Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উষার দুয়ারে – আনিসুল হক

    লেখক এক পাতা গল্প305 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উষার দুয়ারে – ৩০

    ৩০.

    পুরোপুরি পাগল না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত নুরুল আমিন সরকার শামসুল হককে জেলখানা থেকে ছাড়ল না।

    তাঁর স্ত্রী আফিয়া খাতুনও বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ চলে গেলেন।

    শামসুল হক রাস্তায় রাস্তায় ঘোরেন। তাঁর পরনে ছেঁড়া ময়লা কাপড়। একদিন তাঁর সঙ্গে দেখা তরুণ লেখক ও সাংবাদিক আবু জাফর শামসুদ্দীনের। আবু জাফর শামসুদ্দীন বসে আছেন তাঁর বইয়ের দোকানে। হঠাৎই শামসুল হক সেখানে হাজির হন। তাঁর গায়ে একটা পুরোনো ছেঁড়া কালো আচকান। পরনে ময়লা পায়জামা। পায়ে শতচ্ছিন্ন ইংলিশ জুতা। আচকানের পকেট থেকে শামসুল হক এক তোড়া কাগজ বের করলেন। বললেন, পড়ে দেখেন। আবু জাফর শামসুদ্দীন পড়লেন। হিজ ইমপেরিয়াল ম্যাজেস্টি দি অলমাইটি আল্লাহ। একটা দরখাস্ত বা স্মারকলিপি। পূর্ব বাংলার অবস্থা বেশ খারাপ। আল্লাহ তাআলার সরাসরি হস্তক্ষেপ দরকার। আল্লাহ যেন তাড়াতাড়ি হস্তক্ষেপ করেন।

    শামসুল হক বললেন, ‘এটা আল্লাহর কাছে পাঠাব। ডাকখরচ দরকার। ৫০টা টাকা হবে?’

    আবু জাফর শামসুদ্দীন ১০টা টাকার একটা নোট বের করে বললেন, ‘আমার তো আর্থিক অবস্থা এত ভালো না, আপনি এইটাই রাখুন। তবে আপনি যাবেন না। বসুন। খেয়েছেন কিছু?’

    তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে দিদার হচ্ছে। খাওয়াদাওয়া লাগে না।’

    জাফর চা-বিস্কুট আনালেন। তিনি খেলেন। তারপর ১০ টাকা নিয়ে মুখ নিচু করে কাছারির দিকে চলে গেলেন। ডানে-বাঁয়ে কোনো দিকেও তিনি তাকাচ্ছেন না। জাফর বিস্মিত হয়ে তাঁর গমনপথের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

    একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে গেল জাফরের বুক থেকে।

    .

    আওয়ামী মুসলিম লীগের সভা হচ্ছে। শামসুল হক সাহেবকে বক্তৃতা করতে বলা হলো। তিনি বললেন, ‘আমি সারা পৃথিবীর খলিফা। এই নির্দেশ ওপর থেকে আমার ওপরে এসেছে।’

    সবাই বিস্মিত। যাঁরা জানত, তারা উদ্বিগ্ন। কেউ কেউ দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন, কেউ বা মুখ টিপে টিপে হাসছেন।

    ৩১.

    ঢাকার পল্টন ময়দান। আওয়ামী মুসলিম লীগের জনসভা। লোকে- লোকারণ্য। বক্তা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। বৈশাখ মাস। ভীষণ গরম। সোহরাওয়ার্দী সবে বক্তৃতা করতে দাঁড়িয়েছেন। একজন এসে তাঁর কানে কানে একটা খবর দিলেন।

    সোহরাওয়ার্দী তাঁর ভাষণে বললেন, আজ পাকিস্তানের একটা বিরাট খবর আছে।

    সভা শেষ হলো। মুজিব ফিরছেন সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে, জিপগাড়িতে। মুজিব তাঁর পাশে বসা। ‘লিডার, পাকিস্তানের খবর আছে বললেন। খবরটা কী?’

    সোহরাওয়ার্দী বললেন, ‘খাজা নাজিম উদ্দিন সাহেবকে গভর্নর জেনারেল বরখাস্ত করেছে।’

    ‘এ তো খুশির খবর।’

    ‘এতে খুশি হওয়ার কিছু নাই।’

    ‘এটা তো খাজা সাহেবের প্রাপ্য।’

    ‘হ্যাঁ, শাসনতন্ত্র না দিয়ে আর সাধারণ নির্বাচন না করে এরা পাকিস্তানকে ষড়যন্ত্রের রাজনীতির লীলাক্ষেত্র বানিয়ে তুলেছে।

    প্রধানমন্ত্রী বানানো হলো মোহাম্মদ আলী বগুড়াকে। তিনি মুসলিম লীগের সদস্যও না। আমেরিকায় রাষ্ট্রদূত ছিলেন পাকিস্তানের। তাঁকে দেশে ডেকে পাঠানো হলো। এবং তাঁকেই মুসলিম লীগেরও সভাপতি বানিয়ে দেওয়া হলো। মুজিব বললেন, ‘মোহাম্মাদ আলী বগুড়ার তো কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নাই, সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানও কম, এ তো আমেরিকা থেকে কোট- প্যান্ট টাই পরা ছাড়া আর কিছু শিখেও আসতে পারে নাই। এই প্রধানমন্ত্রী দিয়া পাকিস্তান চলবে?’

    মুসলিম লীগের কেউ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করল না।

    একমাত্র প্রতিবাদ করল পূর্ব বাংলার আওয়ামী মুসলিম লীগ।

    বগুড়ার মোহাম্মদ আলী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে সত্যি সত্যি নানা হাস্যকর কাণ্ড করতে লাগলেন। একদিন বললেন, ভারতের সঙ্গে দেশরক্ষা চুক্তি করতে হবে। নেহরু আমার বড়দা হয়।

    পাকিস্তানে ব্যাপক নিন্দা হলো সে কথা নিয়ে।

    তারপর বললেন, ‘বাংলা জবান হামি ভুলিয়া গেছে।’

    খুশি হলেন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল। আর খুশি হলো আমেরিকা। তারা ঠিক লোককেই বেছে নিয়েছে।

    ৩২.

    শেখ মুজিব বললেন আতাউর রহমান সাহেবকে, ‘আপনি পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি হন। আমার পদের দরকার নাই। আমি কাজ করছি। কাজ করতেই থাকব।’

    দিন পনেরো পরে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশন। নতুন কমিটি হবে।

    মুজিব সারা দেশ ঘুরে ঘুরে পার্টি গড়েছেন। ৭০টা ইউনিয়নে পর্যন্ত লীগের কমিটি হয়েছে। প্রত্যেকটা জেলায় গেছেন। এর মধ্যে করাচি থেকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এসেছিলেন মুজিবের উদ্যোগে। তিনিও মুজিবের সঙ্গে ঘুরেছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়। তাঁকে দেখে পার্টিতে উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে, জনসভাগুলোয় ভিড় হয়েছে।

    এমনিতেই মুজিবের জনপ্রিয়তা সর্বমহলে। তার ওপর পার্টির শাখাগুলো গঠিত হয়েছে তাঁরই উদ্যোগে। কাজেই শেখ মুজিব যদি জেনারেল সেক্রেটারি হতে চান, সব কাউন্সিলরের ভোট তিনিই পাবেন, এতে কোনো সন্দেহ নাই। ৩৩ বছরের যুবক মুজিবকে এই পদে কেন্দ্রীয় নেতাদের সবাই যে চান, তা কিন্তু নয়। আবদুস সালাম খান মনে করেন, মুজিব তাঁকে গুরুত্ব কম দেন। আতাউর রহমান খানকে গুরুত্ব বেশি দেন। কাজেই তিনি চান না, মুজিব সাধারণ সম্পাদক হোক। তাঁর সঙ্গে যোগ দিলেন রংপুরের খয়রাত হোসেন, ময়মনসিংহের হাশিমউদ্দিন আহমদ প্রমুখ। মুজিব শুনতে পেয়েছেন, তিনি যাতে সাধারণ সম্পাদক হতে না পারেন, সে জন্যে তাঁরা টাকাপয়সা খরচ করতে শুরু করেছেন।

    মুজিব একা একা বিড়বিড় করেন, পার্টির দরকারের সময় কেউ একটা পয়সা দিয়ে সাহায্য করল না, আর এখন আমাকে ঠেকানোর জন্য টাকাপয়সা খরচ করতে কোনো বেগ পেতে হচ্ছে না। হবই না সাধারণ সম্পাদক।’

    তিনি সোজা চলে গেলেন আতাউর রহমান খান সাহেবের বাড়িতে। বৈঠকখানায় ঢুকেই হাঁক পাড়লেন, ‘খান সাহেব, কই?’

    আতাউর রহমান খান পাঞ্জাবির বোতাম লাগাতে লাগাতে এলেন। বললেন, ‘কী ব্যাপার।’

    মুজিব বললেন তিনি সাধারণ সম্পাদক হতে চান না। আতাউর রহমানই যেন এই পদে অধিষ্ঠিত হন।

    আতাউর রহমান খান বললেন, ‘মাথা খারাপ! আমার কত কাজ। আমাকে ওকালতি করতে হয়। এখন যিনি সেক্রেটারি জেনারেল হবেন, তাঁকে অবশ্যই পূর্ণকালীন এই কাজই করতে হবে। আপনি ছাড়া কে এই কাজ পারবে! সারা দিনরাত পার্টির কাজ কে করতে পারবে। এই পদে আপনি ছাড়া আর কাউকে আমি কল্পনাও করতে পারি না।

    মুজিব চেয়ারের হাতল শক্ত করে ধরে বললেন, ‘আপনি জানেন, কয়েকজন নেতা তলে তলে ষড়যন্ত্র করছে, আমার নাকি বয়স কম। একজন বয়স্ক লোকের সেক্রেটারি জেনারেল হওয়া দরকার। এই লোকগুলোর একটুও কৃতজ্ঞতা নাই। আমি রাতদিন পরিশ্রম করে সারা বাংলাদেশে ঘুরে ঘুরে পকেটের টাকা খরচ করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করায়েছি।’

    আতাউর রহমান তাঁর হাতে হাত রেখে বললেন, ‘বাদ দেন ওদের কথা। কাজ করবে না। শুধু বড় বড় কথা।’

    মুজিব বললেন, ‘আপনি ভালোভাবে চিন্তা করে বলেন। একবার আমি যদি বলি, আমি প্রার্থী, তাহলে কিন্তু আর কারও কথা আমি শুনব না।’

    ‘না না। আপনিই তো সেক্রেটারি হবেন। এইটাই ফাইনাল কথা।’

    আতাউর রহমান খান জানেন, সালাম খান মুজিবের ওপরে রাগ করেছে আতাউর রহমান খানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য।

    মুজিব বেরিয়ে এলেন আতাউর রহমান খানের বাসা থেকে।

    তিনি গেলেন কারকুন বাড়ি লেনে, মওলানা ভাসানীর সঙ্গে দেখা করতে।

    ভাসানী বললেন, ‘এইটা আবার কওন লাগব নাকি!’ মাথায় তালপাতার আঁশের টুপি, গায়ে পাঞ্জাবি, পরনে লুঙ্গি—এই তো ভাসানীর চিরদিনের পোশাক। একটা তসবিহ তাঁর আসনের পাশে। ‘তুমিই হইবা সেক্রেটারি।’

    মুজিব বললেন, ‘হুজুর, আমি তো সেক্রেটারি হইতে চাই না। আপনি আর কাউরে করেন। আমি জয়েন সেক্রেটারি থাকলাম। না-হয় মেম্বার থাকলাম। আমি তো কাজ করবই আপনি আমারে যা করতে বলেন।’

    ‘না না। এইটা নিয়া দ্বিতীয় কোনো কথা নাই। যাও গা। সামনে কাউন্সিল। কাম কি কম! হল ভাড়া করন লাগব, স্টেজ, মাইক, দাওয়াতের কার্ড, ম্যানিফেস্টো, গঠনতন্ত্র। টাকাও তো জোগাড় করন লাগব। আমি বেবাক বুঝি। তুমি আর এইটা নিয়া কথা বাড়াইয়ো না। তুমিই হইবা সেক্রেটারি।’

    ভাসানী মুক্তি পেয়েছেন ১৯৫৩ সালের ১৯ এপ্রিল।

    কাউন্সিলের তারিখ এগিয়ে আসছে। মুকুল সিনেমা হলে কাউন্সিল হবে। ইয়ার মোহাম্মদ খান মুকুল সিনেমা হল বুকিংয়ে সহায়তা করলেন। কাউন্সিলে যোগ দিতে সারা পূর্ব বাংলা থেকে নেতা-কর্মীরা আসতে লাগলেন। তাঁরা থাকবেন কোথায়? এত হোটেল তো ঢাকা শহরে নাই।

    মুজিব নদীপারের ছেলে। জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে নৌকায়। তিনি বুড়িগঙ্গায় বড় বড় নৌকা ভাড়া করলেন। সদরঘাটে সব নৌকা বাঁধা রইল। সোহরাওয়ার্দী সাহেব কাউন্সিলে যোগ দেবেন প্রধান অতিথি হিসাবে, সেটাও সবাই মিলে সাব্যস্ত করলেন।

    মুজিবের বিরোধী গ্রুপ গিয়ে ধরল আবুল হাশিমকে, যিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, এবং সদ্য কারামুক্ত, প্রবীণ। ‘হাশিম সাহেব, আপনি আমাদের জেনারেল সেক্রেটারি হন।’

    আবুল হাশিম নিমরাজি। বললেন, ‘আমার কোনো আপত্তি নাই। তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে হবে।’

    আবুল হাশিম তাঁর বাড়িতে দাওয়াত করলেন মওলানা ভাসানীকে। ভালোমন্দ খাওয়াদাওয়ার পর তিনি বললেন, ‘আমি তো একটা মুশকিলে পড়েছি। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা আমাকে খুব করে ধরেছেন, আমি যেন সেক্রেটারি জেনারেল পদে কনটেস্ট করি। আমি বলেছি, আমি করতে পারি, কিন্তু আমাকে নির্বাচিত করতে হবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।’

    ভাসানী বললেন, ‘সাধারণ সম্পাদক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হইতে পারবেন কি না জানি না। কারণ, মুজিব ঘোষণা কইরা দিছে, সে একজন প্রার্থী। তয় আপনি যদি সভাপতি হইতে চান, আমি ছাইড়া দিতে রাজি আছি।’

    কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হলো। মওলানা ভাসানী সভাপতিত্ব করছেন। সোহরাওয়ার্দী প্রধান অতিথি। শত শত কাউন্সিলর যোগ দিয়েছে সম্মেলনে। প্রথম অধিবেশনের পর ভাসানী ঘোষণা করলেন, আতাউর রহমান খান, আবদুস সালাম খান, আবুল মনসুর আহমদ আর শেখ মুজিবুর রহমান বসবেন একত্রে। তাঁরা মিলে সর্বসম্মতিক্রমে তালিকা করে আনবেন নতুন কমিটির।

    আতাউর রহমান খান মুজিবকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে বললেন, “ওরা তো খুব ধরেছে আমি যেন সেক্রেটারি পদে প্রার্থী হই। কী করি বলেন তো?’

    মুজিব বললেন, ‘আপনাকে তো আমিই প্রার্থী হতে বলছিলাম। আপনি শোনেন নাই। এখন আমি দাঁড়ায়া গেছি। এখন আপনি দাঁড়ালে নির্বাচন হবে। যে বেশি ভোট পাবে, সে সাধারণ সম্পাদক হবে।’

    আতাউর রহমান খান বললেন, ‘ঠিক আছে ঠিক আছে, আমি প্রার্থী হচ্ছি না।’

    .

    চার নেতা বসলেন। কিন্তু একমত হতে পারলেন না।

    মুজিব এসে কাউন্সিলে বললেন, ‘ভোট হবে।’

    কাউন্সিল সভায় মওলানা ভাসানী সভাপতি, আতাউর রহমান খান, সালাম খান, খয়রাত হোসেন সহসভাপতি আর শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়ে গেলেন।

    সাবজেক্ট কমিটিতে দলের ইশতেহার ও গঠনতন্ত্র নিয়ে সারা রাত আলোচনা হলো। সেটাও পাস হয়ে গেলে মুজিব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন, এত দিনে আওয়ামী লীগ একটা সত্যিকারের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে দাঁড়াল। ম্যানিফেস্টো ও গঠনতন্ত্র না থাকলে কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।

    তাজউদ্দীন আহমদকে করা হলো ঢাকা উত্তর আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক।

    .

    আমগাছে তখন ছোট ছোট আম ধরেছে। বড় বড় বোঁটায় সবুজ ছোট ছোট আম ঝুলে আছে।

    সেগুলোর দিকে তাকিয়ে ব্যাঙ্গমা বলল, ‘ঘটনা তো ঘইটা গেল।

    ব্যাঙ্গমি বলল, ‘কী ঘটনা?’

    ব্যাঙ্গমা ঠোঁট নেড়ে নেড়ে বলল, ‘তাজউদ্দীন আহমদ তাঁর দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ঝাইড়া ফেলতে সক্ষম হইলেন। তিনি কি যুবলীগ করবেন, নাকি ছাত্রলীগ, নাকি গণতান্ত্রিক পার্টি, নাকি মিইশা যাইবেন কমিউনিস্টগো লগে, এই দ্বন্দ্ব থাইকা তিনি একেবারে সাফসুতরা হইয়া বাইরাইয়া আইলেন।’

    ব্যাঙ্গমা বলল, ‘শেখ মুজিব তাঁরে দায়িত্ব দিছেন ঢাকা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক পদে।’

    ব্যাঙ্গমি বলল, ‘কলকাতার ইসলামিয়া কলেজের সিরাজউদ্দৌলা হলে ছাত্রদের ডাইকা মুজিব কইছিলেন, এই স্বাধীনতা স্বাধীনতা না। আমগো আসল স্বাধীনতার লাইগা লড়াই করতে পূর্ব বাংলায় যাওন লাগব।’

    ব্যাঙ্গমা বলল, ‘হ। কইছিলেন তো।’

    ব্যাঙ্গমি বলল, ‘তাজউদ্দীনও একই মতের মানুষ। বিশেষ কইরা, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন সব পাল্টায়া দিছে। আতাউর রহমান খানের ছোট ভাই শামসুর রহমান খান আছেন না! ওই যে তাজউদ্দীনের লগে অল্পস্বল্প আলাপ- পরিচয় আছিল। ১৯৫০ সালে তিনি তো ঢুইকা গেলেন সরকারি চাকরিতে। পোস্টিং হইল করাচিতে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পর তাজউদ্দীনের সঙ্গে তাঁর দেখা হইল একটা অনুষ্ঠানে। দুজনে পাশাপাশি বইসা আছেন। অনুষ্ঠান শুরু হইতে দেরি হইব। লোকজন তহনও তেমন আসে নাই।

    ‘শামসুর রহমান খান কইলেন, আমি তো পাকিস্তান সরকারের চাকরি নিছি। তোমরা যারা জনতার রাজনীতি করো, তারা নিশ্চয়ই আমগো পছন্দ করো না।’

    ‘তাজউদ্দীন তাঁরে কইলেন, না না, ঠিক আছে। অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। দরকার আছে।

    ‘কী ব্যাপারে দরকার? জিগাইলেন শামসুর রহমান খান।

    ‘তাজউদ্দীন তখন তাঁরে কইলেন, দ্যাশ স্বাধীন হইলে আপনারা দ্যাশের কামে লাগবেন।

    ‘দেশ তো স্বাধীন হইছেই।

    ‘পাকিস্তান না। এই দেশ না।

    ‘পূর্ব পাকিস্তান আবার আলাদা কইরা স্বাধীন হওনের কাম আছে নাকি?’

    ‘হ। আছে। পশ্চিমা গো লগে থাকতে আমরা পারুম না। আমগো আলাদা দ্যাশ লাগবই।’ তাজউদ্দীন কইলেন।

    .

    ব্যাঙ্গমা বলল, ‘শেখ মুজিব আর তাজউদ্দীন দুইজন আলাদা আলাদা কইরা একই ভাবনা ভাবতাছেন। আজকা তাঁরা একটা লাইনে মিলিত হইলেন। এরপরেই না ইতিহাস তাগো দুইজনারে আরও কাছে লইয়া যাইব। দ্যাশটা স্বাধীন হইব।’

    ব্যাঙ্গমি বলল, ‘১৯৪৯ সালে মুজিব যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দাবিদাওয়া নিয়া আন্দোলন করতেছেন, করতে গিয়া ছাত্রদের ওপরে শাস্তির খড়্গ নাইমা আইছে, তখন মুজিব দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টি আর শাস্তির আদেশ প্রত্যাহারের লাইগা ভাইস চ্যান্সেলরের বাড়ি ঘেরাও করল। তাঁর বাড়ির নিচের ঘরগুলাও দখল করল ছাত্ররা।

    ‘সেই সময় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার বিশাল এক পুলিশ বহর নিয়া উপস্থিত। মুজিব ছাত্রদের সাথে পরামর্শ করলেন। ঠিক হইল, আর হগ্গলের গ্রেপ্তার হওনের দরকার নাই। আটজন থাকব, যারা গ্রেপ্তার বরণ করব। মুজিব অবশ্যই থাকবেন। কারণ হেয় গ্রেপ্তার হইলে আন্দোলন চাঙ্গা হইব।

    ‘তাজউদ্দীন সেইখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরে বলা হইছে, তিনি যেন গ্রেপ্তার না হন। ম্যাজিস্ট্রেট পাঁচ মিনিট সময় দিল ভাইস চ্যান্সেলরের বাড়ি ছাড়নের। আটজন বাদে সবাই বাইরে গেল। কিন্তু ভিড়ের চাপে তাজউদ্দীন বাইরাইতে পারেন নাই। মুজিব তাঁরে চোখ টিপি মারলেন। তিনি তাড়াতাড়ি একটা কাগজ বাইর কইরা কইলেন, আমি প্রেস রিপোর্টার। একটা কাগজে তিনি কে কে গ্রেপ্তার হইছে, তাগো নাম লেখতে লাগলেন। পুলিশ তাঁরে ছাইড়া দিল।’

    ব্যাঙ্গমা কইল, ‘মুজিব এই ছোট চোখ টিপার ঘটনা আর তাজউদ্দীনের ছাড়া পাওনের কথা ভুলতে পারেন নাই। ১৮ বছর পর নিজের স্মৃতিকথা জেলে বইসা লেখনের সময় এই কথা উল্লেখ করতে তিনি ভোলেন নাই। কাজেই আরও পরে যখন ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের রাইতে শেখ মুজিবরে পাকিস্তান আর্মি ধইরা নিয়া যাইব, তাজউদ্দীন যে গ্রেপ্তার এড়ায়া যাইতে পারব, আর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হইব, এইটা তো আমরা অহনই কইয়া দিতে পারি।’

    ৩৩.

    হেমন্তকাল। হাটখোলার সরুপথে রিকশায় চলেছেন মুজিব। সকালবেলা। রোদ উঠেছে মিষ্টি। রাস্তায় শিউলি ফুল ঝরে পড়ে আছে, পাঁচিল ডিঙিয়ে মাথা বের করা শিউলিঝাড়ে পড়েছে সকালবেলার রোদ।

    শেখ মুজিব যাচ্ছেন এ কে ফজলুল হকের কাছে। কে এম দাস লেনের বাড়িটির গেট খোলাই ছিল। তিনি ভেতরে ঢুকে বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করলেন, ‘নানা, আছেন নাকি।’

    বিশালদেহী ৮১ বছরের ফজলুল হক বেরিয়ে এলেন। পরনে পায়জামা, পাঞ্জাবির ওপরে একটা কার্ডিগান। মুজিবের পরনে ট্রাউজার, গায়ে শার্ট, শার্টের ওপরে একটা হালকা কোট।

    ‘নাতি, কী খবর? আসো, বসো।’

    মুজিব বৈঠকখানায় বসলেন।

    এ কে ফজলুল হককে বাংলার লোকেরা জানে শেরেবাংলা বা বাংলার বাঘ বলে। তাঁকে বাংলার মানুষ মোটের ওপরে খুব শ্রদ্ধা করে। তিনি অখণ্ড বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। কৃষক প্রজা পার্টির নেতা। মুসলিম লীগ করেননি বলে শেখ মুজিবের দল তাঁর বিরোধিতা করত।

    আজ বৈঠকখানায় বসে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে মুজিবের মনে পড়ে গেল, বেশ কয়েক বছর আগেকার কথা। মুজিব তখন কলকাতায় ছাত্র, গোপালগঞ্জ আসেন মাঝেমধ্যে, বক্তৃতা দেন পাকিস্তানের পক্ষে। এই সময় শহরের কয়েকজন মুরুব্বি মুজিবের পিতা শেখ লুৎফর রহমান সাহেবকে বললেন, ‘আপনার ছেলে যা আরম্ভ করেছে, ওকে তো জেল খাটতে হবে। তার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে। ওকে এখনই মানা করেন।’

    আব্বা তখন যে উত্তরটা করেছিলেন, তা মুজিবের আজও মনে আছে। তিনি বললেন, ‘দেশের কাজ করছে। অন্যায় তো কিছু করছে না। যদি জেল খাটতে হয়, খাটবে। দেশের জন্য জেল খাটবে। পাকিস্তান না করলে আমরা মুসলমানরা কি টিকতে পারব?’

    একদিন মেলা রাত পর্যন্ত বাপ-বেটায় শুয়ে শুয়ে রাজনীতি নিয়ে আলাপ করছেন। হাবিবুল্লাহ বাহারের লেখা পাকিস্তান গ্রন্থ মুজিবের মুখস্থ। মুজিবুর রহমান খাঁর পাকিস্তান বইও তিনি হেফজ করেছেন। শেরেবাংলা লাহোরে যে পাকিস্তান প্রস্তাব করেছিলেন, আর সেদিন যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল, পাকিস্তান হবে দুইটা, আলাদা আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র, পশ্চিম অংশ নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তান, আর সমস্ত বাংলা ও আসাম নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান। কলকাতাও সেই স্বাধীন দেশে থাকবে, দার্জিলিং থাকবে, আসাম থাকবে। পিতা খুশি হলেন পুত্রের আলোচনা শুনে।

    শুধু বললেন, ‘শোনো, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের বিরুদ্ধে কোনো রকমের ব্যক্তিগত আক্রমণ করবা না।’

    একদিন মা-ও বললেন, ‘বাবা, আর যা-ই করতি চাও, করবা, কিন্তু হক সাহেবের বিরুদ্ধে কিছু বলিও না। শেরেবাংলা এমনি এমনি শেরেবাংলা হন নাই।’

    শেরেবাংলার সামনে বসে আছেন মুজিব। দুজনের হাতেই চায়ের কাপ। কী চা? দার্জিলিং চা নাকি? দার্জিলিংও বাংলার অংশ হওয়ার কথা ছিল, খাজা নাজিম উদ্দিন সে দাবি ছেড়ে চলে এসেছেন ঢাকায়। মুজিব মনে মনে ভাবলেন।

    মায়ের কথাটাও আজ মুজিবের মনে পড়ছে। শেরেবাংলা এমনি এমনি শেরেবাংলা হন নাই। বাংলার মাটিও তাঁকে ভালোবেসে ফেলেছিল। আরেক দিনের কথা। শেখ মুজিব বক্তৃতা করছেন তাঁর নিজের ইউনিয়নে, বলছিলেন, ফজলুল হক সাহেব কেন মুসলিম লীগ ত্যাগ করলেন, কেন তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সঙ্গে হাত মিলিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করলেন, কেন তিনি পাকিস্তান চান না?

    এই সময় একজন বৃদ্ধ উঠে দাঁড়ালেন। মুজিব তাঁকে চেনেন। মুজিবের দাদার বন্ধু। তাঁদের বাড়ি প্রায়ই আসতেন। তাঁদের সবাইকে তিনি ভালোবাসেন ও শ্রদ্ধাভক্তি করেন। সেই বৃদ্ধ বললেন, ‘খোকা মিয়া, যা বলার বলেন, কিন্তু হক সাহেবের বিরুদ্ধে কিছু বইলেন না। তিনি যদি পাকিস্তান না চান, আমরাও চাই না। জিন্নাহ কে? আমরা তো তাঁকে চিনি না। নামও শুনি নাই। হক সাহেব গরিবের বন্ধু।’

    এর পর থেকে মুজিব কোনো দিনও ফজলুল হকের বিরুদ্ধে কিছু বলেন নাই।

    ফজলুল হক সাহেবের আরেকটা গুণ আছে। তিনি সবার নাম ও চোহারা মনে রাখতে পারেন। বহুদিন পরে কাউকে দেখলে তার নাম ধরে ডেকে বসেন তিনি। এইভাবে নাম ধরে ডাকলে কে না মুগ্ধ হবে! মুজিব ফজলুল হকের এই গুণটা রপ্ত করার চেষ্টা করেন। তিনিও সবার নাম ও চেহারা মনে রাখার অনুশীলন করেন। আর ফজলুল হক স্বচ্ছন্দ বোধ করেন দেশি পরিবেশ। ইংলিশ কেতা, উর্দু কেতা তার পছন্দ নয়। মুজিবের সঙ্গে এদিক দিয়ে মিলে যায় ফজলুল হকের।

    শেখ মুজিব চায়ের কাপ নামিয়ে বললেন, ‘নানা, আপনি অ্যাডভোকেট জেনারেল পদ ছেড়ে দিয়েছেন। আপনি মুসলিম লীগে যোগ দিয়েছেন কেন? মুসলিম লীগ তো খুবই আনপপুলার। দেশের মানুষ তো দুই চোখে এই অযোগ্য, জালিম, অসৎ, দুর্নীতিবাজদের পছন্দ করে না।’

    ‘কী করতে বলো?” সুরুৎ করে এক কাপ চায়ের অর্ধেকটা গিলে ফেলে ফজলুল হক বললেন।

    ‘আপনি আওয়ামী লীগে জয়েন করেন। ‘

    ‘করতে বলো।’

    ‘হ্যাঁ। আপনি শেরেবাংলা। আপনার কি শেয়ালদের সঙ্গে চলা মানায়? আমি যাচ্ছি চাঁদপুরে। আওয়ামী লীগের জনসভা করতে। আপনিও যাবেন আমার সাথে।’

    ‘আচ্ছা তুমি যখন বলছ।’

    মুজিব জানেন, ফজলুল হক রাজি হবেন। মোহন মিয়া চেষ্টা করেছিলেন ফজলুল হককে দিয়ে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনকে সরিয়ে নিজেরা ক্ষমতা নিতে। পারেন নাই। কার্জন হলে বেদম মারপিট হয়েছে দুই গ্রুপে। মার খেয়ে কেটে পড়েছে মোহন মিয়ার দল।

    চাঁদপুরের জনসভায় ফজলুল হক বললেন, ‘যাঁরা চুরি করবেন, তাঁরা মুসলিম লীগে থাকেন। আর যাঁরা ভালো কাজ করতে চান, তাঁরা আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

    মুজিব জানেন, ফজলুল হক ভালো বক্তৃতা করেন। বক্তৃতা করেন গল্পের ছলে। এই কারণেই মুসলিম লীগের সঙ্গে কৃষক প্রজা পার্টির যখন কোনো নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো, নির্বাচনী এলাকায় ফজলুল হকের জনসভা থাকলে তিনি যেন ভাষণ দিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে কৌশল প্রয়োগ করত মুসলিম ছাত্রলীগের কর্মীরা। তারা রটিয়ে দিত, শেরেবাংলা ওখানে আসছেন কেরোসিন তেল দিতে। তখন কেরোসিন তেলের খুব আক্রা। লোকজন কেরোসিনের খালি টিন হাতে আসত, আর দেখত, কেরোসিন দেওয়া হবে না, দেওয়া হবে ভাষণ। তারা বিরক্ত হতো। আর মুসলিম ছাত্রলীগের ছেলেরা ফজলুল হককে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করত। তাদের ভয়, শেরেবাংলা যদি একবার তার গল্পের ঝাঁপি খুলতে পারেন, জনতা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়বে।

    তাঁর গল্পের কৌশলও ছিল ভিন্ন ভিন্ন। তিনি একবার ঢাকায় লেখাপড়া না- জানা প্রার্থী কালু মিয়ার পক্ষে নির্বাচনী সভায় ভাষণ দিতে এসেছেন। লোকে তাঁকে ধরল, ‘এই রকম মূর্খ প্রার্থীর পক্ষে আপনি কেন কথা বলছেন?’

    তিনি বললেন, ‘দেশ হলো একটা নৌকা। আমি হলাম তার মাঝি। আমি তো হাল ধরেই আছি। আমার এখন দরকার মাল্লা। এখন শিক্ষিত লোককে আমি মাল্লা বানাব কেন। মাল্লা হিসাবে আমার দরকার কালু মিয়াকে। আমি মাঝি, দেশের হাল ধরি, এই যদি চান, মাল্লা হিসাবে কালু মিয়াকে ভোট দেন। আর যদি মাঝি বদলাতে চান, চান যে আমিই না থাকি, তাইলে কালু মিয়ার শিক্ষিত প্রতিদ্বন্দ্বীকে ভোট দেন।’

    এই গল্প শেখ মুজিবের অনেকবার শোনা।

    আরেকবারের ঘটনা। মুর্শিদাবাদে গেছেন তিনি। উপনির্বাচন উপলক্ষে। তিনি সমর্থন জানাতে এসেছেন সৈয়দ বদরুদ্দোজাকে। বদরুদ্দোজা শিক্ষিত লোক। তিন ভাষায় সুন্দর কথা বলতে জানেন। ফজলুল হক ভাষণ দিতে শুরু করলেন, ‘ভাইসব, আপনারা যখন হাটে হাঁড়ি কিনতে চান, তখন হাঁড়ি বাজিয়ে দেখে নেন কি না?’

    সবাই বলল, ‘হ্যাঁ। তাই নেই।’

    ‘তাহলে এবার আমরা একটু বদরুদ্দোজাকে বাজিয়ে দেখব। বদরুদ্দোজা তুমি পাঁচ মিনিট বাংলায় বক্তৃতা করো তো।’

    বদরুদ্দোজা পাঁচ মিনিটে কর্ডোভা, গ্রানাডা থেকে শুরু করে বাংলার নির্যাতিত মুসলমানদের ইতিহাস তেজোদীপ্ত ভঙ্গিতে বর্ণনা করতে লাগলেন।

    ফজলুল হক বললেন, ‘এবার একটু উর্দুতে পাঁচ মিনিট ভাষণ দাও তো।’

    বদরুদ্দোজা উর্দুতে বলতে লাগলেন।

    এবার একটু ইংরেজিতে বলো দেখি।

    অমনি বদরুদ্দোজা ইংরেজিতে বলতে লাগলেন।

    ফজলুল হক বললেন, ‘আপনারা নিজেরা বাজিয়ে দেখলেন। বদরুদ্দোজা বাজে কি না?’

    একই মানুষ, একবার শিক্ষিতের পক্ষে, একবার অশিক্ষিতের পক্ষে চমৎকার করে বলে গেলেন। মানুষ তাঁর কথাতেই উদ্দীপিত হলো।

    এখন তিনি মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে, আর আওয়ামী লীগের পক্ষে বলছেন।

    কিছুদিন আগে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দিয়েছেন।

    মুজিব ফজলুল হকের ভাষণ শোনেন আর হাসেন।

    ৩৪.

    কোর্টের পেছনে তাঁতীবাজারের ছোট্ট বাসা। সকালবেলা। মুজিব নাশতা করতে বসেছেন। সঙ্গে অপর দুই গৃহবাসী খোন্দকার আবদুল হামিদ আর মোল্লা জালাল। বাখরখানি এসেছে গরম গরম, আর জিলাপি। নাশতা ভালো হচ্ছে। জিলাপি খাওয়ার একটা অসুবিধা হলো, কামড় দেওয়ার পর রস গায়ে পড়ে। মুজিব খুবই সাবধান। রস তিনি কিছুতেই গায়ে পড়তে দেবেন না। তিনি নিচে বাখরখানি রেখে ওপরে জিলাপি রেখে মুখে পুরছেন।

    একটু পরে দেখলেন, শার্টে জিলাপির রস লেগে গেছে। কোন পথে যে রস পড়ে!

    এমন সময় ঘরে এসে ঢুকলেন খোকা। পুরো নাম মমিনুল হক খোকা। শেখ মুজিবের ফুফাতো ভাই। তাঁকে দেখে মুজিব উচ্চ স্বরে বললেন, ‘এই তুই কোথায় থাকিস। আমি নূরপুর গেছলাম। ফুপুআম্মা বললেন, তোর কোনো খবরাখবর পান না। ব্যবসার জন্য নাকি বাড়ি থেকে টাকাপয়সা আনছিস। তারপর আর কোনো খবর নাই। নে, নাশতা কর। বস।

    ‘আমি নাশতা কইরে এসেছি মিয়াভাই।’

    ‘থো। কী নাশতা করছিস। নে বস। জিলাপি আর বাকরখানি দুইটাই গরম আছে।’

    নাশতা খাওয়া হয়ে গেলে মুজিব বললেন, ‘খোকা। তুই কোথায় থাকিস? বাসা নিছিস কোথায়?’

    ‘আরমানিটোলা। রজনী বোস লেন।’

    ‘চল তো, দেখে আসি তোর বাসা।’

    মুজিব আর খোকা রিকশায় চললেন আরমানিটোলা। বাইরে আকাশে মেঘ। রোদ ওঠেনি। দিনটা মৃত মাছের চোখের মতো। রাস্তার ধারে একদল কাক পাতার ঠোঙা নিয়ে টানাটানি করছে।

    তাঁরা রজনী বোস লেনে এসে পড়েছেন। বটতলার নিচে অবনীর মিষ্টির দোকান। এই দোকানে পাওয়া যায় দারুণ স্বাদের পুরী আর ঘিয়ে ভাজা হালুয়া। এইখানে আড্ডা বসে মমিনুল হক খোকাদের, বন্ধুবান্ধব রোজ ভিড় করেন এখানে। ওই যে ওখানে আগাখান সম্প্রদায়ের মোহাম্মদ ভাইয়ের বাড়ি। আরেকটু দূরে দেখা যাচ্ছে বোম্বে রেস্টুরেন্ট।

    মুজিব নামলেন রিকশা থেকে। রিকশাওয়ালাকে বললেন, “ভাই, আপনি একটুখানি ওয়েট করেন। আমি এখনই আবার ফিরব।’

    ৮/৩ রজনী বোস লেনের বাড়িতে ঢুকে পড়লেন মুজিব। চারদিক তাকিয়ে দেখলেন। রান্নাঘর, শৌচাগার সব। তারপর বললেন, ‘চল, আমার সাথে চল।’

    মমিনুল হক খোকা বাধ্য ছেলের মতো তাঁর মিয়াভাইয়ের রিকশায় উঠে পড়লেন।

    তাঁতীবাজারের বাড়িতে গিয়ে তিনি মোল্লা জালাল আর খোন্দকার আবদুল হামিদকে বললেন নির্দেশের স্বরে, ‘এই, তোমরা সব বিছানাপত্র গুছায়া লও। আমরা আজ থেকে খোকার বাসাতেই থাকব।’

    মুজিবের কথার ওপরে কোনো কথা চলে না।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনজনের বিছানাপত্র, সুটকেস, ব্যাগ এসে পৌঁছে গেল রজনী বোস লেনের বাড়িতে।

    মুজিবের কপালে জুটল একটা ছোট্ট কামরা।

    সেই ছোট কামরাতেই আতাউর রহমান খান, আবুল মনসুর আহমদের মতো বড় বড় নেতারা প্রায়ই আসতে লাগলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিপুলা পৃথিবী – আনিসুজ্জামান
    Next Article যারা ভোর এনেছিল – আনিসুল হক

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }