Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উনিশে ডিসেম্বর মরশুমের শীতলতম রাত – অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প74 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উনিশে ডিসেম্বর মরশুমের শীতলতম রাত – ৮

    ৮

    পরের দিন ছিল রবিবার। ছুটির দিন। হারাধনবাবু সকাল সকাল এসে হাজির হয়েছেন। সুরজিৎ তখন বারান্দায় চায়ের কাপ হাতে নিয়ে একমনে ভেবে চলেছে, কাল রাতে শোয়ার সময় সে সত্যিই ঘরের দরজা বন্ধ করেছিল, নাকি ভুলে গেছিল!

    — কী ব্যাপার সরকারিবাবু?  আপনাকে এত ডিসটার্বড লাগছে কেন? চেয়ারে বসেই জানতে চাইলেন হারাধন বাবু।

    চায়ের কাপে একটা চুমুক দিয়ে সুরজিৎ কালকের সব কথা খুলে বলল তাকে।

    সবটা শুনে হারাধনবাবুর চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠল। — “বটে! তাহলে এই কোয়ার্টার বাংলোয় সত্যিই কিছু আছে বলছেন? হিমু বড়ুয়ার অতৃপ্ত আত্মা আজও এখানে গুমরে মরে?”

    সুরজিৎ কিছুক্ষণ পাথরের মতো বসে রইল। একেই কাল থেকে যা যা ঘটে চলেছে, তাতে তার মাথার ঠিক নেই। তার উপর হারাধনবাবুর এই অদ্ভুত রহস্যময় হেঁয়ালি!

    — আপনাকে জোড় হাতে অনুরোধ করছি হারাধনবাবু। আপনি যদি এ-বাড়ি সম্পর্কে কিছু জেনে থাকেন, দয়া করে আমায় জানান। আমি হেড অফিসে কথা বলে, থাকার আস্তানাটা বদলাব। এই ঝামেলা মাথায় নিয়ে এখানে থাকব না। আমার বাড়িতে বউ-বাচ্চা আছে যে।

    হারাধন বাবু সহাস্যে বললেন— “রোসো ভায়া রোসো! এসব ব্যাপারে জানতে গেলে আগে পিছের আরও কয়েকটা কথা শুনতে হবে যে।”

    — বেশ তো, যা বলার বলুন আমি শুনতেই তো চাইছি।

    — এখানে তো হবে না। চলুন। খানিক নদীর ধারে হেঁটে আসি। ঘুরতে ঘুরতে সব কথা হবে। চা-টা না হয় আজ বাইরেই খেয়ে নেব।

    রামবিলাসকে দরজাটা বন্ধ করে দেওয়ার হুকুম দাখিল করে সুরজিৎ আর হারাধনবাবু বেরিয়ে গেলেন।

    সকাল বেলার পলাশপুর দারুণ মনোরম। স্বচ্ছ, নদীর জল, বড় বড় মসৃণ পাথর খণ্ডগুলোকে পরম যত্নে বুকে লালন করে বয়ে চলেছে। নির্মেঘ আকাশের সূর্যের আলো পড়ে চারপাশ রুপোর মতো ঝকঝক করছে।

    — বাংলার রাজনীতি সম্পর্কে তোমার পড়াশুনা কদ্দুর?

    এরকম সময়ে হারাধনবাবুর এরকম একটা প্রশ্নে অবাক হয়ে গেল সুরজিৎ। বলল— “রাজনীতি নিয়ে তেমন কোনো মতামত আমার নেই হারাধনবাবু!”

    — উঁহু! আমি বর্তমান রাজনীতির কথা বলছি না ভায়া। এখনকার বাংলার রাজনীতির যা ছিরি, ও নিয়ে আর কথা না বলাই ভালো। আমি বলছি নকশাল আমলে বাংলার রাজনীতির কথা।

    সুরজিতের বাবা একসময়ে কট্টর নকশাল নেতা ছিলেন বটে, তবে সেসব ভাবধারা নিজের ছেলের মনে আরোপ করেননি। কাজেই সুরজিতের এসব ব্যাপারে সেরকম কোনো ধারণাই নেই। সে বলল— “সত্যি বলতে কী হারাধনবাবু, এ-ব্যাপারে খুব বেশি কিছু আমিও জানি না। যেটুকু জানি তা হল, ওই সময় একদল বামপন্থী বাঙালি ছেলে অস্ত্র হাতে রাজনীতির ময়দানে নেমেছিল, প্রকাশ্যে খুন, জখম, গুপ্ত হত্যা কোনো কিছুই বাদ ছিল না। এরপরে পুলিশের নির্বিচারে হত্যা আর ধর পাকড়ের ফলে, এই আন্দোলন বন্ধ হয়।”

    হারাধনবাবুর হাঁটার গতি কমে আসে। — “দুঃখ কী জানেন সরকারিবাবু, আপনার প্রজন্মের অনেকেই নকশালদের ব্যাপারে বলতে গেলে এটুকুই শুধু বলতে পারবে, হয়তো বা এটুকুও পারবে না। কিন্তু ক’দিনই বা আগের কথা বলুন? একদল দামাল তরতাজা শিক্ষিত যুবক কীসের নেশায় মাতাল হয়ে এই পথে নেমেছিল, কী ছিল তাদের লক্ষ্য, কেমন ছিল তাদের প্রতিবাদের ভাষা, এসব নিয়ে আজকাল আর কেউ মাথাও ঘামায় না। রাজনীতি মানেই আজকাল শুধু দলাদলি আর স্বার্থ সিদ্ধি।”

    সুরজিৎ বলল— নকশাল আমলের বাংলার রাজনীতিই কি আপনার গবেষণার বিষয়বস্তু?

    — বলতে পারেন। তবে রাজনীতিটুকুই সব নয়। এই পথের বলি, কিছু মানুষকে নিয়েই আমার গবেষণা। এমনই একজন মানুষ হিমু বড়ুয়া।

    — কিন্তু এর সঙ্গে আমার কোয়ার্টার বাংলোর কী সম্পর্ক হারাধনবাবু?

    — আছে, সরকারিবাবু, সম্পর্ক আছে। আছে বলেই এই বয়েসেও আমি নিজে এই পলাশপুরে ছুটে এসেছি। এখানে না এসে, ওই বাড়ি নিজের চোখে না দেখলে আমার গবেষণা যে সম্পূর্ণ হবে না।

    সুরজিৎ অবাক হয়ে হারাধনবাবুর কথা শুনতে থাকে। কিন্তু মাথায় ঢোকে না অনেক কিছুই। ওর মনের অবস্থা দেখে হারাধনবাবু বলেন— “আমি জানি সরকারিবাবু, আমার অনেক কথাই আপনি হয়তো বুঝতে পারছেন না। না বোঝারই কথা। তবে একটু ধৈর্য ধরে যদি আমার কথাগুলো শোনেন, হয়তো সবটা আপনার কাছেও এই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে উঠবে।”

    সুরজিতের, হারাধনবাবুর কথা শুনতে কোনো আপত্তি নেই। সে আগ্রহ ভরে জানতে চাইল।

    হারাধনবাবু খানিকটা সময় নিলেন দম নেওয়ার জন্য। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা, ওঁর বয়েসে, যথেষ্ট শ্রমসাধ্য কাজ। খানিকক্ষণ পরে বললেন— “পুরো ব্যাপারটা জানতে গেলে তোমায় দুটো গল্প শুনতে হবে সরকারি বাবু। প্রথম গল্পের সময়কাল আনুমানিক দেশ স্বাধীন হওয়ার দশ পনেরো বছর আগের। কলকাতার প্রভাবশালী উচ্চবিত্ত জমিদার বাড়ির ছোট ছেলে সত্যনারায়ণ রায় বর্মন। কলকাতা ছেড়ে পলাশপুরে এসে তৈরি করলেন এই প্রাসাদসম অট্টালিকা। উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যোদ্ধার। সেসময়ে স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য অনেক বাঙালি এখানে এসে থাকতে শুরু করেছিল, সে কথা আগেই বলেছি। সত্যনারায়ণ তাদেরই একজন।

    কিন্তু ভাগ্য বিরূপ! এই বাড়ি তৈরির কিছু কালের মধ্যেই রায় বর্মন পরিবারের উপর কোনো এক দুর্যোগ নেমে আসে। পরিবারের অনেকেই মারা যান। রায় বর্মন পরিবারের কয়েকজন, মাত্র কয়েকবারই এই বাড়িতে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন। তারপর থেকে ওই বাড়ি আজ পর্যন্ত এরকম ফাঁকাই পড়ে আছে। কোনো রক্ষণাবেক্ষণ নেই, কিচ্ছু নেই, হালে সরকারি অফিস বাংলো তৈরির তাগিদে সামনের অংশটা খানিক মেরামত করে বাসযোগ্য করে তোলা হয়েছে।

    এতগুলো বছর বাড়িটা পরিত্যক্ত হয়ে ফাঁকা পড়ে রইল, কোনো দাবিদার নেই, কেউ নেই। অন্য কোনো জায়গা হলে হয়তো চোর ছ্যাচরের আড্ডাখানা, বা অসামাজিক কাজকর্মের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠত। কিন্তু পলাশপুর অন্যরকম জায়গা। এখানে এতগুলো বছর এই বাড়ি ফাঁকা এবং পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রইল।”

    এই পর্যন্ত বলে, হারাধনবাবু আবার একটু থামলেন। সুরজিৎ একমনে ওর কথা শুনে চলেছে। কিছুটা পথ  নিঃশব্দে হেঁটে, হারাধনবাবু আবার বলতে শুরু করলেন— “এবার চলে আসুন আরও কুড়ি বছর পর। বাংলা রাজনীতির এক চরম বিক্ষুব্ধ সময়। ঘরে ঘরে শিক্ষিত তরুণের দল ক্ষেপে উঠেছে এক অজানা রক্তের নেশায়। পুঁজিপতি সাম্রাজ্য নিপাত যাক, এই মন্ত্রে বুক বেঁধেছে তারা। গোপন আস্তানায় তৈরি হয়েছে বোমা। চাকু ধরা, বন্দুক চালানো অভ্যেস করেছে মধ্যবিত্ত বাঙালি ঘরের সুসন্তানেরা। চরমতম বামপন্থী মতাদর্শে দীক্ষিত হয়ে, চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শ্রেণি শত্রুদের ধ্বংস করার ব্রত নিয়েছে। চারু মজুমদার, সুশীতল রায়চৌধুরী, কানু সান্যাল প্রভৃতি কমরেডদের ডাকে উদ্বুদ্ধ হয়ে একদল বাঙালি যুবক তখন খুনের নেশায় মত্ত। বুকপকেটে মাও সে তুংয়ের ছবি, বইয়ের ভাঁজে ভাঁজে লেলিন। বাপ-মায়েরা চোখের সামনে দেখেছে, তাদের আদরের ছেলে, কীভাবে রাজনীতির নামে ধীরে ধীরে সন্ত্রাসবাদীদের দলে নাম লেখাতে লেগেছে।”

    হারাধনবাবুর মুখ আকাশের দিকে উঁচু। কথাগুলো উনি বলছেন অন্তর থেকে। যেন বহুকালের পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করে পেড়ে নিয়ে আসছেন আকাশের বুক থেকে। সুরজিৎ মন্ত্রমুগ্ধের মতো কথাগুলো শুনে চলেছে।

    — জানেন সরকারিবাবু, আজ এতগুলো বছর পরে, রাজ্যের রাজনীতির দিকে তাকিয়ে দেখলে সত্যিই মনে হয়, সে যুগের ওই একদল দামাল ছেলের আত্মবলিদান নিতান্তই নিরর্থক ছিল। কী লাভ হল বলুন তো? আর সত্যি বলতে কি, কয়েক বছর পরেই বোঝা গেল, কয়েকটা অন্তঃসারশূন্য ফাঁপা আদর্শবাদ দিয়ে, বিপ্লব চলে না। একটা সময় বোঝা গেল এত কিছু করেও কোনো লাভ হল না, দিকভ্রষ্টর মতো ছুটোছুটি হল শুধু। শেষকালে অবস্থা এমন দাঁড়াল, কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চল, আর সাধারণের বাসযোগ্য রইল না। চারু মজুমদার চেয়ে ছিলেন এই বিপ্লবকে শুধু গ্রাম বাংলার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, একে ছড়িয়ে দিতে হবে শহরের প্রাণকেন্দ্রে। তিনি রচনা করলেন তাঁর বিখ্যাত বই ‘হিস্টরিক এইট ডকুমেন্টস্’ বা ‘আট দলিল’ যা ছিল নকশাল মতাদর্শের মূল ভিত্তি। আশ্চর্যজনকভাবে সবথেকে বেশি সাড়া মিলল তৎকালীন কলকাতার নামকরা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। এই নকশাল মুভমেন্টের মতাদর্শ শিক্ষিত বাঙালি ছাত্র সমাজের মধ্যে প্রবল জনপ্রিয় হয়ে উঠল। বললে আপনি বিশ্বাস করবেন না সরকারিবাবু, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়,  প্রেসিডেন্সি কলেজ, সর্বোচ্চ লেখাপড়া বন্ধ করে, নকশাল আন্দোলনের আঁতুড়ঘর বানিয়ে ফেলা হল। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে গোপনে তৈরি হতে লাগল বোমা। শ্রেণি শত্রুদের খতম করো, এই স্লোগান নিয়ে আন্দোলনকারীরা পথে পথে খুন করে বেড়াতে লাগল, উচ্চবিত্ত ভূস্বামীদের, এমনকি ডাক্তার, উকিল-ব্যারিস্টার, কলেজের প্রিন্সিপাল পর্যন্ত কেউ বাদ গেল না। হাহাকার পড়ে গেল চতুর্দিকে।

    এর পরে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিল, এই সন্ত্রাসবাদীদের কঠোরভাবে দমন করা প্রয়োজন। কোনো আবেদন-নিবেদন নীতি নয়, পুলিশকে স্পষ্টভাবে হুকুম দেওয়া হল, নকশাল আন্দোলনের সাথে যুক্ত যে কাউকে পেলেই তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করতে ও প্রয়োজনে নির্বিচারে হত্যা করতে। যাদবপুর, শিবপুর ময়দান, বরানগর সব একেকটা ফায়ারিং স্কোয়াড তৈরি হল গোপনে। নির্বিচারে হত্যা চলতে লাগল। খবরের কাগজে ছাপল এনকাউন্টার। পুলিশের তখন সময় নেই, কে নকশাল আর কে নকশাল নয় তা প্রমাণ করে খুঁজে বার করার। অর্থাৎ কোনো রিস্ক না নিয়ে, শিক্ষিত বাঙালি যুবক দেখলেই, নির্বিচারে গ্রেফতার করা হতে লাগল।

    শহরের সব অ্যাক্টিভ কমরেডদের কাছে খবর গেল, পার্টির অবস্থা খারাপ, বাঁচতে চাইলে আন্ডারগ্রাউন্ডে যাও। চারপাশে তখন পরিত্রাহি রব। পুলিশের চেয়ে নিষ্ঠুর জাত যেন আর কিছু নেই। শুধুমাত্র নকশাল এই সন্দেহ করে কত যে সাধারণ নিরপরাধ বাঙালি যুবককে তারা কুকুরের মতো গুলি করে মেরেছে তার ইয়ত্তা নেই।

    বিজয়গড়ের গোপন আস্তানায় একদিন খবর গেল, পুলিশ আসছে। এক্ষুনি রেড হবে। সেই দিন মাঝরাতে বিজয়গড়ের গোপন আস্তানা থেকে অ্যারেস্ট হল হিমু বড়ুয়া। কট্টর নকশালপন্থী ছাত্র যুবনেতা। কিন্তু পুলিশ তাকে ধরে রাখতে পারল না। এনকাউন্টার স্কোয়াডে নিয়ে যাওয়ার পথে বেমালুম ভ্যানিশ হয়ে গেল সে। গুলি ছোড়া হয়েছিল তার দিকে লক্ষ করে, কিন্তু গুলি তার গায়ে না লাগে, লেগেছিল পায়ে। সেই অবস্থায় এক পায়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে পুলিশের নাগাল ছাড়িয়ে পালিয়ে গিয়েছিল হিমু বড়ুয়া।

    সুরজিৎ অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল— “এত কথা আপনি জানলেন কেমন করে হারাধনবাবু?”

    হারাধনবাবু একটু হেসে নিয়ে বললেন— “অনেকদিন এই ব্যাপার নিয়ে পড়াশোনা করছি সরকারিবাবু। পলাশপুরের এই রায় বর্মন বাড়িতে এসে, আমার রিসার্চ ওয়ার্ক কমপ্লিট করব।”

    — কেন বলুন তো? এই বাড়িতে ঠিক কী হয়েছিল?

    — ঠিক কী হয়েছিল তা আমিও জানি না। কেউই জানে না। তবে যেটুকু জানি, আপনাকে বলছি শুনুন। পুলিশের তাড়া খেয়ে নকশালপন্থী নেতারা তখন বাংলা ছেড়ে যেদিকে পারল পালাল। তার মধ্যে অনেকেই এসে ভিড়ল এই পলাশপুরে। একে এই পাণ্ডববর্জিত জায়গা। থানা-পুলিশের সেরকম হাঙ্গামা নেই। তার উপর এই ফাঁকা রায় বর্মন বাড়ি। এমনিতেই যেখানে খুব একটা কেউ আসে না। কাজেই বছরখানেকের মধ্যে এই রায় বর্মন বাড়ি হয়ে উঠল, কয়েকজন পুলিশে খেদানো নকশাল নেতার মাথাগোঁজার নিরাপদ স্থান।

    — “কিন্তু সে না হয় হল”, বলল সুরজিৎ। “কিন্তু সেই হিমু বড়ুয়ার অতৃপ্ত আত্মা এখনও এই বাড়িতে কেন?”

    — কারণ আর কিছুই না। এই বিষয় নিয়ে রিসার্চ করতে করতে আমি জানতে পেরেছি, হিমু বড়ুয়াকে এই বাড়িতেই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

    — “সেকি? কে করে ছিল? কেন?” সুরজিৎ জানতে চায়।

    — কে করেছিল? তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ করেনি এটুকু নিশ্চিত। আর কেন করেছিল? সেটাও একটু এই বিষয় নিয়ে ভাবনা চিন্তা করলে সহজেই অনুমান করা যায়। যাক গে সে কথা। যা বলছিলাম তাই বলি— হিমু এসে দেখল তার দুই সাগরেদ আগে থেকেই সে বাড়িতে এসে উঠেছে। তিনজনেই ছিল হরিহর আত্মা, এবং একে অপরের সব সুকর্ম দুষ্কর্মের সাক্ষী। এ-বাড়ির খোঁজ হিমুই ওদের জানিয়েছিল। পার্টি আণ্ডারগ্রাঊণ্ডে গেলে এই পলাশপুরের রায় বর্মন বাড়িতে এসে লুকোতে হবে এমনটা আগে থেকেই প্ল্যান করা ছিল, হিমু ছিল সাচ্চা কমরেড। কখন যে নিজেদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর দলাদলি শুরু হয়ে গেছে, সে তা টেরই পাইনি। টের যখন পেল তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। এক দারুণ শীতের রাতে, হঠাৎই সে আবিষ্কার করল তার দুই বিশ্বস্ত বন্ধু দু-দিক থেকে তার দিকে রিভালবার তাক করে রেখেছে। ব্যস আর কিছুক্ষণের অপেক্ষা। তারপরেই মৃত্যু। গলার কাঁটাকে পুরোপুরি নির্মূল করে, রাজনীতির ভূত ঘাড় থেকে নামিয়ে, দুই বন্ধু ভেক ধরে আবার গা-ঢাকা দিল কলকাতায়। ক্রমে উত্তপ্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এল, যে যার স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফিরে গেল। হিমু বড়ুয়াদের মতো অভাগা আদর্শবাদীদের দল পচে গলে ক্রমশ শেষ হয়ে যেতে লাগল পলাশপুরের মতো আরও হাজারো নির্জন স্থানে।

    — “এই দুই বন্ধু কারা?” জানতে চাইলেও সুরজিৎ।

    — একজনের নাম হীরক ঘোষ। আরেকজন…

    আরেকজনের নাম না বলে হারাধনবাবু তার ঝোলা ব্যাগের ভেতর থেকে একটা পুরোনো ঝুরঝুরে ডায়েরি বের করলেন। ডায়েরির পাতা উলটাতে উলটাতে তার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল বেশ কয়েকটি পুরোনো সাদা-কালো ছবি। তার মধ্যে দুটো ছবির দিকে তাকিয়ে সুরজিতের মাথা ঘুরে গেল বোঁ করে। এ যে অবিকল সেই ছবি। সেই ছবি, যা তার ছেলে বলাই এঁকেছিল। বলাইয়ের আঁকা শেষ ছবি। যে ছবিগুলো দেখে তার বাবা…

    হারাধনবাবু খেয়াল করেন সুরজিৎ একদৃষ্টিতে ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, পাঞ্জাবির কলার এরইমধ্যে ঘামে ভিজে গেছে, হাত দুটো থর থর করে কাঁপছে যেন।

    — কী ব্যাপার সরকারিবাবু? ছবিগুলো দেখে কীরকম যেন চমকে উঠলেন মনে হল?

    নিজেকে খানিকটা সামলে নিয়ে সুরজিৎ বলল— “না না কিছু না। এ ছবি কীসের ছবি হারাধনবাবু?”

    ছবিগুলোর দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে উনি বললেন— “এই হল সেই সময়ে রায় বর্মন বাড়ির ছবি। অনেক কষ্টে এগুলো জোগাড় করেছি। এই দেখুন, এই হল বাড়ির মূল ফটক। এখন যা দেখছেন এর তো কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই হল ফটকের ভেতরে বাড়ির মূল অংশ। আর এই দিকে দেখুন এই যে এই ছবিটাতে, এই হল বাড়ির ভিতরের অংশ, বড় উঠোন, তার পাশে সিঁড়ি উঠে গেছে। আর এই হল দোতলা ঘর। খুব সম্ভবত এই ঘরেই নকশাল নেতারা আস্তানা গেড়ে ছিল।”

    সুরজিতের মাথা ভোঁ ভোঁ করছে। হাত-পা অসাড় হয়ে এসেছে। নিয়তির কী নিদারুণ পরিহাস! এই ছবির অবিকল প্রতিলিপি, তার বাড়ির আলমারিতে এখনও তোলা। তার নিজের ছেলের হাতে আঁকা। ছবিগুলোর দিকে তাকালেই বুকটা কেমন মুচড়ে উঠছে সুরজিতের। এ-কথা সে ভুলতে পারে না, এই ছবিগুলো হাতে নিয়েই তার বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। কী এমন আছে এই ছবিগুলোতে? আশ্চর্যজনকভাবে, ওই একই ছবি আজ হারাধনবাবুর ডায়েরিতে।

    হারাধন বাবু পকেট থেকে রুমাল বের করে চশমার কাচ দুটো মুছতে মুছতে বললেন— সেই রাজাও   আর নেই, সেই রাজনীতিও নেই। কিন্তু হিমু বড়ুয়ার অতৃপ্ত আত্মা বোধ করি আজও এই জায়গা ছেড়ে যেতে পারেনি। তার বিশ্বাসঘাতক দুই বন্ধুর প্রতি অব্যক্ত ঘৃণা, অপ্রকাশের ভাষায় আজও গুমরে কাঁদে পলাশপুরের এই কোয়ার্টার বাংলোর চার দেওয়ালের মাঝে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত
    Next Article বাঙালির যৌনচর্চা : বটতলা থেকে হলুদ বই – অর্ণব সাহা

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }