Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উইলিয়াম শেকসপিয়র রচনা সমগ্র

    উইলিয়াম শেক্সপিয়র এক পাতা গল্প576 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মাচ অ্যাডু অ্যাবাউট নাথিং

    মাচ অ্যাডু অ্যাবাউট নাথিং
    মূল রচনা: উইলিয়াম শেকসপিয়র
    পুনর্কথন: মেরি ল্যাম্ব
    অনুবাদ: অর্ণব দত্ত

    মেসিনার রাজপ্রাসাদে বাস করত দুই মেয়ে – মেসিনার গভর্নর লিওনেটোর কন্যা হিরো ও ভাইঝি বিয়াত্রিস।

    বিয়াত্রিস ছিল মিশুকে স্বভাবের। কিন্তু তার বোন হিরো ছিল গম্ভীর প্রকৃতির মেয়ে। বিয়াত্রিস সবসময় তার বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তার মাধ্যমে মাতিয়ে রাখত বোনকে। যা কিছু ঘটত, অবধারিতভাবে তাকে হাসির খোরাক করে তুলত বিয়াত্রিস।

    সেবার এক যুদ্ধের শেষে ঘরে ফেরার পথে সেনাবাহিনীর একদল উচ্চপদস্থ তরুণ যোদ্ধা মেসিনায় লিওনেটোর সঙ্গে দেখা করতে এলেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন অ্যারাগনের রাজকুমার ডন পেড্রো, তাঁর বন্ধু ফ্লোরেন্সের লর্ড ক্লডিও এবং পাদুয়ার লর্ড বেনেডিক। এই শেষোক্ত ব্যক্তিটি ছিলেন যেমন বুদ্ধিমান, তেমনই উচ্ছৃঙ্খল।

    এঁরা সবাই আগেও মেসিনায় এসেছিলেন। অতিথিবৎসল গভর্নর তাঁর মেয়ে ও ভাইঝির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন তাঁর এই পুরনো বন্ধুদের।

    প্রাসাদে পৌঁছেই বেনেডিক লিওনেটো ও রাজকুমারের সঙ্গে মশকরা জুড়ে দিলেন। লোকের কথার মধ্যে নাক না গলিয়ে থাকতে পারত না বিয়াত্রিস। সে বেনেডিকের কথার মাঝখানে বলে বসল, “এ কী সিনিওর বেনেডিক, আপনি তো বকেই চলেছেন! দেখুন, কেউই আপনার কথা শুনছেন না!” বিয়াত্রিসের মতোই প্রত্যুৎপন্নমতি বেনেডিক। কিন্তু এহেন অভিনব অভিবাদন তাঁর ভাল লাগল না। তাঁর ধারণা ছিল, এমন বাচালতা ভদ্রনারীর পক্ষে শোভনীয় নয়। তাঁর মনে পড়ে গেল, আগের বার যখন তিনি মেসিনায় এসেছিলেন, তখন এই বিয়াত্রিস বেছে বেছে তাঁরই পিছনে লেগেছিল। বেনেডিক ও বিয়াত্রিস যে পরিমাণ স্বাধীনতা নিয়ে রঙ্গতামাশা করতেন, ঠিক ততটা আর কেউই করতে পারতেন না। তাই এই দুই তীক্ষ্মবুদ্ধিধর বাগযোদ্ধার মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত, যার অবশ্যম্ভাবী ফল হত পরস্পরের সাময়িক মনোমালিন্য ও বিচ্ছেদ। বিয়াত্রিসের উপস্থিতি তিনি এতক্ষণ খেয়াল করেননি। কিন্তু যে মুহুর্তে বিয়াত্রিস তাঁকে কথার মাঝপথে থামিয়ে কেউ তাঁর কথা শুনছেন না বলে খোঁটা দিল, অমনি তার উপস্থিতি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করলেন বেনেডিক। তিনিও পালটা জবাব দিলেন, “এই যে শ্রীমতী অবজ্ঞা দেবী, আপনি এখনো বেঁচে আছেন?” ব্যস! পুরনো যুদ্ধ নতুন করে বেধে গেল। লম্বা লম্বা সব যুক্তির ঝনঝনা শোনা গেল। সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিজের কৃতিত্ব সম্পর্কে বড়াই করতেন বেনেডিক। বিয়াত্রিস সেই কথা জানত। সে বলল, যুদ্ধে যতজনকে বেনেডিক মেরেছেন, সবাইকে সে একাই খেয়ে ফেলতে পারে। রাজকুমার বেনেডিকের কথায় মজা পাচ্ছেন দেখে সে বেনেডিককে বলে বসল ‘রাজকুমারের ভাঁড়’। বিয়াত্রিসের অন্য কথাগুলির চেয়ে এই কথাটিই সবচেয়ে বেশি বিঁধল বেনেডিকের। তিনি ভাবলেন, তাঁর হাতে নিহতদের খেয়ে ফেলার কথা বলে বিয়াত্রিস আসলে তাঁকে কাপুরুষ বলে ইঙ্গিত করল। তিনি ভুলেই গেলেন যে, আদতে তিনি একজন বড়ো মাপের যোদ্ধা। আসলে, ভাঁড়ামির অপমানে যে দারুণ বুদ্ধিমত্তা লুকিয়ে থাকে তার থেকে মারাত্মক আর কিছুই হয় না। কারণ, এই সব ক্ষেত্রে আনীত অভিযোগগুলির মধ্যে সত্যতা বিশেষ থাকে না। এই জন্যই বিয়াত্রিস তাঁকে ‘রাজকুমারের ভাঁড়’ বলায় তার উপর হাড়ে চটলেন বেনেডিক।

    মৃদুস্বভাবা হিরো অবশ্য বিশিষ্ট অতিথিদের সামনে চুপ করেই রইল। সে তখন সুন্দরী যুবতী। তার রূপলাবণ্যে মোহিত হয়ে গেলেন ক্লডিও। অবশ্য রাজকুমার তখন বেনেডিক ও বিয়াত্রিসের মজার বাকযুদ্ধ শুনতে ব্যস্ত। লিওনেটোর কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন, “এই সদারঙ্গময়ী তরুণীটি কিন্তু বেনেডিকের উপযুক্ত স্ত্রী হবে।” লিওনেটো উত্তরে বললেন, “বলেন কী! এরা তো বিয়ের হপ্তা না কাটতেই উন্মাদ হয়ে যাবে।” লিওনেটো উভয়ের ঝগড়াটে স্বভাবের দিকে ইঙ্গিত করলেন বটে, কিন্তু রাজকুমার এই দুই মহাবুদ্ধিধরকে পরিণয়সূত্রে বাঁধার কথা ভুলতে পারলেন না।

    ক্লডিওকে নিয়ে প্রাসাদে ফেরার সময় রাজকুমার বুঝলেন এই বেলা শুধু বেনেডিক ও বিয়াত্রিসের বিয়ে দিলেই চলবে না। ক্লডিও যখন হিরোর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শুরু করলেন, তখন তার অর্থ বুঝতে বাকি রইল না রাজকুমারের। ক্লডিওকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হিরোকে তোমার মনে ধরে?” ক্লডিও উত্তরে বললেন, “প্রভু, শেষবার যখন মেসিনায় এসেছিলুম, তখন ওকে দেখি সৈনিকের দৃষ্টিতে। তখন ভালবাসার কথা ভাববার সময় ছিল না। কিন্তু এখন চারিদিকে শুধুই শান্তি আর আনন্দ। যুদ্ধের চিন্তা যখন আর নেই, তখন সেই শূন্যস্থান অধিকার করছে নানা মধুর ভাবনা। এখন দেখছি হিরোর রূপ। এখন মনে হচ্ছে, যুদ্ধে যাওয়ার আগেই ওর প্রেমে পড়েছিলুম আমি।” নিজমুখে এভাবে ক্লডিও হিরোর প্রতি নিজের ভালবাসার কথা স্বীকার করলে ভারি সন্তুষ্ট হলেন রাজকুমার। তক্ষুনি লিওনেটোর কাছে গিয়ে ক্লডিওকে জামাই হিসেবে গ্রহণ করার আর্জি জানালেন তিনি। লিওনেটোও রাজি হয়ে গেলেন। ক্লডিও ছিলেন দুর্লভ পদমর্যাদার লর্ড তথা রাজকুমারের অন্যতম প্রধান মিত্র। কোমল স্বভাবের মেয়ে হিরোকে ক্লডিওর প্রতি অনুরক্তা করে তুলতে বেশি সময় লাগল না রাজকুমারের। এরপর রাজকুমার ও ক্লডিও লিওনেটোর সঙ্গে কথা বলে শীঘ্র বিবাহের জন্য একটি তারিখ স্থির করে ফেললেন।

    তখনও বিয়ের কয়েকটি দিন দেরি। এই ক’টা দিন ক্লডিওর কাছে অতীব দীর্ঘতর মনে হতে লাগল। সাধারণত, এমন মধুর অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা করতে করতে যুবকেরা অধৈর্য হয়ে ওঠে। রাজকুমার তাই ক্লডিওর বিরহযন্ত্রণা কমানোর চেষ্টা করলেন। এবং এই সুযোগে কীভাবে বেনেডিক ও বিয়াত্রিসকে প্রেমপাশে বদ্ধ করা যায়, তার ছক কষতে শুরু করলেন। রাজকুমারের এই খেলায় ভারি মজা পেলেন ক্লডিও। লিওনেটোও তাঁদের সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিলেন। এমনকি হিরোও জানালো যে, খুড়তুতো বোনটিকে উপযুক্ত স্বামী খুঁজে দিতে সে সর্বতোভাবে সাহায্য করবে।

    রাজকুমারের পরিকল্পনা ছিল এই রকম: তাঁরা রাজপুরুষেরা মিলে বেনেডিকের মাথায় ঢুকিয়ে দেবেন যে, বিয়াত্রিস তাঁর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। আর হিরো বিয়াত্রিসকে বুঝিয়ে দেবে যে, বেনেডিক তার প্রেমে পড়েছে।

    রাজকুমার, লিওনেটো ও ক্লডিও আগে নামলেন মাঠে। একদিন কুঞ্জবিতানে বই পড়ছিলেন বেনেডিক। রাজকুমার তাঁর সহকারীদের নিয়ে কুঞ্জবিতানের পিছনে এসে এমন জায়গায় বসলেন যাতে তাঁদের কথা স্পষ্ট বেনেডিকের কানে যায়। খানিক বিশ্রম্ভালাপের পর রাজকুমার বললেন, “এদিকে এসো, লিওনেটো। তখন কী বলছিলে? তোমার ভাইঝি বিয়াত্রিস নাকি সিনিওর বেনেডিকের প্রেমে পড়েছে? ও মেয়ে আবার কারোর প্রেমে পড়তে পারে নাকি? আশ্চর্য হলাম!” “আমিও ভাবতে পারিনি, প্রভু,” লিওনেটো উত্তর দিলেন। “ওর আচরণ দেখে তো মনে হত, বেনেডিককে ও আদৌ পছন্দ করে না। অথচ সেই বেনেডিককেই তার পছন্দ। এ তো দারুণ ব্যাপার,” বললে ক্লডিও। সে আরও জানালো, হিরোও তাকে একই কথা বলেছে। বিয়াত্রিসের বেনেডিককে এত পছন্দ যে, বেনেডিক তাকে গ্রহণ না করলে সে দুঃখে মরেই যাবে। কিন্তু লিওনেটো ও ক্লডিও দু’জনেই বলল, বিয়াত্রিসকে ভালবাসা বেনেডিকের পক্ষে অসম্ভব। কারণ, তিনি সমস্ত সুন্দরী মেয়েকেই পরিহাস করেন। বিশেষত, এই মেয়েটিকে তিনি বিশেষ অপছন্দ করেন।

    রাজকুমার বিয়াত্রিসের প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছিলেন। তিনি সব শুনলেন। বললেন, “বেনেডিককে একথা বললেই ভাল হয়।” ক্লডিও বলল, “কী লাভ? সে এটা নিয়ে মজা করবে, বেচারি মেয়েটা আরও কষ্ট পাবে।” রাজপুত্র বললেন, “অমন করলে ওকে ফাঁসি দেওয়া হবে! বিয়াত্রিস ভারি ভাল মেয়ে। অসাধারণ বুদ্ধিমতী মেয়ে। শুধু একটাই বোকামি সে করেছে বেনেডিককে ভালবেসে।” এই বলে রাজকুমার তাঁর সহকারীদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে সেখান থেকে চলে গেলেন। সব শুনেটুনে বেনেডিক বসলেন ভাবতে।

    বেনেডিক কান খাড়া করে এই কথোপকথন শুনছিলেন। বিয়াত্রিস তাঁকে ভালবাসে শুনে তিনি মনে মনে ভাবলেন, “এও সম্ভব নাকি?” তারপর ভাবলেন, “না, হয়েও পারে। সবাই কেমন গম্ভীর হয়ে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করছিল। ওরা আবার হিরোর থেকে ব্যাপারটা জেনেছে। বিয়াত্রিসের উপরে ওদের ভারী দরদ দেখছি! আমাকে ভালবাসে! কেন? নিশ্চয় প্রতিশোধ নিচ্ছে। আমি তো কোনোদিন বিয়ের কথা ভাবিইনি। বলেছিলাম, আমি আইবড়ো অবস্থাতেই মরব। তার মানে নিশ্চয়ই এই নয় যে আমাকে বিয়ে করে বাঁচতে হবে। ওরা বলছিল, মেয়েটা সুন্দরী ও গুণবতী। কথাটা ঠিকই। কিন্তু অমন বুদ্ধিমতী মেয়েকে শুধুমাত্র আমাকে ভালবাসার জন্য বোকা বলার কী আছে? এই যে বিয়াত্রিস এদিকেই আসছে। আজ তো ওকে ভারী সুন্দর লাগছে! দেখি চুপিচুপি, ওর মধ্যে ভালবাসার কোনো চিহ্ন দেখতে পাই কিনা।” বিয়াত্রিস বেনেডিকের দিকে এগিয়ে এল এবং স্বভাবসিদ্ধ খোঁচা দিয়ে বলল, “আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে আমাকে পাঠানো হয়েছে, আপনাকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো জন্য।” বেনেডিক কোনোদিন বিয়াত্রিসের সামনে নরম কথা বলেননি। কিন্তু সেই মুহুর্তে তিনি বলে ফেললেন, “সুন্দরী বিয়াত্রিস, এতটা কষ্ট করার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ জানাই।” তারপর বিয়াত্রিস তাঁকে আর দু-তিনটে কড়া কথা শুনিয়ে সেখান থেকে চলে গেল। বেনেডিক ভাবলেন, এই অশোভন কথাগুলির মধ্যে অন্য কোনো গোপন অর্থ নিহিত রয়েছে। তিনি উচ্চকণ্ঠে বলে উঠলেন, “আমি যদি ওকে দয়া না করি, তাহলে আমি দুষ্ট। আমি যদি ওকে ভাল না বাসি, তাহলে আমি একটা ইহুদি। যাই, ওর একটা ছবি জোগাড় করি।”

    বেনেডিক পাতা ফাঁদে পা দিলেন। এবার বিয়াত্রিসকে ফাঁদে ফেলার পালা হিরোর। সে তার দুই সহচরী আরসুলা আর মার্গারেটকে ডেকে পাঠাল। মার্গারেটকে বলল, “ভাই মার্গারেট, বৈঠকখানায় যাও। সেখানে বিয়াত্রিস রাজপুত্র ও ক্লডিওর সঙ্গে কথা বলছে। বিয়াত্রিসের কানে তুলে দাও, আমি আর আরসুলা বাগানে ওর সম্পর্কে কী যেন বলাবলি করছি। সেই যেখানে হানিসাকল লতা সূর্যালোকের দ্বারা পুষ্ট হয়ে সূর্যের আলোকেই অকৃতজ্ঞ গোলামের মতো ঢুকতে বাধা দেয়, সেই কুঞ্জবিতানে আমরা রয়েছি। ওকে আমাদের কথায় আড়ি পাততে উসকানি দিও কিন্তু।” এই সুস্নিগ্ধ কুঞ্জবিতানেই খানিকক্ষণ আগে বেনেডিককে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। হিরো এখানেই বিয়াত্রিসকে পাঠানোর কথা বলল মার্গারেটকে।

    মার্গারেট বলল, “আমি ওকে আনছি ওখানে। এখুনি যাচ্ছি।”

    আরসুলাকে পুষ্পবিতানে নিয়ে গিয়ে হিরো বলল, “উরসুলা, বিয়াত্রিস এলেই আমরা এই পথে এদিক-ওদিক হাঁটতে থাকব। তখন শুধু কথা হবে বেনেডিককে নিয়ে। আমি ওঁর নাম করলেই, তুমি ওঁকে সেরা পুরুষমানুষ বলে ওঁর গুণগান শুরু করে দেবে। আমি তোমাকে বলব, বেনেডিক কীভাবে বিয়াত্রিসকে ভালবাসেন, সেই কথা। নাও, শুরু করো। ওই দ্যাখো, বিয়াত্রিস কেমন ল্যাপউইং পাখির মতো চুপিচুপি আসছে আমাদের কথা শুনতে।” তারা কথা শুরু করল। হিরো কোনো কথার উত্তর দেওয়ার ভঙ্গিতে উরসুলাকে বলল, “না, সত্যি বলছি, আরসুলা, ওর স্বভাব খুব খারাপ। পাহাড়ি বুনো পাখির মতো উচ্ছৃঙ্খল।” আরসুলা বলল, “কিন্তু তুমি ঠিক জানো যে, বেনেডিক বিয়াত্রিসকে ভালবাসে?” হিরো বলল, “রাজপুত্র ও আমার ভাবী-স্বামী ক্লডিও তাই বলছিলেন। তাঁরা আমাকে ওকে সবকিছু খুলে বলতে বলেছিলেন। আমি রাজি হইনি। বেনেডিক যে বিয়াত্রিসকে ভালবাসেন, সে কথাটা ওকে না জানানোই ভাল।” আরসুলা বলল, “ঠিক বলেছ, ভালবাসার কথা ও কী বুঝবে। শুধু বিষয়টা নিয়ে তামাশা করবে।” হিরো বলল, “সত্যি বলতে কী, এত বুদ্ধিমান, এত মহৎ, তরুণ এবং দুর্লভ গুণের অধিকারী মানুষ আমি আর দেখিনি। আর ও কিনা তাকে অশ্রদ্ধা করে।” আরসুলা বলল, “ঠিক বলেছ, এমন দুর্ব্যবহার সহ্য করা যায় না।” হিরো বলল, “যায় তো না-ই। কিন্তু ওকে বোঝাবে কে? আমি বললে, আমার কথা তো তামাশা করে উড়িয়ে দেবে।” আরসুলা বলল, “না না, তুমি তোমার খুড়তুতো বোনকে ভুল বুঝছ। সত্যিকারের বিচার না করে সে সিনিওর বেনেডিকের মতো এক দুর্লভ ভদ্রলোককে প্রত্যাখ্যান করবে না।” হিরো বলল, “কেমন নামজাদা মানুষ বলো। আমার প্রিয়তম ক্লডিওকে বাদ দিলে সারা ইতালি খুঁজেও অমন মানুষ মিলবে না।” এইভাবে হিরো তাঁর সঙ্গিনীকে বিষয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত করলেন। আরসুলা বলল, “তোমার বিয়ে কবে, দিদিমণি?” হিরো তাকে বলল, পরের দিনই ক্লডিওর সঙ্গে তার বিয়ে। সেজন্য সঙ্গিনীকে সে তার নতুন পোষাকগুলি দেখিয়ে পরের দিন কী পরবে তা নিয়ে আলোচনা করতে চাইল। বিয়াত্রিস রুদ্ধশ্বাসে তাদের কথা শুনছিল। ওরা চলে যেতেই বলে উঠল, “আমার কানে এ কী আগুন ঢেলে দিয়ে গেল? এ কী সত্য? বিদায়, অশ্রদ্ধা ও অবজ্ঞা! বিদায়, কুমারীর গৌরব! বেনেডিক, ভালবাসো! তোমাকে আমার মূল্য চোকানোর সময় এসেছে। আমার বুনো হৃদয় তোমার প্রেমহস্তে বেঁধে দেবো আমি।”

    দুই কট্টর দুষমন পরিণত হল প্রাণের বঁধুয়ায়। রাজকুমারের মজাদার কূটবুদ্ধির শিকার হয়ে তাঁরা একে অপরের প্রেমে পড়ে গেলেন। কিন্তু সবটা ভাল হল না। এরপর থেকে হিরোর দুর্ভাগ্যের সূচনা হল। পরদিন, অর্থাৎ তার বিয়ের দিনই হিরো ও তার বাবা লিওনেটোর জীবনে ঘনিয়ে এল এক মহাদুঃখ।

    ডন জন নামে রাজকুমারের এক সৎ ভাই ছিল। চাপা স্বভাবের খিটখিটে লোক ছিল সে। সবসময় মাথায় খেলাত দুষ্টুবুদ্ধি। ভাই রাজকুমারকে সে ঘৃণা করত। আর রাজকুমারের বন্ধু বলে ক্লডিওকেও বিশেষ অপছন্দ করত। ক্লডিও আর রাজকুমারের মনে দুঃখ দেওয়ার জন্য সে ক্লডিও ও হেরোর বিয়ে ভেস্তে দেওয়ার পরিকল্পনা করল। কারণ সে জানত, রাজকুমারের বড়ো সাধ এই বিয়েটা হোক। সেই সঙ্গে ক্লডিওরও মনের একান্ত বাসনা এই পরিণয়। বদমায়েশি করার জন্য ডন জন পাঠাল বোকাশিও নামে একটা লোককে। বোকাশিও তারই মতো শয়তান। ডন জন আবার তাকে ভাল ইনামের লোভ দেখিয়ে উসকাল। বোকাশিও হেরোর সহচরী মার্গারেটকে প্রেম নিবেদন করেছিল। ডন জন সেটা জানত। কী করতে হবে তা বোরাশিওকে শিখিয়ে দিল সে। মার্গারেটকে বলতে বলল, রাতে হিরো যখন ঘুমাবে, তখন হিরোর পোষাক পরে মার্গারেট যেন হিরোর শয়নকক্ষের জানলায় এসে দাঁড়ায়। তাহলেই ক্লডিও বিশ্বাস করবে, ও-ই হল হিরো। আর তাহলেই ডন জনের উদ্দেশ্য হবে সিদ্ধ।

    এরপর ডন জন গেল রাজপুত্র ও ক্লডিওর কাছে। গিয়ে বলল, হিরো নষ্ট মেয়ে। মধ্যরাতে সে ঘরের জানলায় দাঁড়িয়ে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে কথা বলে। সেদিন বিবাহের পূর্বসন্ধ্যা। ডন জন তাদের সেই রাতেই হাতে নাতে প্রমাণ করে দিতে চাইল তার কথা। তাঁরা রাজি হয়ে গেলেন। ক্লডিও বললেন, “আজ রাতে যদি কিছু দেখতে পাই, তাহলে আমি তাকে বিবাহ করব না। কাল আমাদের বিবাহের দিন। কালই ওর চরিত্র উদ্ঘাটন করব।” রাজপুত্র বললেন, “যেহেতু ওকে লাভ করার জন্য আমি তোমাকে সাহায্য করেছিলাম। তাই ওকে অপমান করার প্রয়োজন হলে, সেই কাজে আমিই তোমাকে সাহায্য করব।”

    সেদিন রাতে ডন জন তাঁদের হিরোর শয়নকক্ষের কাছে নিয়ে গেলেন। তাঁরা দেখলেন, বোরাশিও জানলার নিচে আর মার্গারেট হিরোর জানলায় দাঁড়িয়ে। মার্গারেট কথা বলছে বোরাশিওর সঙ্গে। ক্লডিও ও রাজপুত্র হিরোকে যে পোষাকে দেখেছেন, মার্গারেটকেও সেই পোষাক পরতে দেখে তাকেই হিরো মনে করলেন।

    ক্লডিও সব দেখে শুনে (অর্থাৎ, যা তিনি দেখছেন বলে ভেবেছিলেন) তো রেগে অস্থির। নিষ্পাপ হেরোর প্রতি তাঁর ভালবাসা এক মুহুর্তে ঘৃণায় পরিণত হল। ঠিক করলেন, গির্জায় সকলের সামনে হাঁড়ি ভাঙবেন তিনি। রাজপুত্রও রাজি হলেন। ভাবলেন, রাত পোহালে যার সঙ্গে ক্লডিওর মতো এক মহান পুরুষের বিয়ে, সে যখন দুষ্টা স্ত্রীলোকের মতো রাতের অন্ধকারে অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলে তখন তার এই রকম শাস্তি হওয়াই উচিত।

    পরদিন সবাই এল বিয়ের উৎসবে। ক্লডিও ও হিরো দাঁড়ালেন পাদ্রির সামনে। পাদ্রি অনুষ্ঠান শুরু করতেই ক্লডিও মধুরভাষ্যে নির্দোষ হিরোর দোষকীর্তন শুরু করলেন। হিরো তো থ। সে বিনয়ের সঙ্গে বলল, “স্বামী, আপনি ঠিক আছেন তো? এমন কথা কেন বলছেন?”

    লিওনেটো খুব ভয় পেলেন, তিনি রাজপুত্রকে বললেন, “প্রভু, আপনি কিছু বলছেন না কেন?” রাজপুত্র বললেন, “আমি কী বলব? আমি অত্যন্ত অসম্মানিত হয়েছি। আমার প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে আমি এক অযোগ্যা স্ত্রীলোকের বিবাহ দিতে যাচ্ছিলাম। লিওনেটো, আমার সম্মানের নামে শপথ করে বলতে পারি, আমি, আমার ভাই ও ক্লডিও, কাল মধ্যরাতে ওর ঘরের জানলার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পুরুষের সঙ্গে ওর কথোপকথন শুনেছি।”

    সব শুনে তো বেনেডিকও হতবাক। তিনি বলে উঠলেন, “এ তো বিবাহসভা মনে হচ্ছে না।”

    “হা ভগবান!” ভগ্নহৃদয় হিরো এই কথা বলেই অজ্ঞান হয়ে গেলেন। মৃতবৎ পড়ে রইলেন তিনি। রাজপুত্র ও ক্লডিও গির্জা ছেড়ে চলে এলেন। তাঁদের এতটাই ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন যে, হিরো সুস্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষাও করলেন না। ভ্রুক্ষেপও করলেন না যে কী মনোবেদনায় লিওনেটোকে তাঁরা ফেলে যাচ্ছেন।

    বেনেডিক কিন্তু রয়ে গেলেন। বিয়াত্রিস বোনের শুশ্রুষা করছিল। তাকে সাহায্য করলেন বেনেডিক। বললেন, “কেমন আছে ও?” বিয়াত্রিস বলল, “মনে হচ্ছে যেন মরে গেছে।” বিয়াত্রিস তার বোনকে খুব ভালবাসত। তাই খুব দুঃখ পেয়েছিল সে। সে তার বোনের স্বভাবচরিত্র জানত। তাই তার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই সে বিশ্বাস করেনি। তবে হতভাগ্য বাবার অবস্থা তা ছিল না। তিনি তাঁর মেয়ের এই লজ্জাজনক অপরাধের কথা বিশ্বাস করে ফেলেছিলেন। তাই মেয়েকে মৃত মনে করে তিনি বিলাপ করতে করতে বললেন, মেয়ে যেন তাঁর আর চোখ না খোলে।

    কিন্তু বৃদ্ধ পাদ্রি ছিলেন বিচক্ষণ মানুষ। তিনি মানবচরিত্র গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেছিলেন। যখন হিরোকে দোষারোপ করা হচ্ছিল, তখন তিনি তার মুখের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তিনি তাকে লজ্জায় রাঙা হতে দেখেছিলেন। দেখেছিলেন, দেবসুলভ এক পাণ্ডুরতা। সেই সঙ্গে তার চোখে দেখেছিলেন এক আগুন, যে আগুনই বলে দিচ্ছিল রাজপুত্রের আনা অভিযোগগুলি ভুল। তিনি বেদনার্ত বাবাকে বললেন, “আমার বিদ্যাভ্যাস, আমার পর্যবেক্ষণ শক্তি, আমার বয়স, আমার শ্রদ্ধাবোধ, আমার বৃত্তি সব কিছুই ভুল প্রমাণিত হবে যদি এই মিষ্টি মেয়েটি দোষী প্রমাণিত হয়। ও নির্ঘাত কোনো বিশ্রী ভুলের শিকার হয়েছে।”

    জ্ঞান ফিরলে তিনি হিরোকে জিজ্ঞাসা করলেন, “বাছা, যে লোকটির সঙ্গে কথা বলার জন্য তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হল, সে কে?” হিরো বলল, “ওঁরাই জানেন! আমি তো অমন কাউকে চিনি না।” তারপর লিওনেটোর দিকে তাকিয়ে বলল, “বাবা, যদি প্রমাণ করতে পারো, কোনো লোক রাতের অন্ধকারে আমার সঙ্গে কথা বলে, অথবা গতকাল রাতে আমি কোনো প্রাণীর সঙ্গে বাক্যালাপ করেছি, তাহলে যা ইচ্ছে কোরো, আমাকে ত্যাগ করো, ঘৃণা কোরো, যন্ত্রণা দিয়ে হত্যা কোরো, যা ইচ্ছে কোরো!”

    পাদ্রি বললেন, “নিশ্চয় কোনো অত্যাশ্চর্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। রাজপুত্র ও ক্লডিও ভুল বুঝেছেন।” লিওনেটোকে তিনি উপদেশ দিলেন যে, হিরোকে মৃত ঘোষণা করতে। তাঁরা হিরোর মৃতপ্রায় অবস্থা দেখেই গিয়েছিলেন। সুতরাং হিরোকে মৃত প্রমাণ করতে বেগ পেতে হবে না। সেই সঙ্গে তিনি তাঁকে উপদেশ দিলেন শোকপালন করতে, একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করতে, এবং কবর দেওয়ার সব আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে। লিওনেটো জিজ্ঞাসা করলেন, “এসব করে কী হবে?” পাদ্রি বললেন, “এসব করে কী হবে? তাঁর মৃত্যুসংবাদ নিন্দাকে করুণায় পরিণত করবে। এটাই ভাল হবে। তবে আমি শুধু এটুকু ভালই আশা করছি না। ক্লডিও যখন শুনবেন যে তাঁর কথা শুনে হিরো মারা গিয়েছে, তাঁর চরিত্র সম্পর্কে একটি কল্পনা তাঁর মনে প্রবেশ করবে। তিনিও শোকাচ্ছন্ন হবেন। তিনি মনে করেন তাঁর আনা অভিযোগগুলি সঠিক। কিন্তু ভালবাসা কখনও তাঁর মনে আশ্রয় নিয়ে থাকলে, তিনি ভাববেন তিনি অভিযোগগুলি না তুললেই ভাল করতেন।”

    বেনেডিক তখন বললেন, “লিওনেটো, পাদ্রির উপদেশ গ্রহণ করুন। আমি রাজপুত্র ও ক্লডিওকে ভালবাসি। কিন্তু এই গোপন কথাটা আমি তাদের কাছে প্রকাশ করব না।”

    তাঁরা সবাই লিওনেটোকে বোঝালেন। লিওনেটো পরম দুঃখে বললেন, “আমার মন এত ভেঙে পড়ছে যে, সামান্য সুতোয় বেঁধেও আমাকে চালনা করা যাবে।” দয়ালু পাদ্রি লিওনেটো ও হিরোকে সান্ত্বনা দিতে দিতে সেখান থেকে নিয়ে চলে গেলেন। বিয়াত্রিস ও বেনেডিক রইলেন। তাঁদের বন্ধুরা তাঁদের প্রেমের ফাঁদে ফেলার পর এই ছিল তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ। সেই বন্ধুদের মন তখন অন্যদিকে। কেউ যে আনন্দকে নির্বাসিত করেছিল সেখান থেকে।

    কথা শুরু করলেন বেনেডিক। বললেন, “লেডি বিয়াত্রিস, তুমি কী কাঁদছ?” বিয়াত্রিস বলল, “হ্যাঁ, আরও কিছুক্ষণ কাঁদব।” বেনেডিক বললেন, “আমি নিশ্চিত যে তোমার বোনকে ভুল বোঝা হচ্ছে।” বিয়াত্রিস বলল, “ওকে যে নির্দোষ মনে করে, সেই তো আমার যোগ্য সঙ্গী।” বেনেডিক তখন বললেন, “বন্ধুত্ব প্রদর্শনের কী এমন কোনো উপায় রয়েছে? আমি তোমার চেয়ে ভাল আর কাউকেই বাসি না। এ কী অদ্ভুত ব্যাপার নয়?” বিয়াত্রিস বলল, “আমি যদি বলি, আমি তোমায় ছাড়া আর কিছুই ভালবাসি না, তাহলে হয়ত বিশ্বাস করবে না। কিন্তু আমি মিথ্যে বলছি না। আমি কোনো স্বীকারোক্তি দিচ্ছি না, আবার কিছু অস্বীকারও করছি না। আমার বোনের জন্য আমার ভীষণ দুঃখ হচ্ছে।” বেনেডিক বললেন, “আমার তরবারির শপথ, তুমি আমাকে ভালবাসো, আর আমি শপথ করে বলছি, আমিও তোমাকে ভালবাসি। বলো, কী করতে হবে। আমি তাই করব।” বিয়াত্রিস বলল, “ক্লডিওকে হত্যা করো।” বেনেডিক বললেন, “না, এই জগতের বিনিময়েও নয়।” বেনেডিক তাঁর বন্ধু ক্লডিওকে ভালবাসতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ক্লডিওকে ভুল বোঝানো হয়েছে। বিয়াত্রিস বলল, “ক্লডিও কী শয়তান নয়? সে আমার বোনকে বদনাম দিয়েছে, কটুকথা বলেছে, অপমান করেছে। আহা! আমি যদি পুরুষ হতাম!” বেনেডিক বললেন, “শোনো বিয়াত্রিস।” কিন্তু বিয়াত্রিস ক্লডিওর হয়ে কোনো কথাই শুনতে রাজি হল না। সে বেনেডিকের উপর তার বোনের অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য চাপ দিতে লাগল। বলল, “জানলায় দাঁড়িয়ে অন্য পুরুষমানুষের সঙ্গে কথা বলেছে! হা ভগবান! আমার মিষ্টি হিরো! এ কী অন্যায় তার প্রতি! কী অপমান! কী অমর্যাদা! আহা! আমি যদি পুরুষ হতাম, বা আমার যদি কোনো পুরুষ বন্ধু থাকত! সৌজন্য আর মঙ্গলকামনার মধ্যে দিয়েই বীর্য নিঃশেষিত হয়ে যায়! আমি একজন সদিচ্ছাবান পুরুষ হতে পারি না, তাই আমি শোকার্তা নারী হয়েই মরতে চাই!” বেনেডিক বললেন, “দাঁড়াও বিয়াত্রিস, আমার এই হাতের দিব্যি আমি তোমাকে ভালবাসি।” বিয়াত্রিস বলল, “আমাকে ভালবাসলে ওই হাতটা দিব্যি কাটার বদলে অন্য কাজে লাগান।” বেনেডিক বললেন, “নিজের আত্মাকে প্রশ্ন করো বিয়াত্রিস, ক্লডিও কী হিরোকে ভুল বোঝেনি?” বিয়াত্রিস বলল, “হ্যাঁ, আমার চিন্তা আছে, আত্মাও আছে।” বেনেডিক বললেন, “যথেষ্ট হয়েছে। আমি ওকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বান করব। তোমার হাত চুম্বন করে বিদায় নেবো। এই হাতেই ক্লডিও আমাকে এক প্রিয় বস্তু দেবে! আমার কথা শুনলে, যাও। তোমার বোনের শুশ্রুষা করো।”

    বিয়াত্রিসের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান বেনেডিকের পক্ষে সম্ভব ছিল না। বিয়াত্রিস তার বাকচাতুর্যের মাধ্যমে বেনেডিকের ক্রোধ জাগিয়ে তুলল। বেনেডিক বন্ধু ক্লডিওর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে রাজি হলেন। এদিকে লিওনেটো তাঁর কন্যার মৃত্যুসংবাদ রটিয়ে দিলেন। মেয়ের প্রতি কৃত দুর্ব্যবহারের জন্য তিনি রাজপুত্র ও ক্লডিওকে অসিযুদ্ধে আহ্বান জানালেন। তাঁরা লিওনেটোর বয়সকে সম্মান করতেন। তাঁরা বললেন, “আমাদের সঙ্গে বিবাদ করবেন না। আপনি বয়স্ক মানুষ।” তখন এলেন বেনেডিক। তিনিও হিরোকে অপমান করার জন্য ক্লডিওকে অসিযুদ্ধে আহ্বান করলেন। ক্লডিও ও রাজপুত্র পরস্পরকে বললেন, “বিয়াত্রিস নিশ্চয়ই একে আমাদের পিছনে লাগিয়েছে।” ক্লডিওকে বেনেডিকের আহ্বান গ্রহণ করতেই হত। কারণ, সেই মুহুর্তে হিরোকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য কোনো স্বর্গীয় ন্যায়ের অবতারণা সম্ভব ছিল না। দ্বন্দ্বযুদ্ধের অনিশ্চিত ফলই ছিল একমাত্র ভরসা।

    বেনেডিকের আহ্বান সম্পর্কে রাজপুত্র ও ক্লডিও কথা বলছেন, এমন সময় এক ম্যাজিস্ট্রেট বোরাশিওকে বন্দী করে ধরে আনলেন রাজপুত্রের সামনে। ডন জনের বদমায়েশি নিয়ে আরেকজনের কাছে বড়াই করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল সে।

    ক্লডিওর সামনে বোরাশিও সব স্বীকার করল। জানাল, মার্গারেটকে সে-ই হিরোর পোষাক পরে জানলায় দাঁড়াতে বলেছিল, যাতে সবাই তাকে হিরো মনে করে। ক্লডিও ও রাজকুমার তাই-ই ভেবেছিলেন। যেটুকু সন্দেহ রয়ে গিয়েছিল, সেটুকুও কেটে গেল ডন জনের পলায়নের সংবাদে। বদমায়েশি ধরা পড়ে যাওয়ায় ভাইয়ের রাগের হাত থেকে বাঁচতে সে মেসিনা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

    ক্লডিও বুঝলেন যে, হিরোর বিরুদ্ধে আনা তাঁর অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন ছিল। আর এই কড়া কথাগুলিই হিরোর মৃত্যুর কারণ হয়েছে ভেবে কিন্তু দুঃখে কাতর হয়ে গেলেন। তাঁর মনে পড়ল হিরোর ছবি। মনে পড়ল, তাকে প্রথম ভালবাসার কথা। রাজকুমার জিজ্ঞাসা যখন করলেন, কথাগুলি তাঁর মনে ইস্পাতের ফলার মতো বিঁধেছে কিনা, ক্লডিও উত্তরে বললেন, বোরাশিও কথা শুনে তাঁর মনে হচ্ছিল, তিনি যেন নিজের গলায় বিষ ঢালছেন।

    অনুতপ্ত ক্লডিও বৃদ্ধ লিওনেটোর কাছে তাঁর সন্তানকে অপমান করার জন্য ক্ষমা চাইলেন। বললেন, লিওনেটো যা শাস্তি দেবেন, তাই তিনি মেনে নেবেন। তিনি নিজের বাগদত্তার প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেছেন, তার জন্যই তাঁকে শাস্তি সহ্য করতে হবে।

    লিওনেটো তাঁকে শাস্তি দিলেন। শাস্তি হল, পরদিন ক্লডিওকে হিরোর খুড়তুতো বোনকে বিয়ে করতে হবে। কারণ সে-ই এখন লিওনেটের উত্তরাধিকারিণী এবং সে-ও অনেকটা হিরোরই মতো। ক্লডিও লিওনেটোর কাছে শপথ করে বলল, এই অপরিচিতা যদি ইথিওপও হন, তাহলেও তিনি তাঁকে বিবাহ করবেন। তাঁর হৃদয় বিদীর্ণ হয়ে গেল। সারা রাত তিনি কাঁদলেন। লিওনেটো হিরোর জন্য যে সমাধিসৌধটি বানিয়েছিলেন, সেখানে বসে বিলাপ করতে লাগলেন।

    সকালবেলা রাজকুমার ক্লডিওকে নিয়ে গেলেন গির্জায়। সেখানে সেই পাদ্রি, লিওনেটো ও তাঁর ভাইঝি আগেই উপস্থিত হয়েছিলেন দ্বিতীয় বিবাহোৎসবে। লিওনেটো ক্লডিওর হাতে সমর্পণ করলেন প্রতিশ্রুত বধূকে। বধূর মুখে ছিল একটি মুখোশ, যাতে ক্লডিও মুখটি চিনতে না পারেন। ক্লডিও মুখোশ-পরিহিতা মেয়েটিকে বললেন, “এই পবিত্র পাদ্রির সামনে তোমার হাতটা আমায় দাও। আমি তোমার স্বামী হব, যদি আমাকে বিবাহ কর।” অপরিচিতা বলল, “যতদিন বাঁচি, তোমার স্ত্রী হয়েই যেন বাঁচি।” এই বলে সে মুখোশটি খুলল। সে প্রমাণ করল যে, সে লিওনেটোর ভাইঝি নয়, স্বয়ং তাঁর কন্যা লেডি হিরো। আমরা নিশ্চিত যে, তাকে দেখে ক্লডিও খুব অবাক হয়েছিলেন। তিনি হিরোকে মৃত মনে করেছিলেন। তাই আনন্দে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। রাজপুত্রও সমান আশ্চর্য হয়েছিলেন। তিনি বলে উঠলেন, “এই কী সেই হিরো নয়, যে হিরো মারা গিয়েছিল?” লিওনেটো বললেন, “প্রভু, সে তো মারা গিয়েছিল, কিন্তু তার বদনামটা বেঁচে ছিল।” পাদ্রি বললেন, অনুষ্ঠানের শেষে তিনি এই আপাত কেরামতের ব্যাখ্যা দেবেন। তিনি বিবাহের অনুষ্ঠান চালিয়ে গেলেন। মাঝখান থেকে উদয় হলেন বেনেডিক। তিনি একই সময় বিয়াত্রিসকে বিয়ে করতে চাইলেন। বিয়াত্রিস তখন আপত্তি জানাল। বেনেডিক বললেন, হিরোর কাছ থেকে তিনি জেনেছিলেন যে বিয়াত্রিস তাঁকে ভালবাসে। একটা মজাদার ব্যাখ্যা দেওয়া হল। দেখা গেল দু’জনকেই কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। তাঁরা কেউ কাউকে ভালবাসতেন না। কিন্তু মিথ্যা এক ঠাট্টার বশে তাঁরা একে অপরের প্রেমের পাশে বাঁধা পড়েছিলেন। কিন্তু এই প্রেম যতই ঠাট্টার ফসল হোক না কেন, এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে কোনো গম্ভীর ব্যাখ্যাও তাকে টলাতে পারল না। বেনেডিক যেহেতু বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কোনো কিছুই তাঁকে বিবাহের সিদ্ধান্ত থেকে টলাতে পারল না। তিনি ঠাট্টাটা বজায় রাখলেন। বললেন, দয়া করেই বিয়াত্রিসকে বিয়ে করছেন তিনি। কারণ তিনি শুনেছিলেন, তিনি বিয়াত্রিসকে বিয়ে না করলে, সে দুঃখেই মরে যাবে। বিয়াত্রিস বলল, সে বেনেডিকের প্রাণ বাঁচাতে তাঁকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিল কারণ সে শুনেছিল, তার জন্য নাকি বেনেডিক খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। এইভাবে দুই পাগলের চার হাত এক হল ক্লডিও ও হিরোর বিবাহের পর। বৃত্ত সম্পূর্ণ করার জন্য, সব বদমায়েশির মাথা ডন জনকে মেসিনায় আবার ধরে আনা হল। ওই খিটখিটে লোকটাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য মেসিনায় তার ব্যর্থ ষড়যন্ত্র এবং সেখানকার আনন্দময় ভোজসভার সাক্ষী করে রাখা হল তাকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleডেজার্ট গড – উইলবার স্মিথ
    Next Article Henry VI (Part 1, 2, 3) – William Shakespeare

    Related Articles

    উইলিয়াম শেক্সপিয়র

    Henry IV (Part 1, 2) – William Shakespeare

    July 14, 2025
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র

    Henry VI (Part 1, 2, 3) – William Shakespeare

    July 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }