Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উইলিয়াম শেকসপিয়র রচনা সমগ্র

    উইলিয়াম শেক্সপিয়র এক পাতা গল্প576 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আ মিডসামার নাইট’স ড্রিম

    আ মিডসামার নাইট’স ড্রিম
    মূল রচনা: উইলিয়াম শেকসপিয়র
    পুনর্কথন: মেরি ল্যাম্ব
    অনুবাদ: অর্ণব দত্ত
    (“টেলস ফ্রম শেকসপিয়র” থেকে)

    এথেন্স শহরে এক আইন ছিল। এই আইন বলে সেখানকার নাগরিকেরা নিজেদের পছন্দসই পাত্রের সঙ্গে তাদের মেয়েদের বিয়ে করতে বাধ্য করতে পারত। কোনো মেয়ে বাপের পছন্দ করা পাত্রকে বিয়ে করতে অস্বীকৃত হলে, বাপ সেই আইন প্রয়োগ করে মেয়েকে মৃত্যুদণ্ডে পর্যন্ত দণ্ডিত করার ক্ষমতা রাখত। তবে কিনা, মেয়েরা একটু-আধটু অবাধ্য হলেও, বাপেরা সাধারণত মেয়ের মৃত্যুকামনা করত না বলে, এই আইনের প্রয়োগও কদাচিৎই হত। অবশ্য, বাপ-মায়েরা তাদের কুমারী মেয়েকে এই আইনের জুজু দেখাতে ছাড়তেন না।

    তবে একবার এক ঘটনা ঘটেছিল। ইজিয়াস নামে এক বৃদ্ধ এথেন্সের তৎকালীন ডিউক থিসিয়াসের কাছে নিজের মেয়ে হার্মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেন। ইজিয়াসের ইচ্ছে ছিল, হার্মিয়া ডিমেট্রিয়াস নামে এথেন্সের এক সম্ভ্রান্তবংশীয় যুবককে বিয়ে করুক। কিন্তু সে ভালবাসত লাইস্যান্ডার নামে অপর এক এথেন্সীয় যুবককে। তাই সে বাপের আদেশ অমান্য করে। ন্যায়বিচার চেয়ে ইজিয়াস তখন এলেন থিসিয়াসের কাছে। দাবি করলেন, ওই নিষ্ঠুর আইনটি প্রয়োগ করা হোক তাঁর মেয়ের উপর।

    আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে হার্মিয়া জানালো, ডিমেট্রিয়াস তার সই হেলেনাকে ভালবাসত। হেলেনা এখনও ডিমেট্রিয়াসকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালবাসে। কিন্তু বাপের আদেশ অমান্য করার এহেন সম্মানজনক কারণও ইজিয়াসকে টলাতে পারল না।

    থিসিয়াস দয়ালু রাজা ছিলেন। কিন্তু দেশের আইন সংশোধনের ক্ষমতা তাঁর ছিল না। তিনি শুধু হার্মিয়াকে চার দিন সময় দিলেন। তাকে জানিয়ে দেওয়া হল, চার দিন পরেও যদি সে ডিমেট্রিয়াসকে বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তাহলে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

    লাইস্যান্ডার এই সব ঝুটঝামেলার কথা শুনে খুবই বিচলিত হয়ে পড়ল। কিন্তু তখনই তার মনে পড়ে গেল, এথেন্স থেকে কিছু দূরে বাস করেন তার এক মাসি। নিষ্ঠুর আইনটা যেহেতু এথেন্সের নগরসীমানার বাইরে খাটে না, সেহেতু সেখানে পালিয়ে যেতে পারলে, কেউ আর হার্মিয়াকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করতে পারবে না। তাই দু’জনে ঠিক করল, হার্মিয়া চুপিচুপি তার বাড়ি থেকে পালিয়ে আসবে আর তারপর তারা লাইস্যান্ডারের মাসির বাড়ি গিয়ে তারা বিয়ে করবে। “শহর থেকে কয়েক মাইল দূরে যে বন রয়েছে, সেখানেই তোমার সঙ্গে দেখা করব। সেই যে বনে মনোহর বসন্তে আমরা হেলেনাকে নিয়ে হাঁটতে যেতাম,” লাইস্যান্ডার বলল।

    হার্মিয়া সানন্দে রাজি হয়ে গেল এই প্রস্তাবে। সে তার সই হেলেনা ছাড়া আর কাউকেই তাদের পরিকল্পনার কথা জানালো না। মেয়েরা প্রেমে পড়লে কী বোকাই না হয়ে যায়! হেলেনা করল কী, মহা-অকৃতজ্ঞের মতো সব কথা ডিমেট্রিয়াসকে জানিয়ে দিল। সইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে তার পাওয়ার কিছুই ছিল না। শুধু নিজের লম্পট প্রেমিকের পিছু পিছু বনে যাওয়ার আনন্দটুকু পাওয়ার আশা ছিল তার, এই যা। সে জানত ডিমেট্রিয়াস হার্মিয়ার খোঁজে যাবেই।

    যে বনে হার্মিয়া ও লাইস্যান্ডারের দেখা করার কথা ছিল, সেই বনটি ছিল ‘পরি’ নামে এক ধরনের ছোট্ট জীবের প্রিয় বিচরণক্ষেত্র।

    পরিরাজ ওবেরন ও পরিরানি টাইটানিয়া তাঁদের সাঙ্গোপাঙ্গোদের নিয়ে সেই বনে প্রমোদবিহারে আসতেন।

    যে সময়ের কথা হচ্ছে, সেই সময় পরিদের এই ছোট্ট রাজা ও রানির মধ্যে এক দুঃখজনক কলহ উপস্থিত হয়েছিল। মনোরম বনের ছায়াঘেরা চন্দ্রালোকিত পথে বিহার না করে, তাঁরা নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি করছিলেন। আর তাইতে ভয় পেয়ে তাঁদের অনুগত ভূতপ্রেতের দল হামা দিয়ে ওক-বিচির মধ্যে লুকিয়ে পড়েছিল।

    মনান্তরের কারণ ছিল, টাইটানিয়ার চুরি করে আনা একটি ছোটো ছেলে। ছেলেটির মা ছিল টাইটানিয়ার সই। সে মারা যাওয়ার পর, টাইটানিয়া ছেলেটিকে তার ধাইয়ের কাছ থেকে চুরি করে এই বনে নিয়ে এসে মানুষ করছিলেন। আর ওবেরন ছেলেটিকে নিজের বালকভৃত্য নিয়োগ করতে চাইছিলেন।

    প্রেমিকযুগলের যে রাতে বনে আসার কথা, সেই রাতেই টাইটানিয়া তাঁর রাজসখিদের নিয়ে ভ্রমণ করতে করতে ওবেরন ও তাঁর অনুচরদের মুখোমুখি হন।

    “জ্যোৎস্নালোকে মূর্তিমতী অকল্যাণ তুমি, হে মদমত্তা টাইটানিয়া,” বললেন পরিরাজ। টাইটানিয়া উত্তরে বললেন, “কে? হিংসুটে ওবেরন নাকি? পরিরা, দূরে থেকো। ওঁর সঙ্গে আমার সব সম্পর্ক ঘুচে গেছে জেনো।” “চোপরাও!” বললেন ওবেরন, “ভুলে যেও না, আমি তোমার স্বামী। এত সাহস তোমার, আমার মুখে মুখে কথা বলো! চুরি করে আনা ওই বাচ্চাটাকে দাও। আমি ওকে আমার বালকভৃত্য করে রাখব।”

    “তোমার সে গুড়ে বালি,” টাইটানিয়া বললেন, “তোমার এই গোটা পরিরাজ্য আমাকে বেচে দিলেও আমি তোমার হাতে ছেলেটাকে ছাড়ব না।” এই বলে ক্রুদ্ধ রানি স্বামীর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে গেলেন। ওবেরন বললেন, “যাও, যেখানে ইচ্ছে যাও। কিন্তু জেনে রেখো, কাল সূর্য ওঠার আগেই আমি এই অপমানের শোধ তুলব।”

    ওবেরন ডেকে পাঠালেন তাঁর প্রিয় অনুচর তথা প্রধান পার্ষদ পাককে।

    পাক ছিল এক দুষ্টু ভূত। কেউ কেউ তাকে ডাকত ‘ভালমানুষ ভূত’ নামে। আশেপাশের গ্রামবাসীদের অতিষ্ট করে সে মজা পেত। কখনও গব্যশালায় ঢুকে দুধের উপর ভেসে বেড়াত। হালকা বায়বীয় রূপ ধরে ডুব লাগাতো মাখন মন্থনের পাত্রে। গোয়ালিনী মাখন মন্থনের চেষ্টা করত। কিন্তু পাক সেখানে এমন নৃত্য জুড়ে দিত যে, তার সব চেষ্টাই বৃথা যেত। বাদ যেত না গ্রামের ধাতুশিল্পীরাও। পাকের দুষ্টুমিতে তামা নিষ্কাষণ তাদের পক্ষে দুঃসাধ্য হয়ে উঠত। পড়শিরা এক সঙ্গে মদ খেতে বসলে, পাক কাঁকড়া-কাবাবের আকার ধারণ করে ঝাঁপ দিত মদের গ্লাসে। কোনো ভালমানুষ বুড়ি চুমুক দিলেই, তার ঠোঁট ধরে ঝুলে পড়ত পাক। বুড়ির ঝুলে-পড়া চিবুক বেয়ে সব মদ গড়িয়ে পড়ে যেত। পরে বুড়ি পড়শিদের কাছে নিজের দুঃখের বৃত্তান্ত শোনাতে গেলে, পাক এক হ্যাঁচকায় বুড়ির বসার তেপায়াটা টেনে নিত। ধপাস করে বুড়ি পড়ত মাটিতে। সবাই হো হো করে হেসে উঠত। যেন এত মজার আর কিছুই কোনোদিন দেখেনি তারা।

    ওবেরন তাঁর খোসমেজাজি নিশাচর ভৃত্যটিকে ডাক দিলেন, “পাক, এদিকে এসো। যে ফুলকে মেয়েরা ‘আলসেমির প্রেম’ নামে ডাকে, আমাকে সেই ফুল এনে দাও। সেই ছোট্ট লালচে ফুলটির রস কোনো ঘুমন্তের চোখে ঢেলে দিলে, ঘুম ভাঙার পর সে প্রথম যাকে দেখে, তারই প্রেমে পড়ে যায়। টাইটানিয়া যখন ঘুমাবে, তখন আমি তার চোখে সেই রস ঢেলে দেবো। ঘুম থেকে উঠে সে প্রথম যাকে দেখবে, সিংহ, ভালুক, বদমাস বাঁদর বা নোংরা বনমানুষ হলেও, তারই প্রেমে পড়ে যাবে সে। তখন তার থেকে বাচ্চাটাকে আদায় করব। তারপর বিপরীত জাদু প্রয়োগ করে তার আগের জাদু ফিরিয়ে নেব আমি।”

    দুষ্টুমি পাকের খুব প্রিয় ছিল। প্রভুর দুষ্টুবুদ্ধির কথা শুনে সে তাই আহ্লাদে আটখানা হয়ে ছুটল ফুল আনতে। ওবেরন পাকের জন্য অপেক্ষা করছেন, এমন সময় দেখলেন ডিমেট্রিয়াস ও হেলেনা বনে ঢুকছে। চুপিচুপি তাদের কথা শুনতে লাগলেন তিনি। পিছু নেওয়ার জন্য ডিমেট্রিয়াস খুব কড়া ভাষায় হেলেনাকে তিরস্কার করছিল। মৃদু প্রতিবাদ করে হেলেনা তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল যে, একদিন হেলেনাকেই ডিমেট্রিয়াস তার সত্যিকারের প্রেমিকা বলে মেনে নিয়েছিল। ডিমেট্রিয়াস হেলেনাকে বন্য জন্তুর দয়ায় ছেড়ে দিয়ে চলে গেল। হেলেনাও যত দ্রুত সম্ভব তার পিছু নিল।

    পরিরাজ সত্যকারের প্রণয়ীদের খুব ভালবাসতেন। হেলেনার প্রতি তাঁর দয়া হল। লাইস্যান্ডার বলেছিল, তারা হেলেনাকে নিয়ে তাদের সুখের দিনে এই বনে বেড়াতে আসত। ডিমেট্রিয়াস তখন ভালবাসত হেলেনাকে। হয়ত সেই সময়েই পরিরাজ তাকে দেখে থাকবেন। সে যাই হোক, পাক ফুল নিয়ে এলে ওবেরন তাঁকে বললেন, “বনে একটি মিষ্টি এথেন্সীয় মেয়ে এসেছে। তার প্রেমিকটি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ। এই ফুলের একটা অংশ নিয়ে যাও। ছেলেটিকে দেখতে পেলে, তার চোখেও এই প্রেমসুধারস একটু ঢেলে দিও। এমন সময় কোরো যখন মেয়েটি তার কাছাকাছি থাকবে। আর খেয়াল রেখো যাতে ঘুম থেকে উঠে মেয়েটিকেই আগে দেখতে পায় সে। দেখবে, ছেলেটা এথেন্সীয় পোষাক পরে আছে। তাই দেখেই চিনতে পারবে।” হাত-পা নেড়ে পাক জানিয়ে দিল, সে সব সামলে নেবে। তারপর ওবেরন চুপিচুপি গেল টাইটানিয়ার নিকুঞ্জে। টাইটানিয়া সেখানে বিশ্রাম নেওয়ার তোড়জোড় করছিলেন। উডবাইন, মাস্ক-রোজ আর ইগলেন্টাইনের চাঁদোয়ার নিচে বুনো টাইম লতা, কাউস্লিপ ফুল ও মিষ্টি ভায়োলেট ফুলের ঝোড়ের মাঝখানে ছিল টাইটানিয়ার নিকুঞ্জশয্যা। রাতের কিছুটা সময় সেখানে সাপের খোলস ঢাকা দিয়ে ঘুমাত টাইটানিয়া। খোলসটা ছোটো হলেও, টাইটানিয়ার তাতেই বেশ চলে যেত।

    ওবেরন দেখলেন, রানি ঘুমানোর পর কে কী করবে, তার নির্দেশ পরিদের দিয়ে রাখছেন টাইটানিয়া। বলছিলেন, “তোদের মধ্যে কেউ মাস্ক-রোজের কুঁড়ির মধ্যে ঢুকে পোকা মারবি। কেউ বাদুড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে তার চামড়া ছাড়িয়ে আনবি। সেই চামড়ায় আমার ভূতেদের জন্য জামা বানাবি। কেউ নজর রাখবি ওই হুল্লোড়বাজ প্যাঁচাটার উপর। দেখিস, ওর ডাক যেন আমার কানে না আসে। কিন্তু সবার আগে আমাকে একটা গান শোনা।” তখন পরিরা তাকে এই গানটি শোনালো –

    তুমি সাপকে জিভ দিয়েছো দু-দু’খানা
    কাঁটাচুয়া করেছো গায়েব;
    গোসাপ আর কানা-পোকারা, দুষ্টুমি কোরো না,
    যাও, যাও, ঘুমান মোদের রানিসাহেব।
    ফিলোমেল, ধরো তান,
    শোনাও একটা ঘুমপাড়ানি গান
    ঘুমপাড়ানি ঘুমপাড়ানি ঘুমপাড়ানি গান
    ক্ষতি নয়, জাদু নয়, নয় কোনো মন্তর
    মোদের পরিরানির কাছে আসুক নিরন্তর
    রাত্রি মনোহরা আর ঘুমপাড়ানি গান।

    এই মিষ্টি গানখানি শুনিয়ে পরিরা তাদের রানিকে ঘুম পাড়িয়ে দিল। তারপর চলে গেল যে যার কাজ সারতে। ওবেরন ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন টাইটানিয়ার কাছে। খানিকটা প্রেমরস ঢেলে দিলেন তাঁর চোখে। বললেন –

    “নিদ্রাভঙ্গে দেখবে যাকে সবার আগে,
    তার সঙ্গে বাঁধা পড়বে প্রেম-অনুরাগে।”

    এবার দেখি কী করছে হার্মিয়া। সে তো বাপের কথা অমান্য করে ডিমেট্রিয়াসকে বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল। তাই মৃত্যুদণ্ড এড়াতে বাড়ি থেকে পালিয়ে বনে এসে দেখল, তাকে মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে লাইস্যান্ডার। কিন্তু অর্ধেক পথ যেতে না যেতেই ক্লান্তিতে পা অবশ হয়ে এল তার। লাইস্যান্ডার তার খুব যত্ন করত। তাই সে ঠিক করল, সকাল না হওয়া অবধি বনেই বিশ্রাম করবে দু’জনে। নরম ফার্নের উপর শুয়ে হার্মিয়া আর তার কিছুদূরে শুয়ে লাইস্যান্ডার ঘুমিয়ে পড়ল। এমন সময় পাক দেখতে পেল তাদের। প্রভুর কথা মিলিয়ে সে দেখল, এথেন্সীয় পোষাক পরা এক যুবক একটি সুন্দরী মেয়ের কিছুদূরে শুয়ে ঘুমাচ্ছে। একসঙ্গে থাকলেও, দু’জনে শুয়েছিল আলাদা হয়ে। পাক ভাবল, তার প্রভু এদের কথাই বলেছেন তাঁকে। ঘুম থেকে উঠে যুবকটি সবার আগে মেয়েটিকে দেখবে। তাই আর কিছু না ভেবে, তার চোখেই প্রেমসুধারস ঢেলে দিল পাক। কিন্তু হল কী, হার্মিয়ার বদলে লাইস্যান্ডারের চোখে পড়ে গেল হেলেনা। হেলেনা সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। ঘুম ভেঙে তাকে সবার আগে দেখে লাইস্যান্ডারের মন থেকে হার্মিয়ার প্রতি প্রেম গেল উবে। মায়াবলে পড়ল সে হেলেনার প্রেমে।

    ঘুম ভেঙে আগে হার্মিয়াকে দেখলে লাইস্যান্ডারকে পাকের এই ভুলের খেসারত দিতে হত না। সে তো আর তার প্রিয়তমাকে বাড়তি ভালবাসতে পারে না। কিন্তু কী আর করা! তার কপালে ছিল, নিজের সত্যিকারের প্রেমিকা হার্মিয়াকে ভুলে বনের মধ্যে মাঝরাতে একা ফেলে অন্য একটি মেয়ের পিছনে ধাওয়া করা!

    দুর্ঘটনাটা কীভাবে ঘটল, তা বলি। যেমনটি একটু আগে বলছিলাম, হেলেনা ডিমেট্রিয়াসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করছিল। ডিমেট্রিয়াস তো তাকে ফেলেই দৌড়ে বেড়াচ্ছিল। সেই দৌড়ে তাল মেলাতে পারছিল না হেলেনা। অল্পক্ষণ পরেই ডিমেট্রিয়াস তার দৃষ্টিপথের বাইরে চলে গেল। হতোদ্যম হয়ে একলা ঘুরতে ঘুরতে সে হাজির হল যেখানে লাইস্যান্ডার ও হার্মিয়া ঘুমাচ্ছিল। হেলেনা বলে উঠল, “এ কী! এ যে লাইস্যান্ডার! মাটিতে শুয়ে কেন? ঘুমাচ্ছে? নাকি মারা গেছে?” তারপর তাকে আলতো করে ছুঁয়ে বলল, “দোহাই আপনার, বেঁচে থাকলে চোখ মেলে তাকান।” লাইস্যান্ডার চোখ মেলে চাইল। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল প্রেমরসের জাদু। তক্ষুনি লম্বাচওড়া প্রেমের কথা বলে সে হেলেনার প্রতি প্রেমনিবেদন শুরু করে দিল। বলল, হেলেনার পাশে হার্মিয়াকে মনে হয়, সাদা পায়রার পাশে দাঁড়কাক। বলল, হেলেনাকে পেতে সে আগুনের উপর দিয়ে হাঁটতেও রাজি। আরও কত রকম প্রেমিক-সুলভ ভাষণ দিল সে। হেলেনা জানত, লাইস্যান্ডার তার সই হার্মিয়ার প্রেমিক ও পাণিপ্রার্থী। নিজের সম্পর্কে ওই সব কথা শুনে তার ভারি রাগ হল। ভাবল, লাইস্যান্ডার তাকে নিয়ে মজা করছে। বলেই ফেলল, “হায়! কেন জন্মালাম আমি? সকলের উপহাসের পাত্রী হওয়ার জন্য? ডিমেট্রিয়াস আমার দিকে তাকায় না। ভাল করে কথাও বলে না। সেটাই কী যথেষ্ট নয়? সেটাই কী যথেষ্ট নয় যে আপনি মশাই উড়ে এসে আমার সঙ্গে এই রকম অপমানকর খেজুরে প্রেমালাপের নাটক জুড়ে দিলেন? লাইস্যান্ডার, আপনাকে আমি ভদ্রলোক মনে করেছিলাম!”  রাগে মাথায় কথাগুলি ছুঁড়ে দিয়েই জোরে হাঁটা দিল হেলেনা। লাইস্যান্ডার ঘুমন্ত হার্মিয়াকে পিছনে ফেলে পিছু নিল তার।

    ঘুম থেকে উঠে নিজেকে একা দেখে খুব ভয় পেয়ে গেল হার্মিয়া। সে বনের মধ্যে ঘুরতে লাগল। সে তো জানত না যে, লাইস্যান্ডারের কী হয়েছে বা কোথায় গেলে সে তার দেখা পাবে। এদিকে ওবেরন দেখলেন, হার্মিয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বী লাইস্যান্ডারকে খুঁজে না পেয়ে বৃথা অন্বেষণ ছেড়ে ঘুমিয়ে পড়েছে ডিমেট্রিয়াস। পাককে প্রশ্ন করে ওবেরন বুঝতে পারলেন যে, পাক ভুল লোকের চোখে প্রেমরস ঢেলেছে। তাই নিজে গিয়ে যে যুবকটিকে তিনি খুঁজছিলেন, তার চোখে প্রেমরস ঢেলে দিলেন তিনি। ডিমেট্রিয়াসের ঘুম ভেঙে গেল। সে প্রথমেই দেখল হেলেনাকে। দেখামাত্র, লাইস্যান্ডারের মতো সেও হেলেনাকে উদ্দেশ্য করে প্রেমিক-সুলভ বক্তৃতা দিতে লেগে গেল। পিছন পিছন ছুটে এল হার্মিয়াও। পাকের দুঃখজনক ভুলের ফলে এখন তাকে তার প্রেমিকের পিছন ছুটে ছুটে বেড়াতে হচ্ছিল। এদিকে জাদুর বশে লাইস্যান্ডার আর ডিমেট্রিয়াস দু’জনেই হেলেনাকে উদ্দেশ্য করে প্রেম নিবেদন করছিল তখন।

    হেলেনা তো হতবাক! সে ভাবল, লাইস্যান্ডার, ডিমেট্রিয়াস ও তার এক সময়কার সই হার্মিয়া মিলে ছক কষে তার পিছনে লেগেছে।

    হার্মিয়াও হেলেনার অবস্থা দেখে অবাক। লাইস্যান্ডার ও ডিমেট্রিয়াস – দু’জনেই তখন হেলেনার স্তব করতে ব্যস্ত। হার্মিয়া কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না যে, কিসের টানে দু’জনে এক সঙ্গে হেলেনার দিকে ঝুঁকে পড়ল।

    একদা অভিন্ন-হৃদয় সই হার্মিয়া ও হেলেনা পরস্পরকে তখন চোখা চোখা বাক্যবাণে বিদ্ধ করতে লাগল।

    হেলেনা বলল, “নির্দয়া হার্মিয়া! তুমিই তোমার প্রেমিক লাইস্যান্ডারকে আমার পিছনে মিথ্যে প্রেম নিবেদন করার জন্য লাগিয়েছ। আর তোমার অপর প্রেমিক ডিমেট্রিয়াস, যে আমাকে লাথি মারতে বাকি রেখেছিল, সে এখন আমাকে বলছে দেবী, জলপরি, দুর্লভ, বহুমূল্য, স্বর্গীয়! কেন? কারণ, তুমিই তাকে পাঠিয়েছ, আমার পিছনে লাগতে! নির্দয়া হার্মিয়া! দু’জন পুরুষমানুষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তোমার এই হতভাগিনী সইয়ের পিছনে লাগতে লজ্জা হয় না তোমার? আমাদের পাঠশালার বন্ধুত্বের কথা ভুলে গেলে? হার্মিয়া, কতদিন আমরা এক আসনে বসে একসঙ্গে গান গাইতাম। একই সুতো দিয়ে মালা গাঁথতাম। জোড়া চেরিফলের মতো বেড়ে উঠেছি আমরা। আমাদের দু’জনকে আলাদা করা যেত না। আর আজ, দু’জন পুরুষমানুষকে হাত করে সইয়ের অপমান করা কী নারীসুলভ কাজ বলে তোমার মনে হয়?”

    হার্মিয়া বলল, “বাহ্! তোমার এই মিষ্টি মিষ্টি কথাগুলি তো আমাকে অবাক করছে! আমি তোমার পিছনে লেগেছি? না তুমি আমার পিছনে লেগেছ?” হেলেনা পালটা বললে, “হ্যাঁ, বলো বলো! সামনে গম্ভীর মুখে আমাকে কড়া কড়া করে বলো, আর আমি পিছন ফিরলেই একে অপরের দিকে চোখ টিপে দাও আর পিছনে লাগার মজা লোটো! শরীরে বিন্দুমাত্র দয়া, মহত্ব, ভদ্রতা থাকলে কী আর আমাকে নিয়ে এমন বিশ্রী খেলা খেলতে পারতে?”

    হার্মিয়া আর হেলেনা ঝগড়া করতে লাগল। এদিকে লাইস্যান্ডার আর ডিমেট্রিয়াস তাদের ছেড়ে বনে ঢুকল, লড়াই করে হেলেনাকে জয় করার অভিপ্রায় নিয়ে।

    পরে যখন হার্মিয়া আর হেলেনার খেয়াল হল যে ছেলেরা তাদের ছেড়ে গেছে, তখন দু’জনে ঝগড়া থামিয়ে বনের মধ্যে নিজের নিজের প্রেমিকের সন্ধানে ঘুরতে লাগল।

    পরিরাজ তাঁর ছোট্ট পাককে নিয়ে তাদের ঝগড়া শুনছিলেন। তারা চলে যেতেই তিনি পাককে বললেন, “এটা হয় তোর দোষ, নয় তোর বদমায়েশি!” পাক বলল, “বিশ্বাস করুন, অন্ধকারের রাজা, ভুল হয়ে গেছে। আপনি বলেছিলেন, এথেন্সীয় পোষাক দেখে ছেলেটিকে চিনতে। আমি তাই দেখেই ভুল করেছি। তবে কিনা, এই ভুলের জন্য একটুও দুঃখিত নই। ওদের ঝগড়াঝাটি দেখে বেশ মজা হচ্ছে।” ওবেরন বললেন, “শুনলি তো, লাইস্যান্ডার আর ডিমেট্রিয়াস মল্লযুদ্ধের উপযুক্ত জায়গা খুঁজতে গেছে। আমার আদেশ রইল, রাত্রিকে কুয়াশাচ্ছন্ন করে দে। প্রেমিকেরা এই কুয়াশায় পথ হারাক। তারা যেন একে অপরকে খুঁজে না পায়। তুই একজনকে তার প্রতিদ্বন্দ্বীর গলায় ডাক দিবি। তাকে উসকাবি। সে শত্রুর পিছু নিচ্ছে মনে করে তোর পিছু নেবে। ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের ছোটাছুটি করাবি। তারপর তারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লে, লাইস্যান্ডারের চোখে এই অপর ফুলের রসটি ঢেলে দিবি। এতে হেলেনার প্রতি তার আকর্ষণ নষ্ট হয়ে যাবে। আবার সে হার্মিয়ার প্রতি তার পূর্বপ্রেম ফিরে পাবে। মেয়েদুটিও তাদের পছন্দসই পুরুষকে প্রেমিক হিসেবে পাবে। তখন এই সব ঘটনা তাদের স্বপ্ন মনে হবে। আমি যাই। দেখি, টাইটানিয়া আবার কোন মিষ্টি প্রেমিকের প্রেমে পড়ল!”

    টাইটানিয়া তখনও ঘুমাচ্ছিলেন। ওবেরন দেখলেন, একটা ভাঁড় বনের মধ্যে পথ হারিয়ে সেখানেই শুয়ে ঘুমাচ্ছে। তিনি বললেন, “এই ছোঁড়াই আমার টাইটানিয়ার প্রেমিক হওয়ার যোগ্য!” এই বলে তিনি চট করে জাদুবলে ভাঁড়ের মাথাটা গাধার মতো করে দিলেন। তার কাঁধের উপর গাধার মাথাটা দারুণ মানিয়ে গেল। তবু কাজটা করার সময় তার ঘুম ভেঙে গেল। ওবেরনের কেরামতি অবশ্য সে ধরতে পারল না। সোজা চলে গেল নিকুঞ্জে, যেখানে পরিরানি ঘুমাচ্ছিলেন।

    চোখ খুলতেই সেই ছোট্ট লালচে ফুলের জাদুর বশ হলেন টাইটানিয়া, “অহো, কোথাকার দেবদূত ও? তুমি কী সুন্দর? আচ্ছা, তুমি কী যেমন রূপবান, তেমনই বুদ্ধিমান?”

    বোকা ভাঁড় বলল, “কেন, মহাশয়া? আপাতত এই বন থেকে বার হওয়ার পথ বের করার মতো বুদ্ধিটুকু পেলেই চলে যায়!”

    মোহগ্রস্থা রানি বলে উঠলেন, “তুমি বনের বাইরে যেতে চেয়ো না। আমি সামান্যা পরি নই। আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি। আমার সঙ্গে এসো। এখন আমার পরিরা তোমার সেবাযত্ন করবে।”

    তখন রানি তাঁর চার পরিকে নাম ধরে ডাকলেন। এরা হল মটরফুল, লূতাতন্তু, মথ ও সরষে-বীজ।

    রানি বললেন, “এই ভদ্রলোকের সেবা কর। হাঁটার সময় এঁর আগে আগে যা। এঁর চোখের সামনে নৃত্য কর। এঁকে আঙুর আর খুবানি খাওয়া। আর এঁর জন্য মৌচাক ভেঙে মধু চুরি করে আন।” তারপর ভাঁড়কে বললেন, “এসো, আমার পাশে বসো। হে গর্দভ-সুন্দর, আমি তোমার মধুর রোমশ গালদু’টি নিয়ে খেলা করি! হে আমার কোমলানন্দ, এসো, আমি তোমার লম্বা লম্বা কানদুটি চুম্বন করি!”

    গর্দভমুণ্ড ভাঁড় পরিরানির প্রেম নিবেদনকে অতটা গ্রাহ্য করল না। নতুন সেবাদাসেদের পেয়ে তার ভারি গর্ব হচ্ছিল। সে জিজ্ঞাসা করল, “মটরফুল, কোথায় আছিস?”

    ছোট্ট মটরফুল উত্তর দিল, “এই যে মহাশয়, আমি এখানে।”

    “আমার মাথাটা চুলকে দে তো,” বলল ভাঁড়। “লূতাতন্তু কোথায়?”

    “এই যে এখানে, মহাশয়,” বলল লূতাতন্তু।

    “বাবা লূতাতন্তু,” বোকা ভাঁড়টা বললে, “ওই থিসল পাতার উপর বসা ছোট্ট লাল মৌমাছিটাকে মেরে আমাকে মৌচাকটা এনে দে তো। দেরি করিসনি। আর দেখিস, যেন ভেঙে না যায়। চটকে গেলে আমি কিন্তু খুব কষ্ট পাব। সরষে-বীজ কোথায়?”

    “এইখানে, মহাশয়,” বলল সরষে-বীজ। “কী করতে হবে বলুন।”

    “কিছুই না,” বলল ভাঁড়, “বাছা সরষে-বীজ, তুই মটরফুল বাবাজিকে আমার মাথা চুলকাতে সাহায্য কর। বাছা সরষে-বীজ রে, মনে হচ্ছে আমাকে এবার নাপিতের কাছে যেতেই হবে। মুখে অনেক চুল গজিয়েছে।”

    রানি বললেন, “প্রিয়তম, কী খাবে বলো। আমার এক পরি তোমাকে একপাল কাঠবিড়ালি আর তাজা বাদাম এনে দিতে পারে।”

    যার মাথা গাধার, তার ক্ষুদপিপাসাও গাধারই মতো! ভাঁড় বলল, “বরং একমুঠো শুকনো মটর খাই। কিন্তু শোনো, তোমার এই লোকগুলোকে ছুটি দাও। এরা যেন আমাকে বিরক্ত না করে। একটু ঘুমাতে ইচ্ছে করছে।”

    রানি বললেন, “ঘুমাও তবে; আমার বাহুতে মাথা রেখে ঘুমাও। আমি হাত দিয়ে তোমায় বাতাস করি। আহা! আমি তোমায় কতই না ভালবাসি! কতই না চাই!”

    ভাঁড়টা রানির বাহুতে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে, এমন সময় পরিরাজ চুপিচুপি গিয়ে হাজির হল রানির সামনে।

    ভাঁড়টা রানির হাতে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিল। রানি তার গাধামুণ্ড ফুল দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছিলেন। তা অস্বীকার করতে পারলেন না।

    ওবেরন রানিকে উপহাস করতে লাগলেন। চুরি করে আনা ছেলেটিকে দাবি করতে লাগলেন। স্বামী তাঁর নয়া প্রেমিকের সন্ধান পেয়ে গেছেন দেখে, টাইটানিয়া পড়লেন মহালজ্জায়। তিনি আর ওবেরনকে প্রত্যাখ্যান করতে সাহস পেলেন না।

    এইভাবে অনেকদিন ধরে চাইতে থাকা ছেলেটিকে বালকভৃত্য করার জন্য পেয়ে গেলেন ওবেরন। তখন টাইটানিয়ার অবস্থা দেখে তাঁর দয়া হল। তিনি টাইটানিয়ার চোখে অপর ফুলটির রস বুলিয়ে দিলেন। পরিরানি ফিরে পেলেন তাঁর চেতনা। কী এক অদ্ভুত দৈত্যের প্রেমে তিনি পড়েছিলেন, সেই কথাই বার বার বলতে লাগলেন।

    ওবেরন ভাঁড়ের মাথা থেকে গাধার মুণ্ডুখানা সরিয়ে নিলেন। সে তার পুরনো মাথাটা ঘাড়ের উপর নিয়ে বোকাটা বাকি ঘুমটা ঘুমালো।

    পূর্ণমিলনের পর ওবেরন টাইটানিয়াকে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ইতিকথা আর তাদের ঝগড়ার বৃত্তান্ত শোনালেন। পাক তার আগের ভুল সংশোধন করে নিয়েছিল। সে সবাইকে একে অপরের অজ্ঞাতসারে এক জায়গায় এনে ফেলে পরিরাজের দেওয়া ওষুধের সাহায্যে সযত্নে লাইস্যান্ডারের চোখ থেকে আগের জাদুটি মুছে ফেলেছিল।

    প্রথম ঘুম ভাঙল হার্মিয়ার। সে দেখল, তার হারানো প্রেমিক লাইস্যান্ডার তার কাছে শুয়ে ঘুমাচ্ছে। সে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল তার দিকে। লাইস্যান্ডার ঘুম থেকে উঠে সর্বাগ্রে দেখল হার্মিয়াকেই। দেখামাত্র পরির জাদুতে সে হার্মিয়ার প্রতি তার হারানো প্রেম ফিরে পেল। তখন সকালে তাদের নৈশ অভিযান নিয়ে আলোচনা করতে লাগল। ভাবতে লাগল, এই সব সত্যি ঘটেছে, নাকি সবটাই একটা উটকো স্বপ্ন।

    হেলেনা ও ডিমেট্রিয়াসেরও ঘুম ভাঙল। রাতে ঘুমিয়ে হেলেনার সব ক্ষোভ মুছে গিয়েছিল। ডিমেট্রিয়াস তখনও তাকে প্রেমনিবেদন করছিল। শুনে হেলেনার ভারি আনন্দ হল। ডিমেট্রিয়াসের কথাগুলি আচমকা তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে শুরু করল। তাতে সে অবাক হলেও অখুশি হল না।

    সুন্দরীদের মনেও আগের রাতের ঝগড়ার কোনো রেশ রইল না। তারা আবার প্রাণের সইতে পরিণত হল। আগের রাতের সব কড়া কথাগুলি ক্ষমা করে দিল। সবাই একসঙ্গে বসে ভাবতে লাগল, এবার কী করা যায়। তারা ঠিক করল, ডিমেট্রিয়াস হার্মিয়ার উপর থেকে তার দাবি প্রত্যাহার করে নেবে। সে হার্মিয়ার বাপের কাছে গিয়ে হার্মিয়ার উপর থেকে মৃত্যুদণ্ড তুলে নেওয়ার আর্জিও জানাবে। বন্ধুকৃত্য করার জন্য ডিমেট্রিয়াস যখন এথেন্সে ফেরার তোড়জোড় করছে, এমন সময় পলাতকা মেয়ের খোঁজ করতে করতে তাদের কাছে হাজির হলেন হার্মিয়ার বাপ ইজিয়াস।

    ইজিয়াস বুঝলেন, ডিমেট্রিয়াস আর তার মেয়েকে বিয়ে করতে চায় না। তখন আর তিনি লাইস্যান্ডার ও হার্মিয়ার বিয়েতে আপত্তি জানালেন না। কিন্তু বললেন, বিয়ে হবে চার দিন পরে। সেই দিনই হার্মিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। হেলেনাও সেই দিনই তার প্রিয়তম ও অধুনা-বিশ্বস্ত প্রেমিক ডিমেট্রিয়াসের সঙ্গে পরিণয় বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইল।

    পরিরাজ ও পরিরানি অদৃশ্য থেকেই তাদের মিলনের সাক্ষী হয়ে রইলেন। দেখলেন তাদের প্রেমকাহিনির মিলনান্তক সমাপ্তি। এই মিলনে তাঁরা এতই খুশি হলেন যে, তাদের বিবাহ উপলক্ষ্যে সারা পরিরাজ্যে উৎসব পড়ে গেল।

    এখন শোনো। কারোর যদি পরিদের এই দুষ্টুমি পছন্দ না হয়, কারোর যদি এই সব ঘটনা অবিশ্বাস্য আজগুবি মনে হয়, তাহলে তারা যেন তাদের নিজেদের স্বপ্নগুলির কথা স্মরণ করে। তারাও তো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে এমনই সব অভিযানের স্বপ্ন দেখে। তাই আশা করব, পাঠকেরা কেউই এই মিষ্টিমধুর নিরীহ চৈতালি রাতের স্বপ্নটিকে মনগড়া ভাববেন না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleডেজার্ট গড – উইলবার স্মিথ
    Next Article Henry VI (Part 1, 2, 3) – William Shakespeare

    Related Articles

    উইলিয়াম শেক্সপিয়র

    Henry IV (Part 1, 2) – William Shakespeare

    July 14, 2025
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র

    Henry VI (Part 1, 2, 3) – William Shakespeare

    July 12, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }