Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একশ বছরের সেরা ভৌতিক – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও বারিদবরণ ঘোষ

    বারিদবরণ ঘোষ এক পাতা গল্প770 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মহেশের মহাযাত্রা – পরশুরাম

    কেদার চাটুজ্যে মহাশয় বলিলেন,—‘আজকাল তোমরা সামান্য একটু বিদ্যে শিখে নাস্তিক হয়েছ, কিছুই মানতে চাও না৷ যখন আরো একটু শিখবে তখন বুঝবে যে আত্মা আছেন৷ ভূত, পেতনী—এঁরাও আছেন৷ বেম্মদত্যি, কন্ধকাটা—এঁয়ারাও আছেন৷’

    বংশলোচনবাবুর বৈঠকখানায় গল্প চলিতেছিল৷ তাঁহার শালা নগেন বলিল,—‘আচ্ছা বিনোদ-দা, আপনি ভূত বিশ্বাস করেন?’

    বিনোদবাবু বলিলেন—‘যখন প্রত্যক্ষ দেখব তখন বিশ্বাস ক’রব৷ তার আগে হাঁ-না কিছুই বলতে পারি না৷’

    চাটুজ্যে বলিলেন—‘এই বুদ্ধি নিয়ে তুমি ওকালতি কর! বলি, তোমার প্রপিতামহকে প্রত্যক্ষ করেছ? ম্যাকডোনাল্ড, চার্চিল আর বালডুইনকে দেখেছ? তবে তাদের কথা নিয়ে অত মাতামাতি কর কেন?’

    ‘আচ্ছা, আচ্ছা, হার মানছি চাটুজ্যে মশায়৷’

    ‘আপ্তবাক্য মানতে হয়৷ আরে, প্রত্যক্ষ করা কি যার তার কম্ম? শ্রীভগবান কখনো কখনো তাঁর ভক্তদের বলেন—দিব্যং দদামি তে চক্ষুঃ৷ সেই দিব্যদৃষ্টি পেলে তবে সব দেখতে পাওয়া যায়৷’

    নগেন জিজ্ঞাসা করিল—‘আপনি দেখতে পেয়েছেন চাটুজ্যে মশায়?’

    ‘জ্যাঠামি করিসনি৷ এই কলকাতা শহরে রাস্তায় যারা চলাফেরা করে—কেউ কেরানী, কেউ দোকানী, কেউ মজুর, কেউ আর কিছু—তোমরা ভাব সবাই বুঝি মানুষ৷ তা মোটেই নয়৷ তাদের ভেতর সর্বদাই দু-দশটা ভূত পাওয়া যায়৷ তবে চিনতে পারা দুষ্কর৷ এই রকম ভূতের পাল্লায় পড়েছিলেন মহেশ মিত্তির৷’

    ‘কে তিনি?’

    ‘জান না? আমাদের মজিলপুরের চরণ ঘোষের মামার শালা৷ এককালে তিনি কিছুই মানতেন না, কিন্তু শেষ দশায় তাঁকেও স্বীকার করতে হয়েছিল৷’

    সকলে একবাক্যে বলিলেন—‘কি হয়েছিল বলুন না চাটুজ্যে মশায়!’

     

    আরও দেখুন
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা গল্প
    বাংলা কমিকস
    Library
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    অনলাইন বুক
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা বই

     

    চাটুজ্যে মহাশয় হুঁকাটি হাতে তুলিয়া বলিতে আরম্ভ করিলেন৷

    ত্রিশ-চল্লিশ বৎসর আগেকার কথা৷ মহেশ মিত্তির তখন শ্যামবাজারের শিবচন্দ্র কলেজে প্রফেসরি করতেন৷ অঙ্কের প্রফেসর, অসাধারণ বিদ্যে, কিন্তু প্রচণ্ড নাস্তিক৷ ভগবান আত্মা পরলোক কিছুই মানতেন না৷ এমন কি, স্ত্রী মারা গেলে আর বিবাহ পর্যন্ত করেননি৷ খাদ্যাখাদ্যের বিচার ছিল না, বলতেন—শূয়োর না খেলে হিঁদুর উন্নতির আশা নেই, ওটা বাদ দিয়ে কোনো জাত বড় হতে পারেনি৷ মহেশের চালচলনের জন্য আত্মীয়স্বজন তাঁকে একঘরে করেছিল৷ কিন্তু যতই অনাচার করুন তাঁর স্বভাবটা ছিল অকপট, পারতপক্ষে মিথ্যা কথা কইতেন না৷ তাঁর পরম বন্ধু ছিলেন হরিনাথ কুণ্ডু, তিনিও ঐ কলেজের প্রফেসর, ফিলসফি পড়াতেন৷ কিন্তু বন্ধু হলে কি হয়, দুজনের হরদম ঝগড়া হত, কারণ হরিনাথ আর কিছু মানুন না মানুন ভূত মানতেন৷ তাছাড়া মহেশবাবু অত্যন্ত গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ, কেউ তাঁকে হাসতে দেখেনি, আর হরিনাথ ছিলেন আমুদে লোক, কথায় কথায় ঠাট্টা করে বন্ধুকে উদব্যস্ত করতেন৷ তবু মোটের ওপর তাঁদের পরস্পরের প্রতি খুব একটা টান ছিল৷

    তখন রাজনীতিচর্চার এত রেওয়াজ ছিল না, আর ভদ্রলোকের ছেলের অন্নচিন্তাও এমন চমৎকারা হয়নি, দু-একটা পাস করতে পারলে যেমন-তেমন চাকরি জুটে যেত৷ লোকের তাই উঁচুদরের বিষয় আলোচনা করবার সময় ছিল৷ ছোকরারা চিন্তা করত—বউ ভালোবাসে কি বাসে না৷ যাদের সে সন্দেহ মিটে গেছে, তারা মাথা ঘামাত—ভগবান আছেন কি নেই৷ একদিন কলেজে কাজ ছিল না, অধ্যাপকেরা সকলে মিলে গল্প করছিলেন৷ গল্পের আরম্ভ যা নিয়েই হোক, মহেশ আর হরিনাথ কথাটা টেনে নিয়ে ভূতে আর ভগবানে হাজির করতেন, কারণ এই নিয়ে তর্ক করাই তাঁদের অভ্যাস৷ এদিনও তাই হয়েছিল৷

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    গ্রন্থাগার
    Books
    ই-বই ডাউনলোড
    বুক শেল্ফ
    বাংলা বই
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা কুইজ গেম

     

    আলোচনা শুরু হয় ঝি-চাকরের মাইনে নিয়ে৷ কলেজের পণ্ডিত দীনবন্ধু বাচস্পতি মশায় দুঃখ করছিলেন—‘ছোটলোকের লোভ এত বেড়ে গেছে যে আর পেরে ওঠা যায় না৷’ মহেশবাবু বললেন—‘লোভ সকলেরই বেড়েছে, আর বাড়াই উচিত, নইলে মনুষ্যত্বের বিকাশ হবে কিসে৷’ পণ্ডিত মশায় উত্তর দিলেন—‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু৷’ মহেশবাবু পালটা জবাব দিলেন—‘লোভ ত্যাগ করলেও মৃত্যুকে ঠেকানো যায় না৷’

    তর্কটা তেমন জুতসই হচ্ছে না দেখে হরিনাথবাবু একটু উসকে দেবার জন্য বললেন—‘আমাদের মতন লোকের লোভ হওয়া উচিত মৃত্যুর পর৷ মাইনে তো পাই মোটে পৌনে দু-শ, তাতে ইহকালের কটা শখই বা মিটবে৷ তাই তো পরকালের আশায় বসে আছি, আত্মাটা যদি স্বর্গে গিয়ে একটু ফুর্তি করতে পারে৷’

    দীনবন্ধু পণ্ডিত বললেন—‘কে বললে তুমি স্বর্গে যাবে? আর স্বর্গের তুমি জানই বা কি?’

    ‘সমস্তই জানি পণ্ডিত মশায়৷ খাসা জায়গা, না গরম না ঠাণ্ডা৷ মন্দাকিনী কুলুকুলু বইছে, তার ধারে ধারে পারিজাতের ঝোপ৷ সবুজ মাঠের মধ্যিখানে কল্পতরু গাছে আঙুর বেদানা আম রসগোল্লা কাটলেট সব রকম ফলে আছে, ছেঁড় আর খাও৷ জন-কতক ছোকরা-দেবদূত গোলাপী উড়ুনি গায়ে দিয়ে সুধার বোতল সাজিয়ে বসে রয়েছে, চাইলেই ফটাফট খুলে দেবে৷ ঐ হোথা কুঞ্জবনে ঝাঁকে ঝাঁকে অপ্সরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, দুদণ্ড রসালাপ কর, কেউ কিচ্ছু বলবে না৷ যত খুশি নাচ দেখ, গান শোন৷ আর কালোয়াতি চাও তো নারদ মুনির আস্তানায় যাও৷’

     

    আরও দেখুন
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা কমিকস
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বইয়ের
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বই পড়ুন

     

    মহেশবাবু বললেন—‘সমস্ত গাঁজা৷ পরলোকে আত্মা ভূত ভগবান কিছুই নেই৷ ক্ষমতা থাকে প্রমাণ কর৷’

    তর্ক জমে উঠল৷ প্রফেসররা কেউ এক পক্ষে কেউ অপর পক্ষে দাঁড়ালেন৷ পণ্ডিত মশায় দারুণ অবজ্ঞায় ঠোঁট উলটে বসে রইলেন৷ বৃদ্ধ প্রিনসিপাল যদু সান্ডেল রফা করে বললেন—‘ভূতের তেমন দরকার দেখি না, কিন্তু আত্মা আর ভগবান বাদ দিলে চলে না৷’ মহেশ মিত্তির বললেন—‘কেউ-ই নেই, আমি দশ মিনিটের মধ্যে প্রমাণ করে দিচ্ছি৷’ হরিনাথ কুণ্ডু মহা উৎসাহে বন্ধুর পিঠ চাপড়ে বললেন—‘লেগে যাও৷’

    তারপর মহেশবাবু ফুলস্কাপ কাগজ আর পেনসিল নিয়ে একটি বিরাট অঙ্ক কষতে লেগে গেলেন৷ ঈশ্বর আত্মা আর ভূত—এই তিন রাশি নিয়ে অতি জটিল অঙ্ক, তার গতি বোঝে কার সাধ্য৷ বিস্তর যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ করে হাতির শুঁড়ের মতন বড় বড় চিহ্ন টেনে অবশেষে সমাধান করলেন—ঈশ্বর = 0, আত্মা = ভূত = ০৷

    বাচস্পতি বললেন—‘বদ্ধ উন্মাদ৷’

    মহেশবাবু বললেন—‘উন্মাদ বললেই হয় না৷ এ হল গিয়ে দস্তুরমতো ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলস৷ সাধ্য থাকে তো আমার অঙ্কের ভুল বার করুন৷’

     

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    Books
    বাংলা ভাষা
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা কবিতা
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স

     

    হরিনাথ বললেন—‘অঙ্ক-টঙ্ক আমার আসে না৷ বাচস্পতি মশায় যদি ভগবান দেখাবার ভার নেন তো আমি মহেশকে ভূত দেখাতে পারি৷’

    বাচস্পতি বললেন—‘আমার বয়ে গেছে৷’

    মহেশবাবু বললেন—‘বেশ তো, হরিনাথ তুমি ভূতই দেখাও না৷ একটার প্রমাণ পেলে আর সমস্তই মেনে নিতে রাজী আছি৷’

    হরিনাথবাবু বললেন—‘এই কথা? আচ্ছা, আসছে হপ্তায় শিবচতুর্দশী পড়ছে৷ সেদিন তুমি আমার সঙ্গে রাত বারটায় মানিকতলায় নতুন খালের ধারে চল, পষ্টাপষ্টি ভূত দেখিয়ে দেব৷ কিন্তু যদি কোনো বিপদ ঘটে তো আমাকে দুষতে পারবে না৷’

    ‘যদি দেখাতে না পার?’

     

    আরও দেখুন
    অনলাইন বুক
    উপন্যাস সংগ্রহ
    গ্রন্থাগার সেবা
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা সাহিত্য কোর্স

     

    ‘আমার নাক কেটে দিয়ো৷ আর যদি দেখাতে পারি তো তোমার নাক কাটব৷’

    প্রিনসিপাল যদু সান্ডেল বললেন—‘কাটাকাটির দরকার কি, সত্যের নির্ণয় হলেই হল৷

    শিবচতুর্দশীর রাত্রে মহেশ মিত্তির আর হরিনাথ কুণ্ডু মানিকতলায় গেলেন৷ জায়গাটা তখন বড়ই ভীষণ ছিল, রাস্তায় আলো নেই, দু-ধারে বাবলা গাছে আরো অন্ধকার করেছে৷ সমস্ত নিস্তব্ধ, কেবল মাঝে মাঝে প্যাঁচার ডাক শোনা যাচ্ছে৷ হোঁচট খেতে খেতে দুজনে নতুন খালের ধারে পৌঁছলেন৷ বছর-দুই আগে ওখানে প্লেগের হাসপাতাল ছিল, এখনো তার গোটাকতক খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে৷

    মহেশ মিত্তির অবিশ্বাসী সাহসী লোক, কিন্তু তাঁরও গা ছমছম করতে লাগল৷ হরিনাথ সারা রাস্তা কেবল ভূতের কথাই কয়েছেন—তারা দেখতে কেমন মেজাজ কেমন, কি খায়, কি পরে৷ দেবতারা হচ্ছেন উদারপ্রকৃতি দিলদরিয়া, কেউ তাঁদের না মানলেও বড়-একটা কেয়ার করেন না৷ কিন্তু অপদেবতারা পদবীতে খাটো বলে তাঁদের আত্মসম্মানবোধ বড়ই উগ্র, না মানলে ঘাড় ধরে তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা আদায় করেন৷ এই সব কথা৷

     

    আরও দেখুন
    গ্রন্থাগার সেবা
    বই
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা বই
    বাংলা কমিকস
    বই পড়ুন

     

    হঠাৎ একটা বিকট আওয়াজ শোনা গেল, যেন কোনো অশরীরী বেড়াল তার পলাতকা প্রণয়িনীকে আকুল আহ্বান করছে৷ একটু পরেই মহেশবাবু রোমাঞ্চিত হয়ে দেখলেন, একটা লম্বা রোগা কুচকুচে কালো মূর্তি দু-হাত তুলে সামনে দাঁড়িয়ে আছে৷ তার পিছনে একটু দূরে ঐ রকম আরো দুটো৷

    হরিনাথবাবু থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে বললেন—‘রাম রাম সীতারাম! ও মহেশ, দেখছ কি, তুমিও বল না৷’

    আর একটু হলেই মহেশবাবু রামনাম উচ্চারণ করে ফেলতেন, কিন্তু তাঁর কনসেন্স বাধা দিয়ে বললে—‘উঁহু, একটু সবুর কর, যদি ঘাড় মটকাবার লক্ষণ দেখ তখন না-হয় রামনাম করো৷’

    এঁরা একটা পাকুড় গাছের নীচে ছিলেন৷ হঠাৎ ওপর থেকে খানিকটা কাদা-গোলা জল মহেশের মাথায় এসে পড়ল৷

    তখন সামনের সেই কালো মূর্তিটা নাকী সুরে বললে—‘মহেশবাবু, আপনি নাকি ভূত মানেন না?’

    এ অবস্থায় বুদ্ধিমান ব্যক্তি মাত্রেই বলে থাকেন—আজ্ঞে হাঁ, মানি বই কি৷ কিন্তু মহেশ মিত্তির বেয়াড়া লোক, হঠাৎ তাঁর কেমন একটা খেয়াল হল, ধাঁ করে এগিয়ে গিয়ে ভূতের কাঁধ খামচে ধরে জিজ্ঞাসা করলেন—‘কোন ক্লাস?’

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ই-বই
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা কুইজ গেম
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    ই-বই ডাউনলোড
    গ্রন্থাগার
    বই
    ই-বুক রিডার
    সেবা প্রকাশনীর বই

     

    ভূত থতোমতো খেয়ে জবাব দিলে—‘সেকেন্ড ইয়ার স্যার!’

    ‘রোল নম্বর কত?’

    ভূত করুণ নয়নে হরিনাথের দিকে চেয়ে জিজ্ঞাসা করলে, ‘বলি স্যার?’

    হরিনাথের মুখে রাম রাম ভিন্ন কথা নেই৷ পিছনের দুই ভূত অদৃশ্য হয়ে গেল৷ পাকুড় গাছে যে ছিল সে টুপ করে নেমে এসে পালিয়ে গেল৷ তখন বেগতিক দেখে সামনের ভূতটি ঝাঁকুনি দিয়ে মহেশের হাত ছাড়িয়ে চোঁচা দৌড় মারলে৷

    মহেশ মিত্তির হরিনাথের পিঠে একটা প্রচণ্ড কিল মেরে বললেন—‘জোচ্চোর!’

    হরিনাথও পালটা কিল মেরে বললেন—‘আহাম্মক!’

    নিজের নিজের পিঠে হাত বুলোতে বুলোতে দুই বন্ধু বাড়ি-মুখো হলেন৷ আসল ভূত যারা আশেপাশে লুকিয়ে ছিল তারা মনে মনে বললে—আজি রজনীতে হয়নি সময়৷

     

    আরও দেখুন
    গ্রন্থাগার
    ই-বুক রিডার
    বাংলা গল্প
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    সেবা প্রকাশনীর বই
    Library
    উপন্যাস সংগ্রহ
    সেবা প্রকাশনী বই
    বাংলা লাইব্রেরী
    পিডিএফ

     

    পরদিন কলেজে হুলস্থূল বেধে গেল৷ সমস্ত ব্যাপার শুনে প্রিনসিপাল ভয়ংকর রাগ করে বললেন—‘অত্যন্ত শেমফুল কাণ্ড৷ দুজন নামজাদা অধ্যাপক একটা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে হাতাহাতি! হরিনাথ তোমার লজ্জা নেই?’

    হরিনাথবাবু ঘাড় চুলকে বললেন—‘আজ্ঞে আমার উদ্দেশ্যটা ভালোই ছিল৷ মহেশকে রিফর্ম করবার জন্য যদি একটু ইয়ে করেই থাকি তাতে দোষটা কি—হাজার হোক আমার বন্ধু তো?’

    মহেশবাবু গর্জন করে বললেন,—‘কে তোমার বন্ধু?’

    প্রিনসিপাল বললেন—‘মহেশ, তুমি চুপ কর৷ উদ্দেশ্য যাই হোক, কলেজের ছেলেদের এর ভেতর জড়ানো একেবারে অমার্জনীয় অপরাধ৷ হরিনাথ তুমি বাড়ি যাও, তোমায় সাসপেন্ড করলুম৷ আর মহেশ তোমাকেও সাবধান করে দিচ্ছি—আমার কলেজে আর ভূতুড়ে তর্ক তুলতে পারবে না৷’

    মহেশবাবু উত্তর দিলেন—‘সে প্রতিশ্রুতি দেওয়া শক্ত৷ সকল রকম কুসংস্কার দূর করাই আমার জীবনের ব্রত৷’

     

    আরও দেখুন
    বাংলা কুইজ গেম
    সাহিত্য পত্রিকা
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ই-বই
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    Books
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা ইসলামিক বই
    বইয়ের
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ

     

    ‘তবে তোমাকেও সাসপেন্ড করলুম৷’

    অন্যান্য অধ্যাপকরা চুপ করে সমস্ত শুনছিলেন৷ তাঁরা প্রিনসিপালের হুকুম শুনে কোনো প্রতিবাদ করলেন না, কারণ সকলেই জানতেন যে তাঁদের কর্তার রাগ বেশিদিন থাকে না৷

    মহেশবাবু তাঁর বাসায় ফিরে এলেন৷ হরিনাথের ওপর প্রচণ্ড রাগ—হতভাগা একটা গভীর তত্ত্বের মীমাংসা করতে চায় জুয়োচুরি দ্বারা! সে আবার ফিলসফি পড়ায়! এমন অপ্রত্যাশিত আঘাত মহেশবাবু কখনো পাননি৷

    মানুষের মন যখন নিদারুণ ধাক্কা খায় তখন সে তার ভাব ব্যক্ত করবার জন্য উপায় খোঁজে৷ কেউ কাঁদে, কেউ তর্জন-গর্জন করে, কেউ কবিতা লেখে৷ একটা তুচ্ছ কোঁচ-বকের হত্যাকাণ্ড দেখে মহর্ষি বাল্মীকির মনে যে ঘা লেগেছিল, তাই প্রকাশ করবার জন্য তিনি হঠাৎ দু-ছত্র শ্লোক রচনা করে ফেলেন—মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বম ইত্যাদি৷ তারপর সাতকাণ্ড রামায়ণ লিখে তাঁর ভাবের বোঝা নামাতে পেরেছিলেন৷ আমাদের মহেশ মিত্তির চিরকাল নীরস অঙ্কশাস্ত্রের চর্চা করে এসেছেন, কাব্যের কিছুই জানতেন না৷ কিন্তু আজ তাঁরও মনে সহসা একটা কবিতার অঙ্কুর গজগজ করতে লাগল৷ তিনি আর বেগ সামলাতে পারলেন না, কলেজের পোশাক না ছেড়েই বড় একখানা আলজেবরা খুলে তার প্রথম পাতায় লিখলেন—

     

    আরও দেখুন
    বই
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    Library
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা ভাষা
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য

     

    হরিনাথ কুণ্ডু,

    খাই তার মুণ্ডু৷

    কবিতাটি লিখে বার বার ডাইনে বাঁয়ে ঘাড় বেঁকিয়ে দেখে আদিকবি বাল্মীকির মতন ভাবলেন, হাঁ, উত্তম হয়েছে৷

    কিন্তু একটা খটকা বাধল৷ কুণ্ডুর সঙ্গে মুণ্ডুর মিল আবহমান কাল থেকে চলে আসছে, এতে মহেশের কৃতিত্ব কোথায়? কালিদাসই হোন আর রবীন্দ্রনাথই হোন, কুণ্ডুর সঙ্গে মুণ্ডু মেলাতেই হবে—এ হল প্রকৃতির অলঙ্ঘনীয় নিয়ম৷ মহেশ একটু ভেবে ফের লিখলেন—

    কুণ্ডু হরিনাথ

    মুণ্ডু করি পাত৷

    হাঁ, এইবারে মৌলিক রচনা বলা যেতে পারে৷ মহেশের মনটা একটু শান্ত হল৷ কিন্তু কাব্যসরস্বতী যদি একবার কাঁধে ভর করেন তবে সহজে নামতে চান না৷ মহেশবাবু লিখতে লাগলেন—

     

    আরও দেখুন
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    অনলাইন বুক
    বইয়ের
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    সেবা প্রকাশনী বই
    অনলাইন বই

     

    হরিনাথ ওরে,

    হবি তুই ম’রে

    নরকের পোকা

    অতিশয় বোকা৷

    উঁহু, নরকই নেই তার আবার পোকা৷ মহেশবাবু স্থির করলেন—কাব্যে কুসংস্কার নাম দিয়ে তিনি শীঘ্রই একটা প্রবন্ধ রচনা করবেন, তাতে মাইকেল রবীন্দ্রনাথ কাকেও রেহাই দেবেন না৷ তারপর তাঁর কবিতার শেষের চার লাইন কেটে দিয়ে ফের লিখলেন—

    ওরে হরিনাথ

    তোরে করি কাত,

    পিঠে মারি চড়—

    এমন সময় মহেশের চাকরটা এসে বললে—‘বাবু, চা হবে কি দিয়ে? দুধ তো ছিঁড়ে গেছে৷’

    মহেশবাবু অন্যমনস্ক হয়ে বললেন—‘সেলাই করে নে৷’

    পিঠে মারি চড়,

    মুখে গুঁজি খড়৷

    জ্বেলে দেশলাই

    আগুন লাগাই৷

    কিন্তু আবার এক আপত্তি৷ হরিনাথকে পুড়িয়ে ফেললে জগতের কোনো লাভ হবে না, অনর্থক খানিকটা জান্তব পদার্থ বরবাদ হবে৷ বরং তার চাইতে—

    হরিনাথ ওরে,

    পোড়াব না তোরে৷

    নিয়ে যাব ধাপা

    দেব মাটি-চাপা৷

    সার হয়ে যাবি,

    ঢ্যাঁড়স ফলাবি৷

    মহেশবাবু আরো অনেক লাইন রচনা করেছিলেন, তা আমার মনে নেই৷ কবিতা লিখে খানিকটা উচ্ছ্বাস বেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর হৃদয়টা বেশ হালকা হল, তিনি কাপড়- চোপড় ছেড়ে ইজিচেয়ারে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন৷

    তিন দিন যেতে না যেতে প্রিনসিপাল মহেশ আর হরনাথকে ডেকে পাঠালেন৷ তাঁরা আবার নিজের নিজের কাজে বাহাল হলেন, কিন্তু তাঁদের বন্ধুত্ব ভেঙে গেল৷ সহকর্মীরা মিলনের অনেক চেষ্টা করলেন, কিন্তু কোনো ফল হল না৷ হরিনাথ বরং একটু সন্ধির আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, কিন্তু মহেশ একেবারে পাথরের মতন শক্ত হয়ে রইলেন৷ কিছুদিন পরে মহেশবাবুর খেয়াল হল—প্রেততত্ত্ব সম্বন্ধে একতরফা বিচার করাটা ন্যায়সঙ্গত নয়, এর অনুকূল প্রমাণ কে কি দিয়েছেন তাও জানা উচিত৷ তিনি দেশী বিলীতি বিস্তর বই সংগ্রহ করে পড়তে লাগলেন, কিন্তু তাতে তাঁর অবিশ্বাস আরো প্রবল হল৷ প্রত্যক্ষ প্রমাণ কিছুই নেই, কেবল আছে—অমুক ব্যক্তি কি বলেছেন আর কি দেখেছেন৷ বাঘের অস্তিত্বে মহেশের সন্দেহ নেই, কারণ জন্তু বাগানে গেলেই দেখা যায়৷ ভূত যদি থাকেই তবে খাঁচায় পুরে দেখা না বাপু৷ তা নয়, শুধু ধাপ্পাবাজি৷ প্রেততত্ত্ব চর্চা করে মহেশবাবু বেজায় চটে উঠলেন৷ শেষটায় এমন হল যে ভূতের গুষ্ঠিকে গালাগাল না দিয়ে তিনি জলগ্রহণ করতেন না৷

    পড়ে পড়ে মহেশের মাথা গরম হয়ে উঠল৷ রাতে ঘুম হয় না, কেবল স্বপ্ন দেখেন ভূতে তাঁকে ভেংচাচ্ছে৷ এমন স্বপ্ন দেখেন বলে নিজের ওপরেও তাঁর রাগ হতে লাগল৷ ডাক্তার বললে—পড়াশুনা বন্ধ করুন, বিশেষ করে ঐ ভূতুড়ে বইগুলো—যা মানেন না তার চর্চা করেন কেন৷ কিন্তু ঐ সব বই পড়া মহেশের এখন একটা নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ পড়লেই রাগ হয়, আর সেই রাগেতেই তাঁর সুখ৷

    অবশেষে মহেশ মিত্তির কঠিন রোগে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন৷ দিন দিন শরীর ক্ষয়ে যেতে লাগল, কিন্তু রোগটা ঠিক নির্ণয় হল না৷ সহকর্মীরা প্রায়ই এসে তাঁর খবর নিতেন৷ হরিনাথও একদিন এসেছিলেন, কিন্তু মহেশ তাঁর মুখদর্শন করলেন না৷

    সাত-আট মাস কেটে গেল৷ শীতকাল, রাত দশটা৷ হরিনাথবাবু শোবার উদ্যোগ করছেন এমন সময় মহেশের চাকর এসে খবর দিলে যে তার বাবু ডেকে পাঠিয়েছেন, অবস্থা খুব খারাপ৷ হরিনাথ তখনি হাতিবাগানে মহেশের বাসায় ছুটলেন৷

    মহেশের আর দেরি নেই, মৃত্যুর ভয় নেই৷ বললেন—‘হরিনাথ তোমায় ক্ষমা করলুম৷ কিন্তু ভেব না যে আমার মত কিছুমাত্র বদলেছে৷ এই রইল আমার উইল, তোমাকেই অছি নিযুক্ত করেছি৷ আমার পৈতৃক দশ হাজার টাকার কাগজ ইউনিভার্সিটিকে দান করেছি, তার সুদ থেকে প্রতি বৎসর একটা পুরস্কার দেওয়া হবে৷ যে ছাত্র ভূতের অনস্তিত্ত্ব সম্বন্ধে শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ লিখবে সে ঐ পুরস্কার পাবে৷ আর দেখ—খবরদার, শ্রাদ্ধ-ট্রাদ্ধ করো না৷ ফুলের মালা চন্দন-কাঠ ঘি এসব দিয়ো না, একদম বাজে খরচ৷ তবে হাঁ, দু-চার বোতল কেরোসিন ঢালতে পার৷ দেড় সের গন্ধক আর পাঁচ সের সোরা আনানো আছে, তাও দিতে পার, চটপট কাজ শেষ হয়ে যাবে৷ আচ্ছা, চললুম তা হলে৷’

    রাত প্রায় সাড়ে এগারটা৷ মহেশের আত্মীয়স্বজন কেউ কলকাতায় নেই, থাকলেও বোধ হয় তারা আসত না৷ বড়দিনের বন্ধ, কলেজের সহকর্মীরা প্রায় সকলেই অন্যত্র গেছেন৷ হরিনাথ মহা বিপদে পড়লেন৷ মহেশবাবুর চাকরকে বললেন পাড়ার জনকতক লোক ডেকে আনতে৷

    অনেকক্ষণ পরে দুজন মাতব্বর প্রতিবেশী এলেন৷ ঘরে ঢুকলেন না, দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন—‘চুপ করে বসে আছেন যে বড়? সৎকারের ব্যবস্থা কি করলেন?’

    হরিনাথ বললেন—‘আমি একলা মানুষ, আপনাদের ওপরেই ভরসা৷’

    ‘ওই বেলেল্লা হতভাগার লাস আমরা বইব? ইয়ারকি পেয়েছেন নাকি!’ এই কথা বলেই তাঁরা সরে পড়লেন৷

    হরিনাথের তখন মনে পড়ল, বড় রাস্তার মোড়ে একটা মাটকোঠা সাইনবোর্ড দেখেছেন—বৈতরনী সমিতি, ভদ্রমহোদয়গণের দিবারাত্র সস্তায় সৎকার৷ চাকরকে বসিয়ে রেখে তখনি সেই সমিতির খোঁজে গেলেন৷

    অনেক চেষ্টায় সমিতি থেকে তিন জন লোক যোগাড় হল৷ পনের টাকা পারিশ্রমিক, আর শীতের ওষুধ বাবদ ন-সিকে৷ সমস্ত আয়োজন শেষ হলে হরিনাথ আর তাঁর সঙ্গীরা খাট কাঁধে নিয়ে রাত আড়াইটার সময় নিমতলায় রওনা হলেন৷

    অমাবস্যার রাত্রি, তার ওপর আবার কুয়াশা৷ হরিনাথের দল কর্নওআলিস স্ট্রিট দিয়ে চললেন৷ গ্যাসের আলো মিটমিট করছে, পথে জনমানব নেই৷ কাঁধের বোঝা ক্রমেই ভারী বোধ হতে লাগল, হরিনাথ হাঁপিয়ে পড়লেন৷

    বৈতরণী সমিতির সর্দার ত্রিলোচন পাকড়াশী বুঝিয়ে দিলেন—এমন হয়েই থাকে, মানুষ মরে গেলে তার ওপর জননী বসুন্ধরার টান বাড়ে৷

    হরিনাথ একলা নয়, তাঁর সঙ্গীরা সকলেই সেই শীতে গলদঘর্ম হয়ে উঠল৷ খাট নামিয়ে খানিক জিরিয়ে আবার যাত্রা৷

    কিন্তু মহেশ মিত্তিরের ভার ক্রমশই বাড়ছে, পা আর এগোয় না৷ পাকড়াশী বললেন—‘ঢের ঢের বয়েছি মশায়, কিন্তু এমন জগদ্দল মড়া কখনো কাঁধে করিনি৷ দেহটা তো শুকনো, লোহা খেতেন বুঝি? পনের টাকায় হবে না মশায়, আরো পাঁচ টাকা চাই৷’

    হরিনাথ তাতেই রাজী, কিন্তু সকলে এমন কাবু হয়ে পড়েছে যে দু-পা গিয়ে আবার খাট নামাতে হল৷ হরিনাথ ফুটপাথে এলিয়ে পড়লেন, বৈতরণীর তিন জন হাঁপাতে হাঁপাতে তামাক টানতে লাগল৷

    ওঠবার উপক্রম করছেন এমন সময় হরিনাথের নজরে পড়ল—কুয়াশার ভেতর দিয়ে একটা আবছায়া তাদের দিকে এগিয়ে আসছে৷ কাছে এলে দেখলেন—কালো র্যা পার মুড়ি দেওয়া একটা লোক৷ লোকটি বললে—‘এঃ আপনারা হাঁপিয়ে পড়েছেন দেখছি৷ বলেন তো আমি কাঁধ দিই৷’

    হরিনাথ ভদ্রতার খাতিরে দু-একবার আপত্তি জানালেন, কিন্তু শেষটায় রাজী হলেন৷ লোকটি কোন জাত তা আর জিজ্ঞাসা করলেন না, কারণ মহেশ মিত্তির ও-বিষয় চিরকাল সমদর্শী—এখন তো কথাই নেই৷ তা ছাড়া যে লোক উপযাচক হয়ে শ্মশানযাত্রার সঙ্গী হয় সে তো বান্ধব বটেই৷

    ত্রিলোচন পাকড়াশী বললেন,—‘কাঁধ দিতে চাও দাও, কিন্তু বখরা পাবে না, তা বলে রাখছি৷’

    আগন্তুক বললে—‘বখরা চাই না৷’

    এবার হরিনাথকে কাঁধ দিতে হল না৷ তাঁর জায়গায় নতুন লোকটি দাঁড়াল৷ আগের চেয়ে যাত্রাটা একটু দ্রুত হল কিন্তু কিছুক্ষণ পরে আর পা চলে না, ফের খাট নামিয়ে বিশ্রাম৷

    পাকড়াশী বললেন—কুড়ি টাকার কাজ নয় বাবু, এ হল মোষের গাড়ির বোঝা৷ আরো পাঁচ টাকা লাগবে৷

    এমন সময় আরেকজন পথিক এসে উপস্থিত—ঠিক প্রথম লোকটির মতন কালো র্যা পার গায়ে৷ এও খাট বইতে প্রস্তুত৷ হরিনাথ দ্বিরুক্তি না করে তার সাহায্য নিলেন৷ এবার পাকড়াশী মশায় রেহাই পেলেন৷

    খাট চলেছে আর একটু জোরে৷ কিন্তু কিছুক্ষণ পরে আবার ক্লান্তি৷ মহেশের ভার অসহ্য হয়ে উঠেছে, তার দেহে কিছু ঢোকেনি তো? খাট নামিয়ে আবার সবাই দম নিতে লাগল৷

    কে বলে শহুরে লোক স্বার্থপর? আবার একজন সহায় এসে হাজির, সেই কালো র্যা পার গায়ে৷ হরিনাথের ভাববার অবসর নেই, বললেন, চল, চল৷

    আবার যাত্রা আরো একটু জোরে, তারপর ফের খাট নামাতে হল৷ এই যে, চতুর্থ বাহক এসে হাজির, সেই কালো র্যা পার৷ এরা কি মহেশকে বইবার জন্য এই তিন পহর রাতে পথে বেরিয়েছে? হরিনাথের আশ্চর্য হবার শক্তি নেই৷ বললেন, ‘ওটাও খাট, চল জলদি৷’

    চারজন অচেনা বাহকের কাঁধে মহেশের খাট চলেছে, পিছনে হরিনাথ আর বৈতরণী সমিতির তিনজন৷ এইবার গতি বাড়ছে, খাট হন হন করে চলছে৷ হরিনাথের আর তাঁর সঙ্গীদের ছুটতে হল৷

    ‘আরে অত তাড়াতাড়ি কেন একটু আস্তে চল৷’ কেই বা কথা শোনে! ছুট—ছুট৷ ‘আরে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ! বিডন স্ট্রিট ছাড়িয়ে গেলে যে! লোকগুলো কি শুনতে পায় না? ওহে পাকড়াশী, থামাও না ওদের৷’ কোথায় পাকড়াশী? তিনি বিচক্ষণ লোক, ব্যাপারটা বুঝে টাকার মায়া ত্যাগ করে সদলে পালিয়েছেন৷

    মহেশের খাট তখন তীর বেগে ছুটছে, হরিনাথ পাগলের মতন পিছু পিছু দৌড়চ্ছেন৷ কর্নওআলিস স্ট্রিট, গোলদিঘি, বউবাজারের মোড়—সব পার হয়ে গেল৷ কুয়াশা ভেদ করে সামনের সমস্ত পথ ফুটে উঠেছে—এ পথের কি শেষ নেই? রাস্তা কি ওপরে উঠেছে না নিচে নেমেছে? এ কি আলো না অন্ধকার? দূরে ও কি দেখা যাচ্ছে— সমুদ্রের ঢেউ, না চোখের ভুল?

    হরিনাথ ছুটতে ছুটতে নিরন্তর চিৎকার করছেন—‘থাম, থাম৷’ ও কি, খাটের উপর উঠে বসেছে কে? মহেশ? মহেশই তো৷ কি ভয়ানক! দাঁড়িয়েছে,..ছুটন্ত খাটের ওপর খাড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ পিছনে ফিরে লেকচারের ভঙ্গিতে হাত নেড়ে কি বলছে?

    দূর-দূরান্তর থেকে মহেশের গলার আওয়াজ এল—‘হরিনাথ—ও হরিনাথ—ওহে হরিনাথ—’

    ‘কি, কি? এই যে আমি৷’

    ‘ও হরিনাথ, আছে আছে সব আছে, সব সত্যি৷—’

    মহেশের খাট অগোচর হয়ে গেল, তখনো তাঁর ক্ষীণ কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে—‘আছে, আছে—’

    হরিনাথ মূর্ছিত পয়ে পড়লেন৷ পরদিন সকালে ওয়েলেসলি স্ট্রিটের পুলিশ তাঁকে দেখতে পেয়ে মাতাল বলে চালান দিলে৷ তাঁর স্ত্রী খবর পেয়ে বহু কষ্টে তাঁকে উদ্ধার করেন৷

    বংশলোচনবাবু জিজ্ঞাসা করলেন—‘গয়ায় পিণ্ডি দেওয়া হয়েছিল কি?’

    ‘শুধু গয়ায়! পিণ্ডিদাদনখাঁ’এ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে কিন্তু কোনো ফল হয়নি, পিণ্ডি ছিটকে ফিরে এল৷’

    ‘তার মানে?’

    ‘মানে, মহেশ পিণ্ডি নিলে না, কিংবা তাকে নিতে দিলে না৷’

    ‘আশ্চর্য! মহেশ মিত্তিরের টাকাটা?’

    ‘সেটা ইউনিভার্সিটিতে গচ্ছিত আছে৷ কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি, ভূতের বিপক্ষে প্রবন্ধ লিখতে কোনো ছাত্রের সাহস নেই৷ এখন সেই টাকা সুদে-আসলে প্রায় পঁচিশ হাজার হয়েছে৷ একবার সেনেটে প্রস্তাব ওঠে, সেই টাকাটা প্রত্নবিভাগের জন্য খরচ হোক৷ কিন্তু ছাদের ওপর এমন দুপদাপ শব্দ শুরু হল যে সব্বাই ভয়ে পালালেন৷ সেই থেকে মহেশ ফান্ডের নাম কেউ করে না৷’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহাভারত – বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    Next Article গান্ধীজি : ফিরে দেখা

    Related Articles

    বারিদবরণ ঘোষ

    গান্ধীজি : ফিরে দেখা

    November 6, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }