Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উত্তরসাধক – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প289 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উত্তরসাধক – ১০

    অধ্যায় : ১০

    গ্রীষ্ম আসতে আসতে কেওড়াখালির পাতকুয়োগুলো সব হয়ে গেল। নলকূপ পাঁচটা। একটি যৌথ পোলট্রি ও ডেয়ারি। লেগহর্নের ছানা এসেছে দেবপ্রিয়র মেজ জেঠুর ফার্ম থেকে। পুরোটাই ফ্রি। ডেয়ারি আরম্ভ হয়েছে আপাতত দুটো মহিষ এবং দুটি মাত্র গরু দিয়ে। এগুলিও পৃথ্বীন্দ্রনাথ অনেক কমদামে দিয়েছেন। মুরগী প্রতিপালন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেবার জন্য তিনি স্বয়ং একটি কর্মী নিয়ে এসে কদিন থেকে গেছেন। ছাত্রসংঘের কড়া নির্দেশ এই দুধ এবং ডিম গ্রামের সব পরিবারকে প্রয়োজন অনুসারে বিতরণ করা হবে। যৌথ মালিকানা ছাত্রসংঘের এবং গ্রামের। আপাতত যা হচ্ছে তাতে ওরা পেটে খাক। ব্যবসার কথা পরে ভাবা যাবে। লোকগুলো যেমনি গরীব, তেমনি অলস। চাষবাসের কাজ ছাড়া আর কিছু করতে চায় না। মেয়েরা যত সহজে লেখাপড়া শিখে গেল, বয়স্ক পুরুষদের তত সহজে শেখানো যাচ্ছে না। যাই হোক সার্ভের রেজাল্ট ভালোই। গণস্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে, স্বাস্থ্যের নিয়ম পালন করতে শিখেছে মোটামুটি। অল্পবয়সীরা সবাই ব্যায়াম ও খেলাধুলো করে, দুধ ডিম খাচ্ছে সবাই এবং প্রত্যেকটি লোকের প্রাথমিক বর্ণপরিচয় হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালাচ্ছে নীলমণি ও রতন নামে দুটি ঊনিশ কুড়ি বছরের ছেলে। নিরঞ্জন খাঁড়া হেড মাস্টারমশাই বয়স্ক শিক্ষার স্কুলের জন্য খুব পরিশ্রম করছেন। মাথায় ঘোমটা টেনে শ্রদ্ধাশীলা চাষী-বউরা পড়তে আসছে, নিরঞ্জনবাবু দেয়ালের দিকে তাকিয়ে পড়িয়ে চলেছেন। গ্রামের মেয়েদের জলের জন্য অত সময় ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে না, সে সময়টুকু তারা খুশী হয়ে লেখাপড়া শিখছে। মেধার পরিকল্পনা মেয়েদের স্বাবলম্বী করার জন্য তাদের কিছু শেখানো দরকার। তিনি পরামর্শ নিচ্ছেন কি করা যায়।

    এই সময়ে, অপারেশন কেওড়াখালির তৃতীয় পর্যায়ের শুরুতে মৈথিলী ঠিক করল একটা মস্ত দল কেওড়খালি যাবে। ডাঃ দাশগুপ্তর ফার্মাকোলজি ক্লাসেই সে দেবপ্রিয়কে ধরল। ওকে চট করে ধরা যাচ্ছে না আজকাল। পড়াশোনা নিয়ে খুব বেশি ব্যস্ত বলেও তো মনে হয় না। ওর মেজজেঠুকে বলে মুরগী ও গরু মহিষের ব্যবস্থা করে দিল। মেজজেঠু ট্রেনিং-এর জন্য স্বয়ং কেওড়াখালি গেলেন পর্যন্ত। কিন্তু সেই চ্যারিটি শোর পর থেকেই দেবপ্রিয় ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ হয়ে আছে। ক্লাসের শেষে পেছন থেকে এগিয়ে গিয়ে দেবের কনুইটা শক্ত করে ধরল মৈথিলী। দেবপ্রিয় চমকে পেছন ফিরে তাকাল। এক লহমার জন্য তার চোখে যেন কেমন একটা ধরা-পড়ে-যাওয়ার দৃষ্টি দেখল মৈথিলী। সে বলল—‘দেব, আজ আমাদের বাড়ি চলো, দরকার আছে।’

    —‘কি দরকার?’

    ‘সে যাই-ই হোক না কেন, জরুরি দরকার, এখানে বলা যাবে না।’

     

     

    বাসে দুজনে আলাদা আলাদা বসেছে। চুপচাপ আসতে হল। মৈথিলীর বাড়ি চ্যাপেল রোডে, খুব ছায়াময় রাস্তাটা। পাশাপাশি চলতে চলতে দেবপ্রিয় হঠাৎ বলল—‘আমিই আসতুম। দরকারটা তোমার চেয়ে আমারই বেশি। কিন্তু সময় পাচ্ছিলুম না।’

    বৈজু দরজা খুলে দিল। এখন মৈথিলীর বাবা-মা দুজনেই দিল্লি। দেবপ্রিয়কে নিজের ঘরে বসিয়ে মৈথিলী মায়ের ঘরে জামাকাপড় বদলাতে গেল। বৈজুকে বলতে হবে ভালো কিছু জলখাবার তৈরি করতে। দেব অনেক দিন পর এলো।

    নিজের ঘরে ঢুকে সে অবাক হয়ে গেল, দেবপ্রিয় স্মোক করছে। মৈথিলীর কাছ থেকে একটা ছাইদান চাইল।

    —‘দেব, তুমি সিগারেট ধরলে কবে?’

    —‘অনেক দিন। ধরো, যতদিন তুমি তোমার খবরটা আমার কাছে চেপে রেখেছ।’

    —‘কি খবর?’ মৈথিলী হালকা সুরে বলল।

     

     

    দেবপ্রিয় হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে বলল—‘কি খবর তুমি জানো না? তোমার রেজাল্টের সঙ্গে আমার রেজাল্ট অদল-বদল হয়ে গেছে এই সাংঘাতিক জরুরি খবরটা!’

    মৈথিলী বসে পড়ে বলল—‘দেব, ইট মাস্ট হ্যাভ বিন অ্যানাদার মিসটেক। দেখো এইচ.এস.-এ আমার রেজাল্ট দেখে স্কুলের কেউ বা আমি নিজে বিশ্বাস করতে পারিনি। তাই রিভিউ করতে দিয়েছিলুম। দুবছর পর রেজাল্ট যখন এলো খুলে দেখলুম তারা কৈফিয়ত দিচ্ছে অন্য কার সঙ্গে নাকি আমার রেজাল্ট অদল-বদল হয়ে গিয়েছিল। মার্ক্সগুলো হুবহু তোমার। আমি বিশ্বাস করিনি। এই নিয়ে কী অসম্ভব হই-চই হবে জেনে আমি নিজে বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করি। ওঁরা তখনও তোমাকে জানাননি। বুঝতেই পারছ, ওদেরও কী ভয়াবহ অবস্থা। চেয়ারম্যানের কাছে তখনই আমি জানিয়ে আসি আমি আমার আগের রেজাল্টটাই অ্যাকসেপ্ট করব। কারণ দেব, এবারের রেজাল্টটাও আমি অ্যাকসেপ্ট করতে পারছিলাম না। অঙ্কে আমি সিম্পলি দুশর মধ্যে দুশ পেতে পারি না। সেকেন্ড পেপারে দশ নম্বর আমি উত্তরই করিনি। আমার ধারণা আমার স্কুল, বাবার নাম, হোম সেক্রেটারির চিঠি ইত্যাদিতে ভয় পেয়ে ঘাবড়ে গিয়ে ওরা আরও একটা সাঙ্ঘাতিক ভুল করেছে। কোথাও একটা গণ্ডগোল ঠিকই আছে, সেটা লোকেট করতে পারেনি, শুধু শুধু তোমার মার্কশীটটা নিয়ে টানাটানি করছে শুদ্দু তোমাদের সেন্টারের কোড নং ওয়ান এইট এইট আর আমাদেরটা সেভন ফোর ফোর বলে। সেভন আর ওয়ানে লেখবার দোষে গোলমাল হয়, আর ইংরেজি এইট আর বাংলা ফোর এক। আমি প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলাম। বলে এসেছি উনি যদি ফারদার এ নিয়ে আর কিছু করেন আমি কেস করব। তখন স্টেট এবং সেন্টারের মন্ত্রীদের কাছ থেকে পর্যন্ত চাপ আসবে। খাতাগুলো নিয়ে ছেলেখেলা করবার দুবছর বাদে এসব সংশোধন করা যায় না।

     

     

    দেবপ্রিয় বলল—‘শুনেছি। উনি আমার স্কুলে ব্যক্তিগত চিঠি দিয়ে আমায় ডেকে পাঠান। সমস্ত ঘটনা জানান। মৈথিলী আমি কি তোমার চ্যারিটির ওপর আমার কেরিয়ার গড়ব?’

    মৈথিলী বলল—‘দেব, য়ু হ্যাভ প্রুভড্‌ ইয়োর সেল্‌ফ্‌ এগেইন অ্যান্ড এগেইন। মেডিক্যাল কলেজের টার্মিনাল পরীক্ষাগুলো তো আর এইচ-এস-এর প্রহসন নয়।’

    —‘হয়ত প্রোফেসররা আমার রেজাল্টের কথা জানেন বলে বায়াজ্‌ড্‌ হয়ে মার্কগুলো দ্যান।

    —‘ক্লাসগুলো? ক্লাসে তোমার উত্তরগুলো? আমরা যেগুলো কেউ পারি না, তুমি তো সেগুলো…’

    —দেবপ্রিয় বলল—‘আমার ধারণা মৈথিলী, তারপর থেকে তুমি ফ্রাস্ট্রেটেড হয়ে গেছ। পড়াশোনা সীরিয়াসলি নিচ্ছো না, যে জন্য নিজেকে ভোলাতে তুমি ছাত্রসংঘও নিয়ে মেতেছে।’

    মৈথিলী বলল—‘বিশ্বাস করো দেব, আমি আমার যা পড়ার পড়ছিই। এর চেয়ে বেশি মনোযোগ আমি একটা জিনিসে দিতে পারি না। আর পড়াশোনার চেয়ে এইসব কাজে আমার আগ্রহ অনেক বেশি। ডাক্তারি পড়া মানে এতো সময়, এত ডিভোশন যদি আমি আগে জানতাম ফিজিওলজি কি বায়ো-কেমিস্ট্রি নিয়ে পড়তাম। এদিকে আসতামই না। আমি বিশ্বাস করি ওরা আমারটা ঠিক করতে গিয়ে আরেকটা মারাত্মক ভুল করেছে। না হলে অঙ্কের ব্যাপারটা কি করে এক্সপ্লেন করবে?’

     

     

    —‘ওটা তুমি বানাচ্ছো, মৈথিলী!’

    —‘কী! বানাচ্ছি! আমি…দেব তুমি আমাকে জানো না। আমি সত্যি বলছি—সেকেন্ড পেপারে দশ নম্বর আমি সল্‌ভ্‌ করিনি। সময় পাইনি। কিন্তু আমি শিওর ছিলাম একশ নব্বই আমি পাবোই। ঠিক আছে অনেস্টলি বলো—তুমি কত উত্তর করেছিলে?’

    দেবপ্রিয় বলল—‘উত্তর দুশই করেছি। কিন্তু তোমার মতো শিওর ছিলুম না যে দুশয় দুশই পাবো।’

    ‘এনি ওয়ে তুমি দেখছ তো। তোমার দুশ আসতে পারে। আমার আসতে পারে না। অথচ রিভিউ করে ওই অদ্ভুত চারশ বিশ রেজাল্টটা ওরা আমায় পাঠালো। আমি নিশ্চিত ওরা জানে তোমাদের মফঃস্বলের স্কুল বা তুমি ক্যানডিডেট এ নিয়ে বিশেষ কিছু করতে পারবে না। অপর পক্ষে, আমি হয়ত সব তোলপাড় করে ফেলব। ভয়ের চোটে ওরা উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়েছে। দেব, প্লীজ এ নিয়ে তুমি একদম ভাববে না। তোমার ওপর অন্যায় অবিচারটা আমি আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে বন্ধ করেছি। আই অ্যাম সরি দ্যাট আই এভার স্টার্টেড ইট। দীজ পীপ্‌ল আর অল সো ইনকমপিটেন্ট, সো ক্যালাস অ্যান্ড সো করাপ্‌ট্‌।’

     

     

    দেবপ্রিয় ভাবিত গলায় বলল—‘আমি খুব ভালো পরীক্ষাই দিয়েছিলুম। কিন্তু স্বপ্নেও ওই রেজাল্ট আশা করিনি মৈথিলী।’

    —‘আশা করো নি, কারণ মফঃস্বলে তোমাদের মাস্টারমশাইরা আমাদের এদিকের মতন চুলচেরা বিচার করেন না। ওঁদের অ্যাসেসমেন্টে হয়ত একটা কমপ্লেক্সও কাজ করে। তাছাড়াও প্রতিযোগিতা কম। কলকাতার মতো শহরে, আমাদের মতো স্কুলে কমপিটিশন কি চেহারা নেয় তুমি ধারণাই করতে পারবে না। ধর কোনও কম্পোজিশনের টাস্‌ক আছে। এক্স-এর সঙ্গে ওয়াই-এর এক নম্বরের তফাৎ। আমাদের ক্লাসে বোঝানো হত এক্স একটা চমৎকার ইডিয়মেটিক ফ্রেজ ব্যবহার করেছে, বড় বড় মনীষীদের ব্যবহার করা বাক্যবন্ধ। সুতরাং, ওয়াই তোমাকে ওইরকম দুটো ব্যবহার করতে হবে বেশি মার্কস পেতে গেলে। একদম পরীক্ষা-মুখী পড়াশোনা, কোচিং। কী বিশ্রী তুমি ভাবতে পারবে না দেব। তোমরা যা করো স্বাধীনভাবে নিজেরা করো, তোমাদের কাজে স্বকীয়তা থাকে, আনন্দও থাকে। কবে যে এই কোচিং সিসটেম, পরীক্ষার এই পদ্ধতি ভেঙে পড়বে, চুরমার হয়ে যাবে আমি সেইদিনের অপেক্ষায় আছি। আমার নিজের ধারণা প্রথম একশ কি দুশ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে গুণগত কোনও তফাৎ নেই। এদের মধ্যে যে কেউ প্রথম আসতে পারে। সবটাই নির্ভর করছে সেই অজানা এক্স-ফ্যাকটার-এর ওপরে। যাকে অবৈজ্ঞানিক মনের লোকেরা লাক নাম দিয়েছে। তার উপরে আছে ভুল, গাফিলতি। পর্বতপ্রমাণ। ওদের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত ওরা করুক। আমরা কেন করতে যাবো!’

     

     

    —‘তুমি তো করছো। তোমাকে করতে হচ্ছে। জয়েন্টে তুমিই সর্বপ্রথম ছিলে মৈথিলী!’

    —উঃ আবার সেই এক কথা। তুমি কি বিশ্বাস করো জয়েন্টটা সত্যি-সত্যি ট্যালেন্টের পরীক্ষা?’ প্রত্যেকটি প্রশ্নের সঠিক সংক্ষিপ্ত জবাব তোমার আগে থেকে জানা চাই, নইলে তুমি পারবে না।’

    —‘তোমার জানা ছিল?’

    —‘প্রত্যেকটি জানা ছিল। আমাকে যিনি কোচ করতেন তিনি প্রত্যেকটা ঘড়ি ধরে করিয়েছিলেন। সেখানে তুমি নিভর্র করছে তোমার স্বাভাবিক স্মৃতি, স্বাভাবিক বুদ্ধি ও স্পীডের ওপরে। আমাদের সঙ্গে তুমি পারবে কি করে?’

    —‘তুমি কি বলতে চাও তোমার কোচ সব প্রশ্ন জানতেন? এই রকম করাপ্‌ট্‌ সবাই?’

    —‘আমি জানি না। আপাততঃ আমি জানতে চাই না। আই অ্যাম নাউ এ হানড্রেড টাইম্‌স্ মোর ইন্‌টারেস্টেড ইন হেল্পিং বিল্ড অ্যান আইডিয়্যাল ভিলেজ।’

     

     

    দেবপ্রিয় উঠে দাঁড়াল। বলল—‘কিন্তু আমি যে জানতে চাই! শিক্ষাব্যবস্থা যদি এভাবে আমাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তবে ছাত্র হিসেবে আমার প্রথম কর্তব্য কি নয় এই দুর্নীতি আর গাফিলতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা। এই করাপশন তো সর্বত্র ছড়াবে। যার যেখানে পৌঁছবার কথা সে সেখানে পৌঁছতে পারবে না। তোমার আদর্শ গ্রামই কি এর থেকে বাঁচবে? মৈথিলী, আমার মনে হয় তোমার শক্তি তুমি ভুল খরচ করছ। বলব না তুমি স্বার্থপর, তুমি আমার জন্য যে স্যাক্রিফাইস করলে তার ম্যাগনিচুড আমি এখনও কল্পনা করতে পারছি না। কিন্তু প্রোগ্রাম নির্বাচনে তোমার কোথাও ভুল হয়ে যাচ্ছে। হয়ত তোমার এতো পরিশ্রম শেষ পর্যন্ত বৃথা প্রমাণিত হবে।’

    —‘হোক দেব। তুমি বসো তো! আমরা যে যার সাধ্যমতো চেষ্টা করি। পুরোপুরি সফল হবার আশা যে দুরাশা তা আমার জানা আছে। তুমি কি জানো, পালানকে আমি আর ধরতে পারছি না! উত্তর কলকাতায় একটা দক্ষিণ কলকাতায় একটা আসর করলাম, ইচ্ছে ছিল—জেলায় জেলায় করব। কিন্তু ওকে দূরদর্শনে সুযোগ করে দেওয়ার পর ও নানা জায়গায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে। আমার কাছে খবর আছে ভারত সরকার লোকোৎসব করবে আবারও। দলবল নিয়ে রাশিয়া যাবে। এখন ছাত্রসংঘের জন্য গান করতে হলে ওকে অনেক কম টাকায় করতে হবে। কেষ্ট পালান খগেন কাউকে আমরা ধরতে পারছি না। এটা আমাদের একটা ব্যর্থতা। কিন্তু দুতিনজন সত্যিকারের শিল্পী এই যে পরিচিতি পেল, মান পেল, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারল-এটাও তো খানিকটা সাফল্য!’

     

     

    ‘সাফল্য নয়, জীবনযাত্রার মাপকাঠি হবে সততা, আন্তরিকতা, দক্ষতা, মৈথিলী, অন্য কিছু নয়। আমাদের নিজেদের মধ্যে যেন অন্তত পক্ষে এই মূল্যবোধ নিয়ে বিভ্রান্তি না থাকে। সাফল্যের চাকচিক্য দেখে যদি ভুলে যাই এর ভেতরে অনেক স্বার্থপরতা, গৃধ্নুতার অন্ধকার আছে তবে আমাদের সংঘ টংঘ গড়ে কোনও লাভ নেই। এরকম প্রতিষ্ঠান তো চারদিকে প্রচুর আছে। তাদের সংখ্যায় আর একটা যোগ করাই কি আমাদের উদ্দেশ্য! পালান গ্রামে গ্রামান্তরে গান গেয়ে সাধারণ চাষীভুষো গরিব লোককে অনাবিল আনন্দ দিচ্ছে, পরিবর্তে সে পরিশ্রমের অন্ন খাচ্ছে তার গ্রামের মাটির বাড়ির দাওয়ায় বসে, এ দৃশ্যটা সুন্দর। সুটবুট পরে ভি. আই. পি. সুটকেস হাতে রাশিয়ায় যাবে বলে সে প্লেনে উঠছে এবং তোমাকে এড়াবার জন্য যথাসম্ভব কৌশল অবলম্বন করছে এ দৃশ্যটা কল্পনা করতে আমার মোটেই ভালো লাগছে না।’

    বৈজু অনেক খাবার-দাবার করে এনেছে, সে হাসিমুখে এসে বললে—‘দেবুদাদা, খাও। অনেকক্ষণ পড়া লেখা করেছ দুজনে। বাব্‌বাঃ আমারই গলা শুকিয়ে গেল।’

    বৈজু চলে গেলে মৈথিলী বলল—‘দেব তুমি আমাকে কথা দাও, ওই পরীক্ষার রেজাল্টটার ব্যাপার নিয়ে তুমি তোমার মনের মধ্যে কোনওরকম কমপ্লেক্স রাখবে না!’ দেবপ্রিয় উত্তর দিল না।

     

     

    —‘কথা দাও দেব। আমি তোমাকে যথেষ্ট কারণ দেখিয়েছি আমার সিদ্ধান্তের।’

    —‘যদি কথা-টথা না-ই দিই, তো তুমি কি করবে?’—দেবপ্রিয়র মুখে দুর্লভ হাসি। মৈথিলীর মনে হল দেবপ্রিয় সহসা হাসে না, খুব গম্ভীর প্রকৃতির। তার হাসি দুর্লভ বলেও এত অসামান্য সুন্দর। যেন গম্ভীর নিশীথ আকাশের বুক হাসিয়ে হঠাৎ ত্রয়োদর্শীর ফালি চাঁদ ওঠা।

    মৈথিলী হেসে বলল—‘ইন দ্যাট কেস আমি বোর্ডের যতজন পারি কর্মীর চাকরি খাওয়ার জন্যে চেষ্টা করব। এনকোয়ারি কমিশন বসবে, বার করবে আমার অঙ্কের খাতা কে দেখেছিল। পরীক্ষক, স্ক্রুটিনিয়ার যে যেখানে আছে সবাইকে খাবো। শুধু হোম সেক্রেটারি নয়, ডেপুটি কমিশনার ক্যালকাটা পুলিস আমার বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মন্ত্রী শান্ত্রী মহলেও কিছু কিছু চেনাশোনা আছে।’

    দেবপ্রিয়র হাসিটা ক্রমশঃ বিস্তৃত হয়ে যাচ্ছে। বললে—‘বাজে কথা বলছো।’

    —‘কোনটা, চাকরি খাওয়ার কথাটা? না চেনাশোনা থাকার কথাটা?’

     

     

    —‘প্রথমটা।’

    —মৈথিলী বলল—‘হায় দেবপ্রিয় তুমি জানোই না আমি হোয়াইট লাই ছাড়া মিথ্যে কথা বলি না।’

    দেবপ্রিয় মিটিমিটি হেসে বলল—‘জানি। তা এটা সেইসব সাদা মিথ্যের একটা নয় তো?’

    —‘ন্‌ নো! নেভার!’ মৈথিলী জোরে জোরে হেসে উঠল।

    দেবপ্রিয় বলল—‘মৈথিলী তোমাকে আমি যতই আবিষ্কার করছি ততই ভালোবেসে ফেলছি। নিশ্চয় বুঝতে পারছ কি বলতে চাইছি!’

    মৈথিলী চেয়ারটা দোলাতে দোলাতে বলল ‘শিওর! তোমাকেও আমি যে পর্যন্ত প্রীতি করি, তাহা বোধ করি মনুষ্যে সম্ভবে না।’

    দুজনেই খেতে খেতে হাসছে। হঠাৎ চেয়ারটা থামিয়ে মৈথিলী বললে—‘ভুলেই গিয়েছিলাম। দেব, তুমি সিগারেট খাওয়া কবে থেকে ধরলে!’

     

     

    দেবপ্রিয় বলল—‘যেদিন বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ইন্টারভিউটা সেরে এলুম সেইদিন থেকে। কিন্তু সেটা ছিল সাময়িক। সিগারেটের নেশাটা জমে উঠেছে যেদিন থেকে একজন আমার পকেটের নির্দোষ প্যাকেটটা বার করে নিয়ে সেখানে অন্য একটা প্যাকেট ভরে রাখে। একই রকম দেখতে, খালি সিগারেটগুলো আলাদা।’

    —‘মানে?’

    —‘মানে খুব জটিল মৈথিলী। ছাত্রসংঘের কেউ আমাকে ড্রাগ ধরাতে চাইছে।’

    —‘হো-য়াট!’ মৈথিলীর হাত থেকে টুং করে চামচ পড়ে গেল—‘কি বলছো? কে?’

    —‘এখনও শিওর হতে পারি নি। কিন্তু প্রায় ধরে ফেলেছি। আমি প্যাকেট থেকে দুটো খেয়েই বুঝতে পারি, কোথাও একটা গণ্ডগোল আছে। আগে কখনো খাইনি বলে ধরতে দেরি হল। ভেবেছিলুম অ্যানালিসিস করবো, কিন্তু লুকু সব মাটি করে দিল।’

    —‘লুকু?’

    —‘হ্যাঁ। ও আবার হয়ত মজা করেই আমার প্যাকেট থেকে বাক্সটা চুরি করে, না পেয়ে প্রথমটা আমি বুঝতে পারিনি, ভেবেছি যে দিয়েছিল সেই নিয়ে নিয়েছে। তারপর কেমন সন্দেহ হয়। লুকু সেদিন চ্যারিটি শো-এ থেকে থেকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলছিল—‘কার কি হারিয়েছে, মদনমোহন পালিয়েছে।’ তোমরা চলে গেলে কেওড়াখালি, শুনলুম লুকু যায়নি, অসুস্থ। কেমন মনে হল, ওর বাড়ি গেলুম দুপুরবেলায়। যা ভেবেছি ঠিক। একটু আগেই সিগারেট খেয়েছে। গন্ধ পেলুম। ভীষণ বমি করল। স্বীকারও করল। ও অবশ্য বুঝতে পারেনি সিগারেটে ড্রাগ ছিল। ও নিশ্চয়ই আমার কার্যকলাপ খুব রহস্যজনক মনে করেছে। কিন্তু খালি প্যাকেটটা পেলুম, আটটা সিগারেট ফুঁকে দিয়েছে। অ্যানালিসিস করানো হল না। যাই হোক আমার ধারণা—ওটা হেরোইন।

    —‘বলো কি? সেইজন্যে তুমি কেওড়াখালি যাচ্ছো না?’

    ‘সেটা একটা কারণ। কিন্তু আমি প্রবলেমটাকে এড়াতে চাইছি না। আমি ওই ছেলেটিকে খুঁজে বার করবই। মৈথিলী তোমরা কিন্তু সাবধান। আমি একাই যে ওর লক্ষ্য তা না-ও হতে পারে। প্রথমে আমার তাই মনে হয়েছিল, এখন আমি শিওর ও সব্বাইকে ড্রাগ ধরাতে চাইবে। যারা যারা স্মোক করে, তাদের সবাইকে সাবধান করে দেওয়া দরকার।’

    —‘কেন এর উদ্দেশ্য কি? নিজে লেজ কাটা শেয়াল, তাই সবাইকার লেজ কাটতে চাইছে?’

    —‘উঁহু তাহলে তো সোজাসুজি অফার করতে পারত। কলকাতায় এসে আমি বেশ কয়েকটা নেশাড়ে গ্রুপের সংস্পর্শে এসেছি যারা আমাকে সোজাসুজি ‘গুরু গুরু’ বলে নেশা ধরাতে চেয়েছে। এরা নিজেরা নেশাড়ে, এখন ড্রাগ-পেডলারও হয়ে গেছে। এটা অন্য কিছু। কি আমি এখনও ঠিক বুঝতে পারি নি। বোঝবার চেষ্টা করছি।’ বলতে বলতে দেবপ্রিয় অস্থিরভাবে পায়চারি করতে শুরু করল। ফিরে দাঁড়িয়ে বলল—‘মৈথিলী তোমরা বারবার রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছো, মনে আছে সেদিন দুদলের দুজন তোমাকে নির্বাচনে দাঁড়াতে বললে তুমি কিভাবে ওদের এড়িয়ে গেলে! এই রাজনৈতিক দলগুলো সব একেকটা বড় বড় ক্ষমতালোভী চক্র। এরা যেমন তেমন করে নিজেদের দল বাড়াতে চায়। যে কোনও মূল্যে। বয়স্ক ভোটাধিকারের দেশে এটাই ওদের একমাত্র উপায়। কোনও নীতি নয়, আদর্শবাদ নয়, শুদ্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ফলে হু হু করে বেনোজল ঢুকছে সর্বত্র। এ যদি রামা গুণ্ডাকে তোষণ করে তো আরেকজন করে শামা গুণ্ডাকে। ছাত্র-ছাত্রীরা কোনও রাজনৈতিক দল ছাড়াই শুধু সোশ্যাল ওয়ার্কের জন্য সংঘবদ্ধ হচ্ছে এটা কোনও পার্টিরই ভালো লাগবার কথা নয়। আবার দেখো, দেশের যুবশক্তিতে ঘুণ ধরিয়ে দেবার জন্যও একটা চক্র আছে। স্বদেশী কি বিদেশী জানি না। তাছাড়াও আছে সিম্পলি টাকা। মাদকের ব্যবসা করে যারা কোটি কোটিপতি হচ্ছে তাদের জাল ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীর সর্বত্র। এখন কি মোটিভ এখানে কাজ করছে বলা শক্ত। তবে তুমি সতর্ক হয়ে তোমার কাজ করে যাও, আমি এর শেষ দেখবই।’

    মৈথিলী উদ্বিগ্ন হয়ে বলল—‘আমায় বলবে না দেব, ঠিক কাকে তোমার সন্দেহ?’

    —‘সন্দেহের কথা বলতে নেই। মৈথিলী, তোমার ঘনিষ্ঠদের মধ্যেই কেউ। বি ভেরি ভেরি কেয়ারফুল।’

    —‘তুমি একা এই সব চক্রের পিছনে ঘুরো না দেব। এগুলো হঠকারিতা। মেধাদিকেই বা বলছ না কেন?’

    দেবপ্রিয় চেয়ারে বসে পড়ল, বলল—‘মৈথিলী মিস ভাটনগরের ব্যাকগ্রাউন্ডটা আমায় বলতে পারো? উনি দু দফায় দশ বছরের ওপর স্টেটসে কাটিয়ে হঠাৎ ফিরে এলেন কেন? ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গেই বা ওঁর দহরম মহরম কেন? সহকর্মীদের সঙ্গে তেমন সদ্‌ভাব নেই। একা-একা থাকেন। ভদ্রমহিলা খুব রহস্যময়!’

    মৈথিলী হেসে বলল—‘সি আই এর জুজু দেখছ না কি? তুমি মেধাদির সঙ্গে একটু মেলামেশা করো। অত রহস্যময় ওঁকে আর লাগবে না। আসলে তুমি রজ্জুতে সর্পভ্রম করছ। দেবপ্রিয় বলল—‘তুমি কি জানো মৈথিলী, মেধা ভাটনগর ছাত্র-জীবনে বিপ্লবী মার্কসিস্ট ছিলেন পরে হঠাৎ উধাও হয়ে যান। ওর নেকস্‌ট ট্রেস পাওয়া যায় বস্টনে। এখন আবার উনি হঠাৎ কলকাতায় এসে বসেছেন।’

    মৈথিলী বলল—‘মার্কসিস্ট হওয়াটা কি অপরাধ?’

    —‘একেবারেই না। মৈথিলী দেখো, আজকালকার যুগে এমন কে আলোকপ্রাপ্ত ব্যক্তি আছে যে মার্কসিজমের কতকগুলো বেসিক টেনেট অস্বীকার করে! কে সাম্য চায় না? আমাদের ছাত্রদের মধ্যে এমন কে আছে যে পুঁজিবাদের সপক্ষে কথা বলবে? কেউ না। আমরা সবাই চাই এ এসট্যাবলিশমেন্ট ভেঙে গুঁড়িয়ে যাক। অন্য কিছু আসুক। কিন্তু আমরা যা চাই সেই দুর্নীতিমুক্ত কুসংস্কারমুক্ত, ভয়হীন, ন্যায়পরায়ণ খোলা আবহাওয়া যেখানে মানুষের ন্যূনতম প্রয়োজন—খাদ্যের, স্বাস্থ্যের, বস্ত্রের, শিক্ষার, প্রয়োজন মিটবে সে কি মার্কসিজমের পথেই কোথাও এসেছে? বিপ্লবের পথ দিয়েই কি তা এলো? বরং ঘোলা জলকে আরও ঘুলিয়ে দিয়ে গেল সব।’

    —‘ঠিক আছে আসেনি। তুমি তার জন্য মেধাদিকে একা দায়ী করছ কেন?’

    —‘প্রথমত এই জন্য যে এঁরা অল্প বয়সে মার্কসিজমে দীক্ষিত হয়েছিলেন, অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছেন। কোনও মতবাদই বাস্তব অবস্থা নিরপেক্ষ তো হতে পারে না। আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কসিস্ট থিয়োরিতে কোথায় কোথায় পরিবর্তন দরকার সেটা তাঁদের বুঝতে পারার সময় ও সুযোগ ছিল, সেটা তাঁদেরই দেখবার কথা, মার্কসের ভূত তো সেটা দেখবেন না! কোনকালে ওল্ড টেস্টামেন্ট বলে গেছে সাতদিনে বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিল, ক্রিশ্চানরা আজ কি তা মানে? কোন কালে টলেমি বলে গিয়েছিলেন সূর্য পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে আজ কি আমরা তা মানি? তবে? তাঁরা ভাবলেন না। কিচ্ছু করলেন না, স-ব পশ্চাদপসরণ করলেন। কেন? ঊনিশ শতকের য়ুরোপে ইণ্ডাস্ট্রিয়াল রেভোল্যুশনের পটভূমিকায় যে থিয়োরি গড়ে উঠেছিল ভারতের অর্থনৈতিক বিন্যাসে তার কতটা রদবদল করা দরকার তাঁরা ভাবলেন না। কিচছু করলেন না, স-ব পশ্চাদপসরণ করলেন। কেন? যে আদর্শ গ্রহণ করেছিলেন তার রূপায়ণে যেই অসুবিধে দেখা দিল, অমনি মোহভঙ্গ হল, অমনি পলায়ন করলেন? যাই বলো, এটাও সুবিধাবাদ। একবার প্রমাণ হয়ে গেছে উনি কিচ্ছু করতে পারেন নি। এখন আবার ফীল্ডে নেমেছেন, কেন? দুনিয়ার বহু ইনটেলেকচ্যুয়ালকে আমি এইভাবে পালাতে দেখছি। প্রথমে মার্কসিজম লেনিনিজম মাওইজম তাঁদের ভীষণ আকর্ষণ করে, তাঁরা বড় বড় কবিতা লিখে ফেলেন। পরে মোহভঙ্গ হয়, গালাগাল বর্ষণ করতে থাকেন। তাঁদের খেয়াল হয় না, ভুলটা দেখতে পেয়েও তাকে না শুধরে পালিয়ে যাবার জন্য তাঁরা আরও বেশি সমালোচনার যোগ্য।’

    —মৈথিলী তর্কে যোগ দিল না। শুধু বলল—‘দ্বিতীয় কারণ?’

    —‘দ্বিতীয় কারণ এই যে মিস ভাটনগর তাঁর পূর্ব পরিচয় আমাদের কাছে গোপন রেখেছেন। আমি তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানতে পেরেছি মেজজেঠুর কাছ থেকে। মেজ জেঠু সে সময়ে সরকারি চাকরি করতেন। অনেক কিছু জানেন। মেধা ভাটনগর নাম শুনেই চিনতে পেরেছিলেন, আমাকে পরে বলেছিলেন এরা ভাঙার দলে। খালি ভাঙতে চায়।’

    —‘দেব, মানুষ কি বদলায় না? যিনি এক সময় ভাঙার পক্ষে ছিলেন, তিনি কি এখন গড়ার দলে আসতে পারেন না?’

    —‘মানুষ বদলায় মৈথিলী, কিন্তু যখন কেউ কোনও তত্ত্বকে গভীরভাবে জীবনে গ্রহণ করে তখন সেই তত্ত্বটা সম্পর্কেও তার দায়িত্ব থাকা দরকার। ধরলুম আর ছাড়লুম, ছাড়লুম আর আমেরিকা উড়ে গেলুম আমার সুবিধে আছে বলে—এ আমি সমর্থন করতে পারি না।’ মৈথিলী স্পষ্টই খুব উদ্‌বিগ্ন হয়ে পড়েছে, সে বলল—‘দেব, তুমি মেধাদিকে এমন কঠোরভাবে বিচার করার আগে ওঁর সঙ্গে মেশো। ওঁর দৃষ্টিভঙ্গিটা জানো। জেনারালাইজ করো না। মেধাদির ভিতরে কোথাও একটা তীব্র জ্বালা আছে, দুঃখ আছে। সেটা ঠিক ব্যক্তিগত কারণে নয় বলে আমার মনে হয়। আমরা শুধু শুধু ওঁকে আমাদের চেয়ার পার্সন করিনি।’

    দেবপ্রিয় এখন অনেকটা শান্ত হয়ে গিয়েছিল, আস্তে আস্তে বলল—‘আমার আশঙ্কাগুলো সম্পর্কে ওঁকে আমি কিছুদিন আগে একটা চিঠি দিয়েছিলুম মৈথিলী। তখন আমারও ওঁর ওপর আস্থা তোমার মতোই। উনি সেই জরুরি চিঠিটার কোনও উত্তর তো দিলেনই না। মাঝে মধ্যে যখন দেখা হয় সেটার উল্লেখও করেন না। উপরন্তু আমার সঙ্গে এমনভাবে কথা বলেন যেন আমি একটা বাচ্চা ছেলে, আমার অসুখ করেছে, উনি আমাকে লজেন্স দিয়ে ভোলাবেন। মৈথিলী আমি তোমাদের প্রত্যেককেই স্টাডি করছি। তুমি এই পরীক্ষায় পাশ করে গেছ তাই তোমায় এতো কথা বললুম। অন্য অ্যানালিসিসগুলোর রিপোর্ট-এর জন্য অপেক্ষা করছি। ইন দা মিন টাইম তুমি গোপনতা রক্ষা করবে।’

    মৈথিলী হেসে বলল—‘তোমার কি সন্দেহ আছে, তাতে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকুশে পা – বাণী বসু
    Next Article শ্বেত পাথরের থালা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Our Picks

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }