Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উইলিয়াম শেকসপিয়র রচনা সমগ্র

    উইলিয়াম শেক্সপিয়র এক পাতা গল্প576 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ম্যাকবেথ

    ম্যাকবেথ

    ০১.

    প্রচণ্ড যুদ্ধের পর বিদ্রোহীদের পরাস্ত করে ঘোড়ায় চেপে ফরেস -এর শিবিরে ফিরে আসছেন। রাজা ডানকানের দুই সেনাপতি ম্যাকবেথ এবং ব্যাংকো।

    খুবই শান্তিপ্রিয় এবং প্রজাবৎসল ছিলেন স্কটল্যান্ডের রাজা ডানকান। রাজার অধীনস্থ সামন্তরা সে সময় রাজার কাছ থেকে থেন খেতাব পেতেন। এই থেনদের মধ্যে সবচেয়ে পরাক্রমশালী ছিলেন ফন্ডর-এর থেন। কিন্তু একদিন তিনিই বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসলেন রাজা ডানকানের বিরুদ্ধে। কডর-এর থেন জানতেন যতই শান্তিপ্রিয় হোন না কেন রাজা ডানকান, বিদ্রোহ দমন করতে তিনি সসৈন্য কাঁপিয়ে পড়বেন তার উপর। আর রাজার সাথে লড়াইয়ে পেরে উঠবেন না তিনি। কারণ রাজার সামন্তদের অধিকাংশই নামি যোদ্ধা। তিনি স্থির করলেন বিদেশি শক্তির সাহায্য নেবেন। স্কটল্যান্ড আক্রমণ করার জন্য তিনি আহ্বান কুরলেন নরওয়ের রাজা সোয়েনো এবং ভাড়াটে আইরিশ যোদ্ধা ম্যাকডোল্যান্ডকে।

    সে আমলে নরওয়ের রাজারা ছিল যুদ্ধবাজ। তারা জাহাজে করে অন্যদেশে গিয়ে লুটপাট করত। এ কারণেই পরবর্তীকালের ঐতিহাসিকেরা তাদের জলদসু্য বলে বর্ণনা করেছেন। কডৱএর থেনের ডাক পাবার সাথে সাথেই জাহাজ বোঝাই সৈন্য নিয়ে স্কটল্যান্ড হাজির হলেন নরওয়ের রাজা সোয়েনো। অপরদিকে ভাড়াটে যোদ্ধা ম্যাকডোনাল্ড তার সৈন্যবাহিনী সহ আয়ারল্যান্ডের দিক দিয়ে স্কটল্যান্ডের মূল ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ল।

    ঐ বিদেশিদের সাথে হাত মিলিয়ে কডর -এর থেন এগিয়ে চলছেন রাজা ডানকানের ফৌজী ঘাঁটিগুলি দখল করতে। বিদ্রোহের খবর আগেই পেয়েছিলেন রাজা ডানকান। বিদেশিদের মদতে বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে কডর-এর থেন স্কটল্যান্ড হানা দিয়েছে শুনে তিনি ডেকে পাঠালেন তার সেনাপতি ও সামন্তদের। তার সেনাপতি এবং সামন্তরা — যেমন ম্যাকবেথ, ব্যাংকো, লেনক্স, ও রস, সেন্টিন, অ্যাঙ্গাস, কেইথনেস প্রমুখ সবাই এসে হাজির হলেন। এদের মধ্যে ছিলেন ম্যাকবেথ যিনি গ্রামিশ-এর থেন এবং সম্পর্কে রাজার জ্ঞাতি ভাই। তাদের উভয়ের শরীরে বইছে একই বংশের রক্তধারা।

    রাজা ডানকান আদেশ দিলেন যে কোনও ভাবেই হোক বিদ্রোহ দমন করে হানাদার বিদেশিদের ধ্বংস করে ফেলতে হবে। রাজাদেশে সেনানী ও সামন্তরা সবাই রওনা দিলেন যুদ্ধে। নিজস্ব বাহিনী নিয়ে তাদের আগে আগে চললেন রাজার বড়ো ছেলে ম্যালকম।

    কিন্তু ম্যালকম বেকায়দায় গেলেন ভাড়াটে যোদ্ধা ম্যাকডোনাল্ড ও তার সেনাদের সাথে লড়তে গিয়ে। তাকে বন্দি করার জন্যে ম্যাকডোনাল্ডের নির্দেশে তার সৈন্যরা চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলল তাকে। যুদ্ধ করতে করতেই ম্যালকমের উপর নজর রেখেছিলেন ম্যাকবেথ। তাকে বাঁচাতে তিনি তার নিজস্ব বাহিনী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন শত্রুদের উপর। শত্রুদের ধ্বংস করে তিনি ফিরিয়ে নিয়ে এলেন বড়ো রাজপুত্রকে। ম্যালকমকে অন্যদের জিম্মায় রেখে পুনরায় শত্রুনিধনে এগিয়ে গেলেন ম্যাকবেথ। বাঁধভাঙা বন্যার মত বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসছে। ম্যাকডোনাল্ড, কেউ আটকাতে পারছে না। তাকে। এ অবস্থা দেখে সাহসী সেনানী আর একদল নিভীক সৈনিক নিয়ে ম্যাকবেথ সাহসে ভর করে এগিয়ে গেলেন, কাঁপিয়ে পড়লেন শক্রসেনার উপর। ঘোড়ার পিঠে থাকা অবস্থায় তলোয়ার নিয়ে বহুক্ষণ ম্যাকডোনাল্ডের সাথে লড়লেন ম্যাকবেথ। একসময় তারতলোয়ারের আঘাতে ম্যাকডোনান্ডের হাত থেকে খসে পড়ল তলোয়ার। সাথে সাথে ঘোড়া থেকে নেমে এসে ম্যাকবেথ তার তলোয়ার সরাসরি ঢুকিয়ে দিলেন ম্যাকডোনান্ডের হৎপিণ্ডে। শেষে এক কোপে ম্যাকডোনান্ডের শিরস্ত্ৰাণ সহ মাথাটা কেটে নিয়ে একজন সৈনিককে দিয়ে বললেন, যাও, এটা নিয়ে গিয়ে আমাদের দুর্গের মাথায় টাঙিয়ে দাও। তারপর রাজাকে খবর দিও।

    মুখোমুখি লড়াইয়ে ম্যাকডোনাল্ডকে মেরে ফেলার পর ম্যাকবেথ তার নিজস্ব বাহিনী নিয়ে এগিয়ে গেলেন নরওয়েরাজ সোয়োনোর সাথে লড়াই করতে। কিন্তু হানাদারবাহিনী মোটেও দাঁড়াতে পারল না। ম্যাকবেথের নিজস্ব বাহিনীর আক্রমণের সামনে ইচ্ছা করলেই তিনি নরওয়ে রাজকে বন্দি বা হত্যা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করলেন না। জরিমানা স্বরূপ এক জাহাজ বোঝাই টাকা আদায় করে দলবল সহ স্কটল্যান্ড সীমান্ত থেকে তাদের তাড়িয়ে দিলেন।

    অমোত্যদের সাথে ফরেস-এর শিবিরে অপেক্ষা করছিলেন রাজা ডানকান। তিনি খুব খুশি হলেন যখন শুনলেন বিদ্রোহ দমন করে হানাদারদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দেশের সীমানা থেকে। শিবিরে উপস্থিত সবার সামনেই কডর-এর থেনকে প্রাণদণ্ড দিলেন রাজা ডানকান। সেই সাথে ঘোষণা করলেন আজ থেকে ম্যাকবেথই কডর-এর থেন।

     

    ০২.

    যুদ্ধ শেষ হবার পর ঘোড়ায় চেপে ম্যাকবেথ আর ব্যাংকে রওনা দিলেন ফরেসের শিবিরের দিকে। তারা কেউই লক্ষ করেননি যে ঘন কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে সারা আকাশ। অল্প কিছুদূর যাবার পরই প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি শুরু হল। মাঝে মাঝেই বিদ্যুতের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠছে চারদিক, বাজপড়ার শব্দে কেঁপে উঠছে পায়ের নিচের মাটি। যুদ্ধ জয়ের আনন্দে মগ্ন থাকলেও প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য প্রাণভরে উপভোগ করতে লাগলেন ম্যাকবেথ; যেতে যেতে এমন একটা জায়গায় এসে পড়লেন তারা যার একদিক খোলা অন্য দিক পাহাড়ঘেরা জলা। সেই জলা থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে কুয়াশার মতো ঘন ধোঁয়া। সেদিকে তাকিয়ে মানুষের মতো দেখতে তিনটি অদ্ভুত প্রাণীর দেখা পেয়ে ঘোড়া থেকে নেমে এলেন তারা। তাদের গড়ন মেয়েদের মত হলেও প্রত্যেকের মুখেই দাড়ি। তাদের হাড় বের করা শীর্ণ মুখ আর কোটরে বসা চোখ দেখে মনে হয় না। তারা পৃথিবীর প্রাণী। তারা সত্যিই পৃথিবীর প্রাণী নয়— আসলে তারা জলার ডাইনি। দৈববাণী শোনাবার নামে মানুষকে কুবুদ্ধি দিয়ে তার সর্বনাশ করাই এদের উদ্দেশ্য।

    আপন মনে ঘুরে ঘুরে নাচছিল ওই তিন ডাইনি— ছড়ার ধরনে হেঁয়ালির মতো অদ্ভুত কথাবার্তা বলছিল তাদের নিজেদের মধ্যে। কথাগুলো এইরকম–

    একজন বলল, মন-জলের এই বিজন রাতে,
    আবার কবে মিলব মোরা একসাথে?

    দ্বিতীয় জন উত্তর দিল –

    তাণ্ডবের পালা শেষ হলে
    হারা-জেতা মিটে গেলে

    এমন সময় দূর থেকে ভেসে এল বিজয়ী ম্যাকবেথ বাহিনীর ভেরী আর দামামার আওয়াজ। সেই শুনে চেঁচিয়ে উঠে বলল তিন ডাইনি—

    বাজে এই সেনাদের দামামা,
    তুর্য উঠেছে আজ ম্যাকবেথের সূর্য।

    দূর থেকে ওই সব কথা বলেও তা স্পষ্ট শুনতে পেলেন ম্যাকবেথ আর ব্যাংকো।

    সাহসে ভর করে দূর থেকে ঘোড়া ছুটিয়ে তাদের সামনে এসে দাঁড়ালেন ব্যাংকো, জিজ্ঞেস করলেন, কে তোমরা? মেয়েদের মতো দেখতে হলেও তোমাদের তিনজনের মুখেই রয়েছে দাড়ি। তাই মেয়েমানুষ বলে মেনে নিতে পারছি না তোমাদের। এবার ব্যাংকের পেছন থেকে ম্যাকবেথও এসে দাঁড়ালেন তাদের সামনে, জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা যদি কথা বলতে পোর, তাহলে নিজেদের পরিচয় দাও।

    প্রথম ডাইনি বলল, গ্রামিশ-এর থেন ম্যাকবেথ, তুমি আমাদের অভিনন্দন গ্ৰহণ কর।

    দ্বিতীয় ডাইনি বলল, হে কডর-এর থেন ম্যাকবেথ, তুমি আমাদের অভিনন্দন গ্ৰহণ কর।

    এবার বলল তৃতীয় ডাইনি, হে স্কটল্যান্ডের ভাবী রাজা ম্যাকবেথ,আমাদের অভিনন্দন গ্রহণ কর তুমি।

    ডাইনিদের ভবিষ্যদ্বাণী শুনে ধাঁধার মাঝে পড়ে গেলেন ম্যাকবেথ। তিনি অবশ্যই গ্লামিশ-এর থেন, কিন্তু কডর -এর যেন বেঁচে থাকতে কীভাবে তার খেতাবটা পাবেন তিনি? ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারলেন না। ওদিকে, আবার তৃতীয় ডাইনি তাকে স্কটল্যান্ডের ভাবী রাজা বলে অভিনন্দন জানিয়েছে। তিনি কিছুতেই ভেবে পেলেন রাজা ও তার দুই ছেলে বেঁচে থাকতে কী করে তা সম্ভব।

    এগিয়ে এসে ব্যাংকে বললেন, আমার বন্ধুর সম্পর্কে অনেক কিছুই তো বললে তোমরা। এবার আমার ব্যাপারে। যদি কিছু বলার থাকে তো বলে ফেল! তোমরা যেই হও না কেন, মনে রেখা আমি তোমাদের ভয় করি না। আর তোমাদের ভবিষ্যদ্বাণীর উপর নির্ভরশীলও নই আমি। তোমাদের করুণা বা ঘৃণা, কিছুই চাই না আমি।

    প্রথম ডাইনি বলল, স্বাগত ব্যাংকো। বয়সে ম্যাকবেথের চেয়ে ছোটো হলেও অন্যদিক দিয়ে তুমি তার চেয়ে বড়ো।

    এবার দ্বিতীয় ডাইনি বলল, ব্যাংকে, তোমায় স্বাগত। ম্যাকবেথের মতো সুখী না হলেও অন্যদিক দিয়ে তুমি তার চেয়ে বেশি সুখী।

    শেষে মুখ খুলল তৃতীয় ডাইনি, ব্যাংকো! তুমি সিংহাসনে বসবে না ঠিকই, কিন্তু তোমার বংশের অনেকেই রাজা হবে। আমি তোমাদের দু-জনকেই স্বাগত জানাই।

    জোর গলায় চেঁচিয়ে বলে উঠলেন ম্যাকবেথ, দাঁড়াও তুমি! কডর-এর থেন বেঁচে থাকতে কীভাবে তার খেতাব পাব আমি? তাছাড়া তোমরা বলেছ। আমি স্কটল্যান্ডের ভাবী রাজা। তা কী করে সম্ভব? কেন শোনালে আমাদের এ সব ভবিষ্যদ্বাণী?

    তাদের প্রশ্নের কোনও জবাব না দিয়ে নিমেষের মধ্যে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলব তিন ডাইনি।

    ম্যাকবেথের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলল ব্যাংকো, দেখেছ, কেমন অদ্ভুত ভাবে ওরা মিলিয়ে গেল আমাদের সামনে থেকে?

    ওরা হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে ব্যাংকো, জবাব দিলেন ম্যাকবেথ। তবে আরও খানিকক্ষণ ওরা থাকলে ভালো হত। হয়ত ওদের মুখ থেকে ভালো ভালো কথা শোনা যেত।

    সত্যিই কি ওরা এখানে ছিল? ম্যাকবেথকে জিজ্ঞেস করলেন ব্যাংকো, নাকি কোনও মাদকদ্রব্য খেয়ে আমাদের বোধ-বুদ্ধি সব লোপ পেয়ে গিয়েছিল?

    ম্যাকবেথ জবাব দিলেন, ওরা তো বলল তোমার বংশেরও কেউ কেউ রাজা হবে।

    ওরা এও বলেছে তুমি নিজেই রাজা হবে, বললেন ব্যাংকো।

    একই সঙ্গে ওরা বলল আমি নাকি কডর-এর থেন হবে— বললেন ম্যাকবেথ, কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না। কীভাবে তা সম্ভব হবে।

    ম্যাকবেথের কথা শেষ হতে না হতেই ঘোড়ায় চেপে সেখানে এসে হাজির রাজা ডানকানের দুই অমাত্য। ঘোড়া থেকে না নেমেই তারা ম্যাকবেথকে অভিবাদন জানিয়ে বলল, বিদ্রোহ দমনে আপনার ভূমিকায় মহারাজ খুব খুশি হয়েছেন। আপনার এই অসাধারণ কৃতিত্বের পুরস্কার স্বরূপ মহারাজ। আপনাকে কডর-এর থেন খেতাবে ভূষিত করেছেন। আমরা এসেছি আপনাকে রাজসভায় নিয়ে যাবার জন্য।

    আশ্চর্য হয়ে ব্যাংকো বললেন, কন্ডরের থেন? দেখছি ওই অদ্ভুত প্রাণীগুলোর কথাই তাহলে সত্যি হল।

    রাজার দুই অমাত্যকে বললেন ম্যাকবেথ, কডর-এর থেন তো এখনও জীবিত। তাহলে তার জীবদ্দশায় সে খেতাব আমি পাব। কী করে?

    সে কথা। আপনি ঠিকই বলেছেন সেনাপতি ম্যাকবেথ, উত্তর দিলেন রাজার অমাত্যদ্বয়, তবে মনে রাখবেন যে বিদ্রোহ। আপনি দমন করেছে তা ঘোষণা করেছিলেন কডর-এর থেন নিজেই। যুদ্ধে হেরে গিয়ে তিনি তার দোষ স্বীকার করেছেন। রাজা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রাণদণ্ড দিয়েছেন।

    কথা শুনে নিজের মনে বললেন ম্যাকবেথ, তাহলে আমি একই সাথে গ্লমিশ আর কডর -এর থেন! তবে এর চেয়ে বড়ো পুরস্কার পাওয়া এখনও বাকি। এরপর অমাত্যদ্বয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন ম্যাকবেথ, এত কষ্ট করে আপনারা যে সুসংবাদ নিয়ে এসেছেন তার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। এবার ব্যাংকোর কানের কাছে মুখ নিয়ে বললেন, তাহলে ব্যাংকো, তোমার বংশধররা যে রাজা হবে সে ভবিষ্যদ্বাণীতে বিশ্বাস হচ্ছে তো? তুমি তো নিজের চোখেই দেখলে ওদের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী আমি কডর-এর থেন হয়েছি।

    আমাত্যদ্বয়ের কান বাঁচিয়ে ম্যাকবেথের মতো একই স্বরে বললেন ব্যাংকে, দেখ, আমার বিশ্বাস-অবিশ্বাসে কিছু আসে যায় না। আমি যদি সত্যিই দৈববাণীতে বিশ্বাস করি তাহলে তৃতীয় ডাইনির কথা মতো তুমি রাজা হওয়ার প্রেরণা পাবে। আমার যতদূর জানা আছে। এই অদ্ভুত প্রাণীর সবাই অন্ধকারের বাসিন্দা, শয়তানের উপাসক। এদের ভবিষ্যদ্ববাণী কোনও কোনও ক্ষেত্রে মিলে গেলেও আসলে এরা আমাদের ক্ষতিই করে। এরা আমাদের প্রলুব্ধ করে নানারূপ অন্যায় কাজ করতে যার ফল খুব ক্ষতিকারক এবং ভয়ংকর। ওহে বন্ধু! তুমি যে দেখছি বেজায় চিন্তায় মগ্ন হয়ে গেলে?

    যদিও নিজের মনে বিড় বিড় করে বললেন ম্যাকবেথ, দৈব আমার সহায় হলে রাজা হওয়া আটকাবে না। আমার, কাছে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাংকে কিন্তু কথাগুলি ঠিকই শুনতে পেলেন।

    ব্যাংকো বললেন, বন্ধু ম্যাকবেথ! ওরা এসেছেন আমাদের দু-জনকে নিয়ে যেতে। চল, ওদের সাথে আমরা রাজসভায় চলে যাই।

    ম্যাকবেথ উত্তর দিলেন, তুমি আমায় ক্ষমা কর ব্যাংকো। অতীতের কিছু ঘটনা মনে পড়ে যাওয়ায় ওদের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম আমি। চল, আমরা ওদের সাথে যাই। কিছুক্ষণ আগে আমাদের চোখের সামনে যে ঘটনাগুলো ঘটে গেল, তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তার মেলাই সময় পাওয়া যাবে। দেখাই যাক না কেন আরও অন্য কিছু ঘটে কিনা। পরে না হয় এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করব।

    তাতে আমি অরাজি নই, বললেন ব্যাংকো।

    অমাত্যদ্বয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন ম্যাকবেথ, আসুন বন্ধুরা, এবার রাজসভায় যাওয়া যাক।

     

    ০৩.

    শিবিরে পৌঁছে ঘোড়া থেকে নেমে ভিতরে ঢুকলেন ম্যাকবেথ আর ব্যাংকো। মাথা থেকে শিরস্ত্ৰাণ খুলে নিয়ে ঘাড় হোঁট করে একসাথে তারা অভিবাদন জানালেন রাজাকে।

    সিংহাসন থেকে নেমে এসে সভার মাঝে দাঁড়ালেন রাজা ডানকান। ওদের দেখে রাজা এত আনন্দ পেয়েছেন যে তিনি আর সামলাতে পারলেন না নিজেকে–সজোরে বুকে জড়িয়ে ধরলেন ম্যাকবেথ আর ব্যাংকোকে।

    গদগদ স্বরে বললেন রাজা ডানকান, হে আমার প্রিয় জ্ঞাতিভাই ম্যাকবেথ! দেশের জন্য তুমি যা করেছ, তার উপযুক্ত প্রতিদান আমি তোমায় দিতে পারিনি। যৎসামান্য যা দিয়েছি তার চেয়ে অনেক বেশি পাবার যোগ্য তুমি।

    ম্যাকবেথ জবাব দিলেন, মহারাজ! কোনও কিছু পাবার আশায় এ কাজ করিনি। রাজার সেবা করে যে গৌরব অর্জন করা যায়, তাই করেছি আমি। দেশ, রাজসিংহাসন ও আপনি –এদের প্রতি আমার যে কর্তব্য আছে শুধু সেটুকুই করেছি আমি।

    রাজা বললেন, এই শুভদিনে আমি ঘোষণা করছি আজ থেকে আমার বড়ো ছেলে ম্যালকম কম্বারল্যান্ডের যুবরাজ। এর পর ম্যাকবেথের দিকে তাকিয়ে রাজা ডানকান বললেন, ওখান থেকে ফিরে এসে আমি ইনভার্নেসে তোমার প্রাসাদে যাব—আজকের রাতটা তোমার অতিথি হয়ে কাটাব।

    ম্যাকবেথ জবাব দিলেন, সে তো আমার পরম সৌভাগ্য মহারাজ। তবে রাজসেবার প্রস্তুতির জন্য আমায় কিছুটা সময় দিতে হবে। আমি আগে গিয়ে আপনার আগমনবার্তা জানাব স্ত্রীকে। তাই অনুমতি চাইছি ইনভার্নেসে যাবার।

    বেশ, তাই হবে, বললেন মহারাজ, ভাই ম্যাকবেথ!

    তোমায় অজস্র ধন্যবাদ। রাজার অনুমতি নিয়ে শিবিরের বাইরে এলেন ম্যাকবেথ। সমগ্র পরিস্থিতিটা বিশদভাবে দেখতে গিয়ে চাপা রাগে। লাল হয়ে উঠল তার চোখ-মুখ। এই কিছুক্ষণ আগে বড়ো গলায় রাজা ডানকান তার জ্যেষ্ঠপুত্র ম্যালকমকে কাম্বারল্যান্ডের যুবরাজ হিসেবে ঘোযণা করেছেন। এর অর্থ ডানকানের মৃত্যুর পর সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবে ম্যালকাম। তার নিজের আর রাজা হবার কোনও সম্ভাবনাই রইল না। তিনি স্থির করলেন রাজাকে হত্যা করবেন। কীভাবে অন্যদের মনে সন্দেহের উদ্রেক না করে কাজটা করা যায় তা নিয়ে ভাবতে লাগলেন তিনি। ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তার মনে পড়ল। আজ রাতেই তো ইনভার্নেসে তার প্রাসাদে রাত কাটাবেন রাজা। এই তো সুযোগ্য সময় সবার অগোচরে রাজাকে সরিয়ে দেবার। নিজের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার উদেশে ম্যাকবেথ তার নিজ হাতে একটা চিঠি লিখে পাঠিয়ে দিলেন স্ত্রী লেডি ম্যাকবেথের কাছে। সেই চিঠিতে রইল রাজার আগমনবার্তা। সেই সাথে তিনি ডাইনীর ভবিষ্যদ্বাণীর কথা। এবার চিঠিতে সই করে ম্যাকবেথ সেটা দূত মারফত পাঠিয়ে দিলেন লেডি ম্যাকবেথকে। দ্রুতগামী ঘোড়া ছুটিয়ে দূত সে চিঠিটা নিয়ে রওনা হল ইনভার্নেসের প্রাসাদের দিকে।

    ম্যাকবেথ তার প্রাসাদে ফিরে আসার বহুক্ষণ আগেই দূত তুতার চিঠিটা এনে দিয়েছে লেডি ম্যাকবেথের হাতে। চিঠিটা খুঁটিয়ে পড়লেন তিনি। তিনি ভেবে দেখলেন ম্যাকবেথ রাজা হলে তিনি হবেন রাজরানি। লেডি ম্যাকবেথও খুব উচ্চাভিলাষী ছিলেন। তিনি এও জানেন তার স্বামী খুব সৎ। কোনও অন্যায়ের আশ্রয় নিয়ে নিজের কার্যসিদ্ধি করতে চান না তিনি। আবারও চিঠিটা মন দিয়ে পড়লেন লেডি ম্যাকবেথ। তারপর স্বামীর উদ্দেশে মনে মনে বলতে লাগলেন, হে আমার গ্লমিশ ও কডর-এর থেন! তুমি চাইছ সৎপথে সিংহাসনে বসতে। কিন্তু তা সম্ভব নয়। সিংহাসনে বসতে হলে অসৎপথেই তোমাকে তা করতে হবে। তুমি আমার সামনে এলে এমন সব ধারালো বাণী তোমাকে শোনাব, যাতে কার্যসিদ্ধির জন্য অন্য পথের আশ্রয় নিতেও তুমি পেছপা হবে না। আমি সেটা করিয়েই ছাড়ব। যেখানে যত অশুভ, অপ্রাকৃতিক শক্তি আছ, তোমরা সবাই আমাকে সাহায্য কর লক্ষ্য পূরণ করতে। আমার মন থেকে ভয়-ভীতি দূর করে জাগিয়ে তোল দুৰ্জয় সাহস। আমার নারীসুলভ মায়া-মমতা দূর করে আমার মনকে পাথরের মত নিষ্ঠুর কর আমাকে। প্রার্থনার ঢংয়ে যখন তিনি নিজেকে এভাবে উত্তেজিত করছিলেন, সে সময় ম্যাকবেথ এলেন সেখানে।

    ঘাড় সামান্য নিচু করে স্বামীকে অভিবাদন জানিয়ে লেডি ম্যাকবেথ ফিসফিস করে বললেন, এই কিছুক্ষণ আগে তোমার চিঠি পেয়েছি। পড়ে মনে হল তোমার ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল।

    স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়ে ম্যাকবেথ বললেন, আর কিছুক্ষণ বাদেই অমাত্যদের সাথে নিয়ে রাজা ডানকান এসে পড়বেন। আজ রাতে তিনি আমাদের অতিথি।

    ভালোই তো, বললেন লেডি ম্যাকবেথ, তা এখান থেকে কখন তিনি ফিরে যাবেন?

    ম্যাকবেথ বললেন, রাজার কথা শুনে মনে হল আগামী কাল সকালে তিনি চলে যাবেন।

    স্বামীর কথা শুনে লেডি ম্যাকবেথ বললেন, আজকের রাতটা যেন শেষ না হয়।

    ম্যাকবেথ অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, কী বলছ তুমি?

    ফিস ফিস করে লেডি ম্যাকবেথ বললেন, আমি বলতে চাইছি আজ রাতটাই যেন রাজার জীবনের শেষ রাত হয়। তোমার চাউনি দেখে মনে হচ্ছে তুমিও এই আশাই করছি। তুমি কি চাও না আজ রাতে রাজাকে হত্যা করে তোমার উচ্চাশা পূরণ করতে? দেখছি তোমার দ্বারা কিছু হবে না। বেশ, যা করার আমিই করব।

    স্ত্রীর কথার জবাব না দিয়ে চুপচাপ রইলেন ম্যাকবেথ। লেডি ম্যাকবেথ-আন্দাজ করলেন শুভ-অশুভের দোলাচলে দুলছেন তার স্বামী। তাই স্বামীকে বললেন, দেখ, দুশ্চিন্তার ছায়া পড়েছে তোমার চোখে-মুখে। তোমাকে দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবে মানসিক দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে তুমি। এবার মন দিয়ে শোন, কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবসময় হাসিমুখে থাকবে। রাজা এলে তাকে যথাযোগ্য সম্মান জানাবে, লক্ষ রাখবে যেন তার আতিথ্যের কোনও ত্রুটি না হয়। তারপর যা করার তা আমিই করব। রাজা ও তার অমাত্যদের সামনে সবসময় ভালোমানুষ সেজে থাকার চেষ্টা করবে যাতে তোমার প্রকৃত উদ্দেশ্য কেউ টের না পায়। মনে রাখবে আজ রাতে আমরা এমন একটা কাজ করতে যাচ্ছি যা সফল হলে আমাদের বাকি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আমাদের ইশারায় চলবে।

    ম্যাকবেথের মনে তখনও দ্বন্দ্ব চলছে। স্ত্রীর কথার জবাব না দিয়ে তিনি বললেন, পরে তোমার সাথে এ বিষয়ে কথা হবে।

    ম্যাকবেথের কথা শেষ হতে না হতেই প্রাসাদের বাইরে শোনা গেল তুর্যনাদ, বেজে উঠল। দামামা, ভেরী। রাজা এসেছেন জেনে ম্যাকবেথ তার স্ত্রীকে নিয়ে ছুটে গেলেন ফটকের সামনে। তার নির্দেশে ফটক খুলে দেবার পর স্বামী-স্ত্রী বাইরে গিয়ে রাজা ও সঙ্গীদের যথোচিত অভ্যর্থনা জানিয়ে নিয়ে এলেন প্রাসাদের ভেতরে।

    লেডি ম্যাকবেথকে দেখিয়ে হাসিমুখে বললেন রাজা, সেনাপতি ম্যাকবেথের স্ত্রী শুধু রূপসিই নন, তিনি যে একজন আদর্শ গৃহিণী তা তাকে দেখলেই বোঝা যায়। বুঝলেন লেডি ম্যাকবেথ, আজ আমরা সবাই আপনার অতিথি।

    সে তো আমাদের পরম সৌভাগ্য মহারাজী, বিনয়ের সাথে বললেন লেডি ম্যাকবেথ, আমরা তো আপনারই আজ্ঞাবহ ভূত্য মাত্র। আমাদের সৌভাগ্যের মূলে রয়েছে আপনার অসীম করুণা। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব অতিথিসেবার–বলে রাজাও অমাত্যদের পথ দেখিয়ে প্রাসাদের ভেতর নিয়ে গেলেন তারা।

    এবার খেতে বসলেন রাজা ডানকান ও তার সঙ্গীরা। রীতি অনুযায়ী ম্যাকবেথও বসে গেলেন তাদের সাথে। কিন্তু তখনও পর্যন্ত মনস্থির করে উঠতে পারেননি। তাই রাজার খাওয়া শেষ হবার আগেই তিনি টেবিল ছেড়ে উঠে গেলেন তার শোবার ঘরে। রাজার খাওয়া শেষ হবার আগেই টেবিল ছেড়ে আসার জন্য লেডি ম্যাকবেথ বাকাবিকি করল তার স্বামীকে। তার বুঝতে বাকি রইল না শুরুতে রাজাকে হত্যা করার সাহস দেখালেও এখন তার স্বামীর বিবেক জেগে উঠেছে। ম্যাকবেথ স্ত্রীকে বললেন, দেখ, রাজা আজ আমাদের অতিথি। তারই দয়ায় আমি একই সাথে গ্লমিশ আর কডর-এর থেন। তাছাড়া আমি তার আত্মীয়। এসব কথা বিবেচনা করে এখন আমি তাকে হত্যা করতে পারব না।

    কী বললে, তুমি পারবে না? উপহাসের হাসি হেসে বললেন লেডি ম্যাকবেথ, রাজাকে হত্যা করে সিংহাসনে বসার পরিকল্পনা করে আমাকে চিঠি লেখার সময় তোমার বিবেক-বুদ্ধি কোথায় ছিল? সততার ধ্বজা বয়ে কাপুরুষের মতো জীবন কাটাবে তুমি?

    স্ত্রীকে ধমক দিয়ে ম্যাকবেথ বললেন, দোহাই তোমার, একটু থাম। আমি তাই করব যা একজন সত্যিকারের পুরুষ মানুষ করে থাকে। আর এও জেনে রাখ, আমার মতে যে পুরুষের সাহস নেই সে মানুষই নয়।

    লেডি ম্যাকবেথ বললেন, এই ভয়ানক পরিকল্পনার কথা যখন তুমি আমায় জানিয়েছিলে, সে সময় তোমার মনে সাহস ও দৃঢ়তা–দুইইছিল। এখন তোমার লক্ষ্য হয়েছে সবার চোখে ভালো মানুষ সেজে থাকা। ভুলে যেও না, আমিও একদিন মা হয়েছিলাম। নিজের বাচ্চাকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে দুধ খাওয়াবার মধ্যে যে কী মাধুর্য, তা আমার চেয়ে বেশি আর কেউ জানে না। কিন্তু তোমার মতো শপথ নিলে সেই বাচ্চাকে নিজের হাতে হত্যা করতেও আমি পেছপা হতাম না।

    বেশ তো, না হয় তোমার কথাটা মেনে নিলাম, বললেন ম্যাকবেথ, কিন্তু ভেবেছ কি কাজটা ঠিকমতো না করতে পারলে তার পরিণতি কী হবে?

    লেডি ম্যাকবেথ বললেন, যদি সাহস থাকে তাহলে ব্যর্থতার কথা উঠছে কেন? একেই রাজার বয়স হয়েছে, তার উপর পথশ্রমে ক্লান্ত। কিছুক্ষণ বাদেই ঘুমিয়ে পড়বেন তিনি। তখন বাইরে পাহারা দেবে শুধু দু-জন রক্ষী। রাজা ঘুমিয়ে পড়লে ওষুধ মেশান প্রচুর মদ আমি খাইয়ে দেব ওই দুজনকে। সাথে সাথে ঘুমের গভীরে তলিয়ে যাবে তারা। তখন রাজার জীবন আমাদের হাতের মুঠোয়–তা নিয়ে আমরা যা খুশির তাই করতে পারি। শুধু রক্ষী দুটোর ঘাড়ে সব কিছুর দায় চাপিয়ে দিলেই আমরা খালাস। তুমি কি বল, এটা করা সম্ভব নয়?

    স্ত্রীর প্রশংসা করে ম্যাকবেথ বললেন, মানতেই হবে তোমার সাহস আছে। নারীসুলভ গুণের চেয়ে পুরুষ প্রবৃত্তিই তোমার মধ্যে প্রবল। তবে তুমি যা বলনি এবার সেটুকু বলছি আমি। রাজাকে হত্যা করার পর ঐ দেহরক্ষী দুটোকেও মেরে ফেলতে হবে। তবে তার আগে ওদের হাতে মাখিয়ে দিতে হবে মৃত রাজার রক্ত। সবাই ভাববে জেগে পাহারা না দিয়ে রাজার রক্ত হাতে মেখে ঘুমোচ্ছে দেখেই আমি হত্যা করেছি তাদের–এ কথাটাই রাজার সঙ্গী-সাথীদের বোঝাতে হবে।

    লেডি ম্যাকবেথ বললেন, আর আমরা যখন বুক চাপড়ে মড়া-কান্না শুরু করব, তখন সবাই আমাদের কথাটাই সত্যি বলে ধরে নেবে।

    ম্যাকবেথ বললেন, এবার আর কোনও ভয় নেই আমার। আমি ফিরে পেয়েছি। আমার হারিয়ে যাওয়া সাহস এবং আত্মবিশ্বাস। যে ভয়ানক পরিকল্পনা আমি করেছি তা সফল করার জন্য পুরোপুরি তৈরি আমি।

     

    ০৪.

    রাজার সাথে ম্যাকবেথের প্রাসাদে আসার সময়ে সেনাপতি ব্যাংকে তার ছেলে ফ্লিয়ানসকে নিয়ে এসেছেন সাথে। খাওয়া-দাওয়া সেরে রাজা শুতে যাবার পর ব্যাংকে তার ছেলেকে নিয়ে নিজ প্রাসাদে ফিরে যাবার আয়োজন করছেন। তার প্রাসাদও খুব কাছেই।

    ব্যাংকে তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন এখন কটা বাজে?

    ফ্লিয়ানস উত্তর দিল, পেটা ঘড়ির আওয়াজ শুনিনি আমি। তবে চাঁদ ডুবে গেছে।

    তাহলে রাত বারোটা বেজেছে, আপন মনে বললেন ব্যাংকো, ঠিক বারোটায় চাঁদ ডুবে যায়। ফ্লিয়ানস, আমার তলোয়ারটা তোমার কাছে রাখি, সাথে একটি বাতিও নিও। প্রচণ্ড ঘুম পেয়েছে আমার—–নিজের মনে বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন তিনি–হাতে কাজ না থাকলেই যত সব উদ্ভট চিন্তা মাথায় এসে ঢোকে। ভগবান যেন ও সব থেকে আমায় দূরে রাখেন। ও কি, কে দাড়িয়ে আছে ওখানে? জবাব দাও? ফ্লিয়ানস, তলোয়ারটা আমার হাতে দাও তো?

    ব্যাংকের প্রশ্ন শুনে মশাল হাতে এগিয়ে এল। একজন অল্পবয়সি পরিচারক। সেই মশালের আলোয় ব্যাংকো দেখতে পেলেন পরিচারকের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং ম্যাকবেথ।

    ম্যাকবেথ বললেন, আমি তোমার বন্ধু ম্যাকবেথ দাঁড়িয়ে আছি এখানে।

    ব্যাংকে আশ্চর্য হয়ে বললেন, বারোটা বেজে গেছে কিন্তু তুমি এখনও জেগে আছ? তারপর একটা হিরে বের করে বললেন, অনেকক্ষণ আগেই রাজা ঘুমিয়ে পড়েছেন। তোমার আতিথেয়তায় খুশি হয়ে রাজা এই হিরোটা উপহার দিয়েছেন লেডি ম্যাকবেথকে। আচ্ছা ম্যাকবেথ যুদ্ধ ফেরত আমরা যে তিন ডাইনির দেখা পেয়েছিলাম তাদের কথা মনে আছে তোমার?

    ম্যাকবেথ বললেন, দেখ, মন যখন অপ্ৰস্তুত থাকে, তখনই ডাইনিদের অশুভ প্রভাব তার উপর পড়ে, মনের কামনা-বাসনা সব কিছু চাপা পড়ে যায় তার নিচে। তবে মন প্রস্তুত থাকলে সেরূপ ঘটনা ঘটে না।

    ব্যাংকে বললেন, জান, কাল রাতে আমি স্বপ্নে দেখেছি। ওই তিন ডাইনিকে। তোমার সম্পর্কে ওরা যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে তা তো দেখছি মিলে যাচ্ছে।

    প্রশ্নটিশ্ন কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে ম্যাকবেথ বললেন, এই মুহূর্তে ওদের কথা আমার মনে পড়ছে না। তবে তোমার আপত্তি না থাকলে এ বিষয়ে ঘণ্টাখানেক তোমার সাথে কথা বলতে চাই।

    ব্যাংকে বললেন, আমার কোনও আপত্তি নেই। তোমার ইচ্ছে আর সময় হলেই আলোচনা হবে।

    ম্যাকবেথ বললেন, আমার কথা অনুসারে চললে তুমিও সম্মানিত হবে ব্যাংকো।

    ব্যাংকো জবাব দিলেন, আমিও সবার মতো সম্মান চাই, তবে তা রাজার প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে।

    ম্যাকবেথ বললেন, যাও ব্যাংকো, তুমি বিশ্রাম নাও।

    তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ব্যাংকো বললেন, এবার তুমিও বিশ্রাম নাও ম্যাকবেথ–এই বলে ছেলে ফ্লিয়ানসকে সাথে নিয়ে রওনা দিলেন নিজ প্রাসাদের দিকে।

     

    গভীর রাত। ইনভার্নেসের দুর্গের ভিতর ভিন্ন ভিন্ন ঘরে গভীর ঘুমে ডুবে রয়েছেন রাজা ও তার সঙ্গী-সাথীরা। ওষুধ মেশান মন্দ প্রচুর পরিমাণে খেয়ে রাজার কামরার বাইরে ঘুমে বেহুশ হয়ে পড়ে রয়েছে রক্ষীদ্বয়। সপুত্র ব্যাংকো চলে যাবার পর মশাল হাতে প্রহরার এক রক্ষীকে ডেকে ম্যাকবেথ বললেন, যাও, তোমার মনিবানিকে গিয়ে বল ওষুধটা তৈরি হলে তিনি যেন ঘণ্টা বাজিয়ে আমায় ডেকে পাঠান। পরিচারক তাকে অভিবাদন জানিয়ে চলে যাবার পর ম্যাকবেথের সামনে ভেসে উঠল এক অদ্ভুত দৃশ্য। তিনি দেখলেন একটা ধারালো ছুরি তার সামনে হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে–ছুরির ফলায় লাগানো রয়েছে লাল লাল তাজা রক্ত। যেই সে ছুরির বঁটিটা হাত দিয়ে ধরতে গেলেন ম্যাকবেথ, অমনি সেটা পিছলে গেল। আবার কিছুক্ষণ বাদে সেটা অদৃশ্য হয়ে গেল তার সামনে থেকে।

    ওই অলৌকিক ছুরিটা যে রাজাকে হত্যা করার জন্য তাকে প্রেরণা দিচ্ছে, এ ব্যাপারে নিঃসন্দেহ হয়ে ম্যাকবেথ ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন। ঘুমন্ত রাজার কক্ষের দিকে। কিছুক্ষণ আগে ঘুমের ওষুধ মেশানো মদ খাইয়ে রক্ষীদের বেন্থশ করে লেডি ম্যাকবেথ যে নিজেই রাজাকে হত্যা করতে তার কক্ষে ঢুকেছেন, সেকথা তখনও পর্যন্ত জানতেন না। ম্যাকবেথ। উদ্যত ছুরিকা হাতে রাজার কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়িয়ে রইলেন লেডি ম্যাকবেথ। রাজার মুখের দিকে তাকিয়ে তার মনে, হল রাজার মুখখানা ঠিক তার বাবার মুখের মতো। মুহূর্তের মধ্যেই দুর্বল হয়ে পড়ল তার মন। রাজাকে হত্যা করতে অপারগ হয়ে তিনি ছিটকে বেরিয়ে এলেন সেই ঘর থেকে। স্বামীকে তার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন করতে ঘণ্টা বাজিয়ে ডেকে পাঠালেন তাকে।

    ঘণ্টার আওয়াজকানে যেতেই নিজ মনে বলে উঠলেন ম্যাকবেথ, এবার চরম সময় উপস্থিত। রাজা ডানকান, এই ঘণ্টাধ্বনিই ঘোষণা করছে তোমার জীবনের সমাপ্তির কথা। এবার উপরে যাবার জন্য তৈরি হও। একথা বলতে বলতে ম্যাকবেথ এসে দাঁড়ালেন রাজার কক্ষের সামনে! দেহরক্ষীদ্বয়কে ঘুমে অচেতন দেখে ঘরের ভেতর প্রবেশ করলেন তিনি। ধীর পায় এগিয়ে এসে রাজার কাছে দাঁড়ালেন ম্যাকবেথ। নিশ্বাসের সাথে ওঠা-নমা করছে রাজার বুক। রাজার দিকে একবার তাকিয়ে দেখেই ভয়ে কেঁপে উঠল তার সারা শরীর। পরমুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিলেন ম্যাকবেথ। খাপ থেকে ছোরা বের করে কোনোদিকে না তাকিয়ে ছোরাটা আমূল বসিয়ে দিলেন রাজার বুকে। সাথে সাথেই থেমে গেল রাজার বুকের ধুকপুকুনি। ক্ষতস্থান থেকে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে এল রক্ত। সেই রক্তে ভিজে গেল সারা বিছানা। একটা চাপা আর্তনাদ বেরিয়ে এল ঘুমন্ত রাজার ঠোঁট থেকে। তারপর বালিশের পাশে এলিয়ে পড়ল। রাজার মাথা।

    কানের কাছে একটা অচেনা আওয়াজ শুনতে পেয়ে চমকে উঠলেন ম্যাকবেথ। ওই আওয়াজটা যেন বলছে, ম্যাকবেথ! তুমি খুনি। রাতের ঘুম পালিয়ে গেছে তোমার চোখ থেকে। কিন্তু চারদিকে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেলেন না তিনি।

    পরমুহূর্তেই ম্যাকবেথের কানে ভেসে এল সেই কণ্ঠস্বর, ঘুমকে খুন করেছে গ্ল্যামিশ, সে আর ঘুমোবে না। ম্যাকবেথ! কডর আর ঘুমোবে না। রক্তমাখা ছুরি হাতে রাজার ঘর থেকে বেরিয়ে স্ত্রীর কাছে এলেন ম্যাকবেথ। স্ত্রীকে বললেন, সব শেষ। রাজার ঘুম আর কখনও ভাঙবে না। কীভাবে রাজাকে খুন করেছেন তা সবিস্তারে স্ত্রীকে বললেন ম্যাকবেথ। সব শোনার পর স্ত্রী বললেন, ওই ছুরিটা নিয়ে এসেছি কেন? যাও, রাজার ঘরের বাইরে পাহারাদারদের হাতের কাছে ওটা রেখে এস। ছোরার ফলার রক্ত মাখিয়ে দেবে প্রহরীদের হাতে। তাহলে সবাই ধরে নেবে মদ খেয়ে ওরাই হত্যা করেছে রাজাকে।

    ম্যাকবেথ স্ত্রীকে বললেন, আচ্ছা, তুমি কারও চিৎকার শুনতে পেয়েছ?

    কই! না তো। জবাব দিলেন লেডি ম্যাকবেথ।

    ম্যাকবেথ বললেন স্ত্রীকে, দেখ, আমি যেন কার চিৎকার শুনতে পেলাম। কাজ শেষ হবার সাথে সাথেই কে যেন আমার কানের কাছে চেঁচিয়ে বলে উঠল, ম্যাকবেথ! তুমি খুনি। রাতের আর ঘুম বিদায় নিয়েছে তোমার চোখ থেকে। এর মানে কি বুঝতে পারছি? মৃত্যুর আগে পর্যন্ত রাতে ঘুমোতে পারব না আমি। ঘুমে যতই চোখ বুজে আসুক, চোখ বন্ধ করতে পারব না আমি।

    লেডি ম্যাকবেথ স্বামীকে বোঝালেন, আমি তো সেরূপ কিছু শুনিনি। আসলে ও সব তোমার মনের ভুল। ভয় পেয়েছ বলেই তোমার এরূপ মনে হচ্ছে। শোন, এবার যা বলছি তাই কর। রাত শেষ হয়ে আসছে। লোক-জন টের পাবার আগেই ছুরিটা রেখে এস ঘুমন্ত রক্ষীদের হাতের কাছে। মনে করে ওদের হাত ও জামায় কিছুটা রক্ত লাগিয়ে দিও।

    স্ত্রীর কথা শুনে চমকে বলে উঠলেন ম্যাকবেথ, আবার তুমি আমায় ওখানে যেতে বলছি? না, না, ওখানে যাবার সাহস আমার নেই। এবার বাধ্য হয়েই স্বামীর হাত থেকে ছুরিটা নিয়ে নিলেন লেডি ম্যাকবেথ। নিঃশব্দে ছুরিটা নামিয়ে রাখলেন রাজার ঘরের বাইরে ঘুমন্ত রক্ষীদ্বয়ের পাশে।ছুরির ফলায় লেগে থাকা কিছু কাঁচা রক্ত মাখিয়ে দিলেন রক্ষীদের হাতে ও জামায়। এসব কাজ শেষ করে লেডি ফিরে গেলেন তার শোবার ঘরে।

     

    এভাবেই এক সময় শেষ হয়ে এল দুঃস্বপ্নের কালরাত। ম্যাকবেথের অতিথি হয়ে আসার আগের দিন রাজা ডানকান তার বিশ্বস্ত অমাত্য ম্যাকডাফকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তাকে যেন সূর্যোদয়ের আগে ডেকে তোলা হয়। রাজার নির্দেশ অনুযায়ী ভোরের আলো ফোটার আগেই ম্যাকডাফ এসে প্রাসাদের দরজায় জোরে ধাক্কা দিতে লাগলেন। দরজার ফাক দিয়ে ম্যাকডাফকে দেখে নৈশ প্রহরী তার পরিচয় এবং এত ভোরে আসার কারণ জানতে চাইলেন। ম্যাকডাফ তাকে নিজের পরিচয় দিয়ে আসার কারণ জানালেন। প্রহরী দরজা খুলে দিল। ভেতরে ঢুকে ধীর পায়ে রাজার কক্ষের দিকে এগিয়ে গেলেন ম্যাকডাফ। ঘরে ঢুকেই বিছানার উপর রাজার রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে আঁতকে উঠলেন তিনি–জোর গলায় বিলাপ করতে করতে তখনই ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। অত ভোরে তার গলায় জোর বিলাপের আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙে গেল দুর্গপ্রাসাদের বাসিন্দাদের। তাদের জিজ্ঞাসার জবাবে ম্যাকডাফ সংক্ষেপে যা বললেন তা এই –রক্ষীদের নজর এড়িয়ে প্রাসাদের ভেতর ঢুকে কোনও অজানা আততায়ী ঘুমন্ত রাজার বুকে ছুরি বসিয়ে তাকে খুন করেছে। কডর-এর দুর্গে এরূপ ঘটনার কথা শুনে ভয়ে শিউরে উঠল। সবাই।

    ঘুম আসেনি ম্যাকবেথের। তিনি জেগেই ছিলেন। চিৎকার চেচামেচি শুনে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেন তিনি। রাজার ঘরে ঢুকে তার রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখে এমন স্বাভাবিকভাবে বিলাপ করে উঠলেন যা দেখে উপস্থিত কারও মনে তার প্রতি বিন্দুমাত্র সন্দেহ জাগল না। বারবার নিজের কপাল চাপড়ে বলতে লাগলেন, হায়, হায়, শেষে কিনা আমার কপালে এই ঘটিল! আমারই অতিথি হয়ে এমন নৃশংসভাবে খুন হতে হল রাজাকে? এই দুৰ্ভেদ্য দুর্গ থেকে সবার নজর এড়িয়ে কীভাবে পালিয়ে গেল আততায়ী? নিজ মনে এসব কথা বলতে বলতে বাইরে বেরিয়ে এলেন। ম্যাকবেথ। সে সময় তার চোখে পড়ল রাজার দুই দেহরক্ষী ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি শুয়ে ঘুমোচ্ছে। এত হই হট্টগােলেওঁ ঘুম ভাঙেনি তাদের। যদিও ম্যাকবেথ জানতেন যে আগে থেকেই তার স্ত্রী রক্ত মাখানো খুনের হাতিয়ারটি রেখে গেছেন রক্ষীদের পাশে। ছুরির ফলায় লেগে থাকা রক্তও লাগিয়ে দিয়েছেন তাদের হাতে ও জামায়, এসব জানা সত্ত্বেও তিনি এমন ভাব দেখাতে লাগলেন যাতে মনে হবে এই প্রথম এগুলি তার চোখে পড়ল।

    এই এরাই মাতাল হয়ে খুন করেছে রাজাকে, বলেই তলোয়ারের এক কোপে দুই ঘুমন্ত দেহরক্ষীর মাথা কেটে ফেললেন ম্যাকবেথ।

    পাশের ঘরেই শুয়েছিলেন দুই রাজপুত্র ম্যালকম আর ম্যাকডোনাল্ড। তারা উভয়ের বুদ্ধিমান। সহজেই তারা বুঝতে পারলেন সিংহাসনের লোভে কেউ হত্যা করেছে রাজাকে। তারা ভয় পেলেন এই ভেবে যে এবার হয়তো তারা রাজপুত্রদের হত্যা করবে। রাজার মৃতদেহের সামনে দাঁড়িয়ে যখন ম্যাকবেথ ও অন্যান্য সবাই শোক প্রকাশ করছিলেন, সেই সুযোগে ঘোড়ায় চেপে পালিয়ে গেলেন দুই রাজপুত্র। ম্যালকম পালিয়ে গেলেন ইংল্যান্ডে আর ডোনালবেন আয়ার্ল্যান্ডে। এবার সুযোগ পেয়ে জোর গলায় বলতে লাগলেন ম্যাকবেথ, এই রাজপুত্ররাই খুন করেছে রাজাকে নইলে সমাধি দেবার আগেই কেন তারা পালিয়ে গেল? সে মুহূর্তে সবার মানসিক অবস্থা এরূপ যে কেউ আর প্রতিবাদ করল না। ম্যাকবেথের কথায়।

    রাজা চলে যায়। তবুও সিংহাসন খালি থাকে না। দুই রাজপুত্ৰই পালিয়ে গেছেন। একই বংশের রক্ত বইছে তার শিরায় এমন লোক একজনই আছেন, তিনি হলেন ম্যাকবেথ-গ্রামিশা ও কডর এর থেন। আমোত্যরা নিজেদের মধ্যে শলা-পরামর্শ করে শেষমেশ শূন্য সিংহাসনে বসিয়ে দিলেন ম্যাকবেথকে। এবার সফল হল তিনি তৃতীয় ডাইনির ভবিষ্যদ্বাণী।

     

    রাজসিংহাসনে বসে ম্যাকবেথের মনোবাসনা পূৰ্ণ হলেও সংকট দেখা দিল অন্যদিক থেকে। সে সংকটের কারণ আর কেউ নয়, তার একসময়ের সহযোগী সেনাপতি ব্যাংকো। জলার সেই তিন ডাইনি ম্যাকবেথের বংশধরদের রাজা হবার কথা বলেনি, বলেছিল ব্যাংকের বংশধরদের অনেকেই স্কটল্যান্ডের সিংহাসনের বসবে। ব্যাংকের বংশধররা রাজা হবে, এই ভবিষ্যদ্বাণীই ম্যাকবেথের মনকে অহরহ খোঁচা দিতে লাগল। তিনি স্থির করলেন ভাড়াটে খুনির সাহায্যে হত্যা করবেন ব্যাংকে আর তার ছেলে ফ্লিয়ানসকে। রাজা হবার আনন্দে ফরেস-এর প্রাসাদে এক ভোজসভার আয়োজন করে আমন্ত্রণ জানালেন অমাত্য, সেনাপতি আর থেনদের। ব্যাংকে জানালেন একটা বিশেষ কাজে ছেলেকে নিয়ে তিনি দূরে যাচ্ছেন। ফিরতে হয়তো কিছুটা দেরি হবে। তবে কথা দিলেন দেরি হলেও তিনি অবশ্যই ভোজসভায় যোগ দেবেন। ইতিমধ্যে দু-জন ভাড়াটে খুনির ব্যবস্থা করে রেখেছেন ম্যাকবেথ। সে দুজন এমনই লোক যাদের অপরাধের দরুন এক সময় হত্যা করতে চেয়েছিলেন ব্যাংকো। পরে অবশ্য কোনও কারণে তিনি তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। সেই থেকে তারা বেজায় রেগে আছে ব্যাংকের উপর, একথা জানতেন ম্যাকবেথ। তাই ম্যাকবেথ ভাবলেন নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এবার তাদের কাজে লাগাবেন। তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন ব্যাংকো তার কাজ সেরে আসার মাঝপথেই তারা যেন ব্যাংকো আর তার ছেলেকে খুন করে, কাজ সেরে ম্যাকবেথের ভোজসভায় যোগ দেবার জন্য ফিরে আসছিলেন ব্যাংকো। পথের মাঝেই ম্যাকবেথের ভাড়াটে খুনিদের হাতে খুন হলেন তিনি। ছুরির ঘা খেয়ে ব্যাং লুটিয়ে পড়ার আগে ব্যাংকে তার ছেলে ফ্লিয়ানসকে পালিয়ে যেতে বললেন–সেই সাথে আরও বললেন ভবিষ্যতে সে যেন তার পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেয়। ভাড়াটে খুনিদের কাছ থেকে ব্যাং বেঁচে নেই কথাটা শুনে যতটা খুশি হলেন ম্যাকবেথ, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষুব্ধ হলেন অক্ষত দেহে ফ্লিয়ানস পালিয়ে যাওয়ায়।

    ওদিকে ফরেসের প্রাসাদে শুরু হয়েছে। নৈশভোজ। চারিদিক আলোয় ঝলমল করছে। ভোজন কক্ষের বিশাল লম্বা টেবিলের দুপাশে সারি দিয়ে বসেছেন রাজার অমাত্য, বিশিষ্ট থেন আর সেনারীরা, তাদের বউ আর মেয়েরাও সুন্দর পোশাক আর দামি গয়না-গাটি পরে হাজির হয়েছেন সেখানে। নতুন রাজা হবার আনন্দে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে সৌজন্য বিনিময় করছেন ম্যাকবেথ। কিছুক্ষণ বাদে অবাক হয়ে ম্যাকবেথ দেখলেন তার নির্দিষ্ট আসনে বসে আছেন ব্যাংকো–দরদরি করে রক্ত ঝরিছে তার শরীর থেকে। চারিদিকে তাকিয়ে ম্যাকবেথ লক্ষ করলেন তিনি ছাড়া আর কেউ দেখতে পাচ্ছে না ব্যাংকোকে–এমন কি তার স্ত্রী লেডি ম্যাকবেথ পর্যন্ত নয়। ওটি যে ব্যাংকের প্ৰেতাত্মা সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ হলেন তিনি। প্রচণ্ড ভয় আর উত্তেজনায় যেন পাগল হয়ে গেলেন ম্যাকবেথ। ব্যাংকের প্ৰেতাত্মার দিকে তাকিয়ে জোর গলায় তিনি বলতে লাগলেন, কেন এখানে এসেছ তুমি? যে যাই বলুক, তুমি কখনও বলতে পারবে না। এ কাজ আমি করেছি! কবরের ভেতর থেকে মড়াগুলি যদি এভাবে বেরিয়ে আসে, তাহলে তো সমাধিস্তম্ভগুলিও ডানা মেলে আকাশে উড়ে বেড়াবে।

    ভোজসভায় উপস্থিত কেউ বুঝতে পারল না। আপন মনে কী সব বলছেন ম্যাকবেথ। তারা সবাই অবাক হয়ে চেয়ে রইলেন তার দিকে।

    অমাত্য রস আমন্ত্রিত অতিথিদের বললেন, মহারাজ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এবার আপনারা দয়া করে উঠুন।

    স্বামীর এ হেন অবস্থা দেখে বেজায় মুশকিলে পড়ে গেলেন লেডি ম্যাকবেথ। তিনি তৎক্ষণাৎ হাতজোড় করে অতিথিদের বললেন, না, না, আপনারা উঠবেন না। এটা মহারাজার পুরনো মানসিক রোগ। মাঝে মাঝে তা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সে সময় তিনি সাময়িক অসুস্থ হয়ে পড়েন। আপনারা যেমন খাচ্ছিলেন সেভাবেই খেয়ে যান। দেখবেন, একটু বাদেই তিনি আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠবেন। আমার অনুরোধ, এখন আপনারা কেউ ওর মুখের দিকে চাইবেন না। তাহলে ওর উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে।

    অমাত্য রসের কথায় ইতিমধ্যে অনেক অতিথিই খাওয়া ছেড়ে উঠেছিলেন। এমন তোফা ভোজটা কিনা মাটি হয়ে গেল ভেবে অনেকেরই মুখ বেজার হয়ে গিয়েছিল। এবার রানি নিজে অনুরোধ করায় খুশি মনে খেতে বসলেন সবাই। রানি স্বামীর কাছে গিয়ে তাকে ধমকে চাপা স্বরে বললেন, কী শুরু করেছ তুমি? অতিথিরা সবাই কি ভাবলেন বলতো? ভালো করে চেয়ে দেখ তো কিছুক্ষণ আগে তোমার আসন যেমন খালি ছিল, এখনও তেমনি রয়েছে। তাছাড়া নিজের কানেই তো শুনলে ব্যাংকে মারা গেছে। তাহলে কী করে তিনি তোমার জায়গায় বসবেন? মিছিমিছি ভয় পোচ্ছ তুমি। এ সব তোমার অমূলক ধারণা।

    নিজের চেয়ারের দিকে তাকিয়ে পুনরায় আঁতকে উঠলেন ম্যাকবেথ–দেখলেন আগের মতোই সেখানে বসে আছে ব্যাংকের প্ৰেতাত্মা।

    প্রেতাত্মার দিকে ইশারা করে জোরে চেঁচিয়ে উঠলেন ম্যাকবেথ, যা, পালা! দূর হ এখান থেকে। আমি তোকে একটুও ভয় পাই না।

    স্বামীকে ধমকে চাপা স্বরে পুনরায় বললেন লেডি ম্যাকবেথ, তোমার কি কোনও হাঁশ নেই? তোমার হাবভাব দেখে সবাই চাপা স্বরে ফিসফাস করছে। তুমি কি বুঝতে পারছি না তোমার আচরণে তাদের মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে! ব্যাংকের প্ৰেতাত্মা যে এখানে আসেনি তার প্রমাণসে এলে সবাই তাকে দেখতে পেত। রাজার মৃত্যুর আগে তুমি যেমন মনের ভুলে হাওয়ায় ছুরি ভাসতে দেখতে, এখনও তেমনি ব্যাংকের প্ৰেতাত্মাকে দেখছি। আমি পুনরায় বলছি এ সব তোমার ভ্ৰম। যাও, তুমি নিজের জায়গায় গিয়ে খেতে বস। নইলে সব কিছু পণ্ড হয়ে যাবে।

    স্ত্রীর কাছে বকুনি খাবার পর কিছুটা সুস্থ বোধ করলেন ম্যাকবেথ। নিজের চেয়ারের দিকে তাকিয়ে দেখলেন সেটা বিলকুল ফাকা— ধারে-কাছেও নেই ব্যাংকের প্রেতাত্মা। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সবার মঙ্গল কামনা করে তিনি যখন পানীয়ের গ্লাসে চুমুক দেবেন। ঠিক সে সময় তার সামনে হাজির ব্যাংকের প্রেতাত্মা। স্ত্রীর ধমক, হাঁশিয়ারি ও পরিস্থিতির কথা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে ভয়ে চিৎকার করে উঠলেন ম্যাকবেথ, ব্যাংকের প্ৰেতাত্মাকে প্রচণ্ড গালাগাল দিয়ে বললেন, বাঘ, সিংহ, গণ্ডার তুমি যাই হও না কেন, আমি একটুও ভয় পাই না তাতে। কিন্তু তোমার ওই বীভৎস প্রেতিমূর্তি আমার চোখে অসহ্য। যাও, দূর হয়ে যাও..আমার সামনে থেকে। আর কখনও

    ম্যাকবেথের চিৎকার-চেঁচামেচিতে তার সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল ব্যাংকের প্ৰেতাত্মা। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় অতিথিরা বিরক্ত হয়ে খাওয়া শেষ হবার আগেই আসন ছেড়ে উঠে পড়লেন। রাজার সন্দেহজনক আচরণের ব্যাপারে কথা-বার্তা বলতে বলতে ফরেসএর রাজপ্রাসাদ ছেড়ে গেলেন তারা।

     

    নিমন্ত্রিতদের মধ্যে একমাত্র ম্যাকডাফই আসেনি, তা নজরে পড়েছে ম্যাকবেথের। তিনি গোপনে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারলেন মৃত রাজা ডানকানের বড়ো ছেলে ম্যালকম ইংল্যান্ডে পালিয়ে গিয়ে সেখানকার রাজা এডওয়ার্ডের আশ্রয়ে রয়েছেন। ম্যাকডাফও রয়েছেন সেখানে।

    সিংহাসনে বসেই প্ৰজাপালনের বদলে ম্যাকবেথ শুরু করলেন নিপীড়ন। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। স্কটল্যান্ডের লোক। রাজা ডানকানের হত্যা, দুই ছেলের ইংল্যান্ডে পলায়ন, ব্যাংকের মৃত্যু, এরূপ ঘটনা দেখে ম্যাকবেথের উপর নানারূপ সন্দেহ জাগল প্রজাদের মনে।

    ম্যাকবেথের অত্যাচারে তার বিরুদ্ধে প্ৰচণ্ড ক্ষোভ জমা হতে লাগল প্রজাদের মনে। তাদের অনেকেই ঈশ্বরের কাছে এই বলে প্রার্থনা জানাতে লািগল ম্যালকম যেন ইংল্যান্ডের রাজার সাহায্য নিয়ে ম্যাকবেথকে সিংহাসনচ্যুত করেন। তার বিরুদ্ধে জনতার আক্রোশ যেদিন দিন বেড়ে চলেছে তা জানতে পেরে ঘাবড়ে গেলেন ম্যাকবেথ।

    রাজা হবার ব্যাপারে যে তিনজন ডাইনির ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে, তাদের খোঁজে হন্যে হয়ে উঠলেন ম্যাকবেথ। তাদের খোঁজে চারদিকে লোক পাঠালেন তিনি। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারলেন প্রাসাদ থেকে দূরে বনের ভেতর এক পাহাড়ি গুহায় তাদের ডেরা। কিন্তু স্ত্রীকে এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র জানালেন না তিনি। একদিন রাতে যখন তার স্ত্রী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তিনি প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে ঘোড়ায় চেপে রওনা হলেন সেই পাহাড়ের উদ্দেশে।

    সাধনার উপকরণ হিসেবে ডাইনিরা তাদের আস্তানায় নরকের আগুন জেলে তাতে বসিয়েছে লোহার এক বিরাট কড়াই। তাতে সেদ্ধ হচ্ছে বিষধর সাপের দাঁত, কুকুরের জিভ, ব্যাং-এর ঠ্যাং, নেকড়ের দাঁত, ছাগল, চমরি গাই, নাস্তিক ইহুদির লিভার, তুর্কি সেপাইর কাটা নাক কতোর সৈনিকের কাটা ঠোট— এমনই আরও কত জিনিস। ম্যাকবেথ যে তার ভবিষ্যৎ জানতে আসবে একথা আগেই ডাইনিদের জানিয়ে দিয়েছেন উপদেবী জ্যাকেট— যিনি আবার অশুভ ও অমঙ্গলের নিয়ন্ত্রক।

    আমার সব প্রশ্নের জবাব দাও— ম্যাকবেথের মুখে একথা শোনা মাত্ৰই ডাইনিত্ৰয় শুয়োরের রক্ত এবং হত্যাকারীর চর্বি আগুনে ঢেলে জোরে জোরে মন্ত্রপাঠ করতে লাগল। সাথে সাথেই শোনা গেল বাজ পড়ার প্রচণ্ড আওয়াজ। সেই আওয়াজের রেশমিলিয়ে যেতে না যেতেই আগুনের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এল লোহার শিরস্ত্ৰাণ পরিহিত এক বিদ্রোহী মুণ্ডু।

    গদগদ স্বরে ম্যাকবেথ বললেন, হে প্ৰেতাত্মা! তুমি আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।

    প্রথম ডাইনি বলল, তুমি কী প্রশ্ন করবে তা ও জানে। শুধু মন দিয়ে শুনে যাও ও কী বলে।

    সেই ধড়বিহীন মুভূ তার নাম ধরে ডেকে বলল, ম্যাকবেথ! তুমি সাবধান থেকে ফিফির অধিপতি ম্যাকডাফ সম্পর্কে। ওর চেয়ে বড়ো শত্রু আর কেউ নেই তোমার। আমার যা বলার তা বলে দিলাম। এই বলে অদৃশ্য হয়ে গেল দেহহীন মুণ্ডু।

    ম্যাকবেথ বললেন, তুমি যেই হও, আমাকে সাবধান করে দেবার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তবে আমার যে আরও কিছু জানার ছিল।

    দ্বিতীয় ডাইনি বলল, ও আর তোমার প্রশ্নের জবাব দেবে না। চোখ-কান খোলা রাখ। এবার যে আসছে সে প্রথম জনের চেয়েও শক্তিশালী। তার কথা শেষ হতেই আগুনের মাঝখান থেকে বেরিয়ে এল এক শিশুর প্ৰেতাত্মা। তার সারা দেহ থেকে ঝরিছে তাজা রক্ত।

    সেই প্ৰেতাত্মা বলে উঠল, ম্যাকবেথ! স্বাভাবিক ভাবে জন্মেছে এমন কেউ তোমার ক্ষতি করতে পারবে না। মানুষের শক্তিকে ভয় পেও না তুমি। সাহসের সাথে নিজের পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দিয়ে যাও। এই বলে অদৃশ্য হয়ে গেল শিশুর প্ৰেতাত্মা।

    আপন মনে বলে উঠলেন ম্যাকবেথ, তাহলে ম্যাকডাফ, তুমিই আমার সবচেয়ে বড়ো শত্রু। তাই কিছু করার আগেই এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেব তোমাকে। তুমি বেঁচে থাকতে প্ৰচণ্ড দুৰ্যোগের রাতেও ঘুমোতে পারব না আমি।

    তার কথার রেশ মিলিয়ে যেতে না যেতেই আবির্ভূত হল আর এক প্ৰেতাত্মা। এও দেখতে শিশু, তবে এর মাথায় মুকুট আর ডান হাতের মুঠোয় ধরা রয়েছে একটি গাছ।

    ম্যাকবেথ ডাইনিদের কাছে জানতে চাইলেন, মাথায় মুকুট, হাতে গাছ, এর মানে কী?

    তৃতীয় ডাইনি জবাব দিল, কথা না বলে মনোযোগ দিয়ে শোন ও কী বলতে চায়।

    তার নাম ধরে সেই প্ৰেতাত্মা বলল, ম্যাকবেথ। যতক্ষণ পর্যন্ত না বার্নাসের ঘন অরণ্য ডানসিনান পাহাড়ের উপর দিয়ে উঠে ম্যাকবেথের প্রাসাদের দিকে এগিয়ে যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনও শক্ৰ তোমার ক্ষতি করতে পারবে না।

    তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ম্যাকবেথ বললেন, জঙ্গল কখনও পাহাড়ের উপর উঠতে পারে না। এটা প্রকৃতির নিয়ম-বিরুদ্ধ। তবে এতকথা যখন বললে, তখন আর একবার বল ব্যাংকের ছেলেরা কি সত্যিই রাজা হবে?

    তিন ডাইনি এক সাথে বলে উঠল, বাধা দিলেও ও শুনবে না। তার চেয়ে ওকে সেই দৃশ্যটা এমন ভাবে দেখিয়ে দাও যাতে প্ৰচণ্ড দুঃখেও ওর মন ভারাক্রাস্ত থাকে।

    তাদের কথা শেষ হতে না হতেই রাজার পোশাকপরা আট জন পুরুষের ছায়ামূর্তি আগুন থেকে বেরিয়ে ম্যাকবেথের সামনে দিয়ে হেঁটে অদৃশ্য হয়ে গেল।সবশেষে বেরিয়ে এল ব্যাংকের প্ৰেতাত্মা। ব্যাংকের দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে রইল সেই প্ৰেতাত্মা। কিছুক্ষণ আগেই রাজার পোশাকপরা যে আটজন ছায়ামূর্তি ম্যাকবেথের সামনে দিয়ে হেঁটে গিয়েছিল, তারা যে ব্যাংকেরই বংশের, সেটা তার হাসিমুখ দেখে সহজেই আন্দাজ করলেন ম্যাকবেথ। ডাইনিদের ডেরা থেকে বেরিয়ে নিজ প্রাসাদে ফিরে এলেন ম্যাকবেথ। কিছুক্ষণ বাদে এক গুপ্ত ঘাতককে পাঠিয়ে দিলেন ম্যাকডাফের প্রাসাদে। সে সময় ম্যাকডাফের স্ত্রী আর শিশুপুত্র ছাড়া আর কেউ ছিল না প্রাসাদে। ম্যাকবেথের পাঠানো গুপ্তঘাতক খুন করল তাদের।

    ম্যাকবেথের অত্যাচারে দিন দিন বেড়ে যাচ্ছিল মানুষের ক্ষোভ। এবার তার সাথে যোগ হল কিছু অমাত্য এবং সামন্ত রাজাদের ক্ষেভ। রস ছিলেন এদের নেতা-যিনি একদা রাজা ডানকানের অমাত্য ছিলেন। ম্যাকবেথকে না জানিয়ে তিনি ইংল্যান্ডে এসে দেখা করলেন ম্যালকমের সাথে। দেশে ফিরে এসে ম্যাকবেথের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করার পরামর্শ দিলেন ম্যালকমকে। তিনি বললেন, যুবরাজ! আপনি যদি দেশে ফিরে ম্যাকবেথের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন, তাহলে আমাদের মেয়ে-বউরাও ঘর ছেড়ে যোগ দেবে আপনার সাথে।

    ম্যালকম বললেন, দেশের পরিস্থিতি যদি সত্যিই এরূপ তাহলে আমি নিশ্চয়ই যাব। রস। আপনি জেনে রাখুন সৈন্য ও অস্ত্ৰ দিয়ে আমায় সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাজা এডওয়ার্ড। ম্যাকবেথের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ওর প্রধান সেনাপতি সিওয়ার্ডও আমার সাথে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

    রস খুব খুশি হলেন এই দেখে যে বিদেশে এসেও চুপচাপ বসে না থেকে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ম্যালকম। এরপর তিনি ম্যাকডাফকে জানালেন কীভাবে গুপ্তঘাতক এসে তার খোজ না পেয়ে হত্যা করে গেছে তার স্ত্রী-পুত্রকে। রসের মুখে এই দুঃসংবাদ শুনে ম্যাকডাফের চোখের জল আর বাধা মানল না। কিছুক্ষণবাদে চোখের জল মুছে তিনি ম্যালকম আর রসের সামনে প্ৰতিজ্ঞা করলেন, ম্যাকবেথকে নিজ হাতে হত্যা করে এ অন্যায়ের প্রতিশোধ নেবেন।

    এদিকে পাগলের দশা হয়েছে লেডি ম্যাকবেথের (যতক্ষণ জেগে থাকেন, মাঝে মাঝেই জল দিয়ে দু-হাত ধুয়ে নেন। হাত ধোবার সময় বিড়বিড় করে বলেন, এত রক্ত কেন আমার হাতে? বারবার জল ঢালছি অথচ রক্তের দাগ মুছে যাচ্ছে না! দিন-রাত সব সময় একটা উত্তেজনার মধ্যে রয়েছেন তিনি। ঘুম তার চোখ থেকে কোথায় যেন পালিয়ে গেছে। রাত্রে যখন সবাই ঘুমিয়ে থাকে, গোটা প্রাসাদ জুড়ে তিনি পায়চারি করেন। রাজবৈদ্য এসে তাকে পরীক্ষা করে কিছু ওষুধ দিয়ে গেলেন। কিন্তু তাতে তার রোগ সারল না। হতাশ হয়ে রাজবৈদ্য বললেন, এ দেহের রোগ নয়, মনের। যতদূর জানি, সাবধানে থাকাই এর একমাত্র ওষুধ। এ রোগের ক্ষেত্রে কখনও কখনও আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। তাই সাবধান করে দিচ্ছি। রোগিণীর হাতের কাছে ধারালো অস্ত্ৰ, আগুন, বিষ, দড়ি, এসব জিনিস যেন না থাকে।

    মানসিক রোগে লেডি ম্যাকবেথ আক্রান্ত হবার কিছুদিন বাদেই ইংল্যান্ডের রাজা এডওয়ার্ডের বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে স্কটল্যান্ড আক্রমণ করলেন তার প্রধান সেনাপতি সিওয়ার্ড। তার সাথে যোগ দিলেন যুবরাজ ম্যালকম, ম্যাকডাফ, রস এবং অন্যান্য বিদ্রোহী স্কটিশ থেন ও সৈন্যরা।

    এখবর পেয়েও নিশ্চিন্তে বসে রইলেন ম্যাকবেথ, কারণ ডাইনিদের ভবিষ্যদ্বাণীর উপর ছিল তার অগাধ বিশ্বাস। তিনি জানেন শক্রি তার বাড়ির দোরগড়ায় এসে পড়লেও তার কোনও ক্ষতি করতে পারবে না তারা।

    শত্রুসৈন্যের দ্বারা দেশ আক্রান্ত হয়েছে আর তাদের আগে রয়েছেন যুবরাজ ম্যালকম, শুধু এটুকু শুনেই মারা গেলেন লেডি ম্যাকবেথ। একটু বাদেই দূত এসে জানাল বার্নাসের জঙ্গল ধীরে ধীরে উঠে আসছে ডানসিনান পাহাড়ে।

    খবরটা শুনে দূতকে ধমকিয়ে বলে উঠলেন ম্যাকবেথ, কী বলছিস যা তা? হতভাগা কি দিনদুপুরে নেশা করেছিস? ও বলে কিনা জঙ্গল পাহাড়ে উঠে আসছে। আরে, জঙ্গলের কি আমাদের মতো হাত-পা আছে যে তারা উপরে উঠে আসবে?

    দূত বলল, আজ্ঞে মহারাজ, আমি নেশাও করিনি। আর মিথ্যেও বলছি না। আমার কথায় বিশ্বাস না হলে অনুগ্রহ করে আপনি বরং একবার নিজে গিয়ে দেখে আসুন।

    দূতের কথা সত্যি কিনা যাচাই করতে ম্যাকবেথ ছুটে এলেন প্রাসাদের বারান্দায়, দেখলেন সত্যি সত্যিই বার্নাসের জঙ্গল উঠে আসছে ডানসিনান পাহাড়ের চূড়ায়। কিছুক্ষণ ভালোভাবে লক্ষ করে দেখার পর ম্যাকবেথ বুঝতে পারলেন। ওগুলো আসল জঙ্গল নয়। ইংরাজ সৈন্যরা বনের গাছ-পালা দিয়ে এমন ভাবে তাদের শরীরকে আড়াল করে ঢালু পাহাড়ের গা বেয়ে পাহাড়চূড়ায় উঠে আসছে, যাতে দূর থেকে তাদের দেখলে মনে হবে সত্যিই যেন একটা গোটা জঙ্গল উঠে আসছে পাহাড়ের উপর।

    ডাইনিদের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হতে দেখে বেজায় ভয় পেয়ে গেলেন ম্যাকবেথ।

    এমন সময় আরেকজন দূত এসে বলল, মহারাজ, ইংরেজ সেনাপতি সিওয়ার্ড তার বিশাল বাহিনী সহ পৌঁছে গেছেন আমাদের প্রধান ফটকের প্রায় কাছাকাছি —তার সাথে রয়েছেন যুবরাজ ম্যালকম, ম্যাকডাফ এবং অমাত্য রস। এছাড়াও তাদের সাথে যোগ দিয়েছেন দেশের অনেক বিশিষ্ট থেন, অমাত্য এবং সৈনিকেরা।

    দূতের কথা শেষ হতে না হতেই বেজে উঠল ইংরেজ সৈন্যদের রণ-দামামা। প্রাসাদে যে কয়জন সৈনিক অবশিষ্ট ছিল, তারাও বাঁপিয়ে পড়ল ইংরেজ সৈন্যদের উপর। প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হল দুন্দলে। কিছুক্ষণ বাদে রক্ষীদের হতাহত করে সসৈন্যে প্রাসাদে এসে ঢুকলেন ম্যাকডাফ তলোয়ার উচিয়ে ম্যাকবেথের সামনে গিয়ে বললেন, শয়তান, তুই এখানে? তোকে নিজ হাতে খুন না করা পর্যন্ত শান্তি পাবে না। আমার মৃত স্ত্রীর-পুত্রের আত্মা।

    ম্যাকবেথ বললেন, আমাকে অযথা ভয় দেখিও না ম্যাকডাফ। মাতৃগৰ্ভ থেকে স্বাভাবিক ভাবে জন্ম নিয়েছে এমন কেউ আমার ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ আমার দেহ মায়াবলে সুরক্ষিত। ম্যাকডাফ বললেন, তাহলে তুমিও শুনে রাখা ম্যাকবেথ, আমি অযোনিসস্তুত। অকালে সময়ের আগেই মাতৃগৰ্ভ ভেদ করে জন্ম হয়েছে আমার।

    ম্যাকবেথ বললেন, তাহলে ম্যাকডাফ, তুমিই আমার একমাত্র শত্রু। তোমার কথা শুনে আমার সংশয় মিটে গেছে। আমি চাই না তোমার সাথে যুদ্ধ করতে।

    তাহলে তুমি আত্মসমর্পণ করা, বললেন ম্যাকডাফ। তোমার হাত-পা শেকল দিয়ে বেঁধে খাচায় বন্দি করে রাখব তোমাকে। তিলতিল করে মৃত্যু-যন্ত্রণা সহ্য করে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবে তুমি।

    দোহাই তোমার, মিনতি জানিয়ে বললেন ম্যাকবেথ, অমন শাস্তি তুমি আমায় দিও না। মানছি, অনেক অপরাধ করেছি আমি। তবুও খাঁচার মধ্যে বন্দি জানোয়ারের মতো ঘৃণ্য জীবনযাপন করতে পারব না আমি। তার চেয়ে আমায় মেরে ফেল, তবু ওরূপ সাজা দিও না।

    মনোবল বলতে তখন আর কিছুই নেই ম্যাকবেথের। ভয়ে ভয়ে তলোয়ার হাতে নিয়ে থারথার করে কাঁপিতে লাগলেন তিনি। তৎক্ষণাৎ ম্যাকডাফ কাঁপিয়ে পড়লেন তার উপর। ধাক্কা সামলাতে না পেরে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন ম্যাকবেথ। শত্রুকে বাগে পেয়ে ম্যাকডাফ এসে দাঁড়ালেন তার পাশে, এক কোপে কেটে ফেললেন ম্যাকবেথের মাথা। সেই কাটা মাথা হাতে নিয়ে ম্যাকডাফ গেলেন ম্যালকমের কাছে। ম্যালকমকে মাথাটা উপহার দিয়ে বললেন, এই সেই শয়তানের কাটা মুণ্ডু যে আমার বাবাকে হত্যা করেছিল, গুপ্ত ঘাতক পাঠিয়ে আমায় না পেয়ে মেরে ফেলেছিল আমার স্ত্রী-পুত্রকে। যুবরাজ, আজ থেকে স্কটল্যান্ডের সিংহাসনের অধিকারী আপনি।

    সমস্বরে সবাই জয়ধ্বনি করে উঠল, জয়! স্কটল্যান্ডের রাজা ম্যালকমের জয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleডেজার্ট গড – উইলবার স্মিথ
    Next Article Henry VI (Part 1, 2, 3) – William Shakespeare

    Related Articles

    উইলিয়াম শেক্সপিয়র

    Henry IV (Part 1, 2) – William Shakespeare

    July 14, 2025
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র

    Henry VI (Part 1, 2, 3) – William Shakespeare

    July 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }