Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একশ বছরের সেরা ভৌতিক – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও বারিদবরণ ঘোষ

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প715 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তেত্রিশ নম্বর ঘর – দিব্যেন্দু পালিত

    সেদিন দিনটাই ছিল গোলমেলে৷ কোনো এক রবিবার৷ পরের দিন সকাল নটায় এক বড়সড় সরকারি আমলার সঙ্গে জরুরি মিটিং৷ রাতের প্লেনে গেলেই হত, কিন্তু কলকাতা থেকে দিল্লি যাবার ফ্লাইট প্রায়ই দেরি করে বলে ভোরের ফ্লাইটেই যাব ঠিক করেছিলাম৷ আর কিছু না হোক, তাতে হাতে থাকত পুরো একটি দিন, সময়টা কাজে লাগানো যেত অন্যভাবে—তারপর ধীরেসুস্থে পরের দিন যাওয়া যেত মিটিংয়ে৷

    কিন্তু গোড়াতেই হয়ে গেল গণ্ডগোল৷ ভোর চারটেয় অ্যালার্ম দেওয়া ছিল ঘড়িতে৷ ঘুম যখন ভাঙল দেখি সাড়ে পাঁচটা৷ তার মানে অ্যালার্ম বাজেনি৷ ডিসেম্বরের ভোর সাড়ে পাঁচটায়, অন্ধকার ও কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে চারদিক—সেটা সান্ত্বনার বিষয় নয় কোনো ছটা পনেরোর ফ্লাইট কাঁটায় কাঁটায় উড়ে যাবে ঠিকই৷ ফাঁকা রাস্তায় তীব্র গতিতে ট্যাক্সি ছুটলেও আমি যেখানে থাকি সেখান থেকে এয়ারপোর্টে পৌঁছতে কম করেও আধঘণ্টা লাগবে৷ যাই হোক এইসব ভাবনা ও উৎকণ্ঠা নিয়ে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেখলুম যা ভয় পেয়েছিলাম তাই, চেক-ইন কাউন্টার ফাঁকা৷ একজন অফিসার বললেন, দশ মিনিট আগে এলেও উপায় ছিল৷ প্লেন টেকঅফের জন্যে রওনা হয়ে গেছে, মিনিট খানেকের মধ্যেই উড়ে যাবে আকাশে৷

    টিকিটটা যাতে বাতিল না হয়ে যায় এবং সিট পাওয়া যায় সন্ধ্যার ফ্লাইটে, সেই ব্যবস্থা করে ফিরতে হল অগত্যা৷ তবু ভাবনা গেল না৷ আর কিছু নয়, হোটেল বুক করা আছে সকাল থেকে, অন্তত সেখানে জানিয়ে দেওয়া দরকার যাতে বুকিংটা ক্যানসেল না করে৷ ছোটখাটো কোম্পানি আমাদের, দিল্লিতে ব্রাঞ্চ নেই কোনো৷ ওখানকার কাজকর্ম দেখার জন্যে আছে একজন সংযোগ অফিসার, নাম সদাশিব রায়৷ দিনতিনেক আগে ফোনে কথা বলার সময় সদাশিব বলেছিল, দিল্লিতে এখন কোনো হোটেলে জায়গা পাওয়া মুশকিল—একে ট্যুরিস্টদের মরশুম, তার ওপর একই সঙ্গে চলেছে ট্রেড ফেয়ার আর কমনওয়েলথ কনফারেন্স৷ যাই হোক লোধি এস্টেটের কাছাকাছি একটা মাঝারি হোটেলে আমার জন্যে রুম বুক করে সদাশিব বলল পালাম এয়ারপোর্টে আসবে৷

    ফ্লাইট মিস করে ঘণ্টা দেড়েক পরে ট্যাক্সিতে বাড়ি ফিরতে ফিরতে শুধুই মনে হতে লাগল, হয়রানি আমার চেয়ে বেশি সদাশিবের—ফ্লাইট ল্যান্ড করার সময় হয়ে এল প্রায় বেচারা নিশ্চয়ই এতক্ষণে এয়ারপোর্টে পৌঁছে অপেক্ষা করছে আমার জন্যে! তখনি ঠিক করে নিলুম, আরো কিছুক্ষণ পরে, অর্থাৎ সদাশিবকে বাড়িতে ফেরার সময় দিয়ে, ট্রাঙ্ক করব দিল্লিতে, উদ্দেশ্য দুটো৷ এক, ব্যাপারটা বিস্তারিত জানানো এবং হোটেল বুকিংটা যাতে ক্যানসেল না হয় তা দেখা৷ অবশ্য ক্যানসেল হলেই যে রাস্তায় ঘুরতে হবে তার কোনো মানে নেই৷ সদাশিব ওর বাড়িতেই উঠতে বলেছিল৷ তাছাড়া দিল্লিতে থাকেন আমার এক জেঠতুতো দাদা এবং মাসিও৷ ঠিকানা জানা আছে, তেমন তেমন দরকার হলে এই দুটো জায়গার যে কোনো একটাতে ওঠা যেতে পারে স্বচ্ছন্দে৷ তবে কিনা অফিসের কাজে গিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠা আমার ঠিক পছন্দ হয় না৷

    ট্রাঙ্ককল করতে গিয়েই পড়লুম ঝামেলায়৷ বলেছি না, দিনটাই ছিল গোলমেলে— হঠাৎ একেকটা দিন যেমন হয় আর কি, নিজের ইচ্ছে, পছন্দ ও প্রয়োজনমতো যা করতে যাওয়া যায় তাতেই পড়ে বাগড়া৷ ঘণ্টা তিনেক ট্রাঙ্ক লাইনে সদাশিবকে পাবার অপেক্ষা করে যখন আবার তাগাদা দিলুম, ওদিক থেকে ট্রাঙ্ক অপারেটর মিষ্টি গলায় জানিয়ে দিল, লাইন পাওয়া যাচ্ছে না—দিল্লির সমস্ত লাইন ‘ডাউন’৷

    যে-কোনো সিজনড এয়ার ট্র্যাভেলারই এক আধবার ফ্লাইট মিস করার অভিজ্ঞতায় ভুগেছেন—কলকাতার রাস্তার ভয়াবহ জ্যাম যে-কোনো দিনই যে-কারুর সামনে ঘটিয়ে তুলতে পারে এই পরিস্থিতি৷ আর টেলিফোনের লাইন না পাওয়া নিয়েও অত হা-হুতাশ করার মানে হয় না কোনো—না পাওয়াটাই বরং অনেক বেশি স্বাভাবিক৷

    দিনটা যে গোলমেলে তার আর একটি প্রমাণও পেয়ে গেলুম৷ সকালে আমার দেরিতে পৌঁছনোর জন্যে এক মিনিটও অপেক্ষা করেনি ফ্লাইট৷ কিন্তু সন্ধ্যায়, রিপোর্টিং টাইমের আধঘণ্টা আগে এয়ারপোর্টে পৌঁছে শুনলুম, বোম্বের ফ্লাইট আসছে দু’ঘণ্টারও বেশি দেরিতে—সেই এয়ারক্র্যাফটই কলকাতায় যাত্রী নামিয়ে ও তুলে দিল্লি যাবে সুতরাং নির্দিষ্ট সময়ের অন্তত আড়াই তিন ঘণ্টার পরে ছাড়বে দিল্লির ফ্লাইট৷

    হতাশ বোধ করলেও হাল ছাড়লুম না আমি৷ বুকশপ থেকে নিক কার্টারের একটা সস্তা থ্রিলার কিনে জুত হয়ে বসলুম লাউঞ্জে৷ তখনি ভাবলুম, সদাশিব নিতান্তই বোকা লোক নয়৷ কাজটা কত জরুরি বুঝলে এটাও বুঝতে পারবে কোনো কারণে সকালে না যেতে পারলেও রাত্রে ঠিকই পৌঁছে যাব৷

    অবশেষে সত্যি সত্যিই যখন প্লেন থেকে দিল্লিতে নামলুম, রাত তখন প্রায় দেড়টা৷ প্লেন ল্যান্ড করার পরই হোস্টেসের ঘোষণা শুনে বুঝেছিলাম জব্বর শীত পাব বাইরে৷ বাইরে আসতেই টের পেলুম শীত কাকে বলে৷ হঠাৎই যেন কেউ একটা বরফের মুখোশ এঁটে দিল মুখে৷ অবশ হয়ে আসছে চামড়া, হাত-পা৷ অবশ্য একেবারেই যে প্রস্তুত ছিলাম না তা নয়৷ গলা-উঁচু পুলোভারটা কানের কাছে টানাটানি করে যতটা সম্ভব ঢেকে ফেললুম ঘাড়ের পিছনটা৷ কনকন করে উঠল স্যুটকেস-ধরা বাঁ হাতের আঙুলগুলো৷ এমনিতে ব্যস্ত দিল্লি এয়ারপোর্ট সম্ভবত ঘুমিয়ে ছিল এতক্ষণ এই মাত্র এসে পৌঁছনো কলকাতার যাত্রীদের তাড়াহুড়ো ও খাপছাড়া কথাবার্তার শব্দে জেগে উঠতে না উঠতেই শান্ত হয়ে গেল আবার৷

    এত রাতে, এই প্রচণ্ড শীতের মধ্যে নির্দিষ্ট খবর না পেয়েও সদাশিব অপেক্ষা করবে আমার জন্যে এমন আশা করিনি৷ তবু এয়ারপোর্টের বাইরে এসে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলুম কিছুক্ষণ৷ আশপাশে দাঁড়ানো যাত্রীদের ভিড় কমতে লাগল ক্রমশ৷ মনঃস্থির করে নিলুম আমি৷ এত রাতে খবর না দিয়ে কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়া উচিত হবে না৷ হোটেলেই যাব৷ যতই ভিড় থাকুক, রাত কাটাবার জায়গা পাব না এমন হতে পারে না৷ একান্তই যদি কোনো কারণে বুকিং ক্যানসেল হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে হোটেল থেকেই বরং ফোন করা যাবে সদাশিবকে৷

    এইসব ভেবে স্যুটকেসটা হাতে নিয়ে উঠে বসলুম একটা ট্যাক্সিতে৷ হোটেলের নাম বলতে মাফলারে কান-মাথা-মুখ-ঢাকা বেঁটেখাটো চেহারার ড্রাইভারটি একবার তাকাল আমার দিকে৷ তারপর আর কিছু না বলে কুয়াশার ভিতর দিয়ে প্রায় উড়িয়ে নিয়ে চলল ট্যাক্সিটা৷

    অল্প গা-ছমছম করলেও ভয় কেটে গেল যখন মিনিট কুড়ি-পঁচিশের মধ্যেই আমাকে হোটেলের সামনে পৌঁছে দিল ট্যাক্সিওলা৷ কিছু বাড়তি সমেত ভাড়া মেটাতে গিয়ে হঠাৎ খেয়াল হল আমার, সকাল থেকে যতগুলি যাত্রার মধ্যে ছুটোছুটি করতে হয়েছে আমাকে তার মধ্যে এই ট্যাক্সি চড়ার ব্যাপারটাই ছিল সবচেয়ে নিরাপদ৷ এমনও হতে পারে, ভাবলুম, ঘড়ির কাঁটা বারোটা পেরোবার পরই শুরু হয়ে গেছে আর একটা দিন৷ গতকালের দিনটি গোলমেলে ছিল বলে আজকের দিনটাও যে একই রকম হবে তার মানে নেই কোনো৷ বোধ হয় ফাঁড়া কেটে গেল৷ এখন হোটেলে একটা রুম পেলেই হল৷ একবার ঘরের মধ্যে ঢুকতে পারলেই বিছানায় ছুঁড়ে দেওয়া নিজেকে৷ তারপর ঘুম৷ ভাবতে ভাবতেই শরীর কাঁপিয়ে উঠে এল লম্বা এক হাই৷

    সদাশিবের ঠিক-করা হোটেলটা যে মাঝারি ধরনের তা আগেই বলেছি৷ পাঁচ-তারা হোটেলের রমরমা নেই এখানে৷ যেটুকু না জ্বাললেই নয়, তার বেশি আলো নেই কোথাও৷ আলো অন্ধকারে নিঃশব্দ পড়ে আছে লরি—একটিও লোক নেই সেখানে৷ শুধু লম্বা একটি সোফায় পা থেকে মাথা পর্যন্ত কম্বলে ঢেকে ঘুমোচ্ছে একটি লোক৷ ঢাকা বলেই মুখ চোখ দেখা যায় না৷ এইসব দেখতে দেখতেই রিসেপশন কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেলুম আমি৷

    কাউন্টারের ভিতর দিকে চেয়ারে বসে গল্প করছিল দুটি যুবক৷ আমাকে দেখেই উঠে দাঁড়াল৷

    ‘ইয়েস স্যার, হোয়াট ক্যান উই ডু ফর ইউ?’

    যে কথা বলল, ‘দুজনের মধ্যে সেই যুবকটি বেশ লম্বা ও স্বাস্থ্যবান৷ অন্য জন বেঁটে ও রোগা—হাতের মুঠোয় আড়াল করে ধরা সিগারেট৷ গাল ভাঙা ও চোখের নীচে ক্লান্তির ছায়া৷ এক পলক দু’জনকেই দেখে নিয়ে নিজের পরিচয় দিলুম আমি৷ বললুম, ‘বুকিং আছে আমার নামে—একটা রুম চাই—’

    লম্বা যুবকটি বলল, ‘দুঃখিত৷ কোনো রুম খালি নেই৷’

    ‘তা কি করে হবে!’ চিন্তিত গলায় বললুম আমি, ‘আমার নামে বুকিং কনফার্ম করা আছে!’

    ‘কনফার্ম করা আছে!’ যুবকটি অবাক চোখে তাকাল আমার দিকে৷ তারপর কাউন্টারের পিছনে র্যা কের ওপর রাখা বড় মাপের বুকিং রেজিস্টারটা টেনে নিয়ে ওলটাতে লাগল৷ খানিক পরে বলল, ‘আপনার বুকিং ছিল গতকাল সকালে৷ না আসার জন্য ক্যানসেল হয়ে গেছে৷ উই হ্যাড নো ফারদার ইনফরমেশন!’

    ‘ক্যানসেল হয়ে গেছে!’ দেখতে না পেলেও বুঝতে পারলুম নিশ্চিত শুকিয়ে গেছে আমার মুখ৷ বললুম, ‘ফ্লাইট মিস করেছিলুম বলেই আসতে পারিনি৷ অন্তত রাতটা কাটানোর জন্যে কোনো ব্যবস্থা করতে পারেন না আপনারা!’

    ‘রুম খালি থাকলে নিশ্চয়ই করতাম, স্যার৷ উই আর হিয়ার টু হেল্প ইউ!’

    বাঁধা বুলি৷ প্রত্যাখ্যানেও মিশে আছে সৌজন্যের হাসি৷ আমার রাগ হল, সঙ্গে ছেঁকে ধরল এক ধরনের অসহায়তা৷ কী করব বুঝতে পারছি না৷ একটা ট্যাক্সি পেলে অবশ্য চলে যাওয়া যায় জেঠতুতো দাদা কিংবা মাসির বাড়ি৷ একটা চাণক্যপুরী এবং অন্যটা চিত্তরঞ্জন পার্কে—জায়গাগুলোও কম দূর নয় এখান থেকে৷ ট্যাক্সি অবশ্য ফোন করলেই পাওয়া যায় দিল্লিতে৷ কিন্তু এত রাত্রে? না, সদাশিবের ওখানেও যাওয়া যায় না৷ ভাবতে ভাবতেই আমি তাকালুম লবির দিকে৷ ওইখানেই শুয়ে বসে রাতটুকু কাটিয়ে দেওয়া যায় কিনা ভাবলুম৷ বন্ধ কাচের দরজা দিয়ে বাইরে তাকালেই কুয়াশার দেয়াল ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ে না৷ এই সময় টেলিফোন বেজে উঠল৷ লম্বা যুবকটি রিসিভারে কান লাগিয়ে কি শুনল যেন, তারপর বলল, ‘সরি, উই আর ফুললি বুকড!’

    মনঃস্থির করতে না পেরে আমি বললুম, ‘একটা ট্যাক্সি পাওয়া যেতে পারে?’

    ‘দেখছি৷’ লম্বা যুবকটি বলল, ‘আপনি বসুন লবিতে—’

    আমি লবিতে গিয়ে বসলুম৷ এতক্ষণে কানে এল ঘুমন্ত লোকটির মৃদু নাক ডাকার শব্দ৷ কান পর্যন্ত ঢাকা পুলোভারের নীচে ঘামতে লাগলুম আমি৷

    ইতিমধ্যে কাউন্টারের বেঁটে যুবকটির সঙ্গে লম্বা যুবকটি নিজেদের—সম্ভবত পাঞ্জাবী ভাষায় কী বলাবলি করল বুঝতে পারিনি৷ লম্বা যুবকটি হঠাৎ আমাকে লক্ষ্য করে বলল, ‘সকাল আটটার আগে ছেড়ে দিলে এখন আপনাকে একটা ঘর দিতে পারি—’

    ‘ও-কে!’ আমি উঠে দাঁড়ালুম, ‘সকাল হলে আমি অন্য হোটেল খুঁজে নিতে পারি—’

    ‘এখানেও কোনো গেস্ট চলে যেতে পারে, তখন আপনাকে অন্য রুম দেওয়া যাবে৷ তবে আটটার মধ্যে বম্বে থেকে আসবে একজন৷ তার জন্যে একটা রুম কনফার্ম করা আছে—’

    তখনকার যা অবস্থা তাতে যে কোনো শর্তেই আমি রাজী৷ পিছনের কী-হোলের গায়ে লাগানো হুক থেকে একটি চাবি নিয়ে বেঁটে যুবকটির হাতে দিল লম্বা যুবকটি! বেঁটে যুবকটি কাউন্টারের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে বলল, ‘আসুন আমার সঙ্গে—’

    ঘরটা দোতলায়৷ নাম্বার তেত্রিশ৷ যুবকটি দরজায় চাবি লাগিয়ে তালা খুলে আলো জ্বাললো৷ তারপর আমার হাতে চাবিটি দিয়ে ‘গুড নাইট’ বলে চলে গেল৷ দেখলুম সিঁড়ির বাঁকে মিলিয়ে যাচ্ছে বেঁটে ও রোগা একটা চেহারা৷ যেমনই ব্যবহার করুক, শেষ পর্যন্ত আমার জন্যে একটা ব্যবস্থা করে দেবার জন্য যুবক দু’টির প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ করলুম আমি৷

    ঘরটা খারাপ নয়৷ ভিতরে ঢুকে বন্ধ করে দিলুম দরজাটা৷ স্যুটকেসটা নামিয়ে রাখলুম লাগেজ বক্সের ওপর৷ ঘুম পাচ্ছে৷ অবশ্যই ঘুম ছাড়া আর কোনো কাজ নেই এখন৷

    তাড়াতাড়ি পোশাক বদলে গেলুম টয়লেটে৷ ব্র্যাকেটে ঝুলছে একটা ব্যবহার করা তোয়ালে, সাবানটাও ব্যবহৃত৷ বাথ-টবের মাথা থেকে অগত্যা টেনে নিতে হল ভাঁজ করা তোয়ালেটা৷ তেষ্টা পেয়েছিল৷ টয়লেট থেকে বেরিয়ে ফ্লাস্ক থেকে গ্লাসে জল ঢালতে গিয়ে দেখি সেটাও ভর্তি নয় পুরোপুরি৷ তখন মনে হল হয়তো কিছুক্ষণ আগেও এই তেত্রিশ নাম্বার ঘরে আর কেউ ছিল৷ চলে যাবার পর বিছানা ইত্যাদি পরিপাটি করে রাখা হলেও—যত্ন নিয়ে পরিষ্কার করা হয়নি ঘরটা—নতুন আগন্তুকের জন্যে নতুন জিনিসপত্রও দেওয়া হয়নি৷ রিসেপশনের যুবকটি অবশ্য বলেছিল সকালে কেউ আসবে বম্বে থেকে৷ তার জন্যেই আলাদা করে রাখা আছে ঘরটি৷ হয়তো সকালেই পরিষ্কার করত৷ আমি তো উটকো লোক৷ ঘরটা যে শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল এটাই ভাগ্যের ব্যাপার৷

    বেড স্যুইচ জ্বেলে নিবিয়ে দিলুম বড় আলোটা৷ তখনি চোখে পড়ল, কাচের জানলার পর্দা টানা নেই৷ এগিয়ে গিয়ে পর্দা টানার আগে কাচে মুখ চেপে বাইরেটা দেখে নিলুম আমি৷ অন্ধকারে ঘন গাছ-গাছালি নিয়ে থমকে আছে লোধি গার্ডেনস—দৃষ্টি ছড়ানো যায় না৷ রিল-দেওয়া পর্দাটা টানতে টানতে গভীর ক্লান্তিতে হাই উঠে এল আবার৷ বিছানায় এসে চাদর জড়ানো কম্বলের ভিতর শরীরটা সেঁধিয়ে দিলুম আমি৷ ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, যেভাবে শুরু হয়েছিল দিনটি—শেষ অন্তত সেভাবে হয়নি৷ তিনটে বাজে প্রায়৷ শীতের দিল্লিতে সাড়ে সাতটার আগে সকাল হয় না৷ তার মানে ঘণ্টা চারেক অন্তত ঘুমোতে পারব নিশ্চিন্তে৷ হাত বাড়িয়ে বেড স্যুইচ টিপতেই অন্ধকার ছেয়ে গেল ঘরে৷ মনে হল ঘুম আসছে৷ হু হু করে সারা শরীরে ঘুমের আবির্ভাব টের পেলুম আমি৷

    কতক্ষণ জানি না—ঘুম না তন্দ্রা, কোন ঘোরে ছিলুম তাও বুঝতে পারলুম না ঠিকঠাক৷

    উঠে বসলুম বিছানায়৷ না, ভুল হয়নি৷ আমার ঘরের টয়লেটে ঘটাং করে ফ্লাশ টানার শব্দ পেয়েছিলুম, তারই জেরে এখনো পাচ্ছি কমোডে জল গড়িয়ে যাওয়ার শব্দ৷ অদ্ভুত তো!

    শব্দটায় ধাতস্থ হতে যেটুকু সময় লাগে৷ তারই আগেই বেড-স্যুইচ টিপে আলো জ্বাললুম আমি৷ উঠে গিয়ে টয়লেটের দরজা খুলতে চোখে পড়ল না কিছুই৷ ঝিরঝিরে শব্দটাও মিলিয়ে গেছে তখন৷ বিমূঢ় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে মনে হল, রাতের নৈঃশব্দ্যে দূরের শব্দ অনেক সময় কাছে চলে আসে—পাশের ঘরের ফ্লাশ টানার শব্দটাকেই ঘুমের ঘোরে ভুল করেছি৷ মাঝ থেকে ঘুমটা ভেঙে গেল!

    আলো নিবিয়ে শুয়ে পড়লুম আবার৷ এবং ঘুমিয়েও পড়লুম৷

    কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলুম জানি না, আচ্ছন্নতার মধ্যেই মনে হল জানলার পর্দাটা বেশ জোর দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিল কেউ—ঘড়ঘড় শব্দ হল রিলের৷ মনে হলেও গা করলুম না তেমন ঘুমের আগ্রহে পাশ ফিরলুম৷ শীতে জড়িয়ে আসছে সারা শরীর৷

    কিন্তু ওইভাবে কিছুক্ষণ আধো ঘুম, আধো জাগরণের মধ্যে পড়ে থাকতে থাকতেই টের পেলুম, সিগারেটের ধোঁয়ার গন্ধ মিশে যাচ্ছে আমার নিঃশ্বাসে৷ অস্বস্তি বেশি হওয়ায় পরিষ্কার ঘুম থেকে জেগে উঠলুম আমি৷ আর তখনি বিস্ময় আর আতঙ্কে দম বন্ধ হয়ে এল আমার৷ বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে দেখলুম, জানলার পর্দাটা সত্যিই সরানো আর রাইটিং টেবিলের সংলগ্ন চেয়ারটিতে বসে জানলার দিকে মুখ করে সিগারেট টানছে কেউ৷ অন্ধকার বলেই আদল স্পষ্ট হয় না৷ কিন্তু লাল জ্বলজ্বলে একটুকরো সিগারেটের আগুন চোখে পড়ছে ঠিকই৷ পোড়া সিগারেটের গন্ধ ক্রমশ আরো বেশি করে ছড়িয়ে পড়ছে ঘরে৷

    সম্ভবত চেঁচিয়ে উঠতে চেয়েছিলুম আমি, গলা দিয়ে শব্দ বেরুলো না কোনো৷ আতঙ্কের শেষ অবস্থায় পৌঁছে বেড স্যুইচটা টিপে আলো জ্বালতে পারলুম শুধু৷ আশ্চর্য! সব ঠিকঠাক আছে৷ জানলার পর্দাটা যেমন টানা ছিল তেমনই টানা—চেয়ারটা চেয়ারের জায়গায়৷ সিগারেটের ধোঁয়ারও নামগন্ধ নেই কোনো৷

    ঘামছিলুম৷ সেই অবস্থাতেই মনঃস্থির করে ফেললুম, আর ঘুমোবার দরকার নেই৷ আলোটা জ্বলুক৷ অন্তত ভোর না হওয়া পর্যন্ত এই ভাবেই জেগে থাকতে হবে আমাকে৷ ঘড়িতে তখন সাড়ে চারটে৷ শব্দহীন চারদিকে ঘুমের নিশ্চিন্তি৷ শুধু আমিই জেগে আছি৷

    ভোর হবার সঙ্গে সঙ্গে সদাশিবকে ফোন করে বললুম সব৷ সদাশিব বলল, ‘কী আশ্চর্য! ওই তেত্রিশ নম্বর ঘরটাই দিয়েছিল আপনাকে!’

    ‘কেন?’

    সদাশিব বলল, ‘পরশু রাত্রে ওই ঘরে মোহিনী চৌধুরী নামে এক ভদ্রলোক আত্মহত্যা করেছেন৷ আজকের কাগজেই আছে খবরটা—’

    আমি কিছু বলতে পারলুম না৷ তাহলে কি ভূতের সঙ্গেই রাতটা কেটে গেল আমার!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভৌতিক গল্পসমগ্র – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article খুদকুঁড়ো – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }