Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উত্তরসাধক – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প289 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উত্তরসাধক – ১৫

    অধ্যায় : ১৫

    প্রমিত একটা সিগারেটের দোকান দেখিয়ে বলেছিল ‘দেব এইখানে অলওয়েজ পাবি। একটা কোড আছে।’ বলে সে কোডটা দেবপ্রিয়কে নিচু গলায় বলেছিল। তারপর থেকে দোকানটা থেকে রোজ এক প্যাকেট দুপ্যাকেট স্পেশ্যাল এবং দামী সিগারেট কিনতে হয় দেবপ্রিয়কে। এই নতুন খরচের জন্য তাকে দু-একটা টুইশান ধরতে হয়েছে। এখানেই সাকসেনা এবং প্রবীর রায় নামে দুজন যুবকের সঙ্গে তার আলাপ হয়, যারা তাকে আরও অনেক মজাদার নেশার সন্ধান দেয়। এখন দেবপ্রিয় বেশ কয়েকটা ঠেকে যাচ্ছে। মধ্য কলকাতায় একটা, হাওড়ার শালকেতে একটা আর দক্ষিণ কলকাতার উপান্তে একটা। এতে করে তার এতো সময় যাচ্ছে যে সে পড়াশোনার জন্য বিশেষ সময় দিতে পারছে না। মেডিসিনে গোল্ড মেডেলটা মৈথিলীই পাবে মনে হয়। সার্জারিতে এখনও দেবপ্রিয় সর্বাগ্রে আছে। কিন্তু ছাত্রসংঘের কাজকর্ম সে একেবারেই করছে না। ছাত্রসঙ্ঘ এখন একসঙ্গে তিনটে ফ্রন্টে কাজ করছে গ্রাম, মফঃস্বল ও শহরের মধ্যস্থিত বস্তি অঞ্চল। বহু ছেলে মেয়ে পালা করে করে এই প্রজেক্টে অংশ নিচ্ছে। মৈথিলী উজান সবারই ফাইন্যাল ইয়ার, তারা হিসেব রাখা প্রজেক্ট তৈরি করা, রিপোর্ট দেখা এগুলোই প্রধানত করে। নতুনদের মধ্যে অনেকেই কেন্দ্রীয় সমিতির মীটিং-এ এসে কাজকর্ম শিখছে, নিজেদের মতামত দিচ্ছে, মেধাদির সঙ্গে আলোচনা করছে।

    সেদিন কাজ কর্মের শেষে বেশির ভাগই চলে গেছে। আছে খালি উজান আর মৈথিলী। উজান বলল ‘মৈথিল মেধাদিকে একটু ডাক। আমার দরকারি কথা আছে।’ মৈথিল বলল ‘চল না আমরাই ওপরে যাই।’

    ওপরে উঠে ওরা দেখল দালান অন্ধকার। দিদির ঘরে একটা মৃদু আলো জ্বলছে। মেধা তাঁর চেয়ারে সামান্য হেলান দিয়ে ভায়োলিন শুনছিলেন। চোখ বোজা। মৈথিলী দেখল দিদি একটা চাঁপা রঙের কালো পাড় টাঙ্গাইল শাড়ি পরেছেন। ঘরে মৃদু আলো। দিদিকে ভাস্বর দেখাচ্ছে। তাঁর মুখটা প্রশান্ত। প্রায় সদ্যমৃত মানুষের মতো। যেন পার্থিব কোন ব্যাপার আর তাঁকে স্পর্শ করছে না। মুখের রেখাগুলি যেন চিরতরে মিলিয়ে গেছে। ভায়োলিনে কোনও ভারতীয় সুর। সুরটা মৈথিলী জানে না। কিন্তু তার মধ্যে কান্না ভাবটা একেবারে নেই। মেধাদির ফার্ণ প্লেসের বাড়ির আধো-অন্ধকার দোতলার ঘরটা যেন শূন্যে ভাসমান একটা স্পুটনিক। আপাতত তিনি এ জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। দুজনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ বাজনা শুনল। মৈথিলী উজানের পিঠে টোকা দিল, ইশারায় বলল বাইরে আসতে। বাইরের দালানে মৃদু আলো জ্বলছে। একদিকে গ্যাস উনুনের ওপর ছোট্ট একটা প্রেশারকুকার। ওর ভেতরে মেধাদির রাতের খাবার রান্না করা রয়েছে। হয়ত আজকে ভাত খাবেন, তাই সবকিছু প্রেশারে চাপিয়ে সেদ্ধ করে নিয়েছেন।

    দুজনে পা টিপে টিপে নিচে নেমে এলো। মৈথিল নিচু গলায় বলল ‘উজান দিদিকে ডাকতে আমার মায়া হল।’

     

     

    উজান বলল ‘ভায়োলিনটা অসাধারণ বাজছিল।’

    মৈথিলী বলল ‘দিদিকে এতো নরম, স্নিগ্ধ দেখাতে আমি ইদানীং দেখিনি।

    উজান দেখেছিলি যেন আপাদমস্তক কিরকম মোম দিয়ে গড়া। কবিত্ব করে বলতে ইচ্ছে করছে ভালোবাসার মোম।’

    উজান বলল—‘য়ু আর রাইট। কিন্তু এই ভালোবাসা অন্যরকম। ঠিক আমাদের চেনা অনুভূতি বা আবেগগুলোর মতো নয়। ডিফরেন্ট ইন কাইন্ড।’

    ‘তা যদি বলিস’ মৈথিলী বলল ‘আবেগ জিনিসটাই যেন দিদির মধ্যে অনুপস্থিত। না তা-ও না। ইমোশনকে যদি ঘনীভূত সলিড স্টেটে রাখা যায় তো এই ধরনের একটা এফেক্ট আসতে পারে।

    উজান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল—‘মৈথিল তুই মেধা ভাটনগরের অতীত ইতিহাস জানিস।’

    ‘সামান্যই। বাবার কাছ থেকে শুনেছি ওঁর বাবা ডাঃ অশোক ভাটনগর ছিলেন রেডিও ফিজিক্সের একজন কর্ণধার লোক। ওঁর মা ডাঃ লীলা ভাটনগর বায়ো-কেমিস্ট্রির গবেষক। দুজনেই পড়াশোনা আর ছাত্র-ছাত্রী ছাড়া আর কিছু জানতেন না। আমার বাবা ছিলেন ডাঃ ভাটনগরের ছাত্র। তবে বাবা সাইড-ট্র্যাক করে সরকারি আমলা হয়ে গেলেন। বাবার সঙ্গে একবার মেধাদির বিয়ের কথা হয়। আমার মায়ের সঙ্গে বাবার পরিচয়ের আগে। বাবা খুব কীন ছিলেন। দিদিই রাজি হননি।’

     

     

    উজান বলল—‘এ পরিচয়টা তেমন কিছু নয়। আমি আমার দাদু আর বাবার কাছ থেকে শুনেছি মেধা ভাটনগর চূড়ান্ত বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ষাট সত্তরের দশকে। দাদু অবশ্য কথাটা বলেছেন নিন্দাচ্ছলে ‘ওরে বলে ধিঙ্গি।’ এই আমার দাদুর ভাষা। বাবার কিন্তু ওঁর ওপর ভীষণ শ্রদ্ধা বাবা নিজেও তো কিছুদিন এসব করেছেন। দাদুর প্রচণ্ড ধমক-ধামকে আবার ভালোমানুষ গৃহস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন। আমার পিসিও এই রাজনীতি করত। হঠাৎ দাদুর বেছে দেওয়া বাংলাদেশি বড় ঘরের ছেলেকে বিয়ে করল, করে কয়েক মাসের মধ্যে আমেরিকা চলে গেল। যে আমেরিকার বিপরীত মেরুতে মার্কসিস্টদের অবস্থান। অথচ রোকেয়াপিসিই নাকি মেধাদিকে রাজনীতিতে নামিয়েছিল, ভাটনগর পরিবারের কেউ কস্মিনকালেও পলিটিক্স করেনি। সেইসময়ে মেধাদি নাকি একদিন উদ্‌ভ্রান্তের মতো আমার বাবার কাছে ছুটে আসেন বলেন—অঞ্জুদা দেখুন রোকেয়া কি লিখেছে, আমার তিনপাতার চিঠির উত্তরে একটা মাত্র লাইন—মেধা ড্রাইভিং শিখছি, এম এস করছি। আমার বিশেষ সময় নেই।’

    ‘বাবা বলে আমার মনের মধ্যে একটা খেদ রয়ে গেছে ভয়ে, সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবার ভয়ে আমি আন্দোলন থেকে সরে এসেছি। কোট প্যান্ট পরা ভদ্দর লোক হয়ে জীবন কাটাচ্ছি। আরো একটা খেদ মেধার জীবনটা বোধহয় নষ্ট হয়ে গেল। আমি রোকেয়াকে বুঝি না, বোঝবার চেষ্টাও করি না আর, কিন্তু মেধাকে আমি একটু একটু বুঝি। তুই কি জানিস মৈথিল মেধাদি এখনও জানেন না, আমি রোকেয়া আমেদের ভাইপো। জানলে বোধহয় ছাত্রসঙ্ঘের কাজে কোনদিন আমাকে ডাকবেন না আর’

     

     

    মৈথিলী এই সময়ে একটু সন্ত্রস্ত হয়ে উঠল। তারা দুজনেই দোতলা থেকে নেমে সিঁড়ির দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। মৈথিলী একটু পাশ ফিরতে দেখল মেধাদি সিঁড়িটার প্রায় সবটা নেমে এসেছেন। চোখ এখনও তেমনি আবিষ্ট। খালি পা। উজান দেখতে পায়নি।

    মেধাদি বললেন—‘তোরা বাড়ি যাবি না? হিন্দি খবর শুরু হয়ে গেল যে।’

    উজান একটু চমকে দিদির দিকে ফিরে দাঁড়াল। মেধা স্নিগ্ধ স্বরে বললেন ‘কে তোকে বলেছে যে আমি জানি না তুই অঞ্জুদার ছেলে রোকেয়া আমেদের ভাইপো। না জানা কি সম্ভব? তোর দাদু দীর্ঘদিন এম পি রয়েছেন এ আমার জানা থাকবে না?’

    উজান কথা বলতে পারছে না। ছটফটে উজান। স্মার্ট উজান। কথার পিঠে কথা যার কখনও আটকায় না সে দেবপ্রিয় চৌধুরীর মতো চুপ করে গেছে। সে যেন তার পিসির, তার বাবার সমস্ত অপরাধ মাথায় নিয়ে ঝুঁকে পড়েছে। প্রায়শ্চিত্ত করতে চায়, নিজেকে সম্পূর্ণ নিবেদন করে দিতে হলেও তার আপত্তি নেই।

     

     

    মেধা আরও একটু এগিয়ে এলেন। তাঁর সমস্ত শরীর থেকে কি যেন একটা হালকা সুবাস উজানকে আচ্ছন্ন করে ফেলছে আস্তে আস্তে। সে যেন একটা সুগন্ধময় আলোক বলয়ের মধ্যে অবস্থান করছে। মেধা ভাটনগর অতীত যুগের বর্তমান যুগের অনাগত দিনের এক চৌম্বক শক্তিধারী ব্যক্তিত্ব, যাঁর সম্পর্কে তার বাবা বলে থাকেন টোট্যাল ডিভোশন টু হার কজ, যিনি খানিকটা কাছাকাছি থাকেন বলেই সবসময়ে বোঝা যায় না, তিনি সত্যিই কী অসাধারণ এবং খুব কাছে এলে অনুভব করা যায় তাঁর শক্তি আর ভালোবাসা দিয়ে গড়া চৌম্বকক্ষেত্রের তীব্র আকর্ষণ এবং সে উজান যে তার এই অল্প বয়সেই খেলাধুলো, ধর্ম, রাজনীতি, পড়াশোনা ইত্যাদি বিভিন্ন বৃত্তে ঘুরে ঘুরে বুঝেছে এইসব সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে তার কোনদিন কিছুতেই পোষাবে না। তার অন্তরাত্মা চায় নিজেকে দুধারে ছড়িয়ে দিতে নিজেকে ছাড়িয়ে অনেক ওপরে উঠে যেতে। উজান এখন আর কাউকে, আর কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছে না। চোখ ধাঁধাচ্ছে না এই দীপ্তি, শুধু আচ্ছন্ন করে দিচ্ছে মৃদু উত্তেজনায়, এই উত্তেজনা মাদক কিনা সে বিচার করতে পারছে না, খালি বুঝতে পারছে এই সেই ঈপ্সিত মণ্ডল। এই অনুপ্রাণনাময় জ্যোর্তিময় কালিমাহীন শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে সে পৌঁছতে চায়।

    মেধা মৃদু গলায় বললেন—‘উজান তুই কি জানিস আমাদের জেনারেশনের ভাঙা-গড়ার সেই অসহ যন্ত্রণার গোপন কথা! জানিস কি কীভাবে ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ বিসর্জন দিয়ে ওরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল? পারেনি, শেষ পর্যন্ত পারেনি। কেউই বোধহয় পারে না। দে ওয়্যার সো মেনি এঞ্জেলস উইথ ফীট অফ ক্লে। সোনার মাথা, মাটির পা। তোরা ভাবিস তোদেরই যত সমস্যা। তোদের পরীক্ষার অ্যাসেসমেন্ট ঠিক হচ্ছে না, তোদের অধ্যাপকরা ঠিকমতো পড়াচ্ছেন না। তোদের চাকরি নেই, দাঁড়াবার মাটি নেই। নেই সত্যি। কিন্তু ওদেরও বড় দুরূহ সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তোরা তার কিছুই জানিস না। মৈথিলী তোরা উচ্চবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়ে। তোরা নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছিস ক্রমশ। লাখ লাখ টাকা দিয়ে একেকজনের কেরিয়ার গড়া হচ্ছে, তারপরে বিদেশ পাড়ি দিচ্ছে। বলছে এদেশটা উচ্ছন্নে গেছে, আর থাকা যায় না। তোরা ব্যতিক্রম। সত্যি কথা বলতে কি, মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এতো সাফার করেছে, এতো আত্মত্যাগ করেছে এবং এত পিষ্ট হয়েছে যে বর্তমানে তার আর শিরদাঁড়া নেই। উজান-মৈথিলী তোরা যারা অনেক পেয়েছিস, তারা ওদের জন্য কিছু কর। ওদের ভরসা দে যে ডলারের প্রলোভনে আর লোড-শেডিংহীন জীবনযাপনের হাতছানিতে তোরা ওদের এই পাঁকের মধ্যে ফেলে যাবি না। আমাদের সময়ে উচ্চবিত্ত মধ্যবিত্তের পোশাক আষাকে এতো ফারাক ছিল না। আমরা এতোটা স্টেটাস কনশাসও ছিলাম না। কলেজে কলেজে, স্কুলে স্কুলেও এমনি উচ্চবর্গীয় নিম্নবর্গীয় তফাত স্পষ্ট ছিল না। আমাদের সময়েরও অনেক দোষ ছিল, কিন্তু অল্প বয়স্কদের মধ্যে লোভ, উন্নাসিকতা, রুচির বিকার এইভাবে দেখিনি। যেসব জিনিস তোদের মূল্যবোধকে প্রতিদিন একটু একটু করে পঙ্গু করে দিচ্ছে তোরা সেগুলোকে চিনতে শেখ। ড্রাগ, মদ, বিকৃতরুচির ফিল্ম, রাজনীতি, ভারসাম্যহীন প্রতিযোগিতা, অসুস্থ উচ্চাকাঙ্খ। শুধু যন্ত্রের ওপর ভর দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর দিকে যেতে দিসনি দেশকে। ভর করতে হবে প্রকৃতিস্থ মূল্যবোধের ওপরে।

     

     

    উজানের ভেতরটা অনেকক্ষণ এই চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে থেকে কিরকম কাঁপছে। খুব কাছে উনি দাঁড়িয়ে আছেন, মৃদু আলোয় হালকা হলুদ ফুরফুরে শাড়ি-মোড়া একটা উন্নত মূর্তি। তার ইচ্ছে করছে মেধাদিকে প্রাণপণে জড়িয়ে ধরে তাঁর বুকে ঊরুতে তাঁর পায়ে সে মাথা ঘষে-ঘষে ঘষে তার নিজের সার কি সে যেন খুঁজে পেতে পারে। তাঁর দেহ-মন মস্তিষ্ক হৃদয়ের সারাৎসার কি, তাঁর সঙ্গে এই যাত্রার শেষ কোথায়, কোন অনির্বচন পরিণতিতে সে যেন তার সন্ধিৎসু জীবনের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে বুঝে নিতে চায়।

    মেধাদি বললেন—‘তোরা যা। উজান, বাইরের গেটের ছিটকিনিটা আটকে দিয়ে যাবি। দুজনে আস্তে আস্তে বেরিয়ে এলো। কারুর মুখেই কথা নেই। ভেতরে লোহার খিল আটকানোর শব্দ হল। ফার্নপ্লেসের এই সুন্দর ছিমছাম পড়ুয়া দোতলা বাড়ির সদর দরজার ওপর অনেকখানি সানশেড। তার তলায় একটা গোল আলো থাকে। সেটা রোজ অনেকক্ষণ ধরে জ্বলে। অন্তত যতক্ষণ ছাত্রসঙ্ঘের ছেলেমেয়েরা যাতায়াত করে। আজ সেটা জ্বলছে না। উজান সহসা মৈথিলীকে তার সমস্ত শক্তি দিয়ে জড়িয়ে ধরল। সে উন্মাদের মতো মৈথিলীর নতমুখের ভেতর ঠোঁট খুঁজছে।

    —‘মৈথিলী বল, বল। কখনও কোনদিনও তুই আমায় ছেড়ে যাবি না। এমনিভাবে বরাবর আমার পাশে থাকবি। বল মৈথিল বল।’

     

     

    মৈথিলী, যে খুব কাণ্ডজ্ঞানের কারবারী বলে খ্যাত, অতি সম্প্রতি তার মা রাধিকা সোরেনের কোনও এক অস্পষ্ট আন্দোলনের জন্য গৃহত্যাগের পটভূমিকায় যে সদ্য সদ্য মাত্রা-ছাড়া আবেগকে তার শরীরে মনে চিনতে শিখেছে, সে যে এমন সর্বাংশে আচ্ছন্ন হয়ে পড়বে, এমনি করে তার সর্বস্ব দিয়ে সাড়া দেবে সে একমুহূর্ত আগেও বুঝতে পারেনি। উজান তার কথা বলার রন্ধ্র রাখেনি তবু সে অস্ফুট গুঞ্জনের মতো বলতে লাগল —‘কখনও না, কখনও না, নেভ্‌ভার।’

    মেধা দরজা বন্ধ করে নিচের দালানের আলোটা নেভালেন। ছাত্রসঙ্ঘের অফিস ঘরের দরজাটা তালা দিয়ে গেছে মৈথিলী, তিনি আরও একটা তালা লাগালেন। টেনে দেখলেন দুটোই। এখানে শুধু ফাইল ক্যাবিনেট ভর্তি, টেবিল-ভর্তি কাগজপত্র নেই, প্রাথমিক সংগ্রহের টাকাকড়িও ব্যাংকে যাবার আগে পর্যন্ত থাকে। পাতলা পাতলা সিঁড়ির ধাপ। ওঠানামায় শব্দ হয় না। কষ্টও নেই। খুব সহজে উঠে যাওয়া যায়। মেধা ওপরে উঠতে উঠতে ভায়োলিনের ছড়ের শেষ টানটুকু শুনতে পেলেন। টেপটা বন্ধ করে হাত ধুয়ে ফেললেন। প্রেশারকুকারের একটা বাটিতে ভাত। আরেকটাতে চিংড়িমাছের স্টু। ছোট্ট রেফ্রিজারেটরের ভেতর থেকে কাটা শশা, টোম্যাটো বার করে নিলেন। আজকে ভীষণ চিংড়িমাছ খেতে ইচ্ছে হয়েছিল। মেধার বাবা ছিলেন নিরামিষাশী, মা প্রচণ্ড মৎস্য মাংসবিলাসী। মেধারা ভাইবোনেরা সবকিছুই খেতে শিখেছিলেন। কিন্তু মেধা লক্ষ্য করেছেন তাঁর জিভে কখনও বাবা, কখনও মা প্রবল হয়ে ওঠেন। তিনি আজ বছর পনের হল মাছ মাংস ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু আজকে যখন বাজারে চিংড়িমাছ দেখে হঠাৎ খেতে ইচ্ছে হল, তিনি নিজেকে না করলেন না। বাইরে থেকে চাপানো কোনও ত্যাগে বা ভোগে তিনি বিশ্বাস করেন না। মাংস সম্পর্কে তাঁর বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া একটা বিতৃষ্ণা আছে। কিন্তু মাছ সম্পর্কেও যখন সেটা দেখা দিল, তিনি সেটাকে মেনে নিয়েছিলেন। আজ মনে হচ্ছে তাঁর খাদ্যরুচি আবার একটু পালটেছে। ছেলেমেয়েগুলো রোজ রোজ আসে, খাটে। ওদেরও শীগগীরই একদিন চিংড়িমাছের স্টু খাওয়াতে হবে। এই বিলাসিতা হয়ত বছরে একবার কি দুবার। একশ পঞ্চাশ টাকার চিংড়িমাছ তৃতীয়বার খাবার সাধ নেই তার। সাধ্য আছে। সাধ নেই।

     

     

    আজকের দিনটা অদ্ভুত একটা দিব্য প্রশান্তির। আনন্দময়, স্বর্গীয়। শিশিরকণা ধরচৌধুরীর এই হংসধ্বনির টেপ এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানের। মধুচ্ছন্দার কাছ থেকে পেয়েছেন। পশ্চিমের ধ্রুপদী সঙ্গীতের বিখ্যাত কম্পাোজারদের সৃষ্টি স্বরলিপিতে ধরা থাকে। দেখে দেখে ওস্তাদ বাজিয়েরা বাজিয়ে যেতে পারবেন চিরদিন। কিন্তু এই প্রাচ্য শিল্পীরা প্রত্যেকেই সৃজন করছেন, প্রতিবারই। ঠিক এই হংসধ্বনি হয়ত ইনিও আর দ্বিতীয়বার বাজাবেন না। মহাকালের সময়সূত্রে প্রতিটি খণ্ড মুহূর্ত যেমন অনন্য এই সংগীতও তেমনি। সৃষ্টি এবং লয়। স্থিতি যদি কোথাও থাকে তবে দুচার জন শ্রোতার স্মৃতির মধ্যে আনন্দসার হয়ে থাকবে। বিশদ বৃত্তান্ত বা ডিটেল যাবে হারিয়ে, শুধু একটা অতুলনীয় উদ্বর্তনের আমেজ হয়ে থাকবে বহুকাল। চিরকাল কি?

    মেধার একটা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় আছে যা দিয়ে তিনি অনেক কিছু না বলা জিনিস চট করে বুঝে ফেলেন। সব সময়েই যে এ ক্ষমতাটা কাজ করে তা কিন্তু না। আজ করেছিল। বেহালা শুনতে শুনতে তাঁর মনে হল মৈথিলী আর উজান এসে দাঁড়িয়েছে। যেন হংসধ্বনির বাদী আর সম্বাদী। ওরা তাঁকে না ডেকে নিচে নেমে গেল। বেহালার ছড়ের হৃদয়মন্থন করা টানগুলো ভেদ করে নিজের অন্তরের মধ্যে কোথাও তিনি ওদের গুন গুন শুনতে পাচ্ছিলেন। বাড়ির নিচেটা একদম নির্জন, কেউ কোথাও নেই। শুধু মৈথিলী আর উজান। মেধার হঠাৎ মনে হল তিনি যেন কোনও তুঙ্গ মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে। এখুনি কিছু একটা ফেটে পড়বে। মেঘের বুকে আগুন বজ্রনির্ঘোষে এখুনি সব ফালাফালা করে দেবে। কিম্বা মেঘের অভ্যন্তরের শুদ্ধ জলের সঞ্চয় ভেঙে পড়বে প্রলয় বাদলে। তিনি ধীরে ধীরে নিচে নেমে গেলেন। ওদের কোনও ক্ষতি না হয়। জীবনকে এইরকম তুঙ্গ মুহূর্তের কাছে সমর্পণ করার আনন্দ যত, বেদনা তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি। ইদ্রিস আমেদ না বলতে পারেন—‘আমার নাতিটারে ভুলাইছিস ধিঙ্গি।’ রঘুনন্দন ত্রিপাঠী না ব্যথিত বিস্ময়ে তাকান ‘মেধা আমি তোমার কাছে মেয়েটাকে রেখে নিশ্চিন্ত ছিলাম। তুমি তো কখনও সন্তান গর্ভে ধারণ করোনি তুমি কিইবা বুঝবে?’ তিনি দেখতে পাচ্ছেন উজান উদ্যত, মৈথিলী উন্মুখ। ওরা কি নীল শূন্যে সোনালি ঈগলের মতো পাখসাটে পাখসাটে ভালোবাসাবাসি করবে?

     

     

    রোকেয়া! আহা রোকেয়া। সে নিজেও কি জানত অমিয় নাথ সান্যালকে সে কী তীব্রভাবে চেয়েছিল। বিপ্লবের সঙ্গিনী, সহধর্মিণী হতে তিনি তাকে ডেকেছিলেন। সেই নীরক্ত, অ-ব্যক্তিগত, পরার্থে উৎসর্গিত ডাক রাকেয়া ফিরিয়ে দিয়েছিল বিপুল অভিমানে। জীবনকে নিয়ে সে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিল। অনেক কিছু দেবার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে যখন তৃপ্ত হয়, একমাত্র তখনই বোধহয় মানুষের বহুর জন্য প্রাণভরে জীবন উৎসর্গ করার ক্ষমতা আসে। শুধু আদর্শবাদের সাধ্য নেই রক্তমাংসে গড়া, ঈশ্বরের মতো নিয়ত-সৃজনশীল মানুষকে বরাবরের জন্য তৃপ্ত রাখে। কে জানে এও আবার সেই নিরর্থক সামান্যকরণ কিনা, যার থেকে পৃথিবীর একটার পর একটা অনমনীয় তত্ত্ব তৈরি হয়েছে। রোকেয়া বলেনি, কিন্তু ক্যালিফর্নিয়া সিটিতে তাকে দেখবার পর মেধা একেবারে পুরোপুরি নিশ্চিত যে রোকেয়া অভিমানে কঠিন, কঠোর, নিঠুর হয়ে গেছে। মেধার দিক থেকে সে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, দেশ এবং দেশের জন্য সমস্ত ভাবনা-চিন্তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, শুদ্ধু অমিয়নাথ তাকে ঠিক সময়ে ঠিক সুরে ডাকলেন না বলে।

    রোকেয়ার শহরতলির বাড়ির সামনে মস্ত ফুলের বাগান। লম্বা রাস্তা, দুপাশে ফুল, তার ওদিকে সবুজ লন। আমেরিকার সবুজ দেখে অনেক সময় সন্দেহ হয়, এতো সবুজ, এত সতেজ, এসব কৃত্রিম নয় তো!

     

     

    রবিবারের সকাল। মেধা তার নতুন টয়োটা নিয়ে ঢুকছে। সে তার নিজের সমস্ত অভিমান জয় করেছে। খবর নিয়েছে রোকেয়া বাড়ি থাকবে। যদিও তাকে ঘুণাক্ষরেও জানতে দেয়নি সে আসছে। লম্বা নীল স্কার্ট পরা একটি মহিলা লনের ওপর পাতা হালকা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছে। একটা কোল-কুকুর লুটোপুটি খেতে খেতে ছুটে আসছে। রোকেয়া অনেক মোটা হয়ে গেছে, কিন্তু স্বাস্থ্যবতী, উজ্জ্বল। চকচকে শ্যাম রং ছিল ওর। তাতে এখন রক্তাভা। রক্তমুখী নীলা। চুল ছোট, সযত্নে সেট করা, কত অন্যরকম দেখাচ্ছে ওকে। মেধা নামছে। রোকেয়া এগিয়ে আসছে—‘হাই।’ সারা জীবনে বাবা মা ভাই বোন ছাড়া একমাত্র রোকেয়ার সঙ্গেই তার খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। দুজনে পাশাপাশি জড়াজড়ি করে শুয়ে গল্প করা এ-ওর বুকে, মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ার সম্পর্ক। লুকু আর মুন্নির মতো।

    মেধা তখন সবে ওদেশে গেছে। অত সহজে অনুনাসিক স্বরে ‘হা-ই’ বলতে পারল না।

    —‘মেধা।’ এগিয়ে এসে হাত দুটো ধরেছে রোকেয়া ‘তুমি কবে এলে।’

    —‘এসেছি বছর খানেক হয়ে গেল।’

     

     

    রোকেয়ার স্বরে অভ্যর্থনা নেই। মুখের বিস্মিত হাসিটুকুও মুছে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। রোকেয়ার থেকে তার স্বামী রজ্জাক অনেক উৎসাহী, উচ্ছ্বসিত।

    —‘ওহো। মেধা ভাটনগর! সেই কলকাতার মেধা! বৈঠকখানা রোডের ঠিকানায় কাঠ-দুপুরে সাদী মনে আছে মেধা? আপনার কনুই দিয়ে বিরিয়ানির ঘি নামছিল, গোস্তের সাইজ দেখে ভিরমি যাচ্ছিলেন। ইদ্রিসসায়েব সেই হুজ্জোতির সাদীতে বিরিয়ানি আর ফিরনি বাদে কিসসু করেন নাই। হা, হা, হা, খুব সংকট যায় সেদিন আপনার, খু-উ-ব। উঃ কত্তকাল পর। রোকেয়া ছিল না এমন একটা জীবন ছিল ভুলেই মেরে দিচ্ছি।’

    রাতে ঘরে গুড-নাইট জানাতে এলো রোকেয়া। তার ফুলের মতো ছেলে মেয়ে দুটি আগেই গুডনাইট জানিয়ে গেছে।

    রোকেয়া বলল—‘হ্যাভ আ গুড স্লীপ মেধা।’ তারপর একটু থেমে বলল—‘হাউ ডু য়ু ফাইন্ড হিম?’

    —‘কাকে? রজ্জাককে? চমৎকার।’

     

     

    —‘আ হানড্রেড টাইমস বেটার।’ রোকেয়া কঠিন মুখে বলল।

    কার সঙ্গে তুলনাটা করছে মেধা বুঝতে পারছিস না। এক ঝলকেই বুঝতে পারল কার সঙ্গে তুলনা, কেন তুলনা। বুঝতে পারল সঙ্গে সঙ্গে রোকেয়াকেও। এতদিন পর।

    কিন্তু রোকেয়াই কি অমিয় সান্যালকে ঠিকঠাক বুঝেছিল? মেধার সঙ্গে তাঁর যে বিয়েটা হয়েছিল সেটা তো নেহাতই কাগজের বিয়ে। আস্তে আস্তে তাই সেটা বাজে কাগজের ঝুড়িতে চলে গেল। রোকেয়া বোধহয় ঠিক বোঝেনি। নৈর্ব্যক্তিক সমস্যাগুলো ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের সঙ্গে যখন এমন পাকে পাকে জড়িয়ে যায় তখন কী জটিল হয়ে দাঁড়ায় জীবন। কী ভয়ঙ্কর দুর্বিপাক তখন। সান্যালদা যে চট করে আন্ডারগ্রাউন্ডে গেলেন, গ্রেপ্তার হয়ে গেলেন, সে কি খানিকটা ইচ্ছে করেই? মেধা যেন এতদিন পর সান্যালদার সেই ধারাল, তেজস্বী নৈর্ব্যক্তিক মুখখানার ভেতর তাঁর আসল মুখটা দেখতে পেল। মুখটা ভেঙে চুরে যাচ্ছে, মেধার স্মৃতিহর্ম্যের মণিকুট্টিমে ভাঙা আয়নার মুখের মতো টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

    মেধার সব স্বপ্ন জাগা স্বপ্ন। ঘুমিয়ে তিনি সাধারণত স্বপ্ন দেখেন না। আজ কেন কে জানে ঘুমোতে যাবার আগে বারবার মনে হতে লাগল দেবপ্রিয় অনেক দিন আসেনি। আসে না কেন? তিনি সবসময়েই নিজেকে খানিকটা নির্লিপ্ত নিরাসক্ত রাখতে চান। ছাত্রসংঘের পরিকল্পনা তাঁর নয়। মৈথিলীর। কিন্তু সেটাকে আরও ব্যাপক আরও অর্থময় এবং সফল করতে যা যা করা দরকার সবই তিনি করেছেন। এখন বৃহত্তর কলকাতার হেন কলেজ বা য়ুনিভার্সিটি নেই যেখানে ছাত্রসঙ্ঘের সাধারণ সদস্য নেই। গঞ্জ ও গ্রামাঞ্চলের কলেজ থেকেও সদস্য নেওয়া শুরু হয়েছে। এ বছর সংখ্যাটা লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সবচেয়ে আনন্দের কথা এরা সব ঘুমন্ত সদস্য নয়। মৈথিলী আজকাল তিন চারটে শাখায় ভাগ করে দিয়েছে সঙ্ঘকে। প্রত্যেকটি শাখার আলাদা কর্মনির্বাহক সমিতি যদিও কেন্দ্রীয় কমিটি এখনও পর্যন্ত খুবই সক্রিয় আছে। যাই হোক এক ফলে ছাত্রসঙঘ কাজ করছে খুব দ্রুত লয়ে। কিন্তু দেবপ্রিয় নীরবে এই ছাত্রসঙঘ থেকে সরে যাচ্ছে, এটা তাঁর ভালো লাগে না। অন্য কেউ ছেড়ে দিলে তিনি ততটা গুরুত্ব দিতেন না। কিন্তু দেবপ্রিয় ছেড়ে দিলে যেন ছাত্রসঙ্ঘকেই প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতে হয়। যে জিনিস সব প্রতিষ্ঠানকে ভাঙে সেই অন্তর্দ্বন্দ্ব নেই তো এর ভেতরে? সেরকম কিছু হলে মৈথিলী অন্তত তাঁকে জানাত। এই ধরনের চিন্তা করতে করতে মেধা শুয়েছিলেন। একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলেন : তিনি যেন গর্ভবতী হয়েছেন। বিশাল গর্ভ, নড়তে চড়তে পারছেন না। তারপর হঠাৎ কি করে সেই গর্ভ হালকা হয়ে গেল, দৌড়োদৌড়ি করে বেড়াচ্ছে একটি দশ বারো বছরের বালক। স্বপ্নে যার মুখ স্পষ্ট নয়। কারা যেন বলছে ‘বাপরে! এত বড় ছেলে হয়েছে? অস্ট্রেলিয়ায় দেখেছি চার পাঁচ বছরের পর্যন্ত হয়। কিন্তু একেবারে দশ-এগার?’ স্বপ্নের মধ্যে মেধার চেতনা আছে। ছেলেটা দেবপ্রিয়। যদিও আসল দেবপ্রিয়র সঙ্গে তার বিন্দুমাত্র মিল নেই। তিনি যেন ছেলেটিকে ডাকছেন, সে খালি পালিয়ে যাচ্ছে, তাঁর বুক টনটন করছে, দুধ ঝরে পড়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে শরীর। এইরকম অবস্থায় তাঁর ঘুম ভেঙে গেল। কখন বিদ্যুৎ চলে গেছে। ঘামে ভিজে গেছে সব। দুর্দান্ত গুমোট গেছে রাত্তিরে। বুকে এখনও ব্যথা করছে। হাতের মুঠিটা বুকের মধ্যে নিয়ে উপুড় হয়ে শুয়েছিলেন। আস্তে আস্তে হাতটাকে মুক্ত করলেন মেধা।

    এখন আলো ফোটেনি। তবে এইবারে ফুটবে। দু একটা পাখির ডাক হঠাৎ হঠাৎ অন্ধকারে শোনা যাচ্ছে, সেইসব বিরল চক্ষুষ্মান পাখি যারা অন্ধকারেও আলো দেখতে পায়। মহাজ্যোতিষ্ক সূর্য থেকে যখন পৃথিবীর সৃষ্টি তখন আলো ছিল না এমন দিন নিশ্চয়ই ছিল না। বাইবেল যতই বলুক ‘ডার্কনেস ওয়াজ আপন দা ফেস অফ দা ডীপ’। অন্ধকার আসে একটা নিয়মিত ছন্দে। প্রকৃতির জীবনে যেমনি মানুষের জীবনেও তেমনি। মানুষের জীবনে এই ছন্দটা অন্যরকম, এখনও কেউ বার করতে পারেনি এর সূক্ষ্ম হিসেব নিকেশ। জ্যোতিষশাস্ত্র খানিকটা চেষ্টা করেছে। কিন্তু পারেনি। প্রকৃতি সচল হলেও নিয়মে বাঁধা। মানুষ এবং তার ঘাত-প্রতিঘাতে উৎপন্ন জীবন এতো জটিল যে সেই জীবনে আলো-অন্ধকারের যাওয়া আসার ছন্দ আবিষ্কার করা অতি দুঃসাধ্য কাজ।

    ভোরের আলো-আঁধারির মধ্যে দিয়ে আকাশি-নীল রাতপোশাক পরে মেধা ছাতে উঠে গেলেন। হঠাৎ সূর্য-ওঠা দেখতে ইচ্ছে হল তাঁর একেবারে প্রথম আদি লগ্ন থেকে। কিছু বহুতল বাড়ির দৈর্ঘ্য দৃষ্টির গতি থামিয়ে দিচ্ছে, পূর্ব দিগন্তকে সোজাসুজি দেখা যায় না আর। কিন্তু সেই বহুতলের আশপাশ থেকে তিনি বিকীর্ণ হয়ে পড়তে দেখলেন সূর্যকে। স্বয়ং সূর্য হৰ্ম্য শিখরের আড়ালে। কিন্তু তার আলোর ছটা পূর্ব আকাশটাকে বিদীর্ণ করে দীপ্যমান। কাঞ্চনজঙ্ঘার পেছন থেকে যখন সূর্য ওঠে তখনও খানিকটা এইরকমই দেখায়। বরফে সেখানে রঙের খেলাটা জমে। এখানে বরফ নেই, শুধু ইঁট কাঠের প্রতিফলন ক্ষমতা নেই, তাই সূর্যকে তার ঐশ্বর্য সংবরণ করে নিতে হয়েছে।

    ছাতে কয়েকটা গাছ। ছাতের ট্যাংকের কল থেকে জল ভরে সেগুলোকে স্নান করালেন মেধা। কাজটা করতে করতেই তাঁর শরীর মন টান টান হয়ে উঠল। কোথাও যেন ফোন বাজছে। কার বাড়িতে? এতো ভোরে? তাঁর বাড়িতে? হ্যাঁ, তাঁর বাড়িতেই। মেধা তাড়াতাড়ি নিচে নেমে এলেন। ফোনটা একবার স্তব্ধ হয়ে গেল, আবার ঝনঝন করে বেজে উঠল একটু পরেই।

    —‘মেধা ভাটনগর বলছি।’

    —‘দিদি, আমি উজান। দেবপ্রিয়কে পুলিস অ্যারেস্ট করেছে।’

    —‘সেকি? কেন? করে?’

    —‘আমি আসছি। পাঁচ মিনিট।’

    ফোনটা নামিয়ে রেখে মেধা শাড়ি পরে নিলেন। একেবারে প্রস্তুত। যে কোনও সময়ে যে কোনও জায়গায় আবার ডাক আসলে তিনি শতকরা শতভাগ প্রস্তুত। চুল আঁচড়ে নতুন করে বিনুনি বাঁধলেন। সদর দরজাটা খুলে নেমে গেলেন তাঁর ছোট্ট রুমালের মতো লনে। ছোট ছোট ফুলগাছগুলো উন্মুখ, তৃষিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। ওদের চাহিদা সামান্যই। আহা! তিনি জীবনের জটিল পদক্ষেপে বিচলিত বলে ওরা সেই সামান্যটুকু থেকে বঞ্চিত হবে কেন? মেধা জলের ঝারিটা নিয়ে এলেন।

    উজান সাইকেল নিয়ে ঢুকছে। যোধপুর পার্ক থেকে ফার্ন প্লেস কতটুকুই বা! মেধা কিছু বলছেন না। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন শুধু।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকুশে পা – বাণী বসু
    Next Article শ্বেত পাথরের থালা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Our Picks

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }