Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একা একা – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প144 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    একা একা – ১০

    ১০.

    নীহার নিজেই কেমন অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন। শরদিন্দু ততক্ষণে সিঁড়ির দিকে চলে গেছেন, কিছু বলা গেল না। কীইবা নীহার বলতেন, ছেলেমেয়েরা তখনও সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

    মেয়ের ওপরই রাগ হল নীহারের; বললেন, তুই বড় বেহায়া।

    রিনির ভিজে শাড়ি দিয়ে তখনও টস টস করে জল গড়িয়ে পড়েছে মেঝেতে। তার সর্বাঙ্গ ভিজে; মাথা, মুখ, শরীর। নীচের দিকের শাড়ি সায়া ভিজে লেপটে আছে পায়ে। তবুও কোথাও শুকনো নেই। তার কপালের কাছে লাল সিঁদুরের দাগটা মুছে গিয়েও যায়নি।

    রিনি বলল, বৃষ্টি কি আমার কেনা? হঠাৎ চলে এল।

    সবই হঠাৎ আসে। কে তোকে মাতব্বরি করে কালীঘাট যেতে বলেছিল?

    কালীঘাট ঠাকুরের জায়গা। ও বলল, যাব। আমি নিয়ে গেলাম।

    আমি নিয়ে গেলাম! নীহার মেয়ের গলা নকল করে বললেন। কত তোমার ঠাকুর-দেবতায় ভক্তি।

    রিনি ঠোঁট উলটে জবাব দিল, আমার ভক্তির জন্যে গিয়েছি নাকি? তোমার ওকে বলো, ওর যদি ভক্তি হয় আমি কী করব!

    তনু অপরাধীর মতন বলল, আমি বলেছিলাম, পিসিমা।

    নীহার তনুর দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলতে পারলেন না। কী বলবেন! বরং এই ভেজা, সিঁদুর-লেপা দুটি মুখ দেখে তাঁর হাসি পাচ্ছিল। তনুর দিকে তাকিয়ে ধমকের গলা করে বললেন, আর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। শীঘ্রি গিয়ে মাথা মুছে জামা কাপড় ছাড় গে। বলে মেয়ের দিকে তাকালেন, এই সন্ধেবেলায় কাকভেজা ভিজে যদি জ্বর হয়, গলাব্যথা হয়–তখন তোকে আমি দেখাব। যা, কাপড় ছাড় গে যা। মাথা মুছবি ভাল করে।

    রিনি চলে গেল। তনুও।

    নীহার একটুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে নিজের ঘরে গেলেন। পুজো-টুজো বাকি আছে এখনও।

    পুজোয় মন বসাতে পারলেন না নীহার। সব দিন যে মন বসে তাও নয়, আজ যেন একেবারেই বসছিল না। তাঁর সামনে উপকরণ কম, কয়েকটি ধূপ জ্বলছে ধূপদানিতে, নিজের বাগানের দু-চারটি ফুল; সামনে রামকৃষ্ণের একটি ছবি, তার মাথার ওপর শঙ্খচক্রধারী শ্রীকৃষ্ণের পট। পিলসুজের ওপর ছোট প্রদীপ জ্বলছে।

    নীহার চোখ বুজে বসে থাকলেও তাঁর মুখে যেন কেমন এক অসহায় ভাব, হয়তো কেমন এক ক্ষোভ ও বিরক্তিও রয়েছে। নীহার মনঃকষ্ট পাচ্ছিলেন যে, বোঝাই যায়। মুখে না বললেও মনে মনে তিনি ভাঙা ভাঙা করে শরদিন্দুকে বলেছেন। অথচ দুঃখবশে দু-একটি কথা যদি মনে মনে বলেই থাকেন সেটুকু কিছুই নয়। বলার কথা আরও হয়তো আছে।

    মন শান্ত এবং স্থির করার জন্যে নীহার তাঁর দেবতায় মন বসাতে চেয়ে পারলেন না। কানামাছির মতন কী-যেন তাঁর মনের চারপাশে উড়ে উড়ে বেড়াচ্ছে। অস্বস্তি এবং বিরক্তিতে বাধ্য হয়েই নীহার উঠে পড়লেন।

    শরদিন্দু আজ ইশবগুলের শরবত খাবেন কি না নীহার বুঝতে পারলেন না। বাইরে আবার ঝমঝম করে বৃষ্টি নেমেছে। নিজের হাতে শরবতটুকু তৈরি করে নিয়ে তিনি সরলাকে ডাকলেন। রিনির আজ খুব রাগ হয়েছে। মার চা-পান সে করে দেবে কি দেবে না কে জানে! নীহারও মেয়ের ওপর রাগ দেখাতে পারেন। সরলাকে চা করে ওপরে দিয়ে আসতে বলে তিনি শরবত নিয়ে তেতলায় চলে গেলেন। মাথার কাপড়ে বৃষ্টি আড়াল করে নীহার ঘরে ঢুকে দেখলেন শরদিন্দু চেয়ারে বসে আছেন। অন্যমনস্ক, গম্ভীর মুখ।

    ঘরে এসে নীহার মাথার কাপড় সরিয়ে দিলেন। তোমার শরবত।

    শরবতটা নামিয়ে রেখে নীহার ঘরের চারপাশ দেখলেন। নারান জলের ছাঁট বাঁচাতে জানলা বন্ধ করে দিয়েছে, এক পাশের একটি জানলা শুধু খোলা।

    বৃষ্টিটা এলও বড় আচমকা,নীহার বললেন, যেন এই কথাটার সঙ্গে অন্য কিছুর সম্পর্ক আছে যা তিনি স্পষ্ট করে বলতে ভরসা পেলেন না।

    শরদিন্দু কিছু বললেন না, নীহারকে দেখলেন শুধু।

    নীহার বেতের চেয়ারটা টেনে নেবার আগে খোলা জানলার ধারে গিয়ে একবার জলের ছাঁট দেখলেন। মেঘ ডাকছে গুড়গুড় করে। বর্ষার মতন করে বৃষ্টি এসেছে।

    শরদিন্দুর কাছাকাছি এসে নীহার বললেন, জষ্ঠি মাসে এমন বৃষ্টি! মেঘের ডাক শুনেছ?

    বোসো, শরদিন্দু বললেন।

    বসবার জন্যে চেয়ারটা টেনে নিতে নীহার বললেন, তুমি খুব রাগ করেছ?

    শরদিন্দু নিরুত্তর থাকলেন।

    নীহার বললেন, ওরা ছেলেমানুষ। ছেলেমানুষের স্বভাব বলে একটা কথা আছে। যতই বকোঝকো কোন ফাঁকে তারা কী করে বসবে আমরা কী জানতে পারব? তুমি ওদের ওপর মিছিমিছি অত রাগ করলে।

    শরদিন্দুনীহারের কথার কোনও জবাব দিলেন না। তাঁর চোখ মুখ এখন অপ্রসন্ন দেখাচ্ছিল না, অথচ তিনি গম্ভীর, অন্যমনস্ক হয়ে আছেন। নীহারকে আর লক্ষ করলেন না শরদিন্দু, শরবতের গ্লাসটা তুলে নিলেন।

    নীহার ততক্ষণে বসে পড়েছেন চেয়ারে। শরদিন্দুর চুপচাপ ভাবটা তাঁর ভাল লাগছিল না। নীহারেরও কিছু কিছু পছন্দ-অপছন্দ আছে। শরদিন্দুর কোনও কোনও ব্যবহার যে তাঁরও পছন্দ নয় এটা শরদিন্দুর জানা উচিত। নীহার অবশ্য অতবড় মানুষটাকে কাণ্ডজ্ঞান শেখাতে চান না, কিন্তু তাঁর যে আজ বেশ খারাপ লেগেছে, তিনি মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছে, এটা জানাতে পারেন বইকী।

    বলি-বলব মন নিয়ে নীহার বসে থাকলেন; শরদিন্দু শরবতটা শেষ করে গ্লাসটা রেখে দিলেন। বাইরে ঝাঁপটা দিয়ে বৃষ্টি পড়ছিল, খোলা ছাদে শব্দ হচ্ছে, এক আধবার যেন বিদ্যুতের আলো দরজার চৌকাঠ পর্যন্ত মুখ বাড়িয়ে চলে গেল।

    সরলা ওই বৃষ্টির মধ্যে চা এনে দিয়ে গেল। পানও।

    রিনি কী করছে? নীহার শুধোলেন।

    ঘরে।

    শ্যাম?

    দাদাও তার ঘরে রয়েছে।

    ওদের গরম কিছু খেতে দাও দিকিন।

    চা দিয়েছি।

    সরলা চলে গেল। নীহার চা খেতে খেতে বললেন, ছেলেমেয়েগুলোর সামনে তুমি আজ এমন করলে, আমার খুব খারাপ লাগল। অত রাগ তোমার করা উচিত হয়নি। এরা কী ভাবল বলো তো?

    শরদিন্দু নীহারের দিকে তাকালেন। অন্যায় করলে বলব না?

    বলো; আমি বলতে বারণ করছি না। কিন্তু তুমি আজ এমন করলে–যেন…

    বাধা দিয়ে শরদিন্দু বললেন, নীহার আমি কী করেছি আমি জানি। তুমি আজকের ব্যাপারটা শুধু দেখছ, আমি কিছুদিন ধরেই এটা দেখছি।

    নীহার শরদিন্দুকে দেখতে দেখতে বললেন, তোমায় একটা কথা বলি। আমিও আজকাল তোমায় দেখে দেখে অবাক হচ্ছি। তুমি ওদের এই মেলা-মেশা পছন্দ করছ না।

    শরদিন্দু নীহারের দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে ছিলেন। আস্তে করে বললেন, আমি পছন্দ করছি না।

    স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত জবাব। শরদিন্দুর কথা বলার ভঙ্গিতে বিরূপতা নেই, কর্কশতাও নেই। নীহার আহত হতে পারলেন না, ক্ষুণ্ণ হলেন। চা-টুকু খেতে খেতে সামনের প্রবীণ মানুষটিকে দেখলেন, কখনও অন্যমনস্কভাবে, কখনও কেমন এক অভিযোগের দৃষ্টিতে।

    নীহার বললেন, তোমার এতটা বয়েস হল, সাধারণ বুদ্ধিটাও কি হল না? আমার মেয়ের কথা বাদ দিলাম, গাছের একটি ফল হয়ে তার সব তাতেই আপন-মরজি, যেমন হুড়ে, তেমনি ছটফটে। কিন্তু ওই ছেলেটার দোষ কোথায়? সে বেচারি একা একা থাকে, কত দুরে, না আছে তার আত্মীয়স্বজন, না মেলামেশার সঙ্গী। ছেলেটা কলকাতায় এসেছে, ঘুরবে, বেড়াবে, গল্পগাছা করবে, একটু তো বাঁধা গোরু ছাড়া পাবার মতন অবস্থা হবেই। তাতে তোমার অপছন্দ হবে কেন? আমার তো বেশ লাগে। থেমে গেলেন নীহার, চা-টুকু জুড়িয়ে গেছে, শেষ করে পাত্রটা নীচে নামিয়ে রাখলেন। শ্যাম তার সঙ্গী পেয়েছে। আর দু-জনের বয়সটারই বা কী এমন তফাত। দুজনে মিশেছে ভাল, মিলেছে ভাল।

    শরদিন্দু শান্তভাবে নীহারের কথা শুনছিলেন। দেখছিলেন নীহারকে, আজকের এখনকার নীহার, আর তাঁর পুরনো নীহারের মধ্যে যেন একটা আলোছায়ার খেলা চলছিল। অন্যমনস্কভাবে শরদিন্দু হাত বাড়িয়ে সিগারেটের প্যাকেটটা টেনে নিলেন।

    মুখে পান পুরে নীহার বললেন, এ বাড়িতে এসে ছেলেটা যদি কদিনের জন্যে আত্মীয়, সঙ্গী পায়, মেলামেশার লোক পায়–তোমার অপছন্দর কী আছে?

    শরদিন্দু সিগারেটটা ধরিয়ে নিলেন। নীহারের দিকে না তাকিয়েও তিনি অনুভব করছিলেন, নীহার তাঁর দিকে অপলকে চেয়ে আছেন।

    তুমি–শরদিন্দু বললেন, তুমি বলছ, আমার সাধারণ বুদ্ধি হল না। আমি তো দেখছি, তোমারই বুদ্ধিসুদ্ধি হচ্ছে না।

    আমার হচ্ছে না। কেন? কী দেখলে তুমি?

    আমি ওদের যতটা দেখি নীহার, তুমি তার চেয়ে অনেক বেশি দেখ। আমি তেতলায় নিরিবিলিতে আছি। তুমি ওদের সঙ্গে পাশাপাশি রয়েছ। সারাটা দিন ওদের মেলামেশা দেখছ, দুজনের হাসি-হল্লা শুনছ। তোমার তো চোখ থাকা উচিত। তুমি মেয়ে।

    নীহার বুঝতে পারলেন। না বোঝার কিছু নেই। নীহার যেন কয়েক মুহূর্ত কেমন চঞ্চল হয়ে পড়লেন। পরে বললেন, তোমার কথার মানে আমি ধরতে পেরেছি। তা বেশ তো! তাতেই বা দোষ কী?

    দোষ কী! শরদিন্দু যেন অবাক হয়েই নীহারের দিকে তাকালেন।

    নীহার সরাসরি শরদিন্দুর দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি নিজে একদিন ছেলেমানুষ ছিলে না? তোমার ওই বয়েস ছিল না? নীহার খুব আচমকা কথাটা বলে ফেললেন, কেমন এক ঝোঁকের বশেই।

    শরদিন্দু যেন এত স্পষ্ট করে কথাটা এই বয়সে নীহারের মুখে শুনতে পাবেন বলে মনে করেননি। কিংবা করে থাকলেও তেমন নিশ্চয় করে ধরে নিতে পারেননি। বললেন, আমার ছিল, তোমার ছিল। আমাদের ছিল বলেই তো আমি বলছি।

    নীহার মুখের পান জিব দিয়ে একপাশে সরালেন। কী বলছ তুমি?

    এই বয়েসটা ভাল না।

    শরদিন্দুর চোখের দিকে না তাকিয়ে নীহার বললেন, আমার তো খারাপ লাগে না। …আমার মেয়েতে আমাতে অনেক তফাত। তবু ওকে দেখলে আমার নিজের কথা মনে পড়ে।

    শরদিন্দু ম্লান করে হাসলেন। আমারও পড়ে। আমারও নিজের কথা মনে পড়ে, তোমার কথা মনে পড়ে।

    তোমার ভাল লাগে না?

    ভাল লাগার কথাটা এখানে বড় নয়, নীহার। ভাল লাগে বলেই আমরা সব কিছু করতে পারি না। পরেরটাও ভেবে দেখতে হয়।

    নীহার কিছুক্ষণ আর কথা বললেন না। বড় করে নিশ্বাস ফেলে একসময় বললেন, তুমি বেশি বেশি ভাব।

    শরদিন্দু বললেন, যে বয়সে ভাবনাটা থাকে না, সেই বয়েস আর যে আমাদের নেই, নীহার। আমার মাথার চুল পেকে গেছে, কাজ থেকে ছাড়া পাবার বয়েস হয়েছে, সংসারে আমার ওই একটি মাত্র ছেলে। কেমন ছেলে তুমি তো দেখছ। একেবারে সরল, বোকা, অসহায়। সো ইনোসেন্ট, অ্যান্ড অ্যালোন। ওর জন্যে আমার সারাদিন চিন্তা। শ্যাম-শ্যাম করে আমার জীবনটা কেটে গেল। তুমি তো সব জানো, তোমায় আমি সবই বলেছি।

    নীহারের মুখটি বেশ বিষণ্ণ হয়ে এল। তিনি সবই শুনেছেন। কিন্তু শরদিন্দু কি অকারণ বেশি ভয় পাচ্ছেন না? নীহার মৃদু গলায় বললেন, তুমি–তোমার খুব ভয় হয়েছে।

    আস্তে মাথা নাড়লেন শরদিন্দু। সত্যি আমি ভয় পাই।

    হাতের চুড়িটা নিজের মনেই ঘোরাতে ঘোরাতে নিজের কোলের ওপর চোখ রেখে নীহার বললেন, তোমার যে কেন ভয় আমি জানি না।

    শরদিন্দু সিগারেটের টুকরোটা নিবিয়ে ছাইদানে ফেলে দিলেন। নীহার যেন সব বুঝেশুনেও বুঝতে চাইছে না। শরদিন্দু কেন ভয় পান সেটা কি নীহারকে তিনি গলা ফাটিয়ে জানাতে পারেন? এই বয়সে সেটা অসম্ভব।

    নীহার চোখ উঠিয়ে বললেন, আমি তো ভয় পাই না। আমার ভাল লাগে। তুমি বিশ্বাস করো আমার এই বাড়িতে আমরা মায়ে-মেয়ে মিলে কেমন যেন হয়ে ছিলুম। আমাদের সবই ছিল, তবু যেন বাড়িটায় কীসের ফাঁকা ফাঁকা ভাব ছিল। তোমরা এসে কদিন আমাদের কত সুখ দিয়েছ—

    নীহার, শরদিন্দু সামান্য অধৈর্য হয়ে বললেন, তুমি বড় ছেলেমানুষি করছ। তোমার কাছে এসে আমরাও কি কম খুশি হয়েছি? …আমার কথাটা তুমি বুঝতে পারছ না। তোমার মেয়েটি বড় ভাল। কলকাতা শহরে থেকেও এত সরল, জীবন্ত স্বভাব। দেখে আমারই বেশ অবাক লাগে। তোমার গুণে, তোমাদের পরিবারের গুণে এমনটা হয়েছে। মাঝে মাঝে ওর কাণ্ডকারখানা, কথা বলার ভঙ্গি দেখলে আমার মনে হয়, তোমাকেই দেখছি, ওই বয়সে তুমিও প্রায় ওই রকম ছিলে। শরদিন্দু একটু হাসলেন। তা বলে তোমার-আমার ভাল লাগছে বলেই কি চুপ করে থাকা যায়?

    কে জানে! নীহার উদাস সুরে বললেন। বলে দরজার দিকে তাকিয়ে কান পেতে বৃষ্টির শব্দ শুনতে লাগলেন। শেষে আচমকা বললেন, তোমার কাছে ভয়টাই বড়।

    ভয়, ভাবনা– শরদিন্দু থেমে থেমে বললেন, তুমি মেয়ে; তোমারই উচিত চোখ চেয়ে আরও খানিকটা দূরের জিনিস দেখা।

    না হয় দেখলামই আমি। তাতে কী?

    তাতে কী? তুমি কেমন করে জিজ্ঞেস করছ, নীহার? তাতে যে সবচেয়ে বড় দুঃখ।

    নীহারের মুখ খুব নরম, থমথমে, বিষণ্ণ হয়ে গিয়েছিল। চোখ দুটি যেন সামান্য ছলছল করে উঠল, দুঃখ সবার কপালে নাও থাকতে পারে। তোমার-আমার কপাল তো ওদের নয়।

    শরদিন্দুও চঞ্চল হচ্ছিলেন। নিজেকে শান্ত, সংযত করে বললেন, সংসারে জোর করে কিছু বলা উচিত নয়, নীহার। আমাদের সময়েও আমরা কি ভেবেছি আমাদের কপালটা খারাপ হবে। তুমি একদিন কোজাগরী পূর্ণিমার দিন দুর্গাবাড়ির সেই মস্ত শিউলিফুলের গাছটার তলায় দাঁড়িয়ে আমায় বলেছিলে আমার চেয়ে বড় তোমার কাছে কেউ নেই। আমি তোমায় কষ্ট দিতে চাইছি না নীহার, কিন্তু সেটা তো সত্যি হল না। …সংসারে জোর করে কিছু ভাবতে আমি ভুলে গেছি। আমি সাবধানী হয়েছি।

    নীহার নীরব হয়ে বসে থাকলেন। তাঁর চোখ দুটি যেন আরও সজল হয়ে এল। মুখটি পরম দুঃখীর মতো। বৃষ্টির শব্দ কমে এসেছে। বসে থাকতে থাকতে নীহার আচমকা বললেন, যা হয়েছে তার দোষ কি আমার?

    আমি দোষের কথা বলছি না। কার দোষ, তোমার আমার, তোমার বাবা কাকার না অন্য কার, সেকথা আমি তুলছি না। যা আমরা হবেই ভেবেছিলাম তা হয়নি। পৃথিবীতে এটা হামেশাই হয়, যা এক রকম স্থির বলেই আমরা মনে করি সেটা ভেঙে যায়, শেষ পর্যন্ত হয় না।

    নীহার অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকালেন। নিজের শরীরের পুরনো দাগ মানুষ যেমন করে লক্ষ করে যেন সেই রকম ভাবে মনের কোথাও কিছু লক্ষ করছিলেন। বড় মায়া লাগছিল। দরজার চৌকাঠ ছুঁয়ে আলোর ঝলকানি আবার পালিয়ে গেল, বৃষ্টির শব্দ বাড়ল আচমকা, মাথার ওপরে মেঘের ডাক গুমগুম করে উঠল।

    নীহার হঠাৎ বললেন, তোমার সঙ্গে আজ আমার ঝগড়া করবার মুখ নেই। তুমি আমায় চোর করে নিজে সাধু হচ্ছ! নিজে তুমি কী করেছ তা একবার ভাবো৷

    শরদিন্দু বিষণ্ণ চোখে নীহারের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। তিনি বাস্তবিকই নীহারের সঙ্গে ঝগড়া করছেন না। নীহার তাঁকে ভুল বুঝছে। মোটা, নরম, চাপা গলায় শরদিন্দু বললেন, ছি ছি নীহার, তোমায় আমি চোর করব কেন! যদি তোমায় চোর বলে ধরতাম তাহলে এতকাল পরে ছেলের হাত ধরে তোমার বাড়িতে এসে উঠতাম না। এই এত বড় কলকাতায় তুমিই আমার একমাত্র নিজের। শুধু কলকাতায় কেন, সংসারে আজ তোমরাই আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ। আমি অনেক দূরে থাকি, তবু তোমাদের ভালটুকু চাই।

    নীহার কোনও কথা বললেন না। এই মানুষটার এখনও সেই জেদ আছে, অহঙ্কার আছে। তার না কোনওদিন হ্যাঁ করা গেল না। যৌবনেও নীহার পারেননি; আজও পারবেন না। তবু শেষবারের মতন বললেন, আমিও তোমাদের খারাপ চাইনি। ভগবান জানেন, আমার মনে কী নিয়ে বেঁচে আছি!

    শরদিন্দু শান্ত ভাবে বললেন, তুমি কী নিয়ে বেঁচে আছ, আমি কী নিয়ে বেঁচে আছি, এসব কথা আর এখন তোলা উচিত নয়, নীহার। আমাদের বাঁচা তো শেষ হয়ে আসার সময় হল। আমার ছেলেটার জন্যেই আমার ভাবনা, আমাকে তুমি স্বার্থপর ভাবতে পারো। আমি চাই না, সে এই বয়েসে কোনও দুঃখ পাক। তার কপাল এমনিতেই তো দেখছ। এই বয়েসটা বড় অবুঝ, বড় খারাপ। দুঃখ পেলে সেটা ভোলা সহজ হয় না। আমি তাকে দুঃখের হাত থেকে বাঁচাতে চাই।

    নীহার অনুভব করলেন তাঁর চোখের কোল দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। কোনও রকমে ভাঙা গলায় বললেন, তুমি বড় নিষ্ঠুর।

    শরদিন্দু দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে গাঢ় গলায় বললেন, আমি খুব সাবধানী। আমার ছেলের ভাগ্য আমি জানি না নীহার। তার যে কী হবে কেউ বলতে পারে না। আমি তাকে আগলে রাখতে চাই।

    নীহার কোনও রকম সাড়া দিলেন না। বাইরে বৃষ্টি নরম হয়ে এল। বাদলা বাতাস ঘরে ঢুকছিল, সমস্ত ঘর ঠাণ্ডা হয়ে। পাখাটা আস্তে আস্তে চলছে। শরদিন্দু ইজিচেয়ারে পিঠ মাথা হেলিয়ে দিয়ে চোখ বুজে আছেন। নীহারের চোখের জল গড়িয়ে গড়িয়ে কখন শুকিয়ে এসেছে।

    শেষ পর্যন্ত নীহার উঠে পড়লেন। শরদিন্দু চুপ করে চেয়ারে শুয়ে আছেন। বাতাসে একটা কাগজ উড়ে মেঝেতে পড়েছিল। কুড়িয়ে রেখে দিলেন নীহার। শরদিন্দুর মাথার দিক দিয়ে বাতাস আসছে, জানলাটা বন্ধ করে দিলেন।

    শরবতের গ্লাসটা তুলে নেবার সময় তাঁর কেমন ইচ্ছে হল, পাকা চুলের ওই মাথাটায় একটু হাত বুলিয়ে বলেন, নীহার তোমার কোনও ক্ষতি করতে চায়নি, কখনও নয়। তার কপাল, আর তোমার কপাল।

    শরবতের গ্লাস নেওয়া হয়ে গেলে নিজের চায়ের পাত্রটাও তিনি তুলে দিলেন। আমি নীচে যাচ্ছি, নীহার বললেন।

    শরদিন্দু অস্পষ্ট করে সাড়া দিলেন।

    দরজার কাছে গিয়ে কী মনে করে মুখ ফেরাতে গিয়ে নীহার দেখলেন, শরদিন্দু একই ভাবে শুয়ে আছেন, তাঁর মুখের সামনে বেতের ফাঁকা চেয়ারটা পড়ে আছে।

    নীচে নেমে নারানকে দেখতে পেলেন, তার হাতে গ্লাস-টাস ধরিয়ে দিয়ে নীচের তলার খোঁজ নিলেন। দরজা-জানলা সব বন্ধ আছে কি না, জল-ফল কোথাও ঢুকেছে কিনা। নারান নীচের কিন্ডারগার্টেন স্কুলের বিনি মাইনের সরকার। কত রকম কী তদারকি করে। আজকাল থাকেও নীচে। স্কুলটা খুলে গেছে আজ থেকে।

    তনুর ঘরে গেলেন নীহার। তনু বিছানায় চুপ করে শুয়ে আছে।

    শ্যাম, আস্তে করে তনুকে ডাকলেন নীহার।

    তনু ঘাড়ের তলায় দু-হাত ঢুকিয়ে শুয়ে ছিল চোখ বুজে।

    চোখের পাতা খুলল।

    নীহার তনুর বিছানার ওপর ঝুঁকে পড়ে হাত বুলিয়ে বুলিয়ে মাথার চুল, মুখ, গলা পরখ করলেন। তোর চুল এখনও ভিজে ভিজে রয়েছে। শরীর খারাপ লাগছে না তো?

    না।

    ঠিক বলছিস? বলে আদর করে তনুর কপালের কাছে মুখ নিয়ে ছোট করে চুমু খেলেন। তারপর কী যে খেয়াল হল, তনুর পাশে আধখানা শরীর ঝুঁকিয়ে পড়ার মতন করে একটু শুয়ে থেকে বললেন, তোর বাবাকে আজ আমিও খুব বকেঝকে এসেছি। নিজে ছেলেবেলায় মাঠে-ঘাটে ঘুরে ঘুরে কত ভিজেছে, কত কাণ্ডই করেছে; আজ বুড়ো হয়েছে বলে সব ভুলে গেছে। …এই রকমই হয় বুঝলি শ্যাম; আমরা নিজেরটা ভুলে যাই।

    আরও খানিকটা শুয়ে থেকে নীহার উঠলেন। মেয়েটাকে একবার দেখে আসবেন।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসরস গল্প – বিমল কর
    Next Article কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }