Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উত্তরসাধক – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প289 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উত্তরসাধক – ১৬

    অধ্যায় : ১৬

    লুকুর দিনগুলো ভারহীন, হালকা কাটছে। পাখির মতো উড়ানে মত্ত, কিংবা মাছের মতো সাঁতারে সমর্পিত। এম এ পার্ট ওয়ানটা দেবার পরই সে গুঞ্জনের পরামর্শে একটা বিউটিশিয়ানস কোর্স নিয়ে নিয়েছিল। কিছু কিছু মডেলিং শুরু করেছে আবার। ভালো টাকা রোজগার করছে লুকু। ভাইয়ার সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলছে পার্কে গিয়ে। আরও কিছু কিছু পাড়ার বন্ধুরা আসে। তাদের অনেককেই অবশৎ সে পছন্দ করে না। কিন্তু খেলার মধ্যে দিয়ে সম্পর্কটা ভালোই থাকে।

    বিশ্বজিৎ মজুমদারের সবচেয়ে স্বস্তির কারণ লুকু আজকাল আর ঝড়ুর ওপর নির্ভর করছে না। সংসারের যে জায়গায় তার মা ছিল, সেখানে সে ক্রমশই খাপে খাপে বসে যাচ্ছে। একটি গভীরভাবে জীবনাসক্ত মানুষ যেদিন দুমাসের মধ্যে জরায়ুর ক্যানসারে মারা গেল সেদিন নিজের কষ্টের চেয়েও তাঁর বিপদ হয়েছিল দুটি ছেলেমেয়ে, বিশেষ করে লুকুকে নিয়ে। তিনি বেসরকারী ফার্মের এগজিকিউটিভ। তাঁকে কিছু কিছু ওপরমহলের এবং ইউনিয়নের চাপ সামলে চলতে হয়। এই ব্যালান্স রাখার কাজটার জন্য তাঁর নিজের মানসিক ও পারিবারিক সুস্থিতি বজায় থাকাটা ভীষণ জরুরি। স্ত্রীর অসুখে প্রচুর ছুটি ঋণ ইত্যাদি হয়ে গেছে। অফিস থেকে অনেকটাই পান। তবু আরও নিতে হয়েছিল। এখন খুব খাটতে হচ্ছে। এদিকে বাড়িতে লুকু ওইরকম। তিনি বুঝতে পারছেন লুকু স্মোক করছে, ঝগড়াঝাঁটি করছে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে, কেঁদে-কেটে আধা-অচেতন হয়ে যাচ্ছে সময়ে সময়ে। ভালো সাঁইকিয়ট্রিস্ট দেখালেন। সে ভদ্রলোক এতো ট্র্যাংকুইলাইজার দিলেন যে খেতে খেতে লুকুর প্রায় জীবন্মৃত অবস্থা। শেষ পর্যন্ত ওষুধগুলোকে নিজেই টান মেরে ফেলে দিল ও। ছাত্রসঙ্ঘের কাজ-কর্ম করে, মেধা ভাটনগরের বাড়িতে গিয়ে মেয়েটা ভালো আছে। তারপর একটি ছেলে আজকাল প্রায়ই আসছে। দুজনে একসঙ্গে কি পড়াশোনা করে ওরাই জানে। তবে লুকু যে অধীর আগ্রহে ছেলেটির জন্যে অপেক্ষা করে এটা তাঁর চোখ এড়ায়নি। ছেলেটি অমিশুক। তাঁর ছেলে জয়দীপের সঙ্গেও বিশেষ মেলামেশা করে না। তাঁর সঙ্গে একটা বিনীত দূরত্ব রাখে। হঠাৎ দেখলে মনে হয়, এই ছেলেটি বড় উদাসীন, অন্যমনস্ক। কে জানে ও দায়িত্ব নিয়ে মেলামেশা করছে কিনা। লুকুর অন্যান্য বন্ধু উজান আফতাব, প্রমিত, বুল্টু এরা খুব স্মার্ট। এদের বেশি পছন্দ করেন বিশ্বজিৎ মজুমদার। এই ছেলেটিকে ঠিক মফঃস্বলী বলতে দ্বিধা হয়, চকচকে পালিশ না থাকলেও এর ভেতরে কোথাও একটা অনমনীয় সপ্রতিভতা আছে। সেটা তিনি দু একবার কথা বলে বুঝতে পেরেছেন। ডাক্তার হতে যাচ্ছে। সার্জারিতে নাকি অসামান্য হাত। মৈথিলী বলছিল। ভালো। ভালো হলেই ভালো। কোনও নিশ্চিন্ততা যেন ওপরঅলার চোখে না ঠেকে।

    জীবনটা তো নিশ্চিন্ত, সুখী সুন্দরই ছিল। মঞ্জুশ্রী ছিল একটা তাজা চন্দ্রমল্লিকা ফুলের মতো। চটপট কাজ করে ফেলছে। এই বাজার-হাট করে এলো। তারপরেই বসবার ঘরের যাবতীয় সাজ-সজ্জা একটু এদিক-ওদিক করে পাল্টে ফেলল। পরক্ষণেই ফোন করে শ্বশুরবাড়ি, বাপের বাড়ির ডজনখানেক আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নিয়ে ফেলল। লম্বা চুলগুলোকে একদিন ছেঁটে-ছুঁটে কুঁকড়ে ফিরে এলো—কি ব্যাপার? না, তোমায় অবাক করে দেবো।’

     

     

    —‘আমায় না অন্য কাউকে?’

    মঞ্জুর সে কী হাসি। বললে ‘সে তো আছেই। অন্যদের মুণ্ডু তো আকচার ঘোরাচ্ছিই। তুমি উনিশ বছর দেখে দেখে আজকাল একটু আসবাবপত্রের মতো দেখতে আরম্ভ করেছ আমাকে টের পাচ্ছি। তাই একটা এক্সপেরিমেন্ট করলাম।

    —‘তুমি কি সত্যি ভেবেছ নাকি চুল-টুল ছেঁটে নিজেকে আমার কাছে নতুন করবে? হোয়াট ননসেন্স?’

    —‘তাহলে কি পুরো চরিত্রটাই পাল্টে ফেলতে হবে? এবার থেকে তাহলে ন্যাগিং ওয়াইফ হই?’

    —‘ওরে বাবা, রক্ষা করো।’

    এসব কথা বাড়তে দিতেন না কখনও বিশ্বজিৎ। গুরুত্ব দিতেন না। এখন অতীতের কথা মনে করলে বুঝতে পারেন মেয়েরা সবসময়ে প্রিয়জনের মনোযোগ চায়। বয়সটা কোনও ব্যাপার নয়। সব বয়সে, সব অবস্থায় তারা মনোযোগ চায়। দীর্ঘদিন দাম্পত্য-সুখের পর পুরুষদের আসে একটা নিশ্চিন্ততা, প্রশান্তি। কেজো জগতের দিকে মন ফিরে যায়। তার অর্থ এই নয় যে ভালোবাসার খাতে কিছু কম পড়ল। তার চেহারাটা একটু পাল্টে গেল শুধু। এটা মেয়েরা সইতে পারে না। অন্তত মঞ্জুশ্রী পারত না। প্রথম দিনের উচ্ছ্বাস, প্রথম যুগের মনোযোগ তাদের সারা জীবন চাই। তা নয়ত তারা ফুলের মতো ফুটে থাকবে না। তাদের কাজকর্মে আর ছন্দ আসবে না, জীবনযাপন থেকে লাবণ্য অন্তর্হিত হবে। যখন পেটে ব্যথা পেটে ব্যথা করে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ল, ডাক্তার দেখিয়ে ধরা পড়ল কুসুমে কীট প্রবেশ করেছে, তখন বিশ্বজিৎ দিশেহারা, ছুটি নিচ্ছেন, নার্সিং হোমে কাটাচ্ছেন প্রায় সব সময়ে, কি পেলে মঞ্জুশ্রী খুশী হয়, ফুল, চকোলেট, নিয়ে ছুটে ছুটে যাচ্ছেন, ব্যাকুল চোখ সবসময়ে তার মুখের ওপর স্থির—কী খুশি মঞ্জুশ্রী। লুকুকে রোগশয্যা থেকেই শেখাচ্ছে গাৰ্হস্থ্যের নানান খুঁটিনাটি। খেয়াল নেই সে একটা বালিকা, মায়ের অভাবনীয় অসুখে তার সুখের দুর্গ ভেঙে পড়েছে। মঞ্জুশ্রীর মতো প্রাণবন্ত, জীবনের প্রতি ভালোবাসায় নিবেদিত বিচিত্ররূপা রমণী যদি ভেতরে আসন্ন মৃত্যুর বীজ বহন করতে পারে তো প্রকৃতির দ্বারা সবই সম্ভব। বিশ্বজিৎ খুব সন্তর্পণে বাঁচেন। লুকুর মুখে হাসি ফুটেছে তিনি খুব খুশী। কিন্তু খুশীটা আদৌ প্রকাশ করেন না।

     

     

    এ শনিবার দেব এলো না। গ্রীক সাহিত্যের ইতিহাস পড়তে হয় লুকুদের। দেব বলেছিল বাছা বাছা কয়েকটা গ্রীক ট্রাজেডি পড়বে। ওরা সোফোক্লিসের ‘ইলেকট্রা’ পড়ে ফেলেছে। এখন শুরু করেছে ইউরিপিদিসের ‘মিডিয়া’। আজকে হয়ত সেটা শেষ হয়ে যেত। দেব কোথাও আটকে গেছে, আসতে পারল না। ও আজকাল ছাত্র পড়াচ্ছে। ছাত্রর পরীক্ষা-টরীক্ষা না কি? কিছু তো বলেনি। সন্ধেবেলা বাপী ফিরলে লুকু জলখাবার এনে দিল, বাপীর ঘরে।

    বিশ্বজিৎ বললেন—‘কি রে, দেবপ্রিয় আসেনি?’

    —‘না বাপী। আজকে কিন্তু তোমাকেই আমার সঙ্গে ‘মিডিয়া’ পড়তে হবে।’

    —‘আমাকে? মিডিয়া? সেকি?’ বিশ্বজিৎ জীবনে কখনও মিডিয়া নাটকের নাম শোনেননি।

    —‘কেন বাপী, নাটক হয়েছে তো মিডিয়া কাগজে বিজ্ঞাপন দেখোনি? খেয়াল করোনি?

    —‘কই না তো।’

     

     

    —‘তোমাকে আমার সঙ্গে ওটা পড়তেই হবে।’

    বিশ্বজিৎ প্রচুর গাঁইগুঁই করেও সুবিধে করতে পারেন না। তাঁকে বসতে হয়। তবু রক্ষা যে লুকু আবার গোড়ার থেকে শুরু করেনি। সে অনেকটা অংশই গল্পটা বলে দিল। পড়া-টড়া শেষ করে বিশ্বজিৎ বললেন—‘এতো একেবারে বর্বর কাহিনী রে। গ্রীকরা এরকম বর্বর ছিল?’

    লুকু হেসে কুটিপাটি। বলল—‘সবাই তো একদিন বর্বর ছিল। গ্রীকরা সভ্যশান্ত হবার অনেক আগেকার পুরাণ কথা এসব। আমাদের যেরকম শুনঃসেফের কাহিনীটা আছে! জমদগ্নি, রেণুকা পরশুরামের গল্প আছে! সেইরকম। শুনঃসেফের কাহিনীটাই কি বর্বর ধরো না। রাজপুত্র রোহিত নিজের বিকল্প হিসেবে গরিবের ছেলেকে বরুণ দেবতার কাছে বলি দিতে চাইলেন। বাবা বললে বড়টিকে দেবো না, মা বললে ছোটটিকে দেবো না। মেজোটাকে দিতে দুজনেই রাজি হয়ে গেল। রাজা নিশ্চয়ই অনেক ধনরত্ন দিলেন। শুনঃসেফ বরুণের স্তব করতে তিনি তাকে অব্যাহতি দিলেন। পরশুরামের গল্পটা তো আরও বীভৎস। রামের দ্বন্দ্ব তিনি বাবার কথা শুনবেন না মার প্রাণ রাখবেন। পিতৃতান্ত্রিক সমাজের ন্যায় অন্যায়ের ধারণা সাঙ্ঘাতিক রিজিড, প্রো-ফাদার, তাই তিনি মাকে হত্যা করলেন।’

     

     

    —‘কিন্তু সেই মা আবার জমদাগ্নির বরে বেঁচে উঠলেন তো!’

    —‘বেঁচে ওঠা কি সম্ভব বাপী? আর যে ভদ্রলোক অনায়াসে স্ত্রীকে মারবার হুকুম ছেলেকে দিতে পারেন, তাঁর কাছে আর কোনও প্রতিভা ঘেঁষতে পারে বলে মনে হয় না। এইসব বর্বর কাহিনীগুলোতে অলৌকিকের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। গ্রীক পুরাণের গল্পও তো আছে—ট্রয়যুদ্ধে জয়ের জন্য মানসিক করে আর্গস-এর রাজা আগামেমনন তাঁর মেয়ে ইফিজিনিয়াকে দেবী আর্তেমিসের কাছে বলি দিয়েছিলেন। সে মেয়ে নাকি আদৌ বলি হয়নি। আর্তেমিস মায়ার সৃষ্টি করে তাকে লুকিয়ে ফেলেছিলেন। আচ্ছা বলো একি সত্যি হতে পারে? আসলে, দেবী নিজের প্রসন্নতার জন্য কারো রক্ত চাইছেন এই বিসদৃশ ব্যাপারটা পুরাণকারদের নিশ্চয়ই খারাপ লাগত, তাই তাঁরা কৌশলে ইফিজিনিয়াকে বাঁচিয়ে দিলেন। পেছনে আছে সেই নরবলি, কুমারীবলির বীভৎস রীতিনীতির দিনগুলো।’

    বিশ্বজিৎ বললেন—‘বাইবেলের আব্রাহাম আইজাকের গল্পটাও তো সিমিলার রে। আব্রাহাম ছেলে আইজাককে বলি দিতে নিয়ে যাচ্ছেন ঈশ্বরের আদেশে, ঠিক শেষ মুহূর্তে ঝোপের মধ্যে ঈশ্বর আবির্ভূত হলেন। তিনি আব্রাহামকে নিরস্ত করলেন। শুনঃসেফ আব্রাহাম আইজাক আর তোর আগামেমননের গল্পের মধ্যে প্রচুর মিল।’

     

     

    —বাইবেলের গল্পে আসল সত্যটা তাহলে কি বলো তো বাপী।’

    —‘তোর মত অনুসরণ করলে বলতে হয় আব্রাহামের পিতৃহৃদয় জেগে উঠল, তিনি ছেলেকে শেষ পর্যন্ত বলি দিতে পারলেন না। তাঁর হৃদয়ই যেহোভার কণ্ঠ হয়ে তাঁকে বারুণ করল।’

    —ওয়াণ্ডারফুল। বাপী ওয়াণ্ডারফুল! তুমি একদম দেবের মতো করে বললে।

    বিশ্বজিতের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল। ছেলেমেয়ে এরা নতুন প্রজন্ম। এদের হাতে বাবা মারা বড়ই নাকাল হন। এরা হয় অনেক বেশি জানে। তুড়ি দিয়ে উড়িয়ে দেয় সব কিছু নয় তো বড্ড নির্ভর করে। নতুন প্রজন্মের কাছে বাহবা পেয়ে বালকের মতো খুশি হয়ে গেলেন তিনি। মঞ্জুশ্রীর মৃত্যুর পর থেকে তাঁকে বাহবা দেবার, সাহস দেবার কেউ নেই। তিনি কখন নিজের অজান্তেই ছেলে মেয়ের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছেন। তিনি বললেন—‘দেবপ্রিয় এইসবই বলে নাকি?’

    —‘হ্যাঁ বাপী আমি আগে কখনও ঠিক এইভাবে ভাবিনি। মেধাদি ক্লাসে কিছু কিছু বলতেন বটে, কিন্তু সপ্তাহে ওঁর মোটে একটা ক্লাস ছিল। শুনতাম, ভালো লাগত, তারপর আমার স্বভাব জানো তো। ভুলে যেতাম। দেব নিয়মিত আসে। আমার সঙ্গে পড়ে এইভাবে আলোচনা করে, আমার এতো ভালো লাগে যে কী বলব। তুমিও থাকো না কেন বাপী। তুমি মনে করো…আমরা বিরক্ত হবো, না?’ লুকু দুষ্টু হাসি হাসছে।

     

     

    বিশ্বজিৎ বললেন—‘না, হ্যাঁ, তা…’

    —‘আমতা আমতা করছো কেন? তোমার ধারণা কি আমি জানি।’ বলে লুকু ফুলে ফুলে হাসতে লাগল। তারপর হাসি থামিয়ে বলল, ‘আমি ঠিক করেছি এম এর পর মিথ নিয়ে রিসার্চ করবো। এইসব বর্বর যুগের মিথ। আমি দেখাবো বাপী আমাদের এই বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির যুগেও আমরা কিরকম বর্বর রয়ে গেছি। কোনও কোনও সমাজে খোলাখুলি চলছে এইসব। কিন্তু সভ্য সমাজেও নরবলির ইনসটিংট, ভাগ্যকে যে কোনও মূল্যে খুশি করার ইনসটিংট এখনও কি প্রবলভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

    বিশ্বজিৎ বললেন—‘তবে তো তুই তোর লাইন পেয়েই গেছিস। মনে আছে তোকে হিসট্রি পড়তে জোর করেছিল কে! তুই তো সায়েন্স পাবো না, সায়েন্স পাবোনা করে দাপাদাপি আরম্ভ করেছিলি।

    …হ্যাঁরে লুকু’ বিশ্বজিৎ একটু নিচু গলায় ভিতু ভিতু স্বরে বললেন, ‘তুই স্মোক করিস?’

    লুকুর মুখটা সাদা হয়ে গেল। মায়ের মৃত্যুর আগে বাপী ছিল দোর্দণ্ডপ্রতাপ বাবা। গোটা সংসারটা চলত বাপীকে খুশি করবার জন্য। বাপীর ওয়ার্ডরোব, বাপীর স্যুট, জুতো সব ঠিকঠাক ঝকঝকে চকচকে থাকা চাই। বাপী যখন বাড়ি ফিরবে, কোনও গোলমাল চলবে না। যখন অফিস যাবে জয় যদি ‘দুঁধ খাঁবো না’ বলে নাকি কান্না ধরে সে প্রচণ্ড একটা ধমক খাবে। মা চলে যাবার পর বাপীর সমস্ত প্রকৃতি থেকে সেই প্রতাপের খোলস একটু একটু করে খসে পড়ছে। ভিতু ভিতু স্বরে বাপী বলছে ‘লুকু তুই স্মোক করিস?’ আগে হলে বাপী বলত ‘মঞ্জু ওকে ধরে আনো, ধরে আনো তো আমার সামনে। হাঁ কর দেখি, এত বড় স্পর্ধা…বিশ্বজিৎ মজুমদারের মেয়ে হয়ে তুমি….দাঁড়াও তোমার উপযুক্ত সাজা আমি বার করছি।’ এখন বাপী কুণ্ঠিত। যেন মাফ-চাওয়া স্বরে জানতে চাইছে ‘লুকু তুই স্মোক করিস?’ প্রশ্নটা নিশ্চয়ই বাপীর মনের মধ্যে অনেক দিন ধরে ঘোরাফেরা করছে। লুকুর মরিয়া ভাব, যখন তখন হিস্টিরিক হয়ে যাওয়া এসব কারণে বাপী প্রশ্নটা করেনি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে দুশ্চিন্তায় খুব কষ্ট পেয়েছে। খুব। লুকুর ভীষণ মায়া হল। সে টেবিলের ওপর কনুই রেখে বলল—‘বাপী তুমি কি করে বুঝলে?’

     

     

    বিশ্বজিৎ বললেন, ‘আমাকে তোরা যতটা বোকা ভাবিস, ততটা বোকা আমি নই রে! আমি সিগারেট গুনে গেঁথে খাই, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই যদি আমার প্যাকেট ফুরিয়ে যায়, আমি জানবো না? জয় আমার পাশে শোয়, ওর জামা কাপড়ে আমি গন্ধ পাই না। তোর ওয়ার্ডরোব খুললেই…ক্যাপস্টানের কড়া গন্ধ তুই লুকোবি কোথায়? লুকু প্লীজ, স্মোক করিস না।’

    লুকু বলল—‘কেন বাবা, আজকাল ফ্যাশনেব্‌ল্‌ মেয়েরা তো অনেকেই স্মোক করে। তোমার বস মিঃ সুদের স্ত্রী সন্তোষ সুদের ছবি দেখেছি কতো সিগারেট ঠোঁটে। বিদেশে তো অনেকদিন চালু। এদেশেও নবাব-টবাবদের বেগমরা রীতিমতো স্মোক করত, জানো?’

    বিশ্বজিৎ বললেন—‘যে যেখানে যাই করুক, অভ্যেসটা ভালো নয় এটা তো স্বীকার করবি? তোর মত বাচ্চা মেয়েকে একেবারেই মানায় না।’

    লুকু বলল—‘বাপী, একটা কথা বলব, ভয় পাবে না। রাগ করবে না।’

     

     

    ভেতরে ভেতরে খুব শঙ্কিত হয়ে বিশ্বজিৎ বললেন—‘কি কথা? ভয় পেতে হবে কেন?’

    লুকু নিচু গলায় বলল—‘আমি ড্রাগ খেতে আরম্ভ করেছিলাম বাপী। অবশ্য না জেনে। কিন্তু আমি আস্তে আস্তে অ্যাডিক্ট হয়ে যাচ্ছিলাম। দেব আমাকে বাঁচালো, ছাড়ালো নেশাটা। কিন্তু এখনও মুখটা কিরকম সুড়সুড় করে তাই দেবকে লুকিয়ে তোমার থেকে একটা দুটো নিয়ে খাই। ধরা দিনে দুটো, কখনও তিনটে। বাপী প্লীজ। আস্তে আস্তে ছেড়ে দেবো।’

    বিশ্বজিতের বুকের ধুকধুকি থেমে গিয়েছিল কয়েক সেকেন্ড। বললেন—‘ড্রাগ? কি ড্রাগ? কোথায় পেলি? না জেনে কি করে খেলি?’

    ‘—তুমি জানো না বাপী ড্রাগের ফাঁদ পাতা ভুবনে, কে কোথা ধরা পড়ে কে জানে! আমিও ভালো করে জানি না কোথা থেকে পেয়েছি। তুমি এসব নিয়ে আর মাথা ঘামিও না। দ্যাট চ্যাপ্টার ইজ ক্লোজড নাউ। ওনলি হ্যাভ পেশেন্স উইথ মাই স্মোকিং হ্যাবিট। ওটা আস্তে আস্তে যাবে।’

     

     

    ঝড়ুকে বিশেষ নির্দেশ দিয়ে লুকু আজকে কি একটা পদ রান্না করিয়েছে। ছোট ছোট মুচমুচে পরোটা তার সঙ্গে। শিখেছে নাকি মৈথিলীদের রাঁধুনি বৈজুদার কাছ থেকে। আনন্দ-বিষাদে মেশা কী অদ্ভুত এই রাতের খাওয়ার স্বাদ। লুকু তুলে দিচ্ছে। যা হারিয়ে গেছে বা যাচ্ছে বলে বিশ্বাস হঠাৎ দেখা যায় না তা পূর্ণমাত্রায় দেদীপ্যমান হয়ে রয়েছে তা হলে যে আনন্দ হয় সেই আনন্দ এখন লুকুর বাবার মনে।

    —‘বাপী আমি বড্ড কম আইটেম করি, তোমার খেতে কষ্ট হয়, না? অনেস্টলি বলবে।’

    —‘আরে না না, আবার কি?’

    —‘মা অনেক রকম করত।’ মা চলে যাবার পর লুকু সহসা মায়ের কথা মুখে আনে না। বিশ্বজিতও না। সে আছে ফুলে-মালায় সাজানো ঘরের মধ্যের ছবিতে, আর আছে দুজনেরই মনের কোণে। বিশ্বজিৎ লুকিয়ে লুকিয়ে মেয়ের মুখের দিকে তাকালেন, বললেন—‘তোর মা বড় বাহুল্য ভালোবাসত। অত বাড়াবাড়ির দরকার কি? এই তো বেশ খাচ্ছি।’

     

     

    জয়দীপ বলল—‘কেন বাপী, হোটেলে কেমন মেনু-কার্ড থাকে। তুমি এক রকম পছন্দ করলে, আমি আরেক রকম পছন্দ করলুম, হয় না? ধরো সেদিন পার্ক স্ট্রিটে তুমি খেলে চীনে, আমি খেলাম পিজা আর দিদি তুই শুধু আইসক্রিম। কটা খেলি রে দিদি? তিনটে। তিনটে আইসক্রিম খেয়ে পেট ভরিয়ে ফেললি!’

    —‘কেন, তুই খাসনি বুঝি?’ লুকু বলল।

    —‘আমি তো পিজা খেয়েছি তার আগে। যাই বলো বাপী সেটাই ভালো। নানা রকম থাকবে, যে যার পছন্দসই জিনিস তুলে নেবে।’

    —‘তুই তো সবগুলোই তুলবি!’ লুকু ঘাড় নেড়ে বলল।

    —‘নট নেসেসারিলি। পায়েস তুলব না। চচ্চড়ি তুলব না। সুক্তো তুলব না। স্টু তুলব না।’

    —‘হ্যাঁ তোর তো আবার সব গরগরে চাই। বাবা মনে আছে ও কি রকম মাকে বলত—মা মামার বাড়ির মতো দরদরে তারিয়া করতে পারো না?’

     

     

    ‘গরগরে কালিয়াটা মুখ দিয়ে বেরোচ্ছে না দরদরে তারিয়া।’ লুকু হাসছে।

    জয়দীপ বলল—‘প্লেয়ার তো, সব হজম হয়ে যায়। যদি হালকা জিনিসই দিস তো স্টম্যাকটাকে কোনও কষ্টই করতে হয় না। শরীরের যন্ত্রপাতিকে অত রেস্টে রাখতে নেই। বুঝলি? কুঁড়ে হয়ে যায়।’

    রবিবার সকাল আটটা নাগাদ মেধা ভাটনগরের ফোন পেলেন বিশ্বজিৎ মজুমদার।

    —‘বিশ্বজিৎদা আমি লালবাজার থেকে বলছি। একবার আসতে পারবেন লুকুকে নিয়ে?’

    —‘কেন? কি বলছেন?’

    —‘দেবপ্রিয়কে এরা অ্যারেস্ট করেছে, ড্রাগ ট্রাফিকিং-এর দায়ে। লুকুকে খুব দরকার।’

    —‘লুকু কি করবে?’—বিশ্বজিতের গলা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

    —‘লুকু অনেক কিছু জানে।’

    —‘আমি যেতে পারি। লুকুকে নিয়ে ওখানে যাবো না। শী ইজ ডেলিকেট।’

    —‘না নিয়ে এলে ভুল করবেন। আপনি ওকে নিয়ে আসুন, কোনও ভয় নেই।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকুশে পা – বাণী বসু
    Next Article শ্বেত পাথরের থালা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Our Picks

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }