Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উত্তরসাধক – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প289 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উত্তরসাধক – ২

    অধ্যায় : ২

    য়ুনিভার্সিটি ইনস্টিট্যুট। লম্বা চওড়া মেরুন রঙের ব্যানার। মেরুনের ওপর সোনালি। রঙগুলো খুঁজে বার করতে মেলা ঝামেলা হয়েছে। গড়পড়তা ডেকোরেটরের কাছে গড়পড়তা রঙই পাওয়া যায়। যেখানে সেখানে সেই একই জিনিস ঝোলে। অথচ বর্ণছায়ের সামান্য এদিক-ওদিক হলেই ফলাফল কত আলাদা! আমরা আলাদা কিছু বলতে চাই। এই সমাজ, এই সংসার, এই-ই জীবনযাপন তবু ঠিক এই নয়। কোথাও একটা আলাদা উদ্দেশ্য, আলাদা বক্তব্য আছে। রঙে সেটা প্রকাশ না হলে চলে? বাজার উজাড় করে ফেলেছে ওরা ঠিক পছন্দসই মেরুনের শেডের জন্য। সঠিক, বিশুদ্ধ সোনালির জন্য। তা সত্ত্বেও গুঞ্জনের পছন্দ হতে চায় না। সে বলে, ‘মেরুন-সোনালি একেবারে প্রিহিসটরিক কম্বিনেশন। তোরা প্লীজ আর কিছু খোঁজ।’ অতঃপর মেরুন-সাদা, নীল-সোনালি প্রস্তাব আসে। যতীনবাবু ডেকোরেটর অনেক দিনের অভিজ্ঞ লোক, তিনি হাত উল্টে বলেন—‘তোমরা চাও আমি করে দিচ্ছি। কিন্তু খুলবে না। দূর থেকে চোখে পড়া চাই তো!’ অতএব মেরুন-সোনালিই বহাল। গুঞ্জনের আপত্তি সত্ত্বেও। গুঞ্জনের গুঁইগাঁই অগ্রাহ্য করে। গুঞ্জন সিং-এর অবশ্য ব্যাপারই আলাদা। ও সন্ধেবেলায় ইনটিরিয়র ডেকোরেশনের কোর্স নিচ্ছে। ক্রোম ইয়লো, সের‍্যুলিয়ান ব্লু, সানসেট অরেঞ্জ এইসব ওর রঙের নাম। উইলিয়ম মরিস, চিপেনডেল এইসব বুকনি সে যখন তখনই ঝাড়ে। আরে বাবা ব্ল্যাক মানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে এমনি তো সব তোর হবু-ক্লায়েন্ট। টাকাটা তাদের খরচ করতে পারলেই ভালো। হাজার হাজার টাকা দিয়ে নটরাজ কিনবে, শঙ্খ কিনবে, গণেশ-টণেশ কিনবে। আর এ হল ছাত্রসঙেঘর ব্যাপার, ছাত্রদের হাতখরচের টাকা দিয়েই যা-কিছু সব। মৈথিলী বার বার বলেছে : ‘ফান্ডের অবস্থা আমাদের ভালোই। কিন্তু বাইরের জাঁকজমক করতে গিয়ে টাকাটা আমরা খরচ করছি না। আসল উদ্দেশ্যটার কথা কেউ এক মিনিটের জন্যেও ভুলিব না। সেখানে কমপ্রোমাইজ নয়।’

    ‘লোকোৎসব, চ্যারিটি শো, আয়োজক ছাত্রসংঘ।’ মাঝে মাঝেই লাউড স্পীকারে একটা গম্ভীর গলা ভেসে আসছে—‘আমরা সামগ্রিক উন্নয়ন চাই। শিক্ষা যদিও যে কোনও উন্নয়নের প্রাথমিক শর্ত, আমরা জানি আর্থিক উন্নয়ন ছাড়া শিক্ষাও কতদূর ব্যর্থ হতে পারে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থ এই তিনটে আমাদের প্রথম লক্ষ্য। আপাতত আমাদের উদ্দেশ্য একটি অনুন্নত, সহায়হীন গ্রামকে এই তিন স্তরেই সমর্থ করে তোলা। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার কেওড়াখালি গ্রাম….’

    ইনস্টিট্যুটের গেটের বাইরে জটলা করছিল পাঁচ ছ’জন ছেলে মেয়ে। শান্তনু বলল—‘কি দিচ্ছে রে উজান! জ্ঞানকুম্ভ উজাড় করে দিলে যে!’

    সুমেরু শান্তনুর সাক্ষাৎ সহপাঠিনী এবং খুড়তুতো বোন। সে মন দিয়ে তার আইসক্যান্ডির শেষাংশটুকু চাটছিল। সবুজ জিভ বার করে বলল—‘তুইও তোর কুম্ভ উজাড় করে দে না। দে! কে তোকে বারণ করছে।’

     

     

    ‘মাইকের ধারে কাছে ঘেঁষতে দিচ্ছে না যে উজোটা! দেখলেই বলছে—‘শান্ত, প্লীজ তফাৎ যা।’

    —‘তাই সেই থেকে ঝুট হ্যায় ঝুট হ্যায় স্লোগান দিচ্ছিস?’ পুলকেশ সিগারেটের ছাই টোকা দিয়ে ফেলে বেশ কায়দা করে দাঁড়িয়ে বলল।

    সুমেরু মন্তব্য করল ‘ওকেও একটু মাইকটা ছাড়লে পারত। ফাটা কাঁসির আওয়াজও তো একটা বিশিষ্ট আওয়াজ! ফর এ চেঞ্জ ভালো লাগতে পারে।’

    শান্তনু বললে- ‘যা যা বাজে বকিস না, আইস-ক্রিম আর কোল্ড ড্রিংক খেয়ে খেয়ে তো নিজের গলাকে ট্রাঙ্কে পুরেছিল। গান করতে বসিস গাধা ছুটে আসে।’

    সুমেরু হারবার পাত্রী নয়। সে হেসে বলল- ‘তাই সেদিন যখন মারোয়া সাধছিলুম, তুই ছুটে এলি!’

    পুলকেশ বলল—‘ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি। তোরা তোদের লাঠালাঠি থামাবি? আসলে কি জানিস শান্তনু, কেউ কেউ নিজের গলা শুনতে বড্ড ভালবাসে।’

     

     

    শান্তনু বলল—‘ভবিষ্যতে তারাই অব্যর্থ পলিটিক্যাল লীডার এবং ব্যর্থ অভিনেতা হয়। উজোটার নেতা হওয়া কেউ আটকাতে পারবে না।’

    —‘সে তো হতেই পারে, বাড়ির ট্রাডিশন ফলো করতেই পারে।’ পুলকেশ বলল।

    —‘বাড়ির ট্রাডিশন ফলো করবে উজান আফতাব? তবেই তোরা খুব বুঝেছিস,’ সুমেরু কাঠির সঙ্গে লেগে-থাকা অংশগুলো চেটে পুটে নিতে নিতে বলল।

    —‘তবে কি ও রেভেলিউশন করবে?’-পুলকেশ জিজ্ঞেস করল।

    —‘ও রেভিলিউশনের এককাঠি বাড়া কিছু করবে।’ সুমেরু বলল, ‘না করে আমার নাক কান কেটে নিস।’

    শান্তনু বলল—‘নাক কান দুটোই দিয়ে দিলি? ব্যালান্স রাখবি কি দিয়ে?’

    শুভব্রত এই সময়ে হন্তদন্ত হয়ে এসে বলল—‘হ্যাঁরে, ক্লাসে তো সব ভালো ভালো পাত্তর দেখেই টিকিট-বই ধরিয়েছিলি। তো সিনিয়ার কেউ আসছে না কেন বল তো!’

     

     

    ছাত্র সংঘের সদস্যরা স্থানীয় ও বৃহত্তর কলকাতার কলেজ ও যুনিভার্সিটিতে ছড়িয়ে আছে এটা সত্যি। যে যার শিক্ষায়তনে টিকিট বিক্রি করছে। গোটা গোটা টিকিট-বই বাইরেও বিক্রি হয়েছে। আশা ছিল অনেক অভিভাবক স্থানীয় ব্যক্তিরা টিকিট কিনেছেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে গেট দিয়ে যারা দলে দলে ঢুকছে তাদের কেউই বাইশ পেরোয় নি। এরাই ঢুকছে প্রচুর, হই-হল্লা করতে করতে।

    শান্তনুদের পাশ দিয়েই চার পাঁচ জন হাত ওপরে ছুড়ে হাসতে হাসতে ঢুকছে। একজন বলল—‘এই, টিকিট বিক্রির সময়ে যে বলল—‘ছাত্রমেলা, এ কেমন ছাত্রমেলা রে! তাহলে তো কলেজর কেলাসগুলোও ছাত্রমেলা!’

    আরেকজন বলল—‘আহা হা হা, এটা ওদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বুঝছিস না? মেয়েলি গলায় জবাব হল—‘সেটা পরিষ্কার করে বললেই তো পারত! মেলা ইজ ফাইন, অল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস আর বোর্‌স। গোড়ায় স্পীচ, মাঝে স্পীচ, শেষে স্পীচ। মালা ফালা পরানো। বোগাস।’

    —‘যা বলেছিস। কিছু লেখা টেকাও তত নেই। ইংরেজিতে একেই বলে চিটিংবাজি।’

     

     

    —‘জার্মানে কি কয় জানিস?—চীটাগং-।’

    আরেক জন সরু গলায় বলল—‘এবং ফ্রেঞ্চে ইহাকেই বলিয়া থাকে সাঁজেলিজে।’

    দলটা হাসতে হাসতে ঢুকে গেল।

    শান্তনু বলল—‘দিস ইস হিউমিলিয়েটিং। ছাত্রমেলা-ফেলা কি বলছে রে?’

    —‘ওসব থ্যাচার সাহেবার ব্রেনওয়েভ’ সুমেরু বলল—‘সারা বছর ধরে ছাত্রমেলা করবে, এই লোকোৎসব দিয়ে শুরু…প্রদর্শনী..সেমিনার..কর্মশালা..অল অন নিরক্ষরতা দূরীকরণ..এই সব সেদিন ক্যানটিনে এসে বলছিল না! ওর সেলসম্যানরা কেউ কেউ নিশ্চয় সে সব বুকনি তুলে নিয়ে ওদিকে নামিয়ে দিয়ে এসেছে।’

    কোরা রংএর শাড়ির ওপর নীল গোলাপি ব্যাজ লাগিয়ে গুঞ্জন এদিকে আসছে দেখা গেল। হাতে এক গোছা ব্যাজ।

    —‘এই তোমরা এখনও ব্যাজ পরো নি। শো তো শুরু হতে চলল।’

     

     

    শান্তনু বলল—‘আমরা ভলান্টিয়ার নই। সুমেরু বা পুলকেশ হতে পারে। আমি নই।’

    —‘কী তবে তুই? আর কোন কাজে লাগবি?’

    —‘কেন? ঘোষক, পরিবেশক, প্রতিবেদক।’

    —‘ওরে বাবা রে থামলি কেন? বলে যা.. প্রচারক, প্রসারক, প্রতারক…’ সুমেরু বলল—‘আমাকে একটা দিতে পারিস গুঞ্জন। বেশ স্মার্ট লুকিং রে তোর ব্যাজগুলো।’

    গুঞ্জন ব্যাজের গোছাশুদ্ধ হাতটা শট করে সরিয়ে ফেলল—‘ও সব চলবে না। গজল্লা ছাড়ো। আইসক্রিমও ছাড়ো। ছেড়ে ভেতরে যাও, হলের সামনে লোক আছে। টর্চ নিয়ে ভেতরে যাও। নইলে পাচ্ছে না। স্পেশাল ডিজাইন, অর্ডার দিয়ে করিয়েছি ঠিকই। তাবলে এগুলো গয়না নয়।’

    হলের ভেতর এই সময়ে আলো নিভতে শুরু করল। নিভন্ত আলোয় বোঝা যায় হল প্রায় ভর্তি। ব্যস্ত-সমস্ত কর্মীরা মাথা নিচু করে স্টেজের সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে। হলময় একটা মৃদু গুম গুম ধ্বনি। জমাটি আসরের লক্ষণ। এবং যেহেতু সবাই তরুণ-তরুণী, অনুষ্ঠান দেখা বা শোনার আগ্রহের চেয়ে পরস্পরের সঙ্গে আলাপ ও মত বিনিময়ের ইচ্ছেটা বেশি প্রবল।

     

     

    সামনের সারিতে মউমিতা তার পাশে-বসা চিত্রলেখাকে বলল—‘এখনও দেখতে পাচ্ছিস না? ওই তো থার্ড রোয়ের ডান দিকের কোণে!’

    মউমিতা ও চিত্রলেখা প্রতিবেশী। এক হাইরাইজে থাকে। কিন্তু দুজনের কলেজ, বিষয় সবই আলাদা। মউমিতার চিত্রলেখাকে ছাত্র সংঘের সদস্য করার ইচ্ছে। চিত্রলেখার কৌতূহল খুব। ছাত্র সংঘ গড়েছে কলকাতার কিছু নামকরা ছেলে মেয়ে যাদের অনেককেই ছাত্রমহলে এক ডাকে চেনে।

    চিত্রলেখা বলল—‘কোন জন?’

    —‘পেছন ফিরে কথা বলছে। ঘাড় ফেরালেই মুখটা পুরো দেখতে পাবি। চেক শার্ট।’

    —‘ঢেউ খেলানো চুল মাথায়? শামলা?’

    —‘উঃ। ওকে আমি চিনি না। ওর পাশে। বেশ ফর্সা। ঝাঁকড়া চুল। সেকেন্ড ফ্রম রাইট!’

     

     

    —‘দাঁড়া দাঁড়া বুঝেছি। ও-ই দেবপ্রিয় চৌধুরী?

    —‘ও-ই দেবপ্রিয় চৌধুরী। কৌতুহল মিটল তো? এবার নাচটা দেখতে দে।’

    —‘আহা কি নাচ। বিহু নাচ, চালি নৃত্য একটা যা হোক বলে দিলেই তো লোকনৃত্য হয়ে যায় না! মেয়েগুলো তাদের এক সাথে পা ফেলাটাও প্র্যাাকটিস করেনি মনে হচ্ছে। স্টেজের এদিকটাই বেশি ইনটারেস্টিং।’

    —‘বাবা, এরই মধ্যে এতো? তবু তো এখনও উজানকে দেখিস নি!’

    —‘উজান! উজান কে!

    —‘উজানকে আমরা টি. ডি. এইচ বলি নিজেদের মধ্যে। টল, ডার্ক, হ্যান্ডসম, মেয়েদের হার্ট থ্রব। তুই উজান আফতাবের নাম শুনিস নি?’

    —‘শুনেছি শুনেছি মনে হচ্ছে! ক্রিকেট, না?’

     

     

    —‘টেনিসও।’

    —‘কোনটা রে উজান?’

    —‘আগে দেবপ্রিয় চৌধুরীকে গলাধঃকরণ কর। কোন কাল থেকে নাম শুনছিস, আজই তো প্রথম চক্ষু সার্থক করলি?’

    —আচ্ছা মউ, সত্যি সত্যি দেবপ্রিয় গাঁয়ের ছেলে!’

    —‘সেন্ট পার্সেন্ট সত্যি। রেকর্ড মার্কস পেয়েছিল জানিস তো?’

    —‘জানি বলেই তো বলছি, গ্রীন রেভোলিউশন না কি রে?’

    —‘বলতে পারিস।’

    —‘আলাপ করাবি তো আজ?’

     

     

    —‘কথা দিতে পারছি না। ওকে ধরা মুশকিল।’

    এই সময় রঙ্গশালায় দেবপ্রিয় পাশের ছেলেটিকে কি যেন বলে উঠে দাঁড়াল। পকেটে দু হাত ঢুকিয়ে, মাথা সামনে ঝুঁকিয়ে অন্যমনস্কভাবে সে চলে যাচ্ছে। সামনের চুলগুলো কপালের ওপর এলোমেলোভাবে এসে পড়েছে। যতটা লম্বা তার চেয়েও বেশি দেখায় দেবপ্রিয়কে। কারণ পাগুলো ওর বেশি লম্বা। হাঁটার ধরণটাও কেমন আলগা আলগা। বড় বড় পা ফেলে খুব কম সময়ের মধ্যে সে পার হয়ে গেল অডিটোরিয়ামটা। প্রথমটা স্টেজের আলো ছিটকে পড়েছিল তার মুখে। অল্পস্বল্প দাড়ির ওপর। খয়েরি চেক শার্টটার কাঁধের ওপর। তারপর তার মুখ অন্ধকার থেকে আরও অন্ধকারে চলে গেল।

    আসলে দেবপ্রিয়কে নিয়ে ছাত্রমহলে, বিশেষত ছাত্রীদের মধ্যে খুব কৌতূহল। ছেলেটি অতিমাত্রায় চুপচাপ। অহংকারী তো নয়ই। বিনয়ীও নয় আদৌ। কেউ বলে অজ পাড়া-গাঁ থেকে এসেছে। কেউ বলে মফঃস্বল শহর থেকে, কেউ আবার বলে ওর পরিবার ভিন্ন রাজ্যে থাকে, ও বরাবর বোর্ডিঙে মানুষ। এরকম কথাও প্রচলিত আছে যে অভিভাবক বলতে ওর কেউ নেই। দূর সম্পর্কের আত্মীয়-পরিবারে টিউটর হিসেবে থাকে। যেহেতু দেবপ্রিয় মিশুক নয়, কারও কোনরকম কৌতূহলকে তৃপ্ত করবার পাত্রই নয়, তাই কৌতুহল বেড়েই চলে। কিছু মেয়ে চটপট তার জন্য পাগল হতে থাকে। কিন্তু বেশিদিন এ অবস্থা থাকে না। কারণ দেবপ্রিয় না রাম না গঙ্গা। সে যেন নিজের ভেতরে কোথাও ডুব গেলে বসে আছে। আবহমান কাল থেকে সে যেন কোথাও থেকে অন্য কোথাও উদ্দেশ্যহীনভাবে হেঁটে যাচ্ছে। তার চোখ নেই পথের দুপাশে, মাথার ওপর আকাশে, অথবা চারপাশের বাতাবরণে কি ঘটছে দেখার। এই উদাসীনতা তার এক ধরণের আবরণ। এমন এক মোহ-আবরণ যা চট করে ছিন্ন হতে চায় না, কষ্ট দেয়। এই উদ্দেশ্যহীনতা তার আকর্ষণও। কারণ, আপাততঃ জগতে তো বটেই, এমন। কি এই ছাত্র-জগতেও এমন বিশেষ কেউ নেই, যে উদ্দেশ্যহীন, কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছবার জন্য যে হিসেব-পত্র করে এগোচ্ছে না। এত মন্থর, এতো আনমনা, অথচ এতো আত্মস্থ ঠিক কাউকে চোখে পড়ে না আজকাল। যদিও জানা যায় না দেবপ্রিয় সত্যি সত্যিই উদাসীন, লক্ষ্যহীন, না কি এটা শুধুই তার সম্পর্কে একটা ধারণা। তার চারপাশে সেই অজানারও আবরণ। অজানা মানেই রহস্য, রহস্য মানেই মোহ।

     

     

    স্টেজের ওপর এখন ঘোষক। ঠিকঠাক বলতে গেলে ঘোষিকা। মাইক হাতে ভাঙা-ভাঙা মিষ্টি গলায় বলল—‘এইবার আরম্ভ হবে আমাদের আজকের আসল অনুষ্ঠান। নাচ সহযোগে বাউলগান। আপনারা শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলায় বা কেঁদুলিতে জয়দেবের মেলায় বাউল গান শুনেছেন। আমাদের বাউল-বন্ধুদের প্রথম বৈশিষ্ট্য এঁরা কেউই কোনদিন মাইক্রোফোনের সামনে, শহর বাজারের পরিবেশে গান করেন নি। এঁদের গানে পাবেন সহজিয়া শ্রেণীর সরলতা ও বিশুদ্ধতা। এঁদের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য…’

    মউমিতার সঙ্গিনী চিত্রলেখা বলল—‘কে রে মেয়েটা! জঘন্য দেখতে। মউমিতা একটু বিরক্ত হয়ে বলল—‘শুধু দেখিসনি। শোনও। ইচ্ছে হয় চোখ বুজে শোন। গলা, ডেলিভারি, থ্রো এগুলো শোনবার জিনিস।’

    চিত্রলেখা বলল—‘তা অবশ্য। গলাটা সত্যি দারুণ!’

    —‘স্বীকার করছিস তাহলে? এ হল মৈথিলী ত্রিপাঠী।’

    —‘এ-ইতোদের মৈথিলী?’ চিত্রলেখা উত্তেজনায়, সোজা হয়ে বসল, ‘তোদের বিশ্ববিখ্যাত স্কুলের বিশ্ববিখ্যাত ফার্স্টনন্দিনী? যে এইচ-এস-এ স্ট্যান্ড করবে বলে তোদের হোল স্কুল বাজি ধরে হেরেছিল? এখন কি করছে রে?’

     

     

    —‘ডাক্তারি পড়ছে। জয়েন্টে ফার্স্ট এসেছিল। জয়েন্টের রেজাল্ট নিয়ে তো আর হই-হই হয় না।’

    —‘বাব বাঃ। কি করে পারে রে?’

    মউমিতা বলল—‘কপাল!’

    —‘সবই কপাল বলছিস?’

    —‘কপালের ভেতরেও কিছু আছে ডেফিনিট।’

    ঘোষণাটা শেষ হয়ে গেছে। মৈথিলী ত্রিপাঠী মাইক ছেড়ে বাঁ-উইঙ্‌স্‌-এর দিকে ঢুকে গেল। একটু পরেই দেখা গেল পাশের দরজা দিয়ে সে রঙ্গশালায় ঢুকছে। মৈথিলী বেশি লম্বা নয়। বেশ বলিষ্ঠ স্বাস্থ্য, মুখটা চওড়া। নাক একটু চ্যাপটা ধরনের, ফলে চেহারায় মধ্যে একটা চৌকো ভাব এসে গেছে। বেশ কালো রং কিন্তু খুব চকচকে। ঠোঁটদুটি বেশ স্কুল এবং ঢেউ খেলানো। তার চোখের মণি খয়েরি। একটু মোটা সংক্ষিপ্ত ভ্রু। চুল ঈষৎ লালচে। কপালের ওপর কয়েক গুচ্ছ, কানের লতির তলা থেকে ফণার মতো কিছু চুল বেরিয়ে আছে, বাকিটা পিঠের ওপর। মৈথিলী ব্যাগিজ ছাড়া কিছু পরে না।। ওপরের শার্টটা মেটে লাল, তাতে সাদা চক্র চক্র ছাপ। ছোট চাকা, বড় চাকা।

    মউমিতা চাপা গলায় ডাকল—‘মৈথিলী, এখানে জায়গা আছে, বসবে?’ তার গলায় সম্ভ্রম, আগ্রহ। সে যে মৈথিলীকে একটা উঁচু বেদীর ওপর বসিয়ে রেখেছে সেটা তার প্রশ্নের ধরনেই স্পষ্ট।

    মৈথিলী চট করে মুখ ফিরিয়ে তাকাল, মুখে মৃদু অন্যমনস্ক হাসি। বলল—‘আমি মাঝের রোয়ে একটা জায়গা রাখতে বলেছি লুকুকে। মাঝখান থেকে দেখব, ডোন্ট মাইন্ড।’ বলতে বলতেই সে সামান্য নিচু হয়ে স্টেজের সামনেটা পার হয়ে গেল।

    চিত্রলেখা বলল—‘ডাঁটিয়াল? না রে?’

    মউমীতা বলল—‘ডাঁটিয়াল? কই না তো। মাঝখান থেকে দেখবে বলল শুনলি না! লোকগীতি নিয়ে মেতেছে এখন ওর কোনদিকে খেয়াল নেই। এই যে বাউল ছেলেগুলো গাইছে ওদের দেখাশোনার পুরো দায়িত্ব ও নিয়েছে। নিজেই খুঁজে বার করেছে ওদের, ট্যাঁকে করে করে ঘুরছে চব্বিশ ঘণ্টা। রাম পাগল একটা।’

    —‘তোর সঙ্গে আলাপ কেমন?’

    —‘আছে। তবে ওদের গ্রুপ আলাদা, ওরা ছাত্রসংঘের একজিকিউটিভ কমিটির মেম্বার। সমস্ত প্ল্যানিং, পলিসি মেকিং ওরা করে, আমরা সাধারণ সদস্য। চাঁদা দিই। প্ল্যান, পলিসির কথা শুনি। বাইরে থেকে কাজ করি। ওই যে লুকু শুনলি না? লুকু ওর ফাস্ট ফ্রেন্ড, স্কুল ডেজ থেকে। একেবারে ল্যাং বোট, লুকুটা স্লাইট ডাঁটিয়াল। মৈথিলী কিন্তু ভীষণ ভদ্র মেয়ে, প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা করে আলাপ করে, ডেকে ডেকে, প্রথম যে ছাত্রসংঘের সভ্য হবে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির সবার সঙ্গে বসতে হবে। রীতিমত ইনটারভিউ, কেন সদস্য হচ্ছে, কি আশা করে, দেশ সম্পর্কে ভাবে কি না, রাজনীতি করে কি না।’

    ‘ছাত্রসংঘের রাজনীতি কি রে? নিশ্চয়ই মার্কসিস্ট।’

    ‘একেবারেই না। কোনও দলীয় রাজনীতি করে এমন ছাত্র-ছাত্রীকে আমরা সদস্যই করি না। মৈথিলী বলে, যারা রাজনীতি করে তারা একভাবে চেষ্টা করছে, আশা করি দেশের জন্যই করছে। এ নিয়ে বেশি তর্ক-বিতর্কের মধ্যে যেতে চাই না। কিন্তু ছাত্রসংঘ এদের সমান্তরালে চলবে। আমাদের প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ অ-রাজনৈতিক। আমরা কি স্টাডি করি জানিস তো? পশ্চিমবঙ্গ-ভিত্তিক সোস্যাল সায়েন্স বলতে পারিস।’

    ‘দারুণ পার্সন্যালিটি, না?’

    ‘ওরে ব্বাবা দারুণ। নইলে এত বড় প্রতিষ্ঠান চালাতে পারে? একে আই এ এস এর মেয়ে তার ওপর লেখাপড়ায় ওইরকম। যতটা করা উচিত ততটা ভালো রেজাল্ট অবশ্য সেই এইচ এস থেকেই করছে না। করবেই বা কি করে? সারাক্ষণই তো কোনও না কোনও কাজ নিয়ে রয়েছে। চিন্তা কর মেডিক্যাল কলেজের সিলেবাস সামলে সারাক্ষণ ছাত্রসংঘ করছে। ওর সঙ্গে কাজ করতে কত বস্তিতে গেছি। সাক্ষরতা-অভিযানে যাবে আমাদের সবাইকে নিয়ে। মাসি, পিসি, চাচা করে এমন গল্প জুড়ে দেবে না! বর্ণ-লীডার রে মেয়েটা। ওই যে ওই দ্যাখ লুকু…’

    ‘কই?’

    ‘ওঃ তুই তালকানা আছিস। পেছন থেকে এগিয়ে আসছে, দ্যাখ না!’

    —‘সাদা চুড়িদার, পিংক ওড়না?’

    —‘হ্যাঁ।’

    —‘ফ্যানটাসটিক দেখতে যে রে!’

    —“ও তো স্কুল ডেজ থেকে মডলিং করছে টুথ পেস্টের, চা-এর।’

    —‘তাই কেমন চেনা-চেনা লাগছিল।’

    —‘এখন আর করে না অবশ্য। ওর যা পীয়ার গ্রুপ, তাল রাখতে হলে সীরিয়াস হতেই হবে। ও তো দেখছি মৈথিলীর জায়গা রাখে নি, নিজেই বসতে পাচ্ছে না বোধহয়। গেল কোথায় মৈথিলীটা।’

    —‘তুই যে বললি ও মৈথিলীর ল্যাং-বোট!’

    —‘শুধু আমি কেন! সবাই বলে।’

    —‘বিউটি অ্যান্ড দা বীস্ট যে রে।’

    —‘যা বলিস।’ মউমিতা কথা বাড়াতে চাইল না। স্পষ্টই বোঝা যায় যে মৈথিলী ত্রিপাঠীর গুণমুগ্ধ। চিত্রলেখার কথা শুনতে তার একটুও ভালো লাগছে না। মউমিতা ও চিত্রলেখা এবার মঞ্চের বাউল গানে মন দিল। ঘুরে ঘুরে নাচছিল যে ছেলেটি তার মুখটা খুবই কচি-কাঁচা, বয়স এদের থেকে কম বই বেশি হবে না। এখনও গোঁফ ওঠে নি। কোমল চামড়া। মঞ্চের পেছনের অংশে তার সঙ্গে কোনাকুনি দাঁড়িয়ে গাইছে আর একটি ছেলে। সে গানের বিশেষ বিশেষ জায়গায় বিশিষ্ট বাউল ভঙ্গিতে পাক খাচ্ছিল। এ ছেলেটির বয়স সামান্য বেশি। মৈথিলী এর নাম ঘোষণা করে কেষ্টপদ দাস। সামনের ছেলেটি নিরুপাধিক পালান।

    মৈথিলী জায়গা পায়নি। লুকুকে সে মোটে দেখতেই পায়নি। মঞ্চের ওপরকার ব্যবস্থা মৈথিলীর, সে তার গ্রামীণ অতিথিদের সাজ পোশাক, স্টেজে তাদের দাঁড়াবার জায়গা, আলোকসম্পাত ইত্যাদি নিয়ে গোড়া থেকেই ব্যস্ত আছে। লুকু খাওয়া-দাওয়ার দিকে। ইনস্টিট্যুটে এসেছিল দুজনে এক সঙ্গে। কিন্তু তারপর থেকে আর সম্পর্ক নেই। ভেবেছিল দুজনে বসে দেখবে এক সঙ্গে। অবশ্য একটা রুমাল ফেলে বা ব্যাগ রেখে ‘জায়গা রাখা’ তাদের কারোই পছন্দ নয়। এক যদি স্বেচ্ছাসেবকদের কাউকে বসিয়ে রাখা যেত। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, লুকু এ ব্যবস্থাটা করতে সমর্থ হয়নি। কিছুক্ষণ জায়গা পাবার আশায় বৃথা ঘুরে, বিরক্ত হয়ে সে মঞ্চের দিকে যাচ্ছিল, উইংস-এর আড়াল থেকে একটা টুল পেতে বসে শুনবে, পালান হয়ত তাকে দেখলে উৎসাহিত হতে পারে। ছেলেটা কখনও এত লোককে গান শোনায়নি। তার ওপর সামনে মাইক যন্ত্র। ভিতু ভিতু চোখে তাকিয়ে বলেছিল, —“বাব্‌রে, কুয়োর মধ্যে এ যে দেখি অনেক নোক গো দিদি, মাইক যন্তরে গলা বসে যায় না তো।

    এই সময়ে মৈথিলী রঙ্গশালার বাইরের করিডর দিয়ে প্রোফেসর মেধা ভাটনগরকে ঢুকতে দেখল। মৈথিলী তাড়াতাড়ি এগিয়ে যেতে মিস ভাটনগর বললেন—‘মৈথিলী, আমি কিন্তু অনেকক্ষণ এসেছি। একদম পেছনে বসেছি। তোমাকে খুঁজতেই এদিকে এলাম।

    মৈথিলী বলল—‘সে কি আপনি সামনের দিকে জায়গা পান নি? ভলান্টিয়াররা কি করছে?’

    —‘শোনো, ওরা বলেছিল, প্রমিত সামনের সারিতে জায়গা করে দিতে চাইছিল। আমি ইচ্ছে করে সামনের দিকে আসিনি। কাউকে উঠিয়ে বসতে আমার একদম ভালো লাগে না। তাছাড়াও, তোমাদের মঞ্চটাই তো সব নয়, প্রেক্ষাগৃহটাও আমার দ্রষ্টব্য ছিল, আই ওয়ান্টেড টু সি দা এনটায়ার প্রজেক্ট ইন ইটস রাইট পার্সপেকটিভ। রূপাদের গ্রুপের নাচটা কিন্তু একদম লোকনৃত্য হয়নি। ওদের অনেক অভ্যেস করে তবে নাবা উচিত ছিল। বাউল গানটা তোমরা একদম খাঁটি জিনিস দিচ্ছো, লোকনৃত্যের বেলায় সিউডো ফোক ডান্স দিচ্ছো এটা ঠিক না। কসটিউম যদিও খুবই ভালো হয়েছে।’

    মৈথিলী বলল—কসট্যুম গুঞ্জনের এলাকা। নাচের পরিকল্পনা রূপা নিজেই করেছে। মধুচ্ছন্দাদি তো এখন ট্রুপ নিয়ে উত্তরভারত ট্যুর করতে গেছেন। পরের বারে ওঁকে ধরব।’

    —‘রূপা অবশ্য খুব খারাপ করে নি। কিন্তু টিকিট বিক্রি করেছে যখন, এর থেকে ভালো স্ট্যান্ডার্ড লোকে আশা করবে। যাই হোক পালান অসাধারণ। কেষ্ট দাসও ভালো। কিন্তু পালান একটা আবিষ্কার। এমন বাঁশের বাঁশির সুর অথচ এতো জোরালো আমি শুনেছি বলে মনে পড়ছে না। তবে ও বড্ড বাচ্চা। ওর গলা পাল্টাবে।’

    মেধা ভাটনগরের কথায় মৈথিলী মনে মনে খুব উদ্বেলিত হয়ে উঠল। তার কিশোর-বন্ধু পালানের গলা সোনালি জরির সুতোর মতো, চকচকে, টানটান, ধারালো। একেক সময়ে যেন তারার সা ছুঁয়ে আসছে। কেষ্টপদ আর পালানের এই দ্বৈত সঙ্গীত তারই পরিকল্পনা। যে পটভূমিতে বাউলগান সবচেয়ে মানানসই, সেই প্রাকৃতিক পরিবেশ এখানে নেই। মৈথিলীর মনে হয়েছিল তার কিছু একটা বিকল্প চাই। তাই এই দ্বৈত সঙ্গীত। পালানের চিকণ গলার সঙ্গে কেষ্টপদর ভারি খসখসে তসরের মতো গলার বুনোট সত্যি একটা অভিনব পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। নাচের পুরো এফেক্টটা সে দেখতে পাচ্ছে না। পালান প্রায় সর্বক্ষণই নেচে নেচে গাইছে, তার হাত পা মুখ সবই খুব কচি। ঠিক একটা সতেজ লাউডগার মতো তার নড়ন-চড়ন, খুব হালকা ফুরফুরে। কেষ্টপদ নাচছে তার সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে, খুব মাঝে মাঝে, এ যদি ডাইনে পাক দেয় তো ও দেয় বাঁদিকে।

    মেধা বললেন, ‘আরও হাফ-ডজন বাউল ছেলেকে গানের অন্তরায় সঞ্চারীতে ঢুকিয়ে দিতে পারো এর পর। মুখটা পালান একা আরম্ভ করল, তারপর ধরো ওই ছেলেটি কেষ্টপদ, তারপর একে একে বাকিরা। তাতে তোমার ভিশুয়ালটা আরও জমবে।’

    মৈথিলী বলল—‘আর কিন্তু যোগাড় করতে পারি নি, দিদি।’

    —‘আহা পারো নি, এর পরে পারবে। পালানদের যদি ভালো পাবলিসিটি দিতে পারো তো ওরাই যোগাড় করে আনবে।’

    মৈথিলী একটু দ্বিধাগ্রস্ত স্বরে বলল, ‘এই অনুষ্ঠানটা কিম্বা বাউলদের পাবলিসিটি দেওয়া কিন্তু আমাদের সঙেঘর আসল উদ্দেশ্য নয় দিদি। আমাদের সব কথা এখনও আপনাকে বোঝানো হয় নি।’

    মেধাদি আশ্চর্য হয়ে তাকালেন—‘তোমরা অবশ্য খুব বেশি কথা আমায় বলো নি, মৈথিলী। কিন্তু আমি যতদূর বুঝেছি তোমাদের প্রজেক্ট ঠিকঠাক চালাতে হলে এরকম অনুষ্ঠান আরও করতে হবে। তাছাড়া একটা গ্রামের উন্নয়ন যখন করছ, তখন সেটা করতে গিয়ে অন্যান্য যাদের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে তাদেরও অটোমেটিক্যালি কিছু না কিছু ফললাভ হবেই। উন্নয়নও হবে। কোনও কাজই স্বতন্ত্র, আইসোলেটেড নয়। নদী যখন পাহাড় থেকে নামছে তখন তাঁর লক্ষ্য সমুদ্র, কিন্তু পুরো অববাহিকাটা সে সবুজ করে দিয়ে যাচ্ছে। তোমরা একটা সচেতন, চিন্ময় নদী, তোমাদের অববাহিকা তোমরা কনশাসলি সবুজ, মরুহীন, সমৃদ্ধ করবে। উজান কোথায়?’

    —‘উজান বাইরের মাইকটা কনট্রোল করছে, তাছাড়াও আরও অনেক কাজ। কি জানি কোথায়।’

    —‘দেবপ্রিয়কে কোনও কাজ দাও নি? মনে হল ও বেরিয়ে গেল।’

    —‘জানেন তো মেধাদি, ও পেছন থেকে অনেক কিছু করে দেয়, সামনে কিছুতেই আসবে না।’

    মেধা একটু চিন্তিত হয়ে পড়লেন। দেবপ্রিয়র এই কূর্মস্বভাব কিছুতেই কাটানো যাচ্ছে না। বললেন—‘যাক তোমাদের টাকা কেমন উঠেছে?’

    —‘আমাদের ফাণ্ডের টাকা সামান্যই খরচ হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের জন্য সামান্য যেটুকু হয়েছে ইলেকট্রিসিটি, টিকিট-ছাপানো আর পালানদের দক্ষিণাবাবদ কিছু গিয়ে ব্যালান্স ভালোই আছে। আর শো থেকে মোট কত উঠল সেটা এখনও গোনা গাঁথা হয়নি। ওটা দেব করবে।’

    —‘ঠিক আছে। আমি কিন্তু একটু পরেই চলে যাবো। আমার কাজ আছে জরুরি।

    —‘গানগুলো পুরো শুনবেন না?’

    —‘কিছুটা তো শুনবোই। শেষ অবধি থাকতে পারছি না। তুমি হিসেবপত্র সেরে কাল-পরশুর মধ্যে একবার এসো, তোমরা সকলেই এসো। নিরঞ্জনকেও আমি জানিয়ে রাখবো। ঠিক আছে তো?’

    মেধা আর না দাঁড়িয়ে রঙ্গশালার দিকে চলে গেলেন।

    লুকু অডিটোরিয়ামে ঢুকেছিল আগে একবার। জায়গা ছিল না, তাকে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল, তাছাড়াও সে বড় অন্যমনস্ক ছিল, যেন কাউকে খুঁজছে, না পেয়ে হতাশ, বিভ্রান্ত বোধ করছে। এই সময়ে সে পেছন দিক থেকে এসে আরেকবার ঢুকল। মেধা তখন নিজের জায়গায় বসছেন। তাঁকে দেখেই লুকু চট করে বেরিয়ে গেল একেবারে বাইরের গেটের কাছে। সেখানে তখন প্রচুর ভলান্টিয়ার জড়ো হয়েছে। অনুষ্ঠান শুরু হবার পর প্রথম আধঘণ্টা পর্যন্ত ভলান্টিয়ারদের খুব ব্যস্ত থাকতে হয়। এখন সে ব্যস্ততা কমে এসেছে। অনেকেই হলের ভেতরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, কেউ-কেউ বা জায়গা পেয়ে বসে গান শুনছে। প্রমিত, বুল্টু, শুভব্রত, শান্তনু সবাই একে একে প্রমিতের লাইটারের সাহায্যে সিগারেট ধরাচ্ছিল গেটের কাছে। লুকুকে আসতে দেখে প্রমিত বলল—‘হয়ে গেল। কে জি বি আ গয়া।’

    লুকু আঙুল তুলে চোখ পাকিয়ে বলল—‘দেখো কে জি বিই বলো আর পেন্টাগনই বলো তোমরা তোমাদের অ্যালটেড ডিউটি ঠিক মতো না করলেই হেড কোয়ার্টার্সে রিপোর্ট করতে বাধ্য হবো। প্রমিত, তোমার ওপর খাওয়া-দাওয়ার ভার ছিল না? তুমি এখানে স্মোক করছো!’

    প্রমিত বলল—‘একটু রেসপাইট দাও মাদমোয়াজেল। কতগুলো প্যাকেট বাঁধা যে সুপারভাইজ করেছি যদি জানতে! নইলে বাকি ভাণ্ডারাটার ভার না হয় ইয়োর হাইনেসেই নিলেন। শ্রীমান পালান এবং সম্প্রদায় ও বেলা যা টেনেছে, এ বেলায় আমি আর এগোতে সাহস পাচ্ছি না। ওই যে হাঁড়ি বাজায় যে ছেলেটা। উরি ত্তারা!’

    বুল্টু বললে—‘খগেন। আচ্ছা এইটুকু একটা ছেলের নাম খগেন্দ্রনাথ। কোনও মানে হয়? এদিকে দেখবি বুড়ো জ্যাঠামশায়ের নাম হয়ত খোকা। পাকা চুল, পাকা গোঁফ, পাকা ব্রেন, খোকাবাবু আসছেন।’

    শান্তনু বলল, ‘যা বলেছিস, তবে এ ছেলেটা যেরকম সাঁটাচ্ছে, তাতে খুব কুইক ও খগেন্দ্রনাথ হয়ে উঠতে পারবে। মানিয়ে যাবে নামটা দেখিস।’

    —‘কি মেনাস রে এ বেলা! এই লুকু! ওবেলা তো খিচুড়ি আর লাড়া ঢালালি।’ বুল্টু সিগারেটে একটা টান দিয়ে বলল।

    প্রমিত বলল—‘লুচি, আলুর দম আর মোহন ভোগ। লুচি ডালদার। মোহনভোগে নাকি রিয়্যাল ঘি আছে। থ্যাচার সাহেবার নিজের করা মেনু। লুকু কি কাউকে খুঁজতে এদিকে এলে? এনিবডি ইন পার্টিকুলার?’

    লুকু জবাব দিল না। সে সুমেরুর সঙ্গে গল্প জুড়ে দিয়েছে।

    বুল্টু বলল—‘এরকম পিকিউলিয়ার মেনু কোথেকে পায় রে?

    প্রমিত বলল—‘মেনুর সম্বন্ধে তুই কি বুঝিস রে? থ্যাচারের বিশেষ হুকুম আছে ওদের সরল, গ্রামীণ জিহ্বা যেন কোনমতেই শহুরে জটিলতায় নষ্ট না হয়, মোহন ভোগ বাড়ি থেকে করিয়ে এনেছে।’

    —‘বলিস কি রে? গ্র্যান্ড মা থ্যাচারের নিমন্ত্রিতদের স্টম্যাকের ক্যাপাসিটি সম্পর্কে কনসেপশন আছে তো? আমাদের বোধ হয় আর জুটবে না।’

    লুকু বলল—‘ওদের ক্যাপাসিটি সম্পর্কে তুই না-ই ভাবলি বুল্টু। অয়েল ইয়োর ওন মেশিন। তাছাড়া মোহনভোগ তোদের জন্য নয়। এমনিতেই পচ্ছিস না। ওদের স্পেশাল।’

    —‘কেন রে, ওরা কি বরযাত্রী নাকি?’

    লাউড স্পিকারে উচ্চস্বরে পালানের গান শোনা যাচ্ছিল। একটু আগেই কেষ্টদাস একটা ভাটিয়ালি শেষ করেছে। পালানের এটা দ্বিতীয় গান।

    প্রমিত বলল—‘শুনতে দে। শুনতে দে। বড় ভালো গাইছে রে ছেলেটা আহা হা হা।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকুশে পা – বাণী বসু
    Next Article শ্বেত পাথরের থালা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Our Picks

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }