Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উত্তরসাধক – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প289 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উত্তরসাধক – ৫

    অধ্যায় : ৫

    বহুবার খড়ি দিয়ে লেখা এবং মোছার পর শ্লেটের যেরকম রং হয়, হেমন্তর আকাশ অনেকটা সেইরকম। একটা ময়লাটে আলো যেন নোংরা ন্যাতা হাত বুলিয়ে দিয়েছে শহরটার গায়ে। রঘুনন্দন সাত সকালেই খবর পেলেন অফিসের রাস্তায় বিশাল জ্যাম। গতকাল শেষ রাতে নাকি বড়বাজারে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। তাঁকে যেতে হবে নিউ সেক্রেটারিয়েট। ওদিকে যখন এতো জ্যাম, তখন তিনি মেয়েকে মেডিক্যাল কলেজে নামিয়ে ধীরে সুস্থে যেতে পারেন। দাড়ি কামাচ্ছিলেন বাথরুমের বেসিনে, গালের ওপর দিয়ে রেজারটা টানতে টানতে চেঁচিয়ে বললেন,—‘অরু, মুন্নিকে রেডি হতে বলো। আমার সঙ্গে বেরুবে।’ কোনও উত্তর পেলেন না। চানটান সেরে ঘরে এসে দেখেলেন তাঁর গ্রে রঙের সুট, ব্রাউন টাই সব বিছানার ওপর চিৎপটাং হয়ে আছে। অরুণা ধারে কাছে কোথাও নেই। রান্নাঘরের দিক থেকে অবশ্য ছ্যাঁক ছোঁক শব্দ আসছে। কিন্তু ছ্যাঁক ছোঁক শব্দ তোলবার জন্যে তো বৈজুই রয়েছে। অরুণাকে সেখানে থাকতেই হবে এমন ব্যবস্থা রঘুনন্দনের বাড়ির নয়।

    খাবার টেবিলে এসে অবশ্য অরুণাকে পাওয়া গেল। হাতে উল কাঁটা। নীরবে খুব মনোযোগের সঙ্গে দুটো তিনটে রং-এর মিশেলে কিছু একটা বুনে চলেছে। টেবিলের ওপর রঘুনন্দনের খাবার থেকে ধোঁয়া বেরুচ্ছে। রান্নাঘরের দিক থেকে কফির খুশবু। রঘুনন্দন টাইয়ের গিটটা ধরে দু-একটা ঝাঁকি দিয়ে তাকে জায়গামতো বসিয়ে দিতে দিতে বললেন—‘মুন্নিকে দিলে না? বললাম যে মুন্নিকে নামিয়ে দিয়ে যাবো।’

    অরুণা বুনতে বুনতেই জবাব দিলেন—‘মুন্নি কোথায়, যে তাকে দোব? সে আজ চার পাঁচ দিন বাড়িই ফেরেনি।’

    —সে কি?’ রঘুনন্দন পরোটার প্লেট থেকে হাত গুটিয়ে নিলেন।

    —‘কালও ফেরেনি?’ রঘুনন্দনের ভ্রু কুঁচকে উঠেছে।

    বললেন—‘কোথায় আছে ও? খবর পেয়েছ?’

    —‘খবর পেয়েছি,’ অরুণা তাড়াতাড়ি বললেন, ‘লুকুর বাড়িতে খুব সম্ভব।’

    —‘ঠিক আছে। লুকুর বাড়ি থেকেই ওকে পিক্‌আপ করব। এতদিন ধরে কলেজ কামাই করছে! ডাক্তারি জিনিসটা ফাঁকি দিয়ে পাস করা যায় না। গেলেও উচিত নয়।’

    —‘আমি ঠিক জানি না ও লুকুর বাড়িতেই আছে কি না। আন্দাজে বললুম। ও তো শুধু “ফিরছি না” বলেই ফোন রেখে দিল।’

     

     

    রঘুনন্দন খুব গম্ভীর মুখে বললেন —‘আই ডোন্ট লাইক ইট অরুণা।’ ভালো করে খেলেন না, মুখ মুছে গরম কফিটা কয়েক চুমুকে শেষ করে উঠে পড়লেন।

    অরুণা বুনতে বুনতেই রঘুনন্দনের গাড়ির চলে যাওয়ার শব্দ পেলেন। তারপর নিঃশ্বাস ফেলে বোনার সরঞ্জাম সব থলিতে ভরে বারান্দার চেয়ারে এসে বসলেন। রান্নাঘরের পাশ দিয়ে যাবার সময়ে বলে গেলেন —‘বৈজু আমার কফিটা বারান্দায় দিও।’

    খবর পেয়েছেন, মেয়ে ফোন করেছে বললেন বটে, কিন্তু অরুণা কোনও খবর, কোনও ফোনই পান নি। মাত্র দুদিনের কড়ারে কোন গ্রামে মেয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে গ্রাম-উদ্ধারের কাজে গেছে। এই জানেন। বেরোবার সময়ে বলে গিয়েছিল —‘সময়মত না ফিরলে ভেবো না। বেশি দেরি হলে ফোন করে দেবো।’ কিন্তু গত পরশু থেকে ফোনের জন্যে হা-পিত্যেশ করে করে তাঁর কপাল ব্যথা হয়ে গেছে। রঘুনন্দন দিল্লি থেকে ফিরেছেন কাল অনেকরাতে। ফিরেই চান করে শুয়ে পড়েছেন। অরুণা সারারাত চোখের পাতা এক করতে পারেননি। মেয়ে তাঁর খুবই ভালো। নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে পারে। কিন্তু নিজের কাজ ছাড়া আর সব কাজে যেন ওর মন। কিসের জাল যে বুনে যাচ্ছে। এতো রকম ব্যাপারে ওর মাথা দেবার দরকারটাই বা কি? অরুণার জীবনে স্বামী এবং মেয়ে ছাড়া আর কেউ নেই। শ্বশুরকুল নেই। পিতৃকুল মাতৃকুল কিছু নেই। মুন্নির বাবা চাকরির সুবাদে জেলায় জেলায় ঘুরে বেড়িয়েছেন, দিল্লি-কলকাতা করছেন তাও বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল। মেয়ের পড়াশোনার যাতে অসুবিধে না হয় তাই কলকাতায় এই ছোট বাংলো বানালেন অরুণাকেও ছেড়ে দিলেন। তাঁর ইচ্ছে ছিল মেয়েও বাপের মতো আই. এ. এস হোক, আর সত্যি তিনি তা চাইতেই পারেন। বৃত্তি পরম্পরাগত হলে মানুষের সামর্থ্য বাড়ে, স্বাভাবিক ভাবেই সে অন্যদের থেকে পিতৃপিতামহের বৃত্তিতে কুশলী হয়ে ওঠে, এই ধারণা রঘুনন্দনের। উপরন্তু মুন্নি ছোট থেকেই খুব ধীর, স্থির, বিচক্ষণ। কিন্তু মুন্নি নিজের পড়াশোনার ব্যাপারে বাবা-মার ইচ্ছেকে আমল দিল না। সে ডাক্তারি পড়তে ঢুকেছে, খুব ভালো কথা, কিন্তু সেটাকেও যেন খুব গুরুত্ব দেয় না। অরুণা বরাবরই তাঁর সময় রঘুনন্দন আর মুন্নির মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। যখন কলকাতার বাইরে যান মুন্নি থাকে বৈজুর তত্ত্বাবধানে একা। কদিন বাইরে কাটিয়েই হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে আসেন তিনি। অথচ মজার কথা এই যে তাদের দুজনকে নিয়ে তাঁর এই হাঁসফাসানি তারা দুজনেই অতিমাত্রায় স্বনির্ভর। রঘুনন্দন চিরকাল হোস্টেলে মানুষ। নিজের জামাকাপড় নিজে কাচা, জুতোয় পালিশ লাগানো, ইস্ত্রি করা এসবে চিরকাল অভ্যস্ত। এখন সরকারি আমলা হয়ে এগোতে আর্দালি, পেছোতে আর্দালি, অরুণার কিছু করবার দরকার হয় না। সেখানে যে শক্তিটা খরচ করতে পারতেন সেটাশুদ্ধ অরুণা মেয়ের সেবায় লাগিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও মুন্নি স্বনির্ভর। ইদানীং দিন সাত আট দিল্লি কাটিয়ে অরুণা যখন ধড়ফড় করতে করতে ফিরে আসেন মুন্নি শান্তমুখে দরজা খুলে দেয়।

     

     

    —‘ঠিক আছিস তো, মুন্নি?’

    মুন্নি হেসে ফেলে। কোনও জবাব দেয় না।

    —‘কি করছিলি?’

    —‘পড়ছিলুম।’

    —‘কি পড়ছিলি?’

    —‘হাইডেগার।’

    —‘কি ডেগার?’

    —হাইডেগার’

     

     

    —‘খুব অসুবিধে হয়েছিল?

    —‘অসুবিধে হবে কেন?’

    পরে বৈজুর কাছ থেকে শুনলেন তার নাকি তিনদিন জ্বর ছিল। মুন্নিই তার সেবা যত্ন করেছে, নিজেও বেশ রান্না করে খাওয়া-দাওয়া করেছে। বৈজু বলে দিয়েছে সে বৈজুর জন্য বার্লি তৈরি করে দিয়েছে। বন্ধুরা এসেছে তিন চার দিন। সবাই মিলে বাড়িতে ফীস্ট করেছে। দিদি এক দিনও দেরি করে ফেরেনি। রেণু আসেনি বলে একদিন ঘর ঝাঁটপাটও দিয়েছে। আর নিজের জামাকাপড় তো সে বরাবর নিজেই কাচে।

    অরুণা বলেছেন—‘মাকে তাহলে তো তোর কোনোও দরকারই নেই!’

    —‘কি যে বলো মা, কত যে অসুবিধে!’

    —‘এই যে বললি, কোনও অসুবিধে নেই। তাছাড়া এই তো নিজে নিজে রান্না-টান্না, বৈজুর সেবা-পথ্য সবই তো করতে পেরেছিস!’

     

     

    —‘করলেই বা।’

    —‘এসব ভালোও তো লাগে তোর। কেমন সব বন্ধুবান্ধব মিলে হই-চই করলি। আমি থাকলে তো বাড়িটাকে এমনিভাবে ব্যবহার করতে পারিস না।’

    —‘তাই বলে মা না থাকলে অসুবিধে হবে না?’

    —‘কি জানি।’

    —‘শোনো মা। কে তোমাকে এই ইউটিলিটেরিয়ানিজম্‌ শিখিয়েছে? তুমি না থাকলে আমার বুকের মধ্যে টেনিস বলের মতো একটা ভ্যাকুয়াম থাকে। একদম মধ্যিখানে। কিছুটা হার্ট কিছুটা লাং। এই ভ্যাকুয়ামটা ভরবার জন্যে আমি খুব লম্ফঝম্প করি। যদিও একটা ভাল্‌ভ আমার কিছুতেই কাজ করে না। নিঃশ্বাসে বায়ু থাকে মা, প্রাণ থাকে না।’

    —যা যা চুপ কর তো!’

     

     

    প্রথমটা খুব হাসতে থাকে মুন্নি, তার থাক কাটা কাটা চুল দুলিয়ে। তারপর হাসি থামিয়ে বলে—‘মা বিশ্বাস করো!’ মুন্নি যখন বিশ্বাস করতে বলে, তখন অবিশ্বাস করার থাকা শুধু অরুণা কেন, মুন্নির বাবাও ভাবতে পারেন না।

    রাস্তার দিকে চোখ পেতে থাকতে থাকতে অরুণার আধ-কপালে মাথা-ধরাটা আরম্ভ হল। তিনি নিশ্চিন্ত হলেন। একটা চিন্তা নিয়ে থাকতে থাকতে যখন মাথাটা পাগল-পাগল লাগে তখন ভাবনা করার যন্ত্রটা বিকল হয়ে গেলে বড় শান্তি। তিনি নিজের ঘরে এসে ভেনিশিয়ান ব্লাইন্ডটা নামিয়ে দিলেন। কপালে ঘষলেন একটা সবুজ ওষুধ। ও ডি-কলোনের জলে রুমাল ভিজিয়ে নিয়ে চোখে চাপা দিয়ে শুয়ে পড়লেন। মাথার ঠাণ্ডা অনুভূতির ওপর মনটা পড়ে রইল। ঠাণ্ডা, খুব ঠাণ্ডা। আস্তে আস্তে মাথার নানান অলিগলিতে, ফাঁকে ফোকরে ঢুকে পড়ছে ঠাণ্ডাটা।

    কেন যে নিজের কেরিয়ারটা ছাড়লেন। রঘুনন্দন মুখে বলেন নি ছাড়তে। কিন্তু তাঁর যখন অন্যত্র পোস্টিং হল অরুণা নিজেই থাকতে পারলেন না। বাপের বাড়ির সবাইকে চটালেন। তাদের সঙ্গে আজ আর কোনও সম্পর্ক নেই। শ্বশুর বাড়ি তো কোনদিনই তাঁকে গ্রহণ করেনি। রঘুনন্দনের তাতে কিছু আসে যায়নি। যতদিন তাঁর মা বেঁচে ছিলেন, মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছেন। কর্তব্য করেছেন, কিন্তু স্ত্রীকে কোনদিন অবহেলা করেননি। প্রথমটা অরুণা বড় সুখী হয়েছিলেন। বাপের বাড়ির পছন্দের কাউকে বিয়ে করলে এভাবে সুখী হতে আর পারতেন না। এখন মনে হয় যৌবন বড় স্বার্থপর। দায়-দায়িত্ব মাথায় নিতেও যতক্ষণ, আত্মসুখের জন্য সব নামিয়ে দিতেও ততক্ষণ। এখন নিজেকে খুব একলাও লাগে। রঘুনন্দন নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। একজন সিনিয়র আমলার নিজস্ব বলতে সময় খুব কমই থাকে। মেয়েও এখন নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত, মগ্ন। তিনজনে একত্রে থাকতে তো পারছেনই না এখন। রঘুনন্দন রিজার্ভ-ব্যাঙ্কের চাকরিটা নিলে এমন হত না। যে যার উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে এক চুলও নড়বে না… ফলে সুখ যা হবার চূড়ান্ত হয়েছে। মান সম্মানও প্রচুর, কিন্তু অরুণার নিজের জীবন ক্রমশ কিরকম অর্থহীন আনন্দহীন হয়ে যাচ্ছে। রঘুনন্দন তাঁর কর্মজীবনের নানান খুঁটিনাটির কথা তাঁর সঙ্গে আলোচনা করা আজকাল একরকম ছেড়ে দিয়েছেন। মুন্নি অবশ্য তার বন্ধু-বান্ধব, পড়াশোনা, সোশ্যাল ওয়ার্কের নানান কথা তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে, মতামতও চায়। কিন্তু কেমন আলগা-আলগা, যেন বুড়ি ধুঁয়ে যাওয়া। নিজের কাজ, নিজের জীবন, নিজের লক্ষ্য কিছু চাই-ই। না হলে এই মাথা-ব্যথা এই প্রতীক্ষার কষ্ট… এই টানাপোড়েন… এ চলবেই।…

     

     

    মৈথিলী যখন বাড়ি ফিরল, বাড়িটা এই সকালেই নিঝুম। বৈজুদা বলল—‘মায়ের দরদ হচ্ছে মাথায়, দেখো হয়ত এখন ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়েছেন। বাবা খুব চিন্তা নিয়ে অফিস গেছেন।’

    মৈথিলী তার ঝোল্লা ব্যাগটা বসবার ঘরের টেবিলে রেখে, জুতো খুলে পা টিপে টিপে মায়ের ঘরে ঢুকল। অঘোরে ঘুমোচ্ছে মা, চোখ থেকে রুমাল সরে গেছে। ওডিকলোনের মৃদু গন্ধ হাওয়ায়। মায়ের চোখের তলায় কালি। মৈথিলীর মাকে একটা চুমু খাবার ইচ্ছে হল, কিন্তু সে ইচ্ছে সংবরণ করে সে আবার পা টিপে টিপে বসবার ঘরে চলে এলো। ফোনের বোতাম টিপল …‘মিঃ ত্রিপাঠী আছেন? —বাবা আমি মুন্নি কথা বলছি। হ্যাঁ বাবা, অ্যাডাল্ট লিটরেসি প্রোগ্রামে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ভেতরে যেতে হয়েছিল। অনেক কাজ। ফিরতে পারিনি। না কেউ না। লুকু?… লুকু যায় নি। আমি এসে গেছি, তুমি দুপুরে ভালো করে খেও।… কি করে জানলাম? বৈজুদা দেখালো, তোমার আধধাওয়া প্লেটটা এখনও রেখে দিয়েছে।’

    বৈজু রান্নাঘরের দুয়োর থেকে চোখ পাকাচ্ছে—‘ঝুট বলবে না মুন্নি, ফোন রেখে মুন্নি বলল— ‘মিথ্যে কথা! তুমি যেভাবে বর্ণনা দিলে তাতে আমি ওই বিষন্ন, বিদীর্ণ প্লেটটাকে দেখতে পাচ্ছিলাম যে বৈজুদা!’ তার মুখে হাসি।

     

     

    বৈজু মুন্নির কথাবার্তার ধরনে অভ্যস্ত। সে-ও হাসছে। কিছু না বুঝে। কিন্তু মুন্নি এসে গেছে। আবার ওইভাবে হাত নেড়ে শক্ত শক্ত শব্দ দিয়ে কথা বলছে তার ভারি আনন্দ।

    মায়ের ঘর থেকে চাপা আওয়াজ ভেসে এলো—‘মুন্নি এলি!’ মৈথিলী প্রায় এক লাফে মার ঘরে ঢুকে গেল। মায়ের বুকের ওপর ঝুঁকে পড়তেই মা বললেন —‘তোর জামাকাপড়ে কি বিটকেল গন্ধরে!’

    —‘গন্ধ হবে না? সারাদিন রোদে রোদে ঘোরা, না জামা-কাপড় বদলানো, না ভালো করে চান, সেই এক ধড়াচুড়ো। এতদিন থাকতে হবে, এত অসুবিধেয় পড়ব, তা কি আগে জানতাম? মা, কোথায় শুয়েছি জানো?’

    —‘কোথায়?’

    —‘খড়ের বিছানায়।’

    ——‘সে কি রে?’

     

     

    —‘সে এক অজ পাড়া গাঁ মা। মাটির ঘর খড়ের চাল, এ ছাড়া কিছু নেই। ওদের এক জনদের একটা বাড়তি ঘর খালি করে দিল, চারচালা ঘর। মেঝেতে আঁটি আঁটি খড় বিছিয়ে দিল, তার ওপর যে যার চাদর পেতে ধড়াচুড়ো পরে শুয়ে পড়লাম।’

    —‘কে কে ছিল?’

    —‘প্রমিত, শান্তনু, বুল্টু আর উজান।’

    —‘সে কি লুকু ছিল না? আর কোন মেয়ে না?’

    —‘লুকু শেষ পর্যন্ত যেতে পারল না। ওর বোধহয় মাম্পস হয়েছে মা।’

    —‘তুই একা মেয়ে?’

    —‘হ্যাঁ। তাতে কি?’

     

     

    —‘তুই আর ওই চারটে ছেলে এক ঘরে?’

    —‘হ্যাঁ! আর কোথায় জায়গা পাবো?

    —‘মুন্নি, তুমি এভাবে আর যেও না। এগুলো ঠিক হচ্ছে না। বড়দের মধ্যে কেউ ছিলেন না?’

    —‘প্রোফেসর সোম ছিলেন।

    —‘তিনিও ওই একই ঘরে?’

    —‘বাঃ, তাছাড়া কি?’

    —‘তোর অস্বস্তি হল না! আচ্ছা মেয়ে তো!’

    —‘অস্বস্তি হলেই বা কি করবো? উজানের অবস্থা যদি দেখতে! আঁট জিন্‌স্‌ পরে শুয়েছে মাঝ রাত্তিরে উঠে বসে বলল—‘আমার কোমর, পা সব হাঙরে কেটে নিয়ে যাচ্ছে।’ গ্রোফেসর সোম বললেন—‘তুমি একটু আলগা করো, আলগা হও, মৈথিলী দেয়ালের দিকে মুখ করুক। তাছাড়া এই লণ্ঠনের আলোয় কাউকেই ভালো করে দেখা যাচ্ছে না,’ গলাটাকে অনুপস্থিত ডঃ সোমের মতো ভারী করে মৈথিলী বলল।

     

     

    অরুণার রাগ হচ্ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি হেসে ফেলতে বাধ্য হলেন, বললেন —‘তোরা কি রে? লাজ-লজ্জা সব বিসর্জন দিয়েছিস?’

    —‘লাজ-লজ্জা আবার কোথায় বিসর্জন দিতে দেখলে মা! কাজ করতে গেলে অতো পুতুপুতু চলে না, অ্যান্ড কাজ ইজ আ হান্ড্রেড টাইমস মোর ইমপর্ট্যান্ট দ্যান অল দ্যাট ন্যাম্বি-প্যাম্বি অ্যাবাউট মডেস্টি।’

    অরুণা বললেন—‘যত কাজ কি তোর একারই মুন্নি? আর কেউ নেই?’

    —‘কাজ করবার লোক সত্যিই খুব কম, মা। এই দ্যাখো না, লুকুটা অসুখ বাধিয়ে বসল। দেবপ্রিয় টার্ন আপ করল না, গুঞ্জন তো কি সব পরীক্ষা দিচ্ছে। আসলে আমরা সবাই ভাবি ওরা তো আছে ওরা করবে। লোক এমনি করে করে কমে যায়। যাক, তোমার মাথার যন্ত্রণা গেছে তো?’

    অরুণা বললেন—‘এক ঘুম তো দিয়ে নিলুম। এরকম ভাবে কি কারো যন্ত্রণা যায় মুন্নি? অন্য সংসারে দেখো কর্ত্রী হাল ধরে থাকে, তার কথামতো, তার সুবিধে মতো সবাই চলে। আমার হয়েছে তোমাদের দুজনের মধ্যে তাঁতের মাকুর মতো ঘোরা। আর ভালো লাগছে না।’

     

     

    —‘মা, তুমি আজ একদম খাঁটি সত্যি কথাটা বুঝেছ। তোমার নিজস্ব কিছু কাজ দরকার। যদি করতে চাও মা তোমাকে আমি অনেক কাজ দিতে পারি।

    —‘রক্ষা করো! অরুণা গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘আমার কাজ আমি খুঁজে নেবো। তোমায় আর আমার কাজ নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না। তবে মনে রেখো মুন্নি, আমার নিজস্ব কাজ হলে আর তোমরা আমায় এরকম এক পায়ে খাড়া পাবে না। আমিও ব্যস্ত হতে, অন্যমনস্ক হতে জানি।’

    মৈথিলী বলল—‘মা, তুমি দেখছি সত্যি-সত্যিই খুব রাগ করেছে। রাগ হলেই তুমি ভালো ভালো লাগসই ইডিয়ম ব্যবহার করো। ‘এক পায়ে খাড়া’টা রাগ হলেই তুমি বলো।’

    মায়ের কাছে মৈথিলী একটু তরল, বাবার কাছে তরলতর। কিন্তু একই মিশ্রণের গাঢ়তা যেমন তাপের তারতম্যে বাড়ে কমে, তার স্বভাবের ব্যাপারেও তাই। মা বাবার উত্তাপে সে খানিকটা গলে থাকে। বাইরের পৃথিবী যত শীতল, যত নৈর্ব্যক্তিক সে ততই ঘন, ততই ঋজু, সংকল্প কঠিন, ওজনদার ও তার নেতৃত্ব তখন মেনে নেয় সবাই। উজান পর্যন্ত যে উজান শতকরা নব্বই ভাগ পুরুষ, দেব পর্যন্ত জীবন সম্পর্কে যার ধারণা মৈথিলীর চেয়ে অনেক প্রত্যক্ষ।

    ছাত্রসঙ্ঘের প্রথম প্রোগ্রাম হয় বয়স্ক শিক্ষা। মেধাদি এবং ডাঃ সোমের সঙ্গে আলোচনা করতে ওঁরা মৈথিলীর ওপরেই সব ভার দিলেন। সূর্যদা বয়স্কশিক্ষার পাঠক্রম ঠিক করে দিলেন। সে সব ঠিকভাবে সাজানো মেধাদি সূর্যদা আর নন্দিতাদির সাহায্য নিয়ে প্রধানত মৈথিলীই করল। সেই পরিকল্পনা মতো তারা শালকিয়ার পিলখানা বস্তিতে, কাঁকুলিয়ার বস্তিতে কাজ করল। কিন্তু মৈথিলীর একেক সময়ে সন্দেহ হয় সে এই ধরনের নেতৃত্বের যোগ্য কি না, সে বড্ড শহুরে, বড্ড বেশি উচ্চবিত্ত। শুভ-সংকল্প আর সমবেদনা ছাড়া এই স্তরের মানুষের সঙ্গে তার কোনও যোগ নেই। যখন তারা শহরের আশপাশের শ্রমিক-বসতিগুলোয় অভিযান চালানোর কথা আলোচনা করছে, পুলকেশ, প্রমিত, উজান সবাই-ই এতে সায় দিচ্ছে, সে সময়ে দেব একদিন বলল মফঃস্বলের লোকেরা যত দরিদ্রই হোক, কিছু-না-কিছু সুযোগ-সুবিধে তারা পায়ই। কিন্তু শহর থেকে বহু দূরে যেসব গণ্ডগ্রাম আছে সেখানকার অবস্থা সত্যিই ভয়াবহ। আগে এরা মহাজনের ওপর নির্ভর করে মার খেতো। এখন খাচ্ছে পঞ্চায়েত আর জেলা-বোর্ডের হাতে। এদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার সর্বপ্রথম দরকার। উজান তখন দেবদের গ্রামটাকেই কর্মকেন্দ্র করবার প্রস্তাব দেয়। দেব বলে হুগলি জেলায় এমনিতে লিটরেসি লেভেল হাই। তার ওপর ওদের গ্রামে পৃথ্বীন্দ্রনাথ গাঙ্গুলি বলে একজন আছেন, তিনি নিজেই বয়স্ক শিক্ষার প্রোগ্রাম নিয়েছেন। ওদিকে না গেলেও চলবে। অনেক ভাবনা-চিন্তার পর ঠিক হল দক্ষিণ চব্বিশপরগনার এই কেওড়া বা কেওড়াখালি গ্রাম। ওই গ্রামের স্কুলের হেডমাস্টার নিরঞ্জন খাঁড়া মশাইয়ের সঙ্গে এম ভি’র কিভাবে যেন যোগাযোগ হয়। খুব সম্ভব খরার সময়ে নিরঞ্জনবাবু নানান জায়গায় সাহায্য প্রার্থনা করে করে ঘুরতেন। এম ভি-ই প্রথম সূর্যদা আর নন্দিতাদিকে নিয়ে কেওড়াখালি গ্রাম দেখে আসেন। প্রোগ্রাম ছকা হল। মা বাবাকে অ্যাডাল্ট লিটরেসি বলে বুঝিয়ে দিলেও মৈথিলীদের পরিকল্পনা আরও ব্যাপক। তারা এর জন্য চ্যারিটি শো করে করে টাকা তুলেছে, ছাত্রসঙ্ঘের চাঁদার টাকা, এবং কিছু কিছু ডোনেশনও আছে।

    স্টেশনের নাম কি অদ্ভুত অদ্ভুত— বহড়ু, তালদী, ধপধপি। অন্য স্টেশনে নেমেও যাওয়া যায়। ওরা ধপধপিতে নেমেছিল। বাসের রাস্তা শেষ হয়ে গেল। তারপর কুলতলির মাঠ। দক্ষিণ-পূর্ব কোণ ধরে এই তেপান্তর পার হতে হয়। ভীষণ গর্ত, জায়গায় জায়গায় কাদার দঁক, বালি। এখানে ওই গ্রামের উৎসাহী হেডমাস্টারমশাই নিরঞ্জন খাঁড়া একটা ভ্যানগাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। সেই ভ্যানগাড়িতে তারা ছজন কিছুটা বসে কিছুটা ঠেলে গ্রামে পৌঁছল। ছেলেরা সবাই কিছুটা করে ঠেলেছে। ডঃ সোম, কিছুতেই ভ্যানগাড়িতে উঠবেন না, হাঁটছেন, আর কপালের ঘাম মুছছেন। সাইকেলের চাকা মাঝে মাঝেই বসে যাচ্ছিল ময়াল সাপের মতো কাদার ফালে। এদিকে বৃষ্টি হয়নি, কিন্তু ওদিকে, শহরের ছেলে মেয়েরা যাবে জেনে তাদের বিপদে ফেলবার জন্যেই যেন বেশ কয়েক দফা হৈমন্তী বৃষ্টি হয়ে গেল। শীতও বাড়ল। রাস্তার কষ্টও। ডঃ সোম বারণ করা সত্ত্বেও মৈথিলীও কিছুটা ঠেলেছে। মেয়ে বলে সে আলাদা সুবিধে নিতে চায় না। যদিও উজান বলেছিল—‘মৈথিল, বাড়াবাড়ি করিসনি। ডাক্তারি পড়ছিস, নিশ্চয় জানিস ছেলে হবো বললেই হওয়া যায় না।’

    গ্রামটা এলোমেলো গাছ পালায় ভরা। শীতের গোড়ায় বহু গাছের পাতা ঝরে গেছে। রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, পুকুরঘাট ইত্যাদির শোচনীয় অবস্থা। কুটিরগুলো মোটামুটি পরিষ্কার। কিন্তু এদের পরিচ্ছন্নতার একমাত্র ধারণা গোবর। গ্রামটাতে নদী নেই। কিছু দূরে মাতলা নদী থেকে খালের মতো খানিকটা ঢুকে এসেছে। বাঁয়ে পিয়ালীরও এরকম দু-একটা খাল আছে। এগুলোকে ওরা কানা মজা আর বোজা নাম দিয়েছে। একটিমাত্র পুকুর। তাতেই গ্রামসুদ্ধু লোকের চান, বাসনমাজা, কাপড় কাচা, পানীয় জল সংগ্রহ সব চলে। দেখে শুনে বুল্টু বলল—‘এরা বেঁচে আছে কি করে বল তো? আন্ত্রিক আর কলেরায় এখনও উজাড় হয়ে যায় নি এটাই আশ্চর্য।’

    নিরঞ্জন খাঁড়া জানালেন এবছর গরমকালেই প্রচণ্ড আন্ত্রিকের মড়ক লেগেছিল। প্রথমে ওদের দু দিন থাকার কথা ছিল। অবস্থা দেখে ঠিক হল পাঁচদিনের কমে কিছু হবে না। কোন্ কোন্ ব্যাপারে সংস্কার চাই, কোথায় নতুন উদ্যোগ দরকার সেগুলো সরেজমিনে ছকে ফেলা চাই। কুয়ো এবং নলকূপ খোঁড়া হবে। স্পটগুলো উজান ঘুরে ঘুরে ঠিক করল। ওরা থাকতে থাকতেই তো একটা পাতকুয়ো খোঁড়া হয়ে গেল। কিন্তু টিউবওয়েলের জন্যে তো শহরে এসে বিলিব্যবস্থা করতে হবে! খালগুলো থেকে কচুরিপানা পরিষ্কার করাতে হবে। বেশ কিছু জলা জায়গা আছে সেগুলোরও সংস্কার চাই। চারদিনই বিকেলবেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা করেছে মৈথিলী আর প্রমিত। সাধারণ স্বাস্থ্যের নিয়মপালন, পানীয় জল সম্পর্কে কড়াকড়ি। সাপের কামড়ে এখানে প্রায়ই লোক মরে, সর্পাঘাত, আগুন, জলে ডোবা ইত্যাদির ব্যাপারে ফার্স্ট এইড এবং পরবর্তী করণীয় পরিবার পরিকল্পনা। তালিকায় তো রয়েছে প্রচুর, চার দিনে আর কতটুকু হয়। বয়স্ক শিক্ষার ক্লাসও নিয়েছে বাকিরা, সন্ধেবেলায়। হেড মাস্টার নিরঞ্জনবাবুকেই বয়স্ক-শিক্ষার ট্রেনিং এবং দায়িত্ব দিয়ে এসেছে ওরা। তিনি প্রতি সন্ধেবেলায় তাঁর স্কুলঘরেই বড়দের পড়াবেন। দরকারি বইপত্র, স্লেট পেনসিল, বোর্ড চক প্রভৃতি প্রথম দফায় যা লাগবে তা সবই ওরা দিয়ে এসেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কে ওরা শুধু ক্লাসই নেয়নি। বাড়ি বাড়ি ঘুরে সরেজমিনে দেখে শুনে হাতে কলমে কিছু কিছু আচরণবিধি শিখিয়ে দিয়ে এসেছে।

    দেব যে কেন গেল না! শেষ মুহূর্তে টার্ন আপ করল না। ওরও কি লুকুর মতো কিছু অসুধ-বিসুখ করেছে? মনে হয় না। চেহারার ধরণটা একটু পলকা হলেও দেব রীতিমতো ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী। এতদিনের মধ্যে একদিনও তার কোনও শারীরিক গণ্ডগোল হতে দেখা যায়নি। ওদের যাবার আগে, কি কি প্রয়োজন হতে পারে, বইপত্র ইত্যাদি কোথায় পাওয়া যাবে, আন্দাজ কতো নেওয়া হবে এ সবই ব্যবস্থা ও করেছিল। কারণ ওর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আছে। ও-ই বলেছিল স্বাস্থ্য সম্পর্কে একটা দুটো বক্তৃতায় বা ফার্স্টএইড শিখিয়ে এলেই কাজ হবে না। স্থানীয় দুচার জনকে রীতিমতো ট্রেনিং দিয়ে, প্রাথমিক কিছু ওষুধ পত্র ব্যান্ডেজ, গজ, অ্যানটিসেপটিক ইত্যাদি দিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্র খুলে দিয়ে আসতে হবে।

    নিরঞ্জন খাঁড়া ছাড়া লেখাপড়া বলতে কেউ কিছু জানে না। একদম চাষীগাঁ। কিন্তু নিরঞ্জনবাবু সকালে ছোটদের স্কুল চালান। সন্ধেয় এখন থেকে বড়দের ক্লাস নেবেন, এর পরে যদি স্বাস্থ্যকেন্দ্রও চালাতে হয় তো তাঁর পক্ষে বড্ড বেশি হয়ে যায়। প্রাথমিক কিছু ওষুধপত্র তাঁর কাছেই রেখে এসেছে ওরা। তাঁর স্কুলের সবচেয়ে উজ্জ্বল ছেলেটির নাম নীলমণি, তাকে তৈরি করে দিতে পারবেন আশ্বাস দিচ্ছেন নিরঞ্জনবাবু।

    ইতিমধ্যে গ্রামের মেয়েরা পাতকুয়ো এবং টিউবওয়েল খোঁড়া হবে শুনে খুব উৎসাহী। পঞ্চায়েতে বলে বলে ওরা হার মেনে গেছে। এ গ্রাম তো পুরোপুরি গ্রামের মর্যাদাও পায় না, মৌজা মাত্র। গ্রাম সেবকদের এ গ্রামের কথা মনে থাকে না। বড় বড় বর্গাদার আছে পাশের গ্রামে, তাদের গায়ের জোর, গলার জোর, ট্যাঁকের জোর সব বেশি। মনোযোগ সবটুকু তারাই কেড়ে রেখেছে। সেচের তো কথাই নেই, পানীয় জলের জন্যও শুখার দিনে ওদের বহুদূর যেতে হয়, সেই কষ্ট কমবে। বয়স্ক-শিক্ষার ব্যাপারে আবার এদের উৎসাহ কম। দু একজন গিন্নিবান্নি বলল—‘কি হবে গো দিদি! মেয়ে তো তোমার মতো পেন্টুল পরে শহরে বাজারে ঘুরবে না! ষোল পার হলেই বিয়ে দিয়ে দুব। নাউয়ের শাক রাঁধবার জন্যে কি গোবরছড়া দেবার জন্যে নেকাপড়া না শিখলেও চলবে।’

    প্রমিত বলল আপনার মেয়ের ছেলেকে লেখাপড়া শেখাবেন তো!

    —‘সে শক তো মানুষের থাকেই দাদাবাবু।’

    —‘তবে? নাতির বেলায় চাইছেন, মেয়ের বেলায় চাইছেন না কেন? মেয়ে লেখাপড়া শিখলে নাতির তো ঘরে বসেই অক্ষরপরিচয় হয়ে যাবে। ইস্কুলে যাবার আগেই। লেখাপড়া শিখলে কেউ ঠকাতে পারবে না, কাগজ পড়বেন, ইস্তাহার পড়বেন, সই কিসে দিচ্ছেন জানতে পারবেন।’

    গিন্নি-মানুষটির মুখ তবু গোঁজ রইল। সন্ধেবেলায় মেয়ে ঘরে পিদিম দেখায় জল ছড়া দেয়, রান্না করে, সে সময়টা তাকে ছাড়তে হলে তার ক্ষেতি।

    আসবার সময়ে আবার খাঁড়া মশাই হাত কচলে বললেন ‘এদের একটা ভীষণ অভাব পরনের বস্ত্রের। অনেকেরই একটি বই দুটি নেই। আপনারা যদি আপনাদের পুরনো জামাকাপড় কিছু দ্যান, ছেলেমেয়েগুলো পরে বাঁচে।

    শান্তনু, প্রমিত, উজান নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করল ওরা এবার কলকাতা ফিরে গিয়ে পুরনো জামাকাপড় সংগ্রহ করবে। নিরঞ্জনবাবু কয়েক দফায় নিয়ে আসবেন।

    মায়ের সঙ্গে কথাবার্তা হওয়ার পর মৈথিলী ভালো করে চান করল, বেশ করে সাবান মেখে। তাররপর নিজের ঘরে ঢুকে, কিছুক্ষণের মধ্যেই ডায়েরি লেখায় মগ্ন হয়ে গেল। এটা তার নিত্যকর্ম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকুশে পা – বাণী বসু
    Next Article শ্বেত পাথরের থালা – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Our Picks

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }