Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উনিশে ডিসেম্বর মরশুমের শীতলতম রাত – অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প74 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উনিশে ডিসেম্বর মরশুমের শীতলতম রাত – ৫

    ৫

    মাসখানেক হল সুরজিৎ বদলি হয়েছে। মুক্তারামবাবু স্ট্রিটের চক্রবর্তী বাড়ি এখন যেন আরও খালি খালি। বন্দনার বাপের বাড়িতেও এমন কেউ নেই, যাকে এনে এখানে রাখবে। এদিকের আত্মীয় স্বজনও যারা আছে, সবাই দূরে দূরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আর তাছাড়া নিজেদের বাড়ি, ঘর সংসার ফেলে আজকাল আর কেউ কারোর বাড়িতে গিয়ে স্রেফ সঙ্গ দানের জন্য থাকতে চায় না। কাজেই বন্দনাকে একলা হাতে সবদিক সামলে নিতে হচ্ছে। বলাইয়ের হাবভাব এখন অনেকটা স্বাভাবিক এটাই যা বাঁচোয়া। সে আর ছবিও আঁকে না, এটা একদিকে যেমন দুঃখের, অন্যদিকে স্বস্তির। অন্তত বন্দনার তো তাই-ই মনে হয়।

    বলাই এখন আর আঁকতে পারে না এই কথাটা মনে পড়লেই মাঝে মাঝে তার মনে হয়, ওকে একটা আঁকার স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া দরকার, এমন আঁকার হাত হুট করে নষ্ট হয়ে যাবে, এটা মেনে নিতেও কষ্ট হয়। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে, স্বর্গত শ্বশুর মশাইয়ের কথাগুলো। তিনি বলতেন, “ধরাবাঁধা পথে, দাদুভাইকে আঁকা শেখানোর দরকার নেই। ওর যা আছে, রক্তে আছে। কবিতা লেখার মতো ছবি আঁকাও কাউকে বেঁধে শেখানো যায় না। ওকে শেখাতে গেলে ওর সহজাত ক্ষমতাটা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।” এই চিন্তা করে বলাইকে এখনও আঁকার স্কুলে দেওয়া হয়নি।

    সে স্কুলে যায়, আর বাড়ি ফিরেই নিজের ঘরে বসে থাকে, কখনও বই নিয়ে, কখনও কম্পিউটারের সামনে। কথাবার্তা বরাবরই সে কম বলে। স্কুলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানেও অধিকাংশ সময়ে তাকে চুপ করে বসে থাকতেই দেখা যায়। বন্ধুবান্ধব বেশি নেই তার, যে দু-একজন আছে তারাও ওকে বেশি ঘাটাতে যায় না। কেন এমন হয়, এর উত্তর বন্দনার কাছেও নেই। কবে এই অবস্থা স্বাভাবিক হবে, আদৌ হবে কিনা, তাও সে জানে না। সুরজিৎকে বললেই, সে বলে— “বাবার মৃত্যুটা খুব সামনে থেকে দেখেছে তো, সেটা হয়তো ও মেনে নিতে পারে না আজও। তাই ওরকম করে। ওকে তুমি আরও সময় দাও বন্দনা, দেখবে আসতে আসতে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”

    কিন্তু মায়ের মন, ছেলের সবকিছুতেই আশঙ্কার কালো মেঘ দেখতে পায়। তাই সব কাজকর্মের ফাঁকে যখনই এসব কথা মনে পড়ে, তখনই মনটা ভীষণরকম খারাপ হতে শুরু করে তার। আরও একটা ব্যাপারে এখনও তার মনের ভিতর চাপা অস্বস্তি রয়ে গেছে, পলাশপুর, এই জায়গাটা নিয়ে। কেন এই অস্বস্তি সে নিজেই আজও জানে না। কিন্তু নামটা সুরজিতের মুখে শোনার পর থেকেই অস্বস্তিটা আছে, রয়ে গেছে।

    ওদিকে সুরজিৎ তখন পলাশপুরে নিজেকে খানিকটা গুছিয়ে নিয়েছে বা বলা ভালো, গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এককথায় বলতে গেলে পলাশপুর ঝাড়খণ্ডের এক প্রত্যন্ত গ্রাম। কাছাকাছি বড় শহর বলতে গিরিডি। তাও প্রায় মাইল পঞ্চাশের পথ। দিনে গোটা পাঁচেক লোকাল ট্রেন যাতায়াত করে। আর গিরিডি থেকে দিনে দুটো বাস যায় পলাশপুর আসার। এছাড়া আর যাতায়াতের কোনো রাস্তা নেই।

    একটা দোচালা একতলা বাড়িকে সরকারি বাংলোর তকমা দিয়ে সেখানেই সুরজিতের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা একটা বিরাট সেকেলে অট্টালিকার সামনের অংশ। এটুকুই বাসযোগ্য, পিছনে জঙ্গল আর মূল বাড়ির ভাগ্নাংশ।

    ঢালাই করা অট্টালিকা এখানে প্রায় নেই বললেই চলে। প্রচুর গাছ পালা, একটা ছোট শুকনো নদী আর দূরের দিগন্তে অনুচ্চ পাহাড়ের সারি।

    বসন্তকালে পলাশ ফুল পড়ে গোটা গ্রাম লাল হয়ে যায়। তাই এই জায়গার নাম পলাশপুর। পশ্চিমাঞ্চলের এই সব এলাকা একসময় বাঙালিদের বড় প্ৰিয় ছিল। স্বাস্থ্য উদ্ধারের আশায় অনেকেই এখানে এসে মাসের পর মাস কাটিয়ে যেত। অনেক বাঙালি বাড়ি করে চলে এসেছিল এসব এলাকায়। সেসব বাড়ি আজও আছে, তবে দেখভালের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে।

    সুরজিৎকে আপাতত মাস ছয়েক থাকতে হবে এখানে। পুরো এলাকা সার্ভে করে তার রিপোর্ট দাখিল করতে হবে অফিসে।

    তার মতো শহুরে লোকের পক্ষে এখানে থাকাটা বেশ অশান্তির। দিনের বেশির ভাগ সময়ে ইলেকট্রিসিটি নেই। আর থাকলেও ভোল্টেজের এমন অবস্থা যে পাখার দিকে তাকিয়ে থাকলে বোঝা যাবে পাখা ঘুরছে, তবে তার হাওয়া বিশেষ গায়ে লাগে না। বাল্বের অবস্থাও প্রায় একই। ইদানীং একটা মোবাইলের টাওয়ার বসানো হয়েছে বটে, তবে তার নেটওয়ার্ক সিগন্যাল পেতে গেলে হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হয়। ইন্টারনেটের কথা তো আর না বলাই ভালো। আধমরা দামি ফোনটা হাতে নিয়ে অসহ্য অস্থিরতায় ঘরবার করতে থাকে সুরজিৎ।

    গ্রামের পরিধি ছোটো। যে ক’ঘর লোকজন এখানে বাস করে, সবাই সবাইকে চেনে, সবার মধ্যে ভারি মিলমিশ। এই একটা ব্যাপার সুরজিতের বেশ লাগে। এই লোকজনের মধ্যে বেশিরভাগই অশিক্ষিত আর গাঁইয়া, শুধু দু-একজন ছাড়া। এখানকার মাটি পাথুরে, বেশির ভাগটাই চাষের অযোগ্য। তবে কোনো কোনো জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে চাষ বাস হয়। এছাড়া এদের আর-একটা পেশা হল মদ তৈরি। এখানকার গাছের এক বিশেষ ফল থেকে একরকম মদ তৈরি করে বাড়ির মেয়ে বউরা। এই মদের নাকি বিহার-উত্তর প্রদেশে বিশাল বাজার। দেশের বাইরেও রপ্তানি হয়।

    গ্রামে থাকার মধ্যে আছে, একটা শিব মন্দির, একটা ভাঙাচোরা স্কুল, একটা ছোট স্বাস্থ্যকেন্দ্র আর একটা পুলিশ আউটপোস্ট। মাস কয়েক যেতে না যেতেই জায়গাটা যেন একটু একটু করে ভালো লাগতে শুরু করেছে সুরজিতের। অভ্যাস মানুষকে আসতে আসতে বদলে ফেলে। মনন ও রুচির পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়। এই একমাসে শহুরে জীবনের ফেলে আসা চাহিদাগুলো কেমন যেন কমে যেতে থাকে তার কাছে। একসময় সুরজিৎ খেয়াল করে, এখানকার ছোট ছোট পাওয়াগুলোকে ভালোবাসতে শুরু করেছে সে। এখানকার মানুষজনগুলো এত সাধাসিধে, এত ভালো, গ্রামে এসে না থাকলে সে কখনও জানতে পারত না। এখানে সবাই ওকে সরকারিবাবু বলে ডাকে। সরকারের প্রতিনিধি হয়ে যেহেতু সে এসেছে, তাই সবাই একটু বেশিই খাতির করে তাকে। কারোর বাগানের ফল, কারোর ক্ষেতের টাটকা সবজি, কারোর বাড়ির মোষের ঘন দুধ সব সকাল সকাল এসে হাজির হয় কোয়ার্টার বাংলোর দালানে। বারণ করেও লাভ নেই, এটা তারা করবেই। এটা করতে পেরে মানুষগুলো যেন বর্তে যায়। এই ব্যাপারগুলোও সুরজিতের প্রথম প্রথম খুব অস্বস্তি লাগলেও এখন অনেকটা সয়ে গেছে।

    সকালবেলা কোয়ার্টার বাংলোর দালানে বসে এসবই আলোচনা হচ্ছিল সুরজিৎ আর হারাধনবাবুর মধ্যে। হারাধন মুখার্জী। এই গ্রামের একমাত্র বাঙালি অধিবাসী। উনিও কলকতার বাসিন্দা। ভবানীপুরের নিজের বাড়ি ছেড়ে এখানে এসে রয়েছেন। এই লোকটাকে কাছে পেয়ে সুরজিৎ যেন প্রাণে বেঁচে গেছে। ওঁর গায়েও শহুরে গন্ধ রয়েছে যে। সুরজিৎ তখন এই গণ্ডগ্রামের প্রবাস জীবনে শহুরে মানুষের দেখা পেয়ে ধন্য। হারাধনবাবু অবিশ্যি খুব ভালো মানুষ। কয়েকদিনের মধ্যেই সুরজিৎকে আপন করে নিয়েছেন। দিনে অন্তত দু’বার তাঁর সরকারি মশাইয়ের মুখ দেখা চাই-ই চাই।

    হারাধন বাবু অবশ্য ওর মতো ঠেলায় পড়ে এখানে আসেননি। এসেছেন নিজের মর্জিতে। কী একটা ব্যাপার নিয়ে উনি রিসার্চ করছেন, লেখালিখি করছেন। সেই তথ্য সংগ্রহের জন্য সারা দেশ নাকি এরকম ঘুরে বেড়ান। এখন মাসখানেক হল এই পলাশপুরে এসে রয়েছেন। বটতলার পিছনে হনুমান মন্দিরের পাশে এক চালা কুঁড়ে ঘরে থাকেন তিনি। চেহারা দেখে বয়স আন্দাজ করা কঠিন। মাথায় একরাশ ধবধবে পাকা চুল, চোখে পুরোনো দিনের মোটা ফ্রেমের হাই পাওয়ারের চশমা। বয়স সত্তরের উপর তো বটেই, কিন্তু চেহারায় আর মেরুদণ্ডের ঋজুতায় তার ছাপ পড়েনি। সারাদিন ঘরে বইপত্তরে মুখ গুঁজে বসে থাকেন, আর লেখালিখি করেন। ভোর বেলা আর বিকাল বেলা বেড়াতে বেরোন। রোজ সেই দুই সময়ে এসে সুরজিতের সঙ্গে খেজুর করে যান।

    সুরজিৎ এখানে আসার পরের দিনই সেই ভদ্রলোক যেচে আলাপ করতে এসেছিলেন। বিদেশ বিভূঁইয়ে এসে বাঙালির সঙ্গ, আর কার না ভালো লাগে! তাই আলাপ জমে উঠেছিল। সেই থেকে রোজই সকালে হাঁটতে হাঁটতে তিনি সুরজিতের কোয়ার্টারে চলে আসেন। চা জলখাবার খেতে খেতে নানা বিষয়ে গল্প আড্ডা হয়, তারপর যে যার কাজে বেরিয়ে পড়ে।

    আজ গল্প হচ্ছিল এই পলাশপুরে এককালে অনেক বাঙালির বাস ছিল, তাই নিয়ে। রামবিলাস বলে এক গাঁজা খোর, পাগলাটে ছোকরা এই কোয়ার্টার বাংলো দেখভাল করে। সে দালানে এসে দুকাপ চা আর কিছু খাবার রেখে চলে গেল।

    চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে সুরজিৎই প্রথমে বলল, “আচ্ছা হারাধন বাবু, আপনি তো এই জায়গাটা নিয়ে অনেক পড়াশুনো করেছেন, এখানে তো একসময় অনেক বাঙালি ছিল তাই না?”

    হারাধনবাবু একটু আগে এক টিপ নস্যি নিয়েছিলেন। ঝোলা পাঞ্জাবির পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে বার কয়েক নাকটা রগড়ে নিয়ে বললেন, “না ভাই, আমি ঠিক এই জায়গাটা নিয়ে পড়াশুনো করছি না, তবে যেটা নিয়ে করছি, তার সঙ্গে এই জায়গাটা বিশেষ ভাবে জড়িত। তাই এখানে আসতে হয়েছে আমায়।

    সুরজিৎ মাথা নেড়ে চায়ে চুমুক দেয়।

    হারাধনবাবু বলে চলেন, “তুমি ঠিকই বলেছ, এইসব জায়গা একসময় বাঙালিদের খুব প্ৰিয় ছিল। স্বাস্থ্য উদ্ধারের আশায় অনেক বাঙালি তখন এখানে এসে থাকত। তাদের অনেকেই আর ফেরত যায়নি, অগাধ টাকার বেশ খানিকটা খরচ করে এখানে বাড়ি বানিয়ে তারা স্থায়ীভাবে বাস করতে শুরু করেছিল। তুমি এখানকার পাড়াগুলোর নাম খেয়াল করলেই দেখতে পাবে, সব নামেই বাংলার ছাপ। পলাশপুর নামটাও তো বাঙালিদের দেওয়া। ত্রিশ-বত্রিশ থেকে শুরু করে পঞ্চাশ-ষাট সাল পর্যন্ত, এই এলাকার কিন্তু ভালোই রমরমা ছিল। এখনকার মতো ম্যাদামারা ছিল না মোটেই। বড় স্কুল ছিল, বিশাল দুর্গামণ্ডপ ছিল, দো তলা, তিন তলা বড় বড় সব অট্টালিকা ছিল। বিলাস প্ৰিয় বাঙালিরা বাগান বাড়ি তৈরি করেছিল একের পর এক। সেসব বাড়ির দেওয়াল আর তার ভগ্নাবশেষে এখনও এখানকার এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এই যেমন ধরো এই বাড়িখানা… এই বলে হারাধনবাবু এই কোয়ার্টার বাংলোর দিকে ইঙ্গিত করলেন।

    সুরজিৎ অবাক হয়ে জানতে চাইল, এই বাড়িটা কী?

    — এটাও তো এককালে এক ডাকসাইটে বাঙালি জমিদারের বাগানবাড়ি ছিল। বহুবছর একভাবে পড়ে ছিল, চারপাশে আগাছার জঙ্গল হয়ে গেছিল। তুমি যে দুটো ঘর নিয়ে থাকো, ও-দুটো তো একদম বাড়ির সামনের অংশ, হালে মেরামত করে বাসযোগ্য করে তোলা হয়েছে। পিছন দিকে জঙ্গল সরিয়ে আর ক’পা হেঁটে গেলেই দেখতে পাবে মূল বাড়িটা। এখন অবশ্য বাড়ির কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। ভাঙাচোরা অবস্থা, নেহাৎ সেকেলে মজবুত বাড়ি বলে এখনও পুরোপুরি ধসে যায়নি এই যা।

    এই বলে হারাধনবাবু একটু থামলেন। তারপর বললেন— আপনি তো এত দিন আছেন হেতায়, বাড়ির পিছন দিকটা গেছেন কখনও?

    সুরজিৎ দুদিকে মাথা নেড়ে না বলে। আর মনে মনে ভাবে, ওকে সুখে থাকতে কি ভূতে কিলিয়েছে? যে খামোখা মরতে, ওই আগাছার জঙ্গল ঠেলে বাড়ির পিছনে পা দেবে?

    হারাধনবাবু বললেন— ঠিক আছে, একদিন দুজনে মিলে দেখতে যাব না হয়।

    সুরজিৎ ঠিক বুঝে পেল না, বাড়ির পিছনের অংশে ওই পোড়োবাড়ি দেখতে যাওয়ার কী এমন দরকার আছে? কিন্তু মনে এলেও এই কথাটা ঠিক বলে উঠতে পারল না। একজন সত্তর বছরের বুড়ো যদি উৎসাহ নিয়ে সেখানে যেতে চান, তার মতো যুবকের পক্ষে পিছিয়ে আসাটা বেশ লজ্জার হয়ে যাবে। অগত্যা মাথা নেড়ে সায় দিল সে।

    কথা বলতে বলতে সুরজিৎ এতক্ষণ খেয়াল করেনি, বাগানের পিছনে দরমার বেড়ার আড়ালে রামবিলাস এতক্ষণ আড়ি পেতে তাদের কথা শুনছিল। আশ্চর্য! কী এমন কথা এখানে বলা হচ্ছে যে লুকিয়ে লুকিয়ে তা শুনতে হবে। সুরজিৎ ওদিকে একবার তাকাতেই ত্রস্ত কাঠবেড়ালির মতো সুরুৎ করে সে পিছনে ঘরে সেদিয়ে গেল। এই চাকরটার হাবভাব কেমন যেন অস্বস্তিকর। সুরজিৎ সেটা আগেও খেয়াল করে দেখেছে। কথাবার্তা কেমন অদ্ভুত, এমনকি চোখের চাহুনিটাও ঠিক স্বাভাবিক না। এতদিন সুরজিৎ ভাবত হয়তো সারাদিন গাঁজার নেশা করে থাকে বলে, এরকম লাগে। কিন্তু না, আজকের এই আচরণ বেজায় সন্দেহজনক। এরকমভাবে লুকিয়ে আড়ি পাতার মানে কী?

    কথা বলতে বলতে অনেক দেরি হয়ে গেল, এখন উঠি সরকারিবাবু, ওবেলা আবার আসবখন। এই বলে হারাধনবাবু, বাইরের দিকে হাঁটা লাগালেন।

    সুরজিৎও স্নান সারবে বলে ভিতরে গেল।

    সারাদিন অফিসের কাজকর্মের ফাঁকে ফোঁকরে যখনই সে আনমনা হয়েছে তখনই মনে পড়েছে রামবিলাসের কথা, ওর অদ্ভুত হাবভাবের কথা।

    কাজের শেষে বাড়ি ফিরতে বেশ দেরিই হয়ে গেল সুরজিতের। রোজ আরও আগে ঘরে ফেরে সে। আজ একটু দেরি হল স্টেশন ঘুরে আসতে হল বলে। এখানে স্টেশনের পাশে একটা দোকানেই একমাত্র সুরজিতের পছন্দের ব্রান্ডের সিগারেট পাওয়া যায়। তার আর স্টক ছিল না, কাজেই সিগারেট কিনে প্রায় মাইল দেড়েক হেঁটে ঘরে ফিরতে ফিরতে সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। ঘরে ঢুকতেই সে দেখে হারাধনবাবু যথারীতি সহাস্য মুখে দালানের চেয়ারে বসে আছেন।

    — সেকি! আপনি কতক্ষণ? সদর পেরিয়ে ভিতরে ঢুকতে ঢুকতেই প্রশ্নটা করে ফেলল সুরজিৎ।

    হারাধনবাবুর হাতে কিছু একটা পত্রিকা ধরা ছিল, যেটা উনি এতক্ষণ পড়ছিলেন, ওটা ব্যাগে ঢুকিয়ে রেখে বললেন— “এই মিনিট পনেরো। আপনার জন্য বসে আছি, এক পেয়ালা চা খাব বলে, সকাল সন্ধ্যেয় আপনার এখানে চা-টা না খেলে যে দিনই খারাপ যায় মশাই।” বলেই হো হো করে হেঁসে উঠলেন সদা আলাপী মানুষটা।

    সুরজিৎ তড়িঘড়ি স্নান সেরে দাওয়ায় এসে বসল। ততক্ষণে রামবিলাস দু’কাপ চা আর এক প্লেট চানাচুর এনে সামনের ছোটো বেতের টেবিলটার উপর রেখে গেছে।

    রামবিলাস, অদ্ভুত আর পাগলাটে হলেও, ব্যাটার রান্নার হাত বেশ ভালোই। চা-টাও ভালোই বানায়। খেয়ে যেন ক্লান্তি দূর হল সুরজিতের। সবে আমেজ করে কাপে দু’কাপ চুমুক দিয়েছে, এমন সময় হারাধন বাবুর আবার সেই বেমক্কা প্রশ্ন— “তারপর ভেবে কী ঠিক করলেন? বাড়ির ভিতরে যাবেন নাকি?”

    সুরজিৎ একটু চমকেই গেছিল হয়তো, তারপর মনের ভাব সামলে নিয়ে সে বলল— “বেশ তো, যাব’খন। একদিন।”

    সুরজিতের কাছে হারাধনবাবু হলেন দুঃসময়ের বন্ধু। এই অজ্ঞাতবাসে ওঁর মতো একজন মানুষকে পাশে পেয়ে সুরজিৎ যে মনে-প্রাণে বেঁচে গেছে, তা সে ভালো মতোই জানে। বয়সের ব্যবধানটা এক্ষেত্রে বড় কথা না। বড় কথা হল, মানুষটা এই বয়সের ব্যবধানটুকু যেন বুঝতেই দেন না। এত নিবিড়ভাবে খুব কম লোকই মিশতে পারে। আর শুধু তাই-ই নয়, লোকটার সঙ্গে কথা বলেও শান্তি আছে। পুঁথিগত শিক্ষা তো আছেই, একসময় যে ভালো স্টুডেন্ট ছিলেন, তাও আর বলে দিতে হয় না। এছাড়া নানা বিষয়ে প্রচুর পড়াশুনো আছে, নানা জায়গায় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আছে, সব মিলিয়ে লোকটার সঙ্গে দুটো কথা বলে শান্তি আছে যেন। এই পাণ্ডব বর্জিত জায়গায়, যেখানে মোবাইল ফোন পর্যন্ত আধমরা, ইন্টারনেট নেই, টিভি নেই, বেঁচে থাকার সব শহুরে আধুনিক রসদই যেখানে অনুপস্থিত, সেখানে এই হারাধনবাবুর মতো মানুষের দেখা পাওয়া তো দেব দর্শনের সামিল। কাজেই এই মানুষটাকে কোনোভাবেই চটাতে চায় না সুরজিৎ। সব দিক ভেবে সে বলে— “রবিবার যাওয়া যাক বরং। আপনি সারাদিন এখানেই থেকে যাবেন। একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া হবে। হারাধনবাবুর এই প্রস্তাবে কোনো আপত্তি নেই।

    চায়ের শেষ চুমুকটুকু গলায় ঢেলে সুরজিৎ বলল— “তবে কী বাড়িটা তো বেজায় বিপজ্জনক, তাই একটু ইয়ে… মানে…

    — বিপজ্জনক? সেকি মোয়াই?

    — বিপজ্জনক নয়?

    হারাধনবাবু এক টিপ নস্যি নিয়ে বারদুয়েক সশব্দে হেঁচে নিয়ে তারপর বললেন— “আপনি কী ভূতের ভয় পাচ্ছেন নাকি?”

    সুরজিৎ কথাটাকে হেঁসে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে— “না না আমি এমনিই বলছিলাম আর কী! বাড়ির ওদিকটার যা অবস্থা, সাপখোপ…”

    সুরজিৎকে কথাটা শেষ করতে না দিয়েই হারাধনবাবু বলে ওঠেন— “চিন্তা নেই সেসবের ব্যবস্থা আমি করেই যাব।”

    অগত্যা আর রাজি না হওয়ার কোনো ন্যায্য কারণ থাকতে পারে না। আর ভূতের ভয় কথাটা উচ্চারণ করতে সুরজিতের পৌরুষে বাঁধছে।

    সুরজিতের মনের কথাটা খানিকটা আন্দাজ করে নিয়েই হারাধন বাবু বলে ওঠেন— “অলৌকিক কোনো কিছুকে ভয় পাবেন না মশাই, বরং আগ্রহী হয়ে বুঝতে চাইবেন, তাহলেই দেখবেন সব ভয় কেটে গেছে। আর আপনাকে দেখে তো খুব একটা ভীতু বলে মনে হচ্ছে না, যে বাড়িতে আপনি রাত্রি বাস করছেন, সেখানে থাকাটাও কিন্তু যথেষ্ট সাহসের।”

    সুরজিতের বুকে হাতুড়ি পিটতে থাকে। সে বেতের চেয়ারটাকে সরে এনে হারাধনবাবুর আরও পাশে এসে বসে আর নীচু গলায় জিজ্ঞাসা করে— “কেন বলুন তো? আপনি কি কিছু জানেন এ-বাড়ি সম্পর্কে? আপনি তো আমার আগে এসেছেন পলাশপুর। কোথাও কিছু শুনেছেন-টুনেছেন নাকি?”

    হারাধন বাবু উঠে দাঁড়িয়ে গোটা দালানটা একবার পায়চারি করে নেন। তারপর আবার এসে বসেন। সুরজিৎ বুঝতে পারে, হারাধনবাবু নিশ্চয় এ-বাড়ি সম্পর্কে কিছু একটা জানেন। সে নিজেও এখানে এসে থেকে কেমন যেন একটা অস্বস্তি বোধ করছে। ঠিক কেন এই অস্বস্তি তা সে জানে না, কিন্তু কিছু একটা মনের মধ্যে হচ্ছে, যা কাউকে বলে বোঝানো যায় না।

    হারাধনবাবু গলার স্বরটাকে একদম খাদে নামিয়ে এনে বললেন— “তার আগে আপনি বলুন তো এখানে এসে ইস্তক আপনার কিছু অসুবিধা হয়েছে কিনা? আপনি নিজে কিছু টের পেয়েছেন কিনা?”

    সত্যি কথা বলতে কি, এই সে নিজেই এতদিন হারাধনবাবুকে বলার চেষ্টা করে চলেছে। কিন্তু ঠিক কীভাবে যে কথাটা পাড়বে সেটাই বুঝে উঠতে পারছিল না। এখন উনি নিজেই প্রসঙ্গটা তোলায়, সুরজিতের কাজটা অনেক সহজ হয়ে গেল।

    হারাধনবাবু এ প্রশ্নের উত্তরে সুরজিৎ যা বলল তা অনেকটা এরকম— এখানে আসার দিন সাতেকের মধ্য থেকেই, ওইরকম একটা অস্বাভাবিক অস্বস্তি টের পেয়েছিল সুরজিৎ। শুধু রাতবিরেতেই না, দিনেদুপুরে এমন সব অদ্ভুত অদ্ভুত শব্দ হয়, এমন অদ্ভুত অদ্ভুত কাণ্ড ঘটে, সহজ সরলভাবে যার কোনো ব্যাখ্যা মেলে না। সুরজিৎ ঠান্ডা মাথায় বহুবার নিজেকেই নিজে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সব কিছুকেই মনের বিভ্রম বলে উড়িয়ে দিতে পারেনি। এই যেমন দু-তিন দিন আগে ঘটা একটা ঘটনা— বেলা সাড়ে নটা কী দশটা মতো হবে হয়তো। সুরজিৎ সবে স্নান-টান সেরে অফিসের কাজে বেরোবে বলে তৈরি হচ্ছে। এমন সময় ছাদের উপর হঠাৎ ঝন-ঝন করে কাচ ভাঙার মতো শব্দ। চমকে উঠে ঘরের বাইরে এসে দাঁড়ায় সে। রামবিলাসের নাম ধরে বার কয়েক ডাকে, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। হঠাৎই তার মনে হয়, আওয়াজটা এসেছে ছাদ থেকে। আসার পর একবারই ছাদে উঠেছে সে। বিশাল বড় ছাদ। এত বড় ছাদ সুরজিৎ আগে কখনও দেখেনি। ছাদের পরিধি দেখলে মনে হয় আস্ত একটা ফুটবল খেলার মাঠ ঢুকে যাবে তার মধ্যে। গোটা বাড়ির ছাদ একসঙ্গে জুড়ে আছে, কিন্তু মাঝের বেশ কিছু অংশ ধসে পড়ে আছে। সামনের অংশে একটা পুরোনো সিঁড়ি আছে, তাই দিয়ে তড়িঘড়ি ছাদে উঠে এল সুরজিৎ। ছাদের দরজা খুলে ছাদে গিয়ে দাঁড়াল। আশ্চর্য! কেউ কোথাও নেই। সবকিছুই স্বাভাবিক। স্পষ্ট ভারী কোনো কাচ ভাঙার শব্দ শুনেছিল সে, আর সেটা শুনেছিল এই ছাদের উপরেই। কিন্তু তাজ্জবের ব্যাপার এই যে ছাদের উপর ভাঙা কাচের কোনো চিহ্নই নেই। কয়েক মিনিট আগে সেই শব্দ স্পষ্ট শুনেছে, কান ফাঁটা সেই শব্দের সঙ্গে এক ঝাঁক পাখির ডানা ঝটপট করার শব্দও কানে এসেছে। তাহলে?

    ছাদে এসে কোথাও কিছু দেখতে না পেয়ে সুরজিৎ কেমন যেন বোকা বনে গেল। বাগানের আম গাছটা ছাদের অনেকখানি জায়গা জুড়ে তার মাথা বিস্তার করে রেখেছে। হওয়ার দাপটে সেও যেন সুরজিৎকে দেখে মাথা নেড়ে নেড়ে নিঃশব্দে হাসছে।

    মনের মধ্যে একগাদা জিজ্ঞাসা নিয়ে, আর কপালে গভীর ভাঁজ নিয়ে সুরজিৎ যখন ছাদে থেকে নামতে যাবে, হঠাৎ তার খেয়াল হল, রামবিলাস কোথায়? সে তো রান্না ঘরেই ছিল, সে কি তবে এই শব্দ শুনতে পায়নি? পেলে তো আসার কথা? এ-কথা ভাবতে ভাবতেই ছাদের দরজায় খিল দিতে গিয়ে আবার সাংঘাতিক রকম চমকে ওঠে সে। সিঁড়ির কাছে এসে সবে দরজা বন্ধ করতে যাবে, হঠাৎ ছাদের দিকে তাকিয়ে দেখে রামবিলাস ছাদের উপর দাঁড়িয়ে। সেই উস্কোখুস্কো চুল, সেই ভাটার মতো জ্বলজ্বলে চোখ, সেই অদ্ভুত চাহুনি। স্থির-অবিচল, আর অপলক দৃষ্টিতে সে সুরজিতের দিকেই তাকিয়ে আছে।

    মনের মধ্যে বেমক্কা আঘাত লাগে সুরজিতের। একটু আগেও রামবিলাস ছাদের উপর ছিল কি?

    সিঁড়ির দরজা তো এতক্ষণ ভিতর দিয়ে বন্ধ ছিল, তাহলে রামবিলাস তার আগে ছাদে এল কীভাবে? তবে কি বাড়ির পিছন দিক দিয়েও ছাদে ওঠার কোনো পথ আছে? কিন্তু একটু আগে সুরজিৎ ছাদে ওকে দেখতে পেল না কেন? তবে কি…?

    রামবিলাস সুরুৎ করে ছাদ পেরিয়ে সিঁড়ির মুখে এসে দাঁড়াল, সুরজিৎ জিজ্ঞাসা করে সে কাচ ভাঙার বীভৎস আওয়াজটা পেয়েই এসেছে কিনা।

    রামবিলাস কোনো উত্তর দেয় না, সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় খ্যাসখ্যাসে গলায় বলে— “খানা লাগা দিয়া বাবু! আইয়ে!”

    হারাধনবাবু, উঠে দাঁড়িয়ে আবার পায়চারি শুরু করেছে। চারপাশে অন্ধকার নেমে গেছে ঝুপ করে। যথারীতি রোজের মতো আজও ইলেকট্রিসিটি নেই। কখন আসবে, আদৌ রাতে আর আসবে কিনা কেউ জানে না। রামবিলাস একটা তেলচটা কেরোসিনের বাতি রেখে গেছে বেতের টেবিলটার উপর। মৃদু হওয়ার ধাক্কায় সেই আলো মাঝে মাঝে কেঁপে কেঁপে উঠছে, আর ওই সঙ্গে কেঁপে উঠছে, দালানের দেওয়ালে পড়া সুরজিৎ আর হারাধনবাবুর বিকৃত ছায়া দুটো।

    হারাধনবাবু আরও বেশ কিছুক্ষণ একমনে পায়চারি করে চললেন। সুরজিৎ বেশ বুঝতে পারছে, উনি কিছু একটা নিয়ে খুব গভীরভাবে ভাবছেন।

    কিছুক্ষণ পর সুরজিৎ বলল— “এবার আপনি বলুন? এ-বাড়ি সম্পর্কে আপনার কেন এত কৌতূহল? আপনি কিছু শুনেছেন কি?”

    — হ্যাঁ শুনেছি। বেশ গম্ভীর স্বরে বললেন হারাধনবাবু।

    একটা প্যাঁচা বিচ্ছিরি কর্কশ স্বরে ডেকে ডানা ঝাঁপটে উড়ে গেল বাড়ির পশ্চিমদিকে।

    সুরজিৎ উৎকর্ণ।

    হারাধনবাবু বললেন— “এই বাড়ির অনেক ইতিহাস আছে সরকারিবাবু। এ-বাড়ির কথা, আমি আজকে থেকে না, অনেকদিন আগে থেকেই শুনেছি। আর শুনেছি বলেই নিজের চোখে দেখতে এসেছি।”

    সুরজিৎ ঢোক গেলে— “এই সেরেছে! কী শুনেছেন? ভূতের বাড়ি নাকি?”

    হারাধনবাবু মৃদু হেঁসে বললেন— “ভূত তো অলৌকিক, কিন্তু ইতিহাস লৌকিক। ইতিহাসকে এড়িয়ে চলা যায় সরকারিবাবু, কিন্তু মাড়িয়ে চলা যায় না।“

    সুরজিৎ বলল— “তার মানে এই বাড়ির জন্যই আপনি কলকাতা ছেড়ে এদ্দুর এসে রয়েছেন?”

    হারাধনবাবু মাথা নেড়ে সায় দেন। — “এসে তো শুনলাম এ বাড়ি নাকি সরকার কোয়ার্টার বাংলোর জন্য নিয়ে নিয়েছে। সরকারি অফিসারবাবু কিছু দিনের মধ্যে আসবেন। সরকারের অনুমতি ছাড়া নাকি এর ভিতর ঢোকা যাবে না। বুঝুন দেখিনি, এই তো বাড়ির ছিরি, কী এমন সাত রাজার ধন মণিমানিক্য পোতা আছে, যে ঢুকতে গেলে অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু কী করি, নিয়ম বড় বালাই। অগত্যা অপেক্ষা করলাম সরকারিবাবুটি কবে আসবেন, সেই জন্য। রোজ খোঁজ নিই, দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করি, আজ আসবেন, কাল আসবেন করে দিন কাটে। অবশেষে একদিন আপনি এলেন। আপনার সঙ্গে আলাপ করলাম। আপনি আমার স্বজাতি, বিনয়ী, নিতান্ত ভদ্রলোক। বুঝলাম আপনি আমার অনুরোধ ঠিকই রাখবেন।”

    — হ্যাঁ! কিন্তু অনুরোধটা কী? ফুট কাটল সুরজিৎ।

    — এমন কিছু না, চাঁদের আলোয় এই গোটা বাড়িটা একটু ঘুরে টুরে দেখা।

    সুরজিৎ অবাক হয়ে বলে— “কিন্তু এই ভাঙাচোরা, সেকেলে বাড়িটাতে দেখবার মতো আছেটাই বা কী?”

    হারাধনবাবু কোনো উত্তর দেন না। অল্প হাসেন শুধু। তারপর বলেন, “সব কিছু জানতে গেলে, যে আপনাকে আজ থেকে প্রায় সাত-আট দশক পিছনে ফিরে যেতে হবে। জানতে হবে, আমি ঠিক কী নিয়ে রিসার্চ করছি? কোন অজানা রহস্য আজও লুকিয়ে আছে এই অট্টালিকার চার দেওয়ালের ফাঁকে ফোঁকরে।”

    ঠান্ডা শিরশিরে হাওয়ায় সুরজিতের গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। অদম্য কৌতূহল নিয়ে সে বলে— আমি সব জানতে চাই, আপনি বলুন হারাধনবাবু। আমি সব শুনব।

    হারাধনবাবু হাতঘড়িটাকে আলোর কাছে মেলে টাইমটা দেখে নেন, তারপর বলেন— আজ থাক সরকারিবাবু। অনেক রাত হল। এখন এসব কথা বলার সময় না। অনেক কথা, কাল হবেখন।

    অনেক সেধেও সে রাতে হারাধনবাবুর মুখ থেকে ওই বিষয় নিয়ে আর কিছুই বের করা যায় না। আর খানিক গল্পগুজব করে উনি উঠে পড়েন।

    সে রাতে তাড়াতাড়ি রাতের খাবার সেরে শুয়ে পড়ে সুরজিৎ। কিন্তু মাথার মধ্যে রক্ত চলাচল বেড়ে গেছে, সহজে ঘুম আসতে চায় না।

    রামবিলাসটা আস্ত ভূত, গাঁজা খেয়ে দাওয়ায় শুয়ে দিব্যি নাক ডেকে ঘুম দিচ্ছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত
    Next Article বাঙালির যৌনচর্চা : বটতলা থেকে হলুদ বই – অর্ণব সাহা

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }