Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একাত্তর এবং আমার বাবা – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প66 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. আগুনের মতো ভাষণ হলো শেখ সাহেবের

    ৭ তারিখে আগুনের মতো ভাষণ হলো শেখ সাহেবের। তার সেই বিখ্যাত চার দফা পূর্বশর্তের অপূর্ব ভাষণ :

    ‘…আমি যদি তোমাদের কাছে না
    থাকি তোমাদের উপর আমার আদেশ
    রইল, ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল, তোমাদের
    যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত হও, রক্ত
    যখন দিতে শিখেছি আরো দেব। বাংলাকে
    মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহু…’

    কাউকে ভয় দেখাতে হলো না, জোর করতে হলো না বন্ধ হয়ে গেল স্কুল-কলেজ কোর্ট-কাছারি। সরকাপ্পি বেসরকারি সমস্ত অফিসেই। তালা ঝুলল। শুধুমাত্র শেখ সাহেবের অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাকে। সবাই বুঝতে পারছে ঝড় আসছে। বহুদিনের সঞ্চিত সমুদ্রের বিশাল জলরাশি ফুলে উঠছে। বাঁধ দিয়ে এ ঠেকানো যাবে না।

    এদিকে সময় আর কাটে না। সময় কাটানোর জন্যেই একটা উপন্যাস লিখতে শুরু করলাম। অসফল প্রেমের ওপর ভিত্তি করে নিতান্তই সহজ-সরল উপন্যাস। মহৎ আদর্শ কিছু নেই, সমাজনীতি রাষ্ট্রনীতির কোনো সমস্যাও নেই। লিখতে লিখতে দেখলাম পরিচিত সব চরিত্র কলমে উঠে আসছে। উপন্যাসে বাবার চরিত্র হয়ে উঠল আমার আব্বার চরিত্রেরই অনুলিপি। নায়কতো নিজেই, নায়িকারাও খুব একটা কল্পনার নয় সময় কাটতে লাগল হু হু করে। ছোটোবোনের নামে দু-একটা কবিতাও লিখে পাঠালাম দৈনিক পাকিস্তানে। ছাপাও হলো। অসমাপ্ত পরীক্ষা, দেশের পরিস্থিতি সমস্তই আমার মন থেকে মুছে গেল। ঘাড় গোজ করে অনবরত লিখে চলেছি। এক-একটা পরিচ্ছেদ শেষ হয়, সবাইকে পড়ে শুনাই। চলবে, মন্দ নয় এই জাতীয় মন্তব্যে উৎসাহেও ভাটা পড়ে না।

    আব্বাও কিছুটা বিশ্রাম পেলেন। মফস্বলে মফস্বলে ঘোরাটা বন্ধ হলো। কাজের মধ্যে সকালে ঘুম থেকে উঠে খবর শোনা, অফিসের কাগজপত্র দেখতে দেখতে চা খাওয়া, মাঝে মাঝে Court-এ যাওয়া, দুপুরের দিকে অল্পকিছু খেয়ে একটু ঘুম। বিকেলে বারান্দায় চেয়ার পাতা হতো। প্রাত্যহিক বৈকালিক আসরের নিয়মিত সদস্য ছিলেন ডাক্তার সাহেব, কোর্ট ইন্সপেকটর সাহেব, SDPRO সাহেব। ঘনঘন চা পাঠানো হতো। আব্বা মেজাজি মানুষ, মেজাজে থাকলে ভালো গল্প। করতে পারতেন, গল্প করতে ভালোও বাসতেন। তাঁর আসল উৎসাহ ছিল occultstudy-তে কাজেই সবরকম রাজনৈতিক আলোচনা শেষ হতো ভূত, প্রেত, জ্বিন, পামিস্ট্রি আর এসট্রোনমিতে এসে। এই আসরে রাজনৈতিক নেতারাও আসতেন। ন্যাপ মনোনীত প্রাদেশিক পরিষদের প্রার্থী আলী হায়দার খান (পরবর্তীকালে বোন সুফিয়া হায়দারের স্বামী) তাদের মধ্যে অন্যতম। সে আব্বার বিশেষ প্রিয়পাত্র ছিল। অনেক ব্যাপারেই আব্বা তার ওপর নির্ভর করতেন। আব্বার রাতটা কাটত SDO সাহেবের (নাম মহিবুল্লাহ শাহ। বাড়ি সম্ভবত বেলুচিস্তান) বাসায়। ভদ্রলোকের বাড়ি সিন্ধু। আব্বার সঙ্গে তার কোনোই মিল ছিল না। না চরিত্রে, না বয়সে বা স্বভাবে কিন্তু মিল ছিল আত্মিক। ‘সিন্ধ থেকে চিঠি লিখেছে ছোটো ভাই আপনি যদি আসতেন তবে পড়ে শুনাতাম।’ ‘বহুদিন চিঠি পত্র পাই না, মন বড় খারাপ, আপনি যদি আসেন তবে মনটা একটু হালকা হয়।’ ‘সুন্দরবন দেখতে যাব আমরা কয়েকজন পশ্চিম পাকিস্তানি বন্ধুও এসেছেন, আপনি যদি সঙ্গে আসেন।’ এই জাতীয় Telephone আসত প্রায়ই।

    বেচারা একা একা থাকে; রবীন্দ্র সংগীতের এক পাঁজা রেকর্ড দিয়ে আসলেন আব্বা। রবীন্দ্রসংগীতের অর্থ বুঝতে পারছেন না নিজেই গানগুলোর ভাবো অনুবাদ করে দিলেন। পিরোজপুরে ভালো দুধ পাওয়া যাচ্ছে না, বাসা থেকে একসের একসের দুধ পাঠাতে লাগলেন।

    আগেই বলেছি আমাদের সময় খুব ভালো কাটছিল। অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, খুব হইচই করে দিন কাটছিল! স্বাভাবিক যেমন কাটে তেমনি। সন্ধ্যার পর বেড়াতে যেতাম সবাই মিলে। বাসার ডানপাশ দিয়ে যে-রাস্তাটা হুলারহাট পর্যন্ত গিয়েছে সেই রাস্তা ধরে হাঁটতাম। টি.বি. হসপিটাল, টাউন কমিটি পেরিয়েও অনেক দূর যাওয়া হতো দুপাশেই বিস্তীর্ণ মাঠ, দূরে রেখার মতো অস্পষ্ট গ্রাম, অসংখ্য নারিকেলের শাখা বাতাস লেগে কাঁপছে, অপূর্ব লাগত। এক রাতের কথা খুব মনে পড়ে। আটটার দিকে বেড়াতে বেরিয়েছি, হিন্দুপাড়ার ভিতর দিয়ে রাস্তাটা গিয়েছে। চাঁদ উঠেছে; খুব নরম জোছনা। হাঁটছি। হঠাৎ শুনতে পেলাম হিন্দুপাড়ায় গান হচ্ছে। উঠোনে পাটি বিছিয়ে বসেছে সবাই–

    ‘সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে
    ফুল ডোরে বাঁধা ঝুলনা।’

    চমৎকার লাগছিল। আম্মা তাড়া দিচ্ছিলেন—‘কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গান শোনা। কিন্তু শেফুর খুব ভালো লাগছিল তার জোরাজুরিতেই সম্পূর্ণ গানটি শুনলাম। এরপর যত রাতে ঐ বাড়ির পাশ দিয়ে গিয়েছি ততবার মনে মনে গান শুনব প্রতীক্ষা করেছি। আর শোনা যায়নি।

    যখন বেড়ানো শেষ করে ফিরে আসতাম দূর থেকেই আমাদের বাসাটা নজরে পড়ত। পুরানো আমলের নকশাকাটা হলুদ দালান ভেতরে টিউব লাইটের নীল আলো জ্বলছে। সামনের পুকুরে একটা নীলচে পরিষ্কার প্রতিবিম্ব পড়েছে। নিজেরা বলাবলি করতাম পিরোজপুরের তাজমহল যমুনার জলে প্রতিবিম্বিত হয়েছে।

    মাঝে মাঝে হতো নৌকা ভ্রমণ। প্রকাণ্ড সরকারি নৌকায় শুয়ে বসে বেড়ানো। গান বাজছে টেপ রেকর্ডে কিংবা গাইছে শেফু, শিখু। মাঝিরা চায়ের জল চড়িয়েছে। নৌকা চলছে মন্থর গতিতে। নদীর জল আয়নার মতো ঝক ঝক করছে, দূরে ছবির মতো সুন্দর সবুজ গ্রাম, সন্ধ্যা নামছে ধীরে ধীরে, নদীর পানি গাঢ় হলুদবর্ণ ধারণ করেছে, গাছের পাতা শেষের রোদ লেগে সোনার মতো জ্বলছে। মনটা উদাস হয়ে উঠত।

    গল্পের আসরগুলো হতো ভারি মজার। প্রধান বক্তা আমি, তারপরই বলতেন আম্মা। আব্বা এই আসরে প্রায়ই থাকতেন না। যেদিন থাকতেন সেদিন বলতেন শুধু তিনিই, আমাদের শোনার পালা। কয়েকটি গল্প ছিল তার খুবই প্রিয়। এগুলো সবসময়ই বলতেন। তার বলার কায়দায় কোনোদিন সেগুলো পুরোনো মনে হতো না। একটি গল্প এই ধরনের

    আমি তখন কলকাতায় কেশব দাস স্ট্রিটের এক মেসে থাকি। সঙ্গে আছেন দুদু মিয়া (সম্পর্কে নানা)। একদিন এক বইয়ে পড়লাম কালো মশারিতে খুব সুনিদ্রা হয়। কই পাই কালো মশারি? রং করে সেই সমস্যার সমাধান হলো। একদিন বিকেলে মেসে এসে দেখি মশারিও নেই, দুদু মিয়াও নেই। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। দুদু মিয়ার দেখা নেই। পরে শুনলাম সে গিয়েছে হক সাহেবকে কালো নিশান দেখাতে। কালো নিশান এত তাড়াতাড়ি করে কোথায় পাবে। মশারিটাই নিয়ে গিয়ে ধরা পড়েছে পুলিশের হাতে।

    আব্বার গল্পের আসরে মাত্র দু-জন গল্প বলার সুযোগ পেত। একজন স্বেচ্ছায় বলতেন, অন্য জনকে নিয়ে জোর করে বলানো হতো। তারা হলো আম্মা আর ছোটো ভাই শাহীন। শাহীনের গল্প ছিল দুটো, আব্বা এই গল্পগুলো বারবার শুনতেন এবং প্রতিবারই সমান আনন্দ পেতেন। আমাদের কাছে একঘেয়ে লাগলেও আব্বার আনন্দ দেখে আমাদের ভালো লাগত। শাহীনের গল্পটি এই :

    “আমার বন্ধু আজাদের খুব বুদ্ধি। ক্লাসে তাকে স্যার জিজ্ঞেস করেছেন, ‘আযাদ কাল আসনি কেন?’ আযাদ উত্তরে একটা মস্ত গল্প শুরু করল—‘স্যার আমি পরশু বিকেলে আব্বার সঙ্গে গিয়েছিলাম মেলায় সেখানে শহীদের আব্বা একটা দোকান দিয়েছে। ঐযে স্যার ঐ কোণার দিকে। হলুদ শার্ট সে হলোশহীদ। আমার আব্বা। সেই দোকান থেকে আমাকে একটা মোটর গাড়ি কিনে দিয়েছেন। শাহীন দেখেছে সেই গাড়ি। ঐযে কোণার দিকে ও হলো শাহীন। তারপর স্যার সার্কাসের ভেতরই মউত কা কুয়া দেখলাম। মউত কা কুয়া হলো একটা কুয়া যার ভিতরে মোটর সাইকেল চালায়। ঐটা দেখে বাসায় আমি একটা মউত কা কুয়া বানিয়েছিলাম কাল সারাদিন সেইখানে আমার মোটরগাড়ি চালিয়েছিলাম। তাই আসতে পারি নাই।”

    আম্মাও খুব ভালো গল্প করতে পারতেন। তাছাড়া চমৎকার অনুকরণও করতে পারতেন। তাঁর গল্প অবশ্য অধিকাংশই স্মৃতিচারণ। নিজের কথা, নিজের গ্রামের বন্ধুদের কথা, আমাদের ছোটোবেলার কথা, চমৎকার লাগে শুনে। তাঁর একটি চমৎকার স্মৃতি কথা লিখছি এইখানে, যাতে তাঁর স্মৃতির মিষ্টি দিকটা সুন্দর ফুটেছে।

    “নতুন বিয়ে হয়েছে তখন। বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছি। অনেকদিন তোর আব্বার কোনো খবর নেই। মনটা কিছু বিক্ষিপ্ত। রাত তিনটার দিকে তোর নানু ডেকে তুললেন, ‘জামাই এসেছে।’ তোর আব্বা তখন এই প্রথম বারের মতো একটা গ্রামোফোন কিনে এনেছে। তাকে ঘিরে ফজলু, নজরুল (বড় মামা এবং মেজো মামা) এরা। হঠাৎ গান বেজে উঠল। আমার জীবনে প্রথম শোনা গ্রামোফোনের গান। আর সেকি চমৎকার গান–

    ‘..কোনো এক গাঁয়ের বধুর কথা তোমায়
    শুনাই শোনো
    রূপকথা নয় সে নয়…’

    গভীর রাত, সবাই নিঝঝুম হয়ে গান শুনছে। কি যে ভাল লাগলো আমার।”

    গল্পের আসরে আমার ভূমিকাটা প্রায়ই পড়ুয়ার। হাসির গল্প পড়ে শুনাননা। পড়ানোর বিরক্তিকর কাজটা আনন্দেই করতাম যখন দেখতাম এতে অন্যদের খারাপ লাগছে না।

    একদিকে চলছে অসহযোগ আন্দোলন, অন্যদিকে আমাদের গতানুগতিক জীবনধারা। হাসি গান আর গল্পে ঠাসা সুখী জীবন।

    এর মধ্যেই বাসায় একদিন জিন আনা হলো। ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কিছুতেই বিশ্বাস করা চলে না। তবু সম্পূর্ণ হেসে উড়িয়ে দিতেও কিছু বাধা আছে। উদ্যোক্তা হলেন C.G. সাহেব। যে লোক জিন আনবে তাকে বরিশাল থেকে খবর পাঠিয়ে আনাননা হলো। আব্বার উৎসাহই সবচে বেশি। ঘর পরিষ্কার করে, গোলাপজলে ধুয়ে, দরজা-জানালা বন্ধ করে ভদ্রলোক আসন করে বসলেন বাতি নিভানো হলো। আমরা ভয়ে কাঠ হয়ে অপেক্ষা করছি। ভদ্রলোক কোরান আবৃত্তি করতে লাগলেন। আর সত্যি সত্যি জ্বিন এলো শেষ পর্যন্ত। কথা বার্তাও হলো। প্রথম ভাবলাম হয়ত ভেন্ট্রিলোকুইজম– যার সাধ্য এক জায়গা থেকে এমনভাবে কথা বলা যায়, যাতে মনে হয় ভিন্ন দিক থেকে কথা ভেসে আসছে। কিন্তু তবু রহস্য থেকেই যায় কারণ প্রায় সবসময়ই ভদ্রলোকের কোরান আবৃত্তি আর জিনের কথা বার্তা একই সঙ্গে শোনা যাচ্ছিল। তাছাড়া এই জিনই o.c সাহেবের বাসায় রাগ হয়ে আড়াইমণি চালের বস্তা নিমিষের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলেছিল এবং o.c সাহেবকে বলেছিল যে তার হৃৎপিণ্ড একটু লম্বাটে ও ডিফেকটিভ (সঠিক তথ্য সেরকম প্রমাণ নেই)। বড়ো ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা Euctrocardiograph করে o.c সাহেব সত্যি তার হৃৎপিণ্ডের এই দোষ জানতে পেরেছিলেন।

    জিনের সঙ্গে আমাদের নিম্নলিখিত কথাবার্তা হলো :

    আব্বা : আসসালামু আলায়কুম

    জিন : অলায়কুম আসসালাম

    আব্বা : জনাব, দেশের বর্তমান অবস্থা দেখে আমরা সবাই খুব বিচলিত। শেষ পর্যন্ত কী হবে বলবেন দয়া করে?

    জিন : আমরা তো অতি সাধারণ জীব, ভবিষ্যৎ বলার ক্ষমতা আমাদের নাই। অতি সামান্য যা ক্ষমতা আছে তাতে বুঝি জয় হবে। আপনাদেরই। তবে সামনে বড়ো বিপদ, দেশের এবং অন্যান্য সবার। মহাবিপদ। হাত তুলে দোয়া করি।

    (দোয়া চলল)

    আমি : আপনারা কোথায় থাকেন বলবেন কি?

    জিন : কোহকাফ নগর।

    আমি : মানুষ যে চাঁদে গিয়েছে তা বিশ্বাস করেন?

    জিন : কিছুক্ষণ চুপচাপ। গিয়েছে নাকি?

    আব্বা : জিনদের সম্বন্ধে আমার অনেক কিছু জানতে ইচ্ছা হয়, আপনি জানাবেন কি?

    জিন : এই সম্বন্ধে পরে আলাপ করব। আপনি নির্জনে আমার কথা চিন্তা করবেন। আমি আসব।

    দেশের রাজনৈতিক পট আবার পরিবর্তিত হলো। সমস্ত ক্ষমতা জনগণের নির্বাচিত দেশবরেণ্য নেতা শেখ মুজিবের হাতে। দৌড়ে এল ইয়াহিয়া। সকাল-বিকাল শেখ সাহেবের সঙ্গে সুদীর্ঘ মিটিং। আশার আলো দেখতে পেল সবাই। ইয়াহিয়া-শেখ মুজিব আলোচনার অগ্রগতি খবরের কাগজে হেডিং বেরুল। দু-জনের হাসিহাসি মুখের ছবিও ছাপা হলো বিভিন্ন কাগজে।

    আব্বা ভিতরে ভিতরে অস্থির হয়ে উঠছিলেন। সারাটা দিন কাটাতেন খবর শুনে। অনিশ্চয়তা তার বুকে পাথরের মতো চেপে বসছে। কাজ ছাড়া যে-মানুষ একদণ্ড থাকতে পারে না তার জন্য কর্মশূন্য এমন জটিল পরিস্থিতি অস্বস্তিকরই বটে।

    এমনি অস্বাভাবিক পরিবেশেই আমার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত লোকে’র শেষপর্ব লিখে শেষ করলাম। আম্মার পড়া হলে আব্বা চেয়ে নিলেন পড়তে। আমি দুরুদুরু বক্ষে অপেক্ষা করছি আব্বার মন্তব্য শুনতে। এবার উপন্যাসের কাহিনি চুম্বকটা বলছি–

    সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের কাহিনি। স্নেহপ্রবণ আত্মকেন্দ্রিক বড়ো মেয়ে। বিয়ের বয়স হয়েছে অনেকদিন কিন্তু টাকা, রূপ আর মনমতো পাত্রের অভাবে বিয়ে হয়নি। আবেগপ্রবণ নায়ক। ছোট দুই বোন চঞ্চল প্রজাপতি, হাসি খুশি। বাবা নিরীহ মানুষ, হৃদয়ে তার অফুরন্ত স্নেহ অথচ তার খোঁজ রাখে না কেউ। বড়োলোকের খেয়ালি মেয়ে কিটকিকে ভালো লাগল নায়কের। ভালো লাগাটা একতরফা নায়কেরই। কিটকির সহজ ভদ্রতাকে ভালোবাসা ভেবে ভুল করল সে। শেষ অঙ্কে দেখা গেল বড়ো মেয়ে তার নিঃসঙ্গ দিন কাটাচ্ছে। ছেলেটি বিয়ে করেছে সহজ সাধারণ একটি মেয়েকে। বাবাও আজ সঙ্গীহীন। অথচ পৃথিবী তেমনি চলছে, চাঁদের নরোম জোছনা তেমনি ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীতে। অঝোর ধারায় নেমেছে বৃষ্টি। উপন্যাসের পাত্র-পাত্রীরা আজ নির্লিপ্ত স্মৃতিচারণে ব্যস্ত। সমস্ত পেয়েও আজ যেন কেউ কিছু পায়নি।

    করুণ রসপ্রধান উপন্যাস। যেখানে রুনুর চরিত্রটা খুব দরদ দিয়েই লিখেছি। রুনু নায়কের ছোটোবোন। বাস্তব উপাদান নিয়ে এটা তৈরি করেছি বলে বেশ বাস্তবানুগও বটে। নিজের ধারণা খুব ভালোই হয়েছে। আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি আব্বা কী বলেন। দেখলাম তিনি খুব উৎসাহ নিয়েই পড়ছেন। দুপুরে উপন্যাস হাতে অফিসে চলে গেলেন। পড়া শেষ হলে বললেন না কিছুই, শুধু শেফুকে জিজ্ঞেস করলেন, তোর দাদা ভাইয়ের বইটা পড়েছিস?

    রাতে শুয়ে আমাকে ডাকলেন। বললেন, তোর উপন্যাস খুব মন দিয়েই পড়েছি। দুই এক জায়গায় একটু অসংলগ্ন হয়েছে… বলে দু একটা টেকনিকেল ত্রুটি দেখিয়ে দিলেন, তারপর বললেন, ‘বেশ হইছেরে, আমার খুব ভালো লেগেছে, রুনুর ডাইরির অংশটা পড়তে পড়তে চোখে পানি এসে যায়। আমারও একটা উপন্যাস লেখার বহুদিনের সখ। তবে আমার ধৈর্য থাকে না আর সময়ই-বা কই!’

    রাতে শুয়ে শুয়ে আব্বার কথাই ভাবছিলাম। সম্পূর্ণ নিজের পরিকল্পনায় তার একটা বই ছাপাব এবং সেটি ছাপায়, প্রচ্ছদে সব দিক থেকেই হবে অনবদ্য। অবশ্য এই ভাবনার পিছনে একটু কারণও ছিল। আব্বা তার সামান্য সঞ্চয় থেকেই একটি বই ছাপিয়েছিলেন। সেটি সেই কারণেই ছাপায়, প্রচ্ছদে, কাগজে খুব নিকৃষ্ট মানের হয়ে তার মনোবেদনার কারণ হয়েছিল। রচনা ভালো হওয়া সত্ত্বেও তা কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি।

    রহুল মামা বেড়াতে আসলেন এই সময়টাতে। হইচই আর আমোদ চরমে উঠল। সোনায় সোহাগার মতো নানাও এসে হাজির। তাদের আগমন উপলক্ষে পারিবারিক দেয়াল পত্রিকা সুনিলিত সাগরিত’ (পারিবারিক পত্রিকা, কারো জন্ম বা বিয়ে উপলক্ষে প্রকাশিত হয়। নামটি হুমায়ূন আহমেদের দেওয়া।) এর বিশেষ সাক্ষী বের করল এর সম্পাদিকা মমতাজ আহমেদ শিখু। সেও বহুদিন কুমিল্লায় থেকে এসেছে। কাজেই তার উৎসাহ প্রায় বল্গা ছাড়া। আমাদের খাঁটি আনন্দে কিছুটা ভেজাল মিশল। মামা কোনো এক অজ্ঞাত কারণে রাগ করে খুলনা চলে গেলেন তার ভাইয়ের কাছে। আব্বা বললেন, ‘সবুর করো দেখবে দুদিন পর রহুল সেখান থেকে রাগ করে আবার এখানে এসে পড়বে।’

    নানাও চলে গেলেন খুলনা; খুশি মনেই গেলেন। এদিকে ঝামেলা প্রায় মিটে গেছে। VOA থেকে বলা হলো শেখ মুজিব আর ইয়াহিয়ার ভেতর একটা আপোষ হয়েছে। ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হয়েছেন। ইয়াহিয়া। আমার মন খারাপ হয়ে গেল আবার পরীক্ষা দিতে হবে ভেবে। শেফু, শিখু, ইকবালও মুখ কালো করে ঘুরতে লাগল সব ঠিক হয়ে যাবে আবার হোস্টেলের নিরানন্দ একঘেঁয়ে জীবন।

    (২য় পর্ব সমাপ্ত)

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহোটেল গ্রেভার ইন – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article দি একসরসিস্ট – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }