Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উইলিয়াম শেকসপিয়র রচনা সমগ্র

    উইলিয়াম শেক্সপিয়র এক পাতা গল্প576 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দ্য উইন্টার’স টেল

    দ্য উইন্টার’স টেল
    মূল রচনা: উইলিয়াম শেকসপিয়র
    পুনর্কথন: মেরি ল্যাম্ব
    অনুবাদ: অর্ণব দত্ত

    সিসিলির রাজা লিওন্টেস তাঁর সুন্দরী সতীসাধ্বী রানি হারমায়োনিকে নিয়ে সুখে দিন কাটাচ্ছিলেন। লিওন্টেস তাঁর এই মহতী রানিটিকে খুবই ভালবাসতেন। জীবনে তাঁর কিছুরই অভাব ছিল না। কেবল মাঝে মাঝে বাল্যবন্ধু তথা সহপাঠী বোহেমিয়ার রাজা পলিজেনাসকে আরেকবার দেখার এবং তাঁকে স্ত্রীর সামনে উপস্থিত করার ইচ্ছে জাগত লিওন্টেসের মনে। দু’জনে একসঙ্গে বড়ো হয়েছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর উভয়কেই নিজ নিজ রাজ্যে ফিরে রাজকার্য হাতে তুলে নিতে হয়। তাই অনেকদিন তাঁদের মধ্যে দেখাসাক্ষাৎ ছিল না। তবে ঘন ঘন তাঁরা পরস্পরের মধ্যে উপঢৌকন, চিঠিপত্র ও রাজদূত আদানপ্রদান ঠিকই করতেন।

    অনেক অনুরোধের পর অবশেষে একদিন বোহেমিয়া থেকে সিসিলির রাজসভায় এসে লিওন্টেসের সঙ্গে দেখা করলেন পলিজেনাস।

    তাঁর আগমনে লিওন্টেস তো দারুণ খুশি হলেন। রানির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন ছেলেবেলার বন্ধুর। তাঁর সুখ যেন পূর্ণতা লাভ করল প্রিয় বন্ধুর মিলনে। তাঁরা পুরনো দিনের স্মৃতিচারণা করতে লাগলেন। হারমায়োনিকে বলতে লাগলেন তাঁদের পাঠশালার কথা, তাঁদের ছেলেবেলার দুষ্টুমির কথা। হারমায়োনিও তাঁদের কথা শুনে খুব আনন্দ পেলেন।

    এইভাবে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে পলিজেনাস ঘরে ফেরার তোড়জোড় শুরু করলেন। তখন স্বামীর ইচ্ছানুসারে হারমায়োনি পলিজেনাসকে আরও কিছুদিন থেকে যেতে অনুরোধ করলেন।

    আর তারই ফলে ঘনিয়ে এল হারমায়োনির দুঃখের দিন। পলিজেনাসকে থেকে যেতে অনুরোধ করেছিলেন লিওন্টেসও। তাঁর অনুরোধ পলিজেনাস ফিরিয়ে দিলেও, হারমায়োনির মধুর বাক্যের উত্তরে না বলতে পারলেন না তিনি। যাত্রার দিন পিছিয়ে দিলেন আরও কিছুদিন। তার ফলে এক বেয়াড়া ঈর্ষা এসে জুটল। ভেসে গেল লিওন্টেসের এতকালের ন্যায়পরায়ণতা, আদর্শবোধ, বন্ধুপ্রীতি, পত্নীপ্রেম সব। স্বামীর মন রাখতে পলিজেনাসের সেবাযত্নের ভার নিয়েছিলেন হারমায়োনি। অথচ রাজার ঈর্ষা তা দেখে বেড়েই চলল। লিওন্টেস ছিলেন এক সত্যিকারের বন্ধু, এক পত্নীনিষ্ঠ স্বামী; হলেন এক অমানবিক দানব। তাঁর রাজসভায় ক্যামিলো নামে এক লর্ড ছিলেন। তাঁকে ডেকে রাজা জানালেন নিজের সন্দেহের কথা। ক্যামিলোকে আদেশ করলেন, যেন বিষ দিয়ে পলিজেনাসকে হত্যা করা হয়।

    ক্যামিলো ছিলেন সজ্জন ব্যক্তি। তিনি জানতেন, লিওন্টেসের এই সন্দেহ সম্পূর্ণ অমূলক। তাই পলিজেনাসকে বিষ দেওয়ার বদলে তাঁর কাছে গিয়ে প্রভুর আদেশের কথা খুলে বললেন ক্যামিলো। দু’জনে স্থির করলেন, তাঁরা সিসিলি রাজ্যের বাইরে পালিয়ে যাবেন। তারপর ক্যামিলোর সাহায্যে পলিজেনাস নিরাপদে তাঁর নিজের রাজ্য বোহেমিয়ায় ফিরে এলেন। সেখানেই বসবাস শুরু করলেন ক্যামিলো। অলংকৃত করলেন ক্যামিলোর রাজসভা। পরিণত হলেন পলিজেনাসের প্রধান মিত্র তথা প্রিয়পাত্রে।

    এদিকে পলিজেনাসের পলায়নের সংবাদ লিওন্টেসের ঈর্ষা আরও বাড়িয়ে তুলল। তিনি চললেন হারমায়োনির মহলের দিকে। রানি তখন তাঁর শিশুপুত্র ম্যামিলিয়াসকে সঙ্গে নিয়ে বসেছিলেন। মাকে খুশি করতে ম্যামিলিয়াস তাঁর একটি ভাল-লাগা গল্প শোনাবার উপক্রম করছিল। এমন সময় কক্ষে ঢুকলেন রাজা। ছেলেকে সরিয়ে নিয়ে রানিকে নিক্ষেপ করলেন কারাগারে।

    ম্যামিলিয়াস ছিল নেহাত শিশু। কিন্তু মাকে সে খুব ভালবাসত। মাকে অসম্মানজনকভাবে কারাগারে নিক্ষেপ করা হল দেখে সে মনে খুব ব্যথা পেল। আহারনিদ্রা থেকে তার রুচি গেল চলে। স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ল। খুব রোগা হয়ে গেল সে। সবাই ভাবল দুঃখে বুঝি মারাই যাবে ম্যামিলিয়াস।

    রানিকে কারাগারে নিক্ষেপ করার পর লিওন্টেস ক্লিওমেনস ও ডিওন নামে দুই সিসিলিয়ান লর্ডকে পাঠালেন ডেলফোসে – রানি অবিশ্বাসিনী কিনা, সে কথা অ্যাপোলোর মন্দিরের ওরাকল থেকে তা যাচাই করে আসার জন্য।

    এদিকে কারাগারে রানি এক শিশুকন্যার জন্ম দিলেন। ভারি শান্তি পেলেন তিনি মনে সেই ফুটফুটে মেয়েটিকে দেখে। বললেন, “ওরে আমার ছোট্ট বন্দিনী সোনা, আমিও যে তোর মতোই নিষ্পাপ!”

    হারমায়োনির সখি ছিলেন সিসিলিয়ান লর্ড অ্যান্টিগোনাসের স্ত্রী পলিনা। দয়াময়ী মহতী এক নারী ছিলেন তিনি। প্রভুপত্নী কারাগারে একটি শিশুর জন্ম দিয়েছেন শুনেই তিনি ছুটে গেলেন সেখানে। রানির পরিচর্যা করত এমিলিয়া নামে এক দাসী। পলিনা তাকে বললেন, “দোহাই এমিলিয়া, মহারানিকে গিয়ে বলো যে, তিনি যদি আমার উপর বিশ্বাস রেখে মেয়েটিকে আমার হাতে দেন, তাহলে আমি তাকে তার বাবার কাছে নিয়ে যাই। হয়ত এই নিষ্পাপ শিশুটিকে দেখে তাঁর মন গলে যাবে।” এমিলিয়া বললে, “আমি এক্ষুনি গিয়ে বলছি, ঠাকরুন। মহারানি আজই জিজ্ঞাসা করছিলেন, তাঁর কোনো সই মেয়েটাকে মহারাজের কাছে নিয়ে যেতে প্রস্তুত কিনা।” পলিনা বললেন, “আর তাঁকে বোলো, আমি তাঁর সপক্ষে মহারাজের সামনে সওয়াল করব।” এমিলিয়া বললে, “আপনি মহারানির জন্য কত করছেন। ভগবান আপনার ভাল করুন।” এমিলিয়া গেল হারমায়োনির কাছে। হারমায়োনি সানন্দে মেয়েকে ছেড়ে দিলেন পলিনার তত্ত্বাবধানে। তাঁর ভয় ছিল, কেউই বোধহয় মেয়েটিকে তার বাবার কাছে নিয়ে যেতে রাজি হবে না।

    পলিনার স্বামী রাজাকে ভয় পেতেন। তিনি পলিনাকে রাজার কাছে যেতে বাধা দিলেন। তৎসত্ত্বেও পলিনা নির্ভয়ে সদ্যোজাত শিশুটিকে নিয়ে গেলেন রাজার কাছে। বাবার পায়ের কাছে মেয়েকে শুইয়ে পলিনা হারমায়োনির সপক্ষে অনেক কথা বললেন। অমানবিক আচরণের জন্য কঠোর তিরস্কার পর্যন্ত করলেন রাজাকে। অনুরোধ করলেন নিষ্পাপ রানি ও শিশুকন্যাটির প্রতি একটু সহৃদয়তা দেখানোর জন্য। কিন্তু পলিনার তেজস্বী প্রতিবাদে রাজার রাগ বাড়ল বই কমল না। অ্যান্টিগোনাসকে আদেশ করলেন, স্ত্রীকে তাঁর চোখের সামনে থেকে নিয়ে যেতে।

    যাওয়ার সময় পলিনা মেয়েটিকে রেখে গেলেন তাঁর বাবার পায়ের কাছে। তিনি ভেবেছিলেন, একান্তে মেয়েটিকে দেখে রাজার মনে দয়ার উদ্রেক হলেও হতে পারে।

    পলিনার উদ্দেশ্য সৎ ছিল। কিন্তু তিনি ভুল করেছিলেন। তিনি চলে যেতেই নিষ্ঠুর বাপ অ্যান্টিগোনাসকে আদেশ করলেন, মেয়েটিকে সমুদ্রে নিয়ে গিয়ে প্রথম যে নির্জন বেলাভূমি নজরে আসবে সেখানেই মৃত্যুমুখে ফেলে আসতে।

    অ্যান্টিগোনাস ক্যামিলোর মতো সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি রাজাজ্ঞা পালন করলেন অক্ষরে অক্ষরে। শিশুটিকে তুলে নিলেন একটি জাহাজে। তারপর চললেন কোনো এক নির্জন বেলাভূমির সন্ধানে। প্রথম যে জায়গাটি তাঁর নজরে আসবে, সেখানেই মেয়েটিকে ফেলে আসবেন বলে বদ্ধপরিকর ছিলেন তিনি।

    হারমায়োনি অপরাধী – এই ধারণা রাজার মনে বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিল। তাই তিনি আর ডেলফোসের ওরাকলের পরামর্শপ্রার্থী ক্লিওমেনস ও ডিয়নের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রইলেন না। রাজসভার সকল লর্ড ও অভিজাত পুরুষদের সামনে আদালতে রানির বিচারের আদেশ দিলেন তিনি। রানি তখনও গর্ভাবস্থা-উত্তর শারীরিক দুর্বলতা বা মূল্যবান শিশুটিকে হারানোর দুঃখ সামলে উঠতে পারেননি। এমন সময়ে দেশের সকল লর্ড, বিচারপতি ও অভিজাত পুরুষেরা একত্রিত হলেন রানির বিচার করতে। এঁরা সকলেই ছিলেন রানির প্রজা। দুঃখিনী রানি এঁদেরই সামনে দাঁড়ালেন এঁদের বিচারের রায় শোনার জন্য। ঠিক সেই সময়ে ক্লিওমেনস ও ডিয়ন উপস্থিত হলেন সেই সভায়। তাঁদের সঙ্গে ছিল ওরাকলের সিলমোহরবন্দী জবাব। লিওন্টেসের আদেশে ভাঙা হল সিলমোহর। পড়ে শোনানো হল সেই ওরাকল:- “হারমায়োনি নিষ্পাপ, পলিজেনাস নির্দোষ, ক্যামিলো এক সত্যকারের প্রজা, লিওন্টেস এক হিংসুটে ষড়যন্ত্রকারী, যা হারিয়ে গেছে, তা খুঁজে না পাওয়া গেলে, রাজা নিঃসন্তান অবস্থায় দিনযাপন করবেন।” রাজা ওরাকলটিকে গুরুত্ব দিলেন না। বললেন, ওগুলি রানির অনুচরদের অপপ্রচার মাত্র। রাজা বিচারকদের আদেশ করলেন রানির বিচার চালিয়ে যাওয়ার। লিওন্টেস বলছেন, এমন সময়ে একটি লোক এসে তাঁকে জানালো যে, মায়ের বিচার হচ্ছে শুনে দুঃখে ও লজ্জায় অকস্মাৎ প্রাণত্যাগ করেছেন রাজকুমার ম্যামিলিয়াস।

    তাঁরই দুঃখে মর্মব্যথী হয়ে প্রিয় সন্তানের প্রাণত্যাগ করেছেন শুনে জ্ঞান হারালেন হারমায়োনি। লিওন্টেসের মনও ভেঙে পড়ল। এইবার দুঃখিনী রানির প্রতি কিছুটা সহানুভূতি জেগে উঠল তাঁর মনে। পলিনা ও অন্যান্য দাসীদের আদেশ করলেন, রানিকে ওখান থেকে নিয়ে গিয়ে সুস্থ করে তুলতে। খানিকবাদে পলিনা ফিরে এসে জানালেন, রানি মারা গিয়েছেন।

    রানির মৃত্যুসংবাদ শুনে নিজের কঠোর মনোভাবের জন্য অনুতাপ করতে লাগলেন লিওন্টেস। ভাবলেন, তাঁরই দুর্ব্যবহারে রানির হৃদয় ভেঙে পড়েছিল। রানি নিষ্পাপ – ওরাকলের এই কথায় বিশ্বাস জন্মালো তাঁর। “যা হারিয়ে গেছে, তা খুঁজে না পাওয়া গেলে” – রাজা বুঝলেন কথাটা তাঁর কন্যা সম্পর্কে। রাজকুমার ম্যামিলিয়াস মৃত। এখন তিনি সত্যই নিঃসন্তান। গোটা রাজ্যের মূল্যেও তখন তিনি মেয়েকে ফিরে পেতে রাজি। শোক গ্রাস করল লিওন্টেসকে। এরপর বহু বছর বিষাদে, দুঃখে আর মনস্তাপেই কেটে গেল তাঁর।

    এদিকে অ্যান্টিগোনাস শিশু রাজকুমারীকে নিয়ে যে জাহাজে করে চলেছিলেন, এক ঝড়ের কবলে পড়ে সেটি ভিড়ল পলিজেনাসের রাজ্য বোহেমিয়ার উপকূলে। অ্যান্টিগোনাস ঠিক করলেন মেয়েটিকে এখানেই ফেলে যাবেন।

    রাজকুমারীকে কোথায় ফেলে এসেছেন, সেই খবর দিতে আর সিসিলি ফেরা হল না অ্যান্টিগোনাসের। তিনি জাহাজে ফেরার আগেই বন থেকে একটা ভালুক বেরিয়ে এসে তাঁকে টুকরো টুকরো করে ফেলল। লিওন্টেসের নিষ্ঠুর আদেশ পালন করার উপযুক্ত সাজা পেলেন তিনি।

    হারমায়োনি খুব সাজিয়ে গুজিয়ে মেয়েকে পাঠিয়েছিলেন লিওন্টেসের কাছে। শিশুটির গায়ে ছিল বহুমূল্য বস্ত্র ও রত্নালঙ্কার। অ্যান্টিগোনাস পারডিটা নামটি একটি কাগজে লিখে আটকে দিয়েছিলেন মেয়েটির কাপড়ে। দুর্বোধ্য এই শব্দটি যেন শিশুটির বংশগত আভিজাত্য ও অভাবনীয় দুর্ভাগ্যের জানান দিতে লাগল।

    এক মেষপালক হতভাগ্য পরিত্যক্ত শিশুটিকে খুঁজে পেল। সে ছিল দয়ালু লোক। তাই ছোট্ট পারডিটাকে তুলে এনে সে দিল তার বউয়ের হাতে। তার বউ মেয়েটির খুব যত্ন করল। কিন্তু মেষপালক ছিল গরিব। তাই পারডিটার সঙ্গে সে যে ধনরত্নগুলি পেয়েছিল, সেগুলির কথা সে কারোর কাছে প্রকাশ করল না। এলাকা ছেড়ে চলে গেল অন্যত্র। পারডিটার কয়েকটি অলঙ্কার বেচে একটা বড়ো মেষের পাল কিনে ধনী মেষপালক হয়ে বসল। পারডিটাকে সে নিজের মেয়ে হিসেবে মানুষ করতে লাগল। পারডিটাও জানল যে, সে মেষপালকেরই মেয়ে।

    ধীরে ধীরে ছোট্ট পারডিটা সুন্দরী কিশোরী হয়ে উঠল। আর পাঁচটা মেষপালকের মেয়ের চেয়ে শিক্ষাদীক্ষা তার বেশি ছিল না বটে, কিন্তু তার শিক্ষাবিহীন মনে রাজরানি মায়ের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটা রাজকীয় ভাব ছিল। তার আচরণ দেখে মনে হত না যে, সে তার পৈত্রিক রাজসভার আবহে বেড়ে ওঠেনি।

    বোহেমিয়ার রাজা পলিজেনাসের একমাত্র ছেলে ফ্লোরিজেল একদিন এই মেষপালকের কুটিরের কাছে শিকার করতে এসে মেয়েটিকে দেখতে পেল। পারডিটার রূপ, বিনয় ও রানি-সুলভ আচরণ দেখেই সে তার প্রেমে পড়ে গেল। তারপর ‘ডোরিকলস’ ছদ্মনামে এক সম্ভ্রান্ত ভদ্রলোকের ছদ্মবেশে সে বুড়োর কুটিরে নিত্য আসাযাওয়া শুরু করল। রাজপ্রাসাদ থেকে ফ্লোরিজেলের মাঝেমাঝেই উধাও হয়ে যাওয়া দেখে পলিজেনাস শঙ্কিত হয়ে উঠলেন। তিনি ছেলের পিছনে লোক লাগালেন। এবং অচিরেই জানতে পারলেন যে ছেলে তাঁর এক মেষপালকের সুন্দরী কন্যার প্রেমে পড়েছে।

    পলিজেনাস ডাকলেন ক্যামিলোকে। এই সেই বিশ্বস্ত ক্যামিলো যিনি লিওন্টেসের ক্রোধ থেকে একদা তাঁর জীবনরক্ষা করেছিলেন। পলিজেনাস ক্যামিলোকে নিয়ে পারডিটার বাপ হিসেবে পরিচিত সেই মেষপালকের বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।

    পলিজেনাস ও ক্যামিলো ছদ্মবেশে বুড়ো মেষপালকের কুটিরে এসে হাজির হলেন। সবাই সেখানে ভেড়ার লোম ছাঁটার বার্ষিক উৎসব পালন করছিলেন। পলিজেনাস ও ক্যামিলো ছিলেন অপরিচিত আগন্তুক। কিন্তু উৎসবের সময় সবাইকে স্বাগত জানানো হত বলে তাঁদেরও আমন্ত্রণ জানানো হল। তাঁরাও উৎসবে যোগ দিলেন।

    সেখানে তখন শুধুই বইছিল আনন্দের স্রোত। পাতা হয়েছিল টেবিল। আয়োজন করা হয়েছিল গ্রাম্য এক ভোজসভার। বাড়ির সামনের ঘাসের উপর কয়েকটি ছেলেমেয়ে নাচছিল। কয়েকটি ছেলে দরজার কাছে দাঁড়ানো এক খেলনাওয়ালার কাছ থেকে রিবন, হাতমোজা আর খেলনা কিনছিল।

    এত সব ব্যস্ততার মধ্যেও ফ্লোরিজেল আর পারডিটা এক কোণে বসে মনের আনন্দে গল্প করছিল। খেলাধূলা বা হালকা বিনোদনে তাদের মন ছিল না।

    ছদ্মবেশী রাজাকে চেনা তখন তাঁর ছেলের পক্ষেও দুঃসাধ্য। এই সুযোগে রাজা কাছে গিয়ে তাদের কথোপকথন শুনতে লাগলেন। পারডিটার কথাগুলি ছিল সরল ও রাজোচিত। শুনে পলিজেনাস ভারি অবাক হলেন। তিনি ক্যামিলোকে বললেন, “ইতর সমাজে জন্ম নেওয়া কোনো মেয়েকে এমন সুন্দরী হতে দেখিনি। ওর হাবভাব, কথাবার্তা এই পরিবেশের সঙ্গে খাপ খায় না। তা অনেকটা সম্ভ্রান্তবংশীয়দের মতো।”

    ক্যামিলো উত্তর দিলেন, “সত্যিই ভারী সুন্দরী মেয়েটি।”

    রাজা বুড়ো মেষপালককে জিজ্ঞাসা করলেন, “আচ্ছা, বন্ধু, ওই যে ফরসাপানা ছোঁড়াটি তোমার মেয়ের সঙ্গে গপ্পো করছে, ও কে?” মেষপালক বলল, “ওরা বলে ওর নাম ডোরিকলস। ছোঁড়া বলে, ও নাকি আমার মেয়েকে ভালবাসে। সত্যি বলছি, আমার মেয়েটাও ওকে ভালবাসে। যদি ওই ডোরিকলস ছোঁড়া ওকে বিয়ে করে, তাহলে ওর জন্য আরও কিছু অপেক্ষা করছে।” মেষপালক পারডিটার অবশিষ্ট ধনরত্নের দিকে ইঙ্গিত করল। কিছু অংশ দিয়ে সে মেষের পাল কিনলেও বাকিটা পারডিটার বিয়ের জন্য তুলে রেখেছিল।

    পলিজেনাস তার ছেলেকে বললেন, “এই যে, ছোকরা, শোনো! মনে হচ্ছে, কোনো কিছু তোমার মনকে এই ভোজসভা থেকে দূরে নিয়ে গেছে। আমার যখন বয়স অল্প ছিল তখন আমার প্রেমিকাকে আমি নানা উপহার দিতুম। কিন্তু তুমি তো দেখছি, খেলনাওয়ালাকে ডাকলেও না, মেয়েটাকে কিছু কিনেও দিলে না।”

    তরুণ রাজকুমার তো জানত না যে, সে তার বাপের সঙ্গে কথা বলছে। সে বলে বসল, “মহাশয়, ওই সব ছোটোখাটো খেলনা ওর প্রাপ্য নয়। যে উপহার পারডিটা চায়, সে আমার হৃদয়ে বদ্ধ রয়েছে।” তারপর পারডিটার দিকে তাকিয়ে সে বলল, “শোনো, পারডিটা, এই প্রাচীন ভদ্রলোক, যিনি নিজেকে একদা প্রেমিক মনে করতেন, এঁরই সামনে আমি তোমাকে আমার মনের কথাটি বলি।” এই বলে সেই বৃদ্ধ আগন্তুককে সাক্ষী রেখে ফ্লোরিজেল পারডিটাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিল। তারপর পলিজেনাসকে বলল, “আপনার কাছে প্রার্থনা, আমার এই প্রতিশ্রুতির সাক্ষী থাকুন আপনি।”

    “প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো, যুবক,” এই বলে রাজা আত্মপ্রকাশ করলেন। এক ইতর শ্রেণির মেয়ের সঙ্গে নিজের বিয়ের সাক্ষী থাকতে বলার জন্য পলিজেনাস ছেলেকে খুব বকাঝকা করলেন। পারডিটাকে ‘মেষপালকের ঘরের ছেনাল, ভেড়ার খুঁটি’ ইত্যাদি নানা অসম্মানজনক নামে অভিহিত করলেন। ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে পারডিটা ও তার বাপকে নিষ্ঠুর মৃত্যুদণ্ডের ভয় দেখালেন।

    প্রচণ্ড রেগে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন রাজা। ক্যামিলোকে বলে দিলেন ফ্লোরিজেলকে নিয়ে আসতে।

    এদিকে পলিজেনাসের বকুনি খেয়ে পারডিটার রাজকীয় সত্ত্বা জাগরিত হয়ে উঠল। সে বলল, “আমাদের সম্পর্ক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমি আর ভয় পাই না। একবার কি দুই বার আমারও বলতে ইচ্ছে করছিল। ওঁকে বলতে চাইছিলাম, যে স্বার্থশূন্য সূর্য তাঁর প্রাসাদের উপর আলোকবর্ষণ করে, তা আমাদের কুটিরের কাছে মুখ লুকায় না। বরং আমাদের সবাইকে সমানভাবে দেখে।” তারপর দুঃখিতচিত্তে বলল, “কিন্তু আমার নিদ্রাভঙ্গ হয়েছে। আমি রানি হওয়ার বাসনা পোষণ করি না। আমাকে ছেড়ে দিন, মহাশয়, আমি মেষীর দুগ্ধ আহরণ করার পর একটু কাঁদতে চাই।”

    দয়ালু ক্যামিলো পারডিটার দার্ঢ্য ও চারিত্রিক ঔচিত্যবোধ দেখে মুগ্ধ হলেন। বুঝলেন বাবা রাজামশাই যাই আদেশ করুন না কেন, তরুণ রাজকুমার সহজে তার প্রেয়সীকে ছেড়ে দেবে না। তাই তিনি প্রেমিকযুগলের বন্ধু হতে চাইলেন। তাঁর মনে একটা চমৎকার পরিকল্পনা ছিল।

    ক্যামিলো আগেই জানতে পেরেছিলেন যে, সিসিলির রাজা লিওন্টেস এখন সত্যিই অনুতপ্ত। তাই তিনি তাঁর পুরনো প্রভু ও মাতৃভূমি দর্শনের ইচ্ছা দমন করতে পারলেন না। তিনি ফ্লোরিজেল ও পারডিটাকে তাঁর সঙ্গে সিসিলির রাজসভায় যাওয়ার প্রস্তাব দিলেন। বললেন, যতদিন না তাঁর মধ্যস্থতায় পলিজেনাস তাদের ক্ষমা করে এই বিবাহে সম্মতি দেন ততদিন সেখানে লিওন্টেস তাঁদের রক্ষা করবেন।

    একথায় সবাই সানন্দে রাজি হয়ে গেল। ক্যামিলো পলায়নের তোড়জোড় করলেন। বুড়ো মেষপালককেও তাঁদের সঙ্গে নিলেন।

    মেষপালক সঙ্গে নিল পারডিটার অবশিষ্ট ধনরত্ন, তার শিশুবয়সের জামাকাপড় আর তার কাপড়ের সঙ্গে যে কাগজটি বাঁধা ছিল সেটি।

    নির্বিঘ্ন যাত্রার শেষে ফ্লোরিজেল, পারডিটা, ক্যামিলো ও বুড়ো মেষপালক নিরাপদে লিওন্টেসের রাজসভায় উপস্থিত হলেন। লিওন্টসে স্ত্রী হারমায়োনি ও তার সন্তানকে হারিয়ে তখনও অনুশোচনায় পুড়ছিলেন। তিনি পরম আনন্দে ক্যামিলোকে গ্রহণ করলেন এবং রাজকুমার ফ্লোরিজেলকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানালেন। ফ্লোরিজেল পারডিটার সঙ্গে লিওন্টেসের পরিচয় ঘটাল তার স্ত্রী রূপে। পারডিটাকে দেখে লিওন্টেস আশ্চর্য হয়ে গেলেন তাঁর মৃত রানি হারমায়োনির সঙ্গে পারডিটার চেহারার আশ্চর্য মিল দেখে। তাঁর বেদনা আরেকবার উথলে উঠল। বললেন, মেয়েকে নিষ্ঠুরভাবে নির্বাসিত না করলে, আজ তাঁর এমনই একটি ফুটফুটে মেয়ে থাকত। ফ্লোরিজেলকে বললেন, “আর তোমার বাবার মতো এক নির্ভীক বন্ধুর সাহচর্য ও ভালবাসাও হারাতে হত না আমায়। আহা! আর একবার আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাই।”

    রাজা একদিন তাঁর শিশুকন্যাকে হারিয়েছিলেন। আবার পারডিটা রাজার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। ব্যাপার দেখে, বুড়ো মেষপালক রাজার মেয়ে হারানো আর তার মেয়ে পাওয়ার সময়টা হিসেব কষে দেখল। তার মনে হল, যে অবস্থায় সে পারডিটাকে পেয়েছিল, তাতে তার রাজকন্যা হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অন্তত তার ধনরত্ন ও অন্যান্য জিনিসপত্র সেই কথাই বলে। সে নিশ্চিত হল যে, পারডিটাই রাজার হারিয়ে যাওয়া সেই মেয়ে।

    ফ্লোরিজেল, পারডিটা, ক্যামিলো ও বিশ্বস্ত পলিনার সামনে বুড়ো মেষপালক তার মেয়েটিকে খুঁজে পাওয়ার বৃত্তান্ত বর্ণনা করল। অ্যান্টিগোনাসের মৃত্যুর কথাও বলল। সে তাকে ভালুকের হাতে আক্রান্ত হতে দেখেছিল। মেষপালক শিশুর কাপড়টি দেখাল। পলিনার মনে পড়ল যে, এই কাপড়েই হারমায়োনি মেয়েটিকে রাজার কাছে পাঠিয়েছিলেন। মেষপালক যখন গয়নাগুলি দেখালো, পলিনার মনে পড়ল যে, হারমায়োনি এগুলিই মেয়ের গলায় বেঁধে দিয়েছিলেন। মেষপালক কাগজটি দেখাতে পলিনা তার স্বামীর লেখা চিনতে পারল। সকলে নিঃসন্দেহ হল যে পারডিটাই লিওন্টেসের হারিয়ে যাওয়া মেয়ে। পলিনার মনে তখন একই সঙ্গে স্বামীর মৃত্যুসংবাদের দুঃখ এবং ওরাকল পরিপূর্ণ হওয়া অর্থাৎ, রাজার হারানো উত্তরাধিকার ফিরে পাওয়ার আনন্দ তোলপাড় করতে লাগল। পারডিটাই তাঁর মেয়ে – একথা জানার পর হারমায়োনিকে হারাবার দুঃখ আবার একবার পেয়ে বসল লিওন্টেসকে। অনেকক্ষণ কথা বলতে পারলেন না তিনি। শুধু বলে গেলেন, “আহা, তোর মা, তোর মা!”

    এই আনন্দবেদনাঘন মুহুর্তে ছেদ টানলেন পলিনা। তিনি লিওন্টেসকে বললেন, জুলিও রোমানো নামে এক অদ্বিতীয় শিল্পী তাঁর বাড়িতে রানির একটি মূর্তি বানিয়েছেন। সেই মূর্তি দেখলে রাজার মনে হবে, যেন স্বয়ং রানিই দাঁড়িয়ে রয়েছেন। খুব ভাল লাগবে তাঁর। একথা শুনে সকলেই তখন চললেন মূর্তিটি দেখতে। রাজা তাঁর হারমায়োনির প্রতিরূপ দেখার জন্য উৎসুক ছিলেন। পারডিটা তার মায়ের মূর্তি দেখার জন্য ব্যগ্র ছিল। মাকে সে তো কোনোদিন দেখেইনি।

    পর্দা সরালেন পলিনা। মূর্তিটি একেবারে হারমায়োনির অনুরূপ। দেখে রাজার দুঃখ জেগে উঠল আর একবার। তিনি বাক্যহারা স্থবির হয়ে রইলেন অনেক ক্ষণ।

    পলিনা বললেন, “আপনার স্তব্ধতা আমাকে আপ্লুত করছে, মহারাজ। একেবারে আপনার রানির মতো দেখাচ্ছে, তাই নয় কী?”

    তখন রাজা বললেন, “আহা, যেমনটি ওকে প্রথম দেখেছিলুম, সেই রকমভাবেই দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু পলিনা, হারমায়োনিকে একটু বয়স্ক দেখাচ্ছে, ও তো এতটা বয়স্ক ছিল না।” পলিনা বলল, “শিল্পীর দক্ষতা তো এখানেই। তিনি এমনভাবে এই মূর্তি বানিয়েছেন, যাতে এটি দেখলে হারমায়োনি আজ কেমন দেখতে হতেন, তা বোঝা যায়। কিন্তু মহারাজ, এবার পর্দা ফেলব, নইলে আপনি ভেবে বসবেন, মূর্তিটি এবার নড়াচড়া করবে।”

    তখন রাজা বললেন, “পর্দা ফেলো না। আহা, আমার মরণ হয় না কেন! দ্যাখো, ক্যামিলো, তোমার মনে হচ্ছে না যে, মূর্তিটার শ্বাস পড়ছে। মনে হচ্ছে না, ওর চোখের পাতার মধ্যে কেমন একটা প্রাণ রয়েছে।” পলিনা বলল, “মহারাজ, আমাকে পর্দা ফেলতেই হচ্ছে। আপনি অত্যন্ত বিহ্বল হয়ে পড়েছেন। আপনি উন্মাদ হয়ে যাবেন।” লিওন্টেস বললেন, “পলিনা, লক্ষ্মীটি, কুড়ি বছরের কথা আমাকে ভাবতে দাও। আজও মনে হয়, ওর থেকে একটা হাওয়া আসছে। আহা, কোন ছেনিতে ওমন নিঃশ্বাস ফুটে উঠেছে! লোকে যা বলে বলুক, আমি ওকে চুম্বন করব।” পলিনা বলে উঠল, “না মহাশয় না, ওর ঠোঁটের উপর রং এখনো কাঁচা রয়েছে। আপনার ঠোঁট লেগে ওই তেলরং নষ্ট করে দেবে। পর্দা ফেলি?” লিওন্টেস বললেন, “পর্দা ফেলবে? কী করে এই কুড়ি বছরের উপর পর্দা ফেলবে তুমি?”

    পারডিটা হাঁটু গেড়ে বসে চুপচাপ মুগ্ধভাবে তার অপূর্ব সুন্দরী মায়ের মূর্তিটি দেখছিল। এবার সে বলল, “এখানে বসে মায়ের মূর্তিটির দিকে তাকিয়ে থাকব।”

    পলিনা বললেন, “বিহ্বলতা কাটিয়ে উঠুন, আমাকে পর্দা ফেলতে দিন। আর তা না হলে, আরও আশ্চর্য কিছু দেখার জন্য প্রস্তুত থাকুন। আমি এই মূর্তিটাকে জীয়ন্ত করে তুলতে পারে। ওকে আপনাআপনি বেদি থেকে নামিয়ে আনতে পারি। ওকে দিয়ে আপনার হাত ধরাতে পারি। না, আপনি যদি ভাবেন যে, আমি কোনো অশুভ শক্তির সাহায্যে এমনটা করতে চাইছি, তাহলে আপনি ভুল ভাববেন।”

    হতবাক রাজা বললেন, “তুমি ওকে দিয়ে যা করাবে, আমি তা-ই প্রাণভরে দেখব। যা বলাবে, তাই হৃদয় ভরে শুনব। শুধু ওকে জীয়ন্ত করে কথা বলাও।”

    পলিনা সবকিছু প্রস্তুত করেই রেখেছিলেন। তিনি মৃদুস্বরে গান ধরলেন। এই গান তিনি এই উদ্দেশ্যেই বেঁধে রেখেছিলেন। তাঁর স্পর্শে দর্শকদের বেবাক করে মূর্তিটা নেমে এল বেদি থেকে। জড়িয়ে ধরল লিওন্টেসের গলা। কথা বলল। স্বামী আর নবলব্ধ সন্তান পারডিটার জন্য প্রার্থনা করতে লাগল।

    মূর্তিটা যে লিওন্টেসের গলা জরিয়ে ধরে তার স্বামী ও সন্তানের জন্য প্রার্থনা করল, তাতে সন্দেহ রইল না। সন্দেহ রইল না যে, মূর্তিটাই স্বয়ং হারমায়োনি, অকৃত্রিম, জীবন্ত রানি।

    পলিনা মিথ্যে বলেছিলেন। হারমায়োনি মারা যাননি। পলিনা রাজাকে রানির মৃত্যুসংবাদ দিয়ে রানির প্রাণরক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তারপর থেকে হারমায়োনি দয়ালু পলিনার কাছেই থেকে যান। লিওন্টেস সেকথা ঘূণাক্ষরেও জানতে পারেননি। তাঁর প্রতি কৃত অবিচার রানি অনেক কাল আগেই ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমা করতে পারেননি তাঁর শিশুকন্যার উপর প্রদর্শিত নিষ্ঠুরতা। তাই পারডিটাকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তিনি আত্মগোপন করে থাকেন।

    মৃত রানি ফিরে পেলেন প্রাণ। ফিরে এল হারানো মেয়ে। লিওন্টেসের বহুকালের দুঃখ ঘুচে তখন শুধুই আনন্দ আর আনন্দ।

    চারিদিকে সবাই তাঁদের অভিনন্দন জানায়। নানা স্নেহবাক্য বলে। আনন্দিত পিতামাতা রাজকুমার ফ্লোরিজেলকে ধন্যবাদ জানায়, তাদের মেয়েকে ইতর শ্রেণির লোকেদের মধ্যে পেয়েও তাকে ভালবাসার জন্য। ক্যামিলো ও পলিনাও খুব খুশি হয়। খুশি হয় তাদের সেবার এমন মধুর ফল দেখে।

    এই আশ্চর্য অভাবনীয় আনন্দময় পরিবেশে প্রাসাদে প্রবেশ করেন রাজা পলিজেনাস।

    পলিজেনাস তাঁর ছেলে আর ক্যামিলোকে দেখতে না পেয়ে ধরে নেন যে, পলাতকেরা এখানে এসেছে। কারণ ক্যামিলো অনেক দিন ধরেই সিসিলিতে ফিরতে চাইছিলেন। পলিজেনাস দ্রুত তাঁদের পিছু নেন। শেষে এখানে যখন আসেন, সেই মুহুর্তটি লিওন্টেসের জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন ক্ষণ।

    পলিজেনাসও আনন্দ উৎসবে যোগ দিলেন। ক্ষমা করে দিলেন বন্ধুর অন্যায় ঈর্ষা ও প্রতিহিংসাপরায়ণতা। ছেলেবেলার বন্ধুত্ব আর একবার ফিরে পেলেন দু’জনে। পারডিটার সঙ্গে ছেলের বিয়েতে তাঁর অমত হওয়ার ভয়ও দূর হল। কারণ পারডিটা তখন আর ‘ভেড়ার খুঁটি’ নয়, বরং সিসিলির রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারিণী।

    এভাবে আমরা দেখলাম, বহুকালের দুঃখিনী হারমায়োনির তিতিক্ষার জয়। তিনি হলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রানি ও সবচেয়ে সুখী মা। এই মহীয়সী নারী বহুকাল লিওন্টেস ও পারডিটার সঙ্গে সুখে কালাতিপাত করেছিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleডেজার্ট গড – উইলবার স্মিথ
    Next Article Henry VI (Part 1, 2, 3) – William Shakespeare

    Related Articles

    উইলিয়াম শেক্সপিয়র

    Henry IV (Part 1, 2) – William Shakespeare

    July 14, 2025
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র

    Henry VI (Part 1, 2, 3) – William Shakespeare

    July 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }