Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উষার দুয়ারে – আনিসুল হক

    লেখক এক পাতা গল্প305 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উষার দুয়ারে – ৪০

    ৪০

    শেখ মুজিবের নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াহিদুজ্জামান। পূর্ব বাংলার সেরা ধনীদের একজন। তাঁর নিজের লঞ্চ, নিজের স্পিডবোট; সাইকেল, মাইক্রোফোনের তো কোনো ইয়ত্তা নাই। তাঁর নিযুক্ত কর্মীসংখ্যাও কম নয়।

    শেখ মুজিবের নির্বাচনী রসদ সাকল্যে একটা মাইক্রোফোন। দুইটা সাইকেল। গোপালগঞ্জ আর কোটালীপাড়া থানা মিলে তাঁর নির্বাচনী এলাকা। রাস্তাঘাট নাই বললেই চলে। নদীনালা খালবিলে ভরা। মুজিবের নিজের পরিবারের কয়েকটা দেশি নৌকা আছে। এই নিয়েই মুজিব নেমে পড়লেন নির্বাচনী প্রচারাভিযানে।

    গোপালগঞ্জের লোকেরা তাঁকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাসে। তিনি নামার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে ঘিরে ধরল মানুষ। নিজেদের সাইকেল নিয়ে এসে পড়ল স্বেচ্ছাসেবক কর্মিবাহিনী।

    তিনি কয়েকটা জনসভায় বক্তৃতা করলেন। মানুষের যে সাড়া পেলেন, তাতে বুঝলেন, ওয়াহিদুজ্জামান শোচনীয়ভাবে হারতে যাচ্ছেন।

    মুজিব যেখানেই যাচ্ছেন, লোকজন শুধু তাঁকে ভোট দেবার অঙ্গীকার প্রকাশ্যে ব্যক্ত করছে, তা-ই নয়; তারা তাঁকে জোর করে বসিয়ে সামনে পানদানিতে রাখছে পান আর কিছু টাকা, নজরানা। নিতেই হবে। এ হলো শেখ মুজিবের জন্য মানুষের উপহার। তারা তাঁকে নির্বাচনী খরচ জোগাতে চাইছে। ওয়াহিদুজ্জামানের টাকা বেশি। মুজিবের টাকা নাই। টাকার অভাবে মুজিব যেন হেরে না যান। গরিব মানুষ, সাধারণ মানুষ নিজের পকেটের টাকা বের করে পানদানিতে রেখে মুজিবকে বাধ্য করছে তা গ্রহণ করতে।

    একজন বৃদ্ধা দাঁড়িয়ে আছেন পথের ধারে। মুজিব ছুটছেন এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি, পথে সবার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। গ্রামের মেয়েরা তাঁকে বিশেষভাবে দেখতে চায়, গ্রামের মানুষ বলে, ‘অন্দরে চলেন, মহিলারা আপনেরে একটু দেখতি চায়, বাবা।’

    এর মধ্যে একজন বৃদ্ধার ডাক, ‘বাবা, মুজিবর, বাবা মুজিবর, একটু শুইনে যাও বাবা।’ পরনে শতচ্ছিন্ন বস্ত্র, সমস্ত শরীর মলিন, মুখে বলিরেখা, চুল যেন পাটের আঁশ, চোখ কোটরাগত, চোখের নিচে শুকনো অশ্রু আর ধূলিবালি মিলে পিঁচুটির দলা। তিনি তার শীর্ণ হাত তুলে মুজিবকে ডাকছেন, ‘বাবা, মুজিবর।’

    ‘কী মা?’

    ‘একটু ঘরের ভেতরে এসো, বাবা। ভাঙা ঘর। বুড়ি মানুষ। একলা থাকি, বাবা। তোমারে যে বইসতে দিব বাবা, আমার তো সাধ্য নেই। তবু তুমি যদি একটু আসো।’

    মুজিব তার পর্ণকুটিরে ঢুকলেন। রোদে রোদে ঘুরছেন, ঘরের ভেতরটার ছায়া তার শরীর একটুখানি জুড়িয়ে দিল।

    বৃদ্ধা বললেন, ‘কী দিই তোমারে, কী দিই সোনামুখে, একটুখানি দুধ রাখছি বাবা। বসে একটু খেয়ে নাও।

    মুজিব বসে দুধটুকু পান করলেন।

    বৃদ্ধা তার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করছেন। তারপর আঁচলের গিঁট খুলে একটা সিকি বের করে দিয়ে বললেন, ‘বাবা, আমার সাধ্য থাকলে আরও কিছু দিতাম। এই আমার সব।

    মুজিব কয়েকটা টাকা পকেট থেকে বের করে বৃদ্ধার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। বললেন, ‘মা, আপনি দোয়া করবেন। আপনি আমার জন্য যা করেছেন, আমি সারা জীবন মনে রাখব।’ মুজিবের চোখ দিয়ে দরদর করে অশ্রুপাত হতে লাগল।

    বৃদ্ধা মুজিবের টাকা তো নিলেনই না, তবে তাঁর দেওয়া সিকিটা তাঁকে গ্রহণ করতে হলো।

    মুজিব মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন, ‘যে মানুষ আমারে এত ভালোবাসে, সেই মানুষেরে ধোঁকা আমি দিতে পারব না।

    এইভাবে এক টাকা, আট আনা করে শেখ মুজিবের পকেটে জনসাধারণের দেওয়া পাঁচ হাজার টাকা জমে গেল।

    এত ভালোবাসা, এত সাড়া! তবু মুজিবের মনে শঙ্কা, জিতবেন তো!

    এর কারণ, মুজিবের নিজের ইউনিয়নের বিখ্যাত আলেম ও সুবক্তা শামসুল হক সম্প্রতি মুসলিম লীগে যোগ দিয়েছেন। স্পিডবোটে চড়ে তিনি গ্রামের পর গ্রামে যাচ্ছেন। আর ফতোয়া দিচ্ছেন, নৌকায় ভোট দিলে ইসলাম শেষ হয়ে যাবে, ধর্ম থাকবে না। শামসুল হক সাহেবকে শেখ মুজিব নিজেই খুব শ্রদ্ধা করেন। তাঁর সঙ্গে তাঁর খুবই ভালো সম্পর্ক। তিনি যখন ফতোয়া দিচ্ছেন, তখন হতাশ না হয়ে উপায় কী? শুধু শামসুল হক সাহেব নন, শর্ষিনার পীর, বরগুনার পীর, শিবপুরের পীর, রহমতপুরের শাহ সাহেব—সবাইকেই জড়ো করতে পেরেছেন দেশের সবচেয়ে বড়লোকদের একজন ওয়াহিদুজ্জামান। পীর সাহেবদের পেছনে তাঁদের তালেবে এলেমরা ছুটছে। কারও কোনো বিশ্রাম নাই। শেখ মুজিবকে হারাতেই হবে। একদিকে টাকা, একদিকে পীরদের অবিরাম ফতোয়া। যদি ইসলাম বাঁচাতে চাও, মুসলিম লীগকে ভোট দাও। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হলেন সরকারি কর্মচারীরা। ঢাকা থেকে এলেন পুলিশের প্রধান, পরিষ্কারভাবে কর্মচারীদের নির্দেশ দিলেন, মুসলিম লীগকে সমর্থন করুন। জেলার ম্যাজিস্ট্রেটই শুধু বললেন, আমি সরকারি কর্মচারী, আমি তো প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতে পারব না। তাঁকে বদলি করে দেওয়া হলো। তাঁর বদলে যে জেলা ম্যাজিস্টেট এলেন, তিনি প্রকাশ্যে বক্তৃতা করে বেড়াতে লাগলেন মুসলিম লীগের পক্ষে। শুধু কি তাই, তিনি ভোটকেন্দ্র এমনভাবে স্থানান্তর করতে লাগলেন, যাতে ওয়াহিদুজ্জামানের সুবিধা হয়।

    ঢাকায় সোহরাওয়ার্দীর কাছে খবর গেল। মুজিবের বিরুদ্ধে সরকার, পীর সাহেবেরা সবাই মিলে একজোট হয়ে লেগে পড়েছে। তিনি চলে এলেন গোপালগঞ্জে। দুটো জনসভায় ভাষণ দিলেন। মওলানা ভাসানীও এলেন। একটা সভা করলেন।

    এবার সরকার মুজিবের কর্মী ও নেতাদের গ্রেপ্তার করতে আরম্ভ করল। এক ইউনিয়নেই আটক করা হলো ৪০ জন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে।

    এদিকে শুধু নিজের আসনের দিকে দেখলে হবে না, আশপাশের জেলাতেও তো যেতে হবে অন্য প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারাভিযানে অংশ নিতে। মুজিব তাও গেলেন।

    ৪১.

    তাজউদ্দীন আহমদ ভোট নিয়ে এত চিন্তিত নন। তাঁর বয়স কেবল ২৯। এর মধ্যে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। আবার ভর্তি হয়েছেন আইন ক্লাসে। ভোটের প্রচারাভিযানে বের হন, বাজারে বাজারে যান, হাটে যান, লোকের সঙ্গে কথা বলেন, যুক্তফ্রন্টকে ভোট দিতে আহ্বান জানান মানুষকে। আবার ট্রেনে চড়ে ঢাকা চলে আসেন, আইন বিভাগের ক্লাসে যোগ দেন। সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমাও দেখেন।

    তিনি বড় নেতা নন। অন্যের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে তাঁকে বক্তৃতা করতে হয় না। কিন্তু তিনি জানেন, নিজের এলাকায় তিনি জনপ্রিয়। তিনি এই ২৯ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত তাঁর বাড়িতে গেছেন, এলাকার প্রতিটা সমস্যায় লোকে তাঁকে পাশে পেয়েছে। এর ওপরে আছে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে নির্বাচনী হাওয়া।

    কিন্তু একটা দুশ্চিন্তা আছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক পুরোনো বড় নেতা ফকির আবদুল মান্নান।

    মওলানা ভাসানী চললেন তাজউদ্দীনের নির্বাচনী এলাকায়।

    রাজেন্দ্রপুর রেলওয়ে স্টেশনের পর ঘন গজারিবন। সেই বনের ভেতর দিয়ে একচিলতে একটা কাঁচা রাস্তা। সাইকেল নিয়ে পথ চলা সহজ। কিন্তু ভাসানী যাবেন কীভাবে? তাজউদ্দীনের নিকটাত্মীয়দের হাতি আছে। চাইলেই হাতি তিনি পেয়ে যান। এর আগেও তিনি একবার দুটো হাতিতে চড়ে শিকারে বেরিয়েছিলেন ঢাকা থেকে আসা বকু করিম সাহেবকে নিয়ে।

    মওলানা ভাসানী কাপাসিয়া চলেছেন হাতির পিঠে চড়ে।

    প্রতিপক্ষ ভয় পেয়ে গেল। মওলানা ভাসানী যদি তাজউদ্দীনের পক্ষে জনসভায় ভাষণ দেন, তাহলে তো পরাজয় নিশ্চিত।

    যে-করেই হোক, মওলানা ভাসানীর আগমন প্রতিহত করতে হবে।

    কী করে করা যায়?

    হাতি খুব ভয় পায় আগুনকে।

    মওলানা ভাসানী চলেছেন গজেন্দ্রগমনে। হাতির পিঠে তাঁর সঙ্গে বসে আছেন তাজউদ্দীন। আর আছে মাহুত। তার হাতে অঙ্কুশ।

    তাজউদ্দীন বললেন, হুজুর, যত মৌলভি সাহেব, পীর সাহেব, খারিজি মাদ্রাসার ছাত্র, সবাই তো একজোট, সবার তো এক রা। যুক্তফ্রন্টকে ভোট দিলে বিবি তালাক হয়ে যাবে। যুক্তফ্রন্ট ইন্ডিয়ার দালাল। নৌকায় ভোট দিলে ইসলাম খতম হয়ে যাবে।

    মওলানা ভাসানী বললেন, ‘কইতে দেও। কইতে দেও। খালি ভোটের দিনটা আইতে দেও। ভোট হোক। ভোট গোনা হোক। দেইখো কী হয়। মুসলিম লীগ টাকাপয়সা ছিটাইতেছে। মানষে দুই চারটা টাকা পাইয়া দুই চার কথা কইতেছে। ভোটের দিন হেরাও মুসলিম লীগেরে ভোট দিতে পারব না।’

    তাঁরা ঘন বনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। বসন্তের বাতাস বইছে। হঠাৎ হাতি চঞ্চল। মাহুত আতঙ্কিত। বনের মধ্যে আগুন দিল কে? সূর্যনারায়ণপুর জায়গাটার নাম। আগুন জ্বলছে। ধোঁয়া উঠছে পথের দুধারের গাছে। আর তো হাতি যাবে না। না গেলে উপায়টাই বা কী? মওলানা ভাসানীর নাম করে মাইকিং করা হয়েছে। আজকের জনসভায় তিনিই প্রধান বক্তা। ভাসানীর নাম শুনলেই হাজার হাজার মানুষ জড়ো হবে।

    তাজউদ্দীন বললেন, ‘আগুন লাগা জায়গাটা কোনোমতে পার করে ফেলো।’

    মাহুত হাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে চাইল। হাতি কিছুতেই আগুনের মধ্যে যাবে না। সে দিশেহারা হয়ে ছুটতে লাগল। মাহুতের কোনো নিয়ন্ত্রণই নাই হাতির ওপরে।

    মওলানা ভাসানী ও তাজউদ্দীন ছিটকে পড়ে গেলেন হাতির পিঠ থেকে।

    কিন্তু কী আশ্চর্য, দুজনেই অক্ষত রইলেন পুরোপুরি।

    হাতি ছেড়ে দিয়ে দুজনে হাঁটাপথে রওনা হলেন। সাইকেল নিয়ে ছুটল কর্মীরা। মোষের গাড়ি আনতে। ততক্ষণে আগুন নিভে গেছে।

    মওলানা ভাসানী আবার হাতির পিঠে আরোহণ করলেন। হাতিতে চড়েই তারা হাজির হলেন জনসভাস্থলে।

    সারা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ল, মুসলিম লীগাররা মওলানা ভাসানী ও তাজউদ্দীন আহমদকে হত্যা করতে চেয়েছিল।

    জনতা স্লোগান ধরল, তোমার আমার মার্কা, নৌকা নৌকা।

    ৪২

    সোহরাওয়ার্দীকে যেতে হলো মোশতাককে দোয়া করার জন্য। তাও মোশতাকের নির্বাচনী এলাকার পাশে এলাকায়।

    সোহরাওয়ার্দী একটা চা-চক্রে দাওয়াত করেছেন দাউদকান্দির নেতা- মাতব্বরদের। সবাই এসেছেন সেই চা-চক্রে। খন্দকার মোশতাকও উপস্থিত। সোহরাওয়ার্দী সবার খোঁজখবর নিচ্ছেন। সবার হাতে চায়ের কাপ এগিয়ে দিচ্ছেন। তাঁকে কেন এখানে আসতে হলো, সে কথা মনে করে আপন মনে হাসছেন। মোশতাকও ভাবছেন, ভাগ্যিস বুদ্ধি করে সেদিন মুজিবকে ধরেছিলাম।

    ঘটনা এই : মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ঢাকায় ফিরে এসেছেন মুজিব। এসে দেখলেন, আওয়ামী লীগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা মনোনয়ন পান নাই। চট্টগ্রামের এম এ আজিজ পান নাই, খোন্দকার মোশতাকের মতো জেলখাটা কর্মীও নমিনেশন পান নাই।

    মোশতাক ধরে বসলেন মুজিবকে। ‘মুজিব, তুমি থাকলা না। আমি নমিনেশন পাইলাম না। কিন্তু ইলেকশন করবই। স্বতন্ত্র থেকে।’

    মুজিব বললেন, ‘নৌকা মার্কার যে জোয়ার এসে গেছে, তাতে কি আর স্বতন্ত্র থেকে করলে জিতবা?’

    মোশতাক বললেন, ‘তোমার লিডাররে বলো আমার এলাকায় গিয়া আমারে সাপোর্ট দিতে।’

    মুজিব বললেন, ‘সেটার তো নিয়ম নাই। আমরা অঙ্গীকার করেছি, কেন্দ্রীয় নেতারা কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ নিবে না। তাদের জন্য ভোট চাবে না।’

    মোশতাক বললেন, ‘তবু তুমি নিয়া চলো আমাকে লিডারের কাছে। তুমি বললে তিনি না করতে পারবেন না।’

    মুজিব গেলেন সোহরাওয়ার্দীর কাছে, সঙ্গে খোন্দকার মোশতাক, গিয়েই মুজিব উচ্চ স্বরে বলতে লাগলেন, “লিডার, এটা আপনারা কী করলেন! মোশতাক কী করে নমিনেশন পায় না। সে আমাদের জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিল। জেল থেকে কেবল বার হয়েছে।

    সোহরাওয়ার্দী বললেন, ‘এখন তো আর বলে কোনো উপায় নাই। নমিনেশন পেপার তো সাবমিট হয়ে গেছে।’

    মুজিব বললেন, ‘ও তো স্বতন্ত্র হিসাবে নমিনেশন সাবমিট করেছে।’

    মোশতাক সোহরাওয়ার্দীর হাত ধরে বললেন, ‘স্যার, আপনাকে আমার এলাকায় যেতে হবে। আপনার পাশে দাঁড়ায়া থাকব। আপনি পরিচয় করায়া দিবেন।’

    সোহরাওয়ার্দী বললেন, “তা করতে হামি পারব না। তবে যেটা পারব, তোমার পাশের কন্সটিটুয়েন্সিতে যাব।

    ‘আচ্ছা, আপনি চলেন। আপনার পাশে যদি একটু দাঁড়াতে পারি, তাহলেই হবে।’

    সোহরাওয়ার্দী গেলেন মোশতাকের আসনের পাশের এলাকায়।

    সেখানে দাউদকান্দি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দাওয়াত করলেন চা- চক্রে। সেখানেই তিনি মোশতাককে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। বললেন, ‘ওকে আমরা নমিনেশন দিতে পারি নাই। কৃষক শ্রমিক পার্টিকে দিতে হলো। ওর জন্য আমার দোয়া আছে। আপনারাও দোয়া করবেন।’

    ৪৩.

    নির্বাচন হলো কয়েক দিন ধরে। ১৯৫৪-এর বসন্ত যেন মধুর দক্ষিণা বাতাস বইয়ে দিতে লাগল পূর্ব বাংলায়।

    গ্র্যাজুয়েটস স্কুল, ঢাকা। সন্ধ্যা নামছে আকাশে আবির ছড়িয়ে। উজ্জ্বলতা চারদিকে। কনে-দেখা হলদে আলোয় ঝলমল করছে সব। সোহরাওয়ার্দী দাঁড়িয়ে আছেন একটা দেয়ালে ঠেস দিয়ে। তাঁর গায়ে গেরুয়া পাঞ্জাবি, পরনে সাদা পায়জামা। তাঁকে খুব ক্লান্ত কিন্তু পরিতৃপ্ত দেখাচ্ছে। কমলা রোদ এসে পড়েছে তাঁর চুলে। তাঁকে দেখাচ্ছে একটা পিতলের ভাস্কর্যের মতো।

    সাংবাদিকেরা তাঁকে এটা-ওটা প্রশ্ন করতে লাগল।

    তিনি বললেন, ‘হামার মনে হয় মুসলিম লীগ অ্যাসেম্বলিতে নিজেদের গ্রুপ বানাতে পারবে না। গ্রুপ বানাবার জন্য দরকার হয় ১০ জন মেম্বার। আমার হিসাব বলে, ওরা ৯টার বেশি সিট পাবে না।’

    ফল বেরোতে সময় লাগল। ৯-১০ মার্চ ভোট হয়েছে, ফল বেরোল ১৮ মার্চ। ২৩৭টা মুসলিম আসন। দেখা গেল, মুসলিম লীগ পেয়েছে নয়টি আসন। সোহরাওয়ার্দীর হিসাব কাঁটায় কাঁটায় মিলে গেল।

    যুক্তফ্রন্ট পেল ২২৮টি।

    দৈনিক ইত্তেফাক অফিস। সবে সন্ধ্যা পেরিয়েছে। অফিসের সামনে জনতার বিশাল ভিড়। তারা উদ্‌গ্রীব, উৎফুল্ল, উৎকর্ণ। সবার মধ্যে একটা বিষয়ে কৌতূহল। প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিনের কী খবর? তিনি কি জিতেছেন, নাকি হেরে গেছেন?

    একটা ফোন এল ইত্তেফাক অফিসে। ফোন করেছেন ময়মনসিংহের টেলিফোন অপারেটর নিজেই। ‘শুইনছেন, ময়মনসিংহের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ফুন করছিলেন চিফ সেক্রেটারি ইসহাক সাহেবের কাছে, নুরুল আমিন হাইরা গেছে।’

    এই খবর একজন জানিয়ে দিল ইত্তেফাক অফিসের সামনে সমবেত জনতাকে। অমনি উল্লাসে ফেটে পড়ল সমবেত মানুষগুলো।

    ভিড় বাড়তেই লাগল। ইত্তেফাক অফিসের অদূরেই ফজলুল হকের বাড়ি। সেই বাড়ির সামনেও ভিড়।

    মধ্যরাতে একটা ছাত্র মিছিল বেরোল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে। খড়ম মিছিল। ছাত্রেরা দুই হাতে দুটো খড়ম নিয়ে বাজাতে বাজাতে শহর প্রদক্ষিণ করল। মুখে তাদের জারি গান।

    ইত্তেফাক-এর বার্তা সম্পাদক সিরাজুদ্দীন হোসেন মিটি মিটি হাসছেন। গুনগুন করে গান গাইছেন। তাঁকে এত উল্লসিত দেখতে রিপোর্টারদেরও খুব ভালো লাগছে।

    এই সময় নুরুল আমিনের পরাজয়ের খবরটি লিখে একজন রিপোর্টার তাঁর সামনে রাখল।

    রিপোর্টার শিরোনাম দিয়েছেন : নুরুল আমিন ধরাশায়ী।

    সিরাজুদ্দীন হোসেন রিপোর্টটা হাতে পেয়ে চোখ রাখতেই গম্ভীর হয়ে গেলেন।

    সিরাজ ভাই কি নুরুল আমিনের পরাজয়ে মন খারাপ করলেন? তা কেন হবে? তিনি তো একটু আগেও গুনগুন করে গান গাইছিলেন।

    সিরাজুদ্দীন হোসেন হেডলাইনটা কেটে নতুন একটা হেডলাইন দিলেন।

    ‘পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক আকাশ থেকে অশুভ নক্ষত্রের কক্ষচ্যুতি।’ হেডলাইনটা দিয়ে তারপর তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।

    পরদিন এটা ইত্তেফাক-এ ব্যানার হেডলাইন হিসেবে প্রকাশিত হলো।

    প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিন পরাজিত হলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খালেক নেওয়াজের কাছে।

    কাপাসিয়ার ভোট গণনা শেষ হয়েছে রাত আটটায়। তাজউদ্দীন আহমদ ভোট গণনা দেখতে গিয়েছিলেন তিনটার দিকে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অফিসে I নিজের ভোট গোনা শেষ হওয়ার আগেই বের হয়ে এসেছেন। আগের দিন বিকালে ক্লাস করেছেন। সেকেন্ড শো সিনেমা দেখেছেন লায়ন হলে, ছবির নাম শিবশক্তি। বাড়ি ফিরেছেন রাত সাড়ে ১২টার পরে। আজকে রাত আটটায় যখন ফল ঘোষিত হলো, দেখা গেল, তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। তিনি পেয়েছেন ১৯ হাজার ৩৯ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুসলিম লীগের সম্পাদক ফকির আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৭২ ভোট, তখন তাকে ছাত্রযুব কর্মীরা টেনে নিয়ে গেল মিছিলে। বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত মিছিল গেল, ফিরে এল সিমসন রোডে যুক্তফ্রন্ট অফিসে।

    সোহরাওয়ার্দী, আতাউর রহমান খান, কাদের সর্দার, কফিলউদ্দিন চৌধুরী, কামরুদ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করলেন তাজউদ্দীন।

    তারপর আবার মিছিল তাঁকে সঙ্গে নিয়ে চলল নবাবপুর সড়ক ধরে ফজলুল হক হলে, সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল হয়ে এসএম হলে। রাত সাড়ে ১২টায় শেষ হলো মিছিল।

    .

    শেখ মুজিব ঢাকা ফিরছেন। নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত স্টিমার। তারপর ট্রেন।

    ট্রেন চলছে। ঝিকঝিক ঝিকঝিক। স্টিম ইঞ্জিনের ট্রেন। শেখ মুজিবের সঙ্গে কয়েকজন কর্মী। তাঁর মনে প্রশ্ন, ক্ষমতাসীন দলের এত বড় ভরাডুবি পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোথাও কখনো হয়েছে কি না! বাঙালিরা রাজনীতির জ্ঞান রাখে। তারা রাজনীতিসচেতন। এবারের ভোটেও তা-ই প্রমাণিত হয়ে গেল। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান ইস্যুতেও বাঙালি একই রকমভাবে রাজনীতি-সচেতনতার প্রমাণ রাখতে পেরেছিল।

    ইসলাম শেষ হয়ে গেল, আওয়ামী লীগ কাফেরের দল, মুসলিম লীগ হলো মসজিদ, ইমাম বদলানো যায়, মসজিদ ভাঙা যায় না, যারা মুসলিম লীগ ভেঙেছে তারা কাফের—কত কী বলল এই মুসলিম লীগাররা।

    বাংলার মানুষ ভোট দেবার সময় এদের কোনো কথাকেই পাত্তা দিল না।

    কত বাঘা বাঘা মুসলিম লীগ নেতা পরাজিত হয়েছেন।

    আবার নির্বাচনের আগে মুসলিম লীগ চেষ্টা করেছে বাঙালি-অবাঙালি বিভাজন সৃষ্টি করতে। চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী কাগজের কলে অবাঙালি কর্মকর্তাদের বলা হলো, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে অবাঙালিদের থাকতে দেওয়া হবে না বাংলায়।

    মুজিব ভাবছেন, তাদের আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী আছে, যারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করে। তারা জানে, সমাজতন্ত্রই মুক্তির একমাত্র পথ। তারা জানে, ধনতন্ত্র মানেই শোষণ। আর যারা সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তারা কোনো দিন কোনো রকমের সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে না। তাদের কাছে মুসলমান, হিন্দু, বাঙালি, অবাঙালি সকলেই সমান। শোষক শ্রেণীকে তারা পছন্দ করে না।

    রেনুর কথাও মনে পড়ে। রেনু সন্তানসম্ভবা। এবার আসার সময় কেমন ছলছল চোখে তাকাচ্ছিল। মুজিবের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যাচ্ছে, সেটা তিনি অনুভব করেছেন। হাসিনা আর কামাল তো নৌকা নৌকা করে বাড়িময় দৌড়াদৌড়ি করছিল। আব্বা খুব খুশি হয়েছেন। তিনি ইলেকশনের ফল শুনে মুজিবকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। আর ছাড়তেই চাচ্ছিলেন না। তাঁর চোখে ছিল জল।

    তিনি বলেছিলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম, তুমি উকিল হও। আইন পড়ো। এবার তুমি আইন পরিষদের মেম্বার হলে। আইন তোমরাই রচনা করবে। এটা কম কথা নয়।’

    .

    ফুলবাড়িয়া স্টেশনে ট্রেন থামল। শেখ মুজিব নামলেন। বিপুলসংখ্যক ছাত্রজনতা তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিল আর তাঁর সঙ্গে চলল মিছিল করতে করতে। নবাবপুর রোডের আওয়ামী লীগ অফিসে গেলেন তিনি। সোহরাওয়ার্দী ছিলেন সেখানে, তাঁকে দেখে এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন। ‘তোমাকে নিয়েই চিন্তিত ছিলাম’—সোহরাওয়ার্দী বললেন। মুজিব হেসে বললেন, ‘আপনি কিন্তু আমার বাড়িতে বলে এসেছিলেন তোমার জয় সুনিশ্চিত।

    শেখ মুজিবের কাছে হেরে গেছেন ওয়াহিদুজ্জামান।

    আর সোহরাওয়ার্দীর দোয়ার বদৌলতে জয়লাভ করলেন খন্দকার মোশতাক।

    তার প্রতিদানও তিনি দিলেন। তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগকে সমর্থন না দিয়ে সমর্থন দিতে লাগলেন কৃষক শ্রমিক পার্টিকে (কেএসপি)। কেএসপি তাঁকে চিফ হুইপ বানিয়ে দিল

    ৪৪.

    সোহরাওয়ার্দী মুজিবকে আলাদা করে ডেকে নিয়েছেন। বললেন, ‘হামার কথা মন দিয়ে শোনো। ‘

    মুজিব বললেন, ‘লিডার, আমি কখনোই আপনার অবাধ্য হই নাই। আপনি বলেন।

    ‘তোমাকে হামি পার্লামেন্টে ডেপুটি লিডার বানাব। তুমি মন্ত্রী হতে চাবা না।’

    ‘আমি তো মন্ত্রী হতে চাই না, স্যার।’

    ‘তুমি বয়সে ছোট। পার্লামেন্টে তোমার কোনো অভিজ্ঞতা নাই। এ কে ফজলুল হক লিডার হবেন। তুমি তাঁর সঙ্গে থেকে সব শিখবা। তাঁকে তোমার লাইনে রাখবা। আওয়ামী লীগের যে আদর্শ, যে কমিটমেন্ট সেইটা থেকে যেন হক সাহেব সরে যেতে না পারেন, সেইটা তুমি দেখবা

    ‘ঠিক আছে স্যার। তবে আওয়ামী লীগ তো পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। আমাদের আসন ১৪৩, কৃষক শ্রমিক পার্টি ৪৮। মাইনরিটি দল থেকে কী করে লিডার হবে, এইটা আওয়ামী লীগের কর্মীদের কী করে বোঝাব?’

    না না। সবাই বুঝবে। এ কে ফজলুল হক যে লিডার, এইটা পুরা দেশ জানে আর মানে। ৮১ বছর বয়সী একটা মানুষ। তাঁকে মানতে হবে।’

    ‘জি স্যার। আপনি যা বলবেন। আমি আসলে মন্ত্রী হতে চাই না। অনেক যোগ্য প্রার্থী আছে। তাদের মধ্য থেকে দেখেশুনে মন্ত্রী করেন। আমি পার্টির কাজ করতে চাই।’

    .

    আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি দলের সভা বসেছে। সোহরাওয়ার্দী আর ভাসানী দুজনেই উপস্থিত।

    সোহরাওয়ার্দী সাহেব বললেন, ‘দেশের মানুষ হক সাহেবকে লিডার মেনে ভোট দিয়েছে। আপনারাও ভোট চেয়েছেন, তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন, এই কথা বলে। এখন আর কোনো রকমের বেইমানি করা যাবে না। তাঁকেই লিডার নির্বাচন করা হবে।’

    রংপুরের খয়রাত হোসেন বললেন, ‘বিনা শর্তে হক সাহেবকে লিডার করলে তিনি কী করবেন না করবেন তার কোনো ঠিকঠিকানা নাই। অতীতে এই ধরনের উল্টাপাল্টা কাজ তিনি অনেক করেছেন। আমরা এক কাজ করি। লিডার নির্বাচনের আগেই হক সাহেবের মন্ত্রিসভায় কে কে থাকবেন, সেটার তালিকা ও পোর্টফলিও ঠিক করে হক সাহেবের স্বাক্ষর নিয়ে রাখি। গভর্নরের কাছে সেই চিঠি যাবে। তারপর আমরা হক সাহেবকেই নির্বাচিত করি।’

    সোহরাওয়ার্দী বললেন, ‘না না, এটা হবে খুবই ক্ষুদ্র মনের কাজ। অতীতে তিনি যা-ই করে থাকুন না কেন, এই বৃদ্ধ বয়সে তিনি ভুল করবেন না।’

    সোহরাওয়ার্দীর কথায় অনেকেই আশ্বস্ত হলো, যারা হলো না, তারা কথা বাড়াতে চাইল, সোহরাওয়ার্দী ধমক দিয়ে তাদের বসিয়ে দিলেন 1

    তারপর বসল যুক্তফ্রন্টের সভা।

    মওলানা ভাসানী সভাপতিত্ব করলেন।

    সর্বসম্মতিক্রমে ফজলুল হক লিডার নির্বাচিত হলেন। তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখলেন সোহরাওয়ার্দী।

    মওলানা ভাসানী মোনাজাত পরিচালনা করলেন।

    .

    মন্ত্রী কারা হবেন, তা নির্ধারণের জন্য ফজলুল হকের বাড়িতে বসলেন তিন নেতা—হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দী।

    সেই সভাতেই মনোমালিন্য দেখা দিল। প্রথমেই ফজলুল হক বললেন, ‘আমার একটা কথা আছে। আপনাদের আওয়ামী লীগ থেকে যাকেই মন্ত্রী করতে চান না কেন, শেখ মুজিব যেন মন্ত্রী না হয়। আমি তাকে মন্ত্রী করব না।’

    শেখ মুজিব মন্ত্রী হতে চান না।

    কিন্তু আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, তারা কাকে মন্ত্রী করবে না করবে, সেটা তাদের ব্যাপার। এটা নিয়ে ফজলুল হক কথা বলতে পারেন না। ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দী বললেন, ‘তাহলে আমাদেরও একটা কথা আছে। আপনি আপনার ভাগনে নান্না মিয়াকে মন্ত্রী করতে পারবেন না।’

    ‘এটা তো আপনারা বলতে পারেন না,’ ফজলুল হক বললেন।

    ঘোরতর অচলাবস্থা দেখা দিল। আর শেখ মুজিবের পক্ষে রাস্তায়, ফজলুল হকের বাড়ির সামনে ছাত্রজনতা মিছিল করতে লাগল।

    যুক্তফ্রন্ট আবার বুঝি ভেঙে যায়!

    ফজলুল হকের প্রস্তাব : ‘মন্ত্রী হবেন পাঁচজন। আওয়ামী লীগের দুইজন, আতাউর রহমান খান এবং সালাম খান। পরে আরও পাঁচজনকে নেওয়া হবে।’

    আওয়ামী লীগ বলল, ‘হয় পুরো মন্ত্রিসভা করেন, তা না হলে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী দরকার নাই। আপনি বাকি তিনজনকে নিয়ে শপথ নেন।’

    তা-ই হলো।

    কৃষক শ্রমিক পার্টির আবু হোসেন সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক (নান্না মিয়া) আর নেজামে ইসলামীর আশরাফউদ্দিন চৌধুরী শপথ নিলেন মন্ত্রিত্বের।

    গভর্নর হাউসের সামনে তখন মিছিল হচ্ছে, ‘স্বজনপ্রীতি চলবে না’, ‘কোটারি করা চলবে না’।

    মিছিলের সামনে পড়লেন ফজলুল হক। তিনি গভর্নর ভবন থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। গাড়ির জানালা দিয়ে তিনি মুখ বের করে বললেন, “কিসের স্বজনপ্রীতি?’

    ‘আপনি নান্না মিয়াকে মন্ত্রী বানিয়েছেন?’

    ‘নান্না মিয়া কি এমএলএ হয় নাই?’

    ‘তা হয়েছেন। কিন্তু তিনি তো আপনার ভাগনে।’

    ‘আমার ভাগনে বলে কি সে পচে গেছে?’

    বিক্ষোভকারী ছাত্ররা এই প্রশ্নের উত্তর হঠাৎ করে খুঁজে পেল না। ফজলুল হক তাঁর বাড়ির দিকে চলে গেলেন।

    .

    সোহরাওয়ার্দী চলে গেলেন করাচি

    সেখানে গিয়ে এত দিনের পরিশ্রম আর অনিয়মের মাসুল তাকে গুনতে হলো। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিপুলা পৃথিবী – আনিসুজ্জামান
    Next Article যারা ভোর এনেছিল – আনিসুল হক

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }