Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ইহজন্ম – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প93 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ইহজন্ম – ১৩

    | ১৩ | বাঁশরি

    ‘ইন্দ্র! আশরাফ! রঙিন!’

    মধুলিকার আর্তনাদে হঠাৎ মনোপলি খেলা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল—রঙিন ছুটল সবার আগে। আশরাফ, ইন্দ্র এসে পৌঁছোনোর সঙ্গে সঙ্গেই মুধলিকা বলে ওঠে—’কল নাইন নাইন নাইন—কল দি অ্যাম্বুলেন্স—কুইক—শি নীডস মেডিক্যাল কেয়ার—’

    ততক্ষণে বাকিরাও এসে পড়েছে হান্নার বিশাল, আধুনিক রান্না ঘরে।

    বাঁশি চোখ বুজে এলিয়ে রয়েছে মধুলিকার দুই হাতের বাঁধনের মধ্যে—দেখে মনে হচ্ছে চেতনা নেই।

    কী হল? কী হয়েছে? ব্যাপার কী?

    ‘জানি না—একটু আগেই বলছিল মাথা ঘুরছে। আমি বললাম, রান্নাঘর থেকে বেরোও, বাইরে ঘুরে এসো। ফ্রেশ এয়ারে ভালো লাগবে—তা এই রুটিগুলো সেঁকতে দিয়েই বেরুত, তার আগেই হঠাৎ দেখি পড়ে যাচ্ছে—’

    ‘ভাগ্যিস তুমি দেখতে পেলে, ধরে ফেললে, নইলে মাথা ফেটে যেত ওই টেবিলের কর্নারে লেগে—’

    ‘হঠাৎ সেন্সলেস হয়ে পড়ল কেন? ঘর তো দিব্যি খোলামেলা, তেমন তো গরম হয়নি? ওর কি এপিলেপসি আছে?’

    কষ বেয়ে একটি বমির রেখা নামছে।

    ‘ধ্যাৎ, এপিলেপসি থাকলে তুমি এতদিনে সেটা শুনতে পেতে। প্রেশার টেশার? ওর কি সুগার আছে? অনেক সময়ে হাইপোগ্লাইসিমিয়াতে সুগার লেভেল ফল করলে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়।’

    যত্ন করে বমিটা মুছিয়ে দিল রঙিন। নানাজনের নানা ভাবনার মধ্যে বাঁশিকে এনে শুইয়ে দেওয়া হয়েছে ড্রয়িংরুমের সোফাতে। ওর মাথাটা কোলে নিয়ে বসেছেন কুমুদিনী; নাড়ি ধরে ভুরু কুঁচকে দাঁড়িয়ে আছে মধুলিকা; ব্যাকুল, আর্ত চাহনিতে মায়ের মুখের দিকে চেয়ে পাশেই মেঝেয় বসে পড়েছে রঙিন। ভীতমুখে অর্ক ওর কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে।

    ‘না, ওর সুগার নেই, প্রেশারের প্রবলেমও ছিল বলে জানতুম না—’ ইন্দ্র আস্তে আস্তে বলে।—’কোনওদিনই ওকে অজ্ঞান হয়ে পড়তে দেখিনি।’

    ‘হয়তো খুব বেশি স্ট্রেস যাচ্ছিল। অনেকদিন ধরেই একটু একটু করে—আমরা সকলেই তো ওর মনের ওপরে প্রচুর চাপ তৈরি করেছি—ওকেই তো সকলকে দেখতে হয়—’ খুব আস্তে, প্রায় আপনমনে, ফিসফিস করে বলেন কুমুদিনী। চোখ বুজে ইষ্টনাম জপ করছেন তিনি মাথাটি কোলে নিয়ে বসে। ইন্দ্র আবার বারান্দায় বেরিয়ে গেছে। সিগারেট ধরিয়েছে একটা।

    নন্দিনী রান্না ঘরে ঢুকে, উনুনগুলো নিবিয়ে দিয়ে এল। বন্ধুবান্ধবরা ছোট ছোট জটলা করছে। অ্যাম্বুলেন্সে ফোন করা হয়েছে, এখন আসার অপেক্ষা। মধুলিকা নাড়ি ধরে আছে। ইন্দ্র ও ঘরে যেতে পারছে না।

    শায়িত বাঁশির চোখবোজা মুখটা সে দেখতে চায় না। অমন দৃশ্য তার ভাবতেও ভয় করে। কী হল? কেন হল? বাঁশির হল কেন? বাঁশির বদলে এটা ইন্দ্রর হল না কেন? নিজের জীবনের দাম সে নিজেই নষ্ট করেছে। বাঁশির জীবনটা বড় দামি। মহার্ঘ। নেশার ঘোরে সস্ত্রীক আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইন্দ্র। শুনে রেগে উঠে বাঁশি বলেছিল—’তোমার যদি মরতে ইচ্ছে করে তুমি মরো গিয়ে, কিন্তু আমি বাঁচতে চাই। আমাকে তো বাঁচতেই হবে—তোমার মায়ের জন্যে, তোমার মেয়ের জন্যে। আমাকে বাবা বেঁচে থাকতে হবে, আমার অনেক কাজ বাকি—আমার অমন পালালে চলবে না। তা ছাড়া, তুমি ভুলে যেও না ইন্দ্র, আমার কাছে আমার জীবনটাও কিন্তু খুব দামি। অনেক চেষ্টায়, অনেক পরিশ্রমে আমি এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছি—’ বাঁশির সেদিনকার সেই কথাগুলো ইন্দ্রর কানে এখন বাজাছে। কী আশ্চর্য, তবে কেন এমন দায়িত্বহীনের মতো কাজ করলেন বিধাতা?

    —’ডোন্ট বি সো ডিপ্রেসড, ইন্দ্র’ আশরাফ ওর পিঠে হাত রাখে, ‘সেরে উঠবে নিশ্চয়ই, এখনই তো ওর চিকিৎসা শুরু হয়ে যাবে—তা ছাড়া কী হয়েছে তাই তো আমরা জানি না। আগেই কেন worst-টা ভাবছ ইন্দ্র? ইট মে নট বি আ স্ট্রোক—ওর তো কোনও হাই পেশারের হিস্ট্রিও নেই-ভয়ের কী আছে?’

    ‘কিন্তু ওর মা মারা গিয়েছিলেন খুব হঠাৎ করে, ঘুমের মধ্যে, কেউ বোঝেনি কেন—মা-মেয়ের তো ধাত একরকম হতেই পারে? শি ডায়েড ইয়ং—’

    ‘কু-চিন্তা কোরো না ইন্দ্র—থিংক পজিটিভ—লুক ইন্দ্র, বাঁশি ইজ অ্যালাইভ! অ্যান্ড শি উইল বি। ও নিশ্চয়ই সুস্থ হয়ে উঠবে—মাস্ট বি ওভার স্ট্রেসড—’ নন্দিনী সাহস দিচ্ছে।

    তীব্র সাইরেন বাজিয়ে অ্যাম্বুলেন্স এসে পড়ল।

    .

    মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে বাঁশির জ্ঞান ফেরেনি। তিনদিন পূর্ণ হয়ে গেছে, কোমা অবস্থা কেটে যায়নি। ডাক্তার বলছেন ম্যাসিভ সেরিব্রাল অ্যাটাক—মাথার ভিতরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, ঝরা রক্ত জমে আছে অপারেশন করে বের করে দেওয়া দরকার। কিন্তু সেটা খুব ডেলিকেট, খুব কমপ্লিকেটেড অপারেশন—শহরের বড় হাসপাতালেই সেটা সম্ভব—এই সাগরতীরের গ্রামের ছোট হাসপাতালে সে-ব্যবস্থা নেই। অথচ এখন ওকে নড়ানোও সহজ নয়, অ্যাম্বুলেন্সে করে দূরের বড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যাবে না। তাতে আরও ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

    ‘ইন এনি কেস, দেয়ার ইজ হার্ডলি এনি চান্স অফ রিকভারি।’ মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে এমনই প্রচণ্ড ধাক্কা লেগেছে, যে বাঁশি আর চেতনায় ফিরবে বলে ডাক্তারদের মনে হচ্ছে না। তবে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমের সহায়তায় বেঁচে সে থাকবে। কতকাল যে সেটা চলবে, সেও কেউ বলতে পারে না। এখন বাঁশি অচেতন। গভীরভাবে ঘুমন্ত। ডিপ কোমা-তে ঢুকে গেছে তার চৈতন্য। কিন্তু বয়েস মাত্র সাতচল্লিশ। তার জাগ্রত জীবন এখানেই থমকে রইল—এখন অনি:শেষ অন্ধকারে চলা। এ চলায় তার কোনও সঙ্গী নেই।

    .

    বাঁশির দাদা বাদল এসে পৌঁছেছেন। বাঁশির একমাত্র আপনজন ওর আদরের এই ছোড়দাটি। বড়দাদা বাল্যকালেই মারা গেছেন—বাদল আর বাঁশরি মাতৃহীন দুটি ভাইবোন দু-জায়গায় একা একা বেড়ে উঠেছে— একজন নরেন্দ্রপুরে, অন্যজন কার্শিয়াঙে, দুই ধর্মের মিশনারিদের স্নেহের আশ্রয়ে। বাদলই চিরকাল বাঁশির প্রকৃত গার্জেন। একাজে সে স্বনিযুক্ত, কেন না ওদের ব্যবসা-ব্যস্ত বাবার সন্তান স্নেহে গাফিলতি ছিল সর্বজনবিদিত। বাদলের চেয়ে বয়সে অনেকটা ছোট বাঁশরি দাদার অন্ধ স্নেহের পাত্রী। খবর পেয়েই উড়ে এসে পড়েছে বাদল তার প্রিয় বোনটির বিছানায় পাশে। বাদলের সঙ্গে ডাক্তারদের আলোচনা হচ্ছে রোজ—ইন্দ্রর মতন ভীরু নয় বাদল—সোজাসুজি জানতে চায় জ্ঞান ফিরবার সম্ভাবনা কতটা। ডাক্তারে খুব উৎসাহব্যঞ্জক কিছুই বলতে পারেনি।

    তবে অপারেশন করে জমাট রক্ত বের করে দিলে খানিকটা উন্নতি নিশ্চয়ই হবে। কিন্তু সে রিস্ক কে নেবে? এখন তো কথায় কথায় মানুষ কোর্টে ছোটে —মকদ্দমা ঠুকে দেয়—কনজিউমার্স ফোরামের কাছে নালিশ করে। লক্ষ লক্ষ ডলার জরিমানা হয়ে যায় ডাক্তারদের সামান্য কোনও ত্রুটি হলেই—ডাক্তাররা এখন তাই কিছুতেই কোনও রিস্ক নিতে রাজি হয় না। যদি ভুল কিছু ঘটে যায়,—’না বাবা, আমরা ওসব ডেলিকেট অপারেশনের রিস্ক নিতে পারব না। এমনি এমনি শুশ্রষায় যেটুকু উন্নতি হয়, সেইটুকুই ভালো। অপেক্ষা করা যাক। জ্ঞান ফিরুক।’

    কিন্তু বারোদিন কেটে গেল, জ্ঞান ফেরার কোনও লক্ষণ নেই। কাচের ঘরে শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে রঙিনের মা। রঙিন খুবই ভেঙে পড়েছে। মুখখানা ভয়ে শুকিয়ে এতটুকু। হাসিখুশি কোথায় উবে গেছে—মুখের কথাও যেন ফুরিয়ে গিয়েছে তার। ভরা বর্ষার মেঘলা আকাশের মতো আঁধার হয়ে আছে তার মুখ—টোকা দিলেই বর্ষা নামবে। ইন্দ্র আরও ভেঙে পড়েছে। ধুমপান খুব বেড়েছে। কুমুদিনীর ভয় করছে ইন্দ্র হয়তো আবার নেশা করতে শুরু করে দেবে এবার—এই উদ্বেগ, এই উৎকন্ঠা সইবার মতো মনের জোর কি আছে তার? তবু ভালো এবার বাদল এসে ইন্দ্রর পাশে দাঁড়িয়েছে—জগতে যদি ইন্দ্র কাউকে শ্রদ্ধা করে, সে এই বাদলকে। জেল থেকে পাত্র ধরে আনাতে ওদের বাবা প্রবল আপত্তি করলেন, অথচ মেয়ের ভবিষ্যতের জন্যে তাঁর বিন্দুমাত্র ও ভাবনাচিন্তা ছিল বলে এর আগে বোঝা যায়নি। মেয়ে ছাত্রী ভালো, কলেজে সে পড়ছিল স্কলারশিপে, ছুটি কাটাতে যেত ছোটমামির বাড়িতে। বাবার সঙ্গে যৎসামান্যই যোগ। বাবা তো ঘূর্ণ্যমান, নিজের ব্যাবসার কাজে আজ হংকং কাল সিঙ্গাপুর, পরশু লন্ডন। বাড়ি বলতে কিছু দাসদাসীর অবাধ রাজত্ব। বাদল প্রেসিডেন্সি জেলে তার নিজস্ব কোয়ার্টারেই বসবাস করত। আর বাঁশি থাকত, যাদবপুরের হস্টেলে। কখনও কখনও উইক এন্ডে বাড়ি আসত না যে, তা নয়। রামুদাদা গিয়ে ধরে আনত ওকে কিন্তু লম্বা ছুটিগুলোতে ও যে ছোটমামির কাছে, শান্তিনিকেতনে। কার্শিয়াঙের স্কুল থেকে রিটায়ার করে মামি শান্তিনিকেতনে বাড়ি করেছেন। বয়স্ক মানুষের একা থাকার পক্ষে জায়গাটি ভালো ছিল এতদিন। এখন তার চরিত্র বদলাচ্ছে। প্রচণ্ডভাবে এন আর আই অধ্যুষিত শান্তিনিকেতন এখন ধনীদের বিলাস পুরীতে পরিণত হতে চলেছে। ছোটমামির ছোট্ট বাড়িটি মস্ত বড় বাগানের মধ্যে। বাঁশি সেখানে এ. সি. লাগিয়ে দিয়েছে। রঙিন ভীষণ ভালোবাসে দিদুনের বাড়িতে যেতে। দু-বছরে একবার যায় ওরা ছোটমামির সংসার বলতে তো ওরাই। বাদল ভাবছে ছোটমামিকে খবর দেবে কিনা। ওঁকে এখন নিয়ে আসা মুশকিল। কুমুদিনীরই বয়সি হবেন, পাসপোর্টও করানো আছে, কিন্তু ভিসা করানো এই বয়েসে, এত তাড়াতাড়ি অসম্ভব। বাদল ঠিক করল তারচেয়ে খবর না দেওয়াই ভালো। দেখা যাক, অবস্থা কোনদিকে যায়।

    তা ছাড়া মামি এলেও বাঁশি তো তাঁকে দেখতে পাবে না বুঝতেও পারবে না, তিনি ওর কাছে এসেছেন। এবং মামির পক্ষেও এই দৃশ্য চোখে দেখা, শেষ স্মৃতি হিসেবে খুবই যন্ত্রণাদায়ক হবে। না: ছোটমামিকে এই বেদনা থেকে রেহাই দেওয়াই কর্তব্য। পরে যখন জানবেন তখন জানবেন।

    বাঁশরির বাবাকে জানানো হয়েছে।

    বাবা বলেছেন টাকাকড়ি লাগলে ওঁকে জানাতে—যেন অর্থের জন্য চিকিৎসায় কোনও ঘাটতি না হয়। আর্থিক দায়িত্ব, কর্তব্য, এগুলো তিনি বোঝেন। বাবা একবারই এসেছিলেন। রঙিন তখন ছোট। বাবার এ-দেশে বসবাস করতে ভালো লাগেনি। তাঁর দাসদাসীর সেবার অভ্যেস, নইলে ফাইভ স্টার হোটেলের সেবা। মেয়ের এখানে তাঁর সুবিধে হয় না।

    মাঝে মাঝে টেলিফোনে বাঁশি বাবার খবর নেন। ইন্দ্র দু:সংবাদটা তাঁকেই জানিয়েছিল। বাদল বাড়িতে থাকে না—তার উচ্চপদের সরকারি চাকরিতে চমৎকার বাংলো জুটেছে বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে। ওখান থেকেই বাবার খোঁজখবর দেখাশুনো করে। সেই এখন বাবার লোকাল গার্জেন।

    .

    বাঁশির অফিস থেকে ওর যে হেলথ-ইনশিয়োরেন্স করিয়ে দিয়েছে, সেটা প্রথম শ্রেণির। বাবার অর্থসাহায্য বাঁশির লাগবে না বলেই মনে হচ্ছে।

    বাঁশির কোনও উন্নতি হচ্ছে না দেখে ইন্দ্র, রঙিন ক্রমশই ভেঙে পড়ছে—বাদলও এবারে আর ‘পজিটিভ থিংকিং করো’—বলতে পারছে না। মনে হচ্ছে তো বাঁশির ব্রেন ডেড অবস্থা—আর জ্ঞান ফিরবে না। এখন সে চেষ্টা করছে ইন্দ্র আর রঙিনকে মনোবল যোগাতে, যাতে বাঁশির না-থাকাটা ওরা সহ্য করে নিতে পারে। প্রস্তুতি প্রয়োজন। প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেল, এখনও জ্ঞান ফেরেনি। এবারে তৈরি হও। মা কারুরই তো চিরকাল থাকে না। বাদল-বাঁশরি তো মাকে পায়নি। রঙিনের কত সৌভাগ্য, সে উনিশ বছর মার কোলে থেকেছে। এবার সে বড় হয়ে উঠেছে। এবার তাকেই সংসারের হাল ধরতে হবে—বাবাকে ঠাকুমাকে দেখতে হবে তাকেই।

    এই সংসারে বাঁশির রোজগারটাই ছিল প্রধান উপার্জনের উৎস। এখন তার অসুস্থতায় কী ব্যবস্থা হবে, কে জানে। খবর নিতে হবে। ও যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন ওকে অফিস থেকে আংশিক অর্থসাহায্য দেবে কিনা। চাকরি করতে করতেই তো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ইন্দ্রকে জোর করছে বাদল, মন ঠিক করে একটা কাজকর্ম খুঁজতে। ওকে এবার প্রধান রোজগেরে হতে হবে। নতুবা, দেশে ফেরার কথাও ভাবতে হবে। রঙিনের এদেশের কলেজে পড়ার খরচ প্রচুর। কিন্তু বাঁশিকে এভাবে হাসপাতালে রেখে দিয়ে তো দেশে ফেরার প্রশ্ন নেই। সমস্যা জটিল।

    ‘ধরেই নিতে হবে যে বাঁশিকে আমরা হারিয়েছি। লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমের দৌলতে ওর হৃৎপিন্ড, ফুসফুস, সব কাজ করছে বটে—কিন্তু মগজ ঘুমোচ্ছে।’ মগজটাই তো মানুষ। বাঁশির রিকভারির চান্স নেই, এটাই বলছে এরা বারবার। সেই শক্তিমতী, ইয়ং অ্যাডাল্ট, তারই দায়িত্ব বহনের ক্ষমতা সব চেয়ে বেশি হবার কথা।

    ‘আমাদের সকলেরই মানসিক প্রস্তুতি দরকার।’ বাদল ইন্দ্রকে, রঙিনকে বোঝাচ্ছে। কুমুদিনী চুপ করে সব শোনেন। নির্বাক। ইন্দ্র বাদলকে একবার আড়ালে তো বলেই ফেলল—’মা ভীষণ ভেঙে পড়েছেন মনে হচ্ছে। ভিতরে ভিতরে আবার গুঁড়িয়ে গেছেন, এই তা সদ্য ফিরলেন ডিপ্রেশনের চিকিৎসা করিয়ে হাসপাতাল থেকে, সঙ্গে সঙ্গে এত বড় আঘাত! আমার ভীষণ ভয় করছে। মা কিন্তু আবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন! রঙিন, তুই ঠাকুমার সঙ্গে সব সময়ে কথা বলবি। কিপ হার এনগেজড।’ কিন্তু রঙিন বলল—’ঠাকুমা ইজ ও কে—ঠিকই আছে। ওই তো সকালে চা করে দেয়। ব্রেকফাস্টের ব্যবস্থা করে। লাঞ্চের প্ল্যান করে। শি ডাজনট ইন্টারফিয়ার ইন ইওর প্ল্যানস। বাট শি ইজ টেকিং কেয়ার অফ আস অল। ওনলি শি ইজ টু-উ স্টানড টু স্পিক।’

    অবশেষে সকলের সব দুর্ভাবনা শেষ করে দিয়ে কুমুদিনী কথা বললেন।

    ‘বাঁশি বেঁচে থাকতে থাকতেই তাহলে তোমরা হাল ছেড়ে দিলে, ইন্দ্র? বাদল? এত সহজে হাল ছেড়ে দিলে চলে? এত সহজে বাঁশি নেই বলে মেনে নেবে তোমরা? যখন বাঁশি সত্যি সত্যিই বেঁচে আছে? মা’র সাতচল্লিশ বছরের মেয়ে, ওর সামনে এখনও অন্তত পঁচিশ-তিরিশ বছরের জীবন পড়ে রয়েছে। না বাপু; আমি এত সহজে ওকে ছেড়ে দিতে পারব না। আমি তো শুনলুম ডাক্তাররা প্রথমে বলছিল কোনও বড় হাসপাতালে নিয়ে গেলে অপারেশন করে ওর মাথার খুলি থেকে জমাট রক্তগুলো বের করে দিলেই বাঁশি অনেকটা সুস্থ বোধ করবে। তোমরা কেউ সে চেষ্টা করছ না কেন?’

    ‘কিন্তু মা, ওকে বড় হাসপাতালে ওরা নেবে কী করো? চারশো মাইল রাস্তা গাড়ি করে ওকে নিলে, ও আর এমনিতেই বাঁচবে না যে?’

    ‘কেন, আর কোনও উপায় নেই?’

    ‘আর কী উপায় থাকবে? বাদল বিষণ্ণ হাসে। অবসাদের হাসি। অবুঝ বৃদ্ধার আবদার শুনে মমতার হাসি।

    ‘কেন, সেদিনই তো কাগজে পড়লুম—কে একজন অ্যাক্টেসের অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল, কোমায় চলে গিয়েছিল—তাকে ছোট হাসপাতালে অপারেশন করতে পারেনি। তাই হেলিকপ্টারে করে বড় হাসপাতালে নিয়ে গেছে, সেখানে অপারেশন করেছে, সে ভালো হয়ে উঠছে। কেন, তোমরা পড়নি সে-খবর? অ্যাক্টেসের নামটাম আমার মনে নেই—’

    ইন্দ্রের মাথায় ঠং করে একটা ঘন্টা পড়ল। হেলিকপ্টার! তাই তো? রঙিন চেঁচিয়ে উঠল—’রাইট! কোয়াইট রাইট! জুড়ি টমসনকে তো তাই করল। শি ইজ রিকভারিং—শি স্পোক টু হার হাজব্যান্ড ফ্রম হার বেড, হ্যাঁ তো, কাগজে ছবি দেখেছি। ইয়েস, দ্যাট ইজ আ পসিবিলিটি! বাবা, লেট আস থিংক অ্যাবাউট অ্যারেঞ্জিং আ হেলিকপ্টার—হোয়াই নট?’

    ইন্দ্র বলল—’তার আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে দেখি। হোয়েদার ইট ইজ ওয়ার্থ দ্য ট্রাবল—আর ঠিক কোন হাসপাতালে, কোন ডাক্তারের আন্ডারে ওকে নিয়ে যাবেন, সেসব আগে ঠিক করা হোক তারপরে—তা ছাড়া, হেলিকপ্টারের খরচটা ইনশিয়োরেন্স দেবে কিনা—’

    ‘ইনশিয়োরেন্স না দিলে, সেটা আমরাই দিয়ে দেব, আমাদের বাবা অন্তত সেটা দিতে পারবেন—’ বাদল বলে ওঠে সোৎসাহে—’সত্যিই তো, মাসিমা একদম হক কথা বলেছেন, এত তাড়াতাড়ি হাল ছাড়া উচিত নয় আমাদের। যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ। চলো ইন্দ্র, আমরা আজই বিকেলে ডাক্তার রুবেন্সকে জিগ্যেস করি এই বিষয়ে। ওরা তো বলেছিল। আমরাই তেমন উৎসাহ দেখাইনি তখন। ঠিক বুঝতে পারিনি।’

    রঙিন ঠাকুমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেল অনেকগুলো।—’ঠাকুমা ইজ আ জেম, ও:। শি ইজ অ্যাবসল্যুটলি রাইট। আমাদের শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে। চোদ্দোদিন বেঁচে আছে যখন, নিশ্চয় বেঁচে উঠবে মা। উই মাস্ট নট গিভ আপ সো আর্লি। ছোটমামা, লেট আস টক টু ডক্টর রুবেন্স দিস আফটারনুন—’ রঙিন প্রায় লাফিয়ে ওঠে। ক্লান্ত মনমরা, কালিমাখা মুখখানা হঠাৎ উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। ঠোঁটে মৃদু হাসি। চোখে ভরসা। ইন্দ্র হাতের সিগারেটটা পায়ের নীচে দুমড়ে ফেলে বলে ওঠে—’ইয়েস, হেলিকপ্টার ইজ আ গ্রেট আইডিয়া।’

    ‘বাবা, তোমার কিন্তু ঘাসের মধ্যে সিগারেট বাটস ফ্যালবার কথা নয়। ওধারে একটা স্যান্ডবক্সের মতো জায়গা আছে ওর জন্য।’ রঙিন এর মধ্যেও আইন-মানাতে চেষ্টা করে ওর আইন-ভাঙা বাবাকে। বাদলের মুখ-চোখও পালটে গেছে। কুমুদিনী বলেন—’ঠাকুরের ইচ্ছে হলে সবই ঠিক হয়ে যাবে—কিন্তু সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করাটা তো আমাদেরই হাতে? আগে পুরো চেষ্টাটা করে দেখি। বাঁশিকে কি আমাদের লড়াই না করে অমনভাবে ছেড়ে দেওয়া উচিত? সে কিন্তু সহজে ছাড়ত না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজরা হটকে এবং অন্যান্য – নবনীতা দেবসেন
    Next Article তিতলি – নবনীতা দেবসেন

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }