Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উত্তরসাধক – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প289 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উত্তরসাধক – ১২

    অধ্যায় : ১২

    এবার অরুণা দিল্লি থেকে ফিরলেন বড় অন্যমনস্ক হয়ে। মৈথিলী এখন এতো ব্যস্ত যে সে মায়ের এই ভাবান্তর লক্ষ্যই করল না। রাতে দুজনে খেতে বসে, মৈথিলী খেতে খেতে পড়ে, অনেক সময়ে কয়েক গ্রাস খেয়ে নিয়ে বলে—‘মা উঠব?’

    —‘ওঠ।’

    —‘তোমার দেরি আছে?’

    —‘না, হয়ে এলো।’ মা যে খাবার নিয়ে নাড়াচাড়া করছে, ভালো করে খাচ্ছে না বা খেতে পারছে না, মৈথিলীর নজরে পড়ে না।

    খাওয়ার পরে সে নিজের ঘরে চলে যায়, হয় পড়তে থাকে, নয় ছাত্রসংঘের কিছু-কিছু হিসেব-পত্র করে। অনেক সময়ে অরুণা ঘরে ঢোকেন।

    —‘কি করছিস, মুন্নি?’

    —‘পড়ছি মা, তোমার ঘুম পায়নি।’

    —কিরকম একটা চাপা অভিমানের সঙ্গে অরুণা বলেন—‘হ্যাঁ, এইবার ঘুমোব, যাই।’

    মাঝে মাঝে সামান্য একটু গল্প করে মৈথিলী। বেশির ভাগই তার কাজের গল্প। মা ফিকে হেসে বলে—‘বাঃ, তা হলে তো তোরা সত্যিই ভবিষ্যৎ ভারতবর্ষের জন্ম দিচ্ছিস!’

    মৈথিলী বলে—‘মা, আমি অত বড় করে ভাবি না। একেবারে সামনে, এক্ষুনি যে কাজটা রয়েছে সেটাকেই করে ফেলতে চাই। আমার যেটুকু সামর্থ্য আছে সেটুকু দিয়ে। কেওড়াখালির একটা ম্যাপ দেখিয়ে মাকে সব কিছু বোঝাতে থাকে সে।

    কয়েকদিন পর সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরে বসবার ঘরে একজন অস্বাভাবিক কালো গ্রাম্য মানুষকে বসে থাকতে দেখল সে। ধপধপে শার্ট আর প্যান্ট পরে ভদ্রলোককে আরও কালো দেখাচ্ছে। চওড়া চোয়াল। মাথায় ঘন চুল। মার সঙ্গে কথা বলছেন। মৈথিলী ভেতরে চলে যাচ্ছিল। মা ডাকল—‘মুন্নি, এদিকে এসো একবার।’ সে কাছে আসতে বললো—‘ইনি মহাদেব সোরেন, তোমার বড় মামা।’

     

     

    মৈথিলী তার সমস্ত বিস্ময় চেপে পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে যাচ্ছিল, ভদ্রলোক খুব সঙ্কুচিত হয়ে তাঁর ধূলিধূসরিত চটি-পরা পা দুখানা সরিয়ে নিলেন। বললেন—‘বাস, বাস, তুমার কন্যা তুমারই মতো স্কলার হচ্ছে তো! আয়ে এস হবেক?’

    মা বললে—‘না, ও ডাক্তার হচ্ছে।’

    —‘ডাক্তার! উ ডাক্তার! বা! বা! বা! একটা কম্মের মতো কম্ম হইচে। বাঃ ডাক্তার?’

    মা বললে—‘ভেতরে যা মুন্নি, বৈজু খাবার দেবে।’

    কথাটা বলার দরকার ছিল না। মৈথিলী চলেই যেত। এ ঘরটা তাদের সম্পূর্ণ বাইরের লোকেদের বসবার ঘর। বাবার অফিস-সংক্রান্ত অতিথিরা এখানে বসেন। ভেতরে রয়েছে মস্ত বড় হল। তার একদিকে বসবার আয়োজন, আরেক দিকে খাওয়ার টেবিল, ফ্রিজ, সাইড বোর্ড। ঘনিষ্ঠ জনেরা ভেতরের এই ঘরে বসেন। সে ভেতরে যেতে বৈজুদা খুব গম্ভীর ভাবে টেবিলে জলখাবার রেখে বলল—‘মড়া কেটেছো মুন্নি, জামাকাপড় ছাড়ো আগে!’

     

     

    —‘কি আশ্চর্য! মড়া কাটিনি! ওসব অনেক দিন হয়ে গেছে। বিশ্বাস করো!’

    —‘তোমাদের আর কি! ঘেন্না-পিত্তি নেই।’

    মৈথিলী সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে এসে বসল। তার ভীষণ খিদে পেয়েছে। হঠাৎ বৈজু বলল—‘এবার বাড়িতে এতো সাঁওতাল আসে কেন মুন্নি! জানো?’

    —‘একদম না’, মৈথিলী বলল, বোঝাই যাচ্ছে এই ভদ্রলোকের পরিচয় এখনও বৈজুদা জানে না, সে হেসে বলল—‘এলে তোমার আপত্তি আছে না কি?’

    বৈজু মুখটাকে গোমড়া করে রেখেছে। সে বিহারী ব্রাহ্মণ! তার অনেক বাহানা আছে। বহু দিন ধরে সে সাহেব-মেমসাহেবদের সঙ্গে থেকে থেকে একরকম বাঙালিই হয়ে গেছে। কিন্তু তার জাত্যভিমান যায়নি।

    মৈথিলীর মনে হল মস্ত একটা ভুল হয়ে গেছে, তার বয়স্ক-শিক্ষার তালিকার সর্বপ্রথমে বৈজুদার নাম থাকা উচিত ছিল। বৈজুদা অবশ্য সাক্ষর। সে নিয়মিত পোস্ট-অফিসে টাকা রাখতে যায়, টাকা তোলে, মনি-অর্ডারের ফর্ম ভর্তি করে, তুলসীদাসও পড়ে, কিন্তু মৈথিলীদের লক্ষ্য সাক্ষরতা নয়, শিক্ষা। প্রথম-প্রথম ওরা ব্যাপারটা অতটা বোঝে নি। কিন্তু একটা মাত্র প্রোগ্রামে গিয়েই ওদের চোখ ফুটে যায়। অক্ষর পরিচয়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন ওরা কুসংস্কারের ভিতটা ধরে আস্তে আস্তে টান দেয়। চুপচাপ খাওয়া-দাওয়া সেরে সে বাথরুমে ঢুকল। চান করল বেশ অনেকক্ষণ ধরে। ঠিক এই সময়টায় সে সাধারণত বাড়ি ফেরে না। আজকাল ছাত্রসঙেঘর একটা স্থায়ী অফিসের দরকার হচ্ছে। এতদিন কখনো উজানের বাড়ি, কখনো প্রমিতের বাড়ি, এবং নিজেদের মধ্যে ভাগ করে তারা দরকারি ফাইলপত্র রাখত। এখন একটা ফাইল ক্যাবিনেট কেনা হয়েছে। মেধাদির বাড়ির নিচের তলাটা ফাঁকা থাকে, একখানা ঘর উনি ছেড়ে দিয়েছেন সেক্রেটারিয়েট টেবিল, পুরনো দিনের সিন্দুক এইসব ব্যবহার করতে দিচ্ছেন। কলেজ ফেরত প্রায়ই ওখানে গিয়ে কাজ করতে হয় দুজন কি তিনজন মিলে কাজ সারে। এক-এক দিন ফিরতে বেশ রাতই হয়ে যায়। গত ক’দিন ধরেই তার ভীষণ খাটুনি যাচ্ছিল, মেধাদি বলে দিয়েছিলেন এ সপ্তাহের বাকি দিন কটা লুকু, গুঞ্জন আর বুল্টু কাজ করবে। মৈথিলীর ছুটি। কলেজ থেকে আজ সোজা বাড়ি এসেছে সে।

     

     

    এই সাঁওতাল ভদ্রলোকটি তার মামা? জীবনে এ কথা মৈথিলী এই প্রথম শুনল। সে চিরকালই সরকারি বাংলোর আবহাওয়ায় মানুষ হয়েছে। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে তার মা-বাবার সম্পর্ক কম। বাবার বন্ধু-বান্ধবের অভাব নেই। তাঁরা তাদের পারিবারিক বন্ধু, কিন্তু বাবার দিকে তার বিশেষ কেউ নেই। ঠাকুমা যতদিন ছিলেন, বাবা যাতায়াত করতেন ভাগলপুরে। কিন্তু ঠাকুমা তার খুব অল্প বয়সে মারা গেছেন। মাকে সে চিরকালই খুব নিবিড়ভাবে পেয়েছে, কিন্তু কখনও বিশেষ মামার বাড়ির কথা বলতে শোনেনি। নীতামাসি বলে একজনই মাসি আছে তার, তাঁর বাবা-মা, মায়ের জ্যাঠামশাই, জেঠিমা। তবে একেবারে নিজের নয় এটাই তার জানা ছিল। এই দাদু-দিদা এখন থাকেন পণ্ডিচেরির আশ্রমে, নীতামাসি থাকেন মাদ্রাজে। দাদু-দিদা তো কখনোই আসেন না। নীতামাসিকেও সে বড় হবার পর মাত্র দুবার দেখেছে।

    আজ চান করতে করতে সে ভাবতে লাগল তাহলে তার মার আপন জনেরা ছিলেনই নীতামাসিরা ছাড়াও? তার বড়মামা সাঁওতাল? কিন্তু নীতামাসিরা তো ঘোষ, সোরেন পদবীর সঙ্গে ঘোষ পদবীর তো কোনও সম্পর্ক নেই? সবই কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ টয়লেটের আয়নায় নিজের মুখের ছায়ার দিকে তার নজর পড়ল। মুখটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল মৈথিলী। হ্যাঁ, সন্দেহ নেই। এই চোখ মুখ নাক সব আদিবাসী ফীচার্স। তার মা চকচকে কালো, মহাদেব সোরেনের মতো কাজল কালো নয়। তামাটে কালো, মায়ের ফিগার অসাধারণ।

     

     

    মায়ের ঠোট অবিকল তার মতো। তবে মা তার চেয়ে খানিকটা লম্বা, সুন্দরও বটে। মায়ের চেহারার মধ্যে একটা অদ্ভুত অভিনবত্ব আছে, নীতামাসি, রঞ্জুমাসি এদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। একটা স্বতন্ত্র চটক। মায়ের চেহারার কথা কোনও সন্তান ঠিক এভাবে কখনও ভাবে না। কথাগুলো শুধু মনের তলায় থাকে। এখন নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে মাতৃরূপকে এইরকম সচেতনভাবে বিশ্লেষণ করল মৈথিলী। জলের ধারাগুলো তার বাহু বেয়ে কনুইয়ে, গলা বেয়ে বুক ছাপিয়ে নাভিতে নেমে যাচ্ছে গড়িয়ে গড়িয়ে, মৈথিলীর সারা শরীর রোমাঞ্চিত হচ্ছে। সে তাহলে অস্ট্রো-দ্রাবিড়, নাকি আরও সহজভাবে বলতে গেলে নিষাদ! এই ভারতবর্ষের সবচেয়ে আদিম অধিবাসী। যারা ক্রমশ কোণঠাসা হতে হতে অবশেষে অরণ্যে আশ্রয় নিয়েছিল। কিংবা বরাবরই অরণ্যবাসী। অরণ্যের আশ্রয় কোনদিন ছাড়তে চায়নি। অমিশ্র ‘নিষাদ’ জাতির সঙ্গে মিশ্র আর্যরক্তের মিলনে তবে সে তৈরি হয়েছে? একদিক থেকে দেখতে গেলে সে তো অন্যান্য অনেকের চেয়েও বিশুদ্ধ ভারতবাসী।

    ভালো করে গা মাথা মুছে, বাথরোবটা গায়ে জড়িয়ে সে যখন হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে সবে তার চুলগুলোকে শুকোতে আরম্ভ করেছে তখন তার মা ঘরে ঢুকল। মা কি রকম অন্যলোকের মতো তার দিকে তাকাল। কেমন ব্যস্তভাবে বলল, ‘মুন্নি, আমাকে শিগগিরই তোমার মামাদের ওখানে যেতে হবে। হয়ত বেশ কিছুদিন আসতে পারব না। তুমি বাবা এলে কথাটা বলবে। চালিয়ে নিতে তো নিশ্চয় পারবে।’

     

     

    মৈথিলী গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরল ‘মা, এমন তুমি তুমি করে কথা বলছ কেন আমার সঙ্গে? কোথায় যাবে? ঠিক কোন জায়গায় আমার মামার বাড়ি? হঠাৎ এতদিন বদে কেন সেখানে যেতে চাইছ? আমায় বলবে না। আমি তোমাকে আমার সব আশা আকাঙ্ক্ষা প্ল্যান প্রোগ্রামের কথা বলি না?’

    অরুণার স্তিমিত চোখ। তিনি ম্লান হাসি হাসলেন, বললেন—‘আমার অনেক আগেই যাওয়া উচিত ছিল। আমি খুব ভুল করেছি, অন্যায় করেছি। তোমাদের কথা ভেবে করেছি। যাইহোক এখন তুমি বড় হয়ে গেছো, তোমার বাবার তো কাউকেই আর প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। আর আমার অতটা দায়িত্ব নেই। তোমাদের প্রতি কর্তব্যের ছুতো করে এখন আর আমি আমার নিজের লোকেদের দায়িত্ব এড়াতে পারি না।’

    মৈথিলী অনুভব করল মা হঠাৎ যেন অনেক দূরের মানুষ হয়ে গেছে। মায়ের শরীরে মনে একটা অসম্ভব কঠিনতা, যার মুখোমুখি তাকে কখনও হতে হয়নি। টেলিফোনেও মাকে কখনও এত সহস্র যোজন দূর মনে হয়নি। তার আগে কখনও ভয় করেনি, কিন্তু এখন তার সারা শরীর ভয়ে শির শির করতে লাগল। সে প্রায় বোবা স্বরে বলল—‘মা, তুমি এমন মিস্টিরিয়াসলি কথা বলছ কেন?

     

     

    আমায় পরিষ্কার করে সব খুলে বল। বিশ্বাস করো, আমি ঠিক বুঝব।’

    অরুণা মৈথিলীর চেয়ারে বসে পড়লেন। বললেন, ‘মুন্নি আমি কি কখনও তোকে অযত্ন করেছি? তোর বাবার প্রতি কর্তব্যপালনে কখনও গাফিলতি দেখেছিস?’

    ‘না তো মা। এসব প্রশ্ন উঠছে কেন?’

    দূরের দিকে চেয়ে আছেন অরুণা। যেন মুন্নির কোনও প্রশ্নই তিনি ঠিকঠাক শুনতে পাচ্ছেন না। বললেন—‘অথচ এই আমিই আরও অনেক গুরুদায়িত্ব ঘাড় থেকে নামিয়ে দিয়ে এসেছি। সে কি সুখ স্বাচ্ছন্দ্য টাকা পয়সার লোভে?’

    শেষের প্রশ্নটা যেন নিজেকেই করলেন অরুণা!

    ‘মা, তুমি যে কি বলছ, কেন বলছ আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।’ মৈথিলী ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে বলল।

    —‘তোর মামা। তোর মামার বাড়ির দিকের সবাই খালি এই একই কথা বলে।’

     

     

    ‘কেন, কী দায়িত্ব, আমায় বুঝিয়ে বলল।’

    অরুণা বললেন—‘খাতা কলমে আমার নাম রাধিকা সোরেন, মুন্নি, যদি চাকরিটা করতুম এখনও এই নামটাই চালু থাকত। গৃহবধূ হয়ে গেছি বলে তোর আর জানার দরকার পড়ল না। আমি লোধাসুলির সাঁওতাল পল্লীর মেয়ে। আমার বাবা মা যতদিন বেঁচে ছিলেন আমাকে রাধি বলে ডাকতেন। ক্রিশ্চান মিশনারিরা আমাদের পড়াতো। তা ছাড়াও দিত দুধ, মুরগীর ডিম। পল্লীর সব ছেলেমেয়েকে ডেকে ডেকে দিত, তার সঙ্গে খ্রীস্ট ধর্ম প্রচার করত। আমাদের মধ্যে অনেকেই এভাবে ক্রিশ্চান হয়ে গেছে। আমার সম্পর্কে ওদের আশা ছিল আমি ওদের সিস্টার্স অফ চ্যারিটিতে যোগ দেবো। সেভাবেই আমাকে গড়ছিল ওরা। কিন্তু আমার পরিবারের লোকেরা ধর্মান্তরিত হতে চাইত না। ওদের সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখত। আমি য়ুনিভার্সিটিতে পড়ব, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমার নিজের লোকেদের জন্য কাজ করব এই চাইত আমার মা বাবা এমনকি পল্লীর অনেক মাতব্বর লোকেরাও। মিশনারিরা যেদিন জানল আমাকে কিছুতেই ক্রিশ্চান সন্ন্যাসিনী বানাতে পারবে না, ওরা আমার পড়াশোনার ব্যাপারে সাহায্য করা ছেড়ে দিল। আমার তখন আরও শেখবার অদম্য ইচ্ছে। মিশনারি বোডিং ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেলাম। আমার বাবা আন্নু সোরেন পল্লীর প্রধানদের সঙ্গে কথা বললেন, সবাই একবাক্যে বলল স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় জলপানি পাওয়া মেয়ে একদিন বড় আরও বড় হয়ে পুরো পল্লীর মানুষকে বাঁচাবে। কেউ কেউ অন্য কথা বলেছিল, কিন্তু যারা দেশের হালচাল বোঝে, আমার বাবা বা দাদার মতো খবরের কাগজ পড়তে শিখেছে তারা সবাই বলল—‘আমাদের শিডিউলড ট্রাইবস বলে অনেক বিশেষ সুযোগ সুবিধে দিচ্ছে সরকার, সে সব আমরা সব বুঝিও না। অন্য লোকে ট্রাইব্যাল সেজে সে সব নিয়ে নিচ্ছে। আমরা পড়ে আছি অন্ধকারে।’ আমাকে ওরা লেখাপড়া শেখাতে চাইল। ঝাড়গ্রাম কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েট হলাম। সে সময়ে আমাকে সাহায্য করেছিলেন একটি বাঙালি পরিবার। নীতার বাবা সৌরীন ঘোষ আর মা রাণী ঘোষ।’

     

     

    মৈথিলী বলল—‘দাদু দিদা তোমার কেউ নন? আশ্চর্য। আমি তো কখনও বুঝি নি।’

    —‘আশ্চর্যই। উনি তখন ছিলেন মেদিনীপুরের ডি এম। বাবা ওঁর বাংলোয় আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন যদি ওঁর বাড়িতে কাজকর্ম করে আমি পড়াশোনা করতে পারি। তখন আমাদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। আমাকে দেখে ওঁদের কি রকম খটকা লাগে। ওঁরা জেরা করে করে বাবার কাছ থেকে আমার কাছ থেকে সব শোনেন। তারপর বলেন—‘পরীক্ষায় জলপানি পাওয়া মেয়েকে দিয়ে আমরা তো দাসীবৃত্তি করাতে পারব না। আপনার যদি এতোই দরকার হয়, ওকে এখানে রেখে যান, আমার মেয়েও যেমন সংসারের কাজ দরকার পড়লেই করে ও ও তেমনি করবে। এখানে ও নিঃসঙ্কোচে থাকুক।’

    মৈথিলী উত্তরোত্তর আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছিল। বলল—‘মা, তুমি যে এ রূপকথা শোনাচ্ছো।’

    অরুণা আস্তে আস্তে বললেন—‘তোর কি লজ্জা হচ্ছে মুন্নি।’

    —‘লজ্জা? কেন?’

     

     

    ‘এই তোর মা জঙ্গলের অসভ্য আদিবাসীদের মেয়ে শিক্ষিত সভ্যসমাজ থেকে যারা বহুদূরে বাস করে। তোর মা লোকের চ্যারিটিতে বড় হয়েছে, দাসীবৃত্তি করতে গিয়েছিল। ধর, দাসীই।’

    ‘মা!!!’ মৈথিলী মাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে কোলে মাথা গুঁজল। অনেকক্ষণ পর রুদ্ধ কণ্ঠে বলল—‘মা, তোমার এ কথার উত্তর নিশ্চয়ই আমায় দিতে হবে না।’

    অরুণা বললেন, ‘রাণী জেঠিমা, সৌরীন জেঠু অবশ্য আমাকে দাসী হতে দ্যাননি। মস্ত ঘরে নীতার পাশের খাটে আমি শুতাম। লোকজনে মশারিটা পর্যন্ত গুঁজে দিয়ে যেত। নীতার সঙ্গে গভীর বন্ধুত্ব হল। ওদের ভালোবাসতে শুরু করলাম। সরকারি আমলাদের বাংলোর কাজকর্ম, বাঙালি রান্না, রুচি, কথা, ভাষা, সাহিত্য সবই আমার নিজের হয়ে গেল। আমাদের লোধাসুলির মানুষজনের আশা আমি সরকারি পরীক্ষা দিয়ে ভেতরে ঢুকব, তাদের প্রতিনিধি হবো, তাদের শিক্ষা, তাদের সংস্কৃতি, তাদের বিশেষ সুযোগসুবিধা এই সবের জন্যে কাজ করব। ডাবলু বি সি এস পরীক্ষা দিলাম। প্রথম পোস্টিং হল বরশুল, বি ডি ও অফিসে। বর্ধমানের ডি এম তখন তোমার বাবা। তাঁকে বিয়ে করলাম। তুমি এলে তোমার বাবা বদলি হয়ে গেলেন দার্জিলিংএ। এই বিয়ে উপলক্ষ্যেই আমার নিজের লোকেদের সঙ্গে আমার বিচ্ছেদ। ওরা সবাই আমাকে ত্যাগ করল। কমিউনিটির বাইরে বাঙালি ব্রাহ্মণকে বিয়ে করেছি। ওরা আমার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।

     

     

    কেউ কোথাও নেই, নিজের লোকেরা ভীষণ হিংস্র হয়ে উঠেছে, তোমার বাবা দার্জিলিঙে। আমি ঝট করে চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে দিলাম। নিজের ট্রাইবের জন্য কিছু করার উদ্দেশ্যেই আমার পড়াশোনা, এই আশাতেই ওঁরা আমাকে তৈরি করেছিলেন, আমি কিছু করি নি। ওরা আমাকে পরিত্যাগ করেছিল। ঠিকই করেছিল। আজ আবার ওরা আমায় ডাকছে।’

    —‘কেন? মা তুমি তো বলোনি ওঁদের জন্যে কিছু করবে না। ওঁরা তো তোমার ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করলেন। তুমি নিজেই বলছো ওঁরা হিংস্র হয়ে উঠেছিলেন। সে সময়ে তো তোমার চাকরি ছেড়ে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। পুরো জিনিসটাই বানচাল হয়ে গেল। আমার তো মনে হচ্ছে এটা ওঁদেরই ভুল। তোমার দোষ কোথায়? আর আজ হঠাৎ তুমি এমন কি করলে যাতে ওঁদের বিশ্বাসভাজন হয়ে উঠলে?’

    অরুণা বললেন, আমি সাহস করে দাদাকে একটা চিঠি লিখেছিলাম। তাতেই ওঁরা আবার আমায় কাজ করার সুযোগ দিতে চান।’

     

     

    —‘বেশ তো, করো না কাজ। আমরা যে গ্রাম উন্নয়নের কাজ করছি, তেমনিভাবে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তুমি তোমার বাপের বাড়ির গ্রামের উন্নতি করো না মা।’

    অরুণা হাসলেন—‘জিনিসটা অত সোজা নয়। পূর্ব ভারতের আদিবাসীরা এখন একত্র হয়েছে। মৈথিলী, আমার যে পিতৃভূমি সেই ছোটনাগপুরের মালভূমি এবং তার আশপাশের এলাকা পৃথিবীর সবচেয়ে খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর একটা তো জানিস। ওখানকার মতো মাইকা পৃথিবীতে আর কোথাও মেলে না। এই সব খনিজ কয়লা, অভ্র, তামা বক্সাইট লোহা, সমস্ত আমার দেশের মাটির তলায় ছিল। আছে। আর ওপরে আছে লাল মাটির ওপর অফুরন্ত শাল পলাশ মহুয়ার জঙ্গল, সেই জঙ্গলও আমাদের রুজি, আমাদের জীবন। জঙ্গলগুলোকে এরা একটার পর একটা কেটেছে আমাদের তাড়িয়ে নিয়ে গেছে, যাযাবরের মতো আমরা ঘুরেছি। এক একটা খনি খুঁড়েছে, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে উৎখাত হয়েছি আমরাই। আর হয়েছি কুলি। আমাদের ভোগে কখনও কিচ্ছু আসেনি। আমরা এই সব অধিকার ফিরে পেতে চাই। ওরা আমাকে ওদের মধ্যে চায়। এই আন্দোলনকে শক্তি দেবার জন্য।’

    —‘ঝাড়খণ্ড মুক্তি আন্দোলন! মা? রাজনীতি?’

    —‘মুন্নি শাসনযন্ত্রের মধ্যে প্রবেশ করে নিজের লোকেদের স্বার্থে কাজ করার সুযোগ আমার এসেছিল। সে সুযোগ আমি স্বেচ্ছায় হারিয়েছি। আজকের এই ডাক উপেক্ষা করবার সাধ্য আমার নেই।’

    —‘কিন্তু জি. এন. এল. এফ, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা এসব সাংঘাতিক সেশেসসনিষ্ট রাজনৈতিক ব্যাপার। তুমি, তোমার কোনও অভিজ্ঞতা নেই। তারপর এতদিন একেবারে অন্যরকম জীবন কাটিয়ে গেছো। মা ওরা যদি তোমাকে নিজেদের লোক বলে বিশ্বাস করতে না পারে।’

    —‘এ সমস্ত রিসক্‌ আছেই। আমাকে তবু আমার কথা রাখতে হবে মুন্নি। না হলে হয়ত ওরাও আর সইবে না। চরম কিছু করে ফেলবে।’

    মৈথিলী চমকে উঠল। তারপর মাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। বলল—‘মা, আমিও তোমার সঙ্গে যাবো।’

    —‘যাবি? অরুণা মেয়ের মুখের দিকে তাকালেন, চোখ টলটল করছে। বললেন —‘তোকে তো আমি গড়ে দিয়েছি মুন্নি। আমি নয়, আসলে আমার ভাগ্যই তোকে গড়ে দিয়েছে। যা হতে যাচ্ছিস সেটা সম্পূর্ণ কর। না হলে আবার অসম্পূর্ণ অতীত তোকে এমনি করে পেছু টানে টেনে নেবে। মুন্নি তোর বাবাকে কথাগুলো বলবার দায়িত্ব তোর।

    তাকে দেখাশোনা বিশেষ করতে হয় না, তবু যেটুকু করতে হয়, সেটুকুও এখন থেকে তোকে করতে হবে। উনি আসবার আগেই আমি চলে যাবো ঠিক করেছি।’

    —‘মা, তুমি ভেবেচিন্তে কাজ করো। ডোন্ট বি সো র‍্যাশ।’

    —‘খুব ভেবেচিন্তেই করছি। তোকে একদিন বলেছিলাম নিজের কাজ আরম্ভ করলে আর তোরা আমায় পাবি না মনে আছে।’

    মৈথিলী বলল—‘আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে তোমার অসুবিধে কোথায়?’

    —‘আছে আছে। তবে আমি সময় সুযোগমতো আসব। লক্ষ্যে পৌঁছতে পারলে তো আমার কাজ হয়েই যাবে। তখন আর আমার ফিরে আসতে কোনও বাধা থাকবে না।’

    ক্রমশ রাত হয়ে আসছে। চ্যাপেল রোডের এই বাংলো নির্জন। বৈজু একবার রাতের খাবার খেতে ডেকে গেছে। মা মেয়ের কারোই যেন গা নেই। বৈজু আবার ঘরের বাইরে টোকা দিল।

    অরুণা বললেন—‘খেতে যা মুন্নি।’

    —‘তুমি যাবে না।?’

    —‘আমার ইচ্ছে করছে না।’

    —‘আমি তো এসে অনেক খেলাম। বৈজুদা।’ একটু গলা তুলে বলল মুন্নি।

    —‘তুমি খেয়ে নাও।’

    ‘তোমরা কেউ খাবে না, আমি আগে।’

    অরুণা বললেন—‘আমার খিদে নেই। মুন্নিরও পেটভরা। তুমি খাবে না কেন বৈজু?’

    দরজার বাইরে টোকা থেমে গেল। বৈজু চলে গেছে। মুন্নি মাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে রয়েছে। যেতে দেয়নি পাশের ঘরে। চিড়িয়াখানা থেকে সিংহের ডাক ভেসে আসছে নির্জন রাতে। মৈথিলী বলল—‘মা আমি অনেক ভাবলাম। তোমাকে আমি একা ছেড়ে দিতে পারি না। তুমি অন্তত একুশ বছর তোমার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্কহীন। ওদের বেশির ভাগ তোমাকে চেনে না। তুমি ব্যুরোক্র্যাটের স্ত্রী। সরকারি লোক। ওদের শত্রুপক্ষ। মা তোমার বয়স বেড়ে গেছে, তুমি কি করে নতুন জায়গায় মানিয়ে নেবে, কোথাও হয়ত তোমার কিছু ভুল ত্রুটি হয়ে যাবে। তখন ওরা যদি তোমায় কিছু করে?’

    অরুণা বললেন—‘আমরা কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করি না। দাদা যখন আমাকে এভাবে ডাকতে এসেছেন, বুঝেই তো এসেছেন! এখন আর বাবা-মা বেঁচে নেই। দাদা শুধু পল্লীর প্রধানই নন, একজন নেতাও বটে। দাদার ইচ্ছে আমি যাই, ওদের সব অভিমান মিটিয়ে দিই। মনে কর না আমি এতদিন পর বাপের বাড়ি যাচ্ছি।’

    মৈথিলী বলল—‘ঠিক আছে, আমিও এতদিন পর মামার বাড়ি যাচ্ছি। আচ্ছা মা কোথায় তুমি যাবে এখন? ওই লোধাসুলি বলে জায়গাটাতে?’

    অরুণা বললেন—‘ঠিক বলতে পারছি না।’

    —‘এখান থেকেই যদি কাজ করো, অসুবিধে কি?’

    —‘এখান থেকে? সরকারি আমলার বাড়ি থেকে? তাও কি হয়?’

    —‘বাবাকে তুমি জানাচ্ছো না কেন?’

    —‘তোমার বাবা আমাকে যেতে দেবেন না। আমাদের বিয়ের সময় ওরা তো মত দেয়ই নি, ওঁকে প্রচণ্ড শাসিয়ে ছিল। সে-সব তো তোমার বাবা ভুলে যেতে পারে না!’

    অরুণা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকলেন। মৈথিলী আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়ল। সে সাধারণত বিছানায় পড়ে আর স্বপ্নহীন ঘুম ঘুমোয়। আজ তার ঘুমের সঙ্গে চিড়িয়াখানার বন্দী বাঘ-সিংহ-শেয়ালের ডাক মিশে যেতে লাগল। নির্ভীক মৈথিলী ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বুক-চাপা ভয়ের স্বপ্ন দেখতে লাগল। মাথার ওপর পদস্থ বাবা, স্নেহশীলা মা। সচ্ছল, শান্ত জীবনের নিরাপত্তা এক জিনিস। আর হঠাৎ মাথার ওপর থেকে সেই নিরাপত্তার আবরণ সরে যাওয়া, ভ্রূকুটিময় আকাশ অনাবৃত হয়ে যাওয়া আর এক জিনিস! তার স্বপ্নের মধ্যে কেওড়াখালি, পদ্মকাকী, দেবপ্রিয়, ডাঃ সোম, লুকু এবং মহাদেব সোরেন তালগোল পাকিয়ে যেতে লাগল। তার সঙ্গে মেটিরিয়া মেডিকার গুরুত্বপূর্ণ পাতাগুলো। ঘুমের মধ্যে কোথায় যেন ট্রাকের ভটভট আওয়াজ, হুহু করে গাড়ি ছুটে গেল, মৈথিলী পাশ ফিরে ঘুমোতে লাগল।

    ঘুম ভাঙল অনেক দেরিতে। এত দেরি করে সে সাধারণত ওঠে না। কদিন খুব খাটুনি যাচ্ছে বলেই বুঝি এত ঘুম! চোখ মেলে দেখল মা উঠে গেছে, দরজা খোলা। বাইরে বেরিয়ে দেখল, ডাইনিং টেবিলের একদিকে মোড়ার ওপর বৈজুদা গালে হাত দিয়ে বসে আছে। মৈথিলীকে বেরোতে দেখে কাঁদো-কাঁদো হয়ে বলল—‘মুন্নি, ভোর রাত্তিরে সেই সাঁওতাল মোড়লটা এসেছিল, মা একটা পাতলা সুটকেস নিয়ে তার সঙ্গে কোথায় গেল, তোমাকে জাগাতে বারণ করল। একটা চিঠি রেখে গেছে তোমাকে দেবার জন্য। দেখো, দেখে বলো সায়েবকে আগে ট্রাঙ্ককল করবে না আগে পুলিসে ফোন করবে।’

    মৈথিলীর হাত একটু একটু কাঁপছে, সে চিঠিটা নিল। মা লিখেছে : ‘মুন্নি, তোর পক্ষে এখনই মামার বাড়ি যাওয়া সম্ভব নয়। যখন যাবার মতো অবস্থা হবে, আমি নিজে এসে তোকে নিয়ে যাবো। ভাবিসনি। আমি ভালো থাকবো। মনে রাখিস, তোর মায়ের বংশ কখনও বিশ্বাসের অমর্যাদা করে না। আমিও যতক্ষণ না তাদের বিশ্বাসের ঋণ চুকিয়ে দিতে পারছি ততক্ষণ নিজেকে মানুষ বলে মনে করতে পারছি না। ভালো থাকিস, বাবাকে বোঝাস।’

    মৈথিলীর ঠোঁট ভীষণ কাঁপছে, বৈজু তার তিন চার বছর বয়সের পর আর কখনও এভাবে ঠোঁট কাঁপতে দেখেনি। মুন্নি টেলিফোনটার ওপর একরকম ঝাঁপিয়ে পড়ল—‘হ্যালো, কাকু! আমি মুন্নি বলছি, লুকুকে একটু দিন না।’

    বৈজু ভেবেছিল মুন্নি বাবাকে ফোন করছে।

    —‘লুকু? তুই আজ এক্ষুণি আমাদের বাড়ি চলে আসতে পারবি? …লুকু প্লীজ আয়…আমার মা চলে গেছে…।’

    ফোনের অপর প্রান্তে লুকু বিপুল বিস্ময়ে প্রশ্ন করছে—‘কি বলছিস? মৈথিল? মাসি কোথায়? কাকুর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে?’

    মৈথিলী কিচ্ছু বলতে পারছে না। রিসিভারটা হাতে নিয়ে থরথর করে কাঁপছে, কাঁদছে, জীবনে এই প্রথম।

    লুকুর বাবা বললেন—‘কি হয়েছে লুকু?’

    লুকু কাঁদতে কাঁদতে বলল—‘মাসি বোধহয় মরে গেছে বাপী, আমার মায়ের মতো মাসিও মরে গেল। এখন মুন্নি আর আমি এক।’

    কিছুক্ষণের মধ্যেই মৈথিলীদের চ্যাপেল রোডের বাংলো তার বন্ধুবান্ধবে ভরে গেল। যাকে যাকে যোগাযোগ করতে পেরেছে খবর দিয়েছে লুকু। উজান, প্রমিত, গুঞ্জন, লুকুর বাবা, ভাইয়া, মেধাদি সব্‌বাই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকুশে পা – বাণী বসু
    Next Article শ্বেত পাথরের থালা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Our Picks

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }