Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একশ বছরের সেরা ভৌতিক – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও বারিদবরণ ঘোষ

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প715 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মরণের পরে – সুমথনাথ ঘোষ

    —কে? কে? ও কে?

    ঘুমোতে ঘুমোতে চেঁচিয়ে ওঠে প্রবীর৷

    গায়ে ঠেলা দিয়ে মা তাকে জাগিয়ে দেন—এই খোকা—খোকা…

    ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসে সে বলে—সে কোথায়…কোথায় গেল সে?

    নেটের মশারি ফেলা খাটের ভেতর জমাট অন্ধকারে প্রবীরের চোখ দু’টো যেন টর্চের মতো এপাশে ওপাশে কাকে খুঁজতে থাকে৷

    মা ছেলের গায়ে আবার হাত দিয়ে ডাকেন, এই খোকা, স্বপ্ন দেখছিলি বুঝি…

    মায়ের কথা যেন তার কানে ঢোকে না৷ সম্মোহিতের মতো মোহাচ্ছন্ন কণ্ঠে তেমনি বলে যায়—এই তো ছিল, কোথায় গেল!

    —কার কথা বলছিস? কে কোথায় গেল? মায়ের গলায় এবার বিরক্তি প্রকাশ পায়৷

    —সেই যে, সেই মেয়েটা৷ আমায় ডাকছিল হাতছানি দিয়ে৷ কি সুন্দর ধবধবে তার হাত আর সরু সরু আঙুল!

    তখনো ঘুমের ঘোর কাটেনি, মনে করে মা তার হাতটা ধরে আরো জোরে জোরে ঝাঁকানি দিয়ে বললেন—স্বপ্ন দেখেছিস, না?

    —না না, ওইখানে আমাদের ওই দেওয়াল-জোড়া বড় আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়েছিল কালো শাড়ি পরে৷ মাথায় ছিল ঘোমটা৷

    কালো শাড়ি পরে!

    ছ্যাঁৎ করে ওঠে মায়ের বুকের ভেতরটা৷ সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন—মুখটা কার মতো দেখতে?

    —তা জানি না৷ মুখটা তো তার দেখতে পাইনি৷ ঘোমটা টানা ছিল৷ শুধু নাকের আধখানা থেকে মুখের নীচের দিক ও পাতলা ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে মুক্তোর মতো দাঁতগুলো ক’বার দেখেছি৷ সে আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছিল আর ফিক ফিক করে হাসছিল৷ কে মা সে?

    তখন ওর মা মনে মনে ভাবতে থাকেন, শুনেছি মানুষ যা নিয়ে সারাদিন গভীরভাবে চিন্তা করে, অবচেতন মনে সেই সব নাকি গোপন থাকে, রাত্রে তাকেই স্বপ্ন দেখে৷ তাই সঙ্গে সঙ্গে ছেলেকে প্রশ্ন করলেন—ওই রকম কালো শাড়ি পরা মেয়েকে কি আজ বা অন্য কোনোদিন পথে-ঘাটে দেখেছিলি?

    প্রবীর বললে—না মা৷ তবে হ্যাঁ, এর আগে—বেশ কয়েকদিন আগে যেন ঘুমের ঘোরে ঠিক ওই রকম কালো শাড়ি পরা ছায়ার মতো মূর্তি দু’একবার দেখেছিলুম, মনে হল যেন আমায় ইশারায় সে ডাকছে, কি বলতে চায়৷ কিন্তু আজকের মতো এত স্পষ্ট আর কখনো দেখিনি৷

    মা তখন ছেলেকে বোঝান, স্বপ্নে এইরকম অবাস্তব অসম্ভব কত কি মানুষ দেখে, জানিস তো…শুয়ে পড়! ঝাঁ ঝাঁ করছে রাত…এটা তো বুঝতে পারছিস, এই দোতলার বন্ধ ঘরের মধ্যে কোনো লোক ঢুকতে পারে না?

    প্রবীর বলে—হ্যাঁ, তা ঠিক মা৷ কিন্তু আজ এত স্পষ্ট দেখেছি যে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না যে এটা স্বপ্ন…

    প্রবীর ভালো ছেলে৷ কেবল লেখাপড়ায় ভালো নয়, চরিত্রবান, আদর্শবাদী৷ ওকে দেখলে মনে হয় স্কুলে পড়ে৷ কিন্তু সে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়ে, পার্ট ওয়ান পরীক্ষার্থী৷ ওর বাবা কেন্দ্রীয় সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারী, দিল্লিতে থাকেন৷

    ওর মা তখন প্রবীরকে বলেন—এত রাত পর্যন্ত জেগে পড়াশুনা করতে তোকে বারণ করি, তা কিছুতেই শুনবি না৷ বেশি পড়ে মাথা গরম হয়ে যায়, তাই যা-তা স্বপ্ন দেখিস৷ কাল থেকে ঘড়িতে সাড়ে দশটা বাজলেই শুয়ে পড়বি৷ আমি আলো নিবিয়ে দেব ঘরের৷

    —বা রে! আর দু’মাস তিনদিন মোটে বাকি পরীক্ষার, এখনই তো বেশি পড়ার সময়৷

    —পড়ো না বাবা, সারাদিন ধরে যত পারো৷ রাত্রে কেন? ডাক্তাররা সবাই বলেন—ভালো ঘুম রাত্রে না হলে শরীর খারাপ হয়, ব্রেনও দুর্বল হয়ে পড়ে৷

    মাকে প্রবীর খুব ভালোবাসে৷ তাই মায়ের কাছে না শুলে এখনো তার চোখে ঘুম আসে না৷ নইলে ওর পরের যে দুটি বোন, তারা তো পাশের ঘরে আলাদা থাকে৷

    ভাই-বোনদের ভেতর মাঝে মাঝে এই নিয়ে ঝগড়া বাধে৷ বোনেরা বলে—তুই তো বুড়ো-খোকা, মা’র কাছে না শুলে তাই ঘুমোতে পারিস না!

    ছোট বোনের বয়স দশ বছর৷ রাগটা তারই বেশি দাদার ওপর৷ কারণ তার ন্যায্য অধিকার থেকে দাদাই তাকে বঞ্চিত করেছে, এই তার ধারণা৷ এর জন্যে মনে মনে সে দাদাকে বেশ হিংসে করে৷ অথচ দাদার ওপর মায়ের এই পক্ষপাতিত্ব দেখে ও মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না, শুধু মনে মনে গজরায়৷ আর রাত্রে শুয়ে শুয়ে দিদিকে বলে, মা সব চেয়ে বেশি ভালোবাসে দাদাকে, না রে দিদি?

    দিদি বলে—ওকথা বলতে নেই৷ মা’র কাছে ছেলে-মেয়ে সবাই সমান৷

    বেশ ক’দিন পরে আর এক কাণ্ড ঘটলো৷ এবার স্বপ্ন দেখে প্রবীর চেঁচিয়ে উঠলো না৷ সম্মোহিতের মতো বিছানা থেকে নেমে, ঘরের দরজা খুলে সিঁড়ি দিয়ে নীচে এসে সদর দরজার খিল খুলে একেবারে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে৷

    আর সেই কালো শাড়ি পরা ঘোমটা দেওয়া মূর্তিটার পিছনে চলতে থাকে, সে যেন এবার তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতে ডাকতে ঘর থেকে পথে টেনে নিয়ে আসে৷

    নীচে সদর দরজায় খুট করে শব্দ হতেই হঠাৎ প্রবীরের মায়ের ঘুম ভেঙে যায়৷—খোকা, কিসের শব্দ হল রে? আলোটা একবার জ্বালা তো…! বলেই ছেলের গায়ে হাত দিয়ে তাকে জাগিয়ে দিতে গিয়েই তিনি চমকে ওঠেন…! কোথায় খোকা! এ্যাঁ, বিছানা যে শূন্য! সারা বিছানায় হাত বুলিয়ে দেখেন৷

    ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসতেই বুকটা তাঁর কাঁপে থরথর করে৷ ঘর তো অন্ধকার, তবে খোকা গেল কোথায়? খোকা—খোকা বলে ডাকেন, কিন্তু কোনো সাড়া-শব্দ নেই৷

    খাট থেকে নেমে এসে তাড়াতাড়ি আলোটা জ্বালাতেই আরো যেন বুকের স্পন্দন বেড়ে যায়৷ বাথরুম তো ঘরের সঙ্গে সংলগ্ন৷ ঘরের ভেতর দিয়েই ঢোকার দরজা৷ সেটা বন্ধ৷ শিকল টানা রয়েছে৷ তবে এত রাত্রে দরজা খুলে সে কোথায় গেল?

    দেওয়ালের বড় ঘড়িটা টিক টিক শব্দ করছিল৷ তার দিকে চট করে তাকাতেই বুকের রক্ত হিম হয়ে যায়৷ তখন রাত্তির দুটো৷ ওমা, ওই রাতদুপুরে ছেলে গেল কোথায়!

    শিউরে ওঠে তাঁর সর্বাঙ্গ৷ প্রবীর নাম হলে কি হয়, বড় ভীতুপ্রকৃতির ছেলে৷ একলা রাত্রে বাথরুমে যেতে গেলেও মাকে সে আগে ডাকে৷

    কোনোরকমে শাড়িটা গায়ে জড়াতে জড়াতে পটপট করে দালান ও সিঁড়ির সুইচগুলো টিপতে টিপতে নীচে নেমে এলেন তিনি৷ কিন্তু সেখানে এসে সদর দরজাটা খোলা হাঁ-হাঁ করতে দেখে ভয়ে যেন হাত-পা তাঁর হিম হয়ে যায়৷ ‘লক্ষ্মণ—এই লক্ষ্মণ বলে চাকরের দরজায় ছুটটে গিয়ে ধাক্কা দিতে থাকেন৷

    ‘কি মা!’ বলে সে একেবারে হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে এল৷

    —দেখ তো, দাদাবাবু এই রাত্রে কোথায় বেরিয়ে গেল৷ ওপরে নেই, বাথরুমে নেই, আমি তন্নতন্ন করে সব খুঁজে দেখেছি৷ নীচের দরজা খোলা দেখে আমার বুকের ভেতরটা থরথর করে কাঁপছে ভয়ে৷ নিশ্চয় সে রাস্তায় বেরিয়ে গেছে৷

    ‘সে কি!’ বলেই সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্মণ ছুটে রাস্তায় বেরিয়ে গেল৷

    সাদার্ন এ্যাভিন্যুর দীর্ঘ পথটা শূন্য জনহীন, শুধু নিওন বাতির আলোয় জ্যোৎস্নারাতের মতো চারিদিক ঝলমল করছে৷ সদর থেকে রাস্তায় নেমেই লক্ষ্মণ দ্বিধায় পড়ে যায়৷ কোন দিকে যাবে—সামনে লেকের দিকে, না বাঁয়ে গোলপার্কের দিকে? অথবা ডানহাতি রবীন্দ্র স্টেডিয়াম-এর দিকে?

    হতভম্বের মতো এদিক-ওদিক তাকিয়ে কোথাও কোনো মানুষের চিহ্ন দেখতে না পেয়ে শেষে লেকের দিকেই ছুটলো লক্ষ্মণ৷ ও পল্লীগ্রামের মানুষ—অনেক রকম দৈত্যদানো, ভূত-প্রেতের কাহিনী ওর শোনা ও জানা ছিল৷ নিশির ডাকের কথাও জানে এবং বিশ্বাস করে৷

    দৈত্যদানারা নিষুতিরাতে নাকি ওদের গাঁয়ে এমনি অনেক মানুষকে ঘর থেকে টেনে বার করে নিয়ে যায়৷ তারপর কাউকে গাছের ওপর তুলে সেখান থেকে ফেলে মারে৷ কাউকে বা পুষ্করিণী জলাশয়ে চুবিয়ে মারে৷

    লক্ষ্মণের দৃঢ় বিশ্বাস, তেমনি কিছু একটা হয়তো হয়েছে৷ নইলে দাদাবাবু যা ভীতু, একা এই গভীর রাত্রে এইভাবে কখনই রাস্তায় বেরিয়ে আসতে পারে না!

    খানিকটা ছুটে গিয়ে সে একবার থমকে দাঁড়ালো৷ তারপর ‘দাদাবাবু দাদাবাবু’ বলে চেঁচিয়ে ডাকলে৷ কিন্তু কোথাও কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে, আবার তেমনি সে ছুটতে লাগল লেকের দিকে৷

    সুইমিং পুলের কাছাকাছি আসতেই সে চমকে উঠল—ওই তো দূরে মানুষের মতো একটা ছায়ামূর্তি দেখা যাচ্ছে! হ্যাঁ, ঠিকই৷ ওই তো দাদাবাবু, মোহাচ্ছন্নের মতো যেন এগিয়ে চলেছে পা-পা করে৷ তাহলে তার অনুমানই ঠিক৷ ‘দাদাবাবু!’ বলে সে যে এত চিৎকার করছে, কিছুই যেন তার কানে যাচ্ছে না৷ কিসের একটা ঘোরে যেন ডুবে আছে৷

    প্রবীর তখনো তেমনি চলেছে৷ সত্যি কিছুই সে শুনতে পায়নি৷ একেবারে জলের ধারে তখন গিয়ে পড়েছিল প্রবীর৷ তাই ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে গিয়ে একেবারে পিছন থেকে তাকে জাপটে ধরল লক্ষ্মণ৷ আর দু’পা এগুলেই একেবারে জলের মধ্যে পড়ে যেত৷

    ‘কে?’ বলেই শিউরে উঠল বটে প্রবীর, কিন্তু তখনো তার সেই আচ্ছন্ন ভাবটা কাটেনি৷ তেমনি রয়েছে৷

    —আমি লক্ষ্মণ, দাদাবাবু! আপনি এখানে কি করে এলেন? ভয়ার্ত স্বরে সে প্রশ্ন করলে৷

    —কোথায় গেল সে? চোখেমুখে তখনো তেমনি মোহাচ্ছন্ন ভাব৷

    —কে দাদাবাবু?

    —ওই যে কালো শাড়ি পরা সেই মেয়েটা! যার মাথায় ঘোমটা—শুধু মুখের একটুখানি দেখা যায়, ধবধবে সুন্দর হাত দিয়ে যে আমায় হাতছানি দিয়ে ডেকে এনেছে! কোথায় গেল সে…বলতে বলতে ছোট ছেলের মতো তার গলা দিয়ে যেন কান্নার স্বর বেরিয়ে আসে৷

    ওর হাত দুটো এবার দু’হাত দিয়ে চেপে ধরে বেশ করে বারকতক ঝাঁকানি দিলে লক্ষ্মণ৷ তারপর এক আঁচলা জল খপ করে লেক থেকে তুলে নিয়েই ওর মুখের ওপর ঝাপ্টা মারলে৷

    সঙ্গে সঙ্গে সেই মোহগ্রস্ত, আবিষ্ট ভাবটা কেটে গিয়ে প্রবীর যেন স্বপ্নের রাজ্য থেকে একেবারে বাস্তব জগতে ফিরে আসে৷ তখন চারিদিকে একবার সভয়ে তাকিয়ে লক্ষ্মণের হাতটা জড়িয়ে ধরে সে বলে উঠল—এখানে আনলে কেন আমায়? আমার বড্ড ভয় করছে! শিগগির বাড়ি চলো—মা কোথায়?

    পরের দিন ওদের বাড়ির যিনি প্রবীণ ডাক্তার, তিনি এলেন প্রবীরকে দেখতে৷ তাকে ভালো করে পরীক্ষা করে বললেন, এর নাম ‘সম-নাম-ব্যুলিজম’৷ এ একরকম কঠিন ব্যাধি৷ ঘুমের ঘোরে ঘর থেকে অচৈতন্যের মতো বেরিয়ে যায় রুগী, তারপর এমন সব অসম্ভব অসম্ভব কাণ্ডকারখানা করে যে বিশ্বাস করা যায় না৷ আর এভাবে নানা দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় পড়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃত্যু হয়৷

    ভয়ে ওর মায়ের হাত-পা যেন ঠাণ্ডা হয়ে যায়৷ কি হবে তাহলে! ডাক্তারবাবুর কাছে কেঁদে পড়েন৷ তাঁর একমাত্র ছেলে ওই প্রবীর৷

    ডাক্তারবাবু বড় বড় ‘নিউরোলজিস্ট’ ও ‘স্পেশালিস্ট’দের নাম করে দিলেন, যাঁরা ওইরকম মানসিক ব্যাধি ও নার্ভের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ৷

    বড়লোকের ছেলে প্রবীর৷ টাকাপয়সার অভাব নেই৷ তাই সঙ্গে সঙ্গে ওর মা চিকিৎসকের বাড়ি ছুটলেন৷ এক ডাক্তার ছেড়ে আর এক ডাক্তার—এমনি করে কলকাতার বহু বড় ডাক্তারকে দেখালেন এবং এইভাবে চিকিৎসার পিছনে প্রবীরের মা বহু টাকা খরচ করলেন৷ কিন্তু তাতেও বিশেষ কোনো ফল হল না৷

    ইতিমধ্যে আরো দু’দিন ওইভাবে ঘর থেকে গভীর রাত্রে নেমে গিয়েছিল প্রবীর৷ লক্ষ্মণ ইদানীং রাত্রে ঘুমোয় না, জেগে থাকে৷ তাই যেমন সদর দরজা খুলতে যাবে, অমনি লক্ষ্মণের কাছে ধরা পড়ে ফিরে এসেছে প্রবীর ঘরে৷

    কিন্তু তার মুখে সেই এক কথা—কোথায় গেল সেই মেয়েটা? সেই কালো শাড়ি পরা ধবধবে ফর্সা মেয়েটা? যার মাথায় ঘোমটা, যে আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছিল এখুনি!

    লক্ষ্মণ এবারও তার হাতদুটো জোর করে চেপে ধরে কোমরে বার বার ঝাঁকানি দিতেই আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে প্রবীর৷

    চিন্তায় ভেঙে পড়েন প্রবীরের মা৷ পরীক্ষার আর সাত দিন বাকি৷ ছেলের যেন সব সময় কেমন একটা বিমর্ষ ভাব, কি যেন গভীর চিন্তায় মগ্ন৷ সামনে পড়ার বই খোলা পড়ে থাকে—ওর মন বুঝি চলে যায় অন্য কোনোখানে, কে জানে!

    পুজোমানত, ঝাড়ফুঁক, মাদুলী, জলপড়া, হেকিমী, কবরেজী যে যা বলেছে সব করে যখন হতাশ হয়ে ভাবতে থাকেন প্রবীরের মা এখন কি করবেন, ঠিক সেই সময় এক তান্ত্রিক সন্ন্যাসীর খবর পেলেন৷ তিনি নাকি এইরকম দুরারোগ্য সব ব্যাধি ভালো করেছেন অনেক৷ থাকেন দুর্লভপুর, হুগলী জেলার এক সুদূর পল্লীতে৷

    লক্ষ্মণের সঙ্গে প্রবীরকে নিয়ে একদিন তিনি খুঁজে খুঁজে সেখানে গিয়ে হাজির হলেন৷

    তান্ত্রিক সন্ন্যাসীর ঘরে ঢুকে হকচকিয়ে যায় প্রবীর৷ তান্ত্রিক সন্ন্যাসীর কথা বইয়ে পড়েছিল, কিন্তু কোনোদিন চোখে দেখেনি৷ সে আশ্চর্য হয়ে যায়, ঠিক যেমনটি গল্পে-উপন্যাসে পড়েছিল, হুবহু সব মিলে যাচ্ছে৷ মড়ার খুলি, নরকঙ্কাল চারিদিকে ছড়ানো৷ ঘরের ঠিক মাঝখানে একটা বিরাট ধুনি জ্বলছে৷ বাঘছালের একটা আসন তার সামনে পাতা৷ তার ওপর বসে আছেন রক্তবস্ত্র পরিহিত জটাজুটধারী এক সন্ন্যাসী, কপালে তাঁর লালচন্দনের রেখা—একটা নয় তিনটে৷

    প্রবীরের মা সন্ন্যাসীকে প্রণাম করে তাঁর পায়ের কাছে বসে কাঁদতে কাঁদতে ছেলের রোগের কথা সব বললেন৷

    সন্ন্যাসী নিঃশব্দে সব শুনলেন৷ তারপর ‘জয় তারা!’ বলে একটা হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন৷ এমন বিকট সে কণ্ঠস্বর যে আতঙ্কে সবাই শিউরে ওঠে৷ বললেন—মায়ের কৃপায় সব ঠিক হয়ে যাবে৷ ভাবিসনি কিছু৷ জয় তারা!

    কাঁদতে কাঁদতে তিনি বললেন—কে ওকে এমনি করে ডাকে বাবা? ছেলে বলে, কালো শাড়ি পরা মেয়েছেলে৷ ধবধবে সুন্দর হাত দিয়ে কেবল ওকে ডাকে৷ তার মুখ একদিন মাত্র একটুখানি দেখেছিল, আর কোনোদিন দেখেনি৷ শুধু হাতছানি দিয়ে ডাকে৷ কে সে? কেন ওকে ডাকে বাবা?

    প্রবীর এতক্ষণ চুপ করে বসেছিল৷ হঠাৎ বলে ফেললে, আমি দেখব তাকে, আমায় দেখান!

    —দেখবি কে ডাকে?

    —হ্যাঁ, আমি দেখব৷ বড্ড আমার তাকে দেখতে ইচ্ছা করে৷ দেখাতে পারবেন? ঠিক বলছেন? মুখে একথা বললেও মনের মধ্যে কিসের একটা আতঙ্ক যেন প্রবীর চেপে রাখে৷ সন্ন্যাসী তখন জ্বলজ্বলে চোখে প্রবীরের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন—আচ্ছা দেখাচ্ছি৷ তোমার নাম-গোত্র কি বল তো মা?

    প্রবীরের মা যেই বলে দিলেন৷ অমনি ‘তারা! তারা!’ বলে একটা বিরাট হুঙ্কার ছাড়লেন সন্ন্যাসী৷ তারপর ওদের হাতে জ্বলন্ত ধুনি থেকে একটু ছাই তুলে দিয়ে বললেন— দু’হাতে মুঠি করে চোখ বুজে থাক৷ আমি যখন বলব তখন চোখ খুলবি৷ কিন্তু তার আগে যদি চোখ চাস, তাহলে একেবারে মৃত্যু৷ কেউ রক্ষা করতে পারবে না, মনে রাখিস৷

    প্রবীর ও তার মা, সন্ন্যাসী যেমন নির্দেশ দিলেন, সেইভাবে চোখ বন্ধ করে বসে রইলেন৷ চুপিচুপি তিনি ছেলেকে বললেন, খবরদার, তাকাসনি যেন বাবা!

    এবার সন্ন্যাসী তাঁর তন্ত্রমন্ত্রের ক্রিয়া শুরু করলেন৷ সন্ন্যাসী অস্ফুট স্বরে কি সব মন্ত্র আউড়িয়ে যেতে লাগলেন৷ শেষে এক সময় ‘তারা! তারা!’ বলে এমন বিকট এক হুঙ্কার ছাড়লেন যে ওরা আঁতকে উঠল ভয়ে৷ সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলে উঠলেন—দেখ এবার চোখ খুলে!

    প্রবীর বলে উঠল—হ্যাঁ, ওই তো—ওই তো সেই কালো শাড়ি পরা মেয়ে, মুখে ঘোমটা! সেই হাত! ওই ধবধবে সুন্দর হাত দিয়ে ও ডাকে আমায়—কে! কে তুমি? বলো—বলো আমায়?

    প্রবীরের মা এবার বলে উঠলেন—বাবা, ওর মুখটা তো দেখতে পাচ্ছি না! ঘোমটা ঢাকা! যদি একবার দেখান দয়া করে! দেখি ও কে?

    —আচ্ছা দেখাচ্ছি৷ আবার তোরা চোখ বোজ, যখন বলব খুলবি৷

    মিনিট পাঁচেক বিড়বিড় করে আবার কি সব মন্ত্রতন্ত্র পড়লেন সন্ন্যাসী৷ তারপর বললেন—খোল চোখ!

    চোখ খুলেই প্রথম চিৎকার করে উঠলেন প্রবীরের মা—এ্যাঁ, তুমি! ব্যস, শুধু ঐ দুটি কথা বলেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে মূর্ছা গেলেন৷

    প্রবীর কেঁদে উঠল—মা, মাগো!

    সন্ন্যাসী তখন ধুনি থেকে একমুঠো ছাই তুলে নিয়ে প্রবীরের হাতে মন্ত্র পড়ে দিয়ে বললেন—তোমার মায়ের মুখে বেশ করে এটা মাখিয়ে দাও!

    প্রবীর সেই ছাই যেমন ওর মায়ের মুখে মাখিয়ে দিলে, অমনি তিনি ধীরে ধীরে চোখ খুললেন৷ তারপর উঠে বসলেন৷

    প্রবীর তখন বললে, কে ওই মূর্তি মা? তুমি ওকে চেনো? বলো মা সত্যি করে! ওই মুখখানা আমি শুধু একদিন দেখেছিলুম৷ জানার জন্যে আমার বুকের ভেতরটা কেমন করছে! আমি আর কৌতূহল চেপে রাখতে পারছি না, তুমি কি বুঝতে পারো না?

    তখনো প্রবীরের মা তেমনি নীরব৷ নিরুত্তর৷ ছেলের কাছে কি বলবেন?

    ‘তারা! তারা!’ বলে সন্ন্যাসী আবার সেইরকম এক বিরাট হুঙ্কার ছেড়ে প্রবীরের মায়ের মুখের ওপরে গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন৷ যেন তাঁর ওই বড় বড় রক্তচক্ষু দুটো দিয়ে এখুনি তাঁকে ভস্ম করে ফেলবেন৷

    সঙ্গে সঙ্গে কাঁটা দিয়ে উঠল প্রবীরের মায়ের সারা গায়ে৷ এবার আর গোপন করতে পারলেন না তিনি৷ প্রবীরকে আস্তে আস্তে শুধু বললেন—ও তোর মা!

    —এ্যাঁ, আমার মা! তাহলে তুমি কে? বিস্ময়ে হতবাক হয়ে প্রবীর তার মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে৷

    প্রবীরের মা পাষাণ-মূর্তির মতো নিস্তব্ধ৷ তাঁর দুই চোখে ধারা বয়ে যায়৷

    সন্ন্যাসী এতক্ষণ নিঃশব্দে প্রবীরের মায়ের দিকে তাকিয়েছিলেন, হঠাৎ চিৎকার দিয়ে উঠলেন—ইনি তোর চোরনী মা! হাসপাতালের নার্সকে মোটা টাকা ঘুষ দিয়ে তোকে বদলে নিয়েছিলেন নিজের মেয়ের সঙ্গে৷ পুত্রসন্তান ওঁর কোনোদিন হবে না, এই কথাই জ্যোতিষীরা গণনা করে বলেছিলেন৷ সেই গণনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্যে তোকে ওই মায়ের বুক ভেঙে চুরি করে ছিনিয়ে এনেছিলেন৷ তোর ওই আসল-মা মরে গিয়েছেন৷ তোকে দেখার বাসনা তাঁর মরেনি৷ তাই আর থাকতে না পেরে মাঝে মাঝে ছুটে আসেন দেখতে নিজের ছেলেকে৷

    —আমি পাপী! আমি অপরাধিনী! আমায় ক্ষমা করো বাবা৷ বলে কাঁদতে কাঁদতে সন্ন্যাসীর পায়ে তিনি লুটিয়ে পড়েন৷

    সন্ন্যাসী ঘৃণায় পা-দু’টো সরিয়ে নেন৷ তাঁকে ছুঁতে দেন না৷

    তাই আবার যেই সন্ন্যাসীর পায়ে ধরতে গেলেন, অমনি তিনি হুঙ্কার দিয়ে প্রবীরের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন—ওর কাছে মাপ চা!

    —না না, তা হয় না৷ প্রবীর কেঁদে মায়ের পায়ে লুটিয়ে পড়ে৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভৌতিক গল্পসমগ্র – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article খুদকুঁড়ো – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }