Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    এই দাহ – গৌরকিশোর ঘোষ

    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী) এক পাতা গল্প121 Mins Read0
    ⤷

    এই দাহ – ১

    ১

    মনোরমা তার দেহটা আমাকে দিয়েছিল। মনোরমা ভালবাসা দিয়েছিল তার স্বামীকে।

    এখন রাত কত?
    যতই হোক না, জেনে এমন কী লাভ হবে তোমার? তার চেয়ে লেখাটা শেষ করে ফ্যালো গোলোক। সময় খুব বেশি নেই।

    মনোরমার এত নিবিড় সান্নিধ্যে এসে, এত ঘনিষ্ঠ হয়েও আমি বুঝতে পারিনি, এক মুহূর্তের জন্যেও টের পাইনি, মনোরমা অকাতরে শুধু তার দেহটাই বিলিয়ে দিয়েছিল আমাকে। অথচ তার মন, তার প্রেম, কৃপণের ধনের মতো সঞ্চয় করে রেখেছে তার স্বামীর জন্য। শুধু স্বামীর জন্য।

    যখন টের পেলাম, তখন, তৎক্ষণাৎ কেমন যেন হীন মনে হল নিজেকে। যেন অনধিকার প্রবেশ করেছি মনোরমার দেহে। নিজের দিকে নজর পড়ল আমার। ঠাণ্ডা চোখে মনোরমাকে দেখতে চেষ্টা করলাম। প্রচলিত আইন-কানুন, সংস্কার, পাপ-পুণ্য দিয়ে গড়া পৃথিবীটা জ্বলজ্বল করে ভেসে উঠল আমার বুদ্ধি-বিবেচনায়। লজ্জায় ঘৃণায় অনুশোচনায় যেন আমার মাথাটা মাটিতে মিশে গেল। নিজেকে লুকিয়ে ফেললাম। পারলে নিজের কাছ থেকেও আড়াল করে রাখতাম।

    এই আজ যেমন রেখেছ? ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে? টেবিলের ওপর ঐ শিশিটা কিসের গোলোক? মাঝে মাঝে যেটাকে নাকের কাছে এনে ধরছ? শুঁকছ?

    ওটা ক্লোরোফর্মের শিশি। বিকেলে ফার্মেসি থেকে কিনে এনেছি। বন্ধু এক ডাক্তারের সই জাল করে। শক্ত করে ছিপি আঁটা আছে। তাই গন্ধ নাকে ঢুকছে না। সময় আসুক তখন ওর ছিপি খুলব। তখন ওটা কাজে লাগবে। ও তো মানুষ নয়, শিশি। যখন-তখন ওর সংযমের ছিপি আলগা হয় না।

    ২

    মানুষ প্রবৃত্তির দাস। কথাটা নতুন নয়। বহুবার শুনেছে গোলোক। কিন্তু মানেটা আগে বোঝেনি। কারণ প্রবৃত্তি কাকে বলে জানত না। মনোরমাকে চেনবার আগে এসব নিয়ে মাথা ঘামায়নি। এমন কি মনোরমা আর সে যে একই বাসার বাসিন্দা গোলোক তাও জানত না। কোনও দিকে চেয়ে তো দেখত না সে, নিজেকে নিয়েই মগ্ন ছিল।

    এমনিতেই সে কুনো প্রকৃতির। তারপর যক্ষ্মায় ভূগে সে একেবারে গুটিয়ে নিয়েছিল নিজেকে। দেড় বছর হাসপাতালে ছিল। চিকিৎসার খরচ নিয়মিত জুগিয়েছেন তার দাদা। আরও টাকা পাঠিয়েছেন। এখনও পাঠান। নিয়মিত চিঠি লিখেছেন। এখনও লেখেন। গোলোককে কত উৎসাহ দিয়েছেন। এখনও দিচ্ছেন। গোলোক যেন হতাশ না হয়। যক্ষ্মাকে ভয় করার কিছুই নেই। ম্যালেরিয়ার চাইতেও যক্ষ্মার ধার কমে গেছে আজকাল।

    কিন্তু দেড় বছরের মধ্যে সেই ভর্তি করাতে যা একদিন এসেছিলেন তার দাদা। আর না। না, গোলোক তার দাদাকে দোষ দেয় না। বরং মনে মনে হাসে। বিশেষ করে, তার খালাস হবার দিন যত এগিয়ে এসেছে, ততই তার দাদাকে তার স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বিগ্ন হতে দেখেছে গোলোক। গোলোক যেন এখন দিন কতক কোনও স্বাস্থ্যকর জায়গায় গিয়ে থাকে। এই ঘিঞ্জি কলকাতায়, যেখানে নির্মল বায়ু এক ফোঁটাও নেই, খালি ধোঁয়া আর আবিলতা, সেখানে এখন আসবার দরকার কী গোলোকের? বারবার তার দাদা চিঠি দিয়েছেন।

    বরং গোলোক ছবি আঁকার কাজে এবার মনপ্রাণ ঢেলে দিক না। ভাল ভাল জায়গায় গিয়ে থাকুক, প্রাণ ভরে নিজের কাজ করুক গোলোক, এই তার দাদা চায়। টাকার জন্য একটুও যেন চিন্তা না করে গোলোক। ভাইকে একেবারে নর্মাল করে তুলতে যত টাকা লাগে তার জন্য দাদা যে পরোয়া করেন না, সে-কথাও বারবার তাকে জানিয়েছেন দাদা। গোলোকের হাসি পেয়েছে। আরও অনেকের চিঠি পেত গোলোক। প্রথম প্রথম অনেকেই উদ্বেগ দেখাত। চিঠি লিখত। সহপাঠীরা লিখত। ঝর্নাও। সে কাউকে জবাব দিত না।

    হাসপাতাল থেকে গোলোকের দাদার বাসা মাত্র আড়াই ঘন্টার পথ। সেই পথ পাড়ি মেরে চিঠি এসেছে, টাকা এসেছে। প্রয়োজনের বেশি টাকাই এসেছে গোলোকের দাদার কাছ থেকে। না চাইতেই এসেছে। কিন্তু দাদা আসেনি। বৌদিও না। গোলোক মনে মনে হেসেছে।

    স্যানাটোরিয়ামে গেল না গোলোক। একখানা ঘর ভাড়া নিল টালিগঞ্জের খালের ধারে। বেশ নির্জন। বেশ খোলামেলা। তার ফ্ল্যাটটাই শুধু একখানা ঘরের। হাতের ওপর ঘর। বেশ বড়।

    দাদাকে লিখল, নিরিবিলিতে কাজ করতে চায়, তাই সে এখানে বাসা নিয়েছে। দাদার বাসা থেকে দেড় ঘন্টার পথ এখন। তাই আরও তাড়াতাড়ি জবাব এল। টাকা এল। কিছুমাত্র অসুবিধে হলেই যেন গোলোক লিখে জানায়। নম্যাল লাইফে ফিরে আসছে গোলোক, এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই তার দাদার কাছে।

    হাসপাতালের ডাক্তারবাবুও এমনি আশ্বাস দিয়েছিলেন। —এই দেখুন মশাই এক্সরে-র ছবি, একেবারে ক্লিয়ার। এই স্পুটামের রিপোর্ট দেখুন, অ্যাবসলিউটলি ফ্রি। আর এই দেখুন ব্লাড রিপোর্ট, নেগেটিভ। একেবারে সেরে গেছেন মশাই। এখন যান, নম্যাল লাইফ লিড করুন। নাউ চিয়ার আপ।

    এই দেড় বছরে যা করেনি, গোলোক দুম করে তা-ই করে বসল। এতদিন সে খানিকটা উদাসীনভাবেই থেকেছে। উপযাচক হয়ে কোনও প্রশ্নই করেনি। কিছু জানতে চায়নি। খুঁৎ খুঁৎ করেনি।

    এই প্রথম আচমকা এক প্রশ্ন করে বসল, “বিয়ে করতে পারব?”

    “বিয়ে!” লোকটা যে কথা বলতে জানে, ডাক্তারবাবু যেন এই প্রথম তার পরিচয় পেলেন। একটু হকচকিয়ে গেলেন। মেট্রন মুখ ফিরিয়ে হাসি চাপলেন।

    “বিয়ে? ও অফকোর্স। তবে কেয়ার নিয়ে চলবেন, ডোন্ট গো ফাস্ট। ‘ ডাক্তারবাবু আর মেট্রন হেসে উঠলেন।

    মেট্রন জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী, পাত্রী ঠিক হয়েছে নাকি!

    গোলোক আর দ্বিতীয় কথা বলেনি সেদিন।

    গোলোক তার ঘরে টাঙানো আয়নায় দাড়ি কামাচ্ছিল। কামাতে কামাতে কথাটা মনে পড়ায় হেসে ফেলল। একা, একেবারে একা থাকতে খারাপ লাগে না তো। গোলোক কিছুতেই মনে করতে পারল না, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবার সময় বিয়ের কথাটাই বা হঠাৎ কেন তুলেছিল। পাত্রী ঠিক আছে না কি? কার কথা মনে পড়েছিল তখন। ঝর্নার? পাগল! ডোন্ট গো ফাস্ট! হুঁ! এক পাও কোথাও নড়তে চায় না গোলোক।

    ৩

    আমি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম, এই ঘরের বাইরেও জীবন আছে। আমি এখানে নিজের কাজ প্রথম থেকে নিজেই করতাম। নিজের কাজ মানে ছবি আঁকা নয়, ঘরকন্নার কাজ। জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ, সব। কুকার ছিল, রাঁধতাম। বাসন ধুতাম। ঘর সাফ করতাম। বিছানার চাদর, বালিশের ওয়াড়, জামা-কাপড়-গেঞ্জি-আন্ডারওয়ার নিত্য সাবান দিয়ে কাচতাম। কী পরিষ্কার আমার হাতের কাজ। কোথাও সামান্য একটু ময়লা, একটু নোংরাও লেগে থাকত না। একবারের কাজ দু’বার করে করতাম। এসব কাজ আমার খুব ভাল লাগত। এমন অনেকদিন গেছে বইয়ের একটা পাতাও পড়িনি। রঙ তুলি ক্যানভাস বেরই করিনি বাক্স থেকে। শুধু ঘরকন্নার কাজ করেছি। সারাদিন শুধু ঝাড়া-পোছ করেছি। পরিষ্কার করে রেখেছি ঘরখানাকে।

    এতই যদি পরিষ্কার থাকার ঝোঁক তোমার, তবে নিজেকে সাফ রাখতে পারলে না কেন, গোলোক?

    ঘরের তো প্রাণ নেই। আসবাব, তৈজসের তো প্রাণ নেই, তাই হয়তো ওদের পরিষ্কার রাখা সহজ। কিম্বা আমার হয়তো সেই একচক্ষু হরিণের মতো অবস্থা হয়েছিল। তাই সব নজরটা ঘর, আসবাব আর তেজসের উপরই দিয়েছিলাম। একদণ্ড সুস্থির থাকতাম না তো। সব সময় কাজ নিয়ে থাকতাম। আমাকে সে সময় নম্যাল হবার বাতিকে পেয়েছিল। আর এসব জিনিসপত্রকে খুব ভালবাসতাম। এরা আমার ছোঁয়াচ এড়িয়ে চলত না। আমার স্পর্শ পেলে খুশি হত! ওরা আমার কাছে কাছে, আমাকে ঘিরে ঘিরে থাকত। দূরে দাঁড়িয়ে, তফাতে থেকে উৎসাহ দিত না।

    নিজেকে নিয়েই মত্ত ছিলাম। আমার বন্ধু বলতেও আমি, শত্রু বলতেও আমি। যেন আমার বাইরে পৃথিবী নেই। আমার আগেও কিছু নেই, পরেও কিছু নেই। এমনকি আমার যে একদিন যক্ষ্মা হয়েছিল, হাসপাতালে ছিলাম, সেরে উঠে এই বাসা নিয়েছি, সে-সবও প্রায় ভুলতে বসেছিলাম। এমন সময়, বাজারের পথে একদিন সত্যব্রতের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। সত্য আমার আর্ট কলেজের বন্ধু ছিল। তখন এমন দিনও গেছে, একই পেয়ালায় চুমুক দিয়ে দুজনে চা খেয়েছি। এতদিনে পরে সেই সত্যর সঙ্গে দেখা।

    হাসপাতালে ভর্তির দিন দাদার মুখ দেখেছিলাম, আর তার পরে এই সত্যর মুখ দেখলাম। এই আড়াই বছরে আর পরিচিত কারও মুখ দেখিনি। ওই মাঝে মাঝে যখন বাজারে আসতাম, তখনই যা মানুষের মুখ দেখতাম —আর কখনও-সখনও বারান্দায় এসে দাঁড়ালে, পথে খাল-ধারে, বাড়ির হাতে লোকের সাক্ষাৎ পেতাম। কিন্তু যেহেতু তারা আমার পরিচিত কেউ নয়, তাই তাদের অস্তিত্ব আমার কাছে কখনোই স্পষ্ট ওঠেনি।

    সত্যব্রতের সঙ্গে দেখা হওয়ামাত্র বুঝলাম, আমি ছাড়াও জগৎ আছে। আমার একটা অতীত আছে। ইতিহাস আছে। পুরনো একটা চেনা জগৎ আছে। কথাটা মনে পড়তেই আমার মনের স্বস্তি চিড় খেল।

    সত্যব্রতের হাতে অনেক কাজ। তবু সে অনেকক্ষণ গল্প করল। আমার শরীর ভাল হয়েছে, গায়ের রং ফর্সা হয়েছে, আগের চেয়ে মোটা হয়েছি, বলল। বারবার বলল, টি. বি. সম্পর্কে নানা ফস্ ধারণা আছে আমাদের, আজকাল টি. বি. কিওরেবল। একটু সাবধানে থাকতে হয়, এই যা। হ্যাঁ, আর জানাল ঝর্নার বিয়ে হয়ে গেছে। লভ ম্যারেজ। সত্যব্রত বলল, তোর পরে আমাদের বঙ্কিম ওকে পড়াত। তার সঙ্গেই শেষ পর্যন্ত ঝুলে পড়েছে ঝর্না।

    তুমিও তো ঝর্নাকে পড়াতে গোলোক? বছর চারেক পড়িয়েছিলে না?

    সত্যব্রত চলে গেল। এককালে খুব চা-খোর ছিল সত্যব্রত। এখন নাকি রেস্টুরেন্টে আর চা খায় না। বড্ড আরিলায়েবল এই সব দোকানগুলো। কাপ-ডিশ ভাল করে ধোয় না। একজনের জার্মস আর একজনের মুখে ঢুকতে কতক্ষণ!

    সেইদিন থেকে বাইরে যাওয়া একেবারে ছেড়ে দিলাম আমি। একটা ঠিকে ঝি রাখলাম। ধীরে ধীরে ঘরকন্নার ভারও তার হাতে তুলে দিলাম। ঝিটাই আমার কাজকর্ম সব সেরে দিত। শেষে কোনও কাজ আর নিজে করতাম না।

    কেন না জোর পেতাম না। উৎসাহ পেতাম না। এতদিন যে কিসের ঝোঁকে এই ঘর, এই পরিবেশ আর আমি এক হয়ে গিয়েছিলাম জানি না। এখন আমাদের সে-সম্পর্কে চিড় খেয়ে গেল।

    ৪

    সেদিন সত্যব্রতের সঙ্গে দেখা হবার পর গোলোক বাসায় ফিরেছিল অদ্ভুত একটা অস্বস্তি নিয়ে। কী কারণে যে এই অস্বস্তির উৎপত্তি হল, সে বুঝতে পারছিল না। সে কি তবে সত্যব্রতর সঙ্গে নিজের তুলনা করছিল? সত্যব্রত সাধারণ মানুষ। তার সঙ্গে দেখা হলে কত প্রসঙ্গ তোলে তার পরিচিত বন্ধুরা, কিন্তু কখনও এ-কথা কেউ তাকে বলবে কি, কী হে, তুমি তো বেশ নম্যাল হয়ে গেছ। আর কী, এখন আর-পাঁচজনের মতোই জীবন কাটাতে পারবে।

    একথার মানে কি গোলোক বোঝে না? এত সন্দেহ এরা তাকে করে কেন? এত উদ্বেগ তার জন্য দেখায় কেন? গোলোকের স্পুটাম ফ্রি, চেক্ট ক্লিয়ার, ব্লাড রিপোর্ট নম্যাল। গোলোক জানে এ সংবাদে সবাই খুশি হবে। কিন্তু সে খুশির তলায় একটা সন্দেহও পুষে রাখবে। সত্যব্রত যতই বিশ্বাস করুক, গোলোক একেবারে সেরে গেছে, তবু যে-কাপে চা খাবে গোলোক, সত্য সেটাকে সন্দেহ করবে। সে-কাপে মুখ দিতে ভয় পাবে। সত্যব্রতকে লোকে ভাল বলবে, মন্দ বলবে, কিন্তু সে যে নমাল, এ কথা কেউ শোনাবে না।

    গোলোকের অস্বস্তি লাগতে লাগল। খাল-ধারের জানালা খুলে দিল। মেঘে ঢাকা বিবর্ণ এক কলকাতার বিকেল তার চোখে পড়ল। যেন বরফ চাপা দেওয়া বাসী মাছের চোখ। তেতলার দূরত্ব থেকে সে দেখতে লাগল, দুটো লোক ঝগড়া করছে। একটা আধাবয়সী মেয়ে জলের ধারে উবু হয়ে বসে ঘোমটা টেনে প্রাকৃতিক কৃত্য সমাপন করছে। গোটা-চারেক দাঁড়কাক কিসের উপর জটলা করছে।

    দৃষ্টিটা একটু অন্যদিকে ফিরাতেই দোতলা ফ্ল্যাটের বারান্দা তার চোখে পড়ল। শৌখীন লতা, ফুল দিয়ে সাজানো বারান্দার ফালিটা এই প্রথম তার নজরে পড়ল। সবুজ রঙের বেতের চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে একটি মেয়ে বসে আছে। ভাল স্বাস্থ্য, সুন্দর চেহারা, তবু যেন নিঃস্ব। গোলোকের তৎক্ষণাৎ মনে হল, এ-বুঝি যক্ষ্মা হাসপাতালের ফিমেল ওয়ার্ডেরই কোনও রোগী। এমন মুখ হাসপাতালে অনেক দেখেছে গোলোক। এখন ও বোধহয় নম্যাল হয়ে ফিরে এসেছে। গোলোক মনে মনে হাসল। বিদ্রুপের হাসি। তারপর জানালাটা বন্ধ করে দিল।

    এক বছর এই বাসায় কাটিয়ে দিল গোলোক। তবু এ-বাড়িতে যে অন্য ভাড়াটে আছে, তা যেন এই প্রথম টের পেল।

    বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। নাঃ, কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছে না। কোথায় যেন ক্ষীণ একটা শুলুনি দেখা দিয়েছে। স্থির থাকতে দিচ্ছে না। অন্যদিন সে এতক্ষণে কত কাজ করে ফেলত। কিছু না করলেও চা বানাতে অন্তত বসত। আজ সে অসহায়ভাবে শুধু সরঞ্জামগুলোর দিকে চেয়ে রইল। র‍্যাকের উপর কেটলি, হিটার, কাপ, ডিশ, কৌটো ভরা চা, চিনি, জমানো দুধ থরে থরে সাজানো আছে।

    কিন্তু ওগুলো আজ আর হাতছানি দিয়ে তুলতে পারল না তাকে। সে জানে উঠেও যখন সুখ পাবে না, তখন উঠে আর লাভ কী? প্রাণপণ চেষ্টায় সে চোখের পাতা দুটো বুজিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু অস্বস্তি যার সত্তায় কুটকুট করে কামড় মারতে শুরু করেছে, সে চোখ বুজে থাকে কী করে?

    গোলোক বিরক্ত হয়ে উঠে পড়ল। পায়চারি করতে লাগল ঘরে। ঘরখানা বেশ বড়। অনায়াসে দুখানা ঘর হতে পারে। হাতের ওপর ঘর। চারিদিক থেকে আলো আসে। অনায়াসেই একটা ভাল স্টুডিও সে করতে পারে। কিন্তু তার কোনও চেষ্টাই করেনি গোলোক। অথচ হাসপাতালে যাবার আগের জীবনে তার কত সাধ ছিল। এমনি একখানা ঘরে সুন্দর একটা স্টুডিয়ো গড়ে তোলার। কিন্তু তখন তার দাদার এ বিষয়ে কোনও আগ্রহ ছিল না। বরং গোলোক জানে, এ-ইচ্ছা প্রকাশ করলে তার দাদা নাকই সিঁটকাত। এখন, গোলোক যাতে নম্যাল জীবন যাপন করতে পারে, তারই জন্য দাদা ছবি আঁকার পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু গোলোক খুশি হত, তার দাদা যদি কেরানিগিরি করবার নির্দেশ দিত। গোলোক যে টালিগঞ্জে এসে ছবি আঁকতে চায়, একথা শুনে দাদা সত্যিকারের খুশি হয়েছে। আর তার সুন্দরী বউ স্বস্তি পেয়েছে, গোলোক একবারও সে বাসার চৌকাঠ মাড়ায়নি দেখে। বৌদির পরামর্শেই দাদা নিয়মিত টাকা পাঠিয়ে যাচ্ছে, গোলোক তা জানে। এটা তার দূরে থাকার মজুরি। গোলোকের এক এক সময় মনে হয়, এ যেন ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া। সুন্দর এক ব্ল্যাকমেলিং। যেন তার দাদা বৌদি জানে, যে মুহূর্তে তারা টাকা দেওয়া বন্ধ করবে, সেই মুহূর্তেই গোলোক গিয়ে হাজির হবে বাসায়। তাই সে সম্ভাবনা বন্ধ করো, পাঠাও যত টাকা সে চায়।

    টাকার এখন আর অভাব নেই তার দাদার। ঠিকাদারির কল্যাণে তার এখন অঢেল রোজগার। আয়কর দেয়, বাড়ি গাড়ি এবং জীবনের জন্য ইন্সিওরেন্সের প্রিমিয়াম দেয়, স্যানিটারি নিরাপত্তার জন্য কর্পোরেশনের ট্যাক্স দেয়, ডাক্তারের ফি-ও দেয়। তেমনি গোলোকের খাতেও একটা খরচ দাদার বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে।

    তাই গোলোক জানে, চাইলেই এখন সে টাকা পায়। মন করলেই স্টুডিয়ো খাড়া করে তুলতে পারে। কিন্তু কেন? কিসের জন্য?

    গোলোকের মনে এক যন্ত্রণা তীব্রভাবে কামড় মারল। দ্রুত এগিয়ে গিয়ে সে একটানে জানালাটা আবার খুলে ফেলল। এখন খালধারে সে আর কাউকে দেখতে পেল না। কলহরত পুরুষ দুটো নেই, ঘোমটা-টানা সেই মেয়েলোকটা নেই, দাঁড়কাকের জটলাটাও নেই। আছে শুধু মেঘ-চাপা বিবর্ণ দিনের আলোটুকু। আর নীচে চেয়ে দেখল গোলোক, তেমনিভাবেই বসে আছে দোতলা ফ্ল্যাটের ফুল-লতায় সাজানো বারান্দায় সেই মহিলাটি। আগে যে-জায়গায় যে-ভঙ্গিতে বসে ছিল, এখনও সেইখানে তেমনি ভাবেই বসে আছে। একটুও নড়চড় হয়নি তার। যেন একটি মোমে গড়া মানুষের পূর্ণাবয়ব প্রতিমূর্তি।

    না, এতেও স্বস্তি পেল না। জানালাটা আবার বন্ধ করে দিতে যাবে, এমন সময় গোলোক দেখল, মেয়েটি নিস্পৃহ চোখ তুলে তার দিকে একবার চাইল। গোলোক কী জানি কেন জানালাটা বন্ধ করে দিতে গিয়েও দিল না। সে শুধু সরে এল।

    ও কি অসুস্থ? প্রশ্নটা একবার গোলোকের মনে ভেসে উঠেই তৎক্ষণাৎ তলিয়ে গেল। গোলোক আর কিছু না ভেবে চা তৈরি করায় মন দিল।

    ⤷
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজল পড়ে পাতা নড়ে – গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    Next Article প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত

    Related Articles

    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    জল পড়ে পাতা নড়ে – গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    মনের বাঘ – গৌরকিশোর ঘোষ

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    গড়িয়াহাট ব্রিজের উপর থেকে, দুজনে – গৌরকিশোর ঘোষ

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    প্রতিবেশী – গৌরকিশোর ঘোষ

    August 8, 2025
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)

    গৌড়ানন্দ সমগ্ৰ – গৌরকিশোর ঘোষ (অসম্পূর্ণ)

    August 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }