Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উলের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    নারায়ণ সান্যাল এক পাতা গল্প181 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উলের কাঁটা – ৫

    পাঁচ

    ওঁদের অ্যাম্বাসাডার গাড়িটা যখন শ্রীনগর বাস স্ট্যান্ডে এসে ঢুকছে তখনও ‘পহেলগাঁও শ্রীনগর’ সার্ভিসের বাসটা থেকে লোক নামতে শুরু করেনি। বোধ হয় আধমিনিট আগে সেটা ঐ গোলাকৃতি বাস স্ট্যান্ডে প্রবেশ করেছে। কন্ডাক্টার পা-দানি থেকে ঝুলে পড়ে পিছনটা দেখছে ও ক্রমাগত টিং-টিং বাজিয়ে চলেছে : ঠিক হায়, ঠিক হ্যয়, ঔর যাইয়ে।

    দুটি যাত্রীহীন বাসের মাঝখানের ফাঁকে ব্যাক-গিয়ারে বাসটা নৈশ-বিশ্রামের জায়গা খুঁজে নিচ্ছে। যাত্রীরা অনেকেই নিজ নিজ সীটে দাঁড়িয়ে পড়েছেন, কুলিরা ছেঁকাবান করে ঘিরে ধরেছে; একজন উপরে উঠে দড়ি দিয়ে ত্রিপল ঢাকাটা ছাদ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। দোকানে, পথে আলো জ্বলে উঠছে।

    কৌশিক ও বাসু-সাহেব দ্রুতগতিতে বাসটার দিকে এগিয়ে গেলেন।

    সন্ধানসূত্রের পুঁজি তো কুল্লে তিনটি : বাঙালি মহিলা, বয়স পঁয়ত্রিশ ও মাঝারি গড়ন। বাসু-সাহেব মহিলা যাত্রীদের উপর একবার দ্রুত চোখ বুলিয়ে নিলেন। কৌশিকও। জনা দশেক মহিলা যাত্রী আছেন। জনা চারেক বৃদ্ধা, ছটি অল্পবয়সী; একজন নিঃসন্দেহে পাঞ্জাবিনী ও দুজনে পিছনে কাছা-সাঁটা গুজরাটিনী। বাকি দুজন সন্দেহজনক। একজন আছেন পিছনের সীটে অপরজন একেবারে সামনের দিকে। দুজনেরই বয়স পঁয়ত্রিশ- ছত্রিশ, আধুনিক সাজ-পোশাক, মাঝারি গড়ন। শাড়ি পরার ধরন উত্তর এবং পূর্ব ভারতীয়—যাকে বলে হাল্স করে পরা। পিছনের সীটে যিনি বসেছেন তাঁর বর্-ছাঁটা চুল, নীলচে রঙের সিন্থেটিক শাড়ি, ম্যাচ করা ব্লাউস, ম্যাজেন্টা রঙের টিপ। হাতে ভ্যানিটি ব্যাগ। ড্রাইভারের ঠিক পিছনেই যিনি বসেছেন তাঁর চুল খোঁপা বাঁধা, পরনে একটা মাস্টার্ড রঙের সিল্কের শাড়ি—কাঁধে একটা এয়ারব্যাগ, এক হাতে দু-গাছি চুড়ি, আর হাতে সরু রিস্টওয়াচ।

    কৌশিক বাসু-সাহেবের কানে কানে বলল-আপনি একজনকে ট্রাই করুন, আমি দ্বিতীয়াকে।

    বাসু বলেন, আমার ইন্টুইশান বলছে সামনের দিকের মুর্শিদাবাদিনীই আমাদের টার্গেট; তুমি বব্-হেয়ারিনীকেই ফলো কর।

    গাড়িটা পার্ক করার পর প্রথমেই নেমে এলেন বর্-চুলো মহিলাটি এবং ঠিক তার পিছনেই একজন মধ্যবয়সী পুরুষ। পুরুষটির কোলে একটি ঘুমন্ত শিশু। তিনি বাচ্চাটিকে কোলান্তরিত করে বললেন, বহ্ বারান্দা প্যে চলি যাও, ম্যয় সামান লাতা হুঁ।

    ব্যস্! হারাধনের দশটি মেয়ের রইল বাকি এক

    বাসু-সাহেব বাসের পিছনদিকে সরে গিয়ে ঘাপটি মেরে অপেক্ষা করেন শর্ট-ফাইন লেগের যুক্তকর ফিল্ডারের মতো।

    অধিকাংশ যাত্রী নেমে যাবার পর মেয়েটি নামল, ঝোলা-ব্যাগ সমেত। গাড়ির ছাদের দিকে দৃপাত মাত্র করল না—অর্থাৎ ওর কোনও ভারী লাগেজ নেই। ইতিউতি চাইতে থাকে ট্যাক্সির খোঁজে। শর্ট-ফাইন-লেগের ফিল্ডার এক-পা এগিয়ে এসে হঠাৎ ওর পিছন থেকে ডেকে ওঠেন : রমা!

    বিদ্যুৎস্পৃষ্টার মতো মেয়েটি চকিতে পিছনে ফেরে। বাসু-সাহেবকে আপাদমস্তক দেখে নিয়ে বললে, ডিড য়ু মেক্ এ সাউন্ড?

    বাসু উত্তরে বঙ্গভাষায় জবাব দিলেন, হ্যাঁ আমিই। তুমিই তো রমা দাসগুপ্তা?

    মেয়েটি সামলে নিয়েছে। দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁটটা কামড়ে বলে, নো!

    —বাঃ বাঙলা বলতে না পারলেও ভাষাটা ভোলনি দেখছি এ তিন বছরে, কাশ্মীরে এসে! বুঝতে পার ঠিকই! নয়?

    মেয়েটি জবাব দেয় না। কী যেন ভাবছে সে।

    বাসু বলেন, ঠিক আছে! তুমি রমা দাসগুপ্তা নও। মিসেস্ রমা কাপুর। এবার তো স্বীকার করবে?

    কুঞ্চিত ভ্রুভঙ্গে মেয়েটি ইংরাজীতেই জবাব দেয়, আপনি কে? এবং কেনই বা আমাকে বিরক্ত করছেন?

    বাসু পুনরায় বঙ্গভাবেই বলেন, সাদা বাঙলায় কথা বল রমা, তাহলে অন্য কেউ বুঝবে না। আমার নাম পি. কে. বাসু। আমি ব্যারিস্টার। সূরজপ্রসাদ খান্নার তরফে সলিসিটার। তোমার সঙ্গে কয়েকটা কথা বলতে চাই।

    মেয়েটি আবার বাসু-সাহেবকে আপাদমস্তক ভালো করে দেখে নিল। এবার বঙ্গভাষে বলল, আপনি যে ব্যারিস্টার পি. কে. বাসু তার প্রমাণ দিতে পারেন?

    বাসু পকেট থেকে একটি নামাঙ্কিত ভিজিটিং কার্ড ওর হাতে দিয়ে বললেন, এটা অবশ্য চূড়ান্ত আইডেন্টিফিকেশন নয়। তোমার সন্দেহ পুরোপুরি না ঘুচলে আমার ড্রাইভিং লাইসেন্সটাও দেখতে পার। বাই দ্য ওয়ে, তুমি কি আমার নাম জানতে?

    —জানতাম। আপনার উপর লেখা অনেকগুলো কাহিনী আমি পড়েছি। কিন্তু এ-ক্ষেত্রে আপনি আমার সঙ্গে কী বিষয়ে আলোচনা করতে চান?

    —স্বৰ্গত মহাদেও প্রসাদ খান্নার বিষয়ে

    মেয়েটি স্পষ্টতই নিজেকে গুটিয়ে নিল। বললে, সে বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য আছে বলে তো আমি মনে করি না।

    —বোকার মতো কথা বল না। তুমি জান না, ব্যাপারটা অনেকদূর গড়িয়ে গেছে আর সেটা সম্পূর্ণ তোমার নাগালের বাইরে।

    —আপনি কী বলতে চাইছেন বলুন তো?.

    —আমি বলতে চাইছি হয়তো পুলিস ইতিমধ্যেই জেনে গেছে নিহত মহাদেও প্রসাদ খান্না যশোদা কাপুরের ছদ্মনামে তোমাকে বিবাহ করেছেন। এটুকু সূত্র আবিষ্কার করলেই তারা তোমার বাড়িতে হানা দেবে আর ‘মুন্না’-কে আবিষ্কার করবে। মিসেস্ কৃষ্ণামাচারী তাদের জানিয়ে দেবেন, যে ‘মুন্না’ হচ্ছে কাপুর তথা খান্নারই একটি প্রণয়োপহার। সেই মুহূর্তেই পুলিস এবং সাংবাদিকের দল গোটা কাশ্মীর উপত্যকায় তোমাকে আতিপাঁতি করে খুঁজবে। এই বাসস্ট্যান্ডে এবং এয়ারোড্রামে, বানিহাল পাস-এর নামায় তোমার জন্য তারা প্রতীক্ষা করবে। তারপর যে মুহূর্তে ওরা শুনবে মুন্নার ঐ মারাত্মক ‘বোলটা—ঐ : রমা…

    মেয়েটি মাঝপথে ওঁকে থামিয়ে দিয়ে বলে, চুপ করুন!

    —এক্সজ্যাক্টলি! এখানে এসব আলোচনা করা মারাত্মক। কে জানে ইতিমধ্যেই বাস স্ট্যান্ডে পুলিসের চর এসেছে কি না।

    মেয়েটি পুনরায় বলে, আপনি এত সব কথা কী করে জানলেন?

    —ঠিক যেভাবে আমার চেয়ে ঘণ্টা দশ-বারো পিছনে পুলিস ও সাংবাদিকেরা জানবে। বুদ্ধির প্রতিযোগিতায় আমি ওদের চেয়ে কয়েক কদম এগিয়ে আছি বলেই তুমি এখনও অ্যারেস্টেড হওনি। তুমি যদি গোঁয়ার্তুমি করে আরও কিছু সময় এখানে নষ্ট কর তাহলে সেই সময়ের ব্যবধানটা আরও কিছুটা কমে আসবে। এই আর কি।

    দু-এক সেকেন্ড মেয়েটি নতনেত্রে কী যেন চিন্তা করল। তারপর মুখ তুলে বলে, ঠিক আছে। আমি আপনার সঙ্গে কথা বলতে রাজি। কী জানতে চান আপনি?

    —সব কথা। আদ্যন্ত।

    —কোথায় শুনবেন? কোনও রেস্তোরাঁয় ঢুকবেন?

    —না। কোনও পাবলিক প্লেসে নিশ্চিন্তে কথা বলা যাবে না। আমার গাড়িতে। কৌশিক কোনও কথা বলেনি এ পর্যন্ত। এখন বলল, আসুন।

    ওঁরা তিনজনে ফিরে এলেন ওঁদের গাড়িতে। বাসু আর মেয়েটি বসল পিছনের সীটে। কৌশিক ড্রাইভারের পাশে। বাসু-সাহেব তাঁর নোটবুক থেকে একটা পাতা ছিঁড়ে নিয়ে কী যেন লিখলেন। তারপর ড্রাইভারকে সেই হাতচিঠি আর একটা দশ টাকার নোট দিয়ে বললেন, গাড়ি এখানেই থাক, গাড়ির চাবিটা রেখে যাও। এই চিঠিটা হাউসবোটে গিয়ে সুজাতাকে দেবে এবং তাকে নিয়ে এখানে ফিরে আসবে। যাও।

    ড্রাইভার রওনা হতেই বাসু বলেন, এ হচ্ছে কৌশিক মিত্র, এর সামনে…

    মেয়েটি বাধা দিয়ে বলল, জানি। সুকৌশলীর কৌশিকবাবু।

    বাসু বলেন, নাউ স্টার্ট টকিং!

    মেয়েটি বলল, প্রথমেই বলে নিই, আমি অন্যায় কিছুই করিনি, অপরাধ তো দূরের কথা। আমি এমন কিছু করিনি যাতে আমাকে লজ্জিত হতে হয়।

    —বুঝলাম। বলে যাও।

    গাড়ির ভিতরটা অন্ধকার। বাইরে আলো। গাড়ির কাচগুলো ওঠানো। মেয়েটিকে ভালো দেখা যাচ্ছে না সেই আধা-অন্ধকারে। শুধু উজ্জ্বল সার্সির পশ্চাদপটে একটি নারীমূর্তির সিলুয়েট। রমার কণ্ঠস্বরে উত্তেজনা আছে; কিন্তু বাচনভঙ্গিতে কোনও নাটকীয়তা নেই। কিছুটা নিরাসক্ত হবার প্রচেষ্টা আছে। তবু যেহেতু অনেকগুলি অনুভূতি—বেদনা ভয়, উত্তেজনা ওকে আচ্ছন্ন করে আছে তাই তার অনাসক্তিটা বার বার ব্যাহত হয়ে যাচ্ছিল। ও বলতে থাকে :

    —আমি স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার একজন কর্মী। বর্তমানে পহলগাঁওয়ে পোস্টেড। সংসারে আমার আর কেউ নেই–বাবা-মা-ভাই-বোন। আমার বর্তমান বয়স পঁয়ত্রিশ। নানা কারণে আমি বিবাহ করিনি। নাঃ! যখন বলতে বসেছি তখন সব কথাই খুলে বলি। তাহলে আমার ব্যাপারটা আপনারা বুঝতে পারবেন। প্রায় দশবারো বছর আগেকার কথা। আমি তখন কলকাতায় এম. এ. পড়ি। বাবা-মা দুজনেই বেঁচে। ঐ সময় এক সহপাঠীর প্রেমে পড়ি। ছেলেটি বড়লোকের ঘরের; আমার বাবা ছিলেন নিম্নমধ্যবিত্ত কেরানী। আমরা দুজনেই পাস করে বেরিয়ে আসার পর ছেলেটি উচ্চশিক্ষার্থে স্টেটসে যায়। আমরা দুজনেই প্রতিশ্রুত হই পরস্পরের জন্য প্রতীক্ষা করব। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ডাক-বিভাগে আমরা দুজনেই বহু অর্থব্যয় করি। তারপর যখন সে দেশে ফিরে আসে তখন জানতে পারি সে বিবাহিত এবং তার একটি তিন বছরের শিশু আছে। এরপরও আমার জীবনে পুরুষ যে না এসেছে তা নয়, কিন্তু প্রত্যেকের মধ্যেই আমি অনিমেষের…আই মীন সেই ছেলেটির ছবি ফুটে উঠতে দেখতাম। এটা আমার অবিবাহিত থাকার কারণ।

    —আমার স্বামীর সঙ্গে, আই মীন, মহাদেও প্রসাদ খান্নার সঙ্গে আমার আলাপ হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে। নিতান্ত ঘটনাচক্রে। সেদিন ছিল রবিবার। আমি সারাদিনের মতো কিছু খাবার আর ফ্লাস্কে করে কফি বানিয়ে নিয়ে পাহাড়ের দিকে গিয়েছিলাম। এরকম প্রায়ই আমি পাহাড়ের দিকে বেড়াতে যেতাম।

    বাসু বলে ওঠেন, একা?

    —হ্যাঁ, একাও কখনও কখনও গিয়েছি, কখনও বা দু’একজন সহকর্মীর সঙ্গে। বেশির ভাগই সঙ্গে থাকত মন-বাহাদুর। যে রোব্বারের কথা বলছি, সেদিনও মন-বাহাদুর ছিল আমার সঙ্গে।

    —মন-বাহাদুর কে?—জানতে চান বাসু-সাহেব।

    —আমাদের ব্যাঙ্কের দারোয়ান। রিটায়ার্ড মিলিটারী ম্যান। ও আমার বাড়িতেই থাকত বাইরের ঘরে। আমার বাজার-হাট করে দিত; আমি দু-বেলা ওকে রেঁধে খাওয়াতাম। তাতে বাহাদুরের ঘরভাড়াটা বাঁচত, আমারও নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। সে যাই হোক, সেদিন শহর থেকে বেশ দূরে চলে গিয়েছি আমরা, হঠাৎ নজর হল একজন ভদ্রলোক নিতান্ত নির্জনে বসে জলরঙে একখানা নৈসর্গিক দৃশ্য আঁকছেন। ভদ্রলোকের পোশাক-পরিচ্ছদে কোনও আড়ম্বর বা বিলাসিতার লেশ ছিল না। একবার চোখ তুলে আমাদের দেখেই আবার ছবির দিকে নজর দিলেন। আমার দুরন্ত কৌতূহল হচ্ছিল দেখতে, ছবিটা কেমন হচ্ছে। কিন্তু আর্টিস্ট আমার মতো কৌতূহলী মানুষদের এড়িয়ে যাবার জন্য পহেলগাঁও থেকে এতদূরে এসেছেন ছবি আঁকতে। হঠাৎ ভদ্রলোক নিজে থেকেই হিন্দিতে বললেন, ‘তোমার ফ্লাস্কে জল আছে?’ একটু অবাক হলাম; নিতান্ত অপরিচিতাকে—আর বয়সও আমার কিছু কম নয়—উনি ‘আপনি’ না বলে ‘তুমহারি’ বললেন কেন? যা হোক, আমি লজ্জিত হয়ে বললাম, ‘না, কফি আছে। কেন? ‘

    বললেন, আমার জলটা নোংরা হয়ে গেছে। তাই।

    উনি উঠবার উপক্রম করতেই মন-বাহাদুর বলল, ম্যায় লা দেতা হুঁ।

    ওঁর মগটা উঠিয়ে নিয়ে সে খাড়া পাড় ভেঙে লীডার থেকে জল আনতে গেল। অগত্যা আমার কৌতূহল মিটল। ছবিখানা দেখলাম। দারুণ সুন্দর হয়েছে। প্রশংসা করলাম ছবিখানার। দু-চারটে কথা হল। শুনলাম, ওঁর নাম যশোদাপ্রসাদ কাপুর। একা মানুষ, বিয়ে-থা করেননি। পাহাড় পর্বতেই ঘুরে বেড়ান। আমিও আমার নাম বললাম, স্টেট ব্যাঙ্কে চাকরি করি সে কথাও বললাম। আমি ওঁকে কফি অফার করলাম। উনি এককথায় রাজি হলেন। দুজনে কফি খেলাম। তারপর আমি ফিরে এলাম।

    প্রথম দিন এই পর্যন্তই। পরদিন সোমবার বিকালে –কিসের অমোঘ আকর্ষণে আমি আবার সেই নির্জন স্থানটায় ফিরে এলাম। এবার একাই। কিন্তু ওঁর দেখা পেলাম না। উনি পহেলগাঁওয়ের কোথায় উঠেছেন জিজ্ঞাসা করিনি। ফলে যোগসূত্র হারিয়ে গেল।

    দিন-তিনেক পরে একদিন অফিসে যেতেই আমার একজন সহকর্মী বললে, ‘এক ভদ্রলোক তোমার জন্য এই ছবিখানা রেখে গেছেন।’ অবাক হয়ে দেখি সেই ছবিখানাই। বাঁধানো হয়নি। রোল করে কাগজে মুড়ে দিয়ে গেছেন।

    এরপর দীর্ঘ এক বছর আমি তাঁকে চোখে দেখিনি। কিন্তু তাঁর কথা ভুলতেও পারিনি। দুটি কারণে। প্রথমত তাঁর সেই ছবিখানা বাঁধিয়ে আমার ঘরে টাঙিয়ে রেখেছিলাম। আর দ্বিতীয়ত আমি ক্রমাগত তাঁর চিঠি পেতাম। আশ্চর্য, উনি নিজের ঠিকানা জানাতেন না। ফলে উত্তর লেখার কোনও সুযোগই আমি পাইনি। তারপর হঠাৎ এ বছরে অগস্টের পয়লা অথবা দোশরা তারিখে আবার তাঁকে দেখলাম। উনি নিজে থেকেই দেখা দিলেন। অফিস ছুটির পর বেরিয়ে আসছি, দেখি উনি দাঁড়িয়ে আছেন। অসঙ্কোচে বললেন, ভালো আছ তোমরা?

    জিজ্ঞাসা করলাম, চিঠিতে ঠিকানা দিতেন না কেন? জবাবে বললেন, বে-ঠিক মানুষের আবার ঠিকানা কী? সমস্ত কাজই ফলাকাঙ্ক্ষা বর্জিতভাবে করতে হয়; জবাব পাবার প্রত্যাশা নিয়ে তো চিঠি লিখতাম না।

    আমি আবার বললাম, ‘প্রশংসা করেছি বলেই ছবিখানা আমাকে দিয়ে দিলেন?’ সে-কথার উত্তরে বললেন, ‘আমি ভবঘুরে মানুষ, ছবি রাখব কোথায়? আঁকি আর বিলিয়ে দিই।’ ‘আমি জানতে চাইলাম, এবার পহেলগাঁওয়ে উনি কোথায় উঠেছেন। উনি বললেন, সেদিনই এসেছেন, কোথায় ওঠেননি; মাথা গোঁজার একটা আশ্রয় খুঁজে নেবেন কোথাও। প্রশ্ন করলাম, ‘আপনার মালপত্র কোথায় রেখেছেন?’ বললেন, ‘মালপত্র বলতে তো একজোড়া কম্বল আর ঝোলা। বাস স্ট্যান্ডের কাছে এক দোকানদারের কাছে জমা রেখেছি।’

    আমি ওঁকে অনুরোধ করলাম সে-রাত্রে আমার অতিথি হতে। এককথায় রাজি হয়ে গেলেন। বলেন, এক শর্তে। আমি ঘরভাড়া দিতে পারব না। তার বদলে তোমার একখানা পোর্ট্রেট এঁকে দেব।

    এই পর্যন্ত বলে মেয়েটি থামে। তন্ময় হয়ে কী যেন ভাবতে থাকে। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, প্রথম দিন-সাতেক কোনও অসুবিধা হয়নি, কারণ বাহাদুর ছিল। সাত তারিখে বাহাদুর যখন দেশে গেল তখনই বিপদে পড়লাম। কোন মুখে বলি, এখন আমাদের দুজনের এভাবে থাকাটা ভাল দেখায় না। অথচ উনি যেন সে সমস্যা সম্বন্ধে আদৌ সচেতন নন।

    আবার মেয়েটি থেমে গেল। ম্লান হেসে বলল, বিস্তারিত বলতে আমারও সঙ্কোচ হচ্ছে, শুনতে আপনাদেরও। মোট কথা গত সাতাশে অগস্ট, শনিবার আমরা শ্রীনগরে এসে রেজিস্ট্রি মতে বিয়ে করি।

    বাসু বলেন, তার মানে তুমি বলতে চাও যে, গোটা অগস্ট মাসটা তিনি তোমার বাড়িতে ছিলেন?

    —হ্যাঁ।

    —অসম্ভব! কারণ সাতাশে অগস্ট যেদিন তোমাদের বিবাহ হয় সেদিন ছিল শ্রাবণী পূর্ণিমা। সেদিন মহাদেও প্রসাদ ছিলেন অমরনাথ তীর্থে।

    —না। অমরনাথ দর্শনে যাবেন বলে পরিকল্পনা করেছিলেন বটে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাননি।

    তোমার কোনওদিন সন্দেহ হয়নি যে, যশোদা কাপুর একজন ধনীব্যক্তি, ছদ্মবেশে তোমার সঙ্গে বাস করছে?

    —না, সেরকম সন্দেহ হয়নি। যদিও মাঝে মাঝে অবাক লাগত, যখন দেখতাম ওঁর কলমটা লাইফ-টাইম শেফার্স; ওঁর তুলিগুলো উইন্ডসর নিউটনের সেল্-হেয়ার ব্রাশ। জিজ্ঞাসা করেছিলাম সে কথা। বলেছিলেন, ওঁর এক আত্মীয় খুব বড়লোক। এগুলো তারই উপহার।

    —তুমি আন্দাজ করতে পার কেন তিনি নিজের পরিচয় গোপন করেছিলেন? —বোধ হয় পারি। অর্থাৎ এখন পারি। উনি বিবাহিত, কিন্তু স্ত্রী সঙ্গ বর্জিত। আর খবরে কাগজকে উনি এড়িয়ে চলতেন।

    —কিন্তু এভাবে নিজের পরিচয় গোপন করে তোমাকে বিবাহ করাটা তো অপরাধ? আইনত এবং তোমার প্রতি?

    —আইনত কি না জানি না; আমার কাছে তিনি কোনও অপরাধ করেননি।

    —তুমি মন থেকে তাঁকে ক্ষমা করতে পারছ?

    —কিসের ক্ষমা? আমরা দুজনে দুজনকে ভালবেসেছিলাম। এটা কি অপরাধ? উনি আমার পোর্ট্রেট এঁকেছেন, আমি ওঁকে গান শুনিয়েছি—এটা কি অপরাধ?

    বাসু বুঝে উঠতে পারেন না—একজন আলোকপ্রাপ্তা শিক্ষিতা মহিলা কেন বুঝতে পারছে না মহাদেও প্রসাদ অপরাধী –আইনের চোখে, সমাজের চোখে, এবং যে উত্তীর্ণযৌবনা মেয়েটির জীবন তিনি পঙ্কিল করে দিয়ে গেছেন তার প্রতি।

    —নিরাসক্তভাবে প্রশ্ন করেন, তুমি কখন জানতে পারলে যে, যশোদা কাপুর হচ্ছে মহাদেও খান্না?

    —আজ অফিসে খবরের কাগজে ওঁর ছবি দেখে। তখনই বুঝতে পারলাম, কেন ওঁর কলমটা অত দামী, কেন উনি নিজের পূর্বপরিচয় আমাকে দিতেন না—বাল্য-কৈশোরের কোনও গল্প করতেন না। আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে, তিনি…তিনি….

    হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়ে মেয়েটি। বাসু সন্তর্পণে ওর পিঠে একটা হাত রাখলেন। বললেন, ভেঙে পড়লে তো চলবে না রমা। মনকে শক্ত কর। আমাকে যে আরও অনেক কিছু জানতে হবে।

    মেয়েটি চোখ মুছে আবার সোজা হয়ে বলল : বলুন?

    —এবার বলো তোমার বাড়ির ঐ পাহাড়ী ময়নাটার কথা। তার নাম কী, তাকে কবে পেয়েছ, কার কাছ থেকে পেয়েছ?

    —আপনি তো জানেনই ওর নাম ‘মুন্না’, আমার স্বামী ওটা আমাকে দিয়ে গিয়েছিলেন—সেটা শুক্রবার, মানে দোসরা সেপ্টেম্বর।

    —তুমি কি খবরের কাগজে দেখেছ যে…

    বাধা দিয়ে মেয়েটি বলে ওঠে, হ্যাঁ দেখেছি! আর একটা পাহাড়ী ময়নার কথা তো? এটা কেমন করে হল আমি জানি না।

    —তাহলে তুমি বলতে চাইছ, আজ সকালে খবরের কাগজ দেখেই তুমি প্রথম জানতে পারলে যে, তোমার স্বামীর নাম মহাদেও প্রসাদ খান্না? কালকের কাগজ থেকে তোমার কোনো সন্দেহ হয়নি?

    এবার জবাব দিতে ওর দেরি হল। একটু ভেবে নিয়ে বলল, না হয়েছিল। একটা প্রিমনিশান! প্রথম কারণ ঐ পাহাড়ী ময়নাটা, আর দ্বিতীয় কারণ লগ্‌-কেবিনের ফটোটা।

    —লগ্‌-কেবিন! তুমি সেটা দেখেছ?

    —হ্যাঁ, শুধু দেখেছি নয়, বাস করেছি। ওখানেই আমাদের…মানে, বিয়ের পর ওখানেই আমরা দু-রাত্রি বাস করি। সাতাশে শ্রীনগরে আমাদের বিয়ে হল। পরদিন আমরা ফিরে আসি। ঊনত্রিশ আর ত্রিশ তারিখে আমরা ঐ লগ্-কেবিনে ছিলাম।

    —লগ্-কেবিনের ভাড়াটা মেটালো কে? তুমি না তিনি?

    —না, উনি বললেন ওঁর এক আত্মীয় কেবিনের ভাড়াটা মিটিয়ে দেবেন। আমাদের ভাড়া লাগবে না। এখন মনে হচ্ছে, আমি কেমন করে সরল বিশ্বাসে এসব মেনে নিয়েছিলাম!

    —ঊনত্রিশ ও ত্রিশ অগস্ট তোমরা দুজনে ওখানে ছিলে। তারপর?

    —তারপর আমার ছুটি ফুরিয়ে গেল। আমি পহেলগাঁও ফিরে এসে কাজে জয়েন করলাম। উনি বললেন, উনি দিন-দশ বারোর জন্য শ্রীনগরের দিকে যাচ্ছেন। সেখানে ওঁর একটা ঘর আছে—বিয়ের সময় যে ঘরখানায় আমরা উঠেছিলাম—সেখানেই উনি উঠবেন প্রথমে। তারপর অন্য কোথাও যাবেন।

    —এ ঘরখানাতেও উনি থাকতেন না, অথচ ভাড়া গুনতেন?

    —তাই তো বলেছিলেন।

    —তবু তোমার সন্দেহ হল না যে, লোকটা ভবঘুরে বেকার নয়?

    —হয়তো সন্দেহ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমার হয়নি, বিশ্বাস করুন।

    —তোমরা যে দুদিন ঐ লগ্-কেবিনে ছিলে তার মধ্যে তোমার স্বামী কি কারও সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন?

    —হ্যাঁ, বার দুই বলেছিলেন।

    —তুমি নিশ্চয়ই কান করে শোননি?

    —না শুনিনি।

    —রমা, তুমি আমারই বিশ্বাস উৎপাদন করতে পারছ না, কাঠগড়ায় উঠলে তোমার কী দশা হবে! তোমার স্বামী বেকার, ভবঘুরে—অথচ সে লগ্-কেবিনের ভাড়া মেটায়, শ্রীনগরের ফাঁকা ঘরের ভাড়া মেটায়। তুমি বলেছ, সে তার অতীতের কথা কিছু বলেনি তবু তুমি তাকে বিয়ে করলে এবং তবু সে যখন টেলিফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছে তখন তোমার নিতান্ত মেয়েলি কৌতূহলও হল না?

    —এর কী জবাব বলুন? আমি শুনিনি, টেলিফোনে কার সঙ্গে কী কথা তিনি বলেছেন।

    —লগ্‌-কেবিনে গিয়ে তোমার কি মনে হয়েছিল তোমার স্বামীর কাছে জায়গাটা নতুন লাগছে?

    —না। বরং উল্টো। উনি বলেও ছিলেন—ওখানে উনি এর আগেও এসেছেন।

    –আর ওঁর সেই বড়লোক আত্মীয় সেবারও ওঁর হয়ে ভাড়া মিটিয়েছিল নিশ্চয়?

    —সেটা আমি জিজ্ঞাসা করিনি।

    —যে রিভলভারটাতে উনি খুন হয়েছেন সেটার সম্বন্ধে তুমি নিশ্চয়ই কিছু জান না, নয়?

    —না, জানি। ওটা মন-বাহাদুরের রিভলভার। সে দেশে যাবার সময় আমার কাছে ওটা গচ্ছিত রেখে যায়। সেটা আমিই ওঁকে দিয়েছিলাম।

    —কেন?

    —উনি আমার কাছ থেকে সেটা চেয়ে নিয়েছিলেন।

    — কেন?

    —মেয়েটি কিছুক্ষণ নীরব রইল। তারপর বলল, ও-কথা থাক। ওর জবাব আমি দেব না।

    —বাসুও কিছুক্ষণ নীরব থেকে হঠাৎ বলেন, মহাদেওপ্রসাদ খান্নার মৃত্যুতে তোমার আর্থিক লাভ কী হল?

    অন্ধকারে মেয়েটির মুখ দেখা গেল না। কণ্ঠস্বরে বিস্ময়ের চিহ্ন। বললে, মানে?

    —উনি কি কোনও উইল করেছেন? অথবা তোমাকে নমিনি করে কোনও ইন্সিওরেন্স?

    —কী বলছেন আপনি? বিয়ের পর তো সাতটা দিনও তাঁর সঙ্গে বাস করিনি। আর তাছাড়া আমার জ্ঞানমতে তো তিনি নিঃস্ব। উইল বা ইনসিওরেন্সের প্রশ্নই তো ওঠে না।

    এই সময়েই ওদের গাড়ির কাছাকাছি একটা ট্যাক্সি এসে থামল। ভাড়া মিটিয়ে সুজাতা এগিয়ে এল এই গাড়িটার কাছে। বাসু বললেন, কৌশিক, তুমি সুজাতাকে নিয়ে ঐ চায়ের দোকানে একটু বস। আমার সওয়াল হয়ে গেছে। একটু পরেই তোমাদের ডাকব।

    কৌশিক বিনা বাক্যব্যয়ে নেমে গেল।

    বাসু বলেন, এখন তৃতীয় ব্যক্তি কেউ নেই। খোলাখুলি একটা কথা বল রমা! এমন তো হয়নি যে, তুমি হঠাৎ জানতে পেরে গেলে যে, তোমার স্বামী বিবাহিত, নাম ভাঁড়িয়ে তোমাকে বিয়ে করেছে, তারপর তর্কাতর্কি রাগারাগির মধ্যে হঠাৎ…

    —আমি ওঁকে গুলি করে মেরে ফেললাম?

    —হতেও তো পারে?

    —আপনি বদ্ধ উন্মাদ! আমি নিজ হাতে…কী বলছেন আপনি!

    বাসু বলেন, আর একটা কথা। মিসেস্ কৃষ্ণমাচারী তোমার হস্তাক্ষরের সঙ্গে পরিচিত?

    —না বোধ হয়। কেন?

    —আমি চাইছি তোমাকে দিয়ে একটা চিঠি লিখিয়ে নিতে। যাতে উনি ‘মুন্না’কে আর খান্নাজীর চিঠির বাণ্ডিল যে বাক্সে আছে সেইটা আমাকে দিয়ে দেন।

    রমা বলল, চিঠিগুলো কোনও বাক্সে নেই। আছে আমার ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে। তার চাবিটা আপনি নিয়ে গেলে আমার হাতচিঠিতে ওঁর অবিশ্বাস হবে না। কিন্তু কথা দিন, চিঠিগুলো আপনি পড়বেন না?

    পড়ব না মানে? আলবৎ পড়ব। পুলিস সেগুলো ‘সীজ’ করার আগে আদ্যন্ত পড়ে নোট নেব।

    রমা বলল, তাহলে চাবি আমি দেব না।

    —কী আশ্চর্য! কেন? দেবে না কেন?

    —না! সে আমার নিজস্ব জিনিস। আপনাদের পড়তে দেব কেন?

    —দিতে তুমি বাধ্য হবে রমা। বুঝতে পারছ না—তুমি খুনের আসামী হতে চলেছ! ও চিঠি পুলিসে দেখবেই!

    —না। দেখবে না। আমি শুধু ‘মুন্না’কে নিয়ে আসার কথা লিখে দিচ্ছি।

    —রেশ তাই দাও। কিন্তু চিঠিগুলো তোমার ‘সীজ’ হবেই।

    রমা কলম বার করে মিসেস্ কৃষ্ণমাচারীকে একটা হাতচিঠি লিখে দিল। বাসু-সাহেবকে পাখিটা দিয়ে দেবার জন্য।

    বাসু বললেন, তুমি শ্রীনগরে এসেছিলে কেন? আমার দেখা না পেলে কোথায় যেতে?

    —একবার সেই ঘরটা দেখতে যেতাম। উনি যেখানে থাকবেন বলেছিলেন।

    —শুধু সেই জন্যেই ছুটে এসেছ এমন করে? সে ঘর তো এখন তালাবন্ধ!

    —না। শুধু সেজন্য নয়। তারপর আমি সূরযপ্রসাদজীর সঙ্গে দেখা করতাম আর সব কথা খুলে বলতাম।

    —তুমি কি জান যে, মহাদেও প্রসাদের স্ত্রী এখন ও বাড়িতে আছেন? এবং মহিলা অত্যন্ত দুর্মুখ? রমা চুপ করে কী ভাবতে থাকে।

    —কী হল? যাবে সেই মহিলার সামনে?

    -–আপনি কী পরামর্শ দেন?

    —আমার পরামর্শ তুমি শুনবে?

    —শুনব।

    বাসু-সাহেব সুজাতাকে ডেকে আনলেন। বললেন, এ হচ্ছে রমা দাসগুপ্তা। আমি চাই সংবাদপত্রের অতি-উৎসাহী সংবাদদাতাদের হাত থেকে একে বাঁচাতে। আশা করি তুমি বুঝতে পারছ, আমি কী বলতে চাই। যে জন্য লিখেছিলাম, একটা ওভারনাইট ব্যাগ নিয়ে এস।

    সুজাতা বলল, আজ্ঞে হ্যাঁ, বুঝেছি।

    রমা বেঁকে বসল। বলল, না, আমি কোথাও যাব না।

    —তার মানে সুরমা খান্নার সামনেই তুমি দাঁড়াতে চাও?

    —না। নিশ্চয় নয়।

    বাসু বলেন, রমা, তুমি কেন বুঝতে পারছ না? মন-বাহাদুর রিভলভারটা কার কাছে গচ্ছিত রেখে গিয়েছিল জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিস তোমাকে খুঁজবে। তুমি ঐ লগ্‌-কেবিনে গিয়েছিলে জানতে পারার পর তোমাকে সরাসরি অভিযুক্ত করবে?

    —মার্ডার চার্জে?

    —হ্যাঁ।

    —আপনি আমাকে আত্মগোপন করতে বলছেন?

    —আদৌ নয়। মাত্র চল্লিশ কি ছত্রিশ ঘণ্টার জন্য তুমি সহজলভ্য থাকবে না। ব্যস্! রমা একটু ভেবে নিয়ে বলল, বেশ, কোথায় যেতে হবে বলুন?

    সুজাতা কথোপকথনের সূত্রটা তুলে নিয়ে বলল, আসুন। আমার সঙ্গে। বাসু-সাহেবের দিকে ফিরে বলল, হোটেলে উঠে কি আপনাকে ফোন করব?

    বাসু একটু ধমকের সুরে বলেন, তুমিও যে কৌশিকের মতো নিরেট হয়ে উঠছ সুজাতা! আমি যখন কোনও রহস্য সমাধান করতে বসি তখন কতকগুলো তথ্যের বিষয়ে আমি পুঙ্খানুপুঙ্খ ডিটেইল্স খুঁজতে থাকি; আর অপর একজাতের তথ্য সম্বন্ধে আমার স্ট্যান্ড হচ্ছে : হোয়্যার ইগরেন্স ইজ ব্লিস্ ইটস্ ফলি টুবি ওয়াইজ। কিছু বুঝলে?

    সুজাতা হেসে বললে : জলের মতো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅ-আ-ক-খুনের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল
    Next Article কুলের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    Related Articles

    নারায়ণ সান্যাল

    অলকনন্দা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আবার যদি ইচ্ছা কর – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    আম্রপালী – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    বিশ্বাসঘাতক – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    সোনার কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    নারায়ণ সান্যাল

    মাছের কাঁটা – নারায়ণ সান্যাল

    September 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }