Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একশ বছরের সেরা ভৌতিক – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও বারিদবরণ ঘোষ

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প715 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নরক এক্সপ্রেস – সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়

    জলটা চেপে এল৷ ঝড়ের ধাক্কায় দোর-জানলা কেঁপে কেঁপে উঠছে৷

    রাত দশটা বেজে গেছে তখনো আমরা বসবার ঘরে আড্ডা দিচ্ছি৷ জয়ন্ত আমি আর সুরমা৷

    ‘আজ আর তোমার যাওয়া হয় না ভাই জয়ন্ত’—এই নিয়ে বার সাতেক অনুনয় করা হল জয়ন্তকে৷

    সুরমা কথায় ঝাঁজ মিশিয়ে কৈফিয়ৎ চাইলো—‘আজ এই রাক্ষুসে রাতে রওনা না হলে কী আপনার মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে, বলুন তো জয়ন্তবাবু?’

    ‘দুই দিনের কড়ারে এসে আটদিন রয়েছি বউদি! এর পরে শেষকালে প্রহারেণ ধনঞ্জয় করবেন, সেটা না আপনাদের দিক থেকে শোভন, না আমার দিক থেকে বাঞ্ছনীয় হবে৷’

    গম্ভীরভাবে এই কথা বলে একটা পান মুখে পুরলো জয়ন্ত৷

    তার কথা বলার ধরন দেখে আমি হোঃ হোঃ করে হেসে উঠলাম৷ সুরমারও ঠোঁটের কোণে দেখা গেলো হাসির ঝিলিক৷

    কড় কড় করে বাজ পড়লো নিকটেই কোথাও৷

    ‘কিন্তু সত্যি বলো তো, এই দুর্যোগে দেরাদুন এক্সপ্রেসে চাপতে তোমার ভয় হবে না? ঈশ্বর না করুন, অ্যাকসিডেন্ট তো হামেশাই হচ্ছে!’

    আমার তূণের শেষ বাণ এইটি৷ ট্রেন-দুর্ঘটনার ভয়েও যদি ও নিরস্ত না হয়, তবে আর উপায় কী? বন্ধু বই আর কিছু নয় যে জোর করে বলব—‘হবে না যাওয়া!’ বন্ধু মাত্র৷ তাও মাঝে কয়েক বৎসর কোনো খোঁজই রাখিনি ওর৷ হঠাৎ সেদিন একটা চিঠি এসে হাজির কে জানে কোথা থেকে আমার ঠিকানা জোগাড় করে নিয়ে জানিয়েছে—‘তোমার জঙ্গলে দুটো দিন কাটিয়ে আসতে চাই৷ পরশু রওনা হব৷’

    আমার এটা জঙ্গলই বটে৷ ফরেস্ট অফিসার আমি, যে বাংলোতে থাকি, তা থেকে স্টেশন অন্তত আধ মাইল৷ রাস্তা পাকা বটে, কিন্তু নিরাপদ নয়৷ রাত্রে বুনো হাতি চলাচল করে, আর সাপ অগুনতি৷

    জয়ন্ত এসেই উৎফুল্ল হয়ে উঠল৷ বাস করতে হয় তো, এইরকম জায়গাতেই৷ একেবারে আইডিয়াল নিভৃত-নিবাস৷ বেশ আছ তোমরা—‘কপোতকপোতী যথা বাঁধি নীড় সুখে…৷’

    ‘থাকো না দিনকতক, তুমিও বেশ থাকবে’—এই বলে সুরমাকে ফিরিস্তি দিতে বসে গেলাম—ছাত্রজীবনে ও চা-য়ে কয় চামচ চিনি খেত, ডিমের পোচ পছন্দ করত, না মামলেট, আর ফুলের ভেতর বেলফুলের বেশি পক্ষপাতী ছিলো, না রজনীগন্ধার৷

    ‘দেরাদুন এক্সপ্রেসে ভয়?’—আমার কথা শুনে ঠোঁট বেঁকিয়ে উত্তর দিলো জয়ন্ত— ‘নরক এক্সপ্রেসে চড়েও বেঁচে ফিরে এসেছি যখন, পৃথিবীর কোনো ট্রেনের কোনো অ্যাকসিডেন্টই আমার কিছু করতে পারবে না ভাই!’

    ‘নরক এক্সপ্রেস?—সে আবার কী?’—দু’জনেই একসঙ্গে প্রশ্ন করলাম—সুরমা আর আমি৷

    হাই তুলে দু’হাতে একসঙ্গে তুড়ি দিলো জয়ন্ত৷ ‘কথাটা বলে ফেলেছি তাহলে! এটা আমার একটা ব্যারামে দাঁড়ালো দেখছি৷ যেখানেই যাই—ঐ ছাই নরক এক্সপ্রেসের কথা না বলে পারিনে! এটা অবচেতন অহমিকা৷ একে দমন করতে হবে৷’

    ‘তা দমন করতে হয়, করো এর পর৷’—আমি পেয়ে বসলাম৷ ‘এখন তো গল্পটা আমাদের বলো৷’—আশা হল এই গল্পের নেশায় মেতে উঠলে ট্রেন-ধরার নেশা ছুটে যাবে হয়তো৷

    হাত-ঘড়িতে সময় দেখলো জয়ন্ত৷ দশটা বাইশ৷ দেরাদুন এক্সপ্রেস এগারোটা পঞ্চাশে৷ দেড় ঘণ্টা৷ আধ মাইল যেতে—এই ঝড়-বৃষ্টির দরুন সময় বেশি লাগবে—তবু আধ ঘণ্টার বেশি কিছুতেই লাগতে পারে না৷ ‘এক ঘণ্টা হাতে আছে যখন, নরক এক্সপ্রেসের গল্পটাই শুনিয়ে যাই তোমাকে—’

    ‘বছর তিনেক হল লক্ষ্যহীন ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম—যেমন চিরদিন বেড়াই৷ মধ্যভারতের ঐ দিকটায়৷

    হঠাৎ একদিন বিকেল বেলা একটা ছোট্ট স্টেশন প্রথম নজরেই বড় ভালো লেগে গেলো৷ দূরে দূরে নীল পাহাড়, স্টেশনের লাল ঘরগুলি অদ্ভুত সুন্দর দেখাচ্ছিলো তাদের ছায়ায়৷ আমগাছে কোকিল ডাকছে, হরিণ ছুটছে মাঠের ভিতর৷

    ভালো যখন লাগলো, সঙ্গে সঙ্গে নেমে পড়লাম গাড়ি থেকে৷ স্টেশনের নামটাও তখনো দেখিনি৷

    আমি নামার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি ছেড়ে দিলো৷ আমি ধীরে ধীরে এগিয়ে চললাম ওয়েটিং-রুমের দিকে ব্যাগটা বিছানাটা কারো জিম্মা করে দিয়ে বেড়াতে বেরুব৷

    স্টেশনের নাম দেখতে পেলাম—বুলন্দশহর৷

    বুলন্দশহর! কী যেন মনে পড়ে-পড়ে, পড়ে না৷ ঐ নামের সঙ্গে জড়ানো কী যেন কবেকার একটা কাহিনী৷ রবিবাবুর গল্পে এক বুলন্দশহরের কথা পড়েছি না? যেখানকার নবাবপুত্রী—কিন্তু না যে-গল্পটা আমার মনের আনাচে-কানাচে উঁকি দিচ্ছে, অথচ ধরা দিচ্ছে না, সেটা কোনো নবাবপুত্রীর গল্প নয়৷

    তবে, কী সেটা?

    প্ল্যাটফর্ম থেকে নেমে মাঠে পড়েছি, মাঠ পেরিয়ে ঢুকে পড়েছি বনে৷ রেললাইন আমার পাশে পাশেই চলেছে৷

    বন তখনো আদ্ধেক পেরুতে পারিনি, একটা নদীর ধারে এসে পড়লাম৷ সরু নদী, কিন্তু গভীর খুব৷ এখন গরমের দিনে জল বেশি নেই, মাঝে মাঝে চড়াও বেরিয়েছে৷ কিন্তু বর্ষার দিনে এ নদীতে যে অনেক জল থাকে আর স্রোতও হয় প্রবল, তা দেখেই আমি বুঝতে পারলাম৷

    এই নদীর উপর মজবুত কংক্রিটের পুল, তারই উপর দিয়ে চলে গিয়েছে রেললাইন৷

    কিন্তু বাঁয়ে ওটা কী? আর একটা পুল না?

    একটা কাঠের পুল, মাঝখানে ভাঙা৷ অর্থাৎ হাতদশ-বারো জায়গায় না আছে কাঠ, না আছে লোহা না আছে থাম, না আছে লাইন৷

    বেশ বোঝা যায়, ঐটিই এ-নদীর আদি পুল, এককালে ঐ পুল দিয়েই রেললাইন নদী পার হত৷

    যা এতোক্ষণ কিছুতেই মনে পড়ছিলো না, তা চট করে মনে পড়ে গেলো এইবার৷ বুলন্দশহর! এই সেই বুলন্দশহর! তিন বৎসর আগে এই স্টেশনে, এই নদীর উপরেই একটা ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছিলো৷ এক দুর্যোগের রাত্রে ঐ কাঠের পুলটা ভেঙে গোটা একখানা ট্রেন পড়ে গিয়েছিলো নদীর জলে৷ একটি প্রাণীও বাঁচেনি সে ট্রেনের৷

    বটে! এই সেই বুলন্দশহর! ঐ সেই পুল!

    একটা গোটা ট্রেনের সমস্ত যাত্রী সমুখের ঐ জায়গাটাতে জলে ডুবে মরেছিলো, জলে-ডোবা রেলগাড়ির কামরায় বন্ধ হয়ে, বা তার নিচে চাপা পড়ে৷ ঠিক খাঁচায়-বন্ধ ইঁদুর যে ভাবে জলে ডুবে মরে, সেই ভাবে৷

    মনে পড়ে৷ আর কল্পনাতে শিউরে শিউরে উঠি৷

    হঠাৎ খেয়াল হল—সন্ধ্যা হয়ে এসেছে৷ পূব আকাশে ঐ জ্যোছনা চিকচিক করছে— মস্ত-বড় চাঁদ, দ্বাদশী বা ত্রয়োদশী তিথি হবে৷

    রাতে বেড়ানো অভ্যাস আছে৷ বাঘ-ভাল্লুককে বড়-একটা কেয়ার করি না৷ তবু আজ এই পহাড়ে নদীর ভাঙা পুলের কাছে ভর-সন্ধ্যাবেলা দাঁড়িয়ে থাকতে গিয়ে গা ছমছম করে উঠল৷ জানা জিনিসের চাইতে অজানার ভয় আমাদের হাড়ে মজ্জায় অনেক বেশি নিবিড় করে মেশানো আছে৷ আমি তাড়াতাড়ি স্টেশনের দিকে পা চালিয়ে দিলাম৷

    ছোট্ট জায়গা, বাজার দোকান নেই বললেই হয়৷ এক ভুজাওয়ালার দোকানে ডাল- রোটির ব্যবস্থা করতেই দু’ঘণ্টা কেটে গেলো৷ তারপর ফিরে এলাম প্ল্যাটফর্মে৷

    স্টেশনমাস্টারকে টিকিটখানা দেখানো দরকার ছিলো৷ মাঝপথে নেমে পড়েছি এই টিকিটেই বাকি দূরত্বটুকু পাড়ি দেওয়া চলবে তো?

    ‘চলবে’—একগাল হেসে উত্তর দিলেন তিনি৷

    লোকটিকে মিশুক অমায়িক বলেই ধারণা হল৷ আমার হাতে কাজ নেই তো বটেই তাঁরও কিছু আছে বলে মনে হয় না৷ অনাহূত একটা টুল অধিকার করে গল্প শুরু করা গেলো৷

    ‘বেশ জায়গাটি আপনাদের৷’

    ‘তা যা বলেছেন৷’ মাস্টারমশাই উত্তর করলেন—‘জায়গাটি এমনিতে বেশ তবে বাঘ-ভাল্লুক আছে আর—’

    ‘আর’ বলে থেমে পড়লেন ভদ্রলোক৷

    ‘আর কী?’—আমি জিগ্যেস করলাম—‘কী যেন বলতে বলতে থেমে গেলেন বোধ হচ্ছে?’

    ‘না, ও কিছু নয়৷ বছর তিনেক আগে এইখানটাতে একটা অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল, শুনে থাকবেন৷ বেশ বড়-রকমের অ্যাকসিডেন্ট৷

    ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ’—আমি আগ্রহের সঙ্গে সায় দিলাম—‘খুব শুনেছি৷ পুল ভেঙে—’

    ‘লোকের মাথায় পোকা আছে, জানেন তো?’—স্টেশনমাস্টার বললেন—‘ভূত থাক না থাক, লোকে ভূতের গল্প করতে ভালোবাসে৷’

    একটা মালগাড়ি এসে পড়লো৷ স্টেশনমাস্টার তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে৷

    ভূতও আছে তাহলে এই ছোট্ট জায়গাটিতে থাকবে বই কি! শত শত লোকে পাইকারি হারে একসাথে যেখানে মারা যায়—

    বেরিয়ে ভুজাওয়ালার দোকানে হাজিরা দিলাম৷ ডাল-রোটি সে পাকিয়ে ফেলেছে৷ আমিও চোখ কান বুজে খেয়ে ফেললাম৷

    ওয়েটিংরুমে ফিরে এসে একটা বেঞ্চি অধিকার করলাম৷ সতরঞ্চিটা পেতে, কম্বল মাথায় দিয়ে শুয়ে পড়লাম আরাম করেই৷ রাত একটায় আমার ট্রেন৷ ঘুম যদি ঠিক সময়ে ভাঙে, ধরব সেটা৷ যদি না ভাঙে, কুছ পরোয়া নেই, কাল সকালে যে ট্রেন পাব, সেটাইতে উঠে পড়ব৷ রাত একটার গাড়ি আমায় ধরতেই হবে, এমন মাথার দিব্যি কেউ আমায় দেয়নি৷

    দেহ ক্লান্ত, কিন্তু ঘুম সহজে আসে না৷ এটা, ওটা, নানা চিন্তা৷ কলকাতার মেসে এক বামুন ঠাকুর ছিলো, সে অড়হর-কা দাইল রাঁধত—চমৎকার৷ আজকের এই ভুজাওয়ালার ডাইল তার কাছে কিছু না৷ মেসের সেই বামুন ঠাকুর দাঙ্গার সময় খুন হয়, ভূত হয়ে সে সারা রাত রান্নাঘরে হাঁড়ি-কড়া ঘটঘট করত৷ ট্রেনভর্তি যে লোকগুলো তিন বছর আগে এখানে নদীর জলে ডুবে মরেছে, তাদের মধ্যে মেসের ঠাকুর কেউ ছিলো কিনা, কে বলবে?

    কিন্তু, এত লোক ওয়েটিংরুমে ঢুকলো কেন? কখনই বা ঢুকলো? একটু বোধহয় তন্দ্রা এসে গিয়েছিলো এর ভেতরে৷ এরই মধ্যে ঘর যেন গিস গিস করছে লোকে৷ চুপি চুপি ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে, ফিসফাস কথা কইছে পরস্পরে৷ এরা কোন ট্রেনে যাবে? রাত একটার সেই ট্রেনে? ভীষণ ভিড় হবে দেখছি!

    চোখ মেলে লোকগুলোর দিকে চেয়ে দেখবার উৎসাহ আর হল না৷ চৈতন্য হারিয়ে ফেললাম ঘুমের কোলে৷

    কে জানত—এ ঘুম কাল ঘুম?

    কতক্ষণ এই কাল ঘুমে অজ্ঞান হয়ে ছিলাম জানি না, হঠাৎ ঘুম ভাঙলো একটা অস্পষ্ট কোলাহলে৷ ঘর-ভরা লোক দুদ্দাড় ছুটে চলেছে৷ ট্রেনে উঠবার জন্যে নাকি? উঠে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখি—তাই বটে, গাড়ি এসে গিয়েছে, দাঁড়িয়ে আছে প্ল্যাটফর্মের পাশে৷ উঃ, খুব সময়মতো ঘুমটা ভেঙেছে৷

    তাড়াতাড়ি বিছানাটা গুটিয়ে বগলে তুললাম ব্যাগটা হাতে নিয়ে সুমুখেই যে কামরাটা চোখে পড়লো, উঠে পড়লাম তাতেই৷ আলোয়-আলো সারা গাড়ি, জানলায় জানলায় অগুনতি মানুষের মাথা, হাঁক-ডাঁক—কেউ চা-ওলাকে ডাকছে, কেউ চাইছে গরম দুধ, কেউ-বা দেশলাই বিড়ি!

    গাড়িতে উঠে বসে পড়লাম একটা খোলা জানলার পাশে৷ হঠাৎ বুকের ভিতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠল৷ কেন, কে জানে?

    হয়তো, হয়তো কেন, নিশ্চয়ই তাই!

    প্ল্যাটফর্মটা, স্টেশনঘরটা জনপ্রাণী-শূন্য৷

    একটা আলো পর্যন্ত কোথাও নেই!

    গাড়িতে কামরায় আলো ঝলক দিচ্ছিলো, তাই আগে লক্ষ্য করি নি স্টেশনের আলোর অভাব৷ এ কি রকম? দূরপাল্লার একটা এক্সপ্রেস ট্রেন এসে স্টেশনে দাঁড়িয়েছে৷ স্টেশনে আলো নেই, মানুষ নেই! ট্রেন স্টেশনে এসে ঢুকলো কি করে? সিগন্যাল না পেলে এখন ট্রেন ছাড়বেই বা কী করে? স্টেশনমাস্টারকে তো কোথাও দেখছি না! স্টেশনের ঘরটাই বন্ধ!

    কিন্তু গাড়ি ছাড়লো ঠিকই৷ কেউ ঘণ্টা বাজালো না, কেউ নিশান দেখালো না, তবু ছাড়লো গাড়ি৷ ঘটাং-ঘট-ঘট-ঘটাং শব্দে দুলতে দুলতে স্টেশনের এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে পড়লো৷

    হাতঘড়ির দিকে দৈবাৎই চোখটা পড়েছিলো চমকে উঠলাম—রাত মোটে বারোটা!

    আমার এক্সপ্রেস গাড়ি তো রাত একটায় আসবার কথা!

    এ তবে কোন ট্রেন?

    যাঃ, কোথায় গিয়ে পড়ব এবার, কে জানে! এমন রাগ হল স্টেশনমাস্টারটার ওপরে! লোকটা কিনা আমায় অম্লান বদনে বললো যে রাত একটার আগে কোনো গাড়ি নেই?

    গাড়ি নেই যদি, এটা তবে কী?

    পাশের এক ভদ্রলোককে জিগ্যেস করলাম—‘ও মশাই, বিদেশী লোক, না-জেনে উঠে পড়েছি, গাড়িটা যাবে কোথায়?’

    লোকটা একবার তাকিয়ে দেখলো আমার পানে, কিন্তু জবাব কিছু দিলো না৷ লোকটা কালা নাকি?

    অন্য পাশে ছিলো এক পাৎলুন-পরা পার্শি৷ তাকেও জিগ্যেস করলাম ঐ একই প্রশ্ন৷ নাঃ, জবাব এও দিলো না৷

    রেগে গেলাম রীতিমতো৷ স্টেশনমাস্টারের ওপর, এই সহযাত্রীদের ওপর, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ওপর৷ এরা আমায় উজবুক বানিয়ে ছেড়েছে! গোল্লায় যাও সব৷

    রেগে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলাম৷

    হঠাৎ খেয়াল হল—রাতটা বড় অন্ধকার ঠেকছে৷ চাঁদটা গেলো কোথায়? সেই সন্ধেবেলা দেখেছিলাম—এত বড় সোনার থালার মতো ত্রয়োদশীর চাঁদ সারা পৃথিবী আলোয় উজ্জ্বল করে তুলেছে—সে-চাঁদ আমার গেলো কোথায়? রাত মোটে বারোটা, ত্রয়োদশীর চাঁদ তো এক্ষুনি অস্ত যেতে পারে না!

    তবে মেঘে ঢেকে ফেলেছে?

    ওঃ, তাই বলো! জমাট মেঘ সারা আকাশে৷ কালো৷ নিকষ কালো৷ ঐ যাঃ, বিদ্যুৎ চমকালো যে!

    শুধু বিদ্যুৎ? কড় কড় করে বাজ ডেকে উঠল৷ আকাশের এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত গড়িয়ে ডাকতে ডাকতে ছুটলো৷ কড়-কড় কড়াৎ!

    কোথায় ছিলো ঝড়, আর কোথায় ছিলো বৃষ্টি! দুই মিনিটের ভেতর প্রলয়-দুর্যোগ শুরু হয়ে গেলো৷ জানলা বন্ধ করে বসলাম সাবধানে৷ সহযাত্রীরা যেন ক্ষেপে উঠেছে ততোক্ষণে৷ ডাক ছেড়ে কাঁদছে, এ-ওর গলা জড়িয়ে ধরেছে, কপাল চাপড়াচ্ছে, যেন ভয়ে আর নৈরাশ্যে৷

    দুই একজনকে জিগ্যেস করলাম—‘ক্যা হুয়া, রোতা কাহে? তুফান বরখা কভি দেখা নেহি?’

    কে কার কথা শোনে৷ আমার দিকে কানই দিলো না কেউ৷ সমানে কাঁদতে থাকলো বাপ-দাদার নাম করে৷

    বিরক্ত হয়ে জানলা খুললাম৷ ঝড়-বাদলের ঝাপ্টা বরং সহ্য হবে, এদের এ পাগলামি অসহ্য৷

    জানলা খুলে ফেললাম৷ সেই মুহূর্তে এল একটা বিদ্যুতের চমক৷ চোখের পলকে যা দেখলাম, তাতে বুকের রক্ত হিম হয়ে গেলো আমার৷

    নদীর ধারে এসে পড়েছি আমরা৷ আর—

    ডাইনে ঐ কংক্রিটের পুল৷

    বাঁয়ে সেই ভাঙা কাঠের পুল৷

    আমাদের ট্রেন কংক্রিটের পুলের দিকে গেলো না, বাঁয়ে মোড় খেয়ে তীরবেগে ছুটলো কাঠের পুলের পানে৷

    আমি চেঁচিয়ে উঠলাম৷ গাড়ি-ভর্তি পঞ্চাশটা লোকের ভয়ার্ত রোদনের ওপরেও আমি শুনতে পেলাম আমার নিজের সেই চিৎকার৷

    ঘড়াস! ঘস! ঝপাস! ঝপ!

    আমি দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে খোলা জানলা দিয়ে লাফ দিলাম৷ গায়ের সমস্ত শক্তি একত্র করে লাফ দিলাম—কিসের ভিতরে লাফ দিচ্ছি, না দেখেই দিলাম লাফ৷

    তারপর কী হল, জানি নে৷

    জ্ঞান হল যখন, তখন আমি নবীনগরের হাসপাতালে৷ আষ্টেপৃষ্ঠে ব্যান্ডেজ বাঁধা৷ শুনলাম, সকালবেলায় কারা নাকি আমায় নদীর চড়ায় অজ্ঞান আর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্টেশনে নিয়ে যায়৷ স্টেশনমাস্টার আমায় পাঠান হাসপাতালে৷

    লোকটি ভালো৷ একদিন আমায় দেখতে এলেন হাসপাতালে৷ কথায় কথায় তাঁর মুখেই শুনলাম সব৷ ও ট্রেনটা আসলে ট্রেনই নয়, ট্রেনের ভূত৷ ওখানকার লোকে ওর নাম দিয়েছে—নরক এক্সপ্রেস৷ তিনবছর আগের সেই মারাত্মক দুর্ঘটনায় যে ট্রেনটা নদীতে উল্টে পড়ে গিয়েছিলো, সে এখনো রোজ রাতে একবার বুলন্দশহরের পাশ দিয়ে পুলের পানে ছোটে আর রোজ রাতে একবার ঝাঁপ খায় নদীর জলে৷

    আমার বরাত মন্দ যে সেই ট্রেনে উঠে পড়েছিলাম৷ আবার বরাত ভালো যে নরক এক্সপ্রেসও আমাকে নরকে নিয়ে যেতে পারে নি৷’

    গল্প শেষ হল৷ সুরমা চুপ, আমিও চুপ৷ হঠাৎ জয়ন্ত গা-ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ালো৷

    ‘এবার বেরুতে হয়৷ নইলে গাড়ি পাব না৷’

    ‘সত্যিই এই জল-ঝড়ে?’—আর কথা ফুটলো না আমার৷

    ‘সেরাত্রের জল-ঝড় এর চেয়ে বেশিই ছিলো ভাই৷ শুধু কি জল-ঝড়? চারিধারে ঘিরে ছিলো নরকের অধিবাসীরা৷ সামনে ছিলো মৃত্যুর হাতছানি৷ সেখান থেকে যখন ফিরতে পেরেছি, তখন কিছু ভয় করো না—আমি ঠিক পৌঁছে যাব৷’

    বেরিয়ে পড়লো জয়ন্ত৷

    তার বর্ষাতি-মোড়া সুদীর্ঘ দেহটা অচিরেই হারিয়ে গেলো বর্ষার ঘন-চিকের আড়ালে৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভৌতিক গল্পসমগ্র – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article খুদকুঁড়ো – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }