Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    এই শুভ্র এই – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প135 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৬. বিশ দিন পর শুভ্রর ঘরে

    বিশ দিন পর শুভ্রর ঘরে মনজুর ডাক পড়ল। সকাল আটটা মাত্ৰ বাজে। মনজু নাশতা শেষ করে চা খেতে বাড়ির সামনের চায়ের দোকানে বসেছে। কড়া করে এক কাপ চায়ের অর্ডার দিয়ে দিনের প্রথম সিগারেট ধরিয়েছে। এমন সময় রহমতউল্লাহ ছুটতে ছুটতে এসে বলল, ছোট সাহেব ডাকেন।

    মনজু হাই তুলতে তুলতে বলল, ঠিক আছে।

    রহমতউল্লাহ বললেন, ঠিক আছে মানে? তাড়াতাড়ি যাও।

    মনজু বলল, চা-টা খেয়ে যাই।

    রহমতউল্লাহ বিস্মিত গলায় বললেন, তোমার ডাক পড়েছে, তুমি এক্ষণ ছুটে যাবে। আয়েশ করে চা খাওয়া আবার কী?

    মনজুরহমতউল্লাহরতউল্লাহর ক্রুদ্ধ দৃষ্টির সামনে মোটামুটি আয়েশ করেই চায়ে চুমুক দিল।

    রহমতউল্লাহ বললেন, ব্যাপারটা কী তোমার? তুমি কি এইখানে চাকরি করতে চাও না? মাঝখানে এক রাত কোথায় কাটায়ে এসেছ। তোমার ভাগ্য ভালো, আমি রিপোর্ট করি নাই। এখন আবার নবাবী চালে চা খাচ্ছ।

    মনজু বলল, আমি ঠিক করেছি। ছাতার চাকরি করব না।

    চাকরি করবে না?

    না। চাকরের চাকরি আমার পোষাবে না।

    ছোটসাহেবের সঙ্গে দেখা করবে না?

    দেখা করলেও করতে পারি। চাচাজি, আপনি চা খাবেন? এরা চা ভালো বানায়। খান এক কাপ। পয়সা আমি দেব।

    রহমতউল্লাহ রাগী চোখে তাকিয়ে থাকলেন। মনজু প্ৰথম কাপ চা শেষ করে দ্বিতীয় কাপ নিল। আরেকটা সিগারেট ধরাল। দিনের প্রথম চায়ের সঙ্গে পর পর দুটা সিগারেট খেতে হয়। মামা-ভাগ্নে সিগারেট।

    রহমতউল্লাহ বললেন, মনজু, তুমি চাকরি কর বা না কর ছোটসাহেব ডেকেছেন দেখা করে আস।

    মনজু বলল, যাচ্ছি। সিগারেট শেষ করেই যাচ্ছি। আপনি এত অস্থির হবেন না। অস্থির হবার কিছু নাই।

    রহমতউল্লাহ বললেন, তোমার সমস্যাটা কী?

    মনজু বলল, আমার কোনোই সমস্যা নাই। সমস্যা আপনার। খাবেন এক কাপ চা? দিতে বলব?

     

    শুভ্র কালো রঙের প্যান্টের সঙ্গে ধবধবে সাদা সার্ট পরেছে। তাকে দেখাচ্ছে শ্বেতপাথরের মূর্তির মতো। শ্বেতপাথরের মূর্তির চুল বাতাসে উড়ে না। সে ফ্যানের নিচে বসে আছে বলে তার মাথার চুল উড়ছে। শুভ্র মনজুকে দেখেই হাসি মুখে বলল, Hello young man and the tree.

    মনজু কিছু বলল না। সে অদ্ভুত রূপবান যুবকের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। হুট করে তার মাথায় অদ্ভুত একটা চিন্তা চলে এলো। ইস, সে যদি রুনুকে শুভ্ৰ ভাইজানের সামনে দাঁড়া করাতে পারত! রুনু কী বলত তাকে দেখে?

    শুভ্র বলল, বুড়োমানুষ দেখলেই আমার মাথায় সমুদ্রের ইমেজ চলে আসে। আর্নেস্ট হেমিংওয়ে Old man and the sea উপন্যাসটি লিখে এই কাণ্ডটা করেছেন। তার উপন্যাসটা পড়ার পর পরই আমার ইচ্ছা করল। আমি একটা উপন্যাস লিখি যার নাম Young man and the tree, শেষপর্যন্ত অবশ্যি লেখা হয় নি। তুমি হেমিংওয়ের বই পড়েছ?

    জি-না।

    উনার নাম শুনেছে?

    জি-না। ভাইজান, আমি ইংরেজি তেমন জানি না।

    তাতে অসুবিধা নেই, হেমিংওয়ের বইয়ের বাংলা অনুবাদ পাওয়া যায়।

    ভাইজান, আমার বই পড়তে ভালো লাগে না।

    ভালো বই কখনো পড় নি বলে ভালো লাগে না। ভালো বই পড়ে দেখতে হবে। মানুষ খুবই উন্নত প্রাণী। ভালো জিনিস যাতে তার ভালো লাগে প্রকৃতি সেই ব্যবস্থা করে রেখেছে।

    সব মানুষ একরকম না। কেউ আপনার মতো, আবার কেউ আমার মতো।

    শুভ্র বলল, আচ্ছা থাক, পরে এই নিয়ে কথা বলব। তুমি কেমন আছ?

    ভাইজান, আমি ভালো আছি।

    কফি খাবে? এক্সপ্রেসো কফি— প্রচুর ফেনা। অতিরিক্ত মিষ্টি।

    বিস্মিত মনজু বলল, জ্বি ভাইজান খাব।

    শুভ্র বলল, তুমি চেয়ারটায় বসো। তাকিয়ে দেখ আমি কীভাবে কফি বানাই।

    মনজু বলল, ভাইজান এর মধ্যেও কি কোনো ম্যাজিক আছে?

    শুভ্র বলল, পৃথিবীর সব কিছুর মধ্যেই ম্যাজিক আছে। এই যে তুমি চেয়ারটায় বসেছ এর মধ্যেও আছে। ম্যাজিক অব গ্রাভিটেশন। মধ্যাকর্ষণের ম্যাজিক। মধ্যাকর্ষণ কে বের করেছিলেন জানো?

    জি-না।

    স্যার আইজ্যাক নিউটন। পদার্থবিদ্যার সুপার জায়েন্ট। কী পরিমাণ মেধা যে এই মানুষটা নিয়ে এসেছিল…

    শুভ্ৰ কথা বলতে বলতে এক্সপ্রেসো মেশিনে কফি বানাচ্ছে। তার দুটি চোখ বন্ধ। মনজু অবাক হয়ে ভাবছে- এইটাই কি ম্যাজিক? চোখ বন্ধ করে কফি বানানো? চোখ বন্ধ করে কফি বানাতে এই মানুষটার কোনোরকম অসুবিধা হচ্ছে না। দু। মগ ভর্তি কফি নিয়ে চোখ বন্ধ করেই সে ফিরে আসছে। মনজুর দিকে কফির মগ এগিয়ে দিয়ে শুভ্ৰ চোখ খুলল।

    হালকা গলায় বলল, কফি বানানোর ম্যাজিক কেমন দেখলে? অন্ধ হয়ে যাবার পর আমার যেন কোনো অসুবিধা না হয়- তার ব্যবস্থা।

    মনজু অবাক হয়ে বলল, অন্ধ হবেন কেন ভাইজান?

    শুভ্ৰ কফিতে চুমুক দিতে দিতে বলল, আমার অপটিক নাৰ্ভ শুকিয়ে যাচ্ছে। যে-কোনো একদিন দরবারের সব আলো নিভে যাবে।

    মনজু অবাক হয়ে বলল, ভাইজান, এইসব কী বলেন?

    শুভ্র সহজ ভঙ্গিতে বলল, এখন যে আমি দেখতে পারছি, this is important. চল যাই। আজ সারাদিন ঘুরব।

    মনজু বলল, কোথায় যাবেন ভাইজান?

    শুভ্র বলল, আমি ঠিক করেছি এখন প্রতিদিন তোমাকে নিয়ে বের হব। সুন্দর সুন্দর দৃশ্য দেখব। মেমোরি সেলে জমা করে রাখব। অন্ধ হয়ে যাবার পর যেন স্মৃতি থেকে দেখতে পারি। স্মৃতির জাবর। তুমিই বলে কোথায় যাওয়া যায়?

    ভাইজান, বুড়িগঙ্গায় যাবেন?

    যাওয়া যায়। বুড়িগঙ্গার মাঝখানে নৌকা ড়ুবিয়ে ঘসেটি বেগমকে মেরে ফেলা হয়েছিল। ঠিক কোনখানে নৌকাড়ুবি হয়েছিল সেই জায়গাটা খুঁজে বের করতে পারলে ভালো হতো।

    ঘসেটি বেগম কে?

    নবাব সিরাজদ্দৌলার খালা। সিরাজদ্দৌলাকে চেন তো?

    জি চিনি। উনার ছবিও দেখেছি। আনোয়ার হোসেন সাহেব অভিনয় করেছিলেন। ভাইজান, ছবিটা আপনি দেখেছিলেন? খুবই মারাত্মক।

    না, আমি ছবিটা দেখি নি। অনেক কিছু তুমি জানো যা আমি জানি না, আবার অনেক কিছু আমি জানি যা তুমি জানো না। তাহলে কী ঠিক করা হলো? আমরা বুড়িগঙ্গায় যাচ্ছি।

    আপনে যেখানে বলবেন সেখানে যাব।

    বুড়িগঙ্গাই ভালো। মনজু, নদীটার নাম বুড়িগঙ্গা কেন হলো? যুবতীগঙ্গা কেন হলো না?

    জানি না ভাইজান। আমার বুদ্ধি খুবই কম।

    কে বলেছে তোমার বুদ্ধি কম?

    আমার দূরসম্পর্কের একজন বোন আছে, রুনু নাম। এইবার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিবে। সে বলেছে।

    তার কি খুব বুদ্ধি?

    জি।

    কীভাবে বুঝলে তার খুব বুদ্ধি?

    মনজু আগ্রহ নিয়ে বলল, কেউ মিথ্যা কথা বললে সে সঙ্গে সঙ্গে ধরে ফেলে। আমি যতবার তার সঙ্গে মিথ্যা কথা বলেছি, ততবারই ধরে ফেলেছে।

    মেয়েটার নাম রুনু, তাই না?

    জি ভাইজান।

    মেয়েটাকে একবার আমার কাছে নিয়ে এসো। বুদ্ধি পরীক্ষা করার কিছু টেস্ট আছে। আমি পরীক্ষা করে বলে দেব তার আইকিউ কত।

    জি ভাইজান, আমি নিয়ে আসব।

     

    গাড়িতে উঠেই শুভ্র বলল, ড্রাইভার সাহেব, আপনার সঙ্গে যে মোবাইল টেলিফোন আছে সেটা বন্ধ করে দিন। মা একটু পর পর খোঁজ করবে। আমি কোথায় আছি কী করছি- আমি সেটা চাচ্ছি না।

    ড্রাইভার বলল, মোবাইল অফ করলে ম্যাডাম খুব রাগ করবেন। শু

    ভ্র বলল, রাগ সামলানোর ব্যবস্থা করা যাবে। মোবাইল বন্ধ থাকুক।

    ড্রাইভার অপ্ৰসন্ন মুখে মোবাইল অফ করল। শুভ্র ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে বলল, ড্রাইভার সাহেব, মুখ ভোঁতা করে রাখবেন না। মুখ ভোঁতা করার মতো কিছু হয় নি।

    ড্রাইভার শুকনা গলায় বলল, জ্বি আচ্ছা।

    শুভ্র মনজুর দিকে তাকিয়ে বলল, তোমার বোনকে আমাদের সঙ্গে উঠিয়ে নিলে কেমন হয়? সুন্দর সুন্দর দৃশ্য একা বা দোকা দেখা যায় না। তিনজন লাগে। Three is company.

    মনজু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। ভাইজান এইসব কী বলছে?

    শুভ্র বলল, রুনু কি আমাদের সঙ্গে যেতে রাজি হবে? তোমার কথায় রাজি না হলে আমি অনুরোধ করে দেখতে পারি। রুনু থাকে কোথায়?

    মনজু বিড়বিড় করে বলল, যাত্রাবাড়িতে।

    শুভ্র ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে আনন্দিত গলায় বলল, আগে যাত্রাবাড়িতে চলুন। সেখান থেকে আমরা যাব বুড়িগঙ্গায়।

     

    মোতাহার হোসেনের নির্দেশ আছে- অতি জরুরি কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হলে বাড়ি থেকে কখনো তাকে টেলিফোন করা যাবে না। অফিস এবং বাড়ি হলো তেল ও জল। যখন তিনি তেলে থাকবেন তখন তেলেই থাকতে চান। ঝাকুনি দিয়ে তেল-জল মেশানোর পক্ষে তিনি কখনো না।

    জাহানারা যখন টেলিফোনে আতঙ্কিত গলায় জানালেন, শুভ্ৰ সকাল দশটা এগারো মিনিটে মজনু না-কি ফজনু নামের ছেলেটাকে নিয়ে বের হয়েছে তখন মোতাহার হোসেন গম্ভীর গলায় বললেন, এটা কি অতি জরুরি কোনো খবর?

    জাহানারা বললেন, অবশ্যই জরুরি। এরপর থেকে ওরা কোথায় আমি ট্রেস করতে পারছি না। ড্রাইভার হারামজাদা মোবাইল অফ করে রেখেছে। ওকে আমি বলে রেখেছি শুভ্রকে নিয়ে যখনই বের হবে মোবাইল খোলা রাখবে।

    মোতাহার হোসেন বললেন, আমার ধারণা শুভ্ৰই বন্ধ রাখতে বলেছে।

    শুভ্ৰ কেন বন্ধ রাখতে বলবে?

    তোমার অশরীরী উপস্থিতি হয়তো তার পছন্দ না। তুমি টেনশান করো না।

    আমি টেনশান করব না? ঢাকা শহরে রোজ কয়টা রোড এক্সিডেন্ট হয় তুমি জানো?

    না জানি না।

    ইররেসপনসিবল একটা ড্রাইভার! ও নিৰ্ঘাৎ কোনো ট্রাকের সঙ্গে গাড়ি লাগিয়ে দেবে। অটোমেটিক গাড়ি, কোনো অ্যাক্সিডেন্ট হলে দরজা-জানালা লক হয়ে যাবে। দরজা না কেটে শুভ্ৰকে বের করা যাবে না।

    কী বলছি। এসব?

    জাহানারা কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, আমি কাল রাতে ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন দেখেছি। এই জন্যেই এত টেনশন করছি।

    ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন তো তুমি প্রতিরাতেই দেখ।

    কাল রাতের মতো ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন কম দেখি। কাল রাতে কী স্বপ্ন দেখেছি শোন। স্বপ্ন বলা ঠিক না, তারপরেও বলছি।

    মোতাহার হোসেন বললেন, বাসায় এসে শুনব। টেলিফোনে স্বপ্ন শুনে মজা পাওয়া যায় না।

    জাহানারা কঠিন গলায় বললেন, আমি একটা দুঃস্বপ্ন দেখেছি। দুঃস্বপ্নের আবার মজা কী! কাল রাতে স্বপ্নে আমি প্ৰকাণ্ড একটা কালো রঙের হাতি দেখেছি।

    হাতি কি তোমাকে কিছু করেছে?

    না, কিছু করে নি। হাতির গলায় ঘণ্টা বাধা। ঘণ্টা বাজিয়ে হাতি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে।

    এটা তো তেমন দুঃস্বপ্ন বলে আমার মনে হচ্ছে না।

    তুমি এই বিষয়ে কিছু জানো না বলে এরকম বলতে পারলে। সাদা হাতি দেখা ভালো। সাদা হাতি দেখলে ধন লাভ হয়। কালো হাতি দেখার মানে অতি প্রিয়জনের মৃত্যু।

    মোতাহার হোসেন হতাশ গলায় বললেন, মৃত্যু ঠেকানোর উপায় কী?

    জাহানারা বললেন, আজ সন্ধ্যায় আমি তালতলার পীর সাহেবের কাছে যাব। উনার দোয়া নেব।

    বেশ তো যাও।

    তুমি উনার কাছে খবর পাঠাও যে আজ আমি যাব। উনি সপ্তাহে দুদিন হুজরাখানায় বসেন। তখন কেউ তাকে ডিসটর্ব করতে পারে না। আজ হলো সেই দুদিনের একদিন। আগে খবর না দেয়া থাকলে উনি হুজরাখানায় বসে পড়বেন।

    খবর পাঠাচ্ছি।

    দ্বীপ কি কেনা হয়েছে?

    দ্বীপ কেনা হয়েছে মানে কী?

    জাহানারা হতাশ গলায় বললেন, তোমাকে বললাম না ছোট্ট একটা দ্বীপ কিনে দিতে? আমার কোনো একটা কথাও কি তুমি মন দিয়ে শোন না?

    মোতাহার হোসেন বিরক্ত গলায় বললেন, কাঁদছ কেন?

    জাহানারা ফোঁপাতে ফোঁপাতে বললেন, কাঁদব না তো কী করব? আনন্দে নাচব? খুব ভালো কথা— নাচব। অফিস ছুটি দিয়ে বাড়িতে চলে এসো, স্ত্রীর নাচ দেখে যাও। চাও দেখতে?

    মোতাহার হোসেন টেলিফোন রেখে সুলেমানকে ডেকে পাঠালেন। পৃথিবীর সমস্ত ধনবান ব্যক্তিদের একজন ম্যাজিক পারসন থাকে। যে-কোনো জটিল কাজ এরা করতে পারে। কীভাবে তারা করে সেই বিষয়টি কখনো ব্যাখ্যা করে না।

    মোতাহার হোসেনের টেবিলের সামনে মাথা নিচু করে সুলেমান দাঁড়িয়ে আছে। রোগী লম্বা একজন মানুষ। চোখের নিচে গাঢ় হয়ে কালি পড়েছে। মাথার চুল এবং গালের খোঁচা খোঁচা দাড়ি সবই পাকা, অথচ বয়স এখনো পঞ্চাশ হয় নি। চেহারা বিশেষত্বহীন। এই চেহারা একবার দেখলে দ্বিতীয়বার আর মনে থাকে না।

    কেমন আছ সুলেমান?

    স্যার ভালো আছি। আপনার দোয়া।

    মোতাহার হোসেন বললেন, দোয়া তো আমি কারো জন্যে করি না।

    সুলেমান বলল, এই যে আপনি জিজ্ঞেস করেছেন— কেমন আছ সুলেমান। এতেই দোয়া হয়েছে।

    মোতাহার হোসেন বললেন, তালতলার পীর সাহেবের কাছে একটা খবর পাঠাতে হবে। আজ সন্ধ্যায় শুভ্রর মা উনার কাছে যাবেন। উনার দোয়া নেবেন?

    জি আচ্ছা।

    সুলেমান চলে যাচ্ছে না, দাঁড়িয়ে আছে। সে জানে জটিল কোনো কাজ তার জন্যে অপেক্ষা করছে। বড় সাহেব জটিল কোনো কাজের আগে একটা অতি সহজ কাজ দেন। একেকজন মানুষের কর্মপদ্ধতি একেক রকম। বড় সাহেব চট করে জটিল কাজে যান না। সুলেমান বলল, স্যার, আর কোনো কাজ আছে?

    মোতাহার হোসেন বললেন, আমি বঙ্গোপসাগরে ছোট্ট একটা দ্বীপ কিনতে চাই। এটা কি সম্ভব?

    সুলেমান বলল, কেনা সম্ভব না। সরকারি খাস জমি বিক্রি হয় না। তবে নিরানব্বই বছরের জন্যে লীজ নিতে পারেন। লীজ নেওয়া কেনার মতোই।

    মোতাহার হোসেন বললেন, নিরানব্বই বছরের জন্যে কেন? একশ বছর না কেন?

    সুলেমান বলল, খাস জমি একশ বছরের জন্যে লীজ হয় না। ওদের কী একটা হিসাব আছে আমি জানি না। আপনি যদি জানতে চান আমি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে খোঁজ নিয়ে জানাতে পারি।

    জানতে চাচ্ছি না।

    সুলেমান বলল, স্যার, আমি কি চলে যাব?

    মোতাহার হোসেন জবাব দিলেন না। টেবিলে রাখা ফাইলের দিকে চোখ ফেরালেন। এর অর্থ হলো— তোমার সঙ্গে কথা শেষ হয়েছে, তুমি চলে যেতে পার।

     

    জাহানারা ঘর অন্ধকার করে শুয়ে আছেন। তার মাথা দপদপ করছে। সকিনা কপালে জলপট্টি দিচ্ছে। জলপট্টি বদলে দেয়া ছাড়াও তাকে আরেকটি কাজ করতে হচ্ছে— প্রতি দশ মিনিট পর পর মোবাইল টেলিফোনে শুভ্রর ড্রাইভারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা। চেষ্টায় কোনো ফল হচ্ছে না। টেলিফোন বন্ধ।

    জাহানারার মাথার দপদপানি মাইগ্রেনের দিকে যাত্রা শুরু করেছে বলে মনে হচ্ছে। এখন চোখ জুলুনি শুরু হয়েছে। মাইগ্রেনের ব্যথা শুরুর এটা হলো পূর্বলক্ষণ। যদি সত্যি সত্যি ব্যথা উঠে যায় তাহলে তালতলার হুজুরের কাছে যাওয়া যাবে না। খবর দিয়ে না যাওয়া বিরাট বেয়াদবি হবে। জাহানারা অস্থির বোধ করছেন।

    সকিনা বলল, মা, আপনি কি মাথার যন্ত্রণার অন্য একটা চিকিৎসা করবেন?

    জাহানারা বললেন, অন্য কী চিকিৎসা?

    সকিনা বলল, আমাদের গ্রামে অচিনবৃক্ষ বলে একটা বৃক্ষ আছে। বর্ষাকালে সেই বৃক্ষে ফুল ফুটে। তখন যদি কেউ সেই গাছে হাত রেখে কিছু চায় তাহলে সে সেটা পায়।

    জাহানারা বিরক্ত গলায় বললেন, এইসব আজগুবি কথা আমাকে শুনাবে না। গাছের কাছে চাইলেই গাছ দিয়ে দেবে। গাছ কি পীর সাহেব না-কি?

    সকিনা বলল, বহুকাল আগে এক সাধু কুমিরের পিঠে চড়ে আমাদের অঞ্চলে এসেছিলেন। উনি নিজের হাতে এই গাছ লাগিয়েছিলেন।

    জাহানারা বললেন, তোমাকে না বললাম আজগুবি গল্প বন্ধ করতে। কুমিরের পিঠে চড়ে তাকে আসতে হলো কেন? তখন কি দেশে নৌকা ছিল না?

    সকিনা বলল, শুভ্ৰ ভাইজান তো গাছ দেখতে যাবেন– তখন আপনি যদি যান।

    জাহানারা বিছানা থেকে উঠে বসতে বসতে বললেন, শুভ্র গাছ দেখতে যাবে মানে কী?

    সকিনা বলল, উনি বলেছেন যাবেন। এই বর্ষার মধ্যেই যাবেন।

    শুভ্রকে গাছের হাবিজাবি কথা তুমি বলেছ? কখন বলেছ? খাতিরের এত আলাপ করার সময়টা বলো।

    সকিনা চুপ করে গেল। জাহানারা বললেন, তুমি তলে তলে অনেকদূর চলে গেছ। সুড়ঙ্গ কেটে যাওয়া। এখন বলো, শুভ্ৰ কি কখনো তোমার ঘরে গিয়েছে?

    সকিনা বলল, উনি আমার ঘরে কেন যাবেন?

    জাহানারা বললেন, প্রশ্নের উত্তর প্রশ্ন দিয়ে দিবে না। ও তোমার ঘরে গিয়েছে, না-কি যায় নি?

    জাহানারার চোখ চকচক করছে। ঠোট কালো হয়ে আসছে। সকিনা ভীত গলায় বলল, মা, আপনি খুব ভালো করে জানেন ভাইজান এরকম মানুষ না।

    জাহানারা চাপা গলায় বললেন, শোন সকিনা, মাকাল ফলের ভেতর পোকা হয় না। পোকা হয় সবচে ভালো যে ফল তার মধ্যে— আমের মধ্যে। বুঝেছ? শুভ্ৰ মাকাল ফল না।

    সকিনা বলল, মা আপনি শুয়ে থাকুন। আপনার শরীর কাঁপছে।

    জাহানারা বললেন, অচিনবৃক্ষের কথা শুভ্রর সঙ্গে কখন হয়েছে সেটা বলে। কখন হয়েছে? কোথায় হয়েছে?

    উনার ঘরে। সন্ধ্যাবেলায়।

    জাহানারা থমথমে গলায় বললেন, কথা বলার সময় তুমি কি ইচ্ছা করে শাড়ির আঁচল ফেলে দিয়েছ বুক দেখানোর জন্যে? চুপ করে থাকবে না— বলো। আমার ছেলেকে ভুলানোর জন্যে কী কী কৌশল করেছ সেটা বলো। বুক দেখানো ছাড়া আর কী করেছ?

    মা, কেন এরকম করছেন?

    চুপ থাক মাগি! মা ডাকবি না। তুই এক্ষুণি এই মুহুর্তে আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবি।

    সকিনা বলল, ঠিক আছে মা— চলে যাব।

    চলে যাব বলেও বসে আছিস কেন?

    সকিনা উঠে দাঁড়াল। ঘর থেকে বের হলো। জাহানারা কাঁদতে শুরু করলেন।

     

    রুনু অবাক হয়ে শুভ্রকে দেখছে। একটি যুবক ছেলের দিকে এইভাবে তাকিয়ে থাকা যায় না। অস্বস্তি লাগে। রুনুর অস্বস্তি লাগছে না। বরং তার মনে হচ্ছে এইভাবে তাকিয়ে থাকাটাই স্বাভাবিক। রুনু বের করার চেষ্টা করছে কেন তার অস্বস্তি লাগছে না। তার ধারণা তার অস্বস্তি লাগছে না। কারণ যার দিকে সে তাকিয়ে আছে তার অস্বস্তি লাগছে না। একজন পাগলের দিকে একদৃষ্টিতে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকা যায়, কারণ পাগল তাতে কিছু মনে করে না। বাচ্চা একটা ছেলের দিকেও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা যায়।

    রুনু বসে আছে ইঞ্জিন বসানো ছোট্ট একটা নৌকার পাটাতনে। পাটাতনে শীতলপার্টি বিছানো। শুভ্ৰ পা ছড়িয়ে হাতে ভর দিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিতে আধশোয়া হয়ে আছে। তার দৃষ্টি স্থির না। সে সব কিছুর উপর দিয়ে চোখ বুলিয়ে যাচ্ছে। মাঝে-মাঝে হাসিমুখে তাকাচ্ছে রুনুর দিকে। মনজু বসেছে মাঝির কাছে। নৌকায় অল্প অল্প পানি উঠছে। মনজু অতি ব্যস্ত ভঙ্গিতে সেই পানি তুলে নদীতে ফেলছে।

    শুভ্র রুনুর দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি যে পরীক্ষার পড়া বাদ দিয়ে আমাদের সঙ্গে বেড়াতে এসেছ তার জন্যে ধন্যবাদ। এখন বলো— তোমার কি ভালো লাগছে?

    রুনু বলল, ভালো লাগছে।

    শুভ্ৰ আধশোয়া অবস্থা থেকে বসতে বসতে বলল, কোন জিনিসটা ভালো লাগছে বলো তো। স্পেসিফিক্যালি বলো।

    রুনু কী বলবে বুঝতে পারছে না। এই অদ্ভুত সুন্দর ছেলেমানুষ ধরনের যুবক তার কাছে কী শুনতে চাচ্ছে? সে যা শুনতে চায়। রুনু তাকে তাই বলবে।

    শুভ্র বলল, চুপ করে আছ কেন বলো? এখানে ভালো লাগার অনেকগুলি এলিমেন্ট আছে। একটা হচ্ছে নদী, একটা হচ্ছে আকাশ, একটা হচ্ছে নদীর নানান কর্মকাণ্ড…।

    রুনু বলল, সবকিছু মিলিয়েই আমার ভালো লাগছে।

    শুভ্র বলল, তোমার কি এরকম মনে হচ্ছে যে সবচে ভালো হয় যদি আর বাড়িতে ফিরে না যাওয়া যেত? নৌকা চলছে তো চলছেই। আমরা নৌকার সঙ্গে ভেসে যাচ্ছি।

    রুনু সামান্য চমকালো। নৌকায় উঠার পর থেকেই তার এরকম মনে হচ্ছে। শুভ্র বলল, বাড়ি থেকে বের হলে আমার আর বাড়িতে ফিরতে ইচ্ছা করে না। দশ-এগারো বছর বয়সে আমি একবার বাড়ি থেকে গোপনে পালিয়ে গিয়েছিলাম।

    রুনু ক্ষীণ গলায় বলল, কেন?

    শুভ্ৰ হাসতে হাসতে বলল, মনের দুঃখে। আমার একটা পোষা কাক ছিল। কাকটা রোজ আসত আমার কাছে। হঠাৎ একদিন আসা বন্ধ করল। খুব কষ্ট লাগল। আমি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলাম কাকটাকে খুঁজে বের করতে।

    পোষা কাক মানে?

    কাকটা পোষ মেনেছিল। আমি তার নাম দিয়েছিলাম কিংকর।

    কাকটাকে পেয়েছিলেন?

    না। আমি সকালবেলা বের হয়েছিলাম, সন্ধ্যা পর্যন্ত খুঁজলাম।

    কীভাবে খুঁজলেন?

    যেখানে কাক দেখতাম দাঁড়িয়ে পড়তাম। আমার ধারণা ছিল আমি কাকটাকে চিনতে না পারলেও সে আমাকে চিনবে। আমাকে দেখলেই উড়ে আসবে আমার কাছে।

    আপনি কী করলেন? সন্ধ্যাবেলায় বাসায় ফিরে এলেন?

    না। তোমাকে বলেছি না একবার বাড়ি থেকে বের হলে আমার আর বাড়ি ফিরতে ইচ্ছা করে না। আমি ফিরলাম তিনদিন পরে। ফিরলাম বলা ঠিক হবে না। পুলিশ তিনদিন পর আমাকে মুন্সিগঞ্জ থেকে উদ্ধার করল। আমাকে উদ্ধারের জন্যে বাবা এক লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। আমার মা এই তিনদিন পানি ছাড়া কিছু খান নি। ঐ ঘটনার পর আমার বাড়ি থেকে বের হওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রাইভেট মাস্টাররা বাড়িতে এসে আমাকে পড়াত।

    রুনু বলল, আপনাকে উদ্ধারের জন্য এক লক্ষ টাকা পুরস্কার কে পেয়েছিল?

    শুভ্র বলল, আমি জানি না কে পেয়েছিল। আচ্ছা আমি জিজ্ঞেস করে জেনে নেব।

    আপনাকে জানতে হবে না।

    অবশ্যই জানতে হবে। একটা বিষয়ে তোমার কৌতূহল হয়েছে, তুমি সেটা জানবে না?

    আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে। এক পাশে সূর্য এখনো দেখা যাচ্ছে কিন্তু সূর্যে তাপ নেই। মনজু চিন্তিত মুখে আকাশ দেখছে। সে বলল, ভাইজান, এখন ফিরি? বৃষ্টি নামবে।

    শুভ্র বলল, নামুক। বৃষ্টি নামলে বৃষ্টিতে ভিজব। রুনু, তোমার বৃষ্টিতে ভিজতে আপত্তি আছে?

    রুনু সঙ্গে সঙ্গে বলল, না।

    শুভ্র লম্বা হয়ে শুয়ে পড়েছে। তার দৃষ্টি এখন আকাশে। মেঘের উপর মেঘ জমার দৃশ্যটা যে এত সুন্দর তা সে আগে লক্ষ করে নি। আজ রাতে আত্রলিতাকে এই দৃশ্যের কথা জানাতে হবে। কীভাবে লিখবে এটা গুছিয়ে ফেললে কেমন হয়?

    আত্রলিতা! আজ কিছুক্ষণের জন্যে নৌকাভ্রমণ করেছি। আমি নৌকার পাটাতনে শুয়েছিলাম। নৌকা দুলছিল। নৌকার দুলুনির সঙ্গে আশেপাশের সব দৃশ্য দুলছে। শুধু দুলছে না মাথার উপরের ঘন কালো মেঘ। প্রকৃতির একটি অংশ দুলছে, আরেকটি অংশ স্থির। খুবই অদ্ভুত।

    রুনুর কেমন জানি লাগছে। এক ধরনের অস্বস্তি, এক ধরনের কষ্ট। মানুষটা এতক্ষণ তার সঙ্গে কত কথা বলছিল, এখন কেমন ঘোরলাগা চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। যেন সে চোখের সামনে আর কাউকে দেখতে পাচ্ছে না।

    মানুষটা শুয়ে আছে নৌকার পাটাতনে। শোয়ার ভঙ্গিটাও কী সুন্দর। এত মন দিয়ে দেখার মতো কী আছে আকাশে? রুনুর এখন খুব একটা বাজে ইচ্ছা হচ্ছে। তার ইচ্ছা করছে মানুষটার পাশে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে। সে নিশ্চয়ই খুব খারাপ একটা মেয়ে। এরকম চিন্তা খারাপ মেয়ে ছাড়া কারোর মাথায় আসবে না। সে অবশ্যই খারাপ মেয়ে। ভয়ঙ্কর খারাপ মেয়ে।

    রুনুর কান্না পাচ্ছে। সে প্রাণপণ চেষ্টা করছে কান্না আটকে রাখতে। কতক্ষণ পারবে কে জানে! মনজু ভাই তার দিকে তাকিয়ে আছেন। সে যদি কাঁদতে শুরু করে তাহলে মনজু ভাই কী ভাববেন কে জানে!

    শুভ্ৰ হঠাৎ রুনুর দিকে তাকিয়ে বলল, রুনু, একটা কাজ কর। আমি যেভাবে শুয়ে আছি ঠিক এইভাবে শুয়ে আকাশের দিকে তাকাও। অদ্ভুত একটা ফিলিং হবে। মনে হবে মেঘের সঙ্গে সঙ্গে তুমিও ভাসছ।

    রুনু সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়ল। সে তাকিয়ে আছে মেঘের দিকে। কিন্তু সে মেঘ দেখতে পাচ্ছে না। কারণ তার চোখ ভর্তি জল। আকাশের কালো মেঘের দিকে তাকিয়ে তার কাঁদতে ভালো লাগছে।

     

    তালতলার পীর সাহেবের নাম কামাল উদ্দিন কাশেমপুরী। পীর সাহেব ছোটখাটো মানুষ। গলার স্বর মধুর। তিনি সবার সঙ্গেই হাসিমুখে কথা বলেন। তাঁর ছোট ভাই জামাল উদ্দিন কাশেমপুরীও পীর ছিলেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল কৰ্কশ। মুরিদানদের সঙ্গে তাঁর ব্যবহারও ছিল খারাপ। এমনও শোনা যায় তিনি কোনো মুরিদানের উপর রাগ করে লাথি মেরেছেন। দুই ভাই দুই তরিকার পীর। একজন গরম পীর, একজন নরম পীর। বছর ছয়েক আগে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তার মুরিদানরা বড় ভাইয়ের কাছে ছুটে এসেছে। বড় ভাই হাসিমুখে বলেছেন, বাবারা, তোমরা আমার কাছে এসো না। আমার ভাইয়ের পথ আর আমার পথ এক না। এক পুকুরেই আমরা অজু করি। কিন্তু আমাদের ঘাট ভিন্ন।

    জাহানারা পীর সাহেবের সামনে ঘোমটা দিয়ে বসে আছেন। পীর সাহেব বললেন, মাগো, বাম হাতটা একটু বাড়ান।

    জাহানারা হাত বাড়ালেন। পীর সাহেব জাহানারার হাতে আন্তর মাখিয়ে দিলেন। জাহানারা বললেন, বাবা আমার জন্যে দোয়া করবেন, আমি খুবই কষ্টে আছি।

    পীর সাহেব বললেন, কেউ যখন আমাকে বলে আমি কষ্টে আছি তখন বড় আনন্দ হয় গো মা। কারণ আল্লাহপাক তার পিয়ারাবান্দাদের কষ্টে রাখেন। তিনি যাদের উপর নাখোশ তারাই ইহকালে সুখে থাকে। আপনার মাথাব্যথা রোগের কি কিছু আরাম হয়েছে?

    জি-না।

    চোখে সুরমা দিবেন। সুরমা দিয়ে জায়নামাজে বসে বলবেন– হে আল্লাহপাক, তুমি আমাকে রোগ দিয়েছ। এই রোগ নিয়াও আমি সবুর করলাম। এই রোগই আমার বান্ধব। খাস দিলে এটা বলতে পারলে আল্লাহপাক রোগ তুলে নিবেন।

    জাহানারা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আমি খাস দিলে কিছুই বলতে পারি না বাবা। আমার মন সবসময় অস্থির থাকে। ছেলে সকালবেলা বের হয়েছে, এখনো ফিরে নাই। কোথায় গিয়েছে কিছুই জানি না। ড্রাইভার বদমাশটা মোবাইল টেলিফোন বন্ধ করে রেখেছে।

    পীর সাহেব কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রাখলেন। তারপর চোখ মেলে বললেন, ছেলে বাড়িতে ফিরেছে গো মা। টেলিফোন করে দেখেন। আর যদি নাও ফিরে–কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরবে। ধ্যানে পেয়েছি।

    জাহানার সঙ্গে সঙ্গে টেলিফোন করলেন। টেলিফোন ধরল। সকিনা। সে জানাল, শুভ্ৰ ভাইজান কিছুক্ষণ আগে ফিরেছে। তার সারা শরীর ভেজা। চোখ লাল। মনে হয় জ্বর এসেছে।

    জাহানারা বললেন, ডাক্তার খবর দিয়েছ?

    সকিনা বলল, দিয়েছি মা।

    জাহানারা বললেন, ওর জ্বর কত থার্মোমিটার দিয়ে এক্ষুণি আমাকে জানাও। আমার ফিরতে দেরি হবে, আমি পীর সাহেবের কাছে আছি।

    জি আচ্ছা।

    তোমাকে তো আমি চলে যেতে বলেছিলাম, তুমি চলে যাও নি কেন?

    কাল সকালে যাব। মা।

    অবশ্যই সকালে বিদায় হবে। আমি ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে যেন তোমাকে দেখতে না পাই।… আমি টেলিফোন ধরে আছি। তুমি শুভ্রর জ্বর কত সেটা থার্মোমিটারে দেখে আমাকে জানাও।

    জি আচ্ছা।

    আর ড্রাইভার হারামজাদাটাকে জেগে থাকতে বলবে, তার সঙ্গে আমার কথা আছে।

    জি আচ্ছা।

    সকিনা জ্বর দেখে ভীত গলায় বলল, ভাইজানের জ্বর অনেক বেশি মা। একশ তিন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকজন মায়াবতী – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article ভয়ংকর ভুতুড়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }