্ণনা করে আত্যাত্মিক একটি কবিতা তিনি লিখেছেন। দশ বছর যিনি প্রফেসর হিসাবে শিক্ষকতা করেছেন আমার সেই বন্ধুর মাথাকে এটা দারুনভাবে প্রভাবিত করেছে। কেন? অবশ্যই আমরা জানি না। আমার এই বন্ধু সংখ্যা সম্পর্কিত একটি বই লিখেছে । ১, ২, ৩… যে সংখ্যাগুলো আছে। এদের সাথে সম্পৰ্কত একটি বই সে লিখেছে। এগুলোকে এমনভাবে গণনা করতে হয় যে, একটি আরেকটির অস্তিত্বকে স্বীকার করে। এরপর অন্যগুলা পুনরাবৃত্তি হয়ে পরবর্তীতে সামনে আসে। অবশ্যই এগুলোর নির্দিষ্ট কোনো গন্ত ব্য নেই। গণিতে কিছু স্বত:সিদ্ধ (Axiom) নীতি রয়েছে । ইতালিয়ান গণিতবিদ পিয়ানো (peano) এই স্বত:সিদ্ধ নীতিগুলোকে নিয়ে ৫ বছর গবেষণা করেছেন একই সংখ্যাগুলোকে ক্ৰমভাবে সাজানোর জন্য পিয়ানো (peano) কে আজকের গণিত বিদগণ গণিতের স্বত:সিদ্ধ নীতির জনক বলে থাকেন। কিন্তু আমার বন্ধু গণিত প্রফেসর তার “ইসলামী সভ্যতা নামক প্রবন্ধে লিখেছেন যে, “এ স্বত:সিদ্ধ (Axiom) নীতিটি পিয়ানে ৫ বছর ধরে লিখেছেন। আর ইউসুফ হাস হাজিব আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পৃক্ত চার লাইনের একটি কবিতা লিখেছেন। আল্লাহ তায়ালার এই গুণাবলীকে নিয়ে লিখতে অবশ্যই মেধার প্রয়োজন। আর এই যোগ্যতা পিয়ানোর যে যোগ্যতা বলে গণিতের পাঁচ বছর স্বত:সিদ্ধ (Axiom) নীতি লিখেছেন তার চেয়ে হাজিব চার লাইনে এই স্বত:সিদ্ধ নীতির ইংগিত দিয়েছেন। এটা দ্বারা কি প্রমাণ হয়না যে হাজিবের যোগ্যতা অনেক গুণে বেশি? আমি আমার বইকে বিশ্লেষণ করতে বাধ্য। ইউসুব হাস হাজিব-এর প্রখর মেধার পাশাপাশি পিয়ানোর মতামতকেও প্রাধান্য দিতে বাধ্য। একই সাথে আমি এটাকে শুধু মাত্র পিয়ানোর প্রনীতি স্বত:সিদ্ধ নীতি বলে মেনে নিতে পারিনা। আমি এই নীতিকে হাছ-পিয়ানোর স্বত:সিদ্ধ (Axiom) নীতি বলে স্বীকার করি । কারণ এই নীতি বা এর ধারণা পিয়ানোর থেকে হাজিব ৪ শতাব্দী পূর্বে দিয়েছেন।” এতক্ষণ পর্যন্ত আমরা চেষ্টা করেছি যে, পাশ্চাত্যের জ্ঞান বিজ্ঞান কোথায় এসে পৌছেছে। এখানে আমি এগুলো একত্রিত করে সারাংশ পেশ করতে চাই। প্রথমে আমি আপনাদেরকে একটি প্রশ্ন করতে চাই : মানব জাতির ইতিহাসে জ্ঞান যখন আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগুচ্ছিল, কোন কারণে ইসলামী শাসনকালে জ্ঞান বিজ্ঞান এতো দ্রুত উৎকর্ষ সাধন করল? কোন যাদুর কাঠি জ্ঞান বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় এতো প্রাণ শক্তি প্রদান করল? এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা একথা বলতে বাধ্য যে মহাগ্রন্থ আল কুরআনই হলো সে যাদুর কাঠি যেটা জ্ঞান বিজ্ঞানকে উৎকর্ষতার সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। দুনিয়ায় জ্ঞান বিজ্ঞানের এই উন্নতি মানবজাতির সভ্যতার এই উন্মেষ এবং মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা দান করতে পারে একমাত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআন । আজকে পাশ্চাত্য জ্ঞানের ক্ষেত্রে যে একটি প্রান্ত সীমায় এসে পৌঁছেছে এটা থেকে প্রশস্তু পথের সন্ধান দিতে পারে একমাত্র এবং কেবল মাত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআন। অপর পক্ষে কুরআনের জ্ঞান ব্যতিত একজন ব্যক্তি কখনোই একজন বিজ্ঞানী হতে পারবে না। আমরা অনেক সময় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে তুলনা করে থাকি। একজন খুবই প্রিয় ইসলামিক চিন্তাবিদ সুন্দরভাবে এর সমন্বয় করেছেন। তিনি একবার দীর্ঘ সময় ধরে বক্তৃতা করেন । তিনি তার বক্তৃতায় পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের উপসংহার টানার পর একটি প্রশ্ন করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন যে, “পাশ্চাত্যের দর্শন সমূহ আপনাদেরকে বুঝালাম । আপনারা দেখতে পেলেন যে, তাদের দর্শন হলো একে অপরকে প্রত্যাখ্যান করার দর্শন ডেসকারটেস (Descartes) আসল সে যে তার পূর্বের দর্শনিকের সকল কিছুকে ভুল বলে নিজের দর্শনকে তুলে ধরল। তারপর আরেকজন এসে বল কার্চের না এভাবে না এভাবে। ডেসকারটেস (Descartes) এভাবে বলেছে এটা এভাবে না এভাবে হবে । এভাবে পাশ্চাত্যের দর্শর এর মিলায়ে ফেলা হলো একজনের মতামতকে ভুল ধরে সেটাকে অস্বীকার করে প্রত্যাখ্যান করে অন্যজন সামনে এসেছে। এটাই হলো পাশ্চাত্যের দর্শনের ইতিহাস। কিন্তু প্রাচ্যের মুসলিম ইমামগণ, দার্শনিকগণ তার চিন্তাধারাকে প্রকাশ করেছে ক্রমধারাভাবে ধারাবাহিকভাবে। বড় বড় ইমামগণ তাদের কথাকে নবী করীম সা.-এর কথার মাধ্যমে শুরু করেছেন সাহাবিদের থেকে কেউ যখন উদ্ধৃতি দেয় তখন বলে যে অমুক রাবী এটাকে বর্ণনা করেছেন বড় বড় মনীষীগণ একজন আরেকজনকে শ্রদ্ধা করে তার সাথে সম্পৃক্ত করে তাদের মতামতকে প্রকাশ করেন। আর ইউরোপীয়ানরা একজন অপরজনকে অস্বীকার করে কথা বলে থাকে। এখন আপনারাই বলুন সত্য কোথায় লুকায়িত? যেখানে সবাই পূর্বের বর্ণনা অবলম্বন করে কথা বলে তার মাঝে না যারা একজন আরেকজনকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের মতামতকে পেশ করে? সত্যকে কি কখনো ভুল প্রমাণ করা যায়? কিন্তু ইউরোপীয়ানদের কাজই হলো সকল শক্তি দিয়ে অপর জনের মতামতকে প্রত্যাখ্যান করা। তাহলে আমরা বলতে পারি সত্য যদি থাকে আর সত্য অবশ্যই আছে, আর সে সত্য হলো মুসলিমদের চিন্তা চেতনায় ও মুসলিম দর্শন।” যখন আমরা উপরে দেখে জ্ঞানের জগতে দৃষ্টিপাত করি, প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের মধ্যে পার্থক্য হলো: পাশ্চাত্যের মানুষেরা সত্যিকারের পথ নিদর্শন সম্পর্কে জানে না। এজন্য তারা সত্যকে অনুসন্ধান করে এবং বিশ্লেষণ করে দেখে যে না, এটা না ওটা সঠিক। অত:পর অন্যটা হাতে নেয় সেখানেও সত্য পায়
সেটাকেও প্রত্যাখ্যান করে। পাশ্চাত্যের মনীষিদের অবস্থা হলো এমন । কিন্তু প্রাচ্যের মনীষিদের অবস্থা তাদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে যখন জ্ঞানের রাজ্যে প্রবেশ করে তখন সে ইসলাম নামক চাবিকাঠি নিয়ে প্রবেশ করে কুরআনে প্রদত্ত্ব জ্ঞানের মাধ্যমে সে চতুর্দিকে আলোকিত করে। কুরআনকে ভিত্তি করে জীবন পরিচালনা করে, নিজে শিখে ও অপরকে শিক্ষা দেয় । এই পদ্ধতিতে জ্ঞান ও বিজ্ঞান মুসলিমদের কাছ থেকে এসেছে। আর এটাই হলো মুসলিমদের পদ্ধতি । আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কেউ একথা বলতে পারবে যে, পাশ্চাত্যে এটা আছে ওটা আছে। আমাদের জন্য ও পাশ্চাত্যের জন্য। বের হওয়ার রাস্তা হলো একটাই আর সেটা হলো ইসলাম। একথাটি শুধু মাত্র আমাদের ঈমানের কারণেই বলতে পারি। আমি আমার জীবনের বড় অংশ জাগতিক জ্ঞানের গবেষণায় কাটিয়েছি। আমি একথা দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে পারি জাগতিক জ্ঞান বিজ্ঞান একটি সরু পথে আটকে যায়। আর এই সরুপথ থেকে প্রশস্ত পথের সন্ধান দিতে পরে কেবলমাত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআন।
-সমাপ্ত-
