Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উতল হাওয়া – তসলিমা নাসরিন

    তসলিমা নাসরিন এক পাতা গল্প774 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২০. নারী

    নারী

    পঞ্চম বর্ষে দিনরাত্তির একটি জিনিসই করতে হয়, সেটি লেখাপড়া। সেটি থেকে আমারও নিস্তার পাওয়া হয় না। হাসপাতালে দিনে তো আছেই, রাতেও ক্লাস থাকে। অধ্যাপক দিনে পড়ান, রাতে পড়ান। কেবল অধ্যাপকই নন, ওপরের ক্লাসে যারা সবে ডাক্তার হয়েছেন, তাঁরাও পড়াতে ্‌ আসেন। রাজিব আহমেদও পড়াতে আসেন মেডিসিন বিভাগে। রাজিব আহমেদ এবারও প্রথম হয়েছেন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যত চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় আছে, সবগুলোর মধ্যে শেষ বর্ষের পরীক্ষায় প্রথম। ধন্দে পড়ি, এত জ্ঞান তিনি তাঁর ছোট্ট মাথাটিতে ধারণ করেন কি করে! আমার টেবিল জুড়ে রাজিবের সার্জারি মেডিসিন গাইনির খাতা। ছাপলে সাহেবদের লেখা বইএর চেয়ে ভাল বই হবে, আমার বিশ্বাস। রাজিবের করুণাধন্যা আমি, অকাতরে যা আমাকেই দিয়েছেন তাঁর রত্নরাজি। অথচ এই আমার দিকেও বড় একটা চোখ তুলে তাকান না তিনি। ডাক্তারি বিদ্যা ছাড়া অন্য কিছুতে তার কোনও ঝোঁক আছে বলে মনে হয় না। তিনি রোগীর মাথার কাছে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন রোগ এবং রোগ নির্ণয় এবং রোগের চিকিৎসায় দীক্ষা দিয়ে যান। রাত্তিরে ক্লাস শেষে আমাকে ফিরতে হয় বাড়িতে। একা ফিরতে ভয় হয়। অন্ধকারকে ভীষণ ভয় আমার। প্রায়ই ক্লাসের বন্ধুদের অনুরোধ করি আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসতে। যেদিন অমন কেউ থাকে না যাকে বলা যায়, তখন শহরে বাড়ি যে ছেলের, যে ছেলে শহরের দিকে যাচ্ছে, তাকে বলি আমার রিক্সার পেছনে যেন তার রিক্সা যায়, বাড়ি অবদি না গেলেও অন্ধকার পথটুকু অন্তত। অন্ধকারের কি শেষ আছে! পেছনের রিক্সা আমাকে অনেকটা পার করে দিলেও থোকা থোকা কিছু কালো একা পার হয়ে যাওয়ার জন্য রয়ে যায়। বিদ্যাময়ী ইশকুলের সামনে ডান দিকের যে গলিতে আমাকে ঢুকতে হয় বাড়ির পথে, অন্ধকার ভুতের মত পড়ে থাকে ও গলিতে—বুক ঢিপঢিপ করে, রিক্সাঅলাকে জোরে চালাতে বলি, যেন এই পথটি দ্রুত পার হয়—মনে হতে থাকে এই বুঝি এক পাল ছেলে আমাকে রিক্সা থেকে নামিয়ে কাছের কোনো ঝোপের আড়ালে নিয়ে ধষর্ণ করবে, ধর্ষণের পর বুকে ছুরি বসাবে, রিক্সাঅলাটিই হয়ত অন্ধকারে রিক্সা থামিয়ে আমাকে টেনে নিয়ে চলে যাবে কোথাও। দিনে যে কিছু ঘটে না তা নয়, এতকাল যা ঘটেছে, ঘটেছে দিনে। রিক্সায় বসা আমার দিকে কেউ শখ করে থুতু ছুঁড়ে দিল, পানের পিক ছুঁড়ে দিল, হা হা হাসল, খু খু কাশল। ঢিল ছুঁড়ল, ঢিল গেল কানের পাশ দিয়ে, ঢিল লাগল বুকে, মাথায়, হা হা হাসল, খু খু কাশল, দাঁত বেরোলো বত্রিশটি, খুশির দাঁত। রিক্সায় বসা আমার বাহুতে জ্বলন্ত সিগারেট নিবিয়ে মজা করল কেউ, কেউ ওড়না টেনে নিল, কেউ খোঁচা দিল, কেউ ধাক্কা, কেউ পথ আটকালো, কেউ বুক টিপে ধরল, হা হা হাসল, খু খু কাশল। তারপরও মনে হয়, দিনের চেয়েও রাত আরও ভয়ংকর, রাতে আরও ভয়ংকর কিছু ঘটতে পারে। রাত আমাকে অন্ধকার কুয়োয় জন্মের মত ডুবিয়ে দিতে পারে। বাড়ি পৌঁছে আমি নিঃশ্বাস ফেলি। প্রতিবারই বাড়ি ফিরে আসা প্রতিবারই একটি বেঁচে যাওয়া দিন। গায়নোকলজি বিভাগের রাতে ডিউটি থাকে, সারারাত। রাত আটটা থেকে সকাল আটটা অবদি। রাত আটটার ডিউটিতে আমি সন্ধে ছটায় গিয়ে বসে থাকি, অন্ধকার নামার আগে আমি চলে যাই হাসপাতালে, সময়ের পোঁছলে কোনো অসুবিধে নেই, সময়ের আগে চলে আসাই অসুবিধে। এই রাত্তিরের ক্লাস-ডিউটি আমাকে অন্ধকারের ভয় দিয়েছে বটে, কিন্তু একটি চমৎকার জিনিস দেখিয়েছে, ছায়াবাণী থেকে অজন্তা সিনেমাঘরের মাঝখানের রাস্তার কিনারে বসে কুপি জ্বেলে গ্রাম থেকে আসা বিভিন্ন বয়সের মেয়েরা চাল ডাল সবজি চিড়ে মুড়ি ইত্যাদি বিক্রি করছে। দৃশ্যটি আমাকে আলোড়িত করে, মাকে বলি ঘটনা, মা বলেন, ওদের মতও যদি হইতে পারতাম, তাইলে বাঁচতাম। আমার মনে হয় মা হয়ত ঠিক বলেন। ফুটপাতের ওই মেয়েদের যে দৃঢ়তা এবং সাহস দেখেছি তা আমি লক্ষ করি মার নেই, আমারই বা আছে কি? নারী আমাকে উদ্বুদ্ধ করে, উদ্বুদ্ধ করে কলম হাতে নিতে, দুটো শাদা কাগজ নিতে, লিখতে। আমি না লিখে পারি না।

    বিস্তৃত এলাকা জুড়ে মেয়ে মানুষেরা আজ বেসাতি সাজায়, দেহ নয়, রূপ নয়, সমুখে তাদের পণ্য ধুলায় বিছানো, কুমড়া পটল লাউ পুঁই আর ডাঁটা শাক ক্ষেতের বেগুন, কে যেন সুদূর থেকে করুণ বেসুরো বাঁশি নিয়ত বাজায়। কারো বউ, কারো বোন,কারো বা জননী তারা, তোমরা তো জানো, ঘোমটা ফেলেছে তারা, খসিয়েছে পান থেকে সংস্কারের চুন। অভাব নেমেছে দেশে, অসুরের শক্তি দেহে বেজায় বেহায়া, বিশাল হাঙর মখু , ছিঁড়ে খায় মাটি থেকে শস্যের শিকড়, অপয়া অভাব ঘরে শুষে খায় প্রিয় খুব ভাতের সুঘ্রাণ, মারমুখো জানোয়ার দুহাতে খাবলে নেয় প্রশান্তির ছায়া, রাত থেকে নিদ্রা কেড়ে আগামীর স্বপ্ন ভেঙে পুড়িয়েছে ঘর, ভিটেমাটি সব গেছে, পোড়া দেহে শুধু কাঁদে বিকলাঙ্গ প্রাণ। অন্ধকার জীবনের দরোজায় কড়া নাড়ে আলোকিত ক্ষিদে, বিকট হাত পা মেলে বেলাজ বেঢপ ক্ষিদে নৃত্য করে খুব, গতর খাটিয়ে খেয়ে অভাগীরা তীর ছোঁড়ে ক্ষিদের শরীরে, রঙচঙ মুখে মেখে তেরঙা শাড়িতে নয়, বড় সাদাসিধে, শহরের ফুটপাতে সাহসে দাঁড়লো এসে পুণ্যবতী রূপ, সুলভে শরীর নয়, গর্বিত নারীরা বেচে দধু কলা চিড়ে।

    নারীর জীবন আমাকে আয় আয় বলে ডাকে। নারী আমাকে ভাবাতে থাকে। নারীর দুঃখ বেদনা আমি অনুভব করতে থাকি। নিজে যে কষ্ট পেয়েছি জীবনে, সে তো নারীর কষ্টই। কেবল আমার কি! মনে হয় এ কষ্ট আরও হাজার নারীর।

    কোমল কুমারী নারী শরমে আনত মখু বিবাহের দিন, অজানা সুখের ভয়ে নীলাভ শরীর কাঁপে কি জানি কি হয়। সানাইয়ের সুর শেষ, রাত বাড়ে, বধূটির কন্ঠ হয় ক্ষীণ, পুরুষ প্রথম এসে নিশব্দ নির্জন ঘরে কি কথা যে কয়! দেবতা নামক স্বামী লাগিয়ে দোরের খিল বক্র চোখে দেখে, লোভনীয় মাংসময় অনাঘ্রাতা বালিকার সলজ্জ শরীর। বহুদেহ বহুবার উ−ন্মাচিত করেছে সে নিষিদ্ধ পল্লীর, অভ্যস্ত হাতের কালি নারীর কপাল জুড়ে ভাগ্যখানি লেখে। অবুঝ কিশোরী মেয়ে, স্বপ্ন সাধ ভাঙে তার, দুঃখে বাঁধে বুক, এরকমই বুঝি হয়, পৃথিবীর এরকমই নিয়ম কানুন। পিশাচি উল্লাস করে নি−ষ্পষিত দেহমনে বাসনার খুন, পরম সোহাগে বধূ উপহার নিল অঙ্গে নিষিদ্ধ অসুখ । বছর পেরোলে নারী বিকলাঙ্গ শিশু এক করলো প্রসব, জটিল রোগের বিষ, আগুন জ্বালিয়ে দেহে স্বাগত জানায়! সিফিলিস রোগ নাম, রক্তের প্রপাত বেয় বসত বানায়, পেলব শুভ্রতা ছেঁড়ে, বিষাক্ত নখরে ছেঁড়ে হাড় মাংস সব। রাত্রির হিংস্রতা এসে জীবনের সূর্য খেয়ে নেভায় সকাল, দুরারোগ্য কালো পাপ অকালে নারীকে শুষে কেড়ে নেয় আয়ু। অবশ হাত পা মেলে পড়ে থাকে বোবা কালা জর্জরিত স্নায়ু আছর করেছে জীনে—এমন কথাই লোকে জানে চিরকাল।

    আমাকে নারীতে পায়। আমাকে বেদনায় পায়।

    মেয়েটির বাপ নেই, জমিজমা কিছু নেই, কোমল বয়স, গ্রামজুড়ে কথা ওঠে, মায়ে তাকে খুঁটি দেবে পুরোনো ঘরের। কেউ তো নেয়না মেয়ে, বাঁশির বাদকও শুনি যৌতুকের বশ, কে তবে কোথায় আছে? ভীমরতি-বুড়ো পরে পোশাক বরের। বুড়োর হাপাঁনি রোগ, চারটে সতিন ঘরে ঠ্যাং মেলে শোয়, আকুল নয়নে মেয়ে চারপাশে খোঁজে শুধু বাঁচার আশ্রয়, কোথায় বাসর ঘর, ভেঙে চুরে স্বপ্ন সব ছত্রখান হয়, নিয়তির কাছে হেরে এইভাবে হল তার যৌবনের ক্ষয়।

    মা সে মা হোক, মা তো নারীই, মার কষ্টগুলো এই প্রথম আমি স্পর্শ করি।

    অনেক বলেছে নারী, তাবিজ কবজ করে ফেরাতে চেয়েছে, তবু তো ফেরে না স্বামী, একেতে মেটেনা শখ, বিচিত্র স্বভাব। কোথায় মোহিনী মায়া কি জানি কেমন করে কি সুখ পেয়েছে, একেতে মেটে না শখ, বিপুল আমোদে নাচে বিলাসি নবাব। একাকিনী ঘরে নারী চোখের জলের নদী বহায়ে ভীষণ, মাজারে পয়সা ঢালে পীরের মুরিদ হয় দুনিয়া বিমখু , বুকের ভেতরে তার কষ্টের পাহাড় জমে, ছেঁড়াখোঁড়া মন, বানানো বিশ্বাস নিয়ে বিকৃত স্নায়ুরা চায় দেখানিয়া সুখ । পীরকে হাদিয়া দিয়ে, মাজারে সেজদা দিয়ে উদাসীন নারী, একালে সুখের ঘর কপালে জোটেনি বলে পরকাল খোঁজে, খোদা ও নামাজে ডুবে দিতে চায় জীবনের হাহাকার পাড়ি, বিস্বাদ জীবনে নারী অ−লৗকিক স্বপ্ন নিয়ে চক্ষু দুটি বোজে।

    একদিন শেষ-বিকেলে সাফিনাজের সঙ্গে রিক্সা করে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছিলাম, গাঙ্গিনার পাড় থেকে ডানদিকে রিক্সা মোড় নিতেই ও চাপা স্বরে বলে উঠল,ওই যে দেখ প্রস্টিটিউট যায়। বল কি! আমি প্রতিবাদ করেছি। এ তো সাধারণ একটি মেয়ে। সাফিনাজ হেসেছিল শুনে। আমি এদের প্রায়ই দেখি রাস্তায়, কোনওদিন মনে হয়নি, এরা পতিতা। দরিদ্র মেয়ে, গায়ে সস্তা শাড়ি, মুখে হয়ত শখ করে আলতার রং লাগিয়েছে। এরকম শখ তো যে কোনও মেয়েরই হয়। রাস্তায় দেখা বেশ্যা নামের মেয়েটির প্রতি আমার কোনো ঘণৃা হয়নি। বরং ওর জন্য আশ্চর্য রকম মমতা জন্ম নেয় আমার।

    তিনকূলে কেউ নেই, ডাঙর হয়েই মেয়ে টের পেয়ে যায়, অভাবের হিংস্র হাত জীবন কামড়ে ধরে ছিঁড়েখুঁড়ে খায়। যুবতী শরীর দেখে গৃহিণরা সাধ করে ডাকে না বিপদ, বেসুমার ক্ষিদে পেটে, নিয়তি দেখিয়ে দেয় নারীকে বিপথ। দুয়ারে ভিক্ষার হাত বাড়িয়ে বেকার নারী তবু বেঁচে থাকে, স্টেশন কাচারি পেলে গুটিসুটি শুয়ে পড়ে মানুষের ফাঁকে। এইসব লক্ষ্য করে ধড়িবাজ পুরুষেরা চোখ টিপে হাসে, দেখাতে ভাতের লোভ আধাঁর নিভৃতে তারা ফন্দি এঁটে আসে। তিনকুলে কেউ নেই, কোথাও কিছুই নেই, স্বপ্ন শুধু ভাত, শরমের মাথা খেয়ে এভাবেই নারী ধরে দালালের হাত।

    প্রতিদিনই নারী আমাকে ভাবায়। কোনও নারীকেই আমার সুখী বলে মনে হয় না। এমন কি কি যে মেয়ে নাচছে, গাইছে, চমৎকার পোশাক পরছে।

    কাখের কলস ফেলে শোভন রমনী হয় ক্যাবারে ডান্সার, বাঁকানো দেহের ভাঁজে অশ্লীল ইশারা থাকে উন্মত্ত নারীর, ফুরিয়েছে চাল ঘরে, ভাবছে দেহের ভাড়া এ মাসে বাড়াবে, নেশাখোর পুরুষেরা চোখের ভাষায় ডাকে নিকটে আসার। যাত্রার উদ্বাহু নৃত্য ছেড়ে নগ্নপ্রায় নারী লাখপতি ঘাটে, এখন বাজার ভাল, যতটুকু পারা যায় করবে সম্বল। সকলে হাতিয়ে নেয় সুবিধা স−ম্ভাগ যত মুখোশের নিচে, নারীর মুখোশ নেই, লোকে তাকে পাপ বলে পৃথিবীর হাটে। রূপালী পর্দার লোভ পুষছে যতনে খুব মগ্ন নিরন্তর, ধাপে ধাপে উধের্ ওঠে, আসলে পাতালে নামে প্রগাঢ বিষাদ, শিল্পের সুনাম ভেঙে পতিত জমিনে গড়ে সুরম্য নরক, কালো হাত দূরে থাকে, নিয়ন্ত্রণ তার কাছে, ভাঙে সব ঘর। কাখের কলস ভাঙে, নারীকে দেখিয়ে দেয় আধাঁরের পথ, কালো হাত আছে এক, লোমশ নৃশংস হাত কলকাঠি নাড়ে, বিপুল ধ্বংসের ধ্বস তৃতীয় বি−শ্বর কাঁধে ভাঙছে ক্রমশ, ভাঙছে স্বপ্নের ঘর, সুবর্ণ কঙ্কণ আর সোনালিমা নথ।

    অথবা

    বাপের ক্যান্সার রোগ, মরণ দুয়ারে এসে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফিরিয়ে নিয়েছে চোখ, গুটিয়ে রেখেছে হাত পরম স্বজন, রোজগারি ছেলে নেই, কিচিমিচি ভাইবোন দুবেলা উপোস, চাকরির খোঁজে নারী মধ্যাহ্নের পথে রাখে কোমল চরণ। এত বড় রাজধানী, আপিস দালানগুলো আকাশকে ছোঁয়, নগরের মাটি চষে প্রয়োজনে নারী কোনও পেল না ফসল। কোথাও ভরসা দিলে বিনিময়ে সরাসরি পেতে চায় দেহ, দ্বিপদী জীবনের ভিড়, কোথাও মানুষ নেই, সকলে অচল। শরীরের ঘ্রাণ পেলে শেয়াল শকুনগুলো নখর বসায়, উপোসের আয়ু বাড়ে, অভাবের বানে ভাসে সুফলা সংসার। খড়কুটো আঁকড়িয়ে জীবন বাঁচালো নারী উজানের জলে, দাঁড়াবার মাটি নেই, তুমুল তুফানে নদী ভাঙে দুই পার।

    গলায় রুমাল বেঁধে শহরতলির ছেলে ভোলায় নারীকে, ঝোপের আড়ালে নারী প্রেম শিখে পার করে নিদ্রাহীন রাত, ধং্ব সের আগুন দেখে ভালোবেসে গলে যায় মোমের মতন, প্রেমিকের হাত ধরে অবুঝ কিশোরী মেয়ে ফেলে যায় জাত। ছলাকলা পৃথিবীর কিছুই জানে না নারী, অবাক দুচোখ! সুদূরে পালিয়ে দেখে ছেলের মুখোশ খুলে বিকট আদল, কোথাও স্বজন নেই, আটকা পড়েছে এক সুচতুর ফাঁদে, প্রেমান্ধ যুবতী মেয়ে শেখেনি চিনতে হয় কি করে আসল। আঁধার গলিতে ছেলে চড়াদামে বিক্রি করে রূপসী শরীর, সমাজের উঁচুমাথা তাবৎ বিজ্ঞেরা দেয় কপালের দোষ, শরীরের মাংস নিয়ে রাতভর হাট বসে, দরদাম চলে, আমাদের বোন ওরা, টাকার বদলে দেয় খানিকটা তোষ। আমার দেশের নারী গলিত শবের মত নর্দমায় ভাসে, ভয়াল রাতের গ্রাস আকাঙক্ষা চিবিয়ে খেয়ে ফেলে রাখে বিষ, সজোরে হাত পা বেঁধে সেই বিষ কে ঢেলেছে এইসব মুখে? মরণের জ্বালা এরা পোহাতে জীবনভর পৃথিবীতে আসে?

    আরও নারীর মখু চোখে ভাসে আমার, আরও নারী আমাকে কাঁদাতে থাকে।

    কোলের বাচ্চাটা কাঁদে, পুঁজ ও পাঁচড়া ভরা ঘিনঘিনে দেহ, বুকে তার দধু নেই, বেকার রমণী চায় ঘরে ঘরে স্নেহ, শ্রমের জীবন চায়, বিনিময়ে ভাত চায় রাতে, সন্তানের শিক্ষা চায়, চিকিৎসার নিশ্চয়তা পেতে চায় হাতে। এ হাতে কে দেবে চাবি, ওই চাবি কোন ঘরে, কে রাখে লুকিয়ে? অসুখে অভাবে ভুগে সন্তানেরা ফি বছর মরছে শুকিয়ে। মাস মাস স্বামী জোটে, গোখরা সাপের মত ফণা তুলে চায়, সোমত্থ শরীরে তারা সন্তানের বিষ ঢেলে গোপনে পালায়। ওই চাবি কোন ঘরে? পেতে চায় নারী খুব সিন্দুকের স্বাদ, আসলে একাকী নয়, দল বেঁধে যেতে হয় ভাঙতে প্রাসাদ।

     

    ইচ্ছে হয় প্রতিদিন এমন করে নারীর কষ্টগুলো লিখি, প্রতিদিন লিখি। কিন্তু জটিল চিকিৎসাশাস ্ত্র উড়িয়ে নিতে থাকে সমস্ত সময়। কলেজ থেকে ক্লাস করে বিকেলে বাড়ি ফিরে খেয়ে বিশ্রাম নিতে নিতেই আবার সময় হাসপাতালে যাওয়ার। প্রতিদিন নারী নিয়ে মগ্ন হয়ে থাকা সম্ভব হয় না। এ তো টেবিলে বসে বই পড়া নয় আর, যে, বই থেকে মাঝে মাঝে চোখ সরিয়ে অন্য কিছুতে দিতে পারি। দৌড়োতে হয় হাসপাতালে। দিনেও যেমন, রাতেও তেমন। রোগী টিপে পরীক্ষা করতে হয়, এভাবেই পড়া। বইপড়া বিদ্যেয় ডাক্তার হওয়া যায় না, রোগী পড়তে হয়। মেডিসিনে যেমন রাজিব আমাদের বাড়তি ক্লাস নেন, গাইনি বিভাগে নেন হীরা, হীরা দীর্ঘদিন থেকে আছেন এই স্ত্রীরোগ আর প্রসুতিবিদ্যা বিভাগে, নিজে তিনি বড় কোনও ডিগ্রি নেননি, কিন্তু গাইনি বিদ্যায় তিনি এক নম্বর, কাটা ছেঁড়ায় তাঁর মত দক্ষ অনেক অধ্যাপকও নন। হীরা রোগিও পান প্রচুর। অনেকে বলে স্বয়ং জোবায়েদ হোসেনের চেয়ে হীরার প্র্যাকটিস ভাল। তা হয়ত বাড়িয়ে বলে, কিন্তু কলেজের সহযোগি অধ্যাপক সহকারি অধ্যাপক রেজিস্টার ক্লিনিক্যাল এসিস্ট্যান্টএর চেয়ে হীরার ভাল কামাই এ নিয়ে সন্দেহ নেই কারও। মেডিসিনে না হয় প্রভাকর পুরকায়স্থ আছেন, বাঘ নন তিনি যাই হন। জোবায়েদ হোসেনকে দেখে বাঘে ছাগলে একঘাটে জল খায়, এমন ভয়ঙ্কর। সার্জারির এনায়েত কবির যেমন। কোনো ধমক লাগানো বা দাঁত খিঁচিয়ে কিছু বলার দরকার হয় না, এ দুজনের উপস্থিতিই যথেষ্ট ছাত্রছাত্রীদের হাড় ঠাণ্ডা করে দেওয়ার জন্য।জোবায়েদ হোসেন ছফুট লম্বা, চোখে চশমা, ঢিলেঢালা শার্ট প্যান্ট পরনে, লম্বা একটি এপ্রোন, খুলনার উচ্চারণে কথা বলেন, যখন ওয়ার্ড থেকে ওয়ার্ড ঘোরেন, পেছনে একগাদা ডাক্তার আর ছাত্রছাত্রী, যেন ভগবান হাঁটছেন, পেছনে পয়গম্বরবৃন্দ (ডাক্তার), শাগরেদবৃন্দ (ছাত্র-ছাত্রী)। কিন্তু নিজেকে যখন হাঁটতে হল জোবায়েদ হোসেনের, মনে হয়নি আমি তাঁর শাগরেদ,যেন বিচারের অপেক্ষায় থাকা আসামি। বিচারের সময় সামনে, পরীক্ষা সামনে। কি কারণে আমি জানি না, আমাকে নজরে রাখেন তিনি। অধ্যাপকদের নজর দু প্রকার, এক খারাপ, দুই ভাল। নজরে পড়ার পর ঠিক বুঝে পাই না, এ ঠিক কোন ধরনের নজর। কখন কোন ক্লাসে দেরি করে এসেছি, প্রসবকক্ষে কতগুলো প্রসব ঘটিয়েছি এসব তাঁর মুখস্ত একরকম। আচমকা স্ত্রীরোগসম্পর্কিত জটিল কোনও প্রশ্ন করে বসেন যে কোনো জায়গায়, ওয়াডের্, করিডোরে, অপারেশন থিয়েটারে, প্রসবকক্ষে। আমাকে তটস্থ থাকতে হয়, ক্লাস শেষ হলে জোবায়েদ হোসেন যে পথে যান তার আশপাশ দিয়েও আমি হাঁটি না। দূর থেকে তাঁকে দেখলে দ্রুত আমার গতি এবং গন্তব্য দুইই পরিবর্তন করি তাঁর মুখোমুখি না হওয়ার জন্য। মুখোমুখি হওয়ার একটি বিপদ আছে, অবশ্য না হওয়ারও বিপদ আছে। মুখোমুখি হলে তিনি আচমকা প্রশ্ন করতে পারেন, যার উত্তর, আমি নিশ্চিত নই আমার বিদ্যের ঝুড়িতে আছে। আর না হওয়ার বিপদটি হচ্ছে তিনি কোনো একদিন বলে বসতে পারেন এ মখু তো সচারচর দেখা যায় না হাসপাতালে, তার মানে পড়াশোনায় ফাঁকি দিচ্ছ। মুখ চিহ্নিত হওয়ার ভাল দিক যতই থাক, আমি এড়িয়ে চলি তাঁর ছায়া। অন্য ছাত্রছাত্রীরা দূর থেকে তাঁকে দেখলে শথ্ল পায়ে এপ্রোনটি টেনে টুনে এমনকি কোনো বই খুলে সে বইয়ের দিকে চোখ বুলোতে বুলোতে এগোয়, আর জোবায়েদ হোসেন কাছাকাছি হলে একটি সালাম ঠুকে দেয়। এটি করার কারণটি হচ্ছে ছাত্র বা ছাত্রীটি যে ক্লাসে কেবল নয় করিডোরেও পড়ছে এবং আদব কায়দাও ভাল জানে সে ব্যাপারটি জোবায়েদ হোসেনের মস্তি−স্কর স্মরণ-কোষে ঢুকিয়ে দেওয়া, পরীক্ষার সময় এই স্মরণ কোষে কোনওরকম টোকা যদি পড়ে। ভাল পড়াশোনা করলেই যে ডাক্তারি পাশ করা যায় তা নয়। শিক্ষকদের করুণা না জুটলে সব গেল। এক্সটারনালদের কবল থেকে বাঁচার জন্য ইন্টারনালদের ওপর ভরসা করতেই হয়, ইন্টারনালদের শ্যেন নজরে পড়লে এক্সাটারনাল আর ইন্টারনাল এই দুকবলে পড়ে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না। বাবা এ কলেজের অধ্যাপক বলে যে এনায়েত কবির আর জোবায়েদ হোসেনের মত হিংস্র বাঘের কবল থেকে রক্ষা পাবো, তা মনে করার কোনও কারণ নেই। এ কথা বাবাও বলে দিয়েছেন। যত ছাত্র ছাত্রী মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তার হয়ে বেরোতে গিয়েও বেরোতে পারে না, কারণ এই শেষ পরীক্ষাতেই দূর্ঘটনাটি ঘটে। আমার সঙ্গেই ক্লাস করছে আমার চেয়ে দুবছর তিনবছর এমনকি পাঁচ ছ বছর আগে আটকে যাওয়া ছাত্র ছাত্রীরা। ওদের মলিন মখু দেখে নিজের ভবিষ্যতের কথা ভাবি, এরকমই কি হতে যাচ্ছি আমি!সুতরাং আমাকে বাবার উপদেশে আর জোবায়েদ হোসেনের ভয়ে মনোযোগী হতে হয় তা নয়, নিজের জন্যই হতে হয়, এক ক্লাসে দুদুবার পড়ে থাকলে নিজের জীবনের যে সমস্যা, তার সমাধান তো হবেই না বরং আরো জট পাকাবে, যত দ্রুত ঝামেলা শেষ করে রুদ্রর সঙ্গে সংসার করা যায়, রুদ্রর এলোমেলো জীবনকে পরিপাটি করা যায়!সংসার করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সে, যে সংসার তাকে স্থিরতা দেবে বলে সে বিশ্বাস করে, প্রতিজ্ঞা করেছে যে ভুলটি সে করেছে এমন ভুল ভবিষ্যতে হবে না আর, আশায় আশায় থেকে বছরগুলি এই তো ফুরিয়ে আসছে, রুদ্র পরিকল্পনা করে ফেলেছে পাকাপাকি ভাবে সে ঢাকায় চলে আসবে, ঢাকায় ছাপাখানার ব্যবসা শুরু করবে। রুদ্রর এই উদ্যোগ আমার জ্বলতে থাকা পুড়তে থাকা স্বপ্নের বাড়িঘরে ফোঁটা ফোঁটা জলের মত ঝরে।

     

    প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের প্রসবকক্ষে বিরামহীন আসছে বিভিন্ন বয়সের প্রসূতি, কেউ প্রথম সন্তান, কেউ দ্বিতীয়, এমনকি সপ্তম সন্তানও জন্ম দিতে। যন্ত্রণায় চিৎকার করে প্রসুতিরা।একটি নিম্নগামি চাপের উপদেশ দিই তাদের। যে চাপের ফলে জলের থলি নেমে আসবে নিচের দিকে, থলি ফুটো করে দিলে পৃথিবীর পথে যাত্রা করবে একটি শিশু। এই যাত্রা যেন শুভযাত্রা হয়, শিশুর হৃদপিণ্ডের ধ্বনিতে যেন কোনও কিন্তু না থাকে, সেদিকে চোখ কান খোলা রাখি। পথ প্রশস্ত করে দিই শিশুর যাত্রায় যেন বিঘ্ন না হয়। কিন্তু যখনই, সে প্রথম হোক, দ্বিতীয় হোক তৃতীয় হোক, আগমন ঘটে কোনও শিশুর, যদি সে মেয়ে-শিশু হয়, আর্তনাদ করে ওঠে শিশুর মা। কক্ষের বাইরে অপেক্ষারত আত্মীয়দের কাছে কন্যাসন্তান জন্মের খবর দেওয়ামাত্র মখু গুলো চোখের সামনে বিষাদে আচ্ছত হয়। মেয়ে জন্ম যে কি রকম অনাকাংখিত, তা আমার প্রতিদিন দেখা হতে থাকে। সাতটি পুত্রসন্তান জন্ম দেবার পর কেউ হয়ত একটি কন্যাসন্তান আকাঙক্ষা করে, তাও হাতে গোনা কজন মাত্রই করে। কন্যা নয়, কন্যা নয় পুত্র চাই পুত্র চাই, এই প্রবল প্রখর আকাঙক্ষা নিয়ে প্রসূতির আত্মীয়রা ভিড় করে প্রসুতিকক্ষের বাইরে। কন্যাজন্মদানের পর আমি একুশ বছর বয়সী এক তরুণীর আর্তনাদ থামাতে বলেছিলাম, নিজে মেয়ে হয়ে আপনি একটি মেয়ের জন্ম চাইছেন না, ছি!

    তরুণী অস্ফুট স্বরে বলল, আমারে যে তালাক দিবে, তালাক দিলে আমি কই যাবো!

    তালাক দিবে কেন? একটা সুস্থ সুন্দর বাচ্চা জন্ম দিছেন আপনি। আপনার খুশি হওয়ার কথা। মিষ্টি খাওয়ান সবাইরে।

    মেয়ে জন্ম দিছি আপা। আমি তো অপয়া!

    ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে তরুণী। প্রসবকক্ষের দেয়ালে দেয়ালে ধ্বনিত হতে থাকে, আমি তো অপয়া, আমি তো অপয়া। কানে হাত চাপা দিয়ে বেরিয়ে যাই আমি।

    ডাক্তারদের, হতে যাওয়ার ডাক্তারদের, নার্সদের জন্য খাঁচা ভরে মিষ্টি আসে প্রসবকক্ষের বাইরে। সে মিষ্টি পুত্রজন্মের আনন্দে। আমি অপেক্ষা করে থাকি কন্যা জন্মের কারণে কোনও একটি দম্পতির সন্তুষ্টি দেখার। আমার দেখা হয় না।

    মেয়ে হইছে, তাতে কি হইছে। মেয়েরাই তো ভাল। মেয়েরা বাপ মায়ের দেখাশোনা করে। আপনার মেয়েরে লেখাপড়া করাইবেন, ইশকুল কলেজে পড়াইবেন, আমার মত ডাক্তার হবে আপনার মেয়ে। দুঃখ করবেন না। বলে বলে যতবারই আমি কাঁদতে বারণ করি দুঃখিতা নারীদের, ততই তারা কাঁদে, প্রাণ ভরে কাঁদে প্রসব কক্ষের ভেতর। জরায়ুর ফুল ঝরে যায়, অন্তরে বিঁধে থাকে সহস্র কাঁটা। কেবল পুত্রসন্তান জন্ম দিলেই প্রসব যন্ত্রণা ম্লান হয়ে প্রশান্তির হাসি ফোটে মুখে, প্রসবকক্ষে হাসি ফোটে, প্রসবকক্ষের বাইরে ফোটে। প্রসব যনণ্ত্রার চেয়েও বড় এক যন্ত্রণা বুকে নিয়ে আমাকে প্রতিদিন প্রসবকক্ষ থেকে বেরোতে হয়। সমাজের বিকট কৎু সিত রূপটি পরিষ্কার হতে থাকে চেতনায়। কে আমি কি আমি কেন আমি এই প্রশ্নগুলো আমি তসবিহর গোটা নাড়ার মত নাড়তে থাকি। অনাকাঙ্খিত কোনও কন্যা সন্তান, কন্যাসন্তান জন্ম দিয়ে আর্তনাদ করা প্রসবকক্ষের কোনও দুঃখিতা এবং এই আমার মধ্যে কোনও পার্থক্য খুঁজে পাই না।

    সমাজের নিয়মগুলো ছিঁড়ে ফেলার জন্য যখন আমার হাতদুটো নিশপিশ করছে, লিলির গালে একটি শক্ত চড় কষাই কেন আমি একবার নয় চার চার বার ডাকার পরও ও কাছে আসেনি, কেন জানতে চায়নি আমার কি প্রয়োজন। চড় খেয়ে থতমত খাওয়া লিলিকে ধাক্কা দিয়ে দরজার বাইরে ঠেলে বলি, যা এক্ষুনি চা নিয়া আয়। লিলি, দশ বছর বয়সের মেয়েটি নিঃশব্দে চোখের জল ফেলতে ফেলতে যায় রান্নাঘর থেকে এঁটো বাসনের সপ্তূ নিয়ে কলতলার দিকে যেতে থাকা তার মায়ের কাছে বলতে যে আমি চা চাচ্ছি। লিলির মা সপ্তূ নামিয়ে রেখে চায়ের পানি বসায় চুলোয়। লিলি ধীরে হেঁটে, যেন ছলকে না যায়, ধোঁয়া ওঠা চা এর কাপটি রেখে যায় টেবিলে। একটি মলিন হাফপ্যান্ট পরনে লিলির, খালি গা, পায়ের হাঁটু অবদি ধুলো, নাকে একটি দপু য়সা দামে কেনা একটি টিনের নাকফুল। আমি যখন চা খেতে খেতে কন্যাজন্ম নিয়ে একটি কবিতা লেখার চেষ্টা করছি, মনোযোগ ছিন্ন করতে এ সময় কেউ ঘরে ঢুকুক আমি চাইনি। কিন্তু মা কেবল ঢোকেন না, তিক্ত স্বরে বলেন, ডাক্তার হইতাছস বইলা কি মানুষরে মানুষ জ্ঞান করস না নাকি? এত দেমাগ তর?

    কেন কি হইছে? আমি বিরক্ত কণ্ঠে বলি।

    এই বাচ্চা মেয়েডারে যে মারলি, এইভাবে মারা কি ঠিক হইছে তর? মেয়েডার গাল লাল হইয়া রইছে।

    আমি লিলি লিলি কইয়া অনেকক্ষণ ডাক দিছি। আইল না কেন?

    আইল না হয়ত শুনে নাই। হয়ত দূরে ছিল। তাই বইলা মারবি? একটা গরিব বাচ্চা। বাপ নাই। মা মানুষের বাড়িত কাম কইরা খায়। ছেড়িডা ফুটফরমাইস করে, দৌড়াইয়া দৌড়াইয়া করে। করে যে এইডাই তো বেশি। তার মায়ে তো দিন রাইত খাটতাছে। গরিব মাইনসেরে মারিস না। আল্লাহরে অখুশি করিস না। এইসবের শাস্তি তো আল্লাহ দিবেন। ধর্ম বিশ্বাস করস না। আল্লাহ মানস না। তর কপালে যে কি আছে!

    মা সরে যান। আবার মিনিট দুই পর এসে টেবিলে ছড়ানো কাগজ থেকে নারী বিষয়ে লেখা কবিতাগুলো আমার দিকে ঠেলে দিয়ে বলেন, এই যে মেয়েদের নিয়া কবিতা লেখস, অথচ মেয়েদের গায়ে হাত তুলস! কি লাভ এইসব লেইখা তাইলে!

    আমার হাতে শাদা কাগজ, কাগজে কাটাকুটি করা কবিতার দুটি লাইন। আমার চোখ দুটি লাইনে। আমার মন অন্যত্র।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্বিখণ্ডিত – তসলিমা নাসরিন
    Next Article আমার মেয়েবেলা – তসলিমা নাসরিন

    Related Articles

    তসলিমা নাসরিন

    লজ্জা – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    আমার মেয়েবেলা – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    দ্বিখণ্ডিত – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    কিছুক্ষণ থাকো – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    ভালোবাসো? ছাই বাসো! – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    তসলিমা নাসরিন

    ভ্রমর কইও গিয়া – তসলিমা নাসরিন

    August 21, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }